না, আমি শপথ করছি কিয়ামতের দিনের।
আমি শপথ করিতেছি কিয়ামত দিবসের,
Chapter 75, 40 verses
না, আমি শপথ করছি কিয়ামতের দিনের।
আমি শপথ করিতেছি কিয়ামত দিবসের,
আর না, আমি শপথ করছি আত্মসমালোচনাপরায়ণ আত্মার।
আরও শপথ করিতেছি তিরস্কারকারী আত্মার।
মানুষ কি মনে করে যে আমরা কখনো তার হাড়গোড় একত্রিত করব না?
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তাহার অস্থিসমূহ একত্র করিতে পারিব না?
হাঁ, আমরা তার আঙুলগুলো পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।
বস্তুত আমি উহার অঙ্গুলীর অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনবিন্যস্ত করিতে সক্ষম।
তবুও মানুষ চায় যা তার সামনে রয়েছে তা অস্বীকার করতে।
তবুও মানুষ তাহার ভবিষ্যতেও পাপাচার করিতে চায়।
সে প্রশ্ন করে - - ''কখন কিয়ামতের দিন আসবে?’’
সে প্রশ্ন করে, ‘কখন কিয়ামত দিবস আসিবে?’
কিন্ত যখন দৃষ্টি দিশাহারা হয়ে যাবে,
যখন চক্ষু স্থির হইয়া যাইবে,
আর চন্দ্র হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন,
এবং চন্দ্র হইয়া পড়িবে জ্যোতিহীন,
আর সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে,
যখন সূর্য ও চন্দ্রকে একত্র করা হইবে -
মানুষ সেইদিন বলবে - - ''কোথায় পালানোর স্থান?’’
সেদিন - মানুষ বলিবে, ‘আজ পালাইবার স্থান কোথায়?’
কিছুতেই না, কোনো আশ্রয়স্থল নেই।
না, কোন আশ্রয়স্থল নাই।
সেদিন ঠাই হবে কেবল তোমার প্রভুর নিকটেই।
সেদিন ঠাঁই হইবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট।
মানুষকে সেইদিন জানানো হবে কী সে আগবাড়িয়েছে এবং সে ফেলে রেখেছে।
সেদিন মানুষকে অবহিত করা হইবে সে কী অগ্রে পাঠাইয়াছে ও কী পশ্চাতে রাখিয়া গিয়াছে।
বস্তুত মানুষ তার নিজের সত্ত্বা সন্বন্ধে চক্ষুষ্মান,
বস্তুত মানুষ নিজের সম্বন্ধে সম্যক অবগত,
যদিও সে তার অজুহাত দেখায়।
যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারণা করে।
এর দ্বারা তোমার জিহবা নাড়াচাড়া করো না একে ত্বরান্বিত করতে।
তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করিবার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা উহার সঙ্গে সঞ্চালন করিও না।
নিঃসন্দেহ আমাদের উপরেই রয়েছে এর সংগ্রহের ও এর পাঠ করানোর দায়িত্ব।
ইহা সংরক্ষণ ও পাঠ করাইবার দায়িত্ব আমারই।
সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি তখন তুমি তার পঠন অনুসরণ করো,
সুতরাং যখন আমি উহা পাঠ করি তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর,
তারপর নিশ্চয় আমাদেরই উপরে রয়েছে এর ব্যাখ্যাকরণ।
অতঃপর ইহার বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।
না, তোমরা কিন্তু ভালবাস ক্ষণস্থায়ী,
না, তোমরা প্রকৃতপক্ষে পার্থিব জীবনকে ভালবাস;
আর অবহেলা কর পরকালকে।
এবং আখিরাতকে উপেক্ষা কর।
সেদিন কতকগুলো মুখ হবে উজ্জ্বল, - -
সেদিন কোন কোন মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হইবে,
তাদের প্রভুর দিকে চেয়ে থাকবে,
তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের দিকে তাকাইয়া থাকিবে।
আর কতকগুলো মুখ সেইদিন বিবর্ণ হয়ে যাবে, - -
কোন কোন মুখমণ্ডল হইয়া পড়িবে বিবর্ণ,
এই ভেবে যে কোনো বিধ্বংসী বিপর্যয় তাদের উপরে পড়তে যাচ্ছে।
আশংকা করিবে যে, এক ধ্বংসকারী বিপর্যয় তাহাদের উপর আপতিত হইবে।
না, যখন এটি গলায় এসে পৌঁছুবে,
কখনো নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হইবে,
এবং বলা হবে - - ''কে সেই জাদুকর?’’
এবং বলা হইবে, ‘কে তাহাকে রক্ষা করিবে?’
আর সে বুঝতে পারে যে, এ হচ্ছে বিদায় বেলা,
তখন তাহার প্রত্যয় হইবে যে, ইহা বিদায়ক্ষণ।
এবং এক পায়ের হাড় অন্য পায়ের হাড়ে ঠোকর খেতে থাকবে,
এবং পায়ের সঙ্গে পা জড়াইয়া যাইবে।
তোমার প্রভুর দিকেই সেইদিন হবে চালিয়ে নেওয়া।
সেই দিন তোমার প্রভুর নিকট সমস্ত কিছু প্রত্যানীত হইবে।
সে তো সত্যনিষ্ঠ ছিল না, আর নামাযও পড়ে নি,
সে বিশ্বাস করে নাই এবং আদায় করে নাই।
বরং সে সত্যপ্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ফিরে এসেছিল,
বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল ও মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিল।
তারপর সে তার স্বজনগণের কাছে গিয়েছিল গর্ব করতে করতে।
অতঃপর সে তাহার পরিবার - পরিজনের নিকট ফিরিয়া গিয়াছিল দম্ভভরে,
''তুমি নিপাত যাও! তবে নিপাত যাও!
দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ!
''আবার তুমি নিপাত যাও, ফলে নিপাত যাও!’’
আবার দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ!
মানুষ কি ভাবে যে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বাঁধনছাড়াভাবে?
মানুষ কি মনে করে যে, তাহাকে নিরর্থক ছাড়িয়া দেওয়া হইবে?
সে কি ছিল না এক শুক্রকীট এক সবেগে নির্গত স্খলনের মধ্যেকার?
সে কি স্খলিত শুক্রবিন্দু ছিল না?
তারপর সে হলো একটি রক্তপিন্ড, তারপর তিনি আকৃতি দান করলেন ও পূর্ণাঙ্গ করলেন।
অতঃপর সে ‘আলাকায় পরিণত হয়। তারপর তাহাকে আকৃতি দান করেন ও সুঠাম করেন।
তারপর তিনি তা হতে সৃষ্টি করলেন তার যুগল - - পুরুষ ও নারী।
অতঃপর তিনি তাহা হইতে সৃষ্টি করেন যুগল - নর ও নারী।
তবুও কি তিনি ক্ষমতাবান নন মৃতকে পুনর্জীবিত করতে?
তবুও কি সেই স্রষ্টা মৃতকে পুনর্জীবিত করিতে সক্ষম নয়?