Kitab

আল বাকারাহ

Chapter 2, 286 verses

  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বাংলা উচ্চারণ
জহুরুল হক

আলিফ, লাম, মীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম মিম।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ লাম মীম।

জহুরুল হক

ঐ গ্রন্থ, এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তকীদের জন্য পথপ্রদর্শক

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি একমাত্র কিতাব, যাতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্যে জীবন যাপন পদ্ধতি।

বাংলা উচ্চারণ

যালিকাল কিতাবু লারাইবা ফিহি হুদাল্লিল মুত্তাক্বিন।

জহুরুল হক

যারা গায়েবে ঈমান আনে, আর কায়েম করে, আর আমরা যে রিযেক তাদের দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে - এর প্রতি, কায়েম করে এবং আমরা যে রিযিক তাদের দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (নিজের এবং অন্যদের জন্যে এবং যাকাত প্রদান করে);

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযী ইউমিনুনা বিল গাইবি ওয়া ইকিমুনাস্ সালাতা ওয়া মিম্মা রাযাকনাহুম ইউনফিকুন।

জহুরুল হক

আর তোমার কাছে যা - কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তা’তে যারা ঈমান আনে, আর তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতেও, আর আখেরাত সন্বন্ধে যারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান রাখে তোমার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব (আল কুরআন) - এর প্রতি এবং তোমার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহের প্রতি, আর যারা (নিশ্চিত বিশ্বাস) রাখে আখিরাতের প্রতি;

বাংলা উচ্চারণ

ওয়াল্লাযী ইউমিনুনা বিমা উনযিলা ইলাইকা ওয়ামা উনযিলা মিন কাবলিকা ওয়াবিল আখিরাতি হুম ইউকিনুন।

জহুরুল হক

এরাই আছে তাদের প্রভুর তরফ থেকে হেদায়তের উপরে, আর এরা নিজেরাই হচ্ছে ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারাই তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর তারাই হবে ।

বাংলা উচ্চারণ

উলা-য়িকা 'আলা- হুদাম্ র্মি রব্বিহিম্ অউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

জহুরুল হক

অবশ্যই যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, তাদের তুমি সতর্ক কর বা তাদের সতর্ক নাই কর তাদের কাছে সবই সমান, ওরা ঈমান আনবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেসব লোক (একথাগুলো মেনে নিতে) অস্বীকার করে, তাদের তুমি সতর্ক করো আর নাই করো, তাদের জন্যে উভয়টাই সমান, তারা ঈমান আনবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল লাযীনা কাফারূ সাওয়া-উন্ 'আলাইহিম্ আ আর্ন্যাতাহুম্ আম্ লাম্ তুন্যির হুম্ লা- ইয়ু'মিনূন।

জহুরুল হক

তাদের হৃদয়ে সীল মেরে দিয়েছেন, এবং তাদের কানেও, আর তাদের চোখের উপরে পর্দা। আর তাদের জন্য আছে কঠোর শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সীল মোহর মেরে দিয়েছেন তাদের কলবসমূহের উপর এবং তাদের শ্রবন ইন্দ্রিয়ের উপর, আর তাদের চক্ষুরাজির উপর পড়ে আছে আবরণ। তাই তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

খাতামাল্লা-হু 'আলা- ক্বূলূবিহিম্ অ'আলা- সাম'ইহিম্ অ'আলায় আবছোয়া-রিহিম্ গিশা-ওয়াতুঁও অলাহুম্ 'আযা-বুন্ 'আজীম্।

জহুরুল হক

আর মানুষের মাঝে কেউ - কেউ বলে থাকে - - “আমরা ‌র প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান এনেছি”, অথচ তারা মুমিনদের মধ্যে নয়

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে কিছু লোক আছে (মুনাফিক), যারা বলে: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের (বিচার দিবসের) প্রতি, অথচ তারা নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অমিনান্ না-সি মাইঁ ইয়াক্বূলু আ- মান্না- বিল্লা-হি অবিল্ইয়াওমিল্ আ-খিরি অমা-হুম্ বিমু'মিনীন্।

জহুরুল হক

এরা চায় ও যারা ঈমান এনেছে তারা যেন প্রতারিত হন। কিন্তু তারা প্রতারণা করছে নিজেদের ছাড়া আর কাউকে নয়, অথচ তারা বুঝতে পারছে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (মনে করে তারা) ধোকাবাজি করছে আল্লাহর সাথে এবং মুমিনদের সাথেও। অথচ তারা যে নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও ধোকা দিচ্ছেনা, একথাটা তারা উপলব্ধি করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুখা-দি'ঊনাল্লা-হা অল্লাযীনা আ-মানূ অমা- ইয়াখ্দা'ঊনা ইল্লায় আন্ফুসাহুম্ অমা-ইয়াশ্'উরূন।

জহুরুল হক

তাদের অন্তরে ব্যারাম, তাই তাদের জন্য ব্যারাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, আর তাদের জন্য ব্যথাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা মিথ্যা বলে চলেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কলব (অন্তর) সমূহে রয়েছে (সন্দেহ ও মুনাফিকির) রোগ। তাই, তাদের (এ) রোগকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব, কারণ তারা মিথ্যা বলে।

বাংলা উচ্চারণ

ফী ক্বূলূবিহিম্ মারাদ্বুন্ ফাযা-দাহুমুল্লা-হু মারাদ্বোয়া- অলাহুম্ 'আযা-বুন্ আলীমুম্ বিমা- কা-নূ ইয়াক্যিবূন্।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের বলা হলো - - “দুনিয়াতে তোমরা গন্ডগোল সৃষ্টি কর না”, তারা বলে - - “না তো, আমরা শান্তিকামী।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের বলা হয়: দেশে ফাসাদ (অশান্তি) সৃষ্টি করোনা, তখন তারা বলে: আমরাই তো কেবল ইসলাহ (সংস্কার সংশোধন) করে চলেছি।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা- ক্বীলা লাহুম্ লা-তুফ্সিদূ ফিল র্আদ্বি ক্বা-লূয় ইন্নামা- নাহ্নু মুছ্লিহূন্।

জহুরুল হক

তারা নিজেরাই কি নিশ্চয়ই গন্ডগোল সৃষ্টিকারী নয়? কিন্তু তারা বোঝে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সতর্ক থাকো, এরাই আসল ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আলায় ইন্নাহুম্ হুমুল্ মুফ্সিদূনা অলা-কিল্ লা-ইয়াশ্'উরূন্।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের বলা হলো - - “তোমরাও ঈমান আনো যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে”, তারা বললে - - “আমরা কি বিশ্বাস করব যেমন মূর্খরা বিশ্বাস করছে?” তারা নিজেরাই কি নিঃসন্দেহে মূর্খ নয়? কিন্তু তারা জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের বলা হয়: তোমরা (সেভাবে) ঈমান আনো, অন্য লোকেরা যে রকম (নিষ্ঠার সাথে) ঈমান এনেছে। তখন তারা বলে: ‘আমরা কি (সে রকম) ঈমান আনবো, যেরকম ঈমান এনেছে বোকা লোকেরা?’ - আসলে তারা নিজেরাই যে বোকা তা তারা জানেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-ক্বীলা লাহুম্ আ-মিনূ কামায় আ-মানান্ না-সু ক্বা-লূয় আনুমিনু কামায় আ-মানাস্ সুফাহা-য়্ আলায় ইন্নাহুম্ হুমুস্ সুফাহা-উ অলা-কিল্ লা- ইয়া'লামূন্।

জহুরুল হক

আর যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে তারা যখন মিলিত হয় তখন বলে - - “আমরা ঈমান এনেছি” । আবার যখন তারা তাদের শয়তানদের সঙ্গে নিরিবিলি হয় তখন বলে - - “আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে, আমরা শুধু মস্করা করছিলাম।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন মুমিনদের সাথে মোলাকাত (সাক্ষাত) করে, তখন তাদের বলে: ‘আমরা তো ঈমান এনেছি।’ আর যখন তারা তাদের শয়তানদের কাছে একান্তে থাকে, তখন তাদের বলে: আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, ওদের কাছে গিয়ে তো আমরা কেবল ঠাট্টা - বিদ্রুপ করে আসি।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-লাক্বূল লাযীনা আ-মানূ ক্বা-লূয় আ-মান্না- অইযা-খালাও ইলা- শাইয়া-ত্বীনিহিম্ ক্বা-লূয় ইন্না- মা'আকুম ইন্নামা- নাহ্নু মুস্তাহ্যিয়ূন্।

জহুরুল হক

তাদের প্রতি মস্করা ঘুরিয়ে পাঠান, এবং তাদের অন্যায় ক্রিয়া - কলাপের মধ্যে ঘুরপাক খেতে তাদের ছেড়ে দেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সাথে (তাঁর প্রাকৃতিক নিয়মে) বিদ্রুপ করেন এবং তাদেরকে তাদের বিদ্রোহী ভূমিকায় অন্ধভাবে ঘুরে বেড়াবার অবকাশ দেন।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু ইয়াস্তাহ্যিয়ূ বিহিম্ অইয়ামুদ্দুহুম্ ফী তুগ্ইয়া-নিহিম্ ইয়া'মাহূন্।

জহুরুল হক

এরাই তারা যারা পথনির্দেশের বদলে পথভ্রষ্টতার কেনাকাটা করে, তাই তাদের ব্যবসা মুনাফা আনে না, আর তারা সৎপথপ্রাপ্ত হয় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা সওদা করছে হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহির। সুতরাং তাদের তেজারত (ব্যবসা) লাভজনক হয়নি এবং তারা হিদায়াতও লাভ করেনি।

বাংলা উচ্চারণ

উলা-য়িকাল্ লাযীনাশ্ তারা-য়ুদ্ব্ দ্বোয়ালা-লাতা বিল্ হুদা- ফামা- রাবিহাত্ তিজ্বা-রাতুহুম্ অমা- কা-নূ মুহ্তাদীন্।

জহুরুল হক

তাদের উপমা একজনের উদাহরণের মতো যিনি প্রদীপ জ্বালালেন, কিন্তু যখন এর চার পাশের সব - কিছু এ আলোকিত করল তখন তাদের দীপ্তি নিয়ে নিলেন ও তাদের ফেলে রাখলেন ঘোর অন্ধকারে, তাই তারা পথঘাট দেখতে পায় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের উপমা (অবস্থা) হলো এরকম, যেমন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালালো। আগুন যখন তার চারপাশ আলোকিত করে তুললো, তখন তাদের (চোখের) জ্যোতি নিয়ে নিলেন এবং তাদের ছেড়ে দিলেন অন্ধকার রাশিতে, তাই কিছুই দেখতে পায়না তাদের দৃষ্টি।

বাংলা উচ্চারণ

মাছালুহুম্ কামাছালিল্ লাযিস্ তাওক্বাদা না-রান্ ফালাম্মায় আদ্বোয়া-য়াত্ মা- হাওলাহূ যাহাবা ল্লা-হু বিনূরিহিম্ অতারাকাহুম্ ফী জুলুমা-তিল লা-ইয়ুব্ছিরূন্।

জহুরুল হক

কালা, বোবা, অন্ধত্ব, গতিকে তারা ফিরতে পারে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বধির, বোবা, অন্ধ, তাই তারা (হিদায়াতের পথে) ফিরে আসবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মুম্ বুক মুন্ উ'ম্ইয়ুন্ ফাহুম্ লা-ইর্য়াজ্বি'ঊন্।

জহুরুল হক

অথবা আকাশ থেকে আসা ঝড় বৃষ্টির মতো - - তার মাঝে আছে গাঢ় অন্ধকার এবং বজ্রপাত ও বিদ্যুতের ঝলকানি। তারা তাদের গোটা আঙ্গুলগুলো চেপে ধরে তাদের কানের ভেতরে বজ্রের শব্দে মরার ভয়ে। কিন্তু অবিশ্বাসীদের ঘিরে ফেলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথবা (তাদের উপমা হচ্ছে) আকাশ থেকে বর্ষণমুখী মেঘ। তার মধ্যে রয়েছে ঘনঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি আর বিদ্যুতের চমকানি। বজ্রপাতের মৃত্যুভয়ে তারা তাদের কানে আংগুল ঢুকিয়ে রাখে। (এভাবেই) সব দিক থেকে ঘিরে রেখেছেন কাফিরদের।

বাংলা উচ্চারণ

আও কাছোয়াইয়িবিম্ মিনাস্ সামা-য়ি ফীহি জুলুমা-তুওঁ অরা'দুওঁ অবারক্ব্ ইয়াজ্ব্'আলূনা আছোয়া-বি'আহুম্ ফীয় আ-যা-নিহিম্ মিনাছ্ ছওয়া-'ইক্বি হাযারাল্ মাওত্ অল্লা-হু মুহীত্ব ুম্ বিল্কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

বিদ্যুতের ঝলকানি তাদের দৃষ্টি প্রায় ছিনিয়ে নিচ্ছিল। যতবার এ তাদের জন্য ঝিলিক দেয়, তারা এর মধ্যে হেটে চলে, আর যখনি তাদের উপরে অন্ধকার নেমে আসে, তারা দাঁড়িয়ে পড়ে। অথচ যদি ইচ্ছা করতেন তিনি নিশ্চয়ই তাদের শ্রবণশক্তি ও তাদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নিতে পারতেন। নিশ্চয়ই সব - কিছুতে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

বিদ্যুতের চমকানি তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়ার মতো অবস্থা। (বিদ্যুতের চমকে) যখন তারা আলোর ঝিলিক দেখতে পায়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার ছেয়ে যায় তখন দাঁড়িয়ে পড়ে। চাইলে তাদের শ্রবণশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নিতে পারেন। নিশ্চয়ই সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াকা-দুল্ র্বাক্বূ ইয়াখত্বোয়াফু আব্ছোয়া-রাহুম্ কুল্লামায় আদ্বোয়া-য়া লাহুম্ মাশাও ফীহি অইযায় আজ্লামা 'আলাইহিম্ ক্বা-মূ অলাও শা-য়া ল্লা-হু লাযাহাবা বিসাম্'ইহিম্ অআবছোয়া-রিহিম্ ইন্না ল্লা-হা 'আলা- কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।

জহুরুল হক

ওহে মানবজাতি! তোমাদের প্রভুর উপাসনা করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও, যাতে তোমরা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানবজাতি! তোমরা ইবাদত করো তোমাদের রবের, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্বের লোকদেরও। এভাবেই তোমরা রক্ষা পেতে পারো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহান্ না-সু' বুদূ রব্বাকুমুল্ লাযী খালাক্বাকুম্ অল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিকুম্ লা'আল্লাকুম্ তাত্তাক্বূন্।

জহুরুল হক

যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে ফরাশ বানিয়েছেন, আর আকাশকে চাঁদোয়া, আর তিনি আকাশ থেকে পাঠান বৃষ্টি, তা’ দিয়ে তারপর ফলফসল উৎপাদন করেন তোমাদের জন্য রিযেক হিসেবে। অতএব ‌র সাথে প্রতিদ্বন্ধী খাড়া করো না, অধিকন্তু তোমরা জানো।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তিনি তোমাদের সেই মহান রব) যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বানিয়ে দিয়েছেন ফরশ (বিছানা) আর আকাশকে বানিয়েছেন ছাদ এবং তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন আর তার সাহায্যে উৎপন্ন করেছেন নানা রকম ফলফলারি, যা তোমাদের জন্যে রিযিক (জীবিকা)। সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্যে কাউকেও প্রতিপক্ষ (সমকক্ষ) সাব্যস্ত করোনা। কারণ, তোমরা তো জানো (তিনি এক এবং একক)।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ আরদ্বোয়া ফিরা-শাওঁ অস্সামা-য়া বিনা-য়াওঁ অআন্যালা মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাআখ্রাজ্বা বিহী মিনাছ্ ছামারা-তি রিয্ক্বাল্লাকুম্ ফালা- তাজ্ব 'আলূ লিল্লা-হি আন্দা-দাঁও অআন্তুম্ তা'লামূন্।

জহুরুল হক

আর যদি তোমরা সন্দেহের মাঝে থাকো এর সন্বন্ধে যা আমাদের বান্দার কাছে অবতারণ করেছি তা হলে এর মতো একটিমাত্র সূরা নিয়ে এস এবং ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আমাদের দাস (মুহাম্মদ)এর প্রতি যা নাযিল করেছি (তা আমাদের নাযিল করা কিনা?) সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থেকে থাকো, তবে সেটির অনুরূপ একটি সূরা তোমরা তৈরি করে আনো; এবং (তা দেখার জন্যে) ছাড়া তোমাদের সাক্ষী - সমর্থকদেরকেও ডেকে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ কুন্তুম্ ফী রাইবিম্ মিম্মা- নায্যাল্না- 'আলা- 'আব্দিনা- ফাতূ বিসূরাতিম্ মিম্ মিছ্লিহী অদ্'ঊ শুহাদা-য়াকুম্ মিন্ দূনি ল্লা-হি ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তোমরা না করো - - আর তোমরা কখনো পারবে না - - তাহলে আগুনকে ভয় কর যার জ্বালানি হচ্ছে মানুষ এবং পাথরগুলো, - - তৈরি হয়েছে অবিশ্বাসীদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি তোমরা (কুরআনের অনুরূপ একটি সূরা) তৈরি করে আনতে না পারো, আর বাস্তব ব্যাপার হলো, তোমরা তা কখনো পারবেনা, তবে নিজেদের রক্ষা করো সেই আগুন থেকে যার জ্বালানি হবে মানুষ আর পাথর। সে আগুন তৈরি করে রাখা হয়েছে কাফিরদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইল্লাম্ তাফ্'আলূ অলান্ তাফ্'আলূ ফাত্তাক্বূন্ না-রাল্লাতী অক্বূদুহান্ না-সু অল্ হিজ্বা-রাতু উ'ইদ্দাত্ লিল্ কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

আর খুশখবর দাও তাদের যারা ঈমান এনেছে আর সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আছে জান্নাত, যাদের নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি! যতবার এ থেকে ফলফসল তাদের খেতে দেয়া হয় তারা বলে - - “এ সেই যা এর আগে আমাদের খাওয়ানো হয়েছিল”, কারণ তাদের এ দেয়া হয় অনুকরণে। আর তাদের জন্য এর মধ্যে আছে পবিত্র সঙ্গিসাথী আর এতে তারা থাকবে চিরকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

শুভ সংবাদ দাও তাদেরকে, যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে: তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত (বাগান আর উদ্যানসমূহ), যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। যখনই সেসব বাগানের ফলফলারি তাদের খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে: এ ধরণের ফলই ইতোপূর্বে (পৃথিবীতে) আমাদের দেয়া হয়েছে। সেসব (বাগানের) ফলফলারি দেখতে হবে দুনিয়ার ফলের মতোই। সেখানে থাকবে তাদের জন্যে পবিত্র জুড়ি এবং সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

অবাশ্শিরিল লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম্ জ্বান্না-তিন্ তাজ্ব ্রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হার্- কুল্লামা- রুযিক্ব ূ মিন্হা- মিন্ ছামারার্তি রিয্ক্বান্ ক্বা-লূ হা-যাল্ লাযী রুযিক্ব ্না- মিন্ ক্বাব্লু অউতূ রুযিক্ব ূ মিন্হা- মিন্ ছামারার্তি রিয্ক্বান্ ক্বা-লূ হা-যাল্ লাযী রুযিক্ব ্না- মিন্ ক্বাব্লু অউতূ বিহী মুতাশা-বিহা- অলাহুম্ ফীহায় আয্ওয়া-জ্ব ুম্ মুত্বোয়াহ্হারাতুওঁ অহুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।

জহুরুল হক

অবশ্যই উপমা ছুড়ঁতে লজ্জিত হন না, যথা মশার অথবা তার চাইতে উপরের কিছুর। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে এ নিশ্চয়ই তাদের প্রভুর কাছ থেকে সত্য। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে - - “ এমন একটি উপমাদ্বারা কী চান?” এর দ্বারা তিনি অনেককে বিপথে চলতে দেন এবং অনেককে এর সাহায্যে সৎপথগামী করেন। তিনি কিন্তু ভ্রষ্টাচারী ভিন্ন কাউকেও এর মাধ্যমে বিপথে চলতে দেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

লজ্জাবোধ করেননা মশা বা তার চাইতেও ক্ষুদ্র কোনো প্রাণীর উপমা দিতে। তবে যারা ঈমান এনেছে তারা জানে, নিঃসন্দেহে এটা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আসা মহাসত্য। আর যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে তারা বলে: ‘এ উপমা দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্য কী?’ এভাবে একটি উপমা দ্বারা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে প্রদর্শন করেন সঠিক পথ। মূলত এর দ্বারা তিনি ফাসিকদের (সীমানালংঘনকারী পাপীদের) ছাড়া আর কাউকে বিপথগামী করেননা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াস্তাহ্য়ীয় আইঁ ইয়াদ্ব্রিবা মাছালাম্ মা- বা'ঊদ্বোয়াতান্ ফামা- ফাওক্বাহা- ফাআম্মাল্লাযীনা আ-মানূ ফাইয়া'লামূনা আন্নাহুল্ হাক্ব ্ক্বূ র্মি রব্বিহিম্ অআম্মাল্ লাযীনা কাফারূ ফাইয়াক্ব ূলূনা মা-যায় আরা-দাল্লা-হু বিহা-যা- মাছালা- ইয়ুদ্বিল্লু বিহী কাছীরাওঁ অইয়াহ্দী বিহী কাছীরা- অমা- ইয়ুদ্বিল্লু বিহীয় ইল্লাল্ ফা-সিক্বীন্।

জহুরুল হক

যারা ‌র চুক্তি ভঙ্গ করে এর সুদৃঢ়ীকরণ হবার পরেও, আর কেটে দেয় যা এর দ্বারা বহাল রাখার জন্য আদেশ করেছিলেন, আর পৃথিবীতে ফসাদ সৃষ্টি করে। তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর সাথে শক্ত অংগীকার করার পরও তা ভেঙ্গে ফেলে এবং যেসব সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো ছিন্ন করে, আর দেশে সৃষ্টি করে অশান্তি, বিশৃংখলা, তারাই আসল ব্যর্থ - ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়ান্ক্ব ুদ্বূনা 'আহদা ল্লা-হি মিম্ বা'দি মীছা-ক্বিহী অইয়াক্ব ্ত্বোয়া'ঊনা মায় আমারা ল্লা-হু বিহীয় আইঁ ইয়ূছলা অইয়ুফ্সিদূনা ফিল্ র্আদ্ব্ উলা-য়িকা হুমুল্ খা-সিরূন্।

জহুরুল হক

তোমরা কেমন করে ‌র প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করো যেহেতু তোমরা নিস্প্রাণ ছিলে, তখন তোমাদের তিনি জীবন দান করেছেন? তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন ও আবার তোমাদের পুনর্জীবিত করবেন, তখন তাঁরই দরবারে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কী করে আল্লাহর প্রতি কুফুরি (অস্বীকৃতি ও অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ) করছো, অথচ তোমরা ছিলে মৃত, তারপর তিনিই তোমাদের হায়াত দান করেছেন। পুনরায় তিনিই তোমাদের মউত দেবেন, তারপর আবার তোমাদের হায়াত দান করবেন এবং সবশেষে তোমাদের ফিরিয়ে নেবেন তাঁর কাছে।

বাংলা উচ্চারণ

কাইফা তাক্ফুরূনা বিল্লা-হি অকুন্তুম্ আম্ওয়া-তান্ ফাআহ্ইয়া-কুম্ ছুম্মা ইউমীতুকুম্ ছুম্মা ইউহ্য়ীকুম্ ছুম্মা ইলাইহি র্তুজা'ঊন্।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি ঘূর্ণায়মান - পৃথিবীতে যা - কিছু আছে সবই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাছাড়া তিনি মহাকাশের প্রতি খেয়াল করলেন, তাই তাদের তিনি সাত আসমানে পরিপূর্ণ করলেন। আর তিনি সব - কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তো তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর সবকিছু। তারপর তিনি উপরের দিকে নজর দেন এবং সেগুলোকে বানিয়ে দেন সপ্তাকাশ। আর প্রতিটি বিষয়ে তিনি অতীব জ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

হুওয়াল্ লাযী খালাক্বা লাকুম্ মা- ফিল্ র্আদ্বি জ্বামী'আন্ ছুম্মাস্ তাওয়ায় ইলাস্ সামা-য়ি ফাসাওওয়া- হুন্না সাব্'আ সামা-ওয়া-ত্ অহুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ কর, - - তোমার প্রভু ফিরিশ্‌তাদের বললেন, “আমি অবশ্যই পৃথিবীতে খলিফা বসাতে যাচ্ছি।” তারা বলল - - “তুমি কি উহাতে এমন কাউকে বসাচ্ছ যে তার মধ্যে ফসাদ সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত করবে, অথচ আমরা তোমার স্তুতির গুণগান করছি ও তোমারই পবিত্রতার জয়গান গাইছি।” তিনি বললেন - - “আমি নিঃসন্দেহে তা জানি যা তোমরা জানো না।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর (স্মরণ করো), যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বলেছিলেন: ‘আমি পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি) নিয়োগ করতে যাচ্ছি।’ তারা বলেছিল: ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও নিয়োগ করবেন, যারা সেখানে ফাসাদ (অশান্তি) সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাসবিহ করছি আর আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।' (তাদের একথার জবাবে) তিনি বলেছিলেন: ‘আমি জানি যা তোমরা জানোনা।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বা-লা রব্বুকা লিল্ মালা-য়িকাতি ইন্নী জ্বা-'ইলুন্ ফিল্ আরদ্বি খালীফাহ্ ক্বা-লূয় আতাজ্ব ্'আলু ফীহা- মাইঁ ইয়ুফ্সিদু ফীহা- অইয়াস্্ফিকুদ্ দিমা-য়া অনাহ্নু নুসাব্বিহু বিহাম্দিকা অনুক্বাদ্দিসু লাক্ ক্বা-লা ইন্নীয় আ'লামু মা-লা-তা'লামূন্।

জহুরুল হক

তখন তিনি আদমকে নামাবলী - - তাদের সব - কিছু শিখিয়ে দিলেন, তারপর তিনি ফিরিশ্‌তাদের কাছে তাদের স্থাপন করলেন ও বললেন, - - “আমাকে এই সমস্তের নামাবলী বর্ণনা কর, যদি তোমরা সঠিক হয়ে থাকো।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তিনি তালিম (শিক্ষা) দিলেন আদমকে (সব কিছুর) নাম। আর সেগুলো উপস্থাপন করলেন ফেরেশতাদের সামনে। তাদের বললেন: এই জিনিসগুলোর নাম (পরিচয়) আমাকে বলো যদি তোমরা সত্য বলে থাকো।

বাংলা উচ্চারণ

অ'আল্লামা আ-দামাল্ আস্মা-য়া কুল্লাহা-ছুম্মা 'আরাদ্বোয়াহুম্ 'আলাল্ মালা-য়িকাতি ফাক্বা-লা আম্বিয়ূনী বিআস্মা -য়ি হায় উলা-য়ি ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

জহুরুল হক

তারা বলল - - “তোমারই সব মহিমা! আমাদের যা শিখিয়েছ তা ছাড়া আমাদের জ্ঞান নেই! নিঃসন্দেহ তুমি নিজেই সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ফেরেশতারা) বললো: আপনি মহান, আমাদের তো কোনো এলেম নেই আপনি যা তালিম দিয়েছেন - তা ছাড়া। নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী এবং মহা প্রজ্ঞাময়।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লূ সুব্হা-নাকা লা-'ইল্মা লানায় ইল্লা- মা- 'আল্লাম্তানা- ইন্নাকা আন্তাল্ 'আলীমুল্ হাকীম্।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - “হে আদম! এ - সবের নামাবলী এদের কাছে বর্ণনা কর।” তাই সে যখন তাদের কাছে এ - সবের নামাবলী বর্ণনা করল, তিনি বললেন - - “আমি কি তোমাদের বলি নি যে আমি নিশ্চয়ই মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রহস্যসব জানি? আর আমি জানি যা তোমরা প্রকাশ করেছ, আর যা তোমরা লুকিয়ে রেখে চলেছ।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘হে আদম! এদের নাম (পরিচয়) সম্পর্কে তাদের অবহিত করো।' তারপর সে যখন তাদের নাম (পরিচয়) সম্পর্কে তাদের অবহিত করলো, তখন তিনি বললেন: ‘আমি কি তোমাদের বলিনি, আমি জানি মহাকাশ এবং পৃথিবীর ( বিষয়সমূহ), আর যা কিছু তোমরা ব্যক্ত করো এবং যা কিছু রাখো অব্যক্ত?

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা ইয়ায় আ-দামু আম্বিহুম্ বিআস্মা-য়িহিম্ ফালাম্মায় আম্বায়াহুম্ বিআস্মা-য়িহিম্ ক্বা-লা আলাম্ আক্বূল্ লাকুম্ ইন্নীয় আ'লামু গাইবাস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি অআ'লামু মা-তুব্দূনা অমা- কুন্তুম্ তাক্তুমূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা ফিরিশ্‌তাদের বললাম - - “আদমের প্রতি সিজদা করো।” সুতরাং তারা সিজদা করল, কিন্তু ইবলিস করলনা, কারণ সে ছিল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

(আরো স্মরণ করো) যখন আমরা ফেরেশতাদের বলেছিলাম: ‘সাজদা করো আদমকে’, তখন তারা সবাই সাজদা করলো ইবলিস্ ছাড়া। সে (সাজদা করতে) অস্বীকার করলো, অহংকার করলো এবং সে অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো কাফিরদের।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বূল্না- লিল্মালা-য়িকাতিস্ জ্ব ুদূ লিআ-দামা ফাসাজ্বাদূয় ইল্লায় ইব্লীস্ আবা-অস্তাক্বারা অকা-না মিনাল্ কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

আর আমরা বললাম, - - “হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী এই বাগানে অবস্থান কর, আর সেখান থেকে যখন - যেখানে ইচ্ছা কর ভরপুরভাবে পানাহার কর, কিন্তু এই বৃক্ষের ধারেকাছেও যেও না, নতুবা তোমরা দুরাচারদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তখন আমরা আদমকে বললাম: হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী বসবাস করো জান্নাতে এবং সেখান থেকে যা খুশি আনন্দের সাথে খাও; তবে নিকটেও যেয়োনা এই গাছটির, তাহলে অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে যালিমদের (অন্যায়কারীদের)।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বূল্না- ইয়ায় আ-দামুস্ কুন্ আন্তা অযাওজ্ব ুকাল্ জ্বান্নাতা অকুলা- মিনহা- রাগাদান্ হাইছু শি'তুমা- অলা-তাক্ব ্রাবা- হা-যিহিশ্ শাজ্বারাতা ফাতাকূনা- মিনাজ্ জোয়া-লিমীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু শয়তান তাদের সেখান থেকে পদস্খলিত করল, আর যেখানে তারা থাকত সেখান থেকে তাদের বের করে দিল। তখন আমরা বললাম - - “তোমরা অধঃপাতে যাও, তোমাদের কেউ কেউ একে অন্যের শত্রু। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে আছে জিরানোর স্থান ও কিছু সময়ের সংস্থান।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর শয়তান তাদের দুজনকেই (আমার হুকুম পালন থেকে) পদস্খলন ঘটায় এবং যে অবস্থার মধ্যে তারা ছিলো তা থেকে বের করে ছাড়ে। তখন আমরা (আদম এবং শয়তানকে) বললাম: তোমরা সবাই নেমে (বেরিয়ে) যাও। (জেনে রাখবে) তোমরা একে অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে একটা সময় পর্যন্ত অবস্থান এবং জীবনোপকরণ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআযাল্লাহুমাশ্ শাইত্বোয়া-নু 'আন্হা- ফাআখ্রাজ্বাহুমা- মিম্মা-কা-না- ফীহি অক্বূল্নাহ্ বিত্ব ূ বা'দ্ব ুকুম্ লিবা'দ্বিন্ 'আদুওয়্যুন্ অলাকুম্ ফিল্ র্আদ্বি মুস্তার্ক্বারুওঁ অমাতা-উ'ন্ ইলা-হীন্।

জহুরুল হক

তখন আদম তার প্রভুর কাছ থেকে কিছু কথা শিখে নিলে, তাই তিনি তার দিকে ফিরলেন। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই সদা ফেরেন, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে সময় আদম তার রবের কাছ থেকে কয়েকটি কথা (ক্ষমা চাওয়া ও তওবা কবুল করার জন্যে) লাভ করেছিল। তখন তিনি তার তওবা কবুল করে নেন। কারণ তিনিই তো তওবা কবুলকারী (পরম ক্ষমাশীল) অতীব দয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

ফাতালাক্ব ্ক্বায় আ-দামু র্মি রব্বিহী কালিমা-তিন্ ফাতা-বা 'আলাইহ্ ইন্নাহূ হুঅত তাওঅ-বুর রাহীম্।

জহুরুল হক

আমরা বললাম - - “তোমরা সব্বাই মিলে এখান থেকে নেমে পড়ো। কিন্তু যদি তোমাদের কাছে আমার তরফ থেকে হেদায়ত আসে, তবে যারা আমার পথনির্দেশ মেনে চলবে তাদের উপর কিন্তু কোনো ভয় নেই, আর তারা নিজেরা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বললাম: ‘তোমরা সবাই এখান (জানণাত) থেকে নেমে যাও, তারপর যখনই আমার কাছ থেকে তোমাদের কাছে ‘হুদা’ (নবী ও কিতাব) আসবে, তখন যারাই আমার ‘হুদার’ অনুসরণ করবে,তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুশ্চিন্তাও থাকবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বূল্নাহ্ বিত্ব ূ মিন্হা- জ্বামী'আন্ ফাইম্মা- ইয়াতিইয়ান্নাকুম্ মিন্নী হুদান্ ফামান্ তাবি'আ হুদা-ইয়া ফালা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

জহুরুল হক

“কিন্তু যারা অবিশ্বাস পোষণ করে ও আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে, তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, তারা তার মধ্যে থাকবে দীর্ঘকাল।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা (আমার হুদার প্রতি) কুফুরি করবে এবং অস্বীকার করবে আমার আয়াত (নিদর্শন)সমূহ, তারা হবে ‘আস্হাবুন নার’ (আগুনের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কাফারূ অকায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনায় উলা-য়িকা আছ্হা-বুন্ না-রি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।

জহুরুল হক

হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আমার নিয়ামত স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের প্রদান করেছিলাম, আর আমার সাথের চুক্তি তোমরা বহাল রাখো, আমিও তোমাদের সাথের চুক্তি বহাল রাখব। আর আমাকে, শুধু আমাকে, তোমরা ভয় করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল ! স্মরণ করো আমার নিয়ামত - এর (অনুগ্রহের) কথা, যা আমি দান করেছিলাম তোমাদের, আর পূর্ণ করো আমার সাথে করা তোমাদের অংগীকার, তাহলে আমিও তোমাদের সাথে আমার অংগীকার পূর্ণ করবো। আর শুধুমাত্র আমাকেই ভয় করো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-বানীয় ইস্রা-য়ীলায্ কুরূ নি'মাতিইয়াল্ লাতীয় আন্'আম্তু 'আলাইকুম্ অআওফূ বি'আহ্দীয় ঊফি বি'আহ্দিকুম্ অইইয়া-ইয়া র্ফাহাবূন্।

জহুরুল হক

আর আমি যা অবতারণ করেছি তাতে তোমরা ঈমান আনো, - - তোমাদের কাছে যা রয়েছে তার সত্য - সমর্থনরূপে, এমতাবস্থায় তোমরা এতে অবিশ্বাসকারীদের পুরোভাগে থেকো না, আর আমার প্রত্যাদেশের বিনিময়ে তুচ্ছ বস্তু কামাতে যেও না, আর আমাকে, শুধু আমাকে, তোমরা ভয় - শ্রদ্ধা করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ঈমান আনো আমার নাযিল করা এ কিতাবের (কুরআনের) প্রতি, যা তোমাদের সাথে থাকা (তাওরাত ও ইনজিল) কিতাবের সত্যায়নকারী। এর প্রতি তোমরাই প্রথম (অস্বীকারকারী) হয়োনা। আর আমার আয়াত সমূহের (অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজিলের) বিনিময়ে তুচছ মূল্য গ্রহণ করোনা। আর আমাকে এবং কেবল আমাকেই ভয় করো।

বাংলা উচ্চারণ

অআ-মিনূ বিমায় আন্যাল্তু মুছোয়াদ্দিক্বাল লিমা- মা'আকুম্ অলা- তাকূনূয় আওওয়ালা কা-ফিরিম্ বিহী অলা-তাশ্তারূ বিআ-ইয়া-তী ছামানান্ ক্বালীলাওঁ অইইয়া-ইয়া ফাত্তাক্ব ূন্।

জহুরুল হক

আর সত্যকে তোমরা মিথ্যার পোশাক পরিয়ো না বা সত্যকে গোপন কর না, অথচ তোমরা জানো।

আবদুস শহীদ নাসিম

মিশিয়ে ফেলোনা হক (সত্য) - কে বাতিলের সাথে এবং সত্য কথা গোপন করোনা। অথচ তোমরা জানো (সত্য বিষয়টি কী)?

বাংলা উচ্চারণ

অলা- তাল্বিসুল্ হাক্ব ্ক্বা বিল্বা-ত্বিলি অতাক্তুমুল্ হাক্ব ্ক্বা অআন্তুম্ তা'লামূন্।

জহুরুল হক

আর তোমরা কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো, আর রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কায়েম করো, যাকাত দিয়ে দাও এবং রুকু করো রুকুকারীদের সাথে।

বাংলা উচ্চারণ

ওয়া আক্বীমুছ্ ছলা-তা অআ-তুয্ যাকা-তা র্অকা'ঊ মা'র্আ রা-কি'ঈন্।

জহুরুল হক

তোমরা কি লোকজনকে ধার্মিকতা করতে আদেশ কর আর নিজের বেলায় স্রেফ ভুলে যাও, অথচ তোমরা ধর্মগ্রন্থ পড়ে থাক? তোমাদের কি কান্ডজ্ঞান নেই?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা মানুষকে ভালো ও ন্যায় কাজের আদেশ দেবে আর (এক্ষেত্রে) ভুলে যাবে নিজেদের (ভালো হবার) কথা? অথচ তোমরা তিলাওয়াত করছো কিতাব (তাওরাত ও ইনজিল)। তোমাদের কি আকল - বিবেক বলতে কিছুই নেই?

বাংলা উচ্চারণ

আতামুরূনান্ না-সা বির্ল্বিরি অতান্সাওনা আন্ফুসাকুম্ অআন্তুম্ তাত্লূনাল্ কিতা-ব্ আফালা-তা'ক্বিলূন্।

জহুরুল হক

আর তোমরা ধৈর্য ধরে ও পড়ে সাহায্য কামনা করো। আর এটি নিশ্চয়ই বড় কঠিন, শুধু বিনয়ীদের ছাড়া, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সাহায্য চাও সবর ও সালাতের মাধ্যমে। কিন্তু এটা বড়ই কঠিন কাজ; তবে তাদের জন্যে (কঠিন) নয়, যারা আল্লাহর প্রতি বিনীত - অনুগত,

বাংলা উচ্চারণ

অস্তা'ঈনূ বিছ্ছোয়াব্রি অছ্ছলা-হ্ অইন্নাহা- লাকাবীরাতুন্ ইল্লা- 'আলাল্ খা-শি'ঈন্।

জহুরুল হক

যারা স্মরণ রাখে যে তারা নিশ্চয়ই তাদের প্রভুর সাথে মোলাকাত করতে যাচ্ছে, আর তারা অবশ্যই তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বিশবাস করে, তাদের প্রভুর সাথে তাদের অবশ্যি মোলাকাত (সাক্ষাত) হবে এবং তারা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়াজুন্ন ূনা আন্নাহুম্ মুলা-ক্ব ূ রব্বিহিম্ অআন্নাহুম্ ইলাইহি রা-জ্বি'ঊন্।

জহুরুল হক

হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আমার নিয়ামত স্মরণ করো যা আমি তোমাদের প্রদান করেছিলাম ও কিভাবে মানবগোষ্ঠীর উপর তোমাদের মর্যাদা দিয়েছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল! স্মরণ করো আমার নিয়ামতের কথা, যা আমি দান করেছিলাম তোমাদের, আর সেই (কথাটাও স্মরণ করো) যে, আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছিলাম বিশ্ববাসীর উপর।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-বানীয় ইস্রা-য়ীলায্ কুরূ নি'মাতিইয়াল্লাতীয় আন্'আম্তু 'আলাইকুম্ অআন্নী ফাদ্ব ্দ্বোয়াল্তুকুম্ 'আলাল্ 'আ- লামীন্।

জহুরুল হক

আর সতর্কতা অবলন্বন করো এমন এক দিনের একজন অন্যজনের কাছ থেকে কোনো প্রকার সাহায্য পাবে না, আর তার থেকে কোনো সুপারিশ কবুল করা হবে না বা তার থেকে কোনো খেসারতও নেওয়া হবে না, আর তাদের সাহায্য দেয়া হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সতর্ক হও সেই দিনটির ব্যাপারে, যেদিন কেউ কারো কিছুমাত্র কাজে আসবেনা, যেদিন কারো শাফায়াত কবুল করা হবেনা, যেদিন কারো কাছ থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবেনা এবং যেদিন (পাপিষ্ঠদের) কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাক্ব ূ ইয়াওমাল্ লা-তাজ্ব্ ্যী নাফ্সুন্ 'আন্ নাফ্সিন্ শাইয়াওঁ অলা-ইয়ুক্ব ্বালু মিন্হা-শাফা-'আতুওঁ অলা- ইয়ুখাযু মিন্হা- 'আদ্লুওঁ অলা-হুম্ ইয়ুন্ছোয়ারূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমাদের আমরা ফিরআউনের লোকদের থেকে মুক্ত করেছিলাম, যারা তোমাদের নির্যাতন করেছিল কঠোর যন্ত্রণায়, তারা হত্যা করত তোমাদের পুত্র সন্তানদের ও বাঁচতে দিত তোমাদের নারীদের। আর এতে তোমাদের জন্যে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে ছিল কঠোর পরীক্ষা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, আমি যখন তোমাদের নাজাত দিয়েছিলাম ফেরাউনের লোকদের (দাসত্বের কবল) থেকে। যারা তোমাদের নিমজ্জিত করে রেখেছিল কঠিন আযাবে, জবাই করে ফেলছিল তোমাদের পুত্র সন্তানদের, আর জীবিত রাখছিল তোমাদের কন্যা সন্তানদের। তোমাদের এই অবস্থাটা ছিলো তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে একটা বড় পরীক্ষা।

বাংলা উচ্চারণ

অইয নাজ্জ্বাইনা-কুম্ মিন্ আ-লি র্ফি'আওনা ইয়াসূমূনাকুম্ সূ-য়াল্ 'আযা-বি ইয়ুযাব্বিহূনা আব্না-য়াকুম্ অইয়াস্তাহ্ইয়ূনা নিসা-য়াকুম্ অফী যা-লিকুম্ বালা-য়ুম্ র্মি রব্বিকুম্ 'আজীম্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা তোমাদের জন্যে সাগরকে করেছিলাম বিভক্ত, তাতে উদ্ধার করেছিলাম তোমাদের, আর আমরা ডুবিয়েছিলাম ফিরআউনের লোকদের, আর তোমরা চেয়ে দেখেছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমরা ফারাক (ভাগ) করে দিয়েছিলাম তোমাদের জন্যে সাগরকে এবং এভাবেই নাজাত (মুক্ত) করে এনেছিলাম তোমাদের, আর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম ফেরাউনের লোকদের তোমাদের চোখের সামনেই।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ফারাক্ব ্না- বিকুমুল্ বাহ্রা ফাআন্জ্বাইনা-কুম্ অআগ্রাক্ব ্নায় আ-লা র্ফি'আওনা অআন্তুম্ তান্জুরূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা মূসার সঙ্গে চল্লিশ রাত্রি নির্ধারিত করেছিলাম, তখন তোমরা বাছুরকে তাঁর অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করলে, আর তোমরা হলে অন্যায়কারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমি মূসাকে চল্লিশ রাতের (দিবা - রাতের) জন্যে ডেকে নিয়েছিলাম, তখন তোমরা তার ওখানে চলে যাবার পর গো - বাছুরকে নিজেদের উপাস্য বানিয়ে নিলে, তখন তোমরা হয়ে পড়েছিলে যালিম।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ অ-'আদ্না- মূসায় র্আবা'ঈনা লাইলাতান্ ছুম্মাত্তাখায্তুমুল্ 'ইজ্ব ্লা মিম্ বা'দিহী অআন্তুম্ জোয়া-লিমূন্।

জহুরুল হক

শেষে এর পরেও আমরা তোমাদের ক্ষমা করেছিলাম যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এতো বড় অপরাধ করার পরও আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলাম, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞ হয়ে চলো।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা 'আফাওনা- 'আন্কুম্ মিম্ বা'দি যা-লিকা লা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম ধর্মগ্রন্থ তথা যাতে তোমরা সুপথগামী হতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, (তোমরা যখন গো - পূজার যুলুমে লিপ্ত ছিলে) ঠিক সেসময় আমি মূসাকে কিতাব (তাওরাত) এবং (দীন ও শরীয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশাবলি) দিয়ে পাঠালাম, যাতে করে তোমরা হিদায়াতের পথে আসো।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ আ-তাইনা- মূসাল্ কিতা-বা অর্ল্ফুক্বা-না লা'আল্লাকুম্ তাহ্তাদূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর লোকদের বলেছিলেন, - - “হে আমার অনুচরবর্গ, তোমরা নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি অন্যায় করেছ বাছুরকে গ্রহণ ক’রে, অতএব তোমাদের সৃষ্টিকর্তার দিকে ফেরো ও নিজেদের সংহার করো। ইহা তোমাদের সৃষ্টিকর্তার সমীপে তোমাদের জন্য মঙ্গলময়।” তাই তিনি তোমাদের দিকে ফিরলেন। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই সদা ফেরেন, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, মূসা (ফিরে এসে) যখন তোমাদের বলেছিল: হে আমার কওম (জাতি)! নিঃসন্দেহে গো - বাছুরকে উপাস্য বানিয়ে তোমরা নিজেদের প্রতি বিরাট যুলুম করেছো, তাই তোমরা তোমাদের স্রষ্টার কাছে তওবা করো (অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাও) এবং নিজেদের হত্যা করো। এরি মধ্যে তোমাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে তোমাদের স্রষ্টার কাছে। তখন তিনি তোমাদের তওবা কবুল করে নিয়েছিলেন। কারণ তিনি তো তওবা কবুলকারী - ক্ষমাশীল দয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বা-লা মূসা- লিক্বাওমিহী ইয়া-ক্বাওমি ইন্নাকুম্ জোয়ালাম্তুম্ আন্ফুসাকুম্ বিত্তিখা-যিকুমুল্ 'ইজ্ব ্লা ফাতূবূূয় ইলা- বা-রিয়িকুম্ ফাক্ব ্তুলূূয় আন্ফুসাকুম্ যা-লিকুম্ খাইরুল্লাকুম্ 'ইন্দা বা-রিয়িকুম্ ফাতা-বা 'আলাইকুম্ ইন্নাহূ হুওয়াত্ তাও ওয়া-বুর রাহীম্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমরা বললে - - “হে মূসা, আমরা তোমার প্রতি কখনো ঈমান আনব না যে পর্যন্ত না আমরা প্রকাশ্যভাবে ‌কে দেখতে পাই।” তাই বজ্রাঘাত তোমাদের পাকড়ালো, আর তোমরা তাকিয়ে থাকলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমরা যখন বলেছিলে: ‘হে মূসা ! আমরা আল্লাহকে সচক্ষে (তোমার সাথে কথা বলতে) না দেখলে বিশ্বাস করবোনা (যে, তিনি তোমার সাথে কথা বলেন।)’ তখন আকস্মিক বজ্রপাত তোমাদের মৃত্যু ঘটিয়ে দিয়েছিল - তোমাদের চোখের সামনেই।

বাংলা উচ্চারণ

অইয ক্বূল্তুম্ ইয়া-মূসা- লান্ নুমিনা লাকা হাত্তা- নারাল্লা-হা জ্বাহ্রাতান্ ফাআখাযাত্কুমুছ্ ছোয়া-'ইক্বাতু অআন্তুম্ তান্জুরূন্।

জহুরুল হক

তারপর তোমাদের জাগিয়ে তুললাম তোমাদের মৃতবৎ হবার পরে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সেই মৃত্যুর পর পুনরায় আমরা তোমাদের বে’ছত (পুনর্জীবন) দান করি, যাতে করে তোমরা শোকরগুজার হও।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা বা'আছ্না-কুম্ মিম্ বা'দি মাওতিকুম্ লা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।

জহুরুল হক

আর তোমাদের উপরে আমরা মেঘ দিয়ে আচ্ছাদন করেছিলাম, আর তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম 'মান্না’ ও 'সালওয়া’। “তোমাদের যে - সব ভাল ভাল রিযেক দিয়েছি তা খেয়ে যাও।” কিন্তু তারা আমাদের কোনো অনিষ্ট করে নি, বরং তারা নিজেদেরই প্রতি অনিষ্ট করছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া, (খোলা তীহ্ প্রান্তরে) আমরা তোমাদের ছায়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম মেঘমালা দিয়ে এবং তোমাদের (আহারের জন্যে) নাযিল করেছিলাম মান্না আর সালওয়া। বলেছিলাম: আমরা যে উত্তম পবিত্র জীবিকা তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে খাও। (কিন্তু তারা যুলুম করলো) তবে তারা আমাদের প্রতি যুলুম করেনি, বরং যুলুম তারা নিজেদের প্রতিই করেছে।

বাংলা উচ্চারণ

অজল্লাল্না-'আলাইকুমুল গামা-মা অআন্যাল্না- 'আলাইকুমুল্ মান্না অস্সাল্ওয়া- কুলূ মিন্ ত্বইয়্যিবা-তি মা-রাযাক্ব ্না-কুম্ অমা-জোয়ালামূনা- অলা-কিন্ কা-নূ- আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা বললাম - - “এই শহরে প্রবেশ কর, আর সেখান থেকে যখন - যেখানে ইচ্ছা কর ভরপুরভাবে পানাহার করো, আর সদর - দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ করো ও বলো 'হিৎতাতুন’, যাতে তোমাদের দোষত্রুটিগুলো আমরা তোমাদের জন্য ক্ষমা করে দিতে পারি, আর বাড়িয়ে দিতে পারি শুভকর্মীদের জন্য।”

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা যখন বলেছিলাম: তোমরা এই জনপদে (জেরুযালেম - এ) প্রবেশ করো, আর সেখানকার যেখান থেকে ইচ্ছে খাও আনন্দচিত্তে। তবে শহরের মূলগেইট দিয়ে ঢুকবে সাজদা করে (বিনীত হৃদয়ে) এবং (ঢোকার সময়) বলবে: ‘হিত্তাতুন হিত্তাতুন’। তাহলেই আমরা তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবো এবং কল্যাণকামীদের প্রতি আমাদের অনুগ্রহের মাত্রা বাড়িয়ে দেবো।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বূল্নাদ্ খুলূ হা-যিহিল্ র্ক্বাইয়াতা ফাকুলূ মিন্হা-হাইছু শিতুম্ রাগাদাওঁ অদ্খুলুল্ বা-বা সুজ্জ্বাদাওঁ অক্ব ূলূ হিত্তাতুন নার্গ্ফিলাকুম্ খাত্বোয়া-ইয়া-কুম্ অসানাযীদুল্ মুহ্সিনীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু যারা অন্যায় করে তারা যা বলা হয়েছিল তার বিপরীত কথায় তা বদলে দিল। তাই যারা অন্যায় করেছিল তাদের উপরে আকাশ থেকে আমরা মহামারী পাঠিয়েছিলাম, কারণ তারা পাপাচার করছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যারা (সেখানে ঢুকে) যুলুম (অত্যাচার) - এ লিপ্ত হয়, তারা তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া কথাটি বদল করে তার স্থলে অন্যকথা বলছিল। ফলে যারা যুলুম করলো, আমরা আকাশ থেকে তাদের উপর নাযিল করলাম আযাব, কারণ তারা করেছিল ফাসেকি (সীমালংঘন)।

বাংলা উচ্চারণ

ফাবাদ্দালাল্ লাযীনা জোয়ালামূ ক্বাওলান্ গাইরাল্লাযী ক্বীলা লাহুম্ ফাআন্যাল্না- 'আলাল্ লাযীনা জোয়ালামূ রিজ্ব ্যাম মিনাস্ সামা-য়ি বিমা- কা-নূ ইয়াফ্সুক্ব ূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর লোকদের জন্য পানি চাইলেন, তাই আমরা বললাম, - - “তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।” তখন তা থেকে বারোটি প্রস্রবন বেরিয়ে পড়লো। প্রত্যেক উপদল নিজ জলপান - স্থান চিনে নিলো। “‌র রিযেক থেকে খাও ও পান করো, আর ফসাদী হয়ে দুনিয়াতে অন্যায়াচরণ করো না।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন মূসা (তীহের মরু প্রান্তরে) তার কওমের জন্যে পানি প্রার্থনা করেছিল, তখন আমরা তাকে বলেছিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে এই পাথরটিতে আঘাত করো।' (মূসার আঘাতের) ফলে তা (পাথরটি) থেকে প্রবাহিত হয়ে পড়ে বারটি ঝর্ণাধারা। প্রত্যেক (গোত্রের) লোকেরা চিনে নেয় নিজেদের পানি গ্রহণের স্থান (নিজস্ব ঝর্ণা)। আমি তাদের বললাম: ‘পানাহার করো আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে এবং দেশে অশান্তি সৃষ্টি করোনা দুষ্কৃতকারীদের মতো।’

বাংলা উচ্চারণ

অইযিস তাস্ক্বা- মূসা- লিক্বাওমিহী ফাক্বূল্নাদ্ব্ রিব্ বি'আছোয়া-কাল্ হার্জ্বা ফান্ফাজ্বারাত্ মিন্হুছ্ নাতা- 'আশ্রাতা 'আইনা- ক্বাদ্ 'আলিমা কুল্লু উনা-সিম্ মাশ্রাবাহুম্ কুলূ অশ্রাবু র্মি রিয্ক্বিল্লা-হি অলা-তাছাও ফিল্ র্আদ্বি মুফ্সিদীন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমরা বলেছিলে - - “হে মূসা! আমরা একই খাবারে সন্তষ্ট থাকতে পারছি না, তাই তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো যাতে তিনি আমাদের জন্য উৎপন্ন করেন মাটি যা উৎপাদিত করে, যেমন তার সবজি ও তার শস্য ও তার মসূর ও তার পেয়াঁজ।” তিনি বললেন - - “তোমরা কি বদল করে নিতে চাও যা নিকৃষ্ট তার সঙ্গে যা উৎকৃষ্ট? নেমে যাও কোনো মিশরে, তাহলে তোমরা যা চাও তাই পাবে।” আর ওরা নিজেদের উপরে লাঞ্ছনা ও দুর্দশা ঘটালো, আর তারা ‌র রোষ টেনে আনল তাই হলো, কারণ তারা ‌র আয়াতসমূহে অবিশ্বাস করছিল, আর নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করতে যাচ্ছিল। তাই হলো, কেননা তারা অবাধ্য হয়েছিল ও সীমালঙ্ঘন করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর (স্মরণ করো) যখন তোমরা বলেছিলে: ‘হে মূসা! আমরা তো (দীর্ঘদিন) এক ধরণের খাদ্যের উপর সবর করে থাকতে পারিনা। সুতরাং, তুমি তোমার রবের কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি যেনো আমাদের জন্যে জমিন থেকে উৎপন্ন শাক - সবজি, শশা, গম (বা রসূন), পেয়াজ ও ডালের ব্যবস্থা করে দেন।’ (তখন মূসা তোমাদের) বলেছিল: ‘তোমরা কি একটা উত্তম খাদ্যকে আদনা (নিম্ন মানের) খাদ্যের সাথে বদল করতে চাও? তবে কোনো শহরে চলে যাও, তোমরা যা চাইছো, সেখানে গেলে সেগুলো পাবে।’ শেষ পর্যন্ত তারা হীনতা ও দারিদ্রে নিমজ্জিত হলো এবং কামাই করলো আল্লাহর গজব। তাদের এই (লাঞ্ছনার) কারণ ছিলো এই যে, তারা কুফুরি করেছিল আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি এবং নবীদের কতল করছিল না - হকভাবে। এই ধরণের অবাধ্যতা আর সীমালংঘনের কারণেই তারা পতিত হয়েছিল এই অবস্থায়।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বূল্তুম্ ইয়া-মূসা- লান্ নাছ্বিরা 'আলা- ত্বো'আ-মিওঁ ওয়া-হিদিন্ ফাদ্'উ লানা- রব্বাকা ইয়ুখ্রিজ্ব্ ্ লানা- মিম্মা- তুম্বিতুল্ র্আদ্বু মিম্ বাক্ব ্লিহা- অক্বিছ্ছা-য়িহা- অফূমিহা- অ'আদাসিহা- অ বাছোয়ালিহা- ক্বা-লা আতাস্তাব্দিলূনাল্ লাযী হুওয়া আদ্না-বিল্লাযী হুওয়া খার্ই ইহ্বিত্ব ূ মিছ্রান্ ফাইন্না লাকুম্ মা-সায়াল্তুম্ অদ্বুরিবাত্ 'আলাইহিমুয্ যিল্লাতু অল্মাস্কানাতু অবা-য়ূ বিগাদ্বোয়াবিম্ মিনাল্লা-হ্ যা-লিকা বিআন্নাহুম্ কা-নূ ইয়াক্ফুরূনা বিআ-ইয়া-তি ল্লা-হি অইয়াক্ব্ ্ তুলূনান্ নাবিইয়ীনা বিগাইরিল্ হাক্ব ্ যা-লিকা বিমা- 'আছোয়াও অ কা-নূ ইয়া'তাদূন্।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে, আর যারা ইহুদীয় মত পোষণ করে ও খ্রীস্টান ও সাবেঈন - - যারাই ‌র প্রতি তাঁর একত্বে ও আনুগত্যে ঈমান এনেছে ও আখেরাতের দিনের প্রতি, আর সৎকর্ম করে, তাদের জন্য নিজ নিজ পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রভুর দরবারে, আর তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা নিজেরা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, আর যারা ইহুদি হয়েছে এবং যারা নাসারা ও সাবি, তাদের মধ্য থেকে যারাই ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাদের জন্যে পুরস্কার রয়েছে তাদের রবের কাছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা মনোকষ্টও পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অল্লাযীনা হা-দূ অন্নাছোয়া-রা- অছ্ছোয়া-বিয়ীনা মান্ আ-মানা বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-খিরি অ'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফালাহুম্ আজ্ব ্রুহুম্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ অলা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম ও তোমাদের উপরে পর্বত উত্তোলন করেছিলাম। “তোমাদের আমরা যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করো, আর এতে যা আছে তা স্মরণ রাখো, যাতে তোমরা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করতে পার।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, আমরা যখন তোমাদের উপর তুর (পাহাড়) তুলে ধরে তোমাদের থেকে পাকা অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম, বলেছিলাম: আমরা তোমাদের যে কিতাব দিয়েছি তা শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যেসব বিধি বিধান রয়েছে সেগুলো যিকির (আলোচনা, অনুশীলন ও অনুবর্তন) করো, তবেই তোমরা রক্ষা পাবে।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ আখায্না- মীছা-ক্বাকুম্ অরাফা'না- ফাওক্বাকুমুত্ব ত্বর্ ূ খুযূ মায় আ-তাইনা-কুম্ বিক্বূওআতিওঁ অয্কুরূ মা-ফীহি লা'আল্লাকুম্ তাত্তাক্ব ূন্।

জহুরুল হক

তারপর তোমরা এর পরেও ফিরে গেলে, কাজেই ‌র প্রসন্নতা ও তাঁর করুণা যদি তোমাদের উপরে না থাকত তবে তোমরা অবশ্যই হতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু এরপরও তোমরা তোমাদের অংগীকার ভংগ করলে। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর ফযল এবং রহমত না হতো, তাহলে অবশ্যি তোমরা ধ্বংস হয়ে যেতে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা তাওয়াল্লাইতুম্ মিম্ বা'দি যা-লিকা ফালাওলা- ফাদ্ব্লুল্লা-হি 'আলাইকুম্ অরাহ্মাতুহূ লাকুন্তুম্ মিনাল্ খা-সিরীন্।

জহুরুল হক

তদুপরি তোমাদের মধ্যে যারা সাব্বাথের নিয়ম লঙঘন করেছিল তাদের কথা নিশ্চয়ই আছে, তাই আমরা তাদের বলেছিলাম - - “তোমরা ঘৃণ্য বানর হয়ে যাও।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালংঘন করেছিল, তাদের বিষয়টা তোমরা অবশ্যি জানো। আমরা তাদের বলেছিলাম: ‘তোমরা হীন - ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ 'আলিম্তুমুল্ লাযীনা' তাদাও মিন্কুম্ ফিস্ সাব্তি ফাক্বূল্না- লাহুম্ কূনূ ক্বিরাদাতান্ খা-সিয়ীন্।

জহুরুল হক

এইভাবে আমরা এটিকে একটি দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম যারা ওদের সমসাময়িক ছিল তাদের জন্য ও যারা ওদের পরবর্তীকালে এসেছিল, আর ধর্মভীরুদের জন্য উপদেশ বিশেষ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই ঘটনাকে আমরা একটা উদাহরণ বানিয়ে দিয়েছি তাদের সমকালীন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে এবং এটাকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের বিষয় বানিয়ে দিয়েছি সচেতন লোকদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাজ্বা'আল্না-হা- নাকা-লা ল্লিমা- বাইনা ইয়াদাইহা- অমা-খাল্ফাহা-অ মাও 'ইজোয়াতাল লিল্মুত্তাকীন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর লোকদের বললেন - - “নিঃসন্দেহ, তোমাদের হুকুম করেছেন তোমরা যেন একটি বক্‌না - যবেহ্ করো।” তারা বললে - - “তুমি কি আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করছ?” তিনি বললেন - - “‌র কাছে আশ্রয় চাইছি যেন আমি জাহিলদের অন্তর্ভুক্ত না হই।”

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যখন মূসা তার কওমকে বলেছিল: ‘ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন একটি গরু যবেহ করতে।’ তারা বললো: ‘তুমি কি আমাদের সাথে বিদ্রুপ করছো?’ সে বললো: ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই জাহিলদের মতো কথা বলা থেকে।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বা-লা মূসা- লিক্বাওমিহীয় ইন্নাল্লা-হা ইয়ামুরুকুম্ আন্ তায্বাহূ বাক্বারাহ্ ক্বালূূয় আতাত্তাখিযুনা- হুযুওয়া- ক্বা-লা আ'ঊযুবিল্লা-হি আন্ আকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্।

জহুরুল হক

তারা বললো - - “তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো যেন তিনি আমাদের পরিস্কার করে দেন সেটি কি রকমের।” তিনি বললেন - - “নিঃসন্দেহ তিনি বলেছেন, সেটি অবশ্যই একটি বক্‌না - যেটি বুড়ো নয় ও বাচ্চাও নয়, এদের মাঝামাঝি মধ্য - বয়সী। অতএব তোমাদের যা আদেশ দেয়া হয়েছে তাই করো।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি যেনো পরিষ্কার করে বলে দেন গরুটা কেমন হবে?’ সে বললো: ‘তিনি () বলেছেন, সেটি হবে এমন একটি গরু যা বুড়াও নয়, কচি বাছুরও নয়, বরং এ উভয়ের মাঝামাঝি মধ্য বয়সের। সুতরাং তোমাদের যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করো।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লুদ'উ লানা- রব্বাকা ইয়ুবাইয়্যিল্লানা- মা-হী ক্বা-লা ইন্নাহূ ইয়াক্ব ূলু ইন্নাহা- বাক্বারাতুল লা-ফা-রিদ্বুওঁ অলা-বিক্র্ 'আওয়া-নুম্ বাইনা যা-লিক্ ফাফ্'আলূ মা- তুমারূন্।

জহুরুল হক

তারা বললো - - “আমাদের জন্য তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো তিনি আমাদের খোলাখুলি বলে দিন তার রঙ কেমন।” তিনি বললেন - - “তিনি অবশ্যই বলেছেন, সেটি নিঃসন্দেহ হলুদ রঙের , তার রঙ অতি উজ্জ্বল - - দর্শকদের কাছে মনোরম।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘(হে মূসা!) তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি যেনো বলে দেন, গরুটির রঙ কি হবে?’ সে (মূসা) বললো: ‘তিনি বলেছেন সেটি হতে হবে হলুদ রঙের এমন গাঢ় উজ্জ্বল বর্ণের যা মুগ্ধ করবে দর্শকদের।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লুদ্'উলানা- রব্বাকা ইয়ুবাইয়্যিল্লানা- মা-লাওনুহা- ক্বা-লা ইন্নাহূ ইয়াক্ব ূলু ইন্নাহা- বাক্বারাতুন্ ছোয়াফ্রা-য়ু ফা-ক্বি'উল্লাওনুহা- তার্সুরুন না-জিরীন্।

জহুরুল হক

তারা বললে - - “তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো আমাদের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিন সেটি কেমন, কারণ সব আমাদের কাছে একাকার লাগে, আর যদি ইচ্ছা করেন, আমরা নিশ্চয় ঠিক পথে চালিত হব।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমাদের জন্যে দোয়া করো তোমার প্রভুর কাছে, তিনি যেনো বলে দেন - আসলে গরুটি কেমন হবে? আমরা গরুটির ধরণ সম্পর্কে সংশয়ে আছি। তবে ইনশাল্লাহ আমরা সঠিক (গরু) টির সন্ধান অবশ্যি পেয়ে যাবো।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লুদ্'উলানা-রব্বাকা ইয়ুবাইয়্যিল লানা- মা-হিয়া ইন্নাল্ বাক্বারা তাশা-বাহা 'আলাইনা- অইন্নায় ইন্শা-য়াল্লা-হু লামুহ্তাদূন্।

জহুরুল হক

তিনি বললেন, “নিঃসন্দেহ তিনি বলছেন, সেটি নিশ্চয়ই এমন যাকে জোয়ালে জোতা হয় নি জমি চাষ করতে, বা ক্ষেতে পানিও দেয় না, সহি - সালামত, যার মধ্যে কোন খুতঁ নেই।” তারা বললে - - “এবার তুমি পুরোপুরি সত্য নিয়ে এসেছো।” সুতরাং তারা তাকে কুরবানি করল, আর দেখালো না যে তারা করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তিনি () বলেছেন, সেটি হবে এমন একটি গরু যেটি কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়নি, না জমি চাষে, আর না পানি সেচে, সুস্থ - সবল নিখুঁত গরু।’ তারা বললো: ‘এবার তুমি সঠিক বর্ণনা নিয়ে এসেছো।’ অতপর তারা সেটি যবেহ করলো, যদিও তারা তা (গরু যবেহ) করতে সহজে প্রস্তুত ছিলোনা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা ইন্নাহূ ইয়াক্ব ূলু ইন্নাহা-বাক্বারাতুল্ লা-যালূলুন্ তুছীরুল্ আরদ্বোয়া অলা-তাস্ক্বিল্ র্হাছা মুসাল্লামাতুল্ লা-শিয়াতা ফীহা- ক্বা-লুল্ আ-না জ্বিতা বিল্হাক্ব্ ফাযাবাহূহা- অমা- কা-দূ ইয়াফ্'আলূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমরা একজনকে কাতল করতে যাচ্ছিলে, তারপর তোমরা এ ব্যাপারে দোষাদোষি করছিলে। আর প্রকাশ করছিলেন যা তোমরা লুকোতে চাইছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, তোমরা যখন এক ব্যক্তিকে কতল (হত্যা) করেছিলে, অতপর পরস্পরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করছিলে। অথচ (তা) বের করে আনার (প্রকাশ করার) সিদ্ধান্ত নেন, তোমরা যা গোপন করছিলে।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বাতাল্তুম্ নাফ্সান্ ফাদ্দা-রাতুম্ ফীহা- অল্লা-হু মুখ্রিজ্ব ুম্ মা- কুন্তুম্ তাক্তুমূন্।

জহুরুল হক

সুতরাং আমরা বললাম - - “তুলনা করো তাঁকে এর কিছু অংশের সাথে।” এইভাবে মৃতবৎকে জীবন দান করেন। আর তিনি তোমাদের দেখাচ্ছেন তাঁর নিদর্শন সমূহ যাতে তোমরা বুঝতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা বলেছিলাম: ‘ওকে (মৃত ব্যক্তির লাশকে) আঘাত করো এটির (যবেহ করা গরুটির) কোনো অংশ দিয়ে।’ এভাবেই জীবিত করবেন মৃতকে এবং তোমাদের দেখাবেন তাঁর নিদর্শন যাতে করে তোমরা আকল খাটিয়ে চলতে পারো।

বাংলা উচ্চারণ

ফাক্বূল্নাদ্ব্ রিবূহু বিবা'দ্বিহা- কাযা-লিকা ইউহ্য়িল্লা-হুল্ মাওতা- অইয়ুরীকুম্ আ-ইয়া-তিহী লা'আল্লাকুম্ তা'ক্বিলূন্।

জহুরুল হক

তারপর তোমাদের হৃদয় এর পরেও কঠিন হলো, পাথরের মতো হয়ে গেল, বরং আরও কঠিন। আর অবশ্য পাথরের মধ্যে এমনও আছে যার মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে ঝরনা। আবার তাদের কিছু যখন চৌচির হয় তখন তা থেকে পানি বেরোয়। আবার তাদের মধ্যে কতক ‌র ভয়ে ভেঙ্গে পড়ে। আর তোমরা যা করছো সে বিষয়ে অজ্ঞাত নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর পরেও কঠিন হয়ে গেলো তোমাদের কলবগুলো (হৃদয়গুলো)। সেগুলো কঠিন হয়ে গেলো পাথরের মতো, কিংবা তার চাইতেও কঠিন। আর নিশ্চয়ই এমন অনেক পাথর আছে, যেগুলো থেকে প্রবাহিত হয় নহর। এমনও অনেক পাথর আছে, যেগুলো ফেটে যায় এবং সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসে পানি। এমন পাথরও আছে যেগুলো আল্লাহর ভয়ে (কাঁপতে কাঁপতে) নিচের দিকে ধ্বসে পড়ে। মোটেও গাফিল নন তোমাদের আমল (কর্মকান্ড) সম্পর্কে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা ক্বাসাত্ ক্বূলূবুকুম্ মিম্ বা'দি যা-লিকা ফাহিয়া কাল্ হিজ্বা-রাতি আও আশাদ্দু কাস্ওয়াহ্ অইন্না মিনাল হিজ্বা-রাতি লামা- ইয়াতাফাজ্জ্বারু মিন্হুল্ আন্হার্- অইন্না মিন্হা- লামা-ইয়াশ্শাক্ব ্ক্বাক্বূ ফাইয়াখ্রুজ্ব ু মিন্হুল্ মা-উ্ অইন্না মিন্হা-লামা-ইয়াহ্বিত্ব ু মিন্ খাশ্ইয়াতিল্লা-হ্ অমাল্লা-হু বিগা-ফিলিন্ 'আম্মা-তা'মালূন।

জহুরুল হক

এরপর কি তোমরা আশা কর যে তারা তোমাদের প্রতি বিশ্বাস করবে? ইতিপূর্বে তাদের একটি দল ‌র বাণী শুনত, তারপর তা পাল্টে দিত উহা বুঝবার পরেও, আর তারা জানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুসলিম উম্মাহ!) এখন বলো, এই লোকদের ব্যাপারেই কি তোমরা আশা করো যে, তারা তোমাদের দাওয়াতের প্রতি ঈমান আনবে? অথচ এদের অবস্থা হলো, এদেরই একটি গ্রুপ আল্লাহর কালাম শুনতো, তারপর বুঝে শুনে তা তাহরিফ (বিকৃত) করতো। অথচ তারা জানতো (এটা আল্লাহর কালাম)।

বাংলা উচ্চারণ

আফাতাত্ব ্ মা'ঊনা আইঁ ইয়ুমিনূ লাকুম্ অক্বাদ্ কা-না ফারীক্বূম্ মিন্হুম্ ইয়াস্মা'ঊনা কালা-মাল্লা-হি ছুম্মা ইয়ুর্হারিফূনাহূ মিম্ বা'দি মা-'আক্বালূহু অহুম ইয়া'লামূন্।

জহুরুল হক

আর যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে যখন তারা মোলাকাত করে তখন বলে - - “আমরা ঈমান এনেছি।” আর যখন তাদের লোকেরা একে অন্যের সাথে নিরিবিলি হয় তখন বলে - - “ তোমাদের কাছে যা প্রকাশ করেছেন তা কি তোমরা ওদের জানিয়ে দিচ্ছ, যাতে ওরা এ - সবের সাহায্যে তোমাদের প্রভুর সামনে তোমাদের সাথে বিতর্ক করে? তোমরা কি তবে বুঝতে পারছ না?”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ইহুদিরা) যখন মোলাকাত করে মুমিনদের সাথে, তখন বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আবার যখন তারা একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে: ‘যে বিষয়গুলো তোমাদের কাছে উন্মুক্ত করেছেন সেগুলো কি তোমরা ওদের (মুসলিমদের) বলে দিচ্ছো? - এতে করে তো ওরা তোমাদের প্রভুর সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে হুজ্জত (প্রমাণ) দাঁড় করাবে, তোমরা কি আকল খাটাওনা?’

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-লাক্বূল লাযীনা আ-মানূ ক্বা-লূূয় আ-মান্না-অইযা- খালা- বা'দ্বুহুম্ ইলা- বা'দ্বিন্ ক্বালূয় আতুহাদ্দিছূনাহুম্ বিমা- ফাতাহাল্লা-হু 'আলাইকুম্ লিইয়ুহা-জ্জ্ব ূকুম্ বিহী 'ইন্দা রব্বিকুম আফালা- তা'ক্বিলূন্।

জহুরুল হক

আর তারা কি জানে না যে নিঃসন্দেহ জানেন যা তারা লুকিয়ে রাখছে ও যা প্রকাশ করছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জানেনা যে, নিশ্চয়ই জানেন, যা তারা গোপন করে এবং যা তারা এলান (ঘোষণা) করে?

বাংলা উচ্চারণ

আওয়ালা- ইয়া'লামূনা আন্নাল্লা-হা ইয়া'লামু মা-ইয়ুর্সিরূনা অমা-ইয়ু'লিনূন্। 78। অমিন্হুম উম্মিয়্যূনা লা-ইয়া'লামূনাল্ কিতা-বা ইল্লায় আমা-নিয়্যা অইন্ হুম্ ইল্লা-ইয়াজুন্ন ূন্।

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে হচ্ছে নিরক্ষর যারা ধর্মগ্রন্থ সন্বন্ধে উপকথার বেশী জানে না, আর তারা শুধু আন্দাজের উপর চলে!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে আরেকদল লোক আছে, যারা উম্মি (নিরক্ষর), তারা কিতাবের এলেম রাখেনা, ভিত্তিহীন আশা ভরসা নিয়ে তারা চলে। নিছক ধারণা অনুমানই তাদের পথ প্রদর্শক।

বাংলা উচ্চারণ

ওয়া মিনহুম উমমিযূনা লা ইয়ালামুনাল ইকতাবা ইল্লা আমানিউযয়ূ ওয়া ইন হুম ইল্লা ইয়াজুননুন।

জহুরুল হক

হায়, কি অভাগা তারা যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে, তারপর বলে - - “ইহা ‌র দরবার থেকে” - - যাতে এর জন্য তারা স্বল্পমূল্য কামাতে পারে। অতএব ধিক্ তাদের প্রতি তাদের হাত যা লিখেছে সেজন্য, আর ধিক্ তাদের প্রতি যা তারা কামাই করে সেজন্য!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাই, ঐসব লোকদের জন্যে ধ্বংস - দুর্ভোগ অবধারিত, যারা নিজেদের হাতে কিতাব লেখে, তারপর লোকদের বলে: ‘এটি আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে।’ সামান্য মূল্যের স্বার্থ ক্রয়ের জন্যে তারা একাজ করে। সুতরাং তাদের জন্যে ধ্বংস তারা নিজেদের হাতে যা রচনা করেছে সেটার জন্যে এবং ধ্বংস তাদের জন্যে এর মাধ্যমে তারা যা কামাই করে সেটার জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাওয়াইলুল্ লিল্লাযীনা ইয়াক্তুবূনাল্ কিতা-বা বিআইদীহিম্ ছুম্মা ইয়াক্ব ূলূনা হা-যা-মিন্ 'ইনদিল্লা-হি লিইয়াশ্তারূ বিহী ছামানান্ ক্বালীলা-ফাওয়াইলু ল্লাহুম্ মিম্মা-কাতাবাত্ আইদীহিম অওয়াইলু ল্লাহুম্ মিম্মা-ইয়াক্সিবূন্।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - “আগুন আমাদের গুনতির কয়েকদিন ছাড়া কদাচ স্পর্শ করবে না।” তুমি বলো - - “তোমরা কি ‌র কাছ থেকে কোনো প্রতি‌শ্রুতি নিয়েছ? তাহলে তাঁর ওয়াদার কখনো খেলাফ করেন না, অথবা তোমরা কি সন্বন্ধে যা জান না তাই বলছ?”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আগুন (জাহান্নাম) কখনো আমাদের স্পর্শ করবেনা, করলেও তা করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্যে।’ (হে নবী) এদের জিজ্ঞাসা করো: ‘তোমরা কি (এব্যাপারে) আল্লাহর কাছ থেকে কোনো অংগীকার আদায় করে নিয়েছো, যে অংগীকারের কখনো খেলাফ করবেন না? নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি আরোপ করছো এমন কথা (অপবাদ), যার এলেম তোমাদের নেই?’

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্বা-লূ লান্ তামাস্সানা ন্না-রু ইল্লায় আইয়্যা-মাম্ মা'দূদাহ ক্বূল্ আত্তাখায্তুম্ 'ইন্দাল্লা-হি 'আহ্দান্ ফালাই ইয়ুখ্লিফাল্লা-হু আহ্দাহূূয় আম্ তাক্ব ূলূনা 'আলাল্লা-হি মা-লা-তা'লামূন্।

জহুরুল হক

হাঁ, যে কেউ মন্দ অর্জন করে, আর তার পাপ তাকে ঘেরাও করে ফেলে, এরাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, তাতে তারা থাকবে দীর্ঘকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যা, যারাই কামাই করে পাপকর্ম এবং তাদের ঘেরাও করে ফেলে তাদের পাপরাশি, তারাই হবে ‘আসহাবুন নার’ (আগুনের অধিবাসী), সেখানে (আগুনের মধ্যে) থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

বালা- মান্ কাসাবা সাইয়্যিয়াতাওঁ অআহা-ত্বোয়াত্ব ্ বিহী খাত্বী-য়াতুহূ ফাউল-য়িকা আছ্হা-বুন্ না-রি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।

জহুরুল হক

আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে, তারাই হচ্ছে বেহেশতের বাসিন্দা, তাতে থাকবে তারা চিরকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অন্যদিকে, যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তারা হবে ‘আসহাবুল জান্নাহ’ (জান্নাতের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া- লিহা-তি উলা-য়িকা আছ্হা-বুল্ জ্বান্নাতি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা ইসরাইলের বংশধরদের থেকে চুক্তি গ্রহণ করেছিলাম - - “তোমরা ছাড়া আর কারো উপাসনা করবে না, আর মাতাপিতার প্রতি ভালো ব্যবহার করবে, এবং আ‌ত্মীয়স্বজনদের প্রতি, আর এতিমদের প্রতি, আর মিসকিনদের প্রতি, আর লোকদের সাথে ভালোভাবে কথা বলবে, আর কায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে।” তারপর তোমরা তোমাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া ফিরে গেলে, আর তোমরা ফিরে যাবার দলের।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, (এ কথাগুলোর উপর) আমরা যখন বনি ইসরাঈল থেকে পাকা অংগীকার নিয়েছিলাম যে: ‘তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করবেনা; পিতা - মাতা, আত্মীয় স্বজন এবং এতিম ও মিসকিনদের সাথে ‌ইহসান (উত্তম ও সদয় আচরণ) করবে; মানুষের সাথে ভালো কথা বলবে; কায়েম করবে এবং যাকাত প্রদান করবে,’ তখনো অল্প কিছু লোক ছাড়া তোমরা সবাই সেই অংগীকার ভংগ করেছিলে এবং এখনো তা থেকে মুখ ফিরিয়েই চলেছো।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ আখায্না- মীছা-ক্বা বানীয় ইস্রা-য়ীলা লা- তা'বুদূনা ইল্লাল্লা-হা অবিল ওয়া-লিদাইনি ইহ্সা-নাওঁ অযিল্ ক্বর্ ুবা- অল্ইয়াতা-মা- অল্মাসা-কীনি অক্ব ূলূ লিন্না-সি হুস্্নাওঁ অআক্বীমুছ্ ছলা-তা ওয়াআ-তুয্ যাকা-হ্ ছুম্মা তাওয়াল্লাইতুম্ ইল্লা- ক্বালীলাম্ মিন্কুম্ অআন্তুম্ মু'রিদ্বূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম - - “তোমরা তোমাদের রক্তপাত করবে না আর তোমাদের লোকদের তোমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেবে না।” তখন তোমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলে, আর তোমারা সাক্ষ্য দিয়েছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, যখন আমরা তোমাদের থেকে (একথার উপরও) পাকা অংগীকার নিয়েছিলাম: ‘তোমরা নিজেদের ভেতর রক্তপাত করবেনা এবং নিজেদের লোকজনদের স্বদেশ থেকে বের করে দেবেনা।’ এই (অংগীকারের) কথাগুলো তোমরা স্বীকার করে নিয়েছিলে এবং এর সাক্ষী তোমরা নিজেরাই।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ আখায্না- মীছা-ক্বাকুম্ লা-তাস্ফিকূনা দিমা-য়াকুম্ অলা-তুখ্রিজ্ব ূনা আন্ফুসাকুম্ মিন্ দিইয়া-রিকুম্ ছুম্মা আক্বর্ ্রাতুম্ অআন্তুম্ তাশ্হাদূন্।

জহুরুল হক

তারপর তোমরাই সেই যারা তোমাদের নিজেদের মধ্যে খুন - খারাবি করো, আর তোমাদেরই এক দলকে তাদের বাড়িঘর থেকে তোমরা তাড়িয়ে দাও তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও নিষ্ঠুরতায় পৃষ্ঠপোষকতা ক’রে। অথচ যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দীরূপে আসে তবে তাদের মুক্তিপণ দাও, যদিও তাদের তাড়িয়ে দেওয়াটা তোমাদের উপরে অবৈধ ছিল। তাহলে তোমরা কি ধর্মগ্রন্থের অংশবিশেষে বিশ্বাস কর ও অন্য অংশে অবিশ্বাস পোষণ কর? অতএব তোমাদের মধ্যের যারা এরকম করে তাদের ইহজীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার আছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফেরত পাঠানো হবে কঠোরতম শাস্তিতে। আর তোমরা যা করছো সে - বিষয়ে অজ্ঞাত নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই পাকা অংগীকার করার পরও সেই তোমরাই তো আজ নিজেদের পরস্পরকে কতল (হত্যা) করছো, একদল আরেকদলকে তাদের ঘর বাড়ি - স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করছো, তাদের বিরুদ্ধে (তাদের শত্রুদের) সাহায্য করছো পাপকর্ম এবং সীমালংঘনের মাধ্যমে। তারা যুদ্ধবন্দী হয়ে তোমাদের কাছে এলে তাদের মুক্তির জন্যে মুক্তিপণ লেনদেন করছো, অথচ তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করাটাই ছিলো তোমাদের জন্যে হারাম। তবে কি তোমরা (আল্লাহর) কিতাবের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস রাখো আর কিছু অংশ করো অস্বীকার - অমান্য? তোমাদের মধ্যে যারাই এমনটি করে, তাদের প্রতিদান (শাস্তি) এছাড়া আর কিছুই নয় যে, দুনিয়ার জীবনে তাদের গ্রাস করবে হীনতা - লাঞ্ছনা - গঞ্জনা, আর কিয়ামতের দিন তাদের নিক্ষেপ করা হবে কঠিনতম আযাবে। মোটেও গাফিল নন তোমাদের আমলের (কর্মকান্ডের) ব্যাপারে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা আন্তুম হায় উলা-য়ি তাক্ব ্তুলূনা আন্ফুসাকুম্ অতুখ্রি ূনা ফারীক্বাম্ মিন্কুম্ মিন দিইয়া-রিহিম্ তাজোয়া-হারূনা 'আলাইহিম্ বিল্ইছ্মি অল্'উদ্ওয়া-ন্ অইঁইয়াতূকুম্ উসা-রা-তুফা-দূহুম্ অহুওয়া মুর্হারামুন্ 'আলাইকুম ইখ্রা-জ্ব ুহুম্ আফাতুমিনূনা বিবা'দ্বিল্ কিতা-বি অতাক্ফুরূনা বিবা'দ্বিন্ ফামা-জ্বাযা-য়ু মাইঁ ইয়াফ্'আলু যা-লিকা মিন্কুম্ ইল্লা- খিয্ইয়ুন্ ফিল্ হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- অইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ইয়ুরাদ্দূনা ইলায় আশাদ্দিল্ 'আযা-ব্ অমাল্লা-হু বিগা-ফিলিন্ আম্মা-তা'মালূন্ ।

জহুরুল হক

এরাই তারা যারা আখেরাতের বদলে ইহজীবন খরিদ করেছে। তাই তাদের উপর থেকে শাস্তি লাঘব করা হবে না, আর তাদের সাহায্যও দেয়া হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই সেইসব লোক, যারা ক্রয় করেছে দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের (সাফল্যের) বিনিময়ে। সুতরাং তাদের থেকে মোটেও হালকা (লাঘব) করা হবেনা আযাব এবং কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবেনা তাদের।

বাংলা উচ্চারণ

উলা-য়িকাল লাযী নাশ্তারাউল্ হাইয়া-তাদ্ দুন্ইয়া-বিল্আ-খিরাতি ফালা-ইয়ুখাফ্ফাফু 'আন্হুমুল্ 'আযা-বু অলা-হুম ইয়ুন্ছোয়ারূন্।

জহুরুল হক

আর অবশ্যই আমরা মূসাকে ধর্মগ্রন্থ দিয়েছিলাম, আর তাঁর পরে পর্যায়ক্রমে বহু রসূল পাঠিয়েছিলাম, আর আমরা মরিয়মের পুত্র ঈসাকে দিয়েছিলাম স্পষ্ট - প্রমাণাবলী, আর আমরা তাঁকে বলীয়ান করি রূহুল ক্কুদুস দিয়ে। তাহলে কি যখনই তোমাদের কাছে একজন রসূল আসেন এমন কিছু নিয়ে যা তোমাদের মন চায় না, তখনই তোমরা অহংকার দেখাও? গতিকে, কাউকে তোমরা মিথ্যারোপ করো ও কাউকে কাতল করতে যাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূলদের পাঠিয়েছি আর মরিয়মের পূত্র ঈসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ দিয়েছি এবং তাকে সাহায্য করেছি রূহুল কুদুস - কে দিয়ে। তোমরা তো এমনটিই করে এসেছো, যখনই কোনো রসূল তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধ কোনো বিধান নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, তোমরা তার সাথে তাকাব্বরি (দাম্ভিকতা) প্রদর্শন করেছো, তাদের কিছু (রসূল) - কে তোমরা অস্বীকার করেছো, আর কিছু (রসূল) - কে করেছো কতল।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ আ-তাইনা- মূসাল্ কিতা-বা অক্বাফ্ফাইনা- মিম্ বা'দিহী র্বিরুসুলি অআ-তাইনা- 'ঈ-সাব্না র্মাইয়ামাল্ বাইয়্যিনা-তি অআইয়্যাদ্না-হু বিরূহিল ক্বূদুস আফাকুল্লামা- জ্বা-য়াকুম্ রাসূলুম্ বিমা- লা-তাহ্ওয়ায় আন্ফুসুকুমুস্ তার্ক্বাতুম্ ফাফারীক্বান্ কায্যাব্তুম্ অফারীক্বান্ তাক্ব ্তুলূন্।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - “আমাদের হৃদয় হলো গেলাফ!” না, তাদের বঞ্চিত করেছেন তাদের অবিশ্বাসের জন্য। তাই যৎসামান্যই যা তারা বিশ্বাস করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমাদের কলবসমূহ সংরক্ষিত (যা আমরা বুঝে এবং বিশ্বাস করে নিয়েছি তার বাইরে আর কিছুই আমাদের হৃদয় সমূহে ঢুকবেনা)।’ না (ব্যাপার তা নয়), বরং তাদের লানত করেছেন তাদের কুফুরির কারণে। সুতরাং, অতি অল্পই তারা ঈমান আনে।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লূ ক্বূলূবুনা- গুল্ফ্ বাল্ লা'আনাহুমুল্লা-হু বিকুফ্রিহিম্ ফাক্বালীলাম্ মা- ইয়ুমিনূন্।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের কাছে ‌র তরফ থেকে একখানা ধর্মগ্রন্থ এল যাতে সমর্থন রয়েছে যা তাদের কাছে আছে - - যদিও ইতিপূর্বে তারা প্রার্থনা করতো যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের উপরে বিজয়ী হবার জন্যে, - - কিন্তু যখন তাদের কাছে এলেন যাঁকে তারা চিনতে পারল তারা তাঁকে অবিশ্বাস করে বসলো। সুতরাং ‌র নারাজি অবিশ্বাসীদের উপরে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এমন একটি কিতাব (আল কুরআন) আসলো, যেটি তসদিক (সত্যায়িত) করে সেই কিতাবকে (তাওরাতকে) যেটি পূর্ব থেকেই রয়েছে তাদের কাছে। যদিও ইতোপূর্বে তারা কাফিরদের উপর বিজয়ের জন্যে শেষ (নবীর) আগমনের প্রার্থনা করতো; কিন্তু যখনই সে আসলো, যার পরিচয় তাদের কাছে ছিলো পরিষ্কারভাবে, তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। সুতরাং এই কাফিরদের (প্রত্যাখ্যানকারীদের) উপর আল্লাহর লানত।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-জ্বা-য়াহুম্ কিতা-বুম্ মিন 'ইনদিল্লা-হি মুছোয়াদ্দিক্বূল্লিমা- মা'আহুম অকা-নূ মিন্ ক্বাব্লু ইয়াস্তাফ্তিহূনা 'আলাল্ লাযীনা কাফারূ ফালাম্মা-জ্বা-য়াহুম্ মা- 'আরাফূ কাফারূ বিহী ফালা'নাতুল্লা-হি 'আলাল্ কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

গর্হিত তা যা দিয়ে তারা নিজেদের আ‌ত্মা বিনিময় করেছে যে জন্য যা অবতারণ করেছেন তা তারা অবিশ্বাস করে বিদ্বেষের বশে - - যে তাঁর কৃপাবশতঃ উহা অবতীর্ণ করবেন তাঁর দাসদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেন তার কাছে! তাই তারা রোষের উপর রোষ টেনে আনলো। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতোইনা মন্দ সেই জিনিসটি যার বিনিময়ে তারা বিক্রয় করছে নিজেদেরকে। তাহলো, যা (যে কুরআন) নাযিল করেছেন, শুধু এই জিদের বশবর্তী হয়ে তারা তার প্রতি কুফুরি করছে যে, তাঁর দাসদের মধ্যে যাকে (মুহাম্মদকে) চেয়েছেন তার প্রতি সেই অনুগ্রহ নাযিল করেছেন। ফলে তারা অর্জন করলো গজবের উপর গজব। আর কাফিরদের জন্যে তো অপমানকর আযাব রয়েছেই।

বাংলা উচ্চারণ

বিসামাশ্ তারাও বিহীয় আন্ফুসাহুম্ আইঁ ইয়াক্ফুরূ বিমায় আন্যালাল্লা-হু বাগ্ইয়ান্ আইঁ ইয়ুনায্যিলাল্লা-হু মিন্ ফাদ্ব্লিহী 'আলা- মাইঁ ইয়াশা-য়ু মিন্ 'ইবা-দিহী ফাবা-য়ূ বিগাদ্বোয়াবিন্ 'আলা-গাদ্বোয়াব্ অলিল্ কা-ফিরীনা 'আযা-বুম্ মুহীন্।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের বলা হয় - - “ঈমান আনো যা নাযিল করেছেন তাতে,” তারা বলে - - “আমরা বিশ্বাস করি যা আমাদের কাছে নাযিল হয়েছিল।” অথচ তারা অবিশ্বাস করে যা তার পরে এসেছে, যদিও উহা হলো ধ্রুব সত্য, সমর্থন করছে যা তাদের কাছে রয়েছে তার। বলো - - “তাহলে তোমরা কেন ‌র নবীদের এর আগে হত্যা করতে যাচ্ছিলে? যদি তোমরা হয়ে থাকো।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের বলা হয়: ‘তোমরা ঈমান আনো সেই জিনিসের (কুরআনের) প্রতি যা নাযিল করেছেন’, তখন তারা বলে: ‘আমরা তো শুধু ঈমান রাখি সেই জিনিসের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমাদের (বনি ইসরাঈলের) উপর।’ - এর বাইরে যা (যে কুরআন) নাযিল হয়েছে তা তারা প্রত্যাখ্যান করছে। অথচ তা মহাসত্য কিতাব, তাদের কাছে যা (তাওরাত) আছে, সেটাকেও এ কিতাব আল্লাহর কিতাব বলে সত্যায়ন করে। (হে মুহাম্মদ) তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘তোমরা যদি মুমিনই হয়ে থাকো তবে কেন ইতোপূর্বে আল্লাহর নবীগণকে কতল করেছিলে?’

বাংলা উচ্চারণ

অইযা- ক্বীলা লাহুম আ-মিনূ বিমায় আন্যালাল্লা-হু ক্বা-লূ নুমিনু বিমায় উন্যিলা 'আলাইনা- অইয়াক্ফুরূনা বিমা- অরা-য়াহ ূঅহুওয়াল্ হাক্ব ্ক্বূ মুছোয়াদ্দিক্বাল্ লিমা- মা'আহুম ক্বূল্ ফালিমা তাক্ব ্তুলূনা আম্বিয়া-য়াল্লা-হি মিন্ ক্বাব্লু ইন কুন্তুম্ মুমিনীন্।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই মূসা তোমাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে, কিন্তু তোমরা বাছুরকে গ্রহণ করলে তাঁর, আর তোমরা হলে অন্যায়কারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি মূসা তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল, তারপরেও তোমরা গো - বানিয়ে সেটাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলে। এতো বড় যালিম ছিলে তোমরা।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ জ্বা-য়াকুম্ মূসা- বিল্বাইয়্যিনা-তি ছুম্মাত্তাখায্তুমুল্ 'ইজলা মিম্ বা'দিহী অআনতুম্ জোয়া-লিমূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম ও তোমাদের উপরে পর্বত খাড়া করেছিলাম। - - “তোমাদের আমরা যা দিয়েছি তা শক্ত করে পাকড়ে ধরো, আর শুনো।” তারা বলল - - “আমরা শুনলাম আর অমান্য করলাম!” আর তাদের হৃদয়ের ভেতরে পান করানো হয়েছে তাদের অস্বীকার করার দরুন। বলো - - “তোমাদের ধর্মবিশ্বাস তোমাদের যা নির্দেশ দিচ্ছে তা দূষণীয়, যদি তোমরা হও।”

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমরা তোমাদের মাথার উপর তুর পাহাড় উঠিয়ে ধরে তোমাদের থেকে পাকা অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম, বলেছিলাম: ‘আমরা তোমাদের যা (যে কিতাব ও বিধান) দিলাম তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং (আমার বাণী) শোনো।’ তারা বলেছিল: ‘আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম।’ আসলে তাদের কুফুরির কারণে তাদের অন্তরে গো - পূজার শরাবই প্রবেশ করেছিল। বলো (হে মুহাম্মদ): ‘তোমরা যদি হয়ে থাকো, তবে তোমাদের ঈমান যার নির্দেশ তোমাদের দেয়, তা কতোইনা নিকৃষ্ট।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ আখায্না- মীছা-ক্বাকুম্ অরাফা'না- ফাওক্বাকুমুত্ব ্ ত্ব ূর খুযূ মায় আতাইনা-কুম্ বিক্বূওয়্যাতিওঁ অস্মা'ঊ ক্বা-লূ সামি'না- অ'আছোয়াইনা- অউশ্রিবূ ফী ক্বূলূবিহিমুল্ 'ইজলা বিকুফ্রিহিম ক্বূল্ বিসামা- ইয়ামুরুকুম্ বিহীয় ঈমা-নুকুম্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।

জহুরুল হক

বলো - - “যদি ‌র আখেরাতের ঘর অপর লোককে বাদ দিয়ে খাস ক’রে তোমাদের জন্য হয়ে থাকে তবে মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ) বলো: ‘আল্লাহর কাছে আখিরাতের ঘর যদি গোটা মানবজাতিকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তোমাদের জন্যেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে তোমরা (দ্রুত সেখানে যাওয়ার জন্যে) মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বূল্ ইন্ কা-নাত্ লাকুমুদ্ দা-রুল্ আ-খিরাতু 'ইন্দাল্লা-হি খা-লিছোয়াতাম্ মিন্ দূনিন্ না-সি ফাতামান্নায়ুল্ মাওতা ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু তারা কখনো তা চাইবে না তাদের দুই হাত যা পাঠিয়েছে। আর অন্যায়কারীদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু কখনো তারা তা (মৃত্যু) কামনা করবেনা, কারণ তাদের দুহাত যা কামাই করে সেখানে (আখিরাতের জন্যে) পাঠিয়েছে (তা খুবই ভয়ানক)। খুব ভালোভাবেই জানেন এই যালিমদের অবস্থা।

বাংলা উচ্চারণ

অলাইঁ ইয়াতামান্নাওহু আবাদাম্ বিমা- ক্বাদ্দামাত্ আইদীহিম অল্লা-হু 'আলীমুম্ বিজ্জোয়া-লিমীন্।

জহুরুল হক

আর তুমি তাদের পাবে জীবন সন্বন্ধে সবচাইতে লোভী মানুষ, যারা শরিক করে তাদের চাইতেও। তাদের এক একজন কামনা করে তাকে যেন হাজার বছরের পরমায়ু দেয়া হয়। কিন্তু তাকে দীর্ঘজীবন দেয়া হলেও শাস্তি থেকে সে স্থানাস্তরিত হবে না। আর তারা যা করছে তার দর্শক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদেরকে পাবে জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষের চাইতে অধিক লোভী, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও। তাদের প্রত্যেকেরই আকাংখা, তাকে যদি হাজার বছর বয়স দেয়া হতো! কিন্তু দীর্ঘ বয়স তাকে কিছুতেই আযাব থেকে দূরে রাখতে পারবেনা। তারা যা আমল (যেসব কর্মকান্ড) করছে, তা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাতাজ্বিদান্নাহুম্ আহ্রাছোয়ান না-সি 'আলা-হাইয়া-তিন্ অমিনাল্ লাযীনা আশরাকূ ইয়াঅদ্দু আহাদুহুম লাও ইয়ু'আম্মারু আল্ফা সানাতিন্ অমা-হুওয়া বিমুযাহ্যিহিহী মিনাল্ 'আযা-বি আইঁ ইয়ু'আর্ম্মা অল্লা-হু বাছীরুম্ বিমা- ইয়া'মালূন্।

জহুরুল হক

বলো - - “যে কেউ জিব্রীলের শত্রু” - - কারণ নিঃসন্দেহ সে - ই ‌র আদেশে উহা তোমার হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছে, এর আগে যা এসেছিল তার সত্য - সমর্থনরূপে, এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতারূপে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো (হে মুহাম্মদ): যে কেউ শত্রুতা করবে জিবরিলের সাথে, তার জেনে রাখা উচিত, জিবরিল তা (এই কুরআন) আল্লাহর হুকুমেই তোমার কলবে নাযিল করছে। এ গ্রন্থ তোমার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী এবং সত্যপথ প্রদর্শক ও সুসংবাদ মুমিনদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বূল্ মান্ কা-না 'আদুওয়্যাল লিজ্বিব্রীলা ফাইন্নাহূ নায্যালাহূ 'আলা- ক্বাল্বিকা বিইয্নিল্লা-হি মুছোয়াদ্দিক্বাল্ লিমা-বাইনা ইয়াদাইহি অহুদাওঁ অবুশ্রা-লিল্মুমিনীন্।

জহুরুল হক

“যে কেউ ‌র ও তাঁর ফিরিশ্‌তাদের ও তাঁর রসূলদের ও জিব্রীলের ও মিকালের শত্রু, নিঃসন্দেহ তখন অবিশ্বাসীদের শত্রু।”

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ শত্রু হবে আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রসূলদের এবং জিবরিল ও মিকালের, অবশ্যি আল্লাহও হবেন সেই কাফিরদের শত্রু।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ কা-না 'আদুও ওয়াল লিল্লা-হি অমালা-য়িকাতিহী অরুসুলিহী অজ্বিব্রীলা অমীকা-লা ফাইন্নাল্লা-হা 'আদুওয়্যাল্লিল্ কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তোমার কাছে নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াত - - সমূহ, আর কেউ এতে অবিশ্বাস করে না দুর্বৃত্তরা ছাড়া।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ। ফাসিকরা ছাড়া আর কেউই এগুলোকে অস্বীকার করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ আন্যাল্নায় ইলাইকা আ-ইয়া-তিম্ বাইয়্যিনা-তিন্ অমা-ইয়াক্ফুরু বিহায় ইল্লাল্ ফা-সিক্ব ূন।

জহুরুল হক

কি ব্যাপার! যখনই তারা কোনো ওয়াদাতে অঙ্গীকার করেছে, তাদের একদল তা প্রত্যাখ্যান করেছে? না, তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ব্যাপার কি এ নয় যে, তারা যখনই কোনো বিষয়ে অংগীকার করেছে, তাদের একদল লোক অবশ্যি তা ভংগ করেছে? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান রাখেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আওয়া কুল্লামা- 'আ-হাদূ' আহ্দান নাবাযাহূ ফারীক্বূম্ মিন্হুম্ বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।

জহুরুল হক

আর যখনই তাদের কাছে ‌র তরফ থেকে কোনো রসূল আসেন তাদের কাছে যা আছে তার সমর্থন ক’রে, যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছিল তাদের একদল ‌র গ্রন্থকে তাদের পশ্চাদ্দেশে ফেলে রাখে, যেন তারা জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল এলো, যে তাদের কাছে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী, তখন পূর্বে কিতাব দেয়া লোকদের একটি দল আল্লাহর এ কিতাবটিকে তাদের পেছনে নিক্ষেপ করলো, যেনো তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানতোনা!

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-জ্বা-য়াহুম্ রাসূলুম্ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি মুছোয়াদ্দিক্ব ুল লিমা- মা'আহুম্ নাবাযা ফারীক্ব ুম্ মিনাল্লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা কিতাবা ল্লা-হি অরা-য়া জুহূরিহিম কাআন্নাহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

জহুরুল হক

আর তারা তার অনুসরণ করে যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বে চালু করেছিল, আর সুলাইমান অবিশ্বাস পোষণ করেন নি, বরং শয়তান অবিশ্বাস করেছিল, তারা লোকজনকে জাদুবিদ্যা শেখাতো, আর তা বাবেলে হারূত ও মারূত এই দুই ফিরিশ্‌তার কাছে নাযিল হয় নি, আর এই দুইজন কাউকে শেখায়ও নি যাতে তাদের বলতে হয় - - “আমরা এক পরীক্ষা মাত্র, অতএব অবিশ্বাস করো না।” সুতরাং এই দুইয়ের থেকে তারা শিখেছে যার দ্বারা স্বামী ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু তারা এর দ্বারা কারো ক্ষতি করতে পারে না ‌র অনুমতি ব্যতীত। আর তারা তাই শেখে যা তাদের ক্ষতিসাধন করে, এবং তাদের উপকার করে না। আর অবশ্যই তারা জানে যে এটা যে কিনে নেয় তার জন্য পরকালে কোনো লাভের অংশ থাকবে না। আর আফসোস, এটা মন্দ যার বিনিময়ে তারা নিজেদের আ‌ত্মা বিক্রয় করেছে, - - যদি তারা জানতো!

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে, তারা এত্তেবা করতে থাকলো সেইসব জিনিসের, সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা যেসব (ম্যাজিক - মন্ত্র) পাঠ করতো। সুলাইমান কুফুরি করেনি, কুফুরি করেছিল শয়তানরা। তারা মানুষকে ম্যাজিক শিক্ষা দিতো এবং বেবিলনে দুই ফেরেশতা হারূত ও মারূতের প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা (হারূত ও মারূত) কোনো ব্যক্তিকে কিছুই শিক্ষা দিতোনা একথা পরিষ্কার করে বলে দেয়া ছাড়া যে: ‘দেখো, আমরা কিন্তু অবশ্যি ফেতনা (পরীক্ষা স্বরূপ), সুতরাং তুমি কুফুরিতে নিমজ্জিত হয়োনা।’ তা সত্ত্বেও তারা তাদের দুজন থেকে এমন জিনিস শিখতো, যা স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো। অথচ এর দ্বারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারতোনা। তারা যা শিখতো তা তাদেরই ক্ষতি করতো, কোনো উপকার করতোনা। তারা এ কথা ভালো করেই জানতো, এসব (ম্যাজিক - মন্ত্র) - এর ক্রেতাদের জন্যে আখিরাতে কোনো অংশ নেই। ওটা কতোইনা নিকৃষ্ট জিনিস, যার বিনিময়ে তারা বিক্রি করে দিয়েছে নিজেদের জীবন। হায়, এ বিষয়টা যদি তারা জানতো!

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাবা'ঊ মা-তাত্লুশ্ শাইয়া-ত্বীনু 'আলা-মুল্কি সুলাইমা-না অমা-কাফারা সুলাইমা-নু অলা-কিন্নাশ্ শাইয়া-ত্বীনা কাফারূ ইয়ু'আল্লিমূনান্ না-স্াস্ সিহ্রা অমায় উন্যিলা 'আলাল্ মালাকাইনি বিবা-বিলা হা-রূতা অমা-রূত্ অমা-ইয়ু'আল্লিমা-নি মিন্ আহাদিন্ হাত্তা-ইয়াক্ব ূলায় ইন্নামা-নাহ্নু ফিত্নাতুন্ ফালা-তার্ক্ফু ফাইয়াতা'আল্লামূনা মিনহুমা- মা- ইয়ুর্ফারিক্ব ূনা বিহী বাইনাল্ র্মায়ি অযাওজ্বিহ্ অমা-হুম বিদ্বোয়ার্-রীনা বিহী মিন্ আহাদিন্ ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হ্ অইয়াতা'আল্লামূনা মা-ইয়ার্দ্বুরুহুম্ অলা-ইয়ান্ফা'উহুম্ অলাক্বাদ্ 'আলিমূ লামানিশ্ তারা-হু মা-লাহূ ফিল্ আ-খিরাতি মিন্ খালা-ক্ব ্ অলাবিসা মা- শারাও বিহীয় আন্ফুসাহুম্ লাও কা-নূ ইয়া'লামূন্।

জহুরুল হক

আর যদি তারা ঈমান আনতো ও ধর্মভীরুতা অবলন্বন করতো তাহলে ‌র কাছ থেকে পুরস্কার নিশ্চয়ই বহু ভালো হতো, - - যদি তারা জানতো!

আবদুস শহীদ নাসিম

হায়, তারা যদি ঈমানের পথে চলতো এবং এসব মন্দ কাজ থেকে নিজেদের রক্ষা করতো, তবে আল্লাহর কাছে কতো উত্তম প্রতিফলই না তারা লাভ করতো; হায় যদি তারা এলেম রাখতো!

বাংলা উচ্চারণ

অলাও আন্নাহুম্ আ-মানূ অত্তাক্বাও লামাছূবাতুম্ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি খার্ই লাও কা-নূ ইয়া'লামূন্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা বলো না “রা - 'ইনা - ”, বরং বলো “উনযুরনা - ”, আর শুনুন। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মর্মন্তদ শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা (আল্লাহর রসূলকে) ‘রায়েনা’ বলোনা, বরং ‘উনযুরনা’ (আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিন) বলো এবং মনোযোগ সহকারে (নবীর কথা) শোনো। যারা (এটা) অমান্য করবে, তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানূ লা-তাক্ব ূ লূ রা-'ইনা- অক্ব ূলুন্ র্জুনা- অস্মা'উ অলিল্ কা-ফিরীনা 'আযা-বুন্ আলীম্।

জহুরুল হক

গ্রন্থপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা এবং মুশরিকরা চায় না যে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে কোনো কল্যাণ তোমাদের প্রতি নাযিল হোক। কিন্তু তাঁর করুণার জন্য যাকে ইচ্ছা করেন মনোনীত করেন। আর অপার কল্যাণের অধিকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবের (ইহুদি - খৃষ্টানদের) মধ্যে যারা কুফুরি করেছে, তারা এবং মুশরিকরা চায়না তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে কোনো কল্যাণ নাযিল হোক। অথচ (এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর বিষয়), যাকে চান, নিজের রহমত প্রদানের জন্যে মনোনীত করেন এবং আল্লাহ্ই মহানুগ্রহের মালিক।

বাংলা উচ্চারণ

মা-ইয়াঅদ্দুল্লাযীনা কাফারূ মিন্ আহলিল্ কিতা-বি অলাল্ মুশরিকীনা আইঁ ইয়ুনায্যালা 'আলাইকুম্ মিন্ খাইরিম র্মি রব্বিকুম অল্লা-হু ইয়াখ্তাছ্ছু বিরাহ্মাতিহী মাইঁ ইয়াশা-য়ু অল্লা-হু যুল্ফাদ্ব্লিল্ 'আজীম্।

জহুরুল হক

যে - সব আয়াত আমরা মনসুখ করি অথবা উহা ভুলিয়ে দিই, আমরা তার চাইতে ভালো অথবা তার অনুরূপ নিয়ে আসি। তুমি কি জান না যে নিঃসন্দেহ সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যে আয়াতকে নসখ্ করি, কিংবা ভুলিয়ে দিই, তার স্থলে তার চাইতে উত্তম কিংবা অনুরূপ (আয়াত) নিয়ে আসি। তুমি কি জানোনা, নিশ্চয়ই সবকিছু করতে সক্ষম?

বাংলা উচ্চারণ

মা-নান্সাখ্ মিন্ আ-ইয়াতিন আও নুন্সিহা- নাতি বিখাইরিম্ মিনহায় আও মিছ্লিহা- আলাম্ তা'লাম্ আন্নাল্লা-হা 'আলা-কুল্লি শাইয়িন ক্বার্দী।

জহুরুল হক

তুমি কি জানো না নিঃসন্দেহ ‌, - - মহাকাশমন্ডলের ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই। আর তোমাদের জন্য ছাড়া কোনো মুরব্বী অথবা সাহায্যকারী নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি জানোনা, মহাকাশ এবং পৃথিবীর রাজত্ব - কর্তৃত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর? এবং তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অলিও নেই, সাহায্যকারী নেই।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তা'লাম আন্নাল্লা-হা লাহূ ্মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্ব্ অমা-লাকুম্ মিন্ দূনিল্লা-হি মিও ঁ অলিয়্যিওঁ অলা- নার্ছী।

জহুরুল হক

তোমরা কি তোমাদের রসূলকে প্রশ্ন করতে চাও যেমন মূসাকে এর আগে প্রশ্ন করা হয়েছিল? আর যে বিশ্বাসের জায়গায় অবিশ্বাস বদলে নেয় সে - ই নিশ্চয়ই সরল পথের দিশা হারায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি এরাদা (ইচ্ছা) করেছো, তোমাদের রসূলকে সেরকম সওয়াল করতে, যেরকম সওয়াল করা হয়েছিল ইতোপূর্বে মূসাকে? আর যে কেউ ঈমান বদল করে কুফুরি গ্রহণ করবে, সে অবশ্যি সঠিক সোজা পথ হারিয়ে ফেলবে।

বাংলা উচ্চারণ

আম্ তুরীদূনা আন্ তাস্য়ালূ রাসূলাকুম্ কামা- সুয়িলা মূসা- মিন্ কাব্ল্ অমাইঁ ইয়াতাবাদ্দালিল্ কুফ্রা বিল্ ঈমা-নি ফাক্বাদ্ব্ দ্বোয়াল্লা সাওয়া-য়াস্ সাবীল্।

জহুরুল হক

গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকের অনেকে কামনা করে যে তোমাদের ঈমান আনার পরে তোমাদের অবিশ্বাসে ফিরিয়ে নিতে, তাদের তরফ থেকে বিদ্বেষের ফলে তাদের কাছে সত্য পরিস্কার হবার পরেও। তাই ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো যে পর্যন্ত না তাঁর অনুশাসন নিয়ে আসেন। নিঃসন্দেহ সবকিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবের অনেকেই তোমরা ঈমান আনার পর তোমাদের পুনরায় কুফুরিতে ফিরিয়ে নিতে চায়। হক (সত্য) তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবার পরও শুধু তাদের মনের ভেতরের বিদ্বেষের কারণে তারা এমনটি কামনা করে। তবে তোমরা তাদের সাথে ক্ষমা সুন্দর আচরণ করো এবং তাদের (এসব অপরাধ) উপেক্ষা (overlook) করে চলো, যতোক্ষণ না কোনো নির্দেশ প্রদান করেন। নিশ্চয়ই প্রত্যেক বিষয়ে শক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

অদ্দা কাছীরুম্ মিন্ আহ্লিল্ কিতা-বি লাও ইয়ারুদ্দূনাকুম্ মিম্ বা'দি ঈমা-নিকুম্ কুফ্ফা-রান্ হাসাদাম্ মিন্ 'ইনদি আন্ফুসিহিম মিম্ বা'দি মা-তাবাইয়্যানা লাহুমুল্ হাক্ব্ ্ক্ব ু ফা'ফূ অছ্ফাহূ হাত্তা- ইয়াতিয়াল্লা-হু বিআম্রিহ্ ইন্নাল্লা-হা 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বাদীর্-।

জহুরুল হক

আর কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো। আর তোমাদের আ‌ত্মার জন্য যা কিছু কল্যাণ আগবাড়াও তা ‌র দরবারে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করছো তার দর্শক।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং কায়েম করো আর যাকাত পরিশোধ করো। তোমাদের নিজেদের (আখিরাতের) জন্যে যে কোনো ভালো কাজই অগ্রিম পাঠাবে, তা অবশ্যি ওখানে গিয়ে আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যে আমলই করোনা কেন, অবশ্যি তা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অ আক্বী মুছ্ ছলা-তা অআ-তুয্ যাকা-তা অমা- তুক্বাদ্দিমূ লিআন্ফুসিকুম্ মিন্ খাইরিন্ তাজ্বিদূহু 'ইন্দাল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা বিমা- তা'মালূনা বাছীর।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - “যে ইহুদী বা খ্রীষ্টান সে ছাড়া কেউ কখনও বেহেশতে দাখিল হতে পারবে না।” এসব তাদের বৃথা আকাঙ্খা। বলো - - “তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আরো বলে: ‘কখনো দাখিল হবেনা জান্নাতে ইহুদি বা খৃষ্টান ছাড়া অন্য কেউ।’ - আসলে এটা তাদের (অলীক) কামনা মাত্র। তুমি তাদের বলো: ‘এ দাবির ব্যাপারে তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখাও।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লূ লাইঁ ইয়াদ্খুলাল্ জ্বান্নাতা ইল্লা- মান্ কা-না হূদান্ আও নাছোয়া-রা- তিল্কা আমা-নিয়্যুহুম্ ক্ব ুল্ হা-তূ বুরহা-নাকুম্ ইনকুনতুম ছোয়া-দিক্বীন্।

জহুরুল হক

না, যে কেউ ‌র তরফে নিজের মুখ পূর্ণ - সমর্পণ করেছে ও সে সৎকর্মী, তার জন্য তার পুরস্কার আছে তার প্রভুর দরবারে, আর তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ (জেনে রাখো, জান্নাতে কেবল সে - ই যাবে) যে নিজেকে পূর্ণরূপে সঁপে দিয়েছে আল্লাহর জন্যে (আল্লাহর বিধান ও নির্দেশের কাছে) এবং বাস্তবেও অবলম্বন করেছে সুন্দর ও কল্যাণের পথ। তার প্রভুর কাছে অবশ্যি রয়েছে তার পুরষ্কার। তাছাড়া এ ধরণের লোকদের কোনো ভয়ও থাকবেনা এবং তারা দু:খও পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

বালা- মান্ আস্লামা অজ্ব ্হাহূ লিল্লা-হি অহুওয়া মুহ্সিনুন্ ফালাহূয় আজ্বরুহূ 'ইন্দা রব্বিহী অলা-খাওফুন 'আলাইহিম অলা-হুম ইয়াহ্যানূন্।

জহুরুল হক

আর ইহুদীরা বলে - - “খ্রীষ্টানরা কিছুরই উপর নয়”, আর খ্রীষ্টানরা বলে - - “ইহুদীরা কিছুরই উপর নয়।” অথচ তারা সবাই গ্রন্থ পড়ে। এমনিভাবে তাদের কথার মতো কথা বলে এরা যারা জানে না। তাই কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে রায় দেবেন যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদিরা বলে: ‘নাসারাদের (খৃষ্টানদের) কোনো ভিত্তি নাই।’ আর নাসারারা বলে: ‘ইহুদিদের কোনো ভিত্তি নেই।’ অথচ তারা (উভয়েই) তিলওয়াত করে আল কিতাব। একইভাবে যাদের কাছে (কিতাবের) এলেমই নেই, তারাও (সেই মুশরিকরাও) বলে এদের অনুরূপ কথা। তাদের মাঝে ফায়সালা প্রদান করবেন কিয়ামতের দিন, যে বিষয়ে (পৃথিবীতে) তারা এখতেলাফ করছে।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লাতিল্ ইয়াহূদু লাইসাতিন্ নাছোয়া-রা-'আলা-শাইয়্যিওঁ অক্বা-লাতিন্ নাছোয়া-রা- লাইসাতিল্ ইয়াহূদু 'আলা- শাইয়্যিওঁ অহুম্ ইয়াত্লূ নাল্ কিতা-ব্ কাযা-লিকা ক্বা-লাল্ লাযীনা লা-ইয়া'লামূনা মিছ্লা ক্বাওলিহিম্ ফাল্লা-হু ইয়াহ্কুমু বাইনাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ফীমা- কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।

জহুরুল হক

আর তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে ‌র মসজিদসমূহে বাধা দেয় এইজন্য যে সে - সবে তাঁর নাম স্মরণ করা হবে, আর চেষ্টা করে সে - সবের অনিষ্ট সাধনে? এদের ক্ষেত্রে, তাদের জন্য নয় যে তারা এ - সবে দাখিল হয় ভয়াতুর না হয়ে। তাদের জন্য এই দুনিয়াতে আছে অপমান, আর পরকালে তাদের জন্য কঠোর শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ সমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ - আলোচনা করতে বাধা প্রদান করে এবং সেগুলোর ধ্বংসের কাজে তৎপর হয়? এসব লোকেরা সেগুলোতে (আল্লাহর মসজিদসমূহে) প্রবেশ করার অধিকার রাখেনা ভীত ও বিনয়ী হওয়া ছাড়া। দুনিয়াতে তাদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনা - অমর্যাদা, আর আখিরাতেও তাদের জন্যে রয়েছে বড় আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

অমান্ আΩলামু মিম্মাম্ মান'আ মাসা-জ্বিদাল্লা-হি আইঁ ইয়ুয্কারা ফীহাছ্মুহূ- অসা'আ-ফী খারা-বিহা- উলা-য়িকা মা-কানা লাহুম আইঁ ইয়াদ্খুলূহায় ইল্লা-খা-য়িফীন্ লাহুম্ ফিদ্ দুন্ইয়া-খিয্ইয়ুওঁ অলাহুম ফিল আ-খিরাতি 'আযা-বুন্ 'আজীম্।

জহুরুল হক

আর ‌রই পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল। অতএব যেদিকে তোমরা ফেরো সে - দিকেই ‌র মুখ। নিঃসন্দেহে সর্বব্যাপক, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই মালিক পূর্ব এবং পশ্চিমের। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাওনা কেন, সেদিকই আল্লাহর। নিশ্চয়ই সর্বব্যাপী বিরাজমান এবং সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অলিল্লা-হিল্ মাশ্রিক্ব ুঅল্ মাগ্রিবু ফাআইনামা-তুওয়াল্লূ ফাছাম্মা অজ্ব ্হুল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা ওয়া-সি'উন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - “ একটি ছেলে গ্রহণ করেছেন” । তাঁরই মহিমা হোক! বরং মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে যা - কিছু আছে সে - সব তাঁরই, সবাই তাঁর আজ্ঞা পালনকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র (এসব অপবাদ থেকে)। বরং মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর, এবং সবাই তাঁর অনুগত।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লুত তাখাযাল্লা-হু অলাদান্ সুব্হা-নাহ্ বাল্ লাহূ মা- ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ কুল্লুল্ লাহূ ক্বা-নিতূন।

জহুরুল হক

মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি - স্রষ্টা! আর যখনই তিনি কোনো বিষয় বির্ধারিত করেন তিনি সে - সন্বন্ধে তখন শুধু বলেন - - “হও”, আর তা হয়ে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবীর অস্তিত্বদানকারী। তিনি যখন কোনো কিছু সূচনা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু সেটার উদ্দেশ্যে বলেন: ‘হও’, আর সংগে সংগে তা হয়ে যায়।

বাংলা উচ্চারণ

বাদী'উস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অইযা-ক্বাদ্বোয়ায় আম্রান্ ফাইন্নামা- ইয়াক্ব ূলু লাহূ কুন্ ফাইয়া-কূন্।

জহুরুল হক

আর যারা জানে না তারা বলে - - “ কেন আমাদের সাথে কথা বলেন না, অথবা একটি নিদর্শন আমাদের কাছে আসুক?” এমনভাবে এদের আগে যারা ছিল তারা এদের কথার অনুরূপ কথা বলেছিল। তাদের হৃদয় একই রকমের। আমরা আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট করে রেখেছি সেই লোকদের কাছে যারা দৃঢ়প্রত্যয় রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাদের কোনো এলেম নেই, তারা বলে: ‘ (সরাসরি) আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসেনা কেন?’ এই একই ধরণের কথা বলতো এদের পূর্বেকার (অজ্ঞ - পথভ্রষ্ট) লোকেরা। তাদের সকলের কলবসমূহ (মানসিকতা) একই রকম। আমরা নিদর্শনসমূহ পরিষ্কারভাবে বয়ান করে দিয়েছি সেইসব লোকদের জন্যে যারা রাখে।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লাল্লাযীনা লা-ইয়া'লামূনা লাওলা-ইয়ুকাল্লিমুনাল্লা-হু আও তাতীনায় আ-ইয়াহকাযা-লিকা ক্বা-লাল্লাযীনা মিন্ ক্বাবলিহিম্ মিছ্লা ক্বাওলিহিম্ তাশা-বাহাত্ ক্ব ুলূবুহুম্ ক্বাদ্ বাইয়্যান্নাল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়ূক্বিনূন্।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা তোমাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছি, সুসংবাদদাতারূপে ও সতর্ককারীরূপে, আর তোমাকে জবাব দিহি করতে হবে না ভয়ঙ্কর আগুনের বাসিন্দাদের সম্পর্কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ! এটাও তাদের জন্যে একটা সুস্পষ্ট নিদর্শন যে,) আমরা তোমাকে মহাসত্য (আল কুরআন ও ইসলাম) দিয়ে পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে। জাহিমের (প্রজ্জ্বলিত আগুনের) অধিবাসীদের ব্যাপারে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নায় র্আসাল্না-কা বিল্হাক্ব্ ্ক্বি বাশীরাওঁ অনাযীরাওঁ অলা-তুস্য়ালু 'আন্ আছ্হা-বিল্ জ্বাহীম।

জহুরুল হক

আর ইহুদীরা কখনো তোমার উপরে সন্তষ্ট হবে না, খ্রীষ্টানরাও নয়, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মমত অনুসরণ কর। তাদের বলো - - “নিশ্চয়ই ‌র যা হেদায়ত তাই - ই হেদায়ত। আর তুমি যদি তাদের ইচ্ছার অনুসরণ কর তোমার কাছে জ্ঞানের যা এসেছে তার পরে, তাহলে আল্লাহর কাছ থেকে তুমি পাবে না কোনো বন্ধু - বান্ধব, না কোনো সাহায্যকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদি এবং খৃষ্টানরা তোমার প্রতি কখনো রাজি খুশি হবেনা, যতোক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম পথের অনুসরণ করো। তুমি তাদের বলো: ‘আল্লাহর দেয়া ‘হুদা’ই (জীবন যাপন পদ্ধতিই) একমাত্র সঠিক হুদা।’ তোমার কাছে ‘আল এলেম’ (মহা সত্য জ্ঞান আল কুরআন) আসার পরও যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশির এত্তেবা করো, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্যে তুমি কোনো অলিও পাবেনা, আর কোনো সাহায্যকারীও পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলান্ র্তাদ্বোয়া-'আন্কাল্ ইয়াহূদু অলান্ নাছোয়া-রা- হাত্তা- তাত্ত্বাবি'আ মিল্লাতাহুম্ ক্ব ুল্ ইন্না হুদাল্লা-হি হুওয়াল্ হুদা- অলায়িনিত তাবা'তা আহ্ওয়া-য়াহুম্ বা'দাল্লাযী জ্বা-য়াকা মিনাল্ 'ইল্মি মা-লাকা মিনাল্লা-হি মিওঁ অলিয়ি্যঁওঁ অলা-নার্ছী।

জহুরুল হক

যাদের আমরা গ্রন্থ দিয়েছি তারা উহার তিলাওতের ন্যায্যতা মোতাবেক উহা অধ্যয়ন করে। তারাই এতে ঈমান এনেছে। আর যারা এতে অবিশ্বাস পোষণ করে তারা নিজেরাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যাদের কিতাব দিয়েছি তারা তা তিলাওয়াত করে (পড়ে এবং অনুসরণ করে) তিলাওয়াতের হক আদায় করে। এরাই তার (অর্থাৎ কিতাবের) প্রতি ঈমান রাখে। আর যারা এটির (কুরআনের) প্রতি কুফুরি করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা আ-তাইনা হুমুল কিতা-বা ইয়াত্লূনাহূ হাক্ব ্ক্বা তিলা-ওয়াতিহ উলা-য়িকা ইয়ুমিনূনা বিহ্ অমাইঁ ইয়াক্ফুর বিহী ফাউলা-য়িকা হুমুল্ খা-সিরূন্।

জহুরুল হক

হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আমার নিয়ামত স্মরণ করো যা আমি তোমাদের প্রদান করেছিলাম ও কিভাবে মানবগোষ্ঠীর উপরে তোমাদের মর্যাদা দিয়েছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল! স্মরণ করো আমার সেই নিয়ামতের কথা, যার দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছিলাম এবং (একসময়) তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছিলাম বিশ্ববাসীর উপর।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-বানীয় ইস্রা-য়ীলায্ কুরূ নি'মাতিইয়াল্লাতীয় আন্'আম্তু 'আলাইকুম্ অআন্নী ফাদ্ব্দ্বোয়াল্তুকুম্ 'আলাল্ 'আ-লামীন্।

জহুরুল হক

আর হুশিয়াঁর হও এমন এক দিনের যখন এক সত্তা অন্য আ‌ত্মা থেকে কোনো প্রকার সাহায্য পাবে না, আর তার কাছ থেকে কোনো খেসারত কবুল করা হবে না, আর সুপারিশেও তার কোনো ফায়দা হবে না, আর তাদের সাহায্য করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সতর্ক হও সেই দিনটির ব্যাপারে, যেদিন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির কোনো কাজে আসবেনা, যেদিন কোনো বিনিময় বা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবেনা এবং কোনো শাফায়াতও কিছুমাত্র কাজে লাগবেনা এবং যেদিন কাউকেও কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাক্ব ূ ইয়াওমাল লা-তাজ্ব ্যী নাফ্সুন্ 'আন নাফসিন্ শাইয়াওঁ অলা-ইয়ুক্ব ্বালু মিন্হা-'আদ্লুওঁ অলা- তান্ফা'উহা-শাফা'আতুওঁ অলা-হুম্ ইয়ুন্ছরূন্।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! ইব্রাহীমকে তাঁর প্রভু কয়েকটি নির্দেশ দ্বারা পরীক্ষা করলেন, আর তিনি সেগুলো সম্পাদন করলেন। তিনি বললেন - - “আমি নিশ্চয়ই তোমাকে মানবজাতির জন্য ইমাম করতে যাচ্ছি।” তিনি বললেন - - “আর আমার বংশধরগণ থেকে?” তিনি বললেন - - “আমার অঙ্গীকার অন্যায়কারীদের উপরে বর্তায় না।”

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যখন ইবরাহিমকে তার প্রভু কয়েকটি নির্দেশের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পরিপূর্ণ করেছিল (উত্তীর্ণ হয়েছিল), তখন তার প্রভু তাকে বলেছিলেন: ‘আমি তোমাকে মানবজাতির একজন নেতা মনোনীত করছি।’ সে বললো: ‘আমার সন্তানদের ব্যাপারেও কি এই সিদ্ধান্ত?’ তিনি বললেন: ‘আমার প্রতিশ্রুতি যালিমদের ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়।’

বাংলা উচ্চারণ

অইযিব্ তালায় ইব্রা-হীমা রব্বুহূ- বিকালিমা-তিন্ ফাআতাম্মাহুন্ ক্বা-লা ইন্নী জ্বা-'ইলুকা লিন্না-সি ইমা-মা- ক্বা-লা অমিন্ র্যুরিইয়্যাতী ক্বা-লা লা-ইয়ানা-লু 'আহ্দিজ্জোয়া-লিমীন্।

জহুরুল হক

আর চেয়ে দেখো! আমরা গৃহকে মানুষের জন্য সম্মেলনস্থল ও নিরাপত্তা - স্থান বানিয়েছিলাম। আর “মক্কাম - ই - ইব্রাহীমকে উপাসনা - ভূমি করো।” আর আমরা ইব্রাহীম ও ইসমাইলের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম - - “আমার গৃহ পবিত্র করে রেখো তওয়াফকারীদের ও ই’তিকাফকারীদের ও রুকু - সিজদাকারীদের জন্য।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সেই সময়কার কথা স্মরণ করো, যখন আমরা এই (কাবা) ঘরকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র এবং নিরাপত্তার স্থল বানিয়ে দিয়েছিলাম, আর (মানুষকে বলেছিলাম:) ‘তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে মুসাল্লা (নামাযের স্থান) বানাও।’ ইবরাহিম আর ইসমাঈলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘তোমরা আমার (কা’বা) ঘরকে পবিত্র করো তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু সাজদাকারীদের জন্যে।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ জ্বা'আল্নাল্ বাইতা মাছা-বাতাল লিন্না-সি অআম্না- অত্তাখিযূ মিম্ মাক্বা-মি ইব্রা-হীমা মুছোয়াল্লান্ অ'আহিদ্নায় ইলায় ইব্রা-হীমা অইস্মা-'ঈলা আন্ ত্বোয়াহ্হিরা-বাইতিয়া লিত্ত্বোয়া-য়িফীনা অল্'আ-কিফীনা র্অরুক্কা'ইস্ সুজ্ব ূদ।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! ইব্রাহীম বললেন - - “আমার প্রভু! এটিকে তুমি নিরাপদ নগর বানাও, আর এর লোকদের ফলফসল দিয়ে জীবিকা দান করো - - তাদের যারা ‌তে ও আখেরাতের দিনে ঈমান এনেছে।” তিনি বললেন - - “আর যে অবিশ্বাস পোষণ করবে তাকে আমি ক্ষণেকের জন্য ভোগ করতে দেব, তারপর তাড়িয়ে নেব আগুনের শাস্তির দিকে, আর নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম (দোয়া করে) বলেছিল: ‘আমার প্রভু! এই মক্কা নগরকে নিরাপদ নগর বানিয়ে দাও এবং এর অধিবাসীদের যারা ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনবে, ফল ফলারি দিয়ে তাদের জীবন ধারণের উপকরণ সরবরাহ করো।’ তিনি বললেন: আর যে কুফুরি করবে তাকেও অল্প কিছুকাল জীবন সামগ্রী সরবরাহ করবো, তারপর আমি তাকে বাধ্য করবো আগুনের আযাব ভোগ করতে, আর খুবই নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল সেটা।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বা-লা ইব্রা-হীমু রব্বিজ্ব ্'আল্ হা-যা- বালাদান্ আ-মিনাওঁ র্অযুক্ব ্ আহ্লাহূ মিনাছ্ ছামারা-তি মান্ আ-মানা মিন্হুম্ বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-র্খি ক্বা-লা অমান্ কাফারা ফাউমাত্তি'উহূ ক্বালীলান্ ছুম্মা আদ্ব্ত্বোর্য়ারুহূয় ইলা- 'আযা-বিন্না-রি অবিসাল মার্ছী।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! ইব্রাহীম গৃহের ভিত্তি গেথেঁ তুললেন, আর ইসমাইল। “আমাদের প্রভু! আমাদের থেকে তুমি গ্রহণ করো। নিঃসন্দেহ তুমি নিজেই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর স্মরণ করো, ইবরাহিম এবং (তার পুত্র) ইসমাঈল যখন এই ঘরের ভিত উঠাচ্ছিল, তখন তারা (দোয়া করে) বলেছিল: ‘‘আমাদের প্রভু! আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের এ কাজ কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছু শোনো, সবকিছু জানো।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ইর্য়াফা'উ ইব্রা-হীমুল্ ক্বাওয়া-'ইদা মিনাল্ বাইতি অইস্মা-'ঈল্ রব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্ ইন্নাকা আনতাস্ সামী'উল্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

“আমাদের প্রভু! আর তোমার প্রতি আমাদের মুসলিম করে রেখো, আর আমাদের সন্তানসন্ততিদের থেকে তোমার প্রতি মুসলিম উম্মৎ, আর আমাদের উপাসনা - প্রণালী আমাদের দেখিয়ে দাও, আর আমাদের তওবা কবুল করো, নিঃসন্দেহ তুমি নিজেই তওবা কবুলকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! আমাদের দু’জনকেই তোমার প্রতি ‘মুসলিম’ (অনুগত - আত্মসমর্পিত) বানাও, আর আমাদের বংশধরদের থেকেও তোমার প্রতি একটি ‘মুসলিম উম্মাহ’ (অনুগত জাতি) বানাও। আমাদেরকে আমাদের মানাসিক (ইবাদত পদ্ধতি) শিখিয়ে দাও এবং আমাদের অনুশোচনা গ্রহণ করে আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি অনুশোচনা গ্রহণকারী অতীব ক্ষমাশীল, দয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

রব্বানা- অজ্ব্ ্'আল্না- মুস্লিমাইনি লাকা অমিন্ র্যুরিয়্যাতিনা- উম্মাতাম্ মুস্লিমাতাল্লাকা অআরিনা-মানা-সিকানা-অতুব্ 'আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-র্বু রাহীম্।

জহুরুল হক

“আমাদের প্রভু! তাদের মাঝে তাদের থেকে রসূল উত্থাপন করো যিনি তোমার প্রত্যাদেশসমূহ তাদের কাছে পড়ে শোনাবেন, আর তাদের শেখাবেন ধর্মগ্রন্থ ও জ্ঞান - বিজ্ঞান, আর তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি নিজেই মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।”

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! এদের (আমাদের বংশধরদের) কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল পাঠিয়ো, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদেরকে (তোমার) কিতাব এবং হিকমা শিক্ষা দেবেন আর তাদেরকে তাযকিয়া করবেন। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশক্তিমান সর্বজ্ঞানী।’’

বাংলা উচ্চারণ

রব্বানা-অব্'আছ্ ফীহিম রাসূলাম্ মিন্হুম্ ইয়াত্লূ 'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিকা অইয়ূ'আল্লিমুহুমুল্ কিতা-বা অল্ হিক্মাতা অইয়ুযাক্কী হিম্ ইন্নাকা আন্তাল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।

জহুরুল হক

আর যে ইব্রাহীমের ধর্মমত থেকে অপসৃত হয় সে ছাড়া আর কে নিজেকে নির্বোধ বানায়? আর অবশ্যই আমরা তাঁকে এই দুনিয়াতে মনোনীত করেছিলাম, আর নিঃসন্দেহে তিনি আখেরাতে হবেন ধার্মিকদের অন্যতম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে নিজেকে বোকা - নির্বোধ বানিয়েছে, সে ছাড়া ‘মিল্লাতে ইবরাহিম’ (ইবরাহিমের আদর্শ ও জীবন পদ্ধতি) থেকে মুখ ফিরাবে কে? দুনিয়াতে আমি তাকে বাছাই করেছি আর আখিরাতে সে হবে ন্যায়পরায়ণদের অন্তরভুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

অমাইঁ ইর্য়াগাবু 'আম্মিল্লাতি ইব্রা-হীমা ইল্লা- মান্ সাফিহা নাফ্সাহ্ অলাক্বাদিছ্ ত্বোয়াফাইনা-হু ফিদ্দুন্ইয়া- অইন্নাহূ ফিল্ আ-খিরাতি লামিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

জহুরুল হক

স্মরণ করো! তাঁর প্রভু তাঁকে বললেন - - “ইসলাম গ্রহণ করো!” তিনি বললেন - - “আমি সমস্ত সৃষ্টজগতের প্রভুর কাছে আ‌ত্মসমর্পণ করছি।”

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তার প্রভু তাকে বলেছিল: ‘আত্মসমর্পণ করো।’ সে বলেছিল: ‘আমি আত্মসমর্পণ করলাম রাববুল আলামিনের উদ্দেশ্যে।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ক্বা-লা লাহূ- রব্বুহূয় আস্লিম্ ক্বা-লা আস্লাম্তু লিরব্বিল্ 'আ-লামীন।

জহুরুল হক

আর ইব্রাহীম তাঁর সন্তানদের এইটির ভারার্পণ করেছিলেন, আর ইয়াকুব। “হে আমার সন্তানসন্ততি! নিশ্চয় তোমাদের জন্য এই ধর্ম মনোনীত করেছেন, অতএব তোমরা প্রাণত্যাগ করো না তোমরা মুসলিম না হয়ে।”

আবদুস শহীদ নাসিম

এই একই বিষয়ের অসিয়ত করেছিল ইবরাহিম তার সন্তানদের এবং (তার নাতি) ইয়াকুব (নিজের সন্তানদের)। (তারা বলেছিল:) ‘হে আমার সন্তানেরা! তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন ‘আদ্ দীন’। সুতরাং আমৃত্যু তোমরা মুসলিম (আল্লাহর অনুগত) হয়ে থাকবে।’

বাংলা উচ্চারণ

অঅছ্ছোয়া-বিহায় ইব্রা-হীমু বানীহি অইয়া'ক্ব ূব্ ইয়া-বানিয়্যা ইন্নাল্লা-হাছ্ ত্বোয়াফা- লাকুমুদ্দীনা ফালা-তামূ তুন্না ইল্লা- অআন্তুম্ মুস্লিমূন্।

জহুরুল হক

অথবা তোমরা কি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যু এসেছিল, যখন তিনি তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন - - “তোমরা আমার পরে কার এবাদত করবে?” ওরা বলেছিল - - “আমরা এবাদত করব তোমার উপাস্যের ও তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসমাইল ও ইসহাকের উপাস্যের - - একক উপাস্যের, আর তাঁর কাছে আমরা মুসলিম।”

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি সাক্ষী (উপস্থিত) ছিলে, যখন হাজির হয়েছিল ইয়াকুবের মৃত্যু (সময়)? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল: ‘আমার পরে তোমরা কিসের ইবাদত করবে?’ তারা বলেছিল: ‘আমরা ইবাদত করবো আপনার ইলাহ্র এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম, ইসমাঈল আর ইসহাকের ইলাহ্র। তিনিই একমাত্র ইলাহ্। আমরা তাঁর প্রতি ‘মুসলিম’ (অনুগত - আত্মসমর্পিত) হয়ে থাকবো।’

বাংলা উচ্চারণ

আম্ কুন্তুম্ শুহাদা-য়া ইয্ হাদ্বোয়ারা ইয়া'ক্ব ূবাল্ মাওতু ইয্ ক্বা-লা লিবানীহি মা- তা'বুদূনা মিম বা'দী ক্বা-লূ না'বুদু ইলা-হাকা অইলা-হা আ-বা-য়িকা ইব্রাহীমা অ ইস্মা-'ঈলা অইস্্হা-ক্বা ইলা-হাওঁ অ-হিদা- ও অনাহ্নু লাহূ মুস্্লিমূন্।

জহুরুল হক

এরা ঐসব লোক যারা গত হয়ে গেছে। তাদের জন্য আছে যা তারা অর্জন করেছিল আর তোমাদের জন্য যা তোমরা অর্জন করছ, আর তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে না ওরা যা করছিল সে সন্বন্ধে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি ছিলো একটি উম্মাহ, তারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা উপার্জন (আমল) করেছে তা - ই (তার প্রতিফলই) তারা পাবে। আর তোমরা পাবে তোমাদের উপার্জনের প্রতিফল। তারা যা আমল করে গেছে সে সম্পর্কে তোমাদের সওয়াল (জিজ্ঞাসাবাদ) করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

তিল্কা উম্মাতুন্ ক্বাদ্ খালাত্ লাহা- মা- কাসাবাত্ অলাকুম্ মা-কাসাব্তুম্ অলা-তুস্য়ালূনা 'আম্মা- কা-নূ ইয়া'মালূন্।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - “ইহুদীয় বা খ্রীষ্টান হও, তোমরা হেদায়ত পাবে।” তুমি বলো - - “বরং অনন্যচিত্ত ইব্রাহীমের ধর্মমত। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না?”

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা বলে: ‘ইহুদি হয়ে যাও, কিংবা খৃষ্টান হয়ে যাও, তবেই হিদায়াত (ঠিক পথ) লাভ করবে।’ (হে মুহাম্মদ) তুমি বলো: ‘বরং, তোমরা সব কিছু ত্যাগ করে ইবরাহিমের আদর্শ গ্রহণ করো। আর তিনি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিলেন না।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লূ কূনূ হূদান্ আও নাছোয়া-রা- তাহ্তাদূ ক্ব ুল্ বাল্ মিল্লাতা ইব্রা-হীমা হানীফা- অমা- কা-না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।

জহুরুল হক

তোমরা বলো - - “আমরা ‌তে ঈমান এনেছি, আর তা’তে যা আমাদের জন্য নাযিল হয়েছে, আর যা নাযিল হয়েছিল ইব্রাহীমের কাছে, আর ইসমাইল ও ইসহাক, আর ইয়াকুব এবং বিভিন্ন গোত্রের কাছে, আর যা দেয়া হয়েছিল মূসাকে এবং ঈসাকে, আর যা সকল নবীদের তাঁদের প্রভুর কাছ থেকে দেয়া হয়েছিল। আমরা তাঁদের কোনো একজনের মধ্যেও পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই কাছে মুসলিম হচ্ছি।”

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুসলিমরা!) তোমরা বলো: ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি। তাছাড়া আমরা ঈমান রাখি তার প্রতি, যা নাযিল হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা নাযিল হয়েছিল ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক এবং ইয়াকুব ও তার সন্তানদের প্রতি; আর যা নাযিল হয়েছিল মূসা আর ঈসার প্রতি; আর যা প্রদান করা হয়েছিল অন্যান্য নবীগণকে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে। আমরা তাদের (নবী - রসূলগণের) কারো মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য করিনা। আমরা তো শুধু তাঁরই (আল্লাহরই) জন্যে মুসলিম।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব ূলূয় আ-মান্না-বিল্লা-হি অমায় উন্যিলা ইলাইনা- অমায় উন্যিলা ইলায় ইব্রা- হীমা অইস্মা-'ঈলা অইস্হা-ক্বা অইয়া'ক্ব ূবা অল্ আস্্বা-ত্বি অমায় ঊতিয়া মূসা- অ 'ঈসা- অমায় ঊতিয়ান্ নাবিয়্যূনা র্মি রব্বিহিম্ লা-নুর্ফারিক্ব ূ বাইনা আহাদিম্ মিন্হুম্ অনাহ্নু লাহূ মুস্লিমূন্।

জহুরুল হক

এবার যদি তারা ঈমান আনত যেভাবে তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনছো, তাহলে নিঃসন্দেহ তারা হেদায়ত পেতো, আর যদি তারা ফিরে যায় তাহলে অবশ্যই তারা বিরোধিতাতে নিমগ্ন। অতএব আল্লাহই তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য যথেষ্ট, কারণ তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে যে বিষয়ে ঈমান এনেছো, তারা যদি তোমাদের মতো সেরকম ঈমান আনে, তাহলেই তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। আর যদি তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, তবে তারা অবশ্যি বিরুদ্ধবাদী। তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্ই তোমার জন্যে যথেষ্ট। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন্ আ-মানূ বিমিছ্লি মায় আ-মান্তুম্ বিহী ফাক্বাদিহ্ তাদাও অইন্ তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা-হুম্ ফী শিক্বা-ক্বিন্ ফাসাইয়াক্ফীকা হুমুল্লা-হু অহুওয়াস্ সামী'উল্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

“‌র রঙ। আর রঙের ক্ষেত্রে ‌র চাইতে কে বেশী সুন্দর? আর আমরা তাঁরই উপাসনাকারী।”

আবদুস শহীদ নাসিম

(বলো:) ‘আমাদের রঙ (ধর্ম) হলো আল্লাহর রঙ (ইসলাম)। এবং রঙের দিক থেকে আল্লাহর চেয়ে সুন্দর আর কে? আমরা তাঁরই ইবাদতকারী (অনুগত ও হুকুমপালনকারী)।’

বাংলা উচ্চারণ

ছিব্গাতাল্লা-হি অমান্ আহসানু মিনাল্লা-হি ছিব্গাতাওঁ অনাহ্নু লাহূ 'আ-বিদূন।

জহুরুল হক

বলো - - “তোমরা কি আমাদের সঙ্গে ‌র সন্বন্ধে হুজ্জত করছ অথচ তিনি আমাদের প্রভু, তোমাদেরও প্রভু? আর আমাদের কাজ আমাদের হবে, ও তোমাদের কাজ তোমাদের হবে। আর আমরা তাঁরই প্রতি একান্ত অনুরক্ত।”

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো (হে মুহাম্মদ!): ‘তোমরা কি আমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হতে চাও আল্লাহর ব্যাপারে? অথচ তিনি আমাদেরও রব এবং তোমাদেরও রব। আমাদের আমল ( - এর প্রতিফল) আমাদের, আর তোমাদের আমল ( - এর প্রতিফল) তোমাদের। আর আমরা তাঁর (আল্লাহর) জন্যে নিষ্ঠাবান।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব ুল্ আতুহা-জ্বজ্ব ূনানা- ফিল্লা-হি অহুঅ রব্বুনা- অরব্বুকুম্ অলানায় আ'মা-লুনা- অলাকুম্ আ'মা-লুকুম্ অনাহ্নু লাহূ মুখ্লিছূন্।

জহুরুল হক

অথবা তোমরা কি বলো যে ইব্রাহীম ও ইসমাইল ও ইসহাক ও ইয়াকুব এবং বিভিন্ন গোত্রেরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? বলো - - “তোমরা কি বেশি জানো, না ‌? আর তাঁর চাইতে কে বেশি অন্যায় করছে যে গোপন করছে সেই সাক্ষ্য যা ‌র কাছ থেকে সে পেয়েছে? আর তোমরা যা করছ সে সন্বন্ধে বেখেয়াল নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তোমরা বলতে চাও যে, ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক এবং ইয়াকুব ও তার বংশধররা ইহুদি কিংবা নাসারা ছিলো? (হে মুহাম্মদ! তাদের) বলো: ‘তোমরাই কি বেশি জানো, নাকি ? ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যার কাছে আল্লাহর নিকট থেকে আসা প্রমাণ বর্তমান থাকা সত্ত্বেও সে তা গোপন করে? মোটেও গাফিল নন তোমাদের আমল (কর্মকান্ড) - এর ব্যাপারে।

বাংলা উচ্চারণ

আম্ তাক্ব ূলূনা ইন্না ইব্রা-হীমা অইস্মা-'ঈলা অইস্হা-ক্বা অইয়া'ক্ব ূবা অল্ আস্বা-ত্বোয়া কা-নূ হূদান্ আও নাছোয়া-রা- ক্ব ুল্ আআন্তুম্ আ'লামু আমিল্লা-হ্ অমান্ আজ্লামু মিম্মান্ কাতামা শাহা-দাতান্ 'ইন্দাহূ মিনাল্লা-হ্ অমাল্লা-হু বিগা-ফিলিন্ 'আম্মা-তা'মালূন্।

জহুরুল হক

এরা ঐসব লোক যারা গত হয়ে গেছে। তাদের জন্য আছে যা তারা অর্জন করেছিল, আর তোমাদের জন্য যা তোমরা অর্জন করছ, আর তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে না ওরা যা করছিল সে - সন্বন্ধে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি ছিলো একটি উম্মাহ, তারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা উপার্জন করেছে তার প্রতিফলই তারা পাবে। আর তোমরা পাবে তোমাদের উপার্জন - এর প্রতিফল। তোমাদের সওয়াল (জিজ্ঞাসাবাদ) করা হবেনা তাদের আমল সম্পর্কে।

বাংলা উচ্চারণ

তিল্কা উম্মাতুন্ ক্বাদ খালাত্ লাহা- মা- কাসাবাত্ অলাকুম্ মা- কাসাব্তুম্ অলা- তুস্য়ালূনা 'আম্মা- কা-নূ ইয়া'মালূন্।

জহুরুল হক

লোকদের মধ্যের নির্বোধরা শীঘ্রই বলবে - - “তাদের যে কিবলাহ্‌তে তারা তাদের বদলালো কিসে?” তুমি বলো - - “পূর্ব ও পশ্চিমের মালিক ‌, তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সহজ - সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন।”

আবদুস শহীদ নাসিম

বোকা নির্বোধ লোকেরা অচিরেই বলবে: ‘কী জিনিস তাদের (মুসলিমদের) ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের সেই কিবলা (বায়তুল মাকদাস) থেকে, যার দিকে ফিরে তারা আদায় করে আসছিল?’ বলো (হে মুহাম্মদ!): পূর্ব পশ্চিম উভয়টার মালিকই । তিন যাকে ইচ্ছা সোজা পথ প্রদর্শন করেন।

বাংলা উচ্চারণ

সাইয়াক্ব ূলুস্ সুফাহা - য়ূ মিনান্ না-সি মা-অল্লা-হুম 'আন্ ক্বিব্লাতিহিমুল্ লাতী কা-নূ 'আলাইহা- ক্ব ুল্ লিল্লা-হিল্ মাশ্রিক্ব ু অল্মাগ্রিব্ ইয়াহ্দী মাইঁ ইয়াশা - য়ু ইলা-ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।

জহুরুল হক

আর এইভাবে তোমাদের আমরা বানিয়েছি একটি সুসামঞ্জস্যরক্ষাকারী সমাজ, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হতে পারো, আর রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হতে পারেন। আর আমরা তাকে কিবলাহ্ বানাতাম না যার উপরে তুমি ছিলে, যদি না আমরা যাচাই করতাম যে কে রসূলকে অনুসরণ করে আর কে তার মোড় ফিরিয়ে ঘুরে যায়। আর নিঃসন্দেহ এটি কঠিন ছিল তাদের ক্ষেত্রে ছাড়া যাদের হেদায়ত করেছেন। আর তোমাদের ঈমান কখনও নিষ্ফল হতে দেবেন না। নিঃসন্দেহ মানুষের প্রতি পরম স্নেহময়, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা তোমাদের বানিয়েছি একটি ‘মধ্যপন্থী উম্মাহ’ যাতে করে তোমরা বিশ্ববাসীর জন্যে সাক্ষী হতে পারো এবং রসূল হতে পারে তোমাদের জন্যে সাক্ষী। তুমি এ যাবত যেটিকে কিবলা বানিয়ে আদায় করে আসছিলে, সেটিকে তো আমরা এজন্যে কিবলা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যাতে করে আমরা জানতে পারি, কে আমার রসূলের এত্তেবা (অনুসরণ) করে, আর কে তার থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে? নি:সন্দেহে এটা (পরিবর্তিত কিবলা মেনে নেয়া) ছিলো একটা বড় কঠিন কাজ; কিন্তু তাদের জন্যে (মোটেও কঠিন) ছিলনা, যাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। অবশ্যি এমন নন যে, তিনি তোমাদের ঈমান বিনষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি পরম স্নেহপরায়ণ, পরম দয়ালু।

বাংলা উচ্চারণ

অ কাযা-লিকা জ্বা'আল্না-কুম্ উম্মাতাওঁ অসাত্বোয়াল্ লিতাকূনূ শুহাদা - য়া 'আলান্ না-সি অ ইয়াকূর্না রাসূলু 'আলাইকুম্ শাহীদা- অমা-জ্বা'আল্নাল্ ক্বিব্লাতাল্ লাতী কুন্তা 'আলাইহা - ইল্লা- লিনা'লামা মাইঁ ইয়াত্তাবি'র্উ রাসূলা মিম্মাইঁ ইয়ান্ক্বালিবু 'আলা-'আক্বিবাইহ্ অইন্ কা-নাত্ লাকাবীরাতান্ ইল্লা-'আলাল্লাযীনা হাদাল্লা-হ্ অমা- কা-নাল্লা-হু লিইয়ুদ্বী'আ ঈমা-নাকুম্ ইন্নাল্লা-হা বিন্না-সি লারাঊর্ফু রাহীম্।

জহুরুল হক

আমরা নিশ্চয়ই দেখেছি আকাশের দিকে তুমি মুখ তোলে রয়েছ, তাই আমরা নিঃসন্দেহ তোমাকে কর্তৃত্ব দেবো কিবলাহ্‌র যা তুমি পছন্দ কর। কাজেই হারাম মসজিদের দিকে তোমার মুখ ফেরাও। আর যেখানেই তোমরা থাক তোমাদের মুখ এর দিকেই ফেরাবে। আর যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে নিঃসন্দেহ এটি তাদের প্রভুর কাছ থেকে আসা ধ্রুব - সত্য। আর তারা যা করছে সে - সন্বন্ধে বেখেয়াল নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

বার বার তোমার আকাশের দিকে (কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ পাওয়ার জন্যে) তাকানোর বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা অবশ্যি তোমাকে এমন একটি কিবলার (কাবার) দিকে ফিরিয়ে দেবো, যা তোমাকে সন্তুষ্ট করবে। হ্যাঁ, ‘মসজিদুল হারামের’ দিকে মুখ ফিরিয়ে নাও। তোমরা যেখানেই থাকোনা কেন সেটির দিকে মুখ ফিরিয়ে নাও। আর যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে, তারা নিশ্চিতভাবেই জানে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এটা সঠিক নির্দেশ। তারা যা করছে, সে সম্পর্কে গাফিল নন।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বাদ্ নারা-তাক্বাল্ল ুবা অজ্ব ্হিকা ফিস্ সামা - য়ি ফালানুওয়াল্লিয়ান্নাকা ক্বিব্লাতান্ তারদ্বোয়া-হা-ফাওয়াল্লি অজ্ব ্হাকা শাত্ব ্রাল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-ম্ অ হাইছু মা-কুনতুম্ ফাওয়াল্ল ূ উজ্ব ূহাকুম্ শাত্ব্রাহ্ অইন্নাল্লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা লাইয়া'লামূনা আন্নাহুল্ হাক্ব ্ক্ব ু র্মিরব্বিহিম অমাল্লা-হু বিগা-ফিলিন্ 'আম্মা- ইয়া'মালূন্।

জহুরুল হক

আর যদিও তুমি যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের কাছে সবক’টি নিদর্শন নিয়ে আস তবুও তারা তোমার কিবলাহ্ মেনে চলবে না। আর তুমি তাদের কিবলাহ্‌র অনুবর্তী হতে পারো না, আবার তাদের কেউ - কেউ পরস্পরের কিবলাহ্‌র অনুবর্তী নয়। আর তুমি যদি তাদের হীন মনোবৃত্তির অনুসরণ কর তোমার কাছে জ্ঞানের যা এসেছে তার পরেও, তাহলে নিঃসন্দেহ তুমিও হবে অন্যায়কারীদের অন্যতম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে, তুমি যদি তাদেরকে সমস্ত দলিল - প্রমাণ নিদর্শনও দেখাও, তবু তারা তোমার কিবলার অনুসরণ করবেনা (কাবাকে কিবলা মেনে নেবেনা)। আর তুমিও তাদের কিবলার অনুসারী নও এবং তারাও তাদের পরস্পরের কিবলার অনুসারী নয়। তোমার কাছে ‘আল এলেম’ (সত্যজ্ঞান) এসে যাবার পরও যদি তুমি তাদের ইচ্ছা - আকাংখার অনুসরণ করো, তবে অবশ্যি তুমি যালিমদের অন্তরভুক্ত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাইন্ আতাইতাল্ লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা বিকুল্লি আ-ইয়াতিম্ মা-তাবি'ঊ ক্বিব্লাতাকা' অমায় আন্তা বিতা-বি'ইন্ ক্বিব্লাতাহুম্ অমা-বা'দ্বুহুম্ বিতা-বি'ইন্ ক্বিবলাতা বা'দ্ব্ অলাইনিত্তাবা'তা আহ্ওয়া - য়াহুম্ মিম্ বা'দ্বি মা-জ্বা - য়াকা মিনাল্ 'ইল্মি ইন্নাকা ইযাল্ লামিনাজ্ জোয়া-লিমীন্।

জহুরুল হক

যাদের আমরা কিতাব দিয়েছি তারা তাঁকে চিনতে পারছে যেমন তারা চিনতে পারে তাদের সন্তানদের। কিন্তু তাদের মধ্যের একদল নিশ্চয়ই সত্য কথা গোপন করছে, আর তারা জানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদেরকে আমরা ইতোপূর্বে কিতাব দিয়েছি তারা এটিকে (কাবাকে) ঠিক সেরকমই চেনে, যেমন চেনে নিজেদের ছেলে মেয়েদেরকে। কিন্তু তাদের একটি দল জেনে বুঝে সত্য গোপন করে চলেছে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল্ কিতা-বা ইয়া'রিফূনাহূ কামা- ইয়া'রিফূনা আব্না - য়াহুম্ অইন্না ফারীক্বাম্ মিন্হুম লাইয়াক্তুমূনাল্ হাক্ব ্ক্বা অহুম্ ইয়া'লামূন্।

জহুরুল হক

এই সত্য এসেছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে অতএব তোমারা সন্দেহপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটাই তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে আসা অনিবার্য সত্য। সুতরাং তুমি সংশয়ীদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

আল্হাক্বক্ব ু র্মি রব্বিকা ফালা-তাকূনান্না মিনাল্ মুম্তারীন্।

জহুরুল হক

আর প্রত্যেকের জন্য একটি কেন্দ্রস্থল আছে যে - দিকে সে ফেরে, কাজেই সৎকর্মে একে অন্যের সাথে তোমরা প্রতিযোগিতা করো। যেখানেই তোমরা থাকো না কেন, তোমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন। নিঃসন্দেহ সব - কি ছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেকেরই (প্রত্যেক জাতি - গোষ্ঠীরই) একটি দিক (কিবলা) আছে, যে দিকে সে ফিরে (প্রার্থনা করে)। সুতরাং প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাও সকল কল্যাণকর কাজে। যেখানেই তোমরা থাকোনা কেন, অবশ্যি তোমাদের সবাইকে একত্র করবেন। অবশ্যি সকল বিষয়ে শক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

অলিকুল্লিওঁ ওয়িজ্ব ্হাতুন্ হুওয়া মুওয়াল্লীহা-ফাসতাবিক্ব ুল্ খাইরা-ত্ আইনা মা-তাকূনূ ইয়াতি বিকুমুল্ লা-হু জ্বামী'আ- ইন্নাল্লা-হা 'আলা- কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।

জহুরুল হক

আর যেখান থেকেই তুমি আস, তোমার মুখ পবিত্র মসজিদের দিকে ফেরাও। নিঃসন্দেহ এটি তোমার প্রভুর কাছ থেকে সত্য। আর অবশ্যই বেখেয়াল নন তোমরা যা করো সে - সন্বন্ধে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেখান থেকেই তুমি যাত্রা করোনা কেন, সেখান থেকেই ( আদায়ের সময়) তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। তোমার রবের পক্ষ থেকে এ (কিবলা) অবশ্যি সত্য ও বাস্তব ভিত্তিক ফায়সালা। তোমাদের আমল সম্পর্কে গাফিল নন।

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্ হাইছু খারাজ্ব ্তা ফাওয়াল্লি অজ্ব ্হাকা শাত্ব ্রাল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-ম্ অইন্নাহূ লাল্হাক্ব ্ক্ব ু র্মি রব্বিক্ অমাল্লা-হু বিগা-ফিলিন্ 'আম্মা- তা'মালূন্।

জহুরুল হক

আর যেখান থেকেই তুমি আস, তোমার মুখ পবিত্র মসজিদের দিকে ফেরাবে। আর যেখানেই তোমরা থাকো, তোমাদের মুখ সেই দিকেই ফেরাবে। যাতে তোমাদের বিরুদ্ধে লোকজনদের কোনো হুজ্জত না থাকে - - তাদের মাঝে যারা অন্যায় করে তারা ব্যতীত। অতএব তাদের ভয় করো না, বরং ভয় করো আমাকে। আর যাতে আমি তোমাদের উপরে আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করতে পারি, আর যাতে তোমরা সুপথগামী হতে পারো, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যেখান থেকেই তুমি যাত্রা শুরু করোনা কেন ( আদায়ের সময়) মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। আর তোমরাও যে যেখানেই থাকো তার (মসজিদুল হারামের) দিকে মুখ ফিরাও, যাতে করে লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দাঁড় করাতে না পারে। তবে যালিমদের কথা ভিন্ন (তারা সর্বাবস্থায়ই কুতর্কে লিপ্ত হয়)। সুতরাং তাদেরকে ভয় পেয়োনা, ভয় করো শুধু আমাকে - আর (আমার ফায়সালা মতো চলো), যাতে করে আমি তোমাদের প্রতি পূর্ণ করে দিতে পারি আমার নিয়ামত (দীন ও কিতাব) এবং যাতে করে তোমরা পরিচালিত হতে পারো সঠিক পথে।

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্ হাইছু খারাজ্ব ্তা ফাওয়াল্লি ওয়াজ্ব ্হাকা শাত্ব্রাল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-ম্ অ হাইছু মা-কুন্তুম্ ফাওয়াল্লূ উজ্ব ূহাকুম্ শাত্ব ্রাহূ লিয়াল্লা-ইয়াকূনা লিন্না-সি 'আলাইকুম্ হুজ্বজ্বাতুন্ ইল্লাল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্হুম্ ফালা-তাখ্শাওহুম্ ওয়াখ্শাওনী অ লিউতিম্মা নি'মাতী 'আলাইকুম্ অলা'আল্লাকুম্ তাহ্তাদূন্।

জহুরুল হক

যেমন, আমরা তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্যে থেকে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যিনি আমাদের বাণী তোমাদের কাছে তিলাওত করছেন, আর তোমাদের পবিত্র করছেন, আর তোমাদের ধর্মগ্রন্থ ও জ্ঞানবিজ্ঞান শিক্ষা দিচ্ছেন, আর তোমাদের শেখাচ্ছেন যা তোমরা জানতে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমনিভাবে (তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে) আমি তোমাদের থেকেই তোমাদের মাঝে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যে তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে, তোমাদের তাযকিয়া (সংশোধন ও উন্নত) করে, তোমাদের আল কিতাব (কুরআন) ও হিকমা শিক্ষা দেয় এবং তোমরা যা কিছু জানতে না, সেগুলো তোমাদের শিখায়।

বাংলা উচ্চারণ

কামায় র্আসাল্না- ফীকুম্ রাসূলাম্ মিন্কুম্ ইয়াত্লূ 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তিনা-অইয়ুযাক্কীকুম্ অইয়ু'আল্লিমুকুমুল্ কিতা-বা অল্হিক্মাতা অইয়ু'আল্লিমুকুম্ মা-লাম্ তাকূনূ তা'লামূন্।

জহুরুল হক

অতএব আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো, আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, আর আমাকে অস্বীকার করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আমার যিকির করো (আমার নিয়ামতের কথা আলোচনা করো), তাহলে আমি তোমাদের যিকির করবো। আর তোমরা আমার শোকরগুজার হয়ে থাকো এবং (আমার নিয়ামতসমূহ) অস্বীকার করোনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফায্কুরূনীয় আর্য্কুকুম্ অশ্ কুরূলী অলা-তাক্ফুরূন্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! সাহায্য কামনা করো ধৈর্য ধরে ও পড়ে! নিঃসন্দেহ সবুরকারীদের সাথে আছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐ সমস্ত লোকেরা, যারা ঈমান এনেছো! তোমরা সবর এবং দ্বারা সাহায্য (শক্তি) অর্জন করো। নিশ্চয়ই সবরকারীদের সাথে থাকেন।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানুস্ তা'ঈনূ বিছ্ছব্রি অছ্ছলা-হ্ ইন্নাল্লা-হা মা'আছ্ ছোয়া-বিরীন্।

জহুরুল হক

আর যারা ‌র পথে নিহত হয় তাদের বলো না - - “মৃত,” বরং জীবন্ত, যদিও তোমরা বুঝতে পারছ না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা 'ফী সাবিলিল্লাহ' (আল্লাহর পথে) নিহত হয়, তোমরা তাদের মৃত বলোনা; প্রকৃত পক্ষে তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা (তা) বুঝতে পারোনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাক্ব ূলূ লিমাইঁ ইয়ুক্ব ্তালু ফী সাবীলিল্লা-হি আম্ওয়া-ত্ বাল্ আহ্ইয়ায় য়ুওঁ অলা-কিল্ লা-তাশ্'উরূন্।

জহুরুল হক

আর আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, আর ক্ষুধা দিয়ে, আর মাল - আসবাবের, আর লোকজনের আর ফল - ফসলের লোকসান ক’রে। আর সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর অবশ্য অবশ্যি আমি তোমাদের পরীক্ষা নেবো ভয় - ভীতি দিয়ে, ক্ষুধা - অনাহার দিয়ে এবং অর্থ - সম্পদ, জান - প্রাণ ও ফল ফসলের ক্ষয় ক্ষতি দিয়ে। তবে সুসংবাদ দাও 'সবর' অবলম্বনকারীদের,

বাংলা উচ্চারণ

অলানাব্লুওয়ান্নাকুম্ বিশাইয়িম্ মিনাল্ খাওফি অল্জ্ব ূ'ই অনাক্ব ্ছিম্ মিনাল্ আম্ওয়া-লি অলআন্ফুসি অছ্ছামারা-ত্ অবাশ্শিরিছ্ ছোয়া-বিরীন্।

জহুরুল হক

যারা তাদের উপরে কোনো আপদ - বিপদ ঘটলে বলে - - “নিঃসন্দেহ আমরা ‌র জন্যে, আর অবশ্যই আমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।”

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বিপদ - মসিবতে আক্রান্ত হলে বলে: ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাবো।’

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইযায় আছোয়া-বাত্হুম্ মুছীবাতুন্ ক্বা-লূ য় ইন্না-লিল্লা-হি অইন্না- ইলাইহি রা-জ্বি'ঊন্।

জহুরুল হক

এইসব - - তাদের উপরে তাদের প্রভুর কাছ থেকে রয়েছে আশবাদ ও করুণা, আর এরা নিজেরাই সুপথগামী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই সেইসব লোক, যাদের প্রতি তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বর্ষিত হয় (ক্ষমা ও করুণা) এবং রহমত। আর তারাই (তাঁর পক্ষ থেকে) হিদায়াত প্রাপ্ত।

বাংলা উচ্চারণ

উলায় য়িকা 'আলাইহিম্ ছলাওয়া-তুম্ র্মি রব্বিহিম্ অরাহ্মাহ অউলা - য়িকা হুমুল্ মুহ্তাদূন্।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ সাফা ও মারওয়াহ্ ‌র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তাই যে কেউ গৃহে হজ করে বা উমরাহ করে তার জন্য অপরাধ হবে না যদি সে এ দুইয়ের মাঝে তওয়াফ করে। আর যে কেউ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই অতি দানশীল, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তরভুক্ত। সুতরাং যে কেউ আল্লাহর ঘরে (কাবা ঘরে) হজ্জ করবে, কিংবা উমরা করবে, তার জন্যে এই দুই (পাহাড়ের) মাঝে সা’য়ী করাতে কোনো দোষ নাই। আর যে কেউ স্বেচ্ছায় কল্যাণকর কাজ করবে, সে জেনে রাখুক, অবশ্যি স্বেচ্ছা - কল্যাণ কাজের স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদানকারী, সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

। ইন্নাছ্ ছোয়াফা- অল্ র্মাওয়াতা মিন্ শা'আ - ইরিল্লা-হি ফামান্ হাজ্বজ্বাল্ বাইতা আওয়ি' তামারা ফালা-জ্ব ুনা-হা 'আলাইহি আইঁ ইয়াত্ত্বোয়াও অফা বিহিমা- অমান্ তাত্বোয়াও অ'আ খাইরান্ ফাইন্নাল্লা-হা শা-কিরুন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা গোপন করে রাখে পরিস্কার প্রমাণাবলী ও পথনির্দেশের যে - সব আমরা অবতারণ করেছিলাম এগুলো জণগণের জন্য ধর্মগন্থে সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করার পরেও, তারাই! - - যাদের লানৎ দেন, আর তাদের বঞ্চিত করে লানৎকারীরা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের নাযিল করা সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ এবং 'হুদা' (কিতাব ও জীবন বিধান) যারা গোপন করে, যেগুলো মানবজাতিকে সত্যের সন্ধান দেয়ার জন্যে আমরা কিতাবে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, তাদের প্রতি লা'নত (অভিশাপ) বর্ষণ করেন স্বয়ং এবং সকল লা'নত বর্ষণকারীরা (যারা এর উপকার ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত)।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াক্তুমূনা মায় আন্যাল্না-মিনাল্ বাইয়্যিনা-তি অল্হুদা-মিম্ বা'দি মা-বাইয়্যান্না-হু লিন্না-সি ফিল্ কিতা-বি উলা - য়িকা ইয়াল্'আনুহুমুল্লা-হু অইয়াল্'আনুহুমুল্ লা-'ইনূন্।

জহুরুল হক

তারা ছাড়া যারা তওবা করে ও সংশোধন করে, আর প্রকাশ করে, তাহলে তারাই! - - তাদের প্রতি আমি ফিরি আর আমি বারবার ফিরি, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা অনুতপ্ত হয়ে (আমার কিতাব ও কিতাবে প্রদত্ত বিধান গোপন করার কাজ পরিত্যাগ করে) ফিরে আসে এবং নিজেদেরকে এসলাহ (সংশোধন) করে নেয়, আর (যা গোপন করে আসছিল তা) প্রচার - প্রকাশ করার কাজে আত্মনিয়োগ করে, আমি তাদের তওবা কবুল করি, আর একমাত্র আমিই তো তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

। ইল্লাল্লাযীনা তা-বূ অআছ্লাহূ অবাইয়্যানূ ফাউলা - য়িকা আতূবু 'আলাইহিম্ অ'আনাত্তাও ওয়া-র্বু রাহীম্।

জহুরুল হক

অবশ্য যারা অবিশ্বাস পোষণ করে আর মারা যায় তারা অবিশ্বাসী থাকা অবস্থায়, তাদের ক্ষেত্রে - - তাদের উপরে ধিক্কার হোক ‌র, ও ফিরিশ্‌তাদের ও জনগণের সম্মিলিতভাবে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যারা কুফরি করবে (সত্যকে গোপন করার কাজ অব্যাহত রাখবে) এবং সত্য গোপনকারী অবস্থাতেই মারা যাবে, তাদের প্রতি আল্লাহর লা'নত এবং ফেরেশতাকুল ও সমস্ত মানুষের লা'নত।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনা কাফারূ অমা-তূ অহুম্ কুফ্ফা-রুন্ উলা - য়িকা 'আলাইহিম্ লা'নাতুল্লা-হি অল্ মালা - য়িকাতি অন না-সি আজ্ব ্মা'ঈন্।

জহুরুল হক

এতে তারা অবস্থান করবে। তাদের উপর থেকে যাতনা লাঘব করা হবে না, আর তারা বিরামও পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতেই (অভিশাপের পরিণতি জাহান্নামেই) থাকবে তারা চিরকাল। তাদের থেকে আযাবকে কখনো হালকা করা হবেনা এবং কোনো প্রকার অবকাশও তাদের দেয়া হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইয়ুখাফ্ফাফু 'আন্হুমুল্ 'আযা-বু অলা-হুম ইয়ুন্জোয়ারূন্।

জহুরুল হক

আর তোমাদের উপাস্য একক খোদা, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, রহমান, রহীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ইলাহ্ এক ও একক ইলাহ্। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। তিনি রহমানুর রহিম (মহা দয়াবান - পরমকরুণাময়)।

বাংলা উচ্চারণ

অইলা-হুকুম্ ইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুন্ লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুওর্য়া রাহ্মা-নুর রাহীম্।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে, আর রাত ও দিনের বিবর্তনে, আর জাহাজে - - যা সাগরের মাঝে চলাচল করে যার দ্বারা মানুষের মুনাফা হয় তার মধ্যে, আর আকাশ থেকে বৃষ্টির যা - কিছু পাঠান তাতে, তারপর তার দ্বারা মাটিকে তার মরণের পরে প্রাণসঞ্চার করেন, আর তাতে ছড়িয়ে দেন হরেক রকমের জীবজন্ত, আর আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে নিয়ন্ত্রিত বাতাস ও মেঘের গতিবেগে বিশেষ নিদর্শন রয়েছে বিচার - বুদ্ধি থাকা লোকের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

(মহাবিশ্বে ইলাহ্‌ যে শুধুমাত্র একজনই, তার অসংখ্য প্রমাণ এবং নিদর্শন তোমাদের চোখের সামনেই রয়েছে। যেমন:) মহাকাশ এবং পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে, রাত আর দিনের আবর্তনের মধ্যে, মানুষের ব্যবহার্য ও উপকারী পণ্য সামগ্রী নিয়ে সমূদ্রে চলমান নৌযানসমূহের মধ্যে, আকাশ থেকে যে পানি বর্ষণ করেন আর তা দ্বারা যে মৃত্যুর পর জমিনকে জীবিত করেন তার মধ্যে, তিনি যে পৃথিবীতে সব ধরণের জীব জন্তুর বিস্তার সাধন করছেন তার মধ্যে, বায়ু প্রবাহের মধ্যে এবং আসমান ও জমিনের মাঝখানে আল্লাহর নির্দেশের অধীন চলাচলকারী (ছায়াদার) মেঘমালার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য প্রমাণ আর নিদর্শন সেইসব লোকদের জন্যে, যারা আকলকে (বিবেক - বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তিকে) কাজে লাগায়।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ফী খাল্কিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অখ্তিলা-ফিল্লাইলি অন্নাহা-রি অল্ফুল্কিল্ লাতী তাজ্ব্রী ফিল্ বাহ্রি বিমা-ইয়ান্ফা'উন্ না-সা অমায় আন্যালাল্লা-হু মিনাস্ সামা - য়ি মিম্ মা - য়িন্ ফাআহ্ইয়া-বিহিল্ আরদ্বোয়া বা'দা মাওতিহা-অবাছ্ছা ফীহা- মিন্ কুল্লি দা - ব্্বা তিঁও অতাছ্রীর্ফি রিয়া-হি অস্ সাহা-বিল্ মুসাখ্খারি বাইনাস্ সামা - য়ি অল্র্আদ্বি লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বাওমিইঁ ইয়া'ক্বিলূন্।

জহুরুল হক

আর মানুষের মাঝে কেউ - কেউ ‌কে ছেড়ে অন্যকে মুরব্বী বলে গ্রহণ করে, তারা তাদের ভালোবাসে ‌কে ভালোবাসার ন্যায়। তবে যারা ঈমান এনেছে ‌র প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রবলতর। আফসোস! যারা অন্যায় করে তারা যদি দেখতো - - যখন শাস্তি তারা দেখতে পায়, তখন সমস্ত ক্ষমতা পুরোপুরিভাবে ‌র, আর নিঃসন্দেহ শাস্তি দিতে কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এতোসব প্রমাণ - নিদর্শন বর্তমান থাকা সত্ত্বেও) একদল লোক ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ ও প্রতিপক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে। তারা তাদেরকে এমনভাবে ভালোবাসে যেমন ভালোবাসা উচিত শুধুমাত্র আল্লাহকে। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর জন্যে তাদের ভালোবাসা সবার এবং সবকিছুর উপরে অতি মজবুত - অবিচল। হায়, আযাব স্বচক্ষে দেখার পর এইসব যালিমরা যেভাবে বুঝবে, এখনই যদি সেভাবে অনুধান করতো যে, সমস্ত ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহর এবং অবশ্যি সাংঘাতিক আযাব দাতা!

বাংলা উচ্চারণ

অমিনান্ না-সি মাইঁ ইয়াত্তাখিযু মিন্দূনিল্লা-হি আন্দা-দাইঁ ইয়ুহিব্বূনাহুম্ কাহুব্বিল্লা-হ্ অল্লাযীনা আ-মানূ য় আশাদ্দু হুব্বাল্লিল্লা-হ্ অলাও ইয়ারাল্লাযীনা জোয়ালামূ য় ইয্ ইয়ারাওনাল্ 'আযা-বা আন্নাল্ ক্ব ুও ওয়াতা লিল্লা-হি জ্বামী 'আওঁ অআন্নাল্লা-হা শাদীদুল্ 'আযা-ব।

জহুরুল হক

চেয়ে দেখো! যাদের অনুসরণ করা হতো তারা যারা অনুসরণ করেছিল তাদের অস্বীকার করবে, আর তারা দেখতে পাবে শাস্তি, আর তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন (পথভ্রষ্ট) আনুগত্যলাভকারী নেতারা তাদের অনুসারী - আনুগত্যকারীদের সাথে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করবে (তাদের দায় - দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করবে) এবং সম্মুখীন হয়ে পড়বে আযাবের, আর ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক,

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ তার্বারা আল্লাযীনাত্ তুবি'ঊ মিনাল্লাযীনাত্ তাবা'ঊ অরায়ায়ুল্ 'আযা-বা অতাক্বাত্ত্বোয়া'আত্ বিহিমুল্ আস্বা-ব্।

জহুরুল হক

আর যারা অনুসরণ করেছিল তারা বলবে - - ''হায়, আমরা যদি ফেরত পালা পেতাম তাহলে আমরা তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতাম, যেমন তারা আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।’’ এইভাবে তাদের ক্রিয়াকলাপ তাদের দেখান তাদের জন্য তীব্র আক্ষেপরূপে। আর তারা আগুন থেকে বহিষ্কৃত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(পৃথিবীতে) যারা তাদের অনুসরণ - আনুগত্য করতো, তখন তারা বলবে: 'হায়, একবার যদি আমাদের পৃথিবীর জীবনে ফেরত পাঠানো হতো, তবে আমরাও এদের সাথে ঠিক তেমনি সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, যেভাবে তারা আজ আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এভাবেই তাদের (উভয় গ্রুপকে) তাদের আমল দেখাবেন হতাশা নিরাশা আর দুঃখের কারণ হিসেবে। আর তারা কখনো বের হতে পারবেনা আগুন থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লাল্ লাযীনাত্ তাবা'ঊ লাও আন্না লানা-র্কারাতান্ ফানাতার্বারায়া মিনহুম্ কামা- তার্বারায়ূ মিন্না- কাযা-লিকা ইয়ুরীহিমুল লা-হু আ'মা-লাহুম্ হাসারা-তিন্ 'আলাইহিম্ অমা-হুম্ বিখা-রিজ্বীনা মিনান্ নার্-।

জহুরুল হক

ওহে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা - কিছু হালাল ও পবিত্র আছে তা থেকে পানাহার করো, আর শয়তানের পদচিহ্ন অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহ সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানবকুল! তোমরা পৃথিবীর সেসব খাদ্য আহার করো, যেগুলো হালাল এবং ভালো। তোমরা শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ, সে তোমাদের সুস্পষ্ট শত্রু।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহান্ না-সু কুলূ মিম্মা-ফিল্ আরদ্বি হালা-লান্ ত্বোয়াইয়্যিবাওঁ অলা-তাত্তাবি'উ খুত্ব ুওয়া-তিশ্ শাইত্বোয়া-ন্ ইন্নাহূ লাকুম্ 'আদুওউম্ মুবীন্।

জহুরুল হক

সে তোমাদের কেবল প্ররোচনা দেয় মন্দ ও অশালীনতার প্রতি, আর ‌র বিরুদ্ধে তাই বলতে যা তোমরা জানো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তো তোমাদের নির্দেশ দেয় কেবল নিকৃষ্ট - নোংরা এবং ফাহেশা কাজ করার। সে আরো নির্দেশ দেয়, তোমরা যেনো আল্লাহর প্রতি এমন সব কথা আরোপ করো, যেগুলোর জ্ঞান তোমাদের নেই।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামা- ইয়ামুরুকুম্ বিস্সূ - য়ি অল্ফাহ্শা - য়ি অআন্তাক্ব ূলূ 'আলাল ল-হি মা-লা-তা'লামূন্।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের বলা হয় - - ''অনুসরণ করো যা প্রত্যাদেশ অবতারণ করেছেন’’, তারা বলে - - ''না, আমরা অনুসরণ করি তার যার উপরে আমাদের পিতৃপুরুষদের দেখেছি।’’ কি! যদিও তাদের পিতৃপুরুষদের বুদ্ধিবিবেচনা কিছুই ছিল না, আর তারা পথনির্দেশ গ্রহণ করে নি?

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের বলা হয়: ‘অনুসরণ - আনুগত্য করো আল্লাহর নাযিল করা বিধানের, তখন তারা বলে: ‘না, বরং আমরা চলবো সে পথে, যে পথে চলেছেন আমাদের বাপ - দাদারা।' (এ কেমন ব্যাপার!) তাদের বাপ - দাদারা যদি কোনো প্রকার আকল খাটিয়ে না থাকে এবং হিদায়াতের পথে চলে না থাকে, তারপরও কি তারা তাদেরই অনুসরণ করবে?

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-ক্বীলা লাহুমুত্তাবি'ঊমা য় আন্যালাল্লা-হু ক্বা-লূ বাল্ নাত্তাবি'উ মায় আল্ফাইনা-'আলাইহি আ-বা - য়ানা- আওয়ালাও কা-না আ-বা - য়ুহুম্ লা-ইয়া'ক্বিলূনা শাইয়াওঁ অলা-ইয়াহ্তাদূন্।

জহুরুল হক

আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের উপমা হচ্ছে তার দৃষ্টান্তের মতো যে ডাক দেয় এমন কতককে যে আওয়াজ ও চেচাঁমেচি ছাড়া আর কিছু শোনে না। বধিরতা, বোবা, অন্ধত্ব, কাজেই তারা বুঝে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান মেনে নিতে অস্বীকার করে, তাদের উপমা হলো ঠিক তেমনি, যেমন একজন রাখাল (তার পশুদের কিছু নির্দেশ দিয়ে) ডাকে, অথচ তারা হাঁক - ডাক ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায়না। আসলে এরা বধির, বোবা, অন্ধ, তাই তাদের আকল - বুদ্ধি কাজ করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অমাছালুল্লাযীনা কাফারূ কামাছালিল্লাযী ইয়ান্'ইক্ব ুবিমা-লা-ইয়াস্মা'উ ইল্লা-দু'আ - য়াওঁ অনিদা - আ ছুম্মুম্ বুক্্মুন্ 'উম্ইয়ুন ফাহুম লা-ইয়া'ক্বিলূন্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! পবিত্র জিনিস থেকে পানাহার করো যা তোমাদের খেতে দিয়েছি, আর ‌কে ধন্যবাদ দাও, যদি তোমরা তাঁরই এবাদত করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! যারা ঈমান এনেছো! আমি তোমাদের যেসব ভালো - পবিত্র রিযিক দিয়েছি তোমরা (শুধুমাত্র) সেগুলো থেকেই খাও এবং আল্লাহর শোকর আদায় করো, যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে থাকো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ কুলূ মিন্ তোয়াইয়্যিবা-তি মা- রাযাক্ব ্না-কুম্ অশ্কুরূ লিল্লা-হি ইন্কুন্তুম্ ইয়্যা-হু তা'বুদূন।

জহুরুল হক

তিনি তোমাদের কারণে নিষেধ করেছেন কেবল যা নিজে মারা গেছে, আর রক্ত, আর শূকরের মাংস, আর যার উপরে ছাড়া অন্য নাম উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু যে চাপে পড়েছে, অবাধ্য হয় নি বা মাত্রা ছাড়ায় নি, তার উপরে কোনো পাপ হবে না। নিঃসন্দেহ ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা!

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের জন্যে হারাম করে দিয়েছেন: মৃত (পশুপাখি), (প্রবাহিত) রক্ত, শুয়োরের মাংস এবং যেসব (পশু - পাখি) ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ্ (বলি) করা হয়েছে সেগুলো। তবে কেউ যদি (প্রয়োজনের তাকিদে) বাধ্য হয়ে (এ ধরণের কিছু খায়) ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ছাড়া এবং (প্রয়োজনের) সীমালংঘন না করে, তবে তার পাপ হবেনা। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল অতীব দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামা-র্হারামা 'আলাইকুমুল্ মাইতাতা অদ্দামা অলাহ্মাল্ খিন্যীরি অমায়উহিল্লা বিহী লিগাইরিল্লা-হি ফামানিদ্ব্ ত্বর্ ুরা গাইরা বা-গিওঁ অলা-'আ-দিন্ ফালায়ইছ্মা 'আলাইহি ইন্নাল্লা-হা গাফূর্রু রাহীম্।

জহুরুল হক

অবশ্যই যারা ধর্মগ্রন্থের মধ্যে থেকে যা নাযিল করেছেন তা লুকিয়ে রাখে আর এর দ্বারা তুচ্ছ বস্তু কিনে নেয়, - - এরাই তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছু গেলে না, আর কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথাবার্তা বলবেন না, বা তাদের শুদ্ধও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কিতাব নাযিল করেছেন, যারা তা গোপন করে এবং তার বিনিময়ে সামান্য (পার্থিব) স্বার্থ ক্রয় করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করেনা। কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথাও বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াক্তুমূনা মায় আন্যালাল্লা-হু মিনাল্ কিতা-বি অইয়াশ্তারূনা বিহী ছামানান্ ক্বালীলান্ উলা - য়িকা মা-ইয়াকুলূনা ফী বুত্ব ূনিহিম্ ইল্লান্না-রা অলা-ইয়ুকাল্লিমুহুমুল্লা-হু ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অলা-ইয়ুযাক্কী হিম্ অলাহুম্ 'আযা-বুন আলীম্।

জহুরুল হক

এরাই তারা যারা কিনে নেয় হেদায়তের বিনিময়ে ভ্রান্তপথ ও পরিত্রাণের পরিবর্তে শাস্তি। কাজেই কতো তাদের ধৈর্য আগুনের প্রতি!

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই তারা, যারা 'আল হুদার' (সঠিক জীবন পদ্ধতির) বিনিময়ে ক্রয় করেছে 'আদ দলালাহ' (ভ্রান্ত জীবন পদ্ধতি) এবং মাগফিরাতের বিনিময়ে আযাব। আগুনের আযাব সইবার ব্যাপারে কতো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তারা!

বাংলা উচ্চারণ

উলা-য়িকাললাযীনাশ্ তারায়ুদ্ব্দ্বোলা-লাতা বিল্হুদা-অল্'আযা-বা বিল্ মাগ্ফিরাতি ফামা-আছ্বারাহুম্ 'আলান নার্-।

জহুরুল হক

তা - ই! কারণ গ্রন্থখানা নাযিল করেছেন সত্যের সাথে। আর যারা গ্রন্থখানার মতবিরোধ করে তারা নিঃসন্দেহ একগুঁয়েমিতে বহুদূর পৌঁছেছে

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব কিছুর কারণ হলো, 'হক' (সত্য ও বাস্তবতা) সহকারে আল কিতাব পাঠিয়েছেন, আর সেই কিতাব নিয়ে যারা মতভেদ সৃষ্টি করেছে, তারা কিতাবের সাথে বিরোধে লিপ্ত হয়ে অনেক দূরে সরে গেছে (সত্য থেকে)।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা নায্যালাল্ কিতা-বা বিল্হাক্ব ্ক্ব্ি অইন্নাল্লাযীনাখ্তালাফূ ফিল্ কিতা-বি লাফী শিক্বা-ক্বিম্ বা'ঈদ্।

জহুরুল হক

ধার্মিকতা তাতে নয় যে তোমাদের মুখ পূব বা পশ্চিম দিকে ফেরাও, তবে ধর্মনিষ্ঠা হচ্ছে যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আর আখেরাতের দিনের প্রতি, আর ফিরিশ্‌তাদের প্রতি, আর গ্রন্থখানিতে, আর নবীদের প্রতি; আর যে তাঁর প্রতি মহব্বত বশতঃ ধন দান করে আ‌ত্মীয় - স্বজনদের, আর এতীমদের, আর মিসকিনদের, আর পথচারীদের, আর ভিখারীদের, আর দাসদের মুক্তিপণ বাবদ, আর যে কায়েম করে ও যাকাত আদায় করেচ আর যারা প্রতিজ্ঞা করার পরে তাদের ওয়াদা রক্ষা করে, আর অভাব - অনটনে ও আপৎকালে ও আতঙ্কের সময়ে ধৈর্যশীলদের। এরাই তারা যারা সত্যনিষ্ঠ, আর এরা নিজেরাই ধর্মপরায়ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানোর মধ্যে (প্রকৃত পক্ষে) কোনো পুণ্য নেই। বরং পুণ্য তো হলো: মানুষ ঈমান আনবে এক আল্লাহর প্রতি, শেষ দিবসের (আখিরাতের) প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আল্লাহর কিতাব এবং নবীদের প্রতি; আর তাঁর (আল্লাহর) ভালোবাসায় মাল - সম্পদ দান করবে আত্মীয় - স্বজনদের, এতিমদের, মিসকিনদের, পথিক - পর্যটকদের, সাহায্যপ্রার্থীদের এবং মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্তির কাজে; আর কায়েম করবে, যাকাত প্রদান (পরিশোধ) করবে; তাছাড়া প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূর্ণকারী হবে এবং অর্থসংকট, দুঃখ - কষ্ট ও সত্য মিথ্যার সংগ্রামে সবর অবলম্বনকারী হবে। - মূলত এরাই (তাদের ঈমান ও ইসলামের দিক থেকে) সত্যবাদী এবং এরাই (প্রকৃত) ।

বাংলা উচ্চারণ

লাইসাল্ র্বিরা আন্ তুওয়াল্লূ উজ্ব ূহাকুম্ ক্বিবালাল্ মাশ্রিক্বি অল্ মাগ্রিবি অলা-কিন্নাল্ র্বিরা মান্ আ-মানা বিল্লা-হি অল্ ইয়াওমিল্ আ-খিরি অল্মালা - য়িকাতি অল্কিতা-বি অন্নাবিয়্যীনা অ আ-তাল্ মা-লা 'আলা-হুব্বিহী যাওয়িল্ ক্বর্ ুবা- অল্ইয়াতা-মা- অল্মাসা-কীনা অব্নাস্ সাবীলি অস্সা - য়িলীনা অর্ফি রিক্বা-ব্ অআক্বা-মাছ্ ছলা-তা অআ-তায্ যাকা-তা অল্মূফূনা বি'আহ্দিহিম্ ইযা-'আ-হাদূ অছ্ছোয়া-বিরীনা ফিল্বা সা - য়ি অদ্ব ্দ্বোর্য়ারায় য়ি অহীনাল্ বাস্ উলা - য়িকাল লাযীনা ছদাক্ব ূ অউলা - য়িকা হুমুল্ মুত্তাক্ব ূন্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের প্রতি হত্যার ক্ষেত্রে প্রতিশোধের বিধান দেয়া হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির উপরে স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আর দাসের উপরে দাসের ক্ষেত্রে, আর নারীর উপরে নারীর ক্ষেত্রে। তবে যাকে কিছুটা রেহাই দেয়া হয় তার ভাইয়ের তরফ হতে, তাহলে বিচার হবে ন্যায্যভাবে, আর তার প্রতি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে উদারভাবে। - - এটি তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে লঘু - ব্যবস্থা ও করুণা। কাজেই এরপরে যে সীমালঙ্ঘন করবে তার জন্য রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের জন্যে হত্যা (মামলার) বিধান লিখে দেয়া হলো কিসাস। স্বাধীন ব্যক্তি হত্যা করে থাকলে সেই ব্যক্তিরই মৃত্যুদন্ড হবে। কোনো দাস হত্যাকারী (প্রমাণিত) হলে মৃত্যুদন্ড সেই দাসেরই হবে। কোনো নারী হত্যাকারী (প্রমাণিত) হলে মত্যুদন্ড সেই নারীকেই দিতে হবে। তবে কোনো (হত্যাকারী) ব্যক্তির সাথে তার ভাইয়ের (নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর) পক্ষ থেকে কোমল ব্যবহার (মৃত্যুদন্ড ক্ষমা) করা হলে তার (হত্যাকারীর) জন্যে অপরিহার্য হবে প্রচলিত নিয়ম (common law) অনুযায়ী (ধার্যকৃত/দাবিকৃত) রক্তপণ সততার সাথে তাকে প্রদান করা। তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এটা একটা লাঘব এবং অনুকম্পা। কিন্তু এরপরও যদি কেউ সীমালংঘন করে, তার জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ কুতিবা 'আলাইকুমুল্ ক্বিছোয়া-ছু ফিল্ ক্বাত্লা- আল্ র্হুরু বিল্হুররি অল্'আব্দু বিল্'আব্দি অল্ উন্ছা-বিল্উন্ছা- ফামান্'উফিয়া লাহ ূমিন্ আখীহি শাইয়ুন্ ফাত্তিবা-'উম্ বিল্মা'রূফি অআদা - উন্ ইলাইহি বিইহ্সা-ন্ যা-লিকা তাখ্ফীফুম্ র্মি রব্বিকুম্ অরাহ্মাহ্ ফামানি'তাদা- বা'দা যা-লিকা ফালাহূ 'আযা-বুন্ আলীম্।

জহুরুল হক

আর তোমাদের জন্য প্রতিশোধের বিধানে রয়েছে জীবন, হে জ্ঞানবান ব্যক্তিগণ! যাতে তোমরা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের জন্যে কিসাস (বিধান) - এর মধ্যেই রয়েছে জীবন ( - এর নিরাপত্তা) হে বুদ্ধি বিবেক ওয়ালা লোকেরা! আশা করা যায়, তোমরা (এ আইনের প্রতি অবজ্ঞা করা থেকে) বিরত থাকবে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাকুম্ ফিল্ক্বিছোয়া-ছি হাইয়া-তুইঁ ইয়ায় ঊলিল্ আল্আ-বি লা'আল্লাকুম্ তাত্তাক্ব ূন্।

জহুরুল হক

তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করা গেল যে যখন তোমাদের কারোর কাছে মৃত্যু হাজির হয় সে ধন ছেড়ে যাচ্ছে, তবে যেন ওসিয়ৎ করা হয় মাতাপিতা ও নিকটা‌ত্মীয়দের জন্য ন্যায়সঙ্গত - ভাবে; এটা মুত্তকীদের উপরে একটি কর্তব্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কোনো ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় হাজির হয় এবং সে যদি অর্থ - সম্পদ রেখে যেতে থাকে, তাহলে বাবা - মা এবং আত্মীয় - স্বজনের জন্যে অসিয়ত করে যাবার বিধান তোমাদের জন্যে লিখে (ফরয করে) দেয়া হলো প্রচলিত যুক্তিসংগত নিয়মে। এটা মুত্তাকিদের একটা কর্তব্য।

বাংলা উচ্চারণ

কুতিবা 'আলাইকুম্ ইযা-হাদ্বোয়ারা আহাদাকুমুল্ মাওতু ইন্ তারাকা খাইরা-নিল্ ওয়াছিয়্যাতু লিল্ওয়া-লিদাইনি অল্ আক্ব ্রাবীনা বিল্মা'রূফি হাক্ব ্ক্বান্ 'আলাল্ মুত্তাক্বীন।

জহুরুল হক

আর যে কেউ এটি বদলে ফেলে তা শোনার পরেও, তা হলে তার পাপ বর্তাবে তাদের উপরে যারা এটি বদলাবে। নিঃসন্দেহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো ব্যক্তি (কোনো সাক্ষী) তা (অসিয়ত) শ্রবণ করার পর যদি তাতে রদবদল করে, তবে যারা রদবদল করবে, এর পাপ তাদের উপরই বর্তাবে। অবশ্যি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

ফামাম্বাদ্দা লাহূ বা'দা মা-সামি'আহূ ফাইন্নামায় ইছ্মুহূ 'আলাল্লাযীনা ইয়ুবাদ্দিলূনাহ্ ইন্নাল্লা-হা সামী'উন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি কেউ আশংকা করে যে ওসিয়ৎকারীর তরফ থেকে ভুল বা অন্যায় হচ্ছে, কাজেই তাদের মধ্যে বোঝাপড়া করে, তাহলে তার উপরে কোনো দোষ হবে না। নিঃসন্দেহ ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে কেউ যদি অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত) পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায়ের আশংকা করে এবং সে কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে এসলাহ (সমঝোতা ও মীমাংসা) করে দেয়, তাতে তার কোনো পাপ হবেনা। নিশ্চয়ই অতীব ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।

বাংলা উচ্চারণ

ফামান্ খা-ফা মিম্ মূছিন্ জ্বানাফান্ আও ইছ্মান্ ফাআছ্লাহা বাইনাহুম্ ফালায় ইছ্মা 'আলাইহি ইন্নাল্লা-হা গাফূর্রু রাহীম্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের উপরে রোযা বিধিবদ্ধ করা গেল যেমন বিধান করা হয়েছিল যারা তোমাদের আগে এসেছে তাদের উপরে, যাতে তোমরা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করো, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমান আনা লোকেরা! তোমাদের জন্যে লিখে (ফরয করে) দেয়া হয়েছে সওম (রোযা), যেভাবে লিখে দেয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্বেকার লোকেদের জন্যে, যাতে করে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযী-না আ-মানূ কুতিবা 'আলাইকুমুছ্ ছিয়া-মু কামা-কুতিবা 'আলাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিকুম্ লা'আল্লাকুম্ তাত্তাক্ব ূন্।

জহুরুল হক

নির্দিষ্টসংখ্যক দিনের জন্য। কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ অসুস্থ অথবা সফরে আছে সে সেই সংখ্যক অন্য দিন - গুলোতে। আর যারা এ অতি কষ্টসাধ্য বোধ করে - - প্রতিবিধান হল একজন মিসকিনকে খাওয়ানো। কিন্তু যে কেউ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ভালো কাজ করে, সেটি তার জন্য ভালো। আর যদি তোমরা রোযা রাখো তবে তোমাদের জন্য অতি উত্তম, - - যদি তোমরা জানতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সওম হলো) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের (বিধান)। তোমাদের কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়, অথবা সফরে - ভ্রমণে থাকে, তাহলে সে (এ সময় সওম থেকে বিরত থাকতে পারে, কিন্তু অবশ্যি) যেনো অন্য সময় সেগুলো পুর্ণ করে দেয়। তবে এটা (সওম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয় (যেমন - বার্ধক্য, গর্ভাবস্থা বা চির রোগের কারণে), তাদের জন্যে (অবকাশ রয়েছে সওম পালন করার অথবা) সওমের পরিবর্তে 'ফিদিয়া' হিসেবে একজন মিসকিনকে আহার করানোর। তবে যে কেউ স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কল্যাণের কাজ করবে, তা তার জন্যে কল্যাণকর। আর তোমরা যদি সওম পালন করো, সেটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, তোমরা যদি বিষয়টি অনুধাবন করতে!

বাংলা উচ্চারণ

আইয়্যা-মাম্ মা'দূদা-ত ফামান্ কা-না মিন্কুম্ মারীদ্বোয়ান্ আও 'আলা- সাফারিন্ ফা'ইদ্দাতুম্ মিন্ আইয়্যা-মিন্ উর্খা অ'আলাল্লাযীনা ইয়ুত্বীক্ব ূনাহূ ফিদ্ইয়াতুন্ ত্বোয়া'আ-মু মিস্কীন্ ফামান্ তাত্বোয়াও য়্যা'আ খাইরান্ ফাহুওয়া খাইরুল্লাহূ অআন্ তাছূমূ খাইরুল্লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।

জহুরুল হক

রমযান মাস এইটি যাতে কুরাআন নাযিল হয়েছিল, - - মানবগোষ্ঠীর জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে, আর পথনির্দেশের স্পষ্টপ্রমানরূপে, আর । কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ মাসটির দেখা পাবে সে যেন এতে রোযা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে আছে যে সেই সংখ্যক অন্য দিনগুলোতে। তোমাদের জন্য সুবিধা চান, আর তিনি তোমাদের জন্য কষ্টকর অবস্থা চান না, আর তোমরা যেন এই সংখ্যা সম্পূর্ণ করো, আর যাতে ‌র মহিমা কীর্তন করো তোমাদের যে পথনির্দেশ তিনি দিয়েছেন সেইজন্য, আর তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

রমযান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল কুরআন, যা মানবজাতির জন্যে 'জীবন যাপনের ব্যবস্থা' এবং জীবন যাপন ব্যবস্থা হিসেবে সুস্পষ্ট, আর (এ কুরআন ভালোমন্দ, ন্যায় অন্যায়, সঠিক - বেঠিক, এবং সত্যাসত্যের) অকাট্য মানদন্ড (criterion)। সুতরাং তোমাদের যে কেউ এ মাসের সাক্ষাত লাভ করবে, তাকে অবশ্যি পুরো (রমযান) মাসটিতে সওম পালন করতে হবে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে, অথবা সফরে - ভ্রমণে থাকলে (সে সওম পালন থেকে বিরত থাকতে পারে, কিন্তু) তাকে অন্য সময় (সওম পালন করে) সংখ্যা পূরণ করতে হবে। তোমাদের জন্যে (তাঁর বিধান) সহজ করে দিতে চান এবং তিনি তোমাদের জন্যে (তাঁর বিধান) কঠিন - কষ্টকর করতে চান না। (তিনি চান) তোমরা যেনো (সওমের) সংখ্যা পূর্ণ করো এবং (কুরআন নাযিল করে তোমাদের জীবন যাপন ব্যবস্থা প্রদানের জন্যে) তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করো আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।

বাংলা উচ্চারণ

শাহরু রামাদ্বোয়া-নাল্ লাযীয় উন্যিলা ফীহিল্ ক্বর্ ুআ-নু হুদাল্ লিন্না-সি অবাইয়্যিনা-তিম্ মিনাল্ হুদা- অল্ ফুরক্বা-নি ফামান্ শাহিদা মিন্কুমুশ্ শাহ্রা ফাল্ইয়াছুম্হু অমান্ কা-না মারীদ্বোয়ান্ আও 'আলা-সাফারিন্ ফা'ইদ্দাতুম্ মিন্ আই ইয়া-মিন্ উর্খা ইয়ুরীদুল্লা-হু বিকুমুল্ ইয়ুস্রা অলা-ইয়ুরীদু বিকুমুল্ 'উস্রা অলিতুক্মিলুল্ 'ইদ্দাতা- অলিতুকাব্বিরুল্লা-হা 'আলা- মা-হাদা-কুম্ অলা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।

জহুরুল হক

আর যখন আমার বান্দারা আমার সন্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন - - ''দেখো! আমি নিঃসন্দেহ অতি নিকটে।’’ আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার জবাব দিই যখনি সে আমাকে আহ্বান করে। কাজেই তারা আমার প্রতি সাড়া দিক আর আমাতে ঈমান আনুক, - - যাতে তারা সুপথে চলতে পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার দাসেরা যখন তোমাকে আমার সম্পর্কে সওয়াল (জিজ্ঞাসা) করে, (হে মুহাম্মদ! তুমি তখন তাদের বলো:) আমি তাদের নিকটেই আছি। কোনো আহবানকারী (বা) দোয়া - প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি (কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি) তার ডাক ও দোয়া - প্রার্থনা শুনি এবং তাতে সাড়া দেই। সুতরাং তারাও যেনো আমার আহবানে সাড়া দেয় (আমার হুকুম পালন করে) এবং আমার প্রতি ঈমান রাখে - যাতে করে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-সায়ালাকা 'ইবা-দী 'আন্নী ফাইন্নী ক্বারীব্ উজ্বীবু দা'ওয়াতাদ্দা-'ই ইযা-দা'আ-নি ফাল্ইয়াস্তাজ্বীবূ লী অল্ইয়ু মিনূ বী লা'আল্লাহুম্ ইর্য়াশুদূন্।

জহুরুল হক

রোযার রাত্রে তোমাদের স্ত্রীদের কাছে গমন তোমাদের জন্য বৈধ করা গেল। তারা তোমাদের জন্য পোশাক আর তোমরা তাদের জন্য পোশাক। জানেন যে তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রবঞ্চনা করছিলে, তাই তিনি তোমাদের উপরে ফিরেছেন ও তোমাদের ভুলকে উপেক্ষা করেছেন। সুতরাং এখন তাদের সাহচর্য ভোগ করো, আর তোমাদের জন্য যা নির্ধারিত করেছেন তা অনুসরণ করে চল। আর আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভোরবেলাতে সাদা কিরণ কালো ছায়া থেকে, তারপর রোযা সম্পূর্ণ করো রাত্রি সমাগম পর্যন্ত। আর তাদের স্পর্শ করো না যখন তোমরা মসজিদে ই'তিকাফ করো। এ হচ্ছে ‌র সীমা, কাজেই সে - সবের নিকটে যেয়ো না। এইভাবে তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যাতে তারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সওম পালনের রাত্রে স্ত্রী সহবাস করা তোমাদের জন্যে হালাল করে দেয়া হলো। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। জানেন, তোমরা নিজেরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করেছিলে। এখন তিনি তোমাদের তওবা কবুল করে নিয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন থেকে (সওমের রাত্রে) তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সহবাস করো এবং তোমাদের জন্যে যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার সন্ধান করো। আর পানাহার করতে থাকো যতোক্ষণ না তোমাদের কাছে রাতের কালো রেখা থেকে ফজরের (ভোরের) সাদা রেখা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠে। তারপর সওম পূর্ণ করো রাতের আগমন পর্যন্ত। আর মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায় থাকাকালে তোমরা স্ত্রী সহবাস করোনা। এগুলো হলো (সওম পালনের ক্ষেত্রে) আল্লাহর সীমারেখা (বিধান)। সুতরাং (লংঘনের উদ্দেশ্যে) এগুলোর কাছেও যেওনা। এভাবেই তাঁর আয়াতসমূহ (তাঁর আইন - বিধান ও হালাল - হারামের সীমারেখা) বয়ান করেন মানুষের জন্যে, যাতে করে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে।

বাংলা উচ্চারণ

উহিল্লা লাকুম্ লাইলাতাছ্ ছিয়া-র্মি রাফাছু ইলা- নিসা - য়িকুম্ হুন্না লিবা-সুল্ লাকুম্ অআন্তুম্ লিবা-সুল্ লাহুন্ 'আলিমাল্লা-হু আন্নাকুম্ কুন্তুম্ তাখ্তা-নূনা আন্ফুসাকুম্ ফাতা-বা 'আলাইকুম্ অ'আফা- 'আন্কুম্ ফাল্য়া-না বা-শিরূহুন্না অব্তাগূ-মা-কাতাবাল্লা-হু লাকুম্ অকুলূ অশ্রাবূ হাত্তা- ইয়াতাবাইয়্যানা লাকুমুল্ খাইত্ব ুল্ আব্ইয়াদ্ব ু মিনাল্ খাইত্বিল্ আস্ওয়াদি মিনাল্ ফাজ্ব ্রি ছুম্মা আতিম্মুছ্ ছিয়া-মা ইলাল্ লাইলি অলা-তুবা-শিরূহুন্না অআন্তুম্ 'আ-কিফূনা ফিল্ মাসা-জ্বিদ্ তিল্কা হুদূদুল্ লা- হি ফালা- তাক্ব্রাবূহা- কাযা-লিকা ইয়ুবাইয়িনুল্লা-হু আ-ইয়া-তিহী লিন্না-সি লা'আল্লাহুম্ ইয়াত্তাক্ব ূন।

জহুরুল হক

আর তোমাদের সম্পত্তি পরস্পরের মধ্যে জালিয়াতি করে গ্রাস করো না, আর এগুলো বিচারকদের কাছে পেশ করো না যাতে লোকের সম্পত্তির কিছুটা অন্যায়ভাবে গিলে ফেলতে পারো, তাও তোমরা জেনেবুঝে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা নিজেদের একে অপরের মাল - সম্পদ খেয়োনা বাতিল (অন্যায় - অবৈধ) প্রক্রিয়ায় এবং জেনে বুঝে মানুষের মাল সম্পদের কিছু অংশ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে শাসকদের (বিচারকদের) সামনে উত্থাপন করোনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাকুলূয় আম্ওয়া-লাকুম্ বাইনাকুম্ বিল্বা-ত্বিলি অতুদ্লূ বিহায় ইলাল্ হুক্কা-মি লিতাকুলূ ফারীক্বাম্ মিন্ আম্ওয়া-লিন্ না-সি বিল্ ইছ্মি অআন্তুম তা'লামূন্।

জহুরুল হক

তারা তোমাকে নতুন চাঁদ সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। তুমি বলো - - ''এসব হচ্ছে নির্দিষ্ট সময় জনসাধারণের জন্য ও হজের জন্য।’’ আর ধার্মিকতা এ নয় যে তোমরা বাড়িতে প্রবেশ করবে তাদের পেছন দিক দিয়ে, বরং ধার্মিকতা হচ্ছে যে ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে। তাই বাড়ীতে ঢোকো তাদের দরজা দিয়ে, আর ‌তে ভয় - শ্রদ্ধা করো যেন তোমরা হতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে সওয়াল (প্রশ্ন) করছে। তুমি বলো: ‘এগুলো (চাঁদের ছোট বড় হওয়া এবং নতুন করে উদিত হওয়া) সময়ের মেয়াদ নির্ধারক চিহ্ন মানুষের জন্যে এবং হজ্জের জন্যে।' আর তোমরা যে ঘরের পেছন দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছো তাতে কোনো পুণ্য বা কল্যাণ নেই। বরং পুণ্য আর কল্যাণ তো রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্যে যে তাকওয়া অবলম্বন করে। সুতরাং তোমরা ঘরসমূহে প্রবেশ করো সেগুলোর (সদর) দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে করে তোমরা সফলতা লাভ করতে পারো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াস্আলূনাকা 'আনিল্ আহিল্লাহ্ ক্ব ুল্ হিয়া মাওয়া-ক্বীতু লিন্না-সি অল্ হাজ্ব ্ অলাইসাল্ র্বিরু বি আন্ তাতুল্ বুইয়ূতা মিন্ জুহূরিহা- অলা-কিন্নাল্ র্বিরা মানিত্তাক্বা- অতুল্ বুইয়ূতা মিন্ আব্ওয়া-বিহা- অত্তাক্ব ুল্লা-হা লা'আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।

জহুরুল হক

আর ‌র পথে তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা অন্যায়ভাবে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, আর সীমালংঘন করো না। নিঃসন্দেহ সীমালংঘনকারীদের ভালোবাসেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো ঐসব লোকদের বিরুদ্ধে, যারা যুদ্ধ করছে তোমাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তোমরা সীমালংঘন করোনা। কারণ, সীমা লংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-তিলূ ফী সাবীলিল্লা-হিল্ লাযীনা ইয়ুক্বা-তিলূনাকুম্ অলা-তা'তাদূ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ূহিব্বুল্ মু'তাদীন্।

জহুরুল হক

আর তাদের হত্যা করো যেখানেই তোমারা তাদের দেখা পাও, আর তাদের তাড়িয়ে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল, আর উৎপীড়ন যুদ্ধের চেয়ে নিকৃষ্টতর। কিন্তু তাদের হত্যা করো না পবিত্র - মসজিদের আশেপাশে যে পর্যন্ত না তারা সেখানে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, কাজেই তারা যদি তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তবে তোমরাও তাদের সাথে লড়বে। এই হচ্ছে অবিশ্বাসীদের প্রাপ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেখানেই তাদের সাথে মোকাবেলা হয় তাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাও এবং তাদের বহিষ্কার করো যেখান থেকে তারা তোমাদের বহিষ্কার করেছে। ফেতনা সৃষ্টি করা হত্যার চাইতেও গুরুতর অপরাধ। মসজিদুল হারামের কাছে তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করোনা, যতোক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। হ্যাঁ, তারা যদি (সেখানে) তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তবে তোমরাও তাদের হত্যা করো। এভাবেই কাফিরদের যথোপযুক্ত প্রতিদান (শাস্তি) দিতে হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব্তুলূহুম্ হাইছু ছাক্বিফ্তুমূহুম্ অআখ্রিজ্ব ূহুম্ মিন্ হাইছু আখ্রাজ্ব ূকুম্ অল্ ফিত্নাতু আশাদ্দু মিনাল্ ক্বাত্লি অলা-তুক্বা-তিলূহুম্ 'ইন্দাল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-মি হাত্তা-ইয়ুক্বা-তিলূকুম্ ফীহি' ফাইন্ ক্বা-তালূকুম্ ফাক্ব ্তুলূহুম্ কাযা-লিকা জ্বাযা - উল্ কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু তারা যদি ক্ষান্ত হয় তবে নিঃসন্দেহ ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা যদি বিরত থাকে, তবে অবশ্যি ক্ষমাশীল পরম দয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইনিন্ তাহাও ফাইন্নাল্লা-হা গাফূর্রু রাহীম্।

জহুরুল হক

আর তাদের সাথে লড়বে যে পর্যন্ত না উৎপীড়ন বন্ধ হয়, আর ধর্ম হচ্ছে ‌র জন্য। সুতরাং তারা যদি ক্ষান্ত হয় তবে যুদ্ধ - বিগ্রহ চলবে না শুধু অত্যাচারীদের সাথে ছাড়া।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যতোদিন না ‘ফিতনা’ বিলুপ্ত হয় এবং দীন (ইবাদত ও আনুগত্য) আল্লাহর জন্যে (একক ও নিরঙ্কুশভাবে) নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তবে তারা যদি বিরত হয়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র যালিমদের ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে হাত বাড়ানো সংগত নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-তিলূহুম্ হাত্তা- লা-তাকূনা ফিত্নাতুওঁ অইয়াকূনাদ্দীনু লিল্লা-হ ফাইনিন্ তাহাও ফালা-'উদ্ওয়া-না ইল্লা-'আলাজ্ জোয়া-লিমীন্।

জহুরুল হক

পবিত্র মাস পবিত্র মাসের খাতিরে, আর সব নিষিদ্ধ ব্যাপারে প্রতিশোধ নিতে হবে। কাজেই যে কেউ তোমাদের উপরে আক্রমণ চালায়, তোমরাও তবে তাদের উপরে আঘাত হানবে সেইভাবে যেমনটা তারা তোমাদের উপরে আঘাত করেছিল। আর ‌কে ভয় - শ্রদ্ধা করবে, আর জেনে রেখো নিঃসন্দেহ ধর্মভীরুদের সাথে আছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হারাম (পবিত্র) মাসের বিনিময় হারাম মাস এবং (তাতে) নিষিদ্ধ কাজের বিধান হলো কিসাস (সমতা বিধান)। সুতরাং কেউ যদি হারাম মাসসমূহের পবিত্রতা লংঘন করে তোমাদের আক্রমণ করে, তবে তোমরাও অনুরূপ আক্রমণ করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে আর জেনে রাখো, মুত্তাকিদের পক্ষেই আছেন।

বাংলা উচ্চারণ

আশ্শাহ্রুল্ হারা-মু বিশ্শাহ্রিল্ হারা-মি অল্ হুরুমা-তু ক্বিছোয়া-ছ্ ফামানি' তাদা-'আলাইকুম্ ফা'তাদূ 'আলাইহি বিমিছ্লি মা' তাদা- 'আলাইকুম্ অত্তাক্ব ুল্লা-হা অ'লামূ য় আন্নাল্লা-হা মা'আল্মুত্তাক্বীন্।

জহুরুল হক

আর ‌র রাস্তায় খরচ করো, আর তোমাদের নিজহাতে তোমাদের ধ্বংসের মধ্যে ফেলো না, বরং ভালো করো, নিঃসন্দেহ মঙ্গলকারীদের ভালোবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে হালাক হবার (ধ্বংসের) দিকে নিক্ষেপ করোনা (আল্লাহর পথে ব্যয় না করে)। ভালো কাজ করো, যারা ভালো কাজ করে তাদের ভালোবাসেন।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্ফিক্ব ূ ফী সাবীলিল্লা-হি অলা-তুল্ক্ব ূ বিআইদীকুম্ ইলাত্ তাহ্লুকাতি অআহ্সিনূ ইন্নাল্লা-হা ইয়ুহিব্বুল্ মুহ্সিনীন্।

জহুরুল হক

আর ‌র জন্য সম্পূর্ণ করো হজ এবং উমরাহ। কিন্তু যদি বাধা পাও, তবে কুরবানির যা - কিছু পাওয়া যায় তাই, আর তোমাদের মাথা কামাবে না যতক্ষণ না কুরবানি তার গন্তব্যস্থানে পৌঁছেছে কিন্তু তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অসুস্থ হয় অথবা তার মাথায় রোগ থাকে, তবে প্রতিবিধান হচ্ছে রোযা রেখে বা সদকা দিয়ে বা কুরবানি ক’রে। কিন্তু যখন তোমরা নিরাপদ বোধ করবে তখন যে উমরাহ্‌কে হজের সঙ্গে সংযোজন ক’রে লাভবান হতে চায়, সে যেন কুরবানির যা - কিছু পায় তাই। কিন্তু যে পায় না, রোযা হচ্ছে হজের সময়ে তিনদিন আর তোমরা যখন ফিরে এস তখন সাত, - - এই হলো পুরো দশ। এটা তার জন্য যার পরিবার পবিত্র - মজজিদে হাজির থাকে না। আর ‌কে ভয় - ভক্তি করো, আর জেনে রেখো যে নিঃসন্দেহ প্রতিফলদানে কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যথাযথভাবে (properly) হজ্জ ও উমরা পালন করো আল্লাহর উদ্দেশ্যে। কিন্তু তোমরা যদি বাধাগ্রস্ত হও, তবে কুরবানি করো সহজ লভ্য পশু। কুরবানির পশু যথাস্থানে পৌঁছার আগ পর্যন্ত মাথা মুন্ডণ করোনা। তোমাদের কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়, কিংবা মাথায় কষ্ট অনুভব করে (এবং সে জন্যে আগেই মাথা মুন্ডণ করে নেয়), তার কর্তব্য হলো সাওম, সাদকা বা কুরবানি দ্বারা ফিদিয়া প্রদান করা। অতপর (বাধা দূর হবার পর) তোমরা যখন নিরাপদ হবে, তখন তোমাদের কেউ যদি হজ্জের পূর্বে উমরা (তামাত্তু হজ্জ) করতে চায়, সে যেনো সামর্থ অনুযায়ী কুরবানি করে। কিন্তু যদি সে কুরবানির ব্যবস্থা করতে না পারে, তবে সে হজ্জের সময় তিনদিন সাওম পালন করবে এবং হজ্জ থেকে ফেরার পর সাতদিন - এই দশটি (সাওম) সে পূর্ণ করবে। এই বিধান ঐ ব্যাক্তির জন্যে যার পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয় (non - resident of makkah)। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। অবশ্যি কঠোর শাস্তিদাতা।

বাংলা উচ্চারণ

অআতিম্মুল্ হাজ্জ্বা অল্ 'উম্রাতা লিল্লা-হ্ ফাইন্ উর্হ্ছিতুম্ ফামাস্ তাইসারা মিনাল্ হাদ্য়ি অলা-তাহ্লিক্ব ূ রূঊসাকুম্ হাত্তা- ইয়াব্লুগাল্ হাদ্ইয়ু মাহিল্লা-হ্ ফামান্ কা-না মিন্কুম্ মারীদ্বোয়ান্ আওবিহীয় আযাম্ র্মি রাসিহী ফাফিদ্ইয়াতুম্ মিন্ সিয়া-মিন্ আও ছোয়াদাক্বাতিন্ আও নুসুকিন্ ফাইযা য় আমিন্তুম্ ফামান্ তামাত্তা'আ বিল্'উম্রাতি ইলাল্ হাজ্জ্বি ফামাস্ তাইসারা মিনাল্ হাদ্ই ফামাল্লাম্ ইয়াজ্বিদ্ ফাছিয়া-মু ছালা-ছাতি আইয়্যা-মিন্ ফিল্ হাজ্জ্বি অসাব্'আতিন্ ইযা-রাজ্বা'তুম্ তিল্কা আশারাতুন্ কা-মিলাহ্ যা-লিকা লিমাল্ লাম্ ইয়াকুন্ আহ্লুহূ হা-দ্বিরিল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-ম্ অত্তাক্ব ুল্লা-হা অ'লামূ য় আন্নাল্লা-হা শাদীদুল্ 'ইক্বা-ব্।

জহুরুল হক

হজ হয় কয়েকটি সুবিখ্যাত মাসে, কাজেই যে কেউ এই সময়ে হজ করার সংকল্প করে তার জন্য এ - সবের মধ্যে স্ত্রী - গমন বা দুষ্টামি থাকবে না, বা হজের মধ্যে তর্কাতর্কি চলবে না। আর ভালো যা - কিছু তোমরা কর, তা জানেন। আর পাথেয় সংগ্রহ করো, নিঃসন্দেহ শ্রেষ্ঠ পাথেয় হচ্ছে ধর্মপরায়ণতা। অতএব আমাকে ভয় - শ্রদ্ধা করো, হে জ্ঞানের অধিকারীসব!

আবদুস শহীদ নাসিম

হজ্জের মাসগুলো (সাধারণভাবে) সবারই আছে। এ সময় যে ব্যক্তি হজ্জ করার ফায়সালা করবে, সে যেনো হজ্জের সময় (ইহরাম বাঁধার দিনগুলোতে) স্ত্রী সহবাস করা, পাপ কর্ম করা এবং ঝগড়া বিবাদ করা থেকে বিরত থাকে। তোমরা যা কিছু কল্যাণের কাজই করো, তা জানেন। আর তোমরা (হজ্জের সফরে প্রয়োজনীয়) পাথেয় সাথে নিও, নি:সন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া (মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ভীতি)। আর হে বুদ্ধি বিবেকের অধিকারী লোকেরা! তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো

বাংলা উচ্চারণ

আল্হাজ্জ্ব ু আশ্হুরুম্ মা'লূমা-তুন্ ফামান্ ফারাদ্বোয়া ফীহিন্নাল্ হাজ্জ্বা ফালা-রাফাছা অলা-ফূসূক্বা অলা-জ্বিদা-লা ফিল্ হাজ্জ্ব অমা- তাফ্'আলূ মিন্ খাইরিইঁ ইয়া'লাম্হুল্লা-হ্ অতাযাওওয়াদূ ফাইন্না খাইরায্ যা-দিত্ তাক্ব ্ওয়া-অত্তাক্ব ূনি ইয়ায় উলিল্ আল্বা-ব্।

জহুরুল হক

তোমাদের উপরে কোনো অপরাধ হবে না যদি বা তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে দৌলত কামানোর চেষ্টা করো। তারপর তোমরা যখন আরাফাত থেকে জোট বেধে ফিঁরবে তখন মাশ'আরিল - হারাম এর নিকটে ‌কে স্মরণ করো; আর তাঁকে স্মরণ করো যেমন তিনি তোমাদের পথনির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এর আগে নিঃসন্দেহ তোমরা ছিলে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কোনো দোষ হবেনা (হজ্জের সময়) যদি তোমরা তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ (ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকার) সন্ধান করো। আরাফাত থেকে যখন তোমরা প্রত্যাবর্তণ করবে, তখন (পথিমধ্যে) মাশআরুল হারামের কাছে (মুযদালিফায়) যাত্রা বিরতি করে আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং যেভাবে তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে তাঁকে স্মরণ করবে। যদিও ইতোপূর্বে তোমরা ছিলে বিপথগামীদের অন্তরভুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

লাইসা 'আলাইকুম্ জ্ব ূনা-হুন্ আন্ তাব্তাগূ ফাদ্ব্লাম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাইযায় আফাদ্ব্তুম্ মিন্ 'আরাফা-তিন্ ফায্কুরুল্লা-হা 'ইন্দাল্ মাশ্'আরিল্ হারা-ম্ অয্কুরূহু কামা-হাদা-কুম্ অইন্ কুন্তুম্ মিন্ ক্বাব্লিহী লামিনাদ্ব্ দ্বোয়া- ল্লীন্।

জহুরুল হক

তারপর তোমরা তাড়াতাড়ি চল যেখান থেকে জনতা এগিয়ে চলে, আর ‌র কাছে পরিত্রাণ খোঁজো, নিঃসন্দেহ ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সেখান থেকে ফিরে আসো, যেখান থেকে ফিরে আসে অন্য সবমানুষ এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই অতিশয় ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা আফীদ্ব ূ মিন্ হাইছু আফা-দ্বোয়ান্ না-সু অস্তাগ্ফিরুল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম্।

জহুরুল হক

তারপর যখন তোমাদের পুণ্যানুষ্ঠান শেষ কর তখন ‌র গুণগান করো, যেমন তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের জয়গান গাইতে, - - বরং তার চাইতেও বেশী গুণকীর্তন করো। কিন্তু মানুষের মাঝে এমনও লোক আছে যে বলে - - ''আমাদের প্রভু! এই দুনিয়াতে আমাদের দাও।’’ অতএব আখেরাতে তাদের জন্য কোনো ভাগ থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর যখন (হজ্জের) অনুষ্ঠানসমূহ সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর কথা যিকির (স্মরণ, আলোচনা, গুণাবলি বর্ণনা) করো, যেভাবে যিকির করে আসছিলে তোমাদের পূর্ব পুরষদের কথা, বরং তার চাইতে অধিকতর যিকির করো (আল্লাহর কথা)। মানুষের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে: ‘প্রভু! আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই (আমাদের যা প্রাপ্য) দিয়ে যাও।’ - এ ধরণের লোকদের জন্যে আখিরাতে কোনো অংশ নেই।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইযা-ক্বাদ্বোয়াইতুম্ মানা-সিকাকুম্ ফায্কুরুল্লা-হা কাযিক্রিকুম্ আ-বা - আকুম্ আও আশাদ্দা যিক্রা- ফামিনান্না-সি মাইঁইয়াক্ব ূলু রব্বানায় আ-তিনা- ফিদ্ দুন্ইয়া-অমা-লাহূ ফিল্ আ-খিরাতি মিন্ খালা-ক্ব ্।

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে এমনও আছে যে বলে - - ''আমাদের প্রভু! এই দুনিয়াতে আমাদের ভালো জিনিস অর্পণ করো, এবং আখেরাতেও ভালো জিনিস, আর আমাদের রক্ষা করো আগুনের শাস্তি থেকে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে আবার এমন লোকেরাও আছে, যারা বলে (প্রার্থনা করে): ‘প্রভু! আমাদেরকে এই দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করো, আর আমাদের রক্ষা করো আগুনের আযাব থেকে।’

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্হুম্ মাইঁইয়াক্ব ূ লু রব্বানায় আ-তিনা-ফিদ্ দুন্ইয়া-হাসানাতাওঁ অফিল্ আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ অক্বিনা-'আযা-বান্না-র।

জহুরুল হক

এরাই - - তাদের জন্য আছে ভাগ যা তারা অর্জন করেছে তা থেকে। আর হিসেব - নিকেশে তৎপর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই হলো সেই সব (উত্তম) মানুষ, যাদের জন্যে তাদের উপার্জনের (কর্মের) ভিত্তিতে (উভয় স্থানেই) যথাযথ অংশ (প্রাপ্য) রয়েছে। আর তো দ্রুত হিসাব সম্পন্নকারী।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকা লাহুম্ নাছীবুম্ মিম্মা- কাসাবূ অল্লা-হু সারী'উল্ হিসা-ব্।

জহুরুল হক

আর ‌কে স্মরণ করো নির্ধারিত দিনগুলোতে। কিন্তু যে দু’দিনে তাড়াতাড়ি করে, তাতে তার অপরাধ হবে না, আর যে দেরী করে তার উপরেও কোনো অপরাধ হবে না, - - যে ভয় - ভক্তি করে। আর তোমরা ‌কে ভয় - ভক্তি করো, আর জেনে রেখো নিঃসন্দেহ তোমরা তাঁরই কাছে একত্রিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহকে যিকির করো নির্ধারিত দিনগুলোতে। তবে কেউ যদি তাড়াহুড়া করে (মিনা থেকে) দুইদিনের মধ্যে (মক্কায়) ফিরে আসে, তাতে তার পাপ হবেনা। আর যে বিলম্ব করবে তারও পাপ হবেনা। - এ অবকাশ তার জন্যে যে (আল্লাহর ভয়ে) নিজেকে মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করে চলবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রাখো, তাঁরই কাছে করা হবে তোমাদের হাশর (সমবেত)।

বাংলা উচ্চারণ

অয্কুরুল্লা-হা ফীয় আইয়্যা-মিম্ মা'দূদা-ত্ ফামান্ তা'আজ্বজ্বালা ফী ইয়াওমাইনি ফালায় ইছ্মা 'আলাইহি' অমান্ তায়াখ্খারা ফালায় ইছ্মা 'আলাইহি লিমানিত্ তাক্বা- অত্তাক্ব ুল্লা-হা অ'লামূ য় আন্নাকুম্ ইলাইহি তুহ্শারূন্।

জহুরুল হক

আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যার দুনিয়াদারির কথাবার্তা তোমাকে তাজ্জব করে দেয়, আর সে ‌কে সাক্ষী মানে তার অন্তরে যা আছে সে - সন্বন্ধে, অথচ সে - ই হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে মারা‌ত্মক।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করে এই দুনিয়ার জীবনে, আর (কথা বলার সময়) সে নিজের আন্তরিকতার ব্যাপারে বারবার আল্লাহকে সাক্ষী বানায়, অথচ প্রকৃত ব্যাপার হলো, সে (তোমার) সব শত্রুর বড় শত্রু।

বাংলা উচ্চারণ

অমিনান্না-সি মাইঁ ইয়ু' জ্বিবুকা ক্বাওলুহূ ফিল্ হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অইয়ুশ্হিদুল্লা-হা 'আলা-মা-ফী ক্বাল্বিহী অহুওয়া আলাদ্দুল্ খি-ছোয়াম্।

জহুরুল হক

আর সে যখন ফিরে যায় তখন সে দেশের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করে তাতে ফসাদ বাঁধাতে এবং ফসল ও পশুপাল বিনষ্ট করতে। আর ফসাদ পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন (তোমার নিকট থেকে) ফিরে যায়, জমিনে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং শস্য ক্ষেত আর মানুষ ও জীবজন্তুর বংশ নিপাতে তৎপর হয়। অথচ অশান্তি সৃষ্টিকে মোটেও পছন্দ করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-তাওয়াল্লা-সা'আ-ফিল্ আরদ্বি লিইয়ুফ্সিদা ফীহা-অইয়ুহ্লিকাল্ র্হাছা অন্নাস্লা অল্লা-হু লা-ইয়ুহিব্বুল্ ফাসা-দ্।

জহুরুল হক

আর যখন তাকে বলা হয় - - ''‌কে ভয় - ভক্তি করো,’’ অহংকার তাকে নিয়ে চলে পাপের মধ্যে, কাজেই জাহান্নাম হচ্ছে তার হিসেব - নিকেশ, - - আর নিশ্চয়ই মন্দ সেই বিশ্রাম - স্থান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে যখন বলা হয়: ‘আল্লাহকে ভয় করো’, তখন তার আত্মম্ভরিতা তাকে (অধিকতর) অপরাধে লিপ্ত করে। সুতরাং তার জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট এবং অতি নিকৃষ্ট বিশ্রামাগার সেটা।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-ক্বীলা লাহুত্তাক্বি ল্লা-হা আখাযাত্ হুল্ 'ইয্যাতু বিল্ইছ্মি ফাহাস্বুহূ জ্বাহান্নাম্ অলাবিসাল্ মিহা-দ্।

জহুরুল হক

আর মানুষের মাঝে এমনও আছে যে নিজের সত্তাকে বিক্রি করে দিয়েছে ‌র সন্তষ্টি কামনা ক’রে। আর পরম স্নেহময় বান্দাদের প্রতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে এমন মানুষও আছে, যারা সন্তুষ্টি কামনায় নিজের জান - প্রাণ বিক্রয় (সমর্পণ) করে দেয়। তাঁর এই (ধরনের) দাসদের প্রতি অতিশয় কোমল - দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

অমিনান্না-সি মাইঁইয়াশ্রী নাফ্সাহুব্তিগা - য়া র্মাদ্বোয়া-তিল্লা-হ্ অল্লা-হু রাঊফুম্ বিল্'ইবা-দ।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! সম্পূর্ণরূপে আ‌ত্মসমর্পণে দাখিল হও, আর শয়তানের পদচিহ্ন অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহ সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমান আনা লোকেরা! তোমরা (আত্মসমর্পণের মাধ্যমে) পরিপুর্ণভাবে প্রবেশ করো ইসলামে এবং (জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই) শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ, সে তোমাদের সুস্পষ্ট শত্রু।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানুদ্ খুলূ-ফিস্ সিল্মি কা - ফ্ফাহ্ অলা-তাত্তাবি'উ খুত্ব ুওয়া-তিশ্ শাইত্বোয়া-ন্ ইন্নাহূ লাকুম্ 'আদুউয়্যু'ম্ মুবীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তোমরা পিছলে পড় তোমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাবলী আসবার পরেও, তবে জেনে রেখো - - নিঃসন্দেহ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ (রসূল এবং কিতাব) আসার পরও যদি (ইসলামে পরিপূর্ণ প্রবেশের ক্ষেত্রে) তোমাদের ব্যত্যয় ঘটে, তবে জেনে রাখো, অবশ্যি মহাশক্তিমান, মহাজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন্ যালাল্তুম্ মিম্ বা'দি মা-জ্বা - আত্কুমুল্ বাইয়্যিনা-তু ফা'লামূ য় আন্নাল লা-হা 'আযীযুন্ হাকীম্।

জহুরুল হক

তারা এছাড়া আর কিসের প্রতীক্ষা করে যে তাদের কাছে আসবেন মেঘের ছায়ায়, আর ফিরিশ্‌তারাও, আর বিষয়টির নিস্পত্তি হয়ে গেছে? আর ‌র কাছেই সব ব্যাপার ফিরে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি এই এন্তেযারে (অপেক্ষায়) আছে যে, মেঘমালার ছায়ায় ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে তাদের কাছে আসবেন এবং তখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে? অথচ সকল বিষয় (সিদ্ধান্তের জন্যে) ফিরে আসবে আল্লাহর কাছেই।

বাংলা উচ্চারণ

হাল্ ইয়ান্জুরূনা ইল্লায় আইঁ ইয়াতিয়াহুমুল্লা-হু ফী জুলালিম্ মিনাল্ গামা-মি অল্মালা - য়িকাতু অক্ব ুদ্বিয়াল্ আম্রু অইলাল্লা-হি র্তুজ্বা'উল্ উর্মূ।

জহুরুল হক

ইসরাইলের বংশধরদের জিজ্ঞাসা করো - - স্পষ্ট নিদর্শন - গুলো থেকে কতো না আমরা তাদের দিয়েছিলাম! আর যে কেউ ‌র নিয়ামত বদল করে তা তার কাছে আসার পরে, তা হলে নিঃসন্দেহ প্রতিফল দিতে কঠোর!

আবদুস শহীদ নাসিম

বনি ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করো, কতো যে সুস্পষ্ট প্রমাণ - নিদর্শন আমি তাদের দিয়েছিলাম! আল্লাহর নিয়ামত আসার পর যে (জাতি) তা বদল করে (কুফরি গ্রহণ করে) তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করে থাকেন।

বাংলা উচ্চারণ

সাল্ বানীয় ইস্রা - ঈলা কাম্ আ-তাইনা-হুম্ মিন্ আ-ইয়াতিম্ বাইয়্যিনা-হ্ অমাইঁ ইয়ুবাদ্দিল নি'মাতাল্লা-হি মিম্ বা'দি মা-জ্বা - আত্হু ফাইন্নাল্লা-হা শাদীদুল্ 'ইক্বা-ব্।

জহুরুল হক

যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের কাছে এই দুনিয়ার জীবন মনোরম ঠেকে, আর তারা মস্করা করে যারা ঈমান এনেছে তাদের। আর যারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে তারা কিয়ামতের দিন ওদের উপরে থাকবে। আর যাকে ইচ্ছে করেন বে - হিসাব রিযেক দান করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফরির পথ অবলম্বন করে, তাদের কাছে দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর - মুগ্ধকর বানিয়ে দেয়া হয়। তারা মুমিনদের ঠাট্টা - বিদ্রুপ - তিরস্কার করে থাকে। কিন্তু যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, কিয়ামতের দিন তারাই এদের মোকাবেলায় উঁচু ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করবে। যাকে চান অগণিত রিযিক দান করেন।

বাংলা উচ্চারণ

যুইয়্যিনা লিল্লাযীনা কাফারুল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া-অ ইয়াস্খারূনা মিনাল্ লাযীনা আ-মানূ। অল্লাযীনাত্ তাক্বাও ফাওক্বাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অল্লা-হু ইর্য়াযুক্ব ু মাইঁ ইয়াশা - উ বিগাইরি হিসা-ব্।

জহুরুল হক

মানবগোষ্ঠী হচ্ছে একই জাতি। কাজেই উত্থাপন করলেন নবীদের সুসংবাদদাতারূপে এবং সতর্ককারীরূপে, আর তাঁদের সঙ্গে তিনি অবতারণ করেছিলেন কিতাব সত্যতার সাথে যাতে তা মীমাংসা করতে পারে লোকদের মধ্যে যে - বিষয়ে তারা মতবিরোধ করত। আর কেউ এতে মতবিরোধ করে না তারা ছাড়া যাদের এ দেয়া হয়েছিল তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেও তাদের পরস্পরের মধ্যে বিদ্রোহাচরণ বশতঃ। তাই যারা ঈমান এনেছে, তাদের হেদায়ত করলেন আপন এখতিয়ারে সেই সত্যতে যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল। আর যাকে ইচ্ছে করেন তাকে সহজ - সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রথমে সব মানুষ ছিলো একই উম্মত (একই আদর্শের অনুসারী)। অতপর নবীদের পাঠাতে থাকেন সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে। তাদের সাথে সত্য ও বাস্তবতাসহ কিতাব নাযিল করেন, যাতে করে মানুষের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া যায়, যেসব বিষয়ে তারা লিপ্ত হয়েছে এখতেলাফে (মতভেদে)। যাদেরকে তা (কিতাব) দেয়া হয়েছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ - নিদর্শন আসার পর কেবল পারস্পারিক বিদ্বেষ বশতই তারা সে বিষয়ে এখতেলাফ করেছে। তারপর তারা যে বিষয়ে এখতেলাফ (মতভেদ) করতো, সে বিষয়ে নিজ অনুগ্রহে সঠিক পথ দেখিয়েছেন তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছে। যাকে চান, সরল - সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

বাংলা উচ্চারণ

কা-নান্না-সু উম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতান্ ফাবা'আছাল্লা-হুন্ নাবিয়্যীনা মুবাশ্শিরীনা অমুন্যিরীনা অআন্যালা মা'আহুমুল্ কিতা-বা বিল্হাক্ব ্ক্বি লিইয়াহ্কুমা বাইনান্ না-সি ফীমাখ্তালাফূ ফীহ্ অমাখ্তালাফা ফীহি ইল্লাল্লাযীনা ঊতূহু মিম্ বা'দি মা-জ্বা - আত্ হুমুল্ বাইয়্যিনা-তু বাগ্ইয়াম্ বাইনাহুম্ ফাহাদাল্লা-হুল্ লাযী-না আ-মানূ লিমাখ্তালাফূ ফীহি মিনাল্ হাক্ব ্ক্বি বিইয্নিহ্ অল্লা-হু ইয়াহ্দী মাইঁ ইয়াশা - উ ইলা-ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।

জহুরুল হক

অথবা তোমরা কি বিবেচনা করো যে তোমরা বেহেশতে দাখিল হতে পারবে যতক্ষণ না তোমাদের উপরেও তোমাদের আগে যারা গত হয়েছে তাদের ন্যায় না বর্তায়? তাদের আক্রমণ করেছিল দারুণ বিপর্যয় এবং চরম দুর্দশা, আর তারা কেঁপেছিল, শেষ পর্যন্ত রসূল ও তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তারা বললে - - ''‌র সাহায্য কখন?’’ ‌র সাহায্য অবশ্যই নিকটবর্তী নয় কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তোমরা ধরে নিয়েছো, তোমরা (অতি সহজেই) জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথছ তোমাদের পূর্বে যারা ঈমানের পথে চলেছিল, তাদের উপর দিয়ে যে অবস্থা অতিবাহিত হয়েছিল, সে অবস্থা এখনো তোমাদের উপর আসেনি। তাদের উপর নেমে এসেছিল ক্ষুধা - দারিদ্র, দুঃখ কষ্ট এবং তারা প্রকম্পিত ও বিচলিত হয়ে উঠেছিল। এমনকি রসূল এবং তাঁর সাথিরা বলে উঠেছিল: ‘মাতা নাসরুল্লাহ’ - কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? (তখন তাদের বলা হয়েছিল:) ‘জেনে রাখো, আল্লাহর সাহায্য খুবই নিকটে।’

বাংলা উচ্চারণ

আম্ হাসিব্তুম্ আন্ তাদ্খুলুল্ জ্বান্নাতা অলাম্মা- ইয়াতিকুম্ মাছালুল্লাযীনা খালাও মিন্ ক্বাব্লিকুম্ মাস্সাত্হুমুল্বাসা - উ অদ্ব্দ্বোর্য়া রা - উ অযুল্যিলূ হাত্তা-ইয়াক্ব ূর্লা রাসূলু অল্লাযীনা আ-মানূ মা'আহূ মাতা- নাছ্রুল্লা-হ্ আলায় ইন্না নাছ্রাল্লা-হি ক্বারীব্।

জহুরুল হক

তারা তোমায় জিজ্ঞেস করছে কি তারা খরচ করবে। বলো - - ''ভালো জিনিস যা - কিছু তোমরা খরচ করো তা মাতাপিতার জন্য ও নিকট - আ‌ত্মীয়দের ও এতিমদের ও মিসকিনদের ও পথচারীদের জন্য। আর ভালো কাজ যা - কিছু কর, নিঃসন্দেহ সে - সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চায়, তারা কী - ব্যয় করবে? তুমি বলো: তোমরা উত্তম যা কিছুই ব্যয় করবে, তা করো বাবা - মার জন্যে, আত্মীয় - স্বজনের জন্যে এবং এতিম, মিসকিন ও পথিক - পর্যটকদের জন্যে। আর তোমরা জনকল্যাণের যে কাজই করোনা কেন, সে সম্পর্কে অবহিত।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াস্আলূনাকা মা-যা- ইয়ুন্ফিক্ব ূন্ ক্ব ুল্ মায় আন্ফাক্ব ্তুম্ মিন্ খাইরিন্ ফালিল্ওয়া-লিদাইনি অল্ আক্ব ্রাবীনা অল্ ইয়াতা-মা- অল্ মাসা-কীনি অব্নিস্ সাবীল্ অমা-তাফ্'আলূ মিন্ খাইরিন্ ফাইন্নাল্লা-হা বিহী'আলীম্।

জহুরুল হক

তোমাদের জন্য যুদ্ধ বিধিবদ্ধ করা হলো, অথচ তোমাদের জন্য তা অপ্রীতিকর। আর হতে পারে তোমরা কোনো - কিছু অপছন্দ করলে, অথচ তা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক, আবার হতে পারে তোমরা কোনো - কিছু ভালোবাসলে, অথচ তা তোমাদের জন্য মন্দ। আর জানেন, যদিও তোমরা জানো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের অপ্রিয় হলেও তোমাদের জন্যে যুদ্ধের বিধান লিখে (ফরয করে) দেয়া হলো। হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করো, অথচ (প্রকৃত পক্ষে) সেটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। আবার এমনো হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু পছন্দ করছো, অথচ (মূলত) সেটা তোমাদের জন্যে ক্ষতিকর। ব্যাপার হলো তো সবকিছু জানেন, কিন্তু তোমরা জানোনা।

বাংলা উচ্চারণ

কুতিবা 'আলাইকুমুল্ ক্বিতা-লু অহুওয়া র্কুহুল্লাকুম্ অ'আসায় আন্ তাক্রাহূ শাইআওঁ অহুওয়া খাইরুল্লাকুম্ অ'আসায় আন্ তুহিব্বূ শাইআওঁ অহুওয়া র্শারুল্লাকুম্ অল্লা-হু ইয়া'লামু অআন্তুম্ লা-তা'লামূন্।

জহুরুল হক

তারা তোমাকে পবিত্র মাস সম্পর্কে প্রশ্ন করছে - - তাতে যুদ্ধ করার ব্যাপারে। বলো - - ''এতে যুদ্ধ করা গুরুতর, কিন্তু ‌র রাস্তা থেকে ফিরিয়ে রাখা, আর তাঁর প্রতি ও পবিত্র মসজিদের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করা, এবং তার বাসিন্দাদের সেখান থেকে বের করে দেয়া ‌র কাছে আরও গুরুতর! আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়ে গুরুতর। আর তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা থামাবে না যতক্ষণ না তারা তোমাদের ধর্ম থেকে তোমাদের ফিরিয়ে নিতে পারে, - - যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে থেকে যে তার ধর্ম থেকে ফিরে যায় ও মারা যায় অবিশ্বাসী থাকা অবস্থায়, তা হলে এরাই - - এদের সব কাজ এই দুনিয়াতে ও আখেরাতে বৃথা যাবে। আর তারাই হচ্ছে আগুনের অধিবাসী, তারা এতে থাকবে দীর্ঘকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

হারাম মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে তারা তোমার কাছে জানতে চায়। তুমি বলো: তাতে যুদ্ধ করা গুরুতর (অপরাধ)। কিন্তু আল্লাহর কাছে তার চাইতেও বড় অপরাধ হলো: মানুষকে আল্লাহর পথে (চলতে এবং কাজ করতে) বাধা দেয়া, আল্লাহর সাথে কুফরি করা, (মুমিনদেরকে) মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া এবং হারামের (মক্কার) অধিবাসীদেরকে (তাদের ভূমি ও আবাস থেকে) বহিষ্কার করা। আর জেনে রাখো, ফিতনা হত্যার চাইতেও গুরুতর অপরাধ। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেই, যতোদিন না তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। আর তোমাদের যে কেউ নিজের দীন (ইসলাম) ত্যাগ করে (কুফুরিতে) ফিরে যাবে এবং অবস্থায় মারা যাবে, দুনিয়া এবং আখিরাতে তার সমস্ত আমল হয়ে যাবে নিষ্ফল। তারা হবে আসহাবুন্ নার (আগুনের অধিবাসী), তাতেই থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াস্আলূ-নাকা 'আনিশ্ শাহ্ রিল্ হারা-মি ক্বিতা-লিন্ ফীহ্ ক্ব ুল্ ক্বিতা-লুন্ ফীহি কার্বী অছোয়াদ্দুন্ 'আন্ সাবীলিল্লা-হি অকুফ্রুম্ বিহী অল্মাস্জ্বিদিল্ হারা-মি অইখ্রা-জ্ব ু আহ্লিহী মিন্হু আক্বারু 'ইন্দাল্লা-হি অল্ফিত্নাতু আক্বারু মিনাল্ ক্বাত্ল্ অলা-ইয়াযা-লূনা ইয়ুক্বা-তিলূনাকুম্ হাত্তা- ইয়ারুদ্দূকুম্ 'আন্ দীনিকুম্ ইনিস্তাত্বোয়া-'ঊ অমাইঁ ইর্য়াতাদিদ্ মিন্কুম্ 'আন্ দীনিহী ফাইয়ামুত্ অহুওয়া কা-ফিরুন্ ফাউলা - য়িকা হাবিত্বোয়াত্ আ'মা-লুহুম্ ফিদ্দুন্ইয়া অল্ আ-খিরাহ্ অউলা - য়িকা আছ্হা-বুন্না-রি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছিল ও যারা হিজরত করেছিল, এবং ‌র রাস্তায় কঠোর সংগ্রাম করেছিল, - - এরাই আশা রাখে ‌র করুণার। আর ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

(পক্ষান্তরে) যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে, এরাই আশা করে (করতে পারে) আল্লাহর রহমত। (তাদের ব্যাপারে) অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ অল্লাযীনা হা-জ্বারূ অজা-হাদূ ফী সাবীলিল্লা-হি উলা - য়িকা ইর্য়াজ্ব ূনা রাহ্মাতাল্লা-হ্ অল্লা-হু গাফূর্রু রাহীম্।

জহুরুল হক

তারা তোমাকে নেশা ও জুয়া সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। বলো - - ''এই দুয়েতেই আছে মহাপাপ ও মানুষের জন্য মুনাফা, কিন্তু তাদের পাপ তাদের মুনাফার চাইতে গুরুতর। আর তারা তোমায় সওয়াল করে কী তারা খরচ করবে। বলো - - ''যা বাড়তি থাকে।’’ এইভাবে তোমাদের জন্য বাণীসমূহ স্পষ্ট করেন যাতে তোমরা ভেবে দেখতে পার, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চায় মদ এবং জুয়া সম্পর্কে। তুমি বলো: ‘এ দুটোতেই রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্যে (কিছু) উপকার। তবে এগুলোর উপকারের চাইতে পাপ গুরুতর। তারা তোমার কাছে আরো জানতে চায়, তারা (আল্লাহর পথে) কী ব্যয় করবে? তুমি বলো: ‘প্রয়োজনের অতিরিক্তটা।’ এভাবেই তোমাদের জন্যে স্পষ্টভাবে বয়ান (বর্ণনা) করেন তাঁর আয়াত (বিধান) সমূহ, যাতে করে তোমরা চিন্তাভাবনা করো -

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াস্ আলূনাকা 'আনিল্ খামরি অল্মাইর্সি ক্ব ুল্ ফীহিমায় ইছ্মুন্ ক্বাবীরাওঁ অমানা-ফি'উ লিন্না-সি অইছ্মুহুমায় আক্বারু মিন্ নাফ্'ইহিমা- অ ইয়াস্আলূনাকা মা-যা-ইয়ুন্ফিক্ব ূন্ ক্ব ূলিল্ 'আফ্ওয়া-কাযা-লিকা ইয়ুবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুমুল্ আ-ইয়া-তি লা'আল্লাকুম্ তাতাফাক্কারূন্।

জহুরুল হক

এই দুনিয়া ও আখেরাতের সন্বন্ধে। আর তারা তোমায় এতিমদের সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বলো - - ''তাদের জন্য সুব্যবস্থা করা উত্তম।’’ আর তোমরা যদি তাদের সঙ্গে অংশীদার হও তবে তারা তোমাদের ভাই। আর হিতকারীদের থেকে ফেসাদকারীদের জানেন । আর যদি ইচ্ছা করতেন তবে নিশ্চয়ই তোমাদের বিপন্ন করতে পারতেন। নিঃসন্দেহ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়া এবং আখিরাতকে নিয়ে। তারা তোমার কাছে আরো জানতে চাইছে এতিমদের ব্যাপারে। তুমি বলো: তাদের অর্থ সম্পদের ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক (সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক) কর্মপন্থা গ্রহণ করাই উত্তম। তোমরা যদি তোমাদের সহায় - সম্পদের সাথে তাদের সহায় - সম্পদ যৌথ ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসো, তাতেও দোষ নেই। কারণ, তারা তো তোমাদেরই ভাই। জানেন (তাদের অর্থ সম্পত্তির ব্যাপারে) কে কল্যাণকামী আর কে অনিষ্টকারী। চাইলে এ ব্যাপারে তোমাদের অবশ্যি কষ্টে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।

বাংলা উচ্চারণ

ফিদ্দ্ইুয়া-অল্আ-খিরাহ্ অইয়াস্আলূনাকা 'আনিল্ ইয়াতা-মা- ক্ব ুল্ ইছ্লা-হুল্ লাহুম্ খার্ই অইন্ তুখা-লিত্ব ূ হুম্ ফাইখ্ওয়া-নুকুম্ অল্লা-হু ইয়া'লামুল্ মুফ্সিদা মিনাল্ মুছ্লিহ্ অলাও শা - আল্লা-হু ল্আা'নাতাকুম্ ইন্নাল্লা-হা 'আযীযুন্ হাকীম্।

জহুরুল হক

আর মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না যে পর্যন্ত না তারা ঈমান আনে । আর নিঃসন্দেহ একজন দাসীও একজন মুশরিক নারীর চেয়ে ভালো, যদিও বা সে তোমাদের মোহিত করে দেয়। আর বিয়ে দিয়ো না মুশরিকদের সাথে যে পর্যন্ত না তারা ঈমান আনে, কেননা নিঃসন্দেহ একজন গোলামও একজন মুশরিকের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের তাজ্জব করে দেয়। এই সব আমন্ত্রণ করে আগুনের প্রতি, আর আহ্বান করেন বেহেশতের দিকে এবং পরিত্রাণের দিকে তাঁর নিজ ইচ্ছায়, আর তিনি মানুষের জন্য তাঁর নির্দেশাবলী সুস্পষ্ট করে দেন যেন তারা মনোযোগ দেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা নিকাহ (বিয়ে) করোনা মুশরিক নারীদের যতোক্ষণ না তারা ঈমান আনে। তোমাদের মুগ্ধকারী সম্ভ্রান্ত মুশরিক নারীর চাইতে একজন দাসীও অনেক উত্তম। আর মুশরিক পুরুষদের কাছে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়োনা যতোক্ষণ না তারা ঈমান আনে। তোমাদের মুগ্ধকারী সম্ভ্রান্ত মুশরিক পুরুষের চাইতে একজন দাসও অনেক উত্তম। তারা (মুশরিকরা) তোমাদের আহবান জানায় আগুনের দিকে। আর নিজ অনুগ্রহে তোমাদের আহবান জানাচ্ছেন জান্নাত আর মাগফিরাতের (ক্ষমার) দিকে। আর তিনি নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্যে পরিষ্কার করে বয়ান (বর্ণনা) করেন, যাতে করে তারা উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তান্কিহুল্ মুশ্রিকা-তি হাত্তা-ইয়ুমিন্ অলাআমাতুম্ মু”মিনাতুন্ খাইরুম্ মিম্ মুশ্রিকাতিওঁ অলাও আ'জ্বাবাত্কুম্ অলাতুন্কিহুল্ মুশ্রিকীনা হাত্তা-ইয়ুমিনূ অ লা'আব্দুম্ মু”মিনুন্ খাইরুম্ মিম্ মুশ্রিকিওঁ অলাও 'আজ্বাবাকুম্ উলা - য়িকা ইয়াদ্'ঊনা ইলান্না-রি অল্লা-হু ইয়াদ্'ঊ ইলাল্ জ্বান্নাতি অল্মাগ্ফিরাতি বিইয্নিহী অইয়ুবাইয়্যিনু আ-ইয়া-তিহী লিন্না-সি লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।

জহুরুল হক

তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। বলো - - ''ইহা অনিষ্টকর, কাজেই ঋতুকালে স্ত্রীদের থেকে আলাদা থাকবে, এবং তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যে পর্যন্ত না তারা পরিস্কার হয়ে যায়। তারপর যখন তারা নিজেদের পরিস্কার করে নেয় তখন তাদের সঙ্গে মিলিত হও যেভাবে তোমাদের আদেশ দিয়েছেন।’’ নিঃসন্দেহ ভালোবাসেন তাদের যারা তাঁর দিকে ফেরে, আর তিনি ভালবাসেন পরিচ্ছন্নতা রক্ষাকারীদের।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চায়, হায়েয (নারীদের মাসিক ঋতুস্রাব) সম্পর্কে। তুমি বলো: এটা একটা অশুচি ও অহিতকর অবস্থা। সুতরাং হায়েয চলাকালে স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকো এবং যতোক্ষণ না তারা পবিত্র হয়, ততোক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করোনা। অতপর তারা যখন পবিত্র - পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন তাদের কাছে আসবে (সহবাস করবে) ঠিক সেভাবে, যেভাবে আসতে তোমাদের আদেশ (শিক্ষা) দিয়েছেন। তওবাকারীদের ভালোবাসেন, ভালোবাসেন পবিত্রতা - পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনকারীদের।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াস্আলূনাকা 'আনিল্ মাহীদ্ব্ ক্ব ূল্ হুওয়া আযান্ ফা'তাযিলুন নিসা - আ ফিল্ মাহীদ্বি অলা-তাক্ব ্রাবূহুন্না হাত্তা-ইয়াত্বর্ ্হুনা ফাইযা-তাত্বোয়ার্হ্হানা ফাতূ হুন্না মিন্ হাইছু আমারাকুমুল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা ইয়ুহিব্বুত্ তাওয়া-বীনা অইয়ুহিব্বুল্ মুতাত্বোয়াহ্হিরীন্।

জহুরুল হক

তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য এক ক্ষেতখামার। সুতরাং তোমরা যখন - যেমন ইচ্ছে কর তোমাদের ক্ষেতখামারে গমন করো। আর তোমাদের নিজেদের জন্যে অগ্রিম ব্যবস্থা অবলন্বন করো। আর ‌কে ভয় - ভক্তি করবে, আর জেনে রেখো - - নিশ্চয় তাঁর সঙ্গে তোমাদের মোলাকাত হবে। আর সুসংবাদ দাও মুমিনদের।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্যে শস্যক্ষেত, সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেতে যাও যেভাবে ইচ্ছা। তোমরা অগ্রিম পাঠাও নিজেদের জন্যে (ভালো কাজ)। আর আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ থেকে বেঁচে থাকো। জেনে রাখো, অবশ্যি তোমরা তাঁর সাথে মোলাকাত (সাক্ষাত) করবে। (হে নবী!) মুমিনদের সুসংবাদ দাও।

বাংলা উচ্চারণ

নিসা - উ কুম্ হারছুল্লাকুম্ ফাতূ র্হাছাকুম্ আন্না-শিতুম্ অক্বাদ্দিমূ লিআন্ফুসিকুম্ অত্তাক্ব ুল্লা-হা অ'লামূ য় আন্নাকুম্ মুলা-ক্ব ূহ অবাশ্শিরিল্ মুমিনীন্।

জহুরুল হক

আর ‌কে প্রতিবন্ধক বানিয়ো না তোমাদের শপথের দ্বারা তোমাদের ভালো কাজ করার বেলা ও ভয়ভক্তি দেখাতে, ও লোকদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। আর সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

ভালো কাজ না করা, মন্দ কাজ থেকে আত্মরক্ষা না করা এবং মানুষের মাঝে সন্ধি - সমঝোতা না করে দেয়ার শপথ করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম ব্যবহার করোনা। সবই শোনেন এবং সবই জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাজ্ব ্'আলুল্লা-হা 'উরদ্বোয়াতাল লিআইমা-নিকুম্ আন্ তার্বারূ অতাত্তাক্ব ূঅ তুছ্লিহূ বাইনান্না-স্ অল্লা-হু সামী'উন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

তোমাদের পাকড়াবেন না তোমাদের শপথগুলোর মধ্যে যা খেলো, কিন্তু তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন যা তোমাদের হৃদয় অর্জন করেছে। আর ত্রাণকর্তা, পরম সহিষ্ণু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের (অনিচ্ছাকৃত) নিরর্থক শপথের জন্যে তোমাদের পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্যে (ইচ্ছাকৃত শপথের জন্যে) তোমাদের দায়ী করবেন। অতীব ক্ষমাপরায়ণ, ধৈর্যশীল।

বাংলা উচ্চারণ

লা-ইয়ুআ-খিযুকুমুল্লা-হু বিল্লাগ্ওয়ি ফী য় আইমা-নিকুম্ অলা-কিইঁ ইয়ুআ-খিযুকুম্ বিমা-কাসাবাত্ ক্ব ূলূবুকুম্ অল্লা-হু গাফূরুন্ হালীম্।

জহুরুল হক

যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে ''ইলা’’ করে, চার মাসকাল অপেক্ষা করতে হবে, কিন্তু তারা যদি ফিরে যায়, তা হলে নিশ্চয় ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেসব লোক নিজ স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখবেনা বলে শপথ করে, তাদের অবকাশ চার মাস। কিন্তু (এর মধ্যে) যদি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, তবে অবশ্যি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

লিল্লাযীনা ইয়ুলূনা মিন্ নিসা - য়িহিম্ তারাব্বুছু র্আবা'আতি আশ্হুরিন্ ফাইন্ ফা-ঊ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূর্রু রাহীম।

জহুরুল হক

আর যদি তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তালাকের, তবে নিঃসন্দেহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি তারা তালাক দেয়ার সিদ্ধান্তই নেয়, তবে (তারা জেনে রাখুক) অবশ্যি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ 'আযামুত্ত্বোয়ালা-ক্বা ফাইন্নাল্লা-হা সামী'উন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে তিন ঋতুকাল। আর তাদের জন্য বৈধ হবে না লুকিয়ে রাখা যা তাদের গর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যদি তারা ‌তে ও শেষ দিনে ঈমান আনে। আর তাদের স্বামীদের অধিকতর হক্ আছে তাদের ইতিমধ্যে ফিরিয়ে নেবার, যদি তারা মিটমাট করতে চায়। আর স্ত্রীদের তেমন অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপরে ন্যায়সঙ্গতভাবে। অবশ্য পুরুষদের অবস্থান তাদের কিছুটা উপরে। আর মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী!

আবদুস শহীদ নাসিম

তালাকপ্রাপ্ত নারী নিজেকে তিনটি মাসিক অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত (বিয়ে থেকে) বিরত রাখবে। তারা যদি আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তবে তাদের গর্ভে কোনো কিছু সৃষ্টি করে থাকলে তা গোপন করা তাদের জন্যে হালাল (বৈধ) নয়। তাদের স্বামীরাই বেশি অধিকার রাখে এই অবকাশ (ইদ্দত) কালে তাদের ফিরিয়ে নিতে, যদি তারা পুন সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। (স্বামীর) উপর নারীর তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন আছে তার উপর (তার স্বামীর)। তবে (দায়িত্ব - কর্তব্যের দিক থেকে) তাদের উপর পুরুষদের একটি মর্যাদা রয়েছে। আর সর্বময় শক্তিমান মহাপ্রজ্ঞাময়।

বাংলা উচ্চারণ

অল্মুত্ত্বোয়াল্লাক্বা-তু ইয়াতারাব্বাছ্না বিআন্ফুসিহিন্না ছালা-ছাতা ক্ব ুরূ - য়িন্ অলা-ইয়াহিল্লু লাহুন্না আইঁ ইয়াক্তুম্না মা-খালাক্বাল্লা-হু ফী য় র্আহা-মিহিন্না ইন্ কুন্না ইউমিন্না বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-র্খি অবু'ঊলাতুহুন্না আহাক্ব ্ক্ব ু বিরাদ্দিহিন্না ফী যা-লিকা ইন্ আরাদূ য় ইছ্লা-হা- অলাহুন্না মিছ্লুল্ লাযী 'আলাইহিন্না বিল্ মা'রূফি অর্লিরিজ্বা-লি 'আলাইহিন্না দারাজ্বাহ্ অল্লা-হু'আযীযুন্ হাকীম্।

জহুরুল হক

তালাক দুইবার, তারপর পুরোদস্তুর রক্ষণ নয়ত সুন্দরভাবে বিদায় দান। আর তোমাদের জন্য বৈধ নয় তাদের যা দিয়েছ তা থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া, যদি না দুজনেই আশঙ্কা করে যে ‌র নির্দেশিত সীমা কায়েম রাখা তাদের পক্ষে সম্ভবপর নয়। কিন্তু তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে তারা ‌র গন্ডির ভেতরে কায়েম থাকতে পারবে না, তা হলে তাদের জন্যে অপরাধ হবে না যার বিনিময়ে সে মুক্ত হতে চায়। এইসব হচ্ছে ‌র নির্দেশিত গন্ডি, অতএব এ - সব লঙ্ঘন করো না, আর যারা ‌র গন্ডি লঙ্ঘন করে তারা নিজেরাই হচ্ছে অন্যায়কারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তালাক দুইবার। তারপর হয় স্ত্রীকে প্রচলিত ন্যায়সংগত নিয়মে (স্ত্রী হিসেবে) রাখবে, নতুবা বিদায় করলে সদয় পদ্ধতিতে বিদায় করবে। তোমরা তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো, বিদায়কালে সেখান থেকে কোনো কিছু ফেরত গ্রহণ করা তোমাদের জন্যে বৈধ নয়, তবে তারা দুজনই যদি আশংকা করে যে, তারা আল্লাহর আইন মেনে একত্রে জীবন যাপন করতে পারবেনা। আর যদি স্বামী - স্ত্রী উভয়ে আশংকা করে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি কিছু বিনিময় দিয়ে স্বামীর থেকে বিচ্ছেদ (খোলা) লাভ করতে চায়, তাতে কোনো দোষ নেই। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমারেখা। তোমরা এগুলো লঙ্ঘন করোনা। যারা আল্লাহর নির্ধারণ করে দেয়া সীমারেখা লংঘন করে, তারা যালিম।

বাংলা উচ্চারণ

আত্ত্বোয়ালা-ক্ব ু র্মারাতা-নি ফাইম্সা-কুম্ বিমা'রূফিন্ আও তাস্রীহুম্ বিইহ্সা-ন্ অলা-ইয়াহিল্লু লাকুম্ আন্ তাখুযূ মিম্মা- আ-তাইতুমূহুন্না শাইয়ান্ ইল্লায় আইঁ ইয়াখা-ফায় আল্লা- ইয়ুক্বীমা- হুদূদা ল্লা-হ্ ফাইন্ খিফ্তুম্ আল্লা-ইয়ুক্বীমা-হূদূদাল্লা-হি ফালা-জ্ব ুনা-হা 'আলাইহিমা-ফীমাফ্ তাদাত্ বিহ্ তিল্কা হুদূদাল্লা-হি ফালা- তা'তাদূহা-অমাইঁ ইয়াতা'আদ্দা হুদূদাল্লা-হি ফাউলা - য়িকা হুমুজ্জোয়া-লিমূন।

জহুরুল হক

তারপর যদি সে তাকে তালাক দেয় তবে এরপর সে তার জন্য বৈধ হবে না যে পর্যন্ত না সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে। এখন যদি সেও তাকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে তাদের উভয়ের অপরাধ হবে না যদি তারা পরস্পরের কাছে ফিরে আসে, - - যদি তারা বিবেচনা করে যে তারা ‌র গন্ডির মধ্যে থাকতে পারবে। আর এগুলো হচ্ছে ‌র নির্দেশিত সীমা, - - তিনি তা সুস্পষ্ট করে দেন সেই লোকদের জন্য যারা জানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর স্বামী যদি তার স্ত্রীকে (তৃতীয় বারও) তালাক দেয়, তবে ঐ স্ত্রী আর তার জন্যে হালাল হবেনা। অবশ্য সে (তালাকপ্রাপ্তা) যদি অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করে এবং সে (পুরুষ) যদি তাকে তালাক দেয়, সেক্ষেত্রে তাদের পুন বিয়েতে দোষ নেই, যদি তারা মনে করে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, তিনি এগুলো বর্ণনা করছেন সেইসব লোকদের জন্যে যারা জ্ঞান রাখে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন ত্বোয়াল্লাক্বাহা-ফালা- তাহিল্ল ূ লাহূ মিম্ বা'দু হাত্তা-তান্কিহা যাওজ্বান্ গাইরাহ্ ফাইন্ ত্বোয়াল্লাক্বাহা-ফালা- জ্ব ুনা-হা 'আলাইহিমায় আইঁ ইয়া তারা-জ্বা'আয় ইন্ জোয়ান্নায় আইঁ ইয়ুক্বীমা-হুদূদাল্লা-হ্ অতিল্কা হুদূদুল্লা-হি ইয়ুবাইয়্যিনুহা-লিক্বাওমিইঁ ইয়া'লামূন্।

জহুরুল হক

আর যখন স্ত্রীদের তালাক দাও, আর তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তারপর হয় তাদের রাখবে সদয়ভাবে, নয় তাদের মুক্তি দেবে সদয়ভাবে। আর তাদের আটকে রেখো না ক্ষতি করার জন্যে, - - যার ফলে তোমরা সীমা লঙ্ঘন করবে, আর যে তাই করে সে নিশ্চয় তার নিজের প্রতি অন্যায় করে। আর ‌র প্রত্যাদেশকে তামাশার বস্তু করে নিয়ো না, আর স্মরণ করো তোমাদের উপরে ‌র নিয়ামত ও তোমাদের কাছে যা তিনি অবতারণ করেছেন কিতাব ও হিক্‌মত, যার দ্বারা তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। আর ‌কে ভয়ভক্তি করবে, আর জেনে রেখো - - নিশ্চয় সব - কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দেবে, তারপর তারা যখন ইদ্দত পূর্ণ করার কাছাকাছি পৌঁছুবে, তখন হয় ন্যায়সংগতভাবে তাদের (স্ত্রী হিসেবে) রেখে দাও, নয়তো ন্যায়সংগতভাবে মুক্ত করে দাও। কিন্তু ক্ষতি করা ও কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের আঁটকে রেখোনা। এমনটি করলে সেটা হবে তোমাদের সীমালংঘন। এমনটি যে করে সে নিজের প্রতিই যুলুম করে। তোমরা আল্লাহর আয়াত (বিধান) কে বিদ্রুপের বস্তু বানিয়োনা। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো। তিনি তোমাদের প্রতি যে কিতাব এবং হিকমা নাযিল করেছেন, তিনি তোমাদের তা মেনে চলার উপদেশ দিচ্ছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই সকল বিষয়ে জ্ঞাত।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-ত্বোয়াল্লাক্ব ্তুমুন নিসা - য়া ফাবালাগ্না আজ্বালাহুন্না ফাআম্সিকূহুন্না বিমা'রূফিন্ আওর্সারিহূ হুন্না বিমা'রূফিন্ অলা- তুম্সিকূহুন্না দ্বিরা-রাল্ লিতা'তাদূ অমাইঁ ইয়াফ্আল্ যা-লিকা ফাক্বাদ্ জোয়ালামা নাফ্স্াহ্ অলা-তাত্তাখিযূ য় আ-ইয়া-তিল্লা-হি হুযুওয়াওঁ অয্কুরূ নি'মাতাল্লা -হি 'আলাইকুম্ অমায় আন্যালা 'আলাইকুম্ মিনাল্ কিতা-বি অল্হিক্মাতি ইয়া'ইজুকুম্ বিহ্ অত্তাক্ব ূল্লা-হা অ'লামূ য় আন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও, আর তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তাদের বাধা দিয়ো না তাদের স্বামীদের বিয়ে করতে, যদি তারা নিজেদের মধ্যে রাজী হয় সঙ্গতভাবে। এইভাবে এরদ্বারা উপদেশ দেয়া হচ্ছে তোমাদের মধ্যে তাকে যে ‌তে ও শেষ দিনে ঈমান আনে। এইটি তোমাদের জন্য অধিকতর পরিচ্ছন্ন ও পবিত্রতর। আর জানেন অথচ তোমরা জানো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা স্ত্রীদের (দুই) তালাক দেয়ার পর যখন তারা ইদ্দত পূর্ণ করে নেয়, তখন তাদেরকে তাদের স্বামীদের পুনরায় বিয়ে করতে বাধা দিয়োনা, যদি তারা ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে পরস্পরকে বিয়ে করতে রাজি হয়। এগুলো সেই ব্যক্তির জন্যে উপদেশ, যে আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে। এটাই তোমাদের জন্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও পবিত্র পন্থা। জানেন, তোমরা জানোনা।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-ত্বোয়াললাক্ব ্তুমুন্ নিসা - আ ফাবালাগ্না আজ্বালাহুন্না ফালা-তা'দ্বুলূহুন্না আইঁ ইয়ান্কিহ্না আয্ওয়া-জ্বাহুন্না ইযা-তারাদ্বোয়াও বাইনাহুম্ বিল্মা'রূফ্ যা-লিকা ইয়ূ'আজু বিহী মান্ কা-না মিন্কুম্ ইয়ুমিনু বিল্লা-হি অল্ ইয়াওমিল্ আ-র্খি যা-লিকুম্ আয্কা-লাকুম্ ওয়াআত্বর্ ্হা অল্লা-হু ইয়া'লামু অ আন্তুম্ লা-তা'লামূন্।

জহুরুল হক

আর মায়েরা নিজ সন্তানদের পুরো দু’বছর স্তন্য খেতে দেবে, - - যে চায় স্তন্যদান পুরো করতে। তার পিতার উপরে দায়িত্ব তাদের খাওয়ানো ও পরানো ন্যায়সঙ্গতরূপে। কোনো লোকেরই উচিত নয় এমন দায়িত্ব আরোপ করা যা তার ক্ষমতার অতিরিক্ত। মাতাকেও যেন সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে না হয়, আর যার রসে সন্তান জন্মেছে তাকেও যেন নিজের সন্তানের দরুন, আর উত্তরাধিকারীর উপরে দায়িত্ব তার অনুরূপ করা। কিন্তু যদি দুজনেই ইচ্ছা করে মাই ছাড়াতে, উভয়ের মধ্যে সম্মতিক্রমে এবং পরামর্শক্রমে, তবে তাদের কোনো অপরাধ হবে না। আর যদি তোমরা চাও তোমাদের সন্তানদের জন্য ধাইমা নিযুক্ত করতে, তাতেও তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না যে পর্যন্ত তোমরা রাজী থাকো যা তোমরা পুরোদস্তুর প্রদান করবে। আর ‌কে ভয়ভক্তি করবে, আর জেনে রেখো - - নিঃসন্দেহ তোমরা যা করো তার দর্শক।

আবদুস শহীদ নাসিম

মায়েরা তাদের বাচ্চাদের বুকের দুধ পান করাবে পূর্ণ দুই বছর। এই বিধান তার জন্যে যে পিতা দুধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের পিতার দায়িত্ব হবে বাচ্চাদের মায়ের খাওয়া পরার ব্যয় ভার বহন করা ন্যায়সংগত পরিমাণে। কারো উপর তার সাধ্যের বাইরে বোঝা চাপানো ঠিক নয়। কোনো মাকে তার বাচ্চার কারণে কষ্ট দেয়া যাবেনা, কোনো পিতাকেও তার বাচ্চার কারণে কষ্ট দেয়া যাবেনা। (বাচ্চার পিতার অবর্তমানে স্তন্যদানকারী মায়ের প্রতি) ওয়ারিশদের দায়িত্ব কর্তব্য তার (পিতার) অনুরূপ। কিন্তু তারা উভয় পক্ষ যদি পারস্পারিক সম্মতি ও পরামর্শক্রমে স্তন্যপান বন্ধ করতে চায়, তবে তাতে তাদের কোনো অপরাধ হবেনা। আর তোমরা যদি দুধ মা দ্বারা তোমাদের বাচ্চাদের দুধ পান করাতে চাও, তাতেও তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। তবে শর্ত হলো, পরস্পর সম্মত (agreed) বিনিময় ন্যায়সংগতভাবে তাকে পরিশোধ করতে হবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, অবশ্যি তোমাদের কর্মের উপর দৃষ্টি রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

অল্ওয়া-লিদা-তু ইর্য়ুদ্বি'না আওলা-দাহুন্না হাওলাইনি কা-মিলাইনি লিমান্ আরা-দা আইঁইয়ুতির্ম্মা রাদ্বোয়া-'আহ্ অ'আলাল্ মাওলূদি লাহূ রিয্ক্ব ুহুন্না অকিস্ওয়া তুহুন্না বিল্মা'রূফ্ লা-তুকাল্লাফু নাফ্সুন্ ইল্লা-উস্'আহা-লা-তুদ্বোয়া -র্ রা ওয়া- লিদাতুম্ বিঅলাদিহা-অলা-মাওলূদুল্লাহূ বিঅলাদিহী অ'আলাল্ ওয়া-রিছি মিছ্লু যা-লিকা ফাইন্ আরা-দা ফিছোয়া-লান্ 'আন তারা-দ্বিম্ মিন্হুমা-অতাশা-উরিন্ ফালা-জ্ব ুনা-হা 'আলাইহিমা- অইন্ আরাত্তুম্ আন্ তাস্তারদ্বিঊ'য় আওলা-দাকুম্ ফালা-জ্ব ুনা-হা 'আলাইকুম্ ইযা-সাল্লাম্তুম্ মায় আ-তাইতুম্ বিল্মা-রূফ্ অত্তাক্ব ুল্লা-হা অ'লামূ য় আন্নাল্লা-হা বিমা-তা'মালূনা বার্ছী।

জহুরুল হক

আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা যায় ও রেখে যায় স্ত্রীদের, তারা নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে চার মাস ও দশ। তারপর তারা যখন তাদের সময়ের মোড়ে পৌঁছে যায় তখন তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না যা তারা নিজেদের জন্য করে ন্যায়সঙ্গতভাবে। আর তোমরা যা কর সে - সন্বন্ধে ওয়াকিবহাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যারা স্ত্রী রেখে মারা যাবে, তাদের স্ত্রীরা (বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার জন্যে) চারমাস দশদিন অপেক্ষা করবে। তারপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন তারা প্রচলিত ন্যায়সংগত পন্থায় নিজেদের ব্যাপারে (বিয়ে করা বা না করার) যে সিদ্ধান্তই নিতে চায় নিতে পারবে, তাতে তোমাদের কোনো দোষ (দায়দায়িত্ব) নেই। তোমাদের আমল সম্পর্কে খবর রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা ইয়ুতাওয়াফ্ফাওনা মিন্কুম্ অইয়াযারূনা আয্ওয়া-জ্বাইঁ ইয়াতারাব্বাছ্না বিআন্ফুসিহিন্না র্আবা'আতা আশ্হুরিওঁ অ'আশ্রান্ ফাইযা-বালাগ্না আজ্বালাহুন্না ফালা- জ্ব ুনা-হা 'আলাইকুম্ ফী মা-ফা'আল্না ফীয় 'আন্ফুসিহিন্না বিল্মা'রূফ্ অল্লা-হু বিমা-তা'মালূনা খার্বী।

জহুরুল হক

আর তোমাদের উপরে অপরাধ হবে না তোমরা নারীদের বিবাহের প্রস্তাবে যা আভাসে ইঙ্গিতে প্রকাশ কর, অথবা গোপন রাখো তোমাদের অন্তরে। জানেন যে তোমরা তাদের স্মরণ করবে, কিন্তু ভদ্রভাবে কথাবার্তা বলা ছাড়া গোপনে তাদের সাথে ওয়াদা করো না, আর বিবাহবন্ধন পাকাপাকি করো না যে পর্যন্ত না তাদের নির্ধারিত সময়সীমা পেছোঁয়! আর জেনে রেখো - - নিশ্চয়ই জানেন যা তোমাদের অন্তরে আছে, অতএব তাঁর সম্পর্কে সতর্ক হও, আর জেনে রেখো যে নিঃসন্দেহ ত্রানকর্তা, পরম সহিষ্ণু।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইদ্দত চলাকালে বিধবা) নারীদের তোমরা ইশারা - ইংগিতে বিয়ের প্রস্তাব প্রদান করলে, কিংবা মনের ভেতরে তাদের বিয়ে করার কথা গোপন করে রাখলে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। জানেন, তাদের কথা তোমাদের মনে উদয় হবেই। কিন্তু গোপনে তাদেরকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়োনা। তবে প্রচলিত সমর্থিত পন্থায় কথাবার্তা বলতে পারবে। নির্দিষ্ট সময় (ইদ্দতকাল) পার না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের আক্দ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়োনা। জেনে রাখো, তোমাদের অন্তরে কী আছে তা জানেন। তাই তাঁকে ভয় করে চলো। একথাও জেনে রাখো, কেউ ভুল করার পর ক্ষমা চাইলে অবশ্যি পরম ক্ষমাশীল, সহিষ্ণু।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-জ্ব ুনা-হা 'আলাইকুম্ ফীমা- 'র্আ রাদ্ব্তুম্ বিহী মিন্ খিত্ব ্বাতিন নিসা - য়ি আও আক্নান্তুম্ ফী য় আন্ফুসিকুম্ 'আলিমাল্লা-হু আন্নাকুম্ সাতায্কুরূনাহুন্না অলা-কিল্লা- তুওয়া-'ই দূহুন্না র্সিরান্ ইল্লায় আন্তাক্ব ূলূ ক্বাওলাম্ মা'রূফা- অলা-তা'যিমূ'উক্ব ্দাতান নিকা-হি হাত্তা- ইয়াব্লুগাল্ কিতা-বু আজ্বালাহ্ ওয়া'লামূ য় আন্নাল্লা-হা ইয়া'লামু মা-ফী য় আন্ফুসিকুম্ ফাহ্যারূহু ওয়া'লামূ য় আন্নাল্লা-হা গাফূরুন্ হালীম্।

জহুরুল হক

তোমাদের অপরাধ হবে না যদি তোমরা তালাক দাও স্ত্রীদের যাদের এখনও তোমরা স্পর্শ করো নি বা দেয় যাদের জন্য ধার্য করো নি। আর তাদের জন্য ব্যবস্থা করো, ধনবানের ক্ষেত্রে তার সামর্থ্য অনুসারে ও অভাবীর ক্ষেত্রে তার সামর্থ্য অনুসারে, ব্যবস্থা হবে পুরোদস্তুরভাবে। সৎকর্মীদের জন্য একটি কর্তব্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

সহবাস করার পূর্বে এবং মোহরানা ধার্য না করা অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলে তোমাদের কোনো পাপ হবে না। কিন্তু (এ ধরণের তালাকের ক্ষেত্রে) অবশ্যি তাদেরকে কিছু অর্থ - সামগ্রী দেবে। সচ্ছল ব্যক্তি দেবে তার (আর্থিক) সচ্ছলতা অনুযায়ী, আর দরিদ্র ব্যক্তি দেবে তার সামর্থ অনুযায়ী প্রচলিত নিয়ম ও যুক্তি সংগত পরিমাণ। এটা কল্যাণপরায়নদের উপর আরোপিত একটা কর্তব্য।

বাংলা উচ্চারণ

লা-জ্ব ুনা-হা 'আলাইকুম্ ইন্ ত্বোয়াল্লাক্ব ্ তুমুন্নিসা - য়া মা-লাম্ তামাস্সূহুন্না আও তাফ্রিুদ্বূ লাহুন্না ফারীদ্বোয়াতাওঁ অমাত্তি'ঊ হুন্না 'আলাল মূসি'ই ক্বাদারুহূ অ'আলাল্ মুক্ব্তিরি ক্বাদারুহূ মাতা-'আম্ বিল্ মা'রূফি হাক্ব ্ক্বান্ 'আলাল্ মুহসিনীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তোমরা তাদের তালাক দাও তাদের স্পর্শ করার আগে এবং ইতিমধ্যে দেয় তাদের জন্য ধার্য করে ফেলেছ, যা ধার্য করেছ তার অর্ধেক, যদি না তারা মাফ করে দেয় অথবা তারা মাফ করে দেয় যাদের হাতে রয়েছে বিবাহ - গ্রন্থি। আর যদি তোমরা দাবি ছেড়ে দাও তবে তা ধর্মপরায়ণতার অধিকতর নিকটবর্তী। আর তোমাদের পরস্পরের মধ্যে সদয়তা ভুলে যেয়ো না। নিঃসন্দেহ তোমরা যা করো তার দর্শক।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্ত্রীর মোহরানা ধার্য করা হয়েছে, কিন্তু যদি সহবাস করার পূর্বেই তালাক দিয়ে ফেলে থাকো, সেক্ষেত্রে ধার্যকৃত মোহরানার অর্ধেক তাকে দিতে হবে যদি না স্ত্রী দয়াপরবশ হয় (ক্ষমা করে দেয়), কিংবা যার হাতে বিবাহের রশি সে (অর্থাৎ স্বামী) দয়াপরবশ হয় (অর্থাৎ পুরো মোহরানা দিয়ে দেয়)। তোমরা দয়াপরবশ হও, এটাই তাকওয়ার জন্যে নিকটতম। তোমরা পরস্পরের প্রতি দয়া - অনুগ্রহ ও সহৃদয়তার কথা ভুলে থেকোনা। অবশ্যি তোমাদের কার্যক্রমের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ ত্বোয়াল্লাক্ব ্তুমূহুন্না মিন্ক্বাব্লি আন্ তামাস্সূ হুন্না অক্বাদ্ ফারাদ্ব্তুম্ লাহুন্না ফারী দ্বোয়াতান্ ফানিছ্ফু মা-ফারাদ্ব্তুম্ ইল্লায় আইঁ ইয়া'ফূনা আও ইয়া'ফুওয়াল্লাযী বিয়াদিহী 'উক্ব্ ্দাতুন্নিকা-হ্ অআন্ তা'ফূয় আক্ব ্রাবু লিত্তাক্ব ্ওয়া-অলা-তান্সাউল্ ফাদ্ব্লা বাইনাকুম্ ইন্নাল্লা-হা বিমা-তা'মালূনা বার্ছী।

জহুরুল হক

হেফাজত করো নামাযগুলোর, বিশেষ করে সর্বোৎকৃষ্ট , আর তোমরা খাড়া থেকো ‌র উদ্দেশ্যে পরম বিনয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যম (আদায়) - এর প্রতি, এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে (সালাতে) দাঁড়াও বিনীত হয়ে।

বাংলা উচ্চারণ

হা-ফিজূ 'আলাছ্ ছলাওয়া-তি ওয়াছালা-তিল্ উসত্বোয়া-'অক্ব ূমূ লিল্লা-হি ক্বা-নিতীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর তবে পায়ে চলে বা ঘোড়ায় চড়ে, কিন্তু যখন তোমরা নিরাপত্তা বোধ কর তখন ‌কে স্মরণ করো যে ভাবে তিনি তোমাদের শিখিয়েছেন - - যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি ভয় ও আতংকের মধ্যে থাকো, সেক্ষেত্রে তোমরা পায়ে হাঁটা কিংবা যানবাহনে আরোহী অবস্থায় আদায় করো। আর যখন নিরাপদ অবস্থায় থাকবে, তখন আল্লাহকে যিকির ( আদায়) করবে সেভাবে, যেভাবে করতে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং যে পদ্ধতি ইতোপূর্বে তোমাদের ছিলনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন খিফ্তুম্ ফারিজ্বা-লান্ আও রুক্বা-নান্ ফাইযায় আমিন্তুম্ ফায্কুরুল্লা-হা কামা-'আল্লামাকুম্ মা-লাম তাকূনূ তা'লামূন্।

জহুরুল হক

আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা যায় এবং রেখে যায় স্ত্রীদের, তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছরের ভরণ - পোষণের ওসিয়ৎ হওয়া চাই, তাদের বহিস্কার না ক’রে, কিন্তু তারা যদি চলে যায় তবে তোমাদের উপরে অপরাধ হবে না যা তারা নিজেদের ব্যাপারে সুসঙ্গতভাবে করে। আর মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে যাচ্ছে অবস্থায় নিজের মৃত্যু আসন্ন অনুভব করবে, স্ত্রীদের জন্যে এক বছরের খোরপোষ ও বাসস্থানের অসিয়ত করে যাওয়া তাদের কর্তব্য তাদেরকে বের করে না দিয়ে। তবে তারা (স্ত্রীরা) নিজেরাই যদি চলে যায়, সেক্ষেত্রে তারা প্রচলিত বিধি মোতাবেক নিজেদের ব্যাপারে যা কিছু করুক, তাতে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। সর্বময় কর্তৃত্বশালী, মহাবিজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা ইয়ুতাওয়াফ্ফাওনা মিন্কুম্ অইয়াযারূনা আয্ওয়াজ্বাওঁ অছিয়্যাতাল লিআয্ওয়া-জ্বিহিম্ মাতা-'আন্ ইলাল্ হাওলি গাইরা ইখ্রা-জ্বিন ফাইন্ খারাজ্ব ্না ফালা-জ্ব ুনা-হা 'আলাইকুম্ ফী মা- ফা'আল্না ফীয় আন্ফুসিহিন্না মিম্ মা'রূফ 'অল্লা-হু 'আযীযুন্ হাকীম্।

জহুরুল হক

আর তালাক দেয়া নারীদের জন্যে ব্যবস্থা চাই পুরোদস্তুর মতে, ধর্মপরায়ণদের জন্য একটি কর্তব্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যেসব নারীকে তালাক দেয়া হয়, তাদেরকেও প্রচলিত সংগত পরিমাণ অর্থ - সামগ্রী দেয়া উচিত। এটা মুত্তাকিদের একটা কর্তব্য।

বাংলা উচ্চারণ

অলিল্ মুত্বোয়াল্লাক্বা-তি মাতা-'উম্ বিল্মা'রূফ্ হাক্ব্ ্ক্বান্ 'আলাল মুত্তাক্বীন্।

জহুরুল হক

এইভাবে তোমাদের জন্য তাঁর বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যেন তোমরা বুঝতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই তাঁর আয়াত (আইন - বিধান) পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছেন, যাতে করে তোমরা অনুধাবন করো।

বাংলা উচ্চারণ

কাযা-লিকা ইয়ুবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুম্ আ-ইয়া- তিহী লা'আল্লাকুম্ তা'ক্বিলূন্।

জহুরুল হক

তুমি কি তাদের বিষয়ে ভাব নি যারা তাদের বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল মৃত্যুর ভয়ে, আর তারা হাজারে হাজারে ছিল? তারপর তাদের বললেন - - ''তোমরা মরো’’ এরপর তিনি তাদের জীবনদান করলেন। নিঃসন্দেহ অবশ্যই মানুষের প্রতি অশেষ করুণাময়, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই শুকুরানা আদায় করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ লোকদের ব্যাপারে কি ভেবে দেখেছো, যারা হাজার হাজার লোক মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর - বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল? তারপর তাদের বলেছিলেন: ‘মরে যাও।’ এর পর তিনি আবার তাদের জীবিত করেন। মূলত, মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহপরায়ণ, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁর শোকর আদায় করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তারা ইলাল্লাযীনা খারাজ্ব ূ মিন্ দিয়া-রিহিম্ অ হুম উলূফুন্ হাযারাল্ মাওতি ফাক্বা-লা লাহুমুল্লা-হু মূতূ ছুম্মা আহ্ইয়া-হুম্ ইন্নাল্লা-হা লাযূফাদ্ব্লিন্ 'আলান না-সি অলা-কিন্না আক্ছারান্না-সি লা-ইয়াশ্কুরূন্।

জহুরুল হক

আর ‌র রাস্তায় সংগ্রাম করো, আর জেনে রেখো - - নিঃসন্দেহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো আর জেনে রাখো, অবশ্যি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-তিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি অ'লামূ য় আন্নাল্লা-হা সামী'উন 'আলীম্।

জহুরুল হক

কে আছে যে ‌কে কর্জ দেবে সর্বাঙ্গসুন্দর ঋণ? তিনি তখন তা বাড়িয়ে দেবেন তার জন্য বহুগুণিত করে। আর গ্রহণ করেন ও তিনি সম্প্রসারণ করেন আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কে আছে আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ (উত্তম নি:স্বার্থ ঋণ) প্রদান করবে, তারপর তিনি তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে তাকে ফেরত দেবেন? আল্লাহ্ই (কারো অর্থনৈতিক অবস্থা) সম্প্রসারিত করেন আর (কারো অবস্থা) সংকুচিত করেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

বাংলা উচ্চারণ

মান্যাল্লাযী ইউক্ব ্রিদ্ব ুল্লা-হা র্ক্বাদ্বোয়ান্ হাসানান্ ফাইয়ুদ্বোয়া-'ইফাহূ লাহূয় আদ্ব্'আ-ফান্ কাছীরাহ্ অল্লা-হু ইয়াক্ব ্ বিদ্ব ু অইয়াব্সুত্ব ু অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।

জহুরুল হক

তুমি কি মূসার পরবর্তীকালে ইসরাইলের বংশধরদের প্রধানদের বিষয়ে ভেবে দেখ নি, যখন তারা তাদের নবীকে বলেছিল - - ''আমাদের জন্য একজন রাজা উত্থাপন করো যেন আমরা ‌র পথে লড়তে পারি’’? তিনি বলেছিলেন - - ''এমনটা কি তোমাদের হবে যে তোমাদের জন্য যুদ্ধ বিধিবদ্ধ করা হলে তোমরা যুদ্ধ করবে না?’’ তারা বলেছিল - - ''আমাদের কী হয়েছে যে আমরা ‌র পথে যুদ্ধ করবো না যখন আমরা আমাদের বাড়িঘর ও সন্তান - সন্ততি থেকে বিতাড়িত হয়েছি?’’ কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ বিধিবদ্ধ করা হলো, তারা ফিরে দাঁড়াল তাদের মধ্যের অল্প কয়েকজন ছাড়া। আর অন্যায়কারীদের সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি মূসার পরবর্তী বনি ইসরাঈল সরদারদের আচরণটা ভেবে দেখেছো? তারা যখন তাদের একজন নবীকে বলেছিল: ‘আমাদের জন্যে একজন রাজা নিযুক্ত করুন যাতে করে আমরা (তার নেতৃতেব) আল্লাহর পথে লড়াই করতে পারি।’ সে বললো: ‘এমনটি তো হবেনা যে, তোমাদের প্রতি যুদ্ধ ফরয হলো, অথচ তোমরা যুদ্ধে গেলেনা?’ তারা বললো: ‘কেন আমরা যুদ্ধে যাবোনা, অথচ আমাদেরকে আমাদের ঘরবাড়ি এবং সন্তান সন্তুতি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে?’ তারপর যখন তাদের উপর যুদ্ধ ফরয করে দেয়া হলো, তখন তাদের অল্প কিছু লোক ছাড়া বাকি সবাই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলো। যালিমদের অবস্থা বিশেষভাবে অবহিত।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তারা ইলাল্ মালায়ি মিম্ বানী য় ইস্রা - য়ীলা মিম্ বা'দি মূসা। ইয্ ক্বা-লূ লিনাবিয়্যিল্ লা-হুমুব্'আছ লানা-মালিকান্ নুক্বা-তিল্ ফী সাবীলিল্লা-হ্ ক্বা-লা হাল্ 'আসাইতুম্ ইন্ কুতিবা 'আলাইকুমুল্ ক্বিতা-লু আল্লা-তুক্বা-তিলূ ক্বা-লূ অমা-লানায় আল্লা-নুক্বা-তিলা ফী সাবীলিল্লা-হি অক্বাদ্ উখ্রিজ্ব্ ্না- মিন দিয়া-রিনা-অআব্না - য়িনা ফালাম্মা-কুতিবা 'আলাইহিমুল্ ক্বিতা-লু তাওয়াল্লাও ইল্লা-ক্বালীলাম্ মিন্হুম্ অল্লা-হু 'আলীমুম্ বিজ্জোয়া-লিমীন্।

জহুরুল হক

আর তাদের নবী তাদের বলেছিলেন - - ''নিশ্চয়ই এখন তোমাদের জন্য তালুতকে রাজা করেছেন।’’ তারা বললে - - ''সে কেমন ক’রে আমাদের উপরে রাজত্ব পেতে পারে যখন রাজত্বে তার চাইতে আমাদেরই বেশী দাবী, আর তাকে ধনদৌলতের প্রাচুর্যও প্রদান করা হয় নি? তিনি বললেন - - ''নিশ্চয় তাকে মনোনীত করেছেন তোমাদের উপরে, আর তিনি তাকে অগাধভাবে প্রাচুর্যও দিয়েছেন জ্ঞানে ও দেহে। আর তাঁর রাজত্ব দেন যাকে ইচ্ছে করেন, কারণ সর্বব্যাপ্ত, সর্বজ্ঞাতা।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের নবী (শামাবিল) তাদের বলেছিল: ‘ তালুতকে তোমাদের নবী নিযুক্ত করেছেন।’ তারা বললো: ‘আমাদের উপর সে কিভাবে রাজত্ব লাভ করবে? তার চাইতে রাজত্ব লাভের অধিক হকদার তো আমরা। তাছাড়া সেতো অর্থনৈতিক ভাবেও সামর্থবান নয়।’ সে (শামাবিল) বললো: ‘ তোমাদের উপর তাকেই (রাজা) মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাকে জ্ঞানগত ও দৈহিকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। যাকে চান তাকে তাঁর রাজত্ব প্রদান করেন। আর নিজ সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণের জন্যে যথেষ্ট ও সর্বজ্ঞানী।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লা লাহুম্ নাবিয়্যুহুম্ ইন্নাল্লা-হা ক্বাদ্ বা'আছা লাকুম্ ত্বোয়া-লূতা মালিকা- ক্বা-লূ য় আন্না- ইয়াকূনু লাহুল্ মুল্কু 'আলাইনা- অনাহ্নু আহাক্ব ্ক্ব ু বিল্মুল্কি মিন্হু অলাম্ ইয়ুতা সা'আতাম্ মিনাল্ মা-ল্ ক্বা-লা ইন্নাল্লা-হাছ্ ত্বোয়াফা-হু 'আলাইকুম্ অযা-দাহূ বাস্ত্বোয়াতান্ ফিল 'ইল্মি অল্জ্বিস্ম্ অল্লা-হু ইয়ুতী মুল্কাহূ মাইঁ ইয়াশা - উ্ অল্লা-হু ওয়া-সি'উন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

আর তাদের নবী তাদের বলেছিলেন - - ''নিঃসন্দেহ তার রাজত্বের লক্ষণ এই যে তোমাদের কাছে আসবে 'তাবুত’ যাতে আছে তোমাদের প্রভুর তরফ থেকে প্রশান্তি, এবং মূসার বংশধরেরা ও হারূনের অনুগামীরা যা ছেড়ে গেছেন তার শ্রেষ্ঠাংশ, - - তা বহন করছে ফিরিশ্‌তারা। নিঃসন্দেহ এতে আছে তোমাদের জন্য নিদর্শন যদি তোমরা হয়ে থাকো।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের নবী (শামাবিল) তাদের আরো বলেছিল: তার (তালুতের) রাজত্ব লাভের নিদর্শন হলো: ‘তার রাজত্বকালে তোমরা সেই সিন্ধুকটি ফেরত পাবে, যাতে রয়েছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে প্রশান্তি, রয়েছে মূসা ও হারূণের পরিবারের পরিত্যক্ত বরকতময় আসবাব পত্র। সেটি বহন করে আনবে ফেরেশতারা। তোমরা হয়ে থাকলে এটা তোমাদের জন্যে অবশ্যি (তার রাজত্বের) নিদর্শন।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লা লাহুম্ নাবিয়্যুহুম্ ইন্না আ-ইয়াতা মুল্কিহীয় আইঁ ইয়াতিয়াকুমুত্ তা-বূতু ফীহি সাকীনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্ অবাক্বিয়্যাতুম্ মিম্মা- তারাকা আ-লু মূসা-ওয়াআ-লু হা-রূনা তাহ্মিলুহুল্ মালা - য়িকাহ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়াতাল্লাকুম্ ইন্ কুনতুম্ ম'ু'মিনীন্।

জহুরুল হক

তারপর তালুত যখন সৈন্যদল নিয়ে অভিযান করলেন তখন বললেন - - ''নিশ্চয় তোমাদের পরীক্ষা করবেন একটি নদী দিয়ে; তাই যে কেউ তার থেকে পান করবে সে আমার নয়, আর যে এর স্বাদ গ্রহণ করবে না সে নিঃসন্দেহ আমার, শুধু সে ছাড়া যে তার হাতে কোষ - পরিমাণ পান করে।’’ কিন্তু তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া তারা তা থেকে পান করেছিল। তারপর তিনি যখন উহা পার হয়ে গেলেন, তিনি ও যারা তাঁর সাথে ঈমান এনেছে, তারা বললে - - ''আজ আমাদের শক্তি নেই জালুত এবং তার সৈন্যদলের বিরুদ্ধে।’’ যারা নিশ্চিত ছিল যে তারা অবশ্যই ‌র সাথে মুলাকাত করতে যাচ্ছে, তারা বললে - - ''কতবার ছোট দল ‌র হুকুমে বড় দলকে পরাজিত করেছে, আর অধ্যবসায়ীদের সাথে আছেন’’।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তালুত যখন সেনাবাহিনী নিয়ে (জেরুজালেম বিজয়ের উদ্দেশ্যে) বের হলো, তাদের বললো: ‘ (সামনেই) একটি নদীতে তোমাদের পরীক্ষা করবেন। যে তার পানি পান করবে, সে আমার দলভুক্ত থাকবেনা; আর যে তার পানি দিয়ে পিপাসা নিবৃত করবেনা, সে - ই থাকবে আমার দলভুক্ত; তবে কেউ শুধু এক আধ আঁজলা পান করলে সেও থাকতে পারবে আমার দলভুক্ত।’ কিন্তু তাদের অল্প কিছু লোক ছাড়া বাকিরা আকণ্ঠ পান করলো নদীর পানি। তারপর সে এবং তার ঈমানের দাবিদার সাথিরা যখন নদী পার হয়ে এলো, তারা (তালুতকে) বললো: ‘আজ জালুত এবং তার সেনাদলের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই।’ কিন্তু আল্লাহর সাথে একদিন তো সাক্ষাত হবেই - এ বিশ্বাস যাদের ছিলো, তারা বললো: ‘আল্লাহর হুকুমে ক্ষুদ্র সেনাদল শক্তিশালী বৃহৎ সেনাদলকে পরাজিত করেছে - এমন ঘটনা বহুবারই ঘটেছে।’ সবর (দৃঢ়তা) অবলম্বনকারীদের সাথেই থাকেন।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-ফাছোয়ালা ত্বোয়া-লূতু বিল্জ্ব ুনূ দি ক্বা-লা ইন্নাল্লা-হা মুব্তালীকুম্ বিনাহারিন্ ফামান্ শারিবা মিন্হু ফালাইসা মিন্নী অমাল্লাম্ ইয়াত্ব ্'আম্হু ফাইন্নাহূ মিন্নীয় ইল্লা-মানিগ্ তারাফা র্গুফাতাম্ বিয়াদিহী ফাশারিবূ মিন্হু ইল্লা-ক্বালীলাম্ মিন্হুম্ ফালাম্মা-জ্বা-ওয়াযাহূ হুওয়া অল্লাযীনা আ-মানূ মা'আহূ ক্বা-লূ লা-ত্বোয়া-ক্বাতা লানাল্ ইয়াওমা বিজ্বা-লূতা অজ্ব ুনূ দিহ্ ক্বা-লাল্লাযীনা ইয়াজুন্ন ূনা আন্নাহুম্ মুলা-ক্ব ুল্লা-হি কাম্ মিন্ ফিয়াতিন্ ক্বালী লাতিন্ গালাবাত্ ফিয়াতান্ কাছীরাতাম্ বিইয্নিল্লা-হ্ অল্লা-হু মা'আছ্ ছোয়া-বিরীন্।

জহুরুল হক

আর যখন তারা জালুতের ও তার সৈন্যদলের মুখোমুখি হলো, তারা বললে - - ''আমাদের প্রভু! আমাদের প্রতি অধ্যবসায় বর্ষণ করো, আর আমাদের পদক্ষেপ মজবুত করো, আর অবিশ্বাসী দলের বিরুদ্ধে সাহায্য করো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা যখন যুদ্ধের জন্যে জালুত এবং তার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হলো, দোয়া করলো: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের দৃঢ়তা দান করো, আমাদের কদমকে মজবুত রাখো এবং এই লোকদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-বারাযূ লিজ্বা-লূতা অজ্ব ুনূদিহী ক্বা-লূ রব্বানায় আফ্রিগ্ 'আলাইনা-ছোয়াব্রাওঁ অছাব্বিত্ আক্ব ্দা-মানা-অর্ন্ছুনা-'আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

অতএব ‌র হুকুমে তারা তাদের পরাজিত করল, আর দাউদ হত্যা করলেন জালুতকে, আর তাঁকে রাজত্ব ও জ্ঞান দিলেন, আর তাঁকে শেখালেন যা তিনি ইচ্ছা করলেন। আব মানুষদের যদি ‌র প্রতিহতকরণ না হতো - - তাদের এক দলকে অন্য দলের দ্বারা - - তবে পৃথিবী নিঃসন্দেহ অরাজকতাপূর্ণ হতো। কিন্তু সমস্ত সৃষ্টজগতের প্রতি অশেষ কৃপাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তারা আল্লাহর হুকুমে তাদের পরাস্ত করলো এবং দাউদ হত্যা করলো জালুতকে। আর তাকে (দাউদকে) দান করলেন রাজত্ব আর হিকমা (প্রজ্ঞা) এবং তাকে শিক্ষা দিলেন যা ইচ্ছা করলেন। যদি মানব জাতির একটি দলকে আরেকটি দলের হাতে দমন না করতেন, তাহলে তো পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটে যেতো। কিন্তু জগতবাসীর প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।

বাংলা উচ্চারণ

ফাহাযামূ হুম্ বিইয্নিল্লা-হি অক্বাতালা দা-ঊদু জ্বা-লূতা অআ-তা-হুল্লাহুল্ মুল্কা অল্ হিক্মাতা অআল্লামাহূ মিম্মা-ইয়াশা - উ অলাও লা- দাফ্'উল্লা-হিন্ না-সা বা'দ্বোয়াহুম্ বিবা'দ্বিল্ লা ফাস্সাদাতিল্ র্আদ্ব ু অলা-কিন্নাল্লা-হা যূ ফাদ্ব্লিন্ 'আলাল্ 'আ-লামীন্।

জহুরুল হক

এইসব হচ্ছে ‌র বাণী, আমরা তোমার কাছে তা পাঠ করছি যথাযথভাবে, আর নিঃসন্দেহ তুমি রসূলদের অন্যতম।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো আল্লাহর আয়াত (বাণী) আমরা তিলাওয়াত করছি যথাযথভাবে তোমার প্রতি এবং অবশ্যি তুমি রসূলদের একজন।

বাংলা উচ্চারণ

তিল্কা আ-ইয়া-তুল্লা-হি নাত্লূহা-'আলাইকা বিল্হাক্বি অইন্নাকা লামিনাল্ র্মুসালীন্।

জহুরুল হক

এইসব রসূল - - তাঁদের কাউকে আমরা অপর কারোর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাঁদের মধ্যে কারোর সাথে কথা বলছেন এবং তাঁদের কাউকে তিনি বহুস্তর উন্নত করেছেন। আর আমরা মরিয়মের পুত্র ঈসাকে দিয়েছিলাম স্পষ্ট প্রমাণাবলী, আর আমরা তাঁকে বলীয়ান করি রূহুল ক্কুদুস্ দিয়ে। আর যদি ইচ্ছা করতেন তবে তাঁদের পরবর্তীরা পরস্পর বিবাদ করতো না তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাবলী আসার পরেও, কিন্তু তারা মতবিরোধ করলো, কাজেই তাদের মধ্যে কেউ ঈমান আনলো ও তাদের কেউ অবিশ্বাস পোষণ করলো। কিন্তু যদি ইচ্ছা করতেন তবে তারা পরস্পর লড়াই করতো না, কিন্তু যা ইচ্ছা করেন তাই করে থাকেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেইসব রসূল, তাদের কিছু রসূলকে অন্য কিছু রসূলের উপর আমরা মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন (রসূল)ও আছে, যে আল্লাহর সাথে কথা বলেছে, আবার কাউকেও তিনি মর্যাদার দিক থেকে উপরে উঠিয়েছেন। এছাড়া মরিয়মের পুত্র ঈসাকে আমরা প্রদান করেছি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং তাকে সাহায্য করেছি ‘রুহুল কুদুস’ (জিবরাঈল) এর মাধ্যমে। চাইলে রসূলদের পরের লোকেরা সুস্পষ্ট প্রমাণ সমূহ বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হতোনা। কিন্তু ( জোরপূর্বক মানুষের মত এবং বিশ্বাস পরিবর্তন করেননা, তাই) তারা এখতেলাফ (মতভেদে) - এ লিপ্ত হয়। ফলে তাদের কিছু লোক ঈমান আনে, আর কিছু লোক কুফুরির পথ অবলম্বন করে। চাইলে তারা পারস্পারিক লড়াইতে লিপ্ত হতোনা। কিন্তু তাই করেন, যা তিনি চান।

বাংলা উচ্চারণ

তির্ল্কা রুসুলু ফাদ্দে¦ায়াল্না-বা'দ্বোয়াহুম্ 'আলা-বা'দ্ব্। মিন্হুম্ মান্ কাল্লামাল্লা-হু অরাফা'আ বা'দ্বোয়া-হুম্ দারাজ্বা-ত্ অ আ-তাইনা-'ঈসাব্না র্মাইয়ামাল্ বাইয়্যিনা-তি অআইইয়াদ্না-হু বিরূহিল ্ ক্ব ুদুস্ অলাও শা - আল্লা-হু মাক্ব ্তাতালাল্ লাযীনা মিম্ বা'দিহিম্ মিম্ বা'দি মা- জ্বা - আত্হুমুল্ বাইয়্যিনা-তু অলা-কিনিখ্ তালাফূ ফামিন্হুম্ মান্ আ-মানা অমিন্হুম্ মান্ কার্ফা অলাও শা - আল্লা-হু মাক্ব ্তাতালূ অলা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াফ্'আলু মা-ইয়ুরীদ্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! আমরা তোমাদের যা রিযেক দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো সেই দিন আসবার আগে যে দিন দরদস্তুর করা চলবে না, বা বন্ধুত্ব থাকবে না বা সুপারিশ টিকবে না। আর অবিশ্বাসীরা - - তারাই অন্যায়কারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐ সমস্ত লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো সেই সম্পদ থেকে, যা আমরা তোমাদের দান করেছি, (ব্যয় করো) সেই দিনটি আসার আগেই যেদিন অর্থের কোনো আদান - প্রদান থাকবেনা, বন্ধুতা থাকবেনা এবং থাকবেনা সুপারিশও। মূলত কাফিররাই হলো যালিম।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ য় আন্ফিক্ব ূ মিম্মা-রাযাক্ব ্না-কুম্ মিন্ ক্বাব্লি আইঁ ইয়াতিয়া ইয়াওমুল্লা-বাই'উন্ ফীহি অলা-খুল্লাতুওঁ অলা-শাফা-'আহ্ অল্কা-ফিরূনা হুমুজ জোয়া-লিমূন্।

জহুরুল হক

- - তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, - - চিরজীবন্ত, সদা - বিদ্যমান, তন্দ্রা তাঁকে অভিভূত করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। তাঁরই হচ্ছে যা - কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে এবং যা - কিছু পৃথিবীতে। কে আছে যে তাঁর দরবারে সুপারিশ করতে পারে তার অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন কি আছে তাদের সামনে এবং কি আছে তাদের পেছনে; আর তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা ধারণা করতে পারে না তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর মহাসিংহাসন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে ব্যাপ্ত; এদের উভয়ের হেফাজত তাঁকে ক্লান্ত করে না, আর তিনি সর্বোচ্চে অধিষ্ঠিত, মহামহিম।

আবদুস শহীদ নাসিম

, নাই কোনো তিনি ছাড়া। তিনি চিরঞ্জীব, তিনি অনন্তকাল সর্বসৃষ্টির ধারক ও রক্ষক। ঘুম কিংবা তন্দ্রা তাঁকে স্পর্শ করেনা কখনো। মহাকাশ এবং এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। এমন কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর সম্মুখে শাফায়াত করার সাধ্য রাখে? তিনি জানেন তাদের (মানুষের) সামনে - পেছনে (গোচরে - অগোচরে কিংবা ইহকালে - পরকালে) যা কিছু ঘটে এবং ঘটবে। তারা তিনি যতোটুকু চান তাছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারেনা। তাঁর কুরসি পরিব্যাপ্ত মহাকাশ এবং পৃথিবীতে। এগুলোর হিফাযত (ধারণ ও রক্ষণ) তাঁকে ক্লান্ত করেনা। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বমহান।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুয়াল্ হাইয়্যুল কাইয়্যূ-ম্ লা-তা'খুযুহূসিনাতুওঁ অলা-নাওম্ লাহূ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্ব্ মান্ যাল্লাযী ইয়াশ্ফা'উ 'ইন্দাহূ য় ইল্লা-বিইয্নিহ্ ইয়া'লামু মা-বাইনা আইদী হিম্ অমা-খাল্ফাহুম্ অলা-ইয়ুহীত্ব ূনা বিশাইয়িম্ মিন্ 'ইলমিহী য় ইল্লা-বিমা-শা - আ অসি'আ র্কুসি ইয়্যু হুস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া অলা-ইয়ায়ূদুহূ হিফ্জুহুমা- অহুআল্ 'আলিয়্যুল্ 'আজীম্।

জহুরুল হক

ধর্মে জবরদস্তি নেই, নিঃসন্দেহ সত্যপথ ভ্রান্তপথ থেকে সুস্পষ্ট করা হয়ে গেছে। অতএব যে তাগুতকে অস্বীকার করে এবং ‌তে ঈমান আনে সেই তবে ধরেছে একটি শক্ত হাতল, - - তা কখনো ভাঙবার নয়। আর সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

দীন (ইসলাম) গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা ও বল প্রয়োগ (compulsion) নেই। সঠিক পথকে উজ্জ্বল - পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে। এখন যে কেউ তাগুতকে অস্বীকার করে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে সবচে মজবুত বিশ্বস্ত হাতলটিই আঁকড়ে ধরবে, যা কখনো ভেঙ্গে যাবার নয়। আর তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

লা য় ইকরা-হা ফিদ্দীনি ক্বাত্ তাবাইয়্যানার রুশ্দু মিনাল্ গাইয়্যি ফামাইঁ ইয়ার্ক্ফু বিত্ত্বোয়াগূতি অইয়ুমিম্ বিল্লা-হি ফাক্বাদিস্ তাম্সাকা বিল্ 'র্উওয়াতিল্ উছ্ক্বা-লান্ফিছোয়া-মা লাহা- অল্লা-হু সামী'উন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

তাদের পৃষ্ঠপোষক যারা ঈমান এনেছে, তিনি অন্ধকার থেকে তাদের আলোতে বের করে আনেন। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে তাগুত, তারা আলোক থেকে তাদের বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, তারা তাতে থাকবে দীর্ঘকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে তাদের অলি হলেন । তিনি তাদের বের করে আনেন অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে। আর যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করে, তাগুতরা হলো তাদের অলি। তারা তাদেরকে টেনে নিয়ে আসে আলো থেকে অন্ধকাররাশিতে। মূলত এরাই হবে আসহাবুন নার (আগুনের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু অলিয়্যুল্লাযীনা আ-মানূ ইয়ুখ্রিজ্ব ুহুম্ মিনাজ্ জুলুমা-তি ইলান নূর অল্লাযীনা কাফারূ য় আওলিয়া - উহুমুত্ব ত্বোয়া-গূতু ইয়ুখ্রিজ্ব ূনাহুম্ মিনান্ নূূরি ইলাজ্ জুলুমা-ত্ উলা - য়িকা আছ্হা-বুন না-রি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্।

জহুরুল হক

তুমি কি তার কথা ভেবে দেখো নি যে ইব্রাহীমের সাথে তাঁর প্রভুর সন্বন্ধে ঝগড়া করছিল যেহেতু তাঁকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? স্মরণ করো! ইব্রাহীম বলেছিলেন - - ''আমার প্রভু তিনি যিনি জীবনদান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।’’ সে বলল - - ''আমি জীবন দিয়ে রাখতে পারি এবং মৃত্যু ঘটাতে পারি।’’ ইব্রাহীম বলেছিলেন - - '' কিন্তু সূর্যকে পূর্বদিক থেকে নিয়ে আসেন তুমি তাহলে তাকে পশ্চিমদিক থেকে নিয়ে এস।’’ এইভাবে সে হেরে গেল যে অবিশ্বাস পোষণ করেছিল। আর জুলুমকারী জাতিকে হেদায়ত করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি ঐ ব্যাক্তির বিষয়টি লক্ষ্য করোনি, যে ইবরাহিমের সাথে বিতর্ক করছিল সে (ইবরাহিম) কাকে প্রভু মানে, তা নিয়ে? আর তাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দিয়েছিলেন বলেই সে এ বিতর্কে লিপ্ত হয়। (ইবরাহিম কাকে প্রভু মানে - এ প্রশ্নের জবাবে) ইবরাহিম যখন বলেছিল: ‘আমার প্রভু তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।’ সে (নমরূদ) বললো: (‘আমার রাজ্যে তো) আমিই জীবন (ভিক্ষা) দেই এবং মৃত্যু (দন্ড) দেই।’ ইবরাহিম বললো: ‘(আমার প্রভু) সূর্যকে (ইরাকের) পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি সেটিকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো দেখি।’ একথা শুনে কাফিরটি হতভম্ব হয়ে গেলো। সঠিক পথ দেখান না যালিম লোকদের।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তারা ইলাল্লাযী হা - জ্জ্বা ইব্রা-হীমা ফী রাব্বিহী য় আন্ আ-তা-হুল্লা-হুল্ মুল্ক্ ইয্ ক্বা-লা ইব্রা-হীমু রব্বিয়াল্লাযী ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু ক্বা-লা আনা উহ্য়ী অউমীত্ ক্বা-লা ইব্রা-হীমু ফাইন্নাল্লা-হা ইয়াতী বিশ্শাম্সি মিনাল্ মাশ্রিক্বি ফা”তি বিহা-মিনাল্ মাগরিবি ফাবুহিতাল্লাযী কার্ফা অল্লা-হু লা-ইয়াহ্দিল্ ক্বাওমাজ জোয়া-লিমীন্।

জহুরুল হক

অথবা, তাঁর কথা যিনি যাচ্ছিলেন এক শহরের পাশ দিয়ে, আর তা ভেঙ্গে পড়েছিল তার ছাদ সহ? তিনি বলেছিলেন - - ''কেমন ক’রে একে পুনরুজ্জীবিত করবেন তার মৃত্যুর পরে?’’ এরপর তাঁকে শতবৎসরকাল মৃতবৎ করে রাখলেন, তারপর তিনি তাঁকে পুনরুত্থিত করলেন। তিনি বললেন - - ''কত সময় তুমি কাটিয়েছ?’’ তিনি বললেন - - ''আমি কাটিয়েছি একটি দিন, বা এক দিনের কিছু অংশ।’’ তিনি বললেন - - ''না, তুমি কাটিয়েছ একশত বছর, কাজেই তোমার খাদ্য ও তোমার পানীয়ের দিকে তাকাও, বয়স উহাকে বয়স্ক করে নি, আর তোমার গাধার দিকে তাকাও, আর যেন তোমাকে মানবগোষ্ঠীর জন্য নিদর্শন করতে পারি, আর এই হাড়গুলোর দিকে তাকাও, কেমন ক’রে আমরা সে - সব গুছিয়েছি ও সেগুলোকে মাংস দিয়ে ঢেকেছি।’’ আর যখন তাঁর কাছে পরিস্কার হলো তিনি বললেন - - ''আমি এখন জানি যে সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা ঐ ব্যাক্তির বিষয়টি কি তুমি লক্ষ্য করোনি, যে অতিক্রম করছিল এমন একটি শহর যা ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়ে পড়েছিল? (শহরটি দেখে) সে বললো: ‘হায়, এমন ধ্বংসের পর কীভাবে এ (শহর) কে জীবিত করবেন?’ সুতরাং তার মৃত্যু ঘটান এবং একশ বছর অতিবাহিত হবার পর তাকে পুনর্জীবিত করেন। তিনি () তাকে জিজ্ঞেস করেন: ‘বলতো কতো বছর (মৃত) পড়েছিলে?’ সে বললো: ‘একদিন বা একদিনের কিছু অংশ’ । তিনি বললেন: ‘না, বরং তুমি (এখানে মৃত) পড়েছিলে একশ বছর! তাকিয়ে দেখো, তোমার খাদ্য ও পানীয়ের দিকে, সেগুলো বিকৃত হয়নি আর তোমার গাধাটির প্রতিও তাকিয়ে দেখো। আমি এটা এজন্যে করেছি যে, আমি তোমাকে মানুষের পুনর্জীবন সম্পর্কে একটি নিদর্শন বানাতে চাই। আর হাড়গুলোর প্রতি তাকিয়ে দেখো, কিভাবে আমরা সেগুলোকে (পুন:) সংযোজিত করি এবং মাংস দিয়ে ঢেকে দেই?’ তারপর তার কাছে যখন সবকিছু স্পষ্ট হলো, তখন সে বলে উঠলো: ‘আমি জানি, অবশ্যি সবকিছু করতেই সক্ষম সর্বশক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

আওকাল্লাযী র্মারা 'আলা-র্ক্বাইয়াতিওঁ অহিয়া খা-ওয়িইয়াতুন্ 'আলা- 'উরূশিহা-ক্বা-লা আন্না-ইয়ুহ্য়ী হা-যিহিল্লা-হু বা'দা মাওতিহা- ফাআমা-তাহুল্লা-হু মিআতা 'আ-মিন্ ছুম্মা বা'আছাহ্ ক্বা-লা কাম্ লাবিছ্ত্ ক্বা-লা লাবিছ্তু ইয়াওমান্ আও বা'দ্বোয়া ইয়াওম্ ক্বা-লা বাল্ লাবিছ্তা মিআতা 'আ-মিন্ ফার্ন্জু ইলা-ত্বোয়া'আ-মিকা অশারা-বিকা লাম্ ইয়াতাসান্নাহ্ ওয়ার্ন্জু ইলা-হিমা-রিকা অ লিনাজ্ব্ ্'আলাকা আ-ইয়াতাল লিন্না-সি ওয়ার্ন্জু ইলাল্ 'ইজোয়া-মি কাইফা নুন্শিযুহা-ছুম্মা নাক্সূহা-লাহ্মা ফালাম্মা-তাবাইয়্যানা লাহূ ক্বা-লা আ'লামু 'আন্নাল্লা-হা 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! ইব্রাহীন বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে দেখাও কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করো।’’ তিনি বললেন - - ''তুমি কি বিশ্বাস করো না?’’ তিনি বললেন,''না, তবে যাতে আমার হৃদয় শান্ত হয়।’’ তিনি বললেন - - ''তা হলে পাখীদের চারটি তুমি নাও ও তাদের তোমার প্রতি অনুগত করো, তারপর প্রতিটি পাহাড়ে তাদের এক একটি অংশ স্থাপন করো, তারপর তাদের ডাক দাও, তারা ছুটে আসবে তোমার কাছে। আর জেনে রেখো, নিঃসন্দেহ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর স্মরণ করো, ইবরাহিম যখন বলেছিল: ‘আমার প্রভু! তুমি কিভাবে মৃতকে জীবিত করো, তা আমাকে দেখাও।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি কি বিশ্বাস করোনা?’ সে বললো: ‘জী হ্যাঁ (অবশ্যি বিশ্বাস করি), তবে (তা বাস্তবে দেখতে চাই) আমার মনের প্রশান্তি (ঈমানের মজবুতি) অর্জনের জন্যে।’ তিনি বললেন: ‘তাহলে চারটি পাখি সংগ্রহ করে নাও এবং সেগুলোকে (পোষ মানিয়ে) তোমার প্রতি অনুরক্ত বানিয়ে নাও। (তারপর সেগুলোকে টুকরা টুকরা করে কেটে) একেকটি অংশ একেক পাহাড়ে রেখে আসো। এবার (পোষার সময় যে নামে ওদের ডাকতে সে নামে) তাদের ডাক দাও, দেখবে, তারা দ্রুত তোমার কাছে (উড়ে) আসবে। আর জেনে রাখো, অবশ্যি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বা-লা ইব্রা-হীমু রব্বি আরিনী কাইফা তুহ্য়িল মাওতা ক্বা-লা আওয়ালাম্ তুমিন্ ক্বা-লা বালা-অলা-কিল্ লিইয়াত্ব ্মায়িন্না ক্বাল্বী ক্বা-লা ফাখুয্ আরবা'আতাম্ মিনাত্ব ত্বোয়াইরি ফাছুরহুন্না ইলাইকা ছুম্মাজ্ব্ ্ 'আল্ 'আলা-কুল্লি জ্বাবালিম্ মিন্হুন্না জ্ব ুয্য়ান্ ছুম্মাদ্'উহুন্না ইয়া'তীনাকা সা'ইয়া- অ'লাম্ আন্নাল্লা-হা' আযীযুন্ হাকীম্।

জহুরুল হক

যারা তাদের ধনসম্পত্তি ‌র পথে খরচ করে তাদের উপমা হচ্ছে একটি শস্যবীজের উপমার ন্যায়, তা উৎপাদন করে সাতটি শিষ, প্রতিটি শিষে থাকে একশত শস্য। আর বহুগুণিত করেন যার জন্য ইচ্ছা করেন, কারণ ‌, মহাদানশীল সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা হলো এরকম, যেমন, একটি (শষ্য) বীজ (বপন করা হলো), সেটি বের করলো সাতটি শীষ, আর প্রতিটা শীষে উৎপন্ন হলো শত শস্যদানা। যাকে চান এমনি করে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। তাঁর সকল সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণে একাই যথেষ্ট, সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

মাছালুল্লাযীনা ইয়ুন্ফিক্ব ূনা আম্ওয়া-লাহুম্ ফী সাবীলিল্লা-হি কামাছালি হাব্বাতিন্ আম্বাতাত্ সাব্'আ সানা-বিলা ফী কুল্লি সুম্বুলাতিম্ মিয়াতু হাব্বাহ্ অল্লা-হু ইয়ুদ্বোয়া-'ইফু লিমাইঁ ইয়াশা - উ অল্লা-হু ওয়া-সি'উন 'আলীম্।

জহুরুল হক

যারা তাদের ধনসম্পত্তি ‌র পথে খরচ ক’রে, তারপর যা তারা খরচ করেছে তারা তার পশ্চাদ্ধাবন করে না কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করতে বা আঘাত হানতে, তাদের জন্য পুরস্কার আছে তাদের প্রভুর দরবারে, কাজেই তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা নিজেরা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে তাদের অর্থ - সম্পদ ব্যয় করে, তারপর সে ব্যয়ের (অনুগ্রহের) কথা বলে বেড়ায়না এবং এর দ্বারা কারো মনেও কষ্ট দেয়না, তাদের পুরষ্কার (সংরক্ষিত) রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে। তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা এবং দুঃখ - বেদনাও থাকবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়ুন্ফিক্ব ূনা আম্ওয়া-লাহুম্ ফী সাবীলিল্লা-হি ছুম্মা লা-ইয়ুত্বি'ঊনা মায় আন্ফাক্ব ূমান্নাওঁ অলায় আযাল্লাহুম্ আজ্ব ্রুহুম 'ইন্দা রব্বিহিম্ অলা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

জহুরুল হক

সদয় আলাপ এবং ক্ষমা করা বহু ভালো সেই দানের চেয়ে যাকে অনুসরণ করা হয় উৎপীড়ন দিয়ে। আর স্বয়ং - সমৃদ্ধ, ধৈর্যশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি সুন্দর কথা এবং ক্ষমা, দান করে দুঃখ দেয়ার চাইতে উত্তম। সম্পদশালী এবং সহনশীল।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বাওলুম্ মা'রূফুওঁ অ মাগ্ফিরাতুন্ খাইরুঁম্ মিন্ ছদাক্বাতিইঁ ইয়াত্বা'উহায় আযান্ অল্লা-হু গানিয়্যুন্ হালীম্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের দানখয়রাতকে ব্যর্থ করে দিয়ো না কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করে ও আঘাত হেনে, তার মতো যে তার ধনসম্পত্তি খরচ করে লোকদের দেখানোর জন্যে এবং যে ঈমান আনে না ‌র প্রতি ও আখেরাতের দিনে। কাজেই তার উদাহরণ হচ্ছে মসৃণ পাথরের উপমার মতো, যার উপরে আছে ধুলোমাটি, তখন তার উপরে নামে ঝড়বৃষ্টি, গতিকে তাকে ফেলে রাখে খালি করে! তারা যা অর্জন করেছে তার কোনো - কিছুর উপরেও তাদের কর্তৃত্ব থকে না। আর অবিশ্বাসী লোকদের হেদায়ত করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমানওয়ালা লোকেরা! দান করার পর খোটা দিয়ে এবং দুঃখ দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির মতো নষ্ট নিষ্ফল করোনা, যে দান করে লোক দেখানোর জন্যে এবং আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখেনা। এ ধরণের দানকারীর উপমা হলো ‘সাফওয়ান’ (মসৃন পাথর - smooth rock), যার উপর সামান্য মাটির আস্তর জমে, তারপর প্রবল বৃষ্টিপাত পাথরটিকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে রেখে যায়। এধরণের লোকেরা (দান খয়রাত করে) যে নেকি উপার্জন করে তার কিছুই ধরে রাখতে পারেনা। আর অকৃতজ্ঞ লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তুব্ত্বিলূ ছদাক্বা-তিকুম্ বিল্মান্নি অল্আযা- কাল্লাযী ইয়ুন্ফিক্ব ু মা-লাহূ রিয়া - আন না-সি অলা-ইয়ু”মিনু বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-খির ফামাছালুহূ কামাছালি ছোয়াফ্ওয়া-নিন্ 'আলাইহি তুরা-বুন্ ফাআছোয়া-বাহূ ওয়া-বিলুন্ ফাতারাকাহূ ছোয়াল্দা- লা-ইয়াক্ব ্দিরূনা 'আলা- শাইয়িম্ মিম্মা-কাসাবূ অল্লা-হু লা-ইয়াহ্দিল্ ক্বাওমাল্ কা-ফিরীন্।

জহুরুল হক

আর যারা তাদের ধনদৌলত খরচ করে ‌র সন্তষ্টি কামনা ক’রে এবং তাদের আ‌ত্মার দৃঢ়প্রত্যয় জন্মাবার জন্যে, তাদের উদাহরণ হচ্ছে টিলার উপরের বাগানের উপমার মতো, যার উপরে নামে বৃষ্টিধারা, তাতে তার ফল দ্বিগুণ হয়ে আসে, আর যদি তাতে বৃষ্টিধারা নাও নামে তবে শিশিরপাত। আর তারা যা করে তার দর্শক।

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে তাঁর পুরস্কার লাভের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাদের অর্থ - সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা হলো এ রকম, যেমন কোনো উঁচু ভূমিতে অবস্থিত একটি বাগান! তাতে বৃষ্টি হলো মূষলধারে এবং তার ফলে তার ফলন হলো দ্বিগুণ। আর মূষলধারে বৃষ্টিপাত না হলেও হালকা বৃষ্টিপাতই (তার ভালো ফলনের জন্যে) যথেষ্ট। তোমাদের কর্মের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

অমাছালুল লাযীনা ইয়ুন্ফিক্ব ূ না আম্ওয়া-লাহুমুব্ তিগা - আ র্মাদ্বোয়া-তিল্লা-হি অতাছ্বীতাম মিন্ আন্ফুসিহিম্ কামাছালি জ্বান্নাতিম্ বিরাব্ওয়াতিন্ আছোয়া-বাহা-ওয়া-বিলুন্ ফাআ-তাত্ উকুলাহা-দ্বি'ফাইনি ফাইল্ লাম্ ইয়ুছিব্হা-ওয়া-বিলুন্ ফাত্বোয়াল্ অল্লা-হু বিমা-তা'মালূনা বার্ছী।

জহুরুল হক

তোমাদের মধ্যে কি কেউ আশা করে যে তার খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান হোক, যার নিচে দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, অথচ তার সন্তানরা দুর্বল, এমতাবস্থায় তাকে পাকড়ালো ঘুর্ণিঝড়ে, যাতে রয়েছে আগুনের হলকা, ফলে তা পুড়ে গেল! এইভাবে তোমাদের জন্য তাঁর বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে থাকেন যেন তোমরা চিন্তা করতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কেউ কি এমনটি পছন্দ করবে যে তার থাকবে একটি সুফলা বাগান, সেটি পরিপূর্ণ থাকবে খেজুর আর আংগুরে, তাতে প্রবাহিত থাকবে অনেকগুলো ঝর্ণাধারা, থাকবে সব রকমের ফল ফ্রুট। তারপর এমন এক সময়ে অগ্নিবায়ু প্রবাহিত হয়ে বাগানটি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, যখন সে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত আর তার সন্তানগুলো দুর্বল - অপ্রাপ্ত বয়স্ক? এভাবেই তোমাদের জন্যে তাঁর আয়াত সমূহ বর্ণনা করেন, যাতে করে তোমরা চিন্তা ফিকির করে উপলব্ধি করতে পারো।

বাংলা উচ্চারণ

আইয়াঅদ্দু আহাদুকুম্ আন্ তাকূনা লাহূ জ্বান্নাতুম্ মিন্ নাখীলিওঁ অ আ'না-বিন্ তাজ্ব ্রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা- রু লাহূ ফীহা-মিন্ কুল্লিছ্ ছামারা-তি অআছোয়া-বাহুল্ কিবারু অলাহূ র্যুরিইয়্যাতুন্ দ্ব ু'আফা - উ ফাআছোয়া-বাহায় ই'ছোয়া-রুন্ ফীহি না-রুন্ ফাহ্তারাক্বাত্ কাযা-লিকা ইয়ুবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুমুল্ আ-ইয়া-তি লা'আল্লাকুম্ তা তাফাক্কারূন্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! খরচ করো ভালো বিষয়বস্তু যা তোমরা উপার্জন কর, আর যা আমরা তোমাদের জন্য মাটি থেকে উৎপাদন করে থাকি তা থেকে, আর যা নিকৃষ্ট তা থেকে খরচ করতে সংকল্প করো না যখন তোমরা নিজেরা তার গ্রহণকারী হও না, এর প্রতি উপেক্ষা করা ছাড়া। আর জেনে রেখো, নিঃসন্দেহ স্বয়ংসমৃদ্ধ, পরম প্রশংসিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমানওয়ালা লোকেরা ! তোমরা ভালোটা ব্যয় করো (যাকাত দাও) তা থেকে, যা তোমরা উপার্জন করো এবং তা থেকেও যা আমরা ভূমি থেকে তোমাদের উৎপন্ন করে দেই। তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট অংশ ব্যয় করার সংকল্প করোনা। অথচ (নিকৃষ্ট অংশ) তোমাদের দেয়া হলেও তোমরা তা গ্রহণ করবেনা, তবে (নেয়ার সময়) তোমরা চোখ বন্ধ করে থাকলে ভিন্ন কথা। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই প্রাচুর্যময় সপ্রশংসিত।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূয় আন্ফিক্বূ ূ মিন্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি মা-কাসাব্তুম্ অমিম্মায় আখ্রাজ্ব্ ্না-লাকুম্ মিনাল্ র্আদ্বি অলা-তাইয়াম্মামুল্ খাবীছা মিন্হু তুন্ফিক্ব ূনা অলাস্তুম্ বিআ-খিযীহি ইল্লায় আন্ তুগ্মিদ্ব ূ ফীহ্ অ'লামূ য় আন্নাল্লা-হা গানিইয়্যুন্ হামীদ্।

জহুরুল হক

শয়তান তোমাদের দরিদ্রতার ধমক দেয়, আর তোমাদের তাড়া করে গর্হিত কাজে, অথচ তোমাদের প্রতি‌শ্রুতি দেন তাঁর কাছ থেকে পরিত্রাণের এবং প্রাচুর্যের। আর ‌, মহাবদান্য, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

শয়তান তোমাদের অভাব ও দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং ফাহেশা কাজ করার নির্দেশ দেয়। অথচ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেন তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের। সমস্ত সৃষ্টির অভাব পূরণকারী, সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

আশ্ শাইত্বোয়া-নু ইয়া'ইদুকুমুল্ ফাক্ব ্রা অইয়া”মুরুকুম্ বিল্ফাহশায় 'ই অল্লা-হু ইয়া'ইদুকুম্ মাগ্ফিরাতাম্ মিন্হু অফাদ্ব্লা- অল্লা-হু ওয়া-সি'উন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

তিনি জ্ঞানদান করেন যাকে ইছে করেন, আর যাকে জ্ঞান দেওয়া হয় তাকে অবশ্যই অপার কল্যাণ দেওয়া হয়েছে। আর বোধশক্তির অধিকারী ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি হিকমা (জ্ঞান ও প্রজ্ঞা) দান করেন যাকে ইচ্ছা; আর যাকে হিকমা প্রদান করা হয়, তাকে দান করা হয় অবারিত কল্যাণ। তবে বুঝ - বুদ্ধিওয়ালা লোকেরা ছাড়া (অন্যরা) উপদেশ গ্রহণ করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুতিল্ হিক্মাতা মাইঁ ইয়াশা - উ অমাইঁ ইয়ু”তাল্ হিক্মাতা ফাক্বাদ্ ঊতিয়া খাইরান্ কাছীরা- অমা-ইয়ায্যাক্কারু ইল্লায়ঊলুল্ আল্বা-ব্।

জহুরুল হক

আর দানের জন্য যা - কিছু তোমরা খরচ কর, অথবা ব্রতের মধ্যে যাই তোমরা সংকল্প কর, নিঃসন্দেহ তা জানেন। আর অন্যায়কারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যা কিছু ব্যয় করো এবং যা কিছু মানত করো (কী উদ্দেশ্যে করো), অবশ্যি তা জানেন। আর (জেনে রাখো) যালিমদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অমায় আন্ফাক্ব ্তুম্ মিন্ নাফাক্বাতিন্ আও নার্যাতুম্ মিন্ নায্রিন্ ফাইন্নাল্লা-হা ইয়া'লামুহ্ অমা-লিজজোয়া-লিমীনা মিন্ আন্ছোয়ার্-।

জহুরুল হক

তোমরা যদি দানখয়রাত প্রকাশ কর তবে তা কতো ভালো! আর যদি তা গোপন রেখে দরিদ্রদের দান কর তা হলে তোমাদের জন্য তা আরও মঙ্গলময়! আর তোমাদের গর্হিত ক্রিয়াকর্ম হতে তোমাদের এতে প্রায়শ্চিত হবে। আর তোমরা যা করছো তার ওয়াকিফহাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা ভালো। কিন্তু যদি দান করো গোপনে আর তা যদি দাও অভাবী লোকদের, তবে তা তোমাদের নিজেদের জন্যেই কল্যাণকর। আর তিনি (দানের কারণে) তোমাদের কিছু পাপ মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো, তিনি তার খবর রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্ তুব্দুছ ছদাক্বা-তি ফানি'ইম্মা-হিয়া অইন্ তুখ্ফূহা-অতু”তূ হাল্ ফুক্বারা - আ ফাহুওয়া খাইরুল্লাকুম্ অইয়ুকাফ্ফিরু 'আনকুম্ মিন্ সাইয়্যিআ-তিকুম্ অল্লা-হু বিমা- তা'মালূনা খার্বী।

জহুরুল হক

তাদের হেদায়ত করার দায়িত্ব তোমার উপরে নয়, কিন্তু হেদায়ত করেন যাদের তিনি ইচ্ছা করেন। আর ভালো জিনিসের যা - কিছু তোমরা খরচ কর তা তোমাদের নিজেদের জন্য, আর তোমরা ‌র সন্তষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছাড়া খরচ করো না। আর ভালো যা - কিছু তোমরা খরচ কর তা তোমাদের পুরোপুরি প্রদান করা হবে, আর তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসার (ঈমান গ্রহণ করানোর এবং দীন - ইসলামে প্রবেশ করানোর) দায়িত্ব তোমার নয়; বরং যাকে চান, সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তোমরা যে অর্থসম্পদ দান করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্যেই কল্যাণকর। আর তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দান করোনা। তোমরা (আল্লাহর সন্তোষ কামনায়) যে অর্থ - সম্পদই ব্যয় করোনা কেন, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

লাইসা 'আলাইকা হুদা-হুম্ অলা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াহ্দী মাইঁ ইয়াশা - উ অমা-তুন্ফিক্ব ূ মিন্ খাইরিন্ ফালিআন্ফুসিকুম্ অমা-তুন্ফিক্ব ূনা ইল্লাব্তিগা - আ অজ্ব ্হিল্লা-হ্ অমা-তুন্ফিক্ব ূ মিন্ খাইরিইঁ ইয়ুঅফ্ফা ইলাইকুম্ অআন্তুম্ লা-তুজ্লামূন্।

জহুরুল হক

দরিদ্রদের জন্য যারা ‌র পথে আটকা পড়ে রয়েছে, - - তারা পৃথিবীতে চলাফেরা করতে অপারগ। অজানা লোকে তাদের ধনী বলে ভাবে তাদের বিরত থাকার দরুন। তুমি তাদের চিনতে পারবে তাদের চেহারাতে। তারা লোকের কাছে ধরনা দিয়ে ভিক্ষা করে না। আর ভালো জিনিসের যা - কিছু তোমরা খরচ করো সে - সন্বন্ধে নিশ্চয় সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেইসব নি:স্ব - অভাবী লোকেরা তোমাদের দান পাওয়ার (বিশেষভাবে) অধিকারী, যারা আল্লাহর পথে নিজেদের পুরোপুরি ব্যাপৃত করে রেখেছে, ঘুরাঘুরি করে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ পায়না। তাদের আত্মসম্মানবোধ দেখে অজ্ঞ লোকেরা মনে করে তারা সচ্ছল। তাদের চেহারা দেখলেই তুমি তাদের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবে। তারা কিছুতেই মানুষের কাছে হাত পাতেনা। মানব কল্যাণে তোমরা যা কিছুই ব্যয় করবে, তা অবশ্যি আল্লাহর এলেমে থাকবে।

বাংলা উচ্চারণ

লিল্ ফুক্বারা-য়িল্লাযীনা উহ্ছিরূ ফী সাবীলিল্লা-হি লা-ইয়াস্তাত্বী'ঊনা দ্বোর্য়াবান্ ফিল্ র্আদ্বি ইয়াহ্সাবুহুমুল্ জ্বা-হিলু আগ্নিয়া - আ মিনাত তা'আফ্ফুফি তা'রিফুহুম্ বিসীমা-হুম্ লা-ইয়াস্আলূনান্না-সা ইল্হা-ফা- অমা-তুন্ফিক্ব ূমিন্ খাইরিন ফাইন্নাল্লা-হা বিহী 'আলীম্।

জহুরুল হক

যারা তাদের ধনদৌলত দিবারাত্রি গোপনে ও প্রকাশ্যভাবে খরচ করে থাকে, তাদের জন্যে নিজ নিজ পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রভুর দরবারে, আর তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা নিজেরা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ব্যয় করে নিজেদের মাল সম্পদ (আল্লাহর পথে) রাত্রে এবং দিনে, গোপনে এবং প্রকাশ্যে, তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে। তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুঃখ - বেদনাও থাকবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়ুন্ফিক্ব ূনা আম্ওয়া-লাহুম্ বিল্লাইলি অন্নাহা-রি র্সিরাওঁ অ'আলা-নিয়াতান্ ফালাহুম্ আজ্ব ্রুহুম্ 'ইন্দা রব্বিহিম অলা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

জহুরুল হক

যারা সুদ খায় তারা দাঁড়াতে পারে না তার মতো দাঁড়ানো ছাড়া যাকে শয়তান তার স্পর্শের দ্বারা পাতিত করেছে। এমন হবে কেননা তারা বলে - - ''ব্যবসা - বাণিজ্য তো সুদী - কারবারের মতোই।’’ কিন্তু বৈধ করেছেন ব্যবসা - বাণিজ্য, অথচ নিষিদ্ধ করেছেন সুদখুরি। অতএব যার কাছে তারা প্রভুর তরফ থেকে এই নির্দেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে তার জন্যে যা গত হয়ে গেছে, আর তার ব্যাপার রইল ‌র কাছে। আর যে ফিরে যায় তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, এতে তারা থাকবে দীর্ঘকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা রিবা (সুদ usury) খায়, (কিয়ামতের দিন) তারা দাঁড়াতে পারবেনা, তবে দাঁড়াবে ঐ ব্যক্তির মতো যে শয়তানের থাবায় পাগলামিতে উন্মত্ত। তাদের অবস্থা এরকম হবার কারণ, তারা বলে: ‘ব্যবসাও তো রিবার মতোই।’ অথচ ব্যবসাকে করেছেন হালাল, আর রিবাকে করেছেন হারাম। যার কাছে তার প্রভুর (সুদ থেকে বিরত হবার) উপদেশ পৌঁছেছে এবং সে (সুদ থেকে) বিরত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সে অতীতে যা খেয়েছে, তাতো খেয়েছেই। তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আল্লাহর। কিন্তু যারা (সুদের) পুনরাবৃত্তি করবে, তারা হবে ‘আসহাবুন নার’ (আগুনের অধিবাসী), সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়া'কুলূর্না রিবা-লা ইয়াক্ব ূমূনা ইল্লা-কামা-ইয়াক্ব ূমুল্ লাযী ইয়াতাখাব্বাত্ব ুহুশ্ শাইত্বোয়া-নু মিনাল্ মাস্ যা-লিকা বিআন্নাহুম্ ক্বা-লূ য় ইন্নামাল্ বাই'উ মির্ছ্লু রিবা-। অআহাল্লাল্লা-হুল্ বাই'আ অর্হারার্মা রিবা- ফামান্ জ্বা - আহূ মাও'ই জোয়াতুম্ মির রব্বিহী ফান্তাহা-ফালাহূ মা-সালাফ্ অআম্রুহূ য় ইলাল্লা-হ্ অমান্্ 'আ-দা ফাউলা - য়িকা আছ্হা-বুন না-রি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।

জহুরুল হক

সুদখুরিকে নিষ্ফল করেছেন, এবং দান - খয়রাতকে অগ্রগামী করেছেন। আর সকল অবিশ্বাসী পাপীকে ভালোবাসেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুদকে ধ্বংস করেন এবং বৃদ্ধি ও বিকাশ করেন সাদাকা (যাকাত ও দান) কে। পছন্দ করেননা কোনো অকৃতজ্ঞ দুর্নীতিবাজ পাপিষ্ঠকে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াম্হাক্ব ুল্লা-হুর রিবা-অইর্য়ুবিছ্ ছাদাক্বা-তি অল্লা-হু লা-ইয়ুহিব্বু কুল্লা কাফ্ফা-রিন্ আছীম্।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করে, আর কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাদের জন্যে নিজ নিজ পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রভুর দরবারে, আর তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, এবং তারা নিজেরা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে। তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুঃখ বেদনাও থাকবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি অআক্বা-মুছ্ ছলা-তা অআ-তুয্ যাকা-তা লাহুম্ আজ্ব ্রুহুম্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ অলা- খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম ইয়াহ্যানূন্।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! ‌কে ভয় - শ্রদ্ধা করো, আর সুদের বাবদ বকেয়া যা আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমানওয়ালা লোকেরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং মানুষের কাছে তোমাদের যে সুদ পাওনা (বাকি) রয়ে গেছে, তা পরিত্যাগ করো (give up), যদি তোমরা (সত্যিকার) হয়ে থাকো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাক্ব ুল্লা-হা অযারূ মা-বাক্বিয়া মির্না রিবায় ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তোমরা না করো তবে ও তাঁর রসূলের তরফ থেকে সংগ্রামের ঘোষণা জেনে রেখো। আর যদি তোমরা ফেরো তবে তোমাদের জন্য রইল তোমাদের ধনসম্পত্তির আসলভাগ। অত্যাচার করো না এবং অত্যাচারিতও হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি তা (পরিত্যাগ) না করো, তাহলে এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো। আর যদি অনুতপ্ত হয়ে (সুদ) পরিত্যাগ করো, তবে আসলটা (মূলধন) ফেরত নেয়া তোমাদের জন্যে বৈধ। তোমরা যুলুম করোনা এবং যুলুমের শিকারও হয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইল্লাম্ তাফ্আলূ ফাযানূ বির্হাবিম্ মিনাল্লা-হি অরাসূলিহী অইন্ তুব্তুম্ ফালাকুম্ রুয়ূসু আম্ওয়া-লিকুম্ লা-তাজ্লিমূনা অলা-তুজ্লামূন্।

জহুরুল হক

আর যদি সে অসচ্ছল অবস্থায় থাকে তবে মূলতবি রাখো যতক্ষণ না সচ্ছলতা আসে। আর যদি দান করে দাও তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম, - - যদি তোমরা জানতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঋণগ্রহীতা (debtor) যদি অভাবে (ঋণ ফেরত দেয়ার অবস্থায় না) থাকে, তবে সচ্ছলতা লাভ করা পর্যন্ত তাকে অবকাশ (সময়) দাও। কিন্তু অভাবী ঋণ গ্রহীতাকে যদি (ঋণের অর্থ ফেরত না নিয়ে) দান করে দাও, তবে সেটা তোমাদের জন্যেই কল্যাণকর, প্রকৃত ব্যাপার যদি তোমরা জানতে!

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ কা-না যূ'উস্রাতিন্ ফানাজিরাতুন্ ইলা-মাইসারাহ্ অআন্ তাছোয়াদ্দাক্ব ূ খাইরুল্লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।

জহুরুল হক

আর হুশিয়াঁর হও সেই দিন সন্বন্ধে যেদিন তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে ‌র তরফে, তখন প্রত্যেক লোককে পুরোপুরি প্রতিদান দেয়া হবে যা সে অর্জন করেছে, আর তাদের অন্যায় করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সেই দিনটিকে ভয় করো (সেই দিনটির ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করো), যেদিন তোমাদের আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে এবং প্রত্যেককেই তার উপার্জনের (কৃতকর্মের) প্রতিদান পুরোপুরি প্রদান করা হবে এবং তাদের প্রতি করা হবেনা কোনো প্রকার অবিচার!

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাক্ব ূ ইয়াওমান্ র্তুজ্বা'ঊনা ফীহি ইলাল্লা-হি ছুম্মা তুওয়াফ্ফা-কুল্লু নাফ্সিম্ মা-কাসাবাত্ অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন কোনো লেনদেন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরস্পরের মধ্যে সম্পাদিত কর তখন তা লিখে রাখো, এবং লেখকজন যেন তোমাদের মধ্যে লিখে রাখুক ন্যাসঙ্গতভাবে, আর লেখক যেন লিখতে অস্বীকার না করে, কেননা তাকে শিখিয়েছেন, কাজেই সে লিখুক। আর যার উপরে দেনার দায় সে বলে যাবে, আর সে তার প্রভু ‌কে যেন ভয় - ভক্তি করে, এবং তা’ থেকে কোনো কিছু যেন কম না করে। কিন্তু যার উপরে দেনার দায় সে যদি অল্পবুদ্ধি বা জরাগ্রস্ত হয়, অথবা তা বলে যেতে অপারগ হয় তবে তার অভিভাবক বলে যাক ন্যায়সঙ্গতভাবে। আর তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে দুইজন সাক্ষীকে সাক্ষী মনোনীত করো। কিন্তু যদি দুইজন পুরুষকে পাওয়া না যায় তবে একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলাকে - - তাদের মধ্যে থেকে যাদের তোমরা সাক্ষী মনোনীত কর, যাতে তাদের দুজনের একজন যদি ভুল করে তবে তাদের অন্য একজন মনে করিয়ে দেবে। আর সাক্ষীরা যেন অস্বীকার না করে যখন তাদের ডাকা হয়। আর এটা লিখে নিতে অমনোযোগী হয়ো না - - ছোট হোক বা বড় হোক - - তার মেয়াদ সমেত। এ ‌র কাছে বেশী ন্যায়সঙ্গত ও সাক্ষ্যের জন্য বেশী নির্ভরযোগ্য, এবং তোমরা যাতে সন্দেহ না করো সেজন্যেও এ সব চাইতে ভালো, তবে হাতের কাছের পণ্যসামগ্রী হলে তোমাদের মধ্যে তার বিনিময়ের ক্ষেত্র ব্যতীত, তখন তোমাদের অপরাধ হবে না যদি তোমরা তা লেখাপড়া না করো। আর সাক্ষী রাখো যখন তোমরা একে অন্যের কাছে বিক্রি করো। আর লেখকজন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আর সাক্ষীও যেন না হয়। কিন্তু যদি তোমরা কর তবে তা নিশ্চয়ই তোমাদের পক্ষে দুস্কার্য হবে। আর ‌কে ভয় - ভক্তি করো, কারণ তোমাদের শিখিয়েছেন। আর সব - কিছু সন্বন্দে সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা ! তোমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে পরস্পরের মধ্যে ঋণ লেনদেন (চুক্তি) করবে, তা লিখিত করবে। তোমাদের কোনো লেখক যেনো তোমাদের মাঝে ন্যায়সংগত ভাবে তা লিখে দেয়। কোনো লেখক যেনো তা লিখতে অস্বীকার না করে, যেমন তাকে (লিখতে) শিখিয়েছেন। সুতরাং সে যেনো লিখে দেয়। লেখার বিষয়বস্তু বলে দেবে ঋণের দায়িত্ব বহনকারী (ঋণগ্রহীতা)। সে যেনো তার প্রভু আল্লাহকে ভয় করে এবং স্থিরকৃত কোনো কিছুই যেনো কমবেশি (কারচুপি) না করে। তবে ঋণ গ্রহীতা যদি নির্বোধ কিংবা দুর্বল হয়ে থাকে এবং লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়ার যোগ্যতা না রাখে, তবে যেনো তার অভিভাবক ন্যায়সংগতভাবে বিষয়বস্তু বলে দেয়। আর (এই লেনদেন চুক্তিতে) তোমাদের মধ্য থেকে দু'জন পুরুষকে সাক্ষী রাখো। দুইজন পুরুষ পাওয়া না গেলে (সাক্ষী রাখো) একজন পুরুষ আর দুইজন নারীকে - যাতে (নারীদের) একজন ভুলে গেলে আরেকজন স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। সাক্ষী রাখবে এমন লোকদের, যাদের সাক্ষ্য তোমাদের (উভয় পক্ষের) নিকট গ্রহণযোগ্য। সাক্ষীদের যখন (সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে) ডাকা হবে, তখন তারা যেনো (সাক্ষ্য দিতে) অস্বীকার না করে। এই ঋণ ছোট বা বড় (পরিমাণের) হোক, তোমরা মেয়াদসহ তার (চুক্তিপত্র) লিখে রাখতে ক্লান্ত - বিরক্ত হয়োনা। আল্লাহর কাছে (ধার এবং বাকি ক্রয়বিক্রয় ও ব্যবসা - বাণিজ্যের) এটাই সবচে ন্যায়সংগত পদ্ধতি, প্রমাণের দিক থেকেও এ পদ্ধতি সবচেয়ে নিখাদ, আর (পরস্পরের ব্যাপারে) সন্দেহ - সংশয় উদ্রেক না হবার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে সহায়ক। তবে তোমরা পরস্পরের মধ্যে নগদ যে বেচাকেনা বা ব্যবসা করো, তা লিখে না রাখলে তোমাদের পাপ হবেনা। তোমাদের কেনা বেচার (বাণিজ্যিক চুক্তির) ক্ষেত্রে সাক্ষী রাখো, আর চুক্তি (বা দলিল) লেখক এবং সাক্ষীকে যেনো কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ভোগ করতে না হয়। যদি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করো তবে এটা হবে তোমাদের জন্যে সীমালংঘন - পাপ। আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রাখো, তিনি তোমাদের (কর্মপদ্ধতি) শিক্ষা দিচ্ছেন। আর সকল বিষয়ে জ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ায় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূয় ইযা-তাদা-ইয়ান্তুম্ বিদাইনিন্ ইলায় আজ্বালিম্ মুসাম্মান ফাক্তুবূহ্ অল্ইয়াক্তুব্ বাইনাকুম্ কা-তিবুম্ বিল্'আদ্লি অলা-ইয়াবা কা-তিবুন্ আইঁ ইয়াক্তুবা কামা-'আল্লামাহুল্লা-হু ফাল্ইয়াক্তুব্ অল্ইয়ুম্লিলিল্লাযী 'আলাইহিল্ হাক্ব ্ক্ব ু অল্ইয়াত্তাক্বিল লা-হা রব্বাহূ অলা-ইয়াব্খাস্ মিন্হু শাইয়া- ফাইন্ কা-নাল্লাযী 'আলাইহিল্ হাক্ব ্ক্ব ু সাফীহান্ আও দ্বোয়া'ঈফান্ আওলা- ইয়াস্তাত্বী'উ আইঁ ইয়ুমিল্লা হুওয়া ফাল্ইয়ুম্লিল্ অলিয়্যুহূ বিল্'আদল্ অস্তাশ্হিদূ শাহীদাইনি র্মি রিজ্বা-লিকুম্ ফাইল্লাম্ ইয়াকূনা-রাজ্ব ুলাইনি ফারাজ্ব ুলুওঁ অম্রায়াতা-নি মিম্মান তারদ্বোয়াওনা মিনাশ্ শুহাদা - য়ি আন্ তাদ্বিল্লা ইহ্দা-হুমা-ফাতুযাক্কিরা ইহ্দা-হুমাল্ উখ্রা- অলা-ইয়াবাশ্ শুহাদা - উ ইযা- মা-দু'ঊ অলা- তাস্আমূ য় আন্ তাক্তুবূহু ছোয়াগীরান্ আও কাবীরান্ ইলায় আজ্বালিহ্ যা-লিকুম্ আক্ব ্সাত্ব ু 'ইন্দাল্লা-হি অআক্ব ্ওয়ামু লিশ্ শাহা-দাতি অআদ্নায় আল্লা-র্তাতা-বূয় ইল্লায় আন্ তাকূনা তিজ্বা-রাতান্ হা-দ্বিরাতান্ তুদ্বীরূনাহা- বাইনাকুম্ ফালাইসা 'আলাইকুম্ জ্ব ুনা-হুন্ আল্লা-তাক্তুবূহা- অআশ্হিদূ য় ইযা- তাবা-ইয়া'তুম্ অলা-ইয়ুদ্বোয়া -র্ রা কা-তিবুওঁ অলা-শাহীদ্ অইন্ তাফ্'আলূ ফাইন্নাহূ ফুসূক্ব ুম্ বিকুম্ অত্তাক্ব ুল্লা-হা অইয়ু'আল্লিমুকুমুল্লা-হ্ অল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীম্।

জহুরুল হক

আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং লেখক না পাও তবে বন্ধক নিতে পার। কিন্তু তোমাদের কেউ যদি অন্যের কাছে বিশ্বাসস্থাপন করে তবে যাকে বিশ্বাস করা হল সে তার আমানত ফেরত দিক, আর তার প্রভু ‌কে ভয় - ভক্তি করুক। আর সাক্ষ্য গোপন করবে না, কারণ যে তা গোপন করে তার হৃদয় নিঃসন্দেহ পাপপূর্ণ। আর তোমরা যা করো সে - সন্বন্ধে স র্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমরা যদি সফর (journey) অবস্থায় থাকো এবং (চুক্তি বা দলিল) লেখক (scribe) না পাও, সেক্ষেত্রে বন্ধক (pledge, mortgage) হস্তান্তর করে কার্য সম্পাদন করো। তোমরা যদি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো, তবে যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা (যার কাছে আমানত রাখা) হয়, সে যেনো (বিশ্বস্ততার সাথে) আমানত ফেরত দেয় এবং যেনো তার প্রভু আল্লাহকে ভয় করে। (হে সাক্ষীরা!) তোমরা সাক্ষ্য গোপন করোনা। যে সাক্ষ্য গোপন করে তার অন্তর অবশ্যি পাপী। তোমরা যা - ই করোনা কেন, সে সম্পর্কে অবহিত।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ কুন্তুম্ 'আলা-সাফারিওঁ অলাম্ তাজ্বিদূ কা-তিবান্ ফারিহা-নুম্ মাক্ব ্বূদ্বোয়াহ্ ফাইন্ আমিনা বা'দ্ব ুকুম্ বা'দ্বোয়ান্ ফাল্ইয়ুআদ্ দিল্লাযি”তুমিনা আমা-নাতাহূ অল্ ইয়াত্তাক্বিল্লা-হা রব্বাহ্ অলা-তাক্তুমুশ্ শাহা-দাহ্ অমাইঁ ইয়াক্তুম্হা-ফাইন্নাহূ য় আ-ছিমুন্ ক্বাল্বুহ্ অল্লা-হু বিমা-তা'মালূনা 'আলীম্।

জহুরুল হক

‌রই যা - কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে ও যা - কিছু আছে পৃথিবীতে। আর তোমাদের অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করো, বা তা লুকিয়ে রাখো, তার জন্য তোমাদের হিসেব - নিকেশ নেবেন। কাজেই যাকে তিনি ইচ্ছা করবেন পরিত্রাণ করবেন এবং যাকে ইচ্ছা করবেন শাস্তিও দেবেন। আর সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

একমাত্র আল্লাহ্ই মালিক যা কিছু রয়েছে মহাকাশে আর যা কিছু রয়েছে এই পৃথিবীতে। তোমাদের মনে যা কিছু আছে তা তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন রাখো, অবশ্যি তোমাদের থেকে তার হিসাব গ্রহণ করবেন। তারপর যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করে দেবেন, যাকে ইচ্ছে আযাবে নিক্ষেপ করবেন। আর সকল কাজে সর্বশক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ আরদ্ব্ অইন্ তুব্দূ মা-ফীয় আন্ফুসিকুম্ আও তুখ্ফূহু ইয়ুহা-সিব্কুম্ বিহিল্লা-হ্ ফাইয়াগ্ফিরু লিমাইঁ ইয়াশা - উ অইয়ু'আয্যিবু মাইঁ ইয়াশা - উ অল্লা-হু 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।

জহুরুল হক

রসূল ঈমান এনেছেন যা তাঁর প্রভুর কাছ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে, আর বিশ্বাসীরাও। তারা সবাই ঈমান এনেছে ‌তে, আর তাঁর ফিরিশ্‌তাগণে, আর তাঁর কিতাবসমূহে, আর তাঁর রসূলগণে, - - ''আমরা তাঁর রসূলদের কোনোজনের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।’’ তারা আরও বলে - - ''আমরা শুনি আর আমরা পালন করি, হে আমাদের প্রভু! তোমার পরিত্রাণ, আর তোমারই কাছে গন্তব্যপথ।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এই রসূল (মুহাম্মদ) ঈমান এনেছে তাতে, যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি তার প্রভুর পক্ষ থেকে এবং মুমিনরাও (ঈমান এনেছে)। তাদের প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রসূলদের প্রতি। (তারা বলে:) ‘আমরা তাঁর রসূলদের মধ্যে কোনো প্রকার তারতম্য (distinction) করিনা।’ তারা আরো বলে: ‘আমরা নির্দেশ শুনি এবং আনুগত্য করি। হে প্রভু! আমরা তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আর তোমার কাছেই ফিরে যেতে হবে (সবাইকে)।’

বাংলা উচ্চারণ

আ-মার্না রাসূলু বিমায় উন্যিলা ইলাইহি র্মি রাব্বিহী অল্ মুমিনূন্ কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি অমালা - য়িকাতিহী অকুতুবিহী অরুসুলিহী লা-নুর্ফারিক্ব ু বাইনা আহাদিম র্মি রুসুলিহী অক্বা-লূ সামি'না- অআত্বোয়া'না- গুফ্রা-নাকা রব্বানা- অইলাইকাল্ মার্ছী।

জহুরুল হক

কোনো সত্তার উপরে তার ক্ষমতার অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। তার অনুকূলে রয়েছে সে যা - কিছু অর্জন করেছে, আর তার প্রতিকূলে রয়েছে যা - কিছু সে কামিয়েছে। ''আমাদের প্রভু, আমাদের পাকড়াও করো না যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করি, হে আমাদের প্রভু! আর আমাদের উপরে তেমন বোঝা চাপিও না যেমন তুমি তা চাপিয়েছিলে তাদের উপরে যারা ছিল আমাদের পূর্ববর্তী, আমাদের প্রভু! আর আমাদের উপরে তেমন ভার তুলে দিয়ো না যার সামর্থ্য আমাদের নেই। অতএব তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও, আর আমাদের তুমি রক্ষা করে রাখো, আর আমাদের প্রতি তুমি করুণা বর্ষণ করো। তুমিই আমাদের পৃষ্ঠপোষক, অতএব অবিশ্বাসিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের তুমি সাহায্য করো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপাননা। তার ভালো উপার্জনের (কৃতকর্মের) প্রতিফল সে - ই পাবে, আর তার মন্দ উপার্জনের (কৃতকর্মের) প্রতিফলও তাকেই ভোগ করতে হবে। (তোমরা এভাবে দোয়া করো:) ‘আমাদের প্রভু ! আমাদের শাস্তি দিওনা যদি আমরা ভুল করি, কিংবা করে ফেলি যদি অন্যায়! আমাদের প্রভু! আমাদের প্রতি এমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করোনা যেমনটি অর্পণ করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। আমাদের প্রভু! আমাদের উপর এমন বোঝা অর্পণ করোনা যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের গুনাহ - খাতা মুছে দাও, আমাদের ক্ষমা করে দাও, আমাদের প্রতি রহম করো, তুমিই তো আমাদের মাওলা (অভিভাবক, সাহায্যকারী), তাই তুমি আমাদের বিজয় দান করো অবিশ্বাসীদের উপর।

বাংলা উচ্চারণ

লা-ইয়ুকাল্লিফুল্লা-হু নাফসান্ ইল্লা-উস্'আহা- লাহা-মা- কাসাবাত অ'আলাইহা- মাক্তাসাবাত রব্বানা- লা-তুআ-খিয্না য় ইন্নাসী য় না-আও আখ্ত্বোয়ানা- রব্বানা- অলা-তাহ্মিল্ 'আলাইনায় ইছরান কামা-হামাল্তাহূ 'আলাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিনা- রব্বানা- অলা-তুহাম্মিল্না- মা-লা-ত্বোয়া-ক্বাতা লানা-বিহ্অ'ফু 'আন্না-অর্গ্ফি লানা- র্অহাম্না- আন্তা মাওলা-না- ফান্ছুরনা- 'আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme