Kitab

ইউনুস

Chapter 10, 109 verses

  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক

আলিফ, লাম, রা। এগুলো জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থের আয়াতসমূহ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা! এগুলো বিজ্ঞানময় কিতাবের আয়াত।

জহুরুল হক

এ কি মানবগোষ্ঠীর জন্য বিস্ময়ের ব্যাপার যে তাদেরই মধ্যেকার একজন মানুষকে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছি এই ব’লে - - ''তুমি মানবজাতিকে সতর্ক করো, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের সুসংবাদ দাও যে তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে সুনিশ্চিত পদমর্যাদা’’? অবিশ্বাসীরা বলে - - ''নিঃসন্দেহ এ একজন জলজ্যান্ত জাদুকর।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা কি মানুষের জন্য কোনো তাজ্জবের বিষয় যে, আমি তাদেরই এক ব্যক্তির কাছে এই নির্দেশ দিয়ে অহি পাঠিয়েছি: ‘তুমি মানুষকে সতর্ক করো এবং মুমিনদের এই সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে মর্যাদার আসন।’ কাফিররা বলে: ‘নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি একজন সুস্পষ্ট ম্যাজিসিয়ান।’

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমাদের প্রভু হচ্ছেন যিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তখন তিনি অধিষ্ঠিত হলেন আরশের উপরে, তিনি সমস্ত ব্যাপার নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর অনুমতিক্রমে ব্যতীত কোনো সুপারিশকারী নেই। এই - ই - - তোমাদের প্রভু, অতএব তাঁরই উপাসনা করো। তোমরা কি তবে খেয়াল করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভু হচ্ছেন , যিনি মহাকাশ ও এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে। তারপর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশে। সব বিষয় তিনিই পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো শাফায়াতকারী শাফায়াত করতে পারবেনা। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবেনা?

জহুরুল হক

তাঁরই দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। ‌র এই প্রতি‌শ্রুতি ধ্রুবসত্য। নিঃসন্দেহ তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি তার পুনরাবর্তন ঘটান, যেন তিনি ন্যায়সঙ্গতভাবে পারিতোষিক দিতে পারেন তাদের যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে। আর যারা অবিশ্বাস করে তাদের জন্যে রয়েছে ফুটন্ত জলের পানীয়, আর মর্মন্তুদ শাস্তি, কেননা তারা অবিশ্বাস পোষণ করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন হবে তাঁরই কাছে। আল্লাহর ওয়াদা হক। তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুন: সৃষ্টি করবেন যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে তাদেরকে ইনসাফের সাথে তাদের কর্মফল দেয়ার জন্যে। আর যারা কুফুরি করে, তাদের জন্যে রয়েছে প্রচন্ড গরম পানির শরবত আর বেদনাদায়ক আযাব, তাদের কুফুরির কারণে।

জহুরুল হক

তিনিই তো সূর্যকে করেছেন তেজস্কর, আর চন্দ্রকে জ্যোতির্ময়, আর তার জন্য নির্ধারিত করেছেন অবস্থানসমূহ যেন তোমরা জানতে পারো বৎসরের গণনা ও হিসাব। এ সৃষ্টি করেন নি সার্থকতা ছাড়া। তিনি নির্দেশাবলী বিশদ - ব্যাখ্যা করেন সেইসব লোকের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই সূর্যকে বানিয়েছেন আলোদানকারী এবং চাঁদকে করেছেন আলোকিত, আর তার মনযিল ঠিক করে দিয়েছেন যাতে করে তোমরা বছর গুণতে পারো এবং হিসাব করতে পারো। বাস্তব কারণ ও প্রয়োজন ছাড়া এগুলো সৃষ্টি করেননি। তিনি জ্ঞানীদের জন্যে বিশদভাবে বর্ণনা করেন আয়াত সমূহ।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে, আর যা - কিছু সৃষ্টি করেছেন মহাকাশে ও পৃথিবীতে, সে - সমস্তে রয়েছে নিদর্শন সেইসব লোকের জন্যে যারা ধর্মপরায়ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই দিন ও রাতের পরিবর্তন এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে সতর্ক লোকদের জন্যে নিদর্শন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা আমাদের সাথে মুলাকাত আশা করে না আর পার্থিব জীবনেই পরিতৃপ্ত থাকে আর তাতেই নিশ্চিন্ত বোধ করে, আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে অমনোযোগী, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা এবং দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট আর তাতেই পরিতৃপ্ত এবং যারা আমাদের আয়াত সম্পর্কেও গাফিল,

জহুরুল হক

এরাই - - এদের আবাসস্থল হচ্ছে আগুন, তারা যা উপার্জন করেছে সেজন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরই আবাস হবে জাহান্নাম তাদের (মন্দ) কৃতকর্মের কারণে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের প্রভু তাদের পথ দেখিয়ে নেবেন তাদের বিশ্বাসের দ্বারা, - - তাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলবে ঝরনারাজি আনন্দময় বাগানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের সুখকর বাগানে নেবেন যার নীচে প্রবাহমান নদী।

জহুরুল হক

সেখানে তাদের আহ্বান হবে - - ''তোমারই মহিমা হোক, হে ‌?’’ আর তাদের অভিবাদন সেখানে হবে - - ''সালাম’’, আর তাদের শেষ আহ্বান হবে - - ''সকল প্রশংসা হচ্ছে ‌র যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের প্রভু’’।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তাদের দোয়া হবে: ‘হে ! তুমি সকল ত্রুটির উর্ধ্বে, অতীব পবিত্র, অতি মহান!’ আর সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম।’ সেখানে তাদের শেষ দোয়া হবে: ‘আল হামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামিন - সব প্রশংসা মহাজগতের প্রভু আল্লাহর।’

জহুরুল হক

যদি মানুষের জন্য অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতেন যেমন তারা তাদের জন্য কল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চায়, তাহলে তাদের শেষ - পরিণতি তাদের উপরে ঘটে যেত। কিন্তু যারা আমাদের সাথে মুলাকাত করা পছন্দ করে না - - তাদের আমরা অন্ধভাবে ঘুরে বেড়াতে দিই তাদের অবাধ্যতার মধ্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি মানুষের ক্ষতির বিষয়টা দ্রুত করতেন, যেভাবে তারা তাদের কল্যাণের বিষয়টা দ্রুত করে, তাহলে তাদের মরণ হয়ে যেতো। সুতরাং যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা, আমরা তাদেরকে তাদের বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেই।

জহুরুল হক

আর যখন কোনো দুঃখ - দুর্দশা মানুষকে স্পর্শ করে সে তখন আমাদের ডাকে কাত হয়ে শায়িত অবস্থায় অথবা বসা অবস্থায় অথবা দাঁড়িয়ে থেকে, কিন্তু যখন আমরা তার থেকে তার বিপদ দূর করে দিই, সে তখন ঘুরে বেড়ায় যেন সে আমাদের কদাচ ডাকে নি বিপদের সময়ে যা তাকে স্পর্শ করেছিল। এইভাবে দায়িত্বহীনদের কাছে চিত্তাকর্ষক করা হয় যা তারা করে চলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে আমাদের ডাকে শুয়ে, বসে, কিংবা দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমরা যখনই তার দুঃখ - দুর্দশা দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে চলে যেনো তাকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করেছিল, তখন সে আমাকে ডাকেনি। এভাবে সীমালংঘনকারীদের কর্মকান্ড তাদের কাছে শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে।

জহুরুল হক

আর ইতিমধ্যে তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক মানবগোষ্ঠীকে আমরা ধ্বংস করেছিলাম যখন তারা অনাচার করেছিল, আর তাদের রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তারা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত ছিল না। এইভাবে আমরা প্রতিদান দিই অপরাধী সম্প্রদায়কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের আগেকার বহু মানব প্রজন্মকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা যুলুম করেছিল। তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্যে এগিয়ে আসেনি। এভাবেই আমরা অপরাধী লোকদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দিয়ে থাকি।

জহুরুল হক

তারপর আমরা তোমাদের এই পৃথিবীতে প্রতিনিধি বানিয়ে - ছিলাম তাদের পরে যেন আমরা দেখতে পারি তোমরা কেমনতর কাজ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা পৃথিবীতে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি তোমাদেরকে। কারণ, আমরা দেখতে চাই তোমরা কেমন আমল করো।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের কাছে পাঠ করা হয় আমাদের সুস্পষ্ট বণীসমূহ, যারা আমাদের সাথে মুলাকাতের আশা করে না তারা বলে - - ''এ ছাড়া অন্য এক কুরআন আনো অথবা এটি বদলাও।’’ বলো, ''একে আমার নিজের ইচ্ছায় বদলানো আমার কাজ নয়। আমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয় শুধু তারই আমি অনুসরণ করি। আমি আলবৎ ভয় করি, - - যদি আমি আমার প্রভুর অবাধ্য হই, - - এক ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদেরকে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত শুনানো হয়, তখন যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা তারা বলে: ‘এটির পরিবর্তে অন্য একটি কুরআন আনো, অথবা এটি রদবদল করো।’ হে নবী! বলো: ‘আমার নিজ থেকে এটিতে রদবদল করা আমার কাজ নয়। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার কাছে অহি করা হয়। আমি যদি আমার প্রভুর নির্দেশের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহা ভয়াবহ দিনের আযাবের আশংকা করি।’

জহুরুল হক

বলো - - ''যদি ইচ্ছা করতেন তবে আমি তোমাদের কাছে এ পাঠ করতাম না আর তিনিও তোমাদের কাছে এ জানাতেন না। আমি তো তোমাদের মধ্যে এর আগে এক জীবনকাল কাটিয়েছি। তোমরা কি তবে বোঝো না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘ চাইলে আমি এটি তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনিও এ বিষয়ে তোমাদের অবহিত করতেন না। আমি তো আমার একটা দীর্ঘ বয়সকাল তোমাদেরই মাঝে কাটিয়েছি, তবু কি তোমরা আকল খাটাবে না?’

জহুরুল হক

কে তবে বেশি অন্যায়কারী তার চাইতে যে সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করে? নিঃসন্দেহ অপরাধীরা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, কিংবা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর আয়াতকে? নিশ্চয়ই অপরাধিরা হয়না।

জহুরুল হক

আর ওরা ‌কে ছেড়ে দিয়ে তার উপাসনা করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না বা তাদের উপকারও করতে পারে না, আর তারা বলে - - ''এরা আমাদের জন্য ‌র কাছে সুপারিশকারী।’’ বলো - - ''তোমরা কি ‌কে জানাতে চাও যা তিনি জানেন না মহাকাশে আর পৃথিবীতেও না?’’ তারঁই সব মহিমা! আর তারা যাকে অংশী করে তা হতে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছাড়া যে সবের ইবাদত (পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করে, সেগুলো না তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনো উপকার। তারা বলে: ‘এরা আল্লাহর কাছে আমাদের শাফায়াতকারী।’ হে নবী! বলো: ‘তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় অবহিত করতে চাও, মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যে বিষয়ে তিনি জানেন না?’ তিনি ত্রুটিমুক্ত পবিত্র এবং সেসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে যাদেরকে তোমরা শরিক করছো তাঁর সাথে।

জহুরুল হক

মানবগোষ্ঠী একই জাতি বইতো নয়, তারপর তারা মতপার্থক্য করলো। আর যদি তোমার প্রভুর কাছ থেকে ঘোষণাটি বলা না হতো তাহলে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ তো প্রথমে এক উম্মতই ছিলো। পরে তারা ইখতেলাফ (বিভেদ সৃষ্টি) করে। তোমার প্রভুর পূর্ব ঘোষণা না থাকলে তারা যে বিষয়ে ইখতেলাফ করছে তার ফায়সালা হয়ে যেতো।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''তার প্রভুর কাছ থেকে কেন একটি নিদর্শন তার কাছে পাঠানো হয় না?’’ তবে বলো - - '' কেবল ‌রই রয়েছে, কাজেই অপেক্ষা করো, নিঃসন্দেহ আমিও তোমাদেরই সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের মধ্যেকার।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন নাযিল হলো না কেন?’ তুমি বলো: ‘ তো কেবল আল্লাহ্ই জানেন। সুতরাং তোমরা এনতেযার (অপেক্ষা) করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

জহুরুল হক

আর যখন আমরা লোকদের করুণার আস্বাদ দিই কোনো দুঃখ - দুর্দশা তাদের স্পর্শ করার পরে, দেখো! তারা আমাদের নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। বলো - - '' পরিকল্পনা করায় অধিকতর তৎপর।’’ নিঃসন্দেহ আমাদের দূতরা লিখে রাখে যে ষড়যন্ত্র তোমরা করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর যখনই আমরা মানুষকে আমাদের রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখনই তারা আমাদের আয়াতের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়। বলো: ‘কৌশল প্রয়োগে সবচেয়ে দ্রুত।’ আমাদের রসূলরা (ফেরেশতারা) রেকর্ড করে রাখছে তোমাদের সব চক্রান্ত।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলে ও জলে। তারপর তোমরা যখন জাহাজে থাকো, আর তাদের নিয়ে তা যাত্রা করে অনুকুল হওয়ায়, আর তারা তাতে মৌজ করে, তাতে এসে পড়ে এক ঝড়ো বাতাস, আর চতুর্দিক থেকে ঢেউ আসতে থাকে তাদের কাছে, আর তারা মনে করে যে তারা আলবৎ এর দ্বারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে, তারা ‌কে ডাকে তাঁর প্রতি আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে - - ''যদি এ থেকে তুমি আমাদের উদ্ধার করো তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলভাগে এবং সমুদ্রে। এভাবে তোমরা যখন নৌযানে ভ্রমণ করো এবং সেগুলো আরোহীদের নিয়ে অনুকূল বাতাসে এগিয়ে চলে এবং তাতে তারা আনন্দিত হয়। অত:পর যখন দমকা হাওয়া এবং সবদিক থেকে আগত উত্তাল তরঙ্গমালা সেগুলোকে আক্রমণ করে এবং তারা মনে করে যে, তারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে, তখন আল্লাহর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তারা কেবল তাঁকেই ডাকতে থাকে। তারা তখন তাঁকে বলে: ‘তুমি যদি আমাদের উদ্ধার করো তাহলে অবশ্যি আমরা শোকরগুজার হবো।’

জহুরুল হক

তারপর তিনি যখন তাদের উদ্ধার করেন, দেখো! তারা পৃথিবীতে দৌরা‌ত্ম্য শুরু করে অন্যায়ভাবে। ওহে মানবগোষ্ঠি! তোমাদের দৌরা‌ত্ম্য বস্তুতঃ তোমাদেরই বিরুদ্ধে, দুনিয়ার জীবনের সামান্য উপভোগ, তারপর আমাদেরই কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তোমাদের জানিয়ে দেবো যা তোমরা করে চলেছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যখন তিনি তাদের বিপদ থেকে নাজাত দেন, তখন তারা না - হকভাবে দেশে সীমালংঘন করতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের সীমালংঘন তোমাদেরই ধ্বংসের কারণ হয়। দুনিয়ার জীবনে কিছুটা ভোগবিলাস করে নাও, তারপর আমাদের কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তোমাদের অবহিত করবো তোমরা কী সব কান্ড কারবার করছিলে।

জহুরুল হক

এই দুনিয়ার জীবনের তুলনা হচ্ছে বৃষ্টির ন্যায় যা আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি, তখন তার দ্বারা পৃথিবীর গাছপালা ভুইঁফোঁড়ে বাড়ে যা থেকে মানুষ ও জীবজন্তু আহার করে থাকে, তারপর যখন পৃথিবী তার সোনালী শোভা ধারণ করে ও সাজসজ্জা পরে, আর এর মালিকেরা ভাবে যে তারা আলবৎ এর উপরে আয়ত্তাধীন, তখন আমাদের আদেশ এর উপরে এসে পড়ে রাতে অথবা দিনে, ফলে আমরা একে বানাই কাটা শস্যের মতন যেন গতকালও তার প্রাচুর্য ছিল না। এইভাবে আমরা নির্দেশাবলী বিশদ ব্যাখ্যা করি সেইসব সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়ার জীবনের উপমা হলো (বৃষ্টির) পানি, যা আমরা আকাশ থেকে নাযিল করি। তা থেকে গজিয়ে উঠে ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন নিবিড় হয়ে। তা থেকেই আহার করে মানুষ এবং জীব - জানোয়ার। তারপর জমিন যখন তার শোভা ধারন করে এবং চাকচিক্যময় হয়ে উঠে আর তার অধিবাসীরা মনে করে, সেগুলো তাদের আয়ত্তাধীন, তখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়ে রাতে কিংবা দিনে এবং আমরা সেগুলো এমনভাবে ধ্বংস করে দেই, যেনো গতকালও সেখানে কিছু ছিলনা। এভাবেই আমরা বিশদ বিবরণ দেই আমাদের আয়াতের, চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।

জহুরুল হক

আর আহ্বান করেন শান্তির আলয়ে, আর যাকে তিনি ইচ্ছে করেন তাকে পরিচালিত করেন সহজ - সঠিক পথের দিকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

দাওয়াত দিচ্ছেন দারুস সালামের (শান্তি নিবাসের) দিকে এবং তিনি যাকে চান পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমে (সঠিক সুদৃঢ় পথে)।

জহুরুল হক

যারা ভালো করে তাদের জন্য রয়েছে ভালো এবং আরো বেশি। আর তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছাদন করবে না কোনো কালিমা এবং কোনো অপমানও নয়। এরাই হচ্ছে বেহেশতের অধিবাসী, তারা সেখানে থাকবে স্থায়ীভাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কল্যাণের কাজ করে তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। তাদের চেহারাকে আচ্ছন্ন করবেনা কালিমা কিংবা জিল্লতি। তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

জহুরুল হক

আর যারা মন্দ অর্জন করে মন্দকাজের প্রতিফল হবে তার অনুরূপ, আর তাদের আচ্ছাদন হবে অপমান। তাদের জন্য থেকে কোনো রক্ষক নেই, - - যেন তাদের মুখমন্ডল আচ্ছাদিত হয়েছে নিশীথের গহন অন্ধকারের একাংশ দিয়ে। এরাই হচ্ছে আগুনের অধিবাসী, তারা সেখানে থাকবে দীর্ঘকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কামাই করবে মন্দ কর্ম, তাদের প্রতিফলও হবে অনুরূপ মন্দ। তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে জিল্লতি। তাদেরকে আল্লাহর (পাকড়াও) থেকে রক্ষা করার কেউ হবেনা। তাদের চেহারা হবে (কালো) যেনো রাতের অন্ধকার আবরণে আচ্ছন্ন। তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

জহুরুল হক

আর যেদিন আমরা ওদের সবাইকে সমবেত করবো, তারপর যারা অংশী দাঁড় করেছিল তাদের বলবো - - ''তোমরা ও তোমাদের অংশীরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো।’’ তারপর আমরা তাদের একে অন্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবো, আর তাদের অংশীরা বলবে - - ''তোমরা তো আমাদের উপাসনা করতে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন আমরা তাদের সবাইকে হাশর (সমবেত) করবো এবং মুশরিকদের বলবো: ‘তোমাদের নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করো, তোমরা নিজেরা এবং তোমরা যাদের শরিক করেছিলে তারা। তারপর আমরা তাদেরকে পরস্পর থেকে আলাদা করে দেবো। তখন তারা যাদের শরিক করেছিল তারা বলবে: ‘‘তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না।

জহুরুল হক

''সেজন্য আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে ‌ই যথেষ্ট যে তোমাদের পূজা - অর্চনা সন্বন্ধে আমরা অনবহিত ছিলাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। (তোমরা যে বলছো তোমরা আমাদের ইবাদত করতে) আমরা তো তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে একেবারেই গাফিল ছিলাম।’’

জহুরুল হক

সেখানে প্রত্যেক আ‌ত্মা উপলব্ধি করবে যা সে পূর্বে পাঠিয়েছে, আর তাদের ফিরিয়ে আনা হবে তাদের প্রকৃত অভিভাবক ‌র নিকটে, আর তাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে যাদের তারা উদ্ভাবন করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃতকর্ম পরীক্ষা করে নেবে এবং তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে তাদের প্রকৃত মাওলা (মনিব) আল্লাহর দিকে, আর তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে তাদের মনগড়া (সুপারিশকারীরা)।

জহুরুল হক

বলো - - ''কে তোমাদের জীবিকা দান করে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী থেকে? অথবা শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে নির্গত করে ও জীবিত থেকে মৃতকে নির্গত করে? আর কে বিষয় - আশয় নিয়ন্ত্রণ করে?’’ তখন তারা বলবে - - ''‌।’’ তাহলে বলো - - ''তবে কেন তোমরা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করো না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘কে তোমাদের রিযিক দেন আসমান ও জমিন থেকে? কিংবা শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টি শক্তির কর্তৃত্ব কার? কে বের করেন মৃত থেকে জীবিতকে? কে বের করেন জীবিত থেকে মৃতকে? কে পরিচালনা করেন সমস্ত বিষয়?’ এসব প্রশ্নের জবাবে তারা বলবে: ‘’। বলো: ‘তাহলে কেন তোমরা সতর্ক হওনা (আল্লাহর আযাব সম্পর্কে)?’

জহুরুল হক

এই তবে ‌, - - তোমাদের আসল প্রভু, সত্যের পরে তবে মিথ্যা ভিন্ন আর কি থাকে? সুতরাং কোথায় তোমরা ফিরে যাচ্ছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তোমাদের প্রকৃত প্রভু। সত্য ত্যাগ করলে গোমরাহি ছাড়া আর কী থাকে? তাহলে তোমরা ঘুরে ফিরে কোন্ দিকে যাচ্ছো?

জহুরুল হক

এইভাবে তোমার প্রভুর বাণী সত্যপ্রতিপন্ন হয় তাদের বিরুদ্ধে যারা অবাধ্যাচরণ করে - - ''নিঃসন্দেহ তারা ঈমান আনবে না’’।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই ফাসিকদের উপর তোমার প্রভুর বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে যে, তারা ঈমান আনবে না।

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমাদের অংশীদের মধ্যে কেউ কি আছে যে আদি - সৃষ্টি আর করতে পারে, তারপর তা পুনরুৎপাদন করতে পারে?’’ তুমি বলো - - ''‌ই সৃষ্টি শুরু করেন, তারপর তা পুনরুৎপাদন করেন। সুতরাং তোমরা কোথায় চলে যাচ্ছ?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানাও, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সৃষ্টির অস্তিত্ব দেয়, পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়? বলো: আল্লাহ্ই সৃষ্টির অস্তিত্ব দেন এবং পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটান। ফলে তোমরা কী করে সত্য ত্যাগ করে দূরে সরে যাচ্ছো?

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমাদের অংশীদের মধ্যে কেউ কি আছে যে পরিচালিত করে সত্যের প্রতি?’’ তুমি বলো - - ''‌ই সত্যের প্রতি পরিচালিত করেন।’’ অতএব যিনি সত্যের প্রতি পথ দেখান তিনি অনুসরণের অধিকতর দাবিদার, না যে পরিচালন করে না যদি না সে পরিচালিত হয়? তোমাদের তবে কি হয়েছে? কিভাবে তোমরা বিচার করো?

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক বানাচ্ছো, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সত্যের দিকে পথ দেখায়? বলো: সত্যের দিকে পথ দেখান তো কেবল । যিনি সত্যের দিকে পথ দেখান তিনি আনুগত্য লাভের অধিক হকদার? নাকি সে, যাকে পথ না দেখালে সে নিজেই পথ পায়না? তোমাদের হয়েছে কী? কিভাবে তোমরা ফায়সালা গ্রহণ করো?

জহুরুল হক

আর তাদের অধিকাংশই অনুমান ছাড়া আর কিছুই অনুসরণ করে না। নিঃসন্দেহ সত্যের পরিবর্তে অনুমানের কোনোই মূল্য নেই। ওরা যা করে সে বিষয়ে অবশ্যই সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অধিকাংশই অনুমান ছাড়া আর কিছুরই অনুসরণ করেনা। নিশ্চয়ই অনুমান সত্যে উপনীত হবার ব্যাপারে কোনো কাজেই আসেনা। তারা যা করে সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত।

জহুরুল হক

আর এই কুরআন এমন নয় যা রচনা করতে পারে ছাড়া অন্য কেউ, পক্ষান্তরে এ সমর্থন করে এর পূর্বে যা ছিল তার, আর গ্রন্থের এ এক বিশদ ব্যাখ্যা - - কোনো সন্দেহ নেই এতে বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কুরআন ছাড়া আর কারো পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়। বরং এটি এর পূর্বে যেসব (কিতাব) অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর সত্যায়নকারী এবং বিধানসমূহের বিশদ বিবরণ। এতে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই যে, এটি নাযিল হয়েছে মহাজগতের প্রভুর পক্ষ থেকে।

জহুরুল হক

অথবা তারা কি বলে - - ''তিনি এটি রচনা করেছেন’’? তুমি বলো - - ''তাহলে নিয়ে এস এর মতো একটি সূরা, আর ‌কে ছেড়ে দিয়ে যাদের পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: এটি সে (মুহাম্মদ) রচনা করে নিয়েছে? তুমি বলো: তাহলে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতার) জন্যে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

জহুরুল হক

না, তারা প্রত্যাখ্যান করে যার জ্ঞানের সীমা তারা পায় না, আর এখনও এর মর্ম তাদের কাছে আসে নি। এইভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল তারা যারা তাদের পূর্বে ছিল, সুতরাং দেখো কেমন হয়েছিল অত্যাচারীদের পরিণাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তারা এমন বিষয় অস্বীকার করছে, যে বিষয়ে জ্ঞান তারা আয়ত্ত করেনি এবং যার তা’বিলও তাদের কাছে আসেনি। তাদের পূর্ববর্তী (কাফিররাও) এভাবেই সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন তাকিয়ে দেখো, যালিমদের কী পরিণতি হয়েছিল!

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যে এতে বিশ্বাস করে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যে এতে বিশ্বাস করে না। আর তোমার প্রভু গন্ডগোল সৃষ্টিকারীদের ভালো জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে কিছু লোক তার প্রতি ঈমান রাখে আর কিছু লোক ঈমান রাখেনা। তোমার প্রভু ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সবচে’ ভালো করে জানেন।

জহুরুল হক

আর তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যারোপ করে তবে বলো - - ''আমার কাজ আমার জন্য, আর তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য, তোমরা দায়ী নও আমি যা করি সে বিষয়ে আর আমিও দায়ী নই তোমরা যা করো সে বিষয়ে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, তুমি তাদের বলো: ‘আমার কাজের দায়িত্ব আমার, আর তোমাদের কাজের দায়িত্ব তোমাদের। আমি যে কাজ করি তোমরা তার দায়মুক্ত। আর তোমরা যে কাজ করছো আমিও তার দায়মুক্ত।’

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার কথা শোনে। তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারো, - - পরন্ত তারা বুদ্ধিশুদ্ধি রাখে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কিছু লোক তোমার কথা শুনে। কিন্তু তারা বুঝতে না পারলেও তুমি কি বধিরদের শুনাবে?

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখতে পারো, - - পরন্ত তারা দেখতে পায় না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাকে দেখে । কিন্তু তুমি কি অন্ধদের পথ দেখাবে তারা না দেখলেও?

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ মানুষের প্রতি কোনো অন্যায় করেন না, কিন্তু মানুষরা তাদের নিজেদেরই প্রতি অন্যায় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করেন না, বরঞ্চ মানুষই নিজেরা নিজেদের প্রতি যুলুম করে।

জহুরুল হক

আর যেদিন তিনি তাদের একত্রিত করবেন যেন তারা দিনের এক ঘন্টাও কাটায় নি, তারা একে - অন্যকে চিনতে পারবে। ‌র সঙ্গে মুলাকাত হওয়াকে যারা মিথ্যা বলেছিল তারা আলবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর তারা সঠিক পথে চালিত ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তিনি তাদের হাশর করবেন, সেদিন তাদের মনে হবে (পৃথিবীতে) তারা অবস্থান করেছিল দিনের কিছুক্ষণ মাত্র। তারা পরস্পরকে চিনবে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেইসব লোক যারা আল্লাহর সাক্ষাত অস্বীকার করেছে এবং তারা সঠিক পথেও ছিলনা।

জহুরুল হক

আর তোমাকে যদি আমরা দেখিয়ে দিই ওদের যা আমরা ওয়াদা করেছিলাম তার কিছুটা, অথবা তোমার মৃত্যু ঘটিয়ে দিই, তা হলেও আমাদের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন, তার উপর সাক্ষী রয়েছেন যা তারা করে তার।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদেরকে যে ভয় দেখাচ্ছি, তার কিছুটা যদি তোমার জীবনকালে দেখিয়ে দেই, কিংবা তোমার জীবনকাল যদি পূর্ণ করে দেই, শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবর্তন তো আমাদের কাছেই হবে। তারপর আল্লাহ্ই তো তাদের কর্মকান্ডের সাক্ষী।

জহুরুল হক

আর প্রত্যেক জাতির জন্যে একজন রসূল, অতএব যখন তাদের রসূল এসেছিলেন তখন ন্যায় - বিচারের সাথে ওদের মধ্যে মীমাংসা হয়েছে, আর তাদের প্রতি অন্যায় করা হয় নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক উম্মতের জন্যেই ছিলো একজন রসূল। যখনই তাদের কাছে তাদের রসূল এসেছিল, তখন ইনসাফের সাথে তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হয়নি।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''এ ওয়াদা কবে ফলবে, - - যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো, তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া সেই সময়টি কখন আসবে?’

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''আমি নিজের থেকে কোনো অনিষ্ট - সাধনের কর্তৃত্ব রাখি না বা মুনাফা দেবারও নয় - - যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত।’’ প্রত্যেক জাতির জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন তাদের সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তারা ঘন্টাখানেকের জন্যেও দেরি করতে পারবে না বা এগিয়েও আনতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: আমার নিজের লাভ ক্ষতির উপরও আমার কোনো অধিকার নেই, তবে কিছু চাইলে ভিন্ন কথা। প্রত্যেক উম্মতেরই একটি নির্ধারিত সময় আছে। যখন তার সেই নির্ধারিত সময়টি আসবে, তখন কিছুক্ষণ সময়ও আগপর হবেনা।

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের উপরে এসে পড়ে রাত্রির আক্রমণরূপে অথবা দিনের বেলায়, তবে এর মধ্যের কোনটা ত্বরান্বিত করতে চায় অপরাধীরা?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমাদের রায় কী; আল্লাহর আযাব তো রাত বা দিনে তোমাদের উপর এসেই পড়তে পারে। তারপরও অপরাধীরা সেটার জন্যে তাড়াহুড়া করে কেন?’

জহুরুল হক

তবে কি তখন তোমরা এতে বিশ্বাস করবে যখন এটি ঘটবে? ''আহা, এখন! তোমরা তো এটিই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা (কিয়ামত) ঘটে যাবার পরই কি তোমরা ঈমান আনবে? এখন (ঈমান আনবেনা)? তোমরাই তো এর জন্যে তাড়াহুড়া করছিলে।

জহুরুল হক

তারপর যারা অন্যায়াচরণ করেছিল তাদের বলা হবে - - ''স্থায়ী শাস্তি আস্বাদন করো। তোমরা যা অর্জন ক’রে চলেছিলে তা ছাড়া অন্য কিছু কি তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যালিমদের বলা হবে, চিরস্থায়ী আযাবের স্বাদ গ্রহণ করো। তোমরা যা কামাই করে এসেছো সেটার ছাড়া অন্য কিসের প্রতিফল তোমাদের দেয়া হবে?

জহুরুল হক

আর তারা তোমার কাছে জানতে চায় - - ''এ কি সত্য?’’ বলো - - ''হাঁ, আমার প্রভুর কসম, এ আলবৎ সত্য। আর তোমাদের এড়াবার নহে!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) তারা তোমার কাছে জানতে চায়, সেটা (পুনরুত্থান দিবস) কি সত্য? বলো: ‘হ্যাঁ, আমার প্রভুর শপথ সেটা অবশ্যি সত্য। তোমরা সেটার আগমন ঠেকাতে পারবে না।’

জহুরুল হক

আর প্রতিটি লোকের, যে অন্যায় করেছে, তার যদি হতো পৃথিবীতে যা কিছু আছে সে অবশ্যই সেগুলো দিয়ে মুক্তি চাইত। আর তারা অনুতাপ অনুভব করবে যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে, কিন্তু তাদের সন্বন্ধে মীমাংসা করা হয়েছে ন্যায়সঙ্গত ভাবে, আর তাদের জুলুম করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি প্রত্যেক অন্যায়কারী পৃথিবীর সবকিছুর মালিকও হয়, তবে সে (কিয়ামতের দিন) মুক্তির বিনিময়ে সবকিছু দিয়ে দিতে চাইবে। আযাব দেখতে পেলে সে অনুতাপ লুকাবার চেষ্টা করবে। সেদিন ইনসাফের সাথে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হবেনা।

জহুরুল হক

যা - কিছু মহাকাশে ও পৃথিবীতে রয়েছে সে - সবই কি বাস্তবে ‌র নয়? ‌র ওয়াদা কি অবশ্যই সত্য নয়? কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান, জেনে রাখো, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। সাবধান, জেনে রাখো আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা।

জহুরুল হক

তিনিই জীবনদান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি জীবন দান করেন এবং তিনি মরণ দিয়ে থাকেন এবং সবাইকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠি! তোমাদের কাছে নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে এসেছে এক ধর্মোপদেশ আর অন্তরে যা আছে তার জন্য এক আরোগ্য বিধান, আর বিশ্বাসীদের জন্য এক পথনির্দেশ ও এক করুণা।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছ এসেছে একটি উপদেশ এবং তোমাদের কলবে (অন্তরে) যা আছে তার নিরাময়, আর হিদায়াত ও রহমত মুমিনদের জন্যে।

জহুরুল হক

বলো - - ''‌র বদান্যতায় ও তাঁর করুণায়’’ - - অতএব এতে তারা তবে আনন্দ প্রকাশ করুক। তারা যা পুঞ্জীভূত করে তার চাইতে এ অধিকতর শ্রেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘এই (কুরআন এসেছে) আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়ায়। সুতরাং এর জন্যে তারা উৎফুল্ল ও আনন্দিত হোক।’ তারা যা জমা করে এটি তার চাইতে উত্তম।

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমরা কি দেখেছ তোমাদের জন্য জীবিকা থেকে কত কি পাঠিয়েছেন, তারপর তোমরা তার কিছু হারাম ও হালাল বানিয়েছে?’’ বলো - - '' কি তোমাদের জন্য অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা ‌র প্রতি মিথ্যারোপ করছো?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, তোমাদের জন্যে যে রিযিক নাযিল করেছেন, তারপর তোমরা যে সেগুলোর কিছু হালাল আর কিছু হারাম বানিয়ে নিয়েছো - হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো, তোমাদের এ নির্দেশ কি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করছো?

জহুরুল হক

আর যারা সন্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা কিয়ামতের দিন সন্বন্ধে কি ভাবছে? নিঃসন্দেহ মানুষের প্রতি অবশ্যই বদান্যতার সর্বময় কর্তা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, কিয়ামতকাল সম্পর্কে তাদের ধারণা কী? নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহওয়ালা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।

জহুরুল হক

আর তুমি এমন কোনো কাজে নও বা সে - সম্পর্কে কুরআন থেকে আবৃত্তি করো না, আর তোমরা এমন কোনো কাজ করো না - - আমরা কিন্তু তোমাদের উপরে সাক্ষী রয়েছি যখন তোমরা তাতে নিযুক্ত থাক। আর তোমার প্রভুর কাছ থেকে অণু পরিমাণ কিছুও লুকোনো থাকছে না এ পৃথিবীতে আর মহাকাশেও নয়, আর তার চাইতে ছোটও নেই ও বড়ও নেই যা নয় এক সুস্পষ্ট গ্রন্থে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তুমি যে অবস্থায়ই থাকো এবং কুরআন থেকে যা - ই তিলাওয়াত করোনা কেন আর (হে মানুষ!) তোমরা যা - ই করোনা কেন, আমরা তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি যখন তোমরা তাতে আত্মনিয়োগ করো। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে একটি অণু পরিমাণ কিছুও তাঁর অগোচরে নেই এবং তার চাইতে ক্ষুদ্রতম কিংবা বৃহত্তর কিছুই নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা নেই।

জহুরুল হক

জেনে রোখো! নিঃসন্দেহ ‌র বন্ধুরা - - তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর অলিদের কোনো ভয় নেই এবং দুঃখ - দুশ্চিন্তাও নেই।

জহুরুল হক

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ভয়ভক্তি করে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

(তারা হলো সেইসব লোক) যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।

জহুরুল হক

তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ এই পৃথিবীর জীবনে এবং পরকালে। ‌র বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই, - - এটিই হচ্ছে মহা সাফল্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই মহাসাফল্য।

জহুরুল হক

আর তাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। সম্মান নিঃসন্দেহ সম্পূর্ণরূপে ‌র। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা!

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! এরা তোমাকে যা কিছু বলছে) তাদের কথা যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। সমস্ত ইয্যত ও শক্তির মালিক তো । তিনি সব শুনেন, সব জানেন।

জহুরুল হক

এটি কি নয় যে নিঃসন্দেহ মহাকাশমন্ডলে যারা আছে ও যারা আছে পৃথিবীতে তারা ‌র? আর যারা ‌কে ছেড়ে দিয়ে অংশীদের আরাধনা করে তারা অনুসরণ করে না। তারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে, আর তারা শুধু মিথ্যাই বলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারা আছে সবাই আল্লাহর। যারা ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর শরিক বানিয়ে ডাকে, তারা কিসের অনুসরণ করে? তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে এবং তারা কেবল মিথ্যাই বলে।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন রাত্রি যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পারো, আর দেখবার জন্য দিন। নিঃসন্দেহ এ - সবে রয়েছে সঠিক নিদর্শনসমূহ সেই লোকদের জন্য যারা শোনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের জন্যে রাত বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্যে আর দিন বানিয়েছেন দেখার জন্যে। যারা (উপদেশ) শুনে এতে তাদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।

জহুরুল হক

তারা বলে - - '' একটি পুত্র গ্রহণ করেছেন’’। তাঁরই মহিমা হোক! তিনি স্বয়ং - সমৃদ্ধ। মহাকাশমন্ডলীতে যা - কিছু আছে ও যা - কিছু আছে পৃথিবীতে সে - সবই তাঁর। এ বিষয়ে কোনো সনদ তোমাদের নিকট নেই। তোমরা কি সন্বন্ধে বলো যা তোমরা জানো না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি (এ থেকে) পবিত্র মহান। তিনি অভাবমুক্ত। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। (তোমরা যা বলছো) সে বিষয়ে তোমাদের কাছে কোনো সার্টিফিকেট নেই। তোমরা কি আল্লাহর উপর এমন কথা আরোপ করছো, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?

জহুরুল হক

বলো - - ''নিঃসন্দেহ যারা ‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা হবে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: যারা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, তারা সফল হবেনা।

জহুরুল হক

দুনিয়ার সুখ - সম্ভোগ, এরপর আমাদেরই কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তাদের আস্বাদন করাবো কঠোর শাস্তি, যেহেতু তারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে তাদের জন্যে রয়েছে কিছু ভোগ বিলাস। তারপর আমাদের কাছেই হবে তাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমরা তাদের স্বাদ গ্রহণ করাবো কঠিন আযাবের, তাদের কুফুরির কারণে।

জহুরুল হক

আর তাদের কাছে নূহ - এর কাহিনী বর্ণনা করো। স্মরণ করো! তিনি তাঁর লোকদের বলেছিলেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! যদি আমার বসবাস এবং ‌র বাণীদ্বারা আমার উপদেশদান তোমাদের উপরে গুরুভার হয়, তাহলে ‌র উপরেই আমি নির্ভর করছি, সুতরাং তোমাদের কাজের ধারা ও তোমাদের অংশীদের গুটিয়ে নাও, তারপর তোমাদের কাজের ধারায় যেন তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে, তখন আমার দিকে তা খাটাও, এবং আমাকে বিরাম দিয় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি তিলাওয়াত করো নূহের সংবাদ। সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতের ভিত্তিতে আমার উপদেশ যদি তোমাদের অসহনীয় হয়, তবে আমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলাম। তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো তাদেরকে সাথে নিয়ে তোমাদের চক্রান্ত ঠিক করে নাও, পরে যেনো তোমাদের চক্রান্তের বিষয়ে তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে। তারপর আমার বিরুদ্ধে তোমাদের ফায়সালা ঠিক করে নাও এবং আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।

জহুরুল হক

''কিন্তু যদি তোমরা ফিরে যাও তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাইনি। আমার পারিশ্রমিক কেবল ‌র কাছেই রয়েছে, আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপরও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও নিতে পারো। আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব আল্লাহর উপর। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তরভুক্ত হই।’’

জহুরুল হক

কিন্তু তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সেজন্যে আমরা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের উদ্ধার করেছিলাম জাহাজে, আর আমরা তাদের প্রতিনিধি করেছিলাম, আর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম তাদের যারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতএব চেয়ে দেখো! কেমন হয়েছিল সতর্কীকৃতদের পরিণাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

শেষ পর্যন্ত তারা তাকে (নূহকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে। তখন আমরা তাকে এবং তার সাথে যারা নৌযানে আরোহণ করেছিল তাদেরকে নাজাত দেই এবং তাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করি আর ডুবিয়ে দেই সেইসব লোকদের যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। চেয়ে দেখো, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, কী করুণ পরিণতি হয়েছিল তাদের!

জহুরুল হক

অতঃপর তাঁর পরে আমরা রসূলদের দাঁড় করিয়েছিলাম তাঁদের সম্প্রদায়ের কাছে, তাঁরা তাই তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তারা তাতে বিশ্বাস করার মতো ছিল না যা তারা ইতিপূর্বে প্রত্যাখ্যান করেছে। এইভাবে আমরা সীমা - লঙ্ঘনকারীদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দিই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার (নূহের) পরেও আমরা আরো অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের কওমের কাছে। তারা তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে। কিন্তু তারা আগে যা প্রত্যাখ্যান করেছে তার প্রতি আর ঈমান আনতে প্রস্ত্তত হয়নি। এভাবেই আমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর সীলগালা করে দেই।

জহুরুল হক

অনন্তর তাঁদের পরে আমরা পাঠিয়েছিলাম মূসা ও হারূনকে ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে আমাদের নিদর্শনসমূহ সঙ্গে দিয়ে, কিন্তু তারা অহংকার করেছিল আর তারা ছিল একটি অপরাধী সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা পাঠিয়েছি মূসা এবং হারূণকে ফেরাউন আর তার নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা দাম্ভিকতা প্রকাশ করে। আসলে তারা ছিলো একটি অপরাধী কওম।

জহুরুল হক

তারপর তাদের কাছে যখন আমাদের তরফ থেকে সত্য এল তারা তখন বললে - - ''এ তো নিশ্চয়ই পরিস্কার জাদু।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর তাদের কাছে যখন আমাদের পক্ষ থেকে সত্য প্রকাশ হয়ে যায়, তখন তারা বললো: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

জহুরুল হক

মূসা বললেন, ''কি তোমরা বলছ সত্য সন্বন্ধে যখন এ তোমাদের কাছে এল? এ কি জাদু? আর জাদুকররা হয় না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তোমাদের কাছে যখন সত্য এসে গেছে, তখন সে সম্পর্কে তোমরা এমনটি বলছো? এ কি ম্যাজিক? ম্যাজেসিয়ানরা কখনো সফল হয়না।’

জহুরুল হক

তারা বলল - - ''তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ আমাদের বিচ্যুত করতে তা থেকে যার উপরে আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, আর যেন তোমাদের দুজনেরই প্রতিপত্তি হয় এ দেশে? সুতরাং তোমাদের দুজনের প্রতি আমরা তো হচ্ছি না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যে ধর্মের উপর পেয়েছি তুমি কি আমাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করার জন্যে এসেছো এবং দেশে যেনো তোমার প্রভাব প্রতিপত্তি বেড়ে যায় সে জন্যে এসেছো? আমরা তোমাদের দু’জনের প্রতি নই।’

জহুরুল হক

আর ফিরআউন বললে - - ''প্রত্যেক ওস্তাদ জাদুকরকে আমার কাছে নিয়ে এস।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন (তার পারিষদকে) বললো: ‘তোমরা সব দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের খুঁজে আমার কাছে নিয়ে আসো।’

জহুরুল হক

সুতরাং যখন জাদুকররা এল তখন মূসা তাদের বললেন - - ''তোমাদের যা ফেলবার আছে ফেল।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ম্যাজেসিয়ানরা সবাই যখন এসে উপস্থিত হলো: মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করতে চাও নিক্ষেপ করো।’

জহুরুল হক

যখন তারা ফেলল, মূসা বললেন - - ''তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা ভেলকিবাজী। নিঃসন্দেহ একে বাতিল করে দেবেন ।’’ নিশ্চয়ই হুজ্জতকারীদের কাজে ভাল করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন নিক্ষেপ করলো, মূসা বললো: ‘‘তোমরা যা নিয়ে এসেছো তা তো ম্যাজিক! অবশ্যি এ জিনিসকে বাতিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সংশোধন করেননা।

জহুরুল হক

তাঁর বাণী অনুযায়ী সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন যদিও অপরাধীরা অসন্তষ্ট হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর বাণীর সাহায্যে সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা তা পছন্দ করেনা।’’

জহুরুল হক

কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের সন্তানসন্ততি ব্যতীত আর কেউ মূসার প্রতি বিশ্বাস করে নি ফিরআউন ও তাদের পরিষদবর্গের ভয়ে পাছে তারা তাদের নির্যাতন করে। আর ফিরআউন দেশের মধ্যে অবশ্যই ছিল মহাপ্রতাপশালী, আর সে নিশ্চয়ই ছিল ন্যায়লঙ্ঘন - কারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ নির্যাতন করবে এই ভয়ে মূসার কওমের কিছু যুবক ছাড়া আর কেউই তার প্রতি ঈমান আনেনি। ফেরাউন ছিলো দেশে এক উদ্ধত উচ্চাভিলাসী এবং সে ছিলো সীমালংঘনকারী।

জহুরুল হক

আর মূসা বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যদি ‌র প্রতি বিশ্বাস করে থাক তবে তাঁর উপরেই তোমরা নির্ভর কর যদি তোমরা মুসলিম হও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো তাহলে তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকে।’

জহুরুল হক

সুতরাং তারা বললে - - ''‌র উপরেই আমরা নির্ভর করছি। আমাদের প্রভু! অত্যাচারিগোষ্ঠীর উৎপীড়নের পাত্র আমাদের বানিও না,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘‘আমরা আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করলাম, হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এই যালিম লোকদের নির্যাতনের পাত্র বানিয়োনা।

জহুরুল হক

''আর তোমার করুণার দ্বারা আমাদের উদ্ধার কর অবিশ্বাসিগোষ্ঠী থেকে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার দয়ায় আমাদেরকে এ কওমের কবল থেকে নাজাত দাও।’’

জহুরুল হক

আর আমরা মূসা ও তাঁর ভাইয়ের প্রতি প্রত্যাদেশ দিলাম এই বলে - - ''তোমাদের লোকদের জন্য মিশরে বাড়িঘর স্থাপন করো, আর তোমাদের ঘরগুলোকে উপাসনার স্থান বানাও আর কায়েম করো। আর বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দাও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসা এবং তার ভাইকে অহির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘তোমাদের কওমের জন্যে মিসরে ঘর নির্মাণ করো আর তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলা (ইবাদতের স্থান) বানিয়ে নাও, কায়েম করো আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।’

জহুরুল হক

আর মূসা বললেন - - ''আমাদের প্রভু! নিশ্চয় তুমি ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গকে এই দুনিয়ার জীবনে শোভা - সৌন্দর্য ও ধন - দৌলত প্রদান করেছ, যা দিয়ে, আমাদের প্রভু! তারা তোমার পথ থেকে পথভ্রষ্ট করে। আমাদের প্রভু! বিনষ্ট করে দাও তাদের ধনসম্পত্তি, আর কাঠিন্য এনে দাও তাদের হৃদয়ের উপরে, তারা তো বিশ্বাস করে না যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘আমাদের প্রভু! তুমি ফেরাউন আর তার পারিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে চাকচিক্য আর সম্পদ দান করেছো। আমাদের প্রভু! তারা সেগুলো দিয়ে মানুষকে তোমার পথ থেকে বিপথগামী করে। আমাদের প্রভু! তাদের মাল - সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের হৃদয়গুলো কঠিন করে দাও। তারা বেদনাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত ঈমান আনবে না।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের দুজনের দোয়া ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হল, কাজেই তোমারা উভয়ে অটল থেকো, আর তাদের পথ অনুসরণ করো না যারা জানে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলেছিলেন: তোমাদের দোয়া কবুল করা হলো, সুতরাং তোমরা অটল অবিচল থাকো, আর তোমরা অজ্ঞদের পথের অনুসরণ করোনা।

জহুরুল হক

আর ইসরাইলের বংশধরদের আমরা সমূদ্র পার করালাম, আর ফিরআউন ও তার সৈন্যদল তাদের ধাওয়া করল নির্যাতন ও উৎপীড়নের জন্য! শেষে যখন ডুবে যাওয়া তাকে পাকড়াল সে বললে - - ''আমি ঈমান আনছি যে ইসরাইলের বংশধরেরা যাঁর প্রতি বিশ্বাস করে তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, আর আমি হচ্ছি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বনি ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিয়েছিলাম আর ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী ঔদ্ধত্যের সাথে সীমালংঘন করে তাদের পিছু ধাওয়া করে। তারপর যখন সে পানিতে ডুবতে থাকলো, বললো: ‘আমি (একথার প্রতি) ঈমান আনলাম যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই, যার প্রতি ঈমান এনেছে বনি ইসরাঈল এবং আমি মুসলিমদের অন্তরভুক্ত হলাম।’

জহুরুল হক

''আহা, এখন! আর একটু আগেই তুমি তো অবাধ্যতা করছিলে আর তুমি ছিলে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের মধ্যেকার।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এখন! অথচ ইতোপূর্বে তুমি অমান্য করেছিলে এবং তুমি ছিলে একজন ফাসাদ সৃষ্টিকারী।

জহুরুল হক

তবে আজকের দিনে আমরা উদ্ধার করব তোমার দেহ, যেন তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। কিন্তু মানুষের মধ্যের অনেকেই আমাদের নিদর্শন সন্বন্ধে অবশ্যই বেখেয়াল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আজ আমরা তোমার দেহটা রক্ষা করবো, যাতে করে তুমি পরবর্তীদের জন্যে নিদর্শন হয়ে থাকো। অনেক মানুষই আমাদের নিদর্শন সম্পর্কে গাফিল।

জহুরুল হক

আর ইসরাইলের বংশধরদের আমরা অবশ্যই উত্তম আবাসভূমিতে বসবাস করালাম, আর তাদের আমরা উত্তম বিষয়বস্তু দিয়ে জীবিকাদান করলাম, আর তারা বিভেদ সৃষ্টি করে নি যে পর্যন্ত না তাদের কাছে জ্ঞান এল। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে বিচার করবেন সে - সন্বন্ধে যাতে তারা মতভেদ করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বনি ইসরাঈলকে উৎকৃষ্ট মানের আবাসভূমিতে বসবাস করিয়েছি এবং তাদের দিয়েছি উত্তম জীবন। তারপর তাদের কাছে এলেম আসার পর তারা বিভেদে লিপ্ত হয়। তোমার প্রভু কিয়ামতের দিন তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা বিভেদ সৃষ্টি করেছিল।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তুমি সন্দেহের মধ্যে থাক যা তোমার কাছে আমরা অবতারণ করেছি সে - সন্বন্ধে তবে তাদের জিজ্ঞাসা করো যারা তোমার আগে গ্রন্থ পাঠ করেছে। তোমার কাছে আলবৎ সত্য এসেছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে, সুতরাং তুমি সংশয়ীদের মধ্যেকার হয়ো না,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার কাছে যা নাযিল করেছি সে বিষয়ে যদি তোমার সন্দেহ থাকে, তাহলে তোমার পূর্বের কিতাব যারা পাঠ করে তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখো। অবশ্যি তোমার কাছে তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সত্য এসেছে, সুতরাং তুমি কোনো অবস্থাতেই সন্দেহে পড়ে থাকা লোকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

জহুরুল হক

আর তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা ‌র বাণী প্রত্যাখ্যান করে, পাছে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যেকার হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সেইসব লোকদেরও অন্তরভুক্ত হয়োনা যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর আয়াতকে, তাহলে তুমি শামিল হয়ে পড়বে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রভুর বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গেছে তারা বিশ্বাস করবে না, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রভুর বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।

জহুরুল হক

যদিও তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এসে যায়, যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমন কি তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এলেও তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত (ঈমান আনবে না)।

জহুরুল হক

সুতরাং কেন এমন একটি জনপদবাসী নেই যারা বিশ্বাস করেছিল ও তাদের সেই বিশ্বাস তাদের উপকার করেছিল ইউনুসের লোকদের ব্যতীত? যখন তারা বিশ্বাস করল তখন আমরা তাদের থেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম পার্থিব জীবনের হীনতাজনক শাস্তি, এবং তাদের জীবনোপভোগ করতে দিয়েছিলাম কিছু কালের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে ইউনুসের কওমের কথা ভিন্ন। তারা ছাড়া কোনো জনপদের অধিবাসীরা কেন এমন হলো না যে, তারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসতো? তারা যখন ঈমান এনেছিল আমরা তাদের থেকে লাঞ্ছনাকর আযাব দূর করে দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে কিছুকালের জন্যে ভোগ বিলাসের সামগ্রী সরবরাহ করেছিলাম।

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভু যদি ইচ্ছা করতেন তবে যারা পৃথিবীতে আছে তাদের সবাই একসঙ্গে বিশ্বাস করত। তুমি কি তবে লোকজনের উপরে জবরদস্তি করবে যে পর্যন্ত না তারা হয়?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু চাইলে বিশ্বে যারা আছে অবশ্যি সবাই ঈমান আনতো। তবে কি তুমি মানুষকে ঈমান আনার জন্যে বাধ্য করবে?

জহুরুল হক

আর কোনো প্রাণীর পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভবপর নয় ‌র অনুমতি ব্যতীত। আর তিনি কলুষতা নিক্ষেপ করেন তাদের উপরে যারা বুঝে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর অনুমিত ছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। যারা আকল খাটায় না তাদের কালিমা লিপ্ত করেন।

জহুরুল হক

বলো - - ''তাকিয়ে দেখ যা - কিছু আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে।’’ আর নিদর্শনসমূহ ও সতর্ককারীরা কোনো কাজে আসে না সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা বিশ্বাস করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘মহাকাশ আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য করো। যারা ঈমান আনে না, নিদর্শন এবং সতর্কবাণী তাদের কোনো উপকারে আসেনা।

জহুরুল হক

তবে তারা কিসের প্রতীক্ষা করে ওদের দিনের অনুরূপ ব্যতীত যারা তাদের আগে গত হয়ে গেছে? বলোঃ ''তবে তোমরা প্রতীক্ষা কর, নিঃসন্দেহ আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষমাণদের মধ্যে রয়েছি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি তাদের আগেকার লোকদের উপর যা ঘটেছিল সেটার অপেক্ষা করছে। বলো: ‘তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

জহুরুল হক

তারপর আমরা রসূলগণকে উদ্ধার করি আর যারা বিশ্বাস করেছেন তাদেরও, এইভাবেই, - - বিশ্বাসীদের উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা নাজাত দেবো আমাদের রসূলদেরকে আর ঈমানদারদেরকে। এভাবেই আমাদের দায়িত্ব মুমিনদের নাজাত দেয়া।

জহুরুল হক

বলো - - ''ওহে মানবগোষ্ঠি! তোমরা যদি আমার ধর্ম সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে থাক তবে আমি তাদের উপাসনা করি না ব্যতীত যাদের তোমরা উপাসনা কর, আমি কিন্তু ‌র উপাসনা করি যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যে আমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘হে মানুষ! তোমরা এখনো যদি আমার দীনের ব্যাপারে সন্দেহে থেকে থাকো, তবে জেনে রাখো, তোমরা ছাড়া যাদের ইবাদত করো আমি তাদের ইবাদত করিনা। আমি ইবাদত করি একমাত্র আল্লাহর যিনি তোমাদের ওফাত ঘটান। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো মুমিনদের অন্তরভুক্ত থাকি।’

জহুরুল হক

আর তোমার মুখ ধর্মের প্রতি একনিষ্ঠভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখো, আর কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ‘‘তুমি একনিষ্ঠভাবে আদ - দীনের উপর কায়েম থাকো এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

জহুরুল হক

আর ‌কে ছেড়ে দিয়ে অন্যকে ডেকো না যে তোমার উপকারও করে না ও অপকারও করে না, কেননা তুমি যদি তা করো তাহলে তুমি তো সে - ক্ষেত্রে অন্যায়কারীদের মধ্যেকার হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ছাড়া অন্যদের ডাকবেনা, যারা তোমার লাভক্ষতি কিছুই করতে পারেনা। তুমি যদি এমনটি করো তাহলে যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।’’

জহুরুল হক

আর যদি কোনো আঘাত দিয়ে আমাকে পীড়ন করেন তাহলে তিনি ছাড়া এ মোচনকারী আর কেউ নেই, আর তিনি যদি তোমাকে চান ভাল করতে তাহলে তাঁর প্রাচুর্য রদ হবার নয়। তিনি তা আনয়ন করেন তাঁর দাসদের মধ্যের যার প্রতি ইচ্ছা করেন। আর তিনিই তো পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে কোনো অকল্যাণ দিলে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউই নেই। তিনি যদি তোমাকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই। তিনি তাঁর দাসদের যাঁকে ইচ্ছা নিজ অনুগ্রহ দান করেন। তিনি মহা ক্ষমাশীল মহাদয়াময়।

জহুরুল হক

বলো - - ''ওহে মানবগোষ্ঠি! নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে, সেজন্যে যে কেউ সৎপথ অবলন্বন করে সে নিঃসন্দেহ তার নিজের জন্যেই সৎপথে বিচরণ করে, আর যে ভ্রান্তপথ ধরে সে নিঃসন্দেহ তার নিজের বিরুদ্ধেই ভ্রান্তপথে চলে। আর আমি তোমাদের উপরে তো কার্যনির্বাহক নই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে, সুতরাং যে কেউ সঠিক পথে চলবে, সে তো নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে কেউ বিপথে চলবে সে নিজেরই অকল্যাণ করবে। আমি তোমাদের উকিল (কর্মসম্পাদক) নই।’

জহুরুল হক

আর তোমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে তারই অনুসরণ করো, তবে অধ্যবসায় চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না বিধান দেন, আর তিনিই সর্বোত্তম বিধানকর্তা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি যে অহি নাযিল হচ্ছে তুমি তারই ইত্তেবা (অনুসরণ) করো, আর সবর অবলম্বন করো যতোক্ষণ না আল্লাহর ফায়সালা আসে। তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme