ইয়া সীন!
ইয়াসিন!
ইয়া - সীন,
بسم الله الرحمن الرحيم يس
يسٓ
Chapter 36, 83 verses
ইয়া সীন!
ইয়াসিন!
ইয়া - সীন,
بسم الله الرحمن الرحيم يس
يسٓ
জ্ঞানগর্ভ কুরআনের শপথ, - -
শপথ বিজ্ঞানময় কুরআনের,
শপথ জ্ঞানগর্ভ কুরআনের,
والقرآن الحكيم
وَٱلْقُرْءَانِ ٱلْحَكِيمِ
নিঃসন্দেহ তুমি তো প্রেরিত পুরুষদের অন্যতম, - -
অবশ্য অবশ্যি তুমি রসূলদের একজন,
তুমি অবশ্যই রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত;
إنك لمن المرسلين
إِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
সহজ - সঠিক পথে অধিষ্ঠিত রয়েছে।
(প্রতিষ্ঠিত আছো) সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।
তুমি সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।
على صراط مستقيم
عَلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ
মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতার থেকে এক অবতারণ, - -
(এই কুরআন) নাযিল হচ্ছে মহাশক্তিধর অতীব দয়াবানের পক্ষ থেকে,
কুরআন অবতীর্ণ পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু র নিকট হইতে,
تنزيل العزيز الرحيم
تَنزِيلَ ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ
যেন তুমি সতর্ক করতে পার সেই জাতিকে যাদের পিতৃপুরুষদের সতর্ক করা হয় নি, যার ফলে তারা অজ্ঞ রয়ে গেছে।
যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো এমন একটি কওমকে, যাদের পূর্ব পুরুষদের সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফিল (অসতর্ক)।
যাহাতে তুমি সতর্ক করিতে পার এমন এক জাতিকে যাহাদের পিতৃপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয় নাই, যাহার ফলে উহারা গাফিল।
لتنذر قوما ما أنذر آباؤهم فهم غافلون
لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّآ أُنذِرَ ءَابَآؤُهُمْ فَهُمْ غَٰفِلُونَ
সুনিশ্চিত যে বক্তব্যটি তাদের অনেকের সন্বন্ধে সত্য প্রতিপন্ন হয়েছে, তাই তারা বিশ্বাস করছে না।
তাদের অধিকাংশের জন্যে সেই বাণী (শাস্তি) অবধারিত হয়ে গেছে, ফলে তারা আর ঈমান আনবেনা।
উহাদের অধিকাংশের জন্য সেই বাণী অবধারিত হইয়াছে; সুতরাং উহারা ঈমান আনিবে না।
لقد حق القول على أكثرهم فهم لا يؤمنون
لَقَدْ حَقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَىٰٓ أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
আমরা নিশ্চয় তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছি, আর তা পৌঁছেছে চিবুক পর্যন্ত, ফলে তারা মাথা চড়ানো অবস্থায় রয়েছে।
আমরা চিবুক পর্যন্ত তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছি, ফলে তারা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আছে।
আমি উহাদের গলদেশে চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরাইয়াছি, ফলে উহারা ঊর্ধ্বমুখী হইয়া গিয়াছে।
إنا جعلنا في أعناقهم أغلالا فهي إلى الأذقان فهم مقمحون
إِنَّا جَعَلْنَا فِىٓ أَعْنَٰقِهِمْ أَغْلَٰلًا فَهِىَ إِلَى ٱلْأَذْقَانِ فَهُم مُّقْمَحُونَ
আর আমরা তাদের সামনে স্থাপন করেছি এক বেড়া আর তাদের পেছনেও এক বেড়া, ফলে আমরা তাদের ঢেকে ফেলেছি, সুতরাং তারা দেখতে পায় না।
আমরা তাদের সামনে প্রাচীর এবং পেছনেও প্রাচীর স্থাপন করে দিয়েছি, আর তাদের চোখে সৃষ্টি করে দিয়েছি আবরণ, ফলে তারা দেখতে পায়না।
আমি উহাদের সম্মুখে প্রাচীর ও পশ্চাতে প্রাচীর স্থাপন করিয়াছি এবং উহাদেরকে আবৃত করিয়াছি; ফলে উহারা দেখিতে পায় না।
وجعلنا من بين أيديهم سدا ومن خلفهم سدا فأغشيناهم فهم لا يبصرون
وَجَعَلْنَا مِنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَٰهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
এটি তাদের কাছে একাকার - - তুমি তাদের সতর্ক কর অথবা তুমি তাদের সতর্ক নাই কর, তারা বিশ্বাস করবে না।
তুমি তাদের সতর্ক করো কিংবা সতর্ক না করো দুটোই তাদের জন্যে সমান, তারা ঈমান আনবেনা।
তুমি উহাদেরকে সতর্ক কর বা না কর, উহাদের পক্ষে উভয়ই সমান; উহারা ঈমান আনিবে না।
وسواء عليهم أأنذرتهم أم لم تنذرهم لا يؤمنون
وَسَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
নিঃসন্দেহ তুমি তো সতর্ক করতে পার তাকে যে উপদেশ অনুসরণ করে চলে, আর পরম করুণাময়কে নিভৃতে ভয় করে। সুতরাং তাকে তুমি সুসংবাদ দাও পরিত্রাণের এবং এক মহান প্রতিদানের।
তুমি তো সতর্ক করতে পারো তাকে, যে আয্ যিকির (আল কুরআন) - এর অনুসরণ করে এবং না দেখেও দয়াময় রহমানকে ভয় করে। তাকে সুসংবাদ দাও মাগফিরাতের আর সম্মানজনক পুরস্কারের।
তুমি কেবল তাহাকেই সতর্ক করিতে পার যে উপদেশ মানিয়া চলে এবং না দেখিয়া দয়াময় কে ভয় করে। অতএব তাহাকে তুমি ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের সংবাদ দাও।
إنما تنذر من اتبع الذكر وخشي الرحمن بالغيب ۖ فبشره بمغفرة وأجر كريم
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ ٱتَّبَعَ ٱلذِّكْرَ وَخَشِىَ ٱلرَّحْمَٰنَ بِٱلْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
নিঃসন্দেহ আমরা - - আমরা নিজেরাই মৃতকে জীবন্ত করি, আর আমরা লিখে রাখি যা তারা আগবাড়ায় আর তাদের পদচিহ্নসমূহ। আর সমস্ত ব্যাপার - স্যাপার - - আমরা তা সংরক্ষিত রেখেছি এক সুস্পষ্ট গ্রন্থে।
আমরা অবশ্যি মৃতদের জীবিত করবো, আর আমরা তো লিখে রাখি তারা যা আগে পাঠায় আর যা পেছনে রেখে যায়। প্রতিটি বস্তুই আমরা স্পষ্ট কিতাবে (রেকর্ড পত্রে) সংরক্ষিত রেখেছি।
আমিই মৃতকে করি জীবিত এবং লিখিয়া রাখি যাহা উহারা অগ্রে প্রেরণ করে ও যাহা উহারা পশ্চাতে রাখিয়া যায়, আমি তো প্রত্যেক জিনিস স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রাখিয়াছি।
إنا نحن نحيي الموتى ونكتب ما قدموا وآثارهم ۚ وكل شيء أحصيناه في إمام مبين
إِنَّا نَحْنُ نُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا۟ وَءَاثَٰرَهُمْ وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَٰهُ فِىٓ إِمَامٍ مُّبِينٍ
আর তাদের জন্য উপমা ছোঁড়ো এক জনপদের অধিবাসীদের - - যখন সেখানে রসূলগণ এসেছিলেন।
তাদের কাছে বর্ণনা করো দৃষ্টান্ত সেই জনপদের বাসিন্দাদের, যখন তাদের কাছে রসূলরা এসেছিল।
উহাদের নিকট বর্ণনা কর এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত; যখন তাহাদের নিকট আসিয়াছিল রাসূলগণ।
واضرب لهم مثلا أصحاب القرية إذ جاءها المرسلون
وَٱضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا أَصْحَٰبَ ٱلْقَرْيَةِ إِذْ جَآءَهَا ٱلْمُرْسَلُونَ
দেখো! আমরা তাদের কাছে দুজনকে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা এদের দুজনেরই প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল, তখন আমরা তৃতীয় জনকে দিয়ে শক্তিবৃদ্ধি করি। সুতরাং তাঁরা বলেছিলেন - - ''নিঃসন্দেহ তোমাদের কাছে আমরা প্রেরিত হয়েছি।’’
যখন তাদের কাছে আমরা পাঠিয়েছিলাম দুজন রসূল, তারা দুজনকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন আমরা তাদের শক্তিশালী করেছিলাম তৃতীয় একজনকে পাঠিয়ে। তারা তাদের বলেছিল: ‘আমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রসূল।’
যখন উহাদের নিকট পাঠাইয়াছিলাম দুইজন রাসূল, তখন উহারা তাহাদেরকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল, অতঃপর আমি তাহাদেরকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম তৃতীয় একজন দ্বারা। তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা তো তোমাদের নিকট প্রেরিত হইয়াছি।’
إذ أرسلنا إليهم اثنين فكذبوهما فعززنا بثالث فقالوا إنا إليكم مرسلون
إِذْ أَرْسَلْنَآ إِلَيْهِمُ ٱثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوٓا۟ إِنَّآ إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ
তারা বলেছিল - - ''তোমরা তো আমাদের ন্যায় মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, আর পরম করুণাময় কোনো কিছুই অবতারণ করেন নি, তোমরা তো কেবল মিথ্যা কথা বলছ।’’
(বিরোধী পক্ষ) বললো: ‘তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, রহমান তোমাদের প্রতি কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো কেবল মিথ্যা কথাই বলছো।’
উহারা বলিল, ‘তোমরা আমাদের মতই মানুষ, দয়াময় তো কিছুই অবতীর্ণ করেন নাই। তোমরা কেবল মিথ্যাই বলিতেছ।’
قالوا ما أنتم إلا بشر مثلنا وما أنزل الرحمن من شيء إن أنتم إلا تكذبون
قَالُوا۟ مَآ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَمَآ أَنزَلَ ٱلرَّحْمَٰنُ مِن شَىْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ
তাঁরা বলেছিলেন - - ''আমাদের প্রভু জানেন যে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে প্রেরিতপুরুষই বটে।
তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু জানেন, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত রসূল।
তাহারা বলিল, ‘আমাদের প্রতিপালক জানেন - আমরা অবশ্যই তোমাদের নিকট প্রেরিত হইয়াছি।
قالوا ربنا يعلم إنا إليكم لمرسلون
قَالُوا۟ رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّآ إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ
''আর আমাদের উপরে হচ্ছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়।’’
সুস্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব।’
‘স্পষ্টভাবে প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব।’
وما علينا إلا البلاغ المبين
وَمَا عَلَيْنَآ إِلَّا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ
তারা বললে, ''তোমাদের থেকে আমরা অবশ্যই অমঙ্গল আশঙ্কা করি, যদি তোমরা বিরত না হও তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের পাথর মেরে মেরে ফেলব, আর আমাদের থেকে মর্মন্তুদ শাস্তি তোমাদের স্পর্শ করবে।’’
তারা বললো: ‘আমরা তোমাদের কুলক্ষণে মনে করি। তোমরা যদি বিরত না হও, আমরা অবশ্যি তোমাদের পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবো এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের স্পর্শ করবে বেদনাদায়ক আযাব।’
উহারা বলিল, ‘আমরা তো তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি, যদি তোমরা বিরত না হও তোমাদেরকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে হত্যা করিব এবং আমাদের পক্ষ হইতে তোমাদের উপর মর্মন্তুদ শাস্তি অবশ্যই আপতিত হইবে।’
قالوا إنا تطيرنا بكم ۖ لئن لم تنتهوا لنرجمنكم وليمسنكم منا عذاب أليم
قَالُوٓا۟ إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِن لَّمْ تَنتَهُوا۟ لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
তাঁরা বললেন, ''তোমাদের পাখিগুলো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছে। তোমাদের তো স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে! বস্তুতঃ তোমরা হচ্ছ অমিতাচারী জাতি।
তারা (রসূলরা) বললো: ‘তোমাদের কুলক্ষণ তোমাদেরই সাথে। এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদের উপদেশ দিয়ে যাচ্ছি? বরং তোমরা একটি সীমালংঘনকারী কওম (জাতি)।’
তাহারা বলিল, ‘তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সঙ্গে; ইহা কি এইজন্য যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিতেছি? বস্তুত তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’
قالوا طائركم معكم ۚ أئن ذكرتم ۚ بل أنتم قوم مسرفون
قَالُوا۟ طَٰٓئِرُكُم مَّعَكُمْ أَئِن ذُكِّرْتُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ
আর শহরের দূর প্রান্ত থেকে একজন লোক দেড়ে এল, সে বললে - - ''হে আমার স্বজাতি! প্রেরিতপুরুষগণকে অনুসরণ করো, - -
নগর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বললো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা রসূলদের অনুসরণ করো,
নগরীর প্রান্ত হইতে এক ব্যক্তি ছুটিয়া আসিল। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলদের অনুসরণ কর;
وجاء من أقصى المدينة رجل يسعى قال يا قوم اتبعوا المرسلين
وَجَآءَ مِنْ أَقْصَا ٱلْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَىٰ قَالَ يَٰقَوْمِ ٱتَّبِعُوا۟ ٱلْمُرْسَلِينَ
''অনুসরণ করো তাঁদের যারা তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিকের সওয়াল করেন না, আর তাঁরা হচ্ছেন সৎপথে চালিত।’’
তোমরা তাদের ইত্তেবা (অনুসরণ) করো, যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চান না এবং যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।
‘অনুসরণ কর তাহাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না এবং যাহারা সৎপথপ্রাপ্ত।
اتبعوا من لا يسألكم أجرا وهم مهتدون
ٱتَّبِعُوا۟ مَن لَّا يَسْـَٔلُكُمْ أَجْرًا وَهُم مُّهْتَدُونَ
''আর আমার কি হয়েছে যে আমি তাঁর উপাসনা করব না, যিনি আমাকে সৃজন করেছেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে?
কী কারণে আমি তাঁর ইবাদত করবো না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে?
‘আমার কি যুক্তি আছে যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং যাঁহার নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে আমি তাঁহার ‘ইবাদত করিব না?
وما لي لا أعبد الذي فطرني وإليه ترجعون
وَمَا لِىَ لَآ أَعْبُدُ ٱلَّذِى فَطَرَنِى وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
''আমি কি তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য উপাস্যদের গ্রহণ করব, পরম করুণাময় যদি আমাকে দুঃখ - দুর্দশা দিতে চাইতেন তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না, আর তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না?
আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করবো? রহমান যদি আমার ক্ষতি করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবেনা এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবেনা।
‘আমি কি তাঁহার পরিবর্তে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করিব? দয়াময় আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিতে চাইলে উহাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসিবে না এবং উহারা আমাকে উদ্ধার করিতেও পারিবে না।
أأتخذ من دونه آلهة إن يردن الرحمن بضر لا تغن عني شفاعتهم شيئا ولا ينقذون
ءَأَتَّخِذُ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةً إِن يُرِدْنِ ٱلرَّحْمَٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّى شَفَٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا وَلَا يُنقِذُونِ
''এমন ক্ষেত্রে আমি তো নিশ্চয় স্পষ্ট ভুলের মধ্যে পড়ব।
এমনটি করলে তো আমি নিমজ্জিত হবো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে।
‘এইরূপ করিলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়িব।
إني إذا لفي ضلال مبين
إِنِّىٓ إِذًا لَّفِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
''আমি আলবৎ তোমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছি, সেজন্য আমার কথা শোনো।’’
আমি তোমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান আনলাম, তোমরা আমার কথা মেনে নাও!’’
‘আমি তো তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আনিয়াছি, অতএব তোমরা আমার কথা শোন।’
إني آمنت بربكم فاسمعون
إِنِّىٓ ءَامَنتُ بِرَبِّكُمْ فَٱسْمَعُونِ
বলা হলো - - ''জান্নাতে প্রবেশ কর।’’ তিনি বললেন - - ''হায় আফসোস! আমার স্বজাতি যদি জানতে পারত, - -
তাকে বলা হলো: ‘দাখিল হও জান্নাতে।’ সে বলে উঠলো: ‘হায়, আমার কওম যদি জানতে পারতো
তাহাকে বলা হইল, ‘জান্নাতে প্রবেশ কর।’ সে বলিয়া উঠিল, ‘হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানিতে পারিত -
قيل ادخل الجنة ۖ قال يا ليت قومي يعلمون
قِيلَ ٱدْخُلِ ٱلْجَنَّةَ قَالَ يَٰلَيْتَ قَوْمِى يَعْلَمُونَ
''কি কারণে আমার প্রভু আমাকে পরিত্রাণ করেছেন, আর আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’’
কী কারণে আমার প্রভু আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তরভুক্ত করেছেন।’
‘কিরূপে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করিয়াছেন এবং আমাকে সম্মানিত করিয়াছেন।’
بما غفر لي ربي وجعلني من المكرمين
بِمَا غَفَرَ لِى رَبِّى وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُكْرَمِينَ
আর তাঁর পরে তাঁর লোকদের প্রতি আমরা আকাশ থেকে কোনো বাহিনী পাঠাই নি, আর আমরা কখনো প্রেরণকারী নই।
আমরা তার (মৃত্যুর) পর তার জাতির বিরুদ্ধে আসমান থেকে কোনো বাহিনী নাযিল করিনি আর আমরা নাযিল করতামও না।
আমি তাহার পরে তাহার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আকাশ হইতে কোন বাহিনী প্রেরণ করি নাই এবং প্রেরণের প্রয়োজনও ছিল না।
۞ وما أنزلنا على قومه من بعده من جند من السماء وما كنا منزلين
وَمَآ أَنزَلْنَا عَلَىٰ قَوْمِهِۦ مِنۢ بَعْدِهِۦ مِن جُندٍ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَمَا كُنَّا مُنزِلِينَ
এটি অবশ্য একটিমাত্র মহাগর্জন বৈ তো নয়, তখন দেখো, তারা নিথরদেহী হয়ে গেল!
একটা মহাবিকট শব্দই যথেষ্ট ছিলো, সাথে সাথে তারা নিথর হয়ে গেলো।
উহা ছিল কেবল এক মহানাদ। ফলে উহারা নিথর নিস্তব্ধ হইয়া গেল।
إن كانت إلا صيحة واحدة فإذا هم خامدون
إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَٰمِدُونَ
হায় আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে এমন কোনো রসূল আসেন নি যাঁকে নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রূপ না করেছে!
পরিতাপ বান্দাদের জন্যে! যখনই তাদের কাছে কোনো রসূল এসেছে, তারা তাদের নিয়ে বিদ্রুপ করেছে।
পরিতাপ বান্দাদের জন্য; উহাদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে তখনই উহারা তাহাকে ঠাট্টা - বিদ্রপ করিয়াছে।
يا حسرة على العباد ۚ ما يأتيهم من رسول إلا كانوا به يستهزئون
يَٰحَسْرَةً عَلَى ٱلْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ
তারা কি দেখে নি তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে আমরা ধ্বংস করেছি, কেননা তারা তাঁদের প্রতি ফিরতো না?
তারা কি দেখেনা তাদের আগে আমরা কতো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম! তারা আর তাদের মাঝে ফিরে আসবেনা।
উহারা কি লক্ষ্য করে না উহাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠী আমি ধ্বংস করিয়াছি যাহারা উহাদের মধ্যে ফিরিয়া আসিবে না?
ألم يروا كم أهلكنا قبلهم من القرون أنهم إليهم لا يرجعون
أَلَمْ يَرَوْا۟ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنَ ٱلْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ
আর নিশ্চয়ই সবাইকে, - - আলবৎ সব ক’জনকে, আমাদের সামনে হাজির করা হবে।
তবে অবশ্যি তাদের সবাইকে একত্রে আমার কাছে হাজির করা হবে।
এবং অবশ্যই উহাদের সকলকে একত্রে আমার নিকট উপস্থিত করা হইবে।
وإن كل لما جميع لدينا محضرون
وَإِن كُلٌّ لَّمَّا جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ
আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হচ্ছে মৃত ভূখন্ড, আমরা তাতে প্রাণ সঞ্চার করি, আর তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, ফলে সেটি থেকে তারা আহার করে।
তাদের জন্যে একটি নিদর্শন হলো মৃত জমিন, আমরা তাকে জীবিত করি এবং তা থেকে বের করে আনি শস্য, যা থেকে তারা খায়।
উহাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত ধরিত্রী, যাহাকে আমি সঞ্জীবিত করি এবং উহা হইতে উৎপন্ন করি শস্য যাহা উহারা আহার করে।
وآية لهم الأرض الميتة أحييناها وأخرجنا منها حبا فمنه يأكلون
وَءَايَةٌ لَّهُمُ ٱلْأَرْضُ ٱلْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَٰهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ
আর আমরা তাতে বানিয়েছি খেজুর ও আঙুরের বাগানসমূহ, আর তার মাঝে আমরা উৎসারিত করি প্রস্রবণ,
তাতে আমরা সৃষ্টি করি খেজুর আর আঙুরের বাগান এবং তাতে আমরা জারি করে দেই ঝরণাধারা,
উহাতে আমি সৃষ্টি করি খর্জুর ও আঙুরের উদ্যান এবং উহাতে উৎসারিত করি প্রস্রবণ,
وجعلنا فيها جنات من نخيل وأعناب وفجرنا فيها من العيون
وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّٰتٍ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَٰبٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ ٱلْعُيُونِ
যেন তারা এর ফলমূল থেকে আহার করতে পারে, অথচ তাদের হাতে এটি বানায় নি। তবু কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?
যাতে করে তারা খেতে পারে তার ফল। অথচ তাদের হাত তা সৃষ্টি করেনি। তবু কি তোমরা শোকর আদায় করবেনা?
যাহাতে উহারা আহার করিতে পারে উহার ফলমূল হইতে, অথচ উহাদের হস্ত উহা সৃষ্টি করে নাই। তবুও কি উহারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিবে না?
ليأكلوا من ثمره وما عملته أيديهم ۖ أفلا يشكرون
لِيَأْكُلُوا۟ مِن ثَمَرِهِۦ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
সকল মহিমা তাঁর যিনি জোড়ায় - জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন - - পৃথিবী যা উৎপাদন করে তার মধ্যের সব - কিছু, আর তাদের নিজেদের মধ্যেও, আর তারা যার কথা জানে না তাদের মধ্যেও।
তিনি পবিত্র ও মহান। তিনি উদ্ভিদকে, মানুষকে এবং তারা যাদের জানেনা তাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।
পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং উহারা যাহাদেরকে জানে না তাহাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করিয়াছেন জোড়া জোড়া করিয়া।
سبحان الذي خلق الأزواج كلها مما تنبت الأرض ومن أنفسهم ومما لا يعلمون
سُبْحَٰنَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَزْوَٰجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ
আর তাদের কাছে একটি নিদর্শন হচ্ছে রাত্রি, তা থেকে আমরা বের করে আনি দিনকে, তারপর দেখো! তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে!
তাদের জন্যে আরেকটি নিদর্শন হলো রাত, তা থেকে আমরা অপসারিত করি দিনের আলো, তখন তারা নিমজ্জিত হয়ে পড়ে অন্ধকারে।
উহাদের জন্য এক নিদর্শন রাত্রি, উহা হইতে আমি দিবালোক অপসারিত করি, তখন উহারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হইয়া পড়ে।
وآية لهم الليل نسلخ منه النهار فإذا هم مظلمون
وَءَايَةٌ لَّهُمُ ٱلَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ ٱلنَّهَارَ فَإِذَا هُم مُّظْلِمُونَ
আর সূর্য তার গন্তব্য পথে বিচরণ করে। এটিই মহাশক্তিশালী সর্বজ্ঞাতার নির্ধারিত বিধান।
সূর্য চলে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটা মহাপরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী কর্তৃক নির্ধারিত।
আর সূর্য ভ্রমণ করে উহার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, ইহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
والشمس تجري لمستقر لها ۚ ذلك تقدير العزيز العليم
وَٱلشَّمْسُ تَجْرِى لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ ٱلْعَزِيزِ ٱلْعَلِيمِ
আর চন্দ্রের বেলা - - আমরা এর জন্য বিধান করেছি বিভিন্ন অবস্থান, শেষপর্যন্ত তা শুকনো পুরোনো খেজুরবৃন্তের ন্যায় হয়ে যায়।
আর আমরা চাঁদের জন্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি মনযিলসমূহ। অবশেষে তা শুকনা বাঁকা পুরানো খেজুর ডালের আকৃতি ধারণ করে।
এবং চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করিয়াছি বিভিন্ন মনযিল; অবশেষে উহা শুষ্ক বক্র, পুরাতন খর্জুর শাখার আকার ধারণ করে।
والقمر قدرناه منازل حتى عاد كالعرجون القديم
وَٱلْقَمَرَ قَدَّرْنَٰهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَٱلْعُرْجُونِ ٱلْقَدِيمِ
সূর্যের নিজের সাধ্য নেই চন্দ্রকে ধরার, আর রাতেরও নেই দিনকে অতিক্রম করার। আর সবক’টিই কক্ষপথে ভাসছে।
সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষেও সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা। এরা প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথ ও অক্ষপথে চলছে সাঁতার কেটে।
সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রজনীর পক্ষে সম্ভব নয় দিবসকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ করে।
لا الشمس ينبغي لها أن تدرك القمر ولا الليل سابق النهار ۚ وكل في فلك يسبحون
لَا ٱلشَّمْسُ يَنۢبَغِى لَهَآ أَن تُدْرِكَ ٱلْقَمَرَ وَلَا ٱلَّيْلُ سَابِقُ ٱلنَّهَارِ وَكُلٌّ فِى فَلَكٍ يَسْبَحُونَ
আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হচ্ছে এই যে আমরা তাদের সন্তান - সন্ততিকে বহন করি বোঝাই করা জাহাজে, - -
তাদের জন্যে আরেকটি নিদর্শন হলো, আমরা তাদের বংশধরদের (পূর্ব পুরুষদের) বোঝাই করে আরোহন করিয়েছিলাম নৌযানে,
উহাদের জন্য এক নিদর্শন এই যে, আমি উহাদের বংশধরদেরকে বোঝাই নৌযানে আরোহণ করাইয়াছিলাম;
وآية لهم أنا حملنا ذريتهم في الفلك المشحون
وَءَايَةٌ لَّهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
আর তাদের জন্য আমরা বানিয়েছি এগুলোর অনুরূপ অন্যান্য যা তারা চড়বে।
আর তাদের জন্যে অনুরূপ নৌযান সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।
এবং উহাদের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করিয়াছি যাহাতে উহারা আরোহণ করে।
وخلقنا لهم من مثله ما يركبون
وَخَلَقْنَا لَهُم مِّن مِّثْلِهِۦ مَا يَرْكَبُونَ
আর আমরা যদি ইচ্ছা করি তবে তাদের ডুবিয়েও দিতে পারি, তখন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না, আর তাদের উদ্ধার করাও হবে না, - -
আমরা চাইলে তাদের ডুবিয়ে দিতে পারি, তখন তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা এবং তাদের রক্ষাও করতে পারবেনা কেউ।
আমি ইচ্ছা করিলে উহাদেরকে নিমজ্জিত করিতে পারি; সে অবস্থায় উহাদের কোন সাহায্যকারী থাকিবে না এবং উহারা পরিত্রাণও পাইবে না -
وإن نشأ نغرقهم فلا صريخ لهم ولا هم ينقذون
وَإِن نَّشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنقَذُونَ
আমাদের থেকে করুণা ব্যতীত, আর কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগকরণ মাত্র।
তবে আমাদের রহমত পেলে এবং আমরা কিছু সময়ের জন্যে জীবন উপভোগ করার সুযোগ দিলে ভিন্ন কথা।
আমার অনুগ্রহ না হইলে এবং কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করিতে না দিলে।
إلا رحمة منا ومتاعا إلى حين
إِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَمَتَٰعًا إِلَىٰ حِينٍ
আর যখন তাদের বলা হয় - - ''ভয় করো যা তোমাদের সামনে রয়েছে আর যা তোমাদের পেছনে রয়েছে, যেন তোমাদের প্রতি করুণা করা হয়।’’
যখন তাদের বলা হয়: ‘সতর্ক হও সেই সম্পর্কে, যা তোমাদের সামনে রয়েছে এবং সেই ব্যাপারে যা তোমাদের পেছনে রয়েছে, যাতে করে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।’
যখন উহাদেরকে বলা হয়, ‘যাহা তোমাদের সম্মুখে ও তোমাদের পশ্চাতে আছে সে সম্বন্ধে সাবধান হও যাহাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হইতে পার,’
وإذا قيل لهم اتقوا ما بين أيديكم وما خلفكم لعلكم ترحمون
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّقُوا۟ مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
আর তাদের প্রভুর বাণীসমূহের মধ্যে থেকে এমন কোনো বাণী তাদের কাছে আসে নি যা থেকে তারা বরাবর ফিরে না গেছে।
যখনই তাদের কাছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের কোনো নিদর্শন এসেছে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
এবং যখনই উহাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর কোন নিদর্শন উহাদের নিকট আসে, তখনই উহারা তাহা হইতে মুখ ফিরাইয়া নেয়।
وما تأتيهم من آية من آيات ربهم إلا كانوا عنها معرضين
وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ ءَايَةٍ مِّنْ ءَايَٰتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهَا مُعْرِضِينَ
আর যখন তাদের বলা হয় - - '' তোমাদের যা রিযেক দিয়েছেন তা থেকে খরচ করো।’’ তখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে তাদের যারা বিশ্বাস করেছে - - ''আমরা কি তাদের খাওয়াব যাদের, যদি চাইতেন তবে তিনিই খাওয়াতে পারতেন? তোমরা স্পষ্ট ভুলের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও তো নও।’’
যখনই তাদের বলা হয়েছে, তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো, তখনই কাফিররা মুমিনদের বলেছে: ‘ চাইলে যাকে খাওয়াতে পারতেন, তাকে কি আমরা খাওয়াবো? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছো।’
যখন উহাদেরকে বলা হয়, ‘ তোমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় কর’ তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘যাহাকে ইচ্ছা করিলে খাওয়াইতে পারিতেন আমরা কি তাহাকে খাওয়াইব ? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রহিয়াছ।’
وإذا قيل لهم أنفقوا مما رزقكم الله قال الذين كفروا للذين آمنوا أنطعم من لو يشاء الله أطعمه إن أنتم إلا في ضلال مبين
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنُطْعِمُ مَن لَّوْ يَشَآءُ ٱللَّهُ أَطْعَمَهُۥٓ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
আর তারা বলে - - ''সেই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’’
তারা আরো বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো, কখন আসবে সেই ওয়াদা করা সময়টি (কিয়ামত)?’
উহারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হইবে?’
ويقولون متى هذا الوعد إن كنتم صادقين
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
তারা একটিমাত্র মহাগর্জন ছাড়া আর কিছুর অপেক্ষা করছে না, এটি তাদের আঘাত করবে যখন তারা কথা কাটাকাটি করছে।
হ্যাঁ, তারা যে জিনিসের অপেক্ষা করছে, তা এক মহাবিকট শব্দ ছাড়া আর কিছু নয়। সেটা তাদের আঘাত করবে তাদের বিবাদকালেই।
ইহারা তো অপেক্ষায় আছে এক মহানাদের যাহা ইহাদেরকে আঘাত করিবে ইহাদের বাক - বিতণ্ডাকালে।
ما ينظرون إلا صيحة واحدة تأخذهم وهم يخصمون
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُونَ
তখন তারা ওসিয়ৎ করতেও সমর্থ হবে না, আর তারা তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরতেও পারবে না।
তখন তারা কোনো অসিয়ত করতেও সমর্থ হবেনা এবং তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যাবারও সুযোগ পাবেনা।
তখন উহারা ওসিয়াত করিতে সমর্থ হইবে না এবং নিজেদের পরিবার - পরিজনের নিকট ফিরিয়া আসিতেও পারিবে না।
فلا يستطيعون توصية ولا إلى أهلهم يرجعون
فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَآ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ
আর শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন দেখো! তারা কবরগুলো থেকে তাদের প্রভুর দিকে ছুটে আসবে।
যখন (দ্বিতীয়বার) শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, তখন সাথে সাথে তারা কবর থেকে উঠে ছুটে আসবে তাদের প্রভুর দিকে।
যখন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে তখনই তাহারা কবর হইতে ছুটিয়া আসিবে তাহাদের প্রতিপালকের দিকে।
ونفخ في الصور فإذا هم من الأجداث إلى ربهم ينسلون
وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ ٱلْأَجْدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ
তারা বলবে - - ''হায় ধিক্ আমাদের! কে আমাদের উঠিয়ে দিলে আমাদের ঘুমানোর স্থান থেকে? এটিই হচ্ছে যা পরম করুণাময় ওয়াদা করেছিলেন, আর রসূলগণ সত্য কথাই বলেছিলেন।’’
তারা বলবে: ‘হায়, ধ্বংস আমাদের, কে উঠালো আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে?’ (বলা হবে:) এটাই হলো সেটা, দয়াময় - রহমান যার ওয়াদা দিয়েছিলেন। আর রসূলরাও সত্য বলেছিলেন।
উহারা বলিবে, ‘হায় ! দুর্ভোগ আমাদের ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল হইতে উঠাইল ? দয়াময় তো ইহারই প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন এবং রাসূলগণ সত্যই বলিয়াছিলেন।’
قالوا يا ويلنا من بعثنا من مرقدنا ۜ ۗ هذا ما وعد الرحمن وصدق المرسلون
قَالُوا۟ يَٰوَيْلَنَا مَنۢ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا هَٰذَا مَا وَعَدَ ٱلرَّحْمَٰنُ وَصَدَقَ ٱلْمُرْسَلُونَ
সেটি একটিমাত্র মহাগর্জন বৈ তো নয়, তখন দেখো! তাদের সমবেতভাবে আমাদের সামনে হাজির করা হবে।
সেটাও হবে মহাবিকট শব্দ, যা সংঘটিত হবার সাথে সাথে সবাইকে হাজির করা হবে আমাদের সামনে।
ইহা হইবে কেবল এক মহানাদ ; তখনই ইহাদের সকলকে উপস্থিত করা হইবে আমার সম্মুখে,
إن كانت إلا صيحة واحدة فإذا هم جميع لدينا محضرون
إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ
সুতরাং সেইদিন কোনো লোকের প্রতি কিছুমাত্রও অবিচার করা হবে না, আর তোমরাও যা করে থাকতে তা ছাড়া তোমাদের অন্য প্রতিদান দেওয়া হবে না।
আজ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র যুলম করা হবেনা এবং তোমরা যা আমল করতে কেবল তারই প্রতিদান দেয়া হবে।
আজ কাহারও প্রতি কোন জুলুম করা হইবে না এবং তোমরা যাহা করিতে কেবল তাহারই প্রতিফল দেওয়া হইবে।
فاليوم لا تظلم نفس شيئا ولا تجزون إلا ما كنتم تعملون
فَٱلْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْـًٔا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
নিঃসন্দেহ জান্নাতের বাসিন্দারা সেইদিন আনন্দের মাঝে কালাতিপাত করবে।
নিশ্চয়ই আজ জান্নাতের অধিবাসীরা থাকবে আনন্দ আর উৎফুল্লে মশগুল।
এই দিন জান্নাতবাসিগণ আনন্দে মগ্ন থাকিবে,
إن أصحاب الجنة اليوم في شغل فاكهون
إِنَّ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ ٱلْيَوْمَ فِى شُغُلٍ فَٰكِهُونَ
তারা ও তাদের সঙ্গিনীরা স্নিগ্ধ ছায়ায় উঁচু আসনের উপরে হেলান দিয়ে বসবে।
তারা এবং তাদের স্ত্রীরা/স্বামীরা থাকবে সুমধুর ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে সমাসীন।
তাহারা এবং তাহাদের স্ত্রীগণ সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়া বসিবে।
هم وأزواجهم في ظلال على الأرائك متكئون
هُمْ وَأَزْوَٰجُهُمْ فِى ظِلَٰلٍ عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ مُتَّكِـُٔونَ
তাদের জন্য সেখানে থাকবে ফলফসল, আর তাদের জন্য রইবে যা তারা কামনা করে।
তাদের জন্যে সেখানে থাকবে ফলফলারি এবং তারা যা চাইবে সবকিছু।
সেখানে থাকিবে তাহাদের জন্য ফলমূল এবং তাহাদের জন্য বাঞ্ছিত সমস্ত কিছু,
لهم فيها فاكهة ولهم ما يدعون
لَهُمْ فِيهَا فَٰكِهَةٌ وَلَهُم مَّا يَدَّعُونَ
অফুরন্ত ফলদাতা প্রভুর তরফ থেকে সম্ভাষণ হচ্ছে - - ''সালাম’’।
তাদের প্রতি পরম দয়াবান প্রভুর পক্ষ থেকে সম্ভাষণ হবে - ‘সালাম’।
সালাম, পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ হইতে সম্ভাষণ।
سلام قولا من رب رحيم
سَلَٰمٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ
আর ''আজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও, হে অপরাধিগণ!
সেদিন বলা হবে: ‘হে অপরাধীরা! তোমরা আজ আলাদা হয়ে যাও।’
আর ‘হে অপরাধিগণ! তোমরা আজ পৃথক হইয়া যাও।’
وامتازوا اليوم أيها المجرمون
وَٱمْتَٰزُوا۟ ٱلْيَوْمَ أَيُّهَا ٱلْمُجْرِمُونَ
''হে আদম - সন্তানগণ! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিই নি যে তোমরা শয়তানের আরাধনা করবে না, নিঃসন্দেহ সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু, - -
হে বনি আদম! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি: ‘‘তোমরা শয়তানের ইবাদত করোনা, কারণ সে তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।
হে বনী আদম! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দিই নাই যে, তোমরা শয়তানের দাসত্ব করিও না, কারণ সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
۞ ألم أعهد إليكم يا بني آدم أن لا تعبدوا الشيطان ۖ إنه لكم عدو مبين
أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَٰبَنِىٓ ءَادَمَ أَن لَّا تَعْبُدُوا۟ ٱلشَّيْطَٰنَ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
''বরং তোমরা আমারই উপাসনা করো? এটিই তো শুদ্ধ - সঠিক পথ।
আর কেবল আমারই ইবাদত করো, এটাই সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল সঠিক পথ)?’’
আর আমারই ‘ইবাদত কর, ইহাই সরল পথ।
وأن اعبدوني ۚ هذا صراط مستقيم
وَأَنِ ٱعْبُدُونِى هَٰذَا صِرَٰطٌ مُّسْتَقِيمٌ
''আর তোমাদের মধ্যের অনেক বড়বড় দলকে সে বিভ্রান্ত করেই ফেলেছে। তবুও কি তোমরা বুঝেসুঝে চলবে না?
শয়তান তো তোমাদের বহু মানবদলকে পথভ্রান্ত করেছিল, তবু কি তোমরা বুঝতে পারোনি?
শয়তান তো তোমাদের বহু দলকে বিভ্রান্ত করিয়াছিল, তবুও কি তোমরা বুঝ নাই?
ولقد أضل منكم جبلا كثيرا ۖ أفلم تكونوا تعقلون
وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنكُمْ جِبِلًّا كَثِيرًا أَفَلَمْ تَكُونُوا۟ تَعْقِلُونَ
''এটিই হচ্ছে জাহান্নাম যে - সন্বন্ধে তোমাদের ওয়াদা করা হয়েছিল।
এ হলো সেই জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদের দেয়া হয়েছিল।
ইহাই সেই জাহান্নাম, যাহার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হইয়াছিল।
هذه جهنم التي كنتم توعدون
هَٰذِهِۦ جَهَنَّمُ ٱلَّتِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ
''এতে তোমরা প্রবেশ করো আজকের দিনে যেহেতু তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে।’’
এতেই আজ প্রবেশ করো, কারণ তোমরা কুফুরি করেছিলে।
আজ তোমরা ইহাতে প্রবেশ কর; কারণ তোমরা ইহাকে অবিশ্বাস করিয়াছিলে।
اصلوها اليوم بما كنتم تكفرون
ٱصْلَوْهَا ٱلْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ
সেইদিন আমরা তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব, বরং তাদের হাত আমাদের সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে - সন্বন্ধে।
আমরা আজ তাদের মুখ সীলমোহর করে দেবো এবং আমাদের সাথে কথা বলবে তাদের হাত আর সাক্ষ্য দেবে তাদের পা সে সম্পর্কে, যা তারা কামাই করেছিল।
আমি আজ ইহাদের মুখ মোহর করিয়া দিব, ইহাদের হস্ত কথা বলিবে আমার সঙ্গে এবং ইহাদের চরণ সাক্ষ্য দিবে ইহাদের কৃতকর্মের।
اليوم نختم على أفواههم وتكلمنا أيديهم وتشهد أرجلهم بما كانوا يكسبون
ٱلْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰٓ أَفْوَٰهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَآ أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ
আর আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা তাদের চোখের উপরে দৃষ্টিহীনতা এনে দিতাম, তখন তারা পথের দিকে ধাওয়া করত, কিন্তু কেমন করে তারা দেখতে পাবে?
আমরা চাইলে তাদের চোখ বিলুপ্ত (অন্ধ) করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথ চলতে চাইলে কি চলতে পারতো?
আমি ইচ্ছা করিলে অবশ্যই ইহাদের চক্ষুগুলিকে লোপ করিয়া দিতাম, তখন ইহারা পথ চলিতে চাহিলে কি করিয়া দেখিতে পাইত!
ولو نشاء لطمسنا على أعينهم فاستبقوا الصراط فأنى يبصرون
وَلَوْ نَشَآءُ لَطَمَسْنَا عَلَىٰٓ أَعْيُنِهِمْ فَٱسْتَبَقُوا۟ ٱلصِّرَٰطَ فَأَنَّىٰ يُبْصِرُونَ
আর আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা তাদের বাড়িগুলোতেই তাদের নিশ্চল - নিস্তব্ধ করে দিতাম, তখন তারা এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে না, ফিরে আসতেও পারবে না।
আমরা চাইলে তাদের স্বস্থানে তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে বিকৃত করে দিতে পারতাম, তখন তারা কোথাও যেতেও পারতোনা, ফিরেও আসতে পারতোনা
এবং আমি ইচ্ছা করিলে অবশ্যই স্ব স্ব স্থানে ইহাদের আকৃতি পরিবর্তন করিয়া দিতাম, ফলে ইহারা চলিতে পারিত না এবং ফিরিয়াও আসিতে পারিত না।
ولو نشاء لمسخناهم على مكانتهم فما استطاعوا مضيا ولا يرجعون
وَلَوْ نَشَآءُ لَمَسَخْنَٰهُمْ عَلَىٰ مَكَانَتِهِمْ فَمَا ٱسْتَطَٰعُوا۟ مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ
আর যাকে আমরা দীর্ঘ জীবন দান করি তাকে তো আমরা সৃষ্টিতে ঘুরিয়ে দিই। তবুও কি তারা বুঝে না।
আমরা যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তার সৃষ্টিগত প্রকৃতির অবনতি ঘটিয়ে দেই। তবু কি তারা বুঝার চেষ্টা করবেনা?
আমি যাহাকে দীর্ঘ জীবন দান করি প্রকৃতিগতভাবে তাহার অবনতি ঘটাই। তবুও কি উহারা বুঝে না?
ومن نعمره ننكسه في الخلق ۖ أفلا يعقلون
وَمَن نُّعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِى ٱلْخَلْقِ أَفَلَا يَعْقِلُونَ
আর আমরা তাঁকে কবিত্ব শেখাই নি, আর তা তাঁর পক্ষে সমীচীনও নয়। এটি স্মারক গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কুরআন বৈ তো নয়, - -
তাকে (মুহাম্মদকে) আমরা কবিতা রচনা করতে শিখাইনি এবং এটা তাঁর জন্যে উপযুক্ত কাজও নয়। এ - তো একটা উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন ছাড়া আর কিছুই নয়,
আমি রাসূলকে কাব্য রচনা করিতে শিখাই নাই এবং ইহা তাহার পক্ষে শোভনীয় নয়। ইহা তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন;
وما علمناه الشعر وما ينبغي له ۚ إن هو إلا ذكر وقرآن مبين
وَمَا عَلَّمْنَٰهُ ٱلشِّعْرَ وَمَا يَنۢبَغِى لَهُۥٓ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْءَانٌ مُّبِينٌ
যেন তিনি সাবধান করতে পারেন তাকে যে জীবন্ত রয়েছে, আর অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে রায় ন্যায়সঙ্গত হয়েছে।
যাতে সে জীবিত লোকদের সতর্ক করতে পারে এবং যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে শাস্তির ফায়সালা সত্য হতে পারে।
যাহাতে সে সতর্ক করিতে পারে জীবিতগণকে এবং যাহাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা সত্য হইতে পারে।
لينذر من كان حيا ويحق القول على الكافرين
لِّيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ
তারা কি লক্ষ্য করে নি যে আমরাই তো তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি আমাদের হাত যা বানিয়েছে তা থেকে গবাদি - পশুগুলো, তারপর তারাই এগুলোর মালিক হয়ে যায়?
তারা কি দেখেনা, আমরা আমাদের হাতে যেসব জিনিস তৈরি করেছি, তার মধ্যে তাদের জন্যে পশুও তৈরি করেছি এবং তারাই সেগুলোর মালিক হয়?
উহারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমার হাতে সৃষ্ট বস্তুসমূহের মধ্যে উহাদের জন্য আমি সৃষ্টি করিয়াছি ‘আন‘আম’ তথা চতুষ্পদ জন্তু এবং উহারাই এইগুলির অধিকারী?
أولم يروا أنا خلقنا لهم مما عملت أيدينا أنعاما فهم لها مالكون
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّا خَلَقْنَا لَهُم مِّمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَآ أَنْعَٰمًا فَهُمْ لَهَا مَٰلِكُونَ
আর এগুলোকে আমরা তাদের বশীভূত করে দিয়েছি, ফলে এদের মধ্যের কিছু তাদের বাহন আর এদের কিছু তারা খায়।
আর আমরা সেগুলোকে করে দিয়েছি তাদের বশীভূত। ফলে সেগুলোর কিছু পশুকে তারা ব্যবহার করে বাহন হিসেবে, আর তারা আহার করে কিছু পশুর গোশত।
এবং আমি এইগুলিকে তাহাদের বশীভূত করিয়া দিয়াছি। এইগুলির কতক তাহাদের বাহন এবং উহাদের কতক তাহারা আহার করে।
وذللناها لهم فمنها ركوبهم ومنها يأكلون
وَذَلَّلْنَٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ
আর তাদের জন্য এগুলোতে রয়েছে উপকারিতা, আর পানীয় বস্তু। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?
সেগুলোতে তাদের জন্যে রয়েছে বহু রকম মুনাফা, রয়েছে পানীয় (দুধ)। তবু কি তারা শোকর আদায় করবেনা?
তাহাদের জন্য এইগুলিতে আছে বহু উপকারিতা আর আছে পানীয় বস্তু। তবুও কি তাহারা কৃতজ্ঞ হইবে না?
ولهم فيها منافع ومشارب ۖ أفلا يشكرون
وَلَهُمْ فِيهَا مَنَٰفِعُ وَمَشَارِبُ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
আর তারা কে বাদ দিয়ে উপাস্যদের গ্রহণ করেছে যাতে তাদের সাহায্য করা হয়।
অথচ তারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করে এই আশা নিয়ে যে, তাদের সাহায্য করা হবে।
তাহারা তো র পরিবর্তে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করিয়াছে এই আশায় যে, তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে।
واتخذوا من دون الله آلهة لعلهم ينصرون
وَٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ ءَالِهَةً لَّعَلَّهُمْ يُنصَرُونَ
ওরা কোনো ক্ষমতা রাখে না তাদের সাহায্য করার, বরং তারা হবে এদের জন্য এক বাহিনী যাদের হাজির করা হবে।
এসব ইলাহ্ তাদের সাহায্য করার সামর্থ রাখেনা। তাদেরকে তাদের (পূজারীদের) বিরুদ্ধে বাহিনী হিসেবে হাজির করা হবে।
কিন্তু এইসব ইলাহ্ তাহাদেরকে সাহায্য করিতে সক্ষম নয়; তাহাদেরকে উহাদের বাহিনীরূপে উপস্থিত করা হইবে।
لا يستطيعون نصرهم وهم لهم جند محضرون
لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُندٌ مُّحْضَرُونَ
সুতরাং তাদের কথাবার্তা তোমাকে যেন কষ্ট না দেয়। আমরা নিশ্চয়ই জানি যা তারা লুকিয়ে রাখে আর যা তারা প্রকাশ করে।
সুতরাং তাদের কথাবার্তা যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। আমরা জানি তারা যা গোপন করে, আর যা করে প্রকাশ।
অতএব তাহাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। আমি তো জানি যাহা তাহারা গোপন করে এবং যাহা তাহারা ব্যক্ত করে।
فلا يحزنك قولهم ۘ إنا نعلم ما يسرون وما يعلنون
فَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
আচ্ছা, মানুষ কি দেখে না যে আমারা তাকে নিশ্চয়ই এক শুক্রকীট থেকে সৃষ্টি করেছি? তারপর, কি আশ্চর্য! সে একজন প্রকাশ্য বিতর্ককারী হয়ে যায়।
মানুষ কি দেখেনা, আমরা তাদের সৃষ্টি করেছি নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে? কিন্তু তারপর তারা (আমাদের বিরুদ্ধেই) সুস্পষ্ট বিতর্ককারী হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাহাকে সৃষ্টি করিয়াছি শুক্রবিন্দু হইতে ? অথচ পরে সে হইয়া পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী।
أولم ير الإنسان أنا خلقناه من نطفة فإذا هو خصيم مبين
أَوَلَمْ يَرَ ٱلْإِنسَٰنُ أَنَّا خَلَقْنَٰهُ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ
আর সে আমাদের সদৃশ বানায়, আর ভুলে যায় তার নিজের সৃষ্টির কথা। সে বলে - - ''হাড় - গোড়ের মধ্যে কে প্রাণ দেবে যখন তা গলে - পচে যাবে?’’
সে আমাদের সম্পর্কে দৃষ্টান্ত তৈরি করে এবং ভুলে যায় তার সৃষ্টির কথা। সে বলে: ‘পঁচে গলে মাটির সাথে মিশে যাবার পর হাড়গোড়ে কে সঞ্চার করবে প্রাণ?
এবং সে আমার সম্বন্ধে উপমা রচনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলিয়া যায়। সে বলে, ‘কে অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করিবে যখন উহা পচিয়া গলিয়া যাইবে?’
وضرب لنا مثلا ونسي خلقه ۖ قال من يحيي العظام وهي رميم
وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِىَ خَلْقَهُۥ قَالَ مَن يُحْىِ ٱلْعِظَٰمَ وَهِىَ رَمِيمٌ
তুমি বলো - - ''তিনিই তাতে প্রাণ সঞ্চার করবেন যিনি প্রথমবারে তাদের সৃজন করেছিলেন। আর তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা, - -
তুমি বলো: ‘তাতে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনি, যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানী।’
বল, ‘উহার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করিবেন তিনিই যিনি ইহা প্রথমবার সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’
قل يحييها الذي أنشأها أول مرة ۖ وهو بكل خلق عليم
قُلْ يُحْيِيهَا ٱلَّذِىٓ أَنشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
যিনি তোমাদের জন্য সবুজ গাছ থেকে আগুন তৈরি করেন, তারপর দেখো! তোমরা তা দিয়ে আগুন জ্বালো।
তিনি সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্যে সবুজ গাছ থেকে উৎপাদন করেন আগুন এবং তোমরা তা প্রজ্জ্বলিত করো।
তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ হইতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং তোমরা উহা হইতে কর।
الذي جعل لكم من الشجر الأخضر نارا فإذا أنتم منه توقدون
ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُم مِّنَ ٱلشَّجَرِ ٱلْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَآ أَنتُم مِّنْهُ تُوقِدُونَ
আচ্ছা, যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হাঁ, বস্তুতঃ তিনিই তো মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞাতা।
যিনি মহাকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, (অবশ্যি) তিনি মহাজ্ঞানী মহান স্রষ্টা।
যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি কি তাহাদের অনুরূপ সৃষ্টি করিতে সমর্থ নন? হাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
أوليس الذي خلق السماوات والأرض بقادر على أن يخلق مثلهم ۚ بلى وهو الخلاق العليم
أَوَلَيْسَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِقَٰدِرٍ عَلَىٰٓ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُم بَلَىٰ وَهُوَ ٱلْخَلَّٰقُ ٱلْعَلِيمُ
যখন তিনি কোনো - কিছু ইচ্ছা করেন তখন তাঁর নির্দেশ হল যে তিনি সে - সন্বন্ধে শুধু বলেন - - ''হও’’, আর তা হয়ে যায়।
তাঁর সৃষ্টির নির্দেশ কার্যকর হয় তো এভাবে, তিনি যখন কিছু চান, তাকে বলেন, ‘হও’, সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে যায়।
তাঁহার ব্যাপার শুধু এই, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তিনি উহাকে বলেন, ‘হও’, ফলে উহা হইয়া যায়।
إنما أمره إذا أراد شيئا أن يقول له كن فيكون
إِنَّمَآ أَمْرُهُۥٓ إِذَآ أَرَادَ شَيْـًٔا أَن يَقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ
সুতরাং সকল মহিমা তাঁরই যাঁর হাতে রয়েছে সমস্ত কিছুর শাসনভার, আর তাঁরই নিকট তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
সুতরাং পবিত্র ও মহান তিনি, যাঁর হাতে রয়েছে প্রতিটি জিনিসের কর্তৃত্ব এবং তাঁরই কাছে ফেরত নেয়া হবে তোমাদের।
অতএব পবিত্র ও মহান তিনি, যাঁহার হস্তেই প্রত্যেক বিষয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব; আর তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।
فسبحان الذي بيده ملكوت كل شيء وإليه ترجعون
فَسُبْحَٰنَ ٱلَّذِى بِيَدِهِۦ مَلَكُوتُ كُلِّ شَىْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ