তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি?
সমকালীন বাংলা
যিনি স্তরে স্তরে সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন। তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। অতঃপর তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও; তুমি কি কোনো ত্রুটি দেখতে পাও?
জহুরুল হক
যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন সুবিন্যস্তভাবে। তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তারপর তুমি দৃষ্টি ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে নাও, তুমি কি কোনো ফাটল দেখতে পাচ্ছ?
আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।
সমকালীন বাংলা
আর অবশ্যই আমরা নিকটতম আকাশকে প্রদীপসমূহ দিয়ে শোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের দিকে নিক্ষেপের জন্য করেছি। আর তাদের জন্য আমরা সাঈরের শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
জহুরুল হক
আর আমরা নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করে রেখেছি প্রদীপমালা দিয়ে, আর আমরা তাদের বানিয়েছি শয়তানদের জন্য ভাঁওতার বিষয়; আর আমরা তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।
ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোন সম্প্রদায় নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে। তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আগমন করেনি?
সমকালীন বাংলা
তা যেন ক্রোধে ফেটে পড়বে। যখনই কোনো দল তাতে নিক্ষিপ্ত হবে, তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, “তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?”
জহুরুল হক
যেন ক্রোধে ফেটে পড়ছে। যখনই কোনো একদলকে ওতে নিক্ষেপ করা হবে তার রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞাসা করবে - - ''তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেন নি?”
তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ তা’আলা কোন কিছু নাজিল করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছ।
সমকালীন বাংলা
তারা বলবে, “হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিলেন; কিন্তু আমরা অস্বীকার করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘ কিছুই অবতীর্ণ করেননি। তোমরা তো শুধু বড় বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছ।’”
জহুরুল হক
তারা বলবে - - ''হাঁ, আমাদের কাছে সতর্ককারী ইতিপূর্বে এসে গেছেন, আমরা কিন্তু অস্বীকার করেছিলাম ও বলেছিলাম - - ' কোনো - কিছু অবতারণ করেন নি, তোমরা রয়েছ বিরাট পথভ্রান্তিতে বৈ তো নও’।’’
তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।
সমকালীন বাংলা
তিনিই তোমাদের জন্য পৃথিবীকে অনুগত করে দিয়েছেন। অতএব তোমরা এর পথে-প্রান্তরে চলো এবং তাঁর রিযিক থেকে আহার করো। আর তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।
জহুরুল হক
তিনিই সেইজন যিনি পৃথিবীটাকে তোমাদের জন্য করে দিয়েছেন শান্ত, ফলে তোমরা এর দিগদিগন্তে বিচরণ করছ এবং তার জীবিকা থেকে আহার করছ। আর তাঁরই কাছে পুনরুত্থান।
না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।
সমকালীন বাংলা
নাকি তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছো সেই সত্তা থেকে, যিনি আকাশে আছেন, যে তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড় পাঠাবেন? তখন তোমরা জানতে পারবে আমার সতর্কবার্তা কেমন।
জহুরুল হক
অথবা যিনি উর্ধ্বলোকে রয়েছেন তাঁর কাছ থেকে কি তোমরা নিরাপত্তা গ্রহণ করেছ পাছে তিনি তোমাদের উপরে পাঠিয়ে দেন এক কংকরময় ঘূর্ণিঝড়? ফলে তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী!
তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের মাথার উপর উড়ন্ত পক্ষীকুলের প্রতি পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী? রহমান - ই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব - বিষয় দেখেন।
সমকালীন বাংলা
তারা কি দেখে না তাদের উপরে পাখিদের, ডানা বিস্তার করে এবং গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া কেউই তাদেরকে ধরে রাখেন না। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু প্রত্যক্ষকারী।
জহুরুল হক
তারা কি দেখে নি তাদের উপরে পাখিদের ছড়ানো ও গুটানো? তাদের পরম করুণাময় ছাড়া কেউ ধরে রাখেন না। নিঃসন্দেহ তিনিই সর্ববিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।
রহমান তা’আলা ব্যতীত তোমাদের কোন সৈন্য আছে কি, যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? কাফেররা বিভ্রান্তিতেই পতিত আছে।
সমকালীন বাংলা
অথবা কে এমন, যে তোমাদের জন্য বাহিনী হবে, পরম করুণাময়কে বাদ দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবে? অস্বীকারকারীরা তো শুধু প্রতারণার মধ্যেই রয়েছে।
জহুরুল হক
আচ্ছা, পরম করুণাময়কে বাদ দিয়ে কে সেইটি - - যে হবে তোমাদের জন্য সেনাবাহিনী যে তোমাদের সাহায্য করবে? অবিশ্বাসীরা তো বিভ্রান্তিতে থাকা ছাড়া আর কোথাও নয়।
বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
সমকালীন বাংলা
বলো, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ, দৃষ্টি ও অন্তর দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
জহুরুল হক
বলো - - ''তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের বিকশিত করেছেন, আর তোমাদের জন্য বানিয়ে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা যা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর সে তো যৎসামান্য!’’
বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ - যদি তা’আলা আমাকে ও আমার সংগীদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কাফেরদেরকে কে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে?
সমকালীন বাংলা
বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যদি আমাকে এবং আমার সঙ্গে যারা আছে তাদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কে অস্বীকারকারীদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে?
জহুরুল হক
তুমি বলো - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ, - - যদি আমাকে ও যারা আমার সঙ্গে রয়েছে তাদের ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি করুণা করেন, কিন্তু কে অবিশ্বাসীদের রক্ষা করবে মর্মন্তুদ শাস্তি থেকে?’’
বলুন, তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথ - ভ্রষ্টতায় আছে।
সমকালীন বাংলা
বলো, তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপর নির্ভর করেছি। অতএব শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।
জহুরুল হক
বলো - - ''তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাঁতে ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপরে আমরা আস্থা রেখেছি, সুতরাং অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে সেইজন যে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।’’