হা মীম!
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; হা - মীম।
হা মিম!
Chapter 43, 89 verses
হা মীম!
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; হা - মীম।
হা মিম!
সুস্পষ্ট গ্রন্থখানা সন্বন্ধে ভেবে দেখো - -
শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের;
সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ!
নিঃসন্দেহ আমরা এটিকে এক আরবী ভাষণ করেছি যেন তোমরা বুঝতে পারো।
আমি ইহা অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় কুরআন, যাহাতে তোমরা বুঝিতে পার।
আমরা এই কুরআন আরবি ভাষায় করেছি যেনো তোমরা বুঝতে পারো।
আর নিঃসন্দেহ এটি রয়েছে আমাদের কাছে আদিগ্রন্থে, মহোচ্চ, জ্ঞানসমৃদ্ধ।
ইহা তো রহিয়াছে আমার নিকট উম্মুল কিতাবে; ইহা মহান, জ্ঞানগর্ভ।
এটি আমাদের কাছে উম্মুল কিতাবে (মূল গ্রন্থে, Mother Book - এ) সংরক্ষিত আছে। এটি অতি উঁচু মর্যাদাসম্পন্ন, বিজ্ঞানময়।
কী! আমরা কি তোমাদের থেকে স্মারক গ্রন্থখানা সর্বতোভাবে সরিয়ে নেব যেহেতু তোমরা হচ্ছ এক সীমালংঘনকারী জাতি?
আমি কি তোমাদের হইতে এই উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করিয়া লইব এই কারণে যে, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
যেহেতু তোমরা একটি সীমালংঘনকারী জাতি, সে জন্যে কি আমরা তোমাদের থেকে এই উপদেশ গ্রন্থ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেবো?
আর নবীদের কতজনকে যে আমরা পূর্ববর্তীদের কাছে পাঠিয়েছিলাম?
পূর্ববর্তীদের নিকট আমি বহু নবী প্রেরণ করিয়াছিলাম।
আগেকার লোকদের কাছে আমরা বহু নবী পাঠিয়েছি।
আর নবীদের এমন কেউ তাদের কাছে আসেন নি যাঁকে তারা বিদ্রূপ না করত।
এবং যখনই উহাদের নিকট কোন নবী আসিয়াছে উহারা তাহাকে ঠাট্টা - বিদ্রপকরিয়াছে।
যখনই তাদের কাছে কোনো নবী এসেছিল, তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল।
তারপর এদের চাইতে বলবীর্যে বেশী শক্তিশালীদেরও আমরা ধ্বংস করেছিলাম, আর পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত অতীতে রয়েছে।
যাহারা ইহাদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল ছিল, তাহাদেরকে আমি ধ্বংস করিয়াছিলাম; আর এইভাবে চলিয়া আসিয়াছে পূর্ববর্তীদের অনুরূপ দৃষ্টান্ত।
তাদের আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, তারা ছিলো এদের চাইতেও প্রবল শক্তিধর। যারা অতীত হয়েছে এ রকমই ছিলো তাদের দৃষ্টান্ত।
আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা কর - - ''কে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন?’’ - - তারা নিশ্চয়ই বলবে - - ''এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাশক্তিশালী সর্বজ্ঞাতা - -
তুমি যদি উহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছে?’ উহারা বলিবে এগুলাে সৃষ্টি করছেনে পরাক্রমশালী র্সবজ্ঞ ।
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, কে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ আর পৃথিবী? তারা অবশ্যি বলবে: ‘মহাশক্তিধর মহাজ্ঞানী সৃষ্টি করেছেন সেগুলো।’
যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন এক খাটিয়া, আর এতে তৈরী করেছেন তোমাদের কারণে পথসমূহ, যাতে তোমরা পথের দিশা পেতে পার,
যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করিয়াছেন শয্যা এবং উহাতে করিয়াছেন তোমাদের চলিবার পথ, যাহাতে তোমরা সঠিক পথ পাইতে পার;
তিনিই তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন শয্যা - সমতল এবং তাতে তোমাদের জন্যে তৈরি করে দিয়েছেন চলাচলের পথ, যাতে করে তোমরা সঠিক পথে চলতে পারো,
আর যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন পরিমাপ মতো, তারপর তা দিয়ে আমরা প্রাণবন্ত করি মৃত দেশকে, এইভাবেই তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।
এবং যিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। অতঃপর আমি তদ্দারা সঞ্জীবিত করি নির্জীব জনপদকে। এইভাবেই তোমাদেরকে বাহির করা হইবে।
এবং তিনিই আসমান থেকে নাযিল করেন পানি পরিমাণ মতো, তা দিয়ে আমরা জীবিত করে তুলি মরা জমিনকে। এভাবেই পুনরুত্থিত করা হবে তোমাদেরকেও।
আর যিনি সমস্ত - কিছু জোড়ায় - জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন, আর তোমাদের জন্য নৌকা - জাহাজ ও গবাদি - পশুর মধ্যে বানিয়েছেন সেগুলো যা তোমরা চড়ো, - -
আর যিনি সকল প্রকারের জোড়া যুগল সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও আন‘আম তথা চতুষ্পদ জন্তু, যাহাতে তোমরা আরোহণ কর ।
তিনিই সৃষ্টি করেন প্রতিটি জিনিসের জোড়া, আর তিনিই তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেন নৌযান ও পশু, যাতে তোমরা আরোহণ করো।
যেন তোমরা তাদের পিঠের উপরে মজবুত হয়ে বসতে পার, তারপর তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ স্মরণ করো যখন তোমরা তাদের উপরে বস, আর বলো - - ''সকল মহিমা তাঁর যিনি এদের আমাদের বশ করেছেন, অথচ আমরা এতে সমর্থ ছিলাম না,
যাহাতে তোমরা উহাদের পৃষ্ঠে স্থির হইয়া বসিতে পার. তারপর তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তোমরা উহার উপর স্থির হইয়া বস ; এবং বল, ‘পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি ইহাদেরকে আমাদের বশীভূত করিয়া দিয়াছেন, যদিও আমরা সমর্থ ছিলাম না ইহাদেরকে বশীভূত করিতে।
যাতে করে তোমরা তাদের পিঠে স্থির হয়ে বসতে পারো। এবার তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমরা সেগুলোর উপর স্থির হয়ে বসো এবং বলো: ‘‘পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছেন এটিকে। আমরা তো এটাকে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না।
''আর অবশ্য আমরা আমাদের প্রভুর দিকেই তো ফিরে যাব।’’
‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করিব।’
আমরা অবশ্যি ফিরে যাবো আমাদের প্রভুর কাছে।’’
তথাপি তারা তাঁর বান্দাদের মধ্যে থেকে তাঁর সঙ্গে অংশীদার বানিয়েছে। নিঃসন্দেহ মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।
উহারা তাঁহার বান্দাদের মধ্য হইতে তাঁহার অংশ সাব্যস্ত করিয়াছে। মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।
কিন্তু তারা তাঁর দাসদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ (অংশীদার) সাব্যস্ত করে নিয়েছে। মানুষ একেবারেই সুস্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে থেকে কি তিনি কন্যাদের গ্রহণ করেছেন আর তোমাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন পুত্রদের?
তিনি কি তাঁহার সৃষ্টি হইতে নিজের জন্য কন্যা সন্তান গ্রহণ করিয়াছেন এবং তোমাদেরকে বিশিষ্ট করিয়াছেন পুত্র সন্তান দ্বারা?
তিনি কি নিজের সৃষ্টির মধ্য থেকে নিজের জন্যে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন, আর তোমাদের গুণাণ্বিত করেছেন পুত্র সন্তান দিয়ে?
আর যখন তাদের কাউকে সুসংবাদ দেওয়া হয় তাই দিয়ে যার দৃষ্টান্ত সে স্থাপন করে পরম করুণাময়ের প্রতি, তার চেহারা তখন কালো হয়ে যায় আর সে অতিমাত্রায় ক্ষুদ্ধ্ব হয়।
দয়াময় আল্লাহর প্রতি উহারা যাহা আরোপ করে উহাদের কাহাকেও সেই সন্তানের সংবাদ দেওয়া হইলে তাহার মুখমণ্ডল কালো হইয়া যায় এবং সে দুঃসহ মর্ম যাতনায় ক্লিষ্ট হয়।
তারা রহমানের জন্যে যে দৃষ্টান্ত আরোপ করে, তাদের কাউকেও সেই (কন্যা সন্তানের) সংবাদ দেয়া হলে তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে জর্জরিত হয় দু:সহ মর্ম বেদনায়।
তবে কি যে গহনাগাটিতে রক্ষিত আর যে বিতর্ককালে স্পষ্টবাদিতা বিহীন?
উহারা কি প্রতি আরোপ করে এমন সন্তান, যে অলঙ্কারে মণ্ডিত হইয়া লালিত - পালিত হয় এবং তর্ক - বিতর্ককালে স্পষ্ট বক্তব্যে অসমর্থ?
তারা কি আল্লাহর প্রতি এমন সন্তান আরোপ করে, যে অলংকারে সজ্জিত হয়ে লালিত পালিত হয় এবং বিতর্কের ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট নয়?
আর তারা ফিরিশতাদের, যারা খোদ পরম করুণাময়ের দাস, কন্যা বানায়। কী! এদের সৃষ্টি কি তারা দেখেছিল? তাদের সাক্ষ্য শীঘ্রই লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উহারা দয়াময় বান্দা ফিরিশ্তাদেরকে নারী গণ্য করিয়াছে ; ইহাদের সৃষ্টি কি উহারা প্রত্যক্ষ করিয়াছিল? উহাদের উক্তি অবশ্য লিপিবদ্ধ করা হইবে এবং উহাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হইবে।
ফেরেশতা, যারা রহমানের দাস, তাদেরকে তারা নারী গণ্য করে। তারা কি তাদের সৃষ্টির সময় উপস্থিত ছিলো? তাদের সাক্ষ্য অবশ্যি লিখে নেয়া হবে এবং তাদের জেরা করা হবে।
আর তারা বলে - - ''পরম করুণাময় যদি চাইতেন তবে আমরা এ - সবের উপাসনা করতাম না।’’ তাদের এ ব্যাপারে কোনো জ্ঞান নেই, তারা তো শুধু ঝুটা আন্দাজই করছে।
উহারা বলে, ‘দয়াময় ইচ্ছা করিলে আমরা ইহাদের পূজা করিতাম না।’ এ বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই ; উহারা তো কেবল মনগড়া বলিতেছে।
তারা বলে? ‘রহমান চাইলে আমরা তাদের (ফেরেশতাদের) পূজা করতাম না।’ এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল মনগড়া কথাই বলছে।
অথবা তাদের কি এর আগে আমরা কোনো গ্রন্থ দিয়েছি, ফলে তারা তাতে আকঁড়ে রয়েছে?
আমি কি উহাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দান করিয়াছি যাহা উহারা দৃঢ়ভাবে ধারণ করিয়া আছে?
নাকি আমরা এই কুরআনের আগে তাদের কোনো কিতাব দিয়েছিলাম, এবং তারা সেটিকে মজবুত করে আঁকড়ে ধরতে চাইছে?
না, তারা বলে - - ''আমরা তো আমাদের পিতৃপুরুষদের একটি সম্প্রদায়ভুক্ত পেয়েছি, আর আমরা নিঃসন্দেহে তাদেরই পদচিহ্নের উপরে পরিচালিত হয়েছি।’’
বরং উহারা বলে, ‘আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পাইয়াছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাহাদেরই পদাংক অনুসরণ করিতেছি।’
বরং তারা বলে: ‘আমাদের পূর্ব পুরুষদের আমরা একটি ধর্ম বিশ্বাসের উপর পেয়েছি, আমরা তাদেরই অনুসরণ করে চলবো।’
আর এইভাবেই তোমার আগে কোনো জনপদে আমরা সতর্ককারীদের কাউকেও পাঠাই নি, যার বড়লোকেরা না বলেছে - - ''আমরা নিশ্চয়ই আমাদের পিতৃপুরুষদের একটি সম্প্রদায়ভুক্ত পেয়েছি, আর আমরা আলবৎ তাদেরই পদাংকের অনুসারী।’’
এইভাবে তোমার পূর্বে কোন জনপদে যখনই আমি কোন সতর্ককারী প্রেরণ করিয়াছি তখন উহার সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিরা বলিত, ‘আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পাইয়াছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাহাদেরই পদাংক অনুসরণ করিতেছি।’
এভাবে তোমার আগে আমরা যখনই কোনো জনপদে কোনো সতর্ককারী (রসূল) পাঠিয়েছি, সেখানকার বিত্তশালী প্রভাবশালীরা বলেছে: ‘আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের একটি ধর্ম বিশ্বাসের উপর পেয়েছি। আমরা তাদেরই একতেদা (অনুকরণ) করে চলবো।’
তিনি বলেছিলেন - - ''কী! যদিও আমি তোমাদের কাছে তার চাইতেও ভালো পথনির্দেশ নিয়ে এসেছি যার উপরে তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছিলে?’’ তারা বললে, ''তোমাদের যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তাতে নিশ্চয়ই অবিশ্বাসী।
সেই সতর্ককারী বলিত, ‘তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে পথে পাইয়াছ, আমি যদি তোমাদের জন্য তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ আনয়ন করি তবুও কি তোমরা তাহাদের পদাংক অনুসরণ করিবে? তাহারা বলিত, ‘তোমরা যাহাসহ প্রেরিত হইয়াছ আমরা তাহা প্রত্যাখ্যান করি।’
সেই সতর্ককারী তাদের বলতো: ‘তোমরা তোমাদের পূর্ব পুরুষদের যে বিশ্বাস ও আচারের উপর পেয়েছো, আমি যদি তোমাদের জন্যে তার চাইতে উত্তম জীবন পদ্ধতি এনে থাকি, তবু কি তোমরা তাদের পদাংকই অনুসরণ করবে?’ তারা বলতো: ‘তোমরা যা নিয়ে এসেছো আমরা সেটার প্রতি কুফুরি (সেটা প্রত্যাখ্যান) করছি।’
সুতরাং আমরা তাদের পরিণতি দিয়েছিলাম, অতএব চেয়ে দেখো - - কেমন হয়েছিল মিথ্যাচারীদের পরিণাম!
অতঃপর আমি উহাদের হইতে প্রতিশোধ লইলাম। দেখ, মিথ্যাচারীদের পরিণাম কী হইয়াছে।
ফলে আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। এখন চেয়ে দেখো, প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি কী রকম হয়ে থাকে?
আর স্মরণ করো! ইব্রাহীম তাঁর পিতৃকে ও তাঁর স্বজাতিকে বললেন, ''তোমরা যার পূজা কর তা থেকে আমি অবশ্যই মুক্ত,
স্মরণ কর, ইব্রাহীম তাহার পিতা এবং সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা যাহাদের পূজা কর তাহাদের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নাই;
স্মরণ করো, ইবরাহিম তার পিতাকে এবং তার জাতিকে বলেছিল: ‘‘আপনারা যাদের পূজা করছেন, আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।
''তাঁকে ব্যতীত যিনি আমাকে আদিতে সৃষ্টি করেছেন, কাজেই নিশ্চয় তিনি শীঘ্রই আমাকে পথ দেখাবেন।’’
‘সম্পর্ক আছে শুধু তাঁহারই সঙ্গে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তিনিই আমাকে সৎপথে পরিচালিত করিবেন।’
আমার সম্পর্ক শুধু তাঁর সাথে গড়ে নিলাম, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন।’’
আর তিনি এটিকে তাঁর বংশধরদের মধ্যে একটি চিরন্তন বাণী বানিয়েছিলেন, যেন তারা ফিরতে পারে।
এই ঘোষণাকে সে স্থায়ী বাণীরূপে রাখিয়া গিয়াছে তাহার পরবর্তীদের জন্য, যাহাতে উহারা প্রত্যাবর্তন করে।
ইবরাহিম তার এই ঘোষণাকে স্থায়ী বাণী হিসেবে রেখে গেছে তার পরবর্তীদের জন্যে যাতে করে তারা ফিরে আসে (আল্লাহর দিকে)।
বস্তুতঃ আমি এদের ও এদের পূর্বপুরুষদের উপভোগ করতে দিয়েছিলাম, যে পর্যন্ত না তাদের কাছে এসেছিল মহাসত্য ও একজন স্পষ্ট প্রতীয়মান রসূল।
বরঞ্চ আমিই উহাদেরকে এবং উহাদের পূর্বপুরুষদেরকে দিয়াছিলাম ভোগের সামগ্রী, অবশেষে উহাদের নিকট আসিল সত্য এবং স্পষ্ট বর্ণনাকারী রাসূল।
বরং আমিই তাদের এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের দিয়েছি ভোগের সামগ্রী, অবশেষে তাদের কাছে সত্য এসেছে এবং এসেছে এক সুস্পষ্ট বার্তাবাহক রসূল।
আর এখন যেহেতু তাদের কাছে মহাসত্য এসেই গেছে, তারা বলছে, ''এ এক জাদু, আর আমরা অবশ্যই এতে অবিশ্বাসী।’’
যখন উহাদের নিকট সত্য আসিল, উহারা বলিল, ‘ইহা তো জাদু এবং আমরা ইহা প্রত্যাখ্যান করি।’
যখন তাদের কাছে সত্য এলো, তারা বললো: ‘এতো ম্যাজিক, আমরা একে প্রত্যাখ্যান করছি।’
আর তারা বলে, ''এই কুরআনখানা দুটো জনপদের মধ্যের কোনো এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে কেন অবতীর্ণ হল না?’’
এবং ইহারা বলে, ‘এই কুরআন কেন নাযিল করা হইল না দুই জনপদের কোন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির উপর?’
তারা আরো বলেছে: ‘দুই জনপদের (মক্কা ও তায়েফের) কোনো মহান ব্যক্তিত্বের কাছে কেন এই কুরআন নাযিল হলোনা?’
তারাই কি তোমার প্রভুর করুণা ভাগ - বাঁটা করে? আমরাই এই দুনিয়ার জীবনে তাদের জীবিকা তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দিই, এবং তাদের কাউকে অপরের উপরে মর্যাদায় উন্নত করি, যেন তাদের কেউ - কেউ অপরকে সেবারত করে নিতে পারে। আর তোমার প্রভুর করুণা বেশি ভাল তার চাইতে যা তারা জমা করে।
ইহারা কি তোমার প্রতিপালকের করুণা বণ্টন করে? আমিই উহাদের মধ্যে উহাদের জীবিকা বণ্টন করি, পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের উপর মর্যাদায় উন্নত করি, যাহাতে একে অপরের দ্বারা কাজ করাইয়া লইতে পারে; এবং উহারা যাহা জমা করে তাহা হইতে তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ উৎকৃষ্টতর।
তারাই কি বণ্টন করে তোমার প্রভুর রহমত? আমরাই তো তাদের মাঝে তাদের জীবিকা বণ্টন করে দেই পার্থিব জীবনে এবং একজনকে আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠ করি মর্যাদায়, যাতে করে তারা একে অপরকে কাজ আদায় করার জন্যে (কর্মচারী) নিয়োগ করতে পারে। তারা যা সঞ্চয় করে তার চাইতে তোমার প্রভুর রহমতই শ্রেষ্ঠ।
আর মানুষ যদি একই সম্প্রদায়ের হয়ে না যেতো তাহলে যারা পরম করুণাময়কে অস্বীকার করে তাদের জন্য আমরা নিশ্চয় বানাতাম - - তাদের ঘরগুলোর জন্য রূপোর ছাদ ও সিড়ি যাঁ দিয়ে তারা ওঠে,
সত্য প্রত্যাখ্যানে মানুষ এক - মতাবলম্বী হইয়া পড়িবে, এই আশংকা না থাকিলে দয়াময় যাহারা অস্বীকার করে, উহাদেরকে আমি দিতাম উহাদের গৃহের জন্য রৌপ্য - নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি যাহাতে উহারা আরোহণ করে,
সত্য প্রত্যাখ্যান করে মানুষ একই পথের অনুসারী হয়ে পড়বে - এ আশঙ্কা না থাকলে রহমানের প্রতি যারা কুফুরি করে, তাদেরকে আমরা দিতাম তাদের ঘরের জন্যে রূপার ছাদ ও সিঁড়ি, যা দিয়ে তারা বেয়ে উঠে,
আর তাদের ঘরবাড়ির জন্য দরজাগুলো ও পালংক যার উপরে তারা শয়ন করে,
এবং উহাদের গৃহের জন্য দরজা ও পালঙ্ক - যাহাতে উহারা হেলান দিয়া বিশ্রাম করিতে পারে,
আর তাদের ঘরের জন্যে দরজা এবং খাট পালঙ্ক - যাতে পিঠ রেখে তারা বিশ্রাম করে।
আর সোনাদানা। আর এ সমস্তই এই দুনিয়ার জীবনের ভোগসম্ভার বৈ তো নয়। আর পরকাল তোমার প্রভুর কাছে ধর্মভীরুদের জন্যেই।
এবং স্বর্ণ - নির্মিতও। আর এই সকলই তো শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ - সম্ভার। মুত্তাকীদের জন্য তোমার প্রতিপালকের নিকট রহিয়াছে আখিরাতের কল্যাণ।
যখন তাদের কাছে সত্য এলো, তারা বললো: ‘এতো ম্যাজিক, আমরা একে প্রত্যাখ্যান করছি।’
আর যে পরম করুণাময়ের স্মরণ থেকে বেখেয়াল হয় তার জন্য আমরা ধার্য করি একজন শয়তান, ফলে সে হয় তার জন্য একটি সহচর।
যে ব্যক্তি দয়াময় স্মরণে বিমুখ হয় আমি তাহার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, অতঃপর সে - ই হয় তাহার সহচর।
যে ব্যক্তি রহমানের যিকির থেকে বিমুখ হয়ে জীবন যাপন করে, আমরা তার পেছনে নিয়োগ করে দেই একটা শয়তান, সে হয়ে যায় তার সংগি।
আর নিঃসন্দেহ তারা তাদের পথ থেকে অবশ্যই ফিরিয়ে রাখে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎপথে চালিত হচ্ছে, - -
শয়তানেরাই মানুষকে সৎপথ হইতে বিরত রাখে, অথচ মানুষ মনে করে তাহারা সৎপথে পরিচালিত হইতেছে।
এই শয়তানেরাই মানুষকে বাধা দিয়ে রাখে আল্লাহর পথ থেকে। অথচ তারা মনে করে তারা সঠিক পথেই আছে।
যে পর্যন্ত না সে আমাদের কাছে আসে তখন সে বলবে - - ''হায় আফসোস! আমার মধ্যে ও তোমার মধ্যে যদি দূরত্ব হতো দুটি পূর্বাঞ্চলের! সুতরাং কত নিকৃষ্ট সহচর!’’
অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হইবে, তখন সে শয়তানকে বলিবে, ‘হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকিত!’ কত নিকৃষ্ট সহচর সে !
অবশেষে সে যখন আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হয়, তখন সে শয়তানকে বলে: ‘হায়, তোর এবং আমার মাঝে যদি পূর্ব - পশ্চিমের দূরত্ব থাকতো।’ কতো যে নিকৃষ্ট সংগি এই শয়তান।
আর - - ''যেহেতু তোমরা অন্যায়াচরণ করেছিলে তাই শাস্তিভোগের মধ্যে তোমরা অংশীদার হওয়া সত্ত্বেওে আজকের দিনে তোমাদের কোনো ফায়দা হবে না।’’
আর আজ তোমাদের এই অনুতাপ তোমাদের কোন কাজেই আসিবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করিয়াছিলে ; তোমরা তো সকলেই শাস্তিতে শরীক।
আজ তোমাদের এই অনুতাপ কোনো কাজেই আসবেনা যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করেছিলে। তোমরা সবাই শরিক হবে আযাবে।
কি! তুমি কি তবে বধিরকে শোনাতে পারবে, অথবা অন্ধকে এবং যে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে তাকে পথ দেখাতে পারবে?
তুমি কি শোনাইতে পারিবে বধিরকে অথবা যে অন্ধ ও যে ব্যক্তি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে, তাহাকে কি পারিবে সৎপথে পরিচালিত করিতে?
তা হলে তুমি কি শুনাবে বধিরকে, কিংবা সঠিক পথ দেখাবে অন্ধকে, আর ঐ ব্যক্তিকে যে রয়েছে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে?
কিন্ত আমরা যদি তোমাকে নিয়ে নিই, আমরা তবুও তাদের থেকে শেষ - পরিণতি আদায় করব,
আমি যদি তোমাকে লইয়া যাই, তবু আমি উহাদেরকে শাস্তি দিব ;
আমরা যদি তোমাকে নিয়ে যাই, তবু তাদের থেকে প্রতিশোধ নেবো।
অথবা আমরা নিশ্চয় তোমাকে দেখিয়ে দেব যা আমরা তাদের ওয়াদা করেছিলাম, কেননা আমরা আলবৎ তাদের উপরে ক্ষমতাবান।
অথবা আমি উহাদেরকে যে শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করিয়াছি, আমি তোমাকে তাহা প্রত্যক্ষ করাই, বস্তুত উহাদের উপর আমার তো পূর্ণ ক্ষমতা রহিয়াছে।
অথবা আমরা তাদেরকে শাস্তির যে ওয়াদা দিয়েছি তা যদি (তোমার জীবদ্দশাতেই) তোমাকে দেখাই। তাদের উপর আমাদের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
সেজন্য তোমার কাছে যা প্রত্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে তাতে আঁকড়ে ধরো। নিঃসন্দেহ তুমি সরল - সঠিক পথের উপরে রয়েছো।
সুতরাং তোমার প্রতি যাহা ওহী করা হইয়াছে তাহা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর। তুমি সরল পথেই রহিয়াছ।
অতএব তোমার প্রতি যে অহি করা হয়েছে, তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো। অবশ্যি তুমি রয়েছো সিরাতুল মুস্তাকিমের (সরল সঠিক পথের) উপর।
আর এইটি নিশ্চয়ই তো একটি স্মরণীয় গ্রন্থ তোমার জন্য ও তোমার লোকদের জন্য, আর শীঘ্রই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
কুরআন তো তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্য সম্মানের বস্তু ; তোমাদেরকে অবশ্যই এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হইবে।
এ কুরআন তোমার জন্যে এবং তোমার কওমের জন্যে একটি সম্মানের প্রতীক। শীঘ্রি এ (কুরআনের) বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
আর তোমার আগে আমাদের রসূলদের মধ্যের যাঁদের আমরা পাঠিয়েছিলাম তাঁদের জিজ্ঞেস করো - - আমরা কি পরম করুণাময়কে বাদ দিয়ে উপাসনার জন্য উপাস্যদের দাঁড় করিয়েছিলাম?
তোমার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করিয়াছিলাম তাহাদেরকে তুমি জিজ্ঞাসা কর, আমি কি দয়াময় ব্যতীত কোন দেবতা স্থির করিয়াছিলাম যাহার ইবাদত করা যায়?
তোমার আগে আমরা যেসব রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের জিজ্ঞাসা করো, আমরা কি রহমানের পরিবর্তে অন্য ইলাহদের (দেবতাদের) নির্ধারণ করেছিল, যাদের ইবাদত করা যেতে পারে?
আর আমরা নিশ্চয় মূসাকে আমাদের নির্দেশাবলী দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ফির'আউন ও তার প্রধানদের কাছে, কাজেই তিনি বলেছিলেন - - ''আমি নিশ্চয় বিশ্বজগতের প্রভুর বাণীবাহক।’’
মূসাকে তো আমি আমার নিদর্শনসহ ফির‘আওন ও তাহার পারিষদবর্গের নিকট পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রেরিত।’
আমরা মূসাকে আমাদের নিদর্শনাবলি নিয়ে পাঠিয়েছিলাম ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে। মূসা তাদের বলেছিল: ‘আমি রাব্বুল আলামিনের রসূল।’
কিন্ত যখন তিনি আমাদের নির্দেশাবলী নিয়ে তাদের কাছে এলেন তখন দেখো, তারা এসব নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে লাগল।
সে উহাদের নিকট আমার নিদর্শনসহ আসিবামাত্র উহারা তাহা লইয়া হাসি - ঠাট্টা করিতে লাগিল।
সে যখন তাদের কাছে আমাদের নিদর্শনাবলি নিয়ে উপস্থিত হয়, তখন তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে থাকে।
আর আমরা তাদের এমন কোনো নিদর্শন দেখাই নি যা ছিল না তার ভগিনী থেকে আরো বড়, আর আমরা তাদের পাকড়াও করেছিলাম শাস্তি দিয়ে যেন তারা ফিরে আসে।
আমি উহাদেরকে এমন কোন নিদর্শন দেখাই নাই যাহা উহার অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়। আমি উহাদেরকে শাস্তি দিলাম যাহাতে উহারা প্রত্যাবর্তন করে।
আমরা তাদের যে নিদর্শনই দেখিয়েছি, সেটি ছিলো সেটির বোনের (অনুরূপ নিদর্শনের) চাইতে বড়। আমরা তাদের আযাব দিয়েছিলাম যাতে করে তারা ফিরে আসে।
আর তারা বলেছিল - - ''ওহে জাদুকর! তোমার প্রভুকে আমাদের জন্য ডাকো যেমন তিনি তোমার কাছে অংগীকার করেছিলেন, আমরা অবশ্যই তখন সৎপথাবলন্বী হব।’’
উহারা বলিয়াছিল, হে জাদুকর! তোমার প্রতিপালকের নিকট তুমি আমাদের জন্য তাহা প্রার্থনা কর যাহা তিনি তোমার সঙ্গে অঙ্গীকার করিয়াছেন, তাহা হইলে আমরা অবশ্যই সৎপথ অবলম্বন করিব।’
তারা (মূসাকে) বলেছিল: ‘হে ম্যাজেসিয়ান! তোমার প্রভুর কাছে তুমি সেই জিনিস প্রার্থনা করো যা তিনি তোমার সাথে অংগীকার করেছেন। তাহলে অবশ্যি আমরা হিদায়াতের পথে চলে আসবো।’
তারপর আমরা যখন তাদের থেকে শাস্তিটা সরিয়ে নিলাম তখন দেখো! তারা অংগীকার ভঙ্গ করে বসল।
অতঃপর যখন আমি উহাদের হইতে শাস্তি বিদূরিত করিলাম তখনই উহারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করিয়া বসিল।
তারপর যখনই আমরা তাদের থেকে আযাব দূরীভূত করে দিতাম, তখনই তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভংগ করতো।
আর ফির'আউন তার লোকদলের মধ্যে ঘোষণা করে বললে - - ''হে আমার স্বজাতি! মিশরের রাজ্য কি আমার নয়, আর এইসব নদনদী যা আমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে? তোমরা কি তবে দেখতে পাচ্ছ না?
ফির‘আওন তাহার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলিয়া ঘোষণা করিল, হে আমার সম্প্রদায় ! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? আর এই নদীগুলি আমার পাদদেশে প্রবাহিত ; তোমরা ইহা দেখ না?
ফেরাউন তার কওমের মধ্যে ঘোষণা করলো: ‘‘হে আমার জাতি! এই মিশর সাম্রাজ্যের মালিক কি আমি নই, এবং আমার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত এই নদীগুলোর? তোমরা কি দেখতে পাওনা?
''বস্তুতঃ আমি বেশি ভাল এর চেয়ে যে স্বয়ং হীন - ঘৃণ্য, ও স্পষ্টবাদিতার যার ক্ষমতা নেই।
‘আমি তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি হইতে, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলিতেও অক্ষম !
আর এই হীন স্পষ্ট কথা বলতে অক্ষম লোকটি থেকে আমিই তো শ্রেষ্ঠ।
''তবে কেন সোনার কঙ্কন তার প্রতি ছোড়া হল না, অথবা তার সঙ্গে কেন ফিরিশতারা এল না সারিবদ্ধভাবে।’’
‘মূসাকে কেন দেওয়া হইল না স্বর্ণ - বলয় অথবা তাহার সঙ্গে কেন আসিল না ফিরিশ্তাগণ দলবদ্ধভাবে?’
তাকে কেন দেয়া হলো না সোনার কঙ্কন, কিংবা ফেরেশতারা কেন এলো না তার সাথে দলবদ্ধ হয়ে?’’
এইভাবে সে তার স্বজাতিকে ধাপ্পা দিয়েছিল, ফলে তারা তাকে মেনে চলল। নিঃসন্দেহ তারা ছিল সীমালংঘনকারী জাতি।
এইভাবে সে তাহার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করিয়া দিল, ফলে উহারা তাহার কথা মানিয়া লইল। উহারা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।
এভাবে সে তার কওমকে হতবুদ্ধি করে দিলো, ফলে তারা তারই আনুগত্য করলো। তারা তো ছিলো এক সীমালংঘনকারী জাতি।
অতএব তারা যখন আমাদের রাগিয়ে তুললো তখন আমরা তাদের থেকে শেষ - পরিণতি গ্রহণ করলাম, ফলে তাদের একসঙ্গে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
যখন উহারা আমাকে ক্রোধান্নিত করিল আমি উহাদেরকে শাস্তি দিলাম এবং নিমজ্জিত করিলাম উহাদের সকলকে।
তারা যখন আমাদের ক্রোধান্বিত করলো, আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম এবং ডুবিয়ে মারলাম তাদের সবাইকে।
সুতরাং আমরা তাদের বানিয়ে দিয়েছিলাম এক অতীত ইতিহাস এবং পরবর্তীদের জন্য এক দৃষ্টান্ত।
তৎপর পরবর্তীদের জন্য আমি উহাদেরকে করিয়া রাখিলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত।
তারপর পরবর্তীদের জন্যে আমরা তাদের করে রাখলাম অতীত (ইতিহাস) আর উদাহরণ।
আর যখন মরিয়মের পুত্রের দৃষ্টান্ত ছোঁড়া হয় তখন দেখো, তোমার স্বজাতি তাতে শোরগোল তোলে।
যখন মারইয়াম - তনয়ের দৃষ্টান্ত উপস্থিত করা হয়, তখন তোমার সম্প্রদায় তাহাতে শোরগোল আরম্ভ করিয়া দেয়,
যখন মরিয়ম পুত্রের দৃষ্টান্ত উপস্থিত করা হয়, তখন তোমার কওম তাতে শোরগোল বাধিয়ে দেয়।
আর তারা বলে - - ''আমাদের দেবদেবীরা অধিকতর ভাল, না সে? তারা তোমার কাছে এ কথা তোলে না তর্কবিতর্ক করার জন্যে ব্যতীত? বস্তুত তারা হচ্ছে বিবাদপ্রিয় জাতি।
এবং বলে, ‘আমাদের উপাস্যগুলি শ্রেষ্ঠ না ‘ঈসা?’ ইহারা কেবল বাক - বিতণ্ডার উদ্দেশ্যেই তোমাকে এই কথা বলে। বস্তুত ইহারা তো এক বিতণ্ডাকারী সম্প্রদায়।
তারা বলে: ‘আমাদের ইলাহ্রা (দেবতারা) শ্রেষ্ঠ নাকি সে (ঈসা)?’ তারা তো কেবল ঝগড়া বাধানোর উদ্দেশ্যেই তোমাকে এসব বলে। আসলেই তারা একটি ঝগড়াটে কওম (জাতি)।
তিনি একজন বান্দা বৈ তো নন যাঁর প্রতি আমরা অনুগ্রহ করেছি, এবং তাঁকে আমরা ইসরাঈলের বংশধরদের জন্য আদর্শস্বরূপ বানিয়েছিলাম।
সে তো ছিল আমারই এক বান্দা, যাহাকে আমি অনুগ্রহ করিয়াছিলাম এবং করিয়াছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্য দৃষ্টান্ত।
সে তো আমার এক দাস ছাড়া আর কিছু নয়। তার প্রতি আমরা অনুগ্রহ করেছি। আর তাকে বানিয়েছি বনি ইসরাঈলের জন্যে দৃষ্টান্ত।
আর আমরা যদি চাইতাম তবে নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের মধ্যে ফিরিশ্তাদের নিয়োগ করতাম পৃথিবীতে প্রতিনিধি হবার জন্য!
আমি ইচ্ছা করিলে তোমাদের মধ্য হইতে ফিরিশ্তা সৃষ্টি করিতে পারিতাম, যাহারা পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী হইত।
আমরা চাইলে তোমাদের পরিবর্তে (এখানে) ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, তখন তারা পৃথিবীতে তোমাদের খলিফা (উত্তরাধিকারী) হতো।
আর নিঃসন্দেহ এ - ই হচ্ছে ঘড়িধন্টা সন্বন্ধে নিশ্চিত জ্ঞান; সুতরাং এ - সন্বন্ধে তোমরা সন্দেহ করো না, আর আমাকে অনুসরণ করো। এটিই হচ্ছে সহজ - সঠিক পথ।
‘ঈসা তো কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন; সুতরাং তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ করিও না এবং আমাকে অনুসরণ কর। ইহাই সরল পথ।
ঈসা তো কিয়ামতের জ্ঞানের একটি নিশ্চিত নিদর্শন। সুতরাং তোমরা কিয়ামতের প্রতি সন্দেহ করোনা, আমাকে অনুসরণ করো। এটাই সিরাতুল মুসতাকিম (সরল সঠিক পথ)।
আর শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই ফিরিয়ে না দেয়, নিঃসন্দেহ সে হচ্ছে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।
শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই নিবৃত্ত না করে, সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
শয়তান যেনো তোমাদের কিছুতেই সঠিক পথ থেকে বাধা দিতে না পারে। জেনে রাখো, সে তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।
আর যখন ঈসা স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে এলেন তখন তিনি বললেন - - ''আমি তোমাদের কাছে জ্ঞান নিয়ে এসেছি, আর তোমরা যে - সব বিষয়ে মতভেদ করছ তার কোনো কোনোটি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করে দিতে, সুতরাং তোমরা কে ভয় - ভক্তি করো ও আমাকে মেনে চল।
‘ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল তখন সে বলিয়াছিল, আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে কতক বিষয়ে মতভেদ করিতেছ, তাহা স্প্ষ্ট করিয়া দিবার জন্য্ সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।
ঈসা যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছিল, সে বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের কাছে এসেছি হিকমা (প্রজ্ঞা) সহ এবং তোমরা যে ক’টি বিষয় নিয়ে ইখতেলাফ (মতভেদ) করছো তা স্পষ্ট করে দেয়ার জন্যে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''নিঃসন্দেহ - - তিনি আমার প্রভু ও তোমাদেরও প্রভু, সেজন্য তাঁরই উপাসনা কর। এটিই সহজ - সঠিক পথ।’’
আল্লাহর তো আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক, অতএব তোমরা তাঁহার ‘ইবাদত কর ; ইহাই সরল পথ।’
আল্লাহ্ই আমার রব (প্রভু) এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো, এটাই সিরাতুল মুসতাকিম।’’
কিন্ত বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করল, কাজেই ধিক্ তাদের প্রতি যারা অন্যায়াচরণ করেছিল - - এক মর্মন্তুদ দিনের শাস্তির কারণে!
অতঃপর উহাদের বিভিন্ন দল মতানৈক্য সৃষ্টি করিল, সুতরাং জালিমদের জন্য দুর্ভোগ মর্মন্তুদ দিবসের শাস্তির।
কিন্তু তাদের বিভিন্ন দল মতানৈক্য সৃষ্টি করলো। সুতরাং যালিমদের জন্যে রয়েছে দুর্দশা এক বেদনাদায়ক দিনের আযাবের।
তারা কি চেয়ে রয়েছে শুধু ঘড়িঘান্টার জন্য যেন তাদের উপরে এটি এসে পড়ে আকস্মিকভাবে যখন তারা টেরও না পায়।
উহারা তো উহাদের অজ্ঞাতসারে আকস্মিকভাবে কিয়ামত আসিবারই অপেক্ষা করিতেছে।
তারা কি অপেক্ষা করছে তাদের অজ্ঞাতে আকস্মিক কিয়ামত এসে পড়ার জন্যে?
সেইদিন বন্ধুরা - - তাদের কেউ - কেউ অপরের শত্রু হয়ে পড়বে, তবে ধর্মপরায়ণরা ব্যতীত।
বন্ধুরা সেই দিন হইয়া পড়িবে একে অপরের শত্রু, মুত্তাকীরা ব্যতীত।
সেদিন বন্ধুরা পরস্পরের শত্রু হয়ে যাবে, মুত্তাকিরা ছাড়া।
''হে আমার বান্দারা! আজকের দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই আর তোমরা দুঃখও করবে না, - -
হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নাই এবং তোমরা দুঃখিতও হইবে না।
হে আমার দাসেরা! আজ তোমাদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তাও নেই,
''যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস করেছিলে এবং মুসলিম হয়েছিলে, - -
যাহারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করিয়াছিল এবং আত্মসর্মপণ করিয়াছিল -
তোমরা যারা ঈমান এনেছো আমাদের আয়াতের প্রতি এবং মুসলিম হয়েছিলে,
''তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করো - - তোমরা ও তোমাদের সঙ্গিনীরা তোমাদের আনন্দিত করা হবে।’’
তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।
তোমরা দাখিল হও জান্নাতে তোমাদের স্ত্রী/স্বামীকে নিয়ে আনন্দচিত্তে।
তাদের সামনে পরিবেশন করা হবে সোনার খাঞ্চা ও পানপাত্র, আর তাতে থাকবে যা অন্তর কামনা করে ও চোখ তৃপ্ত হয়, আর তোমরা তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
যাহা অন্তর চাহে এবং যাহাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে।
সোনার থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদের তাওয়াফ করা হবে। সেখানে থাকবে সেসবই, যা মন চাইবে এবং যাতে চোখ জুড়াবে। সেখানে চিরস্থায়ী হবে তোমরা।
আর এইটিই সেই জান্নাত, তোমাদের এটি উত্তরাধিকার করতে দেওয়া হয়েছে তোমরা যা করতে তার জন্যে।
ইহাই জান্নাত, তোমাদেরকে যাহার অধিকারী করা হইয়াছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ।
এই সেই জান্নাত, যার ওয়ারিশ তোমাদের বানানো হয়েছে তোমাদের কর্মফল হিসেবে।
তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে।
সেখানে তোমাদের জন্য রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।
তোমাদের জন্যে তাতে রয়েছে প্রচুর ফলফলারি, তা থেকে তোমরা আহার করবে।
অপরাধীরা নিশ্চয় জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে অবস্থান করবে,
নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়িভাবে ;
অপরাধীরা থাকবে জাহান্নামের আযাবে চিরকাল।
তাদের থেকে তা লাঘব করা হবে না, আর তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়বে।
উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।
তাদের আযাব লাঘব করা হবেনা, সেখানে তারা থাকবে হতাশা নিরাশায় নিমজ্জিত।
আর আমরা তাদের প্রতি অন্যায় করি নি, বরঞ্চ তারা নিজেরাই অন্যায় করেছিল।
আমি উহাদের প্রতি জুলুম করি নাই, বরং উহারা নিজেরাই ছিল ।
আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারাই যুলুম করেছে নিজেদের প্রতি।
আর তারা ডেকে বলবে - - ''হে মালিক! তোমার প্রভু আমাদের নিঃশেষ করে ফেলুন।’’ সে বলবে - - ''তোমরা নিশ্চয় অপেক্ষা করবে।’’
উহারা চিৎকার করিয়া বলিবে, ‘হে মালিক, তোমার প্রতিপালক যেন আমাদেরকে নিঃশেষ করিয়া দেন।’ সে বলিবে, ‘তোমরা তো এইভাবেই থাকিবে।’
তারা চীৎকারে করে বলবে: ‘হে মালিক ((জাহান্নামের কর্তা)! তোমার প্রভু যেনো আমাদের মরণ ঘটিয়ে দেয়।’ সে বলবে: ‘এভাবেই তোমাদের থাকতে হবে।’
''আমরা তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়েই এসেছিলাম, কিন্ত তোমাদের অধিকাংশই সত্যের প্রতি বিমুখ ছিলে।’’
বলিবেন, ‘আমি তো তোমাদের নিকট সত্য পৌঁছাইয়াছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিল সত্যবিমুখ।’
( বলবেন:) ‘আমরা তোমাদের কাছে সত্য পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলো সত্য অপছন্দকারী।’
অথবা তারা কি কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত করে ফেলেছে? কিন্ত বাস্তবে আমরাই সিদ্ধান্তকারী।
উহারা কি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে? বরং আমিই তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী।
তারা কি কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে? কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তো আমরা।
অথবা তারা কি মনে করে যে আমরা তাদের লুকোনো বিষয় ও তাদের গোপন আলোচনা শুনি না? অবশ্যই, আর আমাদের দূতরা তাদের সঙ্গে থেকে লিখে চলেছে।
উহারা কি মনে করে যে, আমি উহাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না? অবশ্যই রাখি। আমার ফিরিশ্তাগণ তো উহাদের নিকট থাকিয়া সবকিছু লিপিবদ্ধ করে।
নাকি তারা ধারণা করছে, আমরা তাদের গোপন বিষয় আর কানাঘুষার খবর রাখি না? হাঁ, আমাদের রসূলরা (দূতরা) তাদের সাথেই রয়েছে এবং রেকর্ড করছে।
তুমি বলো - - ''যদি পরম করুণাময়ের কোনো সন্তান থাকত তবে আমিই হচ্ছি উপাসনাকারীদের মধ্যে অগ্রণী।’’
বল দয়ময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকিলে আমি হইতাম তাহার উপাসক গনের অগ্রনী।
তুমি বলো: ‘রহমানের যদি কোনো সন্তান থাকতোই, তবে আমি হতাম তার প্রথম ইবাদতকারী।’
সকল মহিমা হোক মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভুর! তিনি আরশের প্রভু, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
‘উহারা যাহা আরোপ করে তাহা হইতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অধিপতি এবং আরশের অধিকারী পবিত্র মহান।’
মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর প্রভু আরশের অধিপতির প্রতি তারা যা আরোপ করছে, তা থেকে তিনি পবিত্র, মহান।
সুতরাং তাদের ছেড়ে দাও আঁকুপাঁকু করতে ও ছেলেখেলা খেলতে যে পর্যন্ত না তারা তাদের দিনের মুখোমুখি হয় যেটি সন্বন্ধে তাদের ওয়াদা করা হয়েছিল।
অতএব উহাদেরকে যে দিবসের কথা বলা হইয়াছে তাহার সম্মুখীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তুমি উহাদেরকে বাক - বিতণ্ডা ও ক্রীড়া - কৌতুক করিতে দাও।
সুতরাং যে দিনটির ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছে, তার সম্মুখীন হবার আগ পর্যন্ত তাদের বাকবিতর্ক এবং খেলতামাশা করার অবকাশ দাও।
আর তিনিই সেইজন যিনি মহাকাশে উপাস্য আর দুনিয়াতেও উপাস্য। আর তিনিই পরমজ্ঞানী, সর্বজ্ঞাতা।
তিনিই ইলাহ্ নভোমণ্ডলে, তিনিই ইলাহ্ ভূতলে এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
আসমানেও তিনি ইলাহ্, পৃথিবীতেও তিনিই ইলাহ্, তিনি মহাপ্রজ্ঞাবান, মহাজ্ঞানী।
আর পুণ্যময় তিনি যাঁর অধিকারে রয়েছে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আর যা - কিছু রয়েছে এ দুইয়ের মধ্যে, আর তাঁরই কাছে রয়েছে ঘড়িঘান্টার জ্ঞান, আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
কত মহান তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর সার্বভৌম অধিপতি ! কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁহারই আছে এবং তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।
কতো যে বরকতওয়ালা মহান তিনি, মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর কর্তৃত্ব যার। কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে কেবল তাঁরই কাছে, আর সবাইকে ফেরত নেয়া হবে কেবল তাঁরই দিকে।
আর তাঁকে বাদ দিয়ে তারা যাদের ডাকে তাদের কোনো ক্ষমতা নেই সুপারিশ করার, তিনি ব্যতীত যিনি সত্যের সাথে সাক্ষ্য দেন, আর তারা জানে।
পরিবর্তে উহারা যাহাদেরকে ডাকে, সুপারিশের ক্ষমতা তাহাদের নাই, তবে যাহারা সত্য উপলব্ধি করিয়া উহার সাক্ষ্য দেয়, তাহারা ব্যতীত।
তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে, তারা শাফায়াতের মালিক নয়। তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং জানে তারা ছাড়া।
আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা কর - - কে তাদের সৃষ্টি করেছেন, তারা নিশ্চয়ই বলবে - - ''’’। তাহলে কোথায় - কেমনে তারা ফিরে যাচ্ছে!
যদি তুমি উহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে উহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছে, উহারা অবশ্যই বলিবে, , অতঃপর তারা কােথায় ফিরে যাচ্ছে?
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো: কে সৃষ্টি করেছে তাদের? তারা অবশ্যি বলবে: ‘’, তবু কোথায় ফিরে যাচ্ছে তারা?
আর তাঁর উক্তি - - ''হে আমার প্রভু! তারা তো এক জাতি যারা ঈমান আনছে না।’’
আমি অবগত আছি রাসূলের এই উক্তি: ‘হে আমার প্রতিপালক! এই সম্প্রদায় তো ঈমান আনিবে না।’
তার (রসূলের) একথা আমার আছে: ‘হে প্রভু! নিশ্চয়ই এরা এমন একটি মানব দল যারা ঈমান আনবেনা।’
''সুতরাং তুমি তাদের থেকে ফিরে যাও এবং বলো - - 'সালাম!’ তারপর শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।’’
সুতরাং তুমি উহাদেরকে উপেক্ষা কর এবং বল, ‘সালাম’; উহারা শীঘ্রই জানিতে পারিবে।
(ঠিক আছে,) তুমি তাদের উপেক্ষা করো এবং বলো: ‘সালাম’। অচিরেই তারা জানতে পারবে।