Kitab

আল কাসাস

Chapter 28, 88 verses

  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • Word by word
জহুরুল হক

ত্বা, সীন, মীম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তা - সীন - মীম;

মুহিউদ্দীন খান

ত্বা - সীন - মীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়া সিন মিম।

Word by word

طسٓمٓ

জহুরুল হক

এসব হচ্ছে সুস্পষ্ট গ্রন্থের বাণীসমূহ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই আয়াতগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো কিতাবুম মুবিনের (সুস্পষ্ট কিতাবের) আয়াত।

Word by word

تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ

জহুরুল হক

আমরা তোমার কাছে মূসা ও ফিরআউনের কাহিনী থেকে যথাযথভাবে বিবৃত করছি সেই লোকদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার নিকট মূসা ও ফির‘আওনের কিছু বৃত্তান্ত যথাযথভাবে বিবৃত করিতেছি, সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার কাছে মূসা ও ফেরাউনের বৃত্তান্ত সত্য সহকারে বর্ণনা করছি সম্প্রদায়ের জন্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকদের জন্যে আমরা মূসা ও ফেরাউনের কিছু সংবাদ নিখুঁতভাবে তিলাওয়াত (বর্ণনা) করছি।

Word by word

نَتْلُوا۟ عَلَيْكَ مِن نَّبَإِ مُوسَىٰ وَفِرْعَوْنَ بِٱلْحَقِّ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ ফিরআউন দেশে খুব উদ্ধত হয়েছিল, আর এর বাসিন্দাদের সে দলবিভক্ত করেছিল, সে তাদের একদলকে দুর্বল বানিয়েছিল, - - সে তাদের বেটাছেলেদের হত্যা করত ও বাঁচতে দিত তাদের মেয়েছেলেদের। নিঃসন্দেহ সে ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্যতম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন দেশে পরাক্রমশালী হইয়াছিল এবং সেখানকার অধিবাসীবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়া উহাদের একটি শ্রেণীকে সে হীনবল করিয়াছিল; উহাদের পুত্রগণকে সে হত্যা করিত এবং নারীগণকে জীবিত থাকিতে দিত। সে তো ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন তার দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দূর্বল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্র - সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল অনর্থ সৃষ্টিকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন দেশে হঠকারী নীতি অবলম্বন করে এবং নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে একদল লোককে দুর্বল করে রেখেছিল। তাদের পুত্রদের যবাই করছিল এবং মেয়েদের জীবিত রাখছিল। সে ছিলো একজন ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টিকারী।

Word by word

إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِى ٱلْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا يَسْتَضْعِفُ طَآئِفَةً مِّنْهُمْ يُذَبِّحُ أَبْنَآءَهُمْ وَيَسْتَحْىِۦ نِسَآءَهُمْ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلْمُفْسِدِينَ

জহুরুল হক

আর আমরা চেয়েছিলাম যাদের পৃথিবীতে দুর্বল বানানো হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে। আর তাদের নেতা করতে আর তাদের উত্তরাধিকারী করতে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইচ্ছা করিলাম, সে দেশে যাহাদেরকে হীনবল করা হইয়াছিল, তাহাদের প্রতি অনুগ্রহ করিতে, তাহাদেরকে নেতৃত্ব দান করিতে ও উত্তরাধিকারী করিতে;

মুহিউদ্দীন খান

দেশে যাদেরকে দূর্বল করা হয়েছিল, আমার ইচ্ছা হল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার, তাদেরকে নেতা করার এবং তাদেরকে দেশের উত্তরাধিকারী করার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা এরাদা করেছিলাম, যাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবো, তাদের নেতৃত্ব দান করবো এবং তাদের ওয়ারিশ বানাবো,

Word by word

وَنُرِيدُ أَن نَّمُنَّ عَلَى ٱلَّذِينَ ٱسْتُضْعِفُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ ٱلْوَٰرِثِينَ

জহুরুল হক

আর দেশে তাদের প্রতিষ্ঠা করতে, আর ফিরআউন ও হামান ও তাদের সেনাবাহিনীকে আমরা তা দেখাতে যা তারা তাদের থেকে আশংকা করত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহাদেরকে দেশে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করিতে, আর ফির‘আওন, হামান ও তাহাদের বাহিনীকে তাহা দেখাইয়া দিতে, যাহা উহাদের নিকট তাহারা আশংকা করিত।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য - বাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দূর্বল দলের তরফ থেকে আশংকা করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং জমিনে তাদের প্রতিষ্ঠিত করবো। আর ফেরাউন, হামান এবং তাদের দুজনের বাহিনীকে তাদের (দুর্বল করে রাখাদের) থেকে সেই জিনিসটা দেখাবো যার আশংকা তারা করছিল (অর্থাৎ ক্ষমতাচ্যুতির)।

Word by word

وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَنُرِىَ فِرْعَوْنَ وَهَٰمَٰنَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَحْذَرُونَ

জহুরুল হক

আর আমরা মূসার মাতার কাছে অনুপ্রেরণা দিলাম এই বলে - - ''এটিকে স্তন্যদান করো, তারপর যখন তার সন্বন্ধে আশংকা কর তখন তাকে পানিতে ফেলে দাও, আর ভয় করো না ও দুঃখও করো না। নিঃসন্দেহ আমরা তাকে ফিরিয়ে দেব তোমার কাছে, আর তাকে বানিয়ে তুলব রসূলগণের একজন ক’রে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা - জননীর অন্তরে আমি ইঙ্গিতে নির্দেশ করিলাম, ‘শিশুটিকে স্তন্য দান করিতে থাক। যখন তুমি তাহার সম্পর্কে কোন আশংকা করিবে তখন ইহাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করিও এবং ভয় করিও না, দুঃখও করিও না। আমি অবশ্যই ইহাকে তোমার নিকট ফিরাইয়া দিব এবং ইহাকে রাসূলদের একজন করিব।’

মুহিউদ্দীন খান

আমি মূসা - জননীকে আদেশ পাঠালাম যে, তাকে স্তন্য দান করতে থাক। অতঃপর যখন তুমি তার সম্পর্কে বিপদের আশংকা কর, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ কর এবং ভয় করো না, দুঃখও করো না। আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে পয়গম্বরগণের একজন করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ উদ্দেশ্যে আমরা মূসার মা’কে অহি (ইশারা) করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘‘ওকে (মূসাকে) বুকের দুধ পান করাতে থাকো। যখন তার (জীবনের) ব্যাপারে আশংকা করবে, তখন তাকে (বাক্সে করে) দরিয়ায় ভাসিয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে তুমি ভয়ও করোনা, দুশ্চিন্তাও করোনা। ওকে আমরা তোমার কোলেই ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে আমরা বানাবো রসূলদের একজন।’’

Word by word

وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰٓ أُمِّ مُوسَىٰٓ أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِى ٱلْيَمِّ وَلَا تَخَافِى وَلَا تَحْزَنِىٓ إِنَّا رَآدُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

জহুরুল হক

''তারপর তাঁকে তোলে নিল ফিরআউনের পরিজনবর্গ যেন তিনি তাদের জন্য হতে পারেন একজন শত্রু ও দুঃখ। নিঃসন্দেহ ফিরআউন ও হামান ও তাদের সৈন্যসামন্ত ছিল দোষী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর ফির‘আওনের লোকজন তাহাকে উঠাইয়া লইল। ইহার পরিণাম তো এই ছিল যে, সে উহাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হইবে। অবশ্যই ফির‘আওন, হামান ও উহাদের বাহিনী ছিল অপরাধী।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ফেরাউন পরিবার মূসাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে তিনি তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়ে যান। নিশ্চয় ফেরাউন, হামান, ও তাদের সৈন্যবাহিনী অপরাধী ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ফেরাউনের পরিবারের লোকজন তাকে উঠিয়ে নেয়, যাতে করে (অবশেষে) সে তাদের শত্রু ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়। নিশ্চয়ই ফেরাউন, হামান এবং তাদের বাহিনী ছিলো অপরাধী।

Word by word

فَٱلْتَقَطَهُۥٓ ءَالُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَٰمَٰنَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا۟ خَٰطِـِٔينَ

জহুরুল হক

''আর ফিরআউনের স্ত্রী বলল - - ''এ আমার জন্য ও তোমার জন্য এক চোখ - জোড়ানো আনন্দ! একে কাতল করো না, হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে, অথবা তাকে আমরা পুত্ররূপে গ্রহণ করব।’’ আর তারা বুঝতে পারল না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওনের স্ত্রী বলিল, ‘এই শিশু আমার ও তোমার নয়ন - প্রীতিকর। ইহাকে হত্যা করিও না, সে আমাদের উপকারে আসিতে পারে, আমরা তাহাকে সন্তান হিসাবেও গ্রহণ করিতে পারি।’ প্রকৃতপক্ষে উহারা ইহার পরিণাম বুঝিতে পারে নাই।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি, তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে পুত্র করে নিতে পারি। প্রকৃতপক্ষে পরিণাম সম্পর্কে তাদের কোন খবর ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের স্ত্রী বলেছিল: ‘শিশুটি আমার ও তোমার চোখ জুড়াবে। ওকে হত্যা করোনা। হয়তো সে আমাদের উপকারে আসবে, অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবেই গ্রহণ করতে পারি।’ অথচ তারা এর পরিণতি অনুভব করতে পারেনি।

Word by word

وَقَالَتِ ٱمْرَأَتُ فِرْعَوْنَ قُرَّتُ عَيْنٍ لِّى وَلَكَ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَىٰٓ أَن يَنفَعَنَآ أَوْ نَتَّخِذَهُۥ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

জহুরুল হক

আর পরক্ষণেই মূসার মায়ের হৃদয় মুক্ত হ’ল। সে হয়ত এটি প্রকাশ করেই ফেলত যদি না আমরা তার হৃদয়ে বল দিতাম, যেন সে মুমিনদের মধ্যেকার হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা - জননীর হৃদয় অস্থির হইয়া পড়িয়াছিল। যাহাতে সে আস্থাশীল হয় তজ্জন্য আমি তাহার হৃদয়কে দৃঢ় করিয়া না দিলে সে তাহার পরিচয় তো প্রকাশ করিয়াই দিত।

মুহিউদ্দীন খান

সকালে মূসা জননীর অন্তর অস্থির হয়ে পড়ল। যদি আমি তাঁর হৃদয়কে দৃঢ় করে না দিতাম, তবে তিনি মূসাজনিত অস্থিরতা প্রকাশ করেই দিতেন। দৃঢ় করলাম, যাতে তিনি থাকেন বিশ্ববাসীগণের মধ্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদিকে মূসার মার অন্তর অস্থির হয়ে পড়েছিল। যাতে করে সে আস্থাশীল থাকে সে জন্যে আমরা তার অন্তরকে মজবুত করে না দিলে সে তার পরিচয়ই প্রকাশ করে দিতো।

Word by word

وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَىٰ فَٰرِغًا إِن كَادَتْ لَتُبْدِى بِهِۦ لَوْلَآ أَن رَّبَطْنَا عَلَىٰ قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

জহুরুল হক

আর সে তাঁর বোনকে বলল - - ''এর পেছনে পেছনে যাও।’’ কাজেই সে তাঁর প্রতি লক্ষ্য রেখেছিল দূর থেকে, আর তারা বুঝতে পারে নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে মূসার ভগ্নিকে বলিল, ‘ইহার পিছনে পিছনে যাও।’ সে উহাদের অজ্ঞাতসারে দূর হইতে তাহাকে দেখিতেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি মূসার ভগিণীকে বললেন, তার পেছন পেছন যাও। সে তাদের অজ্ঞাতসারে অপরিচিতা হয়ে তাকে দেখে যেতে লাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসার মা) মূসার বোনকে বলেছিল: ‘তুই যা ওর পেছনে পেছনে।’ তখন সে তাদের অজ্ঞাতসারে দূর থেকে ওকে দেখতে দেখতে গিয়েছিল।

Word by word

وَقَالَتْ لِأُخْتِهِۦ قُصِّيهِ فَبَصُرَتْ بِهِۦ عَن جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

জহুরুল হক

আর আমরা আগে থেকেই স্তন্যপান তাঁর জন্য নিষিদ্ধ করেছিলাম। তখন সে বললে, ''আমি কি আপনাদের এমন কোনো ঘরের লোকের বিষয়ে বলে দেব যারা আপনাদের জন্য তাকে লালন - পালন করতেও পারে, আর তারা এর শুভাকাঙ্খী হবে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পূর্ব হইতেই আমি ধাত্রী - স্তন্যপানে তাহাকে বিরত রাখিয়াছিলাম। মূসার ভগ্নি বলিল, ‘তোমাদেরকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দিব যাহারা তোমাদের হইয়া ইহাকে লালন - পালন করিবে এবং ইহার মঙ্গলকামী হইবে?’

মুহিউদ্দীন খান

পূর্ব থেকেই আমি ধাত্রীদেরকে মূসা থেকে বিরত রেখেছিলাম। মূসার ভগিনী বলল, আমি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের কথা বলব কি, যারা তোমাদের জন্যে একে লালন - পালন করবে এবং তারা হবে তার হিতাকাঙ্ক্ষী?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আগে থেকেই ধাত্রীর দুধপান তার (মূসার) জন্যে হারাম করে দিয়েছিলাম। সে (মূসার বোন) তাদের বলেছিল: ‘আমি কি আপনাদের এমন একটি পরিবারের সন্ধান দেবো যারা আপনাদের হয়ে একে লালন পালন করবে এবং তারা ওর কল্যাণকামীও হবে?’

Word by word

وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ ٱلْمَرَاضِعَ مِن قَبْلُ فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰٓ أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُۥ لَكُمْ وَهُمْ لَهُۥ نَٰصِحُونَ

জহুরুল হক

তখন আমরা তাঁকে ফিরিয়ে দিলাম তাঁর মায়ের কাছে, যেন তার চোখ জুড়িয়ে যায় আর যেন সে দুঃখ না করে, আর যেন সে জানতে পারে যে ‌র ওয়াদা ধ্রুবসত্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাকে ফিরাইয়া দিলাম তাহার জননীর নিকট যাহাতে তাহার চক্ষু জুড়ায়, সে দুঃখ না করে এবং বুঝিতে পারে যে, ‌র প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ইহা জানে না।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাকে জননীর কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং তিনি দুঃখ না করেন এবং যাতে তিনি জানেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু অনেক মানুষ তা জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম তার মায়ের কাছে যাতে করে তার চক্ষু শীতল হয় এবং সে দুশ্চিন্তা না করে, আর সে যেনো জানতে পারে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তবে অধিকাংশ লোকই জানেনা।

Word by word

فَرَدَدْنَٰهُ إِلَىٰٓ أُمِّهِۦ كَىْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

জহুরুল হক

আর যখন তিনি তাঁর যৌবনে পৌঁছলেন ও পূর্ণবয়স্ক হলেন, আমরা তখন তাঁকে জ্ঞান ও বিদ্যা দান করলাম। আর এইভাবেই আমরা সৎকর্মীদের প্রতিদান দিই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন মূসা পূর্ণ যৌবনে উপনীত ও পরিণত বয়স্ক হইল তখন আমি তাহাকে হিক্‌মত ও জ্ঞান দান করিলাম; এইভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কার প্রদান করিয়া থাকি।

মুহিউদ্দীন খান

যখন মূসা যৌবনে পদার্পন করলেন এবং পরিণত বয়স্ক হয়ে গেলেন, তখন আমি তাঁকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানদান করলাম। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন পূর্ণ বালেগ হলো এবং বয়েসের দিক থেকে পরিণত হলো, তখন আমরা তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। কল্যাণপরায়ণদের এভাবেই আমরা পুরস্কৃত করি।

Word by word

وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُۥ وَٱسْتَوَىٰٓ ءَاتَيْنَٰهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ

জহুরুল হক

আর তিনি শহরে প্রবেশ করলেন যে সময়ে এর অধিবাসীরা অসতর্ক ছিল, তখন তিনি সেখানে দেখতে পেলেন দুজন লোক মারামারি করছে, - - একজন তাঁর দলের আর একজন তাঁর শত্রুপক্ষের, তখন যে ব্যক্তি তাঁর দলীয় সে তাঁর সাহায্যের জন্য চীৎকার করল তার বিরুদ্ধে যে তাঁর শত্রুপক্ষীয়, সুতরাং মূসা তাকে ঘুষি মারলেন, তখন তিনি তাকে খতম করে ফেললেন। তিনি বললেন - - ''এইটি শয়তানের কাজের ফলে। নিঃসন্দেহ সে এক শত্রু - - প্রকাশ্যভাবে বিভ্রান্তকারী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে নগরীতে প্রবেশ করিল, যখন ইহার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। সেখানে সে দুইটি লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত দেখিল, একজন তাহার নিজ দলের এবং অপর জন তাহার শত্রুদলের। মূসার দলের লোকটি উহার শত্রুর বিরুদ্ধে তাহার সাহায্য প্রার্থনা করিল, তখন মূসা উহাকে ঘুষি মারিল; এইভাবে সে তাহাকে হত্যা করিয়া বসিল। মূসা বলিল, ‘ইহা শয়তানের কাণ্ড। সে তো প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি শহরে প্রবেশ করলেন, যখন তার অধিবাসীরা ছিল বেখবর। তথায় তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াইরত দেখলেন। এদের একজন ছিল তাঁর নিজ দলের এবং অন্য জন তাঁর শত্রু দলের। অতঃপর যে তাঁর নিজ দলের সে তাঁর শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং এতেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। মূসা বললেন, এটা শয়তানের কাজ। নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু, বিভ্রান্তকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসা) নগরীতে প্রবেশ করলো, যখন তার অধিবাসীরা ছিলো অসতর্ক। সেখানে সে দুটি লোককে দেখলো সংঘর্ষে লিপ্ত। একজন তার নিজ গোত্রের, আরেকজন তার শত্রুপক্ষের। তার গোত্রের লোকটি শত্রুর বিরুদ্ধে তার সাহায্য চাইলো। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারে এবং তাকে হত্যা করে বসে। (এই আকস্মিক ঘটনায়) মূসা বললো: এটা শয়তানের কান্ড। সে তো সুস্পষ্ট শত্রু এবং বিভ্রান্তকারী।

Word by word

وَدَخَلَ ٱلْمَدِينَةَ عَلَىٰ حِينِ غَفْلَةٍ مِّنْ أَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ هَٰذَا مِن شِيعَتِهِۦ وَهَٰذَا مِنْ عَدُوِّهِۦ فَٱسْتَغَٰثَهُ ٱلَّذِى مِن شِيعَتِهِۦ عَلَى ٱلَّذِى مِنْ عَ

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমি নিঃসন্দেহ আমার নিজের প্রতি অত্যাচার করে ফেলেছি, সেজন্য আমাকে পরিত্রাণ করো।’’ সুতরাং তিনি তাঁকে পরিত্রাণ করলেন। নিঃসন্দেহ তিনি - - তিনিই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের প্রতি জুলুম করিয়াছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা কর।’ অতঃপর তিনি তাহাকে ক্ষমা করিলেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা আরো বললো: ‘আমার রব! আমি নিজের প্রতি যুলুম করে ফেলেছি, তুমি আমাকে মাফ করে দাও।’ তখন তিনি তাকে মাফ করে দেন। কারণ, তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

Word by word

قَالَ رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى فَغَفَرَ لَهُۥٓ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! যেহেতু তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, তাই আমি কখনো অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক হবো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে আরও বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হইব না।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: আমার প্রভু! যেহেতু তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছো, তাই আমি আর কখনো অপরাধীদের সাহায্য করবো না।

Word by word

قَالَ رَبِّ بِمَآ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ

জহুরুল হক

তারপর তিনি সকালবেলায় ভীত - সন্ত্রস্ত অবস্থায় শহরটিতে বেরুলেন সতর্ক দৃষ্টি ফেলে, তখন হঠাৎ যে আগের দিনে তাঁর সাহায্য চেয়েছিল সে তাঁর প্রতি চীৎকার করল। মূসা তাকে বললেন - - ''তুমি তো স্পষ্টই একজন ঝগড়াটে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর ভীত সতর্ক অবস্থায় সেই নগরীতে তাহার প্রভাত হইল। হঠাৎ সে শুনিতে পাইল পূর্বদিন যে ব্যক্তি তাহার সাহায্য চাহিয়াছিল, সে তাহার সাহায্যের জন্য চিৎকার করিতেছে। মূসা তাহাকে বলিল, ‘তুমি তো স্পষ্টই একজন বিভ্রান্ত ব্যক্তি।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি প্রভাতে উঠলেন সে শহরে ভীত - শংকিত অবস্থায়। হঠাৎ তিনি দেখলেন, গতকল্য যে ব্যক্তি তাঁর সাহায্য চেয়েছিল, সে চিৎকার করে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছে। মূসা তাকে বললেন, তুমি তো একজন প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট ব্যক্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় নগরীতে মূসার সকাল হলো। হঠাৎ সে শুনতে পায় গতকাল যে ব্যক্তি তার সাহায্য চেয়েছিল সে তার সাহায্যের জন্যে চীৎকার করছে। মূসা তাকে বললো: ‘তুমি এক সুস্পষ্ট বিপথগামী ব্যক্তি।’

Word by word

فَأَصْبَحَ فِى ٱلْمَدِينَةِ خَآئِفًا يَتَرَقَّبُ فَإِذَا ٱلَّذِى ٱسْتَنصَرَهُۥ بِٱلْأَمْسِ يَسْتَصْرِخُهُۥ قَالَ لَهُۥ مُوسَىٰٓ إِنَّكَ لَغَوِىٌّ مُّبِينٌ

জহুরুল হক

তারপর যখন তিনি পাকড়াতে চাইলেন তাকে যে তাঁদের উভয়েরই শত্রু তখন সে বললে - - ''হে মূসা! তুমি কি আমাকে মেরে ফেলতে চাও যেমন তুমি একজনকে গতকাল মেরে ফেলেছ, তুমি তো চাইছ কেবল দেশে জবরদস্ত বনতে, আর তুমি চাও না শান্তিস্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে ধরিতে উদ্যত হইল, তখন সে ব্যক্তি বলিয়া উঠিল, ‘হে মূসা! গতকাল তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করিয়াছ, সেভাবে আমাকেও কি হত্যা করিতে চাহিতেছ? তুমি তো পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী হইতে চাহিতেছ, শান্তি স্থাপনকারী হইতে চাও না।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে শায়েস্তা করতে চাইলেন, তখন সে বলল, গতকল্য তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, সে রকম আমাকেও কি হত্যা করতে চাও? তুমি তো পৃথিবীতে স্বৈরাচারী হতে চাচ্ছ এবং সন্ধি স্থাপনকারী হতে চাও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে ধরতে উদ্যত হলো, সে ব্যক্তি বলে উঠলো: ‘হে মূসা! তুমি যেভাবে গতকাল এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছো, সেভাবে কি আমাদেরও হত্যা করতে চাইছো? তুমি তো দেশে স্বেচ্ছাচারী হতে চাইছো, সংশোধনকামী হতে চাচ্ছোনা।

Word by word

فَلَمَّآ أَنْ أَرَادَ أَن يَبْطِشَ بِٱلَّذِى هُوَ عَدُوٌّ لَّهُمَا قَالَ يَٰمُوسَىٰٓ أَتُرِيدُ أَن تَقْتُلَنِى كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًۢا بِٱلْأَمْسِ إِن تُرِيدُ إِلَّآ أَن تَكُونَ جَبَّارًا فِى ٱلْأَرْضِ

জহুরুল হক

আর একজন লোক শহরের দূরপ্রান্ত থেকে ছুটতে ছুটতে এল। সে বললে - - ''হে মূসা! নিঃসন্দেহ প্রধানরা তোমার সন্বন্ধে পরামর্শ করছে তোমাকে হত্যা করতে, কাজেই বেরিয়ে যাও, নিঃসন্দেহ আমি তোমার জন্য মঙ্গলাকাঙ্খীদের একজন ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নগরীর দূর প্রান্ত হইতে এক ব্যক্তি ছুটিয়া আসিল ও বলিল, ‘হে মূসা! পারিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করিবার পরামর্শ করিতেছে। সুতরাং তুমি বাহিরে চলিয়া যাও, আমি তো তোমার মঙ্গলকামী।’

মুহিউদ্দীন খান

এসময় শহরের প্রান্ত থেকে একব্যক্তি ছুটে আসল এবং বলল, হে মূসা, রাজ্যের পরিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার পরমর্শ করছে। অতএব, তুমি বের হয়ে যাও। আমি তোমার হিতাকাঙ্ক্ষী।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এ সময়) নগরীর দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বললো: ‘হে মূসা। ফেরাউনের পারিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার জন্যে পরামর্শ করছে, তুমি (মিশর) থেকে বেরিয়ে যাও, আমি তোমার কল্যাণ চাই।’

Word by word

وَجَآءَ رَجُلٌ مِّنْ أَقْصَا ٱلْمَدِينَةِ يَسْعَىٰ قَالَ يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّ ٱلْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَٱخْرُجْ إِنِّى لَكَ مِنَ ٱلنَّٰصِحِينَ

জহুরুল হক

সুতরাং তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন ভীতসন্ত্রস্তভাবে সতর্ক দৃষ্টি মেলে। তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে অত্যাচারীগোষ্ঠী থেকে উদ্ধার করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ভীত সতর্ক অবস্থায় সে সেখান হইতে বাহির হইয়া পড়িল এবং বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি সম্প্রদায় হইতে আমাকে রক্ষা কর।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি সেখান থেকে ভীত অবস্থায় বের হয়ে পড়লেন পথ দেখতে দেখতে। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা ভয়ে সতর্কভাবে (দেশ থেকে) বেরিয়ে পড়লো। সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে যালিম কওমের কবল থেকে রক্ষা করো।’

Word by word

فَخَرَجَ مِنْهَا خَآئِفًا يَتَرَقَّبُ قَالَ رَبِّ نَجِّنِى مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ

জহুরুল হক

আর তিনি যখন মাদয়ান অভিমুখে যাত্রা করলেন তখন বললেন - - ''হতে পারে আমার প্রভু আমাকে ঠিক পথে চালিয়ে নেবেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন মূসা মাদইয়ান অভিমুখে যাত্রা করিল তখন বলিল, ‘আশা করি আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করিবেন।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন তিনি মাদইয়ান অভিমুখে রওয়ানা হলেন তখন বললেন, আশা করা যায় আমার পালনকর্তা আমাকে সরল পথ দেখাবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন মাদায়েনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলো, তখন বললো: ‘আশা করি আমার প্রভু আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।’

Word by word

وَلَمَّا تَوَجَّهَ تِلْقَآءَ مَدْيَنَ قَالَ عَسَىٰ رَبِّىٓ أَن يَهْدِيَنِى سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ

জহুরুল হক

আর যখন তিনি মাদয়ানের জলাশয়ের কাছে এলেন তখন তিনি তাতে দেখলেন একদল লোক পানি খাওয়াচ্ছে, আর তাদের পাশে তিনি দেখতে পেলেন দুজন মহিলা আগলে রেখেছে। তিনি বললেন - - ''তোমাদের দুজনের কি ব্যাপার?’’ তারা বললে - - ''আমরা পানি খাওয়াতে পারছি না যে পর্যন্ত না রাখালরা সরিয়ে নিয়ে যায়, আর আমাদের আব্বা খুব বুড়ো মানুষ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন সে মাদইয়ানের কূপের নিকট পৌঁছিল, দেখিল, একদল লোক তাহাদের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইতেছে এবং উহাদের পশ্চাতে দুইজন নারী তাহাদের পশুগুলিকে আগলাইতেছে। মূসা বলিল, ‘তোমাদের কী ব্যাপার?’ উহারা বলিল, ‘আমরা আমাদের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইতে পারি না, যতক্ষণ রাখালেরা উহাদের জানোয়ারগুলিকে লইয়া সরিয়া না যায়। আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন তিনি মাদইয়ানের কূপের ধারে পৌছলেন, তখন কূপের কাছে একদল লোককে পেলেন তারা জন্তুদেরকে পানি পান করানোর কাজে রত। এবং তাদের পশ্চাতে দূ’জন স্ত্রীলোককে দেখলেন তারা তাদের জন্তুদেরকে আগলিয়ে রাখছে। তিনি বললেন, তোমাদের কি ব্যাপার? তারা বলল, আমরা আমাদের জন্তুদেরকে পানি পান করাতে পারি না, যে পর্যন্ত রাখালরা তাদের জন্তুদেরকে নিয়ে সরে না যায়। আমাদের পিতা খুবই বৃদ্ধ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন সে মাদায়েনের কূপের কাছে পৌঁছে, সেখানে দেখতে পায় একদল লোক পশুদের পানি পান করাচ্ছে। সবার পেছনে দুই নারীকে দেখতে পায়, তারা তাদের পশুকে আগলে রাখছে। মূসা তাদের বললো: ‘আপনাদের ব্যাপার কী?’ তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পশুদের পানি পান করাতে পারিনা, যতোক্ষণ রাখালেরা তাদের পশুদের পানি পান করিয়ে চলে না যায়। আমাদের পিতা একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি।’

Word by word

وَلَمَّا وَرَدَ مَآءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ ٱلنَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ ٱمْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِى حَتَّىٰ يُصْدِرَ ٱلرِّعَآءُ وَأَبُ

জহুরুল হক

সুতরাং তিনি তাদের দুজনের জন্য পানি খাওয়ালেন, তারপর ছায়ার দিকে ফিরে গেলেন আর বললেন - - ''আমার প্রভু! তুমি আমার প্রতি যে কোনো অনুগ্রহ পাঠাবে আমি তারই জন্যে ভিখারী হয়ে আছি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা তখন উহাদের পক্ষে জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইল। তৎপর সে ছায়ার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করিয়া বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করিবে আমি তো তাহার কাঙ্গাল।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা তাদের জন্তুদেরকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার দিকে সরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তাদের পক্ষে তাদের পশুকে পানি পান করিয়ে দিলো। তারপর ছায়ার নীচে ফিরে এসে বললো: ‘আমার প্রভু! তুমি আমাকে যে আতিথ্যের ব্যবস্থাই করে দেবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।’

Word by word

فَسَقَىٰ لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّىٰٓ إِلَى ٱلظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

জহুরুল হক

তারপরে সেই দুইজন মহিলার একজন তাঁর নিকটে লাজুকভাবে হেঁটে এল। সে বললে - - ''আমার আব্বা আপনাকে আমন্ত্রণ করেছেন আপনি যে আমাদের জন্য পানি খাইয়েছেন সেজন্য আপনাকে পারিশ্রমিক প্রদান করতে।’’ তারপর যখন তিনি তার কাছে এলেন এবং তার কাছে বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন তখন সে বলল - - ''ভয় করো না, তুমি অত্যাচারী লোকদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন নারীদ্বয়ের একজন শরম - জড়িত চরণে তাহার নিকট আসিল এবং বলিল, ‘আমার পিতা আপনাকে আমন্ত্রণ করিতেছেন, আমাদের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইবার পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য।’ অতঃপর মূসা তাহার নিকট আসিয়া সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করিলে সে বলিল, ‘ভয় করিও না, তুমি সম্প্রদায়ের কবল হইতে বাঁচিয়া গিয়াছ।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর বালিকাদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে তাঁর কাছে আগমন করল। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, যাতে আপনি যে আমাদেরকে পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করেন। অতঃপর মূসা যখন তাঁর কাছে গেলেন এবং সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন, তখন তিনি বললেন, ভয় করো না, তুমি জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সেই দুই নারীর একজন লজ্জায় জড়োসড়ো হয়ে তার কাছে এলো এবং বললো: ‘আমার আব্বু আপনাকে ডাকছেন আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দিতে।’ মূসা যখন তার কাছে এলো এবং নিজের সব ঘটনা বিস্তারিত খুলে বললো, সে বললো: ‘তুমি আর ভয় পেয়োনা, তুমি যালিম কওমের কবল থেকে নাজাত পেয়ে গেছো।’

Word by word

فَجَآءَتْهُ إِحْدَىٰهُمَا تَمْشِى عَلَى ٱسْتِحْيَآءٍ قَالَتْ إِنَّ أَبِى يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا فَلَمَّا جَآءَهُۥ وَقَصَّ عَلَيْهِ ٱلْقَصَصَ قَالَ لَا تَخَفْ نَجَوْتَ مِنَ ٱلْقَو

জহুরুল হক

মেয়ে দুজনের একজন বলল - - ''হে আমার আব্বা! তুমি একে কর্মচারী ক’রে নাও, তুমি যাদের নিযুক্ত করতে পার তাদের মধ্যে সে - ই সব চাইতে ভাল যে বলবান, বিশ্বস্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের একজন বলিল, ‘হে পিতা! তুমি ইহাকে মজুর নিযুক্ত কর, কারণ তোমার মজুর হিসাবে উত্তম হইবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

বালিকাদ্বয়ের একজন বলল পিতাঃ তাকে চাকর নিযুক্ত করুন। কেননা, আপনার চাকর হিসেবে সে - ই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই দুই নারীর একজন বললো: ‘আব্বু! তুমি তাকে কর্মচারী নিযুক্ত করো, তোমার কর্মচারী হিসেবে উত্তম হবেন তো এমন ব্যক্তি যিনি শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত।’

Word by word

قَالَتْ إِحْدَىٰهُمَا يَٰٓأَبَتِ ٱسْتَـْٔجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ ٱسْتَـْٔجَرْتَ ٱلْقَوِىُّ ٱلْأَمِينُ

জহুরুল হক

সে বলল - - ''আমি তো চাইছি আমার এই দুই মেয়ের একটিকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে এই শর্তে যে তুমি আমার জন্য চাকরি করবে আট হজ, আর যদি তুমি দশ পূর্ণ কর তাহলে সে তোমার ইচ্ছা, আর আমি চাই না যে আমি তোমার উপরে কঠোর হব। তুমি শীঘ্রই, ইন - শা - ‌, আমাকে দেখতে পাবে ন্যায়পরায়ণদের একজন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে মূসাকে বলিল, ‘আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিতে চাই, এই শর্তে যে, তুমি আট বৎসর আমার কাজ করিবে, যদি তুমি দশ বৎসর পূর্ণ কর, সে তোমার ইচ্ছা। আমি তােমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ‌ ইচ্ছা করিলে তুমি আমাকে সদাচারী পাইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

পিতা মূসাকে বললেন, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকুরী করবে, যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। চাহেন তো তুমি আমাকে সৎকর্মপরায়ণ পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে মূসাকে বললো: ‘শুনো, আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকুরি করবে, তবে দশ বছর যদি পূর্ণ করতে চাও সেটা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা। চান তো, তুমি আমাকে ন্যায়বান পাবে।’

Word by word

قَالَ إِنِّىٓ أُرِيدُ أَنْ أُنكِحَكَ إِحْدَى ٱبْنَتَىَّ هَٰتَيْنِ عَلَىٰٓ أَن تَأْجُرَنِى ثَمَٰنِىَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِندِكَ وَمَآ أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَا

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এই - ই আমার মধ্যে ও আপনার মধ্যে রইল। এ দুটি মিয়াদের যে কোনোটি আমি যদি পূর্ণ করি তাহলে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবে না। আর আমরা যা কথা বলছি তার উপরে কার্যনির্বাহক রইলেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তিই রহিল। এই দুইটি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করিলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকিবে না। আমরা যে বিষয়ে কথা বলিতেছি ‌ তাহার সাক্ষী।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেন, আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তি স্থির হল। দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যে কোন একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যা বলছি, তাতে আল্লাহর উপর ভরসা।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমার এবং আপনার মাঝে এই চুক্তিই হলো। এ দুটি মেয়াদের যে কোনো একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবেনা। আমরা যা বলছি তার সাক্ষী।’

Word by word

قَالَ ذَٰلِكَ بَيْنِى وَبَيْنَكَ أَيَّمَا ٱلْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَٰنَ عَلَىَّ وَٱللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌ

জহুরুল হক

তারপর মূসা যখন মিয়াদ পূর্ণ করেলন এবং তাঁর পরিবারবর্গসহ যাত্রা করলেন, তখন তিনি পাহাড়ের কিনার থেকে আগুনের আভাস পেলেন। তিনি তাঁর পরিজনদের বললেন - - ''তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুনের আভাস পাচ্ছি, সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোনো খবর নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের একটি আঙটা যাতে তোমরা নিজেদের গরম করতে পার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা যখন তাহার মেয়াদ পূর্ণ করিবার পর সপরিবারে যাত্রা করিল, তখন সে তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখিতে পাইল। সে তাহার পরিজনবর্গকে বলিল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখিয়াছি, সম্ভবত আমি সেখান হইতে তোমাদের জন্য খবর আনিতে পারি অথবা একখণ্ড জ্বলন্ত কাঠ আনিতে পারি যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পার।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা (আঃ) যখন সেই মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তুর পর্বতের দিক থেকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারবর্গকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসতে পারি অথবা কোন জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড আনতে পারি, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করলো এবং সপরিবারে যাত্রা করলো, তুর পাহাড়ের কাছে এসে পাহাড়ের দিকে আগুন দেখতে পেলো। সে তার পরিবারবর্গকে বললো: তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখেছি, হয়তো সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোনো খবর নিয়ে আসবো কিংবা নিয়ে আসবো এক খন্ড জ্বলন্ত কাঠ, তাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারবে।’

Word by word

فَلَمَّا قَضَىٰ مُوسَى ٱلْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِۦٓ ءَانَسَ مِن جَانِبِ ٱلطُّورِ نَارًا قَالَ لِأَهْلِهِ ٱمْكُثُوٓا۟ إِنِّىٓ ءَانَسْتُ نَارًا لَّعَلِّىٓ ءَاتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِّنَ ٱلنّ

জহুরুল হক

তারপর যখন তিনি তার কাছে এলেন তখন একটি আওয়াজ উঠল উপত্যকার ডান দিকের ঝোপঝাড়ের পুণ্য স্থান থেকে এই বলে - - ''হে মূসা! নিঃসন্দেহ আমিই ‌, বিশ্বজগতের প্রভু।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন মূসা আগুনের নিকট পৌঁছিল তখন উপত্যকার দক্ষিণ পার্শ্বে পবিত্র ভূমিস্থিত এক বৃক্ষের দিক হইতে তাহাকে আহ্বান করিয়া বলা হইল, ‘হে মূসা ! আমিই ‌, জগতসমূহের প্রতিপালক;’

মুহিউদ্দীন খান

যখন সে তার কাছে পৌছল, তখন পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত উপত্যকার ডান প্রান্তের বৃক্ষ থেকে তাকে আওয়াজ দেয়া হল, হে মূসা! আমি , বিশ্ব পালনকর্তা।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন আগুনের দিকে এলো, তখন (তোয়া) উপত্যকার ডান পাশে পবিত্র ভূমির এক গাছের দিক থেকে তাকে ডেকে বলা হলো: ‘হে মূসা! আমি রাব্বুল আলামিন।’

Word by word

فَلَمَّآ أَتَىٰهَا نُودِىَ مِن شَٰطِئِ ٱلْوَادِ ٱلْأَيْمَنِ فِى ٱلْبُقْعَةِ ٱلْمُبَٰرَكَةِ مِنَ ٱلشَّجَرَةِ أَن يَٰمُوسَىٰٓ إِنِّىٓ أَنَا ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ

জহুরুল হক

আর এই বলে - - ''তোমার লাঠি ছুঁড়ে মার।’’ তারপর যখন তিনি এটিকে দেখলেন দৌড়ছে - - যেন এটি একটি সাপ, তখন তিনি পিছু হটলেন ছুটতে ছুটতে আর ঘুরে দেখলেন না। ''ওহ মূসা! সামনে এসো, আর ভয় করো না, নিঃসন্দেহ তুমি নিরাপদ লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আরও বলা হইল, ‘তুমি তোমার যষ্টি নিক্ষেপ কর।’ অতঃপর, যখন সে উহাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করিতে দেখিল তখন পিছনের দিকে ছুটিতে লাগিল এবং ফিরিয়া তাকাইল না। তাহাকে বলা হইল, ‘হে মূসা! সম্মুখে আইস, ভয় করিও না; তুমি তো নিরাপদ।

মুহিউদ্দীন খান

আরও বলা হল, তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন সে লাঠিকে সর্পের ন্যায় দৌড়াদৌড়ি করতে দেখল, তখন সে মুখ ফিরিয়ে বিপরীত দিকে পালাতে লাগল এবং পেছন ফিরে দেখল না। হে মূসা, সামনে এস এবং ভয় করো না। তোমার কোন আশংকা নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে আরো বলা হলো: ‘তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ তারপর মূসা যখন দেখলো, সেটা সাপের মতো ছুটাছুটি করছে, তখন সে পিছে ফিরে দৌড়াতে থাকলো এবং পেছনে ফিরে তাকিয়েও দেখলোনা। তাকে ডেকে বলা হলো: ‘‘হে মূসা! সামনে ফিরে আসো, ভয় পেয়োনা, তুমি নিরাপদ।

Word by word

وَأَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَءَاهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَآنٌّ وَلَّىٰ مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ يَٰمُوسَىٰٓ أَقْبِلْ وَلَا تَخَفْ إِنَّكَ مِنَ ٱلْءَامِنِينَ

জহুরুল হক

''তোমার হাত তোমার পকেটে ঢোকাও, এটি বেরিয়ে আসবে সাদা হয়ে কোনো দোষত্রুটি ছাড়া, আর তোমার পাখনা তোমার প্রতি চেপে ধর ভয়ের থেকে। সুতরাং এ দুটি হচ্ছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে ফিরআউন ও তার প্রধানদের কাছে দুই প্রমাণ। নিঃসন্দেহ তারা হচ্ছে সীমালংঘনকারী জাতি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, ইহা বাহির হইয়া আসিবে শুভ্র - সমুজ্জ্বল নির্দোষ হইয়া। ভয় দূর করিবার জন্য তোমার হস্তদ্বয় নিজের দিকে চাপিয়া ধর। এই দুইটি তোমার প্রতিপালক - প্রদত্ত প্রমাণ, ফির‘আওন ও তাহার পরিষদবর্গের জন্য। উহারা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার হাত বগলে রাখ। তা বের হয়ে আসবে নিরাময় উজ্জ্বল হয়ে এবং ভয় হেতু তোমার হাত তোমার উপর চেপে ধর। এই দু’টি ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের প্রতি তোমার পালনকর্তার তরফ থেকে প্রমাণ। নিশ্চয় তারা পাপাচারী সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার হাত তোমার বগলে রাখো, দেখবে সেটি অনাবিল উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই। ভয় দূর করার জন্য তোমার দুই হাত তোমার বুকে চেপে ধরো। এ দুটি তোমার প্রভুর দেয়া প্রমাণ ফেরাউন আর তার পারিষদবর্গের জন্যে। তারা একটি ফাসিক কওম।’’

Word by word

ٱسْلُكْ يَدَكَ فِى جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَآءَ مِنْ غَيْرِ سُوٓءٍ وَٱضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ ٱلرَّهْبِ فَذَٰنِكَ بُرْهَٰنَانِ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِۦٓ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمًا

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমি তো তাদের একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, কাজেই আমি ভয় করছি তারা আমাকে মেরে ফেলবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো উহাদের একজনকে হত্যা করিয়াছি। ফলে আমি আশংকা করিতেছি উহারা আমাকে হত্যা করিবে।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি। কাজেই আমি ভয় করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।

Word by word

قَالَ رَبِّ إِنِّى قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ

জহুরুল হক

''আর আমার ভাই হারূন, সে আমার থেকে কথাবার্তায় বেশী বাক্‌পটু, সেজন্য তাকে আমার সঙ্গে অবলন্বনস্বরূপ পাঠিয়ে দাও যাতে সে আমার সত্যতা সমর্থন করে। আমি অবশ্য আশংকা করছি যে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার ভ্রাতা হারূন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে।’

মুহিউদ্দীন খান

আমার ভাই হারুণ, সে আমা অপেক্ষা প্রাঞ্জলভাষী। অতএব, তাকে আমার সাথে সাহায্যের জন্যে প্রেরণ করুন। সে আমাকে সমর্থন জানাবে। আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার ভাই হারূণ, সে আমার চাইতে ভালো বক্তা, তুমি তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে রসূল বানিয়ে দাও। সে আমার সত্যায়ন করবে। আমার আশংকা হয় তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।’’

Word by word

وَأَخِى هَٰرُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِىَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِىٓ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমরা শীঘ্রই তোমার বাহু শক্তিশালী করব তোমার ভাইকে দিয়ে, আর তোমাদের উভয়ের জন্য আমরা ক্ষমতা দেবো, কাজেই তারা তোমাদের নাগাল পাবে না, - - আমাদের নিদর্শনাবলী নিয়ে, - - তোমরা দুজন ও যারা তোমাদের অনুসরণ করে তারা বিজয়ী হবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ বলিলেন, ‘আমি তোমার ভ্রাতার দ্বারা তোমার বাহু শক্তিশালী করিব এবং তোমাদের উভয়কে প্রাধান্য দান করিব। উহারা তোমাদের নিকট পৌঁছিতে পারিবে না। তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা আমার নিদর্শনবলে উহাদের উপর প্রবল হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেন, আমি তোমার বাহু শক্তিশালী করব তোমার ভাই দ্বারা এবং তোমাদের প্রধান্য দান করব। ফলে, তারা তোমার কাছে পৌছাতে পারবে না। আমার নিদর্শনাবলীর জোরে তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা প্রবল থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘‘আমরা তোমার ভাইকে দিয়ে তোমার হাতকে শক্তিশালী করবো এবং তোমাদের দুজনকেই আমরা সনদগত ক্ষমতা প্রদান করবো। ফলে তারা (তোমাদের ক্ষতির উদ্দেশ্যে) তোমাদের কাছেই পৌঁছাতে পারবেনা। তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরাই আমাদের নিদর্শনের সাহায্যে বিজয়ী হবে।’’

Word by word

قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِأَخِيكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَٰنًا فَلَا يَصِلُونَ إِلَيْكُمَا بِـَٔايَٰتِنَآ أَنتُمَا وَمَنِ ٱتَّبَعَكُمَا ٱلْغَٰلِبُونَ

জহুরুল হক

তারপর মূসা যখন তাদের কাছে এলেন আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে, তারা বলল - - ''এ তো বানানো ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়, আর একরম আমাদের পূর্ববর্তী বাপদাদার আমলেও আমরা শুনি নি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা যখন উহাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলি লইয়া আসিল, উহারা বলিল, ‘ইহা তো অলীক ইন্দ্রজাল মাত্র। আমাদের পূর্বপুরুষগণের কালে কখনও এইরূপ কথা শুনি নাই।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে পৌছল, তখন তারা বলল, এতো অলীক জাদু মাত্র। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এ কথা শুনিনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে উপস্থিত হলো, তারা বললো: ‘এ - তো এক মিথ্যা - ম্যাজিক ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ধরনের কথা আমাদের বাপ - দাদাদের কালেও আমরা শুনিনি।’

Word by word

فَلَمَّا جَآءَهُم مُّوسَىٰ بِـَٔايَٰتِنَا بَيِّنَٰتٍ قَالُوا۟ مَا هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّفْتَرًى وَمَا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِىٓ ءَابَآئِنَا ٱلْأَوَّلِينَ

জহুরুল হক

আর মূসা বললেন - - ''আমার প্রভু ভাল জানেন কে তাঁর কাছ থেকে পথনির্দেশ নিয়ে এসেছে আর কার জন্য হবে চরমোৎকর্ষ আবাস। এটি নিশ্চিত যে অত্যাচারীদের করা হবে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত, কে তাঁহার নিকট হইতে পথনির্দেশ আনিয়াছে এবং আখিরাতে কাহার পরিণাম শুভ হইবে। জালিমরা কখনো হইবে না।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, আমার পালনকর্তা সম্যক জানেন যে তার নিকট থেকে হেদায়েতের কথা নিয়ে আগমন করেছে এবং যে প্রাপ্ত হবে পরকালের গৃহ। নিশ্চয় জালেমরা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমার প্রভুই অধিক জানেন কে তাঁর পক্ষ থেকে হিদায়াত নিয়ে এসেছে এবং কার শেষ পরিণাম শুভ হবে। নিশ্চয়ই কখনো সফল হবেনা যালিমরা।’

Word by word

وَقَالَ مُوسَىٰ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَن جَآءَ بِٱلْهُدَىٰ مِنْ عِندِهِۦ وَمَن تَكُونُ لَهُۥ عَٰقِبَةُ ٱلدَّارِ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلظَّٰلِمُونَ

জহুরুল হক

আর ফিরআউন বলল - - ''ওহে প্রধানগণ! তোমাদের জন্য আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য আছে বলে তো আমি জানি না! সুতরাং, হে হামান, তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও, তারপর আমার জন্য একটি উঁচু দালান তৈরী কর, হয়ত আমি মূসার উপাস্যের সন্নিকটে উঠতে পারব। তবে আমি অবশ্য তাকে মিথ্যাবাদীদের একজন বলেই জ্ঞান করি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ আছে বলিয়া জানি না। হে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈয়ার কর; হয়ত আমি ইহাতে উঠিয়া মূসার ইলাহ্‌কে দেখিতে পারি। তবে আমি অবশ্যই মনে করি সে মিথ্যাবাদী।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, হে পরিষদবর্গ, আমি জানি না যে, আমি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য আছে। হে হামান, তুমি ইট পোড়াও, অতঃপর আমার জন্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি মূসার উপাস্যকে উকি মেরে দেখতে পারি। আমার তো ধারণা এই যে, সে একজন মিথ্যাবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘হে আমার পারিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের আর কোনো আছে বলে তো আমি জানিনা। হে হামান! তুমি আমার জন্যে ইট পোড়াও এবং উঁচু এক প্রাসাদ তৈরি করো। হয়তো আমি তাতে উঠে মূসার ইলাহকে দেখতে পাবো। তবে আমি মনে করি সে মিথ্যাবাদী।’

Word by word

وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرِى فَأَوْقِدْ لِى يَٰهَٰمَٰنُ عَلَى ٱلطِّينِ فَٱجْعَل لِّى صَرْحًا لَّعَلِّىٓ أَطَّلِعُ إِلَىٰٓ إِلَٰهِ مُوسَىٰ وَإِنِّى لَأَظُ

জহুরুল হক

আর সে ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ অসঙ্গতভাবে দুনিয়াতে গর্ব করেছিল, আর তারা ভেবেছিল যে আমাদের কাছে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন ও তাহার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করিয়াছিল এবং উহারা মনে করিয়াছিল যে, উহারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করতে লাগল এবং তারা মনে করল যে, তারা আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে এবং তার বাহিনী অন্যায়ভাবে দেশে অহংকার করে। তারা ধারণা করেছিল তাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবেনা।

Word by word

وَٱسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُۥ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ وَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ

জহুরুল হক

সেজন্য আমরা তাকে ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের পাকড়াও করেছিলাম, আর তাদের নিক্ষেপ করেছিলাম সমুদ্রে। অতএব দেখ, কেমন হয়েছিল অত্যাচারীদের পরিণাম!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব আমি তাহাকে ও তাহার বাহিনীকে ধরিলাম এবং তাহাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম। দেখ, জালিমদের পরিণাম কি হইয়া থাকে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম, তৎপর আমি তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। অতএব, দেখ জালেমদের পরিণাম কি হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা পাকড়াও করি তাকে এবং তার বাহিনীকে এবং তাদের নিক্ষেপ করি দরিয়ায়। দেখো, কী (মন্দ) পরিণতি হয়েছিল যালিমদের!

Word by word

فَأَخَذْنَٰهُ وَجُنُودَهُۥ فَنَبَذْنَٰهُمْ فِى ٱلْيَمِّ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلظَّٰلِمِينَ

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের বানিয়েছিলাম সর্দার, - - তারা আহ্বান করত আগুনের দিকে, আর কিয়ামতের দিনে তাদের সাহায্য করা হবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে আমি নেতা করিয়াছিলাম; উহারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করিত; কিয়ামতের দিন উহাদেরকে সাহায্য করা হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদেরকে নেতা করেছিলাম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত। কেয়ামতের দিন তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের বানিয়ে দিয়েছিলাম জাহান্নামের দিকে আহবান করার ইমাম (নেতা)। কিয়ামতের দিন তাদের কোনো সাহায্য করা হবেনা।

Word by word

وَجَعَلْنَٰهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى ٱلنَّارِ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ لَا يُنصَرُونَ

জহুরুল হক

আর এই দুনিয়াতে আমরা অসন্তষ্টিকে তাদের পিছু ধরিয়েছিলাম, আর কিয়ামতের দিনে তারা হবে ঘৃণিতদের মধ্যেকার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই পৃথিবীতে আমি উহাদের পশ্চাতে লাগাইয়া দিয়াছি অভিসম্পাত এবং কিয়ামতের দিন উহারা হইবে ঘৃণিত।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এই পৃথিবীতে অভিশাপকে তাদের পশ্চাতে লাগিয়ে দিয়েছি এবং কেয়ামতের দিন তারা হবে দুর্দশাগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ দুনিয়ায় আমরা তাদের অনুগামী করে দিয়েছি লা’নত আর কিয়ামতের দিন তারা হবে ঘৃণিত।

Word by word

وَأَتْبَعْنَٰهُمْ فِى هَٰذِهِ ٱلدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ هُم مِّنَ ٱلْمَقْبُوحِينَ

জহুরুল হক

আর আমরা আলবৎ মূসাকে ধর্মগ্রন্থ দিয়েছিলাম - - পূর্ববর্তী বংশদের আমরা ধ্বংস করে ফেলার পরে - - মানুষদের জন্য দৃষ্টি - উন্মোচক, আর পথপ্রদর্শক, আর একটি করুণা, - - যেন তারা মনোযোগ দিতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করিবার পর মূসাকে দিয়াছিলাম কিতাব, মানবজাতির জন্য জ্ঞানবর্তিকা, পথনির্দেশ ও অনুগ্রহস্বরূপ, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি পূর্ববর্তী অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার পর মূসাকে কিতাব দিয়েছি মানুষের জন্যে জ্ঞানবর্তিকা। হেদায়েত ও রহমত, যাতে তারা স্মরণ রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগেকার বহু মানব প্রজন্মকে হালাক করে দেয়ার পর আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব মানুষের জন্যে জ্ঞানের আলো, হিদায়াত এবং রহমত হিসেবে, যাতে করে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।

Word by word

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ مِنۢ بَعْدِ مَآ أَهْلَكْنَا ٱلْقُرُونَ ٱلْأُولَىٰ بَصَآئِرَ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

জহুরুল হক

আর তুমি পশ্চিম প্রান্তে ছিলে না যখন আমরা মূসার কাছে বিধান দিয়েছিলাম, আর তুমি প্রতক্ষদর্শীদের মধ্যেও ছিলে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসাকে যখন আমি বিধান দিয়াছিলাম তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না।

মুহিউদ্দীন খান

মূসাকে যখন আমি নির্দেশনামা দিয়েছিলাম, তখন আপনি পশ্চিম প্রান্তে ছিলেন না এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তুমি (তুর পাহাড়ের) পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেনা আমরা যখন মূসাকে বিধান দিয়েছিলাম এবং তুমি বিষয়টা নিজের চোখেও দেখোনি।

Word by word

وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ ٱلْغَرْبِىِّ إِذْ قَضَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَى ٱلْأَمْرَ وَمَا كُنتَ مِنَ ٱلشَّٰهِدِينَ

জহুরুল হক

বস্তুতঃ আমরা বহু মানববংশের উদ্ভব করেছিলাম, তারপর জীবনটা তাদের কাছে সুদীর্ঘ মনে হয়েছিল। আর তুমি মাদয়ানের অধিবাসীদের সঙ্গে বসবাসকারী ছিলে না তাদের কাছে আমাদের বাণীসমূহ আবৃত্তি করা অবস্থায়, কিন্তু আমরাই তো রসূল প্রেরণ করতে রয়েছিলাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বস্তুত আমি অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটাইয়াছিলাম ; অতঃপর উহাদের বহু যুগ অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। তুমি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না উহাদের নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করিবার জন্য। আমিই তো ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু আমি অনেক সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছিলাম, অতঃপর তাদের অনেক যুগ অতিবাহিত হয়েছে। আর আপনি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলেন না যে, তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। কিন্তু আমিই ছিলাম রসূল প্রেরণকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং আমরা বহু মানব প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি এবং তাদের উপর বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে। তুমি তো মাদায়েনবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনা তাদের কাছে আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করার জন্যে। বরং আমরাই ছিলাম সেখানে রসূল প্রেরণকারী।

Word by word

وَلَٰكِنَّآ أَنشَأْنَا قُرُونًا فَتَطَاوَلَ عَلَيْهِمُ ٱلْعُمُرُ وَمَا كُنتَ ثَاوِيًا فِىٓ أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِنَا وَلَٰكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ

জহুরুল হক

আর তুমি পাহাড়ের নিকটে ছিলে না যখন আমরা আহ্বান করেছিলাম, কিন্তু এটি তোমার প্রভু থেকে এক করুণা, যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক বংশকে যাদের কাছে তোমার আগে সতর্ককারীদের কেউ আসেন নি, যেন তারা মনোযোগ দিতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসাকে যখন আমি আহ্বান করিয়াছিলাম তখন তুমি তূর পর্বতপার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না। বস্তুত ইহা তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে দয়াস্বরূপ, যাহাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পার, যাহাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসে নাই, যেন উহারা উপদেশ গ্রহণ করে ;

মুহিউদ্দীন খান

আমি যখন মূসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম, তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শ্বে ছিলেন না। কিন্তু এটা আপনার পালনকর্তার রহমত স্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোন ভীতি প্রদর্শনকারী আগমন করেনি, যাতে তারা স্মরণ রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন মূসাকে ডেকেছিলাম, তখন তো তুমি তুর পাহাড়ের পাশে উপস্থিত ছিলেনা। বরং এটা (এই অহি) তোমার প্রভুর রহমত যাতে করে তুমি এমন একটি কওমকে সতর্ক করতে পারো, যাদের কাছে তোমার আগে কোনো সতর্ককারী আসেনি, আর তারা যেনো শিক্ষা গ্রহণ করে।

Word by word

وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ ٱلطُّورِ إِذْ نَادَيْنَا وَلَٰكِن رَّحْمَةً مِّن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّآ أَتَىٰهُم مِّن نَّذِيرٍ مِّن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

জহুরুল হক

আর পক্ষান্তরে যদি কোনো বিপদ তাদের পাকড়াত তাদের হাত যা আগবাড়িয়েছে সেজন্য তাহলে তারা বলতে পারত - - ''আমাদের প্রভু! কেন তুমি আমাদের কাছে কোনো রসূল পাঠাও নি তাহলে তো আমরা তোমার নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে পারতাম এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতাম?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাসূল না পাঠাইলে উহাদের কৃতকর্মের জন্য উহাদের কোন বিপদ হইলে উহারা বলিত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের নিকট কোন রাসূল প্রেরণ করিলে না কেন? করিলে আমরা তোমার বিধান মানিয়া চলিতাম এবং আমরা হইতাম ।’

মুহিউদ্দীন খান

আর এ জন্য যে, তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের কোন বিপদ হলে তারা বলত, হে আমাদের পালনকর্তা, তুমি আমাদের কাছে কোন রসূল প্রেরণ করলে না কেন? করলে আমরা তোমার আয়াতসমূহের অনুসরণ করতাম এবং আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

রসূল যদি না পাঠাতাম, তাহলে তাদের কর্মকান্ডের জন্যে যদি তাদের কোনো মসিবত আসতো তারা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! তুমি কেন আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠালেনা? পাঠালে তো আমরা তোমার আয়াতের ইত্তেবা (অনুসরণ) করতে পারতাম এবং আমরা হয়ে যেতাম।’

Word by word

وَلَوْلَآ أَن تُصِيبَهُم مُّصِيبَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَيَقُولُوا۟ رَبَّنَا لَوْلَآ أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ ءَايَٰتِكَ وَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

জহুরুল হক

কিন্তু যখন আমাদের তরফ থেকে তাদের কাছে সত্য এসেছে তারা বলছে - - ''মুসাকে যেমন দেওয়া হয়েছিল তাকে কেন তেমনটা দেওয়া হ’ল না?’’ কী! মূসাকে ইতিপূর্বে যা দেওয়া হয়েছিল তাতে কি তারা অবিশ্বাস করে নি? তারা বলে - - ''দুখানা জাদু - - একে অন্যের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’’ আর তারা বলে - - ''আমরা আলবৎ সবটাতেই অবিশ্বাসী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন আমার নিকট হইতে উহাদের নিকট সত্য আসিল, উহারা বলিতে লাগিল, ‘মূসাকে যেরূপ দেওয়া হইয়াছিল, তাহাকে সেরূপ দেওয়া হইল না কেন?’ কিন্তু পূর্বে মূসাকে যাহা দেওয়া হইয়াছিল তাহা কি উহারা অস্বীকার করে নাই? উহারা বলিয়াছিল, ‘দুইটিই জাদু, একে অপরকে সমর্থন করে।’ এবং উহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা সকলকেই প্রত্যাখ্যান করি।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যখন আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে সত্য এলো, তারা বললো: ‘মূসাকে যেমন (নিদর্শন) দেয়া হয়েছিল, তাকে সে রকম দেয়া হলো না কেন? কিন্তু মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তা কি তারা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছে: ‘(কুরআন ও তাওরাত) দুটিই ম্যাজিক, পরস্পরের সমর্থক। তারা আরো বলেছিল আমরা প্রত্যেকটিই অস্বীকার করি।’

Word by word

فَلَمَّا جَآءَهُمُ ٱلْحَقُّ مِنْ عِندِنَا قَالُوا۟ لَوْلَآ أُوتِىَ مِثْلَ مَآ أُوتِىَ مُوسَىٰٓ أَوَلَمْ يَكْفُرُوا۟ بِمَآ أُوتِىَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ قَالُوا۟ سِحْرَانِ تَظَٰهَرَا وَقَالُوٓا۟ إِنَّا بِكُل

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''তবে ‌র কাছ থেকে একখানা ধর্মগ্রন্থ নিয়ে এস যা এই দুইখানার চাইতেও ভাল পথনির্দেশক, আমিও তা অনুসরণ করব, যদি তোমরা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা সত্যবাদী হইলে ‌র নিকট হইতে এক কিতাব আনয়ন কর, যাহা পথনির্দেশে এতদুভয় হইতে উৎকৃষ্টতর হইবে; আমি সে কিতাব অনুসরণ করিব।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, তোমরা সত্যবাদী হলে এখন আল্লাহর কাছ থেকে কোন কিতাব আন, যা এতদুভয় থেকে উত্তম পথপ্রদর্শক হয়। আমি সেই কিতাব অনুসরণ করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে তোমরাই আল্লাহর কাছ থেকে একখানা কিতাব নিয়ে আসো যেটি এ দুটি (কুরআন ও তাওরাত) থেকে অধিকতর হিদায়াতওয়ালা কিতাব হবে, আমিও সে কিতাবের অনুসরণ করবো।’

Word by word

قُلْ فَأْتُوا۟ بِكِتَٰبٍ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ هُوَ أَهْدَىٰ مِنْهُمَآ أَتَّبِعْهُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তারা তোমার জবাব না দেয়, তাহলে জেনে রেখো, তারা অবশ্যই তাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ করছে। আর কে বেশী পথভ্রান্ত তার চাইতে যে তার খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে ‌র কাছ থেকে পথনির্দেশ ব্যতিরেকে? নিঃসন্দেহ অন্যায়কারী লোককে পথ দেখান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যদি তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহা হইলে জানিবে উহারা তো কেবল নিজেদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে। ‌র পথনির্দেশ অগ্রাহ্য করিয়া যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে তাহা অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে? ‌ সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো, তারা কেবল নিজেদের খেয়াল খুশিরই ইত্তেবা করে। ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিকতর বিপথগামী আর কে আছে, যে আল্লাহর হিদায়াত উপক্ষো করে নিজের খেয়াল খুশির ইত্তেবা করে? নিশ্চয়ই যালিম কওমকে সঠিক পথ দেখাননা।

Word by word

فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا۟ لَكَ فَٱعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَآءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ ٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ ٱللَّهِ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ

জহুরুল হক

আর আমরা অবশ্যই তাদের কাছে বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি যেন তারা মনোযোগ দিতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো উহাদের নিকট পরপর বাণী পৌঁছাইয়া দিয়াছি; যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদের কাছে উপর্যুপরি বাণী পৌছিয়েছি। যাতে তারা অনুধাবন করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের কাছে লাগাতার বাণী পৌঁছে দিয়েছি যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

Word by word

وَلَقَدْ وَصَّلْنَا لَهُمُ ٱلْقَوْلَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

জহুরুল হক

যাদের কাছে আমরা এর আগে ধর্মগ্রন্থ দিয়েছিলাম তারা স্বয়ং এতে বিশ্বাস করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহার পূর্বে আমি যাহাদেরকে কিতাব দিয়াছিলাম, তাহারা ইহাতে বিশ্বাস করে।

মুহিউদ্দীন খান

কোরআনের পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদেরকে আমরা ইতোপূর্বে কিতাব দিয়েছিলাম, তারা (তাদের কেউ কেউ) এর প্রতি (কুরআনের প্রতি) ঈমান রাখে।

Word by word

ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَٰهُمُ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلِهِۦ هُم بِهِۦ يُؤْمِنُونَ

জহুরুল হক

আর যখন এটি তাদের কাছে পাঠ করা হয় তারা বলে - - ''আমরা এতে ঈমান আনলাম, নিঃসন্দেহ এটি আমাদের প্রভু র কাছ থেকে সত্য, নিঃসন্দেহ আমরা এর আগেও মুসলিম ছিলাম।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহাদের নিকট ইহা আবৃত্তি করা হয় তখন উহারা বলে, ‘আমরা ইহাতে ঈমান আনি, নিশ্চয়ই ইহা আমাদের প্রতিপালক হইতে আগত সত্য। আমরা তো পূর্বেও আত্মসর্মপণকারী ছিলাম;

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এটা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেও আজ্ঞাবহ ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি যখন এটি (কুরআন) তিলাওয়াত করা হয়, তারা বলে: আমরা এটির প্রতি ঈমান এনেছি, নিশ্চয়ই আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এটি সত্য। আমরা তো পূর্বেও মুসলিমই ছিলাম।

Word by word

وَإِذَا يُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِهِۦٓ إِنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّنَآ إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلِهِۦ مُسْلِمِينَ

জহুরুল হক

এদের দুইবার তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে যেহেতু তারা অধ্যবসায় করেছিল, এবং তারা ভালো দিয়ে মন্দকে প্রতিরোধ করে, আর আমরা তাদের যে রিযেক দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে থাকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে দুইবার পারিশ্রমিক প্রদান করা হইবে, যেহেতু উহারা ধৈর্যশীল এবং উহারা ভালর দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করে ও আমি উহাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে উহারা ব্যয় করে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের জওয়াবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই সেইসব লোক যাদেরকে পুরস্কার দেয়া হবে দুইবার তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের মুকাবেলা করে ভালো দিয়ে এবং তাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে (আল্লাহর পথে)।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُم مَّرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا۟ وَيَدْرَءُونَ بِٱلْحَسَنَةِ ٱلسَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ يُنفِقُونَ

জহুরুল হক

আর যখন তারা বাজে কথা শোনে তখন তারা তা থেকে সরে যায় এবং বলে - - ''আমাদের জন্য আমাদের কাজ আর তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ, তোমাদের প্রতি 'সালাম’। অজ্ঞদের আমরা কামনা করি না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন উহারা তাহা উপেক্ষা করিয়া চলে এবং বলে, ‘আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য ; তোমাদের প্রতি ‘সালাম’। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাহি না।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখনই অর্থহীন কিছু শুনে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চলে যায়। তারা বলে: ‘আমাদের কাজের ফল আমরা পাবো আর তোমাদের কাজের ফল পাবে তোমরা। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা জাহিলদের সাথিত্ব চাইনা।’

Word by word

وَإِذَا سَمِعُوا۟ ٱللَّغْوَ أَعْرَضُوا۟ عَنْهُ وَقَالُوا۟ لَنَآ أَعْمَٰلُنَا وَلَكُمْ أَعْمَٰلُكُمْ سَلَٰمٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِى ٱلْجَٰهِلِينَ

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তুমি যাকে ভালবাস তাকে তুমি ধর্মপথে আনতে পারো না, কিন্তু ‌ই পথ দেখান যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। আর তিনিই ভাল জানেন সৎপথপ্রাপ্তদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি যাহাকে ভালবাস, ইচ্ছা করিলেই তাহাকে সৎপথে আনিতে পারিবে না। তবে ‌ যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যাকে মহব্বত করো, তুমি চাইলেই তাকে হিদায়াত করতে পারবেনা। কিন্তু যাকে চান হিদায়াত করেন। কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত সেটা তিনিই ভালো জানেন।

Word by word

إِنَّكَ لَا تَهْدِى مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهْدِى مَن يَشَآءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِٱلْمُهْتَدِينَ

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''আমরা যদি তোমার সঙ্গে ধর্মপথ অনুসরণ করি তাহলে আমাদের দেশ থেকে আমাদের উৎখাত করা হবে।’’ আমরা কি তাদের জন্য এক নিরাপদ পুণ্যস্থান প্রতিষ্ঠিত করি নি যেখানে আনা হয় হরেক রকমের ফল - ফসল, আমাদের তরফ থেকে রিযেকস্বরূপে? কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলে, ‘আমরা যদি তোমার সঙ্গে সৎপথ অনুসরণ করি তবে আমাদেরকে দেশ হইতে উৎখাত করা হইবে।’ আমি কি উহাদেরকে এক নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করি নাই, যেখানে সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানী হয় আমার দেওয়া রিযিক স্বরূপ? কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, যদি আমরা আপনার সাথে সুপথে আসি, তবে আমরা আমাদের দেশ থেকে উৎখাত হব। আমি কি তাদের জন্যে একটি নিরাপদ হরম প্রতিষ্ঠিত করিনি? এখানে সর্বপ্রকার ফল - মূল আমদানী হয় আমার দেয়া রিযিকস্বরূপ। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমরা যদি তোমার সাথে হিদায়াতের পথে চলি, তাহলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে উৎখাত করা হবে।’ আমরা কি তোমাদেরকে একটি নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে সব ধরনের ফল ফলারি আমদানি হয় আমাদের পক্ষ থেকে রিযিক হিসেবে। তবে অধিকাংশ লোকই সত্য জানেনা।

Word by word

وَقَالُوٓا۟ إِن نَّتَّبِعِ ٱلْهُدَىٰ مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنَآ أَوَلَمْ نُمَكِّن لَّهُمْ حَرَمًا ءَامِنًا يُجْبَىٰٓ إِلَيْهِ ثَمَرَٰتُ كُلِّ شَىْءٍ رِّزْقًا مِّن لَّدُنَّا وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا

জহুরুল হক

আর জনপদদের কতটাকে যে আমরা ধ্বংস করেছি যে গর্ব করেছিল তার প্রাচুর্যের জন্য! আর এইসব তাদের ঘরবাড়ি, - - তাদের পরে অল্প কতক ব্যতীত সেগুলোতে বসবাস করা হয় নি। আর আমরা, খোদ আমরা হচ্ছি উত্তরাধিকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কত জনপদকে আমি ধ্বংস করিয়াছি যাহার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ - সম্পদের দম্ভ করিত! এইগুলিই তো উহাদের ঘরবাড়ি ; উহাদের পর এইগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করিয়াছে। আর আমি তো চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী !

মুহিউদ্দীন খান

আমি অনেক জনপদ ধবংস করেছি, যার অধিবাসীরা তাদের জীবন যাপনে মদমত্ত ছিল। এগুলোই এখন তাদের ঘর - বাড়ী। তাদের পর এগুলোতে মানুষ সামান্যই বসবাস করেছে। অবশেষে আমিই মালিক রয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে জনপদ আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি, যেগুলোর অধিবাসীরা নিজেদের সম্পদ ও জীবিকার দম্ভ করে বেড়াতো! এই যে এগুলো তাদের ঘর - বাড়ি, তাদের পরে এগুলোতে লোকজন সামান্যই বসবাস করেছে। আর প্রকৃত ওয়ারিশ তো আমরাই।

Word by word

وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍۭ بَطِرَتْ مَعِيشَتَهَا فَتِلْكَ مَسَٰكِنُهُمْ لَمْ تُسْكَن مِّنۢ بَعْدِهِمْ إِلَّا قَلِيلًا وَكُنَّا نَحْنُ ٱلْوَٰرِثِينَ

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভু কখনো জনপদগুলোর ধ্বংসকারক নন যে পর্যন্ত না তিনি তাদের মাতৃভূমিতে একজন রসূল উত্থাপন করেছেন তাদের কাছে আমাদের বাণীসমূহ বিবৃত করতে, আর আমরা কখনো জনপদসমূহের ধ্বংসকারী নই যদি না তাদের অধিবাসীরা সীমালংঘনকারী হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না উহার কেন্দ্রে তাঁহার আয়াত আবৃত্তি করিবার জন্য রাসূল প্রেরণ না করিয়া এবং আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি যখন ইহার বাসিন্দারা জুলুম করে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না, যে পর্যন্ত তার কেন্দ্রস্থলে রসূল প্রেরণ না করেন, যিনি তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন এবং আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি, যখন তার বাসিন্দারা জুলুম করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার রব জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না, যতোক্ষণ না সেগুলোর কেন্দ্রে রসূল পাঠিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করার জন্যে। আমরা যেসব জনপদ ধ্বংস করেছি সেগুলোর অধিবাসীরা ছিলো যালিম।

Word by word

وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ ٱلْقُرَىٰ حَتَّىٰ يَبْعَثَ فِىٓ أُمِّهَا رَسُولًا يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِنَا وَمَا كُنَّا مُهْلِكِى ٱلْقُرَىٰٓ إِلَّا وَأَهْلُهَا ظَٰلِمُونَ

জহুরুল হক

আর বিষয় - আশয়ের যা কিছু তোমাদের দেওয়া হয়েছে তা তো এই দুনিয়ার জীবনের ভোগসম্ভার ও এরই শোভা - সৌন্দর্য, আর যা কিছু ‌র কাছে রয়েছে সে - সব আরো ভাল ও আরো স্থায়ী। তোমরা কি তবু বুঝবে না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদেরকে যাহা কিছু দেওয়া হইয়াছে তাহা তো পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা এবং যাহা ‌র নিকট আছে তাহা উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি অনুধাবন করিবে না?

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা বৈ নয়। আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বোঝ না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যা কিছু দেয়া হয়েছে সেগুলো তো পার্থিব জীবনের ভোগ্য ও সৌন্দর্য। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তাই উত্তম ও চিরস্থায়ী। তোমরা কি আকল খাটাবেনা?

Word by word

وَمَآ أُوتِيتُم مِّن شَىْءٍ فَمَتَٰعُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَزِينَتُهَا وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰٓ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

জহুরুল হক

যাকে আমরা প্রতি‌শ্রুতি দিয়েছি উত্তম প্রতি‌শ্রুতিতে যা সে পেতে যাচ্ছে, সে কি তবে তার মতো যাকে দেওয়া হয়েছে এই দুনিয়ার জীবনের ভোগসম্ভার, তারপর কিয়ামতের দিনে সে হবে অভিযুক্তদের মধ্যেকার?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাকে আমি উত্তম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়াছি, যাহা সে পাইবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যাহাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ - সম্ভার দিয়াছি, যাহাকে পরে কিয়ামতের দিন হাযির করা হইবে?

মুহিউদ্দীন খান

যাকে আমি উত্তম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা সে পাবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ - সম্ভার দিয়েছি, অতঃপর তাকে কেয়ামতের দিন অপরাধীরূপে হাযির করা হবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তিকে আমরা উত্তম পুরস্কার প্রদানের ওয়াদা দিয়েছি আর সে অবশ্যি সে পুরস্কারের সাক্ষাত লাভ করবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য, যাকে আমরা দুনিয়ার জীবনের ভোগের সামগ্রী দিয়েছি, তারপর কিয়ামতের দিন তাকে হাজির করা হবে আসামী হিসেবে?

Word by word

أَفَمَن وَعَدْنَٰهُ وَعْدًا حَسَنًا فَهُوَ لَٰقِيهِ كَمَن مَّتَّعْنَٰهُ مَتَٰعَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ثُمَّ هُوَ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ مِنَ ٱلْمُحْضَرِينَ

জহুরুল হক

আর সেদিন তাদের তিনি ডাকবেন ও বলবেন - - ''কোথায় আমার শরীকরা যাদের তোমরা উদ্ভাবন করতে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সেই দিন তিনি উহাদেরকে আহ্বান করিয়া বলিবেন, ‘তোমরা যাহাদেরকে আমার শরীক গণ্য করিতে, তাহারা কোথায়?’

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তাদেরকে আওয়াজ দিয়ে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক দাবী করতে, তারা কোথায়?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন: ‘কোথায় আজ তারা যাদেরকে তোমরা আমার শরিক বলে ধারণা করতে?’

Word by word

وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَآءِىَ ٱلَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ

জহুরুল হক

যাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য সত্যপ্রতিপন্ন হয়েছে তারা বলল - - ''আমাদের প্রভু! এরাই তারা যাদের আমরা বিপথে নিয়েছিলাম, আমরা তাদের বিপথে নিয়েছিলাম যেমন আমরা নিজেরা বিপথে গিয়েছিলাম। আমরা তোমার কাছে আমাদের দোষ স্খালন করছি। এটি নয় যে তারা আমাদেরই পূজা করত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হইয়াছে তাহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! ইহাদেরকেই আমরা বিভ্রান্ত করিয়াছিলাম ; ইহাদেরকে বিভ্রান্ত করিয়াছিলাম যেমন আমরা বিভ্রান্ত হইয়াছিলাম ; আপনার সমীপে আমরা দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি চাহিতেছি। ইহারা তো আমাদের ‘ইবাদত করিত না।’

মুহিউদ্দীন খান

যাদের জন্যে শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়েছে, তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা। এদেরকেই আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম। আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। আমরা আপনার সামনে দায়মুক্ত হচ্ছি। তারা কেবল আমাদেরই এবাদত করত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের উপর শাস্তির বাণী অবধারিত হবে, তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! এদেরকে আমরাই বিভ্রান্ত করেছিলাম, এদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম যেমন আমরা বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। আমরা আপনার কাছে এদের দুষ্কর্মের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি। তারা তো আমাদের ইবাদত করতোনা।’

Word by word

قَالَ ٱلَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ ٱلْقَوْلُ رَبَّنَا هَٰٓؤُلَآءِ ٱلَّذِينَ أَغْوَيْنَآ أَغْوَيْنَٰهُمْ كَمَا غَوَيْنَا تَبَرَّأْنَآ إِلَيْكَ مَا كَانُوٓا۟ إِيَّانَا يَعْبُدُونَ

জহুরুল হক

আর বলা হবে - - ''তোমাদের শরীকান - দেবতাদের ডাকো।’’ সুতরাং তারা তাদের প্রতি সাড়া দেবে না, আর তারা শাস্তি দেখতে পাবে। আহা! যদি তারা সৎপথ অনুসরণ করত!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমাদের দেবতাগুলিকে আহ্বান কর।’ তখন ইহারা উহাদেরকে ডাকিবে। কিন্তু উহারা ইহাদের ডাকে সাড়া দিবে না। ইহারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে। হায়! ইহারা যদি সৎপথ অনুসরণ করিত।

মুহিউদ্দীন খান

বলা হবে, তোমরা তোমাদের শরীকদের আহবান কর। তখন তারা ডাকবে,। অতঃপর তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা আযাব দেখবে। হায়! তারা যদি সৎপথ প্রাপ্ত হত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হবে: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানিয়েছিলে তাদের ডাকো, তখন তারা তাদের ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকের জবাব দেবেনা। তারা তখন আযাব দেখতে পাবে। হায়, তারা যদি হিদায়াতের পথ অনুসরণ করতো?

Word by word

وَقِيلَ ٱدْعُوا۟ شُرَكَآءَكُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا۟ لَهُمْ وَرَأَوُا۟ ٱلْعَذَابَ لَوْ أَنَّهُمْ كَانُوا۟ يَهْتَدُونَ

জহুরুল হক

আর সেইদিন যখন তিনি তাদের ডাকবেন ও বলবেন - - ''তোমরা প্রেরিত - পুরুষদের কী জবাব দিয়েছিলে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সেই দিন ‌ ইহাদেরকে ডাকিয়া বলিবেন, ‘তোমরা রাসূলগণকে কী জবাব দিয়াছিলে?’

মুহিউদ্দীন খান

যে দিন তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রসূলগণকে কি জওয়াব দিয়েছিলে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাদের ডেকে বলবেন: ‘তোমরা রসূলদের কী জবাব দিয়েছিলে?’

Word by word

وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَآ أَجَبْتُمُ ٱلْمُرْسَلِينَ

জহুরুল হক

তখন বক্তব্যগুলো সেইদিন তাদের কাছ ঝাপসা হয়ে যাবে, কাজেই তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন সকল তথ্য তাহাদের নিকট হইতে বিলুপ্ত হইবে এবং ইহারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করিতে পারিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন সব তথ্য তাদের থেকে বিস্মৃত হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাও করতে পারবেনা।

Word by word

فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ ٱلْأَنۢبَآءُ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَآءَلُونَ

জহুরুল হক

কিন্তু তার ক্ষেত্রে - - যে তওবা করে এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাহলে হয়ত সে সফলতাপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে যে ব্যক্তি তওবা করিয়াছিল এবং ঈমান আনিয়াছিল ও সৎকর্ম করিয়াছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যে ব্যক্তি তওবা করবে, ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, আশা করা যায়, সে সফলতা অর্জনকারীদের অন্তরভুক্ত হবে।

Word by word

فَأَمَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحًا فَعَسَىٰٓ أَن يَكُونَ مِنَ ٱلْمُفْلِحِينَ

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভু যা ইচ্ছা করেন তাই সৃষ্টি করেন আর মনোনয়ন করেন, তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। ‌রই সব মহিমা, আর তারা যা অংশী আরোপ করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন, ইহাতে উহাদের কােন হাত নাই। ‌ পবিত্র, মহান এবং উহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে তিনি ঊর্ধ্বে!

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন। তাদের কোন ক্ষমতা নেই। পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে, তা থেকে উর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন, এতে তাদের কোনো হাত নেই। সে সব থেকে পবিত্র ও মহান, যাদের তারা তাঁর সাথে শরিক করছে।

Word by word

وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ ٱلْخِيَرَةُ سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভু ভাল জানেন যা তাদের অন্তর লুকিয়ে রাখে আর যা তারা প্রকাশ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমার প্রতিপালক জানেন ইহাদের অন্তর যাহা গোপন করে এবং ইহারা যাহা ব্যক্ত করে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে, আপনার পালনকর্তা তা জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে।

Word by word

وَرَبُّكَ يَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ

জহুরুল হক

আর তিনিই ‌, তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই। তাঁরই সমস্ত স্তুতি আগে ও পরে, আর বিধান তাঁরই, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই ‌ তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই, দুনিয়া ও আখিরাতে সমস্ত প্রশংসা তাঁহারই ; বিধান তাঁহারই ; তোমরা তাঁহারই দিকে প্রত্যাবর্তিত হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ইহকাল ও পরকালে তাঁরই প্রশংসা। বিধান তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তিনি ছাড়া কোনো নেই। সমস্ত প্রশংসা তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতে। সার্বভৌমত্ব তাঁরই এবং তাঁর কাছেই ফিরিয়ে নেয়া হবে তোমাদের।

Word by word

وَهُوَ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ لَهُ ٱلْحَمْدُ فِى ٱلْأُولَىٰ وَٱلْءَاخِرَةِ وَلَهُ ٱلْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

জহুরুল হক

বল - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ - - যদি তোমাদের উপরে রাত্রি স্থায়ী করতেন কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাহলে ছাড়া এমন কোন উপাস্য আছে যে তোমাদের জন্য প্রদীপ নিয়ে আসবে? তোমরা কি তবুও শুনবে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, ‌ যদি রাত্রিকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, ‌ ব্যতীত এমন কোন্ ইলাহ্ আছে, যে তোমাদেরকে আলোক আনিয়া দিতে পারে? তবুও কি তোমরা কর্ণপাত করিবে না?’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, ভেবে দেখ তো, যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে আলোক দান করতে পারে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি রাতকে কিয়ামতকাল পর্যন্ত তোমাদের উপর স্থায়ী করে দেন, তবে ছাড়া এমন কোনো আছে কি, যে তোমাদের আলো এনে দেবে? তোমরা কি (উপদেশ) শুনবেনা?

Word by word

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن جَعَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمُ ٱلَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ مَنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ ٱللَّهِ يَأْتِيكُم بِضِيَآءٍ أَفَلَا تَسْمَعُونَ

জহুরুল হক

বল - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ - - যদি তোমাদের জন্য দিনকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করতেন তাহলে ব্যতীত এমন কোন উপাস্য আছে যে তোমাদের জন্য রাত্রিকে নিয়ে আসবে যার মধ্যে তোমরা বিশ্রাম করতে পার? তোমরা কি তবুও দেখবে না?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, ‌ যদি দিবসকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, ‌ ব্যতীত এমন কোন্ ইলাহ্ আছে, যে তোমাদের জন্য রাত্রির আবির্ভাব ঘটাইবে, যাহাতে তোমরা বিশ্রাম করিতে পার? তবুও কি তোমরা ভাবিয়া দেখিবে না?’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, ভেবে দেখ তো, যদি দিনকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে যে, তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে, যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে ? তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি দিনকে তোমাদের উপর কিয়ামতকাল পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে কোন্ আছে, যে তোমাদের রাত এনে দেবে যাতে তোমরা বিশ্রাম গ্রহণ করতে পারো? তোমরা কি ভেবে দেখবেনা?

Word by word

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن جَعَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمُ ٱلنَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ مَنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ ٱللَّهِ يَأْتِيكُم بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلَا تُبْصِرُونَ

জহুরুল হক

বস্তুতঃ তাঁর দয়া থেকেই তিনি তোমাদের জন্য রাত ও দিন বানিয়েছেন যেন তাতে তোমরা বিশ্রাম করতে পার এবং তাঁর করুণাভান্ডারের সন্ধান করতে পার, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তাঁহার দয়ায় তোমাদের জন্য করিয়াছেন রজনী ও দিবস, যেন উহাতে তোমরা বিশ্রাম করিতে পার এবং তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্যে রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ কর ও তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই নিজ দয়ায় তোমাদের জন্যে রাত এবং দিন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো আর যাতে করে তোমরা তাঁর শোকর আদায় করতে পারো।

Word by word

وَمِن رَّحْمَتِهِۦ جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ لِتَسْكُنُوا۟ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِهِۦ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

জহুরুল হক

আর সেইদিন তিনি ওদের ডাকবেন ও বলবেন - - ''কোথায় আমার অংশীদাররা যাদের তোমরা উদ্ভাবন করতে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন তিনি উহাদেরকে আহ্বান করিয়া বলিবেন, ‘তোমরা যাহাদেরকে আমার শরীক গণ্য করিতে তাহারা কোথায়?’

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে, তারা কোথায়?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরিক বলে ধারণা করতে তারা এখন কোথায়?

Word by word

وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَآءِىَ ٱلَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ

জহুরুল হক

আর আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে বের করব একজন সাক্ষী, তখন আমরা বলব - - ''তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এস।’’ তখন তারা জানতে পারবে যে সত্য ‌রই, আর তারা যা কিছু উদ্ভাবন করত তা তাদের থেকে বিদায় নেবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে আমি একজন সাক্ষী বাহির করিয়া আনিব এবং বলিব, ‘তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।’ তখন উহারা জানিতে পারিবে, ইলাহ্ হইবার অধিকার ‌রই এবং উহারা যাহা উদ্ভাবন করিত তাহা উহাদের নিকট হইতে অন্তর্হিত হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমি একজন সাক্ষী আলাদা করব; অতঃপর বলব, তোমাদের প্রমাণ আন। তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহর এবং তারা যা গড়ত, তা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা প্রতিটি উম্মত থেকে একজন করে সাক্ষী বের করে আনবো এবং তাদের বলবো: ‘হাজির করো তোমাদের প্রমাণ।’ তখনই তারা জানতে পারবে হবার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। আর যাদেরকে তারা (মিথ্যা) বানিয়ে নিয়েছিল তারা সবাই উধাও হয়ে যাবে।

Word by word

وَنَزَعْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا فَقُلْنَا هَاتُوا۟ بُرْهَٰنَكُمْ فَعَلِمُوٓا۟ أَنَّ ٱلْحَقَّ لِلَّهِ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَفْتَرُونَ

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ ক্কারূন ছিল মূসার স্বজাতিদের মধ্যেকার, কিন্তু সে তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। আর আমরা তাকে ধনভান্ডারের এতসব দিয়েছিলাম যে তার চাবিগুলো একদল বলবান লোকের বোঝা হয়ে যেত। দেখো! তার লোকেরা তাকে বললে - - ''গর্ব করো না, নিঃসন্দেহ দাম্ভিকদের ভালবাসেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাহাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছিল। আমি তাহাকে দান করিয়াছিলাম এমন ধনভাণ্ডার যাহার চাবিগুলি বহন করা একদল বলবান লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ কর, তাহার সম্প্রদায় তাহাকে বলিয়াছিল, ‘দম্ভ করিও না, নিশ্চয় ‌ দাম্ভিকদেরকে পসন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

কারুন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত। অতঃপর সে তাদের প্রতি দুষ্টামি করতে আরম্ভ করল। আমি তাকে এত ধন - ভান্ডার দান করেছিলাম যার চাবি বহন করা কয়েকজন শক্তিশালী লোকের পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল। যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলল, দম্ভ করো না, দাম্ভিকদেরকে ভালবাসেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কারূণ ছিলো মূসার কওমেরই একজন। সে তাদের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল। তাকে আমরা দান করেছিলাম এমন ধনভান্ডার যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও ছিলো কষ্টসাধ্য। তার কওম তাকে বলেছিল: ‘‘দম্ভ করোনা, দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না।

Word by word

إِنَّ قَٰرُونَ كَانَ مِن قَوْمِ مُوسَىٰ فَبَغَىٰ عَلَيْهِمْ وَءَاتَيْنَٰهُ مِنَ ٱلْكُنُوزِ مَآ إِنَّ مَفَاتِحَهُۥ لَتَنُوٓأُ بِٱلْعُصْبَةِ أُو۟لِى ٱلْقُوَّةِ إِذْ قَالَ لَهُۥ قَوْمُهُۥ لَا تَفْرَحْ إِنَّ

জহুরুল হক

''আর তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে তুমি পরকালের আবাস অণ্বেষণ করো, আর ইহকালে তোমার ভাগ ভুলে যেয়ো না, আর ভাল কর যেমন তোমার ভাল করেছেন, আর দুনিয়াতে ফেসাদ বাধাতে চেয়ো না। নিঃসন্দেহ ফেসাদে লোকদের ভালবাসেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘‌ যাহা তোমাকে দিয়াছেন তদ্দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান কর এবং দুনিয়া হইতে তোমার অংশ ভুলিও না; তুমি অনুগ্রহ কর যেমন ‌ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিতে চাহিও না। ‌ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না।’

মুহিউদ্দীন খান

তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে আখিরাতের ঘর সন্ধান করো। দুনিয়ায় তোমার দায়িত্বের অংশ ভুলে যেয়োনা। মানুষের প্রতি ইহসান করো, যেভাবে ইহসান করেছেন তোমার প্রতি। দেশে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করোনা। নিশ্চয়ই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেননা।’’

Word by word

وَٱبْتَغِ فِيمَآ ءَاتَىٰكَ ٱللَّهُ ٱلدَّارَ ٱلْءَاخِرَةَ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ ٱلدُّنْيَا وَأَحْسِن كَمَآ أَحْسَنَ ٱللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ ٱلْفَسَادَ فِى ٱلْأَرْضِ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱل

জহুরুল হক

সে বলল - - ''আমাকে এ - সব দেওয়া হয়েছে আমার মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে সেজন্য।’’ সে কি জানত না যে তার আগে বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে ফেলেছেন যারা ছিল তার চেয়েও শক্তিতে অধিক প্রবল এবং একাট্টাকরণে আরো প্রাচুর্যময়? আর অপরাধীদের তাদের পাপ সন্বন্ধে প্রশ্ন করা হবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘এই সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হইয়াছি।’ সে কি জানিত না তাহার পূর্বে ধ্বংস করিয়াছেন বহু মানবগোষ্ঠীকে যাহারা তাহা অপেক্ষা শক্তিতে ছিল প্রবল, জনসংখ্যায় ছিল অধিক? অপরাধীদেরকে উহাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, আমি এই ধন আমার নিজস্ব জ্ঞান - গরিমা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছি। সে কি জানে না যে, তার পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন, যারা শক্তিতে ছিল তার চাইতে প্রবল এবং ধন - সম্পদে অধিক প্রাচুর্যশীল? পাপীদেরকে তাদের পাপকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘এসব সম্পদ আমি লাভ করেছি আমার বিশেষ জ্ঞানের মাধ্যমে।’ সে কি জানেনা, তার আগেও বহু মানব প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছেন যারা ছিলো শক্তিতে তার চাইতেও প্রবল এবং তাদের জনসংখ্যাও ছিলো অধিক। অপরাধীদের জিজ্ঞাসা করা হবেনা তারা কী অপরাধ করেছিল?

Word by word

قَالَ إِنَّمَآ أُوتِيتُهُۥ عَلَىٰ عِلْمٍ عِندِىٓ أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ قَدْ أَهْلَكَ مِن قَبْلِهِۦ مِنَ ٱلْقُرُونِ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ قُوَّةً وَأَكْثَرُ جَمْعًا وَلَا يُسْـَٔلُ عَن ذُنُو

জহুরুল হক

কাজেকাজেই সে তার স্বজাতির সামনে তার জাঁকজমকের সাথে বাহির হয়েছিল। যারা এই দুনিয়ার জীবন কামনা করেছিল তারা বলত - - ''হায়! ক্কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে তার মতো যদি আমাদেরও থাকতো! নিঃসন্দেহ সে বিরাট সৌভাগ্যের অধিকারী!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কারূন তাহার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হইয়াছিল জাঁকজমকসহকারে। যাহারা পার্থিব জীবন কামনা করিত তাহারা বলিল, ‘আহা, কারূনকে যেইরূপ দেওয়া হইয়াছে আমাদেরকেও যদি তাহা দেওয়া হইত। প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর কারুন জাঁকজমক সহকারে তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত, তারা বলল, হায়, কারুন যা প্রাপ্ত হয়েছে, আমাদেরকে যদি তা দেয়া হত! নিশ্চয় সে বড় ভাগ্যবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

কারূণ তার কওমের লোকদের সামনে উপস্থিত হয়েছিল জাঁকজমকের সাথে। যারা দুনিয়ার হায়াতটাকেই প্রাধান্য দিতো, তখন তারা বলেছিল: ‘হায়, কারূণকে যেসব সম্পদ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি সেসব দেয়া হতো! সে তো বিরাট ভাগ্যবান।’

Word by word

فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوْمِهِۦ فِى زِينَتِهِۦ قَالَ ٱلَّذِينَ يُرِيدُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا يَٰلَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَآ أُوتِىَ قَٰرُونُ إِنَّهُۥ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٍ

জহুরুল হক

আর যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা বলল - - ''ধিক্ তোমাদের! যে ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তার জন্য ‌র পুরস্কার বেশি ভাল। আর ধৈর্যশীলদের ছাড়া অন্যে এর সাক্ষাৎ পাবে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছিল তাহারা বলিল, ‘ধিক তোমাদেরকে! যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য ‌র পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ এবং ধৈর্যশীল ব্যতীত ইহা কেহ পাইবে না।’

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিল, তার বলল, ধিক তোমাদেরকে, যারা এবং সৎকর্মী, তাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া সওয়াবই উৎকৃষ্ট। এটা তারাই পায়, যারা সবরকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাদেরকে এলেম দেয়া হয়েছিল তারা বলেছিল: ‘ধ্বংস হও তোমরা, যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ করেছে তাদের জন্যে তো আল্লাহর সওয়াবই (পুরস্কারই) সর্বোত্তম। আর তা তো কেবল সবর অবলম্বনকারীরাই লাভ করবে।’

Word by word

وَقَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ وَيْلَكُمْ ثَوَابُ ٱللَّهِ خَيْرٌ لِّمَنْ ءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحًا وَلَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ٱلصَّٰبِرُونَ

জহুরুল হক

অতঃপর আমরা পৃথিবীকে দিয়ে তাকে ও তার প্রাসাদকে গ্রাস করিয়েছিলাম, তখন তার জন্য এমন কোনো দল ছিল না যারা ‌র বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে পারত, আর সে আ‌ত্মপক্ষকে সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি কারূনকে তাহার প্রাসাদসহ ভূগর্ভে প্রোথিত করিলাম। তাহার স্বপক্ষে এমন কোন দল ছিল না যে ‌র শাস্তি হইতে তাহাকে সাহায্য করিতে পারিত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি কারুনকে ও তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিলাম। তার পক্ষে ব্যতীত এমন কোন দল ছিল না, যারা তাকে সাহায্য করতে পারে এবং সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে পারল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আমরা তাকে (কারূণকে) তার ঘর - বাড়ি ও প্রাসাদ - অট্টালিকাসহ দাবিয়ে দিয়েছি মাটির নীচে। তখন তাকে আল্লাহর পাকড়াওর বিরুদ্ধে সাহায্য করার কেউই ছিলনা এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সমর্থ ছিলনা।

Word by word

فَخَسَفْنَا بِهِۦ وَبِدَارِهِ ٱلْأَرْضَ فَمَا كَانَ لَهُۥ مِن فِئَةٍ يَنصُرُونَهُۥ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُنتَصِرِينَ

জহুরুল হক

আর আগের দিন যারা তার অবস্থার জন্য কামনা করত তারা সাত - সকালে বলতে লাগল - - ''আহা দেখো! তাঁরে বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেন তার প্রতি রিযেক প্রসারিত করেন এবং মেপেজোখে দেন। যদি আমাদের উপরে সদয় না হতেন তবে আমাদেরও গ্রাস করাতেন। আহা দেখো! অবিশ্বাসীরা কখনো হয় না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পূর্বদিন যাহারা তাহার মত হইবার কামনা করিয়াছিল, তাহারা বলিতে লাগিল, ‘দেখিলে তো, ‌ তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার জন্য ইচ্ছা তাহার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যাহার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। যদি ‌ আমাদের প্রতি সদয় না হইতেন তবে আমাদেরকেও তিনি ভূগর্ভে প্রোথিত করিতেন। দেখিলে তো! কাফিররা হয় না।’

মুহিউদ্দীন খান

গতকল্য যারা তার মত হওয়ার বাসনা প্রকাশ করেছিল, তারা প্রত্যুষে বলতে লাগল, হায়, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন ও হ্রাস করেন। আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করলে আমাদেরকেও ভূগর্ভে বিলীন করে দিতেন। হায়, কাফেররা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

গতকালও যারা তার মতো হবার তামান্না (আকাঙ্ক্ষা) করেছিল, তারা বলতে লাগলো: ‘দেখলে তো, তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন, আর যাকে ইচ্ছা সীমিত করে দেন। যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করতেন, তবে আমাদেরকে সহই ধ্বসিয়ে দিতেন। দেখলে তো কাফিররা সাফল্য অর্জন করেনা।’

Word by word

وَأَصْبَحَ ٱلَّذِينَ تَمَنَّوْا۟ مَكَانَهُۥ بِٱلْأَمْسِ يَقُولُونَ وَيْكَأَنَّ ٱللَّهَ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ وَيَقْدِرُ لَوْلَآ أَن مَّنَّ ٱللَّهُ عَلَيْنَا لَخَسَفَ بِنَا وَيْكَأَنّ

জহুরুল হক

এই পরলোকের আবাস, - - আমরা এটি নির্ধারিত করেছি তাদের জন্য যারা পৃথিবীতে বাড়াবাড়ি করতে চায় না এবং ফেসাদও বাধায় না। আর শুভ - পরিণাম হচ্ছে ধর্মপরায়ণদের জন্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা আখিরাতের সেই আবাস যাহা আমি নির্ধারিত করি তাহাদের জন্য যাহারা এই পৃথিবীতে উদ্ধত হইতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করিতে চাহে না। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। খোদাভীরুদের জন্যে শুভ পরিণাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আখিরাতের সেই ঘর আমরা তৈরি করে রেখেছি তাদের জন্যে, যারা পৃথিবীতে উদ্ধত হতে চায়না এবং সৃষ্টি করতে চায়না ফাসাদ, আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্যেই।

Word by word

تِلْكَ ٱلدَّارُ ٱلْءَاخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَٱلْعَٰقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ

জহুরুল হক

যে কেউ ভাল নিয়ে আসে তার জন্য তবে এর চেয়েও ভাল রয়েছে, আর যে মন্দ নিয়ে আসে - - তাহলে যারা মন্দ কাজ করে তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে না তারা যা করত তা ব্যতীত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে কেহ সৎকর্ম লইয়া উপস্থিত হয় তাহার জন্য রহিয়াছে উহা অপেক্ষা উত্তম ফল, আর যে মন্দ কর্ম লইয়া উপস্থিত হয়, তবে যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তাহারা যাহা করিয়াছে উহারই শাস্তি দেওয়া হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তদপেক্ষা উত্তম ফল পাবে এবং যে মন্দ কর্ম নিয়ে আসবে, এরূপ মন্দ কর্মীরা সে মন্দ কর্ম পরিমানেই প্রতিফল পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ (সেখানে) কোনো ভালো কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, সে তার চাইতে উত্তম প্রতিফল লাভ করবে। আর যে কেউ মন্দ কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, তবে যারাই মন্দ কাজ করেছে তাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে কেবল তাদের আমলের অনুরূপ।

Word by word

مَن جَآءَ بِٱلْحَسَنَةِ فَلَهُۥ خَيْرٌ مِّنْهَا وَمَن جَآءَ بِٱلسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى ٱلَّذِينَ عَمِلُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ إِلَّا مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যিনি তোমার উপরে কুরআন বিধান করেছেন তিনি আলবৎ তোমাকে ফিরিয়ে আনবেন প্রত্যাবর্তনস্থলে। বলো - - ''আমার প্রভু ভাল জানেন কে পথনির্দেশ নিয়ে এসেছে আর কে হচ্ছে স্বয়ং সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যিনি তোমার জন্য কুরআনকে করিয়াছেন বিধান তিনি তোমাকে অবশ্যই ফিরাইয়া আনিবেন জন্মভূমিতে। বল, ‘আমার প্রতিপালক ভাল জানেন কে সৎপথের নির্দেশ আনিয়াছে এবং কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।’

মুহিউদ্দীন খান

যিনি আপনার প্রতি কোরআনের বিধান পাঠিয়েছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনবেন। বলুন আমার পালনকর্তা ভাল জানেন কে হেদায়েত নিয়ে এসেছে এবং কে প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি তোমার প্রতি কুরআনকে বিধান বানিয়ে দিয়েছেন, তিনি অবশ্যি তোমাকে ফেরত আনবেন তোমার জন্মভূমিতে। বলো: ‘আমার প্রভুই অধিক জানেন কে হিদায়াত নিয়ে এসেছে, আর কে রয়েছে সুস্পষ্ট বিপথগামিতায় নিমজ্জিত।’

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِى فَرَضَ عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ لَرَآدُّكَ إِلَىٰ مَعَادٍ قُل رَّبِّىٓ أَعْلَمُ مَن جَآءَ بِٱلْهُدَىٰ وَمَنْ هُوَ فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ

জহুরুল হক

আর তুমি তো আশা কর নি যে তোমার সঙ্গে গ্রন্থখানার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, কিন্তু এটি তোমার প্রভুর কাছ থেকে একটি করুণা, সুতরাং তুমি কখনো অবিশ্বাসীদের পৃষ্ঠপোষক হয়ো না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি আশা কর নাই যে, তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইবে। ইহা তো কেবল তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। সুতরাং তুমি কখনও কাফিরদের সহায় হইও না।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আশা করতেন না যে, আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীর্ণ হবে। এটা কেবল আপনার পালনকর্তার রহমত। অতএব আপনি কাফেরদের সাহায্যকারী হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করা হবে তুমি তো কখনো সেই আশা পোষণ করোনি। এটা তো তোমার প্রভুরই অনুগ্রহ! সুতরাং তুমি কখনো কাফিরদের সাহায্যকারী হয়োনা।

Word by word

وَمَا كُنتَ تَرْجُوٓا۟ أَن يُلْقَىٰٓ إِلَيْكَ ٱلْكِتَٰبُ إِلَّا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ ظَهِيرًا لِّلْكَٰفِرِينَ

জহুরুল হক

আর তারা যেন ‌র নির্দেশাবলী থেকে নিবৃত্ত না করে সে - সব তোমার কাছে অবতীর্ণ হবার পরে, বরঞ্চ তুমি ডাকো তোমার প্রভুর প্রতি, আর তুমি কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত হয়ো না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতি ‌র আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর উহারা যেন তোমাকে কিছুতেই সেগুলি হইতে বিমুখ না করে। তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা যেন আপনাকে আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ না করে সেগুলো আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হওয়ার পর আপনি আপনার পালনকর্তার প্রতি দাওয়াত দিন এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি আল্লাহর আয়াত নাযিল হবার পর তারা যেনো তা থেকে তোমাকে কিছুতেই বিরত না রাখতে পারে। তুমি মানুষকে দাওয়াত দাও তোমার প্রভুর দিকে এবং কিছুতেই তুমি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

Word by word

وَلَا يَصُدُّنَّكَ عَنْ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ بَعْدَ إِذْ أُنزِلَتْ إِلَيْكَ وَٱدْعُ إِلَىٰ رَبِّكَ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

জহুরুল হক

আর ‌র সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডেকো না। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। তাঁর অবয়ব ব্যতীত আর সব কিছু ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই, আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি ‌র সঙ্গে অন্য ইলাহ্‌কে ডাকিও না, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। ‌র সত্তা ব্যতীত সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁহারই এবং তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহর সত্তা ব্যতীত সবকিছু ধবংস হবে। বিধান তাঁরই এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি আল্লাহর সাথে অন্য ডেকোনা। কারণ, তিনি ছাড়া আর কোনো নেই। তাঁর সত্তা ছাড়া প্রতিটি জিনিসই ধ্বংসশীল। সর্বময় ক্ষমতা তাঁরই এবং তোমাদেরকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

Word by word

وَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ كُلُّ شَىْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُۥ لَهُ ٱلْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme