আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবধারিত ঘটনা।
بسم الله الرحمن الرحيم الحاقة
নিশ্চিত - সত্য!
সুনিশ্চিত বিষয়।
ٱلْحَآقَّةُ
Chapter 69, 52 verses
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবধারিত ঘটনা।
بسم الله الرحمن الرحيم الحاقة
নিশ্চিত - সত্য!
সুনিশ্চিত বিষয়।
ٱلْحَآقَّةُ
কী সেই অবধারিত ঘটনা?
ما الحاقة
কি সেই নিশ্চিত - সত্য?
সুনিশ্চিত বিষয় কি?
مَا ٱلْحَآقَّةُ
আর কী তোমাকে জানাবে, কী সেই অবধারিত ঘটনা?
وما أدراك ما الحاقة
আহা, কি দিয়ে তোমাকে বোঝানো যাবে নিশ্চিত - সত্যটা কি?
আপনি কি কিছু জানেন, সেই সুনিশ্চিত বিষয় কি?
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْحَآقَّةُ
সামূদ ও ‘আদ অবধারিত মহাপ্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।
كذبت ثمود وعاد بالقارعة
ছামূদ ও 'আদগোষ্ঠী আঘাতকারী প্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।
আদ ও সামুদ গোত্র মহাপ্রলয়কে মিথ্যা বলেছিল।
كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌۢ بِٱلْقَارِعَةِ
অতঃপর সামূদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড শব্দে।
فأما ثمود فأهلكوا بالطاغية
তারপর ছামূদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয়ে।
অতঃপর সমুদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা।
فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا۟ بِٱلطَّاغِيَةِ
আর ‘আদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড, হিংস্র ঝড়ো হাওয়ায়,
وأما عاد فأهلكوا بريح صرصر عاتية
আর 'আদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক গর্জনকারী প্রচন্ড ঝড়ের দ্বারা - -
এবং আদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্জাবায়ূ,
وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا۟ بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ
যা তিনি তাদের ওপর অবিরাম প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিন ধরে। তখন তুমি সেই সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখতে, যেন তারা ফাঁপা খেজুরগাছের কাণ্ড।
سخرها عليهم سبع ليال وثمانية أيام حسوما فترى القوم فيها صرعى كأنهم أعجاز نخل خاوية
যাকে তিনি তাদের উপরে প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিনব্যাপী, অবিরতভাবে, ফলে তুমি সেই লোকদলকে দেখতে পেতে সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে, যেন তারা খেজুর গাছের ফাঁপা গুড়ি।
যা তিনি প্রবাহিত করেছিলেন তাদের উপর সাত রাত্রি ও আট দিবস পর্যন্ত অবিরাম। আপনি তাদেরকে দেখতেন যে, তারা অসার খর্জুর কান্ডের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে রয়েছে।
سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَٰنِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى ٱلْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَىٰ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ
অতঃপর তুমি কি তাদের কোনো অবশিষ্ট দেখতে পাও?
فهل ترى لهم من باقية
তারপর তুমি তাদের অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও কি?
আপনি তাদের কোন অস্তিত্ব দেখতে পান কি?
فَهَلْ تَرَىٰ لَهُم مِّنۢ بَاقِيَةٍ
আর ফিরআউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেওয়া জনপদসমূহ পাপ নিয়ে এসেছিল।
وجاء فرعون ومن قبله والمؤتفكات بالخاطئة
আর ফিরআউন আর যারা তার পূর্ববর্তী ছিল, আর বিধবস্ত শহরগুলো পাপাচার নিয়ে এসেছিল,
ফেরাউন, তাঁর পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে যাওয়া বস্তিবাসীরা গুরুতর পাপ করেছিল।
وَجَآءَ فِرْعَوْنُ وَمَن قَبْلَهُۥ وَٱلْمُؤْتَفِكَٰتُ بِٱلْخَاطِئَةِ
অতঃপর তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল; ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলেন।
فعصوا رسول ربهم فأخذهم أخذة رابية
যেহেতু তাদের প্রভুর রসূলকে তারা অমান্য করেছিল, সেজন্য তিনি তাদের পাকড়াও করেছিলেন এক সুকঠিন পাকড়ানোতে।
তারা তাদের পালনকর্তার রসূলকে অমান্য করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরহস্তে পাকড়াও করলেন।
فَعَصَوْا۟ رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةً رَّابِيَةً
নিশ্চয়ই যখন পানি সীমা অতিক্রম করেছিল, তখন আমরা তোমাদেরকে বহন করেছিলাম ভাসমান নৌযানে,
إنا لما طغى الماء حملناكم في الجارية
নিঃসন্দেহ যখন পানি ফেঁপে উঠেছিল, তখন আমরা তোমাদের বহন করেলিাম জাহাজের মধ্যে,
যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।
إِنَّا لَمَّا طَغَا ٱلْمَآءُ حَمَلْنَٰكُمْ فِى ٱلْجَارِيَةِ
যাতে আমরা এটিকে তোমাদের জন্য একটি স্মারক করি, এবং মনোযোগী কান তা ধারণ করে।
لنجعلها لكم تذكرة وتعيها أذن واعية
যেন আমরা এটিকে তোমাদের জন্য বানাতে পারি স্মরণীয় বিষয়, এবং শ্রুতিধর কান যেন এটি মনে রাখতে পারে।
যাতে এ ঘটনা তোমাদের জন্যে স্মৃতির বিষয় এবং কান এটাকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগী রূপে গ্রহণ করে।
لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَآ أُذُنٌ وَٰعِيَةٌ
অতঃপর যখন শিঙ্গায় একবার ফুঁ দেওয়া হবে,
فإذا نفخ في الصور نفخة واحدة
সুতরাং যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে - - একটি মাত্র ফুৎকার, - -
যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে - একটি মাত্র ফুৎকার
فَإِذَا نُفِخَ فِى ٱلصُّورِ نَفْخَةٌ وَٰحِدَةٌ
এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে, তারপর এক আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে,
وحملت الأرض والجبال فدكتا دكة واحدة
এবং পৃথিবী ও পাহাড় - পর্বত উত্তোলন করা হবে, আর একটিমাত্র ধাক্কায় তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে।
এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ - বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,
وَحُمِلَتِ ٱلْأَرْضُ وَٱلْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَٰحِدَةً
সেদিন সেই অবধারিত মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে
فيومئذ وقعت الواقعة
অতএব সেইদিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে,
সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে।
فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
এবং আকাশ বিদীর্ণ হবে; সেদিন তা হবে দুর্বল।
وانشقت السماء فهي يومئذ واهية
আর আকাশ বিদীর্ণ হবে, ফলে সেইদিন তা হবে ভঙ্গুর;
সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।
وَٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَهِىَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
আর ফেরেশতারা তার প্রান্তসমূহে থাকবে, এবং সেদিন তোমার প্রতিপালকের আরশ তাদের ঊর্ধ্বে আটজন বহন করবে।
والملك على أرجائها ۚ ويحمل عرش ربك فوقهم يومئذ ثمانية
আর ফিরিশ্তারা এর প্রান্তগুলোয় রইবে। আর তাদের উপরে সেইদিন তোমার প্রভুর আরশ বহন করবে আটজন।
এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।
وَٱلْمَلَكُ عَلَىٰٓ أَرْجَآئِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَٰنِيَةٌ
সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে; তোমাদের কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকবে না।
يومئذ تعرضون لا تخفى منكم خافية
সেইদিন তোমাদের অনাবৃত করা হবে, - - কোনো গোপন বিষয় তোমাদের থেকে গোপন থাকবে না।
সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।
يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَىٰ مِنكُمْ خَافِيَةٌ
অতঃপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “এই নিন! আমার আমলনামা পড়ুন।
فأما من أوتي كتابه بيمينه فيقول هاؤم اقرءوا كتابيه
তারপর যাকে তার বই তার ডান হাতে দেয়া হবে সে তখন বলবে - - ''নাও, আমার এই বই পড়ে দেখো!
অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ।
فَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَيَقُولُ هَآؤُمُ ٱقْرَءُوا۟ كِتَٰبِيَهْ
নিশ্চয়ই আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হবো।”
إني ظننت أني ملاق حسابيه
''আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমি আলবৎ আমার এই হিসাবের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।’’
আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।
إِنِّى ظَنَنتُ أَنِّى مُلَٰقٍ حِسَابِيَهْ
অতঃপর সে থাকবে এক সন্তোষজনক জীবনে,
فهو في عيشة راضية
সুতরাং সে থাকবে এক পূর্ণ - সন্তোষজনক জীবনযাপনে - -
অতঃপর সে সুখী জীবন - যাপন করবে,
فَهُوَ فِى عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ
উঁচু বেহেশতে,
في جنة عالية
এক উঁচু পর্যায়ের জান্নাতে,
সুউচ্চ জান্নাতে।
فِى جَنَّةٍ عَالِيَةٍ
যার ফলগুলো কাছে ঝুলে থাকবে।
قطوفها دانية
যার ফলের থোকাগুলো নাগালের মধ্যে।
তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে।
قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ
“তোমরা খাও এবং পান করো তৃপ্তিসহকারে, অতীত দিনগুলোতে যা তোমরা আগে পাঠিয়েছ তার কারণে।”
كلوا واشربوا هنيئا بما أسلفتم في الأيام الخالية
''খাও আর পান করো তৃপ্তির সঙ্গে সেইজন্য যা তোমরা আগেকার দিনগুলোয় সম্পাদন করেছিলে।’’
বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে।
كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ هَنِيٓـًٔۢا بِمَآ أَسْلَفْتُمْ فِى ٱلْأَيَّامِ ٱلْخَالِيَةِ
আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “হায়! যদি আমাকে আমার আমলনামা দেওয়া না হতো,
وأما من أوتي كتابه بشماله فيقول يا ليتني لم أوت كتابيه
আর তার ক্ষেত্রে যাকে তার বই তার বাম হাতে দেওয়া হবে সে তখন বলবে - - ''হায় আমার আফসোস! আমার এই বই যদি আমায় কখনো দেখানো না হতো, - -
যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো।
وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِشِمَالِهِۦ فَيَقُولُ يَٰلَيْتَنِى لَمْ أُوتَ كِتَٰبِيَهْ
এবং আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!,
ولم أدر ما حسابيه
''আর আমি যদি কখনো জানতাম না আমার এই হিসাবটি কী।
আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!
وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ
হায়! যদি সেটাই চূড়ান্ত সমাপ্তি হতো!
এখানে "চূড়ান্ত সমাপ্তি" বলতে সম্ভবত মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে
يا ليتها كانت القاضية
''হায় আফসোস! এইটাই যদি আমার শেষ হতো!
হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত।
يَٰلَيْتَهَا كَانَتِ ٱلْقَاضِيَةَ
আমার সম্পদ আমার কোনো উপকারে আসেনি।
ما أغنى عني ماليه ۜ
''আমার ধনসম্পদ আমার কোনো কাজে এল না;
আমার ধন - সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না।
مَآ أَغْنَىٰ عَنِّى مَالِيَهْ
আমার কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হয়েছে।”
هلك عني سلطانيه
''আমার কর্তৃত্ব আমার থেকে বিনাশ হয়ে গেছে।’’
আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল।
هَلَكَ عَنِّى سُلْطَٰنِيَهْ
“তাকে ধরো, অতঃপর তার গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দাও।”
خذوه فغلوه
''তাকে ধরো এবং তাকে বাঁধো,
ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর একে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও,
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
তারপর তাকে জাহিমে পোড়াও।
জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
ثم الجحيم صلوه
''তারপর জ্বলন্ত আগুনে তাকে নিক্ষেপ করো,
অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।
ثُمَّ ٱلْجَحِيمَ صَلُّوهُ
তারপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শৃঙ্খলে আবদ্ধ করো
ثم في سلسلة ذرعها سبعون ذراعا فاسلكوه
''তারপর তাকে এক শিকলে আবদ্ধ করো যার দৈঘ্য হচ্ছে সত্তর হাত।
অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে।
ثُمَّ فِى سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَٱسْلُكُوهُ
নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহর প্রতি ছিল না।
إنه كان لا يؤمن بالله العظيم
''নিশ্চয় সে বিশ্বাস করত না মহান তে,
নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে ছিল না।
إِنَّهُۥ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ ٱلْعَظِيمِ
এবং দরিদ্রকে আহার করাতে উৎসাহ দিত না।
ولا يحض على طعام المسكين
''আর সে উৎসাহ দেখাত না গরীবদের খাবার দিতে,
এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না।
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ
অতএব আজ এখানে তার কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই,
فليس له اليوم هاهنا حميم
''সেজন্য আজ তার জন্যে এখানে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না,
অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহূদ নাই।
فَلَيْسَ لَهُ ٱلْيَوْمَ هَٰهُنَا حَمِيمٌ
এবং পুঁজ ছাড়া তার কোনো খাদ্য নেই,
ولا طعام إلا من غسلين
''আর কোনো খাদ্য থাকবে না ক্ষতনিঃসৃত পুজঁ ব্যতীত - -
এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত - নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত।
وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ
যা পাপাচারীরা ছাড়া আর কেউ খাবে না।
لا يأكله إلا الخاطئون
''যা পাপীরা ব্যতীত আর কেউ খায় না।’’
গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।
لَّا يَأْكُلُهُۥٓ إِلَّا ٱلْخَٰطِـُٔونَ
অতএব আমি শপথ করছি যা তোমরা দেখো,
فلا أقسم بما تبصرون
কিন্ত না, আমি কসম খাচ্ছি যা তোমরা দেখছ তার,
তোমরা যা দেখ, আমি তার শপথ করছি।
فَلَآ أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ
এবং যা তোমরা দেখো না,
وما لا تبصرون
এবং যা তোমরা দেখছ না তারও, - -
এবং যা তোমরা দেখ না, তার -
وَمَا لَا تُبْصِرُونَ
নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত রাসূলের কথা।
إنه لقول رسول كريم
যে এটি এক সম্মানিত রসূলের বাণী,
নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের আনীত।
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ
এবং এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব কমই বিশ্বাস কর।
وما هو بقول شاعر ۚ قليلا ما تؤمنون
আর এ কোনো কবির আলাপন নয়; সামান্যই তো যা তোমরা বিশ্বাস কর।
এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর।
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَّا تُؤْمِنُونَ
এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর।
ولا بقول كاهن ۚ قليلا ما تذكرون
আর কোনো গনৎকারের বাক্চাতুরীও নয়, যৎসামান্য যা তোমরা চিন্তা কর!
এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর।
وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
تنزيل من رب العالمين
এ হচ্ছে এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।
এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।
تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
আর যদি সে আমাদের নামে কোনো কথা রচনা করে আমাদের প্রতি আরোপ করত,
ولو تقول علينا بعض الأقاويل
আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো বাণী রচনা করতে চাইতেন, - -
সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,
وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ ٱلْأَقَاوِيلِ
তবে অবশ্যই আমরা তার ডান হাত ধরে ফেলতাম,
لأخذنا منه باليمين
তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তাকে ডানহাতে পাকড়াও করতাম,
তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,
لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِٱلْيَمِينِ
তারপর অবশ্যই তার মহাধমনী কেটে দিতাম।
ثم لقطعنا منه الوتين
তারপর নিশ্চয়ই তার কন্ঠশিরা কেটে ফেলতাম,
অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা।
ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ ٱلْوَتِينَ
অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে রক্ষা করতে পারত না।
فما منكم من أحد عنه حاجزين
তখন তোমাদের মধ্যের কেউই ওর থেকে নিবৃত্ত করতে পারতে না।
তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।
فَمَا مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَٰجِزِينَ
আর নিশ্চয়ই এটি মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশ।
وإنه لتذكرة للمتقين
আর নিশ্চয়ই এইটি ধর্মভীরুদের জন্য এক স্মারক - গ্রন্থ।
এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ।
وَإِنَّهُۥ لَتَذْكِرَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ
আর নিশ্চয়ই আমরা জানি যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্বীকারকারী।
وإنا لنعلم أن منكم مكذبين
আর নিশ্চয়ই আমরা তো জানি যে তোমাদের মধ্যে সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী রয়েছে।
আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে।
وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِينَ
আর নিশ্চয়ই এটি অস্বীকারকারীদের জন্য অনুশোচনা।
وإنه لحسرة على الكافرين
আর নিঃসন্দেহ এটি অবিশ্বাসীদের জন্য বড় অনুতাপের বিষয়।
নিশ্চয় এটা কাফেরদের জন্যে অনুতাপের কারণ।
وَإِنَّهُۥ لَحَسْرَةٌ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ
আর নিশ্চয়ই এটি নিশ্চিত সত্য।
وإنه لحق اليقين
আর নিঃসন্দেহ এটি তো সুনিশ্চিত সত্য।
নিশ্চয় এটা নিশ্চিত সত্য।
وَإِنَّهُۥ لَحَقُّ ٱلْيَقِينِ
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।
فسبح باسم ربك العظيم
অতএব তোমার মহামহিমান্নিত প্রভুর নামের জপতপ করো।
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ননা করুন।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ