পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; অবশ্যই হইয়াছে মু’মিনগণ,
Qad aflaha almuminoona
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ
সফল হয়েছে মুমিনরা,
Chapter 23, 118 verses
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; অবশ্যই হইয়াছে মু’মিনগণ,
Qad aflaha almuminoona
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ
সফল হয়েছে মুমিনরা,
যাহারা বিনয় - নম্র নিজেদের সালাতে,
Allatheena hum fee salatihim khashiAAoona
الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ
যারা তাদের সালাতে হয় বিনীত,
যাহারা অসার ক্রিয়াকলাপ হইতে বিরত থাকে,
Waallatheena hum AAani allaghwi muAAridoona
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ
যারা অর্থহীন কথাবার্তা থেকে থাকে বিরত,
যাহারা যাকাতদানে সক্রিয়,
Waallatheena hum lilzzakati faAAiloona
وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ
যারা আত্মোন্নয়নে থাকে সক্রিয়,
যাহারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে,
Waallatheena hum lifuroojihim hafithoona
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
যারা নিজেদের যৌন জীবনকে করে হিফাযত,
নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসিগণ ব্যতীত, ইহাতে তাহারা নিন্দনীয় হইবে না,
Illa AAala azwajihim aw ma malakat aymanuhum fainnahum ghayru maloomeena
إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ
নিজেদের স্ত্রী এবং অধিকারভুক্ত দাসীদের ছাড়া, তাতে তারা হবেনা তিরস্কৃত।
এবং কেহ ইহাদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করিলে তাহারা হইবে সীমালংঘনকারী,
Famani ibtagha waraa thalika faolaika humu alAAadoona
فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ
কিন্তু যারা এ ছাড়া অন্য কাউকেও কামনা করবে, তারা অবশ্যি গণ্য হবে সীমালঙ্ঘনকারী বলে।
এবং যাহারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে,
Waallatheena hum liamanatihim waAAahdihim raAAoona
وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ
আর তারা রক্ষা করে নিজেদের আমানত ও অংগীকার,
এবং যাহারা নিজেদের সালাতসমূহে যত্নবান থাকে,
Waallatheena hum AAala salawatihim yuhafithoona
وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ
তাছাড়া তারা যত্নবান থাকে তাদের সালাতের প্রতি,
তাহারাই হইবে অধিকারী -
Olaika humu alwarithoona
أُولَٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ
এরাই হবে ওয়ারিশ।
অধিকারী হইবে ফিরদাওসের যাহাতে উহারা স্থায়ী হইবে।
Allatheena yarithoona alfirdawsa hum feeha khalidoona
الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
তারা ওয়ারিশ হবে ফেরদাউসের এবং সেখানেই হবে তারা চিরস্থায়ী।
আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি মৃত্তিকার উপাদান হইতে,
Walaqad khalaqna alinsana min sulalatin min teenin
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ
আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান থেকে,
অতঃপর আমি উহাকে শুক্রবিন্দুরূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধারে;
Thumma jaAAalnahu nutfatan fee qararin makeenin
ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ
তারপর তাকে আমরা নোতফা (শুক্রবিন্দু) হিসেবে স্থাপন করি এক নিরাপদ দুর্গে।
পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি আলাক - এ, অতঃপর আলাক্কে পরিণত করি পিণ্ডে এবং পিণ্ডকে পরিণত করি অস্থি - পঞ্জরে ; অতঃপর অস্থি - পঞ্জরকে ঢাকিয়া দেই গোশত্ দ্বারা; অবশেষে উহাকে গড়িয়া তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা কত মহান!
Thumma khalaqna alnnutfata AAalaqatan fakhalaqna alAAalaqata mudghatan fakhalaqna almudghata AAithaman fakasawna alAAithama lahman thumma anshanahu khalqan akhara fatabaraka Allahu ahsanu alkhaliqeena
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
তারপর আমরা নোতফাকে রূপান্তরিত করি আলাকা - তে (শক্তভাবে আঁটকে থাকা জিনিসে), তারপর আলাকা - কে রূপান্তরিত করি মুদগায় (পিন্ডতে), তারপর মুদগাকে রূপান্তরিত করি হাড় - অস্থিতে, তারপর হাড় - অস্থিকে ঢেকে দেই গোশ্ত দিয়ে, তারপর আমরা তাকে বানিয়ে নিই অন্য এক সৃষ্টি। সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা কতো যে বরকতওয়ালা!
ইহার পর তোমরা অবশ্যই মরিবে,
Thumma innakum baAAda thalika lamayyitoona
ثُمَّ إِنَّكُم بَعْدَ ذَٰلِكَ لَمَيِّتُونَ
এরপর অবশ্যি তোমাদের মৃত্যু হবে।
অতঃপর কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমাদেরকে উত্থিত করা হইবে।
Thumma innakum yawma alqiyamati tubAAathoona
ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ
তারপর তোমরা পুনরুত্থিত হবে কিয়ামতের দিন।
আমি তো তোমাদের ঊর্ধ্বে সৃষ্টি করিয়াছি সপ্তস্তর এবং আমি সৃষ্টি বিষয়ে অসতর্ক নই,
Walaqad khalaqna fawqakum sabAAa taraiqa wama kunna AAani alkhalqi ghafileena
وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ
আমরা তোমাদের উপরে সৃষ্টি করেছি সাতটি স্তর (আকাশ), সৃষ্টি সম্পর্কে আমরা গাফিল নই।
এবং আমি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করি পরিমিতভাবে; অতঃপর আমি উহা মৃত্তিকায় সংরক্ষণ করি; আমি উহাকে অপসারিত করিতেও সক্ষম।
Waanzalna mina alssamai maan biqadarin faaskannahu fee alardi wainna AAala thahabin bihi laqadiroona
وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ فَأَسْكَنَّاهُ فِي الْأَرْضِ ۖ وَإِنَّا عَلَىٰ ذَهَابٍ بِهِ لَقَادِرُونَ
আর আমরা নাযিল করেছি আসমান থেকে পানি পরিমাণ মাফিক। সেই পানিকে আমরা সংরক্ষণ করেছি মাটিতে। আবার সে পানি আমরা নিয়ে যেতেও সক্ষম।
অতঃপর আমি উহা দ্বারা তোমাদের জন্য খর্জুর ও আংগুরের বাগান সৃষ্টি করি; ইহাতে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর ফল; আর উহা হইতে তোমরা আহার করিয়া থাক;
Faanshana lakum bihi jannatin min nakheelin waaAAnabin lakum feeha fawakihu katheeratun waminha takuloona
فَأَنشَأْنَا لَكُم بِهِ جَنَّاتٍ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَابٍ لَّكُمْ فِيهَا فَوَاكِهُ كَثِيرَةٌ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ
অত:পর সেই পানি দিয়ে আমরা তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান, তাতে তোমাদের জন্যে হয় প্রচুর ফলন। তা থেকেই তোমরা খাও।
এবং সৃষ্টি করি এক বৃক্ষ যাহা জন্মায় সিনাই পর্বতে, ইহাতে উৎপন্ন হয় তৈল এবং আহারকারীদের জন্য ব্যঞ্জন।
Washajaratan takhruju min toori saynaa tanbutu bialdduhni wasibghin lilakileena
وَشَجَرَةً تَخْرُجُ مِن طُورِ سَيْنَاءَ تَنبُتُ بِالدُّهْنِ وَصِبْغٍ لِّلْآكِلِينَ
আমরা এক ধরনের গাছ সৃষ্টি করেছি, তা জন্মায় সিনাই পর্বতে। তাতে উৎপন্ন হয় তেল এবং ভোক্তাদের জন্যে ব্যঞ্জন।
এবং তোমাদের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয় আছে আন‘আম - এ; তোমাদেরকে আমি পান করাই উহাদের উদরে যাহা আছে তাহা হইতে এবং উহাতে তোমাদের জন্য রহিয়াছে প্রচুর উপকারিতা; তোমরা উহা হইতে আহার কর,
Wainna lakum fee alanAAami laAAibratan nusqeekum mimma fee butooniha walakum feeha manafiAAu katheeratun waminha takuloona
وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً ۖ نُّسْقِيكُم مِّمَّا فِي بُطُونِهَا وَلَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ كَثِيرَةٌ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ
তোমাদের জন্যে গবাদি পশুতে রয়েছে শিক্ষার বিষয়। তাদের পেটে যা (যে দুধ) আছে তা থেকে আমরা তোমাদের পান করাই। তা ছাড়া সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে অনেক রকম উপকারিতা। আর তোমরা খেয়ে থাকো সেগুলো থেকে (সেগুলোর গোশত)।
এবং তোমরা উহাতে ও নৌযানে আরোহণও করিয়া থাক।
WaAAalayha waAAala alfulki tuhmaloona
وَعَلَيْهَا وَعَلَى الْفُلْكِ تُحْمَلُونَ
সেগুলোতে এবং নৌযানে তোমরা আরোহন করে থাকো।
আমি তো নূহ্কে পাঠাইয়াছিলাম তাহার সম্প্রদায়ের নিকট। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই, তবুও কি তোমরা সাবধান হইবে না?’
Walaqad arsalna noohan ila qawmihi faqala ya qawmi oAAbudoo Allaha ma lakum min ilahin ghayruhu afala tattaqoona
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ
আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তোমাদের জন্যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবু কি তোমরা সতর্ক হবেনা?’
তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানরা, যাহারা করিয়াছিল, তাহারা বলিল, ‘এ তো তোমাদের মত একজন মানুষই, তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করিতে চাহিতেছে, ইচ্ছা করিলে ফিরিশ্তাই পাঠাইতেন; আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষগণের কালে এইরূপ ঘটিয়াছে, একথা শুনি নাই।
Faqala almalao allatheena kafaroo min qawmihi ma hatha illa basharun mithlukum yureedu an yatafaddala AAalaykum walaw shaa Allahu laanzala malaikatan ma samiAAna bihatha fee abaina alawwaleena
فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُرِيدُ أَن يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً مَّا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ
তখন তার কওমের নেতারা বলেছিল: ‘‘এ তো তোমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া কিছু নয়। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব পেতে চায়। (রসূল পাঠাতে) চাইলে অবশ্যি ফেরেশতা পাঠাতেন। আমাদের আগেকার লোকদের সময় এ রকম ঘটনা ঘটেছে বলে তো আমরা শুনিনি।
‘এ তো এমন লোক যাহাকে উন্মত্ততা পাইয়া বসিয়াছে; সুতরাং তোমরা ইহার সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর।’
In huwa illa rajulun bihi jinnatun fatarabbasoo bihi hatta heenin
إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ بِهِ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوا بِهِ حَتَّىٰ حِينٍ
সে আসলে একজন জিনে ধরা লোক। তোমরা এ ব্যাপারে কিছুদিন অপেক্ষা করো।’’
নূহ্ বলিয়াছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সাহায্য কর, কারণ উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিতেছে।’
Qala rabbi onsurnee bima kaththabooni
قَالَ رَبِّ انصُرْنِي بِمَا كَذَّبُونِ
তখন সে বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমাকে সাহায্য করো, কারণ তারা তো আমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
অতঃপর আমি তাহার নিকট ওহী পাঠাইলাম, ‘তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহী অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ কর, অতঃপর যখন আমার আদেশ আসিবে ও উনুন উথলিয়া উঠিবে তখন উঠাইয়া লইও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার পরিবার - পরিজনকে, তাহাদেরকে ছাড়া তাহাদের মধ্যে যাহাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হইয়াছে। আর তাহাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলিও না যাহারা জুলুম করিয়াছে। তাহারা তো নিমজ্জিত হইবে।
Faawhayna ilayhi ani isnaAAi alfulka biaAAyunina wawahyina faitha jaa amruna wafara alttannooru faosluk feeha min kullin zawjayni ithnayni waahlaka illa man sabaqa AAalayhi alqawlu minhum wala tukhatibnee fee allatheena thalamoo innahum mughraqoona
فَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا فَإِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ ۙ فَاسْلُكْ فِيهَا مِن كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ ۖ وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا ۖ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ
তখন আমরা তাকে অহি পাঠিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমাদের তত্ত্বাবধানে আমাদের অহি অনুযায়ী একটি নৌযান তৈরি করো। যখন আমাদের নির্দেশ এসে যাবে এবং চুলা উথলে পানি উঠবে, তখন প্রত্যেক ধরনের জীব জানোয়ার একেক জোড়া উঠিয়ে নিয়ো এবং তোমার পরিবার পরিজনকেও নিয়ো, তাদেরকে ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব সিদ্ধান্ত রয়েছে। যারা যুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করোনা, কারণ তারা নিমজ্জিত হবেই।
যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌযানে আসন গ্রহণ করিবে তখন বলিও, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাদেরকে উদ্বার করিয়াছেন সম্প্রদায় হইতে।
Faitha istawayta anta waman maAAaka AAala alfulki faquli alhamdu lillahi allathee najjana mina alqawmi alththalimeena
فَإِذَا اسْتَوَيْتَ أَنتَ وَمَن مَّعَكَ عَلَى الْفُلْكِ فَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَجَّانَا مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
অত:পর তুমি এবং তোমার সাথিরা যখন নৌযানে উঠে আসন গ্রহণ করবে, তখন বলবে: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের নাজাত দিয়েছেন যালিম কওম থেকে!’
আরও বলিও, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করাও যাহা হইবে কল্যাণকর; আর তুমিই শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী।’
Waqul rabbi anzilnee munzalan mubarakan waanta khayru almunzileena
وَقُل رَّبِّ أَنزِلْنِي مُنزَلًا مُّبَارَكًا وَأَنتَ خَيْرُ الْمُنزِلِينَ
আরো বলবে: ‘আমার প্রভু! আমাকে অবতরণ করাও বরকতময় অবতরণের স্থানে, তুমিই তো অবতরণের জন্যে সর্বোত্তম স্থানদানকারী।’
ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে। আর আমি তো উহাদেরকে পরীক্ষা করিয়াছিলাম।
Inna fee thalika laayatin wain kunna lamubtaleena
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ وَإِن كُنَّا لَمُبْتَلِينَ
এর মধ্যে রয়েছে অনেক নিদর্শন। আমরা তো কেবল তাদের পরীক্ষা করেছিলাম।
অতঃপর তাহাদের পরে অন্য এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করিয়াছিলাম;
Thumma anshana min baAAdihim qarnan akhareena
ثُمَّ أَنشَأْنَا مِن بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ
তাদের পর আমরা অন্য একটি প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছিলাম।
এবং উহাদেরই একজনকে উহাদের নিকট রাসূল করিয়া পাঠাইয়াছিলাম! সে বলিয়াছিল, ‘তোমরা ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই, তবুও কি তোমরা সাবধান হইবে না?’
Faarsalna feehim rasoolan minhum ani oAAbudoo Allaha ma lakum min ilahin ghayruhu afala tattaqoona
فَأَرْسَلْنَا فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ
আমরা তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম একজন রসূল। সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবু কি তোমরা সতর্ক হবেনা?’
তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ, যাহারা করিয়াছিল ও আখিরাতের সাক্ষাতকারকে অস্বীকার করিয়াছিল এবং যাহাদেরকে আমি দিয়াছিলাম পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগসম্ভার, তাহারা বলিয়াছিল, ‘এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ; তোমরা যাহা আহার কর, সে তাহাই আহার করে এবং তোমরা যাহা পান কর, সেও তাহাই পান করে;
Waqala almalao min qawmihi allatheena kafaroo wakaththaboo biliqai alakhirati waatrafnahum fee alhayati alddunya ma hatha illa basharun mithlukum yakulu mimma takuloona minhu wayashrabu mimma tashraboona
وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِلِقَاءِ الْآخِرَةِ وَأَتْرَفْنَاهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ
তখন তার কওমের সেইসব প্রধানরা বলেছিল যারা আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমরা দিয়েছিলাম পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগের সামগ্রী: ‘‘এতো তোমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। সে তো তাই খায়, তোমরা যা খাও এবং তাই পান করে, তোমরা যা পান করো।
‘যদি তোমরা তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য কর তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হইবে;
Walain ataAAtum basharan mithlakum innakum ithan lakhasiroona
وَلَئِنْ أَطَعْتُم بَشَرًا مِّثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذًا لَّخَاسِرُونَ
তোমরা যদি তোমাদের মতো মানুষের আনুগত্য করো, তবে অবশ্যি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
‘সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেয় যে, তোমাদের মৃত্যু হইলে এবং তোমরা মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হইলেও তোমাদেরকে উত্থিত করা হইবে?
AyaAAidukum annakum itha mittum wakuntum turaban waAAithaman annakum mukhrajoona
أَيَعِدُكُمْ أَنَّكُمْ إِذَا مِتُّمْ وَكُنتُمْ تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّكُم مُّخْرَجُونَ
সে কি তোমাদের এই ওয়াদা দেয় যে, তোমরা যখন মরে যাবে এবং মাটি ও হাড় - অস্থিতে পরিণত হবে তখনো তোমাদের বের করে আনা হবে?
‘অসম্ভব, তোমাদেরকে যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা অসম্ভব।
Hayhata hayhata lima tooAAadoona
۞ هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ لِمَا تُوعَدُونَ
অবসম্ভব, তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অসম্ভব।
‘একমাত্র পার্থিব জীবনই আমাদের জীবন, আমরা মরি বাঁচি এইখানেই এবং আমরা উত্থিত হইব না।
In hiya illa hayatuna alddunya namootu wanahya wama nahnu bimabAAootheena
إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ
আমাদের দুনিয়ার হায়াতই একমাত্র হায়াত, এখানেই আমরা মরি এবং বাঁচি এবং আমরা কখনো পুনরুত্থিত হবোনা।
‘সে তো এমন ব্যক্তি যে সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করিয়াছে এবং আমরা তাহাকে বিশ্বাস করিবার নই।’
In huwa illa rajulun iftara AAala Allahi kathiban wama nahnu lahu bimumineena
إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا وَمَا نَحْنُ لَهُ بِمُؤْمِنِينَ
সে তো এমন একজন ব্যক্তি, যে মিথ্যা রচনা করে নিয়ে আল্লাহর নামে চালায়। আমরা তাকে বিশ্বাস করবোনা।’’
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সাহায্য কর; কারণ উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে।’
Qala rabbi onsurnee bima kaththabooni
قَالَ رَبِّ انصُرْنِي بِمَا كَذَّبُونِ
(তখন) সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে সাহায্য করো, তারা আমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
বলিলেন, অচিরে উহারা তো অনুতপ্ত হইবে।
Qala AAamma qaleelin layusbihunna nadimeena
قَالَ عَمَّا قَلِيلٍ لَّيُصْبِحُنَّ نَادِمِينَ
() বললেন: ‘অল্প কিছুদিন পরেই তারা অনুতপ্ত হবে।’
অতঃপর সত্য সত্যই এক বিকট আওয়াজ উহাদেরকে আঘাত করিল এবং আমি উহাদেরকে তরঙ্গ - তাড়িত আবর্জনাসদৃশ করিয়া দিলাম। সুতরাং ধ্বংস হইয়া গেল সম্প্রদায়।
Faakhathathumu alssayhatu bialhaqqi fajaAAalnahum ghuthaan fabuAAdan lilqawmi alththalimeena
فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ بِالْحَقِّ فَجَعَلْنَاهُمْ غُثَاءً ۚ فَبُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
পরে বাস্তবিকই এক প্রচন্ড শব্দ আঘাত হানে তাদের উপর। ফলে আমরা তাদের বানিয়ে দিলাম তরঙ্গ বিধ্বস্ত আবর্জনার স্তূপের মতো। এভাবেই দূর হয়ে গেলো যালিম কওম।
অতঃপর তাহাদের পরে আমি বহু জাতি সৃষ্টি করিয়াছি।
Thumma anshana min baAAdihim quroonan akhareena
ثُمَّ أَنشَأْنَا مِن بَعْدِهِمْ قُرُونًا آخَرِينَ
তাদের পরে আমরা সৃষ্টি করেছি আরো অনেক প্রজন্ম।
কোন জাতিই তাহার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্নিত করিতে পারে না, বিলম্বিতও করিতে পারে না।
Ma tasbiqu min ommatin ajalaha wama yastakhiroona
مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ
কোনো উম্মতই তাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কে ত্বরান্বিতও করতে পারেনা এবং অতিক্রমও করতে পারেনা।
অতঃপর আমি একের পর এক আমার রাসূল প্রেরণ করিয়াছি। যখনই কোন জাতির নিকট তাহার রাসূল আসিয়াছে তখনই উহারা তাহাকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছে। অতঃপর আমি উহাদের একের পর এককে ধ্বংস করিলাম। আমি উহাদেরকে কাহিনীর বিষয় করিয়াছি। সুতরাং ধ্বংস হউক অবিশ্বাসীরা!
Thumma arsalna rusulana tatra kulla ma jaa ommatan rasooluha kaththaboohu faatbaAAna baAAdahum baAAdan wajaAAalnahum ahadeetha fabuAAdan liqawmin la yuminoona
ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَىٰ ۖ كُلَّ مَا جَاءَ أُمَّةً رَّسُولُهَا كَذَّبُوهُ ۚ فَأَتْبَعْنَا بَعْضَهُم بَعْضًا وَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ ۚ فَبُعْدًا لِّقَوْمٍ لَّا يُؤْمِنُونَ
তারপর আমরা একের পর এক রসূল পাঠিয়েছি। যখনই কোনো উম্মতের কাছে তাদের রসূল এসেছিল, তারা তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি একের পর এক এবং তাদের বানিয়ে দিয়েছি ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়। ধ্বংস হোক সেইসব লোক যারা ঈমান আনেনা।
অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তাহার ভ্রাতা হারূনকে পাঠাইলাম,
Thumma arsalna moosa waakhahu haroona biayatina wasultanin mubeenin
ثُمَّ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ وَأَخَاهُ هَارُونَ بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
এর পরে পাঠিয়েছি আমরা মূসা এবং তার ভাই হারূণকে আমাদের আয়াত এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে,
ফির‘আওন ও তাহার পারিষদবর্গের নিকট। কিন্তু উহারা অহংকার করিল; উহারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।
Ila firAAawna wamalaihi faistakbaroo wakanoo qawman AAaleena
إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا عَالِينَ
ফেরাউন এবং তার (জাতির) নেতাদের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করে। আর তারা ছিলো একটি উদ্ধত কওম।
উহারা বলিল, ‘আমরা কি এমন দুই ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করিব যাহারা আমাদেরই মত এবং যাহাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে?’
Faqaloo anuminu libasharayni mithlina waqawmuhuma lana AAabidoona
فَقَالُوا أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُونَ
তারা বলেছিল: ‘আমরা কি আমাদের মতোই দু’জন মানুষের প্রতি ঈমান আনবো যেখানে তাদের সম্প্রদায় (বনি ইসরাঈল) আমাদেরই দাসত্ব করে?’
অতঃপর উহারা তাহাদেরকে অস্বীকার করিল, ফলে উহারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হইল।
Fakaththaboohuma fakanoo mina almuhlakeena
فَكَذَّبُوهُمَا فَكَانُوا مِنَ الْمُهْلَكِينَ
তারা তাদের দু’জনকেই প্রত্যাখ্যান করে, ফলে তারা হয়ে গেলো ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত।
আমি তো মূসাকে কিতাব দিয়াছিলাম যাহাতে উহারা সৎপথ পায়।
Walaqad atayna moosa alkitaba laAAallahum yahtadoona
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ
আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, যাতে করে তারা সঠিক পথ পায়।
এবং আমি মার্ইয়াম - তনয় ও তাহার জননীকে করিয়াছিলাম এক নিদর্শন, তাহাদেরকে আশ্রয় দিয়াছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।
WajaAAalna ibna maryama waommahu ayatan waawaynahuma ila rabwatin thati qararin wamaAAeenin
وَجَعَلْنَا ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ آيَةً وَآوَيْنَاهُمَا إِلَىٰ رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَمَعِينٍ
আমরা মরিয়মের পুত্র (ঈসা) এবং তার মাকে বানিয়েছিলাম একটি নিদর্শন। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও ঝরণা বিশিষ্ট টিলায়।
‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হইতে আহার কর ও সৎকর্ম কর; তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত।
Ya ayyuha alrrusulu kuloo mina alttayyibati waiAAmaloo salihan innee bima taAAmaloona AAaleemun
يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا ۖ إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
হে রসূলরা! তোমরা উত্তম - পবিত্র জিনিস খাও এবং আমলে সালেহ্ করো। তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি জ্ঞাত।
‘এবং তোমাদের এই যে জাতি ইহা তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক; অতএব আমাকে ভয় কর।’
Wainna hathihi ommatukum ommatan wahidatan waana rabbukum faittaqooni
وَإِنَّ هَٰذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ
তোমাদের এই উম্মত মূলত একটিই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।
কিন্তু তাহারা নিজেদের মধ্যে তাহাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করিয়াছে। প্রত্যেক দলই তাহাদের নিকট যাহা আছে তাহা লইয়া আনন্দিত।
FataqattaAAoo amrahum baynahum zuburan kullu hizbin bima ladayhim farihoona
فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ زُبُرًا ۖ كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ
কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করে ফেলেছে, প্রত্যেক উপদলই তাদের কাছে যা আছে, তাই নিয়ে সন্তুষ্ট।
সুতরাং কিছুকালের জন্য উহাদেরকে স্বীয় বিভ্রান্তিতে থাকিতে দাও।
Fatharhum fee ghamratihim hatta heenin
فَذَرْهُمْ فِي غَمْرَتِهِمْ حَتَّىٰ حِينٍ
সুতরাং কিছুকালের জন্যে তাদেরকে তাদের বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকতে দাও।
উহারা কি মনে করে যে, আমি উহাদেরকে সাহায্যস্বরূপ যে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি দান করি, তদ্দারা
Ayahsaboona annama numidduhum bihi min malin wabaneena
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُم بِهِ مِن مَّالٍ وَبَنِينَ
তারা কি মনে করে যে, আমরা তাদের যে ধনমাল ও সন্তান সন্ততি দিয়ে সাহায্য করছি,
উহাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্নিত করিতেছি? না, উহারা বুঝে না।
NusariAAu lahum fee alkhayrati bal la yashAAuroona
نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ ۚ بَل لَّا يَشْعُرُونَ
তা দিয়ে তাদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝেনা।
নিশ্চয় যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের ভয়ে সন্ত্রস্ত,
Inna allatheena hum min khashyati rabbihim mushfiqoona
إِنَّ الَّذِينَ هُم مِّنْ خَشْيَةِ رَبِّهِم مُّشْفِقُونَ
নিশ্চয়ই যারা ভীত সন্ত্রস্ত থাকে তাদের প্রভুর ভয়ে,
যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে,
Waallatheena hum biayati rabbihim yuminoona
وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ
যারা ঈমান রাখে তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি,
যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের সঙ্গে শরীক করে না,
Waallatheena hum birabbihim la yushrikoona
وَالَّذِينَ هُم بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ
যারা শিরক করেনা তাদের প্রভুর সাথে,
এবং যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করিবে এই বিশ্বাসে তাহাদের যাহা দান করিবার তাহা দান করে ভীত - কম্পিত হৃদয়ে,
Waallatheena yutoona ma ataw waquloobuhum wajilatun annahum ila rabbihim rajiAAoona
وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوا وَّقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَىٰ رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ
এবং তাদেরকে যা দান করা হয়েছে, তাদের প্রভুর কাছে ফিরে আসতে হবে এই বিশ্বাসে তা থেকে দান করে ভীত কম্পিত মনে,
তাহারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তাহারা উহাতে অগ্রগামী হয়।
Olaika yusariAAoona fee alkhayrati wahum laha sabiqoona
أُولَٰئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ
এরাই তৎপর কল্যাণকর কাজে এবং এরাই তাতে অগ্রগামী।
আমি কাহাকেও তাহার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ করি না এবং আমার নিকট আছে এক কিতাব যাহা সত্য ব্যক্ত করে এবং উহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।
Wala nukallifu nafsan illa wusAAaha waladayna kitabun yantiqu bialhaqqi wahum la yuthlamoona
وَلَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۖ وَلَدَيْنَا كِتَابٌ يَنطِقُ بِالْحَقِّ ۚ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
আমরা কোনো ব্যক্তির উপরই তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্বের বোঝা চাপাইনা। আমাদের কাছে রয়েছে একটি কিতাব যা সত্য বলে দেয়। আর তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
বরং এই বিষয়ে উহাদের অন্তর অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন, এতদ্ব্যতীত তাহাদের আরও কাজ আছে যাহা উহারা করিয়া থাকে।
Bal quloobuhum fee ghamratin min hatha walahum aAAmalun min dooni thalika hum laha AAamiloona
بَلْ قُلُوبُهُمْ فِي غَمْرَةٍ مِّنْ هَٰذَا وَلَهُمْ أَعْمَالٌ مِّن دُونِ ذَٰلِكَ هُمْ لَهَا عَامِلُونَ
বরং এ বিষয়ে তাদের কলবগুলো হয়ে রয়েছে অজ্ঞতায় আচ্ছন্ন। এ ছাড়া তাদের আরো অনেক (মন্দ) কাজ আছে, সেগুলো তারা করে থাকে,
আর আমি যখন উহাদের ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিদেরকে শাস্তিদ্বারা ধৃত করি তখনই উহারা আর্তনাদ করিয়া উঠে।
Hatta itha akhathna mutrafeehim bialAAathabi itha hum yajaroona
حَتَّىٰ إِذَا أَخَذْنَا مُتْرَفِيهِم بِالْعَذَابِ إِذَا هُمْ يَجْأَرُونَ
যতোদিন না আমরা তাদের বিলাসী প্রতিপত্তিশালীদেরকে আযাবের আঘাতে পাকড়াও করি। যখন তা করি তখন তারা আর্তনাদ করতে থাকে।
তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘আজ আর্তনাদ করিও না, তোমরা আমার সাহায্য পাইবে না।’
La tajaroo alyawma innakum minna la tunsaroona
لَا تَجْأَرُوا الْيَوْمَ ۖ إِنَّكُم مِّنَّا لَا تُنصَرُونَ
(কিয়ামতের দিন তাদের বলা হবে:) আজ আর্তনাদ করোনা। তোমরা কিছুতেই আজ আমাদের সাহায্য পাবেনা।
আমার আয়াত তো তোমাদের নিকট আবৃত্তি করা হইত, কিন্তু তোমরা পিছনে ফিরিয়া সরিয়া পড়িতে -
Qad kanat ayatee tutla AAalaykum fakuntum AAala aAAqabikum tankisoona
قَدْ كَانَتْ آيَاتِي تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ تَنكِصُونَ
তোমাদের কাছে তো আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো, তখন তোমরা পেছনে ফিরে কেটে পড়তে,
দম্ভভরে, এই বিষয়ে অর্থহীন গল্প - গুজব করিতে করিতে।
Mustakbireena bihi samiran tahjuroona
مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سَامِرًا تَهْجُرُونَ
দাম্ভিকের মতো - এ সম্পর্কে রাত্রে নিরর্থক কল্পকথা বলতে বলতে।
তবে কি উহারা এই বাণী অনুধাবন করে না? অথবা উহাদের নিকট কি এমন কিছু আসিয়াছে যাহা উহাদের পূর্বপুরুষদের নিকট আসে নাই?
Afalam yaddabbaroo alqawla am jaahum ma lam yati abaahumu alawwaleena
أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ أَمْ جَاءَهُم مَّا لَمْ يَأْتِ آبَاءَهُمُ الْأَوَّلِينَ
তারা কি এ বাণী অনুধাবন করার চেষ্টা করেনা, না কি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?
অথবা উহারা কি উহাদের রাসূলকে চিনে না বলিয়া তাহাকে অস্বীকার করে?
Am lam yaAArifoo rasoolahum fahum lahu munkiroona
أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُ مُنكِرُونَ
না কি তারা তাদের রসূলকে চিনতে পারেনা বলে তাকে অস্বীকার করে?
অথবা উহারা কি বলে যে, সে উন্মাদনাগ্রস্ত, বস্তুত সে উহাদের নিকট সত্য আনিয়াছে এবং উহাদের অধিকাংশ সত্যকে অপসন্দ করে।
Am yaqooloona bihi jinnatun bal jaahum bialhaqqi waaktharuhum lilhaqqi karihoona
أَمْ يَقُولُونَ بِهِ جِنَّةٌ ۚ بَلْ جَاءَهُم بِالْحَقِّ وَأَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ
না কি তারা বলে: ‘সে তো একজন জিনে ধরা লোক?’ না, বরং সে তাদের কাছে ‘হক’ (মহাসত্য) নিয়ে এসেছে এবং তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে অপছন্দ করে।
সত্য যদি উহাদের কামনা - বাসনার অনুগামী হইত তবে বিশৃংখল হইয়া পড়িত আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুই। পক্ষান্তরে আমি উহাদেরকে দিয়াছি উপদেশ, কিন্তু উহারা উপদেশ হইতে মুখ ফিরাইয়া নেয়।
Walawi ittabaAAa alhaqqu ahwaahum lafasadati alssamawatu waalardu waman feehinna bal ataynahum bithikrihim fahum AAan thikrihim muAAridoona
وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ ۚ بَلْ أَتَيْنَاهُم بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَن ذِكْرِهِم مُّعْرِضُونَ
সত্য যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতো, তাহলে মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সর্বত্র ফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যেতো। বরং আমরা তাদের কাছে পাঠিয়েছি তাদের উপদেশ, আর তারা তাদের উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
অথবা তুমি কি উহাদের নিকট কোন প্রতিদান চাও? তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই শ্রেষ্ঠ এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
Am tasaluhum kharjan fakharaju rabbika khayrun wahuwa khayru alrraziqeena
أَمْ تَسْأَلُهُمْ خَرْجًا فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَيْرٌ ۖ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছো? তোমার প্রভুর প্রতিদানই তোমার জন্যে উত্তম। তিনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
তুমি তো উহাদেরকে সরল পথে আহ্বান করিতেছ।
Wainnaka latadAAoohum ila siratin mustaqeemin
وَإِنَّكَ لَتَدْعُوهُمْ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
তুমি তো তাদের আহবান করছো সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে।
যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারা তো সরল পথ হইতে বিচ্যুত,
Wainna allatheena la yuminoona bialakhirati AAani alssirati lanakiboona
وَإِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنَاكِبُونَ
যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা তারা সেই সিরাত (পথ) থেকে বিচ্যুত।
আমি উহাদেরকে দয়া করিলেও এবং উহাদের দুঃখ - দৈন্য দূর করিলেও উহারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরিতে থাকিবে।
Walaw rahimnahum wakashafna ma bihim min durrin lalajjoo fee tughyanihim yaAAmahoona
۞ وَلَوْ رَحِمْنَاهُمْ وَكَشَفْنَا مَا بِهِم مِّن ضُرٍّ لَّلَجُّوا فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
আমরা যদি তাদের প্রতি রহমত করতাম এবং তাদের দুঃখ দুর্দশাও দূর করে দিতাম, তবু তারা তাদের অবাধ্যতা নিয়েই বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতো।
আমি তো উহাদেরকে শাস্তিদ্বারা ধৃত করিলাম, কিন্তু উহারা উহাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনত হইল না এবং কাতর প্রার্থনাও করে না।
Walaqad akhathnahum bialAAathabi fama istakanoo lirabbihim wama yatadarraAAoona
وَلَقَدْ أَخَذْنَاهُم بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوا لِرَبِّهِمْ وَمَا يَتَضَرَّعُونَ
আমরা তাদের আযাব দিয়ে পাকড়াও করেছি, কিন্তু তখনো তারা তাদের প্রভুর প্রতি বিনত হয়নি এবং বিনয়ের সাথে ফরিয়াদও করেনি তাঁর কাছে।
অবশেষে যখন আমি উহাদের জন্য কঠিন শাস্তির দুয়ার খুলিয়া দেই তখনই উহারা ইহাতে হতাশ হইয়া পড়ে।
Hatta itha fatahna AAalayhim baban tha AAathabin shadeedin itha hum feehi mublisoona
حَتَّىٰ إِذَا فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِيدٍ إِذَا هُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ
অবশেষে যখন আমরা তাদের জন্যে কঠিন আযাবের দুয়ার খুলে দেই, তখন তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়ে থাকে।
তিনিই তোমাদের জন্য কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করিয়াছেন; তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিয়া থাক।
Wahuwa allathee anshaa lakumu alssamAAa waalabsara waalafidata qaleelan ma tashkuroona
وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۚ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ
তিনিই তো তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করে দিয়েছেন কান, চোখ এবং হৃদয়। কিন্তু তোমরা খুব কমই শোকর আদায় করো।
তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করিয়াছেন এবং তোমাদেরকে তাঁহারই নিকট একত্র করা হইবে।
Wahuwa allathee tharaakum fee alardi wailayhi tuhsharoona
وَهُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
তিনিই পৃথিবীতে তোমাদের বংশ বিস্তার করে দিয়েছেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদের হাশর (সমবেত) করা হবে।
তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তাঁহারই অধিকারে রাত্রি ও দিবসের পরিবর্তন। তবুও কি তোমরা বুঝিবে না?
Wahuwa allathee yuhyee wayumeetu walahu ikhtilafu allayli waalnnahari afala taAAqiloona
وَهُوَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ وَلَهُ اخْتِلَافُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
তিনিই তো হায়াত দান করেন এবং মউত ঘটান। রাত এবং দিনের আবর্তন তাঁরই কর্তৃত্বে। তবু কি তোমরা আকল খাটাবেনা?
এতদসত্ত্বেও উহারা বলে, যেমন বলিয়াছিল পূর্ববর্তীরা।
Bal qaloo mithla ma qala alawwaloona
بَلْ قَالُوا مِثْلَ مَا قَالَ الْأَوَّلُونَ
বরং তারা সে রকমই বলে, যে রকম বলেছে তাদের আগেকার লোকেরা।
উহারা বলে, ‘আমাদের মৃত্যু ঘটিলে ও আমরা মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হইলেও কি আমরা উত্থিত হইব?
Qaloo aitha mitna wakunna turaban waAAithaman ainna lamabAAoothoona
قَالُوا أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
তারা বলে: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনর্জীবিত করা হবে?
‘আমাদেরকে তো এই বিষয়েই প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হইয়াছে এবং অতীতে আমাদের পূর্বপুরুষগণকেও। ইহা তো সে কালের উপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।’
Laqad wuAAidna nahnu waabaona hatha min qablu in hatha illa asateeru alawwaleena
لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا هَٰذَا مِن قَبْلُ إِنْ هَٰذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ
আমাদেরকে তো এর ওয়াদা দেয়া হয়েছে এবং এর আগে দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও। আসলে এতো সেকালের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
জিজ্ঞাসা কর, ‘এই পৃথিবী এবং ইহাতে যাহারা আছে তাহারা কাহার, যদি তোমরা জান?’
Qul limani alardu waman feeha in kuntum taAAlamoona
قُل لِّمَنِ الْأَرْضُ وَمَن فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
হে নবী! তাদের জিজ্ঞাসা করো! পৃথিবী এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সেগুলো কার, যদি তোমরা জানো, তবে বলো?
উহারা বলিবে, আল্লাহর। বল, ’তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করিবে না?’
Sayaqooloona lillahi qul afala tathakkaroona
سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
অবশ্যি তারা বলবে: ‘আল্লাহর।’ বলো: ‘তবে কেন শিক্ষা গ্রহণ করোনা?’
জিজ্ঞাসা কর, ‘কে সপ্ত আকাশ এবং মহা‘আরশেরঅধিপতি?’
Qul man rabbu alssamawati alssabAAi warabbu alAAarshi alAAatheemi
قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘সাত আকাশ এবং আরশে আযিমের রব কে?’
এখন তারা বলবঃ । বলুন, তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?
Sayaqooloona lillahi qul afala tattaqoona
سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ
অবিলম্বেই তারা বলবে: ‘ ।’ বলো: ‘তবে কেন তোমরা সতর্ক হওনা?’
জিজ্ঞাসা কর, ‘সকল কিছুর কর্তৃত্ব কাহার হাতে, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁহার উপর আশ্রয়দাতা নাই, যদি তোমরা জান?’
Qul man biyadihi malakootu kulli shayin wahuwa yujeeru wala yujaru AAalayhi in kuntum taAAlamoona
قُلْ مَن بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: কার মুষ্টিবদ্ধ রয়েছে সবকিছুর কর্তৃত্ব, যিনি সবাইকে আশ্রয় দেন এবং যাঁর উপর কোনো আশ্রয়দাতা নেই? যদি তোমরা জানো, বলো।
উহারা বলিবে, আল্লাহর। বল, ’তবুও কি তোমরা কেমন করিয়া মোহগ্রস্ত হইতেছ?’
Sayaqooloona lillahi qul faanna tusharoona
سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ فَأَنَّىٰ تُسْحَرُونَ
অবিলম্বেই তারা বলবে: ‘।’ বলো: ‘তবে কোন্ দিকে তোমরা মোহগ্রস্ত হচ্ছো?’
বরং আমি তো উহাদের নিকট সত্য পৌঁছাইয়াছি; কিন্তু উহারা তো নিশ্চিত মিথ্যাবাদী।
Bal ataynahum bialhaqqi wainnahum lakathiboona
بَلْ أَتَيْنَاهُم بِالْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ
বরং আমরা তাদের কাছে সত্য পৌঁছে দিয়েছি, কিন্তু তারা অবশ্য অবশ্যি মিথ্যাবাদী।
কোন সন্তান গ্রহণ করেন নাই এবং তাঁহার সঙ্গে অপর কোন ইলাহ্ নাই; যদি থাকিত তবে প্রত্যেক ইলাহ্ স্বীয় সৃষ্টি লইয়া পৃথক হইয়া যাইত এবং একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করিত। উহারা যাহা বলে তাহা হইতে কত পবিত্র!
Ma ittakhatha Allahu min waladin wama kana maAAahu min ilahin ithan lathahaba kullu ilahin bima khalaqa walaAAala baAAduhum AAala baAAdin subhana Allahi AAamma yasifoona
مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَٰهٍ ۚ إِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَٰهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সাথে আর কোনো ইলাহ্ও নেই। যদি থাকতোই, তবে তো প্রত্যেক ইলাহ্ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেতো এবং তারা একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তারে উঠে পড়ে লাগতো। তারা যা আরোপ করে, তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মহান।
তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, উহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহার ঊর্ধ্বে।
AAalimi alghaybi waalshshahadati fataAAala AAamma yushrikoona
عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তিনি গায়েবের জ্ঞানী এবং দৃশ্যেরও। তারা তাঁর সাথে যা শরিক করে তিনি তা থেকে অনেক উপরে।
বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে তাহাদেরকে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হইতেছে, তুমি যদি তাহা আমাকে দেখাইতে চাও,
Qul rabbi imma turiyannee ma yooAAadoona
قُل رَّبِّ إِمَّا تُرِيَنِّي مَا يُوعَدُونَ
(হে নবী!) বলো: ‘‘আমার প্রভু! যে (আযাবের) বিষয়ে তাদের ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা যদি তুমি আমার জীবদ্দশায় সংঘটিত করো,
‘তবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করিও না।’
Rabbi fala tajAAalnee fee alqawmi alththalimeena
رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِي فِي الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
তবে, হে প্রভু! আমাকে যালিম লোকদের অন্তরভুক্ত করোনা।’’
আমি তাহাদেরকে যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি প্রদান করিতেছি আমি তাহা তোমাকে দেখাইতে অবশ্যই সক্ষম।
Wainna AAala an nuriyaka ma naAAiduhum laqadiroona
وَإِنَّا عَلَىٰ أَن نُّرِيَكَ مَا نَعِدُهُمْ لَقَادِرُونَ
আমরা তাদের যে বিষয়ের ওয়াদা দিচ্ছি, তা (তোমার জীবদ্দশায়ই) তোমাকে দেখাতে অবশ্যি আমরা সক্ষম।
মন্দের মুকাবিলা কর যাহা উত্তম তাহা দ্বারা; উহারা যাহা বলে আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
IdfaAA biallatee hiya ahsanu alssayyiata nahnu aAAlamu bima yasifoona
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ ۚ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ
মন্দের মুকাবেলায় তাই করো যা সর্বোত্তম। তারা যা আরোপ করে সে বিষয়ে আমরা অধিক জানি।
বল, ‘হে আমার প্রতি - পালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানের প্ররোচনা হইতে,
Waqul rabbi aAAoothu bika min hamazati alshshayateeni
وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ
হে নবী! বলো: ‘‘আমার প্রভু! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে।
‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট উহাদের উপস্থিতি হইতে।’
WaaAAoothu bika rabbi an yahdurooni
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
আমি তোমার কাছে আরো পানাহ্ চাই আমার কাছে তাদের (শয়তানদের) হাজির হওয়া থেকে।’’
যখন উহাদের কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় প্রেরণ কর,
Hatta itha jaa ahadahumu almawtu qala rabbi irjiAAooni
حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ
যখন তাদের কারো মউতের সময় এসে পড়ে, তখন সে বলে: ‘‘প্রভু! আমাকে পুনরায় (পৃথিবীতে) পাঠাও।
‘যাহাতে আমি সৎকর্ম করিতে পারি যাহা আমি পূর্বে করি নাই।’ না, ইহা হইবার নয়। ইহা তো উহার একটি উক্তি মাত্র। উহাদের সম্মুখে বারযাখ থাকিবে উত্থান দিবস পর্যন্ত।
LaAAallee aAAmalu salihan feema taraktu kalla innaha kalimatun huwa qailuha wamin waraihim barzakhun ila yawmi yubAAathoona
لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
যাতে আমি ভালো কাজ করতে পারি, যা আমি আগে করিনি।’’ কখনো নয়, এতো কথার কথা মাত্র। আর তাদের সামনেই আছে বরযখ পুনরুত্থান কাল পর্যন্ত।
এবং যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে সেদিন পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন থাকিবে না, এবং একে অপরের খোঁজ - খবর লইবে না,
Faitha nufikha fee alssoori fala ansaba baynahum yawmaithin wala yatasaaloona
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ
যখন ফুঁ দেয়া হবে শিঙ্গায়, সেদিন তাদের মাঝে আর কোনো বংশীয় বন্ধন থাকবেনা এবং কেউ কারো কথা জিজ্ঞাসাও করবেনা।
যাহাদের পাল্লা ভারী হইবে তারাই হবে ,
Faman thaqulat mawazeenuhu faolaika humu almuflihoona
فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
তখন ভারি হবে যাদের (নেকীর) পাল্লা, তারাই হবে সাফল্য অর্জনকারী।
এবং যাহাদের পাল্লা হাল্কা হইবে তাহারাই নিজেদের ক্ষতি করিয়াছে; উহারা জাহান্নামে স্থায়ী হইবে।
Waman khaffat mawazeenuhu faolaika allatheena khasiroo anfusahum fee jahannama khalidoona
وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ
এবং হালকা হবে যাদের (নেকীর) পাল্লা, তারা হলো সেইসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে, চিরকাল থাকবে তারা জাহান্নামে।
অগ্নি উহাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করিবে এবং উহারা সেখানে থাকিবে বীভৎস চেহারায়;
Talfahu wujoohahumu alnnaru wahum feeha kalihoona
تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيهَا كَالِحُونَ
আগুন দগ্ধ করতে থাকবে তাদের চেহারা এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারা নিয়ে।
তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হইত না? অথচ তোমরা সেই সকল অস্বীকার করিতে।
Alam takun ayatee tutla AAalaykum fakuntum biha tukaththiboona
أَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ
(তাদের বলা হবে:) ‘তোমাদের কাছে কি আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতোনা? এবং তোমরা সেটাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করতে না?’
উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পাইয়া বসিয়াছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়;
Qaloo rabbana ghalabat AAalayna shiqwatuna wakunna qawman dalleena
قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ
তারা বলবে: ‘‘আমাদের প্রভু! আমাদের বদ নসিব আমাদের উপর বিজয়ী হয়েছে আর মূলতই আমরা ছিলাম একটি বিপথগামী কওম।
‘হে আমাদের প্রতিপালক! এই অগ্নি হইতে আমাদেরকে উদ্ধার কর; অতঃপর আমরা যদি পুনরায় করি তবে তো আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হইব।’
Rabbana akhrijna minha fain AAudna fainna thalimoona
رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ
আমাদের প্রভু! এখন আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দাও। এরপরও যদি আমরা কুফুরিতে ফিরে যাই, তবে অবশ্যি আমরা যালিম হিসেবেই গণ্য হবো।’’
বলিবেন, ‘তোরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক এবং আমার সহিত কোন কথা বলিস না।’
Qala ikhsaoo feeha wala tukallimooni
قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ
তিনি বলবেন: ‘তোমরা এখানেই নিকৃষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকো এবং আমার সাথে তোমরা আর কথা বলোনা।’
আমার বান্দাগণের মধ্যে একদল ছিল যাহারা বলিত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান আনিয়াছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
Innahu kana fareequn min AAibadee yaqooloona rabbana amanna faighfir lana wairhamna waanta khayru alrrahimeena
إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
আমার একদল বান্দা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি, তাই তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের প্রতি রহম করো, আর তুমিই তো সর্বোত্তম রহমওয়ালা।’
‘কিন্তু তাহাদেরকে লইয়া তোমরা এতো ঠাট্টা - বিদ্রপকরিতে যে, উহা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলাইয়া দিয়াছিল। তোমরা তো তাহাদেরকে লইয়া হাসি - ঠাট্টাই করিতে।’
Faittakhathtumoohum sikhriyyan hatta ansawkum thikree wakuntum minhum tadhakoona
فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيًّا حَتَّىٰ أَنسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنتُم مِّنْهُمْ تَضْحَكُونَ
কিন্তু তোমরা তাদের নিয়ে বিদ্রুপ করতে আর সেই বিদ্রুপ তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তোমরা তো তাদের নিয়ে হাসি ঠাট্টাই করছিলে।
‘আমি আজ তাহাদেরকে তাহাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করিলাম যে, তাহারাই হইল
Innee jazaytuhumu alyawma bima sabaroo annahum humu alfaizoona
إِنِّي جَزَيْتُهُمُ الْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوا أَنَّهُمْ هُمُ الْفَائِزُونَ
তাদের সবর অবলম্বনের কারণে আমি তাদের এমন জেযা (প্রতিদান) দিয়েছি যে, আজ তারাই ।
বলবনেঃ তােমরা পৃথবিীতে কতদনি অবস্থান করলে বছররে গণনায়?
Qala kam labithtum fee alardi AAadada sineena
قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ
তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তোমরা পৃথিবীতে কয় বছর অবস্থান করেছিলে?’
উহারা বলিবে, ‘আমরা অবস্থান করিয়াছিলাম একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ; আপনি না হয়, গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।’
Qaloo labithna yawman aw baAAda yawmin faisali alAAaddeena
قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلِ الْعَادِّينَ
তারা বলবে: ‘আমরা সেখানে অবস্থান করেছিলাম একদিন কিংবা দিনের কিছু অংশ। গণনাকারীদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন।’
তিনি বলিবেন, ‘তোমরা অল্প কালই অবস্থান করিয়াছিলে, যদি তোমরা জানিতে!
Qala in labithtum illa qaleelan law annakum kuntum taAAlamoona
قَالَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا ۖ لَّوْ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
তিনি বলবেন: তোমরা অল্পকালই সেখানে অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা জানতে!
‘তোমরা কি মনে করিয়াছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করিয়াছি এবং তোমরা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে না?’
Afahasibtum annama khalaqnakum AAabathan waannakum ilayna la turjaAAoona
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ
তোমরা কি ধরে নিয়েছিলে যে, আমরা বিনা কারণেই তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম? আর তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবেনা ?
মহিমান্নিত যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই; সম্মানিত আরশেরতিনি অধিপতি।
FataAAala Allahu almaliku alhaqqu la ilaha illa huwa rabbu alAAarshi alkareemi
فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
অতীব মহান প্রকৃত সম্রাট, কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সম্মানিত আরশের তিনি মালিক।
যে ব্যক্তি সঙ্গে ডাকে অন্য ইলাহ্কে, এই বিষয়ে তাহার নিকট কোন সনদ নাই; তাহার হিসাব তাহার প্রতিপালকের নিকট আছে; নিশ্চয়ই কাফিররা হইবে না।
Waman yadAAu maAAa Allahi ilahan akhara la burhana lahu bihi fainnama hisabuhu AAinda rabbihi innahu la yuflihu alkafiroona
وَمَن يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِندَ رَبِّهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ
যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ্ ডাকে, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো সত্যায়নপত্র নেই। তার হিসাব হবে তার প্রভুর কাছে। কাফিররা কখনো সফলতা অর্জন করেনা।
বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
Waqul rabbi ighfir wairham waanta khayru alrrahimeena
وَقُل رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
হে নবী! তুমি বলো: ‘আমার প্রভু!, ক্ষমা করো এবং রহম করো, আর তুমিই তো সর্বোত্তম রহমওয়ালা।’