Kitab

আল তাওবাহ

Chapter 9, 129 verses

  • জহুরুল হক
  • মুহিউদ্দীন খান
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জহুরুল হক

এক অব্যাহতি ও তাঁর রসূলের তরফ থেকে সেইসব বহুখোদাবাদীদের প্রতি যাদের সঙ্গে তোমরা সন্ধি করেছিলে।

মুহিউদ্দীন খান

সম্পর্কচ্ছেদ করা হল ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা সম্পর্কচ্ছেদ ও তাঁহার রাসূলের পক্ষ হইতে সেই সমস্ত মুশরিকদের সঙ্গে যাহাদের সঙ্গে তোমরা পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হইয়াছিলে।

জহুরুল হক

সুতরাং তোমরা দেশে অবাধে ঘোরাফেরা করো চার মাসকাল, আর জেনে রেখো - - তোমরা নিশ্চয়ই ‌র কাছ থেকে ফসকে যাবার পাত্র নও। আর আলবৎ অবিশ্বাসীদের লাঞ্ছিত করে থাকেন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তোমরা দেশে চারি মাসকাল পরিভ্রমণ কর ও জানিয়া রাখ, তোমরা ‌কে হীনবল করিতে পারিবে না এবং নিশ্চয়ই কাফিরদের লাঞ্ছিত করিয়া থাকেন।

জহুরুল হক

আর ও তাঁর রসূলের তরফ থেকে জনগণের প্রতি এই মহান হজের দিনে এ এক ঘোষণা যে মুশরিকদের কাছে দায়মুক্ত, আর তাঁর রসূলও। অতএব তোমরা যদি তওবা করো তবে সেটি হবে তোমাদের জন্য কল্যাণজনক, কিন্তু তোমরা যদি ফিরে যাও তাহলে জেনে রেখো - - তোমরা নিঃসন্দেহ ‌র কাছ থেকে ফসকে যাবার পাত্র নও। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও, - -

মুহিউদ্দীন খান

আর মহান হজ্বের দিনে ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মহান হজ্জের দিবসে ও তাঁহার রাসূলের পক্ষ হইতে মানুষের প্রতি ইহা এক ঘোষণা যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের সম্পর্কে দায়মুক্ত এবং তাঁহার রাসূলও। তোমরা যদি তওবা কর তবে তাহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর তোমরা যদি মুখ ফিরাও তবে জানিয়া রাখ, তোমরা ‌কে হীনবল করিতে পারিবে না এবং কাফিরদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও,

জহুরুল হক

মুশরিকদের মধ্যের সেইসব ছাড়া যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছ, তারপর তারা তোমাদের সাথে কোনো ত্রুটি করে নি, আর তোমাদের বিরুদ্ধে অন্য কারোর পৃষ্ঠপোষকতাও করে নি, তাদের সঙ্গে তাহলে তাদের চুক্তি প্রতিপালন করো সেগুলোর মেয়াদ পর্যন্ত। নিঃসন্দেহ ভালোবাসেন ধর্মপরায়ণদের।

মুহিউদ্দীন খান

তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই পছন্দ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে মুশরিকদের মধ্যে যাহাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ ও পরে যাহারা তোমাদের চুক্তি রক্ষায় কোন ত্রুটি করে নাই এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাহাকেও সাহায্য করে নাই, তাহাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চুক্তি পূর্ণ করিবে, নিশ্চয়ই মুত্তাকীদেরকে পছন্দকরেন।

জহুরুল হক

অতঃপর নিষিদ্ধ মাসগুলো যখন অতিবাহিত হয়ে যায় তখন মুশরিকদের কাতল করো যেখানে তাদের পাও, আর তাদের বন্দী করো, আর তাদের ঘেরাও করো, আর তাদের জন্য ওৎ পেতে থাকো প্রত্যেক ঘাঁটিতে। কিন্তু যদি তারা তওবা করে এবং কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে তবে তাদের পথ ছেড়ে দিয়ো। নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর নিষিদ্ধ মাসসমূহ অতিবাহিত হইলে মুশরিকদেরকে যেখানে পাইবে হত্যা করিবে, তাহাদেরকে বন্দী করিবে, অবরোধ করিবে এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাহাদের জন্য ওঁৎ পাতিয়া থাকিবে। কিন্তু যদি তাহারা তওবা করে, কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তাহাদের পথ ছাড়িয়া দিবে; নিশ্চয়ই অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর যদি মুশরিকদের কোনো একজন তোমার কাছে আশ্রয় চায় তবে তাকে আশ্রয় দাও যেন সে ‌র বাণী শোনে, তারপর তাকে তার নিরাপদ যায়গায় পৌঁছে দিয়ো। এটি এই জন্য যে তারা হচ্ছে এমন এক সম্প্রদায় যারা জানে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুশরিকদের মধ্যে কেহ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করিলে তুমি তাহাকে আশ্রয় দিবে যাহাতে সে ‌র বাণী শুনিতে পায় ; অতঃপর তাহাকে তাহার নিরাপদ স্থানে পৌঁছাইয়া দিবে; কারণ তাহারা অজ্ঞ লোক।

জহুরুল হক

কেমন ক’রে মুশরিকদের জন্য ‌র সঙ্গে ও তাঁর রসূলের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে, তাদের সম্পর্কে ছাড়া যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছিলে পবিত্র মসজিদের নিকটে? সুতরাং যতক্ষণ তারা তোমাদের প্রতি কায়েম থাকবে ততক্ষণ তোমরাও তাদের প্রতি কায়েম রইবে। নিঃসন্দেহ ধর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।

মুহিউদ্দীন খান

মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল - হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের পছন্দ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ও তাঁহার রাসূলের নিকট মুশরিকদের চুক্তি কি করিয়া বলবৎ থাকিবে ? তবে যাহাদের সঙ্গে মসজিদুল হারামের সন্নিকটে তোমরা পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হইয়াছিলে, যাবৎ তাহারা তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকিবে তোমরাও তাহাদের চুক্তিতে স্থির থাকিবে; নিশ্চয়ই মুত্তাকীদেরকে পছন্দকরেন।

জহুরুল হক

কেমন ক’রে যখন তারা যদি তোমাদের পিঠে চড়তে পারে তবে তারা তোমাদের সঙ্গে আ‌ত্মীয়তার বা চুক্তির বন্ধন মানবে না? তারা তোমাদের খুশী রাখতে চায় তাদের মুখ দিয়ে, কিন্তু তাদের হৃদয় অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশই দুষ্কৃতিকারী।

মুহিউদ্দীন খান

কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেমন করিয়া থাকিবে ? তাহারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তবে তাহারা তোমাদের আত্মীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দিবে না; তাহারা মুখে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট রাখে; কিন্তু তাহাদের হৃদয় উহা অস্বীকার করে; তাহাদের অধিকাংশ সত্যত্যাগী।

জহুরুল হক

তারা ‌র আয়াতকে স্বল্পমূল্যে বিনিময় করে, তাই তারা তাঁর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে। নিঃসন্দেহ জঘন্য যা তারা করে যাচ্ছে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর আয়াত সমূহ নগন্য মুল্যে বিক্রয় করে, অতঃপর লোকদের নিবৃত রাখে তাঁর পথ থেকে, তারা যা করে চলছে, তা অতি নিকৃষ্ট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা ‌র আয়াতসমূহ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে এবং তাহারা লোকদেরকে তাঁহার পথ হইতে নিবৃত্ত করে; নিশ্চয়ই তাহারা যাহা করিয়া থাকে তাহা অতি নিকৃষ্ট!

জহুরুল হক

তারা কোনো মুমিনের বেলায় আ‌ত্মীয়তার বা চুক্তির বন্ধন - সন্বন্ধে ভাবে না। এরা নিজেরাই হচ্ছে সীমালংঘনকারী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা মর্যাদা দেয় না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্নীয়তার, আর না অঙ্গীকারের। আর তারাই সীমালংঘনকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কোন মু’মিনের সঙ্গে আত্মীয়তার ও অঙ্গীকারের মর্যাদা রক্ষা করে না, তাহারাই সীমালংঘনকারী।

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তারা তওবা করে, আর কায়েম করে, আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা ধর্মে তোমাদের ভাই। আর আমরা নির্দেশাবলী বিশদভাবে বিবৃত করি সেই লোকদের জন্য যারা জানে।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য তারা যদি তওবা করে, কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহারা যদি তওবা করে, কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তাহারা তোমাদের দীনী ভাই ; জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শন স্পষ্টরূপে বিবৃত করি।

জহুরুল হক

আর তারা যদি তাদের চুক্তি সম্পাদনের পরেও তাদের প্রতি‌শ্রুতি ভঙ্গ করে আর তোমাদের ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপ করে তবে অবিশ্বাসের সর্দারদের সাথে যুদ্ধ করো, - - নিঃসন্দেহ তাদের বেলা প্রতিজ্ঞাসব তাদের কাছে কিছুই নয়, - - যেন তারা বিরত হতে পারে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের চুক্তির পর তাহারা যদি তাহাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন সম্বন্ধে বিদ্রূপ করে তবে কাফিরদের প্রধানদের সঙ্গে যুদ্ধ কর; ইহারা এমন লোক যাহাদের কোন প্রতিশ্রুতি রহিল না; যেন তাহারা নিবৃত্ত হয়।

জহুরুল হক

তোমরা কি যুদ্ধ করবে না সেইসব সম্প্রদায়ের সাথে যারা তাদের প্রতি‌শ্রুতি ভঙ্গ করেছে, আর সংকল্প করেছে রসূলকে বহিস্কার করার, আর তারাই তোমাদের উপরে শুরু করেছে প্রথমে? তোমরা কি তাদের ভয় করো? কিন্তু ‌ই অধিকতর দাবিদার যে তোমরা তাঁকে ভয় করবে - - যদি তোমরা মূমিন হও।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন , যদি তোমরা হও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে না, যাহারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়াছে ও রাসূলকে বহিষ্কারের জন্য সংকল্প করিয়াছে? উহারাই প্রথম তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে। তোমরা কি তাহাদেরকে ভয় কর ? ‌কে ভয় করাই তোমাদের পক্ষে অধিক সমীচীন, যদি তোমরা হও।

জহুরুল হক

তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো, তাদের শাস্তি দেবেন তোমাদের হাতে, আর তাদের লাঞ্ছিত করবেন, আর তোমাদের সাহায্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে, আর সম্প্রদায়ের বুক প্রশমিত করবেন।

মুহিউদ্দীন খান

যুদ্ধ কর ওদের সাথে, তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে। তোমাদের হাতে উহাদেরকে শাস্তি দিবেন, উহাদেরকে লাঞ্ছিত করিবেন, উহাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করিবেন ও মু’মিনদের চিত্ত প্রশান্ত করিবেন,

জহুরুল হক

আর তিনি তাদের বুকের ক্ষোভ দূর করবেন। আর যাকে ইচ্ছে করেন তার প্রতি ফেরেন। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন। আর যার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাশীল হবে, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তিনি উহাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করিবেন। যাহাকে ইচ্ছা তাহার প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হন, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

তোমরা কি মনে করো যে তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে, অথচ জেনে নেন নি যে তোমাদের মধ্যের কারা সংগ্রাম করছে, আর কারা ‌কে ছেড়ে দিয়ে বা তাঁর রসূলকে বাদ দিয়ে বা মুমিনদের ব্যতীত কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু গ্রহণ করে নি? আর তোমরা যা করো সে - সন্বন্ধে পূর্ণ - ওয়াকিফহাল।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে , তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদেরকে এমনি ছাড়িয়া দেওয়া হইবে যখন পর্যন্ত না প্রকাশ করেন তোমাদের মধ্যে কাহারা মুজাহিদ এবং কাহারা , তাঁহার রাসূল ও মু’মিনগণ ব্যতীত অন্য কাহাকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নাই ? তোমরা যাহা কর, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

জহুরুল হক

মুশরিকদের কোনো অধিকার নেই যে তারা ‌র মসজিদগুলো দেখাশোনা করবে যখন তারা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসের সাক্ষ্য দেয়। এরাই তারা যাদের কাজকর্ম ব্যর্থ হয়েছে, আর আগুনের মধ্যে তারাই অবস্থান করবে।

মুহিউদ্দীন খান

মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের স্বীকার করে তখন তাহারা ‌র মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করিবে - এমন হইতে পারে না। উহারা এমন, যাহাদের সমস্ত কর্ম ব্যর্থ হইয়াছে এবং উহারা দোজখেই স্থায়িভাবে অবস্থান করিবে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ সে - ই শুধু ‌র মসজিদগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করবে যে ‌তে বিশ্বাস করে আর পরকালেও, আর কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, আর ছাড়া কাউকেও ভয় করে না, কাজেই এদের পক্ষেই সাব্য যে এরা হেদায়তপ্রাপ্তদের মধ্যেকার হবে।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে ও আদায় করে যাকাত; ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারাই তো ‌র মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করিবে, যাহারা ঈমান আনে ‌ ও আখিরাতে এবং কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ব্যতীত অন্য কাহাকেও ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তাহারা হইবে সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

জহুরুল হক

তোমরা কি হজযাত্রীদের পানি সরবরাহ করা ও পবিত্র মসজিদের দেখাশোনা করাকে তুল্যজ্ঞান করো তার সাথে যে ‌র প্রতি ও পরকালের প্রতি আস্থা রেখেছে আর ‌র পথে সংগ্রাম করছে? ‌র কাছে ওরা সমতুল্য নয়। আর অন্যায়কারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালন করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি হাজীদের পানি সরবরাহ ও মসজিদুল - হারাম আবাদকরণকে সেই লোকের সমান মনে কর, যে ঈমান রাখে ও শেষ দিনের প্রতি এবং যুদ্ধ করেছে আল্লাহর রাহে, এরা আল্লাহর দৃষ্টিতে সমান নয়, আর জালেম লোকদের হেদায়েত করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হাজীদের জন্য পানি সরবরাহ এবং মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে তোমরা কি তাহাদের পুণ্যের সমজ্ঞান কর, যাহারা ও আখিরাতে ঈমান আনে এবং ‌র পথে জিহাদ করে ? ‌র নিকট উহারা সমতুল্য নয়। সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।

জহুরুল হক

যারা ঈমান এনেছে ও হিজরত করেছে, আর ‌র পথে তাদের ধনদৌলত ও তাদের জানপ্রাণ দিয়ে সংগ্রাম করেছে, তারা ‌র কাছে মর্যাদায় উন্নততর। আর এরা নিজেরাই ।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঈমান আনে, হিজরত করে এবং নিজেদের সম্পদ ও নিজেদের জীবন দ্বারা ‌র পথে জিহাদ করে তাহারা ‌র নিকট মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, আর তাহারাই ।

জহুরুল হক

তাদের প্রভু তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর তরফ থেকে করুণাধারার, আর প্রসন্নতার, আর বাগ - বাগিচার যাতে তাদের জন্যে রয়েছে চিরস্থায়ী সুখসমৃদ্ধি - -

মুহিউদ্দীন খান

তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের পরওয়ারদেগার স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের প্রতিপালক উহাদেরকে সুসংবাদ দিতেছেন স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, যেখানে আছে তাহাদের জন্য স্থায়ী সুখ - শান্তি।

জহুরুল হক

সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। নিঃসন্দেহ - - তাঁর কাছে রয়েছে পরম পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে। নিশ্চয়ই ‌র নিকট আছে মহাপুরস্কার।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের পিতৃবর্গকে ও তোমাদের ভ্রাতৃবৃন্দকে তোমরা অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না যদি তারা বিশ্বাসের চাইতে অবিশ্বাসকেই ভালোবাসে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের মুরব্বীরূপে গ্রহণ করে তবে তারা নিজেরাই হবে অন্যায়কারী ।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভ্রাতা যদি ঈমানের মুকাবিলায় কুফরীকে শ্রেয় জ্ঞান করে, তবে উহাদেরকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করিও না। তোমাদের মধ্যে যাহারা উহাদেরকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তাহারাই ।

জহুরুল হক

বলো, ''যদি তোমাদের পিতারা ও তোমাদের পুত্রেরা, আর তোমাদের ভাইয়েরা ও তোমাদের পরিবাররা, আর তোমাদের আ‌ত্মীয়স্বজন, আর মাল - আসবাব যা তোমরা অর্জন করেছ, আর ব্যবসা - বাণিজ্য যার অচলাবস্থা তোমরা আশঙ্কা করো, আর বাড়িঘর যা তোমরা ভালোবাসো - - তোমাদের কাছে ও তাঁর রসূলের ও তাঁর পথে সংগ্রামের চেয়ে অধিকতর প্রিয় হয় তবে অপেক্ষা করো যে পর্যন্ত না নিয়ে আসেন তাঁর আদেশ।’’ আর দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন - সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান - যাকে তোমরা পছন্দ কর - , তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমাদের নিকট যদি , তাঁহার রাসূল এবং ‌র পথে জিহাদ করা অপেক্ষা অধিক প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্য - যাহার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান - যাহা তোমরা ভালবাস, তবে অপেক্ষা কর ‌র নির্দেশ আসা পর্যন্ত।’ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।

জহুরুল হক

ইতিমধ্যে বহুক্ষেত্রে তোমাদের সাহায্য করেছেন, আর হুনাইনের দিনেও যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদের উৎফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের লাভবান করে নি কোনো - ভাবেই, আর পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের জন্য হয়েছিল সংকীর্ণ, তোমরা ফিরেছিলে পলায়নপর হয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে এবং হোনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্তেও তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদেরকে তো সাহায্য করিয়াছেন বহু ক্ষেত্রে এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিনে যখন তোমাদেরকে উৎফুল্ল করিয়াছিল তোমাদের সংখ্যাধিক্য; কিন্তু উহা তোমাদের কোন কাজে আসে নাই এবং বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকুচিত হইয়াছিল, পরে তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিয়া পলায়ন করিয়াছিলে।

জহুরুল হক

তারপর তাঁর প্রশান্তি বর্ষণ করলেন তাঁর রসূলের উপরে আর মুমিনদের উপরে, আর তিনি অবতীর্ণ করেছিলেন এক সেনাবাহিনী যা তোমরা দেখতে পাও নি, আর শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের যারা অবিশ্বাস পোষণ করে। আর এই হচ্ছে অবিশ্বাসীদের কর্মফল।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাঁহার নিকট হইতে তাঁহার রাসূল ও মু’মিনদের উপর প্রশান্তি বর্ষণ করেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী অবতীর্ণ করেন যাহা তোমরা দেখিতে পাও নাই এবং তিনি কাফিরদেরকে শাস্তি প্রদান করেন; ইহাই কাফিরদের কর্মফল।

জহুরুল হক

তারপর এর পরেও ফেরেন যার প্রতি তিনি ইচ্ছা করেন। আর পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর যাদের প্রতি ইচ্ছা তওবার তওফীক দেবেন, আর অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহার পরও যাহার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাপরায়ণ হইবেন; অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিঃসন্দেহ মুশরিকরা হচ্ছে অপবিত্র, কাজেই তাদের এই বৎসরের পরে তারা পবিত্র মসজিদের সন্নিকটে আসতে পারবে না; আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশঙ্কা করো তা হলে অচিরেই তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন তাঁর করুণাভান্ডার থেকে যদি তিনি চান। নিঃসন্দেহ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল - হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর, তবে চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র; সুতরাং এই বৎসরের পর তাহারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে। যদি তোমরা দারিদ্র্যের আশঙ্কা কর তবে ‌ ইচ্ছা করিলে তাঁহার নিজ করুণায় তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করিবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

যুদ্ধ করো তাদের সঙ্গে যারা ‌তে বিশ্বাস করে না আর আখেরাতের দিনেও না, আর নিষেধ করে না যা ও তাঁর রসূল নিষেধ করেছেন, আর সত্যধর্মে ধর্মনিষ্ঠা পালন করে না - - তাদের মধ্যে থেকে যাদের ধর্মগ্রন্থ দেয়া হয়েছে, যে পর্যন্ত না তারা স্বহস্তে জিযিয়া প্রদান করে, আর তারা আনুগত্য মেনে নেয়।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে - কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাদের মধ্যে যাহারা ‌র প্রতি ঈমান আনে না, শেষদিনেও নয় এবং ও তাঁহার রাসূল যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দীন অনুসরণ করে না, তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে, যে পর্যন্ত না তাহারা নত হইয়া স্বহস্তে জিযিয়া দেয়।

জহুরুল হক

আর ইহুদীরা বলে - - ''উযাইর ‌র পুত্র’’, আর খ্রীষ্টানরা বলে - - ''মসীহ ‌র পুত্র।’’ এসব হচ্ছে তাদের মুখ দিয়ে তাদের বুলি আওড়ানো, - - তারা ওদের কথার অনুসরণ করে যারা পূর্বকালে অবিশ্বাস পোষণ করেছিল। তাদের ধ্বংস করবেন। তারা কেমন ক’রে বিমুখ হয়!

মুহিউদ্দীন খান

ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইয়াহূদীরা বলে, ‘উযায়র ‌র পুত্র’ এবং খ্রিস্টানরা বলে, ‘মসীহ্ ‌র পুত্র।’ উহা তাহাদের মুখের কথা। পূর্বে যাহারা করিয়াছিল উহারা তাহাদের মত কথা বলে। উহাদেরকে ধ্বংস করুন। আর কোন্ দিকে উহাদেরকে ফিরাইয়া দেওয়া হইয়াছে!

জহুরুল হক

তারা ‌কে ছেড়ে দিয়ে তাদের পন্ডিতগণকে ও সন্ন্যাসীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে, আর মরিয়ম - পুত্র মসীহ্‌কেও, অথচ শুধু এক উপাস্যের উপাসনা করা ছাড়া অন্য নির্দেশ তাদের দেয়া হয় নি। তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই। তাঁরই সব মহিমা - - তারা যে - সব অংশী দাঁড় করার সে - সব থেকে?

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার - বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা ‌ ব্যতীত তাহাদের পণ্ডিতগণকে ও সংসার - বিরাগিগণকে তাহাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করিয়াছে এবং মারইয়াম - তনয় মসীহ্‌কেও। কিন্তু উহারা এক ইলাহের ‘ইবাদত করিবার জন্যই আদিষ্ট হইয়াছিল। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তাহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে তিনি কত পবিত্র!

জহুরুল হক

তারা ‌র জ্যোতি নিভিয়ে দিতে চায় তাদের মুখ দিয়ে, আর তাঁর জ্যোতির পূর্ণাঙ্গ সাধন না ক’রে থামছেন না যদিও অবিশ্বাসীরা অসন্তোষ বোধ করছে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা তাহাদের মুখের ফুৎকারে ‌র জ্যোতি নির্বাপিত করিতে চায়। কাফিররা অপ্রীতিকর মনে করিলেও তাঁহার জ্যোতির পূর্ণ উদ্ভাসন ব্যতীত অন্য কিছু চান না।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন পথনির্দেশ ও সত্য - ধর্মের সাথে যেন তিনি তাকে প্রাধান্য দিতে পারেন ধর্মের - - তাদের সবক’টি উপরে, যদিও মুশরিকরা অনিচ্ছুক।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুশরিকরা অপ্রীতিকর মনে করিলেও অপর সমস্ত দীনের উপর জয়যুক্ত করিবার জন্য তিনিই পথনির্দেশ ও সত্য দীনসহ তাঁহার রাসূল প্রেরণ করিয়াছেন।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিঃসন্দেহ পন্ডিতদের ও সন্ন্যাসীদের মধ্যের অনেকে লোকের ধনসম্পত্তি অন্যায়ভাবে গলাধঃকরণ করে আর ‌র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে। বস্তুতঃ যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে অথচ ‌র পথে খরচ করে না, তাদের তাহলে সংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির, - -

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! পণ্ডিত এবং সংসার বিরাগীদের মধ্যে অনেকেই লোকের ধন - সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করিয়া থাকে এবং লোককে ‌র পথ হইতে নিবৃত্ত করে। আর যাহারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং উহা ‌র পথে ব্যয় করে না উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।

জহুরুল হক

যেদিন এগুলো উত্তপ্ত করা হবে জাহান্নামের আগুনে, তারপর তা দিয়ে দেগে দেয়া হবে তাদের কপালে ও তাদের পার্শ্বদেশে ও তাদের পিঠে। ''এটিই সেই যা তোমরা জড়ো করেছিলে, অতএব আস্বাদন করো যা তোমরা জমিয়েছিলে!’’

মুহিউদ্দীন খান

সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে উহা উত্তপ্ত করা হইবে এবং উহা দ্বারা তাহাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হইবে সেদিন বলা হইবে, ‘ইহাই উহা যাহা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করিতে। সুতরাং তোমরা যাহা পুঞ্জীভূত করিয়াছিলে তাহা আস্বাদন কর।’

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ ‌র কাছে মাসগুলোর সংখ্যা হচ্ছে ‌র বিধানে বারো মাস, - - যেদিন থেকে তিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, - - এর মধ্যে চারটি হচ্ছে পবিত্র। এই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান, কাজেই এদের মধ্যে তোমাদের নিজেদের প্রতি অন্যায় করো না, আর মুশরিকদের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে যুদ্ধ করো যেমন তারা সমবেতভাবে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে থাকে। আর জেনে রেখো - - আলবৎ ধর্মভীরুদের সঙ্গে রয়েছেন।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন হইতেই ‌র বিধানে ‌র নিকট মাস গণনায় মাস বারটি; তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, ইহাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং ইহার মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করিও না এবং তোমরা মুশরিকদের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করিবে, যেমন তাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করিয়া থাকে। এবং জানিয়া রাখ, তো মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।

জহুরুল হক

পিছিয়ে দেয়া অবিশ্বাসেরই মাত্রা বৃদ্ধি মাত্র, এর দ্বারা যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের পথভ্রষ্ট করা হয়, তারা এ বৈধ করে কোনো বছর আর একে অবৈধ করে কোনো বছর, যেন তারা ঠিক রাখতে পারে সংখ্যা যা নিষিদ্ধ করেছেন, ফলে তারা বৈধ করে যা অবৈধ করেছেন। তাদের মন্দ কাজগুলো তাদের কাছ চিত্তাকর্ষক করা হয়ছে। আর পথ দেখান না অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে।

মুহিউদ্দীন খান

এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই যে মাসকে পিছাইয়া দেওয়া কেবল বৃদ্ধি করা, যাহা দ্বারা কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়। তাহারা উহাকে কোন বৎসর বৈধ করে এবং কোন বৎসর অবৈধ করে যাহাতে তাহারা যেইগুলিকে নিষিদ্ধ করিয়াছেন, সেইগুলির গণনা পূর্ণ করিতে পারে ; অনন্তর যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা হালাল করিতে পারে। তাহাদের মন্দ কাজগুলি তাহাদের জন্য শোভনীয় করা হইয়াছে। সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ? কি তোমাদের হয়েছে যখন তোমাদের বলা হচ্ছে - - '‌র পথে বেরিয়ে পড়ো’, - - তখন তোমরা ভারি হয়ে ঝুকঁছো মাটির দিকে? তোমরা কি বেশি পরিতুষ্ট পরকালের পরিবর্তে এই দুনিয়ার জীবনে বস্তুতঃ পার্থিব জীবনের ভোগবিলাস পরকালের তুলনায় যৎসামান্য বই তো নয়।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের কী হইল যে, তোমাদেরকে যখন ‌র পথে অভিযানে বাহির হইতে বলা হয় তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হইয়া ভূতলে ঝুঁকিয়া পড় ? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবনে পরিতুষ্ট হইয়াছ ? আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগের উপকরণ তো অকিঞ্চিৎকর!

জহুরুল হক

যদি তোমরা বের না হও তবে তিনি তোমাদের শাস্তি দেবেন মর্মন্তুদ শাস্তিতে, আর তোমাদের পরিবর্তে বদলে নেবেন ভিন্ন এক জাতিকে, আর তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। বস্তুতঃ সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

যদি বের না হও, তবে তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তোমরা অভিযানে বাহির না হও, তবে তিনি তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করিবেন এবং তোমরা তাঁহার কোনই ক্ষতি করিতে পারিবে না। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

জহুরুল হক

তোমরা যদি তাঁকে সাহায্য না কর তবে তাঁকে ইতিপূর্বে সাহায্য করেছিলেন যখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তারা তাঁকে বের করে দিয়েছিল, দুই জনের দ্বিতীয় জন, যখন তাঁরা দুজন ছিলেন গুহার ভেতরে, যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলেছিলেন - - ''বিষন্ন হয়ো না, নিঃসন্দেহ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’’ অতঃপর তাঁর প্রশান্তি অবতারণ করেছিলেন তাঁর উপরে আর তাঁর বলবৃদ্ধি করেছিলেন এমন এক বাহিনী দিয়ে যাদের তোমরা দেখতে পাও নি, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তাদের কথাবার্তাকে হেয় করেছিলেন। আর ‌র বাণী - - তা হচ্ছে উচ্চতম। আর হচ্ছেন মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তোমরা তাহাকে সাহায্য না কর, তবে তো তাহাকে সাহায্য করিয়াছিলেন যখন কাফিররা তাহাকে বহিষ্কার করিয়াছিল এবং সে ছিল দুইজনের দ্বিতীয় জন, যখন তাহারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল ; সে তখন তাহার সঙ্গীকে বলিয়াছিল, ‘বিষন্ন হইও না, তো আমাদের সঙ্গে আছেন।’ অতঃপর তাঁহার উপর তাঁহার প্রশান্তি বর্ষণ করেন এবং তাহাকে শক্তিশালী করেন এমন এক সৈন্যবাহিনী দ্বারা যাহা তোমরা দেখ নাই; এবং তিনি কাফিরদের কথা হেয় করেন। ‌র কথাই সর্বোপরি এবং পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

বেরিয়ে পড় হাল্কাভাবে ও ভারী হয়ে আর তোমাদের ধনসম্পদ ও তোমাদের জানপ্রাণ দিয়ে ‌র পথে সংগ্রাম করো। এটিই তোমাদের জন্য ভালো যদি তোমরা জানতে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অভিযানে বাহির হইয়া পড়, হালকা অবস্থায় হউক অথবা ভারি অবস্থায়, এবং সংগ্রাম কর ‌র পথে তোমাদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা। উহাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানিতে !

জহুরুল হক

যদি এটি হতো আশু লাভের ব্যাপার ও হাল্কা সফর তবে তারা নিশ্চয়ই তোমাকে অনুসরণ করতো, কিন্তু দুর্গম - পথ তাদের কাছে সুদীর্ঘ মনে হলো। আর তারা ‌র নামে হলফ করে বললে - - ''আমরা যদি পারতাম তবে নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে আমরাও বের হতাম।’’ তারা তাদের নিজেদেরই ধ্বংস সাধন করছে, আর জানেন যে তারা আলবৎ ডাহা মিথ্যাবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত হতো, তবে তারা অবশ্যই আপনার সহযাত্রী হতো, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। আর তারা এমনই শপথ করে বলবে, আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিনষ্ট করছে, আর জানেন যে, এরা মিথ্যাবাদী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আশু সম্পদ লাভের সম্ভাবনা থাকিলে ও সফর সহজ হইলে উহারা নিশ্চয়ই তোমার অনুসরণ করিত; কিন্তু উহাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হইল। উহারা অচিরেই ‌র নামে শপথ করিয়া বলিবে, ‘পারিলে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে বাহির হইতাম।’ উহারা নিজেদেরকেই ধ্বংস করে। জানেন উহারা অবশ্যই মিথ্যাচারী।

জহুরুল হক

তোমাকে ক্ষমা করুন! কেন তুমি তাদের অব্যাহতি দিলে যে পর্যন্ত না তোমার কাছে সুস্পষ্ট হয়েছিল যে কারা সত্যকথা বলছে, আর তুমি জানতে পেরেছিলে মিথ্যাবাদীদের?

মুহিউদ্দীন খান

আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কেন তাদের অব্যাহতি দিলেন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত সত্যবাদীরা এবং জেনে নিতেন মিথ্যাবাদীদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাকে ক্ষমা করিয়াছেন। কাহারা সত্যবাদী তাহা তোমার নিকট স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং কাহারা মিথ্যাবাদী তাহা না পর্যন্ত তুমি কেন উহাদেরকে অব্যাহতি দিলে ?

জহুরুল হক

যারা ‌তেও ও আখেরাতের দিনে আস্থা রাখে তারা তোমার কাছে অনুমতি চায় না তাদের ধনসম্পদ ও তাদের জানপ্রাণ দিয়ে সংগ্রাম করা থেকে। আর ধর্মপরায়ণদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞাতা।

মুহিউদ্দীন খান

ও রোজ কেয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা মাল ও জান দ্বারা জেহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আর ভাল জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আল্লাহে ও শেষ দিবসে ঈমান আনে তাহারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা জিহাদে অব্যাহতি পাইবার প্রার্থনা তোমার নিকট করে না। মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

জহুরুল হক

তোমার নিকট অনুমতি চায় কেবল ওরাই যারা ‌তে ও শেষদিনে ঈমান আনে না, আর তাদের হৃদয় দ্বিধাগ্রস্ত। কাজেই তাদের সন্দেহের মধ্যেই তারা দোল খাচ্ছে।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে তারাই আপনার কাছে অব্যাহতি চায়, যারা ও রোজ কেয়ামতে ঈমান রাখে না এবং তাদের অন্তর সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, সুতরাং সন্দেহের আবর্তে তারা ঘুরপাক খেয়ে চলেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে কেবল উহারাই যাহারা ও শেষ দিবসে ঈমান আনে না এবং যাহাদের চিত্ত সংশয়যুক্ত। উহারা তো আপন সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।

জহুরুল হক

আর তারা যদি যাত্রা করবার ইচ্ছা করতো তবে তারা নিশ্চয়ই তার জন্য যোগাড়যন্ত্র যোগাড় করতো, কিন্তু অনিচ্ছুক তাদের গমনে, তাই তাদের তিনি ঠেকিয়ে রেখেছেন, আর বলা হলো - - ''বসে থাকো বসে - থাকা লোকদের সাথে।’’

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করতো। কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়, তাই তাদের নিবৃত রাখলেন এবং আদেশ হল বসা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বাহির হইতে চাহিলে উহারা নিশ্চয়ই ইহার জন্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা করিত, কিন্তু উহাদের অভিযাত্রা ‌র মনঃপূত ছিল না। সুতরাং তিনি উহাদেরকে বিরত রাখেন এবং উহাদেরকে বলা হয়, ‘যাহারা বসিয়া আছে তাহাদের সঙ্গে বসিয়া থাক।’

জহুরুল হক

তারা যদি তোমাদের সঙ্গে বের হত তবে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ছাড়া তোমাদের আর কিছুই বাড়াতো না, আর তারা নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে ছুটোছুটি করতো তোমাদের মধ্যে বিদ্রোহ কামনা ক’রে, আর তোমাদের মধ্যে ওদের কথা শোনবার লোক রয়েছে। আর অত্যাচারীদের সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমাদের সাথে তারা বের হত, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করতো না, আর অশ্ব ছুটাতো তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুতঃ যালিমদের ভালভাবেই জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তোমাদের সঙ্গে বাহির হইলে তোমাদের বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করিত এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যে ছুটাছুটি করিত। তোমাদের মধ্যে উহাদের জন্য কথা শুনিবার লোক আছে। জালিমদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

জহুরুল হক

তারা বাস্তবিকই ইতিপূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, আর তারা তোমার জন্য কাজকর্ম পন্ড করতে যাচ্ছিল, যতক্ষণ না সত্য এসেছিল ও ‌র আদেশ প্রকাশ পেলো, যদিও তারা অনিচ্ছুক ছিল।

মুহিউদ্দীন খান

তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা - পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পূর্বেও উহারা ফিত্‌না সৃষ্টি করিতে চাহিয়াছিল এবং উহারা তোমার বহু কর্মে উলট - পালট করিয়াছিল যতক্ষণ না উহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য আসিল এবং ‌র আদেশ বিজয়ী হইল।

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে এমন আছে যে বলে - - ''আমাকে ছেড়ে দাও এবং আমাকে সমস্যায় ফেলো না।’’ তারা কি সমস্যায় পড়ে যায় নি? আর নিঃসন্দেহ জাহান্নাম অবিশ্বাসীদের ঘেরাও করেই রয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শোনে রাখ, তারা তো পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহাদের মধ্যে এমন লোক আছে যে বলে, ‘আমাকে অব্যাহতি দাও এবং আমাকে ফিত্‌নায় ফেলিও না।’ সাবধান! উহারাই ফিত্‌নাতে পড়িয়া আছে। জাহান্নাম তো কাফিরদেরকে বেষ্টন করিয়াই আছে।

জহুরুল হক

যদি তোমার উপরে ভালো কিছু ঘটে তবে তা তাদের দুঃখ দেয়, আর যদি তোমার কোনো বিপদ ঘটে তারা বলে - - ''আমরা তো আমাদের ব্যাপার আগেই গুটিয়ে নিয়েছিলাম’’, আর তারা ফিরে যায় এবং তারা উৎফুল্লচিত্ত হয়।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার কোন কল্যাণ হলে তারা মন্দবোধ করে এবং কোন বিপদ উপস্থিত হলে তারা বলে, আমরা পূর্ব থেকেই নিজেদের কাজ সামলে নিয়েছি এবং ফিরে যায় উল্লসিত মনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার মঙ্গল হইলে তাহা উহাদেরকে পীড়া দেয় এবং তোমার বিপদ ঘটিলে উহারা বলে, ‘আমরা তো পূর্বাহ্ণেই আমাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করিয়াছিলাম’ এবং উহারা উৎফুল্লচিত্তে সরিয়া পড়ে।

জহুরুল হক

বলো - - '' আমাদের জন্য যা বিধান করেছেন তা ব্যতীত কিছুই আমাদের উপরে কখনো ঘটবে না। তিনিই আমাদের রক্ষক, আর ‌র উপরেই তবে মুমিনরা নির্ভর করুক।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছবে না, কিন্তু যা আমাদের জন্য রেখেছেন; তিনি আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমাদের জন্য যাহা নির্দিষ্ট করিয়াছেন তাহা ব্যতীত আমাদের অন্য কিছু হইবে না; তিনি আমাদের কর্মবিধায়ক এবং ‌র উপরই মু’মিনদের নির্ভর করা উচিত।’

জহুরুল হক

বলে যাও - - ''তোমরা আমাদের জন্য দুটি কল্যাণের কোনো একটি ছাড়া আর কিসের প্রতীক্ষা করতে পারো? আর আমরা তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করছি যে তোমাদের শাস্তি হানবেন তাঁর তরফ থেকে অথবা আমাদের হাতে। অতএব প্রতীক্ষা করো, আমরাও অবশ্যই তোমাদের সাথে প্রতীক্ষমাণ।’’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা আমাদের দুইটি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষা করিতেছ এবং আমরা প্রতীক্ষা করিতেছি, তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন সরাসরি নিজ পক্ষ হইতে অথবা আমাদের হস্ত দ্বারা। অতএব তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।'

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে খরচ করো অথবা অনিচ্ছা - কৃতভাবে, তোমাদের কাছ থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না। নিঃসন্দেহ তোমরা হচ্ছো একটি দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়।’’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুন, তোমরা ইচ্ছায় অর্থ ব্যয় কর বা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল হবে না, তোমরা নাফরমানের দল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা স্বেচ্ছায় ব্যয় কর অথবা অনিচ্ছায়, তোমাদের নিকট হইতে তাহা কিছুতেই গৃহীত হইবে না ; তোমরা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।’

জহুরুল হক

আর তাদের খরচপত্র তাদের কাছ থেকে কবুল হতে তাদের জন্য কোনো বাধা ছিল না শুধু এজন্য ছাড়া যে তারা ‌তে ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে। আর তারা নামাযে আসে না তাদের গড়িমসি করা অবস্থা ছাড়া, আর তারা খরচ করে না তাদের অনিচ্ছার ভাব ছাড়া।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অর্থ ব্যয় কবুল না হওয়ার এছাড়া আর কোন কারণ নেই যে, তারা ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাসী, তারা নামাযে আসে অলসতার সাথে ব্যয় করে সঙ্কুচিত মনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের অর্থসাহায্য গ্রহণ করা নিষেধ করা হইয়াছে এইজন্য যে, উহারা ও তাঁহার রাসূলকে অস্বীকার করে, সালাতে শৈথিল্যের সঙ্গে উপস্থিত হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে অর্থ সাহায্য করে।

জহুরুল হক

তাদের ধনদৌলত তোমাকে যেন তাজ্জব না করে আর তাদের সন্তানসন্ততিও না। আলবৎ চান এ - সবের দ্বারা পার্থিব জীবনে তাদের শাস্তি দিতে; আর তাদের প্রাণ ত্যাগ করে যায় তাদের অবিশ্বাসী থাকা অবস্থায়।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হল এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আযাবে নিপতিত রাখা এবং প্রাণবিয়োগ হওয়া অবস্থায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং উহাদের সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি তোমাকে যেন বিমুগ্ধ না করে, তো উহার দ্বারাই উহাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান। উহারা থাকা অবস্থায় উহাদের আত্মা দেহ ত্যাগ করিবে।

জহুরুল হক

আর তারা ‌র নামে হলফ করে যে তারা নিঃসন্দেহ তোমাদেরই মধ্যেকার। কিন্তু তারা তোমাদের মধ্যেকার নয়, বস্তুতঃ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা কাপুরুষ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়, অবশ্য তারা তোমাদের ভয় করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ‌র নামে শপথ করে যে, উহারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু উহারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বস্তুত উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহারা ভয় করিয়া থাকে।

জহুরুল হক

তারা যদি পেতো কোনো আশ্রয়স্থল বা কোনো গুহাগহ্বর অথবা কোনো প্রবেশ করার জায়গা, - - তারা নিশ্চয়ই সেখানে চলে যেত দ্রতগতিতে পলায়নপর হয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গুহা বা মাথা গোঁজার ঠাই পেলে সেদিকে পলায়ন করবে দ্রুতগতিতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গিরিগুহা অথবা কোন প্রবেশস্থল পাইলে উহার দিকে পলায়ন করিবে ক্ষিপ্রগতিতে।

জহুরুল হক

আর ওদের মধ্যে এমনও আছে যে তোমাকে দোষারোপ করে দানের ব্যাপারে। অতঃপর তাদের যদি এ থেকে দেয়া হয় তবে তারা খুশী হয়, কিন্তু যদি তাদের এ থেকে দেয়া না হয় তো দেখো! - - তারা রাগ করে!

মুহিউদ্দীন খান

তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা সদকা বন্টনে আপনাকে দোষারূপ করে। এর থেকে কিছু পেলে সন্তুষ্ট হয় এবং না পেলে বিক্ষুব্ধ হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যে সাদাকা বণ্টন সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে ; অতঃপর ইহার কিছু উহাদেরকে দেওয়া হইলে উহারা পরিতুষ্ট হয়, আর ইহার কিছু উহাদেরকে না দেওয়া হইলে তৎক্ষণাৎ উহারা বিক্ষুব্ধ হয়।

জহুরুল হক

আর ওরা যদি সন্তষ্ট থাকতো ও তাঁর রসূল ওদের যা দিয়েছেন তাতে, আর বলতো - - ''‌ই আমাদের জন্য যথেষ্ট, - - শীঘ্রই তাঁর করুণাভান্ডার থেকে আমাদের দেবেন আর তাঁর রসূলও, নিঃসন্দেহ ‌র কাছেই আমরা আসক্ত’’।

মুহিউদ্দীন খান

কতই না ভাল হত, যদি তারা সন্তুষ্ট হত ও তার রসূলের উপর এবং বলত, আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, আমাদের দেবেন নিজ করুণায় এবং তাঁর রসূলও, আমরা শুধু আল্লাহকেই কামনা করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ভাল হইত যদি উহারা ও তাঁহার রাসূল উহাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহাতে পরিতুষ্ট হইত এবং বলিত, ‘আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট, অচিরেই আমাদেরকে দিবেন নিজ করুণায় এবং তাঁহার রাসূলও; আমরা ‌রই প্রতি অনুরক্ত।’

জহুরুল হক

দান তো কেবল অক্ষমদের জন্য, আর অভাবগ্রস্তদের, আর এর জন্য নিযুক্ত কর্মচারীদের, আর যাদের হৃদয় ঝোঁকোনো হয় তাদের, আর দাস - মুক্তির, আর ঋণগ্রস্তদের, আর ‌র পথে, আর পর্যটকদের জন্য, - - ‌র তরফ থেকে এই বিধান। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস - মুক্তির জন্যে - ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সাদাকা তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাহাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাহাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের, ‌র পথে ও মুসাফিরদের জন্য। ইহা ‌র বিধান। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

আর ওদের এমনও আছে যারা নবীকে উত্ত্যক্ত করে আর বলে - - ''উনি তো কান দেন।’’ তুমি বলো - - ''কান দেন তোমাদের ভালোর জন্যে, তিনি ‌তে বিশ্বাস করেন আর বিশ্বাস করেন মুমিনদের, আর তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে তাদের জন্য তিনি করুণা।’’ আর যারা ‌র রসূলকে উত্ত্যক্ত ক’রে তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবীকে ক্লেশ দেয়, এবং বলে, এ লোকটি তো কানসর্বস্ব। আপনি বলে দিন, কান হলেও তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং বিশ্বাস রাখে মুসলমানদের কথার উপর। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা তাদের জন্য তিনি রহমতবিশেষ। আর যারা আল্লাহর রসূলের প্রতি কুৎসা রটনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহাদের মধ্যে এমনও লোক আছে যাহারা নবীকে ক্লেশ দেয় এবং বলে, ‘সে তো কর্ণপাতকারী।’ বল, ‘তাহার কান তোমাদের জন্য যাহা মঙ্গল তাহাই শুনে।’ সে আল্লাহে ঈমান আনে এবং মু’মিনদেরকে বিশ্বাস করে ; তোমাদের মধ্যে যাহারা সে তাহাদের জন্য রহমত এবং যাহারা ‌র রাসূলকে ক্লেশ দেয় তাহাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

জহুরুল হক

তারা তোমাদের কাছে ‌র নামে হলফ করে যেন তারা তোমাদের খুশী করতে পারে, অথচ ও তাঁর রসূলের বেশী অধিকার আছে যেন তারা তাঁকে রাজী করে, যদি তারা হয়।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের সামনে আল্লাহর কসম খায় যাতে তোমাদের রাযী করতে পারে। অবশ্য তারা যদি হয়ে থাকে, তবে আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে রাযী করা অত্যন্ত জরুরী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য তোমাদের নিকট ‌র শপথ করে। ও তাঁহার রাসূল ইহারই অধিক হকদার যে, উহারা তাহাদেরকেই সন্তুষ্ট করে, যদি উহারা হয়।

জহুরুল হক

তারা কি জানে না যে যে - কেউ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে কাজ করে তার জন্য তবে রয়েছে জাহান্নামের আগুন তাতে অবস্থানের জন্যে? ঐটিই তো চরম লাঞ্ছনা।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময় থাকবে। এটিই হল মহা - অপমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি জানে না, যে ব্যক্তি ও তাঁহার রাসূলের বিরোধিতা করে তাহার জন্য তো আছে জাহান্নামের অগ্নি, যেখানে সে স্থায়ী হইবে ? উহাই চরম লাঞ্ছনা।

জহুরুল হক

মুনাফিকরা ভয় করে পাছে তাদের সংক্রান্তে এমন কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়ে যায় যা ওদের অন্তরে যা - কিছু আছে তা তাদের ব্যক্ত করে দেবে! বলো - - ''বিদ্রূপ ক’রে যাও, নিঃসন্দেহ বের করে আনবেন তোমরা যা ভয় করো তা।’’

মুহিউদ্দীন খান

মুনাফেকরা এ ব্যাপারে ভয় করে যে, মুসলমানদের উপর না এমন কোন সূরা নাযিল হয়, যাতে তাদের অন্তরের গোপন বিষয় অবহিত করা হবে। সুতরাং আপনি বলে দিন, ঠাট্টা - বিদ্রপ করতে থাক; তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন যার ব্যাপারে তোমরা ভয় করছ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুনাফিকেরা ভয় করে, তাহাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা না অবতীর্ণ হয়, যাহা উহাদের অন্তরের কথা ব্যক্ত করিয়া দিবে ! বল, ‘বিদ্রূপ করিতে থাক ; তোমরা যাহা ভয় কর তাহা প্রকাশ করিয়া দিবেন।’

জহুরুল হক

আর তুমি যদি ওদের প্রশ্ন করো ওরা নিশ্চয়ই বলবে - - ''আমরা তো শুধু আলাপ - আলোচনা ও ক্রীড়া - কৌতুক করছিলাম।’’ বলো - - ''তোমরা কি ও তাঁর বাণীসমূহ ও তাঁর রসূলকে নিয়ে মস্করা করছিলে?’’

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তুমি উহাদেরকে প্রশ্ন করিলে উহারা নিশ্চয়ই বলিবে, ‘আমরা তো আলাপ - আলোচনা ও ক্রীড়া - কৌতুক করিতেছিলাম।’ বল, ‘তোমরা কি , তাঁহার নিদর্শন ও তাঁহার রাসূলকে বিদ্রূপ করিতেছিলে ?’

জহুরুল হক

অজুহাত দেখিও না, তোমরা আলবৎ অবিশ্বাস করেছ তোমাদের বিশ্বাস স্থাপনের পরে। যদি আমরা ক্ষমা করি তোমাদের মধ্যের কোনো এক দলকে, অন্য এক দলকে শাস্তিও দেবো, কেননা তারা নিশ্চয়ই অপরাধী।

মুহিউদ্দীন খান

ছলনা কর না, তোমরা যে হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা দোষ স্খালনের চেষ্টা করিও না। তোমরা তো ঈমান আনার পর করিয়াছ। তোমাদের মধ্যে কোন দলকে ক্ষমা করিলেও অন্য দলকে শাস্তি দিব - কারণ তাহারা অপরাধী।’

জহুরুল হক

মুনাফিক পুরুষরা ও মুনাফিক নারীরা - - তাদের কতকজন অপর কতকজনের মধ্যেকার। তারা অসৎ কাজের নির্দেশ দেয় আর সৎকাজে নিষেধ করে, আর তারা নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয়। তারা ‌কে ভুলে গেছে, তাই তিনিও তাদের ভুলে গেছেন। নিঃসন্দেহ মুনাফিকরা নিজেরাই দুষ্কৃতিকারী।

মুহিউদ্দীন খান

মুনাফেক নর - নারী সবারই গতিবিধি একরকম; শিখায় মন্দ কথা, ভাল কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে ভুলে গেছে তার, কাজেই তিনিও তাদের ভূলে গেছেন নিঃসন্দেহে মুনাফেকরাই নাফরমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুনাফিক নর ও মুনাফিক নারী একে অপরের অনুরূপ, উহারা অসৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং সৎকর্ম নিষেধ করে, উহারা হাতবদ্ধ করিয়া রাখে, উহারা ‌কে বিস্মৃত হইয়াছে, ফলে তিনিও উহাদেরকে বিস্মৃত হইয়াছেন; মুনাফিকেরা তো পাপাচারী।

জহুরুল হক

মুনাফিক পুরুষদের ও মুনাফিক নারীদের ও অবিশ্বাসীদের জন্য ওয়াদা করেছেন জাহান্নামের আগুন, তাতে তারা অবস্থান করবে। তাই তাদের জন্য পর্যাপ্ত, আর তাদের ধিক্কার দিয়েছেন, আর তাদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত শাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

ওয়াদা করেছেন , মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের - তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুনাফিক নর, মুনাফিক নারী ও কাফিরদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন জাহান্নামের অগ্নির, যেখানে উহারা স্থায়ী হইবে, ইহাই উহাদের জন্য যথেষ্ট এবং উহাদেরকে লা‘নত করিয়াছেন এবং উহাদের জন্য রহিয়াছে স্থায়ী শাস্তি;

জহুরুল হক

তাদের মতো যারা ছিল তোমাদের পূর্ববর্তীকালে, - - তারা ছিল তোমাদের চাইতে বল - বিক্রমে বেশী প্রবল আর ধন - সম্পদে ও সন্তান সন্ততিতে বেশী সমৃদ্ধ। কাজেই তারা তাদের ভাগ ভোগ করে গেছে, অতএব তোমরাও তোমাদের ভাগ ভোগ করছো, যেমন ওরা যারা তোমাদের পূর্ববর্তী ছিল তারা ভোগ করেছিল তাদের ভাগ, আর তোমরাও বৃথা - বাক্যালাপ করছো যেমন তারা অনর্থক খোশ - গল্প করেছিল। এরাই - - এদের ক্রিয়াকলাপ ব্যর্থ হয়েছে ইহকালে ও পরকালে, আর এরা নিজেরাই হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তোমাদের চেয়ে বেশী ছিল শক্তিতে এবং ধন - সম্পদের ও সন্তান - সন্ততির অধিকারীও ছিল বেশী; অতঃপর উপকৃত হয়েছে নিজেদের ভাগের দ্বারা আবার তোমরা ফায়দা উঠিয়েছ তোমাদের ভাগের দ্বারা - যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীরা ফায়দা উঠিয়েছিল নিজেদের ভাগের দ্বারা। আর তোমরাও বলছ তাদেরই চলন অনুযায়ী। তারা ছিল সে লোক, যাদের আমলসমূহ নিঃশেষিত হয়ে গেছে দুনিয়া ও আখেরাতে। আর তারাই হয়েছে ক্ষতির সম্মুখীন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরাও তোমাদের পূর্ববর্তীদের মত যাহারা শক্তিতে তোমাদের অপেক্ষা প্রবল ছিল এবং যাহাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি ছিল তোমাদের অপেক্ষা অধিক, এবং উহারা উহাদের ভাগ্যে যাহা ছিল তাহা ভোগ করিয়াছে ; তোমাদের ভাগ্যে যাহা ছিল তোমরাও তাহা ভোগ করিলে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা উহাদের ভাগ্যে যাহা ছিল তাহা ভোগ করিয়াছে। উহারা যেইরূপ অনর্থক আলাপ - আলোচনায় লিপ্ত ছিল তোমরাও সেইরূপ আলাপ - আলোচনায় লিপ্ত রহিয়াছ। উহারাই তাহারা যাহাদের কর্ম দুনিয়া ও আখিরাতে ব্যর্থ এবং উহারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

তাদের কাছে কি তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের সংবাদ আসে নি - - নূহ্‌ - এর লোকদের ও 'আদ - এর ও ছামূদের, আর ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের ও মাদয়ানের বাসিন্দাদের ও বিধবস্ত শহরগুলোর? ওদের কাছে ওদের রসূলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে। কাজেই তো ওদের উপরে অবিচার করার জন্য নন, কিন্তু ওরা ওদের নিজেদেরই প্রতি জুলুম করেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের সংবাদ কি এদের কানে এসে পৌঁছায়নি, যারা ছিল তাদের পূর্বে; নূহের আ’দের ও সামুদের সম্প্রদায় এবং ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এবং মাদইয়ানবাসীদের? এবং সেসব জনপদের যেগুলোকে উল্টে দেয়া হয়েছিল? তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের নবী পরিষ্কার নির্দেশ নিয়ে। বস্তুতঃ তো এমন ছিলেন না যে, তাদের উপর জুলুম করতেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করতো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের পূর্ববর্তী নূহ্, ‘আদ ও সামূদের সম্প্রদায়, ইব্‌রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদ্ইয়ান ও বিধ্বস্ত নগরের অধিবাসীদের সংবাদ কি উহাদের নিকট আসে নাই ? উহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসহ উহাদের রাসূলগণ আসিয়াছিল। এমন নন যে, তাহাদের উপর জুলুম করেন, কিন্তু উহারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।

জহুরুল হক

আর পুরুষরা ও নারীরা - - তাদের কতকজন অপর কতকজনের বন্ধু। তারা ভালো কাজের নির্দেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, আর তারা কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, আর তারা ও তাঁর রসূলকে অনুসরণ করে। এরা - - শীঘ্রই এদের করুণা করবেন। নিঃসন্দেহ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আর পুরুষ ও নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নর ও নারী একে অপরের বন্ধু, ইহারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ নিষেধ করে, কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করে; ইহাদেরকেই কৃপা করিবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

পুরুষদের ও বিশ্বাসিনী নারীদের ওয়াদা করেছেন স্বর্গোদ্যানসমূহ যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, তারা তাতে অবস্থান করবে, আর পুণ্য বাসস্থানসমূহ ইডেন গার্ডেনে। আর ‌র সন্তষ্টিই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ। এটি - - এই - ই হচ্ছে চরম সাফল্য।

মুহিউদ্দীন খান

পুরুষ ও নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কানন - কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সে গুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কানন - কুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুতঃ এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নর ও নারীকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন জান্নাতের - যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং স্থায়ী জান্নাতে উত্তম বাসস্থানের। ‌র সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং উহাই মহাসাফল্য।

জহুরুল হক

হে প্রিয় নবী! অবিশ্বাসীদের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো, আর তাদের প্রতি কঠোর হও। আর তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। আর মন্দ সেই গন্তব্যস্থান।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে নবী ! ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর ও উহাদের প্রতি কঠোর হও; উহাদের আবাসস্থল জাহান্নাম, উহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!

জহুরুল হক

তারা ‌র নামে হলফ করে যে তারা কিছু বলে নি, অথচ তারা নিশ্চয়ই অবিশ্বাসের কথা বলেছিল, আর অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তাদের ইসলাম গ্রহণের পরে, আর তারা মতলব করেছিল যা তারা পেরে ওঠে নি, আর তারা উত্তেজনা বোধ করে নি এ ভিন্ন যে ও তাঁর রসূল তাদের সমৃদ্ধ করেছেন তাঁর প্রাচুর্য থেকে। কাজেই যদি তারা তওবা করে তবে সেটি তাদের জন্য হবে ভালো, আর যদি তারা ফিরে যায় তবে তাদের শাস্তি দেবেন মর্মন্তুদ শাস্তিতে - - এই দুনিয়াতে ও পরকালে। আর তাদের জন্য এই পৃথিবীতে থাকবে না কোনো বন্ধুবান্ধব, না কোনো সাহায্যকারী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কসম খায় যে, আমরা বলিনি, অথচ নিঃসন্দেহে তারা বলেছে বাক্য এবং মুসলমান হবার পর অস্বীকৃতিজ্ঞাপনকারী হয়েছে। আর তারা কামনা করেছিল এমন বস্তুর যা তারা প্রাপ্ত হয়নি। আর এসব তারই পরিণতি ছিল যে, ও তাঁর রসূল তাদেরকে সম্পদশালী করে দিয়েছিলেন নিজের অনুগ্রহের মাধ্যমে। বস্তুতঃ এরা যদি তওবা করে নেয়, তবে তাদের জন্য মঙ্গল। আর যদি তা না মানে, তবে তাদের কে আযাব দেবেন তা’আলা, বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া ও আখেরাতে। অতএব, বিশ্বচরাচরে তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী - সমর্থক নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ‌র শপথ করে যে, উহারা কিছু বলে নাই ; কিন্তু উহারা তো কুফরীর কথা বলিয়াছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর উহারা হইয়াছে ; উহারা যাহা সংকল্প করিয়াছিল তাহা পায় নাই। ও তাঁহার রাসূল নিজ কৃপায় উহাদেরকে অভাবমুক্ত করিয়াছিলেন বলিয়াই উহারা বিরোধিতা করিয়াছিল। উহারা তওবা করিলে উহাদের জন্য ভাল হইবে, কিন্তু উহারা মুখ ফিরাইয়া লইলে দুনিয়ায় ও আখিরাতে উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন; পৃথিবীতে উহাদের কোন অভিাভাবক নাই এবং কোন সাহায্যকারীও নাই।

জহুরুল হক

আর ওদের মধ্যে কেউ - কেউ ‌র কাছে অঙ্গীকার করেছিল - - ''তিনি যদি তাঁর করুণাভান্ডার থেকে আমাদের দান করেন তবে আমরা নিশ্চয়ই সদকা - খয়রাত করবো আর আমরা অবশ্যই হবো সৎকর্মীদের মধ্যেকার।’’

মুহিউদ্দীন খান

তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছে যারা তা’আলার সাথে ওয়াদা করেছিল যে, তিনি যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেন, তবে অবশ্যই আমরা ব্যয় করব এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের মধ্যে কেহ কেহ ‌র নিকট অঙ্গীকার করিয়াছিল, ‘ নিজ কৃপায় আমাদেরকে দান করিলে আমরা নিশ্চয়ই সাদাকা দিব এবং অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

জহুরুল হক

কিন্তু যখন তিনি তাদের দিলেন তাঁর করুণাভান্ডার থেকে, তারা এতে কার্পণ্য করলো ও ফিরে গেল আর তারা হলো বিমুখ।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহের মাধ্যমে দান করা হয়, তখন তাতে কার্পণ্য করেছে এবং কৃত ওয়াদা থেকে ফিরে গেছে তা ভেঙ্গে দিয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন তিনি নিজ কৃপায় উহাদেরকে দান করিলেন, তখন উহারা এই বিষয়ে কার্পণ্য করিল এবং বিরুদ্ধভাবাপন্ন হইয়া মুখ ফিরাইল।

জহুরুল হক

সুতরাং তিনি তাদের অন্তরে মুনাফিকি ন্যস্ত করেছেন সেদিন পর্যন্ত যেদিন তারা তাঁর সাথে মিলিত হবে, কেননা তারা ‌র কাছে ভঙ্গ করেছিল যা তাঁর কাছে তারা ওয়াদা করেছিল, আর যেহেতু তারা মিথ্যাকথা বললো।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তার তাঁর সাথে গিয়ে মিলবে। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লংঘন করেছিল এবং এজন্যে যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরিণামে তিনি উহাদের অন্তরে কপটতা স্থিত করিলেন, ‌র সঙ্গে উহাদের সাক্ষাৎ - দিবস পর্যন্ত, কারণ উহারা ‌র নিকট যে অঙ্গীকার করিয়াছিল উহা ভঙ্গ করিয়াছিল; কারণ উহারা ছিল মিথ্যাচারী।

জহুরুল হক

তারা কি জানে না যে অবশ্যই জানেন তাদের লুকোনো ও তাদের সলাপরামর্শ, আর নিঃসন্দেহ ব্যাপারগুলো সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি জেনে নেয়নি যে, তাদের রহস্য ও শলা - পরামর্শ সম্পর্কে অবগত এবং খুব ভাল করেই জানেন সমস্ত গোপন বিষয় ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি জানিত না যে, উহাদের অন্তরের গোপন কথা ও উহাদের গোপন পরামর্শ অবশ্যই জানেন এবং যাহা তাহাও তিনি বিশেষভাবে জানেন ?

জহুরুল হক

যারা বিদ্রূপ করে মুমিনদের মধ্যের তাদের যারা দানদক্ষিণায় বদান্য আর তাদের যারা কিছুই পায় না নিজেদের কায়িক শ্রম ব্যতীত, অথচ এদের তারা অবজ্ঞা করে, - - তাদের অবজ্ঞা করবেন, আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

সে সমস্ত লোক যারা ভৎর্সনা - বিদ্রূপ করে সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা মন খুলে দান - খয়রাত করে এবং তাদের প্রতি যাদের কিছুই নেই শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমলব্দ বস্তু ছাড়া। অতঃপর তাদের প্রতি ঠাট্টা করে। তাদের প্রতি ঠাট্টা করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিনদের মধ্যে যাহারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যাহারা নিজ শ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না, তাহাদেরকে যাহারা দোষারোপ করে ও বিদ্রূপ করে, উহাদেরকে বিদ্রূপ করেন, উহাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

জহুরুল হক

তুমি ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করো, - - তুমি যদি ওদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা করো কখনো ওদের ক্ষমা করবেন না। এটি এইজন্য যে তারা ‌তে ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে। আর দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তথাপি কখনোই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ না - ফারমানদেরকে পথ দেখান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা; তুমি সত্তর বার উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিলেও উহাদেরকে কখনই ক্ষমা করিবেন না। ইহা এইজন্য যে, উহারা ও তাঁহার রাসূলের সঙ্গে করিয়াছে। পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।

জহুরুল হক

যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তারা ‌র রসূলের পশ্চাতে তাদের বসে থাকাতেই আনন্দবোধ করলো, আর তাদের ধনদৌলত ও তাদের জানপ্রাণ দিয়ে ‌র পথে সংগ্রাম করতে তারা বিমুখ ছিল, আর তারা বলেছিল - - ''এই গরমের মধ্যে বেরিয়ো না।’’ তুমি বলো - - ''জাহান্নামের আগুন আরো বেশী গরম।’’ যদি তারা বুঝতে পারতো!

মুহিউদ্দীন খান

পেছনে থেকে যাওয়া লোকেরা আল্লাহর রসূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসে থাকতে পেরে আনন্দ লাভ করেছে; আর জান ও মালের দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করতে অপছন্দ করেছে এবং বলেছে, এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। বলে দাও, উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচন্ডতম। যদি তাদের বিবেচনা শক্তি থাকত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গেল তাহারা ‌র রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করিয়া বসিয়া থাকাতেই আনন্দবোধ করিল এবং তাহাদের ধন - সম্পদ ও জীবন দ্বারা ‌র পথে জিহাদ করা অপছন্দকরিল এবং তাহারা বলিল, ‘গরমের মধ্যে অভিযানে বাহির হইও না।’ বল, ‘উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচণ্ডতম’, যদি তাহারা বুঝিত!

জহুরুল হক

অতএব তারা কিছুটা হেসে নিক ও খুব ক’রে কাঁদুক, - - তারা যা অর্জন করছিল তার প্রতিফলস্বরূপ?

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তাহারা কিঞ্চিৎ হাসিয়া লউক, তাহারা প্রচুর কাঁদিবে, তাহাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ।

জহুরুল হক

কাজেই যদি তোমাকে ফিরিয়ে আনেন তাদের মধ্যের কোনো দলের নিকট, তারপর তারা যদি তোমার অনুমতি চায় বের হওয়ার জন্য তবে বলো - - ''তোমরা কোনো ক্রমেই আমার সাথে কখনো বেরুতে পারবে না, এবং তোমরা আমার সঙ্গী হয়ে কখনো কোনো শত্রুর বিরূদ্ধে লড়তে পারবে না। নিঃসন্দেহ তোমরা বসে থাকাতেই সন্তষ্ট ছিলে প্রথম বারে, অতএব বসে থাকো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের সঙ্গে।’’

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যদি তোমাকে তাদের মধ্য থেকে কোন শ্রেণীবিশেষের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং অতঃপর তারা তোমার কাছে অভিযানে বেরোবার অনুমতি কামনা করে, তবে তুমি বলো যে, তোমরা কখনো আমার সাথে বেরোবে না এবং আমার পক্ষ হয়ে কোন শত্রুর সাথে যুদ্ধ করবে না, তোমরা তো প্রথমবারে বসে থাকা পছন্দ করেছ, কাজেই পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথেই বসে থাক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তোমাকে উহাদের কোন দলের নিকট ফেরত আনেন এবং উহারা অভিযানে বাহির হইবার জন্য তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে, তখন তুমি বলিবে, ‘তোমরা তো আমার সঙ্গে কখনও বাহির হইবে না এবং তোমরা আমার সঙ্গী হইয়া কখনও শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করিবে না। তোমরা তো প্রথমবার বসিয়া থাকাই পছন্দকরিয়াছিলে ; সুতরাং যাহারা পিছনে থাকে তাহাদের সঙ্গে বসিয়াই থাক।’

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যের একজনের জন্যেও, সে মারা গেলে, তুমি কখনো পড়বে না, আর তার কবরের পাশেও দাঁড়াবে না। নিঃসন্দহে তারা ‌তে ও তাঁর রসূলে অবিশ্বাস করেছে, আর তারা মরেছে যখন তারা ছিল দুষ্কৃতিপরায়ণ।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা না ফরমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের মধ্যে কাহারও মৃত্যু হইলে তুমি কখনও উহার জন্য জানাযার পড়িবে না এবং উহার কবর - পার্শ্বে দাঁড়াইবে না ; উহারা তো ও তাঁহার রাসূলকে অস্বীকার করিয়াছিল এবং পাপাচারী অবস্থায় উহাদের মৃত্যু হইয়াছে।

জহুরুল হক

আর তাদের ধনসম্পত্তি ও তাদের সন্তানসন্ততি তোমাকে যেন তাজ্জব না করে। অবশ্যই চান এ - সবের দ্বারা পার্থিব জীবনে তাদের শাস্তি দিতে, আর যেন তাদের আ‌ত্মা চলে যায় ওদের অবিশ্বাসী থাকা অবস্থায়।

মুহিউদ্দীন খান

আর বিস্মিত হয়ো না তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান - সন্তুতির দরুন। তো এই চান যে, এ সবের কারণে তাদেরকে আযাবের ভেতরে রাখবেন দুনিয়ায় এবং তাদের প্রাণ নির্গত হওয়া পর্যন্ত যেন তারা কাফেরই থাকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং উহাদের সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি তোমাকে যেন বিমুগ্ধ না করে ; তো উহার দ্বারাই উহাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান ; উহারা থাকা অবস্থায় উহাদের আত্মা দেহত্যাগ করিবে।

জহুরুল হক

আর যখন কোনো সূরা অবতীর্ণ হয় এই মর্মে - - '‌র প্রতি ঈমান আনো ও তাঁর রসূলের সঙ্গী হয়ে সংগ্রাম করো’, তাদের মধ্যের শক্তি - সামর্থের অধিকারীরা তোমার কাছে অব্যাহতি চায় ও বলে - - ''আমাদের রেহাই দিন, আমরা বসে - থাকা - লোকদের সঙ্গে ই থাকবো।’’

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন নাযিল হয় কোন সূরা যে, তোমরা ঈমান আন আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের সাথে একাত্ন হয়ে; তখন বিদায় কামনা করে তাদের সামর্থ্যবান লোকেরা এবং বলে আমাদের অব্যাহতি দিন, যাতে আমরা (নিস্ক্রিয়ভাবে) বসে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পারি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আল্লাহর উপর ঈমান আন এবং রাসূলের সঙ্গী হইয়া জিহাদ কর’ - এই মর্মে যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয় তখন উহাদের মধ্যে যাহাদের শক্তি - সামর্থ্য আছে তাহারা তোমার নিকট অব্যাহতি চায় এবং বলে, ‘আমাদেরকে রেহাই দাও, যাহারা বসিয়া থাকে আমরা তাহাদের সঙ্গেই থাকিব।’

জহুরুল হক

তারা পেছনে - রয়ে - থাকাদের সাথে অবস্থান করাই পছন্দ করেছিল, আর তাদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, কাজেই তারা বুঝতে পারে না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পেরে আনন্দিত হয়েছে এবং মোহর এঁটে দেয়া হয়েছে তাদের অন্তরসমূহের উপর। বস্তুতঃ তারা বোঝে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সঙ্গে অবস্থান করাই পছন্দকরিয়াছে এবং উহাদের অন্তর মোহর করা হইয়াছে ; ফলে উহারা বুঝিতে পারে না।

জহুরুল হক

কিন্তু রসূল এবং যারা তাঁর সঙ্গে ঈমান এনেছে তারা সংগ্রাম করে তাদের ধনদৌলত ও তাদের জানপ্রাণ দিয়ে। আর এরাই - - এদের জন্যেই রয়েছে কল্যাণ, আর এরা নিজেরাই হচ্ছে ।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু রসূল এবং সেসব লোক যারা ঈমান এনেছে, তাঁর সাথে তারা যুদ্ধ করেছে নিজেদের জান ও মালের দ্বারা। তাদেরই জন্য নির্ধারিত রয়েছে কল্যাণসমূহ এবং তারাই মুক্তির লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু রাসূল এবং যাহারা তাহার সঙ্গে ঈমান আনিয়াছিল তাহারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা ‌র পথে জিহাদ করিয়াছে ; উহাদের জন্যই কল্যাণ আছে এবং উহারাই ।

জহুরুল হক

এদের জন্য প্রস্তুত করেছেন স্বর্গোদ্যানসমূহ, যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, তারা সেখানে থাকবে স্থায়ীভাবে। এটি হচ্ছে বিরাট সাফল্য।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছেন কানন - কুঞ্জ, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে প্রস্রবণ। তারা তাতে বাস করবে অনন্তকাল। এটাই হল বিরাট কৃতকার্যতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের জন্য প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন জান্নাত, যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে; ইহাই মহাসাফল্য।

জহুরুল হক

আর বেদুইনদের মধ্যের ওজর প্রদর্শনকারীরা এসেছিল যেন তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়, আর যারা ও তাঁর রসূলের কাছে মিথ্যাকথা বলেছিল তারা বসে রইল। তাদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের অচিরেই মর্মন্তুদ শাস্তি দেয়া হবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। এবার তাদের উপর শীগ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করিতে আসিল যেন ইহাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং যাহারা বসিয়া রহিল তাহারা ও তাঁহার রাসূলের সঙ্গে মিথ্যা বলিয়াছিল, উহাদের মধ্যে যাহারা করিয়াছে তাহাদের মর্মন্তুদ শাস্তি হইবেই।

জহুরুল হক

দুর্বলদের উপরে, কোনো দোষ হবে না, পীড়িতদের উপরেও না, ওদের উপরেও না যারা খুঁজে পায় না কি তারা খরচ করবে, যে পর্যন্ত তারা ও তাঁর রসূলের প্রতি অনুরাগ দেখাবে। সৎকর্মপরায়ণদের উপরে কোনো রাস্তা নেই। আর পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

দূর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে ও রসূলের সাথে। নেককারদের উপর অভিযোগের কোন পথ নেই। আর হচ্ছেন ক্ষমাকারী দয়ালু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা দুর্বল, যাহারা পীড়িত এবং যাহারা অর্থসাহায্যে অসমর্থ, তাহাদের কোন অপরাধ নাই, যদি ও রাসূলের প্রতি তাহাদের অবিমিশ্র অনুরাগ থাকে। যাহারা সৎকর্মপরায়ণ তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন হেতু নাই ; ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর ওদের উপরেও নেই যারা তোমার কাছে এসেছিল যেন তুমি তাদের জন্য বাহন যোগাড় করে দাও, তখন তুমি বলেছিল - - 'যার উপরে আমি তোমাদের বহন করব তা আমি পাচ্ছি না’, ওরা ফিরে গিয়েছিল আর ওদের চোখে অ‌শ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল তারা যা খরচ করতে চায় তা না পাওয়ার দুঃখে।

মুহিউদ্দীন খান

আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরও কোন অপরাধ নাই যাহারা তোমার নিকট বাহনের জন্য আসিলে তুমি বলিয়াছিলে, ‘তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাইতেছি না’; উহারা অর্থব্যয়ে অসামর্থ্যজনিত দুঃখে অশ্রুবিগলিত নেত্রে ফিরিয়া গেল।

জহুরুল হক

বস্তুতঃ পথ তাদেরই বিরুদ্ধে যারা তোমার কাছে অব্যাহতি চায় অথচ তারা বিত্তবান। তারা পেছনে রয়ে থাকাদের সাথে অবস্থানই পছন্দ করেছিল, আর তাদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দিয়েছেন, যেজন্য তারা বুঝতে পারে না।

মুহিউদ্দীন খান

অভিযোগের পথ তো তাদের ব্যাপারে রয়েছে, যারা তোমার নিকট অব্যাহতি কামনা করে অথচ তারা সম্পদশালী। যারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থাকতে পেরে আনন্দিত হয়েছে। আর মোহর এঁটে দিয়েছেন তাদের অন্তরসমূহে। বস্তুতঃ তারা জানতেও পারেনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা অভাবমুক্ত হইয়াও অব্যাহতি প্রার্থনা করিয়াছে, অবশ্যই উহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের হেতু আছে। উহারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সঙ্গে থাকাই পছন্দকরিয়াছিল ; উহাদের অন্তর মোহর করিয়া দিয়াছেন, ফলে উহারা বুঝিতে পারে না!

জহুরুল হক

তারা তোমাদের কাছে অজুহাত দেখাবে যে কেন তারা যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে। তুমি বলো - - ''অজুহাত পেশ করো না, আমরা কখনো তোমাদের বিশ্বাস করব না, ইতিমধ্যে তোমাদের খবরাখবর আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। আর ও তাঁর রসূল অবশ্যই তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করবেন, তারপর তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে ও দৃশ্য বস্তুর পরিজ্ঞাতার নিকটে, তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করে যাচ্ছিলে।’’

মুহিউদ্দীন খান

তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল - ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা উহাদের নিকট ফিরিয়া আসিলে উহারা তোমাদের নিকট অজুহাত পেশ করিবে। বলিও, ‘অজুহাত পেশ করিও না, আমরা তোমাদেরকে কখনও বিশ্বাস করিব না ; আমাদেরকে তোমাদের খবর জানাইয়া দিয়াছেন এবং অবশ্যই তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করিবেন এবং তাঁহার রাসূলও। অতঃপর যিনি ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা তাঁহার নিকট তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হইবে এবং তিনি তোমরা যাহা করিতে, তাহা তোমাদেরকে জানাইয়া দিবেন।’

জহুরুল হক

তোমরা তাদের কাছে সঙ্গে - সঙ্গে ‌র নামে তোমাদের কাছে শপথ করবে যেন তাদের তোমরা উপেক্ষা করো। কাজেই তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে। নিঃসন্দেহ তারা ঘৃণ্য, আর তাদের আশ্রয়স্থল হচ্ছে জাহান্নাম - - তারা যা কর ছিল এ তারই প্রতিদান!

মুহিউদ্দীন খান

এখন তারা তোমার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন তুমি তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা কর - নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা উহাদের নিকট ফিরিয়া আসিলে অচিরেই উহারা ‌র শপথ করিবে যাহাতে তোমরা উহাদের উপেক্ষা কর। সুতরাং তোমরা উহাদেরকে উপেক্ষা করিবে; উহারা অপবিত্র এবং উহাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ জাহান্নাম উহাদের আবাসস্থল।

জহুরুল হক

তারা তোমাদের কাছে হলফ করবে যেন তোমরা তাদের প্রতি সন্তষ্ট হও। কিন্তু তোমরা যদিও বা তাদের প্রতি সন্তষ্ট হও তথাপি নিশ্চয়ই দুষ্কৃতিকারিগোষ্ঠীর প্রতি তুষ্ট হবেন না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তোমার সামনে কসম খাবে যাতে তুমি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যাও। অতএব, তুমি যদি রাযী হয়ে যাও তাদের প্রতি তবু তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তোমাদের নিকট শপথ করিবে যাহাতে তোমরা উহাদের প্রতি তুষ্ট হও। তোমরা উহাদের প্রতি তুষ্ট হইলেও তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি তুষ্ট হইবেন না।

জহুরুল হক

বেদুইনরা অবিশ্বাসে ও মুনাফিকিতে অতিশয় অটল, আর তাঁর রসূলের কাছে যা অবতারণ করেছেন তার চৌহদ্দি না জানার প্রতিই বেশী অনুরক্ত। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

বেদুইনরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি - কানুন না শেখারই যোগ্য যা তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ও কপটতায় মরুবাসীরা কঠোরতর; এবং তাঁহার রাসূলের প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাহার সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার যোগ্যতা ইহাদের অধিক। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

আর বেদুইনদের মধ্যে কেউ - কেউ ধরে নেয় যে সে যা খরচ করে তা জরিমানা, আর তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করে বিপর্যয়ের। তাদেরই উপরে ঘটবে অশুভ বিপর্যয়, আর সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

মুহিউদ্দীন খান

আবার কোন কোন বেদুইন এমন ও রয়েছে যারা নিজেদের ব্যয় করাকে জরিমানা। বলে গন্য করে এবং তোমার উপর কোন দুর্দিন আসে কিনা সে অপেক্ষায় থাকে। তাদেরই উপর দুর্দিন আসুক। আর হচ্ছেন শ্রবণকারী, পরিজ্ঞাত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মরুবাসীদের কেহ কেহ, যাহা তাহারা ‌র পথে ব্যয় করে তাহা অর্থদণ্ড বলিয়া গণ্য করে এবং তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের প্রতীক্ষা করে। মন্দ ভাগ্যচক্র উহাদেরই হউক। সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

জহুরুল হক

আর বেদুইনদের মধ্যের কেউ - কেউ ‌তে ও শেষদিনে ঈমান আনে, আর যা সে খরচ করে তা ‌র নৈকট্য ও রসূলের আশীর্বাদ আনবে বলে গণ্য করে। বাস্তবিকই এ নিঃসন্দেহ তাদের জন্য নৈকট্যলাভ। অচিরেই তাদের প্রবেশ করাবেন তাঁর করুণাসিন্ধুতে। নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

আর কোন কোন বেদুইন হল তারা, যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিনের উপর এবং নিজেদের ব্যয়কে আল্লাহর নৈকট্য এবং রসূলের দোয়া লাভের উপায় বলে গণ্য করে। জেনো! তাই হল তাদের ক্ষেত্রে নৈকট্য। তাদেরকে নিজের রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, করুনাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মরুবাসীদের কেহ কেহ আল্লাহে ও পরকালে ঈমান রাখে এবং যাহা ব্যয় করে তাহাকে ‌র সান্নিধ্য ও রাসূলের দু‘আ লাভের উপায় মনে করে। বাস্তবিকই উহা তাহাদের জন্য ‌র সান্নিধ্য লাভের উপায় ; তাহাদেরকে নিজ রহমতে দাখিল করিবেন। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর মুহাজিরদের ও আনসারদের মধ্যের অগ্রবর্তীরা - - প্রাথমিকরা, আর যারা তাদের অনুসরণ করেছিল কল্যাণকর্মের সাথে - - তাদের উপরে সন্তষ্ট আর তারাও সন্তষ্ট তাঁর উপরে; আর তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত করেছেন স্বর্গোদ্যানসমূহ, যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল, - - এই হচ্ছে মহাসাফল্য।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন - কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যাহারা প্রথম অগ্রগামী এবং যাহারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাহাদের অনুসরণ করে তাহাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তাহারাও তাহাতে সন্তুষ্ট এবং তিনি তাহাদের জন্য প্রস্তুত করিয়াছেন জান্নাত, যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে। ইহা মহাসাফল্য।

জহুরুল হক

আর বেদুইনদের মধ্যের যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের মধ্যে রয়েছে মুনাফিকরা, আবার মদীনার বাসিন্দাদের মধ্যেও - - ওরা কপটতায় নাছোড়বান্দা। তুমি তাদের জানো না, আমরা ওদের জানি। আমরা অচিরেই তাদের দু বার শাস্তি দেবো, তারপর তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে কঠোর শাস্তির দিকে।

মুহিউদ্দীন খান

আর কিছু কিছু তোমার আশ - পাশের মুনাফেক এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মরুবাসীদের মধ্যে যাহারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাহাদের কেহ কেহ মুনাফিক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেহ কেহ, উহারা কপটতায় সিদ্ধ। তুমি উহাদেরকে জান না; আমি উহাদেরকে জানি। আমি উহাদেরকে দুইবার শাস্তি দিব ও পরে উহারা প্রত্যাবর্তিত হইবে মহাশাস্তির দিকে।

জহুরুল হক

আর অন্যরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা এক ভালো কাজের সাথে মন্দ অপরটি মিশিয়ে ফেলেছে। হতে পারে তাদের দিকে ফিরবেন। নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃঃসন্দেহে ক্ষমাশীল করুণাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং অপর কতক লোকে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করিয়াছে, উহারা এক সৎকর্মের সঙ্গে অপর অসৎকর্ম মিশ্রিত করিয়াছে; হয়ত উহাদেরকে ক্ষমা করিবেন; নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

তাদের ধনসম্পত্তি থেকে দান গ্রহণ করো, এর দ্বারা তুমি তাদের পবিত্র করতে ও তাদের পরিশোধিত করতে পারবে, আর তাদের তুমি আশীর্বাদ করবে। নিঃসন্দেহ তোমার আশীর্বাদ তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরূপ। বস্তুতঃ সবকিছুই শোনেন, জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের সম্পদ হইতে ‘সাদাকা’ গ্রহণ করিবে। ইহার দ্বারা তুমি উহাদেরকে পবিত্র করিবে এবং পরিশোধিত করিবে। তুমি উহাদেরকে দু‘আ করিবে। তোমার দু‘আ তো উহাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

জহুরুল হক

তারা কি জানে না যে - - তিনিই তাঁর বান্দাদের থেকে তওবা কবুল করেন আর দান গ্রহণ করেন, আর নিশ্চয়ই সদা ফেরেন, অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি একথা জানতে পারেনি যে, নিজেই স্বীয় বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং যাকাত গ্রহণ করেন? বস্তুতঃ আল্লাহই তওবা কবুলকারী, করুণাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি জানে না যে, তো তাঁহার বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং ‘সাদাকা’ গ্রহণ করেন, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ?

জহুরুল হক

আর বলো - - ''তোমরা কাজ করে যাও, অচিরেই তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করবেন, আর তাঁর রসূল ও মুমিনরাও। আর শীঘ্রই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতার নিকটে, তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করে যাচ্ছিলে।’’

মুহিউদ্দীন খান

আর তুমি বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, তার পরবর্তীতে দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রসূল ও মুসলমানগণ। তাছাড়া তোমরা শীগ্রই প্রত্যাবর্তিত হবে তাঁর সান্নিধ্যে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। তারপর তিনি জানিয়ে দেবেন তোমাদেরকে যা করতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং বল, ‘তোমরা কর্ম করিতে থাক; তো তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করিবেন এবং তাঁহার রাসূল ও মু’মিনগণও করিবে এবং অচিরেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতার নিকট, অতঃপর তিনি তোমরা যাহা করিতে তাহা তোমাদেরকে জানাইয়া দিবেন।’

জহুরুল হক

আর অন্যরা ‌র বিধানের অপেক্ষায় রয়েছে, হয়তো তিনি তাদের শাস্তি দেবেন, নয়তো তাদের প্রতি ফিরবেন। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আবার অনেক লোক রয়েছে যাদের কাজকর্ম আল্লাহর নির্দেশের উপর স্থগিত রয়েছে; তিনি হয় তাদের আযাব দেবেন না হয় তাদের ক্ষমা করে দেবেন। বস্তুতঃ সব কিছুই জ্ঞাত, বিজ্ঞতাসম্পন্ন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ‌র আদেশের প্রতীক্ষায় অপর কতকের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রহিল তিনি উহাদেরকে শাস্তি দিবেন, না ক্ষমা করিবেন। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

আর যারা একটি মসজিদ স্থাপন করলো ক্ষতিসাধনের ও অবিশ্বাসের জন্য, আর বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, আর তার ঘাঁটি স্বরূপ যে এর আগে ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল, তারা নিশ্চয়ই হলফ করে বলবে - - ''আমরা তো চেয়ছিলাম শুধু ভালো।’’ কিন্তু সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা তো আলবৎ মিথ্যাবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহারা মসজিদ নির্মাণ করিয়াছে ক্ষতিসাধন, ও মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি সংগ্রাম করিয়াছে তাহার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তাহারা অবশ্যই শপথ করিবে, ‘আমরা সদুদ্দেশ্যেই উহা করিয়াছি’; সাক্ষী, তাহারা তো মিথ্যাবাদী।

জহুরুল হক

তুমি কখনো এতে দাঁড়াবে না। নিঃসন্দেহ সেই মসজিদ যা প্রথম দিন থেকেই ধর্মনিষ্ঠার উপরে স্থাপিত তার বেশি দাবি রয়েছে যে তুমি সেখানে দাঁড়াবে। তাতে এমন লোক রয়েছে যারা ভালো পায় যে তারা পবিত্র হবে। আর ভালোবাসেন তাদের যারা পবিত্র হয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কখনো সেখানে দাড়াবে না, তবে যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে, সেটিই তোমার দাঁড়াবার যোগ্য স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর পবিত্র লোকদের ভালবাসেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি ইহাতে কখনও দাঁড়াইও না। যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন হইতেই স্থাপিত হইয়াছে তাক্ওয়ার উপর, উহাই তোমার সালাতের জন্য অধিক যোগ্য। সেখানে এমন লোক আছে যাহারা পবিত্রতা অর্জন ভালবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে পছন্দকরেন।

জহুরুল হক

আচ্ছা! যে তা’হলে তার ভিত্তি গড়েছে ‌র প্রতি ধর্মনিষ্ঠতা ও সন্তষ্টির উপরে সে - ই ভালো, না যে তার ভিত্তি স্থাপন করেছে পতনপ্রায় ধসের কিনারার উপরে, ফলে তা তাকে নিয়ে ভেঙে পড়লো জাহান্নামের আগুনে? আর পথ দেখান না অন্যায়কারী লোকদের।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যাক্তি স্বীয় গৃহের ভিত্তি রেখেছে কোন গর্তের কিনারায় যা ধ্বসে পড়ার নিকটবর্তী এবং অতঃপর তা ওকে নিয়ে দোযখের আগুনে পতিত হয়। আর জালেমদের পথ দেখান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ব্যক্তি তাহার গৃহের ভিত্তি ‌ভীতি ও ‌র সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করে সে উত্তম, না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তাহার গৃহের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের ধসোন্মূখ কিনারায়, ফলে যাহা উহাকেসহ জাহান্নামের অগ্নিতে পতিত হয় ? ‌ সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।

জহুরুল হক

তাদের যে ভবন তারা বানিয়েছে তা তাদের হৃদয়ে অশান্তি সৃষ্টি থেকে বিরত হবে না, যদি না তাদের হৃদয় কুটি কুটি করা হয়। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের নির্মিত গৃহটি তাদের অন্তরে সদা সন্দেহের উদ্রেক করে যাবে যে পর্যন্ত না তাদের অন্তরগুলো চৌচির হয়ে যায়। আর সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের গৃহ যাহা উহারা নির্মাণ করিয়াছে তাহা উহাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হইয়া থাকিবে। যে পর্যন্ত না উহাদের অন্তর ছিন্ন - বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ মুমিনদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন তাদের সত্ত্বা ও তাদের বিত্ত যেন তারা পেতে পারে বেহেশত। তারা ‌র পথে লড়াই করে, ফলে তারা মারে ও মরে, - - এই ওয়াদা তাঁর জন্যে সত্য তওরাতে ও ইঞ্জীলে এবং কুরআনে। আর কে নিজ ওয়াদাতে বেশি সত্যনিষ্ঠ ‌র চাইতে? অতএব আনন্দ করো তোমাদের সওদার জন্য যা তোমরা বিনিময় করেছ তাঁর সাথে। আর এইটিই হচ্ছে মহা সাফল্য।

মুহিউদ্দীন খান

ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন - দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই ‌ মু’মিনদের নিকট হইতে তাহাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করিয়া লইয়াছেন, তাহাদের জন্য জান্নাত আছে ইহার বিনিময়ে। তাহারা ‌র পথে যুদ্ধ করে, নিধন করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে এই সম্পর্কে তাহাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে ? তোমরা যে সওদা করিয়াছ সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং উহাই তো মহাসাফল্য।

জহুরুল হক

তওবাকারীরা, উপাসনাকারীরা, মহিমাকীর্তনকারীরা, রোযা পালনকারীরা, রুকুকারীরা, সিজদাকারীরা, সৎকর্মে নিদের্শ - দানকারীরা ও অসৎকর্মে নিষেধকারীরা, এবং ‌র চৌহদ্দি রক্ষাকারীরা। আর মুমিনদের তুমি সুসংবাদ দাও।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তওবাকারী, ‘ইবাদতকারী, ‌র প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকূ‘কারী, সিজ্‌দাকারী, সৎকাজের নির্দেশদাতা, অসৎকাজে নিষেধকারী এবং ‌র নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী; এই মু’মিনদেরকে তুমি শুভ সংবাদ দাও।

জহুরুল হক

নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য নয় যে তাঁরা ক্ষমা প্রার্থনা করবেন বহুখোদাবাদীদের জন্যে, যদিও বা তারা নিকটা‌ত্মীয় হয়, এটি তাঁদের কাছে স্পষ্ট হবার পরে যে তারা নিশ্চয়ই হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা।

মুহিউদ্দীন খান

নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আত্মীয় - স্বজন হইলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু’মিনদের জন্য সংগত নয় যখন ইহা সুস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে যে, নিশ্চিতই উহারা জাহান্নামী।

জহুরুল হক

আর ইব্রাহীমের তাঁর পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা শুধু এজন্য ছাড়া অন্য কারণে নয় যে একটি অঙ্গীকার যা তিনি ওর সন্বন্ধে ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু যখন এটি তাঁর কাছে পরিস্কার করা হ’ল যে সে নিঃসন্দেহ ‌র একজন শত্রু তখন তিনি ওর থেকে নির্লিপ্ত হয়ে গেলেন। নিঃসন্দেহ ইব্রাহীম ছিলেন কোমল হৃদয়ের, সহনশীল।

মুহিউদ্দীন খান

আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইব্‌রাহীম তাহার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছিল, তাহাকে ইহার প্রতিশ্রুতি দিয়াছিল বলিয়া ; অতঃপর যখন ইহা তাহার নিকট সুস্পষ্ট হইল যে, সে ‌র শত্রূ তখন ইব্‌রাহীম উহার সম্পর্ক ছিন্ন করিল। ইব্‌রাহীম তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল।

জহুরুল হক

এটি ‌র নয় যে তিনি একটি সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করবেন তাদের তিনি পথ - দেখানোর পরে - - এতদূর যে তিনি তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে দেন কিসে তারা ধর্মনিষ্ঠা পালন করবে। নিঃসন্দেহ সব - কিছুতে সর্বজ্ঞাতা।

মুহিউদ্দীন খান

আর কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এমন নন যে, তিনি কোন সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করিবার পর উহাদেরকে বিভ্রান্ত করিবেন - উহাদেরকে কী বিষয়ে তাক্ওয়া অবলম্বন করিতে হইবে, ইহা সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত না করা পর্যন্ত; নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ - - মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। আর ‌কে ছেড়ে দিয়ে তোমাদের জন্য অভিভাবকের কেউ নেই বা সাহায্যকারীও নেই।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম ক্ষমতা আল্লাহরই; তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান। ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নাই, সাহায্যকারীও নাই।

জহুরুল হক

নিশ্চয়ই ফিরেছেন নবীর প্রতি এবং মুহাজিরদের ও আনসারদের প্রতি যারা তাঁকে অনুসরণ করেছিল সঙ্কটের মুহূর্তে, তাদের একদলের মন প্রায় ঘুরে যাওয়ার পরেও, তারপর তিনি তাদের দিকে ফিরলেন। কারণ তিনি তাদের প্রতি পরম স্নেহময়, অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুনাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্যই অনুগ্রহপরায়ণ হইলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছিল সংকটকালে - এমনকি যখন তাহাদের একদলের চিত্ত - বৈকল্যের উপক্রম হইয়াছিল। পরে উহাদেরকে ক্ষমা করিলেন; তিনি তো উহাদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর তিনজনের প্রতি যাদের পিছনে ছেড়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন কিন্তু পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের কাছে তা সংকুচিত হয়েছিল, আর তাদের অন্তরা‌ত্মাও তাদের জন্য হয়েছিল সংকুচিত, আর তারা বুঝতে পেরেছিল যে থেকে কোনো আশ্রয় নেই তাঁর দিকে ছাড়া। অতঃপর তিনি তাদের দিকে ফিরলেন যেন তারাও ফেরে। নিঃসন্দেহ - - তিনি বারবার ফেরেন, অফুরন্ত ফলদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্বেও তাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই - অতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে দয়াময় করুণাশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তিনি ক্ষমা করিলেন অপর তিনজনকেও, যাহাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হইয়াছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাহাদের জন্য উহা সংকুচিত হইয়াছিল এবং তাহাদের জীবন তাহাদের জন্য দুর্বিষহ হইয়াছিল এবং তাহারা উপলব্ধি করিয়াছিল যে, ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নাই, তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন ব্যতীত, পরে তিনি উহাদের তওবা কবুল করিলেন যাহাতে উহারা তওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! ‌কে ভয়শ্রদ্ধা করো আর সত্যপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হও।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা ‌কে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।

জহুরুল হক

মদীনার বাসিন্দাদের ও তাদের আশপাশের বেদুইনদের জন্যে নয় যে তারা ‌র রসূলের পিছনে থেকে যাবে, এবং নিজেদের জীবনকে তাঁর জীবনের চেয়ে বেশি প্রিয় মনে করাও নয়। এটি তাদের বেলা এই জন্য যে ‌র পথে তাদের কষ্ট দেয় না পিপাসা, আর ক্লান্তিও না, আর ক্ষুধাও না, আর তারা এমন পথে পথ চলে না যা অবিশ্বাসীদের ক্রোধ উদ্রেক করে, আর তারা শত্রুর থেকে সংগ্রহ করে না কোনো সংগ্রহের বস্তু, - - তবে এ - সবের দ্বারা তাদের জন্যে লিখিত হয় শুভ কাজ। নিঃসন্দেহ সৎকর্মশীলদের পুরস্কার ব্যর্থ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলের প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয় - তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মদীনাবাসী ও উহাদের পার্শ্ববর্তী মরুবাসীদের জন্য সঙ্গত নয় ‌র রাসূলের সহগামী না হইয়া পিছনে রহিয়া যাওয়া এবং তাহার জীবন অপেক্ষা তাহাদের নিজেদের জীবনকে প্রিয় জ্ঞান করা ; কারণ ‌র পথে উহাদের তৃষ্ণা, ক্লান্তি এবং ক্ষুধায় ক্লিষ্ট হওয়া এবং কাফিরদের ক্রোধ উদ্রেক করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রূদের নিকট হইতে কিছু প্রাপ্ত হওয়া উহাদের সৎকর্মরূপে গণ্য হয়। নিশ্চয়ই সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।

জহুরুল হক

আর তারা খরচ করে না কোনো সামান্য খরচা আর কোনো বিরাটও নয়, আর তারা কোনো মাঠও পার হয় না তবে তাদের জন্যে তা লিখিত হয়ে যায়, যেন তাদের পুরস্কার দিতে পারেন তারা যা করে যাচ্ছিল তার চেয়ে উত্তম।

মুহিউদ্দীন খান

আর তারা অল্প - বিস্তর যা কিছু ব্যয় করে, যত প্রান্তর তারা অতিক্রম করে, তা সবই তাদের নামে লেখা হয়, যেন তাদের কৃতকর্মসমূহের উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহারা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ যাহাই ব্যয় করে এবং যে কোন প্রান্তরই অতিক্রম করে তাহা উহাদের অনুকূলে লিপিবদ্ধ হয় - যাহাতে উহারা যাহা করে তাহা অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর পুরস্কার উহাদেরকে দিতে পারেন।

জহুরুল হক

আর মুমিনদের পক্ষে সঙ্গত নয় যে তারা একজোটে বেরিয়ে পড়বে। সুতরাং তাদের মধ্যের প্রত্যেক গোত্র থেকে কেন একটি দল বেরিয়ে পড়ে না ধর্মে জ্ঞানানুশীলন করতে, যার ফলে তারা যেন নিজ নিজ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে যখন তারা ফিরে আসে তাদের কাছে যাতে তারা সাবধান হতে পারে?

মুহিউদ্দীন খান

আর সমস্ত মুমিনের অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়। তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিনদের সকলের একসঙ্গে অভিযানে বাহির হওয়া সংগত নয়, উহাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বহির্গত হয় না কেন, যাহাতে তাহারা দীন সম্বন্ধে জ্ঞানানুশীলন করিতে পারে এবং উহাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পারে, যখন তাহারা তাহাদের নিকট ফিরিয়া আসিবে যাহাতে তাহারা সতর্ক হয়।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনছ! অবিশ্বাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটে রয়েছে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো, আর তারা যেন তোমাদের মধ্যে দেখতে পায় কঠোরতা। আর জেনে রেখো - - নিঃসন্দেহ ধর্মপরায়ণদের সাথে রয়েছেন।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! কাফিরদের মধ্যে যাহারা তোমাদের নিকটবর্তী তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর এবং উহারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখিতে পায়। জানিয়া রাখ, তো মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।

জহুরুল হক

আর যখনই একটি সূরা অবতীর্ণ হয় তখন তাদের কেউ কেউ বলে - - ''এ তোমাদের মধ্যের কার বিশ্বাস সমৃদ্ধ করল?’’ আসলে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদের কিন্তু এটি বিশ্বাসে সমৃদ্ধ করে, আর তারাই তো সুসংবাদ উপভোগ করে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরা তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা , এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয় তখন উহাদের কেহ কেহ বলে, ‘ইহা তোমাদের মধ্যে কাহার ঈমান বৃদ্ধি করিল ?’ যাহারা ইহা তাহাদেরই ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তাহারাই আনন্দিত হয়।

জহুরুল হক

আর তাদের ক্ষেত্রে যাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি, - - এ তখন তাদের কলুষতার সঙ্গে কলুষতা তাদের জন্য বাড়িয়ে তোলে, আর তারা প্রাণত্যাগ করে, আর তারা রয়ে যায় অবিশ্বাসী।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এটি তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ বৃদ্ধি করেছে এবং তারা অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, ইহা তাহাদের কলুষের সঙ্গে আরও কলুষ যুক্ত করে এবং উহাদের মৃত্যু ঘটে অবস্থায়।

জহুরুল হক

তারা কি দেখে না যে প্রতি বছর একবার বা দুবার করে অবশ্যই তাদের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে? তবুও তারা ফেরে না বা মনও দেয় না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতি বছর তারা দু’একবার বিপর্যস্ত হচ্ছে, অথচ, তারা এরপরও তওবা করে না কিংবা উপদেশ গ্রহণ করে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি দেখে না যে, ‘উহাদেরকে প্রতি বৎসর একবার বা দুইবার বিপর্যস্ত করা হয় ?’ ইহার পরও উহারা তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না,

জহুরুল হক

আর যখনই কোনো সূরা অবতীর্ণ হয় তাদের কেউ কেউ অন্যের দিকে তাকায় - - ''কেউ কি তোমাদের দেখছে?’’ তারপর তারা সরে পড়ে। তাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করেছেন যেহেতু তারা নিঃসন্দেহ এমন এক দল যারা বুঝতে চায় না।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় যে, কোন মুসলমান তোমাদের দেখছে কি - না - অতঃপর সরে পড়ে। ওদের অন্তরকে সত্য বিমুখ করে দিয়েছেন! নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন উহারা একে অপরের দিকে তাকায় এবং ইশারায় জিজ্ঞাসা করে ‘তোমাদেরকে কেহ লক্ষ্য করিতেছে কি ?’ অতঃপর উহারা সরিয়া পড়ে। উহাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করিয়াছেন, কারণ উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহাদের বোধশক্তি নাই।

জহুরুল হক

এখন তো তোমাদের কাছে একজন রসূল এসেছেন তোমাদেরই মধ্যে থেকে, তাঁর পক্ষে এটি দুঃসহ যা তোমাদের কষ্ট দেয়, তোমাদের জন্য তিনি পরম কল্যাণকামী, বিশ্বাসীদের প্রতি তিনি অতি দয়ার্দ্র, বিশেষ কৃপাময়।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ - কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্যই তোমাদের মধ্য হইতেই তোমাদের নিকট এক রাসূল আসিয়াছে। তোমাদেরকে যাহা বিপন্ন করে উহা তাহার জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

অতঃপর যদি তারা ফিরে যায় তাহলে বলো - - '' আমার জন্যে যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই, তাঁরই উপরে আমি নির্ভর করি, আর তিনিই তো মহাসিংহাসনের অধিপতি।’’

মুহিউদ্দীন খান

এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যদি মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে তুমি বলিও, ‘আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। আমি তাহারই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহাআর্‌শের অধিপতি।’

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme