Kitab

ক্বাফ

Chapter 50, 45 verses

  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
জহুরুল হক

ক্কাফ। ভেবে দেখো মহিমান্বিত কুরআনখানা।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফ, কুরআন মজিদের শপথ।

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; কাফ্, শপথ সম্মানিত কুরআনের

জহুরুল হক

বস্তুত তারা আশ্চর্য হচ্ছে যে তাদের কাছে তাদেরই মধ্যে থেকে একজন সতর্ককারী এসেছেন, তাই অবিশ্বাসীরা বলছে - - ''এ তো এক আজব ব্যাপার!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তারা বিস্মিত হচ্ছে এ কারণে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে এসেছে একজন সতর্ককারী। কাফিররা বলে: ‘‘এতো এক আজব ব্যাপার!

সমকালীন বাংলা

বরং তাহারা বিস্ময় বোধ করে যে, উহাদের মধ্যে একজন সতর্ককারী আবির্ভূত হইয়াছে, আর কাফিররা বলে, ‘ইহা তো এক আশ্চর্য ব্যাপার !

জহুরুল হক

''কী! আমরা যখন মরে যাব এবং ধুলো - মাটি হয়ে যাব? এ তো বহু দূর থেকে ফিরে আসা।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের যখন মৃত্যু ঘটবে এবং আমরা যখন মাটিতে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? সেই প্রত্যাবর্তন এক অবাস্তব ব্যাপার।’’

সমকালীন বাংলা

‘আমাদের মৃত্যু হইলে এবং আমরা মৃত্তিকায় পরিণত হইলে আমরা কি পুনরুত্থিত হইব? সুদূরপরাহত সেই প্রত্যাবর্তন।’

জহুরুল হক

আমরা আলবৎ জানি তাদের মধ্যের কতটুকু পৃথিবী হ্রাস করে ফেলে, আর আমাদের কাছে রয়েছে সুরক্ষিত গ্রন্থ।

আবদুস শহীদ নাসিম

মাটি তাদের কতোটুকু ক্ষয় করে তা আমরা জানি। আমাদের কাছে রয়েছে এক সুরক্ষিত কিতাব।

সমকালীন বাংলা

আমি তো জানি মৃত্তিকা ক্ষয় করে উহাদের কতটুকু এবং আমার নিকট আছে রক্ষিত কিতাব।

জহুরুল হক

বস্তুত তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল যখন তাদের কাছে তা এসেছিল, সেজন্য তারা সংশয়াকুল অবস্থায় রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তারা সন্দেহে দোদুল্যমান।

সমকালীন বাংলা

বস্তুত উহাদের নিকট সত্য আসিবার পর উহারা তাহা প্রত্যাখ্যান করিয়াছে। ফলে, উহারা সংশয়ে দোদুল্যমান।

জহুরুল হক

তারা কি তবে তাদের উপরকার আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না - - আমরা কেমন ক’রে তা তৈরি করেছি এ বং তাকে সুশোভিত করেছি, আর তাতে কোনো ফাটলও নেই?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি উপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেনা, আমরা কিভাবে সেটাকে বানিয়েছি এবং সুশোভিত করেছি। আর তাতে নেই কোনো ফাটল।

সমকালীন বাংলা

উহারা কি উহাদের ঊর্ধ্বস্থিত আকাশের দিকে তাকাইয়া দেখে না, আমি কিভাবে উহা নির্মাণ করিয়াছি ও উহাকে সুশোভিত করিয়াছি এবং উহাতে কোন ফাটলও নাই?

জহুরুল হক

আর পৃথিবী - - তাকে আমরা প্রসারিত করেছি আর তাতে স্থাপন করেছি পাহাড় - পর্বত, আর তাতে আমরা জন্মিয়েছি হরেক রকমের মনোরম বস্তু - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জমিনকে আমরা বিছিয়ে দিয়েছি এবং তাতে স্থাপন করে দিয়েছি পাহাড় পর্বত আর তাতে উদগত করেছি সব ধরণের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।

সমকালীন বাংলা

আমি বিস্তৃত করিয়াছি ভূমিকে ও তাহাতে স্থাপন করিয়াছি পর্বতমালা এবং উহাতে উদ্গত করিয়াছি নয়নপ্রীতিকর সর্বপ্রকার উদ্ভিদ,

জহুরুল হক

দেখার মতো ও মনোনিবেশ করার মতো বিষয় প্রত্যেক অনুরাগী বান্দার জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

এসবই ভেবে দেখার বিষয় এবং উপদেশ প্রত্যেক অভিমুখী বান্দার জন্যে।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যাক্তির জন্য আদেশ স্বরূপ।

জহুরুল হক

আর আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি আশীর্বাদসূচক জল, তারপর তার দ্বারা আমরা জন্মাই বাগানসমূহ ও খাদ্যশস্য যা তোলা হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আসমান থেকে নাযিল করি মুবারক (কল্যাণময়) পানি। অত:পর তা দিয়ে উৎপাদন করি বাগবাগিচা আর পরিপক্ক শস্য সম্ভার,

সমকালীন বাংলা

আকাশ হইতে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তদ্দারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও পরিপক্ব শস্যরাজি,

জহুরুল হক

আর লন্বা লন্বা খেজুর গাছ যাতে আছে গোছা গোছা কাঁদি, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো উৎপাদন করি সমুন্নত খেজুর গাছ, তাতে থাকে ছড়ায় ছড়ায় খেজুর,

সমকালীন বাংলা

ও সম্মুন্নত খর্জুর বৃক্ষ যাহাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর -

জহুরুল হক

দাসদের জন্য জীবিকাস্বরূপ, আর এর দ্বারা আমরা মৃত ভূখন্ডে প্রাণ সঞ্চার করি। এইভাবেই হবে পুনরুত্থান।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার বান্দাদের জীবিকা হিসেবে। তাছাড়া সেই পানি দিয়ে আমরা জীবিত করি মৃত জমিনকে। এভাবেই ঘটানো হবে (মানুষের) পুনরুত্থান।

সমকালীন বাংলা

আমার বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ। বৃষ্টি দ্বারা আমি সঞ্জীবিত করি মৃত ভূমিকে ; এইভাবে উত্থান ঘটিবে।

জহুরুল হক

এদের আগে নূহ - এর স্বজাতি প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর রস্‌ - এর অধিবাসীরা ও ছামুদ জাতি,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আগেও নূহের কওম (রসূলদের) প্রত্যাখান করেছিল এবং রাস্ আর সামুদ সম্প্রদায়ও,

সমকালীন বাংলা

ইহাদের পূর্বেও সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল নূহের সম্প্রদায়, রাস্ ও সামূদ সম্প্রদায়,

জহুরুল হক

আর 'আদ ও ফিরআউন ও লূত - এর ভাই - বন্ধুরা,

আবদুস শহীদ নাসিম

আদ, ফেরাউন এবং লুত সম্প্রদায়ও,

সমকালীন বাংলা

‘আদ, ফির‘আওন ও লূত সম্প্রদায়

জহুরুল হক

আর আইকার অধিবাসীরা ও তুব্বার লোকদল; - - সবাই রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, সুতরাং আমার ওয়াদা সত্য বর্তেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আইকাবাসী আর তুববা সম্প্রদায়ও। এরা প্রত্যেকেই রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে তাদের উপর অনিবার্য হয়ে পড়েছিল আমার ওয়াদা বাস্তবায়ন।

সমকালীন বাংলা

এবং আয়কার অধিবাসী ও তুব্বা সম্প্রদায় ; উহারা সকলেই রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল, ফলে উহাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হইয়াছে।

জহুরুল হক

আমরা কি তবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি প্রথমবারের সৃষ্টি করেই? না, তারা নতুন সৃষ্টি সন্বন্ধে সন্দেহের মাঝে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রথমবারের সৃষ্টিই কি আমাদের ক্লান্ত করে ফেলেছে? বরং পুনসৃষ্টির ব্যাপারে তারা রয়েছে সন্দেহে নিমজ্জিত।

সমকালীন বাংলা

আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করিয়াই ক্লান্তহইয়া পড়িয়াছি! বস্তুত পুনঃ সৃষ্টির বিষয়ে উহারা সন্দেহে পতিত।

জহুরুল হক

আর আমরা তো নিশ্চয় মানুষ সৃষ্টি করেছি, আর আমরা জানি তার অন্তর তাকে কী মন্ত্রণা দেয়, আর আমরা কন্ঠশিরার চেয়েও তার আরো নিকটে রয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই সৃষ্টি করেছি মানুষকে এবং তার প্রবৃত্তি তাকে কী কুমন্ত্রণা দেয় তা আমরা জানি। আমরা তার গলার ধমনীর চেয়েও তার অধিকতর নিকটতর।

সমকালীন বাংলা

আমিই মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি এবং তাহার প্রবৃত্তি তাহাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তাহা আমি জানি। আমি তাহার গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটতর।

জহুরুল হক

স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে বসে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মনে রেখো, দুই গ্রহণকারী ফেরেশতা তার ডানে এবং বামে বসে রেকর্ড করে।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ রাখিও, ‘দুই গ্রহণকারী’ ফিরিশতা তাহার দক্ষিণে ও বামে বসিয়া তাহার কর্ম লিপিবদ্ধ করে ;

জহুরুল হক

সে কোনো কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা রেকর্ড করার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন প্রহরী তার কাছেই রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তাহার জন্য তৎপর প্রহরী তাহার নিকটেই রহিয়াছে।

জহুরুল হক

আর মৃত্যুকালীন মূর্ছা সত্যি - সত্যি আসবে, - - ''এইটিই তো তাই যা থেকে তুমি অব্যাহতি চাও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মৃত্যু যন্ত্রণা সত্য সত্যি আসবে। এ থেকেই তোমরা অব্যাহতি চেয়ে আসছো।

সমকালীন বাংলা

মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যই আসিবে ; ইহা হইতেই তোমরা অব্যাহতি চাহিয়া আসিয়াছ।

জহুরুল হক

আর শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ''এইটিই সেই প্রতি‌শ্রুত দিন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং সেটাই হবে শাস্তির দিন।

সমকালীন বাংলা

আর শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, উহাই শাস্তির দিন।

জহুরুল হক

তখন প্রত্যেক সত্ত্বা চলে আসবে, তার সঙ্গে থাকবে এক চালক ও এক সাক্ষী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই উপস্থিত হবে। তার সাথে থাকবে একজন চৌকিদার এবং একজন সাক্ষী।

সমকালীন বাংলা

সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হইবে, তাহার সঙ্গে থাকিবে চালক ও সাক্ষী।

জহুরুল হক

''তুমি তো অবশ্য এ সন্বন্ধে গাফিলতিতে ছিলে, কিন্ত এখন আমরা তোমার থেকে তোমার আবরণী সরিয়ে দিয়েছি ফলে তোমার দৃষ্টি আজ তীক্ষ্ণ হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তার সাথি ফেরেশতা বলবে:) এই দিনটি সম্পর্কেই তুমি ছিলে গাফলতির মধ্যে। এখন আমরা তোমার সামনে থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর ও তীক্ষ্ণ।

সমকালীন বাংলা

তুমি এই দিবস সম্বন্ধে উদাসীন ছিলে, এখন আমি তোমার সম্মুখ হইতে পর্দা উন্মোচন করিয়াছি। অদ্য তোমার দৃষ্টি প্রখর।

জহুরুল হক

আর তার সঙ্গী বলবে - - ''এই তো যা আমার কাছে তৈরি রয়েছে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তার সাথি বলবে: এই তো আমার কাছে তোমার আমলের রেকর্ড প্রস্ত্তত।

সমকালীন বাংলা

তাহার সঙ্গী ফিরিশ্তা বলিবে, ‘এই তো আমার নিকট ‘আমলনামা প্রস্তুত।’

জহুরুল হক

''তোমরা দুজনে জাহান্নামে ফেলে দাও প্রত্যেক অবিশ্বাসীকে, বিদ্রোহাচারীকে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

নির্দেশ দেয়া হবে: তোমরা দু’জনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো প্রত্যেক দাম্ভিক কাফিরকে,

সমকালীন বাংলা

আদেশ করা হইবে, তোমরা উভয়ে নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক উদ্ধত কাফিরকে -

জহুরুল হক

''ভালো কাজে নিষেধকারীকে, সীমালংঘনকারীকে, সন্দেহকারীকে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ভালো কাজে প্রচন্ড বাধাদানকারী এবং সীমালংঘনকারী ও সন্দেহপরায়ণ,

সমকালীন বাংলা

কল্যাণকর কাজে প্রবল বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী ও সন্দেহ পোষণকারী।

জহুরুল হক

''যে ‌র সঙ্গে অন্য উপাস্য দাঁড় করিয়েছিল, অতএব তোমরা উভয়ে তাকে নিক্ষেপ করো ভীষণ শাস্তিতে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করতো। তাকে নিক্ষেপ করো কঠোর আযাবে।

সমকালীন বাংলা

যে ব্যাক্ত আল্লাহর সঙ্গে অন্য গ্রহন করিত তাহাকে উপযুক্ত শাস্তি দিবেন।

জহুরুল হক

আর তার সাঙ্গাত বলবে - - ''আমাদের প্রভু! আমি তো তাকে বিদ্রোহী বানাই নি, কিন্ত সে নিজেই ছিল সুদূর বিভ্রান্তিতে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তার সাথি (শয়তান) বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমি তাকে অবাধ্য বানাইনি। বরং সে নিজেই ছিলো ঘোরতর গোমরাহিতে নিমজ্জিত।’

সমকালীন বাংলা

তাহার সহচর শয়তান বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাহাকে অবাধ্য করি নাই। বস্তুত সে - ই ছিল ঘোর বিভ্রান্ত।

জহুরুল হক

তিনি বলবেন - - ''আমার সামনে তোমরা তর্কাতর্কি করো না, আর আমি তো তোমাদের কাছে ইতিপূর্বেই আমার ওয়াদা আগবাড়িয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলবেন: ‘তোমরা আমার সামনে বিবাদ বিতর্ক করোনা। আমি তো আগেই তোমাদের সতর্ক করেছি।

সমকালীন বাংলা

বলিবেন, ‘আমার সম্মুখে বাক - বিতণ্ডা করিও না; তোমাদেরকে আমি তো পূর্বেই সতর্ক করিয়াছি।

জহুরুল হক

''আমার কাছে কথার রদবদল হয় না, এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি আদৌ অন্যায়াচারী নই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার কথার রদবদল হয়না, আর আমি বান্দাদের প্রতি যালিমও নই।

সমকালীন বাংলা

‘আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোন অবিচার করি না।’

জহুরুল হক

সেইদিন আমরা জাহান্নামকে বলব - - ''তুমি কি পূর্ণ হয়ে গিয়েছ?’’ আর সে বলবে - - ''আরো বেশি আছে কি?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন আমরা জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো: ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছো?’ সে বলবে: ‘আরো আছে কি?’

সমকালীন বাংলা

সেই দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করিব, ‘তুমি কি পূর্ণ হইয়া গিয়াছ?’ জাহান্নাম বলিবে, ‘আরও আছে কি?’

জহুরুল হক

আর বেহেশতকে আনা হবে ধর্মভীরুদের নিকটে - - অদূরে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জান্নাতকে মু্ত্তাকিদের নিকটে আনা হবে, মোটেই দূরে রাখা হবেনা।

সমকালীন বাংলা

আর বেহেশতকে নিকটস্থ করা হইবে মুত্তাকীদের - কোন দূরত্ব থাকিবে না।

জহুরুল হক

''এইটিই তা যার প্রতি‌শ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল প্রত্যেক জন বারবার প্রত্যাবর্তনকারী হেফাজতকারীর জন্য - -

আবদুস শহীদ নাসিম

এর ওয়াদাই তোমাদের দেয়া হয়েছিল, প্রত্যেক আল্লাহমুখী হিফাযতকারীর জন্যে

সমকালীন বাংলা

ইহারই প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হইয়াছিল - প্রত্যেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল হিফাযতকারীর জন্য -

জহুরুল হক

''যে পরম করুণাময়কে ভয় করত সংগোপনে, আর উপস্থিত হত বিনয় - নম্র হৃদয় নিয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা না দেখেও রহমানকে ভয় করে এবং হাজির হয় বিনয়ী হৃদয় নিয়ে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা দয়ময় কে ভয় করে এবং বীনিত চিত্তে উপস্থিত হয়।

জহুরুল হক

''এতে প্রবেশ করো প্রশান্তির সাথে। এই তো চিরস্থায়ী দিন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হবে: শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে দাখিল হও (জান্নাতে)। এটা চিরন্তন জীবনের দিন।

সমকালীন বাংলা

তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘শান্তির সঙ্গে তোমরা উহাতে প্রবেশ কর; উহা অনন্ত জীবনের দিন।’

জহুরুল হক

এদের জন্য থাকবে তারা সেখানে যা চাইবে তাই, তার আমাদের কাছে রয়েছে আরো বেশি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তারা সবই পাবে যা তারা চাইবে এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরো অনেক।

সমকালীন বাংলা

এখানে তাহারা যাহা কামনা করিবে তাহাই পাইবে এবং আমার নিকট রহিয়াছে তাহারও অধিক।

জহুরুল হক

আর তাদের আগে আমরা কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, তারা এদের চাইতে ছিল শক্তিতে বেশি প্রবল, ফলে তারা দেশে - বিদেশে অভিযান চালাত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের আগে কতো যে মানব প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছি, ওরা ছিলো এদের চাইতেও প্রবলতর শক্তিশালী। তারা বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতো। তাদের পালাবার কোনো জাগায়ই ছিলোনা।

সমকালীন বাংলা

আমি তাহাদের পূর্বে আরও কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করিয়াছি যাহারা ছিল উহাদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল, উহারা দেশে দেশে ঘুরিয়া বেড়াইত; উহাদের কোন পলায়নস্থল রহিল কি?

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এতে নিশ্চয়ই উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার হৃদয় আছে, অথবা যে কান দেয়, আর সে সাক্ষ্য বহন কবে ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এতে রয়েছে উপদেশ তার জন্যে, যে অন্তরের অধিকারী, কিংবা যে মনোযোগ দিয়ে শুনে নিবিষ্ট চিত্তে।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই ইহাতে উপদেশ রহিয়াছে তাহার জন্য যাহার আছে অন্তঃকরণ অথবা যে শ্রবণ করে নিবিষ্ট চিত্তে।

জহুরুল হক

আর আমরা অবশ্য মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুইয়ের মধ্যে যা - কিছু আছে তা সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে, আর কোনো ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করে নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছি ছয়টি কালে। কোনো ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করেনি।

সমকালীন বাংলা

আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিয়াছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করে নাই।

জহুরুল হক

অতএব ওরা যা বলে তা সত্ত্বেও তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও এবং তোমার প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করো সূর্য উদয়ের আগে ও অস্ত যাবার আগে,

আবদুস শহীদ নাসিম

ওরা যা বলে তাতে তুমি সবর অবলম্বন করো, আর তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ করো সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে।

সমকালীন বাংলা

অতএব উহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে,

জহুরুল হক

আর রাতের বেলাতেও তাঁর জপতপ করো, আর এই সিজদাগুলোর পরেও,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর রাতের বেলায়ও তাঁর তসবিহ করো এবং সাজদার (সালাতের) পরে।

সমকালীন বাংলা

তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর রাত্রির একাংশে এবং সালাতের পরেও।

জহুরুল হক

আর শোনো সেইদিন যখন একজন ঘোষণাকারী আহ্বান করবেন নিকটবর্তী স্থান থেকে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

মনোযোগ দিয়ে শুনো, যেদিন এক ঘোষণাকারী খুব কাছে থেকে ঘোষণা দেবে,

সমকালীন বাংলা

শোন, যেদিন এক ঘোষণাকারী নিকটবর্তী স্থান হইতে আহ্বান করিবে,

জহুরুল হক

সেইদিন তারা সত্যি - সত্যি মহাগর্জন শুনতে পাবে। এইটিই বেরিয়ে আসার দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন অবশ্যি মানুষ শুনতে পাবে এক মহাবিকট শব্দ সত্যিকারভাবে। সেটাই হবে মাটির নিচে থেকে বেরিয়ে আসার দিন।

সমকালীন বাংলা

যেদিন মানুষ অবশ্যই শুনিতে পাইবে মহানাদ, সেই দিনই বাহির হইবার দিন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা স্বয়ং জীবন দান করি এবং আমরাই মৃত্যু ঘটাই, আর আমাদের কাছেই শেষ - আগমন, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই হায়াত দান করি এবং আমরাই মউত ঘটাই, আর আমাদের কাছেই হবে সবার প্রত্যাবর্তন।

সমকালীন বাংলা

আমিই জীবন দান করি, মৃত্যু ঘটাই এবং সকলের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে।

জহুরুল হক

সেইদিন পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে যাবে তাদের থেকে স্ত্রস্ত - ব্যস্তভাবে, এই হচ্ছে মহাসমাবেশ - - আমাদের জন্য সহজ ব্যাপার।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাদের উপরস্থ জমিন ফেটে যাবে এবং তারা ব্যস্ত হয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসবে। এই হাশর (সমবেত) করা আমাদের জন্যে একেবারেই সহজ।

সমকালীন বাংলা

যেদিন তাহাদের উপরস্থযমীন বিদীর্ণ হইবে এবং মানুষ ত্রস্ত - ব্যস্তহইয়া ছুটাছুটি করিবে, এই সমবেত সমাবেশকরণ আমার জন্য সহজ।

জহুরুল হক

ওরা যা বলে আমরা তা ভাল জানি, আর তুমি তাদের উপরে জবরদস্তি করার লোক নও। অতএব তুমি কুরআন নিয়ে স্মরণ করিয়ে চলো তার প্রতি যে আমার প্রতি‌শ্রুতিকে ভয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কী বলে, তা আমরা জানি। তুমি তাদের উপর শক্তি প্রয়োগকারী নও। যারা আমার শাস্তিকে ভয় করে তাদের উপদেশ দিয়ে যাও এই কুরআনের সাহায্যে।

সমকালীন বাংলা

উহারা যাহা বলে তাহা আমি জানি, তুমি উহাদের উপর জবরদস্তিকারী নও, সুতরাং যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাহাকে উপদেশ দান কর কুরআনের সাহায্যে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme