Kitab

আল ইনসান

Chapter 76, 31 verses

  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • বয়ান ফাউন্ডেশন
  • আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক

মানুষের উপরে কি দীর্ঘ সময়ের অবকাশ অতিবাহিত হয় নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কালপ্রবাহে মানুষের উপর তো এমন এক সময় আসিয়াছিল, যখন সে উল্লখযোগ্য কিছু ছিল না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

মানুষের উপর কি কালের এমন কোন ক্ষণ আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের উপর কি কালের এমন অধ্যায় অতিবাহিত হয়নি, যখন উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিলনা সে?

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংযুক্ত এক শুক্রকীট থেকে, আমরা তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছি, সেজন্য আমরা তা কে বানিয়েছি শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি মিলিত শুক্রবিন্দু হইতে, তাহাকে পরীক্ষা করিবার জন্য; এইজন্য আমি তাহাকে করিয়াছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব, ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত নোতফা (শুক্র বিন্দু) থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্যে। আর এ উদ্দেশ্যেই আমরা তাকে অধিকারী করেছি শ্রবণ শক্তি আর দৃষ্টি শক্তির (অর্থাৎ - জ্ঞান বুদ্ধি বিবেকের)।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি, - - হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাকে পথের নির্দেশ দিয়াছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হইবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হইবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশ্যই আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে শোকরকারী অথবা অকৃতজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে জীবন যাপনের সঠিক পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে ইচ্ছে করলে আমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলতে পারে, কিংবা হতে পারে অকৃতজ্ঞ।

জহুরুল হক

আমরা অবশ্য অকৃতজ্ঞদের জন্য তৈরি করেছি শিকল ও বেড়ি, আর জ্বলন্ত আগুন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অকৃতজ্ঞদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি শৃংখল, বেড়ি ও লেলিহান অগ্নি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি ও অগ্নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

অকৃতজ্ঞদের জন্যে আমরা তৈরি করে রেখেছি শিকল, বেড়ি, আর জ্বলন্ত আগুন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ পুণ্যা‌ত্মারা পান করবে এমন একটি পাত্র থেকে যার মেজাজ হবে কর্পূরের - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সৎকর্মশীলেরা পান করিবে এমন পানীয় যাহার মিশ্রণ কাফূর -

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানপাত্র থেকে যার মিশ্রণ হবে কাফূর।

আবদুস শহীদ নাসিম

সৎ - সত্যপন্থী (কৃতজ্ঞ) লোকেরা (জান্নাতে) এমন সব পান পাত্র থেকে (শরাব) পান করবে, যে পানীয় থাকবে (সুগন্ধ) কর্পুর মিশ্রিত।

জহুরুল হক

একটি ফোয়ারা - - যা থেকে ‌র বান্দারা পান করবে, তারা এটিকে প্রবাহিত করবে অবিরাম ধারায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এমন একটি প্রস্রবণ যাহা হইতে ‌র বান্দাগণ পান করিবে, তাহারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করিবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এমন এক ঝর্ণা যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এটিকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তা হবে এমন একটি ঝর্ণা, যা থেকে কেবল আল্লাহর প্রিয় দাসেরাই পান করবে। তারা যেদিকে ইচ্ছা প্রবাহিত করে নেবে এই ঝর্ণা।

জহুরুল হক

তারা মানত পালন করে, এবং ভয় করে সেই দিনটির যার ধ্বংসলীলা হবে সুদূরপ্রসারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কর্তব্য পালন করে এবং সেই দিনের ভয় করে, যেই দিনের বিপত্তি হইবে ব্যাপক।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যার অকল্যাণ হবে সুবিস্তৃত।

আবদুস শহীদ নাসিম

(আল্লাহর এই প্রিয় দাসেরা হলো সেই সব লোক) যারা তাদের মানত (আল্লাহর অনুগত হয়ে থাকার অঙ্গীকার) পূর্ণ করে এবং এমন একটি দিনের ভয়ে ভীত - কম্পিত থাকে, যে দিনটির বিপদ ছড়িয়ে পড়বে সবখানে।

জহুরুল হক

আর তারা তাঁর প্রতি প্রেমবশতঃ খাবার খেতে দেয় অভাবগ্রস্তকে ও এতিমকে ও বন্দীকে - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আহার্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও তাহারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে,

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা তাদের খাদ্য দান করে দেয় মিসকিন, এতিম ও বন্দিদেরকে।

জহুরুল হক

''আমরা তোমাদের খেতে দিচ্ছি শুধু ‌র সন্তষ্টিলাভের জন্য, তোমাদের থেকে আমরা কোনো প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং বলে, ‘কেবল ‌র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি, আমরা তোমাদের নিকট হইতে প্রতি - দান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলে,‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান চাই না এবং কোন শোকরও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(খাদ্য দান করার সময়) তারা বলে (কিংবা এই মনোভাব পোষণ করে যে), ‘‘আমরা তোমাদের আহার্য দান করছি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে। এর বিনিময়ে আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রকার প্রতিদান কিংবা কৃতজ্ঞতা আশা করিনা।

জহুরুল হক

''আমরা আলবৎ আমাদের প্রভুর নিকট থেকে এক ভীতিপ্রদ বিপদসংকুল দিনের ভয় করি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা আশংকা করি আমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে এক ভীতিপ্রদ ভয়ংকর দিনের।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তো আমাদের মালিকের পক্ষ থেকে এক দীর্ঘ ভয়ংকর দিনের আশংকায় ভীত।’’

জহুরুল হক

কাজেই তাদের রক্ষা করবেন সেইদিনের অকল্যাণ থেকে এবং তাদের সাক্ষাৎ করাবেন প্রফুল্লতার ও প্রশান্তির সাথে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরিণামে ‌ তাহাদেরকে রক্ষা করিবেন সেই দিবসের অনিষ্ট হইতে এবং তাহাদেরকে দিবেন উৎফুল্লতা ও আনন্দ,

বয়ান ফাউন্ডেশন

সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে, তাদেরকে সেই দিনটির ক্ষতি ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং দান করবেন সৌন্দর্য - দীপ্তি (a light of beauty) আর আনন্দ প্রফুল্লতা (joy)।

জহুরুল হক

আর যেহেতু তারা অধ্যবসায় চালিয়েছিল সেজন্য প্রতিদানে তাদের দেবেন বাগান ও রেশমী পোশাক,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাহাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কারস্বরূপ তাহাদেরকে দিবেন উদ্যান ও রেশমী বস্ত্র।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া তাদের সবরের (আল্লাহর পথে ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে চলার) বিনিময়ে তিনি তাদের প্রতিদান দেবেন জান্নাত, আর রেশমি পোশাক।

জহুরুল হক

তারা সেখানে সমাসীন থাকবে রাজকীয় আসনে, তারা সেখানে দেখতে পাবে না সূর্যোত্তাপ, না কোনো কনকনে ঠান্ডা,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তাহারা সমাসীন হইবে সুসজ্জিত আসনে, তাহারা সেখানে অতিশয় গরম অথবা অতিশয় শীত বোধ করিবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যধিক শীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তারা সমাসীন হবে উঁচু উঁচু সুসজ্জিত আসনে। খরতপ্ত সূর্যতাপ কিংবা প্রচন্ড শীতে সেখানে তারা কষ্ট পাবেনা।

জহুরুল হক

আর তাদের সন্নিকটে থাকবে তাদের গাছের ছায়া, আর তাদের থোকা - থোকা ফল থাকবে নত হয়ে নাগালের মধ্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাহাদের উপর থাকিবে এবং উহার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাহাদের আয়ত্তাধীন করা হইবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তাদের উপর সন্নিহিত থাকবে উদ্যানের ছায়া এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের উপর বিস্তীর্ণ থাকবে জান্নাতের বৃক্ষরাজির ছায়া, আর ফলরাজি থাকবে সব সময়ই তাদের নাগালের মধ্যে।

জহুরুল হক

আর তাদের সামনে পরিবেশন করা হবে রূপোর পেয়ালা ও ঝলমলে কাচের পানপাত্র, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদেরকে পরিবেশন করা হইবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ পানপাত্রে -

বয়ান ফাউন্ডেশন

তাদের চারপাশে আবর্তিত হবে রৌপ্যপাত্র ও স্ফটিক স্বচ্ছ পানপাত্র-

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মাঝে (খাদ্য ও পানীয়) পরিবেশন করা হবে রৌপ্য পাত্র আর স্ফটিক - স্বচ্ছ (crystal) পান পাত্রে।

জহুরুল হক

চাঁদির তৈরি চক্‌মকে কাচের মতো, - - তারা তা মেপে নেবে একটি পরিমাপে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রজতশুভ্র স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমাণে উহা পূর্ণ করিবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

রূপার ন্যায় শুভ্র স্ফটিক পাত্র; যার পরিমাপ তারা নির্ধারণ করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

রজত স্বচ্ছ স্ফটিকের (crystal) পাত্রে পরিবেশনকারীরা পরিবেশন করবে পরিমাণ মতো।

জহুরুল হক

আর তাদের তাতে পান করানো হবে এমন একটি পাত্র যার মেজাজ হবে আদ্রকের, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তাহাদেরকে পান করিতে দেওয়া হইবে যান্‌জাবীল মিশ্রিত পানীয়,

বয়ান ফাউন্ডেশন

সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে পাত্রভরা আদা-মিশ্রিত সুরা,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তাদের শরাব পান করতে দেয়া হবে জানজাবিল (ginger) মিশ্রিত।

জহুরুল হক

তার মধ্যের একটি ফোয়ারাতে যার নাম দেয়া হয়েছে সাল্‌সাবীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জান্নাতের এমন এক প্রস্রবণের যাহার নাম সালসাবীল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সেখানকার এক ঝর্ণা যার নাম হবে সালসাবীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর (জানজাবিল মিশ্রিত) এই শরাব হবে মূলত জান্নাতের একটি ঝর্ণা, যার নাম হলো ‘সালসাবিল’।

জহুরুল হক

আর তাদের প্রদক্ষিণ করবে চিরস্ফুটিত কিশোরগণ, - - তোমরা যখন তাদের দেখবে তাদের তোমরা ভাববে ছড়ানো মুক্তো!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদেরকে পরিবেশন করিবে চিরকিশোরগণ, যখন তুমি উহাদেরকে দেখিবে তখন মনে করিবে উহারা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তা,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে এমনসব চিরবালক (boys of everlasting youth), যাদের দেখলে তোমার মনে হবে, ওরা যেনো ছড়ানো মুক্তা!

জহুরুল হক

আর যখন তুমি সেখানে চেয়ে দেখবে, তুমি দেখতে পাবে অনুগ্রহ - সামগ্রী ও এক বিশাল রাজ্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি যখন সেখানে দেখিবে, দেখিতে পাইবে ভোগ - বিলাসের উপকরণ এবং বিশাল রাজ্য।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তুমি যখন দেখবে তুমি সেখানে দেখতে পাবে স্বাচ্ছন্দ্য ও বিরাট সাম্রাজ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে গিয়ে যখন দেখবে, দেখতে পাবে নিয়ামত আর নিয়ামত (ভোগ বিলাসের সীমাহীন সামগ্রী), আর দেখতে পাবে (তোমাকে দেয়া হয়েছে) এক বিশাল সাম্রাজ্য (a great dominion)।

জহুরুল হক

তাদের পরিধেয় হবে মিহি সবুজ রেশমের ও পুরু জরির পোশাক, আর তাদের অলংকৃত করানো হবে রূপোর কাঁকন দিয়ে, আর তাদের প্রভু তাদের পান করাবেন এক পবিত্র পানীয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের আবরণ হইবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, তাহারা অলংকৃত হইবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে পান করাইবেন বিশুদ্ধ পানীয়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তাদের উপর থাকবে সবুজ ও মিহি রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরিধানে থাকবে সবুজ রঙের সুক্ষ্ম - মিহি রেশমি পোশাক, আর সোনালি কিংখাবের বস্ত্ররাজি। তাদের অলংকৃত করা হবে রৌপ্য নির্মিত ব্রেসলেট দিয়ে আর তাদের প্রভু তাদের পান করাবেন শরাবান তহুরা (অনাবিল পানীয়)।

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ এটি হচ্ছে তোমাদের জন্য পুরস্কার, আর তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃত হয়েছে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্য, ইহাই তোমাদের পুরস্কার এবং তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা স্বীকৃত।

বয়ান ফাউন্ডেশন

(তাদেরকে বলা হবে) ‘এটিই তোমাদের পুরস্কার; আর তোমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসাযোগ্য।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের বলা হবে) এগুলো তোমাদের জন্যে পুরস্কার (reward), কারণ তোমাদের সায়ী (চেষ্টা - সাধনা) কবুল করা হয়েছে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা - - আমরা স্বয়ং তোমার কাছে এই কুরআান এক অবতারণে অবতীর্ণ করেছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমাদের প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি ক্রমে ক্রমে,

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি পর্যায়ক্রমে আল-কুরআন নাযিল করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই পর্যায়ক্রমে তোমার প্রতি এ কুরআন নাযিল করছি।

জহুরুল হক

সুতরাং তোমার প্রভুর নির্দেশের জন্য অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, আর তাদের মধ্যেকার কোনো পাপিষ্ঠের অথবা সত্যপ্রত্যাখ্যান - কারীর আজ্ঞা পালন করো না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং ধৈর্যের সঙ্গে তুমি তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের প্রতীক্ষা কর এবং উহাদের মধ্যে যে পাপিষ্ঠ অথবা তাহার আনুগত্য করিও না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতএব তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্য ধারণ কর এবং তাদের মধ্য থেকে কোন পাপিষ্ঠ বা অস্বীকারকারীর আনুগত্য করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে তোমার প্রভুর নির্দেশ পালন করে যাও। আর তাদের মধ্যকার কোনো পাপিষ্ঠ কিংবা অবিশ্বাসীর আনুগত্য করোনা।

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভুর নাম কীর্তন করো সকালে ও বিকেলে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর সকালে ও সন্ধ্যায়,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের নাম স্মরণ কর,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভুর নাম স্মরণ করো সকাল - সন্ধ্যায়।

জহুরুল হক

আর রাতের থেকে তাঁর প্রতি সিজদা করো, আর লন্বা রাত পর্যন্ত তাঁর গুণগান করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং রাত্রির কিয়দংশে তাঁহার প্রতি সিজ্‌দাবনত হও আর রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর রাতের একাংশে তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হও এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবীহ পাঠ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

রাত্রি বেলায় তাঁর প্রতি সাজদায় অবনত হও এবং রাতে দীর্ঘ সময় তসবিহ করতে থাকো তাঁর।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এরা ভালবাসে অস্থায়ী জীবন, আর অবহেলা করে এদের সামনের এক কঠিন দিনকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ভালবাসে পার্থিব জীবনকে এবং উহারা পরবর্তী কঠিন দিবসকে উপেক্ষা করিয়া চলে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় এরা দুনিয়ার জীবনকে ভালবাসে আর তাদের সামনে রেখে দেয় এক কঠিন দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই (অবিশ্বাসী) লোকেরা তো পছন্দ করে নিয়েছে এ পৃথিবীর জীবনকে, আর উপেক্ষা করছে পরবর্তী (পরকালের) কঠিন দিবসকে।

জহুরুল হক

আমরাই তাদের সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন, কাজেই যখন আমরা চাইব তখন তাদের অনুরূপদের আমরা বদলে দেবো আমূল পরিবর্তনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি উহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি এবং উহাদের গঠন সুদৃঢ় করিয়াছি। আমি যখন ইচ্ছা করিব উহাদের পরিবর্তে উহাদের অনুরূপ এক জাতিকে প্রতিষ্ঠা করিব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাদের গ্রন্থি শক্ত করে দিয়েছি আর আমি চাইলে তাদের স্থানে তাদের মত (মানুষ) দিয়ে পরিবর্তন করে দিতে পারি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই সৃষ্টি করেছি এদের, তারপর তাদের গঠন করেছি মজবুতভাবে। অতপর আমরা যখন চাইবো তাদের পরিবর্তে নিয়ে আসবো অনুরূপ কোনো জাতিকে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি এক স্মরণীয় বার্তা, সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে তার প্রভুর দিকে পথ ধরুক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এক উপদেশ, অতএব যাহার ইচ্ছা সে তাহার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় এটি উপদেশ; অতএব যে চায় সে যেন তার রবের দিকে একটি পথ গ্রহণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি (কুরআন) একটি উপদেশ বাণী। অতএব, যার ইচ্ছা সে তার প্রভুর (সন্তুষ্টির) পথ অবলম্বন করতে পারে।

জহুরুল হক

আর তোমরা চাও না ‌র চাওয়া ব্যতিরেকে। নিঃসন্দেহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ইচ্ছা করিবে না যদি না ‌ ইচ্ছা করেন। ‌ র্সবজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর ইচ্ছা না করলে তোমরা ইচ্ছা করবে না; নিশ্চয় মহাজ্ঞানী, প্রাজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ইচ্ছায় কিছুই হয়না, যদি ইচ্ছা না করেন। অবশ্যি সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে তাঁর অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করান। কিন্ত অন্যায়কারীরা - - তাদের জন্য তিনি তৈরি করেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি যাহাকে ইচ্ছা তাঁহার অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেন, কিন্তু জালিমরা - উহাদের জন্য তো তিনি প্রস্তুত রাখিয়াছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যাকে ইচ্ছা তিনি স্বীয় রহমতে প্রবেশ করাবেন এবং যালিমদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি যাকে চান, নিজের অনুগ্রহের অন্তরভুক্ত করে নেন, কিন্তু যালিমদের কথা ভিন্ন। তাদের জন্যে তো তিনি তৈরি করে রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme