Kitab

আল যুমার

Chapter 39, 75 verses

  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • Word by word
জহুরুল হক

এ গ্রন্থের অবতারণ ‌র কাছে থেকে, মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কিতাব তোমার কাছে নাযিল হচ্ছে সত্যিকারভাবে মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়ের পক্ষ থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই কিতাব অবতীর্ণ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় ‌র নিকট হইতে ।

Word by word

تَنزِيلُ ٱلْكِتَٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা তোমার কাছে গ্রন্থখানা অবতারণ করেছি সত্যের সাথে, কাজেই ‌র এবাদত করো তাঁর প্রতি ধর্মে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার কাছে এই কিতাব নাযিল করছি সত্যসহ। অতএব কেবল আল্লাহরই ইবাদত করো নিজের আনুগত্যকে তাঁর জন্যে একনিষ্ঠ করে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার প্রতি এ কিতাব যথার্থরূপে নাযিল করেছি। অতএব, আপনি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করুন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার নিকট এই কিতাব সত্যসহ অবতীর্ণ করিয়াছি। সুতরাং ‌র ‘ইবাদত কর তাঁহার আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া।

Word by word

إِنَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ فَٱعْبُدِ ٱللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ ٱلدِّينَ

জহুরুল হক

খাঁটি ধর্ম কি ‌রই জন্য নয়? আর যারা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে - - ''আমরা তাদের উপাসনা করি না শুধু এজন্য ছাড়া যে তারা আমাদের ‌র নিকটবর্তী অবস্থায় এনে দেবে।’’ নিঃসন্দেহ তাদের মধ্যে বিচার করবেন সেই বিষয়ে যাতে তারা মতভেদ করছিল। নিঃসন্দেহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না যে খোদ মিথ্যাবাদী অবিশ্বাসী।

আবদুস শহীদ নাসিম

একনিষ্ঠ আনুগত্য কেবল আল্লাহর জন্যে। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: ‘আমরা তো তাদের ইবাদত করি কেবল এ জন্যে যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে।’ অবশ্যি তারা যা নিয়ে মতভেদ করছে (কিয়ামতের দিন) সে বিষয়ে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। মিথ্যাবাদী কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।

মুহিউদ্দীন খান

জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত। যারা ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের এবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জানিয়া রাখ, অবিমিশ্র আনুগত্য ‌রই প্রাপ্য। যাহারা ‌র পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তাহারা বলে, ‘আমরা তো ইহাদের পূজা এইজন্যই করি যে, ইহারা আমাদেরকে ‌র সানিধ্যে আনিয়া দিবে।’ উহারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করিতেছে ‌ তাহার ফয়সালা করিয়া দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও , ‌ তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

Word by word

أَلَا لِلَّهِ ٱلدِّينُ ٱلْخَالِصُ وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلْفَىٰٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِى مَا هُمْ فِيهِ يَخْ

জহুরুল হক

যদি কোনো সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন তাহলে তিনি যাদের সৃষ্টি করেছেন তাদের থেকে যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তাকেই তো তিনি পছন্দ করতে পারতেন। সকল মহিমা তাঁরই। তিনিই ‌, - - একক, সর্ববিজয়ী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেনই, তবে তাঁর সৃষ্টির মাঝে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিতেন। কিন্তু সন্তান গ্রহণ থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত। তো এক এবং মহাপরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

যদি সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছা করতেন, তবে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা কিছু ইচ্ছা মনোনীত করতেন, তিনি পবিত্র। তিনি , এক পরাক্রমশালী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ সন্তান গ্রহণ করিতে চাহিলে তিনি তাঁহার সৃষ্টির মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা বাছিয়া লইতেন। পবিত্র ও মহান তিনি! তিনি ‌, এক, প্রবল পরাক্রমশালী।

Word by word

لَّوْ أَرَادَ ٱللَّهُ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا لَّٱصْطَفَىٰ مِمَّا يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ سُبْحَٰنَهُۥ هُوَ ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ

জহুরুল হক

তিনিই মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সত্যের সাথে। তিনি রাতকে দিয়ে দিনের উপরে ছাউনি বানান আর দিনকে ছাউনি বানান রাতের উপরে, এবং সূর্য ও চন্দ্রকে তিনি বশীভূত করেছেন, - - প্রত্যেকেই নির্ধারিত গতিপথে ধাবিত হচ্ছে। তিনিই কি মহাশক্তিশালী পরম ক্ষমাশীল নন?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বাস্তবভাবে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ ও পৃথিবী। তিনি রাতকে দিয়ে দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং দিনকে দিয়ে আচ্ছাদিত করেন রাতকে। তিনি সূর্য এবং চাঁদকে নিয়মের অধীন করেছেন। এরা প্রত্যেকেই ভ্রমণ করে একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত। জেনে রাখো তিনি মহাক্ষমতাধর, অতীব ক্ষমাশীল।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি যথাযথভাবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি রাত্রি দ্বারা দিবসকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিবস দ্বারা। সূর্য ও চন্দ্রকে তিনি করিয়াছেন নিয়মাধীন। প্রত্যেকেই পরিক্রমন করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। জানিয়া রাখ, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

Word by word

خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ يُكَوِّرُ ٱلَّيْلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِى لِأَجَلٍ مُّسَمًّى أَلَا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَف

জহুরুল হক

তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একই সত্ত্বা থেকে, তারপর তা থেকে তিনি বানিয়েছেন তার সঙ্গিনী। আর তিনি তোমাদের জন্য পাঠিয়েছেন গবাদি - পশুর মধ্যে আটটি জোড়ায় জোড়ায়। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মায়েদের পেট থেকে - - এক সৃষ্টির পরে অন্য সৃষ্টির মাধ্যমে, - - তিন স্তর অন্ধকারে। ইনিই হচ্ছেন ‌, তোমাদের প্রভু, তাঁরই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং কোথা থেকে তোমরা ফিরে যাচ্ছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে, তারপর তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে। তিনি তোমাদের দিয়েছেন আট জোড়া (প্রজাতির) গবাদি পশু। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন তোমাদের মাতৃগর্ভে তিনটি অন্ধকার স্তর পার করে। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁরই। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সুতরাং তোমরা মুখ ফিরিয়ে চলেছো কোথায়?

মুহিউদ্দীন খান

তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন একই ব্যক্তি হইতে। অতঃপর তিনি তাহা হইতে তাহার স্ত্রী সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন আট প্রকার আন‘আম তথা চতুষ্পদ জন্তু। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভের ত্রিবিধ অন্ধকারে পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনিই ‌; তোমাদের প্রতিপালক; সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই; তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। তবে তোমরা মুখ ফিরাইয়া কোথায় চলিয়াছ ?

Word by word

خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَٰحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلْأَنْعَٰمِ ثَمَٰنِيَةَ أَزْوَٰجٍ يَخْلُقُكُمْ فِى بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمْ خَلْقًا مِّنۢ بَعْدِ خَلْقٍ فِى ظُلُمَٰتٍ ثَلَ

জহুরুল হক

তোমরা যদি অকৃতজ্ঞতা দেখাও, তবে নিশ্চয়ই তোমাদের সম্পর্কে অনন্যনির্ভর। কিন্তু তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তবে তাতে তিনি তোমাদের প্রতি প্রসন্ন হবেন। আর কোনো ভারবাহী অন্যের বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের প্রভুর নিকটেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করে যাচ্ছিলে। নিঃসন্দেহ বুকের ভেতরে যা আছে সে - সন্বন্ধে তিনি সম্যক অবগত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি কুফুরি করো, তবে জেনে রাখো, তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্যে কুফুরি পছন্দ করেন না। তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তিনি সেটাই পছন্দ করেন তোমাদের জন্যে। কেউই অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। অত:পর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদের অবহিত করবেন তোমরা কী আমল করেছিলে? মনে কী আছে সে বিষয়েও তিনি অবগত।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে তোমাদের থেকে বেপরওয়া। তিনি তাঁর বান্দাদের হয়ে পড়া পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপ ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা অকৃতজ্ঞ হইলে ‌ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন, তিনি তাঁহার বান্দাদের অকৃতজ্ঞতা পসন্দ করেন না। যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তিনি তোমাদের জন্য ইহাই পসন্দ করেন। একের ভার অন্যে বহন করিবে না। অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যাহা করিতে তিনি তোমাদেরকে তাহা অবহিত করিবেন। অন্তরে যাহা আছে তিনি তাহা সম্যক অবগত।

Word by word

إِن تَكْفُرُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ عَنكُمْ وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ ٱلْكُفْرَ وَإِن تَشْكُرُوا۟ يَرْضَهُ لَكُمْ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُم مَّرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُم

জহুরুল হক

আর যখন মানুষকে দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে সে তখন তার প্রভুকে ডাকে তাঁর প্রতি নিষ্ঠাবান হয়ে, তারপর যখন তিনি তাকে তাঁর থেকে অনুগ্রহ প্রদান করেন, সে তখন ভুলে যায় যার জন্য সে ইতিপূর্বে তাঁকে ডেকেছিল, আর সে ‌র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করায় যেন সে তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করতে পারে। বলো - - ''তোমার অকৃতজ্ঞতার মাঝে কিছুকাল সুখভোগ করে নাও, তুমি তো আগুনের বাসিন্দাদের দলভুক্ত।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে তার প্রভুকে ডাকে একনিষ্ঠ মনোভাব নিয়ে। অত:পর যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন সে ভুলে যায় আগে যে সে তাঁকে একনিষ্ঠভাবে ডেকেছিল। সে আল্লাহর শরিক দাঁড় করায় যেনো সে তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলো: কুফুরি নিয়ে জীবনটাকে ক’টা দিন ভোগ করো। জেনে রাখো তুমি জাহান্নামী।

মুহিউদ্দীন খান

যখন মানুষকে দুঃখ - কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার কুফর সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানুষকে যখন দুঃখ - দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে একনিষ্ঠভাবে তাহার প্রতিপালককে ডাকে। পরে যখন তিনি তাহার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন সে বিস্মৃত হইয়া যায়, তাহার পূর্বে যাহার জন্য সে ডাকিয়াছিল তাঁহাকে এবং সে ‌র সমকক্ষ দাঁড় করায়, অপরকে তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত করিবার জন্য। বল, ‘কুফরীর জীবন অবস্থায় তুমি কিছুকাল উপভোগ করিয়া নাও। বস্তুত তুমি জাহান্নামীদের অন্যতম।’

Word by word

وَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَٰنَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُۥ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُۥ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِىَ مَا كَانَ يَدْعُوٓا۟ إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِۦ

জহুরুল হক

সে কি যে রাতের প্রহরগুলোতে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য করে, পরকাল সন্বন্ধে সাবধানতা অবলন্বন করে এবং তার প্রভুর অনুগ্রহ কামনা করে? বলো - - ''যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি একসমান? নিঃসন্দেহ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই শুধু মনোযোগ দেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন অংশে সাজদা করে এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার প্রভুর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার প্রভুর রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যে এসব করেনা? বলো: জ্ঞানীরা আর অজ্ঞরা কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে তো বুদ্ধিমান লোকেরাই।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা - ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ব্যক্তি রাত্রির বিভিন্ন যামে সিজ্‌দাবনত হইয়া ও দাঁড়াইয়া আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তাঁহার প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, সে কি তাহার সমান, যে তাহা করে না ? বল, ‘যাহারা জানে এবং যাহারা জানে না, তাহারা কি সমান ?’ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।

Word by word

أَمَّنْ هُوَ قَٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيْلِ سَاجِدًا وَقَآئِمًا يَحْذَرُ ٱلْءَاخِرَةَ وَيَرْجُوا۟ رَحْمَةَ رَبِّهِۦ قُلْ هَلْ يَسْتَوِى ٱلَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُو۟لُو

জহুরুল হক

তুমি বলে দাও - - ''হে আমার বান্দারা যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের প্রভুকে ভয়ভক্তি করো। যারা এই দুনিয়াতে ভালো কাজ করে তাদের জন্য ভাল রয়েছে। আর ‌র পৃথিবী সুপ্রসারিত। নিঃসন্দেহ অধ্যবসায়ীদের তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হবে হিসাবপত্র ব্যতিরেকে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! আমার পক্ষ থেকে) বলে দাও: ‘হে আমার দাসেরা, যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের প্রভুকে ভয় করো। যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণের কাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ। আল্লাহর জমিন তো প্রশস্ত। ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান দেয়া হবে অফুরন্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। যাহারা এই দুনিয়াতে কল্যাণকর কাজ করে তাহাদের জন্য আছে কল্যাণ। আর ‌র যমীন প্রশস্ত, ধৈর্যশীল - দেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হইবে।’

Word by word

قُلْ يَٰعِبَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ فِى هَٰذِهِ ٱلدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَأَرْضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةٌ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ

জহুরুল হক

বলো - - ''নিঃসন্দেহ আমাকে আদেশ করা হয়েছে আমি যেন ‌র উপাসনা করি তাঁর প্রতি ধর্মকে পূতপবিত্র করে,

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘‘আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, আমি তো আদিষ্ট হইয়াছি, ‌র আনুগত্যে একনিষ্ঠ হইয়া তাঁহার ‘ইবাদত করিতে;

Word by word

قُلْ إِنِّىٓ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ ٱلدِّينَ

জহুরুল হক

''আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আমি আ‌ত্ম - সমর্পণকারীদের অগ্রণী হতে পারি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো হই মুসলিমদের (আত্মসমর্পনকারীদের) প্রথম।’’

মুহিউদ্দীন খান

আরও আদিষ্ট হয়েছি, সর্ব প্রথম নির্দেশ পালনকারী হওয়ার জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর আদিষ্ট হইয়াছি, আমি যেন আত্মসমর্পণকারীদের অগ্রণী হই।’

Word by word

وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ ٱلْمُسْلِمِينَ

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''আমি আলবৎ ভয় করি, যদি আমি আমার প্রভুর অবাধ্যাচরণ করি তবে এক কঠিন দিনের শাস্তি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমি যদি আমার প্রভুর অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহাদিবসের আযাবের আশংকা করি।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, আমি আমার পালনকর্তার অবাধ্য হলে এক মহাদিবসের শাস্তির ভয় করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি মহাদিবসের শাস্তির।’

Word by word

قُلْ إِنِّىٓ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّى عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ

জহুরুল হক

বলো - - ''আমি ‌রই আরাধনা করি তাঁর প্রতি আমার ধর্ম বিশুদ্ধ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমি কেবল আল্লাহরই ইবাদত করি তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে তা’আলারই এবাদত করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমি ‘ইবাদত করি ‌রই তাঁহার প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ রাখিয়া।

Word by word

قُلِ ٱللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَّهُۥ دِينِى

জহুরুল হক

''অতএব তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যাকে ইচ্ছা কর, তার উপাসনা কর।’’ বলো - - ''নিঃসন্দেহ ক্ষতিগ্রস্ত তারা যারা কিয়ামতের দিনে ক্ষতিসাধন করেছে তাদের নিজেদের ও তাদের পরিজনদের। এটিই কি খোদ স্পষ্ট ক্ষতি নয়?”

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইচ্ছা ইবাদত করো। বলো: ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত লোক তারাই, যারা কিয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত করবে নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার পরিজনকে। সাবধান, সেটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার এবাদত কর। বলুন, কেয়ামতের দিন তারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা নিজেদের ও পরিবারবর্গের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনে রাখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর তোমরা ‌র পরিবর্তে যাহার ইচ্ছা তাহার ‘ইবাদত কর।’ বল, ‘ক্ষতিগ্রস্ত তাহারাই যাহারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জানিয়া রাখ, ইহাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’

Word by word

فَٱعْبُدُوا۟ مَا شِئْتُم مِّن دُونِهِۦ قُلْ إِنَّ ٱلْخَٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْخُسْرَانُ ٱلْمُبِينُ

জহুরুল হক

তাদের জন্য তাদের উপর থেকে থাকবে আগুনের আচ্ছাদনী আর তাদের নীচে থেকে থাকবে এক আবরণী। এইভাবে তাঁর বান্দাদের এর দ্বারা ভয় দেখান, অতএব আমাকে ভয়ভক্তি করো, হে আমার বান্দারা!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে থাকবে তাদের উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আগুনের বিছানা। এর মাধ্যমে তার বান্দাদের সতর্ক করেন। হে আমার দাসেরা! তোমরা সতর্ক হও, আমাকে ভয় করো।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে উপর দিক থেকে এবং নীচের দিক থেকে আগুনের মেঘমালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারা তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন যে, হে আমার বান্দাগণ, আমাকে ভয় কর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের জন্য থাকিবে তাহাদের ঊর্ধ্বদিকে অগ্নির আচ্ছাদন এবং নিম্নদিকেও আচ্ছাদন। এতদ্দ্বারা ‌ তাঁহার বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।

Word by word

لَهُم مِّن فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ ٱلنَّارِ وَمِن تَحْتِهِمْ ظُلَلٌ ذَٰلِكَ يُخَوِّفُ ٱللَّهُ بِهِۦ عِبَادَهُۥ يَٰعِبَادِ فَٱتَّقُونِ

জহুরুল হক

আর যারা তাগুতকে এড়িয়ে চলে তাদের পূজাঅর্চনা থেকে, আর ‌র দিকে অনুগত হয় তাদেরই জন্য রয়েছে সুসংবাদ, সেজন্য সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদের - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাগুতের ইবাদত (পূজা, উপাসনা, আনুগত্য) থেকে বিরত থাকবে এবং আল্লাহর অভিমুখী হবে, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার দাসদের সুসংবাদ দাও,

মুহিউদ্দীন খান

যারা শয়তানী শক্তির পূজা - অর্চনা থেকে দূরে থাকে এবং অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। অতএব, সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা তাগূতের পূজা হইতে দূরে থাকে এবং ‌র অভিমুখী হয়, তাহাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে -

Word by word

وَٱلَّذِينَ ٱجْتَنَبُوا۟ ٱلطَّٰغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ لَهُمُ ٱلْبُشْرَىٰ فَبَشِّرْ عِبَادِ

জহুরুল হক

যারা বক্তব্য শোনে এবং তার ভালগুলোর অনুসরণ করে - - এরাই তারা যাদের সৎপথে পরিচালিত করেছেন, আর এরাই স্বয়ং বোধশক্তিসম্পন্ন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে এবং তাতে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। এরাই সেইসব লোক, যাদের হিদায়াত করেছেন এবং তারাই বুদ্ধিমান লোক।

মুহিউদ্দীন খান

যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং উহার মধ্যে যাহা উত্তম তাহা গ্রহণ করে। উহাদেরকে ‌ সৎপথ প্রর্দশন করেন এবং উহারাই বোধশক্তিসম্পন্ন।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ ٱلْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُۥٓ أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ هَدَىٰهُمُ ٱللَّهُ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَٰبِ

জহুরুল হক

তবে কি যার উপরে শাস্তির রায় সাব্যস্ত হয়েছে? তুমি কি তবে তাকে উদ্ধার করতে পার যে আগুনের মধ্যে রয়েছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তিকে রক্ষা করবে কে, যার জন্যে আযাবের আদেশ অবধারিত হয়ে গেছে? তুমি কি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করতে পারবে যে রয়েছে জাহান্নামে?

মুহিউদ্দীন খান

যার জন্যে শাস্তির হুকুম অবধারিত হয়ে গেছে আপনি কি সে জাহান্নামীকে মুক্ত করতে পারবেন?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহার উপর দণ্ডাদেশ অবধারিত হইয়াছে; তুমি কি রক্ষা করিতে পারিবে সেই ব্যক্তিকে, যে জাহান্নামে আছে?

Word by word

أَفَمَنْ حَقَّ عَلَيْهِ كَلِمَةُ ٱلْعَذَابِ أَفَأَنتَ تُنقِذُ مَن فِى ٱلنَّارِ

জহুরুল হক

পক্ষান্তরে যারা তাদের প্রভুকে ভয় - ভক্তি করে তাদের জন্য রয়েছে উঁচু আবাসস্থল, তাদের উপরে উঁচু আবাসস্থল সুপ্রতিষ্ঠিত, তাদের নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি। ‌র ওয়াদা, ওয়াদার খেলাপ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে প্রাসাদ, তার উপরে আরো প্রাসাদ, তার নিচে দিয়ে রয়েছে বহমান নদ নদী নহর। এটা আল্লাহর ওয়াদা। তাঁর ওয়াদার বরখেলাফ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্যে নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ। এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ যাহার উপর নির্মিত আরও প্রাসাদ, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; ইহা ‌র ওয়াদা, ‌ ওয়াদা খেলাফ করেন না।

Word by word

لَٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّن فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِيَّةٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ وَعْدَ ٱللَّهِ لَا يُخْلِفُ ٱللَّهُ ٱلْمِيعَادَ

জহুরুল হক

তুমি কি দেখ না যে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তারপর তাকে মাটিতে স্রোতরূপে প্রবাহিত করেন, তারপর তার দ্বারা তিনি উৎপাদন করেন গাছপালা যাদের বর্ণ বিবিধ ধরনের, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে হলদে হয়ে যেতে দেখতে পাও, তারপর তিনি তাকে খড় কুটো বানিয়ে ফেলেন। নিঃসন্দেহ এতে তো উপদেশ রয়েছে বোধশক্তি - সম্পন্নদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনা, নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, তারপর তিনি তা নির্ঝরের মতো প্রবাহিত করেন জমিনে। তা থেকে উৎপন্ন করেন শস্য নানা বর্ণের, তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি তা দেখতে পাও হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। অবশেষে তিনি তা খড়কুটায় পরিণত করেন। এতে অবশ্যি রয়েছে উপদেশ বুঝবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি দেখনি যে, আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর সে পানি যমীনের ঝর্ণাসমূহে প্রবাহিত করেছেন, এরপর তদ্দ্বারা বিভিন্ন রঙের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তোমরা তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। এরপর তাকে খড় - কুটায় পরিণত করে দেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখ না, ‌ আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর উহা ভূমিতে নির্ঝররূপে প্রবাহিত করেন এবং তদ্দ্বারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর ইহা শুকাইয়া যায় ? ফলে তোমরা ইহা পীতবর্ণ দেখিতে পাও, অবশেষে তিনি উহা খড় - কুটায় পরিণত করেন। ইহাতে অবশ্যই উপদেশ রহিয়াছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য।

Word by word

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَسَلَكَهُۥ يَنَٰبِيعَ فِى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ يُخْرِجُ بِهِۦ زَرْعًا مُّخْتَلِفًا أَلْوَٰنُهُۥ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَىٰهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَجْعَلُهُۥ حُط

জহুরুল হক

যার বুক ইসলামের প্রতি প্রশস্ত করেছেন, ফলে সে তার প্রভুর কাছ থেকে এক আলোকে রয়েছে, সে কি - - ? সুতরাং ধিক্ তাদের জন্য যাদের হৃদয় ‌র স্মরণে সুকঠিন! এরাই রয়েছে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যার বক্ষ খুলে দেন ইসলামের জন্যে এবং যে রয়েছে তার প্রভুর প্রদত্ত আলোতে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যার অবস্থা এ রকম নয়? ধ্বংস সেইসব কঠোর হৃদয় লোকদের জন্যে যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ। এরা রয়েছে সুস্পষ্ট বিপথগামিতায়।

মুহিউদ্দীন খান

যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ ইসলামের জন্য যাহার বক্ষ উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছেন এবং যে তাহার প্রতিপালক - প্রদত্ত আলোতে রহিয়াছে, সে কি তাহার সমান যে এরূপ নয় ? দুর্ভোগ সেই কঠোরহৃদয় ব্যক্তিদের জন্য যাহারা ‌র স্মরণে পরাঙ্মুখ! উহারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।

Word by word

أَفَمَن شَرَحَ ٱللَّهُ صَدْرَهُۥ لِلْإِسْلَٰمِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٍ مِّن رَّبِّهِۦ فَوَيْلٌ لِّلْقَٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ ٱللَّهِ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ

জহুরুল হক

অবতারণ করেছেন শ্রেষ্ঠ বিবৃতি - - একখানা গ্রন্থ, সুবিন্যস্ত, পুনরাবৃত্তিময়, এতে যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে, তারপর তাদের ছাল ও তাদের দিল নরম হয় ‌র স্মরণে। এটিই ‌র পথ - নির্দেশ, এর দ্বারা তিনি পথ দেখিয়ে থাকেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। যাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন, তার জন্য তবে হেদায়তকারীদের কেউ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাযিল করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বার বার পাঠ করা হয়। যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে, এর (পাঠে এবং শ্রবনে) তাদের চর্ম রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে, তারপর তাদের দেহমন কোমল হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হুদা (জ্ঞান ও জীবন পদ্ধতি), তিনি যাকে ইচ্ছা এর দ্বারা পথ দেখান। যাকে বিপথগামী করে দেন, তার কোনো পথ প্রদর্শক নেই।

মুহিউদ্দীন খান

উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ অবতীর্ণ করিয়াছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যাহা সুসমঞ্জস এবং যাহা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। ইহাতে, যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাহাদের দেহমন বিনম্র হইয়া ‌র স্মরণে ঝুঁকিয়া পড়ে। ইহাই ‌র পথনির্দেশ, তিনি উহা দ্বারা যাহাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। ‌ যাহাকে বিভ্রান্ত করেন তাহার কোন পথপ্রদর্শক নাই।

Word by word

ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ ٱلْحَدِيثِ كِتَٰبًا مُّتَشَٰبِهًا مَّثَانِىَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ ذَٰلِكَ هُدَى ٱللَّهِ

জহুরুল হক

যে তার মুখ দিয়ে ঠেকাতে চাইবে কিয়ামতের দিনের কঠোর শাস্তি সে কি - - ? আর অন্যায়কারীদের বলা হবে - - ''তোমরা যা অর্জন করেছিলে তা আস্বাদন করো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল দিয়ে কঠিন আযাব ঠেকাতে চাইবে, সে কি তার সমতুল্য, যে এ থেকে নিরাপদ? যালিমদের বলা হবে: তোমাদের উপার্জনের স্বাদ গ্রহণ করো।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন তার মুখ দ্বারা অশুভ আযাব ঠেকাবে এবং এরূপ জালেমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা করতে তার স্বাদ আস্বাদন কর, - সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তাহার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাইতে চাইবে, সে কি তাহার মত যে নিরাপদ? জালিমদেরকে বলা হইবে, ‘তোমরা যাহা অর্জন করিতে তাহার শাস্তি আস্বাদন কর।’

Word by word

أَفَمَن يَتَّقِى بِوَجْهِهِۦ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَقِيلَ لِلظَّٰلِمِينَ ذُوقُوا۟ مَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ

জহুরুল হক

তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেজন্য শাস্তি তাদের কাছে এসে পড়েছিল এমন দিক থেকে যা তারা বুঝতে পারে নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদের আগেকার লোকেরাও (রসূলদের) প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারপর তাদের গ্রাস করেছিল আযাব এমনভাবে, যা তারা ধারণাও করতে পারেনি।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যারোপ করেছিল, ফলে তাদের কাছে আযাব এমনভাবে আসল, যা তারা কল্পনাও করত না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের পূর্ববর্তিগণও অস্বীকার করিয়াছিল, ফলে শাস্তি এমনভাবে উহাদেরকে গ্রাস করিল যে, উহারা ধারণাও করিতে পারে নাই।

Word by word

كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَأَتَىٰهُمُ ٱلْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ

জহুরুল হক

ফলে তাদের এই দুনিয়ার জীবনেই লাঞ্ছনা আস্বাদ করিয়েছিলেন, আর পরকালের শাস্তি তো আরো বিরাট। তারা যদি জানতো!

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তাদেরকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাও ভোগ করান, আর তাদের আখিরাতের আযাব হবে কঠিনতর। যদি তারা জানতো!

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার স্বাদ আস্বাদন করালেন, আর পরকালের আযাব হবে আরও গুরুতর, যদি তারা জানত!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে ‌ উহাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ভোগ করাইলেন এবং আখিরাতের শাস্তি তো কঠিনতর। যদি ইহারা জানিত!

Word by word

فَأَذَاقَهُمُ ٱللَّهُ ٱلْخِزْىَ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَلَعَذَابُ ٱلْءَاخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ

জহুরুল হক

আর আমরা অবশ্যই এই কুরআনে মানুষের জন্য হরেক রকমের দৃষ্টান্ত ছোঁড়ে মেরেছি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কুরআনে আমরা মানুষের জন্যে সব ধরনের উপমা উপস্থাপন করেছি যাতে করে তারা গ্রহণ করে উপদেশ।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত উপস্থিত করিয়াছি, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে,

Word by word

وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِى هَٰذَا ٱلْقُرْءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

জহুরুল হক

আরবী কুরআন, কোনো জটিলতা বিহীন, যেন তারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করতে পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরবি ভাষার এ কুরআন সম্পূর্ণ বক্রতামুক্ত, যাতে করে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে।

মুহিউদ্দীন খান

আরবী ভাষায় এ কোরআন বক্রতামুক্ত, যাতে তারা সাবধান হয়ে চলে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আরবী ভাষায় এই কুরআন বক্রতামুক্ত, যাহাতে মানুষ সাবধানতা অবলম্বন করে।

Word by word

قُرْءَانًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِى عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

জহুরুল হক

একটি দৃষ্টান্ত ছোড়ে মারছেন - - একজন লোক, তার সঙ্গে রয়েছে অনেক অংশী - দেবতা, পরস্পরের সঙ্গে বিবাদ - রত, আর একজন লোক, একজনের সঙ্গেই অনুরক্ত। এদের দু’জন কি অবস্থার ক্ষেত্রে একসমান? সমস্ত প্রশংসা ‌র, কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন: এক ব্যক্তির প্রভু অনেক, তারা পরস্পর বিরোধী মনোভাবের। আরেক ব্যক্তির প্রভু শুধুমাত্র একজন। এই দুইজনের অবস্থা কি সমান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানেনা।

মুহিউদ্দীন খান

এক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেনঃ একটি লোকের উপর পরস্পর বিরোধী কয়জন মালিক রয়েছে, আরেক ব্যক্তির প্রভু মাত্র একজন - তাদের উভয়ের অবস্থা কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করিতেছেন : এক ব্যক্তির প্রভু অনেক, যাহারা পরস্পর বিরুদ্ধভাবাপন্ন এবং আর এক ব্যক্তির প্রভু কেবল একজন; এই দুইজনের অবস্থা কি সমান ? প্রশংসা ‌রই প্রাপ্য ; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।

Word by word

ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًا رَّجُلًا فِيهِ شُرَكَآءُ مُتَشَٰكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِّرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

জহুরুল হক

তুমি তো নিশ্চয় মৃত্যুবরণ করবে, আর তারাও নিশ্চয়ই মৃত্যুমুখে পড়বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমিও মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি তো মরণশীল এবং উহারাও মরণশীল।

Word by word

إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ

জহুরুল হক

তারপর কিয়ামতের দিনে নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভুর সামনে তোমরা একেঅন্যে বাকবিতন্ডা করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর কিয়ামতের দিন তোমরা তোমাদের প্রভুর সামনে নিজ নিজ অভিযোগ পেশ করবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা সবাই তোমাদের পালনকর্তার সামনে কথা কাটাকাটি করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর কিয়ামত দিবসে তোমরা তো পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাকবিতণ্ডা করিবে।

Word by word

ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ عِندَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ

জহুরুল হক

তবে তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে ‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে এবং সত্য প্রত্যাখ্যান করে যখন তা তার কাছে আসে? জাহান্নামে কি অবিশ্বাসীদের জন্য একটি আবাসস্থল নেই?

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং সত্য আসার পর সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে। কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে এবং তার কাছে সত্য আগমন করার পর তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তার চেয়ে অধিক যালেম আর কে হবে? কাফেরদের বাসস্থান জাহান্নামে নয় কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ব্যক্তি ‌ সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এবং সত্য আসিবার পর উহা অস্বীকার করে তাহার অপেক্ষা অধিক আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?

Word by word

فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَبَ عَلَى ٱللَّهِ وَكَذَّبَ بِٱلصِّدْقِ إِذْ جَآءَهُۥٓ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَٰفِرِينَ

জহুরুল হক

আর যারা সত্য নিয়ে এসেছে ও একে সত্য বলে স্বীকার করেছে এরাই খোদ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে সত্য (কুরআন) নিয়ে এসেছে এবং (যারা) সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই ।

মুহিউদ্দীন খান

যারা সত্য নিয়ে আগমন করছে এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে; তারাই তো খোদাভীরু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা সত্য আনিয়াছে এবং যাহারা সত্যকে সত্য বলিয়া মানিয়াছে তাহারাই তো ।

Word by word

وَٱلَّذِى جَآءَ بِٱلصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِۦٓ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُتَّقُونَ

জহুরুল হক

তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তারা যা চায় তাই। এটিই হচ্ছে সৎকর্মীদের পুরস্কার, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে সবই তারা যা চাইবে। এটাই পুণ্যবানদের পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে পালনকর্তার কাছে তাই রয়েছে, যা তারা চাইবে। এটা সৎকর্মীদের পুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাদের বাঞ্ছিত সমস্ত কিছুই আছে ইহাদের প্রতিপালকের নিকট। ইহাই সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কার।

Word by word

لَهُم مَّا يَشَآءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْمُحْسِنِينَ

জহুরুল হক

কাজেই তারা যা করেছিল তার মন্দতম তাদের থেকে মুছে দেবেন, আর তারা যা করে চলেছে তার জন্য তিনি তাদের পারিশ্রমিক শ্রেষ্ঠতমভাবে তাদের প্রদান করবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল তা ক্ষমা করে দেন এবং তাদেরকে তাদের উত্তম আমলের জন্যে প্রদান করেন পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তাদের মন্দ কর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের উত্তম কর্মের পুরস্কার তাদেরকে দান করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাতে ইহারা যেসব মন্দ কর্ম করিয়াছিল ‌ তাহা ক্ষমা করিয়া দেন এবং ইহাদেরকে ইহাদের সৎকর্মের জন্য পুরস্কৃত করেন।

Word by word

لِيُكَفِّرَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأَ ٱلَّذِى عَمِلُوا۟ وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ ٱلَّذِى كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

জহুরুল হক

কি তাঁর বান্দাদের জন্য যথেষ্ট নন? তথাপি তারা তোমাকে ভয় দেখাতে চায় তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যদের দ্বারা। আর যাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন তার জন্য তবে হেদায়তকারী কেউ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

কি তার বান্দার জন্যে যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। যাকে গোমরাহ করে দেন, তার জন্যে কোনো পথ প্রদর্শক নেই।

মুহিউদ্দীন খান

কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়। যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ কি তাঁহার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন ? অথচ তাহারা তোমাকে ‌র পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। ‌ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাহার কােন পথপ্রর্দশক নাই।

Word by word

أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُۥ وَيُخَوِّفُونَكَ بِٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍ

জহুরুল হক

আর যাকে পথ দেখান তার জন্য তবে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। কি মহাশক্তিশালী, শেষ - পরিণতির অধিকর্তা নন?

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাকে সঠিক পথ দেখান, তাকে বিপথগামী করারও কেউ নেই। কি মহাপরাক্রমশালী এবং প্রতিশোধ গ্রহণে ক্ষমতাবান নন?

মুহিউদ্দীন খান

আর যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। কি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহাকে ‌ হিদায়াত করেন তাহার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নাই; ‌ কি পরাক্রমশালী, দণ্ডবিধায়ক নন ?

Word by word

وَمَن يَهْدِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن مُّضِلٍّ أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِعَزِيزٍ ذِى ٱنتِقَامٍ

জহুরুল হক

আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস কর 'কে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,’ তারা নিশ্চয়ই বলবে '‌’। তুমি বলো - - ''তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ - - তোমরা ‌কে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা করছ, যদি আমার জন্য দুঃখকষ্ট চেয়ে থাকেন তবে কি তারা তাঁর কষ্ট দূর করতে পারবে, অথবা তিনি যদি আমার জন্য করুণা চেয়ে থাকেন তবে কি তারা তাঁর অনুগ্রহকে রোধ করতে পারবে? বলো - - ''‌ই আমার জন্য যথেষ্ট। তাঁরই উপরে নির্ভর করুক নির্ভরশীল সব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘কে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবী?’ তারা অবশ্যি বলবে: ‘’। বলো: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, আমার কোনো অনিষ্ট করতে চাইলে, তারা কি আমার সেই অনিষ্ট দূর করে দিতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করতে চান, তারা কি সেই অনুগ্রহ প্রতিরোধ করতে পারবে?’ বলো: ‘আল্লাহ্ই আমার জন্যে যথেষ্ট, তাওয়াক্কুলকারীরা তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল করে।’

মুহিউদ্দীন খান

যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে - । বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি যদি ইহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করিয়াছেন? উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘‌।’ বল, ‘তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, ‌ আমার অনিষ্ট চাহিলে তোমরা ‌র পরিবর্তে যাহাদেরকে ডাক তাহারা কি সেই অনিষ্ট দূর করিতে পারিবে ? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করিতে চাহিলে তাহারা কি সেই অনুগ্রহকে রোধ করিতে পারিবে ?’ বল, ‘আমার পক্ষে ‌ই যথষ্টে।’ নির্ভরকারীগণ ‌রই উপর নির্ভর করে।

Word by word

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ قُلْ أَفَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَنِىَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَٰشِفَٰتُ ضُرِّهِۦٓ أَوْ أَرَا

জহুরুল হক

বলো - - ''হে আমার লোকদল! তোমাদের স্থানে কাজ করে যাও, আমিও নিঃসন্দেহ কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে কাজ করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করে যাচ্ছি, অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের জায়গায় কাজ কর, আমিও কাজ করছি। সত্ত্বরই জানতে পারবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা স্ব স্ব অবস্থায় কাজ করিতে থাক, আমিও আমার কাজ করিতেছি। শীঘ্রই জানিতে পারিবে -

Word by word

قُلْ يَٰقَوْمِ ٱعْمَلُوا۟ عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّى عَٰمِلٌ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ

জহুরুল হক

''কে সে যার কাছে আসছে শাস্তি যা তাকে লাঞ্ছিত করবে, আর কার উপরে বিধেয় হয়েছে স্থায়ী শাস্তি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

কার উপর এসে পড়ে অপমানকর আযাব এবং কার জন্যে বৈধ হয়ে যাবে স্থায়ী আযাব?’’

মুহিউদ্দীন খান

কার কাছে অবমাননাকর আযাব এবং চিরস্থায়ী শাস্তি নেমে আসে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘কাহার উপর আসিবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আর আপতিত হইবে তাহার উপর স্থায়ী শাস্তি।’

Word by word

مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُّقِيمٌ

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা তোমার কাছে গ্রন্থখানা অবতারণ করেছি মানবজাতির জন্য সত্যের সাথে, সুতরাং যে - কেউ সৎপথ অবলন্বন করে সে তো তবে তার নিজের জন্যে, এবং যে কেউ ভ্রান্ত পথে চলে, সে তো বিভ্রান্ত হয় তার নিজেরই বিরুদ্ধে। আর তুমি তো তাদের উপরে কর্ণধার নও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মানবজাতির জন্যে বাস্তবতার ভিত্তিতে তোমার প্রতি নাযিল করেছি আল কিতাব (আল কুরআন), এখন যে কেউ সঠিক পথ গ্রহণ করবে, তাতে তারই কল্যাণ হবে, আর যে কেউ বিপথগামী হবে, সে ডেকে আনবে নিজেরই ধ্বংস। তুমি তাদের উকিল নও।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার প্রতি সত্য ধর্মসহ কিতাব নাযিল করেছি মানুষের কল্যাণকল্পে। অতঃপর যে সৎপথে আসে, সে নিজের কল্যাণের জন্যেই আসে, আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে নিজেরই অনিষ্টের জন্যে পথভ্রষ্ট হয়। আপনি তাদের জন্যে দায়ী নন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি মানুষের জন্য; অতঃপর যে সৎপথ অবলম্বন করে সে তাহা করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং যে বিপথগামী হয় সে তো বিপথগামী হয় নিজেরই ধ্বংসের জন্য এবং তুমি উহাদের তত্বাবধায়ক নও।

Word by word

إِنَّآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ لِلنَّاسِ بِٱلْحَقِّ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَلِنَفْسِهِۦ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَآ أَنتَ عَلَيْهِم بِوَكِيلٍ

জহুরুল হক

আ‌ত্মাগুলো গ্রহণ করেন তাদের মৃত্যুর সময়ে, আর যারা মরে না তাদের ঘুমের মধ্যে, তারপর তিনি রেখে দেন তাদের ক্ষেত্রে যাদের উপরে মৃত্যু অবধারিত করেছেন, আর অন্যগুলো ফেরত পাঠান একটি নির্ধারিত কাল পর্যন্ত। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সমস্ত প্রাণীর ওফাত ঘটান তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু এখনো আসেনি তাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। তারপর তিনি যার জন্যে মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন, তার প্রাণ তিনি ধরে রাখেন আর অন্যদের প্রাণ ফেরত দেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। এতে রয়েছে নিদর্শন, চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ই প্রাণ হরণ করেন জীবসমূহের তাহাদের মৃত্যুর সময় এবং যাহাদের মৃত্যু আসে নাই তাহাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। অতঃপর তিনি যাহার জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন তাহার প্রাণ তিনি রাখিয়া দেন এবং অপরগুলি ফিরাইয়া দেন, এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

Word by word

ٱللَّهُ يَتَوَفَّى ٱلْأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَٱلَّتِى لَمْ تَمُتْ فِى مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ ٱلَّتِى قَضَىٰ عَلَيْهَا ٱلْمَوْتَ وَيُرْسِلُ ٱلْأُخْرَىٰٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ

জহুরুল হক

অথবা তারা কি ‌কে বাদ দিয়ে সুপারিশকারীদের ধরেছে? তুমি বলো - - ''কি! যদিও তারা হচ্ছে এমন যে তারা কোনো - কিছুতেই কোনো ক্ষমতা রাখে না আর কোনো জ্ঞানবুদ্ধিও রাখে না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের সুপারিশকারী ধরেছে? তাদের বলো: ‘তাদের কোনো ক্ষমতা না থাকলেও এবং তারা কোনো কিছু না বুঝলেও কি (তারা সুপারিশ করবে)?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি ব্যতীত সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, তাদের কোন এখতিয়ার না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে কি উহারা ‌ ব্যতীত অপরকে সুপারিশকারী ধরিয়াছে ? বল, ‘উহাদের কোন ক্ষমতা না থাকিলেও এবং উহারা না বুঝিলেও ?’

Word by word

أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا۟ لَا يَمْلِكُونَ شَيْـًٔا وَلَا يَعْقِلُونَ

জহুরুল হক

বলো - - ''সুপারিশ সর্বতোভাবে ‌রই জন্যে। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তাঁরই, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘সমস্ত শাফায়াত (সুপারিশ) আল্লাহর এখতিয়ারে, মহাকাশ এবং পৃথিবীর কর্তৃত্ব তাঁরই। তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তাঁর দিকেই।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, আসমান ও যমীনে তাঁরই সাম্রাজ্য। অতঃপর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘সকল সুপারিশ ‌রই ইখ্‌তিয়ারে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব ‌রই, অতঃপর তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হইবে।’

Word by word

قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَٰعَةُ جَمِيعًا لَّهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

জহুরুল হক

আর যখন ‌র, তাঁর একত্বের উল্লেখ করা হয় তখন, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের হৃদয় সংকূচিত হয়, পক্ষান্তরে যখন তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যারা রয়েছে, তাদের উল্লেখ করা হয় তখন দেখো! তারা উল্লাস করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

শুধু এক এবং একমাত্র আল্লাহর কথা বলা হলে আখিরাতে অবিশ্বাসীদের অন্তর বিরাগ বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়ে যায়। আল্লাহর পরিবর্তে দেবতাগুলোকে উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠে।

মুহিউদ্দীন খান

যখন খাঁটিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন ব্যতীত অন্য উপাস্যদের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শুধু এক ‌র কথা বলা হইলে যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং ‌র পরিবর্তে উপাস্যগুলির উল্লেখ করা হইলে তাহারা আনন্দে উল্লসিত হয়।

Word by word

وَإِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَحْدَهُ ٱشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''হে ‌! মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি - স্রষ্টা! ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমি বিচার করে দাও সেই বিষয়ে যাতে তারা মতবিরোধ করছিল।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আয় ! মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও গায়েবের জ্ঞানী, তোমার বান্দারা যে বিষয়ে এখতেলাফ (মতবিরোধ) করছে, তুমিই তার ফায়সালা করে দেবে।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, হে আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মত বিরোধ করত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে ‌! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তোমার বান্দাগণ যে বিষয়ে মতবিরোধ করে, তুমি তাহাদের মধ্যে উহার ফয়সালা করিয়া দিবে।’

Word by word

قُلِ ٱللَّهُمَّ فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ عَٰلِمَ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِى مَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ

জহুরুল হক

আর যারা অন্যায়াচরণ করছিল তাদের জন্য যদি পৃথিবীতে যা আছে সে - সবটাই থাকত এবং তার সঙ্গে এর সমান আরও, তারা এর দ্বারা পরিত্রাণ পেতে চাইত কিয়ামতের দিনের শাস্তির ভীষণতা থেকে। আর ‌র কাছ থেকে এমন তাদের সামনে পরিস্ফুট হবে যা তারা কখনো হিসেব করে দেখে নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা যুলুম করে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলো এবং আরো সমপরিমাণ সম্পদও যদি তাদের থাকে, তবে কিয়ামতের দিন কঠিন আযাব থেকে বাঁচার জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে তারা সবই দিয়ে দেবে। আর তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট থেকে এমন কিছু প্রকাশ হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।

মুহিউদ্দীন খান

যদি গোনাহগারদের কাছে পৃথিবীর সবকিছু থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে অবশ্যই তারা কেয়ামতের দিন সে সবকিছুই নিস্কৃতি পাওয়ার জন্যে মুক্তিপন হিসেবে দিয়ে দেবে। অথচ তারা দেখতে পাবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন শাস্তি, যা তারা কল্পনাও করত না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা জুলুম করিয়াছে যদি তাহাদের থাকে, দুনিয়ায় যাহা আছে তাহা সম্পূর্ণ এবং ইহার সমপরিমাণ সম্পদও, তবে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি হইতে মুক্তিপণস্বরূপ সেই সকলই তাহারা দিয়া দিবে এবং তাহাদের জন্য ‌র নিকট হইতে এমন কিছু প্রকাশিত হইবে যাহা উহারা কল্পনাও করে নাই।

Word by word

وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مَا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُۥ مَعَهُۥ لَٱفْتَدَوْا۟ بِهِۦ مِن سُوٓءِ ٱلْعَذَابِ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَبَدَا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُوا۟ يَحْتَسِبُونَ

জহুরুল হক

আর তারা যা অর্জন করেছিল তার মন্দ তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে, আর যা নিয়ে তারা বিদ্রূপ করত তা তাদের ঘিরে ফেলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্ট পরিণাম তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং তারা যে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো, তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে নেবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর দেখবে, তাদের দুস্কর্মসমূহ এবং যে বিষয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করত, তা তাদেরকে ঘিরে নেবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল উহাদের নিকট প্রকাশ হইয়া পড়িবে এবং উহারা যাহা লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপ করিত তাহা উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিবে।

Word by word

وَبَدَا لَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُوا۟ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ

জহুরুল হক

কিন্তু যখন কোনো দুঃখকষ্ট মানুষকে স্পর্শ করে তখন সে আমাদের ডাকে, তারপর যখন আমরা তাকে আমাদের থেকে অনুগ্রহ প্রদান করি, সে বলে - - ''আমাকে তো এ দেওয়া হয়েছে জ্ঞানের দরুন।’’ বস্তুতঃ এ এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন তারা আমাদেরকে ডাকে, কিন্তু যখনই তাদেরকে আমরা কোনো নিয়ামত দিয়ে অনুগ্রহ করি, তখন সে বলে: ‘আমি তো এটা লাভ করেছি আমার বিশেষ জ্ঞানের কারণে।’ বরং এটা একটা পরীক্ষা, কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা জানেনা।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষকে যখন দুঃখ - কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকতে শুরু করে, এরপর আমি যখন তাকে আমার পক্ষ থেকে নেয়ামত দান করি, তখন সে বলে, এটা তো আমি পূর্বের মতেই প্রাপ্ত হয়েছি। অথচ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানুষকে বিপদ - আপদ স্পর্শ করিলে সে আমাকে আহ্বান করে; অতঃপর যখন আমি আমার কোন নিয়ামত দ্বারা তাহাকে অনুগৃহীত করি তখন সে বলে, ‘আমাকে তো ইহা দেওয়া হইয়াছে আমার জ্ঞানের কারণে।’ বস্তুত ইহা এক পরীক্ষা, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই বুঝে না।

Word by word

فَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَٰنَ ضُرٌّ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَٰهُ نِعْمَةً مِّنَّا قَالَ إِنَّمَآ أُوتِيتُهُۥ عَلَىٰ عِلْمٍۭ بَلْ هِىَ فِتْنَةٌ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

জহুরুল হক

তাদের আগে যারা ছিল তারাও এটাই বলে থাকত, কিন্তু তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের কোনো কাজে আসে নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আগেকার লোকেরাও এ রকমই বলতো, কিন্তু তাদের যাবতীয় অর্জন তাদের কোনো কাজেই আসেনি।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের পূর্ববর্তীরাও তাই বলত, অতঃপর তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন উপকারে আসেনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাদের পূর্ববর্তিগণও ইহাই বলিত, কিন্তু উহাদের কৃতকর্ম উহাদের কোন কাজে আসে নাই।

Word by word

قَدْ قَالَهَا ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ

জহুরুল হক

কাজেই তারা যা অর্জন করেছিল তার মন্দ তাদের পাকড়াও করল। আর এদের মধ্যে যারা অন্যায়াচরণ করছে তাদের উপরেও তারা যা অর্জন করেছে তার মন্দ অচিরেই আপতিত হবে, আর তারা এড়িয়ে যাবার পাত্র নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তাদের সমস্ত মন্দ অর্জন আর মন্দ কৃতকর্ম। (এখনকার) এদের মধ্যেও যারা যুলুম করে তাদের উপরও তাদের মন্দ কৃতকর্মের ফল আপতিত হবে, এবং তারা তা ঠেকাতে পারবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের দুস্কর্ম তাদেরকে বিপদে ফেলেছে, এদের মধ্যেও যারা পাপী, তাদেরকেও অতি সত্ত্বর তাদের দুস্কর্ম বিপদে ফেলবে। তারা তা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল উহাদের উপর আপতিত হইয়াছে, উহাদের মধ্যে যাহারা জুলুম করে উহাদের উপরও উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল আপতিত হইবে এবং উহারা ব্যর্থও করিতে পারিবে না।

Word by word

فَأَصَابَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُوا۟ وَٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنْ هَٰٓؤُلَآءِ سَيُصِيبُهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُوا۟ وَمَا هُم بِمُعْجِزِينَ

জহুরুল হক

তারা কি জানে না যে রিযেক বাড়িয়ে দেন যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন এবং মেপে - জোখেও দেন। নিশ্চয় এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে ঈমান আনে এমন লোকদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জানেনা, যাকে চান রিযিক প্রশস্ত করে দেন, আর যাকে চান সীমিত করে দেন? অবশ্যি লোকদের জন্যে এতে রয়েছে নিদর্শন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি জানেনি যে, যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত দেন। নিশ্চয় এতে সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারা কি জানে না, ‌ যাহার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন অথবা যাহার জন্য ইচ্ছা সীমিত করেন? ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে সম্প্রদায়ের জন্য।

Word by word

أَوَلَمْ يَعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

জহুরুল হক

তুমি বলে দাও - - ''হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের বিরুদ্ধে অমিতাচার করেছ! তোমরা ‌র করুণা হতে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করেও দেন। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! লোকদেরকে আমার একথা) বলে দাও: ‘‘হে আমার দাসেরা! যারা নিজেদের প্রতি যুলুম - অবিচার করেছো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা, সমস্ত পাপই ক্ষমা করে দেবেন, কারণ তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যাহারা নিজেদের প্রতি অবিচার করিয়াছ ‌র অনুগ্রহ হইতে নিরাশ হইও না; ‌ সমুদয় পাপ ক্ষমা করিয়া দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

Word by word

قُلْ يَٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

জহুরুল হক

''আর তোমাদের প্রভুর দিকে ফেরো এবং তোমাদের উপরে শাস্তি আসার আগেভাগে তাঁর প্রতি পূর্ণ আ‌ত্মসমর্পণ করো, তখন আর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ক্ষমা লাভের উপায় হলো) তোমরা তোমাদের প্রভুর অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো তোমাদের উপর আযাব এসে যাবার আগেই, তখন কিন্তু তোমাদের আর সাহায্য করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁহার নিকট আত্মসর্মপণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসিবার পূর্বে; তৎপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হইবে না।

Word by word

وَأَنِيبُوٓا۟ إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا۟ لَهُۥ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ

জহুরুল হক

''আর তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে তোমাদের নিকট যা শ্রেষ্ঠ অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করো তোমাদের উপরে অতর্কিতভাবে শাস্তি এসে পড়ার আগেই, যখন তোমরা খেয়াল করছ না - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা অনুসরণ করো তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে যে উত্তম (কিতাব) নাযিল হয়েছে সেটিকে, তোমাদের প্রতি হঠাৎ তোমাদের বুঝে উঠার আগেই আযাব এসে যাবার পূর্বে,

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ উত্তম বিষয়ের অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতে ও অজ্ঞাতসারে আযাব আসার পূর্বে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অনুসরণ কর তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে উত্তম যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহার, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে শাস্তি আসিবার পূর্বে -

Word by word

وَٱتَّبِعُوٓا۟ أَحْسَنَ مَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ

জহুরুল হক

''পাছে কোনো সত্ত্বাকে বলতে হয় - - 'হায় আফসোস আমার জন্য যে ‌র প্রতি কর্তব্যে আমি অবহেলা করছিলাম! আর আমি তো ছিলাম বিদ্রূপকারীদের দলের’,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন যাতে কাউকেও বলতে না হয়: ‘হায়, আল্লাহর প্রতি কর্তব্য পালনে আমি যে গাফলতি করেছি তার জন্যে আফসুস্! আমি তো বিদ্রুপকারীদেরই একজন ছিলাম।’

মুহিউদ্দীন খান

যাতে কেউ না বলে, হায়, হায়, সকাশে আমি কর্তব্যে অবহেলা করেছি এবং আমি ঠাট্টা - বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাতে কাহাকেও বলিতে না হয়, ‘হায়! ‌র প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করিয়াছি তাহার জন্য আফসোস! আমি তো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’

Word by word

أَن تَقُولَ نَفْسٌ يَٰحَسْرَتَىٰ عَلَىٰ مَا فَرَّطتُ فِى جَنۢبِ ٱللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ ٱلسَّٰخِرِينَ

জহুরুল হক

'অথবা তাকে বলতে হয় - - - ' যদি আমাকে সৎপথ দেখাতেন তাহলে আমি নিশ্চয়ই ধর্মভীরুদের মধ্যেকার হতাম’,

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা একথা বলতে না হয়: ‘ যদি আমাকে হিদায়াত করতেন, তবে অবশ্যি আমি মুত্তাকিদের অন্তরভুক্ত হতাম।’

মুহিউদ্দীন খান

অথবা না বলে, যদি আমাকে পথপ্রদর্শন করতেন, তবে অবশ্যই আমি পরহেযগারদের একজন হতাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথবা কেহ যেন না বলে, ‌ আমাকে পথপ্রদর্শন করিলে আমি তো অবশ্যই মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হইতাম।’

Word by word

أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ ٱللَّهَ هَدَىٰنِى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُتَّقِينَ

জহুরুল হক

''অথবা বলতে হয় যখন সে শাস্তি প্রত্যক্ষ করে - - 'যদি আমার জন্য আরেকটা সুযোগ হতো তাহলে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা আযাব দেখার পর একথা বলতে না হয়: ‘হায়, আমাকে যদি একবার পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হতো, তাহলে অবশ্যি আমি পুণ্যবানদের অন্তরভুক্ত হতাম।’’

মুহিউদ্দীন খান

অথবা আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় না বলে, যদি কোনরূপে একবার ফিরে যেতে পারি, তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে যাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিলে যেন কাহাকেও বলিতে না হয়, ‘আহা, যদি একবার পৃথিবীতে আমার প্রত্যাবর্তন ঘটিত তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হইতাম!’

Word by word

أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى ٱلْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِى كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ ٱلْمُحْسِنِينَ

জহুরুল হক

''না, তোমার কাছে তো আমার বাণীসমূহ এসেই ছিল, কিন্তু তুমি সে - সব প্রত্যাখ্যান করেছিলে আর তুমি হামবড়াই করেছিলে, আর তুমি হয়েছিলে অবিশ্বাসীদের একজন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হাঁ, তোমার কাছে তো আমার আয়াত এসেই ছিলো, কিন্তু তুমি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে এবং হঠকারিতা প্রদর্শন করেছিলে এবং কাফিরদের অন্তরভুক্ত হয়েছিলে।

মুহিউদ্দীন খান

হাঁ, তোমার কাছে আমার নির্দেশ এসেছিল; অতঃপর তুমি তাকে মিথ্যা বলেছিলে, অহংকার করেছিলে এবং কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গিয়েছিলে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রকৃত ব্যাপার তো এই যে, আমার নিদর্শন তোমার নিকট আসিয়াছিল, কিন্তু তুমি এইগুলিকে মিথ্যা বলিয়াছিলে ও অহংকার করিয়াছিলে; আর তুমি তো ছিলে কাফিরদের একজন।

Word by word

بَلَىٰ قَدْ جَآءَتْكَ ءَايَٰتِى فَكَذَّبْتَ بِهَا وَٱسْتَكْبَرْتَ وَكُنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ

জহুরুল হক

আর কিয়ামতের দিনে তুমি দেখতে পাবে তাদের যারা ‌কে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের মুখমন্ডল কালিমাচ্ছন্ন। জাহান্নামে কি গর্বিতদের জন্য আবাসস্থল নেই?

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামতের দিন আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারীদের চেহারা দেখবে কালো! দাম্ভিকদের (উপযুক্ত) আবাস কি জাহান্নামই নয়?

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, কেয়ামতের দিন আপনি তাদের মুখ কাল দেখবেন। অহংকারীদের আবাসস্থল জাহান্নামে নয় কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তুমি কিয়ামতের দিন তাহাদের মুখ কালো দেখিবে। উদ্ধতদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয় ?

Word by word

وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ تَرَى ٱلَّذِينَ كَذَبُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ وُجُوهُهُم مُّسْوَدَّةٌ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْمُتَكَبِّرِينَ

জহুরুল হক

আর যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে তাদের উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যময় স্থানসমূহে, মন্দ তাদের স্পর্শ করবে না, আর তারা দুঃখও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকওয়া অবলম্বনকারীদের সেদিন উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ। তাদেরকে স্পর্শ করবেনা অমঙ্গল আর তারা কোনো দুঃখ - দুশ্চিন্তায়ও থাকবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা শিরক থেকে বেঁচে থাকত, তাদেরকে সাফল্যের সাথে মুক্তি দেবেন, তাদেরকে অনিষ্ট স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিবেন তাহাদের সাফল্যসহ; তাহাদেরকে অমঙ্গল স্পর্শ করিবে না এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।

Word by word

وَيُنَجِّى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ ٱلسُّوٓءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

জহুরুল হক

সব - কিছুর স্রষ্টা, আর তিনি সব - কিছুর উপরে কর্ণধার।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিটি বস্ত্তর স্রষ্টা । তিনিই প্রতিটি বস্তুর উকিল (কর্মসম্পাদক)।

মুহিউদ্দীন খান

সর্বকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ সমস্ত কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর কর্মবিধায়ক।

Word by word

ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَىْءٍ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ وَكِيلٌ

জহুরুল হক

মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর চাবিকাঠি তাঁরই নিকট। আর যারা ‌র নির্দেশসমূহে অবিশ্বাস করে তারাই স্বয়ং ক্ষতিগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর চাবির মালিক তিনিই। যারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি কুফুরি করে তারাই আসল ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

আসমান ও যমীনের চাবি তাঁরই নিকট। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কুঞ্জি তাঁহারই নিকট। আর যাহারা ‌র আয়াতকে অস্বীকার করে তাহারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।

Word by word

لَّهُۥ مَقَالِيدُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''তবে কি তোমরা আমাকে আদেশ করছ যে আমি ছাড়া অন্যের উপাসনা করি, ওহে মূর্খজনেরা!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘হে জাহিলরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ইবাদত করতে বলছো?’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, হে মুর্খরা, তোমরা কি আমাকে ব্যতীত অন্যের এবাদত করতে আদেশ করছ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা ! তোমরা কি আমাকে ‌ ব্যতীত অন্যের ‘ইবাদত করিতে বলিতেছ ?’

Word by word

قُلْ أَفَغَيْرَ ٱللَّهِ تَأْمُرُوٓنِّىٓ أَعْبُدُ أَيُّهَا ٱلْجَٰهِلُونَ

জহুরুল হক

আর তোমার কাছে ও তোমার আগে যারা ছিলেন তাঁদের কাছে নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে - - ''যদি তুমি শরিক কর তাহলে তোমার কাজকর্ম নিশ্চয়ই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি নিশ্চয়ই হয়ে যাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যেকার।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তী (রসূলদের) প্রতি এই অহিই করা হয়েছে: ‘তুমি যদি আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করো, তোমার সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যি অন্তরভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী হইয়াছে, ‘তুমি ‌র শরীক স্থির করিলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হইবে এবং অবশ্যই তুমি হইবে ক্ষতিগ্রস্ত।

Word by word

وَلَقَدْ أُوحِىَ إِلَيْكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ

জহুরুল হক

না, তুমি সতত ‌রই উপাসনা করবে, আর কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত রইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘বরং আল্লাহরই ইবাদত করো এবং অন্তরভুক্ত হও শোকর গুজারদের।’

মুহিউদ্দীন খান

বরং আল্লাহরই এবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাকুন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব তুমি ‌রই‌ ‘ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞ হও।’

Word by word

بَلِ ٱللَّهَ فَٱعْبُدْ وَكُن مِّنَ ٱلشَّٰكِرِينَ

জহুরুল হক

আর তারা ‌কে সম্মান করে না তাঁর যথোচিত সম্মানের দ্বারা, অথচ সমস্ত পৃথিবীটাই তাঁর মুঠোয় থাকবে কিয়ামতের দিনে, আর মহাকাশমন্ডলীটা গুটিয়ে নেয়া হবে তাঁর ডান হাতে। সকল মহিমা তাঁরই আর তারা যেসব অংশী দাঁড় করায় তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহকে তাঁর যথার্থ মর্যাদা দেয়না। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর মুষ্টিতে, আর মহাকাশ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে, তিনি অতীব পবিত্র ও মহান তারা যাদের শরিক করে তাদের থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমান সমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র। আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ‌র যথোচিত সম্মান করে না। কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকিবে তাঁহার হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকিবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁহার দক্ষিণ হস্তে। পবিত্র ও মহান তিনি, উহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহার ঊর্ধ্বে।

Word by word

وَمَا قَدَرُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِۦ وَٱلْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطْوِيَّٰتٌۢ بِيَمِينِهِۦ سُبْحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ

জহুরুল হক

আর শিঙায় ফুঁকা হবে, ফলে মহাকাশমন্ডলীতে যারা আছে ও পৃথিবীতে যারা রয়েছে তারা মূর্চ্ছা যাবে - - তারা ব্যতীত যাদের সন্বন্ধে ইচ্ছা করেন। তারপর তাতে পুনরায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে বিস্ফরিত নয়নে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, সাথে সাথে আসমান ও জমিনে যারাই আছে সবাই মরে পড়ে যাবে। তবে যাদের (জীবিত রাখতে) চাইবেন, তাদের কথা ভিন্ন। তারপর শিংগায় আরেকটি ফুৎকার দেয়া হবে। তখন সাথে সাথে সবাই জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং তাকাতে থাকবে (অথবা, অপেক্ষা করতে থাকবে)।

মুহিউদ্দীন খান

শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে যাকে ইচ্ছা করেন। অতঃপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, ফলে যাহাদেরকে ‌ ইচ্ছা করেন তাহারা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলে মূর্ছিত হইয়া পড়িবে। অতঃপর আবার শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, তৎক্ষণাৎ উহারা দণ্ডায়মান হইয়া তাকাইতে থাকিবে।

Word by word

وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ إِلَّا مَن شَآءَ ٱللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىٰ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ

জহুরুল হক

আর পৃথিবী উদ্ভাসিত হবে তার প্রভুর জ্যোতিতে, আর গ্রন্থ উপস্থাপিত করা হবে, আর নবীগণকে ও সাক্ষীগণকে নিয়ে আসা হবে, আর তাদের মধ্যে বিচার - মীমাংসা করা হবে সততার সঙ্গে, আর তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে তার প্রভুর নূরে। কিতাব (আমলের রেকর্ড) এনে হাজির করা হবে এবং নবীদের ও সাক্ষীদের এনে হাজির করা হবে। আর তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া হবে হক ফায়সালা এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, পয়গম্বরগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে - তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বিশ্ব উহার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হইবে, আমলনামা পেশ করা হইবে এবং নবীগণকে ও সাক্ষিগণকে উপস্থিত করা হইবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হইবে ও তাহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।

Word by word

وَأَشْرَقَتِ ٱلْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ ٱلْكِتَٰبُ وَجِا۟ىٓءَ بِٱلنَّبِيِّۦنَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

জহুরুল হক

আর প্রত্যেক সত্ত্বাকে সে যা করেছে তার পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, আর তিনি ভাল জানেন তারা যা করে সে - সম্পর্কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার আমলের প্রতিদান দেয়া হবে পুরোপুরি। আর মানুষ যা করে তা তো তিনিই (আল্লাহ্ই) সর্বাধিক জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেকে যা করেছে, তার পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। তারা যা কিছু করে, সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হইবে। উহারা যাহা করে সে সম্পর্কে ‌ সবিশেষ অবহিত।

Word by word

وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ

জহুরুল হক

আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে দলবদ্ধভাবে। যেতে যেতে যখন তারা তার কাছে আসবে তখন এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে আর তার রক্ষকরা তাদের বলবে - - ''তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্যে থেকে রসূলগণ আসেন নি যাঁরা তোমাদের কাছে বিবৃত করতেন তোমাদের প্রভুর বাণীসমূহ এবং তোমাদের সাবধান করে দিতেন তোমাদের এই দিনটির সাক্ষাৎ পাওয়া সন্বন্ধে?’’ তারা বলবে - - ''হ্যাঁ।’’ আর বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের উপর শাস্তিদানের রায় বাস্তবায়িত হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(বিচার ফায়সালার পর) যারা কুফুরি করেছে (বলে প্রমাণিত হবে), তাদের দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের অভিমুখে। যখন তারা সেখানে পৌঁছুবে, জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং এর ব্যবস্থাপকরা তাদের জিজ্ঞেস করবে: ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রসূলরা (আল্লাহর বার্তা বাহকরা) আসেননি? তারা কি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেননি এবং তোমাদের সতর্ক করেননি যে, তোমাদেরকে একদিন এই দিনটির সম্মুখীন হতে হবে?’ তারা বলবে: ‘হাঁ, তাঁরা এসেছিলেন, কিন্তু আযাবের সিদ্ধান্ত কাফিরদের জন্যে অবধারিত হয়ে গেছে।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌছাবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বর আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করত এবং সতর্ক করত এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে? তারা বলবে, হঁ্যা, কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকাইয়া লইয়া যাওয়া হইবে। যখন উহারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হইবে তখন ইহার প্রবেশদ্বারগুলি খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা উহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হইতে রাসূল আসে নাই যাহারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত আবৃত্তি করিত, এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করিত?’ উহারা বলিবে, ‘অবশ্যই আসিয়াছিল।’ বস্তুত কাফিরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হইয়াছে।

Word by word

وَسِيقَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَآ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتِ رَبِّكُمْ وَيُنذِ

জহুরুল হক

বলা হবে - - ''তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে ঢুকে পড় সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থানের জন্য। সুতরাং কত মন্দ গর্বিতদের এই অবস্থানস্থল!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলা হবে: ‘দাখিল হও জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে। চিরকাল তোমরা সেখানেই থাকবে। কতো যে নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাস।’

মুহিউদ্দীন খান

বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে বলা হইবে, ‘জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ কর উহাতে স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্য। কত নিকৃষ্ট উদ্ধতদের আবাসস্থল!’

Word by word

قِيلَ ٱدْخُلُوٓا۟ أَبْوَٰبَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى ٱلْمُتَكَبِّرِينَ

জহুরুল হক

আর যারা তাদের প্রভুকে ভয়ভক্তি করে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে দলবদ্ধভাবে জান্নাতের দিকে। যেতে যেতে যখন তারা তার কাছে আসবে ও এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে তখন তার রক্ষীরা তাদের বলবে, ''সালাম তোমাদের উপরে! তোমরা পবিত্র - চরিত্র, সুতরাং তোমরা এতে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের প্রভুর অবাধ্য হওয়া থেকে আত্মরক্ষা করে জীবন যাপন করেছে, তাদের দলে দলে নিয়ে যাওয়া হবে জান্নাতের অভিমুখে। যখন তারা সেখানে পৌঁছুবে, খুলে দেয়া হবে জান্নাতের সব দরজা। সেখানকার ব্যবস্থাপকরা

মুহিউদ্দীন খান

যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করিত তাহাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে লইয়া যাওয়া হইবে। যখন তাহারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হইবে ও ইহার দ্বারসমূহ খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের প্রতি ‘সালাম’, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্য।’

Word by word

وَسِيقَ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ رَبَّهُمْ إِلَى ٱلْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَٰمٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَٱدْخُلُوهَا خَٰلِدِينَ

জহুরুল হক

আর তারা বলবে - - ''সকল প্রশংসা ‌র যিনি তাঁর ওয়াদা আমাদের কাছে পরিপূর্ণ করেছেন, আর তিনি পৃথিবীটা আমাদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছেন, আমরা এই জান্নাতে বসবাস করব যেখানে আমরা চাইব।’’ সুতরাং কর্মীদের এই পারিশ্রমিক কত উত্তম!

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলবে: ‘সমস্ত শুকরিয়া আল্লাহর, তিনি আমাদেরকে দেয়া ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে ওয়ারিশ বানিয়েছেন এই পৃথিবীর। এখন জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা আমরা আবাস বানাবো। পুণ্যকর্মীদের পুরস্কার কতো যে উত্তম!’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। মেহনতকারীদের পুরস্কার কতই চমৎকার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা প্রবেশ করিয়া বলিবে, ‘প্রশংসা ‌র যিনি আমাদের প্রতি তাঁহার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করিয়াছেন এই ভূমির; আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করিব।’ সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম!

Word by word

وَقَالُوا۟ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى صَدَقَنَا وَعْدَهُۥ وَأَوْرَثَنَا ٱلْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ ٱلْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَآءُ فَنِعْمَ أَجْرُ ٱلْعَٰمِلِينَ

জহুরুল হক

আর তুমি দেখতে পাবে যে ফিরিশ্‌তারা আরশের চতুর্দিক ঘিরে রয়েছে, তাদের প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করে চলেছে, আর তাদের মধ্যে বিচার - মীমাংসা করা হবে সততার সাথে, আর বলা হবে - - ''সকল প্রশংসা ‌রই জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রভু।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তুমি দেখতে পাবে, ফেরেশতারা আরশের চারপাশে বৃত্ত বানিয়ে ঘোষণা করছে তাদের প্রভুর প্রশংসার তসবিহ্। এভাবেই নিখাদ ন্যায্যভাবে ফায়সালা করে দেয়া হবে মানুষের মাঝে, আর ঘোষণা করা হবে: ‘সমস্ত প্রশংসা রাববুল আলামিনের।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি ফেরেশতাগণকে দেখবেন, তারা আরশের চার পাশ ঘিরে তাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষনা করছে। তাদের সবার মাঝে ন্যায় বিচার করা হবে। বলা হবে, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তুমি ফিরিশ্‌তাদেরকে দেখিতে পাইবে যে, উহারা ‘আরশের চতুষ্পার্শ্বে ঘিরিয়া উহাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতেছে। আর তাহাদের বিচার করা হইবে ন্যায়ের সঙ্গে। বলা হইবে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক ‌র প্রাপ্য।

Word by word

وَتَرَى ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ حَآفِّينَ مِنْ حَوْلِ ٱلْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْحَقِّ وَقِيلَ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme