Kitab

আল বাকারাহ

Chapter 2, 286 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • সমকালীন বাংলা
  • Word by word
  • আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান

আলিফ লাম মীম।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি—যিনি পরম করুণাময়, যিনি পরম দয়ালু; আলিফ লাম মিম

Note

আলিফ লাম মিম الم এই তিনটি অক্ষর প্রকৃতপক্ষে এক সাথে নয়, এগুলোর সঠিক অর্থ আমাদের অজানা; এর প্রকৃত অর্থ একমাত্র সর্বমহান আল্লাহই জানেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন অক্ষর দিয়ে শুরু সূরারগুলোর পরের আয়াতগুলোতে এই কিতাব সম্পর্কিত বক্তব্য এসেছে। এরকম বিচ্ছিন্ন আরবি অক্ষরগুলো পবিত্র কুরআনে মোট ছয়টি সূরার শুরুতে এসেছে। এগুলোকে ‘হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআত’ (বিছিন্ন অক্ষরমালা) বলা হয়। অর্থাৎ, এগুলো একটি একটি করেই পড়তে হবে। এগুলোর অর্থের ব্যাপারে কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই।

Word by word

الٓمٓ

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম মিম।

মুহিউদ্দীন খান

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

সমকালীন বাংলা

এই সেই মহাগ্রন্থ—এতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ।

Note

ইতিহাস আর এই কিতাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে জানা যায় যে, রাসূলের (সঃ) এর কাছে এই কিতাব বা বই আকারেই জিব্রাইল (আ:) তুলে দিয়েছিলেন এবং সেটিকে প্রতিপালকের নামে পড়তে বলেছিলেন।  অতঃএব তিনি পড়তেও শিখেছিলেন।আর এই পুস্তককে সর্বমহান আল্লাহ আমাদের রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সঃ ) সহ সকল বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশ / গাইড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।


“মুত্তাকী” একটি বহুমাত্রিক (multi-layered) শব্দ: এর মূল ধাতু و-ق-ى (ওয়াক্বা) → আত্মরক্ষা করা, ভয় করা, সচেতন থাকা, সীমা মেনে চলা; সাথে আছে: ঈমান, নৈতিক সংযম, আল্লাহ-সচেতনতা, আচরণগত দায়বদ্ধতা, আত্মিক সতর্কতা। সম্ভবত এটি "মুমিন" বা আল্লাহে বিশ্বাসী এবং "তাকওয়া" আত্মরক্ষাকারী এই শব্দ দুটো থেকে এসেছে, অর্থাৎ  ঈমানদার তাকওয়া পালনকারী ব্যাক্তি হচ্ছেন “মুত্তাকী”;  এর সরাসরি প্রতিশব্দ বাংলা ভাষায় নেই। তবে সর্বমহান আল্লাহ স্বয়ং পবিত্র কুরআনেই সুস্পষ্টভাবে মুত্তাকী এর অর্থ আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন:


2-177 : পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে কোন পুণ্য নাই; কিন্তু পুণ্য আছে কেহ আল্লাহ্, পরকাল, ফিরিশ্তাগণ, সমস্ত কিতাব এবং নবীগণে ঈমান আনয়ন করিলে এবং আল্লাহ্ প্রেমে আত্মীয় - স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, পর্যটক, সাহায্যপ্রার্থিগণকে এবং দাস - মুক্তির জন্য অর্থ দান করিলে, সালাত কায়েম করিলে ও যাকাত প্রদান করিলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়া তাহা পূর্ণ করিলে, অর্থ - সংকটে দুঃখ - ক্লেশে ও সংগ্রাম - সংকটে ধৈর্য ধারণ করিলে। ইহারাই তাহারা যাহারা সত্যপরায়ণ এবং ইহারাই মুত্তাকী।


39-33 : আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই মুত্তাকী।

Word by word

ذَٰلِكَ ٱلْكِتَٰبُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি একমাত্র কিতাব, যাতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্যে জীবন যাপন পদ্ধতি।

মুহিউদ্দীন খান

যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে

সমকালীন বাংলা

যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, আর সালাতে প্রতিষ্ঠিত থাকে, আর আমার প্রদত্ত জীবিকা থেকে ব্যয় করে

Note

এই আয়াতে সর্বমহান আল্লাহ আমাদের অদৃশ্যে বিশ্বাস রাখতে বলেছেন, (সালাত*) সৎ কর্মসমূহের এর মধ্যে থাকতে জীবনযাপন করতে এবং তিনি যাকে যতটুকু দিয়েছেন, সেটুকুর মধ্যেই পরিমিত বা ঋণগ্রস্থ না হয়ে জীবন চালাতে বলেছেন।


সালাত*  الصلاة শব্দটি পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়েছে; যেমন প্রার্থনা, ক্ষমা প্রার্থনা, নামাজ, যোগাযোগ করা, সৎকর্মের মধ্যে থাকা ইত্যাদি।


তবে, প্রার্থনা অর্থে বা নামাজ বলতে:


১. নির্দিষ্ট সময় সমূহে (4:103 যখন তোমরা সালাত সমাপ্ত করিবে তখন দাঁড়াইয়া, বসিয়া এবং শুইয়া আল্লাহকে স্মরণ করিবে, যখন তোমরা নিরাপদ হইবে তখন যথাযথ সালাত কায়েম করিবে। নির্ধারিত সময়ে সালাত করা মু’মিনদের জন্য লিখিত হয়েছে।)


২. ওযু বা তায়াম্মুম এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক ভাবে পবিত্র হয়ে (5:6 হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াও, তখন তোমরা ধৌত করবে মুখমণ্ডল এবং হাত গুলো কনুই পর্যন্ত; আর মাসেহ করবে মাথা এবং পা গুলো—গোড়ালি পর্যন্ত। আর যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাক, তবে তবে তোমরা পবিত্র হবে। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাক, অথবা তোমাদের কেউ শৌচকার্য সেরে আসে, অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ কর, অতঃপর যদি পানি না পাও — তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর; তা দিয়ে মাসেহ করবে তোমাদের মুখমণ্ডল এবং তোমাদের হাত গুলো। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো কষ্ট আরোপ করতে চান না; বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তোমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ পরিপূর্ণ করতে— যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।)


৩. ধৈর্য্যর সাথে,বিনয়ী হয়ে (2-45 : আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও; নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন)


৪. কেবলামূখী হয়ে (10:87 আর আমি মূসা ও তার ভাইয়ের কাছে ওহী পাঠালাম যে, ‘তোমরা তোমাদের কওমের জন্য মিসরে গৃহ তৈরী কর এবং তোমাদের গৃহগুলোকে কিবলা বানাও আর সালাত কায়েম কর এবং মুমিনদের সুসংবাদ দাও’।)


৫. দাঁড়িয়ে (73:2 রাতে দাঁড়াও কিছু অংশ ব্যতীত, রাতের অর্ধেক বা কিছু কম। 73:6 নিশ্চয়ই রাত্রে জেগে প্রার্থনা করা কঠিন ও সর্বোত্তম।)


৬. রুকু করে (2:43 তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও এবং যাহারা রুকূ‘ করে তাহাদের সঙ্গে রুকূ‘ কর।)


৭. সেজদা করে (3:43 হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর।


ইত্যাদি ভাবে সর্বমহান আল্লাহের কাছে আনুগত্য, ক্ষমা ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করা বুঝায়।


Word by word

ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ يُنفِقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে - এর প্রতি, কায়েম করে এবং আমরা যে রিযিক তাদের দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (নিজের এবং অন্যদের জন্যে এবং যাকাত প্রদান করে);

মুহিউদ্দীন খান

এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।

সমকালীন বাংলা

এবং যারা বিশ্বাস করে সে বিষয়ে যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার প্রতি, আর যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি, আর পরকালে—তারা তাতে সুনিশ্চিত।

Word by word

وَٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান রাখে তোমার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব (আল কুরআন) - এর প্রতি এবং তোমার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহের প্রতি, আর যারা (নিশ্চিত বিশ্বাস) রাখে আখিরাতের প্রতি;

মুহিউদ্দীন খান

তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ ।

সমকালীন বাংলা

তারাই তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে হেদায়াতের উপর রয়েছে আর তারাই—প্রকৃত সফল।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারাই তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর তারাই হবে ।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চিতই যারা হয়েছে তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যারা সত্য-প্রত্যাখান করে, তাদের সতর্ক করা অথবা না করা সমান, তাঁরা বিশ্বাস করবে না;

Note

আল্লাহর বিধি মোতাবেক সৎ কর্মসমূহের মধ্যে জীবনযাপন করা বুঝানো হয়েছে।

এখানে প্রদত্ত জীবিকা থেকে ব্যয় করা বলতে, আল্লাহ বুঝিয়েছেন যে তিনি যাকে যতটুকু দিয়েছেন, সেটুকুর মধ্যেই পরিমিত বা ঋণগ্রস্থ না হয়ে জীবন চালাতে বলেছেন।


সালাত শব্দটি বাংলা ভাষায় নামাজ হিসেবেও প্রচলিত।

তবে এখানে সালাত এর মাধ্যমে আল্লাহর বিধি মোতাবেক সৎ কর্মসমূহের মধ্যে জীবনযাপন করা বুঝানো হয়েছে।



পবিত্র কুরআনে সালাত শব্দ দ্বারা ১. নির্দিষ্ট সময় সমূহে ২. ওযু বা তায়াম্মুম এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক ভাবে পবিত্র হয়ে ৩. বিনয়ী হয়ে ৪. কেবলামূখী হয়ে ৫. দাঁড়িয়ে ৬. রুকু করে ৭. সেজদা করে, আল্লাহের কাছে আনুগত্য, ক্ষমা ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করার বিশেষ পদ্ধতি বুঝানো হয়।


"তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করে এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।" (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ১৭-১৮)।

আল কুরআনের, সূরা আল মুজাম্মিল এ উল্লেখ করা হয়েছে "অবশ্য রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্য খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা জিকর একেবারে যথার্থ।"

সূরা আল ফুরকান-এর ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে "আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।"

"তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটল-অবিচল, সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী"। (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১৭)



নির্দিষ্ট সময় সমূহে: সূরা নিসা (৪:১০৩)

"নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।"


সূরা হূদ (১১:১১৪)

"তুমি দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে সালাত প্রতিষ্ঠা কর। নিশ্চয় সৎকর্মসমূহ অপকর্মসমূহ মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এক উত্তম উপদেশ।"


সূরা বনী ইসরাঈল (১৭:৭৮)

"তুমি সালাত কায়েম কর সূর্য হেলে পড়া থেকে শুরু করে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত এবং ফজরের কুরআন পাঠ (নামায)। নিশ্চয় ফজরের কুরআন পাঠ সাক্ষী হিসেবে গণ্য হয়।"


সূরা ত্বহা (২০:১৩০)

"অতএব, তোমার পালনকর্তার প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর, সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে এবং রাতের কিছু সময়ে এবং দিবসের প্রান্তসমূহে, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার।"

সূর্যোদয়ের পূর্বে (ফজর), সূর্যাস্তের পূর্বে (আসর), রাতের কিছু সময়ে (ইশা/তাহাজ্জুদ) এবং দিবসের প্রান্তে (জোহর/মাগরিব) নামাযের ইঙ্গিত।


সূরা রূম (৩০:১৭-১৮)

"সুতরাং তোমরা সন্ধ্যায় ও প্রভাতে আল্লাহর তাসবিহ (প্রশংসা) কর। আর আসমানসমূহ ও জমিনে তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা এবং সন্ধ্যায় ও যখন তোমরা মধ্যাহ্নে উপনীত হও।"


17-79 : এবং রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করিবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করিবেন প্রশংসিত স্থানে।


Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যেসব লোক (একথাগুলো মেনে নিতে) অস্বীকার করে, তাদের তুমি সতর্ক করো আর নাই করো, তাদের জন্যে উভয়টাই সমান, তারা ঈমান আনবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

তাদের অন্তর ও শ্রবণশক্তি বন্ধ করেন আর তাদের চোখের উপর আবরণ রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।

Word by word

خَتَمَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ وَعَلَىٰٓ أَبْصَٰرِهِمْ غِشَٰوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

সীল মোহর মেরে দিয়েছেন তাদের কলবসমূহের উপর এবং তাদের শ্রবন ইন্দ্রিয়ের উপর, আর তাদের চক্ষুরাজির উপর পড়ে আছে আবরণ। তাই তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা নয়।

সমকালীন বাংলা

এবং মানুষের অনেকে বলে “আমরা ‌তে এবং পরকালে ” অথচ তাঁরা নয়।

Word by word

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে কিছু লোক আছে (মুনাফিক), যারা বলে: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের (বিচার দিবসের) প্রতি, অথচ তারা নয়।

মুহিউদ্দীন খান

তারা এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।

সমকালীন বাংলা

বিভ্রান্ত করতে চায় এবং বিশ্বাসীদের কিন্তু না, তাঁরা নিজেদের ছাড়া কাউকে বিভ্রান্ত করে না, তাঁরা তা বুঝতেও পারে না।

Word by word

يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (মনে করে তারা) ধোকাবাজি করছে আল্লাহর সাথে এবং মুমিনদের সাথেও। অথচ তারা যে নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও ধোকা দিচ্ছেনা, একথাটা তারা উপলব্ধি করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।

সমকালীন বাংলা

তাদের অন্তরে ব্যাধি, ব্যাধি বাড়িয়ে দেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তাহারা মিথ্যা বলে।

Word by word

فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কলব (অন্তর) সমূহে রয়েছে (সন্দেহ ও মুনাফিকির) রোগ। তাই, তাদের (এ) রোগকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব, কারণ তারা মিথ্যা বলে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা - হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।

সমকালীন বাংলা

এবং যখন বলা হয় তাদের উদ্দেশ্যে ‘তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’, তারা বলে ‘নিশ্চয়ই আমরা শান্তিকামী’

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ قَالُوٓا۟ إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের বলা হয়: দেশে ফাসাদ (অশান্তি) সৃষ্টি করোনা, তখন তারা বলে: আমরাই তো কেবল ইসলাহ (সংস্কার সংশোধন) করে চলেছি।

মুহিউদ্দীন খান

মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।

সমকালীন বাংলা

সাবধান, নিশ্চয়ই তারা অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা বুঝতে পারে না।

Word by word

أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلْمُفْسِدُونَ وَلَٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সতর্ক থাকো, এরাই আসল ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।

সমকালীন বাংলা

এবং যখন বলা হয় তাদের উদ্দেশ্যে, “মানুষেরা যেমন ঈমান এনেছে, তেমনি ঈমান আন”, তারা বলে, “আমাদেরও কি মূর্খেরা যেমন ঈমান এনেছে সেভাবে বিশ্বাস করা উচিত?” নিঃসন্দেহে তারাই মূর্খ, কিন্তু তারা জানে না।

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ كَمَآ ءَامَنَ ٱلنَّاسُ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ كَمَآ ءَامَنَ ٱلسُّفَهَآءُ أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلسُّفَهَآءُ وَلَٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের বলা হয়: তোমরা (সেভাবে) ঈমান আনো, অন্য লোকেরা যে রকম (নিষ্ঠার সাথে) ঈমান এনেছে। তখন তারা বলে: ‘আমরা কি (সে রকম) ঈমান আনবো, যেরকম ঈমান এনেছে বোকা লোকেরা?’ - আসলে তারা নিজেরাই যে বোকা তা তারা জানেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্র।

সমকালীন বাংলা

আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি এবং যখন তারা তাদের শয়তানের কাছে ফিরে যায়, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে আছি, কিন্তু আমরা ঠাট্টা করছি।

Word by word

وَإِذَا لَقُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوْا۟ إِلَىٰ شَيَٰطِينِهِمْ قَالُوٓا۟ إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন মুমিনদের সাথে মোলাকাত (সাক্ষাত) করে, তখন তাদের বলে: ‘আমরা তো ঈমান এনেছি।’ আর যখন তারা তাদের শয়তানদের কাছে একান্তে থাকে, তখন তাদের বলে: আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, ওদের কাছে গিয়ে তো আমরা কেবল ঠাট্টা - বিদ্রুপ করে আসি।

মুহিউদ্দীন খান

বরং আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন। আর তাদেরকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে।

সমকালীন বাংলা

তাদের সঙ্গে উপহাস করেন এবং তাদেরকে অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াবার অবকাশ দেন।

Word by word

ٱللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِى طُغْيَٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সাথে (তাঁর প্রাকৃতিক নিয়মে) বিদ্রুপ করেন এবং তাদেরকে তাদের বিদ্রোহী ভূমিকায় অন্ধভাবে ঘুরে বেড়াবার অবকাশ দেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করে। বস্তুতঃ তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি।

সমকালীন বাংলা

এরাই যারা হিদায়াতের বিনিময়ে বিভ্রান্তি ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি তাঁরা সৎপথেও পরিচালিত নয়।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَٰرَتُهُمْ وَمَا كَانُوا۟ مُهْتَدِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা সওদা করছে হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহির। সুতরাং তাদের তেজারত (ব্যবসা) লাভজনক হয়নি এবং তারা হিদায়াতও লাভ করেনি।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিককার সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।

সমকালীন বাংলা

তাদের উপমা, যেনো এক ব্যক্তি আগুন জ্বালালো সেটি তখন তাঁর চারদিকে আলোকিত করলো, তখন তাদের জ্যোতি অপসারিত করলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দিলেন তাঁরা কিছুই দেখতে পায় না -

Word by word

مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ ٱلَّذِى ٱسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّآ أَضَآءَتْ مَا حَوْلَهُۥ ذَهَبَ ٱللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِى ظُلُمَٰتٍ لَّا يُبْصِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের উপমা (অবস্থা) হলো এরকম, যেমন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালালো। আগুন যখন তার চারপাশ আলোকিত করে তুললো, তখন তাদের (চোখের) জ্যোতি নিয়ে নিলেন এবং তাদের ছেড়ে দিলেন অন্ধকার রাশিতে, তাই কিছুই দেখতে পায়না তাদের দৃষ্টি।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।

সমকালীন বাংলা

তাঁরা বধির, মূক, অন্ধ সুতরাং তাঁরা ফিরবে না।

Word by word

صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْىٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বধির, বোবা, অন্ধ, তাই তারা (হিদায়াতের পথে) ফিরে আসবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।

সমকালীন বাংলা

অথবা আকাশের বর্ষণমুখর মেঘের ন্যায়, যাতে রয়েছে ঘন অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক, বজ্রের গর্জনে তারা মৃত্যুর ভয়ে কানে আঙুল দিয়ে রাখে। আর সত্য-প্রত্যাখান কারীদের পরিবেষ্টন করে আছেন।

Word by word

أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فِيهِ ظُلُمَٰتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَٰبِعَهُمْ فِىٓ ءَاذَانِهِم مِّنَ ٱلصَّوَٰعِقِ حَذَرَ ٱلْمَوْتِ وَٱللَّهُ مُحِيطٌۢ بِٱلْكَٰفِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

অথবা (তাদের উপমা হচ্ছে) আকাশ থেকে বর্ষণমুখী মেঘ। তার মধ্যে রয়েছে ঘনঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি আর বিদ্যুতের চমকানি। বজ্রপাতের মৃত্যুভয়ে তারা তাদের কানে আংগুল ঢুকিয়ে রাখে। (এভাবেই) সব দিক থেকে ঘিরে রেখেছেন কাফিরদের।

মুহিউদ্দীন খান

বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।

সমকালীন বাংলা

বিদ্যুৎ - চমক তাহাদের দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়। যখনই বিদ্যুতালোক তাদের সম্মুখে উদ্ভাসিত হয় তারা তখনই পথ চলতে থাকে এবং যখন তারা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, তখন তারা থমকে দাঁড়ায়। নিশ্চয়ই ইচ্ছা করিলে তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি হরণ করতেন। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

Word by word

يَكَادُ ٱلْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَٰرَهُمْ كُلَّمَآ أَضَآءَ لَهُم مَّشَوْا۟ فِيهِ وَإِذَآ أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا۟ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَٰرِهِمْ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَ

আবদুস শহীদ নাসিম

বিদ্যুতের চমকানি তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়ার মতো অবস্থা। (বিদ্যুতের চমকে) যখন তারা আলোর ঝিলিক দেখতে পায়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার ছেয়ে যায় তখন দাঁড়িয়ে পড়ে। চাইলে তাদের শ্রবণশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নিতে পারেন। নিশ্চয়ই সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।

সমকালীন বাংলা

হে মানুষ, তোমরা দাসত্ব কর তোমাদের প্রতিপালকের, তোমাদের সৃষ্টিকর্তার এবং তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদেরও; যাতে তোমরা আত্মরক্ষা করে চলতে পারো।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعْبُدُوا۟ رَبَّكُمُ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানবজাতি! তোমরা ইবাদত করো তোমাদের রবের, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্বের লোকদেরও। এভাবেই তোমরা রক্ষা পেতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল - ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।

সমকালীন বাংলা

যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বিছানা, আসমানকে ছাদ এবং আকাশ থেকে বর্ষণ করেছেন বৃষ্টি অতঃপর তাঁর মাধ্যমে তোমাদের জন্য জীবিকা স্বরূপ উৎপন্ন করেছেন ফল-ফলাদি। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করো না

Word by word

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ فِرَٰشًا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءً وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَخْرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزْقًا لَّكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

(তিনি তোমাদের সেই মহান রব) যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বানিয়ে দিয়েছেন ফরশ (বিছানা) আর আকাশকে বানিয়েছেন ছাদ এবং তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন আর তার সাহায্যে উৎপন্ন করেছেন নানা রকম ফলফলারি, যা তোমাদের জন্যে রিযিক (জীবিকা)। সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্যে কাউকেও প্রতিপক্ষ (সমকক্ষ) সাব্যস্ত করোনা। কারণ, তোমরা তো জানো (তিনি এক এবং একক)।

মুহিউদ্দীন খান

এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও - এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

সমকালীন বাংলা

আর আমি আমার দাসের উপর যা নাযিল করেছি, তা হতে যদি সন্দেহে থাক, তবে তোমরা তার মত একটি সূরা নিয়ে আস এবং ছাড়া তোমাদের সাক্ষীসমূহকে ডাকো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

Word by word

وَإِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ شُهَدَآءَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আমাদের দাস (মুহাম্মদ)এর প্রতি যা নাযিল করেছি (তা আমাদের নাযিল করা কিনা?) সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থেকে থাকো, তবে সেটির অনুরূপ একটি সূরা তোমরা তৈরি করে আনো; এবং (তা দেখার জন্যে) ছাড়া তোমাদের সাক্ষী - সমর্থকদেরকেও ডেকে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তা না পার - অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু না তোমরা কখনই তা পারবে না, আগুনকে ভয় কর যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর, যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য।

Word by word

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ وَلَن تَفْعَلُوا۟ فَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَٰفِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি তোমরা (কুরআনের অনুরূপ একটি সূরা) তৈরি করে আনতে না পারো, আর বাস্তব ব্যাপার হলো, তোমরা তা কখনো পারবেনা, তবে নিজেদের রক্ষা করো সেই আগুন থেকে যার জ্বালানি হবে মানুষ আর পাথর। সে আগুন তৈরি করে রাখা হয়েছে কাফিরদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।

সমকালীন বাংলা

এবং সুসংবাদ দাও, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ। যখনই তাদেরকে রিযক হিসাবে কোন ফল খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে, ‘এটাই তো পূর্বে আমাদেরকে রিযক হিসেবে দেয়া হয়েছিল’। আর সেখানে তাদের জন্য রয়েছে সাদৃশ্য পবিত্র সঙ্গিরা, তাহারা সেখানে স্থায়ী হইবে।

Word by word

وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ كُلَّمَا رُزِقُوا۟ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا قَالُوا۟ هَٰذَا ٱلَّذِى رُزِقْنَا مِن قَبْلُ

আবদুস শহীদ নাসিম

শুভ সংবাদ দাও তাদেরকে, যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে: তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত (বাগান আর উদ্যানসমূহ), যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। যখনই সেসব বাগানের ফলফলারি তাদের খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে: এ ধরণের ফলই ইতোপূর্বে (পৃথিবীতে) আমাদের দেয়া হয়েছে। সেসব (বাগানের) ফলফলারি দেখতে হবে দুনিয়ার ফলের মতোই। সেখানে থাকবে তাদের জন্যে পবিত্র জুড়ি এবং সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

পাক নিঃসন্দেহে মশা বা তদুর্ধ্ব বস্তু দ্বারা উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। বস্তুতঃ যারা তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকর্তা কর্তৃক উপস্থাপিত এ উপমা সম্পূর্ণ নির্ভূল ও সঠিক। আর যারা তারা বলে, এরূপ উপমা উপস্থাপনে আল্লাহর মতলবই বা কি ছিল। এ দ্বারা তা’আলা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে সঠিক পথও প্রদর্শন করেন। তিনি অনুরূপ উপমা দ্বারা অসৎ ব্যক্তিবর্গ ভিন্ন কাকেও বিপথগামী করেন না।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয় মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কিছুর উপমা দিতে দ্বিধা করেন না, তাই যারা ঈমান এনেছে তারা জানতে পারে নিশ্চয়ই এটি সত্য - যা তাহাদের প্রতিপালক থেকে এসেছে। কিন্তু যারা তারা বলে কেন এই উপমা দিয়েছেন? এ দিয়ে বিভ্রান্ত করেন কাফিরদের, সৎপথে পরিচালিত করেন অনেককে। কাফিরদের ব্যতীত আর কাউকে এ দিয়ে বিভ্রান্ত করেন না।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَسْتَحْىِۦٓ أَن يَضْرِبَ مَثَلًا مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَيَقُولُونَ مَاذَآ

আবদুস শহীদ নাসিম

লজ্জাবোধ করেননা মশা বা তার চাইতেও ক্ষুদ্র কোনো প্রাণীর উপমা দিতে। তবে যারা ঈমান এনেছে তারা জানে, নিঃসন্দেহে এটা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আসা মহাসত্য। আর যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে তারা বলে: ‘এ উপমা দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্য কী?’ এভাবে একটি উপমা দ্বারা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে প্রদর্শন করেন সঠিক পথ। মূলত এর দ্বারা তিনি ফাসিকদের (সীমানালংঘনকারী পাপীদের) ছাড়া আর কাউকে বিপথগামী করেননা।

মুহিউদ্দীন খান

(বিপথগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে। ওরা যথার্থই ক্ষতিগ্রস্ত।

সমকালীন বাংলা

যাহারা সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং দুনিয়ায় অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাহারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مِيثَٰقِهِۦ وَيَقْطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর সাথে শক্ত অংগীকার করার পরও তা ভেঙ্গে ফেলে এবং যেসব সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো ছিন্ন করে, আর দেশে সৃষ্টি করে অশান্তি, বিশৃংখলা, তারাই আসল ব্যর্থ - ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে।

সমকালীন বাংলা

কীভাবে তোমরা আল্লাহকে অস্বীকার কর, অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদের জীবন দিয়েছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন ও পুনরায় জীবিত করিবেন এরপর তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

Word by word

كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِٱللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَٰتًا فَأَحْيَٰكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কী করে আল্লাহর প্রতি কুফুরি (অস্বীকৃতি ও অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ) করছো, অথচ তোমরা ছিলে মৃত, তারপর তিনিই তোমাদের হায়াত দান করেছেন। পুনরায় তিনিই তোমাদের মউত দেবেন, তারপর আবার তোমাদের হায়াত দান করবেন এবং সবশেষে তোমাদের ফিরিয়ে নেবেন তাঁর কাছে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর সর্ববিষয়ে অবহিত।

সমকালীন বাংলা

তিনিই যিনি পৃথিবীর সবকিছুকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন আর তা সাত আকাশ পর্যন্ত সাজালেন এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞানী

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ لَكُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ ٱسْتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَسَوَّىٰهُنَّ سَبْعَ سَمَٰوَٰتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তো তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর সবকিছু। তারপর তিনি উপরের দিকে নজর দেন এবং সেগুলোকে বানিয়ে দেন সপ্তাকাশ। আর প্রতিটি বিষয়ে তিনি অতীব জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা - হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদের বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি’, তারা বলিল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করি। তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি যা জানি তা তোমরা জান না।’

Word by word

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوٓا۟ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ ٱلدِّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّىٓ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর (স্মরণ করো), যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বলেছিলেন: ‘আমি পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি) নিয়োগ করতে যাচ্ছি।’ তারা বলেছিল: ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও নিয়োগ করবেন, যারা সেখানে ফাসাদ (অশান্তি) সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাসবিহ করছি আর আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।' (তাদের একথার জবাবে) তিনি বলেছিলেন: ‘আমি জানি যা তোমরা জানোনা।’

মুহিউদ্দীন খান

আর তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু - সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু - সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।

সমকালীন বাংলা

আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন তারপর ফিরিশতাদের সম্মুখে প্রকাশ করলেন, তাই তিনি বললেন, ‘এই সবের নাম আমাকে বলো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’

Word by word

وَعَلَّمَ ءَادَمَ ٱلْأَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ فَقَالَ أَنۢبِـُٔونِى بِأَسْمَآءِ هَٰٓؤُلَآءِ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তিনি তালিম (শিক্ষা) দিলেন আদমকে (সব কিছুর) নাম। আর সেগুলো উপস্থাপন করলেন ফেরেশতাদের সামনে। তাদের বললেন: এই জিনিসগুলোর নাম (পরিচয়) আমাকে বলো যদি তোমরা সত্য বলে থাকো।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।

সমকালীন বাংলা

তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনিই মহা জ্ঞানী, মহা প্রজ্ঞাময়’

Word by word

قَالُوا۟ سُبْحَٰنَكَ لَا عِلْمَ لَنَآ إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَآ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ফেরেশতারা) বললো: আপনি মহান, আমাদের তো কোনো এলেম নেই আপনি যা তালিম দিয়েছেন - তা ছাড়া। নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী এবং মহা প্রজ্ঞাময়।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!

সমকালীন বাংলা

তিনি বললেন হে আদম, এগুলোর নাম তাদেরকে জানিয়ে দাও’ অতঃপর যখন তিনি নামগুলো সম্পর্কে বললেন, বললেন আমি কি তোমাদেরকে বলিনি নিশ্চয় আমি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানি এবং জানি যা তোমরা প্রকাশ কর এবং যা তোমরা গোপন রাখো

Word by word

قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ أَنۢبِئْهُم بِأَسْمَآئِهِمْ فَلَمَّآ أَنۢبَأَهُم بِأَسْمَآئِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّىٓ أَعْلَمُ غَيْبَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُون

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘হে আদম! এদের নাম (পরিচয়) সম্পর্কে তাদের অবহিত করো।' তারপর সে যখন তাদের নাম (পরিচয়) সম্পর্কে তাদের অবহিত করলো, তখন তিনি বললেন: ‘আমি কি তোমাদের বলিনি, আমি জানি মহাকাশ এবং পৃথিবীর ( বিষয়সমূহ), আর যা কিছু তোমরা ব্যক্ত করো এবং যা কিছু রাখো অব্যক্ত?

মুহিউদ্দীন খান

এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ) - কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।

সমকালীন বাংলা

আর যখন আমরা ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমকে সিজদা কর’, তারা সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া। সে অমান্য করল ও অহঙ্কার করল। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হল।

Word by word

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

(আরো স্মরণ করো) যখন আমরা ফেরেশতাদের বলেছিলাম: ‘সাজদা করো আদমকে’, তখন তারা সবাই সাজদা করলো ইবলিস্ ছাড়া। সে (সাজদা করতে) অস্বীকার করলো, অহংকার করলো এবং সে অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো কাফিরদের।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে।

সমকালীন বাংলা

এবং আমরা বললাম হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং এখান থেকে আহার কর ইচ্ছানুযায়ী কিন্তু এই গাছটির কাছে যেও না, তাহলে তোমরা দুজনে হবে অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

Word by word

وَقُلْنَا يَٰٓـَٔادَمُ ٱسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ ٱلْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তখন আমরা আদমকে বললাম: হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী বসবাস করো জান্নাতে এবং সেখান থেকে যা খুশি আনন্দের সাথে খাও; তবে নিকটেও যেয়োনা এই গাছটির, তাহলে অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে যালিমদের (অন্যায়কারীদের)।

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ - স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।

সমকালীন বাংলা

এরপর শয়তান তাদের বিভ্রান্ত করলো এবং অতঃপর তা থেকে তাদের দুজনকে বের করল সেখান থেকে। এবং আমরা বললাম ‘তোমরা একে অন্যের শত্রুরূপে নেমে যাও, পৃথিবীতে কিছু সময়ের জন্য তোমাদের জন্য বসবাস ও জীবিকা থাকলো।’

Word by word

فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّيْطَٰنُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ وَقُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর শয়তান তাদের দুজনকেই (আমার হুকুম পালন থেকে) পদস্খলন ঘটায় এবং যে অবস্থার মধ্যে তারা ছিলো তা থেকে বের করে ছাড়ে। তখন আমরা (আদম এবং শয়তানকে) বললাম: তোমরা সবাই নেমে (বেরিয়ে) যাও। (জেনে রাখবে) তোমরা একে অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে একটা সময় পর্যন্ত অবস্থান এবং জীবনোপকরণ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা - ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

তখন আদম অনুতপ্ত হলেন তার প্রতিপালকের কাছে থেকে ক্ষমা পেলেন, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

فَتَلَقَّىٰٓ ءَادَمُ مِن رَّبِّهِۦ كَلِمَٰتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে সময় আদম তার রবের কাছ থেকে কয়েকটি কথা (ক্ষমা চাওয়া ও তওবা কবুল করার জন্যে) লাভ করেছিল। তখন তিনি তার তওবা কবুল করে নেন। কারণ তিনিই তো তওবা কবুলকারী (পরম ক্ষমাশীল) অতীব দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।

সমকালীন বাংলা

আমরা বললাম, ‘তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও। পরে যখন আমার পক্ষ থেকে অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে নিকট পথনির্দেশনা আসবে তখন যারা নির্দেশনা অনুসরণ করবে তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’

Word by word

قُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّى هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَاىَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বললাম: ‘তোমরা সবাই এখান (জানণাত) থেকে নেমে যাও, তারপর যখনই আমার কাছ থেকে তোমাদের কাছে ‘হুদা’ (নবী ও কিতাব) আসবে, তখন যারাই আমার ‘হুদার’ অনুসরণ করবে,তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুশ্চিন্তাও থাকবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে।

সমকালীন বাংলা

আর যাহরা সত্য প্রত্যাখ্যান করবে এবং আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।

Word by word

وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা (আমার হুদার প্রতি) কুফুরি করবে এবং অস্বীকার করবে আমার আয়াত (নিদর্শন)সমূহ, তারা হবে ‘আস্হাবুন নার’ (আগুনের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - ইসরাঈলগণ, তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং তোমরা পূরণ কর আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর ভয় কর আমাকেই।

সমকালীন বাংলা

হে ইসরাঈল বাসীগণ আমাদের অনুগ্রহকে যা তোমাদের দিয়েছি এবং আমার সঙ্গে তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ কর শুধু আমাকেই ভয় কর আমিও তোমাদের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করবো

Word by word

يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا۟ بِعَهْدِىٓ أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّٰىَ فَٱرْهَبُونِ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল ! স্মরণ করো আমার নিয়ামত - এর (অনুগ্রহের) কথা, যা আমি দান করেছিলাম তোমাদের, আর পূর্ণ করো আমার সাথে করা তোমাদের অংগীকার, তাহলে আমিও তোমাদের সাথে আমার অংগীকার পূর্ণ করবো। আর শুধুমাত্র আমাকেই ভয় করো।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ।

সমকালীন বাংলা

আমি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি তোমরা তাহাতে ঈমান আনো, এটি তোমাদের নিকট যা আছে তার সমর্থনকারী স্বরূপ। আর তোমরাই উহার প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়ো না এবং তুচ্ছ মূল্যে আয়াত পরিবর্তন করো না, তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।

Word by word

وَءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلْتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوٓا۟ أَوَّلَ كَافِرٍۭ بِهِۦ وَلَا تَشْتَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِى ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّٰىَ فَٱتَّقُونِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ঈমান আনো আমার নাযিল করা এ কিতাবের (কুরআনের) প্রতি, যা তোমাদের সাথে থাকা (তাওরাত ও ইনজিল) কিতাবের সত্যায়নকারী। এর প্রতি তোমরাই প্রথম (অস্বীকারকারী) হয়োনা। আর আমার আয়াত সমূহের (অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজিলের) বিনিময়ে তুচছ মূল্য গ্রহণ করোনা। আর আমাকে এবং কেবল আমাকেই ভয় করো।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।

Word by word

وَلَا تَلْبِسُوا۟ ٱلْحَقَّ بِٱلْبَٰطِلِ وَتَكْتُمُوا۟ ٱلْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

মিশিয়ে ফেলোনা হক (সত্য) - কে বাতিলের সাথে এবং সত্য কথা গোপন করোনা। অথচ তোমরা জানো (সত্য বিষয়টি কী)?

মুহিউদ্দীন খান

আর কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমরা প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত প্রদান করো এবং রুকূ করো রুকূকারীদের সাথে।

Word by word

وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرْكَعُوا۟ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কায়েম করো, যাকাত দিয়ে দাও এবং রুকু করো রুকুকারীদের সাথে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?

সমকালীন বাংলা

তোমরা মানুষকে ভাল কাজের আদেশ দিচ্ছ কি আর নিজদেরকে ভুলে যাচ্ছ? অথচ তোমরা কিতাব অধ্যয়ন কর, তোমরা কি বুঝো না?

Word by word

أَتَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ ٱلْكِتَٰبَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা মানুষকে ভালো ও ন্যায় কাজের আদেশ দেবে আর (এক্ষেত্রে) ভুলে যাবে নিজেদের (ভালো হবার) কথা? অথচ তোমরা তিলাওয়াত করছো কিতাব (তাওরাত ও ইনজিল)। তোমাদের কি আকল - বিবেক বলতে কিছুই নেই?

মুহিউদ্দীন খান

ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও; নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন;

Note
এখানে লক্ষণীয় যে, সর্বমহান আল্লাহ এখানে বিনয়ী ছাড়া অন্যদের "জন্য" কঠিন না বলে অন্যদের "উপরে" কঠিন বলেছেন !
Word by word

وَٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى ٱلْخَٰشِعِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সাহায্য চাও সবর ও সালাতের মাধ্যমে। কিন্তু এটা বড়ই কঠিন কাজ; তবে তাদের জন্যে (কঠিন) নয়, যারা আল্লাহর প্রতি বিনীত - অনুগত,

মুহিউদ্দীন খান

যারা একথা খেয়াল করে যে, তাদেরকে সম্মুখীন হতে হবে স্বীয় পরওয়ারদেগারের এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।

সমকালীন বাংলা

যারা বিশ্বাস করে যে, তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَٰقُوا۟ رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বিশবাস করে, তাদের প্রভুর সাথে তাদের অবশ্যি মোলাকাত (সাক্ষাত) হবে এবং তারা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ কর আমার অনুগ্রহের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ কর) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেছি সমগ্র বিশ্বের উপর।

সমকালীন বাংলা

হে ইসরাইলের সন্তানেরা, স্মরণ কর আমার সেই অনুগ্রহকে যা দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছিলাম এবং বিশ্বে সবার উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম

Word by word

يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّى فَضَّلْتُكُمْ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল! স্মরণ করো আমার নিয়ামতের কথা, যা আমি দান করেছিলাম তোমাদের, আর সেই (কথাটাও স্মরণ করো) যে, আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছিলাম বিশ্ববাসীর উপর।

মুহিউদ্দীন খান

আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা ভয় কর সে দিনকে যেদিন কেউ কারো কোনো কাজে আসবে না; আর কারো পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না এবং কারও কাছ থেকে কোন বিনিময় নেয়া হবে না। আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।

Word by word

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًا لَّا تَجْزِى نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْـًٔا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَٰعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সতর্ক হও সেই দিনটির ব্যাপারে, যেদিন কেউ কারো কিছুমাত্র কাজে আসবেনা, যেদিন কারো শাফায়াত কবুল করা হবেনা, যেদিন কারো কাছ থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবেনা এবং যেদিন (পাপিষ্ঠদের) কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদিগকে অব্যাহতি দিত। বস্তুতঃ তাতে পরীক্ষা ছিল তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা।

সমকালীন বাংলা

আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের দল থেকে রক্ষা করেছিলাম। তারা তোমাদেরকে মর্মান্তিক যন্ত্রণা দিত। তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে যবেহ করত এবং তোমাদের নারীদেরকে বাঁচিয়ে রাখত। আর এতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ছিল মহা পরীক্ষা।

Word by word

وَإِذْ نَجَّيْنَٰكُم مِّنْ ءَالِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَآءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَآءَكُمْ وَفِى ذَٰلِكُم بَلَآءٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, আমি যখন তোমাদের নাজাত দিয়েছিলাম ফেরাউনের লোকদের (দাসত্বের কবল) থেকে। যারা তোমাদের নিমজ্জিত করে রেখেছিল কঠিন আযাবে, জবাই করে ফেলছিল তোমাদের পুত্র সন্তানদের, আর জীবিত রাখছিল তোমাদের কন্যা সন্তানদের। তোমাদের এই অবস্থাটা ছিলো তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে একটা বড় পরীক্ষা।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে অথচ তোমরা দেখছিলে।

সমকালীন বাংলা

আর যখন তোমাদের জন্য আমি সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম, এরপর আমরা উদ্ধার করেছিলাম এবং ফিরআউন দলকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম এবং তোমরা দেখছিলে

Word by word

وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ ٱلْبَحْرَ فَأَنجَيْنَٰكُمْ وَأَغْرَقْنَآ ءَالَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমরা ফারাক (ভাগ) করে দিয়েছিলাম তোমাদের জন্যে সাগরকে এবং এভাবেই নাজাত (মুক্ত) করে এনেছিলাম তোমাদের, আর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম ফেরাউনের লোকদের তোমাদের চোখের সামনেই।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমি মূসার সাথে ওয়াদা করেছি চল্লিশ রাত্রির অতঃপর তোমরা গোবৎস বানিয়ে নিয়েছ মূসার অনুপস্থিতিতে। বস্তুতঃ তোমরা ছিলে যালেম।

সমকালীন বাংলা

আর যখন মূসার জন্য চল্লিশ রাত্রি নির্ধারণ করেছিলাম, এরপর তোমরা গরুর গরুর বাচ্চাটিকে গ্রহণ করেছিলে; আর তোমরা ছিলে।

Note
মূসা আলাইহি আসসালাম যখন চল্লিশ দিন প্রার্থনার জন্য দূর পাহাড়ে গিয়েছিলেন তখন ফিরে এসে তিনি দেখেছিলেন যে উনার সম্প্রদায় গরুর বাছুরকে উপাস্য রূপে গ্রহণ করেছিলো।
Word by word

وَإِذْ وَٰعَدْنَا مُوسَىٰٓ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَٰلِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমি মূসাকে চল্লিশ রাতের (দিবা - রাতের) জন্যে ডেকে নিয়েছিলাম, তখন তোমরা তার ওখানে চলে যাবার পর গো - বাছুরকে নিজেদের উপাস্য বানিয়ে নিলে, তখন তোমরা হয়ে পড়েছিলে যালিম।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর আমি তাতেও তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।

সমকালীন বাংলা

এরপরে আমি তোমাদের ক্ষমা করিয়াছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

Word by word

ثُمَّ عَفَوْنَا عَنكُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এতো বড় অপরাধ করার পরও আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলাম, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞ হয়ে চলো।

মুহিউদ্দীন খান

আর (স্মরণ কর) যখন আমি মূসাকে কিতাব এবং সত্য - মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার।

সমকালীন বাংলা

এবং যখন আমরা মূসাকে কিতাব ও সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী দান করিয়াছিলাম যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।

Note
আল্লাহ মূসা আল্লাহ মুসা নবীকেও সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী (ফুরকান) আয়াত (বাণী) সমূহ সম্বলিত কিতাব দান করেছিলেন
Word by word

وَإِذْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, (তোমরা যখন গো - পূজার যুলুমে লিপ্ত ছিলে) ঠিক সেসময় আমি মূসাকে কিতাব (তাওরাত) এবং (দীন ও শরীয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশাবলি) দিয়ে পাঠালাম, যাতে করে তোমরা হিদায়াতের পথে আসো।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গোবৎস নির্মাণ করে। কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট। তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান।

সমকালীন বাংলা

আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়ের লোককে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! গো - বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের প্রতি ঘোর অত্যাচার করেছ, সুতরাং তোমাদের স্রষ্টার দিকে ফেরো যাও এবং তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর, তোমাদের জন্য স্রষ্টার নিকট ইহাই শ্রেয়, তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন, তিনি অত্যন্তক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’

Note
??? নিজেদের হত্যা
Word by word

وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ يَٰقَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُم بِٱتِّخَاذِكُمُ ٱلْعِجْلَ فَتُوبُوٓا۟ إِلَىٰ بَارِئِكُمْ فَٱقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, মূসা (ফিরে এসে) যখন তোমাদের বলেছিল: হে আমার কওম (জাতি)! নিঃসন্দেহে গো - বাছুরকে উপাস্য বানিয়ে তোমরা নিজেদের প্রতি বিরাট যুলুম করেছো, তাই তোমরা তোমাদের স্রষ্টার কাছে তওবা করো (অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাও) এবং নিজেদের হত্যা করো। এরি মধ্যে তোমাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে তোমাদের স্রষ্টার কাছে। তখন তিনি তোমাদের তওবা কবুল করে নিয়েছিলেন। কারণ তিনি তো তওবা কবুলকারী - ক্ষমাশীল দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব। বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।

সমকালীন বাংলা

এবং যখন তোমরা বলিছিলে, ‘হে মূসা! আমরা কে প্রত্যক্ষভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করিব না’, তখন তোমরা বজ্রাহত হয়েছিলে এবং তোমরা তা দেখেছিলে।

Word by word

وَإِذْ قُلْتُمْ يَٰمُوسَىٰ لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى ٱللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমরা যখন বলেছিলে: ‘হে মূসা ! আমরা আল্লাহকে সচক্ষে (তোমার সাথে কথা বলতে) না দেখলে বিশ্বাস করবোনা (যে, তিনি তোমার সাথে কথা বলেন।)’ তখন আকস্মিক বজ্রপাত তোমাদের মৃত্যু ঘটিয়ে দিয়েছিল - তোমাদের চোখের সামনেই।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর, মরে যাবার পর তোমাদিগকে আমি তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।

সমকালীন বাংলা

তারপর, মরে যাবার পর আমি তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করেছিলাম যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

Note
মূসা আ: যখন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর লোকজনদের বলছিলেন যে তোমরা গরু পূজা করে ভয়ানক অন্যায় করেছো, তখন তারা বলছিলো যে আমরা স্বচক্ষে না দেখা পর্যন্ত আল্লাহকে বিশ্বাস করবো না; অতঃপর আল্লাহ তাঁর সামান্য আলো প্রকাশ করলে তাঁরা সবাই মৃত্যুবরণ করে, এবং সর্বমহান আল্লাহ তাদেরকে আবার জীবিত করেন।
Word by word

ثُمَّ بَعَثْنَٰكُم مِّنۢ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সেই মৃত্যুর পর পুনরায় আমরা তোমাদের বে’ছত (পুনর্জীবন) দান করি, যাতে করে তোমরা শোকরগুজার হও।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি মেঘমালার দ্বারা এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র বস্তু তোমরা ভক্ষন কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।

সমকালীন বাংলা

এবং আমরা তোমাদের মেঘর ছায়া দিয়েছিলাম এবং আমরা পাঠিয়েছিলাম মান্না ও সাল্ওয়া, বলিয়াছিলাম ‘পবিত্র জীবিকা থেকে আহার কর’ এবং তারা এবং আমাদের কোনো অনিষ্ট করেনি বরং নিজেদেরই অনিষ্ট করেছিলো।

Word by word

وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْمَنَّ وَٱلسَّلْوَىٰ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقْنَٰكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া, (খোলা তীহ্ প্রান্তরে) আমরা তোমাদের ছায়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম মেঘমালা দিয়ে এবং তোমাদের (আহারের জন্যে) নাযিল করেছিলাম মান্না আর সালওয়া। বলেছিলাম: আমরা যে উত্তম পবিত্র জীবিকা তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে খাও। (কিন্তু তারা যুলুম করলো) তবে তারা আমাদের প্রতি যুলুম করেনি, বরং যুলুম তারা নিজেদের প্রতিই করেছে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমি বললাম, তোমরা প্রবেশ কর এ নগরীতে এবং এতে যেখানে খুশী খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে থাক এবং দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় সেজদা করে ঢুক, আর বলতে থাক - ‘আমাদিগকে ক্ষমা করে দাও’ - তাহলে আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎ কর্মশীলদেরকে অতিরিক্ত দানও করব।

সমকালীন বাংলা

এবং যখন আমরা বলেছিলাম, ‘এই শহরে প্রবেশ কর, এখানে স্বচ্ছন্দে আহার স্বানন্দে বিচরণ করতে, এবং সেজদা করে দরজা দিয়ে প্রবেশ কর এবং বলো ‘ক্ষমা চাই’ আমরা তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবো এবং অচিরেই বাড়িয়ে দিবো সৎকর্মপরায়ণদের প্রতি।

Word by word

وَإِذْ قُلْنَا ٱدْخُلُوا۟ هَٰذِهِ ٱلْقَرْيَةَ فَكُلُوا۟ مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَٱدْخُلُوا۟ ٱلْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا۟ حِطَّةٌ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَٰيَٰكُمْ وَسَنَزِيدُ ٱلْمُحْسِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা যখন বলেছিলাম: তোমরা এই জনপদে (জেরুযালেম - এ) প্রবেশ করো, আর সেখানকার যেখান থেকে ইচ্ছে খাও আনন্দচিত্তে। তবে শহরের মূলগেইট দিয়ে ঢুকবে সাজদা করে (বিনীত হৃদয়ে) এবং (ঢোকার সময়) বলবে: ‘হিত্তাতুন হিত্তাতুন’। তাহলেই আমরা তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবো এবং কল্যাণকামীদের প্রতি আমাদের অনুগ্রহের মাত্রা বাড়িয়ে দেবো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে। তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে।

সমকালীন বাংলা

জুলুমকারীরা তাদের সাথে যা বলা হয়েছিল তা পরিবর্তন করলো, তাই আমরা তাদের জুলুমের কারণে তাদের উপর আকাশ থেকে শাস্তি পাঠালাম, কারণ তাহারা সত্য ত্যাগ করেছিলো।

Word by word

فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ قَوْلًا غَيْرَ ٱلَّذِى قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ رِجْزًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُوا۟ يَفْسُقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যারা (সেখানে ঢুকে) যুলুম (অত্যাচার) - এ লিপ্ত হয়, তারা তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া কথাটি বদল করে তার স্থলে অন্যকথা বলছিল। ফলে যারা যুলুম করলো, আমরা আকাশ থেকে তাদের উপর নাযিল করলাম আযাব, কারণ তারা করেছিল ফাসেকি (সীমালংঘন)।

মুহিউদ্দীন খান

আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা - হাংগামা করে বেড়িও না।

সমকালীন বাংলা

যখন মূসা তাহার সম্প্রদায়ের জন্য পানি চাইল, তখন আমরা বলেছিলাম ‘তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর।’ ফলে ফেটে বারোটি ঝর্ণা বের হলো, প্রত্যেক লোকেরা নিজ পানীয় স্থান বুঝে নিলো-বললাম খাও এবং পান করো আল্লাহর দেয়া জীবিকা থেকে এবং দুষ্কৃতিকারীরূপে পৃথিবীতে নৈরাজ্য করো না।

Word by word

وَإِذِ ٱسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ فَقُلْنَا ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْحَجَرَ فَٱنفَجَرَتْ مِنْهُ ٱثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ مِن رِّزْقِ ٱللَّهِ وَلَا

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন মূসা (তীহের মরু প্রান্তরে) তার কওমের জন্যে পানি প্রার্থনা করেছিল, তখন আমরা তাকে বলেছিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে এই পাথরটিতে আঘাত করো।' (মূসার আঘাতের) ফলে তা (পাথরটি) থেকে প্রবাহিত হয়ে পড়ে বারটি ঝর্ণাধারা। প্রত্যেক (গোত্রের) লোকেরা চিনে নেয় নিজেদের পানি গ্রহণের স্থান (নিজস্ব ঝর্ণা)। আমি তাদের বললাম: ‘পানাহার করো আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে এবং দেশে অশান্তি সৃষ্টি করোনা দুষ্কৃতকারীদের মতো।’

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাদ্য - দ্রব্যে কখনও ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি এমন বস্তু নিতে চাও যা নিকৃষ্ট সে বস্তুর পরিবর্তে যা উত্তম? তোমরা কোন নগরীতে উপনীত হও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ। আর তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী।

সমকালীন বাংলা

আর যখন তোমরা বলেছিলে ‘হে মূসা! আমরা একইরকম খাদ্যে কখনও ধৈর্য ধারণ করব না; তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা কর - তিনি যেন ভূমিজাত দ্রব্য শাক - সব্জি, কাঁকুড়, গম, মসুর ও পেঁয়াজ আমাদের জন্য উৎপাদন করেন।’ তিনি বললেন, ‘তোমরা কি উৎকৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃষ্টতর বস্তুর সঙ্গে বদল করিতে চাও? তবে কোন নগরে নেমে যাও, তোমরা যাহা চাও নিশ্চয়ই তাহা সেখানে আছে।’ তাহারা লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হলো এবং তাহারা আল্লাহর ক্রোধেরপাত্র হলো, কারণ তাহারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করিত এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। অবাধ্যতা ও সীমালংঘন করার জন্যই তাদের এই পরিণতি হয়েছিলো।

Word by word

وَإِذْ قُلْتُمْ يَٰمُوسَىٰ لَن نَّصْبِرَ عَلَىٰ طَعَامٍ وَٰحِدٍ فَٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلْأَرْضُ مِنۢ بَقْلِهَا وَقِثَّآئِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْد

আবদুস শহীদ নাসিম

আর (স্মরণ করো) যখন তোমরা বলেছিলে: ‘হে মূসা! আমরা তো (দীর্ঘদিন) এক ধরণের খাদ্যের উপর সবর করে থাকতে পারিনা। সুতরাং, তুমি তোমার রবের কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি যেনো আমাদের জন্যে জমিন থেকে উৎপন্ন শাক - সবজি, শশা, গম (বা রসূন), পেয়াজ ও ডালের ব্যবস্থা করে দেন।’ (তখন মূসা তোমাদের) বলেছিল: ‘তোমরা কি একটা উত্তম খাদ্যকে আদনা (নিম্ন মানের) খাদ্যের সাথে বদল করতে চাও? তবে কোনো শহরে চলে যাও, তোমরা যা চাইছো, সেখানে গেলে সেগুলো পাবে।’ শেষ পর্যন্ত তারা হীনতা ও দারিদ্রে নিমজ্জিত হলো এবং কামাই করলো আল্লাহর গজব। তাদের এই (লাঞ্ছনার) কারণ ছিলো এই যে, তারা কুফুরি করেছিল আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি এবং নবীদের কতল করছিল না - হকভাবে। এই ধরণের অবাধ্যতা আর সীমালংঘনের কারণেই তারা পতিত হয়েছিল এই অবস্থায়।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয় - ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যাহারা অথবা যারা ইয়াহূদী হয়েছে অথবা খ্রিস্টান অথবা সাবিঈন - যারাই ও বিচারের দিনে বিশ্বাস করে এবং সৎকাজ করে তাহাদের জন্য পুরস্কার আছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَادُوا۟ وَٱلنَّصَٰرَىٰ وَٱلصَّٰبِـِٔينَ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَعَمِلَ صَٰلِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا ه

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, আর যারা ইহুদি হয়েছে এবং যারা নাসারা ও সাবি, তাদের মধ্য থেকে যারাই ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাদের জন্যে পুরস্কার রয়েছে তাদের রবের কাছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা মনোকষ্টও পাবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর।

সমকালীন বাংলা

আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম, তোমাদিগকে যা দেয়া হয়েছে তা সুদৃঢ়ভাবে ধর এবং তোমরা স্মরণ রাখো যা তার মধ্যে তোমরা যাতে আত্মরক্ষা করতে পারো।

Word by word

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَٰكُم بِقُوَّةٍ وَٱذْكُرُوا۟ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, আমরা যখন তোমাদের উপর তুর (পাহাড়) তুলে ধরে তোমাদের থেকে পাকা অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম, বলেছিলাম: আমরা তোমাদের যে কিতাব দিয়েছি তা শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যেসব বিধি বিধান রয়েছে সেগুলো যিকির (আলোচনা, অনুশীলন ও অনুবর্তন) করো, তবেই তোমরা রক্ষা পাবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারপরেও তোমরা তা থেকে ফিরে গেছ। কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ধবংস হয়ে যেতে।

সমকালীন বাংলা

ইহার পরেও তোমরা মুখ ফিরাইলে। আল্লাহর অনুগ্রহ এবং অনুকম্পা তোমাদের প্রতি না থাকিলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হইতে।

Word by word

ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ فَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ لَكُنتُم مِّنَ ٱلْخَٰسِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু এরপরও তোমরা তোমাদের অংগীকার ভংগ করলে। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর ফযল এবং রহমত না হতো, তাহলে অবশ্যি তোমরা ধ্বংস হয়ে যেতে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।

সমকালীন বাংলা

এবং নিশ্চয়ই তোমরা জান যারা শনিবার সম্পর্কে সীমালংঘন করেছিল, আমরা তাদের বলেছিলাম ‘তোমরা ঘৃণিত বানর হও।’

Word by word

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ ٱلَّذِينَ ٱعْتَدَوْا۟ مِنكُمْ فِى ٱلسَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا۟ قِرَدَةً خَٰسِـِٔينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালংঘন করেছিল, তাদের বিষয়টা তোমরা অবশ্যি জানো। আমরা তাদের বলেছিলাম: ‘তোমরা হীন - ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি।

সমকালীন বাংলা

আমরা এটিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি করেছি সমসাময়িক ও পরবর্তিগণের জন্য এবং আল্লাহভীরুদের উপদেশ

Word by word

فَجَعَلْنَٰهَا نَكَٰلًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এই ঘটনাকে আমরা একটা উদাহরণ বানিয়ে দিয়েছি তাদের সমকালীন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে এবং এটাকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের বিষয় বানিয়ে দিয়েছি সচেতন লোকদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা (আঃ) বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সমকালীন বাংলা

আর যখন মূসা তাঁর লোকদের বলেছিল, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে একটি গরু জবাই করতে বলেছেন, তারা বলল তুমি কি আমাদের বিদ্রুপ করছো? মূসা বলেছিল, ‘আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমি যেন জুলুমকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হই।

Note
এখানে আল্লাহ কুরবানী করার আদেশের কথা জানিয়েছেন।
Word by word

وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تَذْبَحُوا۟ بَقَرَةً قَالُوٓا۟ أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا قَالَ أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْجَٰهِلِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যখন মূসা তার কওমকে বলেছিল: ‘ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন একটি গরু যবেহ করতে।’ তারা বললো: ‘তুমি কি আমাদের সাথে বিদ্রুপ করছো?’ সে বললো: ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই জাহিলদের মতো কথা বলা থেকে।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, যেন সেটির রূপ বিশ্লেষণ করা হয়। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলছেন, সেটা হবে একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয় এবং কুমারীও নয় - বার্ধক্য ও যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের। এখন আদিষ্ট কাজ করে ফেল।

সমকালীন বাংলা

তারা বললো, তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করে বলো, যেন পরিস্কার করে দেন সেটি কি রকমের, সে বললো নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন, এমন গরু যাহা বৃদ্ধও নয়, অল্পবয়স্কও নয় মধ্যবয়সী। সুতরাং তোমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা কর।’

Word by word

قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِىَ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا فَارِضٌ وَلَا بِكْرٌ عَوَانٌۢ بَيْنَ ذَٰلِكَ فَٱفْعَلُوا۟ مَا تُؤْمَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি যেনো পরিষ্কার করে বলে দেন গরুটা কেমন হবে?’ সে বললো: ‘তিনি () বলেছেন, সেটি হবে এমন একটি গরু যা বুড়াও নয়, কচি বাছুরও নয়, বরং এ উভয়ের মাঝামাঝি মধ্য বয়সের। সুতরাং তোমাদের যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করো।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর যে, তার রঙ কিরূপ হবে? মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেছেন যে, গাঢ় পীতবর্ণের গাভী - যা দর্শকদের চমৎকৃত করবে।

সমকালীন বাংলা

তারা বললো, তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর আমাদের জন্য তিনি বর্ণনা করেন কী হবে তার রং, সে বললো নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন, হলুদ রংএর গরু, তা উজ্জ্বল রং এর, দর্শকদের কাছে আনন্দদায়ক।’

Word by word

قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوْنُهَا قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَآءُ فَاقِعٌ لَّوْنُهَا تَسُرُّ ٱلنَّٰظِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘(হে মূসা!) তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি যেনো বলে দেন, গরুটির রঙ কি হবে?’ সে (মূসা) বললো: ‘তিনি বলেছেন সেটি হতে হবে হলুদ রঙের এমন গাঢ় উজ্জ্বল বর্ণের যা মুগ্ধ করবে দর্শকদের।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আপনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন - তিনি বলে দিন যে, সেটা কিরূপ? কেননা, গরু আমাদের কাছে সাদৃশ্যশীল মনে হয়। ইনশাআল্লাহ এবার আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হব। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেন যে, এ গাভী ভূকর্ষণ ও জল সেচনের শ্রমে অভ্যস্ত নয় - হবে নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত।

সমকালীন বাংলা

তারা বললো, তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর আমাদের জন্য তিনি বর্ণনা করেন গরুটি কেমন, চাইলে আমরা অবশ্যই সঠিক পথপ্রাপ্ত প্রাপ্ত হবো।

Word by word

قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِىَ إِنَّ ٱلْبَقَرَ تَشَٰبَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّآ إِن شَآءَ ٱللَّهُ لَمُهْتَدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমাদের জন্যে দোয়া করো তোমার প্রভুর কাছে, তিনি যেনো বলে দেন - আসলে গরুটি কেমন হবে? আমরা গরুটির ধরণ সম্পর্কে সংশয়ে আছি। তবে ইনশাল্লাহ আমরা সঠিক (গরু) টির সন্ধান অবশ্যি পেয়ে যাবো।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, এবার সঠিক তথ্য এনেছ। অতঃপর তারা সেটা জবাই করল, অথচ জবাই করবে বলে মনে হচ্ছিল না।

সমকালীন বাংলা

সে বললো, ‘নিশ্চয় তিনি বলছেন উহা এমন গরু যা জমি চাষে ব্যবহার হয়নি ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহার হয়নি - সুস্থ নিখুঁত।’ তারা বললো, ‘এখন তুমি সত্য এনেছ।’; তখন তারা তা জবাই করল, যদিও তারা তা করতে আগ্রহী ছিল না।

Note
উপরের কয়েকটি আয়াতে আল্লাহ মূসা নবীর সম্প্রদায়ের কাছে কুরবানী করার নির্দেশ দেবার কাহিনী বর্ণনা করেছেন
Word by word

قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا ذَلُولٌ تُثِيرُ ٱلْأَرْضَ وَلَا تَسْقِى ٱلْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَّا شِيَةَ فِيهَا قَالُوا۟ ٱلْـَٰٔنَ جِئْتَ بِٱلْحَقِّ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا۟ يَفْعَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তিনি () বলেছেন, সেটি হবে এমন একটি গরু যেটি কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়নি, না জমি চাষে, আর না পানি সেচে, সুস্থ - সবল নিখুঁত গরু।’ তারা বললো: ‘এবার তুমি সঠিক বর্ণনা নিয়ে এসেছো।’ অতপর তারা সেটি যবেহ করলো, যদিও তারা তা (গরু যবেহ) করতে সহজে প্রস্তুত ছিলোনা।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তোমরা একজনকে হত্যা করে পরে সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলে। যা তোমরা গোপন করছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিল আল্লাহর অভিপ্রায়।

সমকালীন বাংলা

আর স্মরণ কর, যখন তোমরা একজনকে হত্যা করলে অতঃপর সে ব্যাপারে একে অপরকে দোষারোপ করলে। আর প্রকাশ করে দিলেন তোমরা যা গোপন করছিলে।

Note
Al-Quran By Bayaan Foundation থেকে নেওয়া
Word by word

وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَٱدَّٰرَْٰٔتُمْ فِيهَا وَٱللَّهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, তোমরা যখন এক ব্যক্তিকে কতল (হত্যা) করেছিলে, অতপর পরস্পরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করছিলে। অথচ (তা) বের করে আনার (প্রকাশ করার) সিদ্ধান্ত নেন, তোমরা যা গোপন করছিলে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন - যাতে তোমরা চিন্তা কর।

সমকালীন বাংলা

আমরা তখন বলেছিলাম, ‘এর কিছু অংশ দিয়ে দিয়ে আঘাত কর।’ এভাবে মৃতকে জীবিত করেন এবং তাঁর নিদর্শনগুলোকে তোমাদের দেখান, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো।

Note
একদা রাতের অন্ধকারে একজন খুন হয়। কে প্রকৃত দোষী তা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছিল। আল্লাহ তখন জানিয়েছিলেন যে জবেহকৃত গরুর এক টুকরা মাংস দিয়ে মৃতদেহটিকে তোমরা আঘাত করো, অতঃপর মৃত মানুষটিকে আবার জিবন্ত করলেন এবং সে প্রকৃত খুনিকে চিহ্নিত করেছিল। সর্ব মহান আল্লাহ এখানে সেই ঘটনাটি আমাদের জানিয়েছেন।

এর মাধ্যমে সর্বমহান আল্লাহ বিচার দিবসে মৃতকে আবার জীবিত করতে পারেন; আমাদের অপ্রকাশিত কিছুই উনার কাছে গোপন থাকে না সেই নিদর্শন আল্লাহ আমাদেরকে বর্তমান পৃথিবীতেই দেখালেন।

Word by word

فَقُلْنَا ٱضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَٰلِكَ يُحْىِ ٱللَّهُ ٱلْمَوْتَىٰ وَيُرِيكُمْ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা বলেছিলাম: ‘ওকে (মৃত ব্যক্তির লাশকে) আঘাত করো এটির (যবেহ করা গরুটির) কোনো অংশ দিয়ে।’ এভাবেই জীবিত করবেন মৃতকে এবং তোমাদের দেখাবেন তাঁর নিদর্শন যাতে করে তোমরা আকল খাটিয়ে চলতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমন ও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর ভয়ে খসেপড়তে থাকে! তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে - খবর নন।

সমকালীন বাংলা

এর পরেও তোমাদের হৃদয়গুলো কঠিন হয়ে গেলো, পরে পাথরের মতো বা তার চেয়েও কঠিন। আর নিশ্চয়ই পাথর প্রবলভাবে ফেটে তা থেকে নদী প্রবাহিত হয়; আর নিশ্চয়ই পাথরের মধ্যে এমনও আছে যা বিদীর্ণ হয়ে পানি বের হয়, আবার কিছু আছে যা আল্লাহর ভয়ে ধ্বসে পড়ে। তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে অনবহিত নন।

Word by word

ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ فَهِىَ كَٱلْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً وَإِنَّ مِنَ ٱلْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ ٱلْأَنْهَٰرُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ ٱلْ

আবদুস শহীদ নাসিম

এর পরেও কঠিন হয়ে গেলো তোমাদের কলবগুলো (হৃদয়গুলো)। সেগুলো কঠিন হয়ে গেলো পাথরের মতো, কিংবা তার চাইতেও কঠিন। আর নিশ্চয়ই এমন অনেক পাথর আছে, যেগুলো থেকে প্রবাহিত হয় নহর। এমনও অনেক পাথর আছে, যেগুলো ফেটে যায় এবং সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসে পানি। এমন পাথরও আছে যেগুলো আল্লাহর ভয়ে (কাঁপতে কাঁপতে) নিচের দিকে ধ্বসে পড়ে। মোটেও গাফিল নন তোমাদের আমল (কর্মকান্ড) সম্পর্কে।

মুহিউদ্দীন খান

হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; অতঃপর বুঝে - শুনে তা পরিবর্তন করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিল।

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি আশা কর, যে তারা ঈমান আনিবে তোমাদের কথায় অথচ তাদের মধ্যে একদল আছে আল্লাহর বাণী শুনে, তারা বুঝেছিল; পরে তা বিকৃত করে অথচ তারা জানে।

Word by word

أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُوا۟ لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَٰمَ ٱللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُۥ مِنۢ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুসলিম উম্মাহ!) এখন বলো, এই লোকদের ব্যাপারেই কি তোমরা আশা করো যে, তারা তোমাদের দাওয়াতের প্রতি ঈমান আনবে? অথচ এদের অবস্থা হলো, এদেরই একটি গ্রুপ আল্লাহর কালাম শুনতো, তারপর বুঝে শুনে তা তাহরিফ (বিকৃত) করতো। অথচ তারা জানতো (এটা আল্লাহর কালাম)।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলেঃ আমরা মুসলমান হয়েছি। আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলে, পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যা প্রকাশ করেছেন, তা কি তাদের কাছে বলে দিচ্ছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে পালকর্তার সামনে তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না?

সমকালীন বাংলা

তাহারা যখন মু’মিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান আনিয়াছি’, আবার যখন তাহারা নিভৃতে একে অন্যের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে, তোমাদের কাছে যাহা ব্যক্ত করিয়াছেন তোমরা কি তাহা তাহাদেরকে বলিয়া দাও? ইহা দ্বারা তাহারা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে তোমাদের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করিবে; তোমরা কি অনুধাবন কর না?’

Word by word

وَإِذَا لَقُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ قَالُوٓا۟ أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَآجُّوكُم بِهِۦ عِندَ رَبِّكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُو

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ইহুদিরা) যখন মোলাকাত করে মুমিনদের সাথে, তখন বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আবার যখন তারা একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে: ‘যে বিষয়গুলো তোমাদের কাছে উন্মুক্ত করেছেন সেগুলো কি তোমরা ওদের (মুসলিমদের) বলে দিচ্ছো? - এতে করে তো ওরা তোমাদের প্রভুর সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে হুজ্জত (প্রমাণ) দাঁড় করাবে, তোমরা কি আকল খাটাওনা?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি এতটুকুও জানে না যে, সেসব বিষয়ও পরিজ্ঞাত যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে?

সমকালীন বাংলা

তাহারা কি জানে না যে, যাহা তাহারা গোপন রাখে কিংবা ঘোষণা করে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর তাহা জানেন?

Word by word

أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জানেনা যে, নিশ্চয়ই জানেন, যা তারা গোপন করে এবং যা তারা এলান (ঘোষণা) করে?

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহর গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে যাহাদের মিথ্যা আশা ব্যতীত কিতাব সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নাই, তাহারা শুধু অমূলক ধারণা পোষণ করে।

Word by word

وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّآ أَمَانِىَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে আরেকদল লোক আছে, যারা উম্মি (নিরক্ষর), তারা কিতাবের এলেম রাখেনা, ভিত্তিহীন আশা ভরসা নিয়ে তারা চলে। নিছক ধারণা অনুমানই তাদের পথ প্রদর্শক।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ - যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মূল্য প্রাপ্তির জন্য বলে, ‘ইহা আল্লাহর নিকট হইতে।’ তাহাদের হাত যাহা রচনা করিয়াছে তাহার জন্য শাস্তি তাহাদের এবং যাহা তাহারা উপার্জন করে তাহার জন্য শাস্তি তাহাদের।

Word by word

فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ ٱلْكِتَٰبَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ لِيَشْتَرُوا۟ بِهِۦ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا يَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাই, ঐসব লোকদের জন্যে ধ্বংস - দুর্ভোগ অবধারিত, যারা নিজেদের হাতে কিতাব লেখে, তারপর লোকদের বলে: ‘এটি আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে।’ সামান্য মূল্যের স্বার্থ ক্রয়ের জন্যে তারা একাজ করে। সুতরাং তাদের জন্যে ধ্বংস তারা নিজেদের হাতে যা রচনা করেছে সেটার জন্যে এবং ধ্বংস তাদের জন্যে এর মাধ্যমে তারা যা কামাই করে সেটার জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলেঃ আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েকদিন। বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, কখনও তার খেলাফ করবেন না - না তোমরা যা জান না, তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছ।

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলে, ‘দিনকতক ব্যতীত অগ্নি আমাদেরকে কখনও স্পর্শ করিবে না।’ বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর নিকট হইতে অঙ্গীকার নিয়াছ; অতএব আল্লাহর তাঁহার অঙ্গীকার কখনও ভঙ্গ করিবেন না কিংবা সম্বন্ধে এমন কিছু বলিতেছ যাহা তোমরা জান না?

Word by word

وَقَالُوا۟ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامًا مَّعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِندَ ٱللَّهِ عَهْدًا فَلَن يُخْلِفَ ٱللَّهُ عَهْدَهُۥٓ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আগুন (জাহান্নাম) কখনো আমাদের স্পর্শ করবেনা, করলেও তা করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্যে।’ (হে নবী) এদের জিজ্ঞাসা করো: ‘তোমরা কি (এব্যাপারে) আল্লাহর কাছ থেকে কোনো অংগীকার আদায় করে নিয়েছো, যে অংগীকারের কখনো খেলাফ করবেন না? নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি আরোপ করছো এমন কথা (অপবাদ), যার এলেম তোমাদের নেই?’

মুহিউদ্দীন খান

হাঁ, যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করেছে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টিত করে নিয়েছে, তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।

সমকালীন বাংলা

হাঁ, যাহারা পাপকাজ করে এবং যাহাদের পাপরাশি তাহাদেরকে পরিবেষ্টন করে তাহারাই দোজখবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

Word by word

بَلَىٰ مَن كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَٰطَتْ بِهِۦ خَطِيٓـَٔتُهُۥ فَأُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যা, যারাই কামাই করে পাপকর্ম এবং তাদের ঘেরাও করে ফেলে তাদের পাপরাশি, তারাই হবে ‘আসহাবুন নার’ (আগুনের অধিবাসী), সেখানে (আগুনের মধ্যে) থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।

সমকালীন বাংলা

আর যাহারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাহারাই জান্নাতবাসী, তাহারা সেখানে স্থায়ী হইবে।

Word by word

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

অন্যদিকে, যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তারা হবে ‘আসহাবুল জান্নাহ’ (জান্নাতের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি বনী - ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা - মাতা, আত্নীয় - স্বজন, এতীম ও দীন - দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর, যখন বনী ইস্রাঈলের অঙ্গীকার নিয়াছিলাম, তোমরা ব্যতীত অন্য কাহারও ‘ইবাদত করিবে না, মাতাপিতা, আত্মীয় - স্বজন, পিতৃহীন ও দরিদ্রদের প্রতি সদয় ব্যবহার করিবে এবং মানুষের সঙ্গে সদালাপ করিবে, কায়েম করিবে ও যাকাত দিবে, কিন্তু স্বল্পসংখ্যক লোক ব্যতীত তোমরা বরুদ্ধভাবাপন্ন হইয়া মুখ ফিরাইয়া নিয়াছিলে।

Word by word

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا ٱللَّهَ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَقُولُوا۟ لِلنَّاسِ حُسْنًا وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, (এ কথাগুলোর উপর) আমরা যখন বনি ইসরাঈল থেকে পাকা অংগীকার নিয়েছিলাম যে: ‘তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করবেনা; পিতা - মাতা, আত্মীয় স্বজন এবং এতিম ও মিসকিনদের সাথে ‌ইহসান (উত্তম ও সদয় আচরণ) করবে; মানুষের সাথে ভালো কথা বলবে; কায়েম করবে এবং যাকাত প্রদান করবে,’ তখনো অল্প কিছু লোক ছাড়া তোমরা সবাই সেই অংগীকার ভংগ করেছিলে এবং এখনো তা থেকে মুখ ফিরিয়েই চলেছো।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।

সমকালীন বাংলা

- যখন তোমাদের অঙ্গীকার নিয়াছিলাম যে, তোমরা পরস্পরের রক্তপাত করিবে না এবং আপনজনকে স্বদেশ হইতে বহিষ্কার করিবে না, অতঃপর তোমরা ইহা স্বীকার করিয়াছিলে, আর এই বিষয়ে তোমরাই সাক্ষী।

Word by word

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَآءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَٰرِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, যখন আমরা তোমাদের থেকে (একথার উপরও) পাকা অংগীকার নিয়েছিলাম: ‘তোমরা নিজেদের ভেতর রক্তপাত করবেনা এবং নিজেদের লোকজনদের স্বদেশ থেকে বের করে দেবেনা।’ এই (অংগীকারের) কথাগুলো তোমরা স্বীকার করে নিয়েছিলে এবং এর সাক্ষী তোমরা নিজেরাই।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। তোমাদের কাজ - কর্ম সম্পর্কে বে - খবর নন।

সমকালীন বাংলা

তোমরাই তাহারা যাহারা অতঃপর একে অন্যকে হত্যা করিতেছ এবং তোমাদের এক দলকে স্বদেশ হইতে বহিষ্কার করিতেছ, তোমরা নিজেরা তাহাদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও সীমালংঘন দ্বারা পরস্পরের পৃষ্ঠপোষকতা করিতেছ এবং তাহারা যখন বন্দীরূপে তোমাদের নিকট উপস্থিত হয় তখন তোমরা মুক্তিপণ দাও ; অথচ তাহাদের বহিষ্করণই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাহারা এরূপ করে তাহাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তাহারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হইবে। তাহারা যাহা করে সে সম্বন্ধে অনবহিত নন।

Word by word

ثُمَّ أَنتُمْ هَٰٓؤُلَآءِ تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِّنكُم مِّن دِيَٰرِهِمْ تَظَٰهَرُونَ عَلَيْهِم بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَإِن يَأْتُوكُمْ أُسَٰرَىٰ تُفَٰدُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُ

আবদুস শহীদ নাসিম

এই পাকা অংগীকার করার পরও সেই তোমরাই তো আজ নিজেদের পরস্পরকে কতল (হত্যা) করছো, একদল আরেকদলকে তাদের ঘর বাড়ি - স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করছো, তাদের বিরুদ্ধে (তাদের শত্রুদের) সাহায্য করছো পাপকর্ম এবং সীমালংঘনের মাধ্যমে। তারা যুদ্ধবন্দী হয়ে তোমাদের কাছে এলে তাদের মুক্তির জন্যে মুক্তিপণ লেনদেন করছো, অথচ তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করাটাই ছিলো তোমাদের জন্যে হারাম। তবে কি তোমরা (আল্লাহর) কিতাবের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস রাখো আর কিছু অংশ করো অস্বীকার - অমান্য? তোমাদের মধ্যে যারাই এমনটি করে, তাদের প্রতিদান (শাস্তি) এছাড়া আর কিছুই নয় যে, দুনিয়ার জীবনে তাদের গ্রাস করবে হীনতা - লাঞ্ছনা - গঞ্জনা, আর কিয়ামতের দিন তাদের নিক্ষেপ করা হবে কঠিনতম আযাবে। মোটেও গাফিল নন তোমাদের আমলের (কর্মকান্ডের) ব্যাপারে।

মুহিউদ্দীন খান

এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।

সমকালীন বাংলা

তাহারাই আখিরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করে; সুতরাং তাহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং তাহারা কোন সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে না।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْءَاخِرَةِ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ ٱلْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই সেইসব লোক, যারা ক্রয় করেছে দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের (সাফল্যের) বিনিময়ে। সুতরাং তাদের থেকে মোটেও হালকা (লাঘব) করা হবেনা আযাব এবং কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবেনা তাদের।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।

সমকালীন বাংলা

এবং নিশ্চয় আমি মূসাকে কিতাব দিয়াছি এবং তাহার পরে পর্যায়ক্রমে রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছি, মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দিয়াছি এবং ‘পবিত্র আত্বার’ দ্বারা তাহাকে শক্তিশালী করিয়াছি। তবে কি যখনই কোন রাসূল তোমাদের নিকট এমন কিছু আনিয়াছে যাহা তোমাদের মনঃপূত নয় তখনই তোমরা অহংকার করিয়াছ আর কতককে অস্বীকার করিয়াছ এবং কতককে হত্যা করিয়াছ?

Word by word

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ وَقَفَّيْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ بِٱلرُّسُلِ وَءَاتَيْنَا عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ ٱلْبَيِّنَٰتِ وَأَيَّدْنَٰهُ بِرُوحِ ٱلْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَآءَكُمْ رَسُولٌۢ بِمَا لَا تَهْوَىٰٓ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূলদের পাঠিয়েছি আর মরিয়মের পূত্র ঈসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ দিয়েছি এবং তাকে সাহায্য করেছি রূহুল কুদুস - কে দিয়ে। তোমরা তো এমনটিই করে এসেছো, যখনই কোনো রসূল তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধ কোনো বিধান নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, তোমরা তার সাথে তাকাব্বরি (দাম্ভিকতা) প্রদর্শন করেছো, তাদের কিছু (রসূল) - কে তোমরা অস্বীকার করেছো, আর কিছু (রসূল) - কে করেছো কতল।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, আমাদের হৃদয় অর্ধাবৃত। এবং তাদের কুফরের কারণে অভিসম্পাত করেছেন। ফলে তারা অল্পই ঈমান আনে।

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’, বরং কুফরীর জন্য তাহাদেরকে লা‘নত করিয়াছেন। সুতরাং তাহাদের অল্পসংখ্যকই ঈমান আনে।

Word by word

وَقَالُوا۟ قُلُوبُنَا غُلْفٌۢ بَل لَّعَنَهُمُ ٱللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًا مَّا يُؤْمِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমাদের কলবসমূহ সংরক্ষিত (যা আমরা বুঝে এবং বিশ্বাস করে নিয়েছি তার বাইরে আর কিছুই আমাদের হৃদয় সমূহে ঢুকবেনা)।’ না (ব্যাপার তা নয়), বরং তাদের লানত করেছেন তাদের কুফুরির কারণে। সুতরাং, অতি অল্পই তারা ঈমান আনে।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের নিকট যাহা আছে আল্লাহর নিকট হইতে যখন তাহার প্রত্যায়নকারী কিতাব আসিল; যদিও পূর্বে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে তাহারা ইহার সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করিত, তবুও তাহারা যাহা জ্ঞাত ছিল উহা যখন তাহাদের নিকট আসিল তখন তাহারা উহা প্রত্যাখ্যান করিল। সুতরাং কাফিরদের প্রতি আল্লাহর লা’নত।

Word by word

وَلَمَّا جَآءَهُمْ كِتَٰبٌ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا۟ مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَلَمَّا جَآءَهُم مَّا عَرَفُوا۟ كَفَرُوا۟ بِهِۦ فَلَعْنَةُ ٱللَّهِ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এমন একটি কিতাব (আল কুরআন) আসলো, যেটি তসদিক (সত্যায়িত) করে সেই কিতাবকে (তাওরাতকে) যেটি পূর্ব থেকেই রয়েছে তাদের কাছে। যদিও ইতোপূর্বে তারা কাফিরদের উপর বিজয়ের জন্যে শেষ (নবীর) আগমনের প্রার্থনা করতো; কিন্তু যখনই সে আসলো, যার পরিচয় তাদের কাছে ছিলো পরিষ্কারভাবে, তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। সুতরাং এই কাফিরদের (প্রত্যাখ্যানকারীদের) উপর আল্লাহর লানত।

মুহিউদ্দীন খান

যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রি করেছে, তা খুবই মন্দ; যেহেতু তারা যা নযিল করেছেন, তা অস্বীকার করেছে এই হঠকারিতার দরুন যে, স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ নাযিল করেন। অতএব, তারা ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

উহা কত নিকৃষ্ট যাহার বিনিময়ে তাহারা তাহাদের আত্মাকে বিক্রয় করিয়াছে - উহা এই যে, যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন, জিদের বশবর্তী হইয়া তাহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিত শুধু এই কারণে যে, তাঁহার বান্দাদের মধ্য হইতে যাহাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। সুতরাং তাহারা ক্রোধের উপর ক্রোধেরপাত্র হইল। কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।

Word by word

بِئْسَمَا ٱشْتَرَوْا۟ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمْ أَن يَكْفُرُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بَغْيًا أَن يُنَزِّلَ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ فَبَآءُو بِغَضَبٍ عَلَىٰ غَضَبٍ وَلِلْكَٰفِرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

কতোইনা মন্দ সেই জিনিসটি যার বিনিময়ে তারা বিক্রয় করছে নিজেদেরকে। তাহলো, যা (যে কুরআন) নাযিল করেছেন, শুধু এই জিদের বশবর্তী হয়ে তারা তার প্রতি কুফুরি করছে যে, তাঁর দাসদের মধ্যে যাকে (মুহাম্মদকে) চেয়েছেন তার প্রতি সেই অনুগ্রহ নাযিল করেছেন। ফলে তারা অর্জন করলো গজবের উপর গজব। আর কাফিরদের জন্যে তো অপমানকর আযাব রয়েছেই।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদেরকে বলা হয়, যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবর্তীণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দিন, তবে তোমরা ইতিপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা ছিলে?

সমকালীন বাংলা

এবং যখন তাহাদেরকে বলা হয়, যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে ঈমান আনয়ন কর’, তাহারা বলে, ‘আমাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে আমরা তাহাতে বিশ্বাস করি।’ অথচ তাহা ব্যতীত সব কিছুই তাহারা প্রত্যাখ্যান করে, যদিও উহা সত্য এবং যাহা তাহাদের নিকট আছে তাহার প্রত্যায়নকারী। বল, ‘যদি তোমরা হইতে তবে কেন তোমরা অতীতে আল্লাহর নবীগণকে হত্যা করিয়াছিলে?’

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَآءَهُۥ وَهُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَهُمْ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنۢبِيَآءَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের বলা হয়: ‘তোমরা ঈমান আনো সেই জিনিসের (কুরআনের) প্রতি যা নাযিল করেছেন’, তখন তারা বলে: ‘আমরা তো শুধু ঈমান রাখি সেই জিনিসের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমাদের (বনি ইসরাঈলের) উপর।’ - এর বাইরে যা (যে কুরআন) নাযিল হয়েছে তা তারা প্রত্যাখ্যান করছে। অথচ তা মহাসত্য কিতাব, তাদের কাছে যা (তাওরাত) আছে, সেটাকেও এ কিতাব আল্লাহর কিতাব বলে সত্যায়ন করে। (হে মুহাম্মদ) তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘তোমরা যদি মুমিনই হয়ে থাকো তবে কেন ইতোপূর্বে আল্লাহর নবীগণকে কতল করেছিলে?’

মুহিউদ্দীন খান

সুস্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন। এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী।

সমকালীন বাংলা

এবং নিশ্চয় মূসা তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণসহ আসিয়াছে, তাহার পরে তোমরা গো - বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করিয়াছিলে। আর তোমরা তো ।

Word by word

وَلَقَدْ جَآءَكُم مُّوسَىٰ بِٱلْبَيِّنَٰتِ ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَٰلِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি মূসা তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল, তারপরেও তোমরা গো - বানিয়ে সেটাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলে। এতো বড় যালিম ছিলে তোমরা।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল। বলে দিন, তোমরা হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর, যখন তোমাদের অঙ্গীকার নিয়াছিলাম এবং তূরকে তোমাদের ঊর্ধ্বে উত্তোলন করিয়াছিলাম, বলিয়াছিলাম, ‘যাহা দিলাম দৃঢ়রূপে গ্রহণ কর এবং শ্রবণ কর।’ তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা শ্রবণ করিলাম ও অমান্য করিলাম। হেতু তাহাদের হৃদয়ে গোবৎসপ্রীতি সিঞ্চিত হইয়াছিল। বল, ‘যদি তোমরা হও, তবে তোমাদের ঈমান যাহার নির্দেশ দেয় উহা কত নিকৃষ্ট।’

Word by word

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَٰكُم بِقُوَّةٍ وَٱسْمَعُوا۟ قَالُوا۟ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ قُلْ بِئْسَمَا يَ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমরা তোমাদের মাথার উপর তুর পাহাড় উঠিয়ে ধরে তোমাদের থেকে পাকা অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম, বলেছিলাম: ‘আমরা তোমাদের যা (যে কিতাব ও বিধান) দিলাম তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং (আমার বাণী) শোনো।’ তারা বলেছিল: ‘আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম।’ আসলে তাদের কুফুরির কারণে তাদের অন্তরে গো - পূজার শরাবই প্রবেশ করেছিল। বলো (হে মুহাম্মদ): ‘তোমরা যদি হয়ে থাকো, তবে তোমাদের ঈমান যার নির্দেশ তোমাদের দেয়, তা কতোইনা নিকৃষ্ট।’

মুহিউদ্দীন খান

বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে - অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক।

সমকালীন বাংলা

বল, ‘যদি নিকট আখিরাতের বাসস্থান অন্য লোক ব্যতীত বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যই হয় তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর - যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’

Word by word

قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ ٱلدَّارُ ٱلْءَاخِرَةُ عِندَ ٱللَّهِ خَالِصَةً مِّن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُا۟ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ) বলো: ‘আল্লাহর কাছে আখিরাতের ঘর যদি গোটা মানবজাতিকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তোমাদের জন্যেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে তোমরা (দ্রুত সেখানে যাওয়ার জন্যে) মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’

মুহিউদ্দীন খান

কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু তাহাদের কৃতকর্মের জন্য তাহারা কখনও উহা কামনা করিবে না এবং জালিমদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।

Word by word

وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু কখনো তারা তা (মৃত্যু) কামনা করবেনা, কারণ তাদের দুহাত যা কামাই করে সেখানে (আখিরাতের জন্যে) পাঠিয়েছে (তা খুবই ভয়ানক)। খুব ভালোভাবেই জানেন এই যালিমদের অবস্থা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। দেখেন যা কিছু তারা করে।

সমকালীন বাংলা

তুমি নিশ্চয় তাহাদেরকে জীবনের প্রতি সমস্তমানুষ, এমন কি মুশরিক অপেক্ষাও অধিক লোভী দেখিতে পাইবে। তাহাদের প্রত্যেকে আকাঙ্খা করে যদি সহস্র বৎসর আয়ু দেওয়া হইত; কিন্তু দীর্ঘায়ু তাহাকে শাস্তি হইতে দূরে রাখিতে পারিবে না। তাহারা যাহা করে উহার দ্রষ্টা।

Word by word

وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ ٱلنَّاسِ عَلَىٰ حَيَوٰةٍ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِۦ مِنَ ٱلْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِمَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদেরকে পাবে জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষের চাইতে অধিক লোভী, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও। তাদের প্রত্যেকেরই আকাংখা, তাকে যদি হাজার বছর বয়স দেয়া হতো! কিন্তু দীর্ঘ বয়স তাকে কিছুতেই আযাব থেকে দূরে রাখতে পারবেনা। তারা যা আমল (যেসব কর্মকান্ড) করছে, তা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয় - যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।

সমকালীন বাংলা

বল, ‘যে কেহ জিব্‌রীলের শত্রু এইজন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছাইয়া দিয়াছে, যাহা উহার পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং যাহা মু’মিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও শুভ সংবাদ’ -

Word by word

قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো (হে মুহাম্মদ): যে কেউ শত্রুতা করবে জিবরিলের সাথে, তার জেনে রাখা উচিত, জিবরিল তা (এই কুরআন) আল্লাহর হুকুমেই তোমার কলবে নাযিল করছে। এ গ্রন্থ তোমার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী এবং সত্যপথ প্রদর্শক ও সুসংবাদ মুমিনদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই সেসব কাফেরের শত্রু।

সমকালীন বাংলা

‘যে কেহ তাঁহার ফিরিশতাগণের, তাঁহার রাসূলগণের এবং জিব্‌রীল ও মীকাঈলের শত্রু সে জানিয়া রাখুক, নিশ্চয়ই কাফিরদের শত্রু।

Word by word

مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَىٰلَ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَدُوٌّ لِّلْكَٰفِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ শত্রু হবে আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রসূলদের এবং জিবরিল ও মিকালের, অবশ্যি আল্লাহও হবেন সেই কাফিরদের শত্রু।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না।

সমকালীন বাংলা

এবং নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি স্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করিয়াছি। ফাসিকরা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা প্রত্যাখ্যান করে না।

Word by word

وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَآ إِلَّا ٱلْفَٰسِقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ। ফাসিকরা ছাড়া আর কেউই এগুলোকে অস্বীকার করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।

সমকালীন বাংলা

তবে কি যখনই তাহারা অঙ্গীকারাবদ্ধ হইয়াছে তখনই তাহাদের কোন একদল তাহা ভঙ্গ করিয়াছে? বরং তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।

Word by word

أَوَكُلَّمَا عَٰهَدُوا۟ عَهْدًا نَّبَذَهُۥ فَرِيقٌ مِّنْهُم بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

ব্যাপার কি এ নয় যে, তারা যখনই কোনো বিষয়ে অংগীকার করেছে, তাদের একদল লোক অবশ্যি তা ভংগ করেছে? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান রাখেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন - যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল - যেন তারা জানেই না।

সমকালীন বাংলা

যখন পক্ষ হইতে তাহাদের নিকট রাসূল আসিল, যে তাহাদের নিকট যাহা রহিয়াছে উহার প্রত্যায়নকারী, তখন যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের একদল আল্লাহর কিতাবটিকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করিল, যেন তাহারা জানে না।

Word by word

وَلَمَّا جَآءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ كِتَٰبَ ٱللَّهِ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল এলো, যে তাদের কাছে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী, তখন পূর্বে কিতাব দেয়া লোকদের একটি দল আল্লাহর এ কিতাবটিকে তাদের পেছনে নিক্ষেপ করলো, যেনো তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানতোনা!

মুহিউদ্দীন খান

তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।

সমকালীন বাংলা

এবং সুলায়মানের রাজত্বে শয়তানরা যাহা আবৃত্তি করিত তাহারা তাহা অনুসরণ করিত। সুলায়মান করে নাই, বরং শয়তানরাই করিয়াছিল। তাহারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং যাহা বাবিল শহরে হারূত ও মারূত ফিরিশ্তাদ্বয়ের উপর অবতীর্ণ হইয়াছিল। তাহারা কাহাকেও শিক্ষা দিত না এই কথা না বলিয়া যে, ‘আমরা পরীক্ষাস্বরূপ; সুতরাং তুমি করিও না।’ তাহারা উভয়ের নিকট হইতে স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে যাহা বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে তাহা শিক্ষা করিত, অথচ নির্দেশ ব্যতীত তাহারা কাহারও কোন ক্ষতি সাধন করিতে পারিত না। তাহারা যাহা শিক্ষা করিত তাহা তাহাদের ক্ষতি সাধন করিত এবং কোন উপকারে আসিত না; আর তাহারা নিশ্চিতভাবে জানিত যে, যে কেহ উহা ক্রয় করে পরকালে তাহার কোন অংশ নাই। উহা কত নিকৃষ্ট, যাহার বিনিময়ে তাহারা স্বীয় আত্বারকে বিক্রয় করিয়াছে, যদি তাহারা জানিত!

Word by word

وَٱتَّبَعُوا۟ مَا تَتْلُوا۟ ٱلشَّيَٰطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَٰنَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَٰنُ وَلَٰكِنَّ ٱلشَّيَٰطِينَ كَفَرُوا۟ يُعَلِّمُونَ ٱلنَّاسَ ٱلسِّحْرَ وَمَآ أُنزِلَ عَلَى ٱلْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَٰرُوتَ

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে, তারা এত্তেবা করতে থাকলো সেইসব জিনিসের, সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা যেসব (ম্যাজিক - মন্ত্র) পাঠ করতো। সুলাইমান কুফুরি করেনি, কুফুরি করেছিল শয়তানরা। তারা মানুষকে ম্যাজিক শিক্ষা দিতো এবং বেবিলনে দুই ফেরেশতা হারূত ও মারূতের প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা (হারূত ও মারূত) কোনো ব্যক্তিকে কিছুই শিক্ষা দিতোনা একথা পরিষ্কার করে বলে দেয়া ছাড়া যে: ‘দেখো, আমরা কিন্তু অবশ্যি ফেতনা (পরীক্ষা স্বরূপ), সুতরাং তুমি কুফুরিতে নিমজ্জিত হয়োনা।’ তা সত্ত্বেও তারা তাদের দুজন থেকে এমন জিনিস শিখতো, যা স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো। অথচ এর দ্বারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারতোনা। তারা যা শিখতো তা তাদেরই ক্ষতি করতো, কোনো উপকার করতোনা। তারা এ কথা ভালো করেই জানতো, এসব (ম্যাজিক - মন্ত্র) - এর ক্রেতাদের জন্যে আখিরাতে কোনো অংশ নেই। ওটা কতোইনা নিকৃষ্ট জিনিস, যার বিনিময়ে তারা বিক্রি করে দিয়েছে নিজেদের জীবন। হায়, এ বিষয়টা যদি তারা জানতো!

মুহিউদ্দীন খান

যদি তারা ঈমান আনত এবং খোদাভীরু হত, তবে আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত। যদি তারা জানত।

সমকালীন বাংলা

যদি তাহারা ঈমান আনয়ন করিত ও হইত, তবে নিশ্চিতভাবে তাহাদের প্রতিফল আল্লাহর নিকট অধিক কল্যঅণকর হইত, যদি তাহারা জানিত!

Word by word

وَلَوْ أَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ وَٱتَّقَوْا۟ لَمَثُوبَةٌ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ خَيْرٌ لَّوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হায়, তারা যদি ঈমানের পথে চলতো এবং এসব মন্দ কাজ থেকে নিজেদের রক্ষা করতো, তবে আল্লাহর কাছে কতো উত্তম প্রতিফলই না তারা লাভ করতো; হায় যদি তারা এলেম রাখতো!

মুহিউদ্দীন খান

হে গণ, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না - ‘উনযুরনা’ বল এবং শুনতে থাক। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! ‘রাইনা’ বলিও না, বরং ‘উনজুরনা’ বলিও এবং শুনিয়া রাখ, কাফিরদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَقُولُوا۟ رَٰعِنَا وَقُولُوا۟ ٱنظُرْنَا وَٱسْمَعُوا۟ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা (আল্লাহর রসূলকে) ‘রায়েনা’ বলোনা, বরং ‘উনযুরনা’ (আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিন) বলো এবং মনোযোগ সহকারে (নবীর কথা) শোনো। যারা (এটা) অমান্য করবে, তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

আহলে - কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা , তাদের মনঃপুত নয় যে, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। যাকে ইচ্ছা বিশেষ ভাবে স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন। মহান অনুগ্রহদাতা।

সমকালীন বাংলা

কিতাবীদের মধ্যে যাহারা করে তাহারা এবং মুশরিকরা ইহা চাহে না যে, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। অথচ যাকে ইচ্ছা নিজ রহমতের জন্য বিশেষরূপে মনোনীত করেন এবং মহা অনুগ্রহশীল।

Word by word

مَّا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَلَا ٱلْمُشْرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْكُم مِّنْ خَيْرٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَٱللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِۦ مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظ

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবের (ইহুদি - খৃষ্টানদের) মধ্যে যারা কুফুরি করেছে, তারা এবং মুশরিকরা চায়না তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে কোনো কল্যাণ নাযিল হোক। অথচ (এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর বিষয়), যাকে চান, নিজের রহমত প্রদানের জন্যে মনোনীত করেন এবং আল্লাহ্ই মহানুগ্রহের মালিক।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, সব কিছুর উপর শক্তিমান?

সমকালীন বাংলা

আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত হতে দিলে, আমরা তার চেয়ে ভালো অথবা অনুরূপ নিয়ে আসি। তুমি কি জান যে নিঃসন্দেহ সব কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান?

Word by word

مَا نَنسَخْ مِنْ ءَايَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَآ أَوْ مِثْلِهَآ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যে আয়াতকে নসখ্ করি, কিংবা ভুলিয়ে দিই, তার স্থলে তার চাইতে উত্তম কিংবা অনুরূপ (আয়াত) নিয়ে আসি। তুমি কি জানোনা, নিশ্চয়ই সবকিছু করতে সক্ষম?

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য? ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি জান না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব একমাত্র এবং ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবকও নাই, সাহায্যকারীও নাই।

Word by word

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّ وَلَا نَصِيرٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি জানোনা, মহাকাশ এবং পৃথিবীর রাজত্ব - কর্তৃত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর? এবং তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অলিও নেই, সাহায্যকারী নেই।

মুহিউদ্দীন খান

ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) যেমন জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, (মুসলমানগন, ) তোমরাও কি তোমাদের রসূলকে তেমনি প্রশ্ন করতে চাও? যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহন করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে সেইরূপ প্রশ্ন করিতে চাও, যেইরূপ পূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হইয়াছিল? এবং যে কেহ ঈমানের পরিবর্তে গ্রহণ করে, নিশ্চিতভাবে সে সরল পথ হারায়।

Note
আল্লাহ এই কুরআনেই (2-55 to 2-64) জানিয়েছেন যে অতীতে অবিশ্বাসীরা (কাফিরগণ বা কুফরকারীরা) বার বার আল্লাহের অনুগ্রহের প্রমান পেয়েও আল্লাহের অস্তিত্ব প্রমাণ চাইতো, এমনকি বিশ্বাস করার জন্য তাঁরা আল্লাহকে দেখতেও চেয়েছিল। যদিও সর্বমহান আল্লাহ নিজেকে প্রকাশ করলে আল্লাহের উজ্জ্বল নূরে উপস্থিত সকলে মৃত্যুবরণ করে। এতো কিছুর পরেও আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করেছিলেন এবং পুনরায় জীবন্ত করেছিলেন।
Word by word

أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْـَٔلُوا۟ رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ وَمَن يَتَبَدَّلِ ٱلْكُفْرَ بِٱلْإِيمَٰنِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি এরাদা (ইচ্ছা) করেছো, তোমাদের রসূলকে সেরকম সওয়াল করতে, যেরকম সওয়াল করা হয়েছিল ইতোপূর্বে মূসাকে? আর যে কেউ ঈমান বদল করে কুফুরি গ্রহণ করবে, সে অবশ্যি সঠিক সোজা পথ হারিয়ে ফেলবে।

মুহিউদ্দীন খান

আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)। যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর। নিশ্চয় সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

সমকালীন বাংলা

কিতাবীদের অনেকেই তোমরা ঈমান আনার পর তোমাদের পুনরায় কুফুরিতে ফিরিয়ে নিতে চায়। সত্য সুস্পষ্ট হবার পরও শুধু তাদের বিদ্বেষের কারণে তারা এমনটি কামনা করে। তবে তোমরা তাদের সাথে ক্ষমা সুন্দর আচরণ করো এবং তাদের উপেক্ষা করে চলো, যতোক্ষণ না কোনো নির্দেশ প্রদান করেন। নিশ্চয়ই সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

Word by word

وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعْدِ إِيمَٰنِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلْحَقُّ فَٱعْفُوا۟ وَٱصْفَحُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবের অনেকেই তোমরা ঈমান আনার পর তোমাদের পুনরায় কুফুরিতে ফিরিয়ে নিতে চায়। হক (সত্য) তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবার পরও শুধু তাদের মনের ভেতরের বিদ্বেষের কারণে তারা এমনটি কামনা করে। তবে তোমরা তাদের সাথে ক্ষমা সুন্দর আচরণ করো এবং তাদের (এসব অপরাধ) উপেক্ষা (overlook) করে চলো, যতোক্ষণ না কোনো নির্দেশ প্রদান করেন। নিশ্চয়ই প্রত্যেক বিষয়ে শক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় তা প্রত্যক্ষ করেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর নিশ্চয় সবই দেখেন।

Word by word

وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং কায়েম করো আর যাকাত পরিশোধ করো। তোমাদের নিজেদের (আখিরাতের) জন্যে যে কোনো ভালো কাজই অগ্রিম পাঠাবে, তা অবশ্যি ওখানে গিয়ে আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যে আমলই করোনা কেন, অবশ্যি তা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

ওরা বলে, ইহুদী অথবা খ্রীস্টান ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না। এটা ওদের মনের বাসনা। বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে, প্রমাণ উপস্থিত কর।

সমকালীন বাংলা

এবং তাহারা বলে, ইহুদী বা খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কেহ কখনই জান্নাতে প্রবেশ করবে না ‘এটা মিথ্যা আশা’ বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে প্রমাণ দেখাও

Word by word

وَقَالُوا۟ لَن يَدْخُلَ ٱلْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَٰرَىٰ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আরো বলে: ‘কখনো দাখিল হবেনা জান্নাতে ইহুদি বা খৃষ্টান ছাড়া অন্য কেউ।’ - আসলে এটা তাদের (অলীক) কামনা মাত্র। তুমি তাদের বলো: ‘এ দাবির ব্যাপারে তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখাও।’

মুহিউদ্দীন খান

হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার বয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

সমকালীন বাংলা

হাঁ, যে কেহ আল্লাহর নিকট সম্পূর্ণরূপে আত্মসর্মপণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয় তাহার ফল তাহার প্রতিপালকের নিকট রহিয়াছে এবং তাহাদের কোন ভয় নাই ও তাহারা দুঃখিত হইবে না।

Word by word

بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُۥٓ أَجْرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ (জেনে রাখো, জান্নাতে কেবল সে - ই যাবে) যে নিজেকে পূর্ণরূপে সঁপে দিয়েছে আল্লাহর জন্যে (আল্লাহর বিধান ও নির্দেশের কাছে) এবং বাস্তবেও অবলম্বন করেছে সুন্দর ও কল্যাণের পথ। তার প্রভুর কাছে অবশ্যি রয়েছে তার পুরষ্কার। তাছাড়া এ ধরণের লোকদের কোনো ভয়ও থাকবেনা এবং তারা দু:খও পাবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।

সমকালীন বাংলা

ইহুদীরা বলে, ‘খ্রিস্টানদের কোন ভিত্তি নাই’ এবং খ্রিস্টানরা বলে, ‘ইয়াহূদীদের কোন ভিত্তি নাই’; অথচ তাহারা কিতাব পাঠ করে। এইভাবে যাহারা কিছুই জানে না তাহারাও অনুরূপ কথা বলে। সুতরাং যে বিষয়ে তাহারা মতভেদ করিত কিয়ামতের দিন উহার মীমাংসা করিবেন।

Word by word

وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ لَيْسَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ عَلَىٰ شَىْءٍ وَقَالَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ لَيْسَتِ ٱلْيَهُودُ عَلَىٰ شَىْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ ٱلْكِتَٰبَ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَٱللَّهُ

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদিরা বলে: ‘নাসারাদের (খৃষ্টানদের) কোনো ভিত্তি নাই।’ আর নাসারারা বলে: ‘ইহুদিদের কোনো ভিত্তি নেই।’ অথচ তারা (উভয়েই) তিলওয়াত করে আল কিতাব। একইভাবে যাদের কাছে (কিতাবের) এলেমই নেই, তারাও (সেই মুশরিকরাও) বলে এদের অনুরূপ কথা। তাদের মাঝে ফায়সালা প্রদান করবেন কিয়ামতের দিন, যে বিষয়ে (পৃথিবীতে) তারা এখতেলাফ করছে।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত - সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

এবং যে মসজিদসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং ধ্বংসের চেষ্টা করে তাঁর চেয়ে বড় কে? অথচ ভয় না পেয়ে তাদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা সংগত ছিল না। তাদের জন্য পৃথিবীতে লাঞ্ছনা ও পরকালে মহাশাস্তি।

Word by word

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا ٱسْمُهُۥ وَسَعَىٰ فِى خَرَابِهَآ أُو۟لَٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَآ إِلَّا خَآئِفِينَ لَهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا خِزْىٌ وَلَهُ

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ সমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ - আলোচনা করতে বাধা প্রদান করে এবং সেগুলোর ধ্বংসের কাজে তৎপর হয়? এসব লোকেরা সেগুলোতে (আল্লাহর মসজিদসমূহে) প্রবেশ করার অধিকার রাখেনা ভীত ও বিনয়ী হওয়া ছাড়া। দুনিয়াতে তাদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনা - অমর্যাদা, আর আখিরাতেও তাদের জন্যে রয়েছে বড় আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই বিরাজমান। নিশ্চয় সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

এবং ইলাহের জন্যেই পূর্ব ও পশ্চিম, অতএব যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও না কেন সেদিকই আল্লাহর দিক। নিশ্চয়ই সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।

Word by word

وَلِلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا۟ فَثَمَّ وَجْهُ ٱللَّهِ إِنَّ ٱللَّهَ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই মালিক পূর্ব এবং পশ্চিমের। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাওনা কেন, সেদিকই আল্লাহর। নিশ্চয়ই সর্বব্যাপী বিরাজমান এবং সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন।

সমকালীন বাংলা

এবং তাঁরা বলে সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি এসব থেকে পবিত্র বরং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর, তাঁর অনুগত।

Word by word

وَقَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدًا سُبْحَٰنَهُۥ بَل لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ كُلٌّ لَّهُۥ قَٰنِتُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র (এসব অপবাদ থেকে)। বরং মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর, এবং সবাই তাঁর অনুগত।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে একথাই বলেন, ‘হয়ে যাও’ তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।

সমকালীন বাংলা

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং যখন তিনি কোন কিছু করিতে সিদ্ধান্তকরেন তখন উহার জন্য শুধু বলেন, ‘হও’, আর উহা হইয়া যায়।

Word by word

بَدِيعُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَإِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবীর অস্তিত্বদানকারী। তিনি যখন কোনো কিছু সূচনা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু সেটার উদ্দেশ্যে বলেন: ‘হও’, আর সংগে সংগে তা হয়ে যায়।

মুহিউদ্দীন খান

যারা কিছু জানে না, তারা বলে, আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলেন না? অথবা আমাদের কাছে কোন নিদর্শন কেন আসে না? এমনি ভাবে তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও তাদেরই অনুরূপ কথা বলেছে। তাদের অন্তর একই রকম। নিশ্চয় আমি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি তাদের জন্যে যারা প্রত্যয়শীল।

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা কিছু জানে না তাহারা বলে, আমাদের সঙ্গে কথা বলেন না কেন? কিংবা কোন নিদর্শন আমাদের নিকট আসে না কেন?’ এইভাবে তাহাদের পূর্ববর্তীরাও তাহাদের অনুরূপ কথা বলিত। তাহাদের অন্তর একই রকম। আমি দৃঢ় প্রত্যয়শীলদের জন্য নিদর্শনাবলী স্পষ্টভাবে বিবৃত করিয়াছি।

Word by word

وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْلَا يُكَلِّمُنَا ٱللَّهُ أَوْ تَأْتِينَآ ءَايَةٌ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَٰبَهَتْ قُلُوبُهُمْ قَدْ بَيَّنَّا ٱلْءَايَٰتِ لِقَوْمٍ يُ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাদের কোনো এলেম নেই, তারা বলে: ‘ (সরাসরি) আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসেনা কেন?’ এই একই ধরণের কথা বলতো এদের পূর্বেকার (অজ্ঞ - পথভ্রষ্ট) লোকেরা। তাদের সকলের কলবসমূহ (মানসিকতা) একই রকম। আমরা নিদর্শনসমূহ পরিষ্কারভাবে বয়ান করে দিয়েছি সেইসব লোকদের জন্যে যারা রাখে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।

সমকালীন বাংলা

আমি তোমাকে সত্যসহ শুভ সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি। জাহান্নামীদের সম্বন্ধে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হইবে না।

Note

জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:


  • جَهَنَّم (Jahannam)
  • الْجَحِيم (Al-Jaḥīm)
  • سَقَر (Saqar)
  • لَظَى (Laẓā)
  • الْحُطَمَة (Al-Ḥuṭamah)
  • السَّعِير (As-Saʿīr)
  • الْهَاوِيَة (Al-Hāwiyah)

Word by word

إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَا تُسْـَٔلُ عَنْ أَصْحَٰبِ ٱلْجَحِيمِ

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ! এটাও তাদের জন্যে একটা সুস্পষ্ট নিদর্শন যে,) আমরা তোমাকে মহাসত্য (আল কুরআন ও ইসলাম) দিয়ে পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে। জাহিমের (প্রজ্জ্বলিত আগুনের) অধিবাসীদের ব্যাপারে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই।

সমকালীন বাংলা

ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানরা তোমার প্রতি কখনও সন্তুষ্ট হইবে না, যতক্ষণ না তুমি তাহাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর। বল, পথনির্দেশই প্রকৃত পথনির্দেশ।’ জ্ঞান প্রাপ্তির পর তুমি যদি তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ কর তবে বিপক্ষে তোমার কোন অভিভাবক থাকিবে না এবং কোন সাহায্যকারীও থাকিবে না।

Word by word

وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ ٱلْيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلْهُدَىٰ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم بَعْدَ ٱلَّذِى جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ مَا لَكَ مِ

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদি এবং খৃষ্টানরা তোমার প্রতি কখনো রাজি খুশি হবেনা, যতোক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম পথের অনুসরণ করো। তুমি তাদের বলো: ‘আল্লাহর দেয়া ‘হুদা’ই (জীবন যাপন পদ্ধতিই) একমাত্র সঠিক হুদা।’ তোমার কাছে ‘আল এলেম’ (মহা সত্য জ্ঞান আল কুরআন) আসার পরও যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশির এত্তেবা করো, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্যে তুমি কোনো অলিও পাবেনা, আর কোনো সাহায্যকারীও পাবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

সমকালীন বাংলা

যাহাদেরকে আমি কিতাব দিয়াছি তাহারা যথাযথভাবে ইহা তিলাওয়াত করে তাহারাই ইহাতে বিশ্বাস করে; আর যাহারা ইহা প্রত্যাখ্যান করে তাহারা ক্ষতিগ্রস্ত।

Word by word

ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَٰهُمُ ٱلْكِتَٰبَ يَتْلُونَهُۥ حَقَّ تِلَاوَتِهِۦٓ أُو۟لَٰٓئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِۦ وَمَن يَكْفُرْ بِهِۦ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যাদের কিতাব দিয়েছি তারা তা তিলাওয়াত করে (পড়ে এবং অনুসরণ করে) তিলাওয়াতের হক আদায় করে। এরাই তার (অর্থাৎ কিতাবের) প্রতি ঈমান রাখে। আর যারা এটির (কুরআনের) প্রতি কুফুরি করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - ইসরাঈল! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।

সমকালীন বাংলা

হে ইসরাঈল - সন্তানগণ! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর যদ্বারা আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করিয়াছি এবং তোমাদেরকে বিশ্বে সকলের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছি।

Word by word

يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّى فَضَّلْتُكُمْ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল! স্মরণ করো আমার সেই নিয়ামতের কথা, যার দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছিলাম এবং (একসময়) তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছিলাম বিশ্ববাসীর উপর।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা ভয় কর সেদিনকে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না, কার ও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত ও হবে না।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় কর যেদিন কেহ কাহারও কোন উপকারে আসিবে না, কাহারও নিকট হইতে কোন বিনিময় গৃহীত হইবে না এবং কোন সুপারিশ কাহারও পক্ষে লাভজনক হইবে না এবং তাহারা সাহায্য প্রাপ্তও হইবে না।

Word by word

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًا لَّا تَجْزِى نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْـًٔا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَٰعَةٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সতর্ক হও সেই দিনটির ব্যাপারে, যেদিন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির কোনো কাজে আসবেনা, যেদিন কোনো বিনিময় বা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবেনা এবং কোনো শাফায়াতও কিছুমাত্র কাজে লাগবেনা এবং যেদিন কাউকেও কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না।

সমকালীন বাংলা

এবং স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীমকে তাহার প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষাকরিয়াছিলেন এবং সেইগুলি সে পূর্ণ করিয়াছিল, বলিলেন, ‘আমি তোমাকে মানব জাতির নেতা করিতেছি।’ সে বলিল, ‘আমার বংশধরগণের মধ্য হইতেও?’ বলিলেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নহে।’

Word by word

وَإِذِ ٱبْتَلَىٰٓ إِبْرَٰهِۦمَ رَبُّهُۥ بِكَلِمَٰتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّى جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِى قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِى ٱلظَّٰلِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যখন ইবরাহিমকে তার প্রভু কয়েকটি নির্দেশের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পরিপূর্ণ করেছিল (উত্তীর্ণ হয়েছিল), তখন তার প্রভু তাকে বলেছিলেন: ‘আমি তোমাকে মানবজাতির একজন নেতা মনোনীত করছি।’ সে বললো: ‘আমার সন্তানদের ব্যাপারেও কি এই সিদ্ধান্ত?’ তিনি বললেন: ‘আমার প্রতিশ্রুতি যালিমদের ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু - সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।

সমকালীন বাংলা

এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি কা‘বাগৃহকে মানব জাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করিয়াছিলাম এবং বলিয়াছিলাম, ‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর।’ এবং ইব্রাহীম ও ইসমাইলকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী, রুকূ‘ ও সিজ্দাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখিতে আদেশ দিয়াছিলাম।

Word by word

وَإِذْ جَعَلْنَا ٱلْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْنًا وَٱتَّخِذُوا۟ مِن مَّقَامِ إِبْرَٰهِۦمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَآ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلْعَٰكِفِينَ وَٱلر

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সেই সময়কার কথা স্মরণ করো, যখন আমরা এই (কাবা) ঘরকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র এবং নিরাপত্তার স্থল বানিয়ে দিয়েছিলাম, আর (মানুষকে বলেছিলাম:) ‘তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে মুসাল্লা (নামাযের স্থান) বানাও।’ ইবরাহিম আর ইসমাঈলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘তোমরা আমার (কা’বা) ঘরকে পবিত্র করো তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু সাজদাকারীদের জন্যে।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন ইব্রাহীম বললেন, পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিধান কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা অল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর। বললেনঃ যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরও কিছুদিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেব, অতঃপর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্থান।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলিয়াছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! ইহাকে নিরাপদ শহর করিও, আর ইহার অধিবাসীদের মধ্যে যাহারা ও আখিরাতে ঈমান আনে তাহাদেরকে ফলমূল হইতে জীবিকা প্রদান করিও।’ তিনি বলিলেন, ‘যে কেহ করিবে তাহাকেও কিছু কালের জন্য জীবন উপভোগ করিতে দিব, অতঃপর তাহাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করিতে বাধ্য করিব এবং কত নিকৃষ্ট তাহাদের প্রত্যাবর্তনস্থল! ’

Word by word

وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ رَبِّ ٱجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا ءَامِنًا وَٱرْزُقْ أَهْلَهُۥ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ مَنْ ءَامَنَ مِنْهُم بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُۥ قَلِيلًا ثُمَّ أَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম (দোয়া করে) বলেছিল: ‘আমার প্রভু! এই মক্কা নগরকে নিরাপদ নগর বানিয়ে দাও এবং এর অধিবাসীদের যারা ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনবে, ফল ফলারি দিয়ে তাদের জীবন ধারণের উপকরণ সরবরাহ করো।’ তিনি বললেন: আর যে কুফুরি করবে তাকেও অল্প কিছুকাল জীবন সামগ্রী সরবরাহ করবো, তারপর আমি তাকে বাধ্য করবো আগুনের আযাব ভোগ করতে, আর খুবই নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল সেটা।

মুহিউদ্দীন খান

স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা’বাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দোয়া করেছিলঃ পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা‘বাগৃহের প্রাচীর তুলছিলেন তখন তাঁরা বলেছিলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এই কাজ গ্রহণ করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।’

Word by word

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَٰهِۦمُ ٱلْقَوَاعِدَ مِنَ ٱلْبَيْتِ وَإِسْمَٰعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّآ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর স্মরণ করো, ইবরাহিম এবং (তার পুত্র) ইসমাঈল যখন এই ঘরের ভিত উঠাচ্ছিল, তখন তারা (দোয়া করে) বলেছিল: ‘‘আমাদের প্রভু! আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের এ কাজ কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছু শোনো, সবকিছু জানো।

মুহিউদ্দীন খান

পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হইতে আপনার এক অনুগত উম্মত করবেন। আমাদেরকে ‘ইবাদতের নিয়ম - পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হোন। নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

Word by word

رَبَّنَا وَٱجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَآ أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَآ إِنَّكَ أَنتَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! আমাদের দু’জনকেই তোমার প্রতি ‘মুসলিম’ (অনুগত - আত্মসমর্পিত) বানাও, আর আমাদের বংশধরদের থেকেও তোমার প্রতি একটি ‘মুসলিম উম্মাহ’ (অনুগত জাতি) বানাও। আমাদেরকে আমাদের মানাসিক (ইবাদত পদ্ধতি) শিখিয়ে দাও এবং আমাদের অনুশোচনা গ্রহণ করে আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি অনুশোচনা গ্রহণকারী অতীব ক্ষমাশীল, দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।

সমকালীন বাংলা

‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাহাদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করুন - যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাঁদের নিকট তিলাওয়াত করবেন; তাঁদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং তাঁদের পবিত্র করিবেন। আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’

Word by word

رَبَّنَا وَٱبْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! এদের (আমাদের বংশধরদের) কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল পাঠিয়ো, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদেরকে (তোমার) কিতাব এবং হিকমা শিক্ষা দেবেন আর তাদেরকে তাযকিয়া করবেন। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশক্তিমান সর্বজ্ঞানী।’’

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

সমকালীন বাংলা

যে নিজেকে নির্বোধ করিয়াছে সে ব্যতীত ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ হইতে আর কে বিমুখ হইবে। পৃথিবীতে তাহাকে আমি মনোনীত করিয়াছি; আর আখিরাতেও সে অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণগণের অন্যতম।

Word by word

وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَٰهِۦمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفْسَهُۥ وَلَقَدِ ٱصْطَفَيْنَٰهُ فِى ٱلدُّنْيَا وَإِنَّهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ لَمِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যে নিজেকে বোকা - নির্বোধ বানিয়েছে, সে ছাড়া ‘মিল্লাতে ইবরাহিম’ (ইবরাহিমের আদর্শ ও জীবন পদ্ধতি) থেকে মুখ ফিরাবে কে? দুনিয়াতে আমি তাকে বাছাই করেছি আর আখিরাতে সে হবে ন্যায়পরায়ণদের অন্তরভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

স্মরণ কর, যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেনঃ অনুগত হও। সে বললঃ আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।

সমকালীন বাংলা

তাহার প্রতিপালক যখন তাহাকে বলিয়াছিলেন, ‘আত্মসর্মপণ কর’, সে বলিয়াছিল, ‘জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসর্মপণ করিলাম।’

Word by word

إِذْ قَالَ لَهُۥ رَبُّهُۥٓ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তার প্রভু তাকে বলেছিল: ‘আত্মসমর্পণ করো।’ সে বলেছিল: ‘আমি আত্মসমর্পণ করলাম রাববুল আলামিনের উদ্দেশ্যে।’

মুহিউদ্দীন খান

এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।

সমকালীন বাংলা

এবং ইব্রাহীম ও ইয়া‘কূব এই সম্বন্ধে তাহাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়া বলিয়াছিল, ‘হে পুত্রগণ! তোমাদের জন্য এই দীনকে মনোনীত করিয়াছেন। সুতরাং আত্মসর্মপণকারী না হইয়া তোমরা কখনও মৃত্যুবরণ করিও না।

Word by word

وَوَصَّىٰ بِهَآ إِبْرَٰهِۦمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَٰبَنِىَّ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصْطَفَىٰ لَكُمُ ٱلدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এই একই বিষয়ের অসিয়ত করেছিল ইবরাহিম তার সন্তানদের এবং (তার নাতি) ইয়াকুব (নিজের সন্তানদের)। (তারা বলেছিল:) ‘হে আমার সন্তানেরা! তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন ‘আদ্ দীন’। সুতরাং আমৃত্যু তোমরা মুসলিম (আল্লাহর অনুগত) হয়ে থাকবে।’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ - পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।

সমকালীন বাংলা

ইয়া‘কূবের নিকট যখন মৃত্যু আসিয়াছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? সে যখন পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, ‘আমার পরে তোমরা কিসের ‘ইবাদত করিবে?’ তাহারা তখন বলিয়াছিল, ‘আমরা আপনার ইলাহ্ - এর এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহ্ - এরই ‘ইবাদত করিব। তিনি একমাত্র ইলাহ্ এবং আমরা তাঁহার নিকট আত্মসর্মপণকারী।’

Word by word

أَمْ كُنتُمْ شُهَدَآءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ ٱلْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنۢ بَعْدِى قَالُوا۟ نَعْبُدُ إِلَٰهَكَ وَإِلَٰهَ ءَابَآئِكَ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ إِلَٰهًا وَٰح

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি সাক্ষী (উপস্থিত) ছিলে, যখন হাজির হয়েছিল ইয়াকুবের মৃত্যু (সময়)? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল: ‘আমার পরে তোমরা কিসের ইবাদত করবে?’ তারা বলেছিল: ‘আমরা ইবাদত করবো আপনার ইলাহ্র এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম, ইসমাঈল আর ইসহাকের ইলাহ্র। তিনিই একমাত্র ইলাহ্। আমরা তাঁর প্রতি ‘মুসলিম’ (অনুগত - আত্মসমর্পিত) হয়ে থাকবো।’

মুহিউদ্দীন খান

আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায় - যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।

সমকালীন বাংলা

সেই ছিল এক উম্মত, তাহা অতীত হইয়াছে। তাহারা যাহা অর্জন করিয়াছে তাহা তাহাদের। তোমরা যাহা অর্জন কর তাহা তোমাদের। তাহারা যাহা করিত সে সম্বন্ধে তোমাদের কোন প্রশ্ন করা হইবে না।

Word by word

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি ছিলো একটি উম্মাহ, তারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা উপার্জন (আমল) করেছে তা - ই (তার প্রতিফলই) তারা পাবে। আর তোমরা পাবে তোমাদের উপার্জনের প্রতিফল। তারা যা আমল করে গেছে সে সম্পর্কে তোমাদের সওয়াল (জিজ্ঞাসাবাদ) করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, তোমরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইব্রাহীমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলে, ‘ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান হও, ঠিক পথ পাইবে।’ বল, ‘বরং একনিষ্ঠ হইয়া আমরা ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করিব এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।’

Word by word

وَقَالُوا۟ كُونُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَٰرَىٰ تَهْتَدُوا۟ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَٰهِۦمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা বলে: ‘ইহুদি হয়ে যাও, কিংবা খৃষ্টান হয়ে যাও, তবেই হিদায়াত (ঠিক পথ) লাভ করবে।’ (হে মুহাম্মদ) তুমি বলো: ‘বরং, তোমরা সব কিছু ত্যাগ করে ইবরাহিমের আদর্শ গ্রহণ করো। আর তিনি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিলেন না।’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।

সমকালীন বাংলা

তোমরা বল, ‘আমরা আল্লাহতে ঈমান রাখি, এবং যাহা আমাদের প্রতি এবং ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব ও তাহার বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে; এবং যাহা তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে মূসা, ‘ঈসা ও অন্যান্য নবীকে দেওয়া হইয়াছে ; আমরা তাহাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁহারই নিকট আত্মসর্মপণকারী।

Word by word

قُولُوٓا۟ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطِ وَمَآ أُوتِىَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَآ أُوتِىَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুসলিমরা!) তোমরা বলো: ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি। তাছাড়া আমরা ঈমান রাখি তার প্রতি, যা নাযিল হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা নাযিল হয়েছিল ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক এবং ইয়াকুব ও তার সন্তানদের প্রতি; আর যা নাযিল হয়েছিল মূসা আর ঈসার প্রতি; আর যা প্রদান করা হয়েছিল অন্যান্য নবীগণকে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে। আমরা তাদের (নবী - রসূলগণের) কারো মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য করিনা। আমরা তো শুধু তাঁরই (আল্লাহরই) জন্যে মুসলিম।’

মুহিউদ্দীন খান

অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মত, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যাহাতে ঈমান আনয়ন করিয়াছ তাহারা যদি সেইরূপ ঈমান আনয়ন করে তবে নিশ্চয় তাহারা হিদায়াত পাইবে। আর যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয়, তবে তাহারা নিশ্চয়ই বিরুদ্ধভাবাপন্ন এবং তাহাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

Word by word

فَإِنْ ءَامَنُوا۟ بِمِثْلِ مَآ ءَامَنتُم بِهِۦ فَقَدِ ٱهْتَدَوا۟ وَّإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا هُمْ فِى شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ ٱللَّهُ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে যে বিষয়ে ঈমান এনেছো, তারা যদি তোমাদের মতো সেরকম ঈমান আনে, তাহলেই তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। আর যদি তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, তবে তারা অবশ্যি বিরুদ্ধবাদী। তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্ই তোমার জন্যে যথেষ্ট। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে?আমরা তাঁরই এবাদত করি।

সমকালীন বাংলা

আমরা গ্রহণ করিলাম আল্লাহর রং, রঙে অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর? এবং আমরা তাঁহারই ‘ইবাদতকারী।

Word by word

صِبْغَةَ ٱللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ ٱللَّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُۥ عَٰبِدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

(বলো:) ‘আমাদের রঙ (ধর্ম) হলো আল্লাহর রঙ (ইসলাম)। এবং রঙের দিক থেকে আল্লাহর চেয়ে সুন্দর আর কে? আমরা তাঁরই ইবাদতকারী (অনুগত ও হুকুমপালনকারী)।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিন, তোমরা কি আমাদের সাথে সম্পর্কে তর্ক করছ? অথচ তিনিই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের ও পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। এবং আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ।

সমকালীন বাংলা

বলুন, সম্বন্ধে তোমরা কি আমাদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও - যখন তিনি আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। আমাদের কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের; এবং আমরা তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ।

Word by word

قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِى ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَآ أَعْمَٰلُنَا وَلَكُمْ أَعْمَٰلُكُمْ وَنَحْنُ لَهُۥ مُخْلِصُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো (হে মুহাম্মদ!): ‘তোমরা কি আমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হতে চাও আল্লাহর ব্যাপারে? অথচ তিনি আমাদেরও রব এবং তোমাদেরও রব। আমাদের আমল ( - এর প্রতিফল) আমাদের, আর তোমাদের আমল ( - এর প্রতিফল) তোমাদের। আর আমরা তাঁর (আল্লাহর) জন্যে নিষ্ঠাবান।’

মুহিউদ্দীন খান

অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না বেশী জানেন?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি বল, ‘ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব ও তাহার বংশধরগণ অবশ্যই ইয়াহূদী কিংবা খ্রিস্টান ছিল?’ বল, ‘তোমরা কি বেশি জান, না ? আল্লাহর নিকট হইতে তাহার কাছে যে প্রমাণ আছে তাহা যে গোপন করে তাহার অপেক্ষা অধিকতর আর কে হইতে পারে? তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে অনবহিত নহেন।

Word by word

أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطَ كَانُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَٰرَىٰ قُلْ ءَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ ٱللَّهُ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَٰدَةً عِندَهُۥ مِن

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তোমরা বলতে চাও যে, ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক এবং ইয়াকুব ও তার বংশধররা ইহুদি কিংবা নাসারা ছিলো? (হে মুহাম্মদ! তাদের) বলো: ‘তোমরাই কি বেশি জানো, নাকি ? ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যার কাছে আল্লাহর নিকট থেকে আসা প্রমাণ বর্তমান থাকা সত্ত্বেও সে তা গোপন করে? মোটেও গাফিল নন তোমাদের আমল (কর্মকান্ড) - এর ব্যাপারে।

মুহিউদ্দীন খান

তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।

সমকালীন বাংলা

সেই ছিল এক উম্মত, তাহা অতীত হইয়াছে। তাহারা যাহা অর্জন করিয়াছে তাহা তাহাদের। তোমরা যাহা অর্জন কর তাহা তোমাদের। তাহারা যাহা করিত সে সম্বন্ধে তোমাদের কোন প্রশ্ন করা হইবে না।

Word by word

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি ছিলো একটি উম্মাহ, তারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা উপার্জন করেছে তার প্রতিফলই তারা পাবে। আর তোমরা পাবে তোমাদের উপার্জন - এর প্রতিফল। তোমাদের সওয়াল (জিজ্ঞাসাবাদ) করা হবেনা তাদের আমল সম্পর্কে।

মুহিউদ্দীন খান

এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।

সমকালীন বাংলা

নির্বোধ লোকেরা অচিরেই বলিবে যে, তাহারা এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করিয়া আসিতেছিল উহা হইতে কিসে তাহাদেরকে ফিরাইয়া দিল? বল, ‘পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাহাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।’

Word by word

سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ ٱلَّتِى كَانُوا۟ عَلَيْهَا قُل لِّلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

বোকা নির্বোধ লোকেরা অচিরেই বলবে: ‘কী জিনিস তাদের (মুসলিমদের) ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের সেই কিবলা (বায়তুল মাকদাস) থেকে, যার দিকে ফিরে তারা আদায় করে আসছিল?’ বলো (হে মুহাম্মদ!): পূর্ব পশ্চিম উভয়টার মালিকই । তিন যাকে ইচ্ছা সোজা পথ প্রদর্শন করেন।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছেন। এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই , মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।

সমকালীন বাংলা

এইভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি, যাহাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হইবে। তুমি এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করিতেছিলে উহাকে আমি এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলাম যাহাতে জানিতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে এবং কে ফিরিয়া যায়। যাহাদের সৎপথে পরিচালিত করিয়াছেন তাহারা ব্যতীত অপরের নিকট ইহা নিশ্চয়ই কঠিন। আল্লাহ্এইরূপ নহেন যে. তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করেন। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।

Word by word

وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَٰكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا۟ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا ٱلْقِبْلَةَ ٱلَّتِى كُنتَ عَلَيْهَآ إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ ٱلر

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা তোমাদের বানিয়েছি একটি ‘মধ্যপন্থী উম্মাহ’ যাতে করে তোমরা বিশ্ববাসীর জন্যে সাক্ষী হতে পারো এবং রসূল হতে পারে তোমাদের জন্যে সাক্ষী। তুমি এ যাবত যেটিকে কিবলা বানিয়ে আদায় করে আসছিলে, সেটিকে তো আমরা এজন্যে কিবলা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যাতে করে আমরা জানতে পারি, কে আমার রসূলের এত্তেবা (অনুসরণ) করে, আর কে তার থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে? নি:সন্দেহে এটা (পরিবর্তিত কিবলা মেনে নেয়া) ছিলো একটা বড় কঠিন কাজ; কিন্তু তাদের জন্যে (মোটেও কঠিন) ছিলনা, যাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। অবশ্যি এমন নন যে, তিনি তোমাদের ঈমান বিনষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি পরম স্নেহপরায়ণ, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল - হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে - কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।

সমকালীন বাংলা

আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্যই লক্ষ্য করি। সুতরাং তোমাকে অবশ্যই এমন কিব্লার দিকে ফিরাইয়া দিতেছি যাহা তুমি পসন্দ কর। অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। তোমরা যেখানেই থাক না কেন উহার দিকে মুখ ফিরাও এবং যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহারা নিশ্চিতভাবে জানে যে, উহা তাহাদের প্রতিপালকের প্রেরিত সত্য। তাহারা যাহা করে সে সম্বন্ধে অনবহিত নহেন।

Word by word

قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِى ٱلسَّمَآءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَىٰهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ أُوتُ

আবদুস শহীদ নাসিম

বার বার তোমার আকাশের দিকে (কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ পাওয়ার জন্যে) তাকানোর বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা অবশ্যি তোমাকে এমন একটি কিবলার (কাবার) দিকে ফিরিয়ে দেবো, যা তোমাকে সন্তুষ্ট করবে। হ্যাঁ, ‘মসজিদুল হারামের’ দিকে মুখ ফিরিয়ে নাও। তোমরা যেখানেই থাকোনা কেন সেটির দিকে মুখ ফিরিয়ে নাও। আর যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে, তারা নিশ্চিতভাবেই জানে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এটা সঠিক নির্দেশ। তারা যা করছে, সে সম্পর্কে গাফিল নন।

মুহিউদ্দীন খান

যদি আপনি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কেবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না। তারাও একে অন্যের কেবলা মানে না। যদি আপনি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, সে জ্ঞানলাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সমকালীন বাংলা

যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তুমি যদি তাহাদের নিকট সমস্ত দলীল পেশ কর, তবুও তাহারা তোমার কিব্লার অনুসরণ করিবে না; এবং তুমিও তাহাদের কিব্লার অনুসারী নও, এবং তাহারাও পরস্পরের কিব্লার অনুসারী নয়। তোমার নিকট জ্ঞান আসিবার পর তুমি যদি তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ কর, নিশ্চয়ই তখন তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

Word by word

وَلَئِنْ أَتَيْتَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ بِكُلِّ ءَايَةٍ مَّا تَبِعُوا۟ قِبْلَتَكَ وَمَآ أَنتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم مِّنۢ ب

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে, তুমি যদি তাদেরকে সমস্ত দলিল - প্রমাণ নিদর্শনও দেখাও, তবু তারা তোমার কিবলার অনুসরণ করবেনা (কাবাকে কিবলা মেনে নেবেনা)। আর তুমিও তাদের কিবলার অনুসারী নও এবং তারাও তাদের পরস্পরের কিবলার অনুসারী নয়। তোমার কাছে ‘আল এলেম’ (সত্যজ্ঞান) এসে যাবার পরও যদি তুমি তাদের ইচ্ছা - আকাংখার অনুসরণ করো, তবে অবশ্যি তুমি যালিমদের অন্তরভুক্ত হবে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।

সমকালীন বাংলা

আমি যাহাদেরকে কিতাব দিয়াছি তাহারা তাহাকে সেইরূপ জানে যেইরূপ তাহারা নিজেদের সন্তানগণকে চিনে এবং তাহাদের একদল জানিয়া - শুনিয়া সত্য গোপন করিয়া থাকে।

Word by word

ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَٰهُمُ ٱلْكِتَٰبَ يَعْرِفُونَهُۥ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَآءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ ٱلْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদেরকে আমরা ইতোপূর্বে কিতাব দিয়েছি তারা এটিকে (কাবাকে) ঠিক সেরকমই চেনে, যেমন চেনে নিজেদের ছেলে মেয়েদেরকে। কিন্তু তাদের একটি দল জেনে বুঝে সত্য গোপন করে চলেছে।

মুহিউদ্দীন খান

বাস্তব সত্য সেটাই যা তোমার পালনকর্তা বলেন। কাজেই তুমি সন্দিহান হয়ো না।

সমকালীন বাংলা

সত্য তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে প্রেরিত। সুতরাং তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

Word by word

ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُمْتَرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এটাই তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে আসা অনিবার্য সত্য। সুতরাং তুমি সংশয়ীদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর সবার জন্যই রয়েছে কেবলা একেক দিকে, যে দিকে সে মুখ করে (এবাদত করবে)। কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকবে, অবশ্যই তোমাদেরকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।

সমকালীন বাংলা

প্রত্যেকের একটি দিক রহিয়াছে, যেদিকে সে মুখ করে। অতএব তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের সকলকে একত্র করিবেন। নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

Word by word

وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَٱسْتَبِقُوا۟ ٱلْخَيْرَٰتِ أَيْنَ مَا تَكُونُوا۟ يَأْتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًا إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেকেরই (প্রত্যেক জাতি - গোষ্ঠীরই) একটি দিক (কিবলা) আছে, যে দিকে সে ফিরে (প্রার্থনা করে)। সুতরাং প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাও সকল কল্যাণকর কাজে। যেখানেই তোমরা থাকোনা কেন, অবশ্যি তোমাদের সবাইকে একত্র করবেন। অবশ্যি সকল বিষয়ে শক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও - নিঃসন্দেহে এটাই হলো তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য। বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন।

সমকালীন বাংলা

যেখান হইতেই তুমি বাহির হও না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। ইহা নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে প্রেরিত সত্য। তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে অনবহিত নহেন।

Word by word

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَإِنَّهُۥ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যেখান থেকেই তুমি যাত্রা করোনা কেন, সেখান থেকেই ( আদায়ের সময়) তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। তোমার রবের পক্ষ থেকে এ (কিবলা) অবশ্যি সত্য ও বাস্তব ভিত্তিক ফায়সালা। তোমাদের আমল সম্পর্কে গাফিল নন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা যেখান থেকেই বেরিয়ে আস এবং যেখানেই অবস্থান কর, সেদিকেই মুখ ফেরাও, যাতে করে মানুষের জন্য তোমাদের সাথে ঝগড়া করার অবকাশ না থাকে। অবশ্য যারা অবিবেচক, তাদের কথা আলাদা। কাজেই তাদের আপত্তিতে ভীত হয়ো না। আমাকেই ভয় কর। যাতে আমি তোমাদের জন্যে আমার অনুগ্রহ সমূহ পূর্ণ করে দেই এবং তাতে যেন তোমরা সরলপথ প্রাপ্ত হও।

সমকালীন বাংলা

তুমি যেখান হইতেই বাহির হও না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন উহার দিকে মুখ ফিরাইবে, যাহাতে তাহাদের মধ্যে জালিমদের ব্যতীত অপর লোকের তোমাদের বিরুদ্ধে বিতর্কের কিছু না থাকে। সুতরাং তাহাদেরকে ভয় করিও না, শুধু আমাকেই ভয় কর। যাহাতে আমি আমার নিয়ামত তোমাদেরকে পূর্ণরূপে দান করিতে পারি এবং যাহাতে তোমরা সৎপথে পরিচালিত হইতে পার।

Word by word

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنْهُمْ فَل

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যেখান থেকেই তুমি যাত্রা শুরু করোনা কেন ( আদায়ের সময়) মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। আর তোমরাও যে যেখানেই থাকো তার (মসজিদুল হারামের) দিকে মুখ ফিরাও, যাতে করে লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দাঁড় করাতে না পারে। তবে যালিমদের কথা ভিন্ন (তারা সর্বাবস্থায়ই কুতর্কে লিপ্ত হয়)। সুতরাং তাদেরকে ভয় পেয়োনা, ভয় করো শুধু আমাকে - আর (আমার ফায়সালা মতো চলো), যাতে করে আমি তোমাদের প্রতি পূর্ণ করে দিতে পারি আমার নিয়ামত (দীন ও কিতাব) এবং যাতে করে তোমরা পরিচালিত হতে পারো সঠিক পথে।

মুহিউদ্দীন খান

যেমন, আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে একজন রসূল, যিনি তোমাদের নিকট আমার বাণীসমুহ পাঠ করবেন এবং তোমাদের পবিত্র করবেন; আর তোমাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও তাঁর তত্ত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দেবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না।

সমকালীন বাংলা

যেমন আমি তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছি, যে আমার আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট তিলাওয়াত করে, তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় আর তোমরা যাহা জানিতে না তাহা শিক্ষা দেয়

Word by word

كَمَآ أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِّنكُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا۟ تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এমনিভাবে (তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে) আমি তোমাদের থেকেই তোমাদের মাঝে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যে তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে, তোমাদের তাযকিয়া (সংশোধন ও উন্নত) করে, তোমাদের আল কিতাব (কুরআন) ও হিকমা শিক্ষা দেয় এবং তোমরা যা কিছু জানতে না, সেগুলো তোমাদের শিখায়।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং তোমরা আমাকেই স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করিব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হইও না।

Word by word

فَٱذْكُرُونِىٓ أَذْكُرْكُمْ وَٱشْكُرُوا۟ لِى وَلَا تَكْفُرُونِ

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আমার যিকির করো (আমার নিয়ামতের কথা আলোচনা করো), তাহলে আমি তোমাদের যিকির করবো। আর তোমরা আমার শোকরগুজার হয়ে থাকো এবং (আমার নিয়ামতসমূহ) অস্বীকার করোনা।

মুহিউদ্দীন খান

হে গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐ সমস্ত লোকেরা, যারা ঈমান এনেছো! তোমরা সবর এবং দ্বারা সাহায্য (শক্তি) অর্জন করো। নিশ্চয়ই সবরকারীদের সাথে থাকেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।

সমকালীন বাংলা

পথে যাহারা নিহত হয় তাহাদেরকে মৃত বলিও না, বরং তাহারা জীবিত; কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করিতে পার না।

Word by word

وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَن يُقْتَلُ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمْوَٰتٌۢ بَلْ أَحْيَآءٌ وَلَٰكِن لَّا تَشْعُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা 'ফী সাবিলিল্লাহ' (আল্লাহর পথে) নিহত হয়, তোমরা তাদের মৃত বলোনা; প্রকৃত পক্ষে তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা (তা) বুঝতে পারোনা।

মুহিউদ্দীন খান

এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল - ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।

সমকালীন বাংলা

আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন - সম্পদ, জীবন ও ফল - ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করিব। তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলগণকে -

Word by word

وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ مِّنَ ٱلْخَوْفِ وَٱلْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর অবশ্য অবশ্যি আমি তোমাদের পরীক্ষা নেবো ভয় - ভীতি দিয়ে, ক্ষুধা - অনাহার দিয়ে এবং অর্থ - সম্পদ, জান - প্রাণ ও ফল ফসলের ক্ষয় ক্ষতি দিয়ে। তবে সুসংবাদ দাও 'সবর' অবলম্বনকারীদের,

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।

সমকালীন বাংলা

যাহারা তাহাদের উপর বিপদ আপতিত হইলে বলে, ‘আমরা তো এবং নিশ্চিতভাবে তাঁহার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’

Word by word

ٱلَّذِينَ إِذَآ أَصَٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوٓا۟ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বিপদ - মসিবতে আক্রান্ত হলে বলে: ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাবো।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েত প্রাপ্ত।

সমকালীন বাংলা

ইহারাই তাহারা যাহাদের প্রতি তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়, আর ইহারাই সৎপথে পরিচালিত।

Note
الصلا ???
Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَٰتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُهْتَدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই সেইসব লোক, যাদের প্রতি তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বর্ষিত হয় (ক্ষমা ও করুণা) এবং রহমত। আর তারাই (তাঁর পক্ষ থেকে) হিদায়াত প্রাপ্ত।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেহ কা‘বাগৃহের হজ্জ কিংবা ‘উমরা সম্পন্ন করে এই দুইটির মধ্যে সা‘ঈ করিলে তাহার কোন পাপ নাই আর কেহস্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করিলে তো পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।

Word by word

إِنَّ ٱلصَّفَا وَٱلْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ ٱللَّهِ فَمَنْ حَجَّ ٱلْبَيْتَ أَوِ ٱعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ ٱللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তরভুক্ত। সুতরাং যে কেউ আল্লাহর ঘরে (কাবা ঘরে) হজ্জ করবে, কিংবা উমরা করবে, তার জন্যে এই দুই (পাহাড়ের) মাঝে সা’য়ী করাতে কোনো দোষ নাই। আর যে কেউ স্বেচ্ছায় কল্যাণকর কাজ করবে, সে জেনে রাখুক, অবশ্যি স্বেচ্ছা - কল্যাণ কাজের স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদানকারী, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় যারা গোপন করে, আমি যেসব বিস্তারিত তথ্য এবং হেদায়েতের কথা নাযিল করেছি মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সে সমস্ত লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণের ও।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত অবতীর্ণ করিয়াছি মানুষের জন্য কিতাবে উহা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পরও যাহারা উহা গোপন রাখে তাহাদেরকে লা‘নত দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাহাদেরকে অভিশাপ দেয়।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلْنَا مِنَ ٱلْبَيِّنَٰتِ وَٱلْهُدَىٰ مِنۢ بَعْدِ مَا بَيَّنَّٰهُ لِلنَّاسِ فِى ٱلْكِتَٰبِ أُو۟لَٰٓئِكَ يَلْعَنُهُمُ ٱللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ ٱللَّٰعِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের নাযিল করা সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ এবং 'হুদা' (কিতাব ও জীবন বিধান) যারা গোপন করে, যেগুলো মানবজাতিকে সত্যের সন্ধান দেয়ার জন্যে আমরা কিতাবে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, তাদের প্রতি লা'নত (অভিশাপ) বর্ষণ করেন স্বয়ং এবং সকল লা'নত বর্ষণকারীরা (যারা এর উপকার ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত)।

মুহিউদ্দীন খান

তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু যাহারা তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে আর সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, ইহারাই তাহারা যাহাদের তওবা আমি কবূল করি, আমি অতিশয় তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

Word by word

إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ وَأَصْلَحُوا۟ وَبَيَّنُوا۟ فَأُو۟لَٰٓئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা অনুতপ্ত হয়ে (আমার কিতাব ও কিতাবে প্রদত্ত বিধান গোপন করার কাজ পরিত্যাগ করে) ফিরে আসে এবং নিজেদেরকে এসলাহ (সংশোধন) করে নেয়, আর (যা গোপন করে আসছিল তা) প্রচার - প্রকাশ করার কাজে আত্মনিয়োগ করে, আমি তাদের তওবা কবুল করি, আর একমাত্র আমিই তো তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় যারা করে এবং অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যাহারা করে এবং কাফিররূপে মারা যায় তাহাদের উপর লা‘নত এবং ফিরিশ্তাগণ ও সকল মানুষের।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ كُفَّارٌ أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ ٱللَّهِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجْمَعِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যারা কুফরি করবে (সত্যকে গোপন করার কাজ অব্যাহত রাখবে) এবং সত্য গোপনকারী অবস্থাতেই মারা যাবে, তাদের প্রতি আল্লাহর লা'নত এবং ফেরেশতাকুল ও সমস্ত মানুষের লা'নত।

মুহিউদ্দীন খান

এরা চিরকাল এ লা’নতের মাঝেই থাকবে। তাদের উপর থেকে আযাব কখনও হালকা করা হবে না বরং এরা বিরাম ও পাবে না।

সমকালীন বাংলা

উহাতে তাহারা স্থায়ী হইবে। তাহাদের শাস্তি লঘু করা হইবে না এবং তাহাদেরকে কোন অবকাশও দেওয়া হইবে না।

Word by word

خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ ٱلْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতেই (অভিশাপের পরিণতি জাহান্নামেই) থাকবে তারা চিরকাল। তাদের থেকে আযাবকে কখনো হালকা করা হবেনা এবং কোনো প্রকার অবকাশও তাদের দেয়া হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই।

সমকালীন বাংলা

আর তোমাদের ইলাহ্ এক ইলাহ্, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু।

Word by word

وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَٰحِدٌ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحْمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ইলাহ্ এক ও একক ইলাহ্। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। তিনি রহমানুর রহিম (মহা দয়াবান - পরমকরুণাময়)।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব - জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত্রি ও দিবসের পরিবর্তনে, যাহা মানুষের হিত সাধন করে তাহাসহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহে, আকাশ হইতে যে বারিবর্ষণ দ্বারা ধরিত্রীকে তাহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাহাতে এবং তাহার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।

Word by word

إِنَّ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱلْفُلْكِ ٱلَّتِى تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن مَّآءٍ فَأَحْيَا بِ

আবদুস শহীদ নাসিম

(মহাবিশ্বে ইলাহ্‌ যে শুধুমাত্র একজনই, তার অসংখ্য প্রমাণ এবং নিদর্শন তোমাদের চোখের সামনেই রয়েছে। যেমন:) মহাকাশ এবং পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে, রাত আর দিনের আবর্তনের মধ্যে, মানুষের ব্যবহার্য ও উপকারী পণ্য সামগ্রী নিয়ে সমূদ্রে চলমান নৌযানসমূহের মধ্যে, আকাশ থেকে যে পানি বর্ষণ করেন আর তা দ্বারা যে মৃত্যুর পর জমিনকে জীবিত করেন তার মধ্যে, তিনি যে পৃথিবীতে সব ধরণের জীব জন্তুর বিস্তার সাধন করছেন তার মধ্যে, বায়ু প্রবাহের মধ্যে এবং আসমান ও জমিনের মাঝখানে আল্লাহর নির্দেশের অধীন চলাচলকারী (ছায়াদার) মেঘমালার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য প্রমাণ আর নিদর্শন সেইসব লোকদের জন্যে, যারা আকলকে (বিবেক - বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তিকে) কাজে লাগায়।

মুহিউদ্দীন খান

আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হ’ত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর।

সমকালীন বাংলা

তথাপি মানুষের মধ্যে কেহ কেহ ছাড়া অপরকে সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে এবং ভালবাসার অনুরূপ তাহাদেরকে ভালবাসে ; কিন্তু যাহারা ঈমান আনিয়াছে প্রতি ভালবাসায় তাহারা সুদৃঢ়। জালিমরা শাস্তিপ্রত্যক্ষ করিলে যেমন বুঝিবে, হায় ! এখন যদি তাহারা তেমন বুঝিতে, সমস্ত শক্তি আল্লাহরই এবং শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।

Word by word

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ ٱللَّهِ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ وَلَوْ يَرَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ إِذْ يَرَوْنَ ٱلْعَذَابَ أَنَّ ٱلْقُ

আবদুস শহীদ নাসিম

(এতোসব প্রমাণ - নিদর্শন বর্তমান থাকা সত্ত্বেও) একদল লোক ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ ও প্রতিপক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে। তারা তাদেরকে এমনভাবে ভালোবাসে যেমন ভালোবাসা উচিত শুধুমাত্র আল্লাহকে। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর জন্যে তাদের ভালোবাসা সবার এবং সবকিছুর উপরে অতি মজবুত - অবিচল। হায়, আযাব স্বচক্ষে দেখার পর এইসব যালিমরা যেভাবে বুঝবে, এখনই যদি সেভাবে অনুধান করতো যে, সমস্ত ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহর এবং অবশ্যি সাংঘাতিক আযাব দাতা!

মুহিউদ্দীন খান

অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক।

সমকালীন বাংলা

যখন অনুসৃতগণ অনুসরণকারীদের দায়িত্ব অস্বীকার করিবে এবং তাহারা শাস্তিপ্রত্যক্ষ করিবে ও তাহাদের মধ্যকার সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হইয়া যাইবে,

Word by word

إِذْ تَبَرَّأَ ٱلَّذِينَ ٱتُّبِعُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوا۟ وَرَأَوُا۟ ٱلْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ ٱلْأَسْبَابُ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন (পথভ্রষ্ট) আনুগত্যলাভকারী নেতারা তাদের অনুসারী - আনুগত্যকারীদের সাথে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করবে (তাদের দায় - দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করবে) এবং সম্মুখীন হয়ে পড়বে আযাবের, আর ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক,

মুহিউদ্দীন খান

এবং অনুসারীরা বলবে, কতইনা ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত। তাহলে আমরাও তাদের প্রতি তেমনি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতাম, যেমন তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে আমাদের প্রতি। এভাবেই তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে। অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।

সমকালীন বাংলা

আর যাহারা অনুসরণ করিয়াছিল তাহারা বলিবে, ‘হায় ! যদি একবার আমাদের প্রত্যাবর্তন ঘটিত তবে আমরাও তাহাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করিতাম যেমন তাহারা আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করিল।’ এইভাবে তাহাদের কার্যাবলী তাহাদের পরিতাপরূপে তাহাদেরকে দেখাইবেন আর তাহারা কখনও অগ্নি হইতে বাহির হইতে পারিবে না।

Word by word

وَقَالَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوا۟ لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا۟ مِنَّا كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ ٱللَّهُ أَعْمَٰلَهُمْ حَسَرَٰتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَٰرِجِينَ مِنَ ٱلنَّارِ

আবদুস শহীদ নাসিম

(পৃথিবীতে) যারা তাদের অনুসরণ - আনুগত্য করতো, তখন তারা বলবে: 'হায়, একবার যদি আমাদের পৃথিবীর জীবনে ফেরত পাঠানো হতো, তবে আমরাও এদের সাথে ঠিক তেমনি সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, যেভাবে তারা আজ আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এভাবেই তাদের (উভয় গ্রুপকে) তাদের আমল দেখাবেন হতাশা নিরাশা আর দুঃখের কারণ হিসেবে। আর তারা কখনো বের হতে পারবেনা আগুন থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু - সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

সমকালীন বাংলা

হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যাহা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রহিয়াছে তাহা হইতে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করিও না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُوا۟ مِمَّا فِى ٱلْأَرْضِ حَلَٰلًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানবকুল! তোমরা পৃথিবীর সেসব খাদ্য আহার করো, যেগুলো হালাল এবং ভালো। তোমরা শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ, সে তোমাদের সুস্পষ্ট শত্রু।

মুহিউদ্দীন খান

সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না।

সমকালীন বাংলা

সে তো কেবল তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কাজের এবং সম্বন্ধে তোমরা যাহা জান না এমন সব বিষয় বলার নির্দেশ দেয়।

Word by word

إِنَّمَا يَأْمُرُكُم بِٱلسُّوٓءِ وَٱلْفَحْشَآءِ وَأَن تَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তো তোমাদের নির্দেশ দেয় কেবল নিকৃষ্ট - নোংরা এবং ফাহেশা কাজ করার। সে আরো নির্দেশ দেয়, তোমরা যেনো আল্লাহর প্রতি এমন সব কথা আরোপ করো, যেগুলোর জ্ঞান তোমাদের নেই।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব। যাতে আমরা আমাদের বাপ - দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।

সমকালীন বাংলা

যখন তাহাদেরকে বলা হয়, ‘ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহা তোমরা অনুসরণ কর’, তাহারা বলে, ‘না, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যাহাতে পাইয়াছি তাহার অনুসরণ করিব।’ এমন কি, তাহাদের পিতৃপুরুষগণ যদিও কিছুই বুঝিত না এবং তাহারা সৎপথেও পরিচালিত ছিল না - তৎসত্ত্বেও।

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّبِعُوا۟ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ بَلْ نَتَّبِعُ مَآ أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَآ أَوَلَوْ كَانَ ءَابَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْـًٔا وَلَا يَهْتَدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের বলা হয়: ‘অনুসরণ - আনুগত্য করো আল্লাহর নাযিল করা বিধানের, তখন তারা বলে: ‘না, বরং আমরা চলবো সে পথে, যে পথে চলেছেন আমাদের বাপ - দাদারা।' (এ কেমন ব্যাপার!) তাদের বাপ - দাদারা যদি কোনো প্রকার আকল খাটিয়ে না থাকে এবং হিদায়াতের পথে চলে না থাকে, তারপরও কি তারা তাদেরই অনুসরণ করবে?

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক - ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না।

সমকালীন বাংলা

যাহারা করে তাহাদের উপমা : যেমন কোন ব্যক্তি এমন কিছুকে ডাকে যাহা হাঁক - ডাক ছাড়া আর কিছুই শ্রবণ করে না - বধির, মূক, অন্ধ, সুতরাং তাহারা বুঝিবে না।

Word by word

وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ كَمَثَلِ ٱلَّذِى يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَآءً وَنِدَآءً صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْىٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান মেনে নিতে অস্বীকার করে, তাদের উপমা হলো ঠিক তেমনি, যেমন একজন রাখাল (তার পশুদের কিছু নির্দেশ দিয়ে) ডাকে, অথচ তারা হাঁক - ডাক ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায়না। আসলে এরা বধির, বোবা, অন্ধ, তাই তাদের আকল - বুদ্ধি কাজ করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমাদেরকে আমি যেসব পবিত্র বস্তু দিয়াছি তাহা হইতে আহার কর এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর যদি তোমরা যদি তোমরা শুধু তাঁহারই ‘ইবাদত কর।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقْنَٰكُمْ وَٱشْكُرُوا۟ لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! যারা ঈমান এনেছো! আমি তোমাদের যেসব ভালো - পবিত্র রিযিক দিয়েছি তোমরা (শুধুমাত্র) সেগুলো থেকেই খাও এবং আল্লাহর শোকর আদায় করো, যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে থাকো।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব - জন্তু যা ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয় মৃত জন্তু, রক্ত, শূকর - মাংস এবং যাহার উপর আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্যের নাম উচ্চারিত হইয়াছে তাহা তোমাদের জন্য হারাম করিয়াছেন। কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ নাফরমান কিংবা সীমালংঘনকারী নয় তাহার কোন পাপ হইবে না। নিশ্চয়ই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ ٱلْمَيْتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحْمَ ٱلْخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيْرِ ٱللَّهِ فَمَنِ ٱضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের জন্যে হারাম করে দিয়েছেন: মৃত (পশুপাখি), (প্রবাহিত) রক্ত, শুয়োরের মাংস এবং যেসব (পশু - পাখি) ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ্ (বলি) করা হয়েছে সেগুলো। তবে কেউ যদি (প্রয়োজনের তাকিদে) বাধ্য হয়ে (এ ধরণের কিছু খায়) ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ছাড়া এবং (প্রয়োজনের) সীমালংঘন না করে, তবে তার পাপ হবেনা। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল অতীব দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

সমকালীন বাংলা

যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন যাহারা তাহা গোপন রাখে ও বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে তাহারা নিজেদের জঠরে অগ্নি ব্যতীত আর কিছুই পুরে না। কিয়ামতের দিন তাহাদের সঙ্গে কথা বলিবেন না এবং তাহাদেরকে পবিত্র করিবেন না। তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنًا قَلِيلًا أُو۟لَٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا ٱلنَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَة

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কিতাব নাযিল করেছেন, যারা তা গোপন করে এবং তার বিনিময়ে সামান্য (পার্থিব) স্বার্থ ক্রয় করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করেনা। কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথাও বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব। অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী।

সমকালীন বাংলা

তাহারাই সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তিক্রয় করিয়াছে; আগুন সহ্য করিতে তাহারা কতই না ধৈর্যশীল!

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ وَٱلْعَذَابَ بِٱلْمَغْفِرَةِ فَمَآ أَصْبَرَهُمْ عَلَى ٱلنَّارِ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই তারা, যারা 'আল হুদার' (সঠিক জীবন পদ্ধতির) বিনিময়ে ক্রয় করেছে 'আদ দলালাহ' (ভ্রান্ত জীবন পদ্ধতি) এবং মাগফিরাতের বিনিময়ে আযাব। আগুনের আযাব সইবার ব্যাপারে কতো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তারা!

মুহিউদ্দীন খান

আর এটা এজন্যে যে, নাযিল করেছেন সত্যপূর্ণ কিতাব। আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।

সমকালীন বাংলা

ইহা এইহেতু যে, সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং যাহারা কিতাব সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করিয়াছে, নিশ্চয় তাহারা দুস্তর মতভেদে রহিয়াছে।

Word by word

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ نَزَّلَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخْتَلَفُوا۟ فِى ٱلْكِتَٰبِ لَفِى شِقَاقٍۭ بَعِيدٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব কিছুর কারণ হলো, 'হক' (সত্য ও বাস্তবতা) সহকারে আল কিতাব পাঠিয়েছেন, আর সেই কিতাব নিয়ে যারা মতভেদ সৃষ্টি করেছে, তারা কিতাবের সাথে বিরোধে লিপ্ত হয়ে অনেক দূরে সরে গেছে (সত্য থেকে)।

মুহিউদ্দীন খান

সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী - রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয় - স্বজন, এতীম - মিসকীন, মুসাফির - ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে - শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই ।

সমকালীন বাংলা

পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে কোন পুণ্য নাই; কিন্তু পুণ্য আছে কেহ , পরকাল, ফিরিশ্তাগণ, সমস্ত কিতাব এবং নবীগণে ঈমান আনয়ন করিলে এবং প্রেমে আত্মীয় - স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, পর্যটক, সাহায্যপ্রার্থিগণকে এবং দাস - মুক্তির জন্য অর্থ দান করিলে, কায়েম করিলে ও যাকাত প্রদান করিলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়া তাহা পূর্ণ করিলে, অর্থ - সংকটে দুঃখ - ক্লেশে ও সংগ্রাম - সংকটে ধৈর্য ধারণ করিলে। ইহারাই তাহারা যাহারা সত্যপরায়ণ এবং ইহারাই ।

Word by word

لَّيْسَ ٱلْبِرَّ أَن تُوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ قِبَلَ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَلَٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلْكِتَٰبِ وَٱلنَّبِيِّۦنَ وَءَاتَى ٱلْمَالَ عَلَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানোর মধ্যে (প্রকৃত পক্ষে) কোনো পুণ্য নেই। বরং পুণ্য তো হলো: মানুষ ঈমান আনবে এক আল্লাহর প্রতি, শেষ দিবসের (আখিরাতের) প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আল্লাহর কিতাব এবং নবীদের প্রতি; আর তাঁর (আল্লাহর) ভালোবাসায় মাল - সম্পদ দান করবে আত্মীয় - স্বজনদের, এতিমদের, মিসকিনদের, পথিক - পর্যটকদের, সাহায্যপ্রার্থীদের এবং মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্তির কাজে; আর কায়েম করবে, যাকাত প্রদান (পরিশোধ) করবে; তাছাড়া প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূর্ণকারী হবে এবং অর্থসংকট, দুঃখ - কষ্ট ও সত্য মিথ্যার সংগ্রামে সবর অবলম্বনকারী হবে। - মূলত এরাই (তাদের ঈমান ও ইসলামের দিক থেকে) সত্যবাদী এবং এরাই (প্রকৃত) ।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেওয়া হইয়াছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসেরবদলে ক্রীতদাস ও নারীর বদলে নারী, কিন্তু তাহার ভাইয়ের পক্ষ হইতে কিছুটা ক্ষমা প্রদর্শন করা হইলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও সততার সঙ্গে তাহার দেয় আদায় বিধেয়। ইহা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে ভার লাঘব ও অনুগ্রহ। ইহার পরও যে সীমালংঘন করে তাহার জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِصَاصُ فِى ٱلْقَتْلَى ٱلْحُرُّ بِٱلْحُرِّ وَٱلْعَبْدُ بِٱلْعَبْدِ وَٱلْأُنثَىٰ بِٱلْأُنثَىٰ فَمَنْ عُفِىَ لَهُۥ مِنْ أَخِيهِ شَىْءٌ فَٱتِّبَاعٌۢ بِٱلْمَعْرُو

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের জন্যে হত্যা (মামলার) বিধান লিখে দেয়া হলো কিসাস। স্বাধীন ব্যক্তি হত্যা করে থাকলে সেই ব্যক্তিরই মৃত্যুদন্ড হবে। কোনো দাস হত্যাকারী (প্রমাণিত) হলে মৃত্যুদন্ড সেই দাসেরই হবে। কোনো নারী হত্যাকারী (প্রমাণিত) হলে মত্যুদন্ড সেই নারীকেই দিতে হবে। তবে কোনো (হত্যাকারী) ব্যক্তির সাথে তার ভাইয়ের (নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর) পক্ষ থেকে কোমল ব্যবহার (মৃত্যুদন্ড ক্ষমা) করা হলে তার (হত্যাকারীর) জন্যে অপরিহার্য হবে প্রচলিত নিয়ম (common law) অনুযায়ী (ধার্যকৃত/দাবিকৃত) রক্তপণ সততার সাথে তাকে প্রদান করা। তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এটা একটা লাঘব এবং অনুকম্পা। কিন্তু এরপরও যদি কেউ সীমালংঘন করে, তার জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।

সমকালীন বাংলা

হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রহিয়াছে, যাহাতে তোমরা সাবধান হইতে পার।

Word by word

وَلَكُمْ فِى ٱلْقِصَاصِ حَيَوٰةٌ يَٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের জন্যে কিসাস (বিধান) - এর মধ্যেই রয়েছে জীবন ( - এর নিরাপত্তা) হে বুদ্ধি বিবেক ওয়ালা লোকেরা! আশা করা যায়, তোমরা (এ আইনের প্রতি অবজ্ঞা করা থেকে) বিরত থাকবে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন - সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা - মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী। নিশ্চয় তা’আলা সবকিছু শোনেন ও জানেন।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে কাহারও মৃত্যুকাল উপস্থিত হইলে সে যদি ধন - সম্পত্তি রাখিয়া যায় তবে ন্যায়ানুগ প্রথামত তাহার পিতামাতা ও আত্মীয় - স্বজনের জন্য ওসিয়াত করার বিধান তোমাদেরকে দেওয়া হইল। ইহা মুত্তাকীদের জন্য একটি কর্তব্য। উহা শ্রবণ করিবার পর যদি কেহ উহার পরিবর্তন সাধন করে, তবে যাহারা পরিবর্তন করিবে

Word by word

كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ ٱلْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا ٱلْوَصِيَّةُ لِلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ بِٱلْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى ٱلْمُتَّقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কোনো ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় হাজির হয় এবং সে যদি অর্থ - সম্পদ রেখে যেতে থাকে, তাহলে বাবা - মা এবং আত্মীয় - স্বজনের জন্যে অসিয়ত করে যাবার বিধান তোমাদের জন্যে লিখে (ফরয করে) দেয়া হলো প্রচলিত যুক্তিসংগত নিয়মে। এটা মুত্তাকিদের একটা কর্তব্য।

মুহিউদ্দীন খান

যদি কেউ ওসীয়ত শোনার পর তাতে কোন রকম পরিবর্তন সাধন করে, তবে যারা পরিবর্তন করে তাদের উপর এর পাপ পতিত হবে।

সমকালীন বাংলা

উহা শ্রবণ করিবার পর যদি কেহ উহার পরিবর্তন সাধন করে, তবে যাহারা পরিবর্তন করিবে অপরাধ তাহাদেরই। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

Word by word

فَمَنۢ بَدَّلَهُۥ بَعْدَمَا سَمِعَهُۥ فَإِنَّمَآ إِثْمُهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُۥٓ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো ব্যক্তি (কোনো সাক্ষী) তা (অসিয়ত) শ্রবণ করার পর যদি তাতে রদবদল করে, তবে যারা রদবদল করবে, এর পাপ তাদের উপরই বর্তাবে। অবশ্যি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

যদি কেউ ওসীয়তকারীর পক্ষ থেকে আশংকা করে পক্ষপাতিত্বের অথবা কোন অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের এবং তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তবে তার কোন গোনাহ হবে না। নিশ্চয় তা’আলা ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

তবে যদি কেহ ওসিয়াতকারীর পক্ষপাতিত্ব কিংবা অন্যায়ের আশংকা করে, অতঃপর সে তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দেয়, তবে তাহার কোন অপরাধ নাই। নিশ্চয়ই ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।

Word by word

فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে কেউ যদি অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত) পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায়ের আশংকা করে এবং সে কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে এসলাহ (সমঝোতা ও মীমাংসা) করে দেয়, তাতে তার কোনো পাপ হবেনা। নিশ্চয়ই অতীব ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হইল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হইয়াছিল, যাহাতে তোমরা হইতে পার -

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমান আনা লোকেরা! তোমাদের জন্যে লিখে (ফরয করে) দেয়া হয়েছে সওম (রোযা), যেভাবে লিখে দেয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্বেকার লোকেদের জন্যে, যাতে করে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়।

মুহিউদ্দীন খান

গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।

সমকালীন বাংলা

সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেহ পীড়িত হইলে বা সফরে থাকিলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করিয়া লইতে হইবে। ইহা যাহাদেরকে সাতিশয় কষ্ট দেয় তাহাদের কর্তব্য ইহার পরিবর্তে ফিদ্য়া - একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে উহা তাহার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ যদি তোমরা জানিতে।

Word by word

أَيَّامًا مَّعْدُودَٰتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُۥ

আবদুস শহীদ নাসিম

(সওম হলো) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের (বিধান)। তোমাদের কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়, অথবা সফরে - ভ্রমণে থাকে, তাহলে সে (এ সময় সওম থেকে বিরত থাকতে পারে, কিন্তু অবশ্যি) যেনো অন্য সময় সেগুলো পুর্ণ করে দেয়। তবে এটা (সওম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয় (যেমন - বার্ধক্য, গর্ভাবস্থা বা চির রোগের কারণে), তাদের জন্যে (অবকাশ রয়েছে সওম পালন করার অথবা) সওমের পরিবর্তে 'ফিদিয়া' হিসেবে একজন মিসকিনকে আহার করানোর। তবে যে কেউ স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কল্যাণের কাজ করবে, তা তার জন্যে কল্যাণকর। আর তোমরা যদি সওম পালন করো, সেটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, তোমরা যদি বিষয়টি অনুধাবন করতে!

মুহিউদ্দীন খান

রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।

সমকালীন বাংলা

রামাযান মাস, ইহাতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হইয়াছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাহারা এই মাস পাইবে তাহারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। এবং কেহ পীড়িত থাকিলে কিংবা সফরে থাকিলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করিবে। তোমাদের জন্য যাহা সহজ তাহা চাহেন এবং যাহা তোমাদের জন্য কষ্টকর তাহা চাহেন না এইজন্য যে, তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করিবে এবং তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করিবার কারণে তোমরা মহিমা ঘোষণা করিবে এবং যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতে পার।

Word by word

شَهْرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٍ مِّنَ ٱلْهُدَىٰ وَٱلْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

রমযান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল কুরআন, যা মানবজাতির জন্যে 'জীবন যাপনের ব্যবস্থা' এবং জীবন যাপন ব্যবস্থা হিসেবে সুস্পষ্ট, আর (এ কুরআন ভালোমন্দ, ন্যায় অন্যায়, সঠিক - বেঠিক, এবং সত্যাসত্যের) অকাট্য মানদন্ড (criterion)। সুতরাং তোমাদের যে কেউ এ মাসের সাক্ষাত লাভ করবে, তাকে অবশ্যি পুরো (রমযান) মাসটিতে সওম পালন করতে হবে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে, অথবা সফরে - ভ্রমণে থাকলে (সে সওম পালন থেকে বিরত থাকতে পারে, কিন্তু) তাকে অন্য সময় (সওম পালন করে) সংখ্যা পূরণ করতে হবে। তোমাদের জন্যে (তাঁর বিধান) সহজ করে দিতে চান এবং তিনি তোমাদের জন্যে (তাঁর বিধান) কঠিন - কষ্টকর করতে চান না। (তিনি চান) তোমরা যেনো (সওমের) সংখ্যা পূর্ণ করো এবং (কুরআন নাযিল করে তোমাদের জীবন যাপন ব্যবস্থা প্রদানের জন্যে) তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করো আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।

সমকালীন বাংলা

আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো নিকটেই। প্রার্থনাকারী যখন আমার নিকট প্রার্থনা করে আমি তাহার প্রার্থনায় সাড়া দেই। সুতরাং তাহারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাহাতে তাহারা ঠিক পথে চলিতে পারে।

Word by word

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِى عَنِّى فَإِنِّى قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ ٱلدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا۟ لِى وَلْيُؤْمِنُوا۟ بِى لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার দাসেরা যখন তোমাকে আমার সম্পর্কে সওয়াল (জিজ্ঞাসা) করে, (হে মুহাম্মদ! তুমি তখন তাদের বলো:) আমি তাদের নিকটেই আছি। কোনো আহবানকারী (বা) দোয়া - প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি (কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি) তার ডাক ও দোয়া - প্রার্থনা শুনি এবং তাতে সাড়া দেই। সুতরাং তারাও যেনো আমার আহবানে সাড়া দেয় (আমার হুকুম পালন করে) এবং আমার প্রতি ঈমান রাখে - যাতে করে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হয়।

মুহিউদ্দীন খান

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।

সমকালীন বাংলা

সিয়ামের রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রী - সম্ভোগ বৈধ করা হইয়াছে। তাহারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাহাদের পরিচ্ছদ। জানেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করিতেছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হইয়াছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করিয়াছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাহাদের সঙ্গে সংগত হও এবং যাহা তোমাদের জন্য নির্ধারণ করিয়াছেন তাহা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণরেখা হইতে ঊষার শুভ্ররেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর নিশাগম পর্যন্তসিয়াম পূর্ণ কর। তোমরা মসজিদে ই‘তিকাফরত অবস্থায় তাহাদের সঙ্গে সংগত হইও না। এইগুলি সীমারেখা। সুতরাং এইগুলির নিকটবর্তী হইও না। এইভাবে তাঁহার বিধানাবলী মানব জাতির জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাহাতে তাহারা হইতে পারে।

Word by word

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ فَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সওম পালনের রাত্রে স্ত্রী সহবাস করা তোমাদের জন্যে হালাল করে দেয়া হলো। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। জানেন, তোমরা নিজেরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করেছিলে। এখন তিনি তোমাদের তওবা কবুল করে নিয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন থেকে (সওমের রাত্রে) তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সহবাস করো এবং তোমাদের জন্যে যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার সন্ধান করো। আর পানাহার করতে থাকো যতোক্ষণ না তোমাদের কাছে রাতের কালো রেখা থেকে ফজরের (ভোরের) সাদা রেখা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠে। তারপর সওম পূর্ণ করো রাতের আগমন পর্যন্ত। আর মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায় থাকাকালে তোমরা স্ত্রী সহবাস করোনা। এগুলো হলো (সওম পালনের ক্ষেত্রে) আল্লাহর সীমারেখা (বিধান)। সুতরাং (লংঘনের উদ্দেশ্যে) এগুলোর কাছেও যেওনা। এভাবেই তাঁর আয়াতসমূহ (তাঁর আইন - বিধান ও হালাল - হারামের সীমারেখা) বয়ান করেন মানুষের জন্যে, যাতে করে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে - শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।

সমকালীন বাংলা

তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ - সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করিও না এবং মানুষের ধনসম্পত্তির কিয়দংশ জানিয়া - শুনিয়া অন্যায়ভাবে গ্রাস করিবার উদ্দেশ্যে উহা বিচারকগণের নিকট পেশ করিও না।

Word by word

وَلَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَٰطِلِ وَتُدْلُوا۟ بِهَآ إِلَى ٱلْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا۟ فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَٰلِ ٱلنَّاسِ بِٱلْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা নিজেদের একে অপরের মাল - সম্পদ খেয়োনা বাতিল (অন্যায় - অবৈধ) প্রক্রিয়ায় এবং জেনে বুঝে মানুষের মাল সম্পদের কিছু অংশ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে শাসকদের (বিচারকদের) সামনে উত্থাপন করোনা।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম। আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই। অবশ্য নেকী হল আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পার।

সমকালীন বাংলা

লোকে তোমাকে নূতন চাঁদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। বল, ‘উহা মানুষ এবং হজ্জের জন্য সময় নিদের্শক।’ পশ্চাৎদিক দিয়া তোমাদের গৃহে প্রবেশ করাতে কোন পুণ্য নাই; কিন্তু পুণ্য আছে কেহ তাক্ওয়া অবলম্বন করিলে। সুতরাং তোমরা দ্বার দিয়া গৃহে প্রবেশ কর, তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর, যাহাতে তোমরা হইতে পার।

Word by word

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَهِلَّةِ قُلْ هِىَ مَوَٰقِيتُ لِلنَّاسِ وَٱلْحَجِّ وَلَيْسَ ٱلْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنِ ٱتَّقَىٰ وَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَٰبِهَا و

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে সওয়াল (প্রশ্ন) করছে। তুমি বলো: ‘এগুলো (চাঁদের ছোট বড় হওয়া এবং নতুন করে উদিত হওয়া) সময়ের মেয়াদ নির্ধারক চিহ্ন মানুষের জন্যে এবং হজ্জের জন্যে।' আর তোমরা যে ঘরের পেছন দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছো তাতে কোনো পুণ্য বা কল্যাণ নেই। বরং পুণ্য আর কল্যাণ তো রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্যে যে তাকওয়া অবলম্বন করে। সুতরাং তোমরা ঘরসমূহে প্রবেশ করো সেগুলোর (সদর) দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে করে তোমরা সফলতা লাভ করতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

সমকালীন বাংলা

যাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরাও আল্লাহর পথে তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর ; কিন্তু সীমালংঘন করিও না। নিশ্চয়ই সীমালংঘন কারিগণকে ভালবাসেন না।

Word by word

وَقَٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يُقَٰتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْمُعْتَدِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো ঐসব লোকদের বিরুদ্ধে, যারা যুদ্ধ করছে তোমাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তোমরা সীমালংঘন করোনা। কারণ, সীমা লংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা - হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

যেখানে তাহাদেরকে পাইবে হত্যা করিবে এবং যে স্থান হইতে তাহারা তোমাদেরকে বহিষ্কার করিয়াছে তোমরাও সেই স্থান হইতে তাহাদেরকে বহিষ্কার করিবে। ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর। মসজিদুল হারামের নিকট তোমরা তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে না, যে পর্যন্ততাহারা সেখানে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করে। যদি তাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তবে তোমরা তাহাদেরকে হত্যা করিবে, ইহাই কাফিরদের পরিণাম।

Word by word

وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ وَٱلْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلْقَتْلِ وَلَا تُقَٰتِلُوهُمْ عِندَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَٰتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِن قَٰتَلُوكُمْ

আবদুস শহীদ নাসিম

যেখানেই তাদের সাথে মোকাবেলা হয় তাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাও এবং তাদের বহিষ্কার করো যেখান থেকে তারা তোমাদের বহিষ্কার করেছে। ফেতনা সৃষ্টি করা হত্যার চাইতেও গুরুতর অপরাধ। মসজিদুল হারামের কাছে তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করোনা, যতোক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। হ্যাঁ, তারা যদি (সেখানে) তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তবে তোমরাও তাদের হত্যা করো। এভাবেই কাফিরদের যথোপযুক্ত প্রতিদান (শাস্তি) দিতে হয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে অত্যন্ত দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

যদি তাহারা বিরত হয় তবে নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা যদি বিরত থাকে, তবে অবশ্যি ক্ষমাশীল পরম দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে থাকিবে যাবত ফিতনা দূরীভূত না হয় এবং আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত না হয়। যদি তাহারা বিরত হয় তবে জালিমদেরকে ব্যতীত আর কাহাকেও আক্রমণ করা চলিবে না।

Word by word

وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَلَا عُدْوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যতোদিন না ‘ফিতনা’ বিলুপ্ত হয় এবং দীন (ইবাদত ও আনুগত্য) আল্লাহর জন্যে (একক ও নিরঙ্কুশভাবে) নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তবে তারা যদি বিরত হয়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র যালিমদের ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে হাত বাড়ানো সংগত নয়।

মুহিউদ্দীন খান

সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সম্মান রক্ষা করারও বদলা রয়েছে। বস্তুতঃ যারা তোমাদের উপর জবর দস্তি করেছে, তোমরা তাদের উপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা করেছে তোমাদের উপর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা , তাদের সাথে রয়েছেন।

সমকালীন বাংলা

পবিত্র মাস পবিত্র মাসের বিনিময়ে। যাহার পবিত্রতা অলঙ্ঘনীয় তাহার অবমাননা সকলের জন্য সমান। সুতরাং যে কেহ তোমাদেরকে আক্রমণ করিবে তোমরাও তাহাকে অনুরূপ আক্রমণ করিবে এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ যে, অবশ্যই মুত্তাকীদের সঙ্গে থাকেন।

Word by word

ٱلشَّهْرُ ٱلْحَرَامُ بِٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ وَٱلْحُرُمَٰتُ قِصَاصٌ فَمَنِ ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَٱعْتَدُوا۟ عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلْمُتَّق

আবদুস শহীদ নাসিম

হারাম (পবিত্র) মাসের বিনিময় হারাম মাস এবং (তাতে) নিষিদ্ধ কাজের বিধান হলো কিসাস (সমতা বিধান)। সুতরাং কেউ যদি হারাম মাসসমূহের পবিত্রতা লংঘন করে তোমাদের আক্রমণ করে, তবে তোমরাও অনুরূপ আক্রমণ করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে আর জেনে রাখো, মুত্তাকিদের পক্ষেই আছেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা পথে ব্যয় কর এবং নিজেদের হাতে নিজে - দেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করিও না। তোমরা সৎকাজ কর, সৎকর্মপরায়ণ লোককে ভালবাসেন।

Word by word

وَأَنفِقُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا تُلْقُوا۟ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى ٱلتَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে হালাক হবার (ধ্বংসের) দিকে নিক্ষেপ করোনা (আল্লাহর পথে ব্যয় না করে)। ভালো কাজ করো, যারা ভালো কাজ করে তাদের ভালোবাসেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কুরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ্ব ওমরাহ একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে - পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরা পূর্ণ কর, কিন্তু তোমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হও তবে সহজলভ্য কুরবানী করিও। যে পর্যন্তকুরবানীর পশু উহার স্থানে না পৌঁছে তোমরা মস্তক মুণ্ডন করিও না। তোমাদের মধ্যে যদি কেহ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা কুরবানীর দ্বারা উহার ফিদ্য়া দিবে। যখন তোমরা নিরাপদ হইবে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জের প্রাক্কালে উমরা দ্বারা লাভবান হইতে চায় সে সহজলভ্য কুরবানী করিবে। কিন্তু যদি কেহ উহা না পায় তবে তাহাকে হজ্জের সময় তিনদিন এবং গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর সাতদিন - এই পূর্ণ দশদিন সিয়াম পালন করিতে হইবে। ইহা তাহাদের জন্য, যাহাদের পরিজনবর্গ মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ যে, নিশ্চয়ই শাস্তি দানে কঠোর।

Word by word

وَأَتِمُّوا۟ ٱلْحَجَّ وَٱلْعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِ وَلَا تَحْلِقُوا۟ رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْهَدْىُ مَحِلَّهُۥ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِۦٓ أَذ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যথাযথভাবে (properly) হজ্জ ও উমরা পালন করো আল্লাহর উদ্দেশ্যে। কিন্তু তোমরা যদি বাধাগ্রস্ত হও, তবে কুরবানি করো সহজ লভ্য পশু। কুরবানির পশু যথাস্থানে পৌঁছার আগ পর্যন্ত মাথা মুন্ডণ করোনা। তোমাদের কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়, কিংবা মাথায় কষ্ট অনুভব করে (এবং সে জন্যে আগেই মাথা মুন্ডণ করে নেয়), তার কর্তব্য হলো সাওম, সাদকা বা কুরবানি দ্বারা ফিদিয়া প্রদান করা। অতপর (বাধা দূর হবার পর) তোমরা যখন নিরাপদ হবে, তখন তোমাদের কেউ যদি হজ্জের পূর্বে উমরা (তামাত্তু হজ্জ) করতে চায়, সে যেনো সামর্থ অনুযায়ী কুরবানি করে। কিন্তু যদি সে কুরবানির ব্যবস্থা করতে না পারে, তবে সে হজ্জের সময় তিনদিন সাওম পালন করবে এবং হজ্জ থেকে ফেরার পর সাতদিন - এই দশটি (সাওম) সে পূর্ণ করবে। এই বিধান ঐ ব্যাক্তির জন্যে যার পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয় (non - resident of makkah)। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। অবশ্যি কঠোর শাস্তিদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া - বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।

সমকালীন বাংলা

হজ্জ হয় সুনির্দিষ্ট মাসসমূহে। অতঃপর যে কেহ এই মাসগুলিতে হজ্জ করা স্থির করে তাহার জন্য হজ্জের সময়ে স্ত্রী - সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহ - বিবাদ বিধেয় নহে। তোমরা উত্তম কাজের যাহা কিছু কর তাহা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করিও, আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।

Word by word

ٱلْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَٰتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِى ٱلْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ ٱللَّهُ وَتَزَوَّدُوا۟ فَإِنَّ خَيْرَ ٱلزَّادِ

আবদুস শহীদ নাসিম

হজ্জের মাসগুলো (সাধারণভাবে) সবারই আছে। এ সময় যে ব্যক্তি হজ্জ করার ফায়সালা করবে, সে যেনো হজ্জের সময় (ইহরাম বাঁধার দিনগুলোতে) স্ত্রী সহবাস করা, পাপ কর্ম করা এবং ঝগড়া বিবাদ করা থেকে বিরত থাকে। তোমরা যা কিছু কল্যাণের কাজই করো, তা জানেন। আর তোমরা (হজ্জের সফরে প্রয়োজনীয়) পাথেয় সাথে নিও, নি:সন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া (মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ভীতি)। আর হে বুদ্ধি বিবেকের অধিকারী লোকেরা! তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ‘ আরে - হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নাই। যখন তোমরা ‘আরাফাত হইতে প্রত্যাবর্তন করিবে তখন মাশ‘আরুল হারামের নিকট পৌঁছিয়া আল্লাহকে স্মরণ করিবে এবং তিনি যেভাবে নির্দেশ দিয়াছেন ঠিক সেইভাবে স্মরণ করিবে; যদিও ইতিপূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

Word by word

لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا۟ فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ فَإِذَآ أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَٰتٍ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ عِندَ ٱلْمَشْعَرِ ٱلْحَرَامِ وَٱذْكُرُوهُ كَمَا هَدَىٰكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِۦ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কোনো দোষ হবেনা (হজ্জের সময়) যদি তোমরা তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ (ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকার) সন্ধান করো। আরাফাত থেকে যখন তোমরা প্রত্যাবর্তণ করবে, তখন (পথিমধ্যে) মাশআরুল হারামের কাছে (মুযদালিফায়) যাত্রা বিরতি করে আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং যেভাবে তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে তাঁকে স্মরণ করবে। যদিও ইতোপূর্বে তোমরা ছিলে বিপথগামীদের অন্তরভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তওয়াফের জন্যে দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস, যেখান থেকে সবাই ফিরে। আর আল্লাহর কাছেই মাগফেরাত কামনা কর। নিশ্চয়ই ক্ষমাকারী, করুনাময়।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান হইতে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সেই স্থান হইতে প্রত্যাবর্তন করিবে। আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিবে, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

ثُمَّ أَفِيضُوا۟ مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ ٱلنَّاسُ وَٱسْتَغْفِرُوا۟ ٱللَّهَ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সেখান থেকে ফিরে আসো, যেখান থেকে ফিরে আসে অন্য সবমানুষ এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই অতিশয় ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

আর অতঃপর যখন হজ্জ্বের যাবতীয় অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সমাপ্ত করে সারবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ - দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশী স্মরণ করবে। তারপর অনেকে তো বলে যে পরওয়াদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতে দান কর। অথচ তার জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করিবে তখন আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করিবে যেমন তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষগণকে স্মরণ করিতে, অথবা তদপেক্ষা অভিনিবেশ সহকারে। মানুষের মধ্যে যাহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ইহকালেই দাও’, বস্তুত পরকালে তাহাদের জন্য কোন অংশ নাই।

Word by word

فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَٰسِكَكُمْ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَذِكْرِكُمْ ءَابَآءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا وَمَا لَهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِنْ خَلَٰقٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর যখন (হজ্জের) অনুষ্ঠানসমূহ সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর কথা যিকির (স্মরণ, আলোচনা, গুণাবলি বর্ণনা) করো, যেভাবে যিকির করে আসছিলে তোমাদের পূর্ব পুরষদের কথা, বরং তার চাইতে অধিকতর যিকির করো (আল্লাহর কথা)। মানুষের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে: ‘প্রভু! আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই (আমাদের যা প্রাপ্য) দিয়ে যাও।’ - এ ধরণের লোকদের জন্যে আখিরাতে কোনো অংশ নেই।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে - হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।

সমকালীন বাংলা

আর তাহাদের মধ্যে যাহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে দোজখের শাস্তি হইতে রক্ষা কর - ’

Word by word

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِى ٱلْءَاخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে আবার এমন লোকেরাও আছে, যারা বলে (প্রার্থনা করে): ‘প্রভু! আমাদেরকে এই দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করো, আর আমাদের রক্ষা করো আগুনের আযাব থেকে।’

মুহিউদ্দীন খান

এদেরই জন্য অংশ রয়েছে নিজেদের উপার্জিত সম্পদের। আর দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

সমকালীন বাংলা

তাহারা যাহা অর্জন করিয়াছে তাহার প্রাপ্য অংশ তাহাদেরই। বস্তুত হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُوا۟ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই হলো সেই সব (উত্তম) মানুষ, যাদের জন্যে তাদের উপার্জনের (কর্মের) ভিত্তিতে (উভয় স্থানেই) যথাযথ অংশ (প্রাপ্য) রয়েছে। আর তো দ্রুত হিসাব সম্পন্নকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। অতঃপর যে লোক তাড়াহুড়া করে চলে যাবে শুধু দু, দিনের মধ্যে, তার জন্যে কোন পাপ নেই। আর যে লোক থেকে যাবে তাঁর উপর কোন পাপ নেই, অবশ্য যারা ভয় করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং নিশ্চিত জেনে রাখ, তোমরা সবাই তার সামনে সমবেত হবে।

সমকালীন বাংলা

তোমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনগুলিতে কে স্মরণ করিবে। যদি কেহ তাড়াতাড়ি করিয়া দুই দিনে চলিয়া আসে তবে তাহার কোন পাপ নাই, আর যদি কেহ বিলম্বকরে তবে তাহারও কোন পাপ নাই। ইহা তাহার জন্য, যে তাক্ওয়া অবলম্বন করে। তোমরা কে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ যে, তোমাদেরকে অবশ্যই তাঁহার নিকট একত্র করা হইবে।

Word by word

وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ فِىٓ أَيَّامٍ مَّعْدُودَٰتٍ فَمَن تَعَجَّلَ فِى يَوْمَيْنِ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ ٱتَّقَىٰ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُمْ إِلَيْه

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহকে যিকির করো নির্ধারিত দিনগুলোতে। তবে কেউ যদি তাড়াহুড়া করে (মিনা থেকে) দুইদিনের মধ্যে (মক্কায়) ফিরে আসে, তাতে তার পাপ হবেনা। আর যে বিলম্ব করবে তারও পাপ হবেনা। - এ অবকাশ তার জন্যে যে (আল্লাহর ভয়ে) নিজেকে মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করে চলবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রাখো, তাঁরই কাছে করা হবে তোমাদের হাশর (সমবেত)।

মুহিউদ্দীন খান

আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক।

সমকালীন বাংলা

আর মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিআছে, পার্থিব জীবন সম্বন্ধে যাহার কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করে এবং তাহার অন্তরে যাহা আছে সে সম্বন্ধে কে সাক্ষী রাখে। প্রকৃতপক্ষে সে ভীষণ কলহপ্রিয়।

Word by word

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُۥ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَيُشْهِدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا فِى قَلْبِهِۦ وَهُوَ أَلَدُّ ٱلْخِصَامِ

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করে এই দুনিয়ার জীবনে, আর (কথা বলার সময়) সে নিজের আন্তরিকতার ব্যাপারে বারবার আল্লাহকে সাক্ষী বানায়, অথচ প্রকৃত ব্যাপার হলো, সে (তোমার) সব শত্রুর বড় শত্রু।

মুহিউদ্দীন খান

যখন ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে। ফাসাদ ও দাঙ্গা - হাঙ্গামা পছন্দ করেন না।

সমকালীন বাংলা

যখন সে প্রস্থান করে তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু নিপাতের চেষ্টা করে। আর অশান্তি পছন্দ করেন না।

Word by word

وَإِذَا تَوَلَّىٰ سَعَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ ٱلْحَرْثَ وَٱلنَّسْلَ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلْفَسَادَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন (তোমার নিকট থেকে) ফিরে যায়, জমিনে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং শস্য ক্ষেত আর মানুষ ও জীবজন্তুর বংশ নিপাতে তৎপর হয়। অথচ অশান্তি সৃষ্টিকে মোটেও পছন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাকে বলা হয় যে, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার পাপ তাকে অহঙ্কারে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং তার জন্যে দোযখই যথেষ্ট। আর নিঃসন্দেহে তা হলো নিকৃষ্টতর ঠিকানা।

সমকালীন বাংলা

যখন তাহাকে বলা হয়, ‘তুমি কে ভয় কর’, তখন তাহার আত্বারভিমান তাহাকে পাপানুষ্ঠানে লিপ্ত করে, সুতরাং জাহান্নামই তাহার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই উহা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল।

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُ ٱتَّقِ ٱللَّهَ أَخَذَتْهُ ٱلْعِزَّةُ بِٱلْإِثْمِ فَحَسْبُهُۥ جَهَنَّمُ وَلَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে যখন বলা হয়: ‘আল্লাহকে ভয় করো’, তখন তার আত্মম্ভরিতা তাকে (অধিকতর) অপরাধে লিপ্ত করে। সুতরাং তার জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট এবং অতি নিকৃষ্ট বিশ্রামাগার সেটা।

মুহিউদ্দীন খান

আর মানুষের মাঝে এক শ্রেণীর লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিকল্পে নিজেদের জানের বাজি রাখে। হলেন তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান।

সমকালীন বাংলা

মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভার্থে আত্ম - বিক্রয় করিয়া থাকে। তাঁহার বান্দাগণের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র।

Word by word

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَشْرِى نَفْسَهُ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ رَءُوفٌۢ بِٱلْعِبَادِ

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে এমন মানুষও আছে, যারা সন্তুষ্টি কামনায় নিজের জান - প্রাণ বিক্রয় (সমর্পণ) করে দেয়। তাঁর এই (ধরনের) দাসদের প্রতি অতিশয় কোমল - দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

হে গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করিও না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱدْخُلُوا۟ فِى ٱلسِّلْمِ كَآفَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমান আনা লোকেরা! তোমরা (আত্মসমর্পণের মাধ্যমে) পরিপুর্ণভাবে প্রবেশ করো ইসলামে এবং (জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই) শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ, সে তোমাদের সুস্পষ্ট শত্রু।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তোমাদের মাঝে পরিস্কার নির্দেশ এসে গেছে বলে জানার পরেও যদি তোমরা পদস্খলিত হও, তাহলে নিশ্চিত জেনে রেখো, , পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

সুস্পষ্ট নিদর্শন তোমাদের নিকট আসিবার পর যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে তবে জানিয়া রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহয়ই মহাপরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

فَإِن زَلَلْتُم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْكُمُ ٱلْبَيِّنَٰتُ فَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ (রসূল এবং কিতাব) আসার পরও যদি (ইসলামে পরিপূর্ণ প্রবেশের ক্ষেত্রে) তোমাদের ব্যত্যয় ঘটে, তবে জেনে রাখো, অবশ্যি মহাশক্তিমান, মহাজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে যে, মেঘের আড়ালে তাদের সামনে আসবেন ও ফেরেশতাগণ ? আর তাতেই সব মীমাংসা হয়ে যাবে। বস্তুতঃ সবকার্যকলাপই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌঁছবে।

সমকালীন বাংলা

তাহারা শুধু ইহার প্রতীক্ষায় রহিয়াছে যে, ও ফিরিশতাগণ মেঘের ছায়ায় তাহাদের নিকট উপস্থিত হইবেন, তৎপর সব কিছুর মীমাংসা হইয়া যাইবে। সমস্ত বিষয় আল্লাহরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে।

Word by word

هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن يَأْتِيَهُمُ ٱللَّهُ فِى ظُلَلٍ مِّنَ ٱلْغَمَامِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَقُضِىَ ٱلْأَمْرُ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি এই এন্তেযারে (অপেক্ষায়) আছে যে, মেঘমালার ছায়ায় ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে তাদের কাছে আসবেন এবং তখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে? অথচ সকল বিষয় (সিদ্ধান্তের জন্যে) ফিরে আসবে আল্লাহর কাছেই।

মুহিউদ্দীন খান

বনী ইসরাঈলদিগকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে আমি কত স্পষ্ট নির্দশনাবলী দান করেছি। আর আল্লাহর নেয়ামত পৌছে যাওয়ার পর যদি কেউ সে নেয়ামতকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে আল্লাহর আযাব অতি কঠিন।

সমকালীন বাংলা

বনী ইস্রাঈলকে জিজ্ঞাসা কর, আমি তাহাদেরকে কত স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করিয়াছি! আল্লাহর অনুগ্রহ আসিবার পর কেহ উহার পরিবর্তন করিলে কো শাস্তিদানে কঠোর।

Word by word

سَلْ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ كَمْ ءَاتَيْنَٰهُم مِّنْ ءَايَةٍۭ بَيِّنَةٍ وَمَن يُبَدِّلْ نِعْمَةَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ

আবদুস শহীদ নাসিম

বনি ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করো, কতো যে সুস্পষ্ট প্রমাণ - নিদর্শন আমি তাদের দিয়েছিলাম! আল্লাহর নিয়ামত আসার পর যে (জাতি) তা বদল করে (কুফরি গ্রহণ করে) তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করে থাকেন।

মুহিউদ্দীন খান

পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন।

সমকালীন বাংলা

যাহারা করে তাহাদের নিকট পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হইয়াছে, তাহারা মু’মিনদেরকে ঠাট্টা - বিদ্রপ করিয়া থাকে। আর যাহারা তাক্ওয়া অবলম্বন করে কিয়ামতের

Word by word

زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ فَوْقَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَٱللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফরির পথ অবলম্বন করে, তাদের কাছে দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর - মুগ্ধকর বানিয়ে দেয়া হয়। তারা মুমিনদের ঠাট্টা - বিদ্রুপ - তিরস্কার করে থাকে। কিন্তু যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, কিয়ামতের দিন তারাই এদের মোকাবেলায় উঁচু ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করবে। যাকে চান অগণিত রিযিক দান করেন।

মুহিউদ্দীন খান

সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতঃপর তা’আলা পয়গম্বর পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকরী হিসাবে। আর তাঁদের সাথে অবর্তীণ করলেন সত্য কিতাব, যাতে মানুষের মাঝে বিতর্কমূলক বিষয়ে মীমাংসা করতে পারেন। বস্তুতঃ কিতাবের ব্যাপারে অন্য কেউ মতভেদ করেনি; কিন্তু পরিষ্কার নির্দেশ এসে যাবার পর নিজেদের পারস্পরিক জেদবশতঃ তারাই করেছে, যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিল। অতঃপর ঈমানদারদেরকে হেদায়েত করেছেন সেই সত্য বিষয়ে, যে ব্যাপারে তারা মতভেদ লিপ্ত হয়েছিল। যাকে ইচ্ছা, সরল পথ বাতলে দেন।

সমকালীন বাংলা

সমস্ত মানুষ ছিল একই উম্মত। অতঃপর নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেন। মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করিত তাহাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসার জন্য তিনি তাহাদের সঙ্গে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেন এবং যাহাদেরকে তাহা দেওয়া হইয়াছিল, স্পষ্ট নিদর্শন তাহাদের নিকট আসিবার পরে, তাহারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশত সেই বিষয়ে বিরোধিতা করিত। যাহারা বিশ্বাস করে, তাহারা যে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করিত, তাহাদেরকে সে বিষয়ে নিজ অনুগ্রহে সত্যপথে পরিচালিত করেন। যাহাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।

Word by word

كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةً وَٰحِدَةً فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّۦنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ وَمَا ٱخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّ

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রথমে সব মানুষ ছিলো একই উম্মত (একই আদর্শের অনুসারী)। অতপর নবীদের পাঠাতে থাকেন সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে। তাদের সাথে সত্য ও বাস্তবতাসহ কিতাব নাযিল করেন, যাতে করে মানুষের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া যায়, যেসব বিষয়ে তারা লিপ্ত হয়েছে এখতেলাফে (মতভেদে)। যাদেরকে তা (কিতাব) দেয়া হয়েছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ - নিদর্শন আসার পর কেবল পারস্পারিক বিদ্বেষ বশতই তারা সে বিষয়ে এখতেলাফ করেছে। তারপর তারা যে বিষয়ে এখতেলাফ (মতভেদ) করতো, সে বিষয়ে নিজ অনুগ্রহে সঠিক পথ দেখিয়েছেন তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছে। যাকে চান, সরল - সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করিবে - যদিও এখনও তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুরূপ অবস্থা আসে নাই? অর্থ - সংকট ও দুঃখ - ক্লেশ তাহাদেরকে স্পর্শ করিয়াছিল এবং তাহারা ভীত ও কম্পিত হইয়াছিল। এমনকি রাসূল এবং তাঁহার সঙ্গে ঈমান আনয়নকারিগণ বলিয়া উঠিয়াছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসিবে?’ জানিয়া রাখ, অবশ্যই আল্লাহর নাহায্য নিকটে।

Word by word

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَ

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তোমরা ধরে নিয়েছো, তোমরা (অতি সহজেই) জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথছ তোমাদের পূর্বে যারা ঈমানের পথে চলেছিল, তাদের উপর দিয়ে যে অবস্থা অতিবাহিত হয়েছিল, সে অবস্থা এখনো তোমাদের উপর আসেনি। তাদের উপর নেমে এসেছিল ক্ষুধা - দারিদ্র, দুঃখ কষ্ট এবং তারা প্রকম্পিত ও বিচলিত হয়ে উঠেছিল। এমনকি রসূল এবং তাঁর সাথিরা বলে উঠেছিল: ‘মাতা নাসরুল্লাহ’ - কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? (তখন তাদের বলা হয়েছিল:) ‘জেনে রাখো, আল্লাহর সাহায্য খুবই নিকটে।’

মুহিউদ্দীন খান

তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও - যে বস্তুই তোমরা ব্যয় কর, তা হবে পিতা - মাতার জন্যে, আত্নীয় - আপনজনের জন্যে, এতীম - অনাথদের জন্যে, অসহায়দের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে। আর তোমরা যে কোন সৎকাজ করবে, নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালভাবেই আল্লাহর রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

লোকে কি ব্যয় করিবে সে সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে। বল, ‘যে ধন - সম্পদ তোমরা ব্যয় করিবে তাহা পিতামাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, মিস্কীন এবং মুসাফিরদের জন্য। উত্তম কাজের যাহা কিছু তোমরা কর না কেন তো সে সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।

Word by word

يَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلْ مَآ أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চায়, তারা কী - ব্যয় করবে? তুমি বলো: তোমরা উত্তম যা কিছুই ব্যয় করবে, তা করো বাবা - মার জন্যে, আত্মীয় - স্বজনের জন্যে এবং এতিম, মিসকিন ও পথিক - পর্যটকদের জন্যে। আর তোমরা জনকল্যাণের যে কাজই করোনা কেন, সে সম্পর্কে অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান দেওয়া হইল যদিও তোমাদের নিকট ইহা অপ্রিয়। কিন্তু তোমরা যাহা অপসন্দ কর সম্ভবত তাহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং যাহা ভালবাস সম্ভবত তাহা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। জানেন আর তোমরা জান না।

Word by word

كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের অপ্রিয় হলেও তোমাদের জন্যে যুদ্ধের বিধান লিখে (ফরয করে) দেয়া হলো। হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করো, অথচ (প্রকৃত পক্ষে) সেটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। আবার এমনো হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু পছন্দ করছো, অথচ (মূলত) সেটা তোমাদের জন্যে ক্ষতিকর। ব্যাপার হলো তো সবকিছু জানেন, কিন্তু তোমরা জানোনা।

মুহিউদ্দীন খান

সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং করা, মসজিদে - হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।

সমকালীন বাংলা

পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে; বল, ‘উহাতে যুদ্ধ করা ভীষণ অন্যায়।’ কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দান করা, কে অস্বীকার করা, মসজিদুল হারামে বাধা দেওয়া এবং উহার বাসিন্দাকে উহা হইতে বহিষ্কার করা আল্লাহর নিকট তদপেক্ষা অধিক অন্যায়; ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর অন্যায়।’ তাহারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে থাকিবে যে পর্যন্ত তোমাদেরকে তোমাদের দীন হইতে ফিরাইয়া না দেয়, যদি তাহারা সক্ষম হয়। তোমাদের মধ্যে যে কেহ স্বীয় দীন হইতে ফিরিয়া যায় এবং কাফিররূপে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাহাদের কর্ম নিষ্ফল হইয়া যায়। ইহারাই দোজখবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

Word by word

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَكُفْرٌۢ بِهِۦ وَٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِۦ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ ٱللَّهِ وَٱل

আবদুস শহীদ নাসিম

হারাম মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে তারা তোমার কাছে জানতে চায়। তুমি বলো: তাতে যুদ্ধ করা গুরুতর (অপরাধ)। কিন্তু আল্লাহর কাছে তার চাইতেও বড় অপরাধ হলো: মানুষকে আল্লাহর পথে (চলতে এবং কাজ করতে) বাধা দেয়া, আল্লাহর সাথে কুফরি করা, (মুমিনদেরকে) মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া এবং হারামের (মক্কার) অধিবাসীদেরকে (তাদের ভূমি ও আবাস থেকে) বহিষ্কার করা। আর জেনে রাখো, ফিতনা হত্যার চাইতেও গুরুতর অপরাধ। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেই, যতোদিন না তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। আর তোমাদের যে কেউ নিজের দীন (ইসলাম) ত্যাগ করে (কুফুরিতে) ফিরে যাবে এবং অবস্থায় মারা যাবে, দুনিয়া এবং আখিরাতে তার সমস্ত আমল হয়ে যাবে নিষ্ফল। তারা হবে আসহাবুন্ নার (আগুনের অধিবাসী), তাতেই থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে এবং যাহারা হিজরত করে এবং জিহাদ করে আল্লাহর পথে, তাহারাই আল্লাহর অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে। ক্ষমা পরায়ণ, পরম দয়ালু।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ وَجَٰهَدُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أُو۟لَٰٓئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

(পক্ষান্তরে) যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে, এরাই আশা করে (করতে পারে) আল্লাহর রহমত। (তাদের ব্যাপারে) অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার।

সমকালীন বাংলা

লোকে তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘উভয়ের মধ্যে আছে পাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও; কিন্তু উহাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক।’ লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, কী তাহারা ব্যয় করিবে? বল, ‘যাহা উদ্বৃত্ত।’ এইভাবে তাঁহার বিধান তোমাদের জন্য সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত করেন, যাহাতে তোমরা চিন্তা কর -

Word by word

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا وَيَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ ٱلْعَفْوَ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّه

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চায় মদ এবং জুয়া সম্পর্কে। তুমি বলো: ‘এ দুটোতেই রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্যে (কিছু) উপকার। তবে এগুলোর উপকারের চাইতে পাপ গুরুতর। তারা তোমার কাছে আরো জানতে চায়, তারা (আল্লাহর পথে) কী ব্যয় করবে? তুমি বলো: ‘প্রয়োজনের অতিরিক্তটা।’ এভাবেই তোমাদের জন্যে স্পষ্টভাবে বয়ান (বর্ণনা) করেন তাঁর আয়াত (বিধান) সমূহ, যাতে করে তোমরা চিন্তাভাবনা করো -

মুহিউদ্দীন খান

দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, এতীম সংক্রান্ত হুকুম। বলে দাও, তাদের কাজ - কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেয়া উত্তম আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই । বস্তুতঃ অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে জানেন। যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের উপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

দুনিয়া ও সম্বন্ধে। লোকে তোমাকে ইয়াতীমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বল, ‘তাহাদের জন্য সুব্যবস্থা করা উত্তম।’ তোমরা যদি তাহাদের সঙ্গে একত্র থাক তবে তাহারা তো তোমাদেরই ভাই। জানেন কে হিতকারী এবং কে অনিষ্টকারী। ইচ্ছা করিলে এ বিষয়ে তোমাদেরকে অবশ্যই কষ্টে ফেলিতে পারিতেন। নিশ্চয়ই প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْيَتَٰمَىٰ قُلْ إِصْلَاحٌ لَّهُمْ خَيْرٌ وَإِن تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَٰنُكُمْ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ ٱلْمُفْسِدَ مِنَ ٱلْمُصْلِحِ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَأَعْنَتَك

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়া এবং আখিরাতকে নিয়ে। তারা তোমার কাছে আরো জানতে চাইছে এতিমদের ব্যাপারে। তুমি বলো: তাদের অর্থ সম্পদের ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক (সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক) কর্মপন্থা গ্রহণ করাই উত্তম। তোমরা যদি তোমাদের সহায় - সম্পদের সাথে তাদের সহায় - সম্পদ যৌথ ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসো, তাতেও দোষ নেই। কারণ, তারা তো তোমাদেরই ভাই। জানেন (তাদের অর্থ সম্পত্তির ব্যাপারে) কে কল্যাণকামী আর কে অনিষ্টকারী। চাইলে এ ব্যাপারে তোমাদের অবশ্যি কষ্টে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

সমকালীন বাংলা

ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক নারীকে তোমরা বিবাহ করিও না - মুশরিক নারী তোমাদেরকে মুগ্ধ করিলেও, নিশ্চয় ক্রীতদাসী তাহা অপেক্ষা উত্তম। ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষের সঙ্গে তোমরা বিবাহ দিও না - মুশরিক পুরুষ তোমাদেরকে মুগ্ধ করিলেও, ক্রীতদাস তাহা অপেক্ষা উত্তম। উহারা অগ্নির দিকে আহ্বান করে এবং আল্লাহতোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। তিনি মানুষের জন্য স্বীয় বিধান সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাহাতে তাহারা উহা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিতে পারে।

Word by word

وَلَا تَنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكَٰتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا۟ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা নিকাহ (বিয়ে) করোনা মুশরিক নারীদের যতোক্ষণ না তারা ঈমান আনে। তোমাদের মুগ্ধকারী সম্ভ্রান্ত মুশরিক নারীর চাইতে একজন দাসীও অনেক উত্তম। আর মুশরিক পুরুষদের কাছে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়োনা যতোক্ষণ না তারা ঈমান আনে। তোমাদের মুগ্ধকারী সম্ভ্রান্ত মুশরিক পুরুষের চাইতে একজন দাসও অনেক উত্তম। তারা (মুশরিকরা) তোমাদের আহবান জানায় আগুনের দিকে। আর নিজ অনুগ্রহে তোমাদের আহবান জানাচ্ছেন জান্নাত আর মাগফিরাতের (ক্ষমার) দিকে। আর তিনি নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্যে পরিষ্কার করে বয়ান (বর্ণনা) করেন, যাতে করে তারা উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।

সমকালীন বাংলা

আর তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো—এটি কষ্টদায়ক অবস্থা। সুতরাং ঋতুকালে নারীদের থেকে দূরে থাকবে, এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন যেভাবে তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবেই তাদের নিকট যাবে। নিশ্চয়ই তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।

Word by word

وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَٱعْتَزِلُوا۟ ٱلنِّسَآءَ فِى ٱلْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ ٱللَّهُ إِنَّ ٱللَّهَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চায়, হায়েয (নারীদের মাসিক ঋতুস্রাব) সম্পর্কে। তুমি বলো: এটা একটা অশুচি ও অহিতকর অবস্থা। সুতরাং হায়েয চলাকালে স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকো এবং যতোক্ষণ না তারা পবিত্র হয়, ততোক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করোনা। অতপর তারা যখন পবিত্র - পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন তাদের কাছে আসবে (সহবাস করবে) ঠিক সেভাবে, যেভাবে আসতে তোমাদের আদেশ (শিক্ষা) দিয়েছেন। তওবাকারীদের ভালোবাসেন, ভালোবাসেন পবিত্রতা - পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনকারীদের।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করিতে পার। তোমরা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু করিও এবং আল্লাহকেও ভয় করিও। আর জানিয়া রাখিও যে, তোমরা সম্মুখীন হইতে যাইতেছ এবং মু’মিনগণকে সুসংবাদ দাও।

Word by word

نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا۟ حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ وَقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُمْ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُم مُّلَٰقُوهُ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্যে শস্যক্ষেত, সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেতে যাও যেভাবে ইচ্ছা। তোমরা অগ্রিম পাঠাও নিজেদের জন্যে (ভালো কাজ)। আর আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ থেকে বেঁচে থাকো। জেনে রাখো, অবশ্যি তোমরা তাঁর সাথে মোলাকাত (সাক্ষাত) করবে। (হে নবী!) মুমিনদের সুসংবাদ দাও।

মুহিউদ্দীন খান

আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না মানুষের সাথে কোন আচার আচরণ থেকে পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে। সবকিছুই শুনেন ও জানেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা সৎকাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন হইতে বিরত রহিবে - এই শপথের জন্য আল্লাহর নামকে তোমরা অজুহাত করিও না। সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞা।

Word by word

وَلَا تَجْعَلُوا۟ ٱللَّهَ عُرْضَةً لِّأَيْمَٰنِكُمْ أَن تَبَرُّوا۟ وَتَتَّقُوا۟ وَتُصْلِحُوا۟ بَيْنَ ٱلنَّاسِ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

ভালো কাজ না করা, মন্দ কাজ থেকে আত্মরক্ষা না করা এবং মানুষের মাঝে সন্ধি - সমঝোতা না করে দেয়ার শপথ করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম ব্যবহার করোনা। সবই শোনেন এবং সবই জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য তোমাদেরকে ধরবেন না, কিন্তু সেসব কসমের ব্যাপারে ধরবেন, তোমাদের মন যার প্রতিজ্ঞা করেছে। আর হচ্ছেন ক্ষমাকারী ধৈর্য্যশীল।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য তোমাদেরকে দায়ী করিবেন না। কিন্তু তিনি তোমাদের

Word by word

لَّا يُؤَاخِذُكُمُ ٱللَّهُ بِٱللَّغْوِ فِىٓ أَيْمَٰنِكُمْ وَلَٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ وَٱللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের (অনিচ্ছাকৃত) নিরর্থক শপথের জন্যে তোমাদের পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্যে (ইচ্ছাকৃত শপথের জন্যে) তোমাদের দায়ী করবেন। অতীব ক্ষমাপরায়ণ, ধৈর্যশীল।

মুহিউদ্দীন খান

যারা নিজেদের স্ত্রীদের নিকট গমন করবেনা বলে কসম খেয়ে বসে তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ রয়েছে অতঃপর যদি পারস্পরিক মিল - মিশ করে নেয়, তবে ক্ষামাকারী দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

যাহারা স্ত্রীর সঙ্গে সংগত না হওয়ার শপথ করে তাহারা চার মাস অপেক্ষা করিবে। অতঃপর যদি তাহারা প্রত্যাগত হয় তবে নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِن فَآءُو فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

যেসব লোক নিজ স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখবেনা বলে শপথ করে, তাদের অবকাশ চার মাস। কিন্তু (এর মধ্যে) যদি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, তবে অবশ্যি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি বর্জন করার সংকল্প করে নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই শ্রবণকারী ও জ্ঞানী।

সমকালীন বাংলা

আর যদি তাহারা তালাক দেওয়ার সংকল্প করে তবে তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

Word by word

وَإِنْ عَزَمُوا۟ ٱلطَّلَٰقَ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি তারা তালাক দেয়ার সিদ্ধান্তই নেয়, তবে (তারা জেনে রাখুক) অবশ্যি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর হয়ে থাকে, তাহলে যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয়। আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায়, তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী তিন রজঃস্রাব কাল প্রতীক্ষায় থাকিবে। তাহারা এবং আখিরাতে হইলে তাহাদের গর্ভাশয়ে যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন তাহা গোপন রাখা তাহাদের পক্ষে বৈধ নহে। যদি তাহারা আপোস - নিষ্পত্তি করিতে চায় তবে উহাতে তাহাদের পুনঃ গ্রহণে তাহাদের স্বামিগণ অধিক হকদার। নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাহাদের উপর পুরুষদের ; কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের মর্যাদা আছে। মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

وَٱلْمُطَلَّقَٰتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَٰثَةَ قُرُوٓءٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ فِىٓ أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَبُعُولَتُهُنَّ

আবদুস শহীদ নাসিম

তালাকপ্রাপ্ত নারী নিজেকে তিনটি মাসিক অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত (বিয়ে থেকে) বিরত রাখবে। তারা যদি আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তবে তাদের গর্ভে কোনো কিছু সৃষ্টি করে থাকলে তা গোপন করা তাদের জন্যে হালাল (বৈধ) নয়। তাদের স্বামীরাই বেশি অধিকার রাখে এই অবকাশ (ইদ্দত) কালে তাদের ফিরিয়ে নিতে, যদি তারা পুন সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। (স্বামীর) উপর নারীর তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন আছে তার উপর (তার স্বামীর)। তবে (দায়িত্ব - কর্তব্যের দিক থেকে) তাদের উপর পুরুষদের একটি মর্যাদা রয়েছে। আর সর্বময় শক্তিমান মহাপ্রজ্ঞাময়।

মুহিউদ্দীন খান

তালাকে - ‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম।

সমকালীন বাংলা

তালাক দুইবার। অতঃপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রাখিয়া দিবে অথবা সদয়ভাবে মুক্তকরিয়া দিবে। তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে যাহা প্রদান করিয়াছ তন্মধ্য হইতে কোন কিছু গ্রহণ করা তোমাদের পক্ষে বৈধ নহে। অবশ্য যদি তাহাদের উভয়ের আশংকা হয় যে, তাহারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করিয়া চলিতে পারিবে না এবং তোমরা যদি আশংকা কর যে, তাহারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করিয়া চলিতে পারিবে না, তবে স্ত্রী কোন কিছুর বিনিময়ে নিষ্কৃতি পাইতে চাহিলে তাহাতে তাহাদের কাহারও কোন অপরাধ নাই। এইসব আল্লাহর সীমারেখা। তোমরা উহা লংঘন করিও না। যাহারা এইসব সীমারেখা লংঘন করে তাহারাই ।

Word by word

ٱلطَّلَٰقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌۢ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌۢ بِإِحْسَٰنٍ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا۟ مِمَّآ ءَاتَيْتُمُوهُنَّ شَيْـًٔا إِلَّآ أَن يَخَافَآ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ فَإِنْ خ

আবদুস শহীদ নাসিম

তালাক দুইবার। তারপর হয় স্ত্রীকে প্রচলিত ন্যায়সংগত নিয়মে (স্ত্রী হিসেবে) রাখবে, নতুবা বিদায় করলে সদয় পদ্ধতিতে বিদায় করবে। তোমরা তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো, বিদায়কালে সেখান থেকে কোনো কিছু ফেরত গ্রহণ করা তোমাদের জন্যে বৈধ নয়, তবে তারা দুজনই যদি আশংকা করে যে, তারা আল্লাহর আইন মেনে একত্রে জীবন যাপন করতে পারবেনা। আর যদি স্বামী - স্ত্রী উভয়ে আশংকা করে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি কিছু বিনিময় দিয়ে স্বামীর থেকে বিচ্ছেদ (খোলা) লাভ করতে চায়, তাতে কোনো দোষ নেই। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমারেখা। তোমরা এগুলো লঙ্ঘন করোনা। যারা আল্লাহর নির্ধারণ করে দেয়া সীমারেখা লংঘন করে, তারা যালিম।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো কতৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যদি সে তাহাকে তালাক দেয় তবে সে তাহার জন্য বৈধ হইবে না, যে পর্যন্তসে অন্য স্বামীর সঙ্গে সংগত না হইবে। অতঃপর সে যদি তাহাকে তালাক দেয় আর তাহারা উভয়ে মনে করে যে, তাহারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করিতে সমর্থ হইবে, তবে তাহাদের পুনর্মিলনে কাহারও কোন অপরাধ হইবে না। এইগুলি আল্লাহর বিধান, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য ইহা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।

Word by word

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُۥ مِنۢ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُۥ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَآ أَن يَتَرَاجَعَآ إِن ظَنَّآ أَن يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ وَتِلْكَ حُدُودُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর স্বামী যদি তার স্ত্রীকে (তৃতীয় বারও) তালাক দেয়, তবে ঐ স্ত্রী আর তার জন্যে হালাল হবেনা। অবশ্য সে (তালাকপ্রাপ্তা) যদি অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করে এবং সে (পুরুষ) যদি তাকে তালাক দেয়, সেক্ষেত্রে তাদের পুন বিয়েতে দোষ নেই, যদি তারা মনে করে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, তিনি এগুলো বর্ণনা করছেন সেইসব লোকদের জন্যে যারা জ্ঞান রাখে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভুতির সাথে তাদেরকে মুক্ত করে দাও। আর তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না। আর যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়।

সমকালীন বাংলা

যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তাহারা ইদ্দত পূর্তির নিকটবর্তী হয় তখন তোমরা হয় যথাবিধি তাহাদেরকে রাখিয়া দিবে অথবা বিধিমত মুক্ত করিয়া দিবে। কিন্তু তাহাদের ক্ষতি করিয়া সীমালংঘনের উদ্দেশ্যে তাহাদেরকে তোমরা আটকাইয়া রাখিও না। যে এইরূপ করে, সে নিজের প্রতি জুলুম করে। এবং তোমরা আল্লাহর বিধানকে ঠাট্টা - তামাশার বস্তু করিও না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামত ও কিতাব এবং হিকমত যাহা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন - যদ্দ¡ারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তাহা স্মরণ কর। তোমরা কে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ যে, নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে জ্ঞানময়।

Word by word

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِّتَعْتَدُوا۟ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُۥ وَلَا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দেবে, তারপর তারা যখন ইদ্দত পূর্ণ করার কাছাকাছি পৌঁছুবে, তখন হয় ন্যায়সংগতভাবে তাদের (স্ত্রী হিসেবে) রেখে দাও, নয়তো ন্যায়সংগতভাবে মুক্ত করে দাও। কিন্তু ক্ষতি করা ও কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের আঁটকে রেখোনা। এমনটি করলে সেটা হবে তোমাদের সীমালংঘন। এমনটি যে করে সে নিজের প্রতিই যুলুম করে। তোমরা আল্লাহর আয়াত (বিধান) কে বিদ্রুপের বস্তু বানিয়োনা। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো। তিনি তোমাদের প্রতি যে কিতাব এবং হিকমা নাযিল করেছেন, তিনি তোমাদের তা মেনে চলার উপদেশ দিচ্ছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই সকল বিষয়ে জ্ঞাত।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ন করতে থাকে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধাদান করো না। এ উপদেশ তাকেই দেয়া হচ্ছে, যে ও কেয়ামত দিনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে একান্ত পরিশুদ্ধতা ও অনেক পবিত্রতা। আর জানেন, তোমরা জান না।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তাহারা তাহাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, তাহারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয়, তবে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদেরকে বিবাহ করিতে চাহিলে তোমরা তাহাদেরকে বাধা দিও না। ইহা দ্বারা তোমাদের মধ্যে যে কেহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে, তাহাকে উপদেশ দেওয়া হয়। ইহা তোমাদের জন্য শুদ্ধতম ও পবিত্রতম। জানেন, তোমরা জান না।

Word by word

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَٰجَهُنَّ إِذَا تَرَٰضَوْا۟ بَيْنَهُم بِٱلْمَعْرُوفِ ذَٰلِكَ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱل

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা স্ত্রীদের (দুই) তালাক দেয়ার পর যখন তারা ইদ্দত পূর্ণ করে নেয়, তখন তাদেরকে তাদের স্বামীদের পুনরায় বিয়ে করতে বাধা দিয়োনা, যদি তারা ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে পরস্পরকে বিয়ে করতে রাজি হয়। এগুলো সেই ব্যক্তির জন্যে উপদেশ, যে আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে। এটাই তোমাদের জন্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও পবিত্র পন্থা। জানেন, তোমরা জানোনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ন দু’বছর দুধ খাওয়াবে, যদি দুধ খাওয়াবার পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায়। আর সন্তানের অধিকারী অর্থাৎ, পিতার উপর হলো সে সমস্ত নারীর খোর - পোষের দায়িত্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী। কাউকে তার সামর্থাতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন করা হয় না। আর মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। এবং যার সন্তান তাকেও তার সন্তানের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না। আর ওয়ারিসদের উপরও দায়িত্ব এই। তারপর যদি পিতা - মাতা ইচ্ছা করে, তাহলে দু’বছরের ভিতরেই নিজেদের পারস্পরিক পরামর্শক্রমে দুধ ছাড়িয়ে দিতে পারে, তাতে তাদের কোন পাপ নেই, আর যদি তোমরা কোন ধাত্রীর দ্বারা নিজের সন্তানদেরকে দুধ খাওয়াতে চাও, তাহলে যদি তোমরা সাব্যস্তকৃত প্রচলিত বিনিময় দিয়ে দাও তাতেও কোন পাপ নেই। আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, তোমাদের যাবতীয় কাজ অত্যন্ত ভাল করেই দেখেন।

সমকালীন বাংলা

যে স্তন্যপানকাল পূর্ণ করিতে চাহে তাহার জন্য জননীগণ তাহাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বৎসর স্তন্যপান করাইবে। জনকের কর্তব্য যথাবিধি তাহাদের ভরণ - পোষণ করা। কাহাকেও তাহার সাধ্যাতীত কার্যভার দেওয়া হয় না। কোন জননীকে তাহার সন্তানের জন্য এবং কোন জনককে তাহার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা হইবে না। এবং উত্তরাধিকারীরও অনুরূপ কর্তব্য। কিন্তু যদি তাহারা পরস্পরের সম্মতি ও পরামর্শক্রমে স্তন্যপান বন্ধ রাখিতে চায় তবে তাহাদের কাহারও কোন অপরাধ নাই। তোমরা যাহা বিধিমত দিতে চাহিয়াছিলে, তাহা যদি অর্পণ কর তবে ধাত্রী দ্বারা তোমাদের সন্তানকে স্তন্যপান করাইতে চাহিলে তোমাদের কোন গুনাহ ই। কে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ যে, তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই উহার সম্যক দ্রষ্টা।

Word by word

وَٱلْوَٰلِدَٰتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَٰدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ ٱلرَّضَاعَةَ وَعَلَى ٱلْمَوْلُودِ لَهُۥ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا

আবদুস শহীদ নাসিম

মায়েরা তাদের বাচ্চাদের বুকের দুধ পান করাবে পূর্ণ দুই বছর। এই বিধান তার জন্যে যে পিতা দুধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের পিতার দায়িত্ব হবে বাচ্চাদের মায়ের খাওয়া পরার ব্যয় ভার বহন করা ন্যায়সংগত পরিমাণে। কারো উপর তার সাধ্যের বাইরে বোঝা চাপানো ঠিক নয়। কোনো মাকে তার বাচ্চার কারণে কষ্ট দেয়া যাবেনা, কোনো পিতাকেও তার বাচ্চার কারণে কষ্ট দেয়া যাবেনা। (বাচ্চার পিতার অবর্তমানে স্তন্যদানকারী মায়ের প্রতি) ওয়ারিশদের দায়িত্ব কর্তব্য তার (পিতার) অনুরূপ। কিন্তু তারা উভয় পক্ষ যদি পারস্পারিক সম্মতি ও পরামর্শক্রমে স্তন্যপান বন্ধ করতে চায়, তবে তাতে তাদের কোনো অপরাধ হবেনা। আর তোমরা যদি দুধ মা দ্বারা তোমাদের বাচ্চাদের দুধ পান করাতে চাও, তাতেও তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। তবে শর্ত হলো, পরস্পর সম্মত (agreed) বিনিময় ন্যায়সংগতভাবে তাকে পরিশোধ করতে হবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, অবশ্যি তোমাদের কর্মের উপর দৃষ্টি রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা। তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে কোন পাপ নেই। আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে যাহারা স্ত্রী রাখিয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয় তাহাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় থাকিবে। যখন তাহারা তাহাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করিবে তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যাহা করিবে তাহাতে তোমাদের কোন গুনাহ নাই। তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

Word by word

وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ بِٱلْمَعْرُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যারা স্ত্রী রেখে মারা যাবে, তাদের স্ত্রীরা (বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার জন্যে) চারমাস দশদিন অপেক্ষা করবে। তারপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন তারা প্রচলিত ন্যায়সংগত পন্থায় নিজেদের ব্যাপারে (বিয়ে করা বা না করার) যে সিদ্ধান্তই নিতে চায় নিতে পারবে, তাতে তোমাদের কোনো দোষ (দায়দায়িত্ব) নেই। তোমাদের আমল সম্পর্কে খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে। কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না। অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে। আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা করো না। আর একথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা আছে। কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখো যে, ক্ষমাকারী ও ধৈর্য্যশীল।

সমকালীন বাংলা

স্ত্রীলোকদের নিকট তোমরা ইংগিতে বিবাহ প্রস্তাব করিলে অথবা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখিলে তোমাদের কোন পাপ নাই। জানেন যে, তোমরা তাহাদের সম্বন্ধে অবশ্যই আলোচনা করিবে; কিন্তু বিধিমত কথাবার্তা ব্যতীত গোপনে তাহাদের নিকট কোন অঙ্গীকার করিও না; নির্দিষ্ট কাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহকার্য সম্পন্ন করার সংকল্প করিও না। এবং জানিয়া রাখ, নিশ্চয়ই তোমাদের মনোভাব জানেন। সুতরাং তাঁহাকে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ, নিশ্চয়ই ক্ষমাপরায়ণ, পরম সহনশীল।

Word by word

وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِۦ مِنْ خِطْبَةِ ٱلنِّسَآءِ أَوْ أَكْنَنتُمْ فِىٓ أَنفُسِكُمْ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَٰكِن لَّا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّآ أَن تَقُولُ

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইদ্দত চলাকালে বিধবা) নারীদের তোমরা ইশারা - ইংগিতে বিয়ের প্রস্তাব প্রদান করলে, কিংবা মনের ভেতরে তাদের বিয়ে করার কথা গোপন করে রাখলে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। জানেন, তাদের কথা তোমাদের মনে উদয় হবেই। কিন্তু গোপনে তাদেরকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়োনা। তবে প্রচলিত সমর্থিত পন্থায় কথাবার্তা বলতে পারবে। নির্দিষ্ট সময় (ইদ্দতকাল) পার না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের আক্দ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়োনা। জেনে রাখো, তোমাদের অন্তরে কী আছে তা জানেন। তাই তাঁকে ভয় করে চলো। একথাও জেনে রাখো, কেউ ভুল করার পর ক্ষমা চাইলে অবশ্যি পরম ক্ষমাশীল, সহিষ্ণু।

মুহিউদ্দীন খান

স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের উপর দায়িত্ব।

সমকালীন বাংলা

যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করিয়াছ এবং তাহাদের জন্য মাহর ধার্য করিয়াছ তাহাদেরকে তালাক দিলে তোমাদের কোন পাপ নাই। তোমরা তাহাদের সংস্থানের ব্যবস্থা করিও - সচ্ছল তাহার সাধ্যমত এবং অসচ্ছল তাহার সামর্থ্যানুযায়ী বিধিমত খরচপত্রের ব্যবস্থা করিবে, ইহা নেককার লোকদের কর্তব্য।

Word by word

لَّا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا۟ لَهُنَّ فَرِيضَةً وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى ٱلْمُوسِعِ قَدَرُهُۥ وَعَلَى ٱلْمُقْتِرِ قَدَرُهُۥ مَتَٰعًۢا بِٱلْمَعْرُوفِ حَق

আবদুস শহীদ নাসিম

সহবাস করার পূর্বে এবং মোহরানা ধার্য না করা অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলে তোমাদের কোনো পাপ হবে না। কিন্তু (এ ধরণের তালাকের ক্ষেত্রে) অবশ্যি তাদেরকে কিছু অর্থ - সামগ্রী দেবে। সচ্ছল ব্যক্তি দেবে তার (আর্থিক) সচ্ছলতা অনুযায়ী, আর দরিদ্র ব্যক্তি দেবে তার সামর্থ অনুযায়ী প্রচলিত নিয়ম ও যুক্তি সংগত পরিমাণ। এটা কল্যাণপরায়নদের উপর আরোপিত একটা কর্তব্য।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে। অবশ্য যদি নারীরা ক্ষমা করে দেয় কিংবা বিয়ের বন্ধন যার অধিকারে সে (অর্থাৎ, স্বামী) যদি ক্ষমা করে দেয় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। আর তোমরা পুরুষরা যদি ক্ষমা কর, তবে তা হবে পরহেযগারীর নিকটবর্তী। আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বিস্মৃত হয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর সেসবই অত্যন্ত ভাল করে দেখেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যদি তাহাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দাও, অথচ মাহর ধার্য করিয়া থাক তবে যাহা তোমরা ধার্য করিয়াছ তাহার অর্ধেক, যদি না স্ত্রী অথবা যাহার হাতে বিবাহ - বন্ধন রহিয়াছে সে মাফ করিয়া দেয়; এবং মাফ করিয়া দেওয়াই তাক্ওয়ার নিকটতর। তোমরা নিজেদের মধ্যে সদাশয়তার কথা বিস্মৃত হইও না। তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই আল্লাহতাহার সম্যক দ্রষ্টা। সম্যক দ্রষ্টা।

Word by word

وَإِن طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّآ أَن يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَا۟ ٱلَّذِى بِيَدِهِۦ عُقْدَةُ ٱلنِّكَاحِ وَأَن تَعْفُوٓا۟ أ

আবদুস শহীদ নাসিম

স্ত্রীর মোহরানা ধার্য করা হয়েছে, কিন্তু যদি সহবাস করার পূর্বেই তালাক দিয়ে ফেলে থাকো, সেক্ষেত্রে ধার্যকৃত মোহরানার অর্ধেক তাকে দিতে হবে যদি না স্ত্রী দয়াপরবশ হয় (ক্ষমা করে দেয়), কিংবা যার হাতে বিবাহের রশি সে (অর্থাৎ স্বামী) দয়াপরবশ হয় (অর্থাৎ পুরো মোহরানা দিয়ে দেয়)। তোমরা দয়াপরবশ হও, এটাই তাকওয়ার জন্যে নিকটতম। তোমরা পরস্পরের প্রতি দয়া - অনুগ্রহ ও সহৃদয়তার কথা ভুলে থেকোনা। অবশ্যি তোমাদের কার্যক্রমের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।

সমকালীন বাংলা

তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হইবে, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াইবে;

Word by word

حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلْوُسْطَىٰ وَقُومُوا۟ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যম (আদায়) - এর প্রতি, এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে (সালাতে) দাঁড়াও বিনীত হয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যদি তোমাদের কারো ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই পড়ে নাও অথবা সওয়ারীর উপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।

সমকালীন বাংলা

যদি তোমরা আশংকা কর তবে পদচারী অথবা আরোহী অবস্থায় আদায় করিবে। আর যখন তোমরা নিরাপদ বোধ কর তখন কে স্মরণ করিবে, যেভাবে তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়াছেন, যাহা তোমরা জানিতে না।

Word by word

فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا فَإِذَآ أَمِنتُمْ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَمَا عَلَّمَكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا۟ تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি ভয় ও আতংকের মধ্যে থাকো, সেক্ষেত্রে তোমরা পায়ে হাঁটা কিংবা যানবাহনে আরোহী অবস্থায় আদায় করো। আর যখন নিরাপদ অবস্থায় থাকবে, তখন আল্লাহকে যিকির ( আদায়) করবে সেভাবে, যেভাবে করতে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং যে পদ্ধতি ইতোপূর্বে তোমাদের ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর যদি সে স্ত্রীরা নিজে থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী যদি নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। আর হচ্ছেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞতা সম্পন্ন।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে যাহাদের মৃত্যু আসন্ন এবং স্ত্রী রাখিয়া যায় তাহারা যেন তাহাদের স্ত্রীদেরকে গৃহ হইতে বহিষ্কার না করিয়া তাহাদের এক বৎসরের ভরণ - পোষণের ওসিয়াত করে। কিন্তু যদি তাহারা বাহির হইয়া যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তাহারা যাহা করিবে তাহাতে তোমাদের কোন গুনাহ নাই। রাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًا وَصِيَّةً لِّأَزْوَٰجِهِم مَّتَٰعًا إِلَى ٱلْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِى مَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ مِن مَّ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে যাচ্ছে অবস্থায় নিজের মৃত্যু আসন্ন অনুভব করবে, স্ত্রীদের জন্যে এক বছরের খোরপোষ ও বাসস্থানের অসিয়ত করে যাওয়া তাদের কর্তব্য তাদেরকে বের করে না দিয়ে। তবে তারা (স্ত্রীরা) নিজেরাই যদি চলে যায়, সেক্ষেত্রে তারা প্রচলিত বিধি মোতাবেক নিজেদের ব্যাপারে যা কিছু করুক, তাতে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। সর্বময় কর্তৃত্বশালী, মহাবিজ্ঞ।

মুহিউদ্দীন খান

আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেয়া পরহেযগারদের উপর কর্তব্য।

সমকালীন বাংলা

তালাকপ্রাপ্তা নারীদেরকে যথারীতি ভরণ - পোষণ করা মুত্তাকীদের কর্তব্য।

Word by word

وَلِلْمُطَلَّقَٰتِ مَتَٰعٌۢ بِٱلْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى ٱلْمُتَّقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যেসব নারীকে তালাক দেয়া হয়, তাদেরকেও প্রচলিত সংগত পরিমাণ অর্থ - সামগ্রী দেয়া উচিত। এটা মুত্তাকিদের একটা কর্তব্য।

মুহিউদ্দীন খান

এভাবেই তা’আলা তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তা বুঝতে পার।

সমকালীন বাংলা

এইভাবে তাঁহার বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাহাতে তোমরা বুঝিতে পার।

Word by word

كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই তাঁর আয়াত (আইন - বিধান) পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছেন, যাতে করে তোমরা অনুধাবন করো।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন? অথচ তারা ছিল হাজার হাজার। তারপর তাদেরকে বললেন মরে যাও। তারপর তাদেরকে জীবিত করে দিলেন। নিশ্চয়ই মানুষের উপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া প্রকাশ করে না।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে স্বীয় আবাসভূমি পরিত্যাগ করিয়াছিল? অতঃপর তাহাদেরকে বলিয়াছিলেন, ‘তোমাদের মৃত্যু হউক।’ তারপর তাহাদের জীবিত করিয়াছিলেন। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল; কিন্তু অধিকাংশ লোক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ خَرَجُوا۟ مِن دِيَٰرِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ ٱلْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ ٱللَّهُ مُوتُوا۟ ثُمَّ أَحْيَٰهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاس

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ লোকদের ব্যাপারে কি ভেবে দেখেছো, যারা হাজার হাজার লোক মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর - বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল? তারপর তাদের বলেছিলেন: ‘মরে যাও।’ এর পর তিনি আবার তাদের জীবিত করেন। মূলত, মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহপরায়ণ, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁর শোকর আদায় করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর পথে লড়াই কর এবং জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে সবকিছু জানেন, সবকিছু শুনেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর এবং জানিয়া রাখ যে, নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

Word by word

وَقَٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো আর জেনে রাখো, অবশ্যি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর তাকে দ্বিগুণ - বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।

সমকালীন বাংলা

কে সে, যে কে করযে হাসানা প্রদান করিবে? তিনি তাহার জন্য ইহা বহুগুণে বৃদ্ধি করিবেন। আর সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তাঁহার পানেই তোমরা প্রত্যানীত হইবে।

Word by word

مَّن ذَا ٱلَّذِى يُقْرِضُ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥٓ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَٱللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْصُۜطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কে আছে আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ (উত্তম নি:স্বার্থ ঋণ) প্রদান করবে, তারপর তিনি তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে তাকে ফেরত দেবেন? আল্লাহ্ই (কারো অর্থনৈতিক অবস্থা) সম্প্রসারিত করেন আর (কারো অবস্থা) সংকুচিত করেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

মুহিউদ্দীন খান

মূসার পরে তুমি কি বনী ইসরাঈলের একটি দলকে দেখনি, যখন তারা বলেছে নিজেদের নবীর কাছে যে, আমাদের জন্য একজন বাদশাহ নির্ধারিত করে দিন যাতে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে পারি। নবী বললেন, তোমাদের প্রতিও কি এমন ধারণা করা যায় যে, লড়াইর হুকুম যদি হয়, তাহলে তখন তোমরা লড়বে না? তারা বলল, আমাদের কি হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করব না। অথচ আমরা বিতাড়িত হয়েছি নিজেদের ঘর - বাড়ী ও সন্তান - সন্ততি থেকে। অতঃপর যখন লড়াইয়ের নির্দেশ হলো, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তাদের সবাই ঘুরে দাঁড়ালো। আর তা’আলা জালেমদের ভাল করেই জানেন।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি মূসার পরবর্তী বনী ইসরাঈল প্রধানদেরকে দেখ নাই? তাহারা যখন তাহাদের নবীকে বলিয়াছিল, আমাদের জন্য এক রাজা নিযুক্ত কর যাহাতে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করিতে পারি।’ সে বলিল, ‘ইহা তো হইবে না যে, তোমাদের প্রতি যুদ্ধের বিধান দেওয়া হইল তখন আর তোমরা যুদ্ধ করিবে না?’ তাহারা বলিল, ‘আমরা যখন স্বস্বআবাসভূমি ও স্বীয় সন্তান - সন্ততি হইতে বহিষ্কৃত হইয়াছি, তখন আল্লাহর পথে কেন যুদ্ধ করিব না?’ অতঃপর যখন তাহাদের প্রতি যুদ্ধের বিধান দেওয়া হইল তখন তাহাদের স্বল্প সংখ্যক ব্যতীত সকলেই পৃষ্ঠ প্রদর্শন

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلْمَلَإِ مِنۢ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ مِنۢ بَعْدِ مُوسَىٰٓ إِذْ قَالُوا۟ لِنَبِىٍّ لَّهُمُ ٱبْعَثْ لَنَا مَلِكًا نُّقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِن كُتِبَ عَلَيْكُمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি মূসার পরবর্তী বনি ইসরাঈল সরদারদের আচরণটা ভেবে দেখেছো? তারা যখন তাদের একজন নবীকে বলেছিল: ‘আমাদের জন্যে একজন রাজা নিযুক্ত করুন যাতে করে আমরা (তার নেতৃতেব) আল্লাহর পথে লড়াই করতে পারি।’ সে বললো: ‘এমনটি তো হবেনা যে, তোমাদের প্রতি যুদ্ধ ফরয হলো, অথচ তোমরা যুদ্ধে গেলেনা?’ তারা বললো: ‘কেন আমরা যুদ্ধে যাবোনা, অথচ আমাদেরকে আমাদের ঘরবাড়ি এবং সন্তান সন্তুতি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে?’ তারপর যখন তাদের উপর যুদ্ধ ফরয করে দেয়া হলো, তখন তাদের অল্প কিছু লোক ছাড়া বাকি সবাই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলো। যালিমদের অবস্থা বিশেষভাবে অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদেরকে তাদের নবী বললেন, নিশ্চয়ই তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ সাব্যস্ত করেছেন। তারা বলতে লাগল তা কেমন করে হয় যে, তার শাসন চলবে আমাদের উপর। অথচ রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে আমাদেরই অধিকার বেশী। আর সে সম্পদের দিক দিয়েও সচ্ছল নয়। নবী বললেন, নিশ্চয় তোমাদের উপর তাকে পছন্দ করেছেন এবং স্বাস্থ্য ও জ্ঞানের দিক দিয়ে প্রাচুর্য দান করেছেন। বস্তুতঃ তাকেই রাজ্য দান করেন, যাকে ইচ্ছা। আর হলেন অনুগ্রহ দানকারী এবং সব বিষয়ে অবগত।

সমকালীন বাংলা

আর তাহাদের নবী তাহাদের বলিয়াছিল, অবশ্যই তালূতকে তোমাদের রাজা করিয়াছেন। তাহারা বলিল, আমাদের উপর তাহার রাজত্ব কিরূপে হইবে, যখন আমরা তাহা অপেক্ষা রাজত্বের অধিক হক্দার এবং তাহাকে প্রচুর ঐশ্বর্য দেওয়া হয় নাই!’ নবী বলিল, অবশ্যই তাহাকে তোমাদের জন্য মনোনীত করিয়াছেন এবং তিনি তাহাকে জ্ঞানে ও দেহে সমৃদ্ধ করিয়াছেন।’ যাহাকে ইচ্ছা স্বীয় রাজত্ব দান করেন। প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا قَالُوٓا۟ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ ٱلْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِٱلْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِّنَ ٱلْمَالِ قَالَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের নবী (শামাবিল) তাদের বলেছিল: ‘ তালুতকে তোমাদের নবী নিযুক্ত করেছেন।’ তারা বললো: ‘আমাদের উপর সে কিভাবে রাজত্ব লাভ করবে? তার চাইতে রাজত্ব লাভের অধিক হকদার তো আমরা। তাছাড়া সেতো অর্থনৈতিক ভাবেও সামর্থবান নয়।’ সে (শামাবিল) বললো: ‘ তোমাদের উপর তাকেই (রাজা) মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাকে জ্ঞানগত ও দৈহিকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। যাকে চান তাকে তাঁর রাজত্ব প্রদান করেন। আর নিজ সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণের জন্যে যথেষ্ট ও সর্বজ্ঞানী।’

মুহিউদ্দীন খান

বনী - ইসরাঈলদেরকে তাদের নবী আরো বললেন, তালূতের নেতৃত্বের চিহ্ন হলো এই যে, তোমাদের কাছে একটা সিন্দুক আসবে তোমাদের পালকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মনের সন্তুষ্টির নিমিত্তে। আর তাতে থাকবে মূসা, হারুন এবং তাঁদের সন্তানবর্গের পরিত্যক্ত কিছু সামগ্রী। সিন্দুকটিকে বয়ে আনবে ফেরেশতারা। তোমরা যদি হয়ে থাক, তাহলে এতে তোমাদের জন্য নিশ্চিতই পরিপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

আর তাহাদের নবী তাহাদের বলিয়াছিল, ‘তাহার রাজত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট সেই তাবূত আসিবে যাহাতে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে চিত্ত - প্রশান্তি এবং মূসা ও হারূন - বংশীয়গণ যাহা পরিত্যাগ করিয়াছে তাহার অবশিষ্টাংশ থাকিবে; ফিরিশতাগণ ইহা বহন করিয়া আনিবে। তোমরা যদি হও তবে অবশ্যই তোমাদের জন্য ইহাতে নিদর্শন আছে।’

Word by word

وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ءَايَةَ مُلْكِهِۦٓ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلتَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِّمَّا تَرَكَ ءَالُ مُوسَىٰ وَءَالُ هَٰرُونَ تَحْمِلُهُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ إِنَّ فِى

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের নবী (শামাবিল) তাদের আরো বলেছিল: তার (তালুতের) রাজত্ব লাভের নিদর্শন হলো: ‘তার রাজত্বকালে তোমরা সেই সিন্ধুকটি ফেরত পাবে, যাতে রয়েছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে প্রশান্তি, রয়েছে মূসা ও হারূণের পরিবারের পরিত্যক্ত বরকতময় আসবাব পত্র। সেটি বহন করে আনবে ফেরেশতারা। তোমরা হয়ে থাকলে এটা তোমাদের জন্যে অবশ্যি (তার রাজত্বের) নিদর্শন।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তালূত যখন সৈন্য - সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় তোমাদিগকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার নয়। আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষঅবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। অতঃপর সবাই পান করল সে পানি, সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালূত যখন তা পার হলো এবং তার সাথে ছিল মাত্র কয়েকজন , তখন তারা বলতে লাগল, আজকের দিনে জালূত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই, যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সামনে তাদের একদিন উপস্থিত হতে হবে, তারা বার বার বলতে লাগল, সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল তাদের সাথে রয়েছেন।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তালূত যখন সৈন্যবাহিনীসহ বাহির হইল সে তখন বলিল, ‘ এক নদী দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করিবেন। যে কেহ উহা হইতে পান করিবে সে আমার দলভুক্ত নহে; আর যে কেহ উহার স্বাদ গ্রহণ করিবে না সে আমার দলভুক্ত; ইহা ছাড়া যে কেহ তাহার হস্তেএক কোষ পানি গ্রহণ করিবে সেও। অতঃপর অল্প সংখ্যক ব্যতীত তাহারা উহা হইতে পান করিল। সে এবং তাহার সঙ্গী ঈমানদারগণ যখন উহা অতিক্রম করিল তখন তাহারা বলিল, ‘জালূত ও তাহার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত শক্তি আজ আমাদের নাই।’ কিন্তু যাহাদের প্রত্যয় ছিলআল্লাহর সঙ্গে তাহাদের সাক্ষাৎ ঘটিবে তাহারা বলিল, আল্লাহর হুকুমে কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ

Word by word

فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِٱلْجُنُودِ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّى وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُۥ مِنِّىٓ إِلَّا مَنِ ٱغْتَرَفَ غُرْفَةًۢ بِيَدِهِۦ فَشَرِب

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তালুত যখন সেনাবাহিনী নিয়ে (জেরুজালেম বিজয়ের উদ্দেশ্যে) বের হলো, তাদের বললো: ‘ (সামনেই) একটি নদীতে তোমাদের পরীক্ষা করবেন। যে তার পানি পান করবে, সে আমার দলভুক্ত থাকবেনা; আর যে তার পানি দিয়ে পিপাসা নিবৃত করবেনা, সে - ই থাকবে আমার দলভুক্ত; তবে কেউ শুধু এক আধ আঁজলা পান করলে সেও থাকতে পারবে আমার দলভুক্ত।’ কিন্তু তাদের অল্প কিছু লোক ছাড়া বাকিরা আকণ্ঠ পান করলো নদীর পানি। তারপর সে এবং তার ঈমানের দাবিদার সাথিরা যখন নদী পার হয়ে এলো, তারা (তালুতকে) বললো: ‘আজ জালুত এবং তার সেনাদলের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই।’ কিন্তু আল্লাহর সাথে একদিন তো সাক্ষাত হবেই - এ বিশ্বাস যাদের ছিলো, তারা বললো: ‘আল্লাহর হুকুমে ক্ষুদ্র সেনাদল শক্তিশালী বৃহৎ সেনাদলকে পরাজিত করেছে - এমন ঘটনা বহুবারই ঘটেছে।’ সবর (দৃঢ়তা) অবলম্বনকারীদের সাথেই থাকেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তালূত ও তার সেনাবাহিনী শত্রুর সম্মুখীন হল, তখন বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ - আর আমাদের সাহায্য কর সে জাতির বিরুদ্ধে।

সমকালীন বাংলা

তাহারা যখন যুদ্ধার্থে জালূত ও তাহার সৈন্যবাহিনীর সম্মুখীন হইল তখন তাহারা বলিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান কর, আমাদের পা অবিচলিত রাখ এবং সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য দান কর।’

Word by word

وَلَمَّا بَرَزُوا۟ لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ قَالُوا۟ رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা যখন যুদ্ধের জন্যে জালুত এবং তার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হলো, দোয়া করলো: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের দৃঢ়তা দান করো, আমাদের কদমকে মজবুত রাখো এবং এই লোকদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।’

মুহিউদ্দীন খান

তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হত্যা করল। আর দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি একান্তই দয়ালু, করুণাময়।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং তাহারা আল্লাহর হুকুমে উহাদের পরাভূত করিল ; দাউদ জালূতকে সংহার করিল, তাহাকে রাজত্ব ও হিকমত দান করিলেন এবং যাহা তিনি ইচ্ছা করিলেন তাহা তাহাকে শিক্ষা দিলেন। যদি মানব জাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করিতেন তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হইয়া যাইত। কিন্তুু জগত সমূহের প্রতি অনুগ্রহশীল।

Word by word

فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُۥدُ جَالُوتَ وَءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلْمُلْكَ وَٱلْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُۥ مِمَّا يَشَآءُ وَلَوْلَا دَفْعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ ٱلْأَرْضُ وَلَٰكِن

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তারা আল্লাহর হুকুমে তাদের পরাস্ত করলো এবং দাউদ হত্যা করলো জালুতকে। আর তাকে (দাউদকে) দান করলেন রাজত্ব আর হিকমা (প্রজ্ঞা) এবং তাকে শিক্ষা দিলেন যা ইচ্ছা করলেন। যদি মানব জাতির একটি দলকে আরেকটি দলের হাতে দমন না করতেন, তাহলে তো পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটে যেতো। কিন্তু জগতবাসীর প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো হলো আল্লাহর নিদর্শন, যা আমরা তোমাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে থাকি। আর আপনি নিশ্চিতই আমার রসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।

সমকালীন বাংলা

এই সকল আল্লাহর আয়াত, আমি তোমার নিকট উহা যথাযথভাবে তিলাওয়াত করিতেছি, আর নিশ্চয়ই তুমি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।

Word by word

تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِٱلْحَقِّ وَإِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো আল্লাহর আয়াত (বাণী) আমরা তিলাওয়াত করছি যথাযথভাবে তোমার প্রতি এবং অবশ্যি তুমি রসূলদের একজন।

মুহিউদ্দীন খান

এই রসূলগণ - আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ তো হলো তারা যার সাথে কথা বলেছেন, আর কারও মর্যাদা উচ্চতর করেছেন এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মু’জেযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে। আর যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে পরিস্কার নির্দেশ এসে যাবার পর পয়গম্বরদের পেছনে যারা ছিল তারা লড়াই করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের কেউ তো ঈমান এনেছে, আর কেউ হয়েছে । আর যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা পরস্পর লড়াই করতো, কিন্তু তাই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।

সমকালীন বাংলা

এই রাসূলগণ, তাহাদের মধ্যে কাহাকেও কাহারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছি। তাহাদের মধ্যে এমন কেহ রহিয়াছে যাহার সঙ্গে কথা বলিয়াছেন, আবার কাহাকেও উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করিয়াছেন। মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করিয়াছি ও পবিত্র আত্বারদ্বারা তাহাকে শক্তিশালী করিয়াছি। ইচ্ছা করিলে তাহাদের পরবর্তীরা তাহাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ সমাগত হওয়ার পরও পারস্পরিক যুদ্ধ - বিগ্রহে লিপ্ত হইত না; কিন্তু তাহাদের মধ্যে মতভেদ ঘটিল। ফলে তাহাদের কিছুসংখ্যক ঈমান আনিল এবং কিছুসংখ্যক করিল। ইচ্ছা করিলে তাহারা পারস্পরিক যুদ্ধ - বিগ্রহে লিপ্ত হইত না; কিন্তু যাহা ইচ্ছা তাহা করেন।

Word by word

تِلْكَ ٱلرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ مِّنْهُم مَّن كَلَّمَ ٱللَّهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَٰتٍ وَءَاتَيْنَا عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ ٱلْبَيِّنَٰتِ وَأَيَّدْنَٰهُ بِرُوحِ ٱلْقُدُسِ وَلَوْ شَآءَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সেইসব রসূল, তাদের কিছু রসূলকে অন্য কিছু রসূলের উপর আমরা মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন (রসূল)ও আছে, যে আল্লাহর সাথে কথা বলেছে, আবার কাউকেও তিনি মর্যাদার দিক থেকে উপরে উঠিয়েছেন। এছাড়া মরিয়মের পুত্র ঈসাকে আমরা প্রদান করেছি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং তাকে সাহায্য করেছি ‘রুহুল কুদুস’ (জিবরাঈল) এর মাধ্যমে। চাইলে রসূলদের পরের লোকেরা সুস্পষ্ট প্রমাণ সমূহ বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হতোনা। কিন্তু ( জোরপূর্বক মানুষের মত এবং বিশ্বাস পরিবর্তন করেননা, তাই) তারা এখতেলাফ (মতভেদে) - এ লিপ্ত হয়। ফলে তাদের কিছু লোক ঈমান আনে, আর কিছু লোক কুফুরির পথ অবলম্বন করে। চাইলে তারা পারস্পারিক লড়াইতে লিপ্ত হতোনা। কিন্তু তাই করেন, যা তিনি চান।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা - কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! আমি যাহা তোমাদেরকে দিয়াছি তাহা হইতে তোমরা ব্যয় কর সেই দিন আসিবার পূর্বে, যেই দিন ক্রয় - বিক্রয়, বন্ধুত্ব ও সুপারিশ থাকিবে না এবং কাফিররাই ।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَٰكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَٰعَةٌ وَٱلْكَٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐ সমস্ত লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো সেই সম্পদ থেকে, যা আমরা তোমাদের দান করেছি, (ব্যয় করো) সেই দিনটি আসার আগেই যেদিন অর্থের কোনো আদান - প্রদান থাকবেনা, বন্ধুতা থাকবেনা এবং থাকবেনা সুপারিশও। মূলত কাফিররাই হলো যালিম।

মুহিউদ্দীন খান

ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

সমকালীন বাংলা

তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁহাকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্ততাঁহারই। কে সে, যে তাঁহার অনুমতি ব্যতীত তাঁহার নিকট সুপারিশ করিবে? তাহাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যাহা কিছু আছে তাহা তিনি অবগত। যাহা তিনি ইচ্ছা করেন তদ্ব্যতীত তাঁহার জ্ঞানের কিছুই তাহারা আয়ত্ত করিতে পারে না। তাঁহার ‘কুরসী’ আকাশ ও পৃথিবীময় পরিব্যাপ্ত; ইহাদের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁহাকে ক্লান্ত করে না; আর তিনি মহান, শ্রেষ্ঠ।

Word by word

ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ يَعْلَمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

, নাই কোনো তিনি ছাড়া। তিনি চিরঞ্জীব, তিনি অনন্তকাল সর্বসৃষ্টির ধারক ও রক্ষক। ঘুম কিংবা তন্দ্রা তাঁকে স্পর্শ করেনা কখনো। মহাকাশ এবং এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। এমন কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর সম্মুখে শাফায়াত করার সাধ্য রাখে? তিনি জানেন তাদের (মানুষের) সামনে - পেছনে (গোচরে - অগোচরে কিংবা ইহকালে - পরকালে) যা কিছু ঘটে এবং ঘটবে। তারা তিনি যতোটুকু চান তাছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারেনা। তাঁর কুরসি পরিব্যাপ্ত মহাকাশ এবং পৃথিবীতে। এগুলোর হিফাযত (ধারণ ও রক্ষণ) তাঁকে ক্লান্ত করেনা। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বমহান।

মুহিউদ্দীন খান

দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য - বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর সবই শুনেন এবং জানেন।

সমকালীন বাংলা

দীন গ্রহণে জোর - জবরদস্তি নাই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ হইতে সুস্পষ্ট হইয়াছে। যে তাগূতকে অস্বীকার করিবে ও আল্লাহর উপর ঈমান আনিবে সে এমন এক মযবূত হাতল ধরিবে যাহা কখনও ভাঙ্গিবে না। সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

لَآ إِكْرَاهَ فِى ٱلدِّينِ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشْدُ مِنَ ٱلْغَىِّ فَمَن يَكْفُرْ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَا وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

দীন (ইসলাম) গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা ও বল প্রয়োগ (compulsion) নেই। সঠিক পথকে উজ্জ্বল - পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে। এখন যে কেউ তাগুতকে অস্বীকার করে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে সবচে মজবুত বিশ্বস্ত হাতলটিই আঁকড়ে ধরবে, যা কখনো ভেঙ্গে যাবার নয়। আর তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ঈমান এনেছে, তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে তাহাদের অভিভাবক, তিনি তাহাদেরকে অন্ধকার হইতে বাহির করিয়া আলোকে লইয়া যান। আর যাহারা করে তাগূত তাহাদের অভিভাবক; ইহারা তাহাদেরকে আলো হইতে অন্ধকারে লইয়া যায়। উহারাই অগ্নি - অধিবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

Word by word

ٱللَّهُ وَلِىُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُخْرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَوْلِيَآؤُهُمُ ٱلطَّٰغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ ٱلنُّورِ إِلَى ٱلظُّلُمَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে তাদের অলি হলেন । তিনি তাদের বের করে আনেন অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে। আর যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করে, তাগুতরা হলো তাদের অলি। তারা তাদেরকে টেনে নিয়ে আসে আলো থেকে অন্ধকাররাশিতে। মূলত এরাই হবে আসহাবুন নার (আগুনের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি সে লোককে দেখনি, যে পালনকর্তার ব্যাপারে বাদানুবাদ করেছিল ইব্রাহীমের সাথে এ কারণে যে, সে ব্যাক্তিকে রাজ্য দান করেছিলেন? ইব্রাহীম যখন বললেন, আমার পালনকর্তা হলেন তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সে বলল, আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকি। ইব্রাহীম বললেন, নিশ্চয়ই তিনি সুর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে এবার তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর। তখন সে হতভম্ব হয়ে গেল। আর সীমালংঘণকারী সম্প্রদায়কে সরল পথ প্রদর্শন করেন না।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখ নাই, যে ইব্রাহীমের সঙ্গে তাহার প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হইয়াছিল, যেহেতু তাহাকে কর্তৃত্ব দিয়াছিলেন। যখন ইব্রাহীম বলিল, ‘তিনি আমার প্রতিপালক যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান’, সে বলিল, ‘আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।’ ইব্রাহীম বলিল, ‘ সূর্যকে পূর্ব দিক হইতে উদিত করান, তুমি উহাকে পশ্চিম দিক হইতে উদিত করাও তো।’ অতঃপর যে করিয়াছিল সে হতবুদ্ধি হইয়া গেল। সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِى حَآجَّ إِبْرَٰهِۦمَ فِى رَبِّهِۦٓ أَنْ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلْمُلْكَ إِذْ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ رَبِّىَ ٱلَّذِى يُحْىِۦ وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا۠ أُحْىِۦ وَأُمِيتُ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ فَإ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি ঐ ব্যাক্তির বিষয়টি লক্ষ্য করোনি, যে ইবরাহিমের সাথে বিতর্ক করছিল সে (ইবরাহিম) কাকে প্রভু মানে, তা নিয়ে? আর তাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দিয়েছিলেন বলেই সে এ বিতর্কে লিপ্ত হয়। (ইবরাহিম কাকে প্রভু মানে - এ প্রশ্নের জবাবে) ইবরাহিম যখন বলেছিল: ‘আমার প্রভু তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।’ সে (নমরূদ) বললো: (‘আমার রাজ্যে তো) আমিই জীবন (ভিক্ষা) দেই এবং মৃত্যু (দন্ড) দেই।’ ইবরাহিম বললো: ‘(আমার প্রভু) সূর্যকে (ইরাকের) পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি সেটিকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো দেখি।’ একথা শুনে কাফিরটি হতভম্ব হয়ে গেলো। সঠিক পথ দেখান না যালিম লোকদের।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে - সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল - আমি জানি, নিঃসন্দেহে সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।

সমকালীন বাংলা

অথবা তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখ নাই, যে এমন এক নগরে উপনীত হইয়াছিল যাহা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হইয়াছিল। সে বলিল, ‘মৃত্যুর পর কিরূপে ইহাকে জীবিত করিবেন?’ তৎপর তাহাকে একশত বৎসর মৃত রাখিলেন। পরে তাহাকে পুনর্জীবিত করিলেন। বলিলেন, ‘তুমি কত কাল অবস্থান করিলে?’ সে বলিল, ‘এক দিন অথবা এক দিনেরও কিছু কম অবস্থান করিয়াছি।’ তিনি বলিলেন, ‘না, বরং তুমি একশত বৎসর অবস্থান করিয়াছ। তোমার খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় বস্তুর প্রতি লক্ষ্য কর, উহা অবিকৃত রহিয়াছে এবং তোমার গর্দভটির প্রতি লক্ষ্য কর, কারণ তোমাকে মানবজাতির জন্য নিদর্শনস্বরূপ করিব। আর অস্থিগুলির প্রতি লক্ষ্য কর; কিভাবে সেইগুলিকে সংযোজিত করি এবং গোশত্‌ দ্বারা ঢাকিয়া দেই।’ যখন ইহা তাহার নিকট স্পষ্ট হইল তখন সে বলিয়া উঠিল, ‘আমি জানি যে, নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’

Word by word

أَوْ كَٱلَّذِى مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍ وَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْىِۦ هَٰذِهِ ٱللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِا۟ئَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُۥ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ قَالَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা ঐ ব্যাক্তির বিষয়টি কি তুমি লক্ষ্য করোনি, যে অতিক্রম করছিল এমন একটি শহর যা ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়ে পড়েছিল? (শহরটি দেখে) সে বললো: ‘হায়, এমন ধ্বংসের পর কীভাবে এ (শহর) কে জীবিত করবেন?’ সুতরাং তার মৃত্যু ঘটান এবং একশ বছর অতিবাহিত হবার পর তাকে পুনর্জীবিত করেন। তিনি () তাকে জিজ্ঞেস করেন: ‘বলতো কতো বছর (মৃত) পড়েছিলে?’ সে বললো: ‘একদিন বা একদিনের কিছু অংশ’ । তিনি বললেন: ‘না, বরং তুমি (এখানে মৃত) পড়েছিলে একশ বছর! তাকিয়ে দেখো, তোমার খাদ্য ও পানীয়ের দিকে, সেগুলো বিকৃত হয়নি আর তোমার গাধাটির প্রতিও তাকিয়ে দেখো। আমি এটা এজন্যে করেছি যে, আমি তোমাকে মানুষের পুনর্জীবন সম্পর্কে একটি নিদর্শন বানাতে চাই। আর হাড়গুলোর প্রতি তাকিয়ে দেখো, কিভাবে আমরা সেগুলোকে (পুন:) সংযোজিত করি এবং মাংস দিয়ে ঢেকে দেই?’ তারপর তার কাছে যখন সবকিছু স্পষ্ট হলো, তখন সে বলে উঠলো: ‘আমি জানি, অবশ্যি সবকিছু করতেই সক্ষম সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

আর স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা আমাকে দেখাও, কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করবে। বললেন; তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু দেখতে এজন্যে চাইছি যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি। বললেন, তাহলে চারটি পাখী ধরে নাও। পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও, অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও। তারপর সেগুলোকে ডাক; তোমার নিকট দৌড়ে চলে আসবে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী, অতি জ্ঞান সম্পন্ন।

সমকালীন বাংলা

যখন ইব্রাহীম বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর আমাকে দেখাও।’ তিনি বলিলেন, ‘তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না?’ সে বলিল, ‘কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।’ তিনি বলিলেন, ‘তবে চারটি পাখি লও এবং উহাদেরকে তোমার বশীভূত করিয়া লও। তৎপর তাহাদের এক এক অংশ এক এক পাহাড়ে স্থাপন কর। অতঃপর উহাদেরকে ডাক দাও, উহারা দ্রুতগতিতে তোমার নিকট আসিবে। জানিয়া রাখ ‘নিশ্চয়ই প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’

Word by word

وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ رَبِّ أَرِنِى كَيْفَ تُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِى قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةً مِّنَ ٱلطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ ٱجْعَل

আবদুস শহীদ নাসিম

আর স্মরণ করো, ইবরাহিম যখন বলেছিল: ‘আমার প্রভু! তুমি কিভাবে মৃতকে জীবিত করো, তা আমাকে দেখাও।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি কি বিশ্বাস করোনা?’ সে বললো: ‘জী হ্যাঁ (অবশ্যি বিশ্বাস করি), তবে (তা বাস্তবে দেখতে চাই) আমার মনের প্রশান্তি (ঈমানের মজবুতি) অর্জনের জন্যে।’ তিনি বললেন: ‘তাহলে চারটি পাখি সংগ্রহ করে নাও এবং সেগুলোকে (পোষ মানিয়ে) তোমার প্রতি অনুরক্ত বানিয়ে নাও। (তারপর সেগুলোকে টুকরা টুকরা করে কেটে) একেকটি অংশ একেক পাহাড়ে রেখে আসো। এবার (পোষার সময় যে নামে ওদের ডাকতে সে নামে) তাদের ডাক দাও, দেখবে, তারা দ্রুত তোমার কাছে (উড়ে) আসবে। আর জেনে রাখো, অবশ্যি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মত, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

যাহারা নিজেদের ধনৈশ্বর্য আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাহাদের উপমা একটি শস্যবীজ, যাহা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশত শস্যদানা। যাহাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করিয়া দেন। - প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

Word by word

مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِى كُلِّ سُنۢبُلَةٍ مِّا۟ئَةُ حَبَّةٍ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা হলো এরকম, যেমন, একটি (শষ্য) বীজ (বপন করা হলো), সেটি বের করলো সাতটি শীষ, আর প্রতিটা শীষে উৎপন্ন হলো শত শস্যদানা। যাকে চান এমনি করে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। তাঁর সকল সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণে একাই যথেষ্ট, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

যারা স্বীয় ধন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, এরপর ব্যয় করার পর সে অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে না এবং কষ্টও দেয় না, তাদেরই জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে পুরস্কার এবং তাদের কোন আশংকা নেই, তারা চিন্তিতও হবে না।

সমকালীন বাংলা

যাহারা আল্লাহর পথে ধনৈশ্বর্য ব্যয় করে অতঃপর যাহা ব্যয় করে তাহার কথা বলিয়া বেড়ায় না এবং ক্লেশও দেয় না, তাহাদের পুরস্কার তাহাদের প্রতিপালকের নিকট আছে। তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না। যে দানের পর কষ্ট দেওয়া হয় তাহা অপেক্ষা ভাল কথা ও ক্ষমা শ্রেয়। অভাবমুক্ত, পরম সহনশীল।

Word by word

ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَآ أَنفَقُوا۟ مَنًّا وَلَآ أَذًى لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে তাদের অর্থ - সম্পদ ব্যয় করে, তারপর সে ব্যয়ের (অনুগ্রহের) কথা বলে বেড়ায়না এবং এর দ্বারা কারো মনেও কষ্ট দেয়না, তাদের পুরষ্কার (সংরক্ষিত) রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে। তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা এবং দুঃখ - বেদনাও থাকবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

নম্র কথা বলে দেয়া এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ঐ দান খয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেয়া হয়। তা’আলা সম্পদশালী, সহিঞ্চু।

সমকালীন বাংলা

যে দানের পর কষ্ট দেওয়া হয় তাহা অপেক্ষা ভাল কথা ও ক্ষমা শ্রেয়। অভাবমুক্ত, পরম সহনশীল।

Word by word

قَوْلٌ مَّعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِّن صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَآ أَذًى وَٱللَّهُ غَنِىٌّ حَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি সুন্দর কথা এবং ক্ষমা, দান করে দুঃখ দেয়ার চাইতে উত্তম। সম্পদশালী এবং সহনশীল।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ!তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান খয়রাত বরবাদ করো না সে ব্যক্তির মত যে নিজের ধন - সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। অতএব, এ ব্যাক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ পাথরের মত যার উপর কিছু মাটি পড়েছিল। অতঃপর এর উপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো, অনন্তর তাকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিল। তারা ঐ বস্তুর কোন সওয়াব পায় না, যা তারা উপার্জন করেছে। সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! দানের কথা বলিয়া বেড়াইয়া এবং কষ্ট দিয়া তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল করিও না, যে নিজের ধনসম্পদ লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করিয়া থাকে এবং ও আখিরাতে ঈমান রাখে না। তাহার উপমা একটি মসৃণ পাথর - যাহার উপর কিছু মাটি থাকে; অতঃপর উহার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত উহাকে পরিষ্কার করিয়া রাখিয়া দেয়। যাহা তাহারা উপার্জন করিয়াছে তাহার কিছুই তাহারা তাহাদের কাজে লাগাইতে সক্ষম হইবে না। সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُبْطِلُوا۟ صَدَقَٰتِكُم بِٱلْمَنِّ وَٱلْأَذَىٰ كَٱلَّذِى يُنفِقُ مَالَهُۥ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَل

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমানওয়ালা লোকেরা! দান করার পর খোটা দিয়ে এবং দুঃখ দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির মতো নষ্ট নিষ্ফল করোনা, যে দান করে লোক দেখানোর জন্যে এবং আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখেনা। এ ধরণের দানকারীর উপমা হলো ‘সাফওয়ান’ (মসৃন পাথর - smooth rock), যার উপর সামান্য মাটির আস্তর জমে, তারপর প্রবল বৃষ্টিপাত পাথরটিকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে রেখে যায়। এধরণের লোকেরা (দান খয়রাত করে) যে নেকি উপার্জন করে তার কিছুই ধরে রাখতে পারেনা। আর অকৃতজ্ঞ লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন - সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে এবং নিজের মনকে সুদৃঢ় করার জন্যে তাদের উদাহরণ টিলায় অবস্থিত বাগানের মত, যাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়; অতঃপর দ্বিগুণ ফসল দান করে। যদি এমন প্রবল বৃষ্টিপাত নাও হয়, তবে হাল্কা বর্ষণই যথেষ্ট। তোমাদের কাজকর্ম যথার্থই প্রত্যক্ষ করেন।

সমকালীন বাংলা

আর যাহারা সন্তুষ্টি লাভার্থে ও নিজেদের আত্বারবলিষ্ঠ করণার্থে ধনৈশ্বর্য ব্যয় করে তাহাদের উপমা কোন উচ্চ ভূমিতে অবস্থিত একটি উদ্যান, যাহাতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, ফলে তাহার ফলমূল দ্বিগুণ জন্মে। যদি মুষলধারে বৃষ্টি নাও হয় তবে লঘু বৃষ্টিই যথেষ্ট। তোমরা যাহা কর তাহার সম্যক দ্রষ্টা।

Word by word

وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمُ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ وَتَثْبِيتًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍۭ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌ فَـَٔاتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِن لَّمْ يُصِبْهَا وَابِل

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে তাঁর পুরস্কার লাভের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাদের অর্থ - সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা হলো এ রকম, যেমন কোনো উঁচু ভূমিতে অবস্থিত একটি বাগান! তাতে বৃষ্টি হলো মূষলধারে এবং তার ফলে তার ফলন হলো দ্বিগুণ। আর মূষলধারে বৃষ্টিপাত না হলেও হালকা বৃষ্টিপাতই (তার ভালো ফলনের জন্যে) যথেষ্ট। তোমাদের কর্মের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কেউ পছন্দ করে যে, তার একটি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান হবে, এর তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হবে, আর এতে সর্বপ্রকার ফল - ফসল থাকবে এবং সে বার্ধক্যে পৌছবে, তার দুর্বল সন্তান সন্ততিও থাকবে, এমতাবস্থায় এ বাগানের একটি ঘূর্ণিবায়ু আসবে, যাতে আগুন রয়েছে, অনন্তর বাগানটি ভষ্মীভূত হয়ে যাবে? এমনিভাবে তা’আলা তোমাদের জন্যে নিদর্শনসমূহ বর্ননা করেন - যাতে তোমরা চিন্তা - ভাবনা কর।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের কেহ কি চায় যে, তাহার খেজুর ও আঙুরের একটি বাগান থাকে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং যাহাতে সর্বপ্রকার ফলমূল আছে, যখন সে ব্যক্তি বার্ধক্যে উপনীত হয় এবং তাহার সন্তান - সন্ততি দুর্বল, অতঃপর উহার উপর এক অগ্নিক্ষরা ঘূর্ণিঝড় আপতিত হয় ও উহা জ্বলিয়া যায়? এইভাবে তাঁহার নিদর্শন তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যাহাতে তোমরা অনুধাবন করিতে পার।

Word by word

أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَن تَكُونَ لَهُۥ جَنَّةٌ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَابٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ لَهُۥ فِيهَا مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ وَأَصَابَهُ ٱلْكِبَرُ وَلَهُۥ ذُرِّيَّةٌ ضُعَفَآءُ فَأَصَابَهَآ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কেউ কি এমনটি পছন্দ করবে যে তার থাকবে একটি সুফলা বাগান, সেটি পরিপূর্ণ থাকবে খেজুর আর আংগুরে, তাতে প্রবাহিত থাকবে অনেকগুলো ঝর্ণাধারা, থাকবে সব রকমের ফল ফ্রুট। তারপর এমন এক সময়ে অগ্নিবায়ু প্রবাহিত হয়ে বাগানটি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, যখন সে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত আর তার সন্তানগুলো দুর্বল - অপ্রাপ্ত বয়স্ক? এভাবেই তোমাদের জন্যে তাঁর আয়াত সমূহ বর্ণনা করেন, যাতে করে তোমরা চিন্তা ফিকির করে উপলব্ধি করতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্যে ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, অভাব মুক্ত, প্রশংসিত।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ ! তোমরা যাহা উপার্জন কর এবং আমি যাহা ভূমি হইতে তোমাদের জন্য উৎপাদন করিয়া দেই তন্মধ্যে যাহা উৎকৃষ্ট তাহা ব্যয় কর ; এবং উহার নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করিও না : অথচ তোমরা উহা গ্রহণ করিবার নও, যদি না তোমরা চক্ষু বন্ধ করিয়া থাক। এবং জানিয়া রাখ যে, অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّآ أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا۟ ٱلْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُم بِـَٔاخِذِيهِ إِلَّآ أَن تُغْمِض

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমানওয়ালা লোকেরা ! তোমরা ভালোটা ব্যয় করো (যাকাত দাও) তা থেকে, যা তোমরা উপার্জন করো এবং তা থেকেও যা আমরা ভূমি থেকে তোমাদের উৎপন্ন করে দেই। তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট অংশ ব্যয় করার সংকল্প করোনা। অথচ (নিকৃষ্ট অংশ) তোমাদের দেয়া হলেও তোমরা তা গ্রহণ করবেনা, তবে (নেয়ার সময়) তোমরা চোখ বন্ধ করে থাকলে ভিন্ন কথা। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই প্রাচুর্যময় সপ্রশংসিত।

মুহিউদ্দীন খান

শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়। আর তোমাদেরকে তাঁহার ক্ষমা এবং অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

Word by word

ٱلشَّيْطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِٱلْفَحْشَآءِ وَٱللَّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلًا وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

শয়তান তোমাদের অভাব ও দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং ফাহেশা কাজ করার নির্দেশ দেয়। অথচ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেন তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের। সমস্ত সৃষ্টির অভাব পূরণকারী, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞান দান করেন এবং যাকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়, সে প্রভুত কল্যাণকর বস্তু প্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান।

সমকালীন বাংলা

তিনি যাহাকে ইচ্ছা হিকমত প্রদান করেন এবং যাহাকে হিকমত প্রদান করা হয় তাহাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়; এবং বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই শুধু শিক্ষা গ্রহণ করে।

Word by word

يُؤْتِى ٱلْحِكْمَةَ مَن يَشَآءُ وَمَن يُؤْتَ ٱلْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِىَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَٰبِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি হিকমা (জ্ঞান ও প্রজ্ঞা) দান করেন যাকে ইচ্ছা; আর যাকে হিকমা প্রদান করা হয়, তাকে দান করা হয় অবারিত কল্যাণ। তবে বুঝ - বুদ্ধিওয়ালা লোকেরা ছাড়া (অন্যরা) উপদেশ গ্রহণ করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে খয়রাত বা সদ্ব্যয় কর কিংবা কোন মানত কর, নিশ্চয়ই সেসব কিছুই জানেন। অন্যায়কারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।

সমকালীন বাংলা

যাহা কিছু তোমরা ব্যয় কর অথবা যাহা কিছু তোমরা মানত কর নিশ্চয়ই তাহা জানেন। আর জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

Word by word

وَمَآ أَنفَقْتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُم مِّن نَّذْرٍ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُهُۥ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যা কিছু ব্যয় করো এবং যা কিছু মানত করো (কী উদ্দেশ্যে করো), অবশ্যি তা জানেন। আর (জেনে রাখো) যালিমদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী নেই।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান - খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি খয়রাত গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। তা’আলা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দিবেন। তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর তবে উহা ভাল ; আর যদি তাহা গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তকে দান কর তাহা তোমাদের জন্য আরও ভাল ; এবং তিনি তোমাদের কিছু কিছু পাপ মোচন করিবেন; তোমরা যাহা কর তাহা সম্যক অবহিত।

Word by word

إِن تُبْدُوا۟ ٱلصَّدَقَٰتِ فَنِعِمَّا هِىَ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا ٱلْفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّـَٔاتِكُمْ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা ভালো। কিন্তু যদি দান করো গোপনে আর তা যদি দাও অভাবী লোকদের, তবে তা তোমাদের নিজেদের জন্যেই কল্যাণকর। আর তিনি (দানের কারণে) তোমাদের কিছু পাপ মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো, তিনি তার খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে সৎপথে আনার দায় তোমার নয়। বরং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। যে মাল তোমরা ব্যয় কর, তা নিজ উপাকারার্থেই কর। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করো না। তোমরা যে, অর্থ ব্যয় করবে, তার পুরস্কার পুরোপুরি পেয়ে যাবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের সৎপথ গ্রহণের দায়িত্ব তোমার নহে ; বরং যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। যে ধন - সম্পদ তোমরা ব্যয় কর তাহা তোমাদের নিজেদের জন্য এবং তোমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভার্থেই ব্যয় করিয়া থাক। যে ধন - সম্পদ তোমরা ব্যয় কর তাহার পুরস্কার তোমাদেরকে পুরাপুরিভাবে প্রদান করা হইবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হইবে না।

Word by word

لَّيْسَ عَلَيْكَ هُدَىٰهُمْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهْدِى مَن يَشَآءُ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنفُسِكُمْ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ ٱللَّهِ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْ

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসার (ঈমান গ্রহণ করানোর এবং দীন - ইসলামে প্রবেশ করানোর) দায়িত্ব তোমার নয়; বরং যাকে চান, সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তোমরা যে অর্থসম্পদ দান করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্যেই কল্যাণকর। আর তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দান করোনা। তোমরা (আল্লাহর সন্তোষ কামনায়) যে অর্থ - সম্পদই ব্যয় করোনা কেন, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

খয়রাত ঐ সকল গরীব লোকের জন্যে যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে - জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা যাঞ্চা না করার কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি - মিনতি করে ভিক্ষা চায় না। তোমরা যে অর্থ ব্যয় করবে, তা তা’আলা অবশ্যই পরিজ্ঞাত।

সমকালীন বাংলা

ইহা প্রাপ্য অভাবগ্রস্ত লোকদের; যাহারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, দেশময় ঘোরাফেরা করিতে পারে না ; যাচ্ঞা না করার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাহাদেরকে অভাবমুক্ত বলিয়া মনে করে; তুমি তাহাদের লক্ষণ দেখিয়া চিনিতে পারিবে। তাহারা মানুষের নিকট নাছোড় হইয়া যাচ্ঞা করে না। যে ধন - সম্পদ তোমরা ব্যয় কর তো তাহা সবিশেষ অবহিত।

Word by word

لِلْفُقَرَآءِ ٱلَّذِينَ أُحْصِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِى ٱلْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ ٱلْجَاهِلُ أَغْنِيَآءَ مِنَ ٱلتَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَٰهُمْ لَا يَسْـَٔلُونَ ٱلنَّاسَ إِلْحَافً

আবদুস শহীদ নাসিম

সেইসব নি:স্ব - অভাবী লোকেরা তোমাদের দান পাওয়ার (বিশেষভাবে) অধিকারী, যারা আল্লাহর পথে নিজেদের পুরোপুরি ব্যাপৃত করে রেখেছে, ঘুরাঘুরি করে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ পায়না। তাদের আত্মসম্মানবোধ দেখে অজ্ঞ লোকেরা মনে করে তারা সচ্ছল। তাদের চেহারা দেখলেই তুমি তাদের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবে। তারা কিছুতেই মানুষের কাছে হাত পাতেনা। মানব কল্যাণে তোমরা যা কিছুই ব্যয় করবে, তা অবশ্যি আল্লাহর এলেমে থাকবে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা স্বীয় ধন - সম্পদ ব্যয় করে, রাত্রে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাদের জন্যে তাদের সওয়াব রয়েছে তাদের পালনকর্তার কাছে। তাদের কোন আশংঙ্কা নেই এবং তারা চিন্তিত ও হবে না।

সমকালীন বাংলা

যাহারা নিজেদের ধনৈশ্বর্য রাত্রে ও দিবসে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে তাহাদের পুণ্য ফল তাহাদের প্রতিপালকের নিকট রহিয়াছে, তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।

Word by word

ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُم بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ব্যয় করে নিজেদের মাল সম্পদ (আল্লাহর পথে) রাত্রে এবং দিনে, গোপনে এবং প্রকাশ্যে, তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে। তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুঃখ - বেদনাও থাকবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয় - বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয় - বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা সুদ খায় তাহারা সেই ব্যক্তিরই ন্যায় দাঁড়াইবে যাহাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। ইহা এইজন্য যে, তাহারা বলে, ক্রয় - বিক্রয় তো সুদের মতই।’ অথচ ক্রয় - বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করিয়াছেন। যাহার নিকট তাহার প্রতিপালকের উপদেশ আসিয়াছে এবং সে বিরত হইয়াছে, তবে অতীতে যাহা হইয়াছে তাহা তাহারই; এবং তাহার ব্যাপার আল্লাহর ইখ্তিয়ারে। আর যাহারা পুনরায় আরম্ভ করিবে তাহারাই দোজখবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ ٱلرِّبَوٰا۟ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِى يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيْطَٰنُ مِنَ ٱلْمَسِّ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّمَا ٱلْبَيْعُ مِثْلُ ٱلرِّبَوٰا۟ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلْبَي

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা রিবা (সুদ usury) খায়, (কিয়ামতের দিন) তারা দাঁড়াতে পারবেনা, তবে দাঁড়াবে ঐ ব্যক্তির মতো যে শয়তানের থাবায় পাগলামিতে উন্মত্ত। তাদের অবস্থা এরকম হবার কারণ, তারা বলে: ‘ব্যবসাও তো রিবার মতোই।’ অথচ ব্যবসাকে করেছেন হালাল, আর রিবাকে করেছেন হারাম। যার কাছে তার প্রভুর (সুদ থেকে বিরত হবার) উপদেশ পৌঁছেছে এবং সে (সুদ থেকে) বিরত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সে অতীতে যা খেয়েছে, তাতো খেয়েছেই। তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আল্লাহর। কিন্তু যারা (সুদের) পুনরাবৃত্তি করবে, তারা হবে ‘আসহাবুন নার’ (আগুনের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে।

সমকালীন বাংলা

সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালবাসেন না।

Word by word

يَمْحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰا۟ وَيُرْبِى ٱلصَّدَقَٰتِ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

সুদকে ধ্বংস করেন এবং বৃদ্ধি ও বিকাশ করেন সাদাকা (যাকাত ও দান) কে। পছন্দ করেননা কোনো অকৃতজ্ঞ দুর্নীতিবাজ পাপিষ্ঠকে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যাহারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, তাহাদের পুরস্কার তাহাদের প্রতিপালকের নিকট আছে। তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে। তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুঃখ বেদনাও থাকবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা হয়ে থাক।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমরা কেভয় কর এবং সুদের বকেয়া যাহা আছে তাহা ছাড়িয়া দাও যদি তোমরা হও।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَذَرُوا۟ مَا بَقِىَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓا۟ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমানওয়ালা লোকেরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং মানুষের কাছে তোমাদের যে সুদ পাওনা (বাকি) রয়ে গেছে, তা পরিত্যাগ করো (give up), যদি তোমরা (সত্যিকার) হয়ে থাকো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।

সমকালীন বাংলা

যদি তোমরা না ছাড় তবে ও তাঁহার রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। ইহাতে তোমরা অত্যাচার করিবে না এবং অত্যাচারিতও হইবে না।

Word by word

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ فَأْذَنُوا۟ بِحَرْبٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَٰلِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি তা (পরিত্যাগ) না করো, তাহলে এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো। আর যদি অনুতপ্ত হয়ে (সুদ) পরিত্যাগ করো, তবে আসলটা (মূলধন) ফেরত নেয়া তোমাদের জন্যে বৈধ। তোমরা যুলুম করোনা এবং যুলুমের শিকারও হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

যদি খাতক অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি কর।

সমকালীন বাংলা

যদি খাতক অভাবগ্রস্ত হয় তবে সচ্ছলতা পর্যন্ত তাহাকে অবকাশ দেওয়া বিধেয়। আর যদি তোমরা ছাড়িয়া দাও তবে উহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানিতে।

Word by word

وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ وَأَن تَصَدَّقُوا۟ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

ঋণগ্রহীতা (debtor) যদি অভাবে (ঋণ ফেরত দেয়ার অবস্থায় না) থাকে, তবে সচ্ছলতা লাভ করা পর্যন্ত তাকে অবকাশ (সময়) দাও। কিন্তু অভাবী ঋণ গ্রহীতাকে যদি (ঋণের অর্থ ফেরত না নিয়ে) দান করে দাও, তবে সেটা তোমাদের জন্যেই কল্যাণকর, প্রকৃত ব্যাপার যদি তোমরা জানতে!

মুহিউদ্দীন খান

ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।

সমকালীন বাংলা

তোমরা সেই দিনকে ভয় কর যে দিন তোমরা আল্লাহর দিকে প্রত্যানীত হইবে। অতঃপর প্রত্যেককে তাহার কর্মের ফল পুরাপুরি প্রদান করা হইবে, আর তাহাদের প্রতি কোনরূপ অন্যায় করা হইবে না।

Word by word

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى ٱللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সেই দিনটিকে ভয় করো (সেই দিনটির ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করো), যেদিন তোমাদের আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে এবং প্রত্যেককেই তার উপার্জনের (কৃতকর্মের) প্রতিদান পুরোপুরি প্রদান করা হবে এবং তাদের প্রতি করা হবেনা কোনো প্রকার অবিচার!

মুহিউদ্দীন খান

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান - প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান - প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয় - বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। সব কিছু জানেন।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের কারবার কর তখন উহা লিখিয়া রাখিও; তোমাদের মধ্যে কোন লেখক যেন ন্যায্যভাবে লিখিয়া দেয়; লেখক লিখিতে অস্বীকার করিবে না। যেমন তাহাকে শিক্ষা দিয়াছেন, সুতরাং সে যেন লিখে এবং ঋণগ্রহীতা যেন লেখার বিষয়বস্তু— বলিয়া দেয় এবং তাহার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে, আর উহার কিছু যেন না কমায়; কিন্তু ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ অথবা দুর্বল হয় অথবা লেখার বিষয়বস্তু বলিয়া দিতে না পারে তবে যেন তাহার অভিভাবক ন্যায্যভাবে লেখার বিষয়বস্তু বলিয়া দেয়। সাক্ষীদের মধ্যে যাহাদের উপর তোমরা রাযী তাহাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ সাক্ষী রাখিবে, যদি দুইজন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোক ; স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুল করিলে তাহাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করাইয়া দিবে। সাক্ষীগণকে যখন ডাকা হইবে তখন তাহারা যেন অস্বীকার না করে। ইহা ছোট হউক অথবা বড় হউক, মেয়াদসহ লিখিতে তোমরা কোনরূপ বিরক্ত হইও না। নিকট ইহা ন্যায্যতর ও প্রমাণের জন্য দৃঢ়তর এবং তোমাদের মধ্যে সন্দেহ উদ্রেক না হওয়ার নিকটতর; কিন্তু তোমরা পরস্পর যে ব্যবসায় নগদ আদান - প্রদান কর তাহা তোমরা না লিখিলে কোন দোষ নাই। তোমরা যখন পরস্পরের মধ্যে বেচাকেনা কর তখন সাক্ষী রাখিও, লেখক এবং সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যদি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত কর তবে ইহা তোমাদের জন্য পাপ। তোমরা কে ভয় কর এবং তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। সর্ববিষয়ে অবহিত।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَٱكْتُبُوهُ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌۢ بِٱلْعَدْلِ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ ٱللَّهُ فَلْيَكْ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা ! তোমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে পরস্পরের মধ্যে ঋণ লেনদেন (চুক্তি) করবে, তা লিখিত করবে। তোমাদের কোনো লেখক যেনো তোমাদের মাঝে ন্যায়সংগত ভাবে তা লিখে দেয়। কোনো লেখক যেনো তা লিখতে অস্বীকার না করে, যেমন তাকে (লিখতে) শিখিয়েছেন। সুতরাং সে যেনো লিখে দেয়। লেখার বিষয়বস্তু বলে দেবে ঋণের দায়িত্ব বহনকারী (ঋণগ্রহীতা)। সে যেনো তার প্রভু আল্লাহকে ভয় করে এবং স্থিরকৃত কোনো কিছুই যেনো কমবেশি (কারচুপি) না করে। তবে ঋণ গ্রহীতা যদি নির্বোধ কিংবা দুর্বল হয়ে থাকে এবং লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়ার যোগ্যতা না রাখে, তবে যেনো তার অভিভাবক ন্যায়সংগতভাবে বিষয়বস্তু বলে দেয়। আর (এই লেনদেন চুক্তিতে) তোমাদের মধ্য থেকে দু'জন পুরুষকে সাক্ষী রাখো। দুইজন পুরুষ পাওয়া না গেলে (সাক্ষী রাখো) একজন পুরুষ আর দুইজন নারীকে - যাতে (নারীদের) একজন ভুলে গেলে আরেকজন স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। সাক্ষী রাখবে এমন লোকদের, যাদের সাক্ষ্য তোমাদের (উভয় পক্ষের) নিকট গ্রহণযোগ্য। সাক্ষীদের যখন (সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে) ডাকা হবে, তখন তারা যেনো (সাক্ষ্য দিতে) অস্বীকার না করে। এই ঋণ ছোট বা বড় (পরিমাণের) হোক, তোমরা মেয়াদসহ তার (চুক্তিপত্র) লিখে রাখতে ক্লান্ত - বিরক্ত হয়োনা। আল্লাহর কাছে (ধার এবং বাকি ক্রয়বিক্রয় ও ব্যবসা - বাণিজ্যের) এটাই সবচে ন্যায়সংগত পদ্ধতি, প্রমাণের দিক থেকেও এ পদ্ধতি সবচেয়ে নিখাদ, আর (পরস্পরের ব্যাপারে) সন্দেহ - সংশয় উদ্রেক না হবার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে সহায়ক। তবে তোমরা পরস্পরের মধ্যে নগদ যে বেচাকেনা বা ব্যবসা করো, তা লিখে না রাখলে তোমাদের পাপ হবেনা। তোমাদের কেনা বেচার (বাণিজ্যিক চুক্তির) ক্ষেত্রে সাক্ষী রাখো, আর চুক্তি (বা দলিল) লেখক এবং সাক্ষীকে যেনো কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ভোগ করতে না হয়। যদি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করো তবে এটা হবে তোমাদের জন্যে সীমালংঘন - পাপ। আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রাখো, তিনি তোমাদের (কর্মপদ্ধতি) শিক্ষা দিচ্ছেন। আর সকল বিষয়ে জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।

সমকালীন বাংলা

যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে হস্তান্তরকৃত বন্ধক রাখিবে। তোমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করিলে, যাহাকে বিশ্বাস করা হয় সে যেন আমানত প্রত্যর্পণ করে এবং তাহার প্রতিপালক ভয় করে। তোমরা সাক্ষ্য গোপন করিও না, যে কেহ উহা গোপন করে অবশ্যই তাহার অন্তর পাপী। তোমরা যাহা কর তাহা সবিশেষ অবহিত।

Word by word

وَإِن كُنتُمْ عَلَىٰ سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا۟ كَاتِبًا فَرِهَٰنٌ مَّقْبُوضَةٌ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ ٱلَّذِى ٱؤْتُمِنَ أَمَٰنَتَهُۥ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ وَلَا تَكْتُمُوا۟ ٱلشَّهَٰدَةَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমরা যদি সফর (journey) অবস্থায় থাকো এবং (চুক্তি বা দলিল) লেখক (scribe) না পাও, সেক্ষেত্রে বন্ধক (pledge, mortgage) হস্তান্তর করে কার্য সম্পাদন করো। তোমরা যদি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো, তবে যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা (যার কাছে আমানত রাখা) হয়, সে যেনো (বিশ্বস্ততার সাথে) আমানত ফেরত দেয় এবং যেনো তার প্রভু আল্লাহকে ভয় করে। (হে সাক্ষীরা!) তোমরা সাক্ষ্য গোপন করোনা। যে সাক্ষ্য গোপন করে তার অন্তর অবশ্যি পাপী। তোমরা যা - ই করোনা কেন, সে সম্পর্কে অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

সমকালীন বাংলা

আসমান ও যমীনে যাহা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই তোমাদের মনে যাহা আছে, তাহা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ, উহার হিসাব তোমাদের নিকট হইতে গ্রহণ করিবেন। অতঃপর যাহাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করিবেন এবং যাহাকে খুশি শাস্তি দিবেন। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

Word by word

لِّلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَإِن تُبْدُوا۟ مَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ ٱللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ

আবদুস শহীদ নাসিম

একমাত্র আল্লাহ্ই মালিক যা কিছু রয়েছে মহাকাশে আর যা কিছু রয়েছে এই পৃথিবীতে। তোমাদের মনে যা কিছু আছে তা তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন রাখো, অবশ্যি তোমাদের থেকে তার হিসাব গ্রহণ করবেন। তারপর যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করে দেবেন, যাকে ইচ্ছে আযাবে নিক্ষেপ করবেন। আর সকল কাজে সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

সমকালীন বাংলা

রাসূল, তাহার প্রতি তাহার প্রতিপালকের পক্ষ হইতে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে ঈমান আনিয়াছে এবং মু’মিনগণও। তাহাদের সকলে তাঁহার ফিরিশতাগণে, তাঁহার কিতাবসমূহে এবং তাঁহার রাসূলগণে ঈমান আনিয়াছে। তাহারা বলে, ‘আমরা তাঁহার রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না’, আর তাহারা বলে, ‘আমরা শুনিয়াছি এবং পালন করিয়াছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার ক্ষমা চাই আর প্রত্যাবর্তন তোমারই নিকট।’

Word by word

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِۦ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এই রসূল (মুহাম্মদ) ঈমান এনেছে তাতে, যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি তার প্রভুর পক্ষ থেকে এবং মুমিনরাও (ঈমান এনেছে)। তাদের প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রসূলদের প্রতি। (তারা বলে:) ‘আমরা তাঁর রসূলদের মধ্যে কোনো প্রকার তারতম্য (distinction) করিনা।’ তারা আরো বলে: ‘আমরা নির্দেশ শুনি এবং আনুগত্য করি। হে প্রভু! আমরা তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আর তোমার কাছেই ফিরে যেতে হবে (সবাইকে)।’

মুহিউদ্দীন খান

কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।

সমকালীন বাংলা

কাহারও উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যাহা তাহার সাধ্যাতীত। সে ভাল যাহা উপার্জন করে তাহার প্রতিফল তাহারই এবং সে মন্দ যাহা উপার্জন করে তাহার প্রতিফল তাহারই। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করিও না। হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করিয়াছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করিও না। হে আমাদের প্রতিপালক ! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করিও না যাহা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।’

Word by word

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًا كَمَا حَم

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপাননা। তার ভালো উপার্জনের (কৃতকর্মের) প্রতিফল সে - ই পাবে, আর তার মন্দ উপার্জনের (কৃতকর্মের) প্রতিফলও তাকেই ভোগ করতে হবে। (তোমরা এভাবে দোয়া করো:) ‘আমাদের প্রভু ! আমাদের শাস্তি দিওনা যদি আমরা ভুল করি, কিংবা করে ফেলি যদি অন্যায়! আমাদের প্রভু! আমাদের প্রতি এমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করোনা যেমনটি অর্পণ করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। আমাদের প্রভু! আমাদের উপর এমন বোঝা অর্পণ করোনা যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের গুনাহ - খাতা মুছে দাও, আমাদের ক্ষমা করে দাও, আমাদের প্রতি রহম করো, তুমিই তো আমাদের মাওলা (অভিভাবক, সাহায্যকারী), তাই তুমি আমাদের বিজয় দান করো অবিশ্বাসীদের উপর।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme