Kitab

আল হাজ্জ্ব

Chapter 22, 78 verses

  • জহুরুল হক
  • সমকালীন বাংলা
  • আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠী! তোমাদের প্রভুকে ভয়শ্রদ্ধা করো। নিঃসন্দেহ ঘড়িঘন্টার ঝাঁকুনি এক ভয়ংকর ব্যাপার।

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; হে মানুষ! ভয় কর তোমাদের প্রতিপালককে; কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর ব্যাপার!

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমরা ভয় করো তোমাদের প্রভুকে। কিয়ামতের ভূ - কম্পন হবে এক ভয়ংকর ব্যাপার!

জহুরুল হক

সেইদিন যখন তোমরা তা দেখবে, - - প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী ভুলে যাবে যাকে সে স্তন্য দিচ্ছিল, আর প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে, আর তুমি দেখতে পাবে মানুষকে নেশাগ্রস্ত, অথচ তারা মাতাল নয়, বস্তুতঃ ‌র শাস্তি হচ্ছে বড় কঠোর।

সমকালীন বাংলা

যেদিন তোমরা উহা প্রত্যক্ষ করিবে সেই দিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী বিস্মৃত হইবে তাহার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তাহার গর্ভপাত করিয়া ফেলিবে ; মানুষকে দেখিবে নেশাগ্রস্ত স্বদৃশ, যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি কঠিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক বুকের দুধ খাওয়ানো (মা) ভুলে যাবে তার দুগ্ধপায়ী সন্তানকে। প্রত্যেক গর্ভবতী প্রসব করে দেবে তার গর্ভের বোঝা। তুমি মানুষদের দেখবে মাতাল, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়, বরং আল্লাহর আযাবই হবে এমন ভয়ানক কঠোর।

জহুরুল হক

আর মানুষদের মধ্যে এমনও আছে যে কোনো জ্ঞান না রেখেই সন্বন্ধে বিতর্ক করে, আর সে অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানকে, - -

সমকালীন বাংলা

মানুষের মধ্যে কতক অজ্ঞানতাবশত সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের,

আবদুস শহীদ নাসিম

কিছু লোক আছে এলেম ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের।

জহুরুল হক

যার বিরুদ্ধে লিখে রাখা হয়েছে যে যে - কেউ তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে সে তবে অবশ্যই তাকে বিপথে চালিত করবে এবং তাকে চালিয়ে নেবে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে।

সমকালীন বাংলা

তাহার সম্বন্ধে এই নিয়ম করিয়া দেওয়া হইয়াছে যে, যে কেহ তাহার সঙ্গে বন্ধুত্ব করিবে সে তাহাকে পথভ্রষ্ট করিবে এবং তাহাকে পরিচালিত করিবে অগ্নির শাস্তির দিকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার সম্পর্কে লিখে দেয়া হয়েছে যে, তার সাথে যে কেউ বন্ধুত্ব করবে, সে অবশ্যি তাকে গোমরাহ করে ছাড়বে এবং পরিচালিত করবে জ্বলন্ত আগুনের আযাবের দিকে।

জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠী! তোমরা যদি পুনরুত্থান সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে থাক, তাহলে আমরা তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, তারপর রক্তপিন্ড থেকে তারপর মাংসের তাল থেকে - - গঠনে সুসমঞ্জস ও সামঞ্জস্যবিহীন, যেন আমরা তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করতে পারি। আর যাকে আমরা ইচ্ছা করি তাকে মাতৃগর্ভে থাকতে দিই নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত, তারপর তোমাদের বের ক’রে আনি শিশুরূপে, তারপর যেন তোমরা তোমাদের পূর্ণজীবনে পৌঁছুতে পার। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় আর তোমাদের মধ্যে কাউকে আনা হয় জীবনের অধমতম দশায় যার ফলে জ্ঞানলাভের পরে সে কিছুই না - হয়। আর তুমি পৃথিবীকে দেখতে পাচ্ছ অনুর্বর, তারপর যখন আমরা তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা স্পন্দিত হয় ও ফোলে ওঠে, আর উৎপন্ন করে হরেক রকমের সুন্দর শাকসবজি।

সমকালীন বাংলা

হে মানুষ ! পুনরুত্থান সম্বন্ধে যদি তোমরা সন্দিগ্ধ হও তবে অবধান কর - আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি মৃত্তিকা হইতে, তাহার পর রক্ত হইতে, তাহার পর ‘আলাকা’ হইতে, তাহার পর পূর্ণাকৃতি অথবা অপূর্ণাকৃতি গোশত্‌পিণ্ড হইতে - তোমাদের নিকট ব্যক্ত করিবার জন্য, আমি যাহা ইচ্ছা করি তাহা এক নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে স্থিত রাখি, তাহার পর আমি তোমাদেরকে শিশুরূপে বাহির করি, পরে যাহাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনীত হও। তোমাদের মধ্যে কাহারও কাহারও মৃত্যু ঘটান হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাহাকেও কাহাকেও প্রত্যাবৃত্ত করা হয় হীনতম বয়সে, যাহার ফলে উহারা যাহা কিছু জানিত সে সম্বন্ধে উহারা সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে দেখ শুষ্ক, অতঃপর উহাতে আমি বারি বর্ষণ করিলে উহা শস্য - শ্যামলা হইয়া আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদ্গত করে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ;

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমরা যদি পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহের মধ্যে থাকো, তবে ভেবে দেখো, আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তারপর আলাকা (শক্তভাবে আঁটকে থাকা পিন্ড) থেকে, তারপর পূর্ণ আকৃতি অথবা অপূর্ণ আকৃতির গোশত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে স্পষ্ট করার জন্যে (এ তত্ত্ব পেশ করছি)। আমরা যা ইচ্ছা করি তা মায়ের গর্ভে একটা নিদিষ্ট সময় স্থিত করি। তারপর তোমাদের বের করে আনি শিশু হিসেবে। তারপর তোমরা পৌঁছে যাও পরিণত বয়েসে। তখন তোমাদের কারো ওফাত হয়, আবার তোমাদের কাউকে পৌঁছে দিই দুর্বলতম বয়েসে, যার ফলে তারা যা কিছু জানতো, সে সম্পর্কে আর কিছুই অবগত থাকেনা। তুমি জমিনকে দেখছো শুকনো, তারপর আমরা যখন পানি বর্ষণ করি, তখন তা শস্য - শ্যামল হয় এবং আন্দোলিত হয়, আর তা উৎপন্ন করে সব ধরনের সুদৃশ্য উদ্ভিদ।

জহুরুল হক

এটি এই জন্য যে - - তিনিই চিরসত্য, আর তিনিই তো মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনিই সব কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান,

সমকালীন বাংলা

ইহা এইজন্য যে, সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবন দান করেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান;

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা এ জন্যে যে, সত্য এবং তিনি জীবিত করেন মৃতকে, আর তিনি সব বিষয়ে শক্তিমান।

জহুরুল হক

আর এই জন্য যে ঘড়িঘন্টা আসন্ন, - - এতে কোনো সন্দেহ নেই, আর যেহেতু পুনরুত্থিত করবেন তাদের যারা কবরের ভেতরে রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

এবং কিয়ামত আসিবেই, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই এবং কবরে যাহারা আছে তাহাদেরকে নিশ্চই উত্থিত করিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর কিয়ামত অবশ্যি আসবে, তাতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে অবশ্যি তাদের পুনরুত্থিত করবেন।

জহুরুল হক

আর মানুষদের মধ্যে এমনও আছে যে সন্বন্ধে বিতর্ক করে কোনো জ্ঞান না রেখে আর কোনো পথনির্দেশ ছাড়া আর কোনো দীপ্তিদায়ক গ্রন্থ ব্যতিরেকে, - -

সমকালীন বাংলা

মানুষের মধ্যে কেহ কেহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে; তাহাদের না আছে জ্ঞান, না আছে পথনির্দেশ, না আছে কোন দীপ্তিমান কিতাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিছু লোক আছে, যারা এলেম ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করে। তাছাড়া তাদের কাছে সঠিক পথের দিশাও নেই, নূর (সত্যজ্ঞান) বিতরণকারী কিতাবও নেই।

জহুরুল হক

তার ঘাড় ফিরিয়ে, যাতে সে বিপথে চালাতে পারে ‌র পথ থেকে। তার জন্য এই দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা, আর কিয়ামতের দিনে আমরা তাকে আস্বাদন করাব জ্বলা - পোড়ার শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

সে বিতণ্ডা করে ঘাড় বাঁকাইয়া লোকদেরকে পথ হইতে ভ্রষ্ট করিবার জন্য। তাহার জন্য লাঞ্ছনা আছে ইহলোকে এবং কিয়ামত দিবসে আমি তাহাকে আস্বাদ করাইব দহন - যন্ত্রণা।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ঘাড় বাঁকিয়ে বিতর্ক করে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করতে। দুনিয়াতেও তার জন্যে লাঞ্ছনা, আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে আস্বাদন করাবো দগ্ধ হবার যন্ত্রণা।

জহুরুল হক

''এ তার জন্য যা তোমার হাত দুখানা আগবাড়িয়েছে, আর তো তাঁর বান্দাদের প্রতি একটুও অন্যায়কারী নন।’’

সমকালীন বাংলা

সেদিন তাহাকে বলা হইবে, ‘ইহা তোমার কৃতকর্মেরই ফল, কারণ বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাকে বলা হবে: এটা তোমার কৃতকর্মের ফল। তো তাঁর বান্দাদের প্রতি যুলুম করেননা।

জহুরুল হক

আর লোকদের মধ্যে এমনও আছে যে ‌র উপাসনা করে কিনারায় রয়ে, ফলে যদি তার প্রতি ভাল কিছু ঘটে সে তাতে সন্তষ্ট হয়, কিন্তু তার প্রতি যদি বিপর্যয় ঘটে সে তার মুখ ফিরিয়ে ঘুরে যায় - - সে ইহকাল হারায় আর পরকালও। এটিই তো এক সুস্পষ্ট ক্ষতি।

সমকালীন বাংলা

মানুষের মধ্যে কেহ কেহ ‘ইবাদত করে দ্বিধার সঙ্গে; তাহার মঙ্গল হইলে তাহাতে তাহার চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং কোন বিপর্যয় ঘটিলে সে তাহার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া যায়। সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুনিয়াতে ও আখিরাতে ; ইহাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে, আল্লাহর ইবাদত করে সীমানায় দাঁড়িয়ে। তখন কল্যাণ লাভ করলে তার মন শান্ত হয়, আর বিপদ এলে সে সীমানা থেকে নেমে আগের জায়গায় চলে যায়। এসব লোক দুনিয়াও হারায়, আখিরাতও হারায়। এ এক সুস্পষ্ট ক্ষতি।

জহুরুল হক

সে ‌কে ছেড়ে দিয়ে তাকে ডাকে যে তার ক্ষতিসাধন করতে পারে না আর যে তার উপকারও করে না। এই হচ্ছে সুদূর বিপথগমন।

সমকালীন বাংলা

সে পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যাহা উহার কোন অপকার করিতে পারে না, উপকারও করিতে পারে না; ইহাই চরম বিভ্রান্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আল্লাহর পরিবর্তে যাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে, তারা না তার ক্ষতি করতে পারে, আর না উপকার। এ এক চরম বিপথগামিতা।

জহুরুল হক

সে তাকে ডাকে যার ক্ষতিসাধন তার উপকারের চাইতে বেশী নিকটবর্তী। কত নিকৃষ্ট অভিভাবক ও কত মন্দ এ সহচর?

সমকালীন বাংলা

সে ডাকে এমন কিছুকে যাহার ক্ষতিই উহার উপকার অপেক্ষা নিকটতর। কত নিকৃষ্ট এই অভিভাবক এবং কত নিকৃষ্ট এই সহচর !

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যাকে ডাকে তার ক্ষতির দিকটাই উপকারের চাইতে নিকটতর। কতো যে নিকৃষ্ট মাওলা (অভিভাবক) আর কতো যে নিকৃষ্ট সাথি এরা।

জহুরুল হক

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে তাদের অবশ্যই প্রবেশ করাবেন স্বর্গোদ্যানে যার নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি। নিঃসন্দেহ যা ইচ্ছা করেন তাই করে থাকেন।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে অবশ্যই তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহর যাহা ইচ্ছা তাহাই করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের দাখিল করবেন জান্নাতে (উদ্যানসমূহে), যাদের নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদীর - নহর। যা ইচ্ছা করেন, তাই করেন।

জহুরুল হক

যেজন ভাবে যে তাঁকে ইহলোকে ও পরলোকে কখনই সাহায্য করবেন না, সে তবে আকাশের দিকে তোলার উপায় খুঁজুক, তারপর সে কেটে ফেলুক, তখন সে দেখুক তার পরিকল্পনা তা বিদূরিত করে কি না যাতে সে আক্রোশ বোধ করে।

সমকালীন বাংলা

যে কেহ মনে করে, তাহাকে কখনই দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করিবেন না, সে আকাশের দিকে একটি রজ্জু বিলম্বিত করুক, পরে উহা বিচ্ছিন্ন করুক; অতঃপর দেখুক তাহার প্রচেষ্টা তাহার আক্রোশের হেতু দূর করে কি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে মনে করে তাকে কখনো সাহায্য করবেন না দুনিয়া এবং আখিরাতে, সে একটি রশি আকাশের দিকে লম্বা করে টানিয়ে নিক, তারপর (আকাশে উঠে) সেটা কেটে দিক, তারপর সে দেখুক তার কৌশল তার ক্রোধের কারণ দূর করতে পারে কিনা।

জহুরুল হক

আর এইভাবে আমরা এটি অবতারণ করেছি - - সুস্পষ্ট নিদর্শন, আর অবশ্য ‌পরিচালনা করেন তাকে যে কামনা করে।

সমকালীন বাংলা

এইভাবেই আমি সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে উহা অবতীর্ণ করিয়াছি; আর তো যাহাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা এ কুরআন নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াত আকারে, আর অবশ্যি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে আর যারা ইহুদী মত পোষণ করে, আর সাবেঈন ও খ্রীষ্টান ও মাজুস, এবং যারা অংশী দাঁড় করায়, - - নিঃসন্দেহ তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন কিয়ামতের দিনে। নিঃসন্দেহ সমস্ত কিছুরই সাক্ষ্যদাতা।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং যাহারা ইয়াহূদী হইয়াছে, যাহারা সাবিয়ী, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজক এবং যাহারা মুশরিক হইয়াছে কিয়ামতের দিন তাহাদের মধ্যে ফয়সালা করিয়া দিবেন সব কিছুর সম্যক প্রত্যক্ষকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি হয়েছে, এছাড়া সাবী, খৃষ্টান, মজুসি (অগ্নিপূজারি), আর যারা শিরক করেছে, কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। সব বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী - সাক্ষী।

জহুরুল হক

তুমি কি দেখ না যে নিশ্চয় - - তাঁরই প্রতি সিজদা করে যারাই আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও যারা আছে পৃথিবীতে, আর সূর্য ও চন্দ্র ও তারকারাজি এবং পাহাড় - পর্বত ও গাছপালা, আর জীবজন্ত ও বহুসংখ্যক লোকজন? আর অনেক আছে যাদের উপরে শাস্তি ন্যায়সংগত হয়েছে। আর যাকে লাঞ্ছিত করেন তার জন্য তবে সম্মানদানের কেউ নেই। নিঃসন্দেহ যা ইচ্ছা করেন তাই করে থাকেন।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি দেখ না যে, সিজ্দা করে যাহা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে ও পৃথিবীতে, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং সিজ্দা করে মানুষের মধ্যে অনেকে? আবার অনেকের প্রতি অবধারিত হইয়াছে শাস্তি। যাহাকে হেয় করেন তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না। যা ইচ্ছা তাই করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখছোনা, আল্লাহকে সাজদা করছে সবাই, যারা মহাকাশে আছে, যারা পৃথিবীতে আছে, সূর্য, চাঁদ, নক্ষত্ররাজি, পাহাড় পর্বত, বৃক্ষলতা, জীব - জানোয়ার, এছাড়া মানুষের মধ্যেও অনেকেই। আর অনেকের জন্যেই অবধারিত হয়ে গেছে আযাব। যাকে অপমানিত করেন, তাকে সম্মানিত করার কেউ নেই। তাই করেন, যা ইচ্ছা করেন। (সাজদা)

জহুরুল হক

এরা হচ্ছে দুই প্রতিপক্ষ যারা তাদের প্রভু সন্বন্ধে বিতর্ক করে। তারপর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জন্যে আগুনের থেকে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর থেকে ফুটন্ত পানি ঢালা হবে,

সমকালীন বাংলা

ইহারা দুইটি বিবদমান পক্ষ, তাহারা তাহাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে ; যাহারা করে তাহাদের জন্য প্রস্তুত করা হইয়াছে আগুনের পোশাক, তাহাদের মাথার উপর ঢালিয়া দেওয়া হইবে ফুটন্ত পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা বিবাদে লিপ্ত দুটি পক্ষ, তারা বিবাদ করছে তাদের প্রভুর বিষয়ে। যারা কুফুরি করে তাদের জন্যে প্রস্ত্তত করা হয়েছে আগুনের পোশাক। তাদের মাথার উপর থেকে ঢালা হবে টগবগে ফুটন্ত পানি।

জহুরুল হক

এর দ্বারা গলে যাবে যা কিছু আছে তাদের পেটের ভেতরে আর চামড়াটাও।

সমকালীন বাংলা

যাহা দ্বারা উহাদের উদরে যাহা আছে তাহা এবং উহাদের চর্ম বিগলিত করা হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর ফলে তাদের পেটে যা আছে এবং শরীরের চামড়া বিগলিত হয়ে পড়বে।

জহুরুল হক

আর তাদের জন্য রয়েছে লোহার চাবুক।

সমকালীন বাংলা

এবং উহাদের জন্য থাকিবে লৌহমুদগর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এছাড়া তাদের জন্যে থাকবে লোহার মুগুর।

জহুরুল হক

যতবার তারা চাইবে এ থেকে বেরিয়ে আসতে - - জ্বালাযন্ত্রণা থেকে - - তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে তারই মধ্যে, আর ''জ্বলে পোড়ার যন্ত্রণা আস্বাদ করো।’’

সমকালীন বাংলা

যখনই উহারা যন্ত্রণাকাতর হইয়া জাহান্নাম হইতে বাহির হইতে চাহিবে তখনই তাহাদেরকে ফিরাইয়া দেওয়া হইবে উহাতে; উহাদেরকে বলা হইবে, ‘আস্বাদন কর দহন - যন্ত্রণা।’

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই যন্ত্রণার জ্বালায় তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের ফিরিয়ে দেয়া হবে তাতে। বলা হবে: আস্বাদন করো দগ্ধ হবার যন্ত্রণা।

জহুরুল হক

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে অবশ্যই তাদের প্রবেশ করাবেন স্বর্গোদ্যান সমূহে যাদের নিচ দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, সেখানে তাদের ভূষিত করা হবে সোনার কংকণ ও মণি - মুক্তো দিয়ে। আর সেখানে তাদের পোশাক - পরিচ্ছদ হবে রেশমের।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহাদেরকে অলঙ্কৃত করা হইবে স্বর্ণ - কঙ্কন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাহাদের পোশাক - পরিচ্ছদ হইবে রেশমের।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের দাখিল করবেন জান্নাত (উদ্যান)সমূহে, যাদের নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। তাদেরকে সেখানে অলংকার পরানো হবে সোনার এবং মুক্তার। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমি পোশাক।

জহুরুল হক

আর তাদের পরিচালিত করা হয়েছে পবিত্র বাক্যালাপের প্রতি, আর তাদের চালিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রশংসিত পথে।

সমকালীন বাংলা

তাহাদেরকে পবিত্র বাক্যের অনুগামী করা হইয়াছিল এবং তাহারা পরিচালিত হইয়াছিল পরম প্রশংসাভাজন আল্লাহর পথে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদেরকে (দুনিয়ায়) সুন্দর ও উত্তম কথা বলার পথ দেখানো হয়েছিল এবং পরিচালিত করা হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে আর ঠেকিয়ে রাখে ‌র পথ থেকে ও পবিত্র মসজিদ থেকে যাকে আমরা বানিয়েছি সকল মানুষের জন্য সমানভাবে, - - সেখানকার বাসিন্দার ও বহিরাগতের জন্য। আর যে কেউ সেখানে অন্যায়ভাবে ধূর্তামি করতে চায় তাকে আমরা আস্বাদ করার মর্মন্তদ শাস্তি থেকে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা করে এবং মানুষকে নিবৃত্ত করে আল্লাহর পথ হইতে ও মসজিদুল হারাম হইতে, যাহা আমি করিয়াছি স্থানীয় ও বহিরাগত সকলের জন্য সমান, আর যে ইচ্ছা করে সীমালংঘন করিয়া উহাতে পাপ কার্যের, তাহাকে আমি আস্বাদন করাইব মর্মন্তুদ শাস্তির।

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যারা কুফুরি করে এবং আল্লাহর পথে চলতে ও মসজিদুল হারামে যেতে বাধা সৃষ্টি করে, যে ঘরকে আমরা করে দিয়েছি স্থানীয় এবং বহিরাগত সকলের জন্যে সমান অধিকার সম্পন্ন (তাদের জন্যে শাস্তি অবধারিত)। যারাই তাতে (মসজিদুল হারামে) সীমালঙ্ঘন করে পাপ করবে, তাদেরকেই আমরা আস্বাদন করাবো বেদনাদায়ক আযাব।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা ইব্রাহীমের জন্য গৃহের স্থান স্থির করে দিয়েছিলাম এই বলে - - ''আমার সঙ্গে কোনো - কিছুকে অংশী করো না, আর আমার গৃহকে পবিত্র করো তওয়াফকারীদের জন্য এবং দন্ডায়মানদের ও রুকু - সিজদা - কারীদের জন্য।’’

সমকালীন বাংলা

এবং স্মরণ কর, যখন আমি ইব্রাহীমের জন্য নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলাম সেই গৃহের স্থান, তখন বলিয়াছিলাম, ‘আমার সঙ্গে কোন শরীক স্থির করিও না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখিও তাহাদের জন্য যাহারা তাওয়াফ করে এবং যাহারা সালাতে দাঁড়ায়, রুকূ‘ করে ও সিজ্দা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা ইবরাহিমের জন্যে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই ঘর (নির্মাণের) স্থান, আর তাকে বলে দিয়েছিলাম: আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করোনা এবং আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে তাদের জন্যে, যারা তাওয়াফ করে, যারা সালাতে দাঁড়ায় এবং রুকু ও সাজদা করে।

জহুরুল হক

আর লোকদের মধ্যে হজের কথা ঘোষণা ক’রে দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে আর প্রত্যেক শীর্ণ উটের উপরে, প্রত্যেক দূর - দুরান্ত দেশ থেকে, - -

সমকালীন বাংলা

এবং মানুষের নিকট হজ্জ - এর ঘোষণা করিয়া দাও, উহারা তোমার নিকট আসিবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রের পিঠে, ইহারা আসিবে দূর - দূরান্তর পথ অতিক্রম করিয়া,

আবদুস শহীদ নাসিম

(আর আমরা ইবরাহিমকে এই নির্দেশও দিয়েছিলাম যে) মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং উটের পিঠে করে। তারা আসবে দূর দূরান্ত থেকে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে।

জহুরুল হক

যাতে তারা প্রত্যক্ষ করে তাদের জন্য উপকারসমূহ, আর যেন তারা ‌র নাম স্মরণ করতে পারে নির্ধারিত দিনগুলোতে চতুস্পদ গবাদি - পশুদের উপরে যেগুলো দিয়ে তিনি তাদের জীবিকা দিয়েছেন, তারপর যেন তোমরা তা থেকে খেতে পরো এবং দুঃস্থ ও নিঃস্বকে খাওয়াতে পারো।

সমকালীন বাংলা

যাহাতে তাহারা তাহাদের কল্যাণময় স্থানগুলিতে উপস্থিত হইতে পারে এবং তিনি তাহাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হইতে যাহা রিযিক হিসাবে দান করিয়াছেন উহার উপর নিদির্ষ্ট দিনগুলিতে নাম উচ্চারণ করিতে পারে। অতঃপর তোমরা উহা হইতে আহার কর এবং দুস্থ, অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তারা তাদের জন্যে উপকারী স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে, আর যেনো তাদেরকে জীবিকা হিসেবে তিনি যেসব চারপায়ী জানোয়ার দান করেছেন সেগুলোর উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। আর তোমরা (সেই কুরবানি করা পশুর গোশ্ত) নিজেরা খাও এবং অভাবী ও মুখাপেক্ষী লোকদের খেতে দাও।

জহুরুল হক

তারপর তারা সমাধা করুক তাদের পরিস্কার - পরিচ্ছন্নতা, আর তাদের মানতগুলো তারা পূর্ণ করুক, আর তারা তওয়াফ করুক এই প্রাচীন গৃহের।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তাহারা যেন তাহাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাহাদের মানত পূর্ণ করে এবং তাওয়াফ করে প্রাচীন গৃহের।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তারা যেনো তাদের (দৈহিক) অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাদের মানত পুরা করে, আর (আমার) এই প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে।

জহুরুল হক

এইটিই। আর যে কেউ ‌র অনুষ্ঠানগুলোর সম্মান করে তাহলে সেটি তার প্রভুর কাছে তার জন্যে উত্তম। আর গবাদি - পশু তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে সে - সব ব্যতীত যা তোমাদের কাছে বিবৃত করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা দেবদেবীর কদর্যতা পরিহার করো এবং বর্জন করো মিথ্যা কথাবার্তা, - -

সমকালীন বাংলা

ইহাই বিধান এবং কেহ কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র অনুষ্ঠানগুলির সম্মান করিলে তাহার প্রতিপালকের নিকট তাহার জন্য ইহাই উত্তম। তোমাদের জন্য হালাল করা হইয়াছে গবাদিপশু জন্তু - এইগুলি ব্যতীত যাহা তোমাদেরকে শোনান হইয়াছে। সুতরাং তোমরা বর্জন কর মূর্তিপূজার অপবিত্রতা এবং দূরে থাক মিথ্যা কথন হইতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলোই (হজ্জের বিধান)। এছাড়া যে আল্লাহর পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভুর কাছে সেটা হবে তার জন্যে উত্তম। আর তোমাদের জন্যে হালাল করে দেয়া হলো গবাদি পশু সেগুলো ছাড়া, যেগুলোর বিষয়ে আগেই তোমাদের তিলাওয়াত করা (বিবরণ দেয়া) হয়েছে। সুতরাং তোমরা মূর্তি পূজার নোংরামি বর্জন করো এবং বর্জন করো মিথ্যা কথা

জহুরুল হক

‌র প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে, তাঁর সঙ্গে কোনো অংশী আরোপ না ক’রে। আর যে কেউ ‌র সঙ্গে অংশী দাঁড় করায় সে যেন তাহলে আকাশ থেকে পড়ল, তখন পাখিরা তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়, অথবা বায়ুপ্রবাহ তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় এক দূরবর্তী স্থানে।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হইয়া এবং তাঁহার কোন শরীক না করিয়া ; এবং যে কেহ শরীক করে সে যেন আকাশ হইতে পড়িল, অতঃপর পাখি তাহাকে ছোঁ মারিয়া লইয়া গেল, কিংবা বায়ু তাহাকে উড়াইয়া লইয়া গিয়া এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে এবং তাঁর সাথে কোনো শরিক না করে। যে কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করবে, সে যেনো আকাশ থেকে ছিটকে পড়ে গেলো আর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো, কিংবা প্রবল বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে নিক্ষেপ করলো এক নিরুদ্দেশ স্থানে।

জহুরুল হক

এইটিই। আর যে কেউ ‌র নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে সেটি তাহলে নিশ্চয়ই হৃদয়ের ধর্মনিষ্ঠা থেকে উদ্ভূত।

সমকালীন বাংলা

ইহাই আল্লাহর বিধান এবং কেহ নিদর্শনাবলীকে সম্মান করিলে ইহা তো তাহার হৃদয়ের তাক্ওয়া - সঞ্জাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো (আল্লাহর নির্দেশাবলি), আর যারাই আল্লাহর নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান দেখাবে, সেটা হবে অন্তরের তাকওয়ার প্রকাশ।

জহুরুল হক

এদের মধ্যে তোমাদের জন্য উপকার রয়েছে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত, তারপর তাদের কুরবানির স্থান হচ্ছে প্রাচীন গৃহের সন্নিকটে।

সমকালীন বাংলা

এই সমস্ত আন‘আমে তোমাদের জন্য নানাবিধ উপকার রহিয়াছে এক নির্দিষ্ট কালের জন্য; অতঃপর উহাদের কুরবানীর স্থান প্রাচীন গৃহের নিকট।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলোর (এসব পশুর) মধ্যে তোমাদের জন্যে রয়েছে উপকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে, তারপর তাদের কুরবানির স্থান আমার প্রাচীন ঘরের কাছে।

জহুরুল হক

আর প্রত্যেক জাতির জন্য আমরা কুরবানির বিধান দিয়েছি, যেন তারা ‌র নাম স্মরণ করে চতুস্পদ গবাদি - পশুদের যেগুলো দিয়ে তিনি তাদের রিযেক দিয়েছেন সে - সবের উপরে। বস্তুতঃ তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য, সুতরাং তাঁরই নিকট তোমরা আ‌ত্মসমর্পণ করো। আর সুসংবাদ দাও বিনয়নম্রদের,

সমকালীন বাংলা

আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর নিয়ম করিয়া দিয়াছি; তিনি তাহাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়াছেন, সেগুলির উপর যেন তাহারা নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের ইলাহ্ এক ইলাহ্, সুতরাং তাহারই নিকট আত্মসমর্পণ কর এবং সুসংবাদ দাও বিনীতগণকে -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানির একটি নিয়ম করে দিয়েছি, তাদেরকে জীবিকা হিসেবে যেসব চারপায়ী জানোয়ার দিয়েছেন, সেগুলোর উপর যেনো তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের ইলাহ্ তো একমাত্র ইলাহ্। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই প্রতি আত্মসর্মপণ করো। আর হে নবী, সুসংবাদ দাও বিনয়ীদের,

জহুরুল হক

তাদের যাদের হৃদয় কাঁপতে থাকে যখন ‌কে স্মরণ করা হয়, আর তাদের উপরে বিপদ ঘটা সত্ত্বেও যারা অধ্যবসায়ী, আর কায়েমকারীদের, আর ওদের আমরা যে রিযেক দিয়েছি তা থেকে যারা খরচ করে থাকে তাদের।

সমকালীন বাংলা

যাহাদের হৃদয় ভয়ে কম্পিত হয় নাম স্মরণ করা হইলে, যাহারা তাহাদের বিপদ - আপদে ধৈর্য ধারণ করে এবং কায়েম করে এবং আমি তাহাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের কলব কেঁপে উঠে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে, যারা সবর অবলম্বন করে বিপদ মসিবতে, কায়েম করে এবং আমাদের দেয়া জীবিকা থেকে খরচ করে (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে)।

জহুরুল হক

আর উট, - - আমরা তাদের তোমাদের জন্য ‌র নিদর্শনাবলীর অন্যতম বানিয়েছি, তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে। সেজন্য সারিবদ্ধ থাকাকালে তাদের উপরে ‌র নাম উল্লেখ করো, তারপর তারা যখন তাদের পার্শ্বে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা খাও, এবং খাওয়াও তুষ্ট - দুঃস্থকে ও ভিক্ষুককে। এইভাবেই আমরা এদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

সমকালীন বাংলা

এবং উষ্ট্রকে করিয়াছি নিদর্শনগুলির অন্যতম; তোমাদের জন্য উহাতে মঙ্গল রহিয়াছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় উহাদের উপর তোমরা নাম উচ্চারণ কর। যখন উহারা কাত হইয়া পড়িয়া যায় তখন তোমরা উহা হইতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাচ্ঞাকারী অভাবগ্রস্তকে ; এইভাবে আমি উহাদেরকে তোমাদের অধীন করিয়া দিয়াছি যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর উটকে আমরা বানিয়েছি আল্লাহর একটি নিদর্শন তোমাদের জন্যে। আর তাতে রয়েছে তোমাদের জন্যে কল্যাণ। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় তোমরা তাদের উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো। যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যাবে, তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং তা থেকে খেতে দাও ধৈর্যশীল অভাবীদের ও প্রার্থী অভাবীদের। এভাবেই আমরা সেগুলো করে দিয়েছি তোমাদের অধীন, যাতে করে তোমরা শোকর আদায় করো।

জহুরুল হক

তাদের মাংস কখনো ‌র কাছে পৌঁছায় না আর তাদের রক্তও নয়, বরং তোমাদের থেকে ধর্মনিষ্ঠাই তাঁর কাছে পৌঁছায়। এইভাবেই তিনি তাদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যেন তোমরা ‌র শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পারো এজন্য যে তিনি তোমাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। আর সুসংবাদ দাও সৎকর্মপরায়ণদের।

সমকালীন বাংলা

কখনই নিকট পৌঁছায় না উহাদের গোশত্‌ এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাক্ওয়া। এইভাবে তিনি ইহাদেরকে তোমাদের অধীন করিয়া দিয়াছেন যাহাতে তোমরা শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এইজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে পথপ্রদর্শন করিয়াছেন; সুতরাং তুমি সুসংবাদ দাও সৎকর্মপরায়ণ - দেরকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছে পৌঁছায়না তার (কুরবানির) গোশত এবং রক্ত, বরঞ্চ পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই সেগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পারো তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত (কুরআন) দান করেছেন তার ভিত্তিতে। সুসংবাদ দাও কল্যাণকামীদের।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ দফা রফা করে দেবেন তাদের থেকে যারা ঈমান এনেছে। নিঃসন্দেহ ভালবাসেন না প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতককে, অকৃতজ্ঞকে।

সমকালীন বাংলা

অবশ্যই রক্ষা করেন মু’মিনদেরকে, তিনি কোন বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞকে পসন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের রক্ষা করেন। কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেননা।

জহুরুল হক

অনুমতি দেওয়া গেল তাদের জন্য যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, কেননা তারা অত্যাচারিত হয়েছে, আর অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম, - -

সমকালীন বাংলা

যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হইল তাহাদেরকে যাহারা আক্রান্ত হইয়াছে; কারণ তাহাদের প্রতি অত্যাচার করা হইয়াছে। নিশ্চয়ই তাহাদেরকে সাহায্য করিতে সম্যক সক্ষম;

আবদুস শহীদ নাসিম

অনুমতি দেয়া হলো (প্রতিরোধের) যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে, কারণ তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে। অবশ্যি তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।

জহুরুল হক

যাদের বহিস্কার করা হয়েছে তাদের বাড়িঘর থেকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়াই, শুধু এইজন্য যে তারা বলে - - ''আমাদের প্রভু ‌’’। আর যদি মানবজাতিকে তাদের এক দলের দ্বারা অন্য দলকে প্রতিহত করার ব্যবস্থা ‌র না থাকতো তা হলে নিশ্চয়ই বিধবস্ত হয়ে যেত গির্জাগুলো ও মঠগুলি ও উপাসনালয় ও মসজিদ সমূহ যেখানে ‌র নাম প্রচুরভাবে স্মরণ করা হয়! আর নিশ্চয়ই সাহায্য করেন তাঁকে যে তাঁকে সাহায্য করে। নিঃসন্দেহ তো মহাবলীয়ান, মহাশক্তিশালী।

সমকালীন বাংলা

তাহাদেরকে তাহাদের ঘর - বাড়ি হইতে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হইয়াছে শুধু এই কারণে যে, তাহারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক যদি মানব জাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করিতেন, তাহা হইলে বিধ্বস্ত হইয়া যাইত খ্রিস্টান সংসারবিরাগীদের উপাসনাস্থান, গির্জা, ইয়াহূদীদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ - যাহাতে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। নিশ্চয়ই তাহাকে সাহায্য করেন যে তাঁহাকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই শক্তিমান, পরাক্রমশালী।

Note
الصلا ???
আবদুস শহীদ নাসিম

(কারণ) তাদেরকে না হকভাবে খারিজ করে দেয়া হয়েছে তাদের ঘর - বাড়ি থেকে। (তাদের বের করে দেয়া হয়েছে) শুধু এ কারণে যে, তারা বলে: ‘ আমাদের রব।’ যদি একদল মানুষকে অন্য দল দিয়ে প্রতিহত না করতেন, তাহলে অবশ্যি বিধ্বস্ত হয়ে যেতো (খৃষ্টান) বৈরাগীদের উপাসনালয়, গীর্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ যেগুলোতে বেশি বেশি স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। আর অবশ্যি ঐ ব্যক্তিকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই শক্তিধর মহাপরাক্রমশালী।

জহুরুল হক

এরাই, - - আমরা যদি এদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করি তাহলে এরা কায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে ও সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর সব কাজের পরিণাম ‌রই এখতিয়ারে।

সমকালীন বাংলা

আমি ইহাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করিলে ইহারা কায়েম করিবে, যাকাত দিবে এবং সৎকর্মের নির্দেশ দিবে ও অসৎকর্ম নিষেধ করিবে; আর সকল কর্মের পরিণাম ইখতিয়ারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এসব লোক হলো তারা) যাদের আমরা জমিনে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে, এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর সব কাজের পরিণাম তো আল্লাহর দায়িত্বে।

জহুরুল হক

আর যদি তারা তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে তবে তাদের আগেও প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের সম্প্রদায় ও 'আদের ও ছামূদের,

সমকালীন বাংলা

এবং লোকেরা যদি তোমাকে অস্বীকার করে তবে উহাদের পূর্বে অস্বীকার করিয়াছিল তো নূহ্, ‘আদ ও সামূদের সম্প্রদায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেই, তবে তাদের আগেও অস্বীকার করেছিল নূহ, আদ ও সামুদ জাতি।

জহুরুল হক

আর ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং লূতের সম্প্রদায়,

সমকালীন বাংলা

ইব্রাহীম ও লূতের সম্প্রদায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম এবং লুতের জাতিও।

জহুরুল হক

আর মাদিয়ানের বাসিন্দারা, আর মূসাকেও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, তথাপি আমি অবিশ্বাসীদের অবকাশ দিয়েছিলাম, তখন আমি তাদের পাকড়াও করলাম, সুতরাং কেমন হয়েছিল আমার শাস্তিদান!

সমকালীন বাংলা

এবং মাদ্ইয়ানবাসীরা আর অস্বীকার করা হইয়াছিল মূসাকেও। আমি কাফিরদেরকে অবকাশ দিয়াছিলাম, অতঃপর তাহাদেরকে শাস্তি দিয়াছিলাম। অতএব কেমন ছিল শাস্তি!

আবদুস শহীদ নাসিম

মাদইয়ানবাসীরাও। এছাড়া অস্বীকার করা হয়েছিল মূসাকেও। আমরা কাফিরদের অবকাশ দিয়েছি, তারপর পাকড়াও করেছি। কেমন অসহনীয় ছিলো আমার শাস্তি!

জহুরুল হক

কাজেকাজেই কত যে জনপদ ছিল, - - আমরা সেটা ধ্বংস করেছি যেহেতু তা অত্যাচারী ছিল, ফলে তা তার ছাদসহ ভেঙ্গে - চুরে রয়েছে, আর কূয়ো পরিত্যক্ত হয়েছে আর সুদৃঢ় প্রাসাদ!

সমকালীন বাংলা

আমি ধ্বংস করিয়াছি কত জনপদ যেইগুলির বাসিন্দা ছিল । এইসব জনপদ তাহাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হইয়াছিল এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হইয়াছিল ও কত সুদৃঢ় প্রাসাদও।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে জনপদ আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। কারণ, সেগুলোর অধিবাসীরা ছিলো যালিম। সেসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। কতো যে কূপ পরিত্যাক্ত হয়েছিল, আর কতো যে সুদৃঢ় প্রাসাদ।

জহুরুল হক

তারা কি তবে দুনিয়াতে ভ্রমণ করে নি যার ফলে তাদের লাভ হয়েছে অন্তঃকরণ যা দিয়ে তারা হৃদয়ঙ্গম করতে পারে অথবা কান যা দিয়ে তারা শুনতে পারে? বস্তুতঃ চোখ তো আদৌ অন্ধ নয়, কিন্তু অন্ধ হচেছ হৃদয় যা রয়েছে বুকের ভেতরে।

সমকালীন বাংলা

তাহারা কি দেশ ভ্রমণ করে নাই? তাহা হইলে তাহারা জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন হৃদয় ও স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হইতে পারিত। বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হইতেছে বক্ষস্থিত হৃদয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জমিনের বুকে পরিভ্রমণ করেনা? আর তাদের যদি আকলওয়ালা কলব থাকতো এবং শুনার মতো কান থাকতো! আর তাদের চোখ তো অন্ধ নয়, মূলত অন্ধ হলো তাদের বুকের মধ্যকার কলব (হৃদয়)।

জহুরুল হক

আর তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ তাঁর ওয়াদার কখনো খেলাফ করবেন না। আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর কাছে এক দিন তোমরা যা গণনা কর তার এক হাজার বছরের সমান।

সমকালীন বাংলা

তাহারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্নিত করিতে বলে, অথচ তাহার প্রতিশ্রুতি কখনও ভঙ্গ করেন না। তোমার প্রতিপালকের নিকট একদিন তোমাদের গণনার সহস্র বৎসরের সমান;

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমাকে দ্রুত আযাব এনে দিতে বলে। অথচ কখনো তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। আল্লাহর কাছে একদিন হলো তোমাদের হিসাবের হাজার বছরের সমান।

জহুরুল হক

আর কত যে জনবসতি ছিল - - তার জুলুমবাজি সত্ত্বেও আমি তাকে অবকাশ দিয়েছিলাম, তারপর আমি তাকে পাকড়াও করলাম, আর আমারই কাছে প্রত্যাবর্তন।

সমকালীন বাংলা

এবং আমি অবকাশ দিয়াছি কত জনপদকে যখন উহারা ছিল ; অতঃপর উহাদেরকে শাস্তি দিয়াছি এবং প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে যালিম জনপদকে আমি অবকাশ দিয়েছি, তারপর তাদের পাকড়াও করেছি। আমার কাছেই হবে তাদের (শেষ) প্রত্যাবর্তন।

জহুরুল হক

বলো - - ''ওহে মানবজাতি! আমি তো তোমাদের জন্য একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে মানুষ! আমি তো তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী;

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) বলো: ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের জন্যে একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’

জহুরুল হক

সেজন্য যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদের জন্য রয়েছে পরিত্রাণ ও সম্মানজনক জীবিকা।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা;

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাদের জন্যে থাকবে মাগফিরাত এবং সম্মানজনক জীবিকা।

জহুরুল হক

আর যারা আমাদের নির্দেশাবলী বিফল করার চেষ্টা করে তারাই হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা।

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা আমার আয়াতকে ব্যর্থ করিবার চেষ্টা করে তাহারাই হইবে জাহান্নামের অধিবাসী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা আমার আয়াতকে খাটো করার চেষ্টা করবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।

জহুরুল হক

আর তোমার আগে আমরা কোনো রসূল পাঠাই নি আর কোনো নবীও নয় এ ভিন্ন যে যখনি তিনি আকাঙ্খা করেছেন তখন শয়তান তাঁর আকাঙ্খা সম্পর্কে কুমন্ত্রণা দিয়েছে। কিন্তু বাতিল করে দেন শয়তান যেসব কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তাঁর নির্দেশাবলী প্রতিষ্ঠিত করেন। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী,

সমকালীন বাংলা

আমি তোমার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিয়াছি তাহাদের কেহ যখনই কিছু আকাঙ্খা করিয়াছে, তখনই শয়তান তাহার আকাঙ্খায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করিয়াছে, কিন্তু শয়তান যাহা প্রক্ষিপ্ত করে তাহা বিদূরিত করেন। অতঃপর তাঁহার আয়াতসমূহকে সু - প্রতষ্ঠিতি করেন এবং জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার আগে আমরা যে রসূল কিংবা যে নবীই পাঠিয়েছি, তাদের কেউ যখনই কোনো আকাঙক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু শয়তান যা নিক্ষেপ করে তা মুছে দেন এবং তখনই তাঁর আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

যেন শয়তান যে কুমন্ত্রণা দেয় সেটিকে তিনি করতে পারেন একটি পরীক্ষার বিষয় তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, আর যাদের হৃদয় হয়েছে কঠিন। আর অত্যাচারীরা তো নিশ্চয়ই সুদূর প্রসারী বিচ্ছিন্নতায় রয়েছে, - -

সমকালীন বাংলা

ইহা এইজন্য যে, শয়তান যাহা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি উহাকে পরীক্ষাস্বরূপ করেন তাহাদের জন্য যাহাদের অন্তরে ব্যাধি রহিয়াছে ও যাহারা পাষাণ হৃদয়। নিশ্চয়ই জালিমরা দুস্তর মতভেদে রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা এ জন্যে যে, শয়তান যা নিক্ষেপ করে সেটাকে আমরা পরীক্ষা বানাই তাদের জন্যে যাদের কলবে রোগ আছে এবং যারা পাষন্ডহৃদয়। নিশ্চয়ই যালিমরা রয়েছে অনেক মতভেদ ও সন্দেহের মধ্যে।

জহুরুল হক

আর যেন যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা জানতে পারে যে এটি তোমার প্রভুর কাছ থেকে সত্য, কাজেই তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে আর তাদের হৃদয় যেন তাঁর প্রতি বির্নত হতে পারে। আর নিঃসন্দেহ তো সহজ - সঠিক পথের দিকে পরিচালক তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে।

সমকালীন বাংলা

এবং এইজন্যও যে, যাহাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে তাহারা যেন জানিতে পারে যে, ইহা তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে প্রেরিত সত্য; অতঃপর তাহারা যেন উহাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাহাদের অন্তর যেন উহার প্রতি অনুগত হয়। যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদেরকে অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর এটা এ জন্যেও, যাতে করে যাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা জানতে পারে যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মহাসত্য। তারপর তারা যেনো তাতে ঈমান আনে এবং সেটার অনুগত হয়। অবশ্যি তাদেরকে পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে, যারা ঈমান আনে।

জহুরুল হক

আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা এ সন্বন্ধে সন্দেহ করা থেকে বিরত হবে না যতক্ষণ না ঘড়িঘন্টা অতর্কিতে তাদের উপরে এসে পড়ে, অথবা তাদের উপরে এসে পড়ে এক ধ্বংসা‌ত্মক দিনে শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

যাহারা করিয়াছে তাহারা উহাতে সন্দেহ পোষণ হইতে বিরত হইবে না, যতক্ষণ না উহাদের নিকট কিয়ামত আসিয়া পড়িবে আকস্মিকভাবে, অথবা আসিয়া পড়িবে এক বন্ধ্যা দিনের শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা তাতে সন্দেহ পোষণ করতেই থাকবে, যতোদিন না তাদের কাছে আকস্মিকভাবে কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা এসে পড়ে এক বন্ধ্যা দিনের আযাব।

জহুরুল হক

''আজকের দিনে সর্বাধিনায়কত্ব হচ্ছে ‌র।’’ তিনি তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে তারাই থাকবে আনন্দময় উদ্যানে।

সমকালীন বাংলা

সেই দিন আধিপত্য; তিনিই তাহাদের বিচার করিবেন। সুতরাং যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহারা অবস্থান করিবে সুখদ কাননে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব থাকবে আল্লাহর হাতে। তিনি তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। তারপর যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে (বলে প্রমাণিত হবে), তারা থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে।

জহুরুল হক

আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে ও আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে, তারাই তবে - - তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

আর যাহারা করে ও আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তাহাদেরই জন্য রহিয়াছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কুফুরি করেছে এবং আমাদের আয়াতকে অস্বীকার করেছে (বলে প্রমাণিত হবে), তাদের জন্যে থাকবে অপমানকর আযাব।

জহুরুল হক

আর যারা ‌র পথে হিজরত করে, তারপর নিহত হয় অথবা মৃত্যু বরণ করে, অবশ্যই তাদের উত্তম জীবনোপকরণ উপভোগ করতে দেবেন। আর নিঃসন্দেহ - - তিনিই তো জীবিকাদাতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা হিজরত করিয়াছে পথে, অতঃপর নিহত হইয়াছে অথবা মারা গিয়াছে তাহাদেরকে অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করিবেন; আর নিশ্চয়ই তিনি তো সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, তারপর নিহত হয়েছে, কিংবা তাদের মৃত্যু হয়েছে, অবশ্যি তাদের উত্তম রিযিক দান করবেন। আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।

জহুরুল হক

তিনি নিশ্চয়ই তাদের প্রবেশ করাবেন এমন একটি প্রবেশস্থলে যাতে তারা খুশি হবে। আর নিঃসন্দেহ তো সর্বজ্ঞাতা, অতি অমায়িক।

সমকালীন বাংলা

তিনি তাহাদেরকে অবশ্যই এমন স্থানে দাখিল করিবেন যাহা তাহারা পসন্দ করিবে এবং

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তাদের দাখিল করবেন এমন (উদ্যানে) যা তারা পছন্দ করবে। নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং সহনশীল।

জহুরুল হক

এই রকমেই। আর যে প্রতিশোধ লয় যতটা উৎপীড়ন তাকে করা হয়েছিল তার সমপরিমাণে, তারপর তার প্রতি অত্যাচার করা হয়, তাহলে নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবেন। নিঃসন্দেহ তো পরম ক্ষমাশীল, পরিত্রাণকারী।

সমকালীন বাংলা

ইহাই হইয়া থাকে, কোন ব্যক্তি নিপীড়িত হইয়া তুল্য প্রতিশোধ গ্রহণ করিলে ও পুনরায় সে অত্যাচারিত হইলে তাহাকে অবশ্যই সাহায্য করিবেন ; নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ রকমই হবে। কোনো ব্যক্তি যদি নির্যাতিত হয়ে অনুরূপ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তারপরও যদি সে আবার নির্যাতিত হয়, অবশ্য অবশ্যি তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই কোমল, ক্ষমাশীল।

জহুরুল হক

এমন করেই, কেননা রাত্রিকে প্রবেশ করান দিনের মধ্যে আর দিনকে ঢুকান রাতের মধ্যে, আর ‌ই তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

সমকালীন বাংলা

উহা এইজন্য যে, রাত্রিকে প্রবিষ্ট করান দিবসের মধ্যে এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করান রাত্রির মধ্যে এবং সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা;

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, রাতকে প্রবেশ করিয়ে দেন দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে, আর নিশ্চয়ই সব শুনেন, সব দেখেন।

জহুরুল হক

এ ধরনেই, কেননা নিঃসন্দেহ - - তিনিই সত্য, আর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে তারা যাকে ডাকে তা তো মিথ্যা আর নিঃসন্দেহ - - তিনিই সমুচ্চ, মহামহিম।

সমকালীন বাংলা

এইজন্যও যে, তিনিই সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাকে ডাকে উহা তো অসত্য, এবং , তিনিই তো সমুচ্চ, মহান।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ এটাও যে, আল্লাহ্ই একমাত্র মহাসত্য, আর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যা ডাকে তা অসত্য, বাতিল। আর আল্লাহ্ই মর্যাদাবান ও শ্রেষ্ঠ।

জহুরুল হক

তুমি কি দেখ না যে আকাশ থেকে পাঠান পানি, তখন পৃথিবী সবুজ রঙ ধারণ করে? নিঃসন্দেহ সদাশয় পূর্ণ ওয়াকিবহাল।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, বারি বর্ষণ করেন আকাশ হইতে যাহাতে সবুজ শ্যামল হইয়া উঠে। নিশ্চয় সুক্ষর্দশী, র্সববিষয়ে খবরদার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনা, নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, আর তখন জমিন সবুজ শ্যামল হয়ে উঠে। নিশ্চয়ই সূক্ষ্মদর্শী, সব বিষয়ে অবগত।

জহুরুল হক

যা কিছু আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও যা কিছু আছে পৃথিবীতে সে - সমস্ত তাঁরই। আর নিঃসন্দেহ ‌, - - তিনিই তো স্বয়ংসমৃদ্ধ, পরম প্রশংসিত।

সমকালীন বাংলা

আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা তাঁহারই, এবং , তিনিই তো অভাবমুক্ত, প্রশংসনীয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। নিশ্চয়ই অভাবমুক্ত। সপ্রশংসিত।

জহুরুল হক

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা তোমাদের অধীন করেছেন, আর জাহাজগুলোও যা তাঁর নির্দেশে সমুদ্রে বিচরণ করছে। আর তিনি আকাশকে ঠেকিয়ে রাখেন তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে পৃথিবীর উপরে পড়া থেকে। নিঃসন্দেহ মানুষদের প্রতি তো পরম স্নেহময়, অফুরন্ত ফলদাতা।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তৎসমুদয়কে এবং তাঁহার নির্দেশে সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহকে? আর তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাহাতে উহা পতিত না হয় পৃথিবীর উপর তাঁহার অনুমতি ব্যতীত। ভূপৃষ্টে পততি হয় না। নিশ্চয় মানুষরে প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনা, যে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে রেখেছেন পৃথিবীতে যা আছে সবকিছুকে এবং তাঁরই নির্দেশে সমুদ্রে চলাচল করা নৌযানকে। তিনিই স্থির রাখেন আসমানকে তাঁর অনুমতি ছাড়া পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি অতীব কোমল, পরম দয়াবান।

জহুরুল হক

আর তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর তিনি তোমাদের জীবিত করবেন। নিঃসন্দেহ মানুষগুলো বড় অকৃতজ্ঞ।

সমকালীন বাংলা

এবং তিনিই তোমাদেরকে জীবন দান করিয়াছেন ; অতঃপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন, পুনরায় তোমাদেরকে জীবন দান করিবেন। মানুষ তো অতি মাত্রায় অকৃতজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের জীবন দান করেন, অত:পর মৃত্যু দেন, তারপর আবার জীবিত করবেন। নিশ্চয়ই মানুষ ভীষণ অকৃতজ্ঞ।

জহুরুল হক

প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমরা নির্ধারিত করে দিয়েছি নিয়ম - কানুন যা তারা পালন করে, সুতরাং তারা যেন তোমার সঙ্গে এই ব্যাপারে বিতর্ক না করে, আর তোমার প্রভুর দিকে আহ্বান করো। নিঃসন্দেহ তুমিই তো রয়েছ সহজ - সঠিক পথের উপরে।

সমকালীন বাংলা

আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত করিয়া দিয়াছি ‘ইবাদত পদ্ধতি - যাহা উহারা অনুসরণ করে। সুতরাং উহারা যেন তোমার সঙ্গে বিতর্ক না করে এই ব্যাপারে। তুমি উহাদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর, তুমি তো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিটি উম্মতের জন্যে আমরা নির্ধারিত করে দিয়েছি ইবাদত করার পদ্ধতি, যা তারা অনুসরণ করে। সুতরাং তারা যেনো এ বিষয়ে তোমার সাথে বিতর্ক না করে। তুমি তাদেরকে তোমার প্রভুর দিকে আহবান করো, নিশ্চয়ই তুমি রয়েছো সরল সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।

জহুরুল হক

আর যদি তোমার সঙ্গে তারা তর্ক - বিতর্ক করে তবে বল - - '' ভাল জানেন যা তোমরা করছো।’’

সমকালীন বাংলা

উহারা যদি তোমার সঙ্গে বিতণ্ডা করে তবে বলিও, ‘তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহর সম্যক অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার সাথে বিতর্ক করে, তবে তুমি বলো: তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ্ই ভালো জানেন।

জহুরুল হক

তোমাদের মধ্যে কিয়ামতের দিনে বিচার - মীমাংসা করে দেবেন যে - সব বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছিলে।

সমকালীন বাংলা

‘তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করিতেছ কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিচার - মীমাংসা করিয়া দিবেন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছো, কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে ফায়সালা করে দেবেন।

জহুরুল হক

তুমি কি জান না যে মহাকাশে ও পৃথিবীতে যা - কিছু আছে সে - সবই জানেন? নিঃসন্দেহ এটি আল্লাহর জন্যে সহজ ব্যাপার।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি জান না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যাহা কিছু রহিয়াছে তাহা জানেন? এটা আল্লাহর কাছে সহজ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি জানোনা, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই জানেন? সবই কিতাবে রেকর্ড করা আছে। আর এ কাজ আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

জহুরুল হক

তারা আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে যার উপাসনা করে তার জন্য তিনি কোনো দলিল পাঠান নি এবং তাদের কাছে সে - বিষয়ে কোনো জ্ঞানও নেই। আর অন্যায়াচারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।

সমকালীন বাংলা

এবং উহারা ‘ইবাদত করে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর যাহার সম্পর্কে তিনি কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই এবং যাহার সম্বন্ধে তাহাদের কোন জ্ঞান নাই। আর জালিমদের কোন সাহায্যকারী নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন সবের ইবাদত করে যাদের পক্ষে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি এবং এ সম্পর্কে তাদেরও কোনো জ্ঞান নেই। যালিমদের কোনো সাহায্যকারী হবেনা।

জহুরুল হক

আর যখন তদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী পাঠ করা হয় তখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের চেহারাতে তুমি অস্বীকৃতির পরিচয় পাবে। তারা চায় যারা আমাদের বাণীসমূহ তাদের কাছে পড়ে শুনায় তাদের উপরে লাফিয়ে পড়তে। তুমি বল - - ''আমি কি তবে তোমাদের সংবাদ দেব এ - সবের চেয়েও মন্দ কিছুর?’’ আগুন। এটি ওয়াদা করেছেন তাদেব জন্য যারা অবিশ্বাস পোষণ করে। আর কত মন্দ এ গন্তব্যস্থল!

সমকালীন বাংলা

এবং উহাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হইলে তুমি কাফিরদের মুখমণ্ডলে অসন্তোষ লক্ষ্য করিবে। যাহারা উহাদের নিকট আমার আয়াত তিলাওয়াত করে তাহাদেরকে উহারা আক্রমণ করিতে উদ্যত হয়। বল, ‘তবে কি আমি তোমাদেরকে ইহা অপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দিব? - ইহা আগুন। এই বিষয়ে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন কাফিরদেরকে এবং ইহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।’

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তুমি কাফিরদের চেহারায় লক্ষ্য করো অসন্তোষ। তারা তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত হয়, যারা তিলাওয়াত করে আমাদের আয়াত। তুমি বলো: আমি কি এর চাইতেও মন্দ কিছুর সংবাদ তোমাদের দেবো? তাহলো জাহান্নাম! এর ওয়াদাই কাফিরদের দিয়েছেন। আর এটা যে ফিরে যাবার কতো নিকৃষ্ট জায়গা!

জহুরুল হক

ওহে মানবজাতি! একটি উপমা ছোঁড়া হচ্ছে, কাজেই তা শোনো। নিঃসন্দেহ ‌কে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের ডাকো তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না যদিও সেজন্য তারা সবাই একত্রিত হয়। আর যদি মাছিটি তাদের কাছ থেকে কিছু নিয়ে যায়, তারা ওর কাছ থেকে সেটি ফিরিয়ে আনতে পারবে না। দুর্বল সেই অণ্বেষণকারী আর অন্বেষিত।

সমকালীন বাংলা

হে মানুষ ! একটি উপমা দেওয়া হইতেছে, মনোযোগ সহকারে উহা শ্রবণ কর : তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাহাদেরকে ডাক তাহারা তো কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করিতে পারিবে না, এই উদ্দেশ্যে তাহারা সকলে একত্র হইলেও। এবং মাছি যদি কিছু ছিনাইয়া লইয়া যায় তাহাদের নিকট হইতে, ইহাও তাহারা উহার নিকট হইতে উদ্ধার করিতে পারিবে না। অন্বেষক ও অন্বেশিত কতই দুর্বল;

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! একটি উপমা দেয়া হচ্ছে, মনোযোগ দিয়ে তা শুনো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা একটা মাছিও সৃষ্টি করতে পারেনা, এ উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্র হলেও নয়। আর মাছি যদি তার থেকে কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তাও তার থেকে উদ্ধার করতে পারেনা। সাহায্য সন্ধানকারী এবং যার কাছে সাহায্য সন্ধান করা হয়, (তারা উভয়ই) কতো যে দুবর্ল!

জহুরুল হক

তারা ‌কে মান - সম্মান করে না তাঁর যোগ্য মর্যাদায়। নিঃসন্দেহ তো মহাবলীয়ান, মহাশক্তিশালী।

সমকালীন বাংলা

তাঁরা আল্লাহর যথোচিত মর্যাদা উপলদ্ধি করে না, নিশ্চয়ই সর্বশক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর যথার্থ মর্যাদা উলব্ধি করেনা। নিশ্চয়ই শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

জহুরুল হক

ফিরিশতাদের মধ্যে থেকে বাণীবাহকদের মনোনীত করেন, এবং মানুষের মধ্যে থেকেও। নিঃসন্দেহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

সমকালীন বাংলা

ফিরিশ্তাদের মধ্য হইতে মনোনীত করেন বাণীবাহক এবং মানুষের মধ্য হইতেও ; র্সবশ্রোতা র্সব দ্রষ্টা!

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরেশতাদের থেকে বাণী বাহক মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য থেকেও মনোনীত করেন। সব শুনেন, সব দেখেন।

জহুরুল হক

তিনি অবগত আছেন যা - কিছু আছে তাদের সামনে আর যা - কিছু আছে তাদের পেছনে, আর ‌র কাছেই সব ব্যাপার ফিরিয়ে আনা হয়।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যাহা কিছু আছে তিনি তাহা জানেন এবং সমস্ত বিষয় আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সামনে এবং পেছনে যা আছে সবই তিনি জানেন, আর সব বিষয় ফিরে যায় আল্লাহরই কাছে।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা রুকু করো ও সিজদা করো, আর তোমাদের প্রভুর এবাদত করো এবং ভালকাজ করো যাতে তোমরা হতে পারো।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ ! তোমরা রুকূ‘ কর, সিজ্দা কর এবং তোমাদের প্রতিপালকের ‘ইবাদত কর ও সৎকর্ম কর, যাহাতে হইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! রুকু করো, সাজদা করো এবং ইবাদত করো তোমাদের প্রভুর, আর (মানব) কল্যাণের কাজ করো, অবশ্যি তোমরা হবে। (সাজদা)

জহুরুল হক

আর ‌র পথে জিহাদ করো যেভাবে তাঁর পথে জিহাদ করা কর্তব্য। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন, তবে তিনি তোমাদের উপরে ধর্মের ব্যাপারে কোনো কাঠিন্য আরোপ করেন নি। তোমাদের পিতৃপুরুষ ইব্রাহীমের ধর্মমত। তিনি তোমাদের নামকরণ করেছেন 'মুসলিম’, - - এর আগেই আর এতেও, যেন এই রসূল তোমাদের জন্য একজন সাক্ষী হতে পারেন এবং তোমরাও জনগণের জন্য সাক্ষী হতে পার। অতএব তোমরা কায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে এবং ‌কে শক্ত ক’রে ধরে থাকবে। তিনিই তোমাদের অভিভাবক, সুতরাং কত উত্তম এই অভিভাবক এবং কত উত্তম এই সাহায্যকারী!

সমকালীন বাংলা

এবং জিহাদ কর পথে যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করিয়াছেন। তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেন নাই। ইহা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করিয়াছেন ‘মুসলিম’ এবং এই কিতাবেও ; যাহাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হয় এবং তোমরা সাক্ষীস্বরূপ হও মানব জাতির জন্য। সুতরাং তোমরা কায়েম কর, যাকাত দাও এবং অবলম্বন কর ; তিনিই তোমাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী তিনি !

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জিহাদ করো আল্লাহর মধ্যে (উদ্দেশ্যে) জিহাদের হক আদায় করে। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং দীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের উপর কোনো কষ্ট চাপিয়ে দেননি। তোমাদের পিতা ইবরাহিমের আদর্শের উপর তোমরা প্রতিষ্ঠিত হও। আল্লাহ্ই তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ পূর্বেও এবং এই কিতাবেও, যাতে করে এই রসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হয় আর তোমরাও সাক্ষী হও মানব জাতির উপর। অতএব তোমরা কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আঁকড়ে ধরো আল্লাহকে। তিনিই তোমাদের মাওলা (অভিভাবক)। কতো যে উত্তম মাওলা তিনি এবং কতো যে উত্তম সাহায্যকারী!

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme