Kitab

আল হাক্বক্বাহ

Chapter 69, 52 verses

  • জহুরুল হক
  • সমকালীন বাংলা
  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক

নিশ্চিত - সত্য!

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবধারিত ঘটনা।

মুহিউদ্দীন খান

সুনিশ্চিত বিষয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি ঘটবে সে ঘটনা!

জহুরুল হক

কি সেই নিশ্চিত - সত্য?

সমকালীন বাংলা

কী সেই অবধারিত ঘটনা?

মুহিউদ্দীন খান

সুনিশ্চিত বিষয় কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?

জহুরুল হক

আহা, কি দিয়ে তোমাকে বোঝানো যাবে নিশ্চিত - সত্যটা কি?

সমকালীন বাংলা

আর কী তোমাকে জানাবে, কী সেই অবধারিত ঘটনা?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি কিছু জানেন, সেই সুনিশ্চিত বিষয় কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কিভাবে জানবে, অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?

জহুরুল হক

ছামূদ ও 'আদগোষ্ঠী আঘাতকারী প্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।

সমকালীন বাংলা

সামূদ ও ‘আদ অবধারিত মহাপ্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।

Note
সামূদ ও‘আদ -- দু'টি সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর নাম
মুহিউদ্দীন খান

আদ ও সামুদ গোত্র মহাপ্রলয়কে মিথ্যা বলেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আদ ও সামুদ জাতি অস্বীকার করেছিল সেই মহাদুর্ঘটনাকে।

জহুরুল হক

তারপর ছামূদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয়ে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সামূদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড শব্দে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সমুদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে সামুদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দিয়ে।

জহুরুল হক

আর 'আদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক গর্জনকারী প্রচন্ড ঝড়ের দ্বারা - -

সমকালীন বাংলা

আর ‘আদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড, হিংস্র ঝড়ো হাওয়ায়,

মুহিউদ্দীন খান

এবং আদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্জাবায়ূ,

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে আদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঘুর্ণিঝড় দিয়ে।

জহুরুল হক

যাকে তিনি তাদের উপরে প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিনব্যাপী, অবিরতভাবে, ফলে তুমি সেই লোকদলকে দেখতে পেতে সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে, যেন তারা খেজুর গাছের ফাঁপা গুড়ি।

সমকালীন বাংলা

যা তিনি তাদের ওপর অবিরাম প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিন ধরে। তখন তুমি সেই সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখতে, যেন তারা ফাঁপা খেজুরগাছের কাণ্ড।

মুহিউদ্দীন খান

যা তিনি প্রবাহিত করেছিলেন তাদের উপর সাত রাত্রি ও আট দিবস পর্যন্ত অবিরাম। আপনি তাদেরকে দেখতেন যে, তারা অসার খর্জুর কান্ডের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি তাদের উপর প্রবাহিত রেখেছিলেন সাত রাত আট দিন অবিরাম। তুমি সেখানে উপস্থিত থাকলে দেখতে, পুরো জাতিটি সেখানে (মরে) লুটিয়ে পড়ে আছে উপড়ে পড়া খেজুর গাছের কান্ডের মতো।

জহুরুল হক

তারপর তুমি তাদের অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও কি?

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তুমি কি তাদের কোনো অবশিষ্ট দেখতে পাও?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদের কোন অস্তিত্ব দেখতে পান কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের কাউকেও অবশিষ্ট দেখতে পাচ্ছো কি?

জহুরুল হক

আর ফিরআউন আর যারা তার পূর্ববর্তী ছিল, আর বিধবস্ত শহরগুলো পাপাচার নিয়ে এসেছিল,

সমকালীন বাংলা

আর ফিরআউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেওয়া জনপদসমূহ পাপ নিয়ে এসেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন, তাঁর পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে যাওয়া বস্তিবাসীরা গুরুতর পাপ করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর এসেছিল ফেরাউন, তার পূর্ববর্তীরা আর পাপাচারে লিপ্ত থাকা উল্টে দেয়া জনপদ (অর্থাৎ কওমে লুত)।

জহুরুল হক

যেহেতু তাদের প্রভুর রসূলকে তারা অমান্য করেছিল, সেজন্য তিনি তাদের পাকড়াও করেছিলেন এক সুকঠিন পাকড়ানোতে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল; ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাদের পালনকর্তার রসূলকে অমান্য করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরহস্তে পাকড়াও করলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের প্রভুর রসূলকে অমান্য করেছিল। এর ফলে তিনি তাদের পাকড়াও করেন কঠোর পাকড়াও।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যখন পানি ফেঁপে উঠেছিল, তখন আমরা তোমাদের বহন করেলিাম জাহাজের মধ্যে,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যখন পানি সীমা অতিক্রম করেছিল, তখন আমরা তোমাদেরকে বহন করেছিলাম ভাসমান নৌযানে,

মুহিউদ্দীন খান

যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এর আগে নূহের সময়) পানি যখন উথলে উঠেছিল আমরা তোমাদের তুলে নিয়েছিলাম নৌযানে,

জহুরুল হক

যেন আমরা এটিকে তোমাদের জন্য বানাতে পারি স্মরণীয় বিষয়, এবং শ্রুতিধর কান যেন এটি মনে রাখতে পারে।

সমকালীন বাংলা

যাতে আমরা এটিকে তোমাদের জন্য একটি স্মারক করি, এবং মনোযোগী কান তা ধারণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে এ ঘটনা তোমাদের জন্যে স্মৃতির বিষয় এবং কান এটাকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগী রূপে গ্রহণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব ঘটনাকে আমরা তোমাদের জন্যে বানিয়েছি শিক্ষার বিষয়। আর যেসব কান এগুলো শুনে তারা যেনো এগুলো সংরক্ষণ করে।

জহুরুল হক

সুতরাং যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে - - একটি মাত্র ফুৎকার, - -

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন শিঙ্গায় একবার ফুঁ দেওয়া হবে,

মুহিউদ্দীন খান

যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে - একটি মাত্র ফুৎকার

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি (প্রথম) ফুৎকার,

জহুরুল হক

এবং পৃথিবী ও পাহাড় - পর্বত উত্তোলন করা হবে, আর একটিমাত্র ধাক্কায় তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে।

সমকালীন বাংলা

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে, তারপর এক আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ - বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উঠিয়ে নিক্ষেপ করা হবে, তখন এক ধাক্কায়ই সেগুলো হয়ে যাবে চুর্ণবিচুর্ণ।

জহুরুল হক

অতএব সেইদিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে,

সমকালীন বাংলা

সেদিন সেই অবধারিত মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিনই সংঘটিত হবে ওয়াকিয়া (মহাদুর্ঘটনা)।

জহুরুল হক

আর আকাশ বিদীর্ণ হবে, ফলে সেইদিন তা হবে ভঙ্গুর;

সমকালীন বাংলা

এবং আকাশ বিদীর্ণ হবে; সেদিন তা হবে দুর্বল।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ফেটে চৌচির হয়ে যাবে আকাশ এবং তা পড়তে থাকবে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে।

জহুরুল হক

আর ফিরিশ্‌তারা এর প্রান্তগুলোয় রইবে। আর তাদের উপরে সেইদিন তোমার প্রভুর আরশ বহন করবে আটজন।

সমকালীন বাংলা

আর ফেরেশতারা তার প্রান্তসমূহে থাকবে, এবং সেদিন তোমার প্রতিপালকের আরশ তাদের ঊর্ধ্বে আটজন বহন করবে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরেশতারা অবস্থান করবে তার (আকাশের) প্রান্তে। সেদিন তাদের উপর আটজন (ফেরেশতা) ধারণ করবে তোমার প্রভুর আরশ।

জহুরুল হক

সেইদিন তোমাদের অনাবৃত করা হবে, - - কোনো গোপন বিষয় তোমাদের থেকে গোপন থাকবে না।

সমকালীন বাংলা

সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে; তোমাদের কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকবে না।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে এবং তোমাদের কোনো কিছুই থাকবেনা গোপন।

জহুরুল হক

তারপর যাকে তার বই তার ডান হাতে দেয়া হবে সে তখন বলবে - - ''নাও, আমার এই বই পড়ে দেখো!

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “এই নিন! আমার আমলনামা পড়ুন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন যার কিতাব (কৃতকর্মের রেকর্ড) দেয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে: ‘‘নাও পড়ে দেখো আমার কিতাব (রেকর্ড),

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমি আলবৎ আমার এই হিসাবের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।’’

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হবো।”

মুহিউদ্দীন খান

আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি বিশ্বাস করতাম, আমাকে অবশ্যি হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’’

জহুরুল হক

সুতরাং সে থাকবে এক পূর্ণ - সন্তোষজনক জীবনযাপনে - -

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে থাকবে এক সন্তোষজনক জীবনে,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সে সুখী জীবন - যাপন করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সে এমন জীবন যাপন করবে, যাতে সে রাজি খুশি ও সন্তুষ্ট থাকবে।

জহুরুল হক

এক উঁচু পর্যায়ের জান্নাতে,

সমকালীন বাংলা

উঁচু বেহেশতে,

মুহিউদ্দীন খান

সুউচ্চ জান্নাতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে থাকবে মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতে (বাগ বাগিচায়),

জহুরুল হক

যার ফলের থোকাগুলো নাগালের মধ্যে।

সমকালীন বাংলা

যার ফলগুলো কাছে ঝুলে থাকবে।

মুহিউদ্দীন খান

তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার ফলরাশি নুয়ে থাকবে নাগালের মধ্যেই।

জহুরুল হক

''খাও আর পান করো তৃপ্তির সঙ্গে সেইজন্য যা তোমরা আগেকার দিনগুলোয় সম্পাদন করেছিলে।’’

সমকালীন বাংলা

“তোমরা খাও এবং পান করো তৃপ্তিসহকারে, অতীত দিনগুলোতে যা তোমরা আগে পাঠিয়েছ তার কারণে।”

মুহিউদ্দীন খান

বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের বলা হবে:) খাও, পান করো পরিতুষ্টির সাথে, সেই কাজের বিনিময়ে যা তোমরা করেছিলে অতীত দিনে (পৃথিবীর জীবনে)।

জহুরুল হক

আর তার ক্ষেত্রে যাকে তার বই তার বাম হাতে দেওয়া হবে সে তখন বলবে - - ''হায় আমার আফসোস! আমার এই বই যদি আমায় কখনো দেখানো না হতো, - -

সমকালীন বাংলা

আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “হায়! যদি আমাকে আমার আমলনামা দেওয়া না হতো,

মুহিউদ্দীন খান

যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যাকে তার কিতাব (রেকর্ড) দেয়া হবে তার বাম হাতে, সে বলবে: ‘‘হায়, আমার ধ্বংস, (কতো ভালো হতো) আমাকে যদি দেয়া না হতো আমার কিতাব!

জহুরুল হক

''আর আমি যদি কখনো জানতাম না আমার এই হিসাবটি কী।

সমকালীন বাংলা

এবং আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!,

মুহিউদ্দীন খান

আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!

আবদুস শহীদ নাসিম

(হায়,) আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব।

জহুরুল হক

''হায় আফসোস! এইটাই যদি আমার শেষ হতো!

সমকালীন বাংলা

হায়! যদি সেটাই চূড়ান্ত সমাপ্তি হতো!

Note

এখানে "চূড়ান্ত সমাপ্তি" বলতে সম্ভবত মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে

মুহিউদ্দীন খান

হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হায়,) আমার মৃত্যুই যদি হতো আমার শেষ ফায়সালা।

জহুরুল হক

''আমার ধনসম্পদ আমার কোনো কাজে এল না;

সমকালীন বাংলা

আমার সম্পদ আমার কোনো উপকারে আসেনি।

মুহিউদ্দীন খান

আমার ধন - সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার মাল - সম্পদ তো আমার কোনো কাজেই এলোনা।

জহুরুল হক

''আমার কর্তৃত্ব আমার থেকে বিনাশ হয়ে গেছে।’’

সমকালীন বাংলা

আমার কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হয়েছে।”

মুহিউদ্দীন খান

আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার সমস্ত ক্ষমতা - দাপটই তো আমার থেকে হয়ে গেছে হালাক।’’

জহুরুল হক

''তাকে ধরো এবং তাকে বাঁধো,

সমকালীন বাংলা

“তাকে ধরো, অতঃপর তার গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দাও।”

মুহিউদ্দীন খান

ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর একে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও,

আবদুস শহীদ নাসিম

(ফেরেশতাদের বলা হবে:) ‘‘একে পাকড়াও করো এবং বেড়ি লাগাও তার গলায়।

জহুরুল হক

''তারপর জ্বলন্ত আগুনে তাকে নিক্ষেপ করো,

সমকালীন বাংলা

তারপর তাকে জাহিমে পোড়াও।

Note

জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:


  • جَهَنَّم (Jahannam)
  • الْجَحِيم (Al-Jaḥīm)
  • سَقَر (Saqar)
  • لَظَى (Laẓā)
  • الْحُطَمَة (Al-Ḥuṭamah)
  • السَّعِير (As-Saʿīr)
  • الْهَاوِيَة (Al-Hāwiyah)



মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর নিক্ষেপ করো জাহিমে।

জহুরুল হক

''তারপর তাকে এক শিকলে আবদ্ধ করো যার দৈঘ্য হচ্ছে সত্তর হাত।

সমকালীন বাংলা

তারপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শৃঙ্খলে আবদ্ধ করো

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তাকে বাঁধো সত্তর হাত লম্বা শিকল দিয়ে।’’

জহুরুল হক

''নিশ্চয় সে বিশ্বাস করত না মহান ‌তে,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহর প্রতি ছিল না।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ঈমান আনেনি মহান আল্লাহর প্রতি,

জহুরুল হক

''আর সে উৎসাহ দেখাত না গরীবদের খাবার দিতে,

সমকালীন বাংলা

এবং দরিদ্রকে আহার করাতে উৎসাহ দিত না।

মুহিউদ্দীন খান

এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(মানুষকে) উৎসাহ দেয়নি মিসকিনদের আহার করাতে।

জহুরুল হক

''সেজন্য আজ তার জন্যে এখানে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না,

সমকালীন বাংলা

অতএব আজ এখানে তার কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহূদ নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাই তার জন্যে আজ এখানে নেই কোনো সহমর্মী,

জহুরুল হক

''আর কোনো খাদ্য থাকবে না ক্ষতনিঃসৃত পুজঁ ব্যতীত - -

সমকালীন বাংলা

এবং পুঁজ ছাড়া তার কোনো খাদ্য নেই,

মুহিউদ্দীন খান

এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত - নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তার জন্যে) নেই কোনো খাবার ক্ষতের পূঁজ ছাড়া,

জহুরুল হক

''যা পাপীরা ব্যতীত আর কেউ খায় না।’’

সমকালীন বাংলা

যা পাপাচারীরা ছাড়া আর কেউ খাবে না।

মুহিউদ্দীন খান

গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যা আর কেউই খাবেনা অপরাধীরা ছাড়া।

জহুরুল হক

কিন্ত না, আমি কসম খাচ্ছি যা তোমরা দেখছ তার,

সমকালীন বাংলা

অতএব আমি শপথ করছি যা তোমরা দেখো,

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যা দেখ, আমি তার শপথ করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি কসম করছি সেসবের, যা তোমরা দেখতে পাও,

জহুরুল হক

এবং যা তোমরা দেখছ না তারও, - -

সমকালীন বাংলা

এবং যা তোমরা দেখো না,

মুহিউদ্দীন খান

এবং যা তোমরা দেখ না, তার -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সেসবের যা তোমরা দেখতে পাওনা:

জহুরুল হক

যে এটি এক সম্মানিত রসূলের বাণী,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত রাসূলের কথা।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের আনীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রসূলের কথা।

জহুরুল হক

আর এ কোনো কবির আলাপন নয়; সামান্যই তো যা তোমরা বিশ্বাস কর।

সমকালীন বাংলা

এবং এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব কমই বিশ্বাস কর।

মুহিউদ্দীন খান

এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি কোনো কবি রচিত কথা নয়; তবে খুব কমই তোমরা বিশ্বাস করো।

জহুরুল হক

আর কোনো গনৎকারের বাক্‌চাতুরীও নয়, যৎসামান্য যা তোমরা চিন্তা কর!

সমকালীন বাংলা

এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর।

মুহিউদ্দীন খান

এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি কোনো গণকের কথাও নয়, তবে খুব কমই তোমরা উপলব্ধি করো।

জহুরুল হক

এ হচ্ছে এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

সমকালীন বাংলা

এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

মুহিউদ্দীন খান

এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি হলো রাববুল আলামিনের নাযিল করা (কিতাব)।

জহুরুল হক

আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো বাণী রচনা করতে চাইতেন, - -

সমকালীন বাংলা

আর যদি সে আমাদের নামে কোনো কথা রচনা করে আমাদের প্রতি আরোপ করত,

মুহিউদ্দীন খান

সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মুহাম্মদ) যদি আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে নিয়ে চালাবার চেষ্টা করতো,

জহুরুল হক

তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তাকে ডানহাতে পাকড়াও করতাম,

সমকালীন বাংলা

তবে অবশ্যই আমরা তার ডান হাত ধরে ফেলতাম,

মুহিউদ্দীন খান

তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অবশ্যি ধরে ফেলতাম তার ডান হাত,

জহুরুল হক

তারপর নিশ্চয়ই তার কন্ঠশিরা কেটে ফেলতাম,

সমকালীন বাংলা

তারপর অবশ্যই তার মহাধমনী কেটে দিতাম।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর কেটে ফেলতাম তার জীবন - ধমনী।

জহুরুল হক

তখন তোমাদের মধ্যের কেউই ওর থেকে নিবৃত্ত করতে পারতে না।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে রক্ষা করতে পারত না।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে এমন কেউই থাকতো না, যে রক্ষা করতে পারতো তাকে।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই এইটি ধর্মভীরুদের জন্য এক স্মারক - গ্রন্থ।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশ।

মুহিউদ্দীন খান

এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক উপদেশ (সতর্ক) লোকদের জন্যে।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তো জানি যে তোমাদের মধ্যে সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই আমরা জানি যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্বীকারকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি আমরা জানি, তোমাদের মধ্যে রয়েছে মিথ্যাবাদীরা।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি অবিশ্বাসীদের জন্য বড় অনুতাপের বিষয়।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি অস্বীকারকারীদের জন্য অনুশোচনা।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা কাফেরদের জন্যে অনুতাপের কারণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এ (কুরআন) কাফিরদের জন্যে এক অনুতাপের কারণ।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি তো সুনিশ্চিত সত্য।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি নিশ্চিত সত্য।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা নিশ্চিত সত্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক বাস্তব সত্য।

জহুরুল হক

অতএব তোমার মহামহিমান্নিত প্রভুর নামের জপতপ করো।

সমকালীন বাংলা

অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ননা করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি তসবিহ করতে থাকো তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme