ভাবো তারকার কথা, যখন তা অস্ত যায়!
কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।
শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
وَٱلنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
Chapter 53, 62 verses
ভাবো তারকার কথা, যখন তা অস্ত যায়!
কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।
শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
وَٱلنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
তোমাদের সঙ্গী দোষ - ত্রুটি করেন না, আর তিনি বিপথেও যান না,
তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হয়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।
তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ
আর তিনি ইচ্ছামত কোনো কথা বলেন না।
আর সে মনগড়া কথা বলে না।
এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।
وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلْهَوَىٰٓ
এইখানা প্রত্যাদিষ্ট হওয়া প্রত্যাদেশবাণী বৈ তো নয়, - -
তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়।
ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়,
إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْىٌ يُوحَىٰ
তাঁকে শিখিয়েছেন বিরাট শক্তিমান - -
তাকে শিক্ষা দিয়েছে প্রবল শক্তিধর,
তাহাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী,
عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ ٱلْقُوَىٰ
বলবীর্যের অধিকারী। কাজেই তিনি পরিপূর্ণতায় পৌঁছলেন।
প্রজ্ঞার অধিকারী*। অতঃপর সে স্থির হয়েছিল, * জিবরীল।
প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হইয়াছিল,
ذُو مِرَّةٍ فَٱسْتَوَىٰ
আর তিনি রয়েছেন ঊর্ধ্ব দিগন্তে।
তখন সে ঊর্ধ্ব দিগন্তে।
তখন সে ঊর্ধ্বদিগন্তে,
وَهُوَ بِٱلْأُفُقِ ٱلْأَعْلَىٰ
তারপর তিনি সন্নিকটে এলেন, অতঃপর তিনি অবনত করলেন,
তারপর সে নিকটবর্তী হল, অতঃপর আরো কাছে এল।
অতঃপর সে তাহার নিকটবর্তী হইল, অতি নিকটবর্তী,
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
তখন তিনি দুই ধনুকের ব্যবধানে রইলেন, অথবা আরও কাছে।
তখন সে নৈকট্য ছিল দু’ ধনুকের পরিমাণ, অথবা তারও কম।
ফলে তাহাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রহিল অথবা উহারও কম।
فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ
তখন তিনি তাঁর বান্দার কাছে প্রত্যাদেশ করলেন যা তিনি প্রত্যাদেশ করেন।
অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন।
তখন তাঁহার বান্দার প্রতি যাহা ওহী করিবার তাহা ওহী করিলেন।
فَأَوْحَىٰٓ إِلَىٰ عَبْدِهِۦ مَآ أَوْحَىٰ
হৃদয় অস্বীকার করে নি যা তিনি দেখেছিলেন তাতে।
সে যা দেখেছে, অন্তকরণ সে সম্পর্কে মিথ্যা বলেনি।
যাহা সে দেখিয়াছে, তাহার অন্তঃকরণ তাহা অস্বীকার করে নাই;
مَا كَذَبَ ٱلْفُؤَادُ مَا رَأَىٰٓ
তোমরা কি তবে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে যা তিনি দেখেছেন সে - সন্বন্ধে?
সে যা দেখেছে, সে সম্পর্কে তোমরা কি তার সাথে বিতর্ক করবে?
সে যাহা দেখিয়াছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাহার সঙ্গে বিতর্ক করিবে?
أَفَتُمَٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ
আর তিনি নিশ্চয়ই তাঁকে দেখেছিলেন অন্য এক অবতরণে - -
আর সে তো তাকে* আরেকবার** দেখেছিল। * জিবরীলকে।
নিশ্চয়ই সে তাহাকে আরেকবার দেখিয়াছিল
وَلَقَدْ رَءَاهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ
দূরদিগন্তের সিদরাহ্ - গাছের কাছে,
সিদরাতুল মুনতাহার* নিকট। * সিদরাতুল মুনতাহা হল সপ্তম আকাশে আরশের ডান দিকে একটি কুল জাতীয় বৃক্ষ, সকল সৃষ্টির জ্ঞানের সীমার শেষ প্রান্ত। তারপর কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন।
প্রান্তবর্তী বদরী বৃক্ষের নিকট,
عِندَ سِدْرَةِ ٱلْمُنتَهَىٰ
তার কাছে আছে চির - উপভোগ্য উদ্যান।
যার কাছে জান্নাতুল মা’ওয়া* অবস্থিত। * ফেরেশতা, শহীদদের রূহ ও মুত্তাকীদের অবস্থানস্থল।
যাহার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلْمَأْوَىٰٓ
দেখো! যা আচ্ছাদন করে তা ঢেকে দিয়েছিল সিদরাহ্ - গাছকে,
যখন কুল গাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল।
যখন বৃক্ষটি, যদ্দ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্দ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,
إِذْ يَغْشَى ٱلسِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ
দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয় নি এবং তা সীমা ছাড়িয়েও যায় নি।
তার দৃষ্টি এদিক-সেদিক যায়নি এবং সীমাও অতিক্রম করেনি।
তাহার দৃষ্টিবিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।
مَا زَاغَ ٱلْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ
তিনি নিশ্চয়ই তাঁর প্রভুর শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলোর মধ্যে চেয়ে দেখেছিলেন।
নিশ্চয় সে তার রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ থেকে দেখেছে।
সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখিয়াছিল;
لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلْكُبْرَىٰٓ
তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ লাত ও 'উযযা,
তোমরা লাত ও ‘উযযা সম্পর্কে আমাকে বল’?
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ ‘লাত’ ও ‘উয্যা’ সম্বন্ধে
أَفَرَءَيْتُمُ ٱللَّٰتَ وَٱلْعُزَّىٰ
এবং মানাত, - - তৃতীয় আরেকটি?
আর মানাত সম্পর্কে, যা তৃতীয় আরেকটি?
এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে?
وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلْأُخْرَىٰٓ
তোমাদের জন্য পুত্রসন্তান আর তাঁর জন্য কন্যা!
তোমাদের জন্য কি পুত্র আর আল্লাহর জন্য কন্যা?
তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং র জন্য কন্যা সন্তান ?
أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلْأُنثَىٰ
এ তো বড়ই অসংগত বন্টন!
এটাতো তাহলে এক অসঙ্গত বণ্টন!
এই প্রকার বণ্টন তো অসংগত।
تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَىٰٓ
তারা নামাবলী বৈ তো নয়, যা তোমরা নামকরণ করেছ - - তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা, যাদের জন্য কোনো সনদ পাঠান নি। তারা তো শুধু অনুমানের এবং যা তাদের অন্তর কামনা করে তারই অনুসরণ করে। অথচ তাদের প্রভুর কাছ থেকে তাদের কাছে পথনির্দেশ অবশ্যই এসে গেছে।
এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে কোন দলীল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।
এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।
إِنْ هِىَ إِلَّآ أَسْمَآءٌ سَمَّيْتُمُوهَآ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَٰنٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهْوَى ٱلْأَنفُسُ وَلَقَدْ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلْ
অথবা মানুষের জন্য কি তাই থাকবে যা সে কামনা করে?
মানুষের জন্য তা কি হয়, যা সে চায়?
মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায়?
أَمْ لِلْإِنسَٰنِ مَا تَمَنَّىٰ
কিন্ত শেষটা তো র, আর প্রথমটাও।
বস্তুতঃ পরকাল ও ইহকাল তো আল্লাহরই।
বস্তুত ইহকাল ও পরকাল রই।
فَلِلَّهِ ٱلْءَاخِرَةُ وَٱلْأُولَىٰ
আর মহাকাশমন্ডলে কত যে ফিরিশ্তা রয়েছে যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ না অনুমতি দেন তার জন্য যাকে তিনি ইচ্ছা করেন ও তিনি সন্তষ্ট হয়েছেন।
আর আসমানসমূহে অনেক ফেরেশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না। তবে যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট, তার ব্যাপারে অনুমতি দেয়ার পর।
আকাশে কত ফিরিশ্তা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে র অনুমতির পর ; যাহার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغْنِى شَفَٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعْدِ أَن يَأْذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرْضَىٰٓ
নিঃসন্দেহ যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারা ফিরিশ্তাদের নাম দেয় মেয়েদের নামে।
নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।
যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারাই নারীবাচক নাম দিয়া থাকে ফিরিশ্তাদেরকে;
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ لَيُسَمُّونَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ تَسْمِيَةَ ٱلْأُنثَىٰ
আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা তো অনুমানেরই অনুসরণ করছে, আর নিঃসন্দেহ সত্যের বিরুদ্ধে অনুমানে কোনো লাভ হয় না।
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে। আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনই কাজে আসে না।
অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।
وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنْ عِلْمٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًٔا
সেজন্য তাকে উপেক্ষা করো যে আমাদের উপদেশ থেকে ফিরে যায় আর দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছু চায় না।
অতএব তুমি তাকে উপেক্ষা করে চল, যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয় এবং কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে।
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপেক্ষা করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।
فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا
এইটিই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই ভাল জানেন তাকে যে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে, আর তিনিই ভাল জানেন যে সৎপথপ্রাপ্ত।
এটাই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা। নিশ্চয় তোমার রবই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে।
উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।
ذَٰلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱهْتَدَىٰ
আর মহাকাশমন্ডলে যা - কিছু আছে এবং যা - কিছু আছে পৃথিবীতে তা রই, যেন যারা মন্দ কাজ করেছে তাদের তিনি প্রতিফল দিতে পারেন যা তারা করেছে সেজন্য, আর যারা সৎকাজ করেছে তাদের তিনি ভালভাবে প্রতিদান দিতে পারেন।
আর আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, তা আল্লাহরই। যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল দিতে পারেন যারা মন্দ কাজ করে এবং তাদেরকে তিনি উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে ।
আকাশমণ্ডলীতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা রই। যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔوا۟ بِمَا عَمِلُوا۟ وَيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ بِٱلْحُسْنَى
যারা বর্জন করে বড় বড় পাপাচার ও অশ্লীল কাজ - - মুখোমুখি হওয়া ভিন্ন - - তোমার প্রভু পরিত্রাণে নিশ্চয়ই অপরিসীম। তিনি তোমাদের ভালো জানেন যখন থেকে তিনি তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছেন মাটি থেকে, আর যখন তোমরা ছিলে তোমাদের মায়ের পেটে ভ্রণরূপে। অতএব তোমরা তোমাদের নিজেদের গুণগান করো না। তিনিই ভালো জানেন তাকে যে ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে।
যারা ছোট খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্
উহারাই বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হইতে, ছোটখাট অপরাধ করিলেও। তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম ; তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত - যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন মৃত্তিকা হইতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করিও না, তিনিই সম্যক জানেন কে।
ٱلَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَٰٓئِرَ ٱلْإِثْمِ وَٱلْفَوَٰحِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَٰسِعُ ٱلْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِى بُطُونِ أُمَّه
তুমি কি তবে তাকে দেখেছ যে ফিরে যায়,
তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়?
তুমি কি দেখিয়াছ সেই ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরাইয়া নেয়;
أَفَرَءَيْتَ ٱلَّذِى تَوَلَّىٰ
আর যৎসামান্য দান করে এবং নির্দয়তা দেখায়?
আর সামান্য দান করে, তারপর বন্ধ করে দেয়?
এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করিয়া দেয়?
وَأَعْطَىٰ قَلِيلًا وَأَكْدَىٰٓ
তার কাছে কি সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে ফলে সে দেখত পাচ্ছে?
তার কাছে কি আছে গায়েবের জ্ঞান যে, সে দেখছে?
তাহার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?
أَعِندَهُۥ عِلْمُ ٱلْغَيْبِ فَهُوَ يَرَىٰٓ
অথবা তাকে কি সংবাদ দেওয়া হয় নি মূসার গ্রন্থে যা আছে সে - সন্বন্ধে,
নাকি মূসার কিতাবে যা আছে, সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি ?
তাহাকে কি অবগত করা হয় নাই যাহা আছে মূসার কিতাবে,
أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِى صُحُفِ مُوسَىٰ
এবং ইব্রাহীম সন্বন্ধে যিনি সম্পূর্ণরূপে প্রতিপালন করেছিলেন - -
আর ইবরাহীমের কিতাবে, যে (নির্দেশ) পূর্ণ করেছিল।
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে পালন করিয়াছিল তাহার দায়িত্ব?
وَإِبْرَٰهِيمَ ٱلَّذِى وَفَّىٰٓ
যথা কোনো ভারবাহী অন্যের বোঝা বহন করবে না,
তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।
উহা এই যে, কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করিবে না,
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
আর এই যে মানুষের জন্য কিছুই থাকবে না যার জন্য সে চেষ্টা না ক’রে,
আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।
আর এই যে, মানুষ তাহাই পায় যাহা সে করে,
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ
আর এই যে, তার প্রচেষ্টা অচিরেই দৃষ্টিগোচর হবে,
আর এই যে, তার প্রচেষ্টার ফল শীঘ্রই তাকে দেখানো হবে।
আর এই যে, তাহার কর্ম অচিরেই দেখান হইবে -
وَأَنَّ سَعْيَهُۥ سَوْفَ يُرَىٰ
তারপর তাকে প্রতিদান দেওয়া হবে পরিপূর্ণ প্রতিদানে,
তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করা হবে।
অতঃপর তাহাকে দেওয়া হইবে পূর্ণ প্রতিদান,
ثُمَّ يُجْزَىٰهُ ٱلْجَزَآءَ ٱلْأَوْفَىٰ
আর এই যে, তোমার প্রভুর দিকেই হচ্ছে শেষ - সীমা,
আর নিশ্চয় তোমার রবের নিকটই হলো শেষ গন্তব্য।
আর এই যে, সমস্ত কিছুর সমাপ্তি তো তোমার প্রতিপালকের নিকট,
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلْمُنتَهَىٰ
আর এই যে, তিনিই হাসান আর তিনিই কাঁদান,
আর নিশ্চয় তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।
আর এই যে, তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَىٰ
আর এই যে, তিনিই মারেন ও তিনিই বাঁচান।
আর নিশ্চয় তিনিই মৃত্যু দেন এবং তিনিই জীবন দেন।
আর এই যে, তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় - জোড়ায় নর ও নারী, - -
আর তিনিই যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী।
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল - পুরুষ ও নারী
وَأَنَّهُۥ خَلَقَ ٱلزَّوْجَيْنِ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰ
শুক্রকীট থেকে যখন তাকে বিন্যাস করা হয়,
শুক্রবিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়।
শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,
مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَىٰ
আর এই যে, তাঁর উপরেই রয়েছে পুনরায় উত্থানের দায়িত্ব,
আর নিশ্চয় পুনরায় সৃষ্টির দায়িত্ব তাঁর উপরই।
আর এই যে, পুনরুত্থান ঘটাইবার দায়িত্ব তাঁহারই,
وَأَنَّ عَلَيْهِ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْأُخْرَىٰ
আর এই যে, তিনিই ধনদৌলত দেন ও সুখ - সমৃদ্ধি প্রদান করেন,
আর তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন।
আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ
আর এই যে, তিনিই শি'রা নক্ষত্রের প্রভু,
আর তিনিই শিরার* রব। * একটি নক্ষত্রের নাম।
আর এই যে, তিনি শি‘রা নক্ষত্রের মালিক।
وَأَنَّهُۥ هُوَ رَبُّ ٱلشِّعْرَىٰ
আর এই যে, তিনিই ধ্বংস করেছিলেন প্রাচীনকালের 'আদ - জাতিকে,
আর তিনিই প্রাচীন ‘আদ জাতিকে ধ্বংস করেছেন।
আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করিয়াছিলেন
وَأَنَّهُۥٓ أَهْلَكَ عَادًا ٱلْأُولَىٰ
আর ছামূদ - জাতিও, তাই তিনি বাকী রাখেন নি,
আর সামূদ জাতিকেও। কাউকে তিনি অবশিষ্ট রাখেন নি।
এবং সামূদ সম্প্রদায়কেও; কাহাকেও তিনি বাকি রাখেন নাই
وَثَمُودَا۟ فَمَآ أَبْقَىٰ
আর নূহ - এর লোকদলও এর আগে। নিঃসন্দেহ তারা ছিল - - তারাই তো ছিল অত্যন্ত অত্যাচারী ও বেজায় অবাধ্য।
আর পূর্বে নূহের কওমকেও। নিশ্চয় তারা ছিল অতিশয় যালিম ও চরম অবাধ্য।
আর ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেও, উহারা ছিল অতিশয় ও অবাধ্য।
وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَىٰ
আর উলটে ফেলা শহরগুলো - - তিনি ধ্বংস করেছিলেন,
আর তিনি উল্টানো আবাসভূমিকে* নিক্ষেপ করেছিলেন। * সামূদ সম্প্রদায়ের জনপদ।
উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন,
وَٱلْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَىٰ
ফলে তাদের তিনি ঢেকে দিয়েছিলেন যা ঢেকে দেয়।
অতঃপর সেটাকে আচ্ছন্ন করেছিল, যা আচ্ছন্ন করার ছিল।
উহাকে আচ্ছন্ন করিল কী সর্বগ্রাসী শাস্তি!
فَغَشَّىٰهَا مَا غَشَّىٰ
অতএব তোমার প্রভুর কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে তুমি বাদানুবাদ করবে?
তাহলে তুমি তোমার রবের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?
তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করিবে?
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ
প্রাচীনকালের সতর্ককারীদের মধ্যে থেকে ইনি হচ্ছেন একজন সতর্ককারী।
অতীত সতর্ককারীদের মত এই নবীও একজন সতর্ককারী।
অতীতের সতর্ককারীদের ন্যায় এই নবীও এক সতর্ককারী।
هَٰذَا نَذِيرٌ مِّنَ ٱلنُّذُرِ ٱلْأُولَىٰٓ
আসন্ন ঘটনা সমাগত,
কিয়ামত নিকটবর্তী।
কিয়ামত আসন্ন,
أَزِفَتِ ٱلْءَازِفَةُ
এটি দূর করবার মতো ছাড়া আর কেউ নেই।
ছাড়া কেউই তা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
ব্যতীত কেহই ইহা ব্যক্ত করিতে সক্ষম নয়।
لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ ٱللَّهِ كَاشِفَةٌ
এই বিবৃতিতে তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছ?
তোমরা কি এ কথায় বিস্ময় বোধ করছ?
তোমরা কি এই কথায় বিস্ময় বোধ করিতেছ!
أَفَمِنْ هَٰذَا ٱلْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ
আর তোমরা কি হাসছ, তোমরা কি আর কাঁদবে না?
আর হাসছ এবং কাঁদছ না?
এবং হাসিঠাট্টা করিতেছ! ক্রন্দন করিতেছ না?
وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
আর তোমরা তো হেলাফেলা করছ।
আর তোমরা তো গাফিল।
তোমরা তো উদাসীন,
وَأَنتُمْ سَٰمِدُونَ
অতএব র প্রতি সিজদা করো এবং উপাসনা করো।
সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা কর এবং ইবাদাত কর।[সাজদাহ]
অতএব কে সিজ্দা কর এবং তাঁহারই ‘ইবাদত কর।
فَٱسْجُدُوا۟ لِلَّهِ وَٱعْبُدُوا۟