You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
নূহ
Chapter 71, 28 verses
মুহিউদ্দীন খান
সমকালীন বাংলা
আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান
আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি একথা বলেঃ তুমি তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর, তাদের প্রতি মর্মন্তদ শাস্তি আসার আগে।
সমকালীন বাংলা
র নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু;নিশ্চয়ই আমরা নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম: “তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর, তাদের কাছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসার আগে।”
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমার কওমকে সতর্ক করো তাদের প্রতি বেদনাদায়ক আযাব আসার আগেই।
মুহিউদ্দীন খান
সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে স্পষ্ট সতর্ককারী।
সমকালীন বাংলা
সে বলল, “হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী,
আবদুস শহীদ নাসিম
সে (তাদের) বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমি তোমাদের জন্যে একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী!
মুহিউদ্দীন খান
এ বিষয়ে যে, তোমরা তা’আলার এবাদত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
সমকালীন বাংলা
যে, আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁকে ভয় করো (তাঁর প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হও) আর আমার আনুগত্য করো।
মুহিউদ্দীন খান
তা’আলা তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। নিশ্চয় তা’আলার নির্দিষ্টকাল যখন হবে, তখন অবকাশ দেয়া হবে না, যদি তোমরা তা জানতে!
সমকালীন বাংলা
তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্ধারিত সময় যখন আসে, তখন তা বিলম্বিত করা হয় না, যদি তোমরা জানতে।”
আবদুস শহীদ নাসিম
তাহলে তিনি ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের পাপসমূহ এবং তোমাদের অবকাশ দেবেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। জেনে রাখো, আল্লাহর নির্ধারিত সময় এসে পড়লে তা আর দেরি করা হয়না, যদি তোমরা জানতে!’’
মুহিউদ্দীন খান
সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি দাওয়াত দিয়েছি;
সমকালীন বাংলা
সে বলল, “হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমি আমার সম্প্রদায়কে রাত ও দিনে আহ্বান করেছি,
আবদুস শহীদ নাসিম
নূহ তার প্রভুর কাছে বলেছিল: ‘‘আমার প্রভু! আমি আমার কওমকে দাওয়াত দিয়েছি রাতদিন।
মুহিউদ্দীন খান
কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই বৃদ্ধি করেছে।
সমকালীন বাংলা
কিন্তু আমার আহ্বান তাদের পলায়নই বৃদ্ধি করেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমার দাওয়াত তাদের কেবল পলায়নই বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুহিউদ্দীন খান
আমি যতবারই তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, ততবারই তারা কানে অঙ্গুলি দিয়েছে, মুখমন্ডল বস্ত্রাবৃত করেছে, জেদ করেছে এবং খুব ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে।
সমকালীন বাংলা
এবং যখনই আমি আহ্বান করেছি যাতে আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তারা তাদের আঙুলগুলো তাদের কানে দিয়েছে, নিজেদের বস্ত্র দিয়ে নিজেদের ঢেকেছে, অবিচল থেকেছে এবং চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমি যখনই তাদের দাওয়াত দিয়েছি যেনো তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও, তারা কানে আংগুল দিয়েছে, নিজেদের ঢেকে নিয়েছে কাপড় দিয়ে, তারা অনবরত জিদ ধরেছে এবং প্রকাশ করেছে অতিশয় দাম্ভিকতা।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি,
সমকালীন বাংলা
অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে আহ্বান করেছি,
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর আমি তাদের প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি,
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর আমি ঘোষণা সহকারে প্রচার করেছি এবং গোপনে চুপিসারে বলেছি।
সমকালীন বাংলা
পরে আমি তাদেরকে ঘোষণা দিয়ে বলেছি এবং গোপনেও বলেছি,
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর তাদের এলান (ঘোষণা) করে ডেকেছি এবং গোপনে গোপনে উপদেশ দিয়েছি।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর আমি বলেছি, ‘তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল,
আবদুস শহীদ নাসিম
আমি তাদের বলেছি: তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি মহান ক্ষমাশীল।
মুহিউদ্দীন খান
তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন,
সমকালীন বাংলা
তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে বর্ষণ করবেন প্রচুর বৃষ্টি।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।
সমকালীন বাংলা
এবং তোমাদেরকে সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে সমৃদ্ধ করবেন, এবং তোমাদের জন্য উদ্যানসমূহ ও নদীসমূহ সৃষ্টি করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তোমাদের মদদ করবেন মাল - সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দিয়ে এবং তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করে দেবেন বাগ বাগিচা ও নদনদী।’’
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের কি হল যে, তোমরা তা’আলার শ্রেষ্টত্ব আশা করছ না।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর মহিমা আশা করো না?
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের হলোটা কি, তোমরা আল্লাহর জন্যে কোনো মর্যাদাই স্বীকার করছোনা?
মুহিউদ্দীন খান
অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন।
সমকালীন বাংলা
অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্টি করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
অথচ তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে।
মুহিউদ্দীন খান
তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন।
সমকালীন বাংলা
তোমরা কি দেখো না, কীভাবে সাত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন?
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি ভেবে দেখোনা, কিভাবে স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন সপ্তাকাশ?
মুহিউদ্দীন খান
এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।
সমকালীন বাংলা
এবং তার মধ্যে চাঁদকে আলো এবং সূর্যকে প্রদীপ বানিয়েছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাতে চাঁদকে রেখে দিয়েছেন আলো হিসেবে আর সূর্যকে রেখে দিয়েছেন আলোদানকারী প্রদীপ হিসেবে।
মুহিউদ্দীন খান
তা’আলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন।
সমকালীন বাংলা
এবং তোমাদেরকে পৃথিবী থেকে উদ্ভিদের মতো উদ্ভূত করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছেন মাটি থেকে।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর তাতে ফিরিয়ে নিবেন এবং আবার পুনরুত্থিত করবেন।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেবেন এবং পুনরায় বের করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর তিনি তোমাদের তাতেই (মাটিতেই) ফিরিয়ে নেবেন এবং সেখান থেকে আবার বের করে আনবেন।
মুহিউদ্দীন খান
তা’আলা তোমাদের জন্যে ভূমিকে করেছেন বিছানা।
সমকালীন বাংলা
এবং তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহ্ই তোমাদের জন্যে বিছিয়ে দিয়েছেন পৃথিবীকে।
মুহিউদ্দীন খান
যাতে তোমরা চলাফেরা কর প্রশস্ত পথে।
সমকালীন বাংলা
যাতে তোমরা তাতে প্রশস্ত পথসমূহে চলতে পারো।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাতে করে তোমরা তাতে চলাফেরা করতে পারো প্রশস্ত পথে।
মুহিউদ্দীন খান
নূহ বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় আমাকে অমান্য করেছে আর অনুসরণ করছে এমন লোককে, যার ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি কেবল তার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছে।
সমকালীন বাংলা
নূহ বলল, “হে আমার প্রতিপালক! তারা আমাকে অমান্য করেছে এবং এমন লোকদের অনুসরণ করেছে, যাদের সম্পদ ও সন্তানসন্ততি তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
নূহ আরো বলেছিল: ‘আমার প্রভু! তারা (আমার কওম) আমাকে অমান্য করেছে আর অনুসরণ করেছে এমন লোকদের যাদের মাল সম্পদ এবং আওলাদ ফরজন্দ তাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বাড়ায়নি।’
মুহিউদ্দীন খান
আর তারা ভয়ানক চক্রান্ত করছে।
সমকালীন বাংলা
এবং তারা এক মহা ষড়যন্ত্র করেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা এঁটেছিল এক জঘন্য ষড়যন্ত্র।
মুহিউদ্দীন খান
তারা বলছেঃ তোমরা তোমাদের উপাস্যদেরকে ত্যাগ করো না এবং ত্যাগ করো না ওয়াদ, সূয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নসরকে।
সমকালীন বাংলা
এবং তারা বলেছে, ‘তোমরা কখনোই তোমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করো না; এবং কখনোই ওয়াদ্দ, সুওয়া‘, ইয়াগূস, ইয়াঊক ও নাসরকে ত্যাগ করো না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলেছিল: তোমরা (নূহের কথায়) কখনো তোমাদের ইলাহ্দের (দেব দেবীদের) ত্যাগ করোনা। তোমরা ত্যাগ করোনা ওয়াদ্দা, সুয়াআ, ইয়াগুছ এবং নস্রকে।
মুহিউদ্দীন খান
অথচ তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। অতএব আপনি জালেমদের পথভ্রষ্টতাই বাড়িয়ে দিন।
সমকালীন বাংলা
এবং তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। আর আপনি জালিমদের জন্য ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(নূহ বলেছিল:) ‘প্রভু! তারা অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। তুমি এই যালিমদেরকে গোমরাহি ছাড়া আর কিছুই বাড়িয়ে দিয়োনা।’
মুহিউদ্দীন খান
তাদের গোনাহসমূহের দরুন তাদেরকে নিমজ্জিত করা হয়েছে, অতঃপর দাখিল করা হয়েছে জাহান্নামে। অতঃপর তারা তা’আলা ব্যতীত কাউকে সাহায্যকারী পায়নি।
সমকালীন বাংলা
তাদের পাপের কারণে তারা নিমজ্জিত হয়েছিল; অতঃপর তাদেরকে আগুনে প্রবেশ করানো হয়েছিল। তারপর তারা ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পায়নি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের অপরাধের জন্যে তাদের ডুবিয়ে দেয়া হলো পানিতে, অতপর তাদের দাখিল করা হবে জাহান্নামে। তারা আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে সাহায্যকারী পাবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
নূহ আরও বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোন গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না।
সমকালীন বাংলা
এবং নূহ বলল, “হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীর উপর অস্বীকারকারীদের মধ্য থেকে কোনো বসবাসকারীকে অবশিষ্ট রাখবেন না।
যদি আপনি তাদেরকে রেহাই দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল পাপাচারী, ।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আপনি যদি তাদেরকে অবশিষ্ট রাখেন, তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তারা কেবল পাপাচারী অস্বীকারকারীরই জন্ম দেবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যদি তাদের রক্ষা করো, তারা তোমার বান্দাদের গোমরাহ্ করতে থাকবে এবং দুষ্কৃতকারী কাফিরই জন্ম দিতে থাকবে।
মুহিউদ্দীন খান
হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা - মাতাকে, যারা হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে - তাদেরকে এবং পুরুষ ও নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।
সমকালীন বাংলা
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার পিতামাতাকে, এবং যে আমার ঘরে অবস্থায় প্রবেশ করে তাকে, এবং পুরুষ ও নারীদেরও। আর জালিমদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না।”
আবদুস শহীদ নাসিম
আমার প্রভু! তুমি ক্ষমা করে দাও আমাকে, আমার বাবা - মাকে আর হয়ে যারা আমার ঘরে প্রবেশ করবে তাদেরকে এবং সব পুরুষ ও নারীকে। যালিমদের তুমি ধ্বংস ছাড়া আর কিছু বাড়িয়ে দিয়োনা।’’