পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; তা - হা,
بسم الله الرحمن الرحيم طه
তোয়া - হা
তোয়াহা!
Chapter 20, 135 verses
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; তা - হা,
بسم الله الرحمن الرحيم طه
তোয়া - হা
তোয়াহা!
তুমি ক্লেশ পাইবে এইজন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করি নাই,
ما أنزلنا عليك القرآن لتشقى
আপনাকে ক্লেশ দেবার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি।
তুমি দুর্দশাগ্রস্ত হবে এ জন্যে আমরা তোমার প্রতি এই কুরআন নাযিল করিনি।
বরং যে ভয় করে কেবল তাহার উপদেশার্থে,
إلا تذكرة لمن يخشى
কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে।
বরং এটি একটি উপদেশবার্তা তার জন্যে, যে ভয় করে।
যিনি পৃথিবী ও সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করিয়াছেন তাঁহার নিকট হইতে ইহা অবতীর্ণ।
تنزيلا ممن خلق الأرض والسماوات العلى
এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি ভূমন্ডল ও সমুচ্চ নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন।
এটি নাযিল হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন এই পৃথিবী এবং সুউঁচু মহাকাশ।
দয়াময় আরশে সমাসীন।
الرحمن على العرش استوى
তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন।
তিনি দয়াময় - রহমান, আরশে সমাসীন।
যাহা আছে আকাশমণ্ডলীতে, পৃথিবীতে, এই দুইয়ের অন্তর্বর্তী স্থানে ও ভূগর্ভে তাহা তাঁহারই।
له ما في السماوات وما في الأرض وما بينهما وما تحت الثرى
নভোমন্ডলে, ভুমন্ডলে, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে, তা তাঁরই।
সবকিছুর মালিকই তিনি, যা কিছু আছে মহাকাশে, পৃথিবীতে এবং এ দুটির মধ্যবর্তী স্থানে, আর যা কিছু আছে মাটির নিচে।
যদি তুমি উচ্চকণ্ঠে কথা বল, তবে তিনি তো যাহা গুপ্ত ও অব্যক্ত সকলই জানেন।
وإن تجهر بالقول فإنه يعلم السر وأخفى
যদি তুমি উচ্চকন্ঠেও কথা বল, তিনি তো গুপ্ত ও তদপেক্ষাও গুপ্ত বিষয়বস্তু জানেন।
তুমি যদি উঁচু স্বরে কথা বলো, তবে (জেনে রাখো) তিনি যা গোপন এবং যা অব্যক্ত সবই জানেন।
তিনি ব্যতিত অন্য অন্য কোন নাই, সুন্দর সুন্দর নাম তাহারই।
الله لا إله إلا هو ۖ له الأسماء الحسنى
তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। সব সৌন্দর্যমন্ডিত নাম তাঁরই।
তিনি , তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই।
মূসার বৃত্তান্ত তোমার নিকট পৌঁছিয়াছে কি?
وهل أتاك حديث موسى
আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি।
তোমার কাছে মূসার সংবাদ এসেছে কি?
সে যখন আগুন দেখিল তখন তাহার পরিবারবর্গকে বলিল, ‘তোমরা এখানে থাক আমি আগুন দেখিয়াছি। সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য উহা হইতে কিছু জ্বলন্তঅঙ্গার আনিতে পারিব অথবা আমি আগুনের নিকটে কোন পথনির্দেশ পাইব।’
إذ رأى نارا فقال لأهله امكثوا إني آنست نارا لعلي آتيكم منها بقبس أو أجد على النار هدى
তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব।
সে যখন আগুন দেখেছিল, তখন তার পরিবারবর্গকে বলেছিল: ‘তোমরা এখানে থাকো, আমি আগুন দেখেছি, হয়তো সেখান থেকে আমি তোমাদের জন্যে কিছু জ্বলন্ত অংগার আনতে পারবো, অথবা আগুনের কাছে গেলে পথের দিশা পাবো।’
অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট আসিল তখন আহ্বান করিয়া বলা হইল, ‘হে মূসা!
فلما أتاها نودي يا موسى
অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা,
তারপর সে যখন আগুনের কাছে এলো, তখন তাকে ডাক দিয়ে বলা হলো: ‘‘হে মূসা!
আমিই তোমার প্রতিপালক, অতএব তোমার পাদুকা খুলিয়া ফেল, কারণ তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রহিয়াছ।
إني أنا ربك فاخلع نعليك ۖ إنك بالواد المقدس طوى
আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ।
আমি তোমার রব। তোমার জুতা খুলে ফেলো। তুমি পবিত্র তুয়া উপত্যাকায় রয়েছো।
‘এবং আমি তোমাকে মনোনীত করিয়াছি। অতএব যাহা ওহী প্রেরণ করা হইতেছে তুমি তাহা মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ কর।
وأنا اخترتك فاستمع لما يوحى
এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক।
আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা অহি করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুনো।
‘আমিই আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। অতএব আমার ‘ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে কায়েম কর।
إنني أنا الله لا إله إلا أنا فاعبدني وأقم الصلاة لذكري
আমিই আমি ব্যতীত কোন নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে কায়েম কর।
নিশ্চয়ই আমি , আমি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। অতএব কেবল আমারই ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে কায়েম করো ।
‘কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি ইহা গোপন রাখিতে চাহি যাহাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করিতে পারে।
إن الساعة آتية أكاد أخفيها لتجزى كل نفس بما تسعى
কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে।
কিয়ামত অবশ্যি আসবে, তার সময়কাল আমি গোপন রাখবো। (কিয়ামত এ জন্যে হবে) যাতে করে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রচেষ্টা অনুযায়ী দেয়া যায় প্রতিদান।
‘সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে উহাতে বিশ্বাস স্থাপনে নিবৃত্ত না করে, নিবৃত্ত হইলে তুমি ধ্বংস হইয়া যাইবে।
فلا يصدنك عنها من لا يؤمن بها واتبع هواه فتردى
সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে।
সুতরাং যারা কিয়ামতে ঈমান রাখেনা আর নিজ কামনা বাসনার অনুসরণ করে, তারা যেনো তোমাকে কিয়ামতের প্রতি ঈমান থেকে ফেরাতে না পারে। তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
‘হে মূসা! তোমার দক্ষিণ হস্তে উহা কী?’
وما تلك بيمينك يا موسى
হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি?
তোমার ডান হাতে ওটা কী হে মূসা?’’
সে বলিল, ‘উহা আমার লাঠি; আমি ইহাতে ভর দেই এবং ইহা দ্বারা আঘাত করিয়া আমি আমার মেষপালের জন্য বৃক্ষপত্র ফেলিয়া থাকি এবং ইহা আমার অন্যান্য কাজেও লাগে।’
قال هي عصاي أتوكأ عليها وأهش بها على غنمي ولي فيها مآرب أخرى
তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার অন্যান্য কাজ ও চলে।
সে বললো: ‘এটি আমার লাঠি। এতে আমি ভর দেই। এটি দিয়ে আঘাত করে আমি আমার মেষপালের জন্যে গাছের পাতা ফেলি এবং এটি দিয়ে আমি অন্যান্য কাজও করে থাকি।’
বলিলেন হে মুসা তুমি ইহা নিক্ষেপ কর।
قال ألقها يا موسى
বললেনঃ হে মূসা, তুমি ওটা নিক্ষেপ কর।
() বললেন: ‘ হে মূসা, লাঠিটি নিক্ষেপ করো।’
অতঃপর সে উহা নিক্ষেপ করিল, সঙ্গে সঙ্গে উহা সাপ হইয়া ছুটিতে লাগিল,
فألقاها فإذا هي حية تسعى
অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল।
সে সেটি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে তা সাপ হয়ে দৌড়াতে থাকলো।
তিনি বলিলেন, ‘তুমি ইহাকে ধর, ভয় করিও না, আমি ইহাকে ইহার পূর্বরূপে ফিরাইয়া দিব।
قال خذها ولا تخف ۖ سنعيدها سيرتها الأولى
বললেনঃ তুমি তাকে ধর এবং ভয় করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।
বললেন: ‘তুমি এটিকে ধরো, ভয় পেয়োনা। আমরা এটিকে এটির পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেবো।’
‘এবং তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, ইহা বাহির হইয়া আসিবে নির্মল উজ্জ্বল হইয়া অপর এক নিদর্শনস্বরূপ।
واضمم يدك إلى جناحك تخرج بيضاء من غير سوء آية أخرى
তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই।
আর তোমার হাত তোমার বগলে রাখো। এটি বের হয়ে আসবে অনাবিল উজ্জ্বল হয়ে কোনো ক্ষতি ছাড়াই। এটি আরেকটি নিদর্শন।
‘ইহা এইজন্য যে, আমি তোমাকে দেখাইব আমার মহানিদর্শনগুলির কিছু।
لنريك من آياتنا الكبرى
এটা এজন্যে যে, আমি আমার বিরাট নিদর্শনাবলীর কিছু তোমাকে দেখাই।
এর কারণ, আমরা তোমাকে দেখাবো আমাদের মহা নিদর্শনগুলোর কয়েকটি।
‘ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করিয়াছে।’
اذهب إلى فرعون إنه طغى
ফেরাউনের নিকট যাও, সে দারুণ উদ্ধত হয়ে গেছে।
তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে তাগুত হয়েছে (সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে)।
মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও।
قال رب اشرح لي صدري
মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন।
সে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার বুক প্রশস্ত করে দাও।
এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও।
ويسر لي أمري
এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।
আমার কাজ (দায়িত্ব পালন) আমার জন্যে সহজ করে দাও।
আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও।
واحلل عقدة من لساني
এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন।
আমার যবানের বন্ধন (জড়তা) দূর করে দাও,
যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে।
يفقهوا قولي
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
যাতে করে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে;
واجعل لي وزيرا من أهلي
এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন।
আমার পরিবারের একজনকে আমার উযির বানিয়ে দাও,
আমার ভ্রাতা হারূনকে;
هارون أخي
আমার ভাই হারুনকে।
আমার ভাই হারূণকে দাও,
তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর,
اشدد به أزري
তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন।
তাকে দিয়ে আমার শক্তিকে মজবুত করে দাও।
ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর,
وأشركه في أمري
এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন।
এবং তাকে আমার দায়িত্বের অংশীদার বানিয়ে দাও,
যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর;
كي نسبحك كثيرا
যাতে আমরা বেশী করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করতে পারি।
যাতে করে আমরা তোমার বেশি বেশি তসবিহ করতে পারি,
এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক।
ونذكرك كثيرا
এবং বেশী পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।
এবং বেশি বেশি তোমাকে যিকির করতে পারি
‘তুমি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’
إنك كنت بنا بصيرا
আপনি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছেন।
নিশ্চয়ই তুমি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দাতা।’’
তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ তাহা তোমাকে দেওয়া হইল।
قال قد أوتيت سؤلك يا موسى
বললেনঃ হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল।
বললেন: ‘‘মূসা! যা চেয়েছো সবই তোমাকে দেয়া হলো।
এবং আমি তো তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করিয়াছিলাম;
ولقد مننا عليك مرة أخرى
আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।
এর আগেও একবার আমরা তোমার প্রতি ইহসান করেছি।
যখন আমি তোমার মাতাকে জানাইয়াছিলাম যাহা ছিল জানাইবার,
إذ أوحينا إلى أمك ما يوحى
যখন আমি তোমার মাতাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যা অতঃপর বর্ণিত হচ্ছে।
যখন আমরা তোমার মাকে অহি (ইশারা) করেছিলাম যা অহি করার:
‘যে, তুমি তাহাকে সিন্দুকের মধ্যে রাখ, অতঃপর উহা দরিয়ায় ভাসাইয়া দাও যাহাতে দরিয়া উহাকে তীরে ঠেলিয়া দেয়, উহাকে আমার শত্রু ও উহার শত্রু লইয়া যাইবে। আমি আমার নিকট হইতে তোমার উপর ভালবাসা ঢালিয়া দিয়াছিলাম, যাহাতে তুমি আমার তত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।’
أن اقذفيه في التابوت فاقذفيه في اليم فليلقه اليم بالساحل يأخذه عدو لي وعدو له ۚ وألقيت عليك محبة مني ولتصنع على عيني
যে, তুমি (মূসাকে) সিন্দুকে রাখ, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, অতঃপর দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেবে। তাকে আমার শক্র ও তার শক্র উঠিয়ে নেবে। আমি তোমার প্রতি মহব্বত সঞ্চারিত করেছিলাম আমার নিজের পক্ষ থেকে, যাতে তুমি আমার দৃষ্টির সামনে প্রতি পালিত হও।
(তাকে ইশারায় বলেছিলাম:) তুমি তাকে (মূসাকে) সিন্ধুকের মধ্যে রাখো, তারপর তাকে দরিযায় (নীলনদে) ভাসিয়ে দাও, যাতে করে দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেয়। তখন তাকে আমার দুশমন এবং তার দুশমন ঘরে তুলে নেবে। আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি মহববত ঢেলে দিয়েছিলাম, আর (এমন ব্যবস্থা করেছিলাম) যেনো তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।’
‘যখন তোমার ভগ্নী আসিয়া বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিয়া দিব কে এই শিশুর ভার লইবে?’ তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরাইয়া দিলাম যাহাতে তাহার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়; এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করিয়াছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া হইতে মুক্তি দেই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করিয়াছি। অতঃপর তুমি কয়েক বৎসর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে, হে মূসা! ইহার পরে তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হইলে।
إذ تمشي أختك فتقول هل أدلكم على من يكفله ۖ فرجعناك إلى أمك كي تقر عينها ولا تحزن ۚ وقتلت نفسا فنجيناك من الغم وفتناك فتونا ۚ فلبثت سنين في أهل مدين ثم جئت على قدر يا موسى
যখন তোমার ভগিনী এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব কে তাকে লালন পালন করবে। অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং দুঃখ না পায়। তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই; আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ান বাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে; হে মূসা, অতঃপর তুমি নির্ধারিত সময়ে এসেছ।
যখন তোমার বোন এসে তাদের বললো: আমি কি আপনাদের বলবো, কে ওকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে পারবে? তখন আমরা তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে করে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুশ্চিন্তায় না থাকে। তারপর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে, তখনো আমরা তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমার থেকে আরো অনেকগুলো পরীক্ষা নিয়েছি। এরপর কয়েক বছর তুমি মাদায়েনবাসীদের মধ্যে ছিলে। তারপর নির্ধারিত সময়ই তুমি (এখানে) উপস্থিত হয়েছো হে মূসা!
‘এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করিয়া লইয়াছি।
واصطنعتك لنفسي
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরী করে নিয়েছি।
আর আমি তোমাকে আমার নিজের (রিসালাত প্রদানের) জন্যে তৈরি করে নিয়েছি।
‘তুমি ও তোমার ভ্রাতা আমার নিদর্শনসহ যাত্রা কর এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করিও না,
اذهب أنت وأخوك بآياتي ولا تنيا في ذكري
তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলীসহ যাও এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না।
তুমি এবং তোমার ভাই আমার দেয়া নিদর্শনগুলো নিয়ে (ফেরাউনের কাছে) যাও, আর তোমরা আমার যিকির - এ (আমার কথা উচ্চারণে) গাফলতি করোনা।
‘তোমরা উভয়ে ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমা - লংঘন করিয়াছে।
اذهبا إلى فرعون إنه طغى
তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে।
তোমরা দুজনেই যাও ফেরাউনের কাছে, সে সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে।
‘তোমরা তাহার সঙ্গে নম্র কথা বলিবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করিবে অথবা ভয় করিবে।’
فقولا له قولا لينا لعله يتذكر أو يخشى
অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা - ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।
তোমরা তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে, নয়তো ভয় পাবে।’’
তাহারা বলিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তো আশংকা করি সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করিবে অথবা অন্যায় আচরণে সীমালংঘন করিবে।’
قالا ربنا إننا نخاف أن يفرط علينا أو أن يطغى
তারা বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি জুলুম করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে।
তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আশংকা করছি, সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে, কিংবা বিরুদ্ধাচরণে সীমালঙ্ঘন করবে।’
তিনি বলিলেন, ‘তোমরা ভয় করিও না, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।’
قال لا تخافا ۖ إنني معكما أسمع وأرى
বললেনঃ তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি।
তিনি বললেন: ‘তোমরা ভয় পেয়োনা। আমি তো তোমাদের সাথেই আছি, শুনছি এবং দেখছি।’
সুতরাং তোমরা তাহার নিকট যাও এবং বল, ‘আমরা তোমার প্রতিপালকের রাসূল, সুতরাং আমাদের সঙ্গে বনী ইস্রাঈলকে যাইতে দাও এবং তাহাদেরকে কষ্ট দিও না, আমরা তো তোমার নিকট আনিয়াছি তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে নিদর্শন এবং শান্তিতাহাদের প্রতি যাহারা অনুসরণ করে সৎপথ।
فأتياه فقولا إنا رسولا ربك فأرسل معنا بني إسرائيل ولا تعذبهم ۖ قد جئناك بآية من ربك ۖ والسلام على من اتبع الهدى
অতএব তোমরা তার কাছে যাও এবং বলঃ আমরা উভয়েই তোমার পালনকর্তার প্রেরিত রসূল, অতএব আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে নিপীড়ন করো না। আমরা তোমার পালনকর্তার কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে আগমন করেছি। এবং যে সৎপথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি।
তোমরা তার কাছে যাও এবং বলো: ‘‘আমরা দুজন তোমার প্রভুর রসূল। সুতরাং বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও। তাদের আর শাস্তি দিওনা। আমরা তোমার প্রভুর নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। যারা সঠিক পথের অনুসরণ করে তাদের প্রতি সালাম - শান্তি।
‘আমাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হইয়াছে যে, শাস্তিতো তাহার জন্য, যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরাইয়া নেয়।’
إنا قد أوحي إلينا أن العذاب على من كذب وتولى
আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার উপর আযাব পড়বে।
আমাদেরকে অহি করে জানানো হয়েছে, আযাব তাদের জন্যে, যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।’’
ফির‘আওন বলিল, ‘হে মূসা! কে তোমাদের প্রতিপালক?’
قال فمن ربكما يا موسى
সে বললঃ তবে হে মূসা, তোমাদের পালনকর্তা কে?
সে (ফেরাউন) বললো: ‘তোমাদের দুজনের রব কে, হে মূসা?’
মূসা বলিল, ‘আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তাহার আকৃতি দান করিয়াছেন, অতঃপর পথনির্দেশ করিয়াছেন।’
قال ربنا الذي أعطى كل شيء خلقه ثم هدى
মূসা বললেনঃ আমাদের পালনকর্তা তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।
মূসা বললো: ‘আমাদের রব তিনি, যিনি প্রতিটি বস্ত্তকে তার সৃষ্টিগত আকৃতি দান করেছেন এবং চলার পথ নির্দেশ করেছেন।’
ফির‘আওন বলিল, ‘তাহা হইলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী?’
قال فما بال القرون الأولى
ফেরাউন বললঃ তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি?
সে বললো: ‘তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী ?’
মূসা বলিল, ‘ইহার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট কিতাবে রহিয়াছে, আমার প্রতিপালক ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না।’
قال علمها عند ربي في كتاب ۖ لا يضل ربي ولا ينسى
মূসা বললেনঃ তাদের খবর আমার পালনকর্তার কাছে লিখিত আছে। আমার পালনকর্তা ভ্রান্ত হন না এং বিস্মৃতও হন না।
মূসা বললো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন না, ভুলেও যাননা।’
‘যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করিয়াছেন বিছানা এবং উহাতে করিয়া দিয়াছেন তোমাদের চলিবার পথ, তিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন।’ এবং আমি উহা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।
الذي جعل لكم الأرض مهدا وسلك لكم فيها سبلا وأنزل من السماء ماء فأخرجنا به أزواجا من نبات شتى
তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।
তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানার মতো সমতল করে দিয়েছেন, তাতে তোমাদের চলাচলের জন্যে পথ করে দিয়েছেন এবং সেখানে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, আর তা থেকে আমরা উৎপন্ন করি বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ।
তোমরা আহার কর ও তোমাদের গবাদিপশু চরাও; অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন আছে বিবেকসম্পনবানদের জন্য।
كلوا وارعوا أنعامكم ۗ إن في ذلك لآيات لأولي النهى
তোমরা আহার কর এবং তোমাদের চতুস্পদ জন্তু চরাও। নিশ্চয় এতে বিবেক বানদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
তোমরা তা থেকে খাও এবং তাতে তোমাদের গবাদি পশু চরাও। বুদ্ধি - বিবেক সম্পন্ন লোকদের জন্যে এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন।
আমি মৃত্তিকা হইতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, উহাতেই তোমাদেরকে ফিরাইয়া দিব এবং উহা হইতে পুনর্বার তোমাদেরকে বাহির করিব।
۞ منها خلقناكم وفيها نعيدكم ومنها نخرجكم تارة أخرى
এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব।
আমরা তা (মাটি) থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফেরত দেবো এবং তা থেকেই তোমাদের পুনরায় খারিজ (বের) করে আনবো।
আমি তো তাহাকে আমার সমস্তনিদর্শন দেখাইয়াছিলাম; কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করিয়াছে ও অমান্য করিয়াছে।
ولقد أريناه آياتنا كلها فكذب وأبى
আমি ফেরাউনকে আমার সব নিদর্শন দেখিয়ে দিয়েছি, অতঃপর সে মিথ্যা আরোপ করেছে এবং অমান্য করেছে।
আমরা তাকে (ফেরাউনকে) আমাদের সব নিদর্শন দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সে (সেগুলোকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং (ঈমান আনতে) অস্বীকার করে।
সে বলিল, ‘হে মূসা! তুমি কি আমাদের নিকট আসিয়াছ তোমার জাদু দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দিবার জন্য?
قال أجئتنا لتخرجنا من أرضنا بسحرك يا موسى
সে বললঃ হে মূসা, তুমি কি যাদুর জোরে আমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্যে আগমন করেছ?
সে বলেছিল: ‘‘হে মূসা! তুমি কি তোমার ম্যাজিকের সাহায্যে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্যে এসেছো?
‘আমরাও অবশ্যই তোমার নিকট উপস্থিত করিব ইহার অনুরূপ জাদু, সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে নির্ধারণ কর এক নির্দিষ্ট সময় এক মধ্যবর্তী স্থানে, যাহার ব্যতিক্রম আমরাও করিব না এবং তুমিও করিবে না।’
فلنأتينك بسحر مثله فاجعل بيننا وبينك موعدا لا نخلفه نحن ولا أنت مكانا سوى
অতএব, আমরাও তোমার মোকাবেলায় তোমার নিকট অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে একটি ওয়াদার দিন ঠিক কর, যার খেলাফ আমরাও করব না এবং তুমিও করবে না একটি পরিষ্কার প্রান্তরে।
আমরাও অনুরূপ ম্যাজিক উপস্থিত করবো। সুতরাং আমাদের এবং তোমার মাঝে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্ধারণ করো, যেটি আমরাও লঙ্ঘন করবোনা, তুমিও লঙ্ঘন করবেনা। সেটি হতে হবে মধ্যবর্তী স্থান।’’
মূসা বলিল, ‘তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেই দিন পূর্বাহেড়ব জনগণকে সমবেত করা হইবে।’
قال موعدكم يوم الزينة وأن يحشر الناس ضحى
মূসা বললঃ তোমাদের ওয়াদার দিন উৎসবের দিন এবং পূর্বাহেߠলোকজন সমবেত হবে।
মূসা বললো: ‘সেই প্রতিশ্রুত সময়টি হলো উৎসবের দিন এবং সেদিন পূর্বাহ্ন থেকেই জনগণকে সমবেত করা হবে।’
অতঃপর ফির‘আওন উঠিয়া গেল এবং পরে তাহার কৌশলসমূহ একত্র করিল, অতঃপর আসিল।
فتولى فرعون فجمع كيده ثم أتى
অতঃপর ফেরাউন প্রস্থান করল এবং তার সব কলাকৌশল জমা করল অতঃপর উপস্থিত হল।
ফেরাউন (একথার উপর) উঠে গেলো, তার সমস্ত কৌশল (ম্যাজিক ও ম্যাজেসিয়ানকে) জমা করলো। তারপর (নির্ধারিত দিনে) হাজির হলো।
মূসা উহাদেরকে বলিল, ‘দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা প্রতি মিথ্যা আরোপ করিও না। করিলে, তিনি তোমাদেরকে শাস্তিদ্বারা সমূলে ধ্বংস করিবেন। যে মিথ্যা উদ্ভাবন করিয়াছে সে - ই ব্যর্থ হইয়াছে।’
قال لهم موسى ويلكم لا تفتروا على الله كذبا فيسحتكم بعذاب ۖ وقد خاب من افترى
মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ দুর্ভাগ্য তোমাদের; তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। তাহলে তিনি তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ধবংস করে দেবেন। যে মিথ্যা উদভাবন করে, সেই বিফল মনোরথ হয়েছে।
মূসা তাদের বললো: ‘ধ্বংস হও তোমরা, তোমরা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করোনা, তা করলে তিনি তোমাদের আযাব দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। (এ যাবত) যারাই মিথ্যা রচনা করেছে, তারাই ব্যর্থকাম হয়েছে।’
উহারা নিজেদের মধ্যে নিজেদের কর্ম সম্বন্ধে বিতর্ক করিল এবং উহারা গোপনে পরামর্শ করিল।
فتنازعوا أمرهم بينهم وأسروا النجوى
অতঃপর তারা তাদের কাজে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করল এবং গোপনে পরামর্শ করল।
(একথা শুনে) তারা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং গোপনে পরামর্শ করে।
উহারা বলিল, ‘এই দুইজন অবশ্যই জাদুকর, তাহারা চাহে তাহাদের জাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হইতে বহিষ্কার করিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন - ব্যবস্থা ধ্বংস করিতে।
قالوا إن هذان لساحران يريدان أن يخرجاكم من أرضكم بسحرهما ويذهبا بطريقتكم المثلى
তারা বললঃ এই দুইজন নিশ্চিতই যাদুকর, তারা তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায় এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা রহিত করতে চায়।
তারা (ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ জনগণের উদ্দেশ্যে) বললো: ‘‘এরা দুই ভাই দুই পাক্কা ম্যাজেসিয়ান। তারা তাদের ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায় এবং তোমাদের অনুকরণীয় জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে চায়।
‘অতএব তোমরা তোমাদের জাদু ক্রিয়া সংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হইয়া উপস্থিত হও এবং যে আজ জয়ী হইবে সে - ই সফল হইবে।’
فأجمعوا كيدكم ثم ائتوا صفا ۚ وقد أفلح اليوم من استعلى
অতএব, তোমরা তোমাদের কলাকৌশল সুসংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে আস। আজ যে জয়ী হবে, সেই হবে।
অতএব (হে ম্যাজেসিয়ানরা!) তোমরা তোমাদের সমস্ত কৌশল জমা করো, তারপর সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। আজ যে জয়ী হবে, সে - ই হবে সফল।’’
উহারা বলিল, ‘হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা প্রথমে আমরাই নিক্ষেপ করি।’
قالوا يا موسى إما أن تلقي وإما أن نكون أول من ألقى
তারা বললঃ হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি।
তারা (ম্যাজেসিয়ানরা) বললো: ‘হে মূসা! হয় আপনি নিক্ষেপ করুন, নয়তো পয়লা আমরাই নিক্ষেপ করি।’
মূসা বলিল, ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর।’ উহাদের জাদু - প্রভাবে অকস্মাৎ মূসার মনে হইল উহাদের দড়ি ও লাঠিগুলি ছুটাছুটি করিতেছে।
قال بل ألقوا ۖ فإذا حبالهم وعصيهم يخيل إليه من سحرهم أنها تسعى
মূসা বললেনঃ বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। তাদের যাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো চুটাছুটি করছে।
মূসা বললো: ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো।’ তাদের ম্যাজিকের প্রভাবে মূসার খেয়াল (মনে) হলো, তাদের সব দড়ি এবং লাঠি ছুটাছুটি করছে।
মূসা তাহার অন্তরে কিছু ভীতি অনুভব করিল।
فأوجس في نفسه خيفة موسى
অতঃপর মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন।
ফলে, মূসা তার মনে কিছুটা ভয় অনুভব করলো।
আমি বলিলাম, ‘ভয় করিও না, তুমিই প্রবল।’
قلنا لا تخف إنك أنت الأعلى
আমি বললামঃ ভয় করো না, তুমি বিজয়ী হবে।
আমরা বললাম: ‘‘ভয় পেয়োনা, তুমিই থাকবে উপরে।
‘তোমার দক্ষিণ হস্তে যাহা আছে তাহা নিক্ষেপ কর, ইহা উহারা যাহা করিয়াছে তাহা গ্রাস করিয়া ফেলিবে। উহারা যাহা করিয়াছে তাহা তো কেবল জাদুকরের কৌশল। জাদুকর যেখানেই আসুক, সফল হইবে না।’
وألق ما في يمينك تلقف ما صنعوا ۖ إنما صنعوا كيد ساحر ۖ ولا يفلح الساحر حيث أتى
তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা যা কিছু তারা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।
তোমার ডান হাতে যা আছে সেটি নিক্ষেপ করো, তারা যা করেছে সেটি সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে সেটা তো ম্যাজিসিয়ানদের কৌশলমাত্র। ম্যাজেসিয়ানরা যা - ই উপস্থাপন করুক, সফল হয়না।’’
অতঃপর জাদুকরেরা সিজ্দাবনত হইল ও বলিল, ‘আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিলাম।’
فألقي السحرة سجدا قالوا آمنا برب هارون وموسى
অতঃপর যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। তারা বললঃ আমরা হারুন ও মূসার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।
(তাদের সমস্ত জাদুক্রিয়া নিষ্ক্রীয় হয়ে যেতে দেখে) ম্যাজিসিয়ানরা সবাই সাজদায় লুটিয়ে পড়লো। তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম হারূণ এবং মূসার প্রভুর প্রতি।’
ফির‘আওন বলিল, ‘কী, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা মূসাতে বিশ্বাস স্থাপন করিলে! দেখিতেছি, সে তো তোমাদের প্রধান, সে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়াছে। সুতরাং আমি তো তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক হইতে কর্তন করিবই এবং আমি তোমাদেরকে খর্জুর বৃক্ষের কাণ্ডে শূলবিদ্ধ করিবই এবং তোমরা অবশ্যই জানিতে পারিবে আমাদের মধ্যে কাহার শাস্তি কঠোরতর ও অধিক স্থায়ী।’
قال آمنتم له قبل أن آذن لكم ۖ إنه لكبيركم الذي علمكم السحر ۖ فلأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم في جذوع النخل ولتعلمن أينا أشد عذابا وأبقى
ফেরাউন বললঃ আমার অনুমতি দানের পূর্বেই? তোমরা কি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে; দেখছি সেই তোমাদের প্রধান, সে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব আমি অবশ্যই তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব এবং আমি তোমাদেরকে খর্জুর বৃক্ষের কান্ডে শূলে চড়াব এবং তোমরা নিশ্চিত রূপেই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার আযাব কঠোরতর এবং অধিক্ষণ স্থায়ী।
(ফেরাউন) বললো: ‘আমার অনুমতি ছাড়াই তোরা মূসার প্রতি ঈমান এনেছিস? বুঝতে পেরেছি, সে তোদের গুরু, সে - ই তোদের ম্যাজিক শিখিয়েছে। আমি তোদের হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেবো এবং খেজুর গাছের কান্ডে তোদের শূলবিদ্ধ করবো, তখন তোরা জানতে পারবি, আমাদের দুইজনের (আমার আর মূসার) মধ্যে কে কঠোর এবং স্থায়ী শাস্তিদাতা?’
তাহারা বলিল, ‘আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন আসিয়াছে তাহার উপর এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাঁহার উপর তোমাকে আমরা কিছুতেই প্রাধান্য দিব না। সুতরাং তুমি কর যাহা তুমি করিতে চাও। তুমি তো কেবল এই পার্থিব জীবনের উপর কর্তৃত্ব করিতে পার।’
قالوا لن نؤثرك على ما جاءنا من البينات والذي فطرنا ۖ فاقض ما أنت قاض ۖ إنما تقضي هذه الحياة الدنيا
যাদুকররা বললঃ আমাদের কাছে যে, সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে তার উপর এবং যিনি আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উপর আমরা কিছুতেই তোমাকে প্রাধান্য দেব না। অতএব, তুমি যা ইচ্ছা করতে পার। তুমি তো শুধু এই পার্থিব জীবনেই যা করার করবে।
তারা বললো: ‘‘আমাদের কাছে যেসব স্পষ্ট নিদর্শন প্রকাশ হয়েছে এবং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার উপর আমরা তোমাকে প্রাধান্য দিতে পারিনা। তুমি যে ফায়সালা করতে চাও করো। তুমি তো কেবল এই দুনিয়ার জীবনের উপরই ফায়সালা করতে পারবে।
‘আমরা নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিয়াছি যাহাতে তিনি ক্ষমা করেন আমাদের অপরাধ এবং তুমি আমাদেরকে যে জাদু করিতে বাধ্য করিয়াছ তাহা। আর শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।’
إنا آمنا بربنا ليغفر لنا خطايانا وما أكرهتنا عليه من السحر ۗ والله خير وأبقى
আমরা আমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যাতে তিনি আমাদের পাপ এবং তুমি আমাদেরকে যে যাদু করতে বাধ্য করেছ, তা মার্জনা করেন। শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।
আমরা আমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে করে তিনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেন আর তুমি আমাদেরকে যে ম্যাজিক দেখাতে বাধ্য করেছো সেই অপরাধও। আল্লাহ্ই সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।’’
যে তাহার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হইয়া উপস্থিত হইবে তাহার জন্য তো আছে জাহান্নাম, সেখানে সে মরিবেও না, বাঁচিবেও না।
إنه من يأت ربه مجرما فإن له جهنم لا يموت فيها ولا يحيى
নিশ্চয়ই যে তার পালনকর্তার কাছে অপরাধী হয়ে আসে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবে না এবং বাঁচবেও না।
যে কেউ তার প্রভুর কাছে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত হবে, তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, আর (বাঁচার মতো) বাঁচবেওনা।
এবং যাহারা তাঁহার নিকট উপস্থিত হইবে মু’মিনঅবস্থায় সৎকর্ম করিয়া, তাহাদের জন্য আছে সমুচ্চ মর্যাদা -
ومن يأته مؤمنا قد عمل الصالحات فأولئك لهم الدرجات العلى
আর যারা তাঁর কাছে আসে এমন হয়ে যায় সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে সুউচ্চ মর্তবা।
আর যে কেউ তাঁর কাছে উপস্থিত হবে হিসেবে আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে নির্ধারিত আছে উঁচু মর্যাদাসমূহ,
স্থায়ী জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং এই পুরস্কার তাহাদেরই, যাহারা পবিত্র।
جنات عدن تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ۚ وذلك جزاء من تزكى
বসবাসের এমন পুষ্পোদ্যান রয়েছে যার তলদেশে দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এটা তাদেরই পুরস্কার, যারা পবিত্র হয়।
চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার নীচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। যারা আত্মোন্নয়ন - আত্মশুদ্ধি করবে, এ পুরস্কার পাবে তারাই।
আমি অবশ্যই মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম এই মর্মে যে, আমার বান্দাদেরকে লইয়া রজনীযোগে বহির্গত হও এবং তাহাদের জন্য সমুদ্রের মধ্য দিয়া এক শুষ্ক পথ নির্মাণ কর। পশ্চাৎ হইতে আসিয়া তোমাকে ধরিয়া ফেলা হইবে - এই আশংকা করিও না এবং ভয়ও করিও না।
ولقد أوحينا إلى موسى أن أسر بعبادي فاضرب لهم طريقا في البحر يبسا لا تخاف دركا ولا تخشى
আমি মূসা প্রতি এই মর্মে ওহী করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে শুষ্কপথ নির্মাণ কর। পেছন থেকে এসে তোমাদের ধরে ফেলার আশঙ্কা করো না এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয় করো না।
আমরা মূসাকে অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমার দাসদের নিয়ে তুমি রাতের বেলায় বের হবে এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে একটি শুকনো পথ তৈরি করে নেবে। পেছন থেকে এসে তোমাকে ধরে ফেলবে - এই আশংকা করোনা এবং (সাগর পার হতে গিয়ে) ভয়ও পেয়োনা।
অতঃপর ফির‘আওন তাহার সৈন্যবাহিনীসহ তাহাদের পশ্চাদ্ধাবন করিল, অতঃপর সমুদ্র উহাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করিল।
فأتبعهم فرعون بجنوده فغشيهم من اليم ما غشيهم
অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জত করল।
ফেরাউন তার বাহিনী নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে, তারপর সমুদ্র তাদের ডুবিয়ে নেয় পুরোপুরি।
আর ফির‘আওন তাহার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করিয়াছিল এবং সৎপথ দেখায় নাই।
وأضل فرعون قومه وما هدى
ফেরআউন তার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি।
ফেরাউন তার কওমকে বিপথগামী করে দিয়েছিল এবং সঠিক পথ দেখায়নি।
হে বনী ইসরাঈল! আমি তো তোমাদেরকে শত্রু হইতে উদ্ধার করিয়াছিলাম, আমি তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ পার্শ্বে এবং তোমাদের নিকট মান্না ও সাল্ওয়া প্রেরণ করিয়াছিলাম,
يا بني إسرائيل قد أنجيناكم من عدوكم وواعدناكم جانب الطور الأيمن ونزلنا عليكم المن والسلوى
হে বনী - ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শক্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছি, তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দান করেছি এবং তোমাদের কাছে ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নাযিল করেছি।
হে বনি ইসরাঈল! তোমাদের দুশমনদের কবল থেকে আমরাই তোমাদের নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তুর পাহাড়ের ডান পাশে আর তোমাদের প্রতি আমরা নাযিল করেছি মান্না এবং সালওয়া।
তোমাদেরকে যাহা দান করিয়াছি তাহা হইতে ভাল ভাল বস্তু আহার কর এবং এই বিষয়ে সীমালংঘন করিও না, করিলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ অবধারিত এবং যাহার উপর আমার ক্রোধ অবধারিত সে তো ধ্বংস হইয়া যায়।
كلوا من طيبات ما رزقناكم ولا تطغوا فيه فيحل عليكم غضبي ۖ ومن يحلل عليه غضبي فقد هوى
বলেছিঃ আমার দেয়া পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না, তা হলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ নেমে আসবে এবং যার উপর আমার ক্রোধ নেমে আসে সে ধবংস হয়ে যায়।
(আমরা তোমাদের বলেছি:) আমাদের দেয়া উত্তম জীবিকা তোমরা খাও এবং এক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করোনা, করলে তোমাদের প্রতি আমার গজব নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যার প্রতিই আমার গজব নিশ্চিত হয়ে পড়ে, সে তো হয়ে যায় ধ্বংস।
এবং আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তাহার প্রতি, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।
وإني لغفار لمن تاب وآمن وعمل صالحا ثم اهتدى
আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।
যে তওবা করে, ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে এবং হিদায়াতের পথে চলে অবশ্যি আমি তার জন্যে অনন্ত ক্ষমাশীল।
হে মূসা! তোমার সম্প্রদায়কে পশ্চাতে ফেলিয়া তোমাকে ত্বরা করিতে বাধ্য করিল কিসে?
۞ وما أعجلك عن قومك يا موسى
হে মূসা, তোমার সম্প্রদায়কে পেছনে ফেলে তুমি ত্বরা করলে কেন?
তোমার কওমকে সাথে আনার ক্ষেত্রে তোমাকে তাড়াহুড়ায় ফেললো কোন্ জিনিস হে মূসা?
সে বলিল, ‘এই তো উহারা আমার পশ্চাতে এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি ত্বরায় তোমার নিকট আসিলাম, তুমি সন্তুষ্ট হইবে এইজন্য।’
قال هم أولاء على أثري وعجلت إليك رب لترضى
তিনি বললেনঃ এই তো তারা আমার পেছনে আসছে এবং হে আমার পালনকর্তা, আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও।
সে বললো: ‘তারা পেছনেই আছে আর আমি তাড়াহুড়া করে এসেছি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে হে প্রভু!’
তিনি বলিলেন, ‘আমি তো তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলিয়াছি তোমার চলিয়া আসার পর এবং সামিরী উহাদেরকে পথভ্রষ্ট করিয়াছে।’
قال فإنا قد فتنا قومك من بعدك وأضلهم السامري
বললেনঃ আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি তোমার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।
তিনি বললেন: আমরা তো তোমার কওমকে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর। আর তাদের বিপথগামী করেছে সামেরি।
অতঃপর মূসা তাহার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া গেল ক্রোধান্নিত ও ক্ষুব্ধ হইয়া। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেন নাই? তবে কি প্রতিশ্রুতিকাল তোমাদের নিকট সুদীর্ঘ হইয়াছে, না তোমরা চাহিয়াছ তোমাদের প্রতি আপতিত হউক তোমাদের প্রতিপালকের ক্রোধ, যে কারণে তোমরা আমার প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করিলে?’
فرجع موسى إلى قومه غضبان أسفا ۚ قال يا قوم ألم يعدكم ربكم وعدا حسنا ۚ أفطال عليكم العهد أم أردتم أن يحل عليكم غضب من ربكم فأخلفتم موعدي
অতঃপর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলেন ক্রদ্ধ ও অনুতপ্ত অবস্থায়। তিনি বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদেরকে একটি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? তবে কি প্রতিশ্রুতির সময়কাল তোমাদের কাছে দীর্ঘ হয়েছে, না তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার ক্রোধ নেমে আসুক, যে কারণে তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করলে?
তখন মূসা তার কওমের কাছে ফিরে এলো ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে। এসে তাদের বললো: ‘হে আমার কওম! তোমাদের প্রভু কি তোমাদের একটি উত্তম ওয়াদা দেননি? ওয়াদার সময়কাল কি তোমাদের কাছে সুদীর্ঘ হয়েছে, নাকি তোমরা চাও তোমাদের প্রভুর গজব (ক্রোধ) তোমাদের উপর হালাল হয়ে যাক? আর সে কারণেই কি তোমরা আমার প্রতি দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করলে?’
উহারা বলিল, ‘আমরা তোমার প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করি নাই ; তবে আমাদের উপর চাপাইয়া দেওয়া হইয়াছিল লোকের অলংকারের বোঝা এবং আমরা উহা অগ্নিকুন্ড নিক্ষেপ করি, অনুরূপভাবে সামিরীও নিক্ষেপ করে।
قالوا ما أخلفنا موعدك بملكنا ولكنا حملنا أوزارا من زينة القوم فقذفناها فكذلك ألقى السامري
তারা বললঃ আমরা তোমার সাথে কৃত ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি; কিন্তু আমাদের উপর ফেরউনীদের অলংকারের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর আমরা তা নিক্ষেপ করে দিয়েছি। এমনি ভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করেছে।
তারা বললো: ‘‘আমরা তোমার প্রতি দেয়া ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি। বরং আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল কওমের অলংকারের বোঝা। তখন আমরা সেগুলো অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করি। একইভাবে সামেরিও নিক্ষেপ করে।
‘অতঃপর সে উহাদের জন্য গড়িল এক গো - বৎস, এক অবয়ব, যাহা হাম্বা রব করিত।’ উহারা বলিল, ‘ইহা তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্, কিন্তু মূসা ভুলিয়া গিয়াছে।’
فأخرج لهم عجلا جسدا له خوار فقالوا هذا إلهكم وإله موسى فنسي
অতঃপর সে তাদের জন্য তৈরী করে বের করল একটি গো - বৎস, একটা দেহ, যার মধ্যে গরুর শব্দ ছিল। তারা বললঃ এটা তোমাদের উপাস্য এবং মূসার ও উপাস্য, অতঃপর মূসা ভুলে গেছে।
তখন সে (সামেরি) তাদের জন্যে গড়ে নিলো একটি গো - বাছুরের অবয়ব যা হাম্বা করছিল। তখন তারা বললো: ‘‘এটাই তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্, কিন্তু সে (মূসা) ভুলে গেছে (তার এই ইলাহকে)।’’
তবে কি উহারা ভাবিয়া দেখে না যে, উহা তাহাদের কথায় সাড়া দেয় না এবং তাহাদের কোন ক্ষতি অথবা উপকার করিবার ক্ষমতা রাখে না?
أفلا يرون ألا يرجع إليهم قولا ولا يملك لهم ضرا ولا نفعا
তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের কোন কথার উত্তর দেয় না এবং তারে কোন ক্ষতি ও উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না?
তবে কি তারা লক্ষ্য করেনি যে, সেটা তাদের কথায় সাড়া দেয়না এবং তাদের কোনো ক্ষতি কিংবা কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখেনা।
হারূন উহাদেরকে পূর্বেই বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! ইহা দ্বারা তো কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হইয়াছে। তোমাদের প্রতিপালক তো দয়াময়; সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মানিয়া চল।’
ولقد قال لهم هارون من قبل يا قوم إنما فتنتم به ۖ وإن ربكم الرحمن فاتبعوني وأطيعوا أمري
হারুন তাদেরকে পুর্বেই বলেছিলেনঃ হে আমার কওম, তোমরা তো এই গো - বৎস দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছ এবং তোমাদের পালনকর্তা দয়াময়। অতএব, তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল।
ইতোপূর্বে হারূণও তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! এই গো - বাছুরের মাধ্যমে তো তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু পরম দয়াময়, সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ পালন করো।’
উহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদের নিকট মূসা ফিরিয়া না আসা পর্যন্ত আমরা ইহার পূজা হইতে কিছুতেই বিরত হইব না।’
قالوا لن نبرح عليه عاكفين حتى يرجع إلينا موسى
তারা বললঃ মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত আমরা সদাসর্বদা এর সাথেই সংযুক্ত হয়ে বসে থাকব।
জবাবে তারা বলেছিল: ‘মূসা আমাদের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এটিকে পূজা করা থেকে কিছুতেই বিরত হবোনা।’
মূসা বলিল, ‘হে হারূন! তুমি যখন দেখিলে উহারা পথভ্রষ্ট হইয়াছে তখন কিসে তোমাকে নিবৃত্ত করিল -
قال يا هارون ما منعك إذ رأيتهم ضلوا
মূসা বললেনঃ হে হারুন, তুমি যখন তাদেরকে পথ ভ্রষ্ট হতে দেখলে, তখন তোমাকে কিসে নিবৃত্ত করল ?
মূসা বললো: ‘‘হে হারূণ! তাদেরকে বিপথগামী হতে দেখা সত্ত্বেও কিসে আপনাকে বিরত রাখলো
‘আমার অনুসরণ করা হইতে? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করিলে?’
ألا تتبعن ۖ أفعصيت أمري
আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে? তবে তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করেছ?
আমার অনুসরণ করা থেকে? তবে কি আপনি আমার আদেশ অমান্য করলেন?’’
হারূন বলিল, ‘হে আমার সহোদর! আমার শ্মশ্রু ও কেশ ধরিও না। আমি আশংকা করিয়াছিলাম যে, তুমি বলিবে, ‘তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিয়াছ ও তুমি আমার বাক্য পালনে যত্নবান হও নাই।’
قال يا ابن أم لا تأخذ بلحيتي ولا برأسي ۖ إني خشيت أن تقول فرقت بين بني إسرائيل ولم ترقب قولي
তিনি বললেনঃ হে আমার জননী - তনয়, আমার শ্মশ্রু ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ করো না; আমি আশঙ্কা করলাম যে, তুমি বলবেঃ তুমি বনী - ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা স্মরণে রাখনি।
হারূণ বললো: ‘হে আমার মায়ের পেটের ভাই! তুমি আমার দাড়ি এবং চুল ধরোনা। আমি আশংকা করেছিলাম, তুমি বলবে: তুমি বনি ইসরাঈলিদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি।’
মূসা বলিল, ‘হে সামিরী! তোমার ব্যাপার কী?’
قال فما خطبك يا سامري
মূসা বললেন হে সামেরী, এখন তোমার ব্যাপার কি?
মূসা বললো: ‘সামেরি! তোমার ব্যাপারটা কী?’
সে বলিল, ‘আমি দেখিয়াছিলাম যাহা উহারা দেখে নাই, অতঃপর আমি সেই দূতের পদচিহ্ন হইতে একমুষ্টি লইয়াছিলাম এবং আমি উহা নিক্ষেপ করিয়াছিলাম; আমার মন আমার জন্য শোভন করিয়াছিল এইরূপ করা।’
قال بصرت بما لم يبصروا به فقبضت قبضة من أثر الرسول فنبذتها وكذلك سولت لي نفسي
সে বললঃ আমি দেখলাম যা অন্যেরা দেখেনি। অতঃপর আমি সেই প্রেরিত ব্যক্তির পদচিহ্নের নীচ থেকে এক মুঠি মাটি নিয়ে নিলাম। অতঃপর আমি তা নিক্ষেপ করলাম। আমাকে আমার মন এই মন্ত্রণাই দিল।
সে বললো: ‘আমি এমন কিছু দেখেছি যা তারা দেখেনি। তখন আমি সেই রসূলের (জিবরিলের) পদচিহ্ন থেকে এক মুষ্টি (ধূলো) নিয়েছিলাম এবং তা নিক্ষেপ করেছিলাম, এ কাজটির জন্যে আমার নফস আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’
মূসা বলিল, ‘দূর হও; তোমার জীবদ্দশায় তোমার জন্য ইহাই রহিল যে, তুমি বলিবে, ‘আমি অস্পৃশ্য’, এবং তোমার জন্য রহিল এক নির্দিষ্ট কাল, তোমার বেলায় যাহার ব্যতিক্রম হইবে না এবং তুমি তোমার সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর যাহার পূজায় তুমি রত ছিলে; আমরা উহাকে জ্বালাইয়া দিবই, অতঃপর উহাকে বিক্ষিপ্ত করিয়া সাগরে নিক্ষেপ করিবই।’
قال فاذهب فإن لك في الحياة أن تقول لا مساس ۖ وإن لك موعدا لن تخلفه ۖ وانظر إلى إلهك الذي ظلت عليه عاكفا ۖ لنحرقنه ثم لننسفنه في اليم نسفا
মূসা বললেনঃ দূর হ, তোর জন্য সারা জীবন এ শাস্তিই রইল যে, তুই বলবি; আমাকে স্পর্শ করো না, এবং তোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়াদা আছে, যার ব্যতিক্রম হবে না। তুই তোর সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর, যাকে তুই ঘিরে থাকতি। আমরা সেটি জালিয়ে দেবই। অতঃপর একে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে ছড়িয়ে দেবই।
মূসা বললো: ‘‘যাও, তোমার জন্যে জীবদ্দশায় এই শাস্তি নির্ধারিত হলো যে, তুমি সব সময় বলতে থাকবে: ‘আমাকে স্পর্শ করোনা,’ তোমার জন্যে নির্ধারিত হলো একটি নির্দিষ্টকাল, তোমার বেলায় যার ব্যতিক্রম হবেনা। তোমার ইলাহ্টির (দেবতাটির) প্রতি তাকাও, তুমি যার পূজা করতে, আমরা অবশ্যি সেটিকে পুড়ে ফেলবো এবং বিক্ষিপ্ত করে সেটিকে নিক্ষেপ করবো সাগরে।
তোমাদের ইলাহ্ তো কেবল যিনি ব্যতীত অন্য কোন নাই, তাঁহার জ্ঞান সর্ববিষয়ে ব্যাপ্ত।
إنما إلهكم الله الذي لا إله إلا هو ۚ وسع كل شيء علما
তোমাদের তো কেবল আল্লাহই, যিনি ব্যতীত অন্য কোন নেই। সব বিষয় তাঁর জ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ্ একমাত্র যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত।’’
পূর্বে যাহা ঘটিয়াছে তাহার সংবাদ আমি এইভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার নিকট হইতে তোমাকে দান করিয়াছি উপদেশ,
كذلك نقص عليك من أنباء ما قد سبق ۚ وقد آتيناك من لدنا ذكرا
এমনিভাবে আমি পূর্বে যা ঘটেছে, তার সংবাদ আপনার কাছে বর্ণনা করি। আমি আমার কাছ থেকে আপনাকে দান করেছি পড়ার গ্রন্থ।
এভাবেই আমরা তোমাকে অতীত সংবাদের বিবরণ দিচ্ছি, আর এ উদ্দেশ্যে আমরা তোমাকে দিয়েছি একটি যিকির (কুরআন)।
ইহা হইতে যে বিমুখ হইবে সে অবশ্যই কিয়ামতের দিন মহাভার বহন করিবে।
من أعرض عنه فإنه يحمل يوم القيامة وزرا
যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কেয়ামতের দিন বোঝা বহন করবে।
যে এ গ্রন্থ থেকে মুখ ফেরাবে, সে কিয়ামতের দিন বহন করবে এক বিশাল বোঝা।
উহাতে উহারা স্থায়ী হইবে এবং কিয়ামতের দিন এই বোঝা উহাদের জন্য হইবে কত মন্দ!
خالدين فيه ۖ وساء لهم يوم القيامة حملا
তারা তাতে চিরকাল থাকবে এবং কেয়ামতের দিন এই বোঝা তাদের জন্যে মন্দ হবে।
চিরদিন তারা তাতেই থাকবে, কিয়ামতকালের এই বোঝা তাদের জন্যে হবে কতো যে নিকৃষ্ট বোঝা!
যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে এবং যেই দিন আমি অপরাধীদেরকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় সমবেত করিব।
يوم ينفخ في الصور ۚ ونحشر المجرمين يومئذ زرقا
যেদিন সিঙ্গায় ফূৎকার দেয়া হবে, সেদিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব নীল চক্ষু অবস্থায়।
যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং যেদিন আমরা অপরাধীদের দৃষ্টিহীন করে হাশর করবো,
সেই দিন উহারা নিজেদের মধ্যে চুপিচুপি বলাবলি করিবে, ‘তোমরা মাত্র দশ দিন অবস্থান করিয়াছিলে।’
يتخافتون بينهم إن لبثتم إلا عشرا
তারা চুপিসারে পরস্পরে বলাবলি করবেঃ তোমরা মাত্র দশ দিন অবস্থান করেছিলে।
সেদিন তারা নিজেরা নিজেরা চুপিসারে বলাবলি করবে: ‘তোমরা তো (পৃথিবীতে) মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে।’
আমি ভাল জানি উহারা কি বলিবে, উহাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত সৎপথে ছিল সে বলিবে, ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করিয়াছিলে।’
نحن أعلم بما يقولون إذ يقول أمثلهم طريقة إن لبثتم إلا يوما
তারা কি বলে তা আমি ভালোভাবে জানি। তাদের মধ্যে যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম পথের অনুসারী সে বলবেঃ তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।
সেদিন তারা কী বলবে সেটা আমরা অধিক জানি, সেদিন তাদের সর্বাধিক উন্নত বুদ্ধির অধিকারী ব্যক্তি বলবে: ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।’
উহারা তোমাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘আমার প্রতিপালক উহাদেরকে সমূলে উৎপাটন করিয়া বিক্ষিপ্ত করিয়া দিবেন।
ويسألونك عن الجبال فقل ينسفها ربي نسفا
তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন করা। অতএব, আপনি বলুনঃ আমার পালনকর্তা পহাড়সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন।
তারা তোমার কাছে পর্বতমালা সম্পর্কে জানতে চাইছে। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু সেগুলোকে সমূলে উঠিয়ে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।’
‘অতঃপর তিনি উহাকে পরিণত করিবেন মসৃণ সমতল ময়দানে,
فيذرها قاعا صفصفا
অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতলভূমি করে ছাড়বেন।
তারপর তিনি সেগুলোকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল মাঠে।
‘যাহাতে তুমি বক্রতা ও উচ্চতা দেখিবে না।’
لا ترى فيها عوجا ولا أمتا
তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।
তাতে তুমি কোনো প্রকার বক্রতা কিংবা উঁচু (নিচু) দেখবেনা।
সেই দিন উহারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করিবে, এই ব্যাপারে এদিক - ওদিক করিতে পারিবে না। দয়াময়ের সম্মুখে সকল শব্দ স্তব্ধ হইয়া যাইবে; সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ব্যতীত তুমি কিছুই শুনিবে না।
يومئذ يتبعون الداعي لا عوج له ۖ وخشعت الأصوات للرحمن فلا تسمع إلا همسا
সেই দিন তারা আহবানকারীর অনুসরণ করবে, যার কথা এদিক - সেদিক হবে না এবং দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না।
সেদিন তারা ঘোষণাকারীকে অনুসরণ করবে (ঘোষণাকারীর দিকে দৌড়াবে), কোনো প্রকার এদিক সেদিক করতে পারবেনা। রহমানের সামনে সমস্ত আওয়ায স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি আর কিছুই শুনতে পাবেনা।
দয়াময় যাহাকে অনুমতি দিবেন ও যাহার কথা তিনি পসন্দ করিবেন সে ব্যতীত কাহারও সুপারিশ সেই দিন কোন কাজে আসিবে না।
يومئذ لا تنفع الشفاعة إلا من أذن له الرحمن ورضي له قولا
দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না।
সেদিন শাফায়াতে কোনো কাজ হবেনা, তবে রহমান যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথা শুনতে রাজি হবেন তার বিষয়টি আলাদা।
তাহাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যাহা কিছু আছে তাহা তিনি অবগত, কিন্তু উহারা জ্ঞান দ্বারা তাঁহাকে আয়ত্ত করিতে পারে না।
يعلم ما بين أيديهم وما خلفهم ولا يحيطون به علما
তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও পশ্চাতে আছে এবং তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করতে পারে না।
তাদের সামনে পিছে যা কিছু আছে সবই তাঁর এলেমে আছে, কিন্তু তাদের এলেম তাঁকে আয়ত্ত করতে পারেনা।
চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারকের নিকট সকলেই হইবে অধোবদন এবং সে - ই ব্যর্থ হইবে, যে জুলুমের ভার বহন করিবে।
۞ وعنت الوجوه للحي القيوم ۖ وقد خاب من حمل ظلما
সেই চিরঞ্জীব চিরস্থায়ীর সামনে সব মুখমন্ডল অবনমিত হবে এবং সে ব্যর্থ হবে যে জুলুমের বোঝা বহন করবে।
সেদিন চিরঞ্জীব, সর্ববস্ত্তর ধারকের উদ্দেশ্যে সবাই হবে নতশির। সেদিন ব্যর্থ হবে সে, যে বইয়ে আনবে যুলুম।
এবং যে সৎকর্ম করে হইয়া, তাহার কোন আশংকা নাই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির।
ومن يعمل من الصالحات وهو مؤمن فلا يخاف ظلما ولا هضما
যে অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না।
অবস্থায় যে কেউ আমলে সালেহ্ করবে, তার কোনোই আশংকা থাকবেনা অন্যায় বিচার কিংবা কোনো প্রকার ক্ষতির।
এইরূপেই আমি কুরআনকে অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় এবং উহাতে বিশদভাবে বিবৃত করিয়াছি সতর্কবাণী যাহাতে উহারা ভয় করে অথবা ইহা হয় উহাদের জন্য উপদেশ।
وكذلك أنزلناه قرآنا عربيا وصرفنا فيه من الوعيد لعلهم يتقون أو يحدث لهم ذكرا
এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়।
এভাবেই, আমরা এটিকে নাযিল করেছি একটি আরবি কুরআন হিসেবে এবং বিভিন্নভাবে তাতে বর্ণনা করেছি সতর্ক বার্তা, যাতে করে তারা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে অথবা এটি যেনো হয় তাদের জন্যে একটি উপদেশ।
অতি মহান, প্রকৃত অধিপতি। তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হইবার পূর্বে কুরআন পাঠে তুমি ত্বরা করিও না এবং বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর।’
فتعالى الله الملك الحق ۗ ولا تعجل بالقرآن من قبل أن يقضى إليك وحيه ۖ وقل رب زدني علما
সত্যিকার অধীশ্বর মহান। আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পুর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি কোরআন গ্রহণের ব্যপারে তাড়াহুড়া করবেন না এবং বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।
অতীব মহান, প্রকৃত সম্রাট তিনিই। তোমার প্রতি অহি সম্পূর্ণ হবার আগেই তুমি তাড়াহুড়া করে কুরআন পাঠ করোনা। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু! আমাকে সমৃদ্ধ করো জ্ঞানে।’
আমি তো ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দান করিয়াছিলাম, কিন্তু সে ভুলিয়া গিয়াছিল; আমি তাহাকে সংকল্পে দৃঢ় পাই নাই।
ولقد عهدنا إلى آدم من قبل فنسي ولم نجد له عزما
আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি।
ইতোপূর্বে আমরা আদমকে একটি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল। আমরা তাকে পাইনি মজবুত সংকল্পের অধিকারী।
স্মরণ কর, যখন ফিরিশ্তাগণকে বলিলাম, ‘আদমের প্রতি সিজ্দা কর,’ তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করিল, সে অমান্য করিল।
وإذ قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس أبى
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল।
আমরা যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা সাজদা করো আদমকে, তখন তারা সাজদা করলো, কিন্তু করেনি শুধু ইবলিস। সে অস্বীকার করলো (সাজদা করতে)।
অতঃপর আমি বলিলাম, ‘হে আদম! নিশ্চয়ই এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত হইতে বাহির করিয়া না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ - কষ্ট পাইবে।
فقلنا يا آدم إن هذا عدو لك ولزوجك فلا يخرجنكما من الجنة فتشقى
অতঃপর আমি বললামঃ হে আদম, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন বের করে না দেয় তোমাদের জান্নাত থেকে। তাহলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে।
তখন আমরা বলেছিলাম, হে আদম! নিশ্চয়ই এ (ইবলিস) তোমার এবং তোমার স্ত্রীর শত্রু। সে যেনো তোমাদের জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। দিলে তোমরা পড়বে দুর্ভোগে।
‘তোমার জন্য ইহাই রহিল যে, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্তও হইবে না ও নগ্নও হইবে না;
إن لك ألا تجوع فيها ولا تعرى
তোমাকে এই দেয়া হল যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীণ হবে না।
তোমার জন্যে নিয়ম করে দেয়া হলো, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্তও হবেনা বিবস্ত্রও হবেনা।
এবং সেখানে পিপাসার্ত হইবে না এবং রৌদ্র - ক্লিষ্টও হইবে না।’
وأنك لا تظمأ فيها ولا تضحى
এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না।
তুমি সেখানে পিপাসার্তও হবেনা, রোদেও পুড়বেনা।
অতঃপর শয়তান তাহাকে কুমন্ত্রণা দিল; সে বলিল, ‘হে আদম! আমি কি তোমাকে বলিয়া দিব অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষের কথা ও অক্ষয় রাজ্যের কথা?’
فوسوس إليه الشيطان قال يا آدم هل أدلك على شجرة الخلد وملك لا يبلى
অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?
তখন শয়তান তাকে অস্অসা দিলো। সে বললো: ‘হে আদম! আমি কি আপনাকে সংবাদ দেবো এক অমর গাছের এবং এক অক্ষয় সাম্রাজ্যের?’
অতঃপর তাহারা উভয়ে উহা হইতে ভক্ষণ করিল; তখন তাহাদের লজ্জাস্থান তাহাদের নিকট প্রকাশ হইয়া পড়িল এবং তাহারা জান্নাতের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করিতে লাগিল। আদম তাহার প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করিল, ফলে সে ভ্রমে পতিত হইল।
فأكلا منها فبدت لهما سوآتهما وطفقا يخصفان عليهما من ورق الجنة ۚ وعصى آدم ربه فغوى
অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ - পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে শুরু করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথ ভ্রষ্ঠ হয়ে গেল।
ফলে তারা দুজনে সেই গাছের ফল খেলো। তখন তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং তারা জান্নাতের পত্রপল্লব দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে থাকলো। এভাবে আদম তার প্রভুর আদেশ অমান্য করলো এবং বিপথগামী হলো।
ইহার পর তাহার প্রতিপালক তাহাকে মনোনীত করিলেন, তাহার তওবা কবুল করিলেন ও তাহাকে পথনির্দেশ করিলেন।
ثم اجتباه ربه فتاب عليه وهدى
এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং তাকে সুপথে আনয়ন করলেন।
তারপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করেন, তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে প্রদান করেন সঠিক জীবন পদ্ধতি।
তিনি বলিলেন, ‘তোমরা উভয়ে একই সঙ্গে জান্নাত হইতে নামিয়া যাও। তোমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু। পরে আমার পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট সৎপথের নির্দেশ আসিলে যে আমার পথ অনুসরণ করিবে সে বিপথগামী হইবে না ও দুঃখ - কষ্ট পাইবে না।
قال اهبطا منها جميعا ۖ بعضكم لبعض عدو ۖ فإما يأتينكم مني هدى فمن اتبع هداي فلا يضل ولا يشقى
তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়েই এখান থেকে এক সঙ্গে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ঠ হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না।
তিনি তাদের বললেন: ‘‘তোমরা উভয়ে (আদম ও শয়তান) এক সাথে এখান থেকে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। আমার পক্ষ থেকে যখন তোমাদের কাছে হুদা (জীবন পদ্ধতি এবং নবী ও কিতাব) আসবে, তখন যে আমার হুদার অনুসরণ করবে, সে বিপথগামীও হবেনা, দুর্ভাগাও হবেনা।
‘যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকিবে, অবশ্য তাহার জীবন - যাপন হইবে সংকুচিত এবং আমি তাহাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করিব অন্ধ অবস্থায় ।’
ومن أعرض عن ذكري فإن له معيشة ضنكا ونحشره يوم القيامة أعمى
এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।
কিন্তু যে আমার যিকির (কিতাব) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জীবন যাপন পদ্ধতি হয়ে পড়বে সংকুচিত আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে হাশর করবো অন্ধ করে।’’
সে বলিবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করিলে? আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান।’
قال رب لم حشرتني أعمى وقد كنت بصيرا
সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।
তখন সে বলবে: ‘প্রভু! আমাকে অন্ধ করে কেন হাশর করেছো, আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তির অধিকারী?’
তিনি বলিবেন, ‘এইরূপই আমার নিদর্শনাবলী তোমার নিকট আসিয়াছিল, কিন্তু তুমি উহা ভুলিয়া গিয়াছিলে এবং সেইভাবে আজ তুমিও বিস্মৃত হইলে।’
قال كذلك أتتك آياتنا فنسيتها ۖ وكذلك اليوم تنسى
বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব।
তিনি বলবেন: ‘এভাবেই, তোমার কাছে এসেছিল আমাদের আয়াত, কিন্তু তুমি তা ভুলে থেকেছিলে, একইভাবে তুমিও বিস্মৃত হলে।’
এবং এইভাবেই আমি প্রতিফল দেই তাহাকে, যে বাড়াবাড়ি করে ও তাহার প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করে না। পরকালের শাস্তি তো অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।
وكذلك نجزي من أسرف ولم يؤمن بآيات ربه ۚ ولعذاب الآخرة أشد وأبقى
এমনিভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেব, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না করে। তার পরকালের শাস্তি কঠোরতর এবং অনেক স্থায়ী।
আমরা তাদেরকে এরকমই প্রতিফল দিয়ে থাকি যারা সীমালঙ্ঘন করে এবং তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি ঈমান আনেনা। আর আখিরাতের আযাব তো অবশ্যি আরো অধিক কঠোর এবং স্থায়ী।
ইহাও কি তাহাদেরকে সৎপথ দেখাইল না যে, আমি ইহাদের পূর্বে ধ্বংস করিয়াছি কত মানবগোষ্ঠী যাহাদের বাসভূমিতে ইহারা বিচরণ করিয়া থাকে? অবশ্যই ইহাতে বিবেকসম্পনবানদের জন্য আছে নিদর্শন।
أفلم يهد لهم كم أهلكنا قبلهم من القرون يمشون في مساكنهم ۗ إن في ذلك لآيات لأولي النهى
আমি এদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধবংস করেছি। যাদের বাসভুমিতে এরা বিচরণ করে, এটা কি এদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না? নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
এ বিষয়টিও কি তাদেরকে হিদায়াতের পথে আনতে পারলোনা যে, তাদের আগে আমরা কতো মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি, তারাও তাদের বাসস্থানে চলাফেরা করতো। নিশ্চয়ই এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা বুদ্ধি বিবেকওয়ালা লোক।
তোমার প্রতিপালকের পূর্বসিদ্ধান্ত ও একটা কাল নির্ধারিত না থাকিলে অবশ্যম্ভাবী হইত আশু শাস্তি।
ولولا كلمة سبقت من ربك لكان لزاما وأجل مسمى
আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত এবং একটি কাল নির্দিষ্ট না থাকলে শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে যেত।
তোমার প্রভুর পূর্ব বাণী এবং সময় নির্দিষ্ট করা না থাকলে তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেয়া আবশ্যক হয়ে যেতো।
সুতরাং উহারা যাহা বলে, সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং রাত্রিকালে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর, এবং দিবসের প্রান্তসমূহেও, যাহাতে তুমি সন্তুষ্ট হইতে পার।
فاصبر على ما يقولون وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل غروبها ۖ ومن آناء الليل فسبح وأطراف النهار لعلك ترضى
সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করুন এবং আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন রাত্রির কিছু অংশ ও দিবাভাগে, সম্ভবতঃ তাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
সুতরাং তারা যা বলে, সে সম্পর্কে তুমি সবর অবলম্বন করো এবং তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ করো সূর্যোদয়ের আগে আর সূর্যাস্তের আগে। এছাড়া রাত্রিকালে তাঁর তসবিহ করো আর দিনের দুইপ্রান্তে। আশা করা যায় এর ফলে (তুমি তোমার প্রভুর অনুগ্রহ লাভ করবে) এবং হয়ে যাবে সন্তুষ্ট।
তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় কখনও প্রসারিত করিও না উহার প্রতি, যাহা আমি তাহাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসাবে দিয়াছি, তদ্দারা তাহাদেরকে পরীক্ষা করিবার জন্য। তোমার প্রতিপালক - প্রদত্ত জীবনোপকরণ উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
ولا تمدن عينيك إلى ما متعنا به أزواجا منهم زهرة الحياة الدنيا لنفتنهم فيه ۚ ورزق ربك خير وأبقى
আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ - বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীর লোককে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য ও ভোগবিলাসের জন্যে যেসব সামগ্রী দিয়েছি তাদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে, তুমি সেদিকে চোখ তুলেও তাকিয়োনা। তোমার প্রভুর দেয়া রিযিকই উত্তম এবং স্থায়ী।
এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাই না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।
وأمر أهلك بالصلاة واصطبر عليها ۖ لا نسألك رزقا ۖ نحن نرزقك ۗ والعاقبة للتقوى
আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোন রিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক দেই এবং ভীরুতার পরিণাম শুভ।
তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের নির্দেশ দাও এবং তার উপর অবিচল থাকো, আমরা তোমার কাছে রিযিক চাইনা। আমরাই তোমাকে রিযিক দেই। পরিণামের শুভ ফল তো তাকওয়াবানদের জন্যেই।
উহারা বলে, ‘সে তাহার প্রতিপালকের নিকট হইতে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন?’ উহাদের নিকট কি আসে নাই সুস্পষ্ট প্রমাণ যাহা আছে পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে?
وقالوا لولا يأتينا بآية من ربه ۚ أولم تأتهم بينة ما في الصحف الأولى
এরা বলেঃ সে আমাদের কাছে তার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন? তাদের কাছে কি প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে আছে?
তারা বলে: ‘সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসেনা কেন?’ তাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি, যা রয়েছে আগেকার কিতাবসমূহে?
যদি আমি উহাদেরকে ইতিপূর্বে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করিতাম তবে উহারা বলিত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করিলে না কেন? করিলে আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হইবার পূর্বে তোমার নিদর্শন মানিয়া চলিতাম।’
ولو أنا أهلكناهم بعذاب من قبله لقالوا ربنا لولا أرسلت إلينا رسولا فنتبع آياتك من قبل أن نذل ونخزى
যদি আমি এদেরকে ইতিপূর্বে কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে এরা বলতঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের কাছে একজন রসূল প্রেরণ করলেন না কেন? তাহলে তো আমরা অপমানিত ও হেয় হওয়ার পূর্বেই আপনার নিদর্শন সমূহ মেনে চলতাম।
আমরা যদি (তাকে পাঠাবার) পূর্বেই তাদেরকে আযাব দিয়ে হালাক করে দিতাম, তবে অবশ্যি তারা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠালে না কেন? পাঠালে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমাণিত হবার আগেই তোমার আয়াতের অনুসরণ করতাম।’
বল, ‘প্রত্যেকেই প্রতীক্ষা করিতেছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা কর। অতঃপর তোমরা জানিতে পারিবে কাহারা রহিয়াছে সরল পথে এবং কাহারা সৎপথ অবলম্বন করিয়াছে।’
قل كل متربص فتربصوا ۖ فستعلمون من أصحاب الصراط السوي ومن اهتدى
বলুন, প্রত্যেকেই পথপানে চেয়ে আছে, সুতরাং তোমরাও পথপানে চেয়ে থাক। অদূর ভবিষ্যতে তোমরা জানতে পারবে কে সরল পথের পথিক এবং কে সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে।
হে নবী! বলো: প্রত্যেকেই প্রতীক্ষায় আছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা করো। তারপরই তোমরা জানতে পারবে কারা সরল সঠিক পথে আছে আর কারা প্রতিষ্ঠিত হিদায়াতের উপর?