আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন সেই ঘটনা ঘটবে,
بسم الله الرحمن الرحيم إذا وقعت الواقعة
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
إِذَا وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
Chapter 56, 96 verses
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন সেই ঘটনা ঘটবে,
بسم الله الرحمن الرحيم إذا وقعت الواقعة
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
إِذَا وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
থাকবে না ঘটনার অস্বীকারকারী।
ليس لوقعتها كاذبة
ইহার সংঘটন অস্বীকার করিবার কেহ থাকিবে না।
لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ
তা কাউকে নিচু করবে এবং কাউকে উচ্চ করবে।
خافضة رافعة
ইহা কাহাকেও করিবে নীচ, কাহাকেও করিবে সম্মুন্নত ;
خَافِضَةٌ رَّافِعَةٌ
যখন পৃথিবী প্রবলভাবে কাঁপানো হবে,
إذا رجت الأرض رجا
যখন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হইবে পৃথিবী,
إِذَا رُجَّتِ ٱلْأَرْضُ رَجًّا
পাহাড়গুলোকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে,
وبست الجبال بسا
এবং পর্বতমালা চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া পড়িবে,
وَبُسَّتِ ٱلْجِبَالُ بَسًّا
অতঃপর সেগুলো ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা হবে।
فكانت هباء منبثا
ফলে উহা পর্যবসিত হইবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায়;
فَكَانَتْ هَبَآءً مُّنۢبَثًّا
আর তোমরা তিন দলে ভাগ হয়ে যাবে।
وكنتم أزواجا ثلاثة
এবং তোমরা বিভক্ত হইয়া পড়িবে তিন শ্রেণীতে -
وَكُنتُمْ أَزْوَٰجًا ثَلَٰثَةً
অতঃপর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!
فأصحاب الميمنة ما أصحاب الميمنة
ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
فَأَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ
আর বামদিকের লোকগুলো, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!
وأصحاب المشأمة ما أصحاب المشأمة
এবং বাম দিকের দল; কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
وَأَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ
আর অগ্রবর্তীরাই তো অগ্রবর্তী।
والسابقون السابقون
আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী,
وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلسَّٰبِقُونَ
তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত,
أولئك المقربون
উহারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত -
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلْمُقَرَّبُونَ
সুখময় বেহেস্তসমূহে।
في جنات النعيم
নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে;
فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
ثلة من الأولين
বহুসংখ্যক হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে;
ثُلَّةٌ مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
আর অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
وقليل من الآخرين
এবং অল্পসংখ্যক হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
وَقَلِيلٌ مِّنَ ٱلْءَاخِرِينَ
নকশা করা আসনের উপর,
على سرر موضونة
স্বর্ণখচিত আসনে
عَلَىٰ سُرُرٍ مَّوْضُونَةٍ
তার উপর মুখোমুখি হেলান দিয়ে।
متكئين عليها متقابلين
উহারা হেলান দিয়া বসিবে, পরস্পর মুখোমুখি হইয়া।
مُّتَّكِـِٔينَ عَلَيْهَا مُتَقَٰبِلِينَ
তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে চিরস্থায়ী কিশোরগণ,
يطوف عليهم ولدان مخلدون
তাহাদের সেবায় ঘোরাফেরা করিবে চির - কিশোরেরা
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَٰنٌ مُّخَلَّدُونَ
কলসীসমূহ এবং জগ এবং প্রবাহিত পানীয়ের পেয়ালা নিয়ে,
بأكواب وأباريق وكأس من معين
পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ - নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা লইয়া।
بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ
যাতে তাদের মাথাব্যথা হবে না এবং তারা মাতালও হবে না।
لا يصدعون عنها ولا ينزفون
সেই সুরা পানে তাহাদের শিরঃপীড়া হইবে না, তাহারা জ্ঞানহারাও হইবে না -
لَّا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
আর তারা পছন্দমতো ফলমূল পাবে,
وفاكهة مما يتخيرون
এবং তাহাদের পসন্দমত ফলমূল,
وَفَٰكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ
এবং তাদের পছন্দমতো পাখির মাংস।
ولحم طير مما يشتهون
আর তাহাদের ঈপ্সিত পাখির গোশ্ত লইয়া,
وَلَحْمِ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ
আর থাকবে বড় বড় চোখের হুরগণ,
হুরগণ= বেহেস্তের বিশেষ নারীরা
وحور عين
আর তাহাদের জন্য থাকিবে আয়তলোচনা হূর,
وَحُورٌ عِينٌ
যেন সুরক্ষিত মুক্তার মতো।
كأمثال اللؤلؤ المكنون
সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ,
كَأَمْثَٰلِ ٱللُّؤْلُؤِ ٱلْمَكْنُونِ
তাদের কর্মের প্রতিদান হিসেবে।
جزاء بما كانوا يعملون
তাহাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ।
جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
তারা সেখানে কোনো অনর্থক কথা বা পাপের কথা শুনবে না।
لا يسمعون فيها لغوا ولا تأثيما
সেখানে তাহারা শুনিবে না কোন অসার অথবা পাপবাক্য,
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا
শুধু বলা হবে, “সালাম, সালাম।”
إلا قيلا سلاما سلاما
‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।
إِلَّا قِيلًا سَلَٰمًا سَلَٰمًا
আর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!
وأصحاب اليمين ما أصحاب اليمين
আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
وَأَصْحَٰبُ ٱلْيَمِينِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْيَمِينِ
কাঁটাবিহীন কুলবড়ই গাছের মধ্যে,
في سدر مخضود
তাহারা থাকিবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ,
فِى سِدْرٍ مَّخْضُودٍ
এবং স্তরে স্তরে সাজানো কলাগাছের মধ্যে,
وطلح منضود
কাঁদি ভরা কদলী বৃক্ষ,
وَطَلْحٍ مَّنضُودٍ
এবং প্রসারিত ছায়ায়,
وظل ممدود
সম্প্রসারিত ছায়া,
وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ
এবং প্রবাহমান পানি,
وماء مسكوب
সদা প্রবহমান পানি,
وَمَآءٍ مَّسْكُوبٍ
এবং প্রচুর ফলমূল,
وفاكهة كثيرة
ও প্রচুর ফলমূল,
وَفَٰكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
لا مقطوعة ولا ممنوعة
যাহা শেষ হইবে না ও যাহা নিষিদ্ধও হইবে না।
لَّا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ
আর উঁচু বিছানাগুলোতে।
وفرش مرفوعة
আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ;
وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ
নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি,
إنا أنشأناهن إنشاء
উহাদেরকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে -
إِنَّآ أَنشَأْنَٰهُنَّ إِنشَآءً
অতঃপর তাদেরকে কুমারী করেছি,
فجعلناهن أبكارا
উহাদেরকে করিয়াছি কুমারী,
فَجَعَلْنَٰهُنَّ أَبْكَارًا
প্রেমময়ী এবং সমবয়সী,
عربا أترابا
সোহাগিনী ও সমবয়স্কা,
عُرُبًا أَتْرَابًا
ডানদিকের লোকদের জন্য।
لأصحاب اليمين
ডানদিকের লোকদের জন্য।
لِّأَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
ثلة من الأولين
তাহাদের অনেকে হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে,
ثُلَّةٌ مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
এবং অনেকেই পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
وثلة من الآخرين
এবং অনেকে হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
وَثُلَّةٌ مِّنَ ٱلْءَاخِرِينَ
আর বামদিকের লোকেরা, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!
وأصحاب الشمال ما أصحاب الشمال
আর বামদিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
وَأَصْحَٰبُ ٱلشِّمَالِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلشِّمَالِ
তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাস ও ফুটন্ত পানির মধ্যে,
في سموم وحميم
উহারা থাকিবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে,
فِى سَمُومٍ وَحَمِيمٍ
এবং কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
وظل من يحموم
কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়,
وَظِلٍّ مِّن يَحْمُومٍ
যা ঠান্ডাও নয় এবং আরামদায়কও নয়।
لا بارد ولا كريم
যাহা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়।
لَّا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ
নিশ্চয়ই তারা এর আগে বিলাসিতায় মগ্ন ছিলো।
إنهم كانوا قبل ذلك مترفين
ইতিপূর্বে উহারা তো মগ্ন ছিল ভোগ - বিলাসে
إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَبْلَ ذَٰلِكَ مُتْرَفِينَ
আর তারা মহাপাপের উপর অবিচল থাকতো।
وكانوا يصرون على الحنث العظيم
এবং উহারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে।
وَكَانُوا۟ يُصِرُّونَ عَلَى ٱلْحِنثِ ٱلْعَظِيمِ
আর তারা বলতো, “আমরা যখন মারা যাবো এবং মাটি ও হাড় হয়ে যাবো, তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
وكانوا يقولون أئذا متنا وكنا ترابا وعظاما أإنا لمبعوثون
আর উহারা বলিত, ‘মরিয়া অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হইলেও কি উত্থিত হইব আমরা?
وَكَانُوا۟ يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদেরও?
أوآباؤنا الأولون
‘এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও?’
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ
বলো, “নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,
قل إن الأولين والآخرين
বল, ‘অবশ্যই পূর্ববর্তিগণ ও পরবর্তিগণ -
قُلْ إِنَّ ٱلْأَوَّلِينَ وَٱلْءَاخِرِينَ
এক নির্ধারিত দিনের নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই সমবেত হবে।”
لمجموعون إلى ميقات يوم معلوم
সকলকে একত্র করা হইবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।
لَمَجْمُوعُونَ إِلَىٰ مِيقَٰتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যা প্রতিপন্ন কারীরা,
ثم إنكم أيها الضالون المكذبون
অতঃপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا ٱلضَّآلُّونَ ٱلْمُكَذِّبُونَ
তোমরা অবশ্যই যাক্কুম গাছ থেকে খাবে,
لآكلون من شجر من زقوم
তোমরা অবশ্যই আহার করিবে যাক্কূম বৃক্ষ হইতে,
لَءَاكِلُونَ مِن شَجَرٍ مِّن زَقُّومٍ
তারপর তা দিয়ে তোমরা পেট ভরবে,
فمالئون منها البطون
এবং উহা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করিবে,
فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ
তারপর তার উপর ফুটন্ত পানি পান করবে,
فشاربون عليه من الحميم
পরে তোমরা পান করিবে উহার উপর অত্যুষ্ণ পানি -
فَشَٰرِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ ٱلْحَمِيمِ
এবং তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে।
فشاربون شرب الهيم
আর পান করিবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়।
فَشَٰرِبُونَ شُرْبَ ٱلْهِيمِ
এটাই প্রতিদান দিবসে তাদের আপ্যায়ন।
هذا نزلهم يوم الدين
কিয়ামতের দিন ইহাই হইবে উহাদের আপ্যায়ন।
هَٰذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ ٱلدِّينِ
আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তবে তোমরা কেন সত্য মেনে নাও না?
نحن خلقناكم فلولا تصدقون
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, তবে কেন তোমরা বিশ্বাস করিতেছ না?
نَحْنُ خَلَقْنَٰكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ
তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা বীর্যপাত করো?
أفرأيتم ما تمنون
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে?
أَفَرَءَيْتُم مَّا تُمْنُونَ
তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই সৃষ্টিকর্তা?
أأنتم تخلقونه أم نحن الخالقون
উহা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
ءَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُۥٓ أَمْ نَحْنُ ٱلْخَٰلِقُونَ
আমরা তোমাদের মধ্যে মৃত্যুকে নির্ধারণ করেছি এবং আমরা অক্ষম নই
نحن قدرنا بينكم الموت وما نحن بمسبوقين
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারিত করিয়াছি এবং আমি অক্ষম নই -
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ ٱلْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
যে আমরা তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মতো অন্যদের নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন জগতে পুনরায় সৃষ্টি করি যা তোমরা জানো না।
على أن نبدل أمثالكم وننشئكم في ما لا تعلمون
তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করিতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করিতে যাহা তোমরা জান না।
عَلَىٰٓ أَن نُّبَدِّلَ أَمْثَٰلَكُمْ وَنُنشِئَكُمْ فِى مَا لَا تَعْلَمُونَ
আর অবশ্যই তোমরা প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছো; তবুও কেন শিক্ষা গ্রহণ করো না?
ولقد علمتم النشأة الأولى فلولا تذكرون
তোমরা তো অবগত হইয়াছ প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْأُولَىٰ فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ
তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা চাষ করো?
أفرأيتم ما تحرثون
তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা করিয়াছ কি?
أَفَرَءَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ
তোমরা কি তা উৎপন্ন করো, নাকি আমরাই উৎপন্ন করি?
أأنتم تزرعونه أم نحن الزارعون
তোমরা কি উহাকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
ءَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُۥٓ أَمْ نَحْنُ ٱلزَّٰرِعُونَ
আমরা চাইলে অবশ্যই তা খড়কুটো করে দিতে পারি, তখন তোমরা বিস্মিত হয়ে বলবে,
لو نشاء لجعلناه حطاما فظلتم تفكهون
আমি ইচ্ছা করিলে ইহাকে খড় - কুটায় পরিণত করিতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হইয়া পড়িবে তোমরা;
لَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنَٰهُ حُطَٰمًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ
“নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি;
إنا لمغرمون
‘আমরা তো দায়গ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছি’,
إِنَّا لَمُغْرَمُونَ
বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”
بل نحن محرومون
বরং ‘আমরা হৃতসর্বস্ব হইয়া পড়িয়াছি।’
بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ
তোমরা কি ভেবেছো, যে পানি তোমরা পান করো?
أفرأيتم الماء الذي تشربون
তোমরা যে পানি পান কর তাহা সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করিয়াছ?
أَفَرَءَيْتُمُ ٱلْمَآءَ ٱلَّذِى تَشْرَبُونَ
তোমরা কি তা মেঘ থেকে নামাও, নাকি আমরাই নামাই?
أأنتم أنزلتموه من المزن أم نحن المنزلون
তোমরা কি উহা মেঘ হইতে নামাইয়া আন, না আমি উহা বর্ষণ করি?
ءَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ ٱلْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ ٱلْمُنزِلُونَ
আমরা চাইলে তা লবনাক্ত করে দিতে পারি। অতএব কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?
لو نشاء جعلناه أجاجا فلولا تشكرون
আমি ইচ্ছা করিলে উহা লবণাক্ত করিয়া দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
لَوْ نَشَآءُ جَعَلْنَٰهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ
তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যে আগুন তোমরা জ্বালাও?
أفرأيتم النار التي تورون
তোমরা যে অগ্নি কর তাহা লক্ষ্য করিয়া দেখিয়াছ কি?
أَفَرَءَيْتُمُ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى تُورُونَ
তোমরা কি তার গাছ সৃষ্টি করেছো, নাকি আমরাই সৃষ্টি করেছি?
أأنتم أنشأتم شجرتها أم نحن المنشئون
তোমরাই কি উহার বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
ءَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَآ أَمْ نَحْنُ ٱلْمُنشِـُٔونَ
আমরা এটিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয় এবং পথিকদের জন্য উপকার করেছি।
نحن جعلناها تذكرة ومتاعا للمقوين
আমি ইহাকে করিয়াছি নিদর্শন এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু।
نَحْنُ جَعَلْنَٰهَا تَذْكِرَةً وَمَتَٰعًا لِّلْمُقْوِينَ
অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।
فسبح باسم ربك العظيم
সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ
অতএব না, আমি নক্ষত্রসমূহের অবস্থানগুলোর শপথ করছি,
۞ فلا أقسم بمواقع النجوم
আমি শপথ করিতেছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
فَلَآ أُقْسِمُ بِمَوَٰقِعِ ٱلنُّجُومِ
আর নিশ্চয়ই এটি এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে।
وإنه لقسم لو تعلمون عظيم
অবশ্যই ইহা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানিতে -
وَإِنَّهُۥ لَقَسَمٌ لَّوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ
নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত কুরআন,
إنه لقرآن كريم
নিশ্চয়ই ইহা সম্মানিত কুরআন,
إِنَّهُۥ لَقُرْءَانٌ كَرِيمٌ
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।
في كتاب مكنون
যাহা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।
فِى كِتَٰبٍ مَّكْنُونٍ
পবিত্রকৃতরা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না।
لا يمسه إلا المطهرون
যাহারা পূত - পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না।
لَّا يَمَسُّهُۥٓ إِلَّا ٱلْمُطَهَّرُونَ
এটি সৃষ্টিজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
تنزيل من رب العالمين
ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।
تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তাহলে কি তোমরা এই বাণীকে হালকা করে দেখছো?
أفبهذا الحديث أنتم مدهنون
তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?
أَفَبِهَٰذَا ٱلْحَدِيثِ أَنتُم مُّدْهِنُونَ
আর তোমরা যে তোমাদের জীবিকাকে অস্বীকার করছো?
وتجعلون رزقكم أنكم تكذبون
এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছ !
وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ
অতএব যখন প্রাণ কণ্ঠনালিতে পৌঁছে যায়,
فلولا إذا بلغت الحلقوم
পরন্তু কেন নয় - প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়
فَلَوْلَآ إِذَا بَلَغَتِ ٱلْحُلْقُومَ
আর তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো,
وأنتم حينئذ تنظرون
এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক,
وَأَنتُمْ حِينَئِذٍ تَنظُرُونَ
আর আমরা তার চেয়ে তোমাদের নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
ونحن أقرب إليه منكم ولكن لا تبصرون
আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ وَلَٰكِن لَّا تُبْصِرُونَ
অতএব যদি তোমরা কারও অধীন না হও,
فلولا إن كنتم غير مدينين
তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও!
فَلَوْلَآ إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ
তবে সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
ترجعونها إن كنتم صادقين
তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
تَرْجِعُونَهَآ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
فأما إن كان من المقربين
যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
فَأَمَّآ إِن كَانَ مِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ
তবে আরাম আর সুগন্ধি উদ্ভিদ আর সুখের বেহেস্ত।
فروح وريحان وجنت نعيم
তবে তাহার জন্য রহিয়াছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান;
فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ
আর যদি সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
وأما إن كان من أصحاب اليمين
আর যদি সে ডানদিকের একজন হয়,
وَأَمَّآ إِن كَانَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ
তবে তোমার জন্য শান্তি, কারণ সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
فسلام لك من أصحاب اليمين
তবে তাহাকে বলা হইবে, ‘হে দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী! তোমার প্রতি শান্তি।’
فَسَلَٰمٌ لَّكَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ
আর যদি সে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
وأما إن كان من المكذبين الضالين
কিন্তু সে যদি সত্য অস্বীকারকারী ও বিভ্রান্তদের অন্যতম হয়,
وَأَمَّآ إِن كَانَ مِنَ ٱلْمُكَذِّبِينَ ٱلضَّآلِّينَ
তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,
فنزل من حميم
তবে রহিয়াছে আপ্যায়ন অত্যুষ্ণ পানির দ্বারা,
فَنُزُلٌ مِّنْ حَمِيمٍ
এবং জাহিমে পোড়ানো।
وتصلية جحيم
এবং দহন জাহান্নামের;
وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ
নিশ্চয়ই এটিই নিশ্চিত সত্য।
إن هذا لهو حق اليقين
ইহা তো ধ্রুব সত্য।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ حَقُّ ٱلْيَقِينِ
অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।
فسبح باسم ربك العظيم
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ