Kitab

আল ওয়াক্বিয়া

Chapter 56, 96 verses

  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
  • মুহিউদ্দীন খান
জহুরুল হক

যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন সেই ঘটনা ঘটবে,

মুহিউদ্দীন খান

যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে,

জহুরুল হক

এর সংঘটনকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।

সমকালীন বাংলা

থাকবে না ঘটনার অস্বীকারকারী।

মুহিউদ্দীন খান

যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই।

জহুরুল হক

এটি লাঞ্ছিত করবে, এটি করবে সমুন্নত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।

সমকালীন বাংলা

তা কাউকে নিচু করবে এবং কাউকে উচ্চ করবে।

মুহিউদ্দীন খান

এটা নীচু করে দেবে, সমুন্নত করে দেবে।

জহুরুল হক

যখন পৃথিবী আলোড়িত হবে আলোড়নে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।

সমকালীন বাংলা

যখন পৃথিবী প্রবলভাবে কাঁপানো হবে,

মুহিউদ্দীন খান

যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী।

জহুরুল হক

আর পাহাড়গুলো ভেঙ্গে পড়বে চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,

সমকালীন বাংলা

পাহাড়গুলোকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে।

জহুরুল হক

ফলে তা হয়ে যাবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা,

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সেগুলো ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।

জহুরুল হক

আর তোমরা হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা তিন দলে ভাগ হয়ে যাবে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

জহুরুল হক

যথা ডান দিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!

সমকালীন বাংলা

অতঃপর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!

মুহিউদ্দীন খান

যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা।

জহুরুল হক

আর বাঁদিকের দল, - - কেমনতর এই বাঁদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!

সমকালীন বাংলা

আর বামদিকের লোকগুলো, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!

মুহিউদ্দীন খান

এবং যারা বামদিকে, কত হতভাগা তারা।

জহুরুল হক

আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামী,

আবদুস শহীদ নাসিম

আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।

সমকালীন বাংলা

আর অগ্রবর্তীরাই তো অগ্রবর্তী।

মুহিউদ্দীন খান

অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই।

জহুরুল হক

এরাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,

সমকালীন বাংলা

তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত,

মুহিউদ্দীন খান

তারাই নৈকট্যশীল,

জহুরুল হক

আনন্দময় উদ্যানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।

সমকালীন বাংলা

সুখময় বেহেস্তসমূহে।

মুহিউদ্দীন খান

অবদানের উদ্যানসমূহে,

জহুরুল হক

প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

সমকালীন বাংলা

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।

জহুরুল হক

আর পরবর্তীকালীনদের থেকে অল্প সংখ্যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

সমকালীন বাংলা

আর অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্যে থেকে।

জহুরুল হক

কারুকার্যময় সিংহাসনে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।

সমকালীন বাংলা

নকশা করা আসনের উপর,

মুহিউদ্দীন খান

স্বর্ণ খচিত সিংহাসন।

জহুরুল হক

তাতে তারা হেলান দিয়ে আসন গ্রহণ করবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।

সমকালীন বাংলা

তার উপর মুখোমুখি হেলান দিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।

জহুরুল হক

তাদের চারিদিকে ঘুরে বেড়াবে চিরনবীন তরুণেরা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,

সমকালীন বাংলা

তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে চিরস্থায়ী কিশোরগণ,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা।

জহুরুল হক

পানপাত্র ও সোরাই নিয়ে ও নির্মল পানীয়ের পেয়ালা।

আবদুস শহীদ নাসিম

পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।

সমকালীন বাংলা

কলসীসমূহ এবং জগ এবং প্রবাহিত পানীয়ের পেয়ালা নিয়ে,

মুহিউদ্দীন খান

পানপাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে,

জহুরুল হক

তাদের মাথা ধরবে না তাতে, আর তাদের নেশাও ধরবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।

সমকালীন বাংলা

যাতে তাদের মাথাব্যথা হবে না এবং তারা মাতালও হবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং বিকারগ্রস্ত ও হবে না।

জহুরুল হক

আর ফল - মূল যা তারা পছন্দ করে;

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,

সমকালীন বাংলা

আর তারা পছন্দমতো ফলমূল পাবে,

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের পছন্দমত ফল - মুল নিয়ে,

জহুরুল হক

আর পাখির মাংস যা তারা কামনা করে,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,

সমকালীন বাংলা

এবং তাদের পছন্দমতো পাখির মাংস।

মুহিউদ্দীন খান

এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে।

জহুরুল হক

আর আয়তলোচন হূরগণ - -

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)

সমকালীন বাংলা

আর থাকবে বড় বড় চোখের হুরগণ,

Note

হুরগণ= বেহেস্তের বিশেষ নারীরা

মুহিউদ্দীন খান

তথায় থাকবে আনতনয়না হুরগণ,

জহুরুল হক

আবৃত মুক্তার উদাহরণের ন্যায়; - -

আবদুস শহীদ নাসিম

(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,

সমকালীন বাংলা

যেন সুরক্ষিত মুক্তার মতো।

মুহিউদ্দীন খান

আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়,

জহুরুল হক

যা তারা করতো তার পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।

সমকালীন বাংলা

তাদের কর্মের প্রতিদান হিসেবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যা কিছু করত, তার পুরস্কারস্বরূপ।

জহুরুল হক

তারা সেখানে শুনবে না কোনো খেলোকথা, না কোনো পাপবাক্য, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।

সমকালীন বাংলা

তারা সেখানে কোনো অনর্থক কথা বা পাপের কথা শুনবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তথায় অবান্তর ও কোন খারাপ কথা শুনবে না।

জহুরুল হক

শুধু এই কথা ছাড়া - - ''সালাম! সালাম!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।

সমকালীন বাংলা

শুধু বলা হবে, “সালাম, সালাম।”

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম।

জহুরুল হক

আর ডানদিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!

সমকালীন বাংলা

আর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!

মুহিউদ্দীন খান

যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান।

জহুরুল হক

কাঁটা বিহীন সিদরাহ - গাছের নীচে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,

সমকালীন বাংলা

কাঁটাবিহীন কুলবড়ই গাছের মধ্যে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে।

জহুরুল হক

আর সারি সারি সাজানো কলাগাছ,

আবদুস শহীদ নাসিম

কাঁদিভরা কলার বাগানে,

সমকালীন বাংলা

এবং স্তরে স্তরে সাজানো কলাগাছের মধ্যে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং কাঁদি কাঁদি কলায়,

জহুরুল হক

আর সুদূরবিস্তৃত ছায়া,

আবদুস শহীদ নাসিম

বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,

সমকালীন বাংলা

এবং প্রসারিত ছায়ায়,

মুহিউদ্দীন খান

এবং দীর্ঘ ছায়ায়।

জহুরুল হক

আর উছলে ওঠা পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

সদা বহমান পানির মধ্যে,

সমকালীন বাংলা

এবং প্রবাহমান পানি,

মুহিউদ্দীন খান

এবং প্রবাহিত পানিতে,

জহুরুল হক

আর প্রচুর পরিমাণে ফলমূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,

সমকালীন বাংলা

এবং প্রচুর ফলমূল,

মুহিউদ্দীন খান

ও প্রচুর ফল - মূলে,

জহুরুল হক

ব্যাহত হবার নয় এবং নিষিদ্ধ হবারও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।

সমকালীন বাংলা

যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধ ও নয়,

জহুরুল হক

আর উঁচুদরের গালিচা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,

সমকালীন বাংলা

আর উঁচু বিছানাগুলোতে।

মুহিউদ্দীন খান

আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা ওদের সৃষ্টি করেছি বিশেষ সৃষ্টিতে;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি,

মুহিউদ্দীন খান

আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।

জহুরুল হক

আর তাদের বানিয়েছি চিরকুমারী,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তাদেরকে কুমারী করেছি,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী।

জহুরুল হক

সোহাগিনী, সমবয়স্কা, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,

সমকালীন বাংলা

প্রেমময়ী এবং সমবয়সী,

মুহিউদ্দীন খান

কামিনী, সমবয়স্কা।

জহুরুল হক

দক্ষিণপন্থী লোকদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

ডানদিকের লোকদের জন্যে।

সমকালীন বাংলা

ডানদিকের লোকদের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

ডান দিকের লোকদের জন্যে।

জহুরুল হক

প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,

সমকালীন বাংলা

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।

জহুরুল হক

আর পরবর্তীকালীনদের মধ্যে থেকেও অধিক সংখ্যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।

সমকালীন বাংলা

এবং অনেকেই পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

জহুরুল হক

কিন্তু বামপন্থীদল - - কেমনতর এই বামপন্থী দল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!

সমকালীন বাংলা

আর বামদিকের লোকেরা, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!

মুহিউদ্দীন খান

বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা।

জহুরুল হক

উত্তপ্ত বাতাসে ও ফুটন্ত পানিতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,

সমকালীন বাংলা

তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাস ও ফুটন্ত পানির মধ্যে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে,

জহুরুল হক

আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,

সমকালীন বাংলা

এবং কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,

মুহিউদ্দীন খান

এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়।

জহুরুল হক

শীতল নয় এবং সম্মানজনকও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।

সমকালীন বাংলা

যা ঠান্ডাও নয় এবং আরামদায়কও নয়।

মুহিউদ্দীন খান

যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।

জহুরুল হক

অথচ তারা তো এর আগে ছিল ভোগবিলাসে মগ্ন,

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তারা এর আগে বিলাসিতায় মগ্ন ছিলো।

মুহিউদ্দীন খান

তারা ইতিপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল।

জহুরুল হক

আর তারা ঘোরতর পাপাচারে জেদ ধরে থাকত,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।

সমকালীন বাংলা

আর তারা মহাপাপের উপর অবিচল থাকতো।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত।

জহুরুল হক

আর তারা বলত - - ''কী! আমরা যখন মরে যাব ও মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাব তখন কি আমরা আদৌ পুনরুত্থিত হব, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?

সমকালীন বাংলা

আর তারা বলতো, “আমরা যখন মারা যাবো এবং মাটি ও হাড় হয়ে যাবো, তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব?

জহুরুল হক

এবং আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’

সমকালীন বাংলা

অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদেরও?

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও!

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''নিঃসন্দেহ পূর্ববর্তীরা এবং পরবর্তীরা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,

সমকালীন বাংলা

বলো, “নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ,

জহুরুল হক

''অবশ্যই সবাইকে একত্রিত করা হবে এক সুবিদিত দিনের নির্ধারিত স্থানে - ক্ষণে,

আবদুস শহীদ নাসিম

একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,

সমকালীন বাংলা

এক নির্ধারিত দিনের নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই সমবেত হবে।”

মুহিউদ্দীন খান

সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।

জহুরুল হক

''তখন নিঃসন্দেহ তোমরাই, হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাআরোপকারিগণ!

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!

সমকালীন বাংলা

অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যা প্রতিপন্ন কারীরা,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ।

জহুরুল হক

''তোমরা আলবৎ আহার করবে যিক্কুমের গাছের থেকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,

সমকালীন বাংলা

তোমরা অবশ্যই যাক্কুম গাছ থেকে খাবে,

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে,

জহুরুল হক

''এবং তাই দিয়ে তোমরা উদর পূর্ণ করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!

সমকালীন বাংলা

তারপর তা দিয়ে তোমরা পেট ভরবে,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে,

জহুরুল হক

''তারপর তোমরা তার উপরে পান করবে উত্তপ্ত পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।

সমকালীন বাংলা

তারপর তার উপর ফুটন্ত পানি পান করবে,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি।

জহুরুল হক

''আর তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের পান করার ন্যায়।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।

সমকালীন বাংলা

এবং তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে।

মুহিউদ্দীন খান

পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়।

জহুরুল হক

এই হবে তাদের আপ্যায়ন বিচারের দিনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।

সমকালীন বাংলা

এটাই প্রতিদান দিবসে তাদের আপ্যায়ন।

মুহিউদ্দীন খান

কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।

জহুরুল হক

আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা সত্য বলে স্বীকার কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?

সমকালীন বাংলা

আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তবে তোমরা কেন সত্য মেনে নাও না?

মুহিউদ্দীন খান

আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না।

জহুরুল হক

তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ - - যা তোমরা স্খলন কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা বীর্যপাত করো?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে।

জহুরুল হক

তোমরা বুঝি ওকে সৃষ্টি করেছ, না আমরা সৃষ্টিকর্তা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই সৃষ্টিকর্তা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?

জহুরুল হক

আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যু ধার্য করে রেখেছি, আর আমরা প্রতিহত হব না, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই

সমকালীন বাংলা

আমরা তোমাদের মধ্যে মৃত্যুকে নির্ধারণ করেছি এবং আমরা অক্ষম নই

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই।

জহুরুল হক

যেন আমরা বদলে দিতে পারি তোমাদের অনুকরণে, এবং তোমাদের রূপান্তরিত করতে পারি তাতে যা তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।

সমকালীন বাংলা

যে আমরা তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মতো অন্যদের নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন জগতে পুনরায় সৃষ্টি করি যা তোমরা জানো না।

মুহিউদ্দীন খান

এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না।

জহুরুল হক

আর তোমরা অবশ্য প্রথম অভ্যুত্থান সন্বন্ধে অবগত হয়েছ, তবে কেন তোমরা ভেবে দেখ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?

সমকালীন বাংলা

আর অবশ্যই তোমরা প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছো; তবুও কেন শিক্ষা গ্রহণ করো না?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?

জহুরুল হক

তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা বপন কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবেছো,  যা তোমরা চাষ করো?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

জহুরুল হক

তোমরা কি তা গজিয়ে তুলো, না আমরা বর্ধনকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তা উৎপন্ন করো, নাকি আমরাই উৎপন্ন করি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ?

জহুরুল হক

আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা আলবৎ তাকে খড় - কুটোয় পরিণত করতে পারতাম, তখন তোমরা হাহুতাশ করতে থাকবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)

সমকালীন বাংলা

আমরা চাইলে অবশ্যই তা খড়কুটো করে দিতে পারি, তখন তোমরা বিস্মিত হয়ে বলবে,

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।

জহুরুল হক

''আমরা তো নিশ্চয় ঋণগ্রস্ত হলাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।

সমকালীন বাংলা

“নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি;

মুহিউদ্দীন খান

বলবেঃ আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম;

জহুরুল হক

''বরং আমরা বঞ্চিত হলাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’

সমকালীন বাংলা

বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”

মুহিউদ্দীন খান

বরং আমরা হূত সর্বস্ব হয়ে পড়লাম।

জহুরুল হক

তোমরা যে পানি পান কর সে - সন্বন্ধে তোমরা কি ভেবে দেখেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবেছো, যে পানি তোমরা পান করো?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

জহুরুল হক

তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমরা বর্ষণকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তা মেঘ থেকে নামাও, নাকি আমরাই নামাই?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি?

জহুরুল হক

আমরা যদি চাইতাম তাহলে আমরা তাকে লোনা করে দিতে পারতাম, কেন তবে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?

সমকালীন বাংলা

আমরা চাইলে তা লবনাক্ত করে দিতে পারি। অতএব কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

জহুরুল হক

তোমরা যে আগুন জ্বালাও তা কি তোমরা লক্ষ্য করেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যে আগুন তোমরা জ্বালাও?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

জহুরুল হক

তোমরাই কি তার গাছকে জন্মইয়েছ, না আমরা উৎপাদনকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তার গাছ সৃষ্টি করেছো, নাকি আমরাই সৃষ্টি করেছি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ?

জহুরুল হক

আমরাই তাকে বানিয়েছি এক নিদর্শনসামগ্রী এবং মরুচারীদের জন্য এক প্রয়োজনসামগ্রী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।

সমকালীন বাংলা

আমরা এটিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয় এবং পথিকদের জন্য উপকার করেছি।

মুহিউদ্দীন খান

আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী।

জহুরুল হক

অতএব তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।

সমকালীন বাংলা

অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।

জহুরুল হক

না, আমি কিন্তু শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,

সমকালীন বাংলা

অতএব না, আমি নক্ষত্রসমূহের অবস্থানগুলোর শপথ করছি,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি,

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি তো এক বিরাট শপথ, যদি তোমরা জানতে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ - যদি তোমরা জানতে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি তো এক সম্মানিত কুরআন,

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত কুরআন,

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন,

জহুরুল হক

এক সুরক্ষিত গ্রন্থে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।

সমকালীন বাংলা

যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।

মুহিউদ্দীন খান

যা আছে এক গোপন কিতাবে,

জহুরুল হক

কেউ তা স্পর্শ করবে না পূত - পবিত্র ছাড়া।

আবদুস শহীদ নাসিম

পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।

সমকালীন বাংলা

পবিত্রকৃতরা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না।

মুহিউদ্দীন খান

যারা পাক - পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।

জহুরুল হক

এটি এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।

সমকালীন বাংলা

এটি সৃষ্টিজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

মুহিউদ্দীন খান

এটা বিশ্ব - পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

জহুরুল হক

তা সত্ত্বেও কি সেই বাণীর প্রতি তোমরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবাপন্ন,

আবদুস শহীদ নাসিম

এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?

সমকালীন বাংলা

তাহলে কি তোমরা এই বাণীকে হালকা করে দেখছো?

মুহিউদ্দীন খান

তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য পদর্শন করবে?

জহুরুল হক

এবং তোমাদের জীবিকা বানিয়ে নিয়েছ যে তোমরা মিথ্যা আখ্যা দেবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা যে তোমাদের জীবিকাকে অস্বীকার করছো?

মুহিউদ্দীন খান

এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে?

জহুরুল হক

তবে কেন যখন কন্ঠাগত হয়ে যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,

সমকালীন বাংলা

অতএব যখন প্রাণ কণ্ঠনালিতে পৌঁছে যায়,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।

জহুরুল হক

এবং তোমরা যে - সময়ে তাকিয়ে থাকো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো,

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,

জহুরুল হক

আমরা তখন তোমাদের চাইতে তার বেশী নিকটবর্তী কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।

সমকালীন বাংলা

আর আমরা তার চেয়ে তোমাদের নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।

মুহিউদ্দীন খান

তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।

জহুরুল হক

যদি তোমরা আজ্ঞাধীন না হয়ে থাক তবে কেন তোমরা পার না - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,

সমকালীন বাংলা

অতএব যদি তোমরা কারও অধীন না হও,

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমাদের হিসাব - কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,

জহুরুল হক

তাকে ফিরিয়ে দিতে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?

সমকালীন বাংলা

তবে সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

মুহিউদ্দীন খান

তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?

জহুরুল হক

আর পক্ষান্তরে যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়,

মুহিউদ্দীন খান

যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়;

জহুরুল হক

তাহলে আয়েশ - আরাম ও সৌরভ, এবং আনন্দময় উদ্যান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।

সমকালীন বাংলা

তবে আরাম আর সুগন্ধি উদ্ভিদ আর সুখের বেহেস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান।

জহুরুল হক

আর অপরপক্ষে সে যদি দক্ষিণপন্থীদের মধ্যেকার হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,

সমকালীন বাংলা

আর যদি সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়,

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি সে ডান পার্শ্বস্থদের একজন হয়,

জহুরুল হক

তাহলে দক্ষিণপন্থীদের দলের থেকে - - ''তোমার প্রতি সালাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’

সমকালীন বাংলা

তবে তোমার জন্য শান্তি, কারণ সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

তবে তাকে বলা হবেঃ তোমার জন্যে ডানপার্শ্বসস্থদের পক্ষ থেকে সালাম।

জহুরুল হক

আর পক্ষান্তরে সে যদি প্রত্যাখ্যানকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,

সমকালীন বাংলা

আর যদি সে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়,

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি সে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীদের একজন হয়,

জহুরুল হক

তাহলে আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,

সমকালীন বাংলা

তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,

মুহিউদ্দীন খান

তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা।

জহুরুল হক

এবং প্রবেশস্থল হবে ভয়ংকর আগুন!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জাহান্নামের দহন।

সমকালীন বাংলা

এবং জাহিমে পোড়ানো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং সে নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি অবশ্য সুনিশ্চিত সত্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই এটিই নিশ্চিত সত্য।

মুহিউদ্দীন খান

এটা ধ্রুব সত্য।

জহুরুল হক

সুতরাং তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।

সমকালীন বাংলা

অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme