Kitab

আল মুজাদালাহ

Chapter 58, 22 verses

  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • সমকালীন বাংলা
জহুরুল হক

আলবৎ তার কথা শুনেছেন যে তার স্বামী সন্বন্ধে তোমার কাছে অনুযোগ করছে আর ‌র নিকট ফরিয়াদ করছে, আর তোমাদের দুজনের কথোপকথন শুনেছেন। নিশ্চয় সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ অবশ্যই শুনিয়াছেন সেই নারীর কথা, যে তাহার স্বামীর বিষয়ে তোমার সঙ্গে বাদানুবাদ করিতেছে এবং ‌র নিকটও ফরিয়াদ করিতেছে। ‌ তোমাদের কথোপকথন শোনেন, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবশ্যই শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সঙ্গে কথা বলছিলো এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছিল। আর তোমাদের উভয়ের কথোপকথন শুনছিলেন। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

জহুরুল হক

তোমাদের মধ্যের যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে 'যিহার’ করে, - - তারা তাদের মা নয়। তাদের মায়েরা তো শুধু যারা তাদের জন্মদান করেছে তারা বৈ তো নয়। আর তারা তো নিঃসন্দেহ কথা বলছে এক গর্হিত কথা ও একটি ডাহা মিথ্যা। আর নিঃসন্দেহ নিশ্চিত মার্জনাকারী, পরিত্রাণকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মধ্যে যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সঙ্গে যিহার করে, তাহারা জানিয়া রাখুক - তাহাদের স্ত্রীগণ তাহাদের মাতা নন, যাহারা তাহাদেরকে জন্মদান করে কেবল তাহারাই তাহাদের মাতা; উহারা তো অসঙ্গত ও অসত্য কথাই বলে। নিশ্চয়ই ‌ পাপ মোচনকারী ও ক্ষমাশীল।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে যিহার করে, তারা তাদের মা নয়। তাদের মায়েরা তো কেবল তারাই, যারা তাদের জন্ম দিয়েছে। আর নিশ্চয়ই তারা এমন কথা বলে যা নিন্দনীয় এবং মিথ্যা। আর নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমাকারী।

Note
আরবীতে ‘যিহার’ অর্থ স্ত্রীকে মায়ের মতো বলা, অথবা স্ত্রীকে মায়ের মতো গণ্য করা/আচরণ করা। এর কোনো সরাসরি বাংলা প্রতিশব্দ নেই।
জহুরুল হক

আর যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে 'যিহার’ করে, তারপর তারা যা বলেছে তা প্রত্যাহার করে, সেক্ষেত্রে একে - অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসের মুক্তিদান। এইটির দ্বারাই তোমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো। আর তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে চির - ওয়াকিফহাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সঙ্গে যিহার করে এবং পরে উহাদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করিতে হইবে, ইহা দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া যাইতেছে। তোমরা যাহা কর ‌ তাহার খবর রাখেন।

সমকালীন বাংলা

আর যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে যিহার করে, পরে যা তারা বলেছে তা থেকে ফিরে আসে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একজন দাস মুক্ত করা। এটাই তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে অবহিত।

জহুরুল হক

কিন্ত যে খোঁজে পায় না, তবে একে - অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে পরপর দুই মাস রোযা রাখা। কিন্ত যে শক্তি রাখে না, তা’হলে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়ানো। এ এজন্য যে তোমরা যেন ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, আর এগুলো হচ্ছে ‌র বিধি - নিষেধ। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু যাহার এ সামর্থ্য থাকিবে না, একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তাহাকে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করিতে হইবে ; যে তাহাতেও অসমর্থ, সে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়াইবে; ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেন ‌ ও তাঁহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন কর। এইগুলি ‌র নির্ধারিত বিধান; কাফিরদের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার আগে পরপর দুই মাস রোজা রাখবে। আর যে তা-ও সক্ষম নয়, সে ষাটজন দরিদ্রকে আহার করাবে। এটি এজন্য যে তোমরা ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস রাখো। আর এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের অপদস্থ করা হবে যেমন অপদস্থ করা হয়ে ছিল তাদের যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী, আর আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করেই দিয়েছি। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাহাদেরকে অপদস্থ করা হইবে যেমন অপদস্থ করা হইয়াছে তাহাদের পূর্ববর্তীদেরকে; আমি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করিয়াছি; কাফিরদের জন্য রহিয়াছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি -

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যারা ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা অপমানিত হয়েছে, যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা অপমানিত হয়েছিল। আর আমরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছি। আর অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

জহুরুল হক

একদিন তাদেরকে একই সঙ্গে উঠিয়ে আনবেন, তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন কি তারা করেছিল। এর হিসাব রেখেছেন যদিও তারা তা ভুলে গেছে। বস্তুত সব - কিছুর উপরে সাক্ষী রয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন, যেদিন উহাদের সকলকে একত্রে উত্থিত করা হইবে এবং উহাদেরকে জানাইয়া দেওয়া হইবে যাহা উহারা করিত; ‌ উহার হিসাব রাখিয়াছেন, আর উহারা তাহা বিস্মৃত হইয়াছে। ‌ সর্ববিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।

সমকালীন বাংলা

যেদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তারা কী করেছে। তা গণনা করে রেখেছেন, অথচ তারা তা ভুলে গেছে। আর সবকিছুর উপর সাক্ষী।

জহুরুল হক

তুমি কি লক্ষ্য কর নি যে জানেন যা - কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে ও যা - কিছু রয়েছে পৃথিবীতে? তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ - সভা নেই যেখানে তিনি তাদের চতুর্থজন নন, আর পাঁচজনেরও নেই যেখানে তিনি তাদের ষষ্ঠজন নন, আর এর চেয়ে কম হোক অথবা বেশী হোক, সর্বাবস্থায় তিনি তাদের সঙ্গে রয়েছেন যেখানেই তারা থাকুক না কেন। তারপর তিনি কিয়ামতের দিনে তাদের জানিয়ে দেবেন কি তারা করেছিল। নিঃসন্দেহ সব - কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি লক্ষ্য কর না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে ‌ তাহা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাহাতে চতুর্থ জন হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাহাতে ষষ্ঠ জন হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেন না। উহারা এতদপেক্ষা কম হউক বা বেশি হউক তিনি তো তাহাদের সঙ্গেই আছেন, উহারা যেখানেই থাকুক না কেন। অতঃপর উহারা যাহা করে, তিনি উহাদেরকে কিয়ামতের দিন তাহা জানাইয়া দিবেন। নিশ্চয়ই ‌ র্সববিষয়ে সম্যক অবগত।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি দেখনি যে, আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা আছে তা জানেন? তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যেখানে তিনি তাদের চতুর্থ নন; আর পাঁচজনেরও নয়, যেখানে তিনি তাদের ষষ্ঠ নন; এর চেয়ে কম বা বেশি যা-ই হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সঙ্গে আছেন। তারপর কিয়ামতের দিনে তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তারা যা করেছে। নিশ্চয়ই সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

জহুরুল হক

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য কর নি যাদের নিষেধ করা হয়েছিল গোপন পরামর্শ - সভা পাততে, তারপর তারা ফিরে গিয়েছিল তাতে যা করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল? আর তারা সলা - পরামর্শ করছে পাপাচরণে ও শত্রুতায় ও রসূলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণের জন্য, আর যখন তারা তোমার কাছে আসে তখন তারা তোমাকে সম্ভাষণ করে এমনভাবে যেভাবে তোমাকে সম্ভাষণ করেন না। আর তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে - - ''কেন আমাদের শাস্তি দেন না আমরা যা বলি সেজন্য?’’ তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট - - তারা তাতেই প্রবেশ করবে, সুতরাং কত নিকৃষ্ট এই গন্তব্যস্থল!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি তাহাদেরকে লক্ষ্য কর না, যাহাদেরকে গোপন পরামর্শ করিতে নিষেধ করা হইয়াছিল? অতঃপর উহারা যাহা নিষিদ্ধ তাহারই পুনরাবৃত্তি করে এবং পাপাচরণ, সীমালংঘন ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণের জন্য কানাকানি করে। উহারা যখন তোমার নিকট আসে তখন উহারা তোমাকে এমন কথা দ্বারা অভিবাদন করে যদ্দ্বারা ‌ তোমাকে অভিবাদন করেন নাই। উহারা মনে মনে বলে, ‘আমরা যাহা বলি তাহার জন্য ‌ আমাদেরকে শাস্তি দেন না কেন?’ জাহান্নামই উহাদের জন্য যথেষ্ট, যেখানে উহারা প্রবেশ করিবে, কত নিকৃষ্ট সেই আবাস!

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাদের দেখনি, যাদের গোপন পরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছিল, তারপর তারা যা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল, তা আবার করে এবং পাপ, সীমালঙ্ঘন ও রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে গোপন পরামর্শ করে? আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমনভাবে অভিবাদন জানায়, যেভাবে তোমাকে অভিবাদন জানাননি। আর তারা নিজেদের মধ্যে বলে, “আমরা যা বলি, তার জন্য কেন আমাদের শাস্তি দেন না?” তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা তাতে প্রবেশ করবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট পরিণতি!

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমরা কোনো গোপন পরামর্শ - সভা পাতো তখন তোমরা পরামর্শ করো না পাপাচরণ ও শত্রুতা ও রসূলের প্রতি অবাধ্যতার জন্য, বরং তোমরা পরামর্শ করো সৎকর্মের ও ধর্মভীরুতার জন্যে, আর ‌কে ভয় - ভক্তি করো যাঁর কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, সে পরামর্শ যেন পাপাচরণ, সীমালংঘন ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে না হয়। তোমরা কল্যাণকর কাজ ও তাক্ওয়া অবলম্বনের পরামর্শ করিও, এবং ভয় কর ‌কে যাঁহার নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হইবে।

সমকালীন বাংলা

হে যারা ঈমান এনেছো, যখন তোমরা গোপনে পরামর্শ করো, তখন পাপ, সীমালঙ্ঘন এবং রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে গোপন পরামর্শ করো না; বরং সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির বিষয়ে গোপন পরামর্শ করো। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর কাছে তোমাদের সমবেত করা হবে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ সলা - পরামর্শ কেবল শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে, যেন সে যন্ত্রণা দিতে পারে তাদের যারা ঈমান এনেছে, বস্তুত তাদের কোনো অনিষ্ট হতে পারে না ‌র অনুমতি ব্যতীত। কাজেই ‌র উপরেই তবে নির্ভর করুক বিশ্বাসিগণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তানের প্ররোচনায় হয় এই গোপন পরামর্শ মু’মিনদেরকে দুঃখ দেওয়ার জন্য। তবে ‌র ইচ্ছা ব্যতীত শয়তান তাহাদের সামান্যতম ক্ষতি সাধনেও সক্ষম নয়। মু’মিনদের কর্তব্য ‌র উপর নির্ভর করা।

সমকালীন বাংলা

মূলত গোপন পরামর্শ শয়তানের পক্ষ থেকে ঈমানদারদের দুঃখ দেওয়ার জন্য হয়। কিন্তু আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সে তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর মুমিনরা যেন আল্লাহর উপরই ভরসা করে।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমাদের বলা হয় মজলিস - গুলোয় জায়গা করে দাও, তখন জায়গা করে দিয়ো, তোমাদের জন্য জায়গা করে দেবেন। আর যখন বলা হয় উঠে দাঁড়াও, তখন উঠে দাঁড়িয়ো, তোমাদের মধ্যের যারা ঈমান এনেছে ও যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদের স্তরে স্তরে মর্যাদায় উন্নত করবেন। আর তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে চির - ওয়াকিফহাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! যখন তোমাদেরকে বলা হয়, মজলিসে স্থান প্রশস্ত করিয়া দাও, তখন তোমরা স্থান করিয়া দিও, ‌ তোমাদের জন্য স্থান প্রশস্ত করিয়া দিবেন এবং যখন বলা হয়, ‘উঠিয়া যাও’, তোমরা উঠিয়া যাইও। তোমাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং যাহাদেরকে জ্ঞান দান করা হইয়াছে ‌ তাহাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করিবেন; তোমরা যাহা কর ‌ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।

সমকালীন বাংলা

হে যারা ঈমান এনেছো, যখন তোমাদের বলা হয়, “সমাবেশে জায়গা করে দাও,” তখন তোমরা জায়গা করে দাও; তোমাদের জন্য জায়গা করে দেবেন। আর যখন বলা হয়, “উঠে যাও,” তখন তোমরা উঠে যাও। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদের মর্যাদা উন্নত করবেন। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে অবহিত।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন রসূলের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ কর তখন তোমাদের পরামর্শের আগে দান - খয়রাত আগবাড়াবে, এইটি তোমাদের জন্য শ্রেয় ও পবিত্রতর। কিন্ত যদি তোমরা না পাও তবে নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা রাসূলের সঙ্গে চুপি চুপি কথা বলিতে চাহিলে তাহার পূর্বে সাদাকা প্রদান করিবে, ইহাই তোমাদের জন্য শ্রেয় ও পরিশোধক ; যদি তাহাতে অক্ষম হও, ‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

হে যারা ঈমান এনেছো, যখন তোমরা রাসূলের সঙ্গে গোপনে পরামর্শ করতে চাও, তখন তোমাদের সেই গোপন পরামর্শের আগে কিছু দান করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম ও অধিক পবিত্র। কিন্তু যদি তোমরা তা না পাও, তবে নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

কী! তোমরা কি তোমাদের ব্যক্তিগত পরামর্শের আগে দান - খয়রাত আগবাড়াতে ভয় করছ? সুতরাং যখন তোমরা কর না, আর তোমাদের প্রতি ফেরেন, তখন কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো, আর ও তাঁর রসূলের আজ্ঞাপালন করো। আর তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে চির - ওয়াকিফহাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি চুপে চুপে কথা বলিবার পূর্বে সাদাকা প্রদানকে কষ্টকর মনে কর! যখন তোমরা সাদাকা দিতে পারিলে না, আর ‌ তোমাদেরকে ক্ষমা করিয়া দিলেন, তখন তোমরা কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং ‌ ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য কর। তোমরা যাহা কর ‌ তাহা সম্যক অবগত।

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তোমাদের গোপন পরামর্শের আগে দান করতে ভয় পেয়েছো? অতঃপর যখন তোমরা তা করনি এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন, তখন প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত দাও এবং ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে অবহিত।

জহুরুল হক

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য কর নি যারা এমন এক জাতির সহিত বন্ধুত্ব পাতে যাদের উপরে রুষ্ট হয়েছেন? তারা তোমাদের দলভুক্ত নয় আর তাদেরও অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তারা জেনে - শুনেই মিথ্যা হলফ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি তাহাদের প্রতি লক্ষ্য কর নাই যাহারা, ‌ যে সম্প্রদায়ের প্রতি রুষ্ট, তাহাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ? উহারা তোমাদের দলভুক্ত নয়, তাহাদের দলভুক্তও নয় এবং উহারা জানিয়া শুনিয়া মিথ্যা শপথ করে।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছে যাদের উপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন? তারা তোমাদেরও নয় এবং তাদেরও নয়। আর তারা জেনে-শুনে মিথ্যার উপর শপথ করে।

জহুরুল হক

তাদের জন্য তৈরি করেছেন ভীষণ শাস্তি। বস্তুত তারা যা করে চলেছে তা কত মন্দ!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ উহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছেন কঠিন শাস্তি। উহারা যাহা করে তাহা কত মন্দ !

সমকালীন বাংলা

তাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। নিশ্চয়ই তারা যা করতো, তা কতই না মন্দ!

জহুরুল হক

তারা তাদের শপথগুলোকে আবরণ হিসেবে গ্রহণ করেছে, ফলে তারা ‌র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা উহাদের শপথগুলিকে ঢালস্বরূপ ব্যবহার করে, আর উহারা ‌র পথ হইতে নিবৃত্ত করে; অতএব উহাদের জন্য রহিয়াছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

তারা তাদের শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে গ্রহণ করেছে, ফলে তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দিয়েছে। অতএব তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

জহুরুল হক

‌র মোকাবিলায় তাদের ধনদৌলত কোনো প্রকারেই তাদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সন্তানসন্ততিও না। এরা হচ্ছে আগুনের অধিবাসী। তারা তাতেই অবস্থান করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র শাস্তির মুকাবিলায় উহাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি উহাদের কোন কাজে আসিবে না; উহারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে উহারা স্থায়ী হইবে।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের কোনো কাজে আসবে না। তারাই আগুনের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।

জহুরুল হক

সেইদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর কাছে হলফ করবে যেমন তারা তোমাদের কাছে হলফ করছে, আর তারা হিসেব করছে যে তারা নিশ্চয় একটা কিছুতে রয়েছে। তারাই কি স্বয়ং মিথ্যাবাদী নয়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে দিন ‌ পুনরুত্থিত করিবেন উহাদের সকলকে, তখন উহারা ‌র নিকট সেইরূপ শপথ করিবে যেইরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং উহারা মনে করে যে, ইহাতে উহারা ভাল কিছুর উপর রহিয়াছে। সাবধান! উহারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।

সমকালীন বাংলা

যেদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর কাছে শপথ করবে, যেমন তোমাদের কাছে শপথ করে। আর তারা মনে করবে যে তারা কোনো কিছুর উপর রয়েছে। জেনে রেখো, তারাই মিথ্যাবাদী।

জহুরুল হক

শয়তান তাদের উপরে কাবু করে ফেলেছে, সেজন্য সে তাদের ‌কে স্মরণ করা ভুলিয়ে দিয়েছে। এরাই হচ্ছে শয়তানের দল। এটি কি নয় যে শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গরা নিজেরাই তো ক্ষতিগ্রস্ত দল?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তান উহাদের উপর প্রভাব বিস্তার করিয়াছে ; ফলে উহাদেরকে ভুলাইয়া দিয়াছে ‌র স্মরণ। উহারা শয়তানের দল। সাবধান ! শয়তানের দল অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত।

সমকালীন বাংলা

শয়তান তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারাই শয়তানের দল। জেনে রেখো, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ‌র ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তারাই হবে চরম লাঞ্ছিতদের মধ্যেকার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তাহারা হইবে চরম লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যারা ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারাই সবচেয়ে লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।

জহুরুল হক

বিধান করেছেন - - ''অবশ্য আমি ও আমার রসূলগণ বিজয়ী হবই।’’ নিঃসন্দেহ মহাবলীয়ান, মহাশত্তি শালী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ সিদ্ধান্ত করিয়াছেন, আমি অবশ্যই বিজয়ী হইব এবং আমার রাসূলগণও। নিশ্চয়ই ‌ শক্তিমান, পরাক্রমশালী।

সমকালীন বাংলা

লিখে দিয়েছেন, “অবশ্যই আমি এবং আমার রাসূলগণ বিজয়ী হবো।” নিশ্চয়ই মহাশক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী।

জহুরুল হক

তুমি ‌তে ও পরকালে বিশ্বাস করে এমন কোনো জাতি পাবে না যারা বন্ধুত্ব পাতছে তাদের সঙ্গে যারা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করছে। হোক না কেন তারা তাদের পিতা - পিতামহ অথবা তাদের সন্তানসন্ততি অথবা তাদের ভাই - বিরাদর অথবা তাদের আ‌ত্মীয় - স্বজন। এরাই - - এদের অন্তরে তিনি ধর্মবিশ্বাস লিখে দিয়েছেন এবং তাদের বলবৃদ্ধি করেছেন তাঁর কাছ থেকে প্রেরণা দিয়ে। আর তিনি তাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, তাতে তারা থাকবে চিরকাল। তাদের উপরে প্রসন্ন থাকবেন, আর তারাও তাঁর প্রতি প্রসন্ন রইবে। এরাই হচ্ছে ‌র দলের। এটি কি নয় যে ‌র দলীয়রাই তো খোদ সাফল্যপ্রাপ্ত?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি পাইবে না ‌ ও আখিরাতে এমন কোন সম্প্রদায়, যাহারা ভালবাসে ‌ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচারীদেরকে - হউক না এই বিরুদ্ধাচারীরা তাহাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা ইহাদের জ্ঞাতি - গোত্র। ইহাদের অন্তরে ‌ সুদৃঢ় করিয়াছেন ঈমান এবং তাহাদেরকে শক্তিশালী করিয়াছেন তাঁহার পক্ষ হইতে রূহ্ দ্বারা। তিনি ইহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে ইহারা স্থায়ী হইবে ; ‌ ইহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন এবং ইহারাও তাঁহার প্রতি সন্তুষ্ট, ইহারাই ‌র দল। জানিয়া রাখ, ‌র দলই হইবে।

সমকালীন বাংলা

তুমি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবে না যারা ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে অথচ তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যারা ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, এমনকি যদি তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা আত্মীয় হয়। তাদের অন্তরে তিনি বিশ্বাস লিখে দিয়েছেন এবং নিজের কাছ থেকে তাদেরকে এক আত্মা দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। আর তিনি তাদেরকে এমন বেহেস্তে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই সফল।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme