ভাবো নক্ষত্রপুঞ্জবিশিষ্ট আকাশের কথা,
কক্ষপথ বিশিষ্ট আসমানের কসম,
শপথ বুরূজ (বিশাল বিশাল গ্রহ - নক্ষত্র) ওয়ালা আকাশের।
Chapter 85, 22 verses
ভাবো নক্ষত্রপুঞ্জবিশিষ্ট আকাশের কথা,
কক্ষপথ বিশিষ্ট আসমানের কসম,
শপথ বুরূজ (বিশাল বিশাল গ্রহ - নক্ষত্র) ওয়ালা আকাশের।
আর সেই অঙ্গীকার করা দিনের কথা,
আর ওয়াদাকৃত দিনের কসম,
শপথ ওয়াদাকৃত দিনটির।
আর সাক্ষ্যদাতার ও যাদের জন্য সাক্ষ্য দেওয়া হবে তাদের কথা।
আর কসম সাক্ষ্যদাতার এবং যার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়া হবে তার,
শপথ দ্রষ্টা এবং দৃশ্যের।
খন্দকগুলোর মালিকদের নিপাত করা হয়েছে, -
ধ্বংস হয়েছে গর্তের অধিপতিরা,
ধ্বংস হয়েছে সেই গর্তওয়ালা লোকেরা, (যারা গর্ত খনন করেছিল এবং সে গর্তে)
জ্বালানি দেওয়া অগ্নিকুন্ড;
(যাতে ছিল) ইন্ধনপূর্ণ আগুন।
জ্বালানি পূর্ণ করে জ্বালিয়ে দিয়েছিল আগুন।
দেখো! তারা এর কিনারা বসে থাকত,
যখন তারা তার কিনারায় উপবিষ্ট ছিল।
তখন গর্তের কিনারেই বসেছিল তারা।
আর তারা মুমিনদের সঙ্গে যা করত তার জন্য তারাই সাক্ষী ছিল।
আর তারা মুমিনদের সাথে যা করছিল তার প্রত্যক্ষদর্শী।
এবং তারা মুমিনদের সাথে যা করছিল তা অবলোকন করছিল।
আর তারা এদের প্রতি বিরূপ ছিল না এই ব্যতীত যে এরা বিশ্বাস করত মহাশক্তিশালী পরমপ্রশংসিত তে -
আর তারা তাদেরকে নির্যাতন করেছিল শুধুমাত্র এ কারণে যে, তারা মহাপরাক্রমশালী প্রশংসিত আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।
তারা তাদের (মুমিনদের) থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিল শুধুমাত্র এই অপরাধে যে, তারা অসীম ক্ষমতাবান সপ্রশংসিত আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল,
যাঁর অধিকারে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব রয়েছে। আর সব - কিছুর উপরে সাক্ষী রয়েছেন।
আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব যার। আর প্রতিটি বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী।
যিনি মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর কর্তৃত্বের মালিক। আর সব কিছুর সাক্ষী।
নিঃসন্দেহে যারা পুরুষ ওমুমিন নারীদের নির্যাতন করে এবং তারপরে ফেরে না, তাদের জন্য তবে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি, আর তাদের জন্য আছে দহন যন্ত্রণা।
নিশ্চয় যারা পুরুষ ও নারীদেরকে আযাব দেয়, তারপর তাওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আযাব।
যারা পুরুষ ও নারীদের উপর যুলুম নির্যাতন চালিয়েছে, তারপর অনুতপ্ত হয়ে সেকাজ থেকে ফিরে আসেনি (আল্লাহর দিকে), তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব, আর জ্বালিয়ে - পুড়িয়ে যন্ত্রণা দেয়ার শাস্তি।
পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে বাগানসমূহ যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি। এটিইতো বিরাট সাফল্য।
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ। এটাই বিরাট সফলতা।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত, সেসব বাগিচার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। এটাই (মানব জীবনের) মহাসাফল্য।
নিঃসন্দেহে তোমার প্রভুর পাকড়ানো বড়ই কঠোর।
নিশ্চয় তোমার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভুর গ্রেফতারি বড়ই শক্ত এবং কঠিন।
নিঃসন্দেহে তিনি, তিনিই সৃষ্টি শুরু করেন এবং পুনঃসৃষ্টি করেন;
নিশ্চয় তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন।
নিশ্চয়ই তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেন এবং পুনরায় (সৃষ্টি) করবেন।
আর তিনিই পরিত্রাণকারী, প্রেমময়,
আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, প্রেমময়।
এবং তিনি পরম ক্ষমাশীল এবং প্রেম - ভালোবাসা ও মমতার সাগর,
সম্মানিত আরশের অধিকারী,
আরশের অধিপতি, মহান।
মহিমান্বিত আরশের অধিপতি।
তিনি যা চাহেন তার একক কর্মকর্তা।
তিনি তা-ই করেন যা চান ।
তিনি (যখন) যা চান তাই করেন।
তোমার কাছে কি সৈন্যবাহিনীর সংবাদ পৌঁছেছে -
তোমার কাছে কি সৈন্যবাহিনীর খবর পৌঁছেছে?
তোমার কাছে কি খবর পৌঁছেছে সৈন্যবাহিনীর,
ফিরআউনের ও ছামূদের?
ফির‘আউন ও সামূদের।
ফেরাউন এবং সামুদের?
বস্তুত যারা অবিশ্বাস করেছে তারা মিথ্যারোপ করায় রত;
বরং কাফিররা মিথ্যারোপে লিপ্ত।
কিন্তু যারা কুফরির পথ ধরেছে, তারা অস্বীকার করেই চলেছে,
কিন্তু তাদের পেছন থেকে ঘেরাও করে রয়েছেন।
আর তাদের অলক্ষ্যে তাদের পরিবেষ্টনকারী।
আর পেছন থেকে (তাদের অজ্ঞাতেই) ঘেরাও করে রেখেছেন তাদের।
বস্তুত এ হচ্ছে সম্মানিত কুরআন -
বরং তা সম্মানিত কুরআন।
(তোমাদের অস্বীকার করায় কিছুই যায় আসেনা) কারণ, এ এক মহিমা মন্ডিত কুরআন,
সুরক্ষিত ফলকে।
সুরক্ষিত ফলকে (লিপিবদ্ধ)।
লওহে মাহফুযে (সুরক্ষিত ফলকে সংরক্ষিত)।