যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, - -
যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে,
যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,
Chapter 56, 96 verses
যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, - -
যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে,
যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,
এর সংঘটনকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না।
যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই।
তার সংঘটনের কোনই অস্বীকারকারী থাকবে না।
তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।
এটি লাঞ্ছিত করবে, এটি করবে সমুন্নত।
এটা নীচু করে দেবে, সমুন্নত করে দেবে।
তা কাউকে ভূলুণ্ঠিত করবে এবং কাউকে করবে সমুন্নত।
সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।
যখন পৃথিবী আলোড়িত হবে আলোড়নে,
যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী।
যখন যমীন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে।
যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।
আর পাহাড়গুলো ভেঙ্গে পড়বে চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে - -
এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে।
আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে।
যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,
ফলে তা হয়ে যাবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা,
অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।
অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।
ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।
আর তোমরা হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে - -
এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে।
তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।
যথা ডান দিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!
যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা।
সুতরাং ডান পার্শ্বের দল, ডান পার্শ্বের দলটি কত সৌভাগ্যবান!
একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!
আর বাঁদিকের দল, - - কেমনতর এই বাঁদিকের দল!
এবং যারা বামদিকে, কত হতভাগা তারা।
আর বাম পার্শ্বের দল, বাম পার্শ্বের দলটি কত হতভাগ্য!
একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!
আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামী,
অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই।
আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী।
আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।
এরাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত,
তারাই নৈকট্যশীল,
তারাই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত।
তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,
আনন্দময় উদ্যানে।
অবদানের উদ্যানসমূহে,
তারা থাকবে নিআমতপূর্ণ জান্নাতসমূহে ।
থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।
প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,
তারা একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
আর পরবর্তীকালীনদের থেকে অল্প সংখ্যায়।
এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্যে থেকে।
আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
কারুকার্যময় সিংহাসনে,
স্বর্ণ খচিত সিংহাসন।
স্বর্ণ ও দামী পাথরখচিত আসনে!
তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।
তাতে তারা হেলান দিয়ে আসন গ্রহণ করবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।
তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।
তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়।
তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।
তাদের চারিদিকে ঘুরে বেড়াবে চিরনবীন তরুণেরা - -
তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা।
তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা,
তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,
পানপাত্র ও সোরাই নিয়ে ও নির্মল পানীয়ের পেয়ালা।
পানপাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে,
পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে,
পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।
তাদের মাথা ধরবে না তাতে, আর তাদের নেশাও ধরবে না।
যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং বিকারগ্রস্ত ও হবে না।
তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে।
সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।
আর ফল - মূল যা তারা পছন্দ করে;
আর তাদের পছন্দমত ফল - মুল নিয়ে,
আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে।
থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,
আর পাখির মাংস যা তারা কামনা করে,
এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে।
আর পাখির গোশ্ত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে।
থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,
আর আয়তলোচন হূরগণ - -
তথায় থাকবে আনতনয়না হুরগণ,
আর থাকবে ডাগরচোখা হূর,
থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)
আবৃত মুক্তার উদাহরণের ন্যায়; - -
আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়,
যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা,
(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,
যা তারা করতো তার পুরস্কার।
তারা যা কিছু করত, তার পুরস্কারস্বরূপ।
তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ।
তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।
তারা সেখানে শুনবে না কোনো খেলোকথা, না কোনো পাপবাক্য, - -
তারা তথায় অবান্তর ও কোন খারাপ কথা শুনবে না।
তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোন বেহুদা কথা, এবং না পাপের কথা;
তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।
শুধু এই কথা ছাড়া - - ''সালাম! সালাম!’’
কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম।
শুধু এই বাণী ছাড়া, ‘সালাম, সালাম’
শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।
আর ডানদিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!
যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান।
আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
কাঁটা বিহীন সিদরাহ - গাছের নীচে,
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে।
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,
আর সারি সারি সাজানো কলাগাছ,
এবং কাঁদি কাঁদি কলায়,
আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে,
কাঁদিভরা কলার বাগানে,
আর সুদূরবিস্তৃত ছায়া,
এবং দীর্ঘ ছায়ায়।
আর বিস্তৃত ছায়ায়,
বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,
আর উছলে ওঠা পানি,
এবং প্রবাহিত পানিতে,
আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে,
সদা বহমান পানির মধ্যে,
আর প্রচুর পরিমাণে ফলমূল,
ও প্রচুর ফল - মূলে,
আর প্রচুর ফলমূলে,
এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,
ব্যাহত হবার নয় এবং নিষিদ্ধ হবারও নয়।
যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধ ও নয়,
যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।
আর উঁচুদরের গালিচা।
আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়।
(তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে;
তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,
নিঃসন্দেহ আমরা ওদের সৃষ্টি করেছি বিশেষ সৃষ্টিতে;
আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।
নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।
আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,
আর তাদের বানিয়েছি চিরকুমারী,
অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী।
অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,
তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,
সোহাগিনী, সমবয়স্কা, - -
কামিনী, সমবয়স্কা।
সোহাগিনী ও সমবয়সী।
স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,
দক্ষিণপন্থী লোকদের জন্য।
ডান দিকের লোকদের জন্যে।
ডানদিকের লোকদের জন্য।
ডানদিকের লোকদের জন্যে।
প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,
তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,
আর পরবর্তীকালীনদের মধ্যে থেকেও অধিক সংখ্যায়।
এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
আর অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।
কিন্তু বামপন্থীদল - - কেমনতর এই বামপন্থী দল।
বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা।
আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!
উত্তপ্ত বাতাসে ও ফুটন্ত পানিতে,
তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে,
তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে,
তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,
আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়।
আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,
শীতল নয় এবং সম্মানজনকও নয়।
যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।
যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়।
তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।
অথচ তারা তো এর আগে ছিল ভোগবিলাসে মগ্ন,
তারা ইতিপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল।
নিশ্চয় তারা ইতঃপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল,
ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে
আর তারা ঘোরতর পাপাচারে জেদ ধরে থাকত,
তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত।
আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।
এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।
আর তারা বলত - - ''কী! আমরা যখন মরে যাব ও মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাব তখন কি আমরা আদৌ পুনরুত্থিত হব, - -
তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব?
আর তারা বলত, ‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?’
তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
এবং আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?
এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও!
‘আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?’
আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’
তুমি বলো - - ''নিঃসন্দেহ পূর্ববর্তীরা এবং পরবর্তীরা - -
বলুনঃ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ,
বল, ‘নিশ্চয় পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,
বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,
''অবশ্যই সবাইকে একত্রিত করা হবে এক সুবিদিত দিনের নির্ধারিত স্থানে - ক্ষণে,
সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।
এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই একত্র হবে’।
একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,
''তখন নিঃসন্দেহ তোমরাই, হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাআরোপকারিগণ!
অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ।
তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা,
তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
''তোমরা আলবৎ আহার করবে যিক্কুমের গাছের থেকে,
তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে,
তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ থেকে খাবে,
তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,
''এবং তাই দিয়ে তোমরা উদর পূর্ণ করবে,
অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে,
অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!
''তারপর তোমরা তার উপরে পান করবে উত্তপ্ত পানি,
অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি।
তদুপরি পান করবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি।
তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।
''আর তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের পান করার ন্যায়।’’
পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়।
অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।
আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।
এই হবে তাদের আপ্যায়ন বিচারের দিনে।
কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
প্রতিফল দিবসে এই হবে তাদের মেহমানদারী,
প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা সত্য বলে স্বীকার কর না?
আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না।
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি: তাহলে কেন তোমরা তা বিশ্বাস করছ না?
আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?
তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ - - যা তোমরা স্খলন কর?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে।
তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীর্যপাত করছ সে সম্পর্কে?
তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
তোমরা বুঝি ওকে সৃষ্টি করেছ, না আমরা সৃষ্টিকর্তা?
তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?
তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যু ধার্য করে রেখেছি, আর আমরা প্রতিহত হব না, - -
আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই।
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না,
আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই
যেন আমরা বদলে দিতে পারি তোমাদের অনুকরণে, এবং তোমাদের রূপান্তরিত করতে পারি তাতে যা তোমরা জান না।
এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না।
তোমাদের স্থানে তোমাদের বিকল্প আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।
আর তোমরা অবশ্য প্রথম অভ্যুত্থান সন্বন্ধে অবগত হয়েছ, তবে কেন তোমরা ভেবে দেখ না?
তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?
আর তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছ, তবে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না?
তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা বপন কর?
তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
তোমরা আমাকে বল, তোমরা যমীনে যা বপন কর সে ব্যাপারে,
তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
তোমরা কি তা গজিয়ে তুলো, না আমরা বর্ধনকারী?
তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ?
তোমরা তা অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?
আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা আলবৎ তাকে খড় - কুটোয় পরিণত করতে পারতাম, তখন তোমরা হাহুতাশ করতে থাকবে,
আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।
আমি চাইলে তা খড়-কুটায় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা পরিতাপ করতে থাকবে-
আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)
''আমরা তো নিশ্চয় ঋণগ্রস্ত হলাম,
বলবেঃ আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম;
(এই বলে,) ‘নিশ্চয় আমরা দায়গ্রস্ত হয়ে গেলাম’।
‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।
''বরং আমরা বঞ্চিত হলাম।’’
বরং আমরা হূত সর্বস্ব হয়ে পড়লাম।
‘বরং আমরা মাহরূম হয়েছি’।
বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’
তোমরা যে পানি পান কর সে - সন্বন্ধে তোমরা কি ভেবে দেখেছ?
তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
তোমরা যে পানি পান কর সে ব্যাপারে আমাকে বল।
তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?
তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমরা বর্ষণকারী?
তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি?
বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বর্ষণ কর, না আমি বৃষ্টি বর্ষণকারী?
মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?
আমরা যদি চাইতাম তাহলে আমরা তাকে লোনা করে দিতে পারতাম, কেন তবে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
ইচ্ছা করলে আমি তা লবণাক্ত করে দিতে পারি: তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?
আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও তা কি তোমরা লক্ষ্য করেছ?
তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে ব্যাপারে আমাকে বল,
তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?
তোমরাই কি তার গাছকে জন্মইয়েছ, না আমরা উৎপাদনকারী?
তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ?
তোমরাই কি এর (লাকড়ির গাছ) উৎপাদন কর, না আমি করি?
তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
আমরাই তাকে বানিয়েছি এক নিদর্শনসামগ্রী এবং মরুচারীদের জন্য এক প্রয়োজনসামগ্রী।
আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী।
একে আমি করেছি এক স্মারক ও মরুবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তু।
আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।
অতএব তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।
অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।
না, আমি কিন্তু শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের, - -
অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি,
সুতরাং আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,
আর নিঃসন্দেহ এটি তো এক বিরাট শপথ, যদি তোমরা জানতে, - -
নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ - যদি তোমরা জানতে।
আর নিশ্চয় এটি এক মহাকসম, যদি তোমরা জানতে,
অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!
নিঃসন্দেহ এটি তো এক সম্মানিত কুরআন,
নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন,
নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন,
নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।
এক সুরক্ষিত গ্রন্থে।
যা আছে এক গোপন কিতাবে,
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে,
এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।
কেউ তা স্পর্শ করবে না পূত - পবিত্র ছাড়া।
যারা পাক - পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।
কেউ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া।
পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।
এটি এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।
এটা বিশ্ব - পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।
তা সত্ত্বেও কি সেই বাণীর প্রতি তোমরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবাপন্ন,
তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য পদর্শন করবে?
তবে কি তোমরা এই বাণী তুচ্ছ গণ্য করছ?
এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?
এবং তোমাদের জীবিকা বানিয়ে নিয়েছ যে তোমরা মিথ্যা আখ্যা দেবে?
এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে?
আর তোমরা তোমাদের রিয্ক বানিয়ে নিয়েছ যে, তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে।
আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?
তবে কেন যখন কন্ঠাগত হয়ে যায়,
অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।
সুতরাং কেন নয়- যখন রূহ কণ্ঠদেশে পৌঁছে যায়?
যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,
এবং তোমরা যে - সময়ে তাকিয়ে থাকো,
এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,
আর তখন তোমরা কেবল চেয়ে থাক।
তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,
আমরা তখন তোমাদের চাইতে তার বেশী নিকটবর্তী কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।
আর তোমাদের চাইতে আমি তার খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।
যদি তোমরা আজ্ঞাধীন না হয়ে থাক তবে কেন তোমরা পার না - -
যদি তোমাদের হিসাব - কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,
তোমাদের যদি প্রতিফল দেয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন
তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,
তাকে ফিরিয়ে দিতে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?
ফিরিয়ে আনছ না রূহকে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?
আর পক্ষান্তরে যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়;
অতঃপর সে যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্যতম হয়,
সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
তাহলে আয়েশ - আরাম ও সৌরভ, এবং আনন্দময় উদ্যান।
তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান।
তবে তার জন্য থাকবে বিশ্রাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখময় জান্নাত।
তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।
আর অপরপক্ষে সে যদি দক্ষিণপন্থীদের মধ্যেকার হয়,
আর যদি সে ডান পার্শ্বস্থদের একজন হয়,
আর সে যদি হয় ডানদিকের একজন,
আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,
তাহলে দক্ষিণপন্থীদের দলের থেকে - - ''তোমার প্রতি সালাম।’’
তবে তাকে বলা হবেঃ তোমার জন্যে ডানপার্শ্বসস্থদের পক্ষ থেকে সালাম।
তবে (তাকে বলা হবে), ‘তোমাকে সালাম, যেহেতু তুমি ডানদিকের একজন’।
তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’
আর পক্ষান্তরে সে যদি প্রত্যাখ্যানকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, - -
আর যদি সে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীদের একজন হয়,
আর সে যদি হয় অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্ট,
আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,
তাহলে আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,
তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা।
তবে তার মেহমানদারী হবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি দিয়ে,
তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,
এবং প্রবেশস্থল হবে ভয়ংকর আগুন!
এবং সে নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে।
আর জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্জ্বলনে।
আর জাহান্নামের দহন।
নিঃসন্দেহ এটি অবশ্য সুনিশ্চিত সত্য।
এটা ধ্রুব সত্য।
নিশ্চয় এটি অবধারিত সত্য।
এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।
সুতরাং তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।
অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।
অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।