ভাবো পাহাড়ের কথা,
শপথ তুর (পাহাড়) - এর।
بسم الله الرحمن الرحيم والطور
শপথ তূর পর্বতের,
Chapter 52, 49 verses
ভাবো পাহাড়ের কথা,
শপথ তুর (পাহাড়) - এর।
بسم الله الرحمن الرحيم والطور
শপথ তূর পর্বতের,
আর লিখিত গ্রন্থের,
শপথ সেই কিতাবের যা ছত্রে ছত্রে লিখিত
وكتاب مسطور
শপথ কিতাবের, যাহা লিখিত আছে
এক খোলামেলা পাতায়,
খোলা পৃষ্ঠায়।
في رق منشور
উন্মুক্ত পত্রে,
আর ভাবো ঘনঘন গমনাগমনের গৃহের কথা,
শপথ বাইতুল মামুরের।
والبيت المعمور
শপথ বায়তুল মা‘মূরের,
আর সমুন্নত ছাদের,
শপথ উঁচু ছাদের (আকাশের),
والسقف المرفوع
শপথ সম্মুন্নত আকাশের,
আর উচ্ছলিত সমুদ্রের কথা,
শপথ উত্তাল সাগরের।
والبحر المسجور
এবং শপথ উদ্বেলিত সমুদ্রের -
নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর শাস্তি অবশ্যাবী - -
নিশ্চয়ই তোমার প্রভুর আযাব সংঘটিত হবেই।
إن عذاب ربك لواقع
তোমার প্রতিপালকের শাস্তি তো অবশ্যম্ভাবী,
এটির জন্য কোনো প্রতিরোধকারী নেই;
তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই।
ما له من دافع
ইহার নিবারণকারী কেহ নাই।
যেদিন আকাশ আলোড়ন করবে আলোড়নে,
যেদিন আসমান চলতে থাকবে প্রচন্ড গতিতে,
يوم تمور السماء مورا
যেদিন আকাশ আন্দোলিত হইবে প্রবলভাবে
আর পাহাড়গুলো চলে যাবে চলে যাওয়ায়।
(ভয়ংকর) তীব্র গতিতে চলতে থাকবে পাহাড় পর্বত,
وتسير الجبال سيرا
এবং পর্বত চলিবে দ্রুত ;
অতএব ধিক্ সেইদিন প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য - -
সেদিন হবে চরম দুর্ভোগ প্রত্যাখ্যানকারীদের,
فويل يومئذ للمكذبين
দুর্ভোগ সেই দিন সত্য অস্বীকারকারীদের,
যারা বৃথা তর্কবিতর্কে খেলা খেলছে।
যারা খেল তামাশার অসার কাজে লিপ্ত।
الذين هم في خوض يلعبون
যাহারা ক্রীড়াচ্ছলে অসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে।
সেইদিন তাদের ধাক্কা দিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে ধাক্কা দিতে দিতে।
সেদিন তাদের ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে।
يوم يدعون إلى نار جهنم دعا
যেদিন উহাদেরকে ধাক্কা মারিতে মারিতে লইয়া যাওয়া হইবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে
''এইটিই সেই আগুন যেটিকে তোমরা মিথ্যা বলতে।
(বলা হবে:) এই সেই জাহান্নাম, যাকে তোমরা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে।
هذه النار التي كنتم بها تكذبون
‘ইহাই সেই অগ্নি যাহাকে তোমরা মিথ্যা মনে করিতে।’
''এটি কি তবে জাদু? না কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না?
এটা কি ম্যাজিক, নাকি তোমরা দেখছো না?
أفسحر هذا أم أنتم لا تبصرون
ইহা কি জাদু? না কি তোমরা দেখিতে পাইতেছ না?
''ঢুকে পড় এতে! অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধর অথবা ধৈর্য না - ধর, তোমাদের জন্য একসমান। তোমাদের প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র তোমরা যা করতে তারই।’’
এতে প্রবেশ করো, এর আযাব তোমরা সহ্য করতে পারো বা না পারো দুটোই সমান। তোমাদেরকে তো তোমাদেরই কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়া হয়েছে।
اصلوها فاصبروا أو لا تصبروا سواء عليكم ۖ إنما تجزون ما كنتم تعملون
তোমরা ইহাতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ কর অথবা ধৈর্য ধারণ না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যাহা করিতে তাহারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেওয়া হইতেছে।
নিঃসন্দেহ মুত্তকীরা থাকবে জান্নাতে ও পরমানন্দে, - -
নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের জন্যে রয়েছে জান্নাত আর নিয়ামতরাজি।
إن المتقين في جنات ونعيم
মুত্তাকীরা তো থাকিবে জান্নাতে ও আরাম - আয়েশে,
তাদের প্রভু যা তাদের দিয়েছেন সেজন্য তারা সুখভোগ করতে থাকবে, আর তাদের প্রভু তাদের রক্ষা করবেন ভয়ংকর আগুনের শাস্তি থেকে।
তাদের প্রভু তাদের যেসব পুরস্কার দেবেন তারা সেসব ভোগ করতে থাকবে এবং তাদের প্রভু তাদের রক্ষা করবেন জাহিমের (জাহান্নামের) আযাব থেকে।
فاكهين بما آتاهم ربهم ووقاهم ربهم عذاب الجحيم
তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে যাহা দিবেন তাহারা তাহা উপভোগ করিবে এবং তাহাদের রব তাহাদেরকে রক্ষা করিবেন জাহান্নামের আযাব হইতে,
''তোমরা যা করে থাকতে সেজন্য তৃপ্তির সাথে খাওদাও ও পান করো।’’
(তাদের বলা হবে:) ‘তোমরা খাও এবং পান করো তৃপ্তি সহকারে তোমাদের নেক আমলের ফল।
كلوا واشربوا هنيئا بما كنتم تعملون
‘তোমরা যাহা করিতে তাহার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সঙ্গে পানাহার করিতে থাক।’
তারা হেলান দিয়ে বসবে সারি - সারি সিংহাসনের উপরে, আর আমরা তাদের জোড় মিলিয়ে দেব আয়তলোচন হূরদের সাথে।
তারা সেখানে আসন গ্রহণ করবে হেলান দিয়ে সারিবদ্ধভাবে। আমরা তাদের জুড়ি হিসেবে দেবো আয়াতলোচনা হুরদের।
متكئين على سرر مصفوفة ۖ وزوجناهم بحور عين
তাহারা বসিবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়া ; আমি তাহাদের মিলন ঘটাইব আয়তলোচনা হূরের সঙ্গে;
আর যারা ঈমান আনে, এবং যাদের সন্তানসন্ততি ধর্মবিশ্বাসে তাদের অনুসরণ করে - - আমরা তাদের সঙ্গে মিলন ঘটাব তাদের ছেলেমেয়েদের, আর আমরা তাদের ক্রিয়াকর্ম থেকে কোনো কিছুই তাদের জন্য কমিয়ে দেব না। প্রত্যেক ব্যক্তিই সে যা অর্জন করেছে সেজন্য দায়ী।
আর যারা নিজেরা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের পথে তাদের অনুগামী হয়েছে, আমরা তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্র করে দেবো এবং তাদের আমলের প্রতিদান কিছুমাত্র হ্রাস করবো না। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্যে দায়ী।
والذين آمنوا واتبعتهم ذريتهم بإيمان ألحقنا بهم ذريتهم وما ألتناهم من عملهم من شيء ۚ كل امرئ بما كسب رهين
এবং যাহারা ঈমান আনে আর তাহাদের সন্তান - সন্ততি ঈমানে তাহাদের অনুগামী হয়, তাহাদের সঙ্গে মিলিত করিব তাহাদের সন্তান - সন্ততিকে এবং তাহাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্র হ্রাস করিব না; প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।
আর আমরা তাদের প্রচুর পরিমাণে প্রদান করব ফলফসল ও মাছমাংস - - যা তারা পছন্দ করে তা থেকে।
আমরা তাদের সহযোগিতা করবো ফলফলারি এবং গোশত দিয়ে, যা - ই তারা পছন্দ করবে।
وأمددناهم بفاكهة ولحم مما يشتهون
আমি তাহাদেরকে দিব ফলমূল এবং গোশ্ত যাহা তাহারা পসন্দ করে।
তারা সেখানে একটি পানপাত্র পরস্পরের মধ্যে আদান - প্রদান করবে, তাতে থাকবে না কোনো খেলো আচরণ, না কোনো পাপ।
তারা সেখানে পরস্পরের মধ্যে আদান প্রদান করতে থাকবে পানপাত্র, যা থেকে পান করলে কেউ অর্থহীন কথাবার্তাও বলবে না এবং কোনো প্রকার পাপ কাজেও লিপ্ত হবেনা।
يتنازعون فيها كأسا لا لغو فيها ولا تأثيم
সেখানে তাহারা পরস্পরের মধ্যে আদান - প্রদান করিতে থাকিবে পানপাত্র, যাহা হইতে পান করিলে কেহ অসার কথা বলিবে না এবং পাপ কর্মেও লিপ্ত হইবে না।
আর তাদের চারিদিকে ঘুরবে তাদের কিশোররা, - - তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তো!
তাদের সেবায় ঘোরাঘুরি করতে থাকবে কিশোরেরা যারা নিয়োজিত থাকবে কেবল তাদেরই সেবায় এবং তারা দেখতে যেনো সুরক্ষিত মুক্তা।
۞ ويطوف عليهم غلمان لهم كأنهم لؤلؤ مكنون
তাহাদের সেবায় নিয়োজিত থাকিবে কিশোরেরা, সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ।
আর তাদের কেউ - কেউ অপরের দিকে জিজ্ঞাসাবাদ ক’রে এগিয়ে যাবে - -
তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
وأقبل بعضهم على بعض يتساءلون
তাহারা একে অপরের দিকে ফিরিয়া জিজ্ঞাসা করিবে,
তারা বলবে - - ''নিঃসন্দেহ আমরা ইতিপূর্বে আমাদের পরিজনদের সম্পর্কে ভীত ছিলাম।
বলবে: ‘‘ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) আমরা তো পরিবার পরিজনের মধ্যে আল্লাহর ভয়ে ভীত ছিলাম।
قالوا إنا كنا قبل في أهلنا مشفقين
এবং বলিবে, ‘পূর্বে আমরা পরিবার - পরিজনের মধ্যে শঙ্কিত অবস্থায় ছিলাম।
''তবে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আর আমাদের রক্ষা করেছেন তাপপীড়িত বায়ুপ্রবাহের শাস্তি থেকে।
ফলে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের রক্ষা করেছেন অগ্নি বায়ুর আযাব থেকে।
فمن الله علينا ووقانا عذاب السموم
‘অতঃপর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং আমাদেরকে অগ্নিশাস্তি হইতে রক্ষা করিয়াছেন।
''আমরা অবশ্য এর আগেও তাঁকে ডাকতে থাকতাম। নিঃসন্দেহ তিনি খোদ অতি সদাশয়, অফুরন্ত ফলদাতা।
আমরা ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তাঁকেই ডাকতাম, নিশ্চয়ই তিনি পরম অনুগ্রহশীল, পরম দয়াবান।’’
إنا كنا من قبل ندعوه ۖ إنه هو البر الرحيم
‘আমরা পূর্বেও কে আহ্বান করিতাম, তিনি তো কৃপাময়, পরম দয়ালু।’
অতএব তুমি উপদেশ দান করতে থাকো, কেননা তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি তো গনৎকার নও এবং মাথা - পাগলাও নও।
অতএব, তুমি উপদেশ দিয়ে যাও, তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি গণকও নও, পাগলও নও।
فذكر فما أنت بنعمت ربك بكاهن ولا مجنون
অতএব তুমি উপদেশ দান করিতে থাক, তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি গণক নও, উন্মাদও নও।
অথবা তারা কি বলে - - ''একজন কবি, আমরা বরং তার জন্য অপেক্ষা করি কালের কবলে পড়ার দরুন?
নাকি তারা বলে: ‘সে একজন কবি? আমরা তার জন্যে সময়ের আবর্তনের অপেক্ষা করছি।’
أم يقولون شاعر نتربص به ريب المنون
উহারা কি বলিতে চাহে সে একজন কবি? আমরা তাহার মৃত্যুর প্রতীক্ষা করিতেছি।’
তুমি বলো - - ''তোমরা অপেক্ষা করতে থাকো, আমিও তবে অবশ্য তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের মধ্যে রয়েছি।’’
তুমি বলো: ‘তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষায় থাকলাম।’
قل تربصوا فإني معكم من المتربصين
বল, ‘তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।’
অথবা তাদের বোধশক্তি কি এ - বিষয়ে তাদের নির্দেশ দিয়ে থাকে? অথবা তারা কি এক সীমালংঘনকারী জাতি?
নাকি তাদের বুদ্ধি তাদেরকে এর জন্যে প্রলুব্ধ করে? আর নাকি তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
أم تأمرهم أحلامهم بهذا ۚ أم هم قوم طاغون
তবে কি উহাদের বুদ্ধি উহাদেরকে এই বিষয়ে প্ররোচিত করে, না উহারা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
অথবা তারা কি বলে যে এটি সে বর্ণনা করেছে? না, তারা বিশ্বাস করে না।
নাকি তারা বলে: ‘এ কুরআন সে নিজে রচনা করে নিয়েছে?’ আসল কথা হলো, তারা বিশ্বাসই রাখেনা।
أم يقولون تقوله ۚ بل لا يؤمنون
উহারা কি বলে, ‘এই কুরআন তাহার নিজের রচনা?’ বরং উহারা অবিশ্বাসী।
তাহলে তারা এর সমতুল্য এক রচনা নিয়ে আসুক, - - যদি তারা সত্যবাদী হয়।
তারা সত্যবাদী হয়ে থাকলে এ কুরআনের মতো কোনো বাণী উপস্থিত করুক।
فليأتوا بحديث مثله إن كانوا صادقين
উহারা যদি সত্যবাদী হয় তবে ইহার সদৃশ কোন রচনা উপস্থিত করুক না!
অথবা তাদের কি সৃষ্টি করা হয়েছে কেউ না - থাকা থেকে, না তারাই সৃষ্টিকর্তা?
নাকি তারা স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে? আর নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?
أم خلقوا من غير شيء أم هم الخالقون
উহারা কি স্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্টি হইয়াছে, না উহারা নিজেরাই স্রষ্টা?
অথবা তারা কি সৃষ্টি করেছিল মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী? না, তারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে না।
নাকি মহাকাশ এবং পৃথিবী তারা নিজেরাই সৃষ্টি করেছে? বরং তারা একীনই রাখেনা।
أم خلقوا السماوات والأرض ۚ بل لا يوقنون
না কি উহারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছে? বরং উহারা তো অবিশ্বাসী।
অথবা তাদের কাছেই কি রয়েছে তোমার প্রভুর ধনভান্ডার, না তারাই নিয়ন্তা?
নাকি তোমার প্রভুর ভান্ডার তাদের কাছে রয়েছে? আর নাকি তারা এসব কিছুর পাহারাদার?
أم عندهم خزائن ربك أم هم المصيطرون
তোমার প্রতিপালকের ভাণ্ডার কি উহাদের নিকট রহিয়াছে, না উহারা এই সমুদয়ের নিয়ন্তা?
অথবা তাদের কাছে কি রয়েছে সিড়ি যাঁর সাহায্যে তারা শোনে নেয়? তাহলে তাদের শ্রবণকারী নিয়ে আসুক এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।
নাকি তাদের কাছে (আকাশে) আরোহণ করার সিঁড়ি আছে যা দিয়ে উঠে কথা শুনে? থাকলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করুক।
أم لهم سلم يستمعون فيه ۖ فليأت مستمعهم بسلطان مبين
না কি উহাদের কোন সিঁড়ি আছে যাহাতে আরোহণ করিয়া উহারা শ্রবণ করে? থাকিলে উহাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক!
অথবা তাঁর কারণে কি রয়েছে কন্যারাসব, আর তোমাদের জন্য রয়েছে পুত্ররা?
নাকি কন্যা সন্তান আল্লাহর, আর সব পুত্র সন্তান তোমাদের ?
أم له البنات ولكم البنون
তবে কি কন্যা সন্তান তাঁহার জন্য এবং পুত্র সন্তান তোমাদের জন্য?
অথবা তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছ, যার ফলে তারা দেনায় ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে?
নাকি তুমি তাদের কাছে (তাদের উপদেশ দেয়ার জন্যে) পারিশ্রমিক চাইছো, আর তারা সেটাকে তাদের জন্যে বোঝা মনে করছে?
أم تسألهم أجرا فهم من مغرم مثقلون
তবে কি তুমি উহাদের নিকট পারিশ্রমিক চাহিতেছ যে, উহারা ইহাকে একটি দুর্বহ বোঝা মনে করে?
অথবা কি তাদের কাছে রয়েছে যার ফলে তারা লিখে ফেলতে পারে?
নাকি তারা জানে এবং তা তারা লিখে রাখছে?
أم عندهم الغيب فهم يكتبون
না কি বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান আছে যে, উহারা এই বিষয়ে কিছু লিখে?
অথবা তারা কি ষড়যন্ত্র করতে চায়? কিন্ত যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা নিজেরাই ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়বে।
নাকি তারা কোনো চক্রান্ত করছে? জেনে রেখো, চক্রান্তের শিকার হয় কাফিররা নিজেরাই।
أم يريدون كيدا ۖ فالذين كفروا هم المكيدون
অথবা উহারা কি কোন ষড়যন্ত্র করিতে চাহে? পরিণামে কাফিররাই হইবে ষড়যন্ত্রের শিকার।
অথবা ছাড়া তাদের কি অন্য উপাস্য রয়েছে? রই সব মহিমা - - তারা যা শরিক করে তিনি তার বাইরে।
নাকি আল্লাহর পরিবর্তে তাদের কোনো ইলাহ্ আছে? তাদের কৃত শিরক থেকে পবিত্র ও মহান।
أم لهم إله غير الله ۚ سبحان الله عما يشركون
না কি ব্যতীত উহাদের অন্য কোন ইলাহ্ আছে ? উহারা যাহাকে শরীক স্থির করে তাহা হইতে পবিত্র।
আর যদি তারা দেখে আকাশের এক টুকরো ভেঙ্গে পড়ছে, তাহলে তারা বলবে - - ''এক পুঞ্জীভূত মেঘমালা।’’
তারা আকাশ থেকে কোনো টুকরা ভেঙ্গে পড়তে দেখলে বলবে: ‘এতো মেঘপুঞ্জ।’
وإن يروا كسفا من السماء ساقطا يقولوا سحاب مركوم
উহারা আকাশের কোন খণ্ড ভাঙ্গিয়া পড়িতে দেখিলে বলিবে, ‘ইহা তো এক পুঞ্জীভূত মেঘ।’
অতএব তাদের ছেড়ে দাও যে পর্যন্ত না তারা তাদের সেই দিনটির সাক্ষাৎ পায় যখন তারা হতভন্ব হয়ে যাবে, - -
সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো - যতোদিন না তারা সেই দিনটির সাক্ষাত লাভ করে যেদিন বজ্রের আঘাতে তারা হতচকিত হয়ে উঠবে।
فذرهم حتى يلاقوا يومهم الذي فيه يصعقون
উহাদের উপেক্ষা করিয়া চল সেই দিন পর্যন্ত যেদিন উহারা বজ্রাঘাতে হতচেতন হইবে।
সেইদিন তাদের চাল - চক্রান্ত তাদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সাহায্যও করা হবে না।
সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোনো কাজেই আসবেনা এবং সেদিন তাদের কোনো সাহায্যও করা হবেনা।
يوم لا يغني عنهم كيدهم شيئا ولا هم ينصرون
সেদিন উহাদের ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসিবে না এবং উহাদেরকে সাহায্যও করা হইবে না।
আর যারা অন্যায়াচার করেছে তাদের জন্য এ ছাড়া আরো শাস্তি রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই জানে না।
যালিমদের জন্যে এছাড়াও আরো আযাব রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা।
وإن للذين ظلموا عذابا دون ذلك ولكن أكثرهم لا يعلمون
ইহা ছাড়া আরও শাস্তি রহিয়াছে জালিমদের জন্য। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই তাহা জানে না।
অতএব তোমার প্রভুর বিচারের জন্য ধৈর্য ধরে থেকো, বস্তুত তুমি নিশ্চয়ই আমাদের চোখের সামনে রয়েছ। কাজেই তোমার প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করো যখন তুমি উঠে দাঁড়াও,
তুমি তোমার প্রভুর নির্দেশের অপেক্ষায় সবর অবলম্বন করো। তুমি আমাদের দৃষ্টি পথেই রয়েছো। আর তোমার প্রভুর হামদসহ তাঁর তসবিহ করতে থাকো যখন শয্যা ত্যাগ করে উঠবে
واصبر لحكم ربك فإنك بأعيننا ۖ وسبح بحمد ربك حين تقوم
ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়; তুমি আমার চক্ষুর সামনেই রহিয়াছ। তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর,
আর রাতের বেলায়ও তবে তাঁর জপতপ করো এবং তারাগুলো ঝিমিয়ে যাবার সময়েও।
এবং রাত্রিবেলায়, আর তাঁর তসবিহ করতে থাকো তারকারাজির অস্তগমনের পর।
ومن الليل فسبحه وإدبار النجوم
এবং তাঁহার পবিত্রতা ঘোষণা কর রাত্রিকালে ও তারকার অস্তগমনের পর।