Kitab

আল তূর

Chapter 52, 49 verses

  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
  • মুহিউদ্দীন খান
জহুরুল হক

ভাবো পাহাড়ের কথা,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ তুর (পাহাড়) - এর।

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; শপথ তূরের।

Note
الطُّورِ (আত-তূর) একটি নির্দিষ্ট পর্বতকে বোঝায় বলে প্রচলিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
মুহিউদ্দীন খান

কসম তূরপর্বতের,

জহুরুল হক

আর লিখিত গ্রন্থের,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ সেই কিতাবের যা ছত্রে ছত্রে লিখিত

সমকালীন বাংলা

শপথ লিখিত কিতাবের।

মুহিউদ্দীন খান

এবং লিখিত কিতাবের,

জহুরুল হক

এক খোলামেলা পাতায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

খোলা পৃষ্ঠায়।

সমকালীন বাংলা

খোলা পাতায়।

মুহিউদ্দীন খান

প্রশস্ত পত্রে,

জহুরুল হক

আর ভাবো ঘনঘন গমনাগমনের গৃহের কথা,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ বাইতুল মামুরের।

সমকালীন বাংলা

শপথ বায়তুল মা‘মূরের,

মুহিউদ্দীন খান

কসম বায়তুল - মামুর তথা আবাদ গৃহের,

জহুরুল হক

আর সমুন্নত ছাদের,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ উঁচু ছাদের (আকাশের),

সমকালীন বাংলা

শপথ সুউচ্চ ছাদের।

মুহিউদ্দীন খান

এবং সমুন্নত ছাদের,

জহুরুল হক

আর উচ্ছলিত সমুদ্রের কথা,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ উত্তাল সাগরের।

সমকালীন বাংলা

শপথ উত্তাল সমুদ্রের।

মুহিউদ্দীন খান

এবং উত্তাল সমুদ্রের,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর শাস্তি অবশ্যাবী - -

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভুর আযাব সংঘটিত হবেই।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যই ঘটবে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী,

জহুরুল হক

এটির জন্য কোনো প্রতিরোধকারী নেই;

আবদুস শহীদ নাসিম

তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই।

সমকালীন বাংলা

তা প্রতিহত করার কেউ নেই।

মুহিউদ্দীন খান

তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না।

জহুরুল হক

যেদিন আকাশ আলোড়ন করবে আলোড়নে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন আসমান চলতে থাকবে প্রচন্ড গতিতে,

সমকালীন বাংলা

যেদিন আকাশ প্রবলভাবে কেঁপে উঠবে।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন আকাশ প্রকম্পিত হবে প্রবলভাবে।

জহুরুল হক

আর পাহাড়গুলো চলে যাবে চলে যাওয়ায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ভয়ংকর) তীব্র গতিতে চলতে থাকবে পাহাড় পর্বত,

সমকালীন বাংলা

আর পাহাড়গুলো চলতে থাকবে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং পর্বতমালা হবে চলমান,

জহুরুল হক

অতএব ধিক্ সেইদিন প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন হবে চরম দুর্ভোগ প্রত্যাখ্যানকারীদের,

সমকালীন বাংলা

সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে,

জহুরুল হক

যারা বৃথা তর্কবিতর্কে খেলা খেলছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা খেল তামাশার অসার কাজে লিপ্ত।

সমকালীন বাংলা

যারা অর্থহীন কথায় মেতে থেকে খেলাধুলা করে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ক্রীড়াচ্ছলে মিছেমিছি কথা বানায়।

জহুরুল হক

সেইদিন তাদের ধাক্কা দিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে ধাক্কা দিতে দিতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাদের ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে।

সমকালীন বাংলা

যেদিন উহাদেরকে ধাক্কা মারিতে মারিতে লইয়া যাওয়া হইবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে।

জহুরুল হক

''এইটিই সেই আগুন যেটিকে তোমরা মিথ্যা বলতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(বলা হবে:) এই সেই জাহান্নাম, যাকে তোমরা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে।

সমকালীন বাংলা

এটাই সেই আগুন, যা তোমরা অস্বীকার করতে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং বলা হবেঃ এই সেই অগ্নি, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে,

জহুরুল হক

''এটি কি তবে জাদু? না কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা কি ম্যাজিক, নাকি তোমরা দেখছো না?

সমকালীন বাংলা

তবে কি এটি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছো না?

মুহিউদ্দীন খান

এটা কি জাদু, না তোমরা চোখে দেখছ না?

জহুরুল হক

''ঢুকে পড় এতে! অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধর অথবা ধৈর্য না - ধর, তোমাদের জন্য একসমান। তোমাদের প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র তোমরা যা করতে তারই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এতে প্রবেশ করো, এর আযাব তোমরা সহ্য করতে পারো বা না পারো দুটোই সমান। তোমাদেরকে তো তোমাদেরই কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়া হয়েছে।

সমকালীন বাংলা

এতে প্রবেশ করো। অতঃপর ধৈর্য ধরো বা ধৈর্য না ধরো, তোমাদের জন্য উভয়ই সমান। তোমরা যা করতে, তারই প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হচ্ছে।

মুহিউদ্দীন খান

এতে প্রবেশ কর অতঃপর তোমরা সবর কর অথবা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ মুত্তকীরা থাকবে জান্নাতে ও পরমানন্দে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের জন্যে রয়েছে জান্নাত আর নিয়ামতরাজি।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা বেহেশতসমূহে ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে থাকবে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নেয়ামতে।

জহুরুল হক

তাদের প্রভু যা তাদের দিয়েছেন সেজন্য তারা সুখভোগ করতে থাকবে, আর তাদের প্রভু তাদের রক্ষা করবেন ভয়ংকর আগুনের শাস্তি থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রভু তাদের যেসব পুরস্কার দেবেন তারা সেসব ভোগ করতে থাকবে এবং তাদের প্রভু তাদের রক্ষা করবেন জাহিমের (জাহান্নামের) আযাব থেকে।

সমকালীন বাংলা

তাদের পালনকর্তা তাদের যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত থাকবে; আর তাদের পালনকর্তা তাদের জাহিমের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা উপভোগ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদের দেবেন এবং তিনি জাহান্নামের আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন।

জহুরুল হক

''তোমরা যা করে থাকতে সেজন্য তৃপ্তির সাথে খাওদাও ও পান করো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের বলা হবে:) ‘তোমরা খাও এবং পান করো তৃপ্তি সহকারে তোমাদের নেক আমলের ফল।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যা করতে, তার কারণে তৃপ্তিসহ খাও এবং পান করো।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর।

জহুরুল হক

তারা হেলান দিয়ে বসবে সারি - সারি সিংহাসনের উপরে, আর আমরা তাদের জোড় মিলিয়ে দেব আয়তলোচন হূরদের সাথে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে আসন গ্রহণ করবে হেলান দিয়ে সারিবদ্ধভাবে। আমরা তাদের জুড়ি হিসেবে দেবো আয়াতলোচনা হুরদের।

সমকালীন বাংলা

সারিবদ্ধ আসনসমূহে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। আর আমরা তাদের বিয়ে দিবো আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গে।

Note

আয়তলোচনা = বড়ো চোখের মেয়ে

মুহিউদ্দীন খান

তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দেব।

জহুরুল হক

আর যারা ঈমান আনে, এবং যাদের সন্তানসন্ততি ধর্মবিশ্বাসে তাদের অনুসরণ করে - - আমরা তাদের সঙ্গে মিলন ঘটাব তাদের ছেলেমেয়েদের, আর আমরা তাদের ক্রিয়াকর্ম থেকে কোনো কিছুই তাদের জন্য কমিয়ে দেব না। প্রত্যেক ব্যক্তিই সে যা অর্জন করেছে সেজন্য দায়ী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা নিজেরা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের পথে তাদের অনুগামী হয়েছে, আমরা তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্র করে দেবো এবং তাদের আমলের প্রতিদান কিছুমাত্র হ্রাস করবো না। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্যে দায়ী।

সমকালীন বাংলা

আর যারা বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বংশধররা বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমরা তাদের বংশধরদের তাদের সঙ্গে মিলিত করব। আর তাদের কাজের প্রতিদান থেকে কোনো কিছুই আমরা কমাবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জনের জন্য দায়বদ্ধ।

মুহিউদ্দীন খান

যারা এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃত কর্মের জন্য দায়ী।

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের প্রচুর পরিমাণে প্রদান করব ফলফসল ও মাছমাংস - - যা তারা পছন্দ করে তা থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের সহযোগিতা করবো ফলফলারি এবং গোশত দিয়ে, যা - ই তারা পছন্দ করবে।

সমকালীন বাংলা

আর তারা যা কামনা করবে, তা থেকে ফলমূল ও মাংস দিয়ে, আমরা তাদের আরও দেবো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদেরকে দেব ফল - মূল এবং মাংস যা তারা চাইবে।

জহুরুল হক

তারা সেখানে একটি পানপাত্র পরস্পরের মধ্যে আদান - প্রদান করবে, তাতে থাকবে না কোনো খেলো আচরণ, না কোনো পাপ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে পরস্পরের মধ্যে আদান প্রদান করতে থাকবে পানপাত্র, যা থেকে পান করলে কেউ অর্থহীন কথাবার্তাও বলবে না এবং কোনো প্রকার পাপ কাজেও লিপ্ত হবেনা।

সমকালীন বাংলা

তারা একে অপরের কাছ থেকে পানপাত্র গ্রহণ করবে, সেখানে কোনো মন্দ কথা থাকবে না এবং কোনো পাপও নয়।

মুহিউদ্দীন খান

সেখানে তারা একে অপরকে পানপাত্র দেবে; যাতে অসার বকাবকি নেই এবং পাপকর্মও নেই।

জহুরুল হক

আর তাদের চারিদিকে ঘুরবে তাদের কিশোররা, - - তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তো!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সেবায় ঘোরাঘুরি করতে থাকবে কিশোরেরা যারা নিয়োজিত থাকবে কেবল তাদেরই সেবায় এবং তারা দেখতে যেনো সুরক্ষিত মুক্তা।

সমকালীন বাংলা

আর তাদের সেবায় ঘুরে বেড়াবে তাদের জন্য নিয়োজিত কিশোরেরা, যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা।

মুহিউদ্দীন খান

সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে।

জহুরুল হক

আর তাদের কেউ - কেউ অপরের দিকে জিজ্ঞাসাবাদ ক’রে এগিয়ে যাবে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,

সমকালীন বাংলা

আর তারা মুখোমুখি হয়ে একে অপরের কথা জানতে চাইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

জহুরুল হক

তারা বলবে - - ''নিঃসন্দেহ আমরা ইতিপূর্বে আমাদের পরিজনদের সম্পর্কে ভীত ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলবে: ‘‘ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) আমরা তো পরিবার পরিজনের মধ্যে আল্লাহর ভয়ে ভীত ছিলাম।

সমকালীন বাংলা

তারা বলবে, “নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বিগ্ন ছিলাম।”

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলবেঃ আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত - কম্পিত ছিলাম।

জহুরুল হক

''তবে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আর আমাদের রক্ষা করেছেন তাপপীড়িত বায়ুপ্রবাহের শাস্তি থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের রক্ষা করেছেন অগ্নি বায়ুর আযাব থেকে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।

জহুরুল হক

''আমরা অবশ্য এর আগেও তাঁকে ডাকতে থাকতাম। নিঃসন্দেহ তিনি খোদ অতি সদাশয়, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তাঁকেই ডাকতাম, নিশ্চয়ই তিনি পরম অনুগ্রহশীল, পরম দয়াবান।’’

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আমরা এর আগে তাঁকে ডাকতাম। নিশ্চয়ই তিনিই পরম অনুগ্রহশীল, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

আমরা পূর্বেও আল্লাহকে ডাকতাম। তিনি সৌজন্যশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

অতএব তুমি উপদেশ দান করতে থাকো, কেননা তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি তো গনৎকার নও এবং মাথা - পাগলাও নও।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তুমি উপদেশ দিয়ে যাও, তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি গণকও নও, পাগলও নও।

সমকালীন বাংলা

অতএব তুমি স্মরণ করিয়ে দাও। তোমার পালনকর্তার অনুগ্রহে তুমি কোনো গণক নও এবং পাগলও নও।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি উপদেশ দান করুন। আপনার পালনকর্তার কৃপায় আপনি অতীন্দ্রিয়বাদী নন এবং উম্মাদও নন।

জহুরুল হক

অথবা তারা কি বলে - - ''একজন কবি, আমরা বরং তার জন্য অপেক্ষা করি কালের কবলে পড়ার দরুন?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘সে একজন কবি? আমরা তার জন্যে সময়ের আবর্তনের অপেক্ষা করছি।’

সমকালীন বাংলা

নাকি তারা বলে, “সে একজন কবি; আমরা তার ব্যাপারে সময়ের বিপর্যয়ের অপেক্ষা করছি”?

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলতে চায়ঃ সে একজন কবি আমরা তার মৃত্যু - দুর্ঘটনার প্রতীক্ষা করছি।

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''তোমরা অপেক্ষা করতে থাকো, আমিও তবে অবশ্য তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের মধ্যে রয়েছি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষায় থাকলাম।’

সমকালীন বাংলা

বলো, “তোমরা অপেক্ষা করো; আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের একজন।”

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষারত আছি।

জহুরুল হক

অথবা তাদের বোধশক্তি কি এ - বিষয়ে তাদের নির্দেশ দিয়ে থাকে? অথবা তারা কি এক সীমালংঘনকারী জাতি?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তাদের বুদ্ধি তাদেরকে এর জন্যে প্রলুব্ধ করে? আর নাকি তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?

সমকালীন বাংলা

নাকি তাদের বুদ্ধি তাদের এসবের নির্দেশ দেয়, নাকি তারা সীমালঙ্ঘনকারী এক সম্প্রদায়?

মুহিউদ্দীন খান

তাদের বুদ্ধি কি এ বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করে, না তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?

জহুরুল হক

অথবা তারা কি বলে যে এটি সে বর্ণনা করেছে? না, তারা বিশ্বাস করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘এ কুরআন সে নিজে রচনা করে নিয়েছে?’ আসল কথা হলো, তারা বিশ্বাসই রাখেনা।

সমকালীন বাংলা

নাকি তারা বলে, “সে এটি নিজে বানিয়ে নিয়েছে”? বরং তারা বিশ্বাস করে না।

মুহিউদ্দীন খান

না তারা বলেঃ এই কোরআন সে নিজে রচনা করেছে? বরং তারা অবিশ্বাসী।

জহুরুল হক

তাহলে তারা এর সমতুল্য এক রচনা নিয়ে আসুক, - - যদি তারা সত্যবাদী হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সত্যবাদী হয়ে থাকলে এ কুরআনের মতো কোনো বাণী উপস্থিত করুক।

সমকালীন বাংলা

তাহলে তারা এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবেএর অনুরূপ কোন রচনা উপস্থিত করুক।

জহুরুল হক

অথবা তাদের কি সৃষ্টি করা হয়েছে কেউ না - থাকা থেকে, না তারাই সৃষ্টিকর্তা?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে? আর নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?

সমকালীন বাংলা

তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারাই স্রষ্টা?

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি আপনা - আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা?

জহুরুল হক

অথবা তারা কি সৃষ্টি করেছিল মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী? না, তারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি মহাকাশ এবং পৃথিবী তারা নিজেরাই সৃষ্টি করেছে? বরং তারা একীনই রাখেনা।

সমকালীন বাংলা

নাকি তারা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।

মুহিউদ্দীন খান

না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না।

জহুরুল হক

অথবা তাদের কাছেই কি রয়েছে তোমার প্রভুর ধনভান্ডার, না তারাই নিয়ন্তা?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তোমার প্রভুর ভান্ডার তাদের কাছে রয়েছে? আর নাকি তারা এসব কিছুর পাহারাদার?

সমকালীন বাংলা

নাকি তোমার পালনকর্তার ভাণ্ডারসমূহ তাদের কাছে আছে, নাকি তারাই নিয়ন্ত্রণকারী?

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাছে কি আপনার পালনকর্তার ভান্ডার রয়েছে, না তারাই সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক?

জহুরুল হক

অথবা তাদের কাছে কি রয়েছে সিড়ি যাঁর সাহায্যে তারা শোনে নেয়? তাহলে তাদের শ্রবণকারী নিয়ে আসুক এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তাদের কাছে (আকাশে) আরোহণ করার সিঁড়ি আছে যা দিয়ে উঠে কথা শুনে? থাকলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করুক।

সমকালীন বাংলা

নাকি তাদের কোনো সিঁড়ি আছে, যাতে তারা উঠে শোনে? তাহলে তাদের শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক।

মুহিউদ্দীন খান

না তাদের কোন সিঁড়ি আছে, যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে? থাকলে তাদের শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক।

জহুরুল হক

অথবা তাঁর কারণে কি রয়েছে কন্যারাসব, আর তোমাদের জন্য রয়েছে পুত্ররা?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি কন্যা সন্তান আল্লাহর, আর সব পুত্র সন্তান তোমাদের ?

সমকালীন বাংলা

নাকি তাঁর জন্য কন্যাসন্তান, আর তোমাদের জন্য পুত্রসন্তান?

মুহিউদ্দীন খান

না তার কন্যা - সন্তান আছে আর তোমাদের আছে পুত্রসন্তান?

জহুরুল হক

অথবা তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছ, যার ফলে তারা দেনায় ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তুমি তাদের কাছে (তাদের উপদেশ দেয়ার জন্যে) পারিশ্রমিক চাইছো, আর তারা সেটাকে তাদের জন্যে বোঝা মনে করছে?

সমকালীন বাংলা

নাকি তুমি তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাও, ফলে তারা ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত?

মুহিউদ্দীন খান

না আপনি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চান যে, তাদের উপর জরিমানার বোঝা চেপে বসে?

জহুরুল হক

অথবা কি তাদের কাছে রয়েছে যার ফলে তারা লিখে ফেলতে পারে?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা জানে এবং তা তারা লিখে রাখছে?

সমকালীন বাংলা

নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, ফলে তারা তা লিখে রাখে?

মুহিউদ্দীন খান

না তাদের কাছে বিষয়ের জ্ঞান আছে যে, তারাই তা লিপিবদ্ধ করে?

জহুরুল হক

অথবা তারা কি ষড়যন্ত্র করতে চায়? কিন্ত যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা নিজেরাই ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা কোনো চক্রান্ত করছে? জেনে রেখো, চক্রান্তের শিকার হয় কাফিররা নিজেরাই।

সমকালীন বাংলা

নাকি তারা কোনো ষড়যন্ত্র করতে চায়? অথচ যারা অবিশ্বাস করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রের শিকার হবে।

মুহিউদ্দীন খান

না তারা চক্রান্ত করতে চায়? অতএব যারা , তারই চক্রান্তের শিকার হবে।

জহুরুল হক

অথবা ছাড়া তাদের কি অন্য উপাস্য রয়েছে? ‌রই সব মহিমা - - তারা যা শরিক করে তিনি তার বাইরে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি আল্লাহর পরিবর্তে তাদের কোনো ইলাহ্ আছে? তাদের কৃত শিরক থেকে পবিত্র ও মহান।

সমকালীন বাংলা

নাকি ছাড়া তাদের অন্য কোনো উপাস্য আছে? তারা যাদের শরিক করে, তা থেকে পবিত্র।

মুহিউদ্দীন খান

না তাদের তা’আলা ব্যতীত কোন উপাস্য আছে? তারা যাকে শরীক করে, তা’আলা তা থেকে পবিত্র।

জহুরুল হক

আর যদি তারা দেখে আকাশের এক টুকরো ভেঙ্গে পড়ছে, তাহলে তারা বলবে - - ''এক পুঞ্জীভূত মেঘমালা।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আকাশ থেকে কোনো টুকরা ভেঙ্গে পড়তে দেখলে বলবে: ‘এতো মেঘপুঞ্জ।’

সমকালীন বাংলা

উহারা আকাশের কোন খণ্ড ভাঙ্গিয়া পড়িতে দেখিলে বলিবে, ‘ইহা তো এক পুঞ্জীভূত মেঘ।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা যদি আকাশের কোন খন্ডকে পতিত হতে দেখে, তবে বলে এটা তো পুঞ্জীভুত মেঘ।

জহুরুল হক

অতএব তাদের ছেড়ে দাও যে পর্যন্ত না তারা তাদের সেই দিনটির সাক্ষাৎ পায় যখন তারা হতভন্ব হয়ে যাবে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো - যতোদিন না তারা সেই দিনটির সাক্ষাত লাভ করে যেদিন বজ্রের আঘাতে তারা হতচকিত হয়ে উঠবে।

সমকালীন বাংলা

উহাদের উপেক্ষা করিয়া চল সেই দিন পর্যন্ত যেদিন উহারা বজ্রাঘাতে হতচেতন হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে ছেড়ে দিন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তাদের উপর বজ্রাঘাত পতিত হবে।

জহুরুল হক

সেইদিন তাদের চাল - চক্রান্ত তাদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সাহায্যও করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোনো কাজেই আসবেনা এবং সেদিন তাদের কোনো সাহায্যও করা হবেনা।

সমকালীন বাংলা

সেদিন উহাদের ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসিবে না এবং উহাদেরকে সাহায্যও করা হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।

জহুরুল হক

আর যারা অন্যায়াচার করেছে তাদের জন্য এ ছাড়া আরো শাস্তি রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যালিমদের জন্যে এছাড়াও আরো আযাব রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা।

সমকালীন বাংলা

ইহা ছাড়া আরও শাস্তি রহিয়াছে জালিমদের জন্য। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই তাহা জানে না।

মুহিউদ্দীন খান

গোনাহগারদের জন্যে এছাড়া আরও শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

জহুরুল হক

অতএব তোমার প্রভুর বিচারের জন্য ধৈর্য ধরে থেকো, বস্তুত তুমি নিশ্চয়ই আমাদের চোখের সামনে রয়েছ। কাজেই তোমার প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করো যখন তুমি উঠে দাঁড়াও,

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তোমার প্রভুর নির্দেশের অপেক্ষায় সবর অবলম্বন করো। তুমি আমাদের দৃষ্টি পথেই রয়েছো। আর তোমার প্রভুর হামদসহ তাঁর তসবিহ করতে থাকো যখন শয্যা ত্যাগ করে উঠবে

সমকালীন বাংলা

ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়; তুমি আমার চক্ষুর সামনেই রহিয়াছ। তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর,

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আপনার পালনকর্তার নির্দেশের অপেক্ষায় সবর করুন। আপনি আমার দৃষ্টির সামনে আছেন এবং আপনি আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন যখন আপনি গাত্রোত্থান করেন।

জহুরুল হক

আর রাতের বেলায়ও তবে তাঁর জপতপ করো এবং তারাগুলো ঝিমিয়ে যাবার সময়েও।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং রাত্রিবেলায়, আর তাঁর তসবিহ করতে থাকো তারকারাজির অস্তগমনের পর।

সমকালীন বাংলা

এবং তাঁহার পবিত্রতা ঘোষণা কর রাত্রিকালে ও তারকার অস্তগমনের পর।

মুহিউদ্দীন খান

এবং রাত্রির কিছু অংশে এবং তারকা অস্তমিত হওয়ার সময় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme