আল্লাহর নামে শুরু করছি—যিনি পরম করুণাময়, যিনি পরম দয়ালু; আলিফ লাম মীম,
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লাম্ মীম্
আলিফ লাম মিম।
Chapter 3, 200 verses
এই সূরাটির নামটি আল-ই-ইমরানের 33 নম্বর আয়াত থেকে নেওয়া হয়েছে , অন্যান্য অনেক সূরার নামের মতো, এটি কেবলমাত্র এটিকে অন্যান্য সূরা থেকে আলাদা করার জন্য একটি নাম এবং এটি বোঝায় না যে এতে ইমরানের পরিবার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রকাশের সময়কালএই সূরাটি চারটি বক্তৃতা নিয়ে গঠিত:
প্রথম বক্তৃতা ( ১-৩২ ) সম্ভবত বদর যুদ্ধের পরপরই প্রকাশিত হয়েছিল।
দ্বিতীয় বক্তৃতা ( ৩৩-৬৩ ) ৯ হিজরিতে নাজরানের খ্রিস্টানদের প্রতিনিধিদের সফর উপলক্ষে প্রকাশিত হয়।
তৃতীয় বক্তৃতা ( 64-120 ) প্রথমটির পরপরই প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে হয়।
চতুর্থ বক্তৃতা ( 121-200 ) উহুদের যুদ্ধের পরে প্রকাশিত হয়েছিল।
বিষয়যদিও এই বক্তৃতাগুলি বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয়েছিল, তবে তারা তাদের লক্ষ্য, বস্তু এবং কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুর সাথে এতই আন্তঃসংযুক্ত এবং এত আন্তঃসংযুক্ত যে তারা একসাথে একটি অবিচ্ছিন্ন সমগ্র তৈরি করে। এই সূরাটি বিশেষভাবে দুটি দলকে সম্বোধন করা হয়েছে - আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসারীরা।
আল-বাকারায় দাওয়াতের ধারাবাহিকতায় ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে বার্তাটি প্রসারিত করা হয়েছে , যেখানে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং খারাপ নৈতিকতার জন্য উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিকার হিসাবে, কুরআনের সত্যকে গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের এখানে বলা হয়েছে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিজেদের নবীদের দ্বারা প্রচারিত জীবনযাপনের একই সঠিক পথ শিখিয়েছিলেন; যে একমাত্র সঠিক পথ, আল্লাহর পথ; তাই এটি থেকে কোনো বিচ্যুতি তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ অনুসারেও ভুল হবে।
দ্বিতীয় দল, মুসলিমরা, যাদেরকে আল-বাকারায় শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সত্যের মশাল-বাহক নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং বিশ্ব সংস্কারের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, তাদেরকে আরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেগুলির ধারাবাহিকতায়। পূর্ববর্তী সূরা। মুসলমানদেরকে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে শিক্ষা নিতে এবং তাদের পদচারণা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের যে সংস্কারমূলক কাজ করতে হবে সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তাদেরকে শেখানো হয়েছে আহলে কিতাব ও মুনাফিকদের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হবে যারা আল্লাহর পথে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। সর্বোপরি, উহদ যুদ্ধে যেসব দুর্বলতা সামনে এসেছিল সেগুলো থেকে সতর্ক থাকার জন্য তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
পটভূমিসূরাটির পটভূমি নিম্নরূপ:
এই সূরাটি আল-বাকারারই ধারাবাহিকতা এবং এতে আহলে কিতাবদের জন্য দাওয়াত অব্যাহত রয়েছে। আল-বাকারায় , ইহুদিদের নির্দেশনা গ্রহণ করার জন্য সুস্পষ্টভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং এই সূরায়, খ্রিস্টানদেরকে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস পরিত্যাগ করে কুরআনের নির্দেশনা গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, মুসলমানদেরকে এমন সব গুণাবলী লালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা তাদেরকে তাদের দায়িত্ব পালনে এবং খোদায়ী নির্দেশনা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম করে।
এই পরিচায়ক আয়াতগুলিতে, আল্লাহ সম্পর্কে মৌলিক সত্য, প্রত্যাদেশ, এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনকে উপযুক্ত প্রাথমিক হিসাবে পরিবেশন করার জন্য পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যা সূরাতে আলোচিত মূল বিষয়গুলির দিকে নিয়ে যায়। 1 - 32
এই বক্তৃতাটি বিশেষভাবে খ্রিস্টানদের উদ্দেশে বলা হয়েছে এবং তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এটি যিশু এবং তাঁর মাকে কেবল ইহুদিদের দ্বারা বিদ্বেষপূর্ণভাবে তাদের উপর স্থাপন করা কলঙ্ক থেকে পরিষ্কার করে না, বরং যীশুর দেবত্বের ভ্রান্ত খ্রিস্টান ধর্মকেও খণ্ডন করে যা তাঁর অলৌকিক জন্মের কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে, একজন বন্ধ্যা মহিলা এবং একজন অত্যন্ত বৃদ্ধ পুরুষের কাছে জন ব্যাপ্টিস্টের উদাহরণ এবং পিতা বা মাতা ছাড়া আদমের উদাহরণগুলি উদ্ধৃত করা হয়েছে যাতে দেখা যায় যে পিতা ছাড়া যীশুর জন্মে তাকে দেবত্বের অধিকারী করার মতো কিছুই নেই। . 33 - 65
এই আয়াতগুলোতে আহলে কিতাব তথা ইহুদীদেরকে তাদের অশুভ পথ পরিত্যাগ করে খোদায়ী নির্দেশনা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে, মুসলমানদের তাদের বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য, ভ্রান্ত পথ এবং অযৌক্তিক আপত্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। 66 - 101
মুসলমানদেরকে আহলে কিতাবদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য এবং তাদের ষড়যন্ত্র থেকে নিজেদেরকে হেফাজত করার এবং পুণ্য প্রতিষ্ঠা ও মন্দকে নির্মূল করার জন্য প্রস্তুত ও প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 102 - 120
এই অংশে, উহদ যুদ্ধের পর্যালোচনা করা হয়েছে মুসলমানদের শেখানোর এবং আশ্বস্ত করার জন্য যে তাদের শত্রুদের ষড়যন্ত্র তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না যদি তারা সংযম ও দৃঢ়তার অনুশীলন করে এবং আল্লাহকে ভয় করে। ইঙ্গিত করা হয়েছে যে তারা যে বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল তা কিছু নৈতিক গুণাবলীর অভাব এবং কিছু খারাপের অস্তিত্বের কারণে হয়েছিল। পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল পাস পাহারাদার তীরন্দাজদের লোভ, তাই এই অশুভ (লোভ) অংশকে নির্মূল করার জন্য সুদ গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 121 - 175
আয়াত 109 - 120 এর মূল বিষয়বস্তু তাদের শত্রুদের বিপজ্জনক চক্রান্তের বিরুদ্ধে মুসলমানদের আশ্বস্ত ও উত্সাহিত করার জন্য পুনরায় শুরু করা হয়েছে। 175 - 189
এটি সূরার উপসংহার এবং এর ঠিক আগের আয়াতের সাথে সরাসরি যুক্ত নয় বরং সমগ্র সূরার বিষয়বস্তুর সাথে। 190 - 200
আল্লাহর নামে শুরু করছি—যিনি পরম করুণাময়, যিনি পরম দয়ালু; আলিফ লাম মীম,
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লাম্ মীম্
আলিফ লাম মিম।
ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।
আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা-হুঅাল হাইয়্যুল্ ক্বাইয়্যূম্।
! নেই কোনো ইলাহ্ তিনি ছাড়া, তিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির ধারক।
তিনি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যাহা উহার পূর্বের কিতাবের সমর্থক আর তিনি অবতীর্ণ করিয়াছিলেন তাওরাত ও ইনজীল
নায্যালা 'আলাইকাল্ কিতা-বাবিল্হাক্ব ্ক্বি মুছোয়াদ্দিক্বাল্ লিমা-বাইনা ইয়াদাইহি অআন্যালাত তাওরা-তা অল্ ইন্জ্বীল্।
তিনি নাযিল করেছেন তোমার প্রতি আল কিতাব, যা মহাসত্য এবং তার পূর্বের (কিতাবের) সত্যায়নকারী। আর তিনিই নাযিল করেছেন তাওরাত এবং ইনজিল -
ইতিপূর্বে মানবজাতির সৎপথ প্রদর্শনের জন্য; আর তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন। যাহারা নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদের জন্য কঠোর শাস্তি আছে। মহাপরাক্রমশালী, দণ্ডদাতা।
মিন্ ক্বাব্লু হুদাল লিন্না-সি অআন্যালাল্ র্ফুক্বা-ন্ ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি লাহুম 'আযা-বুন্ শাদীদ্ অল্লা-হু 'আযীযুন্ যুন্তিক্বা-ম্।
ইতোপূর্বে, মানুষের জন্যে পথ প্রদর্শনকারী হিসেবে। অতপর তিনি নাযিল করলেন আল (আল কুরআন)। নিশ্চয়ই যারা অমান্য করে আল্লাহর আয়াত (এই কুরআন), তাদের জন্যে রয়েছে শক্ত আযাব। অসীম ক্ষমতাশালী, (অপরাধের) দন্ডদাতা।
, নিশ্চয়ই আসমান ও যমিনে কিছুই তাঁহার নিকট গোপন থাকে না।
ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াখ্ফা-'আলাইহি শাইয়ুন্ ফিল্ র্আদ্বি অলা-ফিস্ সামা - ই।
নিশ্চয়ই (এমন সত্তা যে), তাঁর কাছে গোপন থাকেনা কিছুই, না পাতালে, না আকাশে।
তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই; তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
হুওয়াল্লাযী ইয়ুছোয়াওয়্যিরুকুম্ ফিল্ র্আহা-মি কাইফা ইয়া শা - উ লায় ইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল্ 'আযীযুল্ হাকীম্
তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের সুরত গঠন করেন রেহেমে (মাতৃগর্ভে) যেভাবে তিনি চান। নেই কোনো ইলাহ্ তিনি ছাড়া, অসীম ক্ষমতাধর মহা প্রজ্ঞাবান তিনি।
তিনিই তোমার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন যাহার কিছু আয়াত ‘মুহ্কাম’, এইগুলি কিতাবের মূল ; আর অন্যগুলি ‘মুতাশাবিহ্’, যাহাদের অন্তরে সত্য - লংঘন প্রবণতা রহিয়াছে শুধু তাহারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে। ব্যতীত অন্য কেহ ইহার ব্যাখ্যা জানে না। আর যাহারা জ্ঞানে সুগভীর তাহারা বলে, ‘আমরা ইহা বিশ্বাস করি, সমস্তই আমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে আগত’; এবং বোধশক্তিসম্পন্নেরা ব্যতীত অপর কেহ শিক্ষা গ্রহণ করে না।
হুওয়াল্লাযী য় আন্যালা 'আলাইকাল্ কিতা-বা মিন্হু আ-ইয়া-তুম্ মুহ্কামা-তুন্ হুন্না উম্মুল্ কিতা-বি অউখারু মুতাশা-বিহা-ত্ ফাআম্মাল লাযীনা ফী কুলূবিহিম্ যাইগুন্ ফাইয়াত্তাবি'ঊ না মা-তাশা-বাহা মিন্হুব্তিগা - য়াল্ ফিত্নাতি অব্তিগা - য়া তাওয়ীলিহী অমা-ইয়া'লামু তাওয়ীলাহূ য় ইল্লাল্লা-হ্। র্অরা-সিখূনা ফিল্'ইল্মি ইয়াকুলূনা আ-মান্না-বিহী কুল্লম্ মিন্ 'ইন্দি রব্বিনা- অমা-ইয়ায্যাক্কারু ইল্লায় ঊ-লুল্ আল্বা-ব্।
তিনি সেই সত্তা, যিনি নাযিল করেছেন তোমার প্রতি আল কিতাব, যার কিছু আয়াত মুহকাম , সেগুলোই এ কিতাবের মূল; বাকিগুলো মুতাশাবিহ্। যাদের অন্তরে বক্রতা আছে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা পিছু নেয় মুতাশাবিহ্ আয়াত সমূহের এবং সেগুলোর তা’বিল (ব্যাখ্যা) সন্ধানের কাজে নিয়োজিত হয়। অথচ কেউ জানেনা সেগুলোর তা’বিল ছাড়া। যারা জ্ঞানের গভীরতা রাখে, তারা বলে: ‘‘আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, সবগুলোই আমাদের রব - এর নিকট থেকে (অবতীর্ণ)। আসলে বুঝের লোকেরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করেনা।
‘হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনপ্রবণ করিও না এবং তোমার নিকট হইতে আমাদেরকে করুণা দান কর, নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।
রব্বানা-লা-তুযিগ্ কুলূবানা- বা'দা ইয্ হাদাইতানা-অহাবলানা-মিল্ লাদুন্কা রহ্মাতান্ ইন্নাকা আন্তাল্ অহ্হা-ব্।
আমাদের রব! বক্র করোনা আমাদের হৃদয়গুলোকে আমাদেরকে হিদায়াত দান করার পর, আর আমাদের দান করো তোমার নিকট থেকে রহমত। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি মানব জাতিকে একদিন একত্রে সমবেত করিবে, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রতির ব্যতিক্রম করেন না।’
রব্বানায় ইন্নাকা জ্বা-মি'উন্ না-সি লিইয়াওমিল্ লা-রাইবা ফীহ্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুখ্লিফুল্ মী'আ-দ্।
আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই তুমি জমা করবে সকল মানুষকে সেদিন, যে দিনটির (আগমনের ব্যাপারে) কোনো সনেদহ নাই। নিশ্চয়ই খেলাফ করেননা ওয়াদা।’’
নিশ্চয়ই যাহারা করে নিকট তাহাদের ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি অবশ্যই কোন কাজে লাগিবে না এবং ইহারাই দোজখের ইন্ধন।
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ লান্ তুগ্নিয়া 'আন্হুম্ আম্ওয়া-লুহুম্ অলায় আওলাদুহুম্ মিনাল্লা-হি শাইয়া- অ উলা-য়িকা হুম অকুদুন নার্-।
যারা কুফুরি করে তাদের মাল সম্পদ ও সন্তান সন্ততি আল্লাহর কাছে (তাদের) কোনোই কাজে আসবে না। তারা হবে জাহান্নামের জ্বালানি।
তাহাদের অভ্যাস ফির‘আওনী সম্প্রদায় ও তাহাদের পূর্ববর্তিগণের অভ্যাসের ন্যায়; উহারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করিয়াছিল; ফলে তাহাদের পাপের জন্য তাহাদেরকে শাস্তিদান করিয়াছিলেন। শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।
কাদাবি আ-লি র্ফি'আওনা অল্লাযী না মিন্ ক্বাব্লিহিম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-ফাআখাযাহুমুল্লা-হু বিযুনূবিহিম অল্লা-হু শাদীদুল্ 'ইক্বা-ব্।
তাদের স্বভাব চরিত্র ফেরাউন সম্প্রদায় এবং তাদের পূর্ববর্তীদের স্বভাব চরিত্রেরই মতো। তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। ফলে তাদের পাপের কারণে তাদের পাকড়াও করেন এবং শাস্তি প্রদানে খুবই কঠোর।
যাহারা করে তাহাদেরকে বল, ‘তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হইবে এবং তোমাদেরকে একত্রিত করিয়া জাহান্নামের দিকে লইয়া যাওয়া হইবে। আর উহা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল !’
কুল্ লিল্লাযীনা কাফারূ সাতুগ্লাবূনা অতুহ্শারূনা ইলা-জ্বাহান্নাম্ অবিসাল্ মিহা-দ্ ।
যারা কুফুরি করে তাদের বলো: তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে এবং তোমাদের হাশর করা হবে জাহান্নামে, আর তা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস!
দুইটি দলের পরস্পর সম্মুখীন হওয়ার মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে। একদল পথে যুদ্ধ করিতেছিল, অন্যদল ছিল ; উহারা তাহাদেরকে চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখিতেছিল। যাহাকে ইচ্ছা নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ইহাতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের জন্য শিক্ষা রহিয়াছে।
ক্বাদ্ কা-না লাকুম্ আ-ইয়াতুন্ ফী ফিয়াতাইনিল্ তাক্বাতা- ফিয়াতুন্ তুক্বা-তিলু ফী সাবীলিল্লা-হি অ উখ্রা- কা-ফিরাতুইঁ ইয়ারাওনাহুম্ মিছ্লাইহিম্ রাইয়াল্ 'আইন্ অল্লা-হু ইয়ুআইয়্যিদু বিনাছ্রিহী মাইঁ ইয়াশা - উ ইন্না ফী যা-লিকা লা'ইব্রাতাল্ লিঊলিল্ আব্ছোয়া-র।
(বদর যুদ্ধে) দুই বাহিনীর সম্মুখীন হবার মধ্যে তোমাদের জন্যে রয়েছে একটি নিদর্শন। একটি দল লড়াই করছিল আল্লাহর পথে আর অপর দল ছিলো , তারা তাদেরকে (মুসলিম বাহিনীকে) চোখের দেখায় দেখছিল দ্বিগুণ। যাকে ইচ্ছা শক্তিশালী করেন তাঁর সাহায্য দিয়ে। নিশ্চয়ই এতে শিক্ষণীয় রয়েছে অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্যে।
নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণরৌপ্য আর চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদিপশু এবং ক্ষেত - খামারের প্রতি আকর্ষণ মানুষের জন্য সুশোভিত করা হইয়াছে। এইসব ইহজীবনের ভোগ্য বস্তু। আর তাঁহারই নিকট রহিয়াছে উত্তম আশ্রয়স্থল।
যুইয়্যিনা লিন্না-সি হুব্বুশ্ শাহাওয়া-তি মিনা ন্নিসা - য়ি অল্বানীনা অল্ ক্বানা-ত্বীরিল্ মুক্বান্ত্বোয়ারাতি মিনায্ যাহাবি অল্ ফিদ্ব্দ্বোয়াতি অল্ খাইলিল্ মুসাওয়্যামাতি অল আন্'আ-মি অল্ হারছ্ যা-লিকা মাতা-'উল্ হাইয়া-তিদ দুন্ইয়া- অল্লা-হু 'ইন্দাহূ হুস্নুল্ মাআ-ব।
নারী (স্ত্রী), সন্তান, সোনা - রুপার স্তুপ, চিহ্নধারী ঘোড়া, গবাদি পশু এবং ক্ষেত খামারের প্রতি ভালোবাসা ও আসক্তি মানুষের জন্যে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে। এসবই দুনিয়ার জীবনের ভোগ্য বস্ত্ত। আর উত্তম আশ্রয়স্থল তো রয়েছে আল্লাহর কাছেই।
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এই সব বস্তু হইতে উৎকৃষ্টতর কোন কিছুর সংবাদ দিব? যাহারা তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলে তাহাদের জন্য তাহাদের প্রতিপালকের নিকট জান্নাতসমূহ রহিয়াছে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। আর সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে, তাহাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনীগণ এবং নিকট হইতে সন্তুষ্টি রহিয়াছে। বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।
ক্ব ুল আউনাব্বিউ কুম্ বিখাইরিম্ মিন্ যা-লিকুম্ লিল্লাযীনাত্ তাক্বাও 'ইন্দা রব্বিহিম জ্বান্না-তুন্ তাজ্বরী মিন তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খা-লিদীনা ফীহা- অ আজ্ওয়া-জ্ব ুম্ মুত্বোয়াহ্ হারাতুওঁ অ রিদ্ব্ওয়া-নুম্ মিনাল্লা-হ্ অল্লা-হু বাছীরুম্ বিল্'ইবা-দ্।
তাদের বলো: ‘‘আমি কি তোমাদের এসব জিনিস থেকে উত্তম জিনিসের সংবাদ দেবো? তাহলো, যারা তাকওয়ার পথ অবলম্বন করবে তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতসমূহ। যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। সেখানে থাকবে তারা চিরকাল। সেখানে তাদের জন্যে মওজুদ রয়েছে পবিত্র জীবন - সাথিরা, আরো রয়েছে আল্লাহর রেজামন্দি। আর তো তাঁর দাসদের প্রতি দৃষ্টি রাখবেনই।’’
যাহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান আনিয়াছি ; সুতরাং তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব হইতে রক্ষা কর ;
আল্লাযীনা ইয়াকুলূনা রব্বানায় ইন্নানায় আ-মান্না-ফার্গ্ফিলানা- যুনূবানা- অক্বিনা- 'আযা-বান্ নার্-।
যারা বলে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি। অতএব, ক্ষমা করে দাও আমাদের সমস্ত পাপ আর রক্ষা করো আমাদের আগুনের আযাব থেকে।’
তাহারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, ব্যয়কারী এবং শেষ রাত্রে ক্ষমাপ্রার্থী।
আছ্ছোয়া-বিরীনা অছ্ছোয়া-দিক্বীনা অল্ ক্বা-নিতীনা অল্ মুন্ফিক্বীনা অল্ মুছ্তাগ্ফিরীনা বিল্ আস্হার্-
তাদের বৈশিষ্ট্য হলো: তারা ধৈর্যশীল, সত্যপন্থী, বিনত, (আল্লাহর পথে) দানকারী এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, ফিরিশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও ; ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত, তিনি ব্যতীত অন্য কোন নাই; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
শাহিদাল্লা-হু আন্নাহূ লায় ইলাহা ইল্লা-হুঅ অল্মালা - য়িকাতু অ ঊলুল্ 'ইল্মি ক্বা - য়িমাম্ বিল্ ক্বিস্ত্ব্ লায় ইলা-হা ইল্লা-হুঅল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।
সাক্ষ্য দিচ্ছেন, নিশ্চয়ই কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। ফেরেশতা এবং জ্ঞানীরাও এই সাক্ষ্য দেয়। ন্যায় ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো নেই তিনি ছাড়া। তিনি মহাশক্তিমান মহাবিজ্ঞানী।
নিঃসন্দেহে ইসলামই নিকট একমাত্র দীন। যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহারা পরস্পর বিদ্বেষবশত তাহাদের নিকট জ্ঞান আসিবার পর মতানৈক্য ঘটাইয়াছিল। আর কেহ আল্লাহর নিদর্শনকে অস্বীকার করিলে তো হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।
ইন্নাদ্দীনা 'ইন্দাল্লা-হিল্ ইস্লা-ম্ অ মাখ্তালাফাল্লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা ইল্লা-মিম্ বা'দি মা-জ্বা-য়া হুমুল্ 'ইল্মু বাগইয়াম্ বাইনাহুম্ অমাইঁ ইয়ার্ক্ফু বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ফাইন্নাল্লা-হা সারী'উল হিসা-ব্
নিশ্চয়ই দীন আল্লাহর কাছে একমাত্র ইসলাম। ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা তাদের পরস্পর বিদ্বেষবশত তাদের কাছে এলেম আসার পর ইখতেলাফে লিপ্ত হয়। যারাই কুফুরি করবে আল্লাহর আয়াতের প্রতি, তাদের জেনে রাখা উচিত হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুতগামী।
যদি তাহারা তোমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয় তবে তুমি বল, ‘আমি আল্লাহর নিকট আত্মসর্মপণ করিয়াছি এবং আমার অনুসারিগণও।’ আর যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদেরকে ও নিরক্ষরদেরকে বল, ‘তোমরাও কি আত্মসর্মপণ করিয়াছ?’ যদি তাহারা আত্মসর্মপণ করে তবে নিশ্চয়ই তাহারা হিদায়াত পাইবে। আর যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে তোমার কর্তব্য শুধু প্রচার করা। বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।
ফাইন্ হা - জ্জুকা ফাক্ব ুল্ আস্লাম্তু অজ্বহিয়া লিল্লা-হি অ মানিত্তাবা'আন অ কুল্ লিল্লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা অল্ উম্মিয়্যীনা আআস্লাম্তুম্ ফাইন্ আস্লামূ ফাক্বাদিহ্ তাদাও অ ইন্ তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা-'আলাইকাল্ বালা-গ্ অল্লা-হু বাছীরুম্ বিল্ 'ইবা-দ্।
যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চায়, তবে তাদের বলে দাও: ‘আমি আল্লাহর জন্যে আত্মসমর্পণ করেছি এবং যারা আমার অনুসরণ করে তারাও।’ যাদের ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের এবং উম্মিদের জিজ্ঞেস করো: ‘তোমরা কি ইসলাম কবুল (আত্মসমর্পণ) করবে?’ যদি তারা ইসলাম কবুল (আত্মসমর্পণ) করে তবেই হিদায়াত (সঠিক পথ) লাভ করবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব তো কেবল (আমার বার্তা) পৌঁছে দেয়া। তো তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি রাখছেনই।
যাহারা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করে, অন্যায়রূপে নবীদের হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যাহারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাহাদেরকে হত্যা করে, তুমি তাহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।
ইন্নাল্লাযীনা ইয়াক্ফুরূনা বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি অইয়াক্ব্তুলূনান্ নাবিয়্যীনা বিগাইরি হাক্ব্ ক্বিওঁ অইয়াক্ব্ তুলূনাল্লাযীনা ইয়াক্ফুরূনা বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি অইয়াক্ব্তুলূনান্ নাবিয়্যীনা বিগাইরি হাক্ব্ ক্বিওঁ অইয়াক্ব্ ্তুলূনাল্লাযীনা ইয়া'মুরূনা বিল্ ক্বিস্ত্বি মিনান্না-সি ফাবার্শ্শিহুম্ বি'আযা-বিন্ আলীম্।
যারা কুফুরি করে আল্লাহর আয়াতের প্রতি, নবীদের কতল করে নাহকভাবে এবং মানুষের মধ্যে যারা ন্যায় ও ইনসাফের আদেশ করে তাদেরকেও হত্যা করে, তুমি এসব লোকদের সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
এইসব লোক, ইহাদের কার্যাবলী দুনিয়া ও আখিরাতে নিষ্ফল হইবে এবং তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।
উলা - য়িকাল্লাযীনা হাবিত্বোয়াত্ আ'মা-লুহুম্ ফিদ্দুন্ইয়া-অল্ আ-খিরাতি অমা-লাহুম্ মিন্ না-ছিরীন্।
দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে, আর তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা।
তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহাদেরকে কিতাবের অংশ প্রদান করা হইয়াছিল? তাহাদেরকে কিতাবের দিকে আহ্বান করা হইয়াছিল যাহাতে উহা তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দেয়; অতঃপর তাহাদের একদল ফিরিয়া দাঁড়ায়, আর তাহারাই পরাক্সমুখ;
আলাম্ তারা ইলাল্ লাযীনা ঊতূ নাছীবাম্ মিনাল্ কিতা-বি ইয়ুদ'আওনা ইলা- কিতা-বিল্লা-হি লিইয়াহ্কুমা বাইনাহুম্ ছুম্মা ইয়াতাওয়াল্লা- ফারীকুম্ মিন্হুম্ অহুম্ মু'রিদুন্।
তুমি কি ঐসব লোকদের দেখোনি, যাদের কিতাবের অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছিল? তাদের আহবান করা হয়েছিল আল্লাহর কিতাবের দিকে, যাতে করে তা তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়। তারপর তাদের একটি পক্ষ মুখ ফিরিয়ে নেয়, মূলত তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়ারই লোক।
এইহেতু যে, তাহারা বলিয়া থাকে, ‘দিন কতক ব্যতীত আমাদেরকে অগ্নি কখনই স্পর্শ করিবে না। তাহাদের নিজেদের দীন সম্বন্ধে তাহাদের মিথ্যা উদ্ভাবন তাহাদেরকে প্রবঞ্চিত করিয়াছে।
যা-লিকা বিআন্নাহুম্ ক্বা-লূ লান্ তামাস্সানান্না-রু ইল্লায় আইয়্যা-মাম্ মা'দূদা-তিওঁ অর্গারাহুম্ ফী দীনিহিম্ মা- কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।
এর কারণ হলো, তারা বলে বেড়ায়: ‘মাত্র কয়েকটা দিন ছাড়া আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শই করবেনা।’ তাদের দীন সম্পর্কে তাদের প্রতারিত করে রেখেছে তাদের এই মিথ্যা রচনা।
কিন্তু সেইদিন, যাহাতে কোন সন্দেহ নাই, তাহাদের কি অবস্থা হইবে? যে দিন আমি তাহাদেরকে একত্র করিব এবং প্রত্যেককে তাহার অর্জিত কর্মের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হইবে, আর তাহাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হইবে না।
ফাকাইফা ইযা- জ্বামা'না-হুম্ লিইয়াওমিল্ লা-রাইবা ফীহি অউফ্ফিয়াত্ কুল্লু নাফ্সিম্ মা- কাসাবাত্ অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।
ঐ দিন তাদের কী অবস্থা হবে, যে সন্দেহাতীত দিনে আমরা তাদের জমা করবো এবং প্রত্যেককেই তার উপার্জিত কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম (অবিচার) করা হবেনা?
বল, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক তুমি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যাহার নিকট হইতে ইচ্ছা ক্ষমতা কাড়িয়া লও; যাহাকে ইচ্ছা তুমি ইজ্জত দান কর, আর যাহাকে ইচ্ছা তুমি হীন কর। কল্যাণ তোমার হাতেই। নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
কুলিল্লা-হুম্মা মা-লিকাল্ মুল্কি তুতিল্ মুল্কা মান্ তাশা - উ অ তান্যি'উল্ মুল্কা মিম্মান্ তাশা - উ অ তু'ইয্যু মান্ তাশা - উ অতুযিল্লু মান্ তাশা - উ বিইয়াদিকাল্ খার্ই ইন্নাকা 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।
(হে নবী!) বলো: ‘হে ! সমস্ত কর্তৃত্বের মালিক তুমি। যাকে ইচ্ছা তুমি ক্ষমতা দান করো এবং যার থেকে ইচ্ছা তুমি ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা তুমি ইয্যত দাও এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করো। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।'
‘তুমি রাত্রিকে দিবসে পরিণত এবং দিবসকে রাত্রিতে পরিণত কর : তুমিই মৃত হইতে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্তহইতে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। তুমি যাহাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান কর।’
তূলিজ্জুল লাইলা ফিন্নাহা-রি অতূলিজুন নাহা-রা ফিল্লাইলি অতুখ্রিজুল্ হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতি অতুখ্রিজ্ব ুল্ মাইয়্যিতা মিনাল্ হাইয়্যি অর্তাজুকু মান্ তাশা - উ বিগাইরি হিসা-ব্।
র্যুরিয়্যাতাম্ বা'দ্বুহা- মিম্বা'দ্ব্ অল্লা-হু সামী'উন্ 'আলীম্।
তুমিই রাতকে দিনে রূপান্তরিত করো এবং দিনকে রূপান্তরিত করো রাতে। তুমি জীবন্তকে বের করে আনো মৃত থেকে এবং মৃতকে বের করে আনো জীবন্তের থেকে। আর যাকে ইচ্ছা তুমি রিযিক দান করো বেহিসাব।
মু’মিনগণ যেন মু’মিনগণ ব্যতীত কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যে কেহ এইরূপ করিবে তাহার সঙ্গে আল্লাহর কোন সম্পর্ক থাকিবে না; তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাহাদের নিকট হইতে আত্মরক্ষারর জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর তাঁহার নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করিতেছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন।
লা-ইয়াত্তাখিযিল্ মুমিনূনাল্ কা-ফিরীনা আওলিয়া - য়া মিন্ দূনিল্ মুমিনীন্ অমাইঁ ইয়াফ্'আল্ যা-লিকা ফালাইসা মিনাল্লা-হি ফী শাইয়িন্ ইল্লায় আন্ তাত্তাকু মিন্হুম্ তুক্বা-হ্ অইয়ুহায্যিরুকুমুল্লা-হু নাফ্সাহ্ অ ইলাল্লা-হিল্ মাছীর।
মুমিনরা মুমিনদের ছাড়া কাফিরদের অলি (বন্ধু, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক) হিসেবে গ্রহণ করবেনা। যে কেউ তা করবে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক থাকার কোনো ভিত্তি তার থাকবেনা। তবে ব্যতিক্রম হলো, যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষার জন্যে সতর্কতা অবলম্বন করো, সেক্ষেত্রে তোমাদের সতর্ক করছেন তাঁর নিজের সম্পর্কে আর আল্লাহর কাছেই (হবে সবার) প্রত্যাবর্তন।
বল, ‘তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা যদি তোমরা গোপন অথবা ব্যক্ত কর উহা অবগত আছেন এবং আসমান ও যমীনে যাহা কিছু আছে তাহাও অবগত আছেন। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’।
ক্ব ুল্ ইন্ তুখ্ফূ মা-ফী ছুদূরিকুম্ আও তুব্দূহু ইয়া'লাম্হুল্লা-হ্ অইয়া'লামু মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্ব্ অল্লা-হু 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।
(হে নবী!) তাদের বলো: ‘তোমাদের মনে যা আছে, তা যদি গোপন রাখো, অথবা যদি প্রকাশ করো (সর্বাবস্থায়ই) তা জানেন। তিনি জানেন যা কিছু আছে মহাকাশে আর যা কিছু আছে এই পৃথিবীতে। আর সব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’
যেদিন প্রত্যেকে সে যে ভাল কাজ করিয়াছে এবং সে যে মন্দ কাজ করিয়াছে তাহা বিদ্যমান পাইবে, সেদিন সে তাহার ও উহার মধ্যে দূর ব্যবধান কামনা করিবে। তাঁহার নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করিতেছেন। বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র।
ইয়াওমা তাজ্বিদু কুল্ল ু নাফ্সিম্ মা-'আমিলাত্ মিন্ খাইরিম্ মুহ্দ্বোয়ারা অমা-'আমিলাত্ মিন্ সূ - য়িন্ তাওয়াদ্দু লাও আন্না বাইনাহা- অবাইনাহূ য় আমাদাম্ বা'ঈদা- অইয়ুহায্ যিরুকুমুল্লা-হু নাফ্সাহ্ অল্লা-হু রাঊফুম্ বিল্ 'ইবা-দ্।
যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি হাজির পাবে সে যা ভালো কাজ করেছে তা, এবং সে যা মন্দ করেছে তাও। সেদিন সে (যে মন্দ কাজ করেছে) তার ও তার মন্দ কাজের মধ্যে দূর ব্যবধান কামনা করবে। তোমাদের সাবধান করছেন তাঁর নিজের সম্পর্কে। তাঁর দাসদের প্রতি পরম কোমল - দয়া পরবশ।
বল, ‘তোমরা যদি কে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, তোমাদেরকে ভালবাসিবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করিবেন। অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
কুল্ ইন্ কুনতুম্ তুহিব্ব ূনাল্লা-হা ফাত্তাবি'ঊনী ইয়ুহ্বিব্কুমুল্লা-হু অইয়ার্গ্ফি লাকুম্ যুনূবাকুম্ অল্লা-হু গাফূর্রু রাহীম্।
(হে নবী!) তাদের বলো: ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, তবেই তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। অতীব ক্ষমাশীল পরম দয়াবান।’
বল, ও রাসূলের অনুগত হও।’ যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে জানিয়া রাখ, তো কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।
ক্ব ুল্ আত্বী'উল্লা-হা র্অরাসূলা ফাইন্ তাওয়াল্লাও ফাইন্নাল্লাহা-হা লা-ইয়ুহিব্বুল্ কা-ফিরীন্।
তাদের বলো: ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রসূলের।’ যদি তারা (এ কথা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখো, কাফিরদের পছন্দ করেন না।
নিশ্চয়ই আদমকে, নূহকে ও ইব্রাহীমের বংশধর এবং ‘ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করিয়াছেন।
ইন্নাল্লা-হাছ্ ত্বোয়াফা য় আ-দামা অ নূহাওঁ অ আ-লা ইব্রা-হীমা অ আ-লা 'ইম্রা-না 'আলাল্ 'আ-লামীন্।
বিশ্ববাসীর মধ্যে বাছাই করেছেন আদম, নূহ, ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে।
ইহারা একে অপরের বংশধর। সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
তারা পরস্পরের বংশধর। সব শুনেন, সব দেখেন।
স্মরণ কর, যখন ইমরানের স্ত্রী বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক ! আমার গর্ভে যাহা আছে তাহা একান্ততোমার জন্য আমি উৎসর্গ করিলাম। সুতরাং তুমি আমার নিকট হইতে উহা কবূল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
ইয্ ক্বা-লাতিম্ রাআতু 'ইম্রা-না রব্বি ইন্নী নার্যাতু লাকা মা- ফী বাত্ব্ ্নী মুর্হারারান্ ফাতাক্বাব্বাল্ মিন্নী ইন্নাকা আন্তাস্ সামী'উল্ 'আলীম্।
স্মরণ করো, ইমরানের স্ত্রী বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমার গর্ভে যা (যে সন্তান) আছে, তাকে একান্তভাবে তোমার জন্যে উৎসর্গ করলাম। সুতরাং তুমি আমার পক্ষ থেকে তাকে কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সব শুনো, সব জানো।’
অতঃপর যখন সে উহাকে প্রসব করিল তখন সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমি কন্যা প্রসব করিয়াছি।’ সে যাহা প্রসব করিয়াছে তাহা সম্যক অবগত। ‘আর ছেলে তো এই মেয়ের মত নয়, আমি উহার নাম ‘মার্ইয়াম’ রাখিয়াছি এবং অভিশপ্ত শয়তান হইতে তাহার ও তাহার বংশধরদের জন্য তোমার শরণ লইতেছি।’
ফালাম্মা-অদ্বোয়া 'আত্হা- ক্বা-লাত্ রব্বি ইন্নী অ দ্বোয়া'তুহা য় উন্ছা-অল্লা-হু আ'লামু বিমা-অদ্বোয়া'আত্ অ লাইসায্ যাকারু কাল্উন্ছা- অ ইন্নী সাম্মাইতুহা-মারইয়ামা অইন্নী য় উ'ঈযুহা-বিকা অর্যুরিয়্যাতাহা-মিনাশ্ শাইত্বোয়া-র্নি রাজ্বীম্।
পরে যখন সে তাকে প্রসব করলো, বললো: ‘আমার প্রভু! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি।’ সে যা প্রসব করেছিল সে সম্পর্কে সর্বাধিক জানতেন। (সে আরো বললো:) ‘আর ছেলে তো এই মেয়ের মতো নয়, আমি তার নাম রেখেছি মরিয়ম এবং তাকে ও তার বংশধরদেরকে তোমার আশ্রয়ে দিচ্ছি অভিশপ্ত শয়তান থেকে।’
অতঃপর তাহার প্রতিপালক তাহাকে ভালভাবে কবূল করিলেন এবং তাহাকে উত্তমরূপে লালনপালন করিলেন এবং তিনি তাহাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রাখিয়াছিলেন। যখনই যাকারিয়া কক্ষে তাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে যাইত তখনই তাহার নিকট খাদ্য - সামগ্রী দেখিতে পাইত। সে বলিত, ‘হে মার্ইয়াম! এই সব তুমি কোথায় পাইলে?’ সে বলিত, ‘উহা নিকট হইতে।’ নিশ্চয়ই যাহাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।
ফাতাক্বাব্বালাহা-রব্বুহা-বিক্বাবূলিন্ হাসানিওঁ অআম্বাতাহা- নাবা-তান্ হাসানাওঁ অকাফ্ফালাহা-যাকারিয়্যা- কুল্লামা-দাখালা 'আলাইহা-যাকারিয়্যাল্ মিহ্রা-বা অজ্বাদা 'ইন্দাহা- রিয্ক্বান্ ক্বা-লা ইয়া-র্মাইয়ামু আন্না লাকি হা-যা-ক্বা-লাত্ হুঅ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা ইয়ার যুক্ব ু মাইঁ ইয়াশা - উ বিগাইরি হিসা-ব্।
ফলে তার প্রভু তাকে কবুল করে নিলেন উত্তম কবুল, আর তাকে গড়ে তুললেন উত্তমভাবে এবং তার তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেন যাকারিয়াকে। যাকারিয়া যখনই তার কাছে মেহরাবে প্রবেশ করতো তার কাছে খাবার সামগ্রী দেখতে পেতো। সে বলতো: ‘মরিয়ম! এসব তুমি কোথায় পেলে?’ সে বলতো: ‘তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই যাকে চান রিযিক দেন বেহিসাব।’
সেখানেই যাকারিয়া তাহার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করিয়া বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তুমি তোমার নিকট হইতে সৎ বংশধর দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’
হুনা-লিকা দা'আ-যাকারিয়্যা-রব্বাহূ ক্বা-লা রব্বি হাব্লী মিল্লাদুন্কা র্যুরিয়্যাতান্ ত্বোয়াইয়িবাতান্ ইন্নাকা সামী 'উদ্ দু'আ - য়্।
ওখানেই যাকারিয়া তার প্রভুর কাছে দোয়া করলো: ‘আমার প্রভু! তোমার পক্ষ থেকে তুমি আমাকে একটি উত্তম বংশধর দাও। নিশ্চয়ই তুমি দোয়া শুনে (কবুল করে) থাকো।’
যখন যাকারিয়া কক্ষে সালাতে দাঁড়াইয়াছিলেন তখন ফিরিশতাগণ তাহাকে সম্বোধন করিয়া বলিল, তোমাকে ইয়াহ্ইয়ার সুসংবাদ দিতেছেন, সে হইবে আল্লাহর বাণীর সমর্থক, নেতা, স্ত্রী বিরাগী এবং পুণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী।’
ফানা-দাত্হুল্ মালা-য়িকাতু অহুঅ ক্বা-য়িমুইঁ ইয়ুছোয়াল্লী ফিল্ মিহ্রা-বি আন্নাল্লা-হা ইয়ুবাশ্শিরিুকা বিইয়াহ্ইয়া- মুছোয়াদ্দিক্বাম্ বিকালিমাতিম্ মিনাল্লা-হি অসাইয়্যিদাওঁ অ হাছূরাওঁ অনাবিয়্যাম্ মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।
ফলে যাকারিয়া যখন মেহরাবে সালাতে দাঁড়িয়েছিল, তখন ফেরেশতারা এসে তাকে ডেকে বললো: ‘ আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহিয়ার, তিনি হবেন আল্লাহর ‘কালেমার’ সত্যায়নকারী, সাইয়েদ, নারী বিরাগী এবং সালেহ্ নবীদের একজন।’
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার পুত্র হইবে কিরূপে? আমার তো বার্ধক্য আসিয়াছে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা’ তিনি বলিলেন’ এই ভাবেই। যাহা ইচ্ছা তাহা করেন।
ক্বা-লা রব্বি আন্না-ইয়াকূনুলী গুলা-মুওঁ অক্বাদ্ বালাগানিয়াল কিবারু অম্রায়াতী 'আ-র্ক্বি ক্বা-লা কাযা-লিকাল্লা-হু ইয়াফ্'আলু মা-ইয়াশা - য়্।
সে বললো: ‘হে আমার প্রভু! কী করে ছেলে হবে আমার? আমার তো বার্ধক্য এসেছে, তাছাড়া আমার স্ত্রী বন্ধ্যা।’ তিনি বললেন: ‘এভাবেই যা চান করে থাকেন।’
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বলিলেন, ‘তোমার নিদর্শন এই যে, তিন দিন তুমি ইংগিত ব্যতীত কথা বলিতে পারিবে না, আর তোমার প্রতিপালককে অধিক স্মরণ করিবে এবং সন্ধ্যায় ও প্রভাতে তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিবে।’
ক্বা-লা রব্বিজ্ব'আল্ লী য় আ-ইয়াহ্ ক্বা-লা আ-ইয়াতুকা আল্লা-তুকাল্লিমান্না-সা ছালা-ছাতা আইয়্যা-মিন্ ইল্লা-রাম্যা-অয্কুর রব্বাকা কাছীরাওঁ অসাব্বিহ্ বিল্'আশিয়্যি অল্ইব্কার্-।
সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে (এর) একটা নিদর্শন দাও।’ তিনি বললেন: ‘তোমার নিদর্শন হলো, তুমি তিনদিন আকারে ইংগিতে ছাড়া কথা বলবেনা এবং তোমার প্রভুর বেশি বেশি যিকির করবে, আর তাসবিহ্ করবে সকাল ও সন্ধ্যায়।’
স্মরণ কর, যখন ফিরিশ্তাগণ বলিয়াছিল, ‘হে মার্ইয়াম! তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র করিয়াছেন এবং বিশ্বের নারীগণের মধ্যে তোমাকে মনোনীত করিয়াছেন।
অইয্ ক্বা-লাতিল্ মালা - য়িকাতু ইয়া-র্মাইয়ামু ইন্নাল্লা-হাছ ত্বোয়াফা-কি অ ত্বোয়াহ্হারাকি অছ্ত্বোয়াফা-কি 'আলা-নিসা - য়িল্ 'আ-লামীন্।
স্মরণ করো, ফেরেশতারা বলেছিল: ‘‘হে মরিয়ম! আপনাকে মনোনীত ও পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বনারীদের মধ্যে আপনাকে বাছাই করেছেন।
‘হে মার্ইয়াম! তোমার প্রতিপালকের অনুগত হও ও সিজ্দা কর এবং যাহারা রুকূ‘ করে তাহাদের সঙ্গে রুকূ‘ কর।’
ইয়া-র্মারইয়ামুক্ব নাতী লিরব্বিকি অস্জ্ব ুদী র্অকা'ঈ মা'র্আ রা-কি'ঈন্।
হে মরিয়ম! আপনার প্রভুর প্রতি অনুগত ও বিনয়ী হোন, সাজদা করুন এবং যারা রুকু করে, তাদের সাথে রুকু করুন।’’
ইহা বিষয়ের সংবাদ - যাহা তোমাকে ওহী দ্বারা অবহিত করিতেছি। মার্ইয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাহাদের মধ্যে কে গ্রহণ করিবে ইহার জন্য যখন তাহারা তাহাদের কলম নিক্ষেপ করিতেছিল তুমি তখন তাহাদের নিকট ছিলে না এবং তাহারা যখন বাদানুবাদ করিতেছিল তখনও তুমি তাহাদের নিকট ছিলে না।
যা-লিকা মিন্ আম্বা - য়িল গাইবি নূহীহি ইলাইক্ অমা-কুন্তা লাদাইহিম্ ইয্ ইয়ুল্ক্ব ূনা আক্বলা-মাহুম্ আইয়্যুহুম্ ইয়াক্ফুলু মারইয়ামা অমা-কুন্তা লাদাইহিম্ ইয্ ইয়াখ্তাছিমূন্।
এগুলো - এর সংবাদ আমরা অহি করছি তোমার প্রতি। তুমি তখন তাদের কাছে উপস্থিত ছিলেনা যখন তাদের মধ্যে মরিয়মের কফিল (তত্ত্বাবধায়ক) কে হবে তা নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে তারা কলম নিক্ষেপ করেছিল, আর তখনো তুমি তাদের কাছে ছিলেনা যখন তারা এ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল।
স্মরণ কর, যখন ফিরিশ্তাগণ বলিল, ‘হে মার্ইয়াম ! নিশ্চয়ই তোমাকে তাঁহার পক্ষ হইতে একটি কালেমার সুসংবাদ দিতেছেন। তাহার নাম মাসীহ্ মার্ইয়াম - তনয় ‘ঈসা, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হইবে।
ইয্ ক্বা-লাতিল্ মালা - য়িকাতু ইয়া-র্মাইয়ামু ইন্নাল্লা-হা ইউবাশ্শিরুকি বিকালিমাতিম্ মিন্হুস মুহুল্ মাসীহু 'ঈসাব্নু র্মাইয়ামা অজ্বীহান্ ফিদ্দুনইয়াঅল্ আ-খিরাতি অমিনাল্ মুর্ক্বারাবীন্।
স্মরণ করো, ফেরেশতারা বলেছিল: ‘‘হে মরিয়ম! আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর পক্ষ থেকে একটি কলেমার, তার নাম হবে মসিহ্ ঈসা ইবনে মরিয়ম, সে হবে দুনিয়া এবং আখিরাতে সম্মানিত এবং নৈকট্য লাভকারীদের একজন।
‘সে দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সঙ্গে কথা বলিবে এবং সে হইবে পুণ্যবানদের একজন।’
অইয়ুকাল্লিমুন না-সা ফিল্ মাহ্দি অক্বাহ্লাওঁ অ মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।
দোলনায় থাকা অবস্থায় সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং পরিণত বয়সেও এবং সে হবে ন্যায়বানদের একজন।’’
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই, আমার সন্তান হইবে কীভাবে?’ তিনি বলিলেন, ‘এইভাবেই’, যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেন, ‘হও’ এবং ইহা হইয়া যায়।
ক্বা-লাত্ রব্বি আন্না- ইয়াকূনু লী অলাদুওঁ অলাম্ ইয়াম্সাস্নী বার্শা ক্বা-লা কাযা-লিকিল্লা-হু ইয়াখ্লুক্ব ু মা-ইয়াশা - য়্ ইযা-ক্বাদ্বোয়ায় আমরান্ ফাইন্নামা- ইয়াকুলু লাহূ কুন্ ফাইয়াকূন্।
সে বললো: ‘আমার প্রভু! কেমন করে ছেলে হবে আমার, আমাকে তো স্পর্শ করেনি কোনো পুরুষ?’ তিনি বললেন: ‘‘এভাবেই যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন বলেন: ‘হও’ এবং তা হয়ে যায়।
‘এবং তিনি তাহাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইন্জীল।
অইয়ু'আল্লিমুহুল্ কিতা-বা অল্হিকমাতা অত্তাওরা-তা অল্ইনজ্বীল্।
এবং তিনি তাকে তালিম দেবেন আল কিতাব, হিকমাহ, তাওরাত ও ইনজিল।
‘এবং তাহাকে বনী ইসরাঈলের জন্য রাসূল করিবেন।’ সে বলিবে, ‘আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি। আমি তোমাদের জন্য কর্দম দ্বারা একটি পক্ষীসদৃশ আকৃতি গঠন করিব ; অতঃপর ইহাতে আমি ফুৎকার দিব; ফলে আল্লাহর হুকুমে উহা পাখি হইয়া যাইবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করিব এবং আল্লাহর হুকুমে মৃতকে জীবন্তকরিব। তোমরা তোমাদের গৃহে যাহা আহার কর ও মওজুদ কর তাহা তোমাদেরকে বলিয়া দিব। তোমরা যদি হও তবে ইহাতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।
অ রাসূলান্ ইলা-বানী য় ইসরা - য়ীলা আন্নী ক্বাদ্ জ্বিতুকুম্ বিআ-ইয়া-তিম্ র্মি রব্বিকুম্ আন্নী য় আখ্লাক্ব ু লাকুম্ মিনাত্ত্বীনি কাহাইয়াতিত্ত্বোয়াইরি ফাআন্ফুখু ফীহি ফাইয়াকূনু ত্বোয়াইরাম্ বিইয্নিল্লা-হি অ উব্রিয়ুল্ আক্মাহা অল্ আব্রাছোয়া অ উহ্য়িল মাওতা- বিইয্নিল্লা-হি অ উনাব্বিউকুম্ বিমা-তাকুলূনা অমা- তাদ্দাখিরূনা ফী বুইয়ূতিকুম্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়াতাল্ লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।
আর তাকে রসূল হিসেবে পাঠাবেন বনি ইসরাঈলের কাছে।’’ সে তাদের বলবে: ‘‘আমি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। (তাহলো) আমি কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করবো, তারপর তাতে ফুঁ দেবো, সাথে সাথে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা হয়ে যাবে পাখি। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীদের নিরাময় করবো। আমি মৃতকে জীবিত করবো আল্লাহর অনুমতিক্রমে। তাছাড়া তোমরা তোমাদের ঘরে যা খাও এবং যা সঞ্চয় করো তা তোমাদের বলে দেবো। এতে তোমাদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন যদি তোমরা হয়ে থাকো।
‘আর আমি আসিয়াছি আমার সম্মুখে তাওরাতে যাহা রহিয়াছে উহার সমর্থকরূপে ও তোমাদের জন্য যাহা নিষিদ্ধ ছিল উহার কতকগুলিকে বৈধ করিতে। এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি। সুতরাং আল্লাহ্কে ভয় কর আর আমাকে অনুসরণ কর।
অ মুছোয়াদ্দিক্বাল্ লিমা- বাইনা ইয়াদাইয়্যা মিনাত্ তাওরা-তি অ লিউহিল্লা লাকুম্ বা'দ্বোয়াল্ লাযী র্হুরিমা 'আলাইকুম্ অ জ্বিতুকুম্ বিআ-ইয়াতিম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাত্তাক্ব ুল্লা-হা অআত্বী'ঊন্।
আর আমার সামনে তাওরাতের যা রয়েছে আমি তার সত্যায়নকারী, আর তোমাদের জন্যে যেসব জিনিস হারাম করা হয়েছিল আমি তার কিছু হালাল করবো। আমি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক, সুতরাং তোমরা তাঁহার ‘ইবাদত করিবে। ইহাই সরল পথ।’
ইন্নাল লা-হা রব্বী অরব্বুকুম্ ফা'বুদূহ্ হা-যা- ছিরা-ত্ব ুম্ মুস্তাক্বীম্
আল্লাহ্ই আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং কেবল তাঁরই ইবাদত করো - এটাই সরল সঠিক পথ।’’
যখন ‘ঈসা তাহাদের অবিশ্বাস উপলব্ধি করিল তখন সে বলিল, আল্লাহর পথে কাহারা আমার সাহায্যকারী?’ হাওয়ারীগণ বলিল, ‘আমরাই আল্লাহর পথে হায্যকারী। আমরা আল্লাহর ঈমান আনিয়াছি। আমরা আত্মসর্মপণ - কারী, তুমি ইহার সাক্ষী থাক।
ফালাম্মায় আহাস্সা 'ঈসা-মিন্হুমুল্ কুফ্রা ক্বা-লা মান্ আন্ছোয়া-রী য় ইলাল্লা-হ্ ক্বা-লাল্ হাওয়া-রিয়্যূনা নাহ্নু আন্ছোয়া-রুল্লা-হি আ-মান্না- বিল্লা-হি অশ্হাদ্ বিআন্না- মুসলিমূন্।
অতপর ঈসা যখন তাদের থেকে কুফুরি অনুভব করলো, তখন তাদের বললো: ‘আল্লাহর পথে কারা হবে আমার সাহায্যকারী? তখন হাওয়ারীরা বললো: ‘‘আমরা হবো আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম। তুমি সাক্ষী থাকো, আমরা আত্মসমর্পণকারী - মুসলিম।
‘হে আমাদের প্রতিপালক ! তুমি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছ তাহাতে আমরা ঈমান আনিয়াছি এবং আমরা এই রাসূলের অনুসরণ করিয়াছি। সুতরাং আমাদেরকে সাক্ষ্যদান - কারীদের তালিকাভুক্ত কর।’
রব্বানায় আ-মান্না-বিমায় আন্যাল্তা অত্তাবা'র্না রাসূলা ফাক্তুব্না- মা'আশ্ শা-হিদীন্।
আমাদের প্রভু! তুমি যা নাযিল করেছো আমরা তার (সেই কিতাবের) প্রতি ঈমান এনেছি এবং তোমার এই রসূলের ইত্তেবা (অনুসরণ) করেছি, তাই তুমি আমাদের (নাম) লিখে নাও সাক্ষ্যদানকারীদের সাথে।’’
আর তাহারা চক্রান্ত করিয়াছিল আল্লাহও কৌশল করিয়াছিলেন; কৌশলীদের শ্রেষ্ঠ।
অ মাকারূ অমাকারাল্লা-হ্ অল্লা-হু খাইরুল্ মা-কিরীন্।
ওরা ষড়যন্ত্র করেছিল আর আল্লাহ্ও কৌশল করেছিলেন। আল্লাহ্ই সর্বোত্তম কৌশলী।
স্মরণ কর, যখন বলিবেন, ‘হে ‘ঈসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করিতেছি এবং আমার নিকট তোমাকে তুলিয়া লইতেছি এবং যাহারা করিয়াছে তাহাদের মধ্য হইতে তোমাকে পবিত্র করিতেছি। আর তোমার অনুসারিগণকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিতেছি, অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন।’ তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটিতেছে আমি উহা মীমাংসা করিয়া দিব।
ইয্ ক্বা-লাল্লা-হু ইয়া-'ঈসায় ইন্নী মুতাওয়াফ্ফীকা অরা-ফি'উকা ইলাইয়্যা অ মুত্বোয়াহ্হিরুকা মিনাল্লাযীনা কাফারূ অ জ্বা'ইলুল্ লাযীনাত্ তাবাঊ'কা ফাওক্বাল্লাযীনা কাফারূ য় ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি ছুম্মা ইলাইয়্যা র্মাজ্বি'উকুম্ ফাহ্কুম্ বাইনাকুম্ ফী মা-কুনতুম্ ফীহি তাখ্তালিফূন্।
স্মরণ করো, বলেছিলেন: ‘‘হে ঈসা! আমি তোমার সময়কাল পূর্ণ করছি, তোমাকে আমার কাছে উঠিয়ে নিচ্ছি, যারা কুফুরিতে লিপ্ত হয়েছে তাদের থেকে তোমাকে পবিত্র করছি এবং তোমার অনুসারীদের কাফিরদের উপর কিয়ামতকাল পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব দিচ্ছি। অতপর আমার কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবো যে বিষয়ে তোমরা ইখতেলাফ করছিলে।
যাহারা করিয়াছে আমি তাহাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করিব এবং তাহাদের কোন সাহায্য - কারী নাই।
ফাআম্মাল্লাযীনা কাফারূ ফাউ'আয্যিবুহুম্ 'আযা-বান্ শাদীদান্ ফিদ্দুনইয়া- অল্ আ-খিরাতি অমা- লাহুম্ মিন্ না-ছিরীন্।
তবে, যারা কুফুরিতে লিপ্ত হবে, তাদেরকে আমি আযাব দেবো কঠিন আযাব দুনিয়ায় এবং আখিরাতে এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা।’’
আর যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং সৎকাজ করিয়াছে তিনি তাহাদের প্রতিফল পুরাপুরিভাবে প্রদান করিবেন। জালিমদের পছন্দ করেন না।
অআম্মাল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি ফাইয়ুঅফ্ফীহিম উজ্ব ুরাহুম্ অল্লা-হু লা-ইয়ুহিব্বুজ্জোয়া-লিমীন্
আর যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, তিনি তাদের পুরোপুরি দিয়ে দেবেন তাদের প্রতিফল। যালিমদের পছন্দ করেননা।
ইহা আমি তোমার নিকট তিলাওয়াত করিতেছি আয়াতসমূহ ও সারগর্ভ বাণী হইতে।
যা-লিকা নাত্লূহু 'আলাইকা মিনাল্ আ-ইয়া-তি অয্যিক্রিল্ হাকীম্।
এগুলো হলো আয়াত এবং বিজ্ঞানময় উপদেশ, যা আমরা তোমার প্রতি তিলাওয়াত করছি।
আল্লাহর নিকট নিশ্চয়ই ‘ঈসার দৃষ্টান্তআদমের দৃষ্টান্তসদৃশ। তিনি তাহাকে মৃত্তিকা হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর উহাকে বলিলেন ‘হও’, ফলে সে হইয়া গেল।
ইন্না মাছালা 'ঈসা- 'ইন্দাল্লা-হি কামাছালি আ-দাম্ খালাক্বাহূ মিন্ তুরা-বিন্ ছুম্মা ক্বা-লা লাহূ কুন্ ফাইয়াকূন্।
আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের অনুরূপ। তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর তাকে বলেছেন: ‘হও’ ফলে সে হয়ে গেলো।
সত্য তো তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে, সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।
আল্ হাক্ব্ ্ক্ব ু র্মি রব্বিকা ফালা-তাকুম্ মিনাল্ মুম্তারীন্
সত্য (এসেছে) তোমার প্রভুর নিকট থেকে, সুতরাং তুমি সনেদহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা।
তোমার নিকট জ্ঞান আসিবার পর যে কেহ এই বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক করে তাহাকে বল, আস, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রগণকে ও তোমাদের পুত্রগণকে, আমাদের নারীগণকে ও তোমাদের নারীগণকে, আমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের নিজেদেরকে, অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই আল্লাহর লা’নত।
ফামান্ হা - জ্ব ্ জ্বাকা ফীহি মিম্ বা'দি মা- জ্বা - আকা মিনাল্্ 'ইল্মি ফাক্ব ুল্ তা'আ -লাও নাদ্'ঊ আব্না- আনা- অ আব্না- আকুম্ অনিসা- আনা- অনিসা- আকুম্ অ আন্ফুসানা- অ আন্ফুসাকুম্ ছুম্মা নাব্তাহিল্ ফানাজ্ব্'আল্ লা'নাতাল্লা-হি 'আলাল্ কা-যিবীন্।
তোমার কাছে (সত্য) এলেম আসার পর যারা তোমার সাথে বিতর্ক করে, তুমি তাদের বলো: ‘‘এসো আমরা ডাকি আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের, আমাদের নিজেদের এবং তোমাদের নিজেদের, তারপর বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই আল্লাহর লা’নত।’’
নিশ্চয়ই ইহা সত্য বৃত্তান্ত। ব্যতীত অন্য ইলাহ্ নাই; নিশ্চয় পরম প্রতাপশালী, প্রজ্ঞাময়।
ইন্না হা-যা- লাহুওয়াল্ ক্বাছোয়াছুল্ হাক্ব ্ক্ব ু অমা-মিন্ ইলা-হিন্ ইল্লাল্লা-হু অইন্নাল্লা-হা লাহুওয়াল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।
এ এক অতীব সত্য বিবরণ। কোনো ইলাহ্ নেই ছাড়া। আর নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান মহা বিজ্ঞানী।
যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয়, তবে নিশ্চয়ই ফাসাদকারীদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।
ফাইন্ তাওয়াল্লাও ফাইন্নাল্লা-হা 'আলীমুম্ বিল মুফ্সিদীন্।
তারপরও তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালোভাবেই জানেন।
তুমি বল, ‘হে কিতাবীগণ ! আস সে কথায় যাহা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক; যেন আমরা ব্যতীত কাহারও ‘ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই তাঁহার শরীক না করি এবং আমাদের কেহ কাহাকে ও ব্যতীত রব হিসাবে গ্রহণ না করে।’ যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে বল, ‘তোমরা সাক্ষী থাক, অবশ্যই আমরা মুসলিম।’
ক্ব ুল্ ইয়া য় আহ্লাল্ কিতা-বি তা'আ-লাও ইলা- কালিমাতিন্ সাওয়া - য়িম্ বাইনানা- অ বাইনাকুম্ আল্লা- না'বুদা ইল্লাল্লা-হা অলা-নুশ্রিকা বিহী- শাইয়াওঁ অলা- ইয়াত্তাখিযা বা'দ্বু না- বা'দ্বোয়ান্ আরবা-বাম্ মিন্ দূনিল্লা-হ্ ফাইন্ তাওয়াল্লাও ফাকুলুশ্ হাদূ বিআন্না- মুসলিমূন্।
হে নবী! তুমি তাদের বলো: ‘হে আহলে কিতাব! এসো, এই কথাটিতে আমরা একমত হয়ে যাই, যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে একই রকম। তাহলো: আমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করবোনা। আমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকেই শরিক করবোনা এবং আমরা ছাড়া আমাদের পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ করবোনা।’ যদি তারা (এ প্রস্তাব) গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বলো: ‘তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা মুসলিম।’
হে কিতাবীগণ! ইব্রাহীম সম্বন্ধে কেন তোমরা তর্ক কর, অথচ তাওরাত ও ইন্জীল তো তাহার পরেই অবতীর্ণ হইয়াছিল? তোমরা কি বুঝ না?
ইয়ায় আহ্লাল্ কিতা-বি লিমা তুহা - জ্জ্ব ূনা ফীয় ইব্রা-হীমা অমায় উন্যিলাতিত্ তাওরা-তু অল্ ইন্জ্বীলু ইল্লা-মিম্ বা'দিহ্ আফালা- তা'ক্বিলূন্।
হে আহলে কিতাব! তোমরা ইবরাহিমকে নিয়ে কেন তর্ক করো? অথচ তাওরাত এবং ইনজিল তো তার পরে নাযিল হয়েছে। তোমরা কি আকল রাখোনা?
হাঁ, তোমরা তো সেইসব লোক, যে বিষয়ে তোমাদের সামান্য জ্ঞান আছে সে বিষয়ে তোমরাই তো তর্ক করিয়াছ, তবে যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নাই সে বিষয়ে কেন তর্ক করিতেছ?
হা য় আন্তুম্ হা য় উ লা - য়ি হা-জ্জ্বতুম্ ফীমা- লাকুম্ বিহ 'ইল্মুন্ ফালিমা তুহা - জ্জ্ব ূনা ফীমা- লাইসা লাকুম্ বিহী 'ইল্ম্ অল্লা-হু ইয়া'লামু অআন্তুম্ লা-তা'লামূন্।
হাঁ, তোমরা তো ঐসব লোক, যারা তর্ক করেছো যে বিষয়ে তোমাদের একটুখানি জ্ঞান আছে, কিন্তু যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞানই নেই, সে বিষয়ে কেন তোমরা তর্ক করছো? জানেন, তোমরা জানোনা।
ইব্রাহীম ইয়াহূদীও ছিল না, খ্রিস্টানও ছিল না; সে ছিল একনিষ্ঠ আত্মসর্মপণকারী এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্তও ছিল না।
মা-কা-না ইব্রা-হীমু ইয়াহূদিইয়্যাওঁ অলা-নাছ্রা-নিয়্যাওঁ অলা-কিন্ কা-না হানীফাম্ মুস্লিমা- অমা- কা-না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।
ইবরাহিম ইহুদিও ছিলনা নাসারাও (খৃষ্টান) ছিলনা, বরং সে ছিলো একনিষ্ঠ মুসলিম। আর সে মুশরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলনা।
নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে তাহারা ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠতম যাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছে এবং এই নবী ও যাহারা ঈমান আনিয়াছে; আর মু’মিনদের অভিভাবক।
ইন্না আওলান্না-সি বিইব্রা-হীমা লাল্লাযীনাত্ তাবা'ঊহু অহা-যান্ নাবিয়্যু অল্লাযীনা আ-মানূ অল্লা-হু অলিয়্যুল্ মুমিনীন্।
জেনে রাখো, মানুষের মাঝে ইবরাহিমের নিকটতম লোক হলো তারা, যারা তার অনুসরণ করেছে এবং এই নবী (মুহাম্মদ), আর যারা ঈমান এনেছে তারা। আল্লাহ্ই মুমিনদের অলি।
কিতাবীদের একদল চাহে যেন তোমাদেরকে বিপথগামী করিতে পারে, অথচ তাহারা নিজেদেরকেই বিপথগামী করে, কিন্তু তাহারা উপলব্ধি করে না।
অদ্দাত্বত্বোয়া - য়িফাতুম্ মিন্ আহ্লিল্ কিতা-বি লাওইয়ুদ্বিল্ল ূনাকুম্ অমা-ইয়ুদ্বিল্লূনা ইল্লায় আন্ফুসাহুম্ অমা-ইয়াশ্'উরূন।
আহলে কিতাবদের একদল লোক চায় যেনো তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে পারে। আসলে তারা কেবল নিজেদেরই পথভ্রষ্ট করে, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনা।
হে কিতাবী - গণ! তোমরা কেন আয়াতকে অস্বীকার কর, যখন তোমরাই সাক্ষ্য বহন কর?
ইয়ায় আহ্লাল্ কিতা-বি লিমা- তাক্ফুরূনা বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি অআন্তুম্ তাশ্হাদূন্।
হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতকে (আল কুরআন ও শেষ নবীকে) অস্বীকার করছো, অথচ (তা সত্য হবার ব্যাপারে) তোমরাই সাক্ষী।
হে কিতাবীগণ! তোমরা কেন সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত কর এবং সত্য গোপন কর, যখন তোমরা জান?
ইয়ায় আহ্লাল্ কিতা-বি লিমা তাল্বিসূনাল্ হাক্ব ্ক্বা বিল্বা-ত্বিলি অতাক্তুমূনাল্ হাক্ব ্ক্বা অ আন্তুম্ তা'লামূন্।
হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতকে (আল কুরআন ও শেষ নবীকে) অস্বীকার করছো, অথচ (তা সত্য হবার ব্যাপারে) তোমরাই সাক্ষী।
কিতাবীদের একদল বলিল, ‘যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তোমরা দিনের প্রারম্ভেতাহা বিশ্বাস কর এবং দিনের শেষে তাহা প্রত্যাখ্যান কর ; হয়ত তাহারা ফিরিবে।
অক্বা-লাত্ ত্বোয়া-য়িফাতুম্ মিন্ আহ্লিল্ কিতা-বি আ-মিনূ বিল্লাযী য় উন্যিলা 'আলাল্লাযীনা আ-মানূ অজ্ব ্হা ন্নাহা-রি অক্ফুরূ য় আ-খিরাহূ লা'আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি'ঊন্।
আহলে কিতাবদের মধ্যে একদল লোক (তাদের লোকদের) বলছিল: ‘মুমিনদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি দিনের শুরুতে ঈমান আনো, আর দিনের শেষে কুফুরি করো, তাতে হয়তো তারা (তাদের ঈমান থেকে) ফিরে আসবে।’
‘আর যে ব্যক্তি তোমাদের দীনের অনুসরণ করে তাহাদেরকে ব্যতীত আর কাহাকেও বিশ্বাস করিও না।’ বল, ‘আল্লাহর নির্দেশিত পথই একমাত্র পথ। ইহা এইজন্য যে, তোমাদেরকে যাহা দেওয়া হইয়াছে অনুরূপ আর কাহাকেও দেওয়া হইবে অথবা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে তাহারা তোমাদেরকে যুক্তিতে পরাভূত করিবে। বল, ‘অনুগ্রহ আল্লারই হাতে ; তিনি যাহাকে ইচ্ছা তাহা প্রদান করেন। প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
অলা-তু'মিনূয় ইল্লা-লিমান্ তাবি'আ দীনাকুম্ ক্ব ুল্ ইন্নাল্ হুদা-হুদাল্লা-হি আইঁ ইয়ুতায় আহাদুম্ মিছ্লা মায় ঊতীতুম্ আও ইয়ুহা - জ্জ্ব ূকুম্ 'ইন্দা রব্বিকুম্ ক্ব ুল্ ইন্নাল্ ফাদ্ব ্লা বিইয়াদিল্লা-হি ইয়ুতীহি মাইঁ ইয়াশা - য়্ অল্লা-হু ওয়া-সি'উন্ 'আলীম্।
(তারা নিজেদের মধ্যে আরো বলাবলি করে:) ‘আর কাউকেও বিশ্বাস করবেনা তাকে ছাড়া, যে তোমাদের ধর্মের অনুসরণ করে।’ হে নবী! তাদের বলো: ‘আল্লাহর দেখানো পথই একমাত্র হিদায়াতের পথ।’ এটা এজন্যে যে, এক সময় তোমাদের যা দেয়া হয়েছে অনুরূপ অন্য কাউকেও দেয়া হবে, অথবা তোমাদের প্রভুর সামনে তারা তোমাদের যুক্তিতে পরাস্ত করবে। বলো: অনুগ্রহ অবশ্যি আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। অতীব উদার, অতীব জ্ঞানী।
তিনি স্বীয় অনুগ্রহের জন্য যাহাকে ইচ্ছা বিশেষ করিয়া বাচিয়া নেন। মহা অনুগ্রহশীল।
ইয়াখ্তাছ্ছু বিরহ্মাতিহী মাইঁ ইয়াশা - য়্ অল্লা-হু যুল্ফাদ্ব ্লিল্ 'আজীম্।
নিজ রহমতের জন্যে যাকে ইচ্ছা তিনি খাস করে বেছে নেন। মহা অনুগ্রহের মালিক ।
কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক রহিয়াছে, যে বিপুল সম্পদ আমানত রাখিলেও ফেরত দিবে; আবার এমন লোকও আছে যাহার নিকট একটি দীনারও আমানত রাখিলে তাহার পিছনে লাগিয়া না থাকিলে সে ফেরত দিবে না, ইহা এই কারণে যে, তাহারা বলে, ‘নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নাই’, এবং তাহারা জানিয়া - শুনিয়া সম্পর্কে মিথ্যা বলে।
অমিন্ আহ্লিল্ কিতা-বি মান্ ইন্ তামান্হু বিক্বিন্ত্বোয়া-রিইঁ ইয়ুআদ্দিহী য় ইলাইকা অমিন্হুম্ মান্ ইন্ তামান্হু বিদীনা- রিল্ লা-ইয়ুআদ্দিহী য় ইলাইকা ইল্লা- মা-দুম্তা 'আলাইহি ক্বা - য়িমা- যা-লিকা বিআন্নাহুম্ ক্বা-লূ লাইসা 'আলাইনা- ফিল্ উম্মিয়্যীনা সাবীলুন্ অইয়াকুলূনা 'আলাল্লা-হিল্ কাযিবা অহুম্ ইয়া'লামূন্।
আহলে কিতাবদের (ইহুদি খৃষ্টানদের) মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কাছে প্রচুর পরিমাণ সম্পদ আমানত রাখলেও সে তোমাকে ফেরত দেবে, আবার এমন লোকও আছে যার কাছে একটি দিনার আমানত রাখলেও তার পিছে লেগে না থাকলে সে ফেরত দেবেনা। এর কারণ হলো, তারা বলে: ‘উম্মিদের প্রতি আমাদের কোনো দায় দায়িত্ব নেই।’ তারা জেনে শুনেই আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা বলে।
হাঁ, কেহ তাহার অঙ্গীকার পূর্ণ করিলে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলিলে অবশ্যই মুত্তাকীদের ভালবাসেন।
বালা-মান্ আওফা- বি'আহ্দিহী অত্তাক্বা- ফাইন্নাল্লা-হা ইয়ুহিব্বুল্ মুত্তাক্বীন্।
হ্যাঁ, কেউ যদি তার অংগীকার পুরণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তারা জেনে রাখুক, মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।
যাহারা সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাহাদের কোন অংশ নাই। কিয়ামতের দিন তাহাদের সঙ্গে কথা বলিবেন না এবং তাহাদের দিকে চাহিবেন না এবং তাহাদেরকে পরিশুদ্ধ করিবেন না ; তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।
ইন্নাল্লাযীনা ইয়াশ্তারূনা বি'আহ্দিল্লা-হি অ আইমা-নিহিম্ ছামানান্ ক্বালীলান উলা - য়িকা লা-খালাক্বা লাহুম্ ফিল্ আ-খিরাতি অলা-ইয়ুকাল্লিমুহুমুল্লা-হু অলা-ইয়ান্জুরু ইলাইহিম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অলা-ইয়ুযাক্কীহিম্ অ লাহুম্ 'আযা-বুন্ আলীম্।
যারা বিক্রয় করে আল্লাহর সাথে করা অংগীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেনও না, আর তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
আর নিশ্চয়ই তাহাদের মধ্যে একদল লোক আছেই যাহারা কিতাবকে জিহ্বা দ্বারা বিকৃত করে যাহাতে তোমরা উহাকে আল্লাহর কিতাবের অংশ মনে কর; কিন্তু উহা কিতাবের অংশ নহে এবং তাহারা বলে, ‘উহা আল্লাহর পক্ষ হইতে’, কিন্তু উহা আল্লাহর পক্ষ হইতে প্রেরিত নহে।
অইন্না মিন্হুম্ লাফারীক্বাইঁ ইয়াল্য়ূনা আল্ সিনাতাহুম বিল্ কিতা-বি লিতাহ্সাবূহু মিনাল্ কিতা-বি অমা-হুঅ মিনাল্ কিতা-বি অইয়াকুলূনা হুঅ মিন্ 'ইনদিল্লা-হি অমা-হুঅ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি অইয়াকুলূনা 'আলাল্লা-হিল্ কাযিবা অ হুম্ ইয়া'লামূন্।
অবশ্যি তাদের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা আল্লাহর কিতাবকে জিহ্বা দিয়ে বিকৃত করে, যাতে করে তোমরা সেটাকে আল্লাহর কিতাবের অংশ মনে করো। অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে: ‘ওটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে।’ অথচ সেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। তারা জেনে বুঝে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলে।
কোন ব্যক্তিকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করিবার পর সে মানুষকে বলিবে, ‘আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা আমার দাস হইয়া যাও’, ইহা তাহার জন্য সঙ্গত নহে ; বরং সে বলিবে, ‘তোমরা রব্বানী হইয়া যাও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দান কর এবং যেহেতু তোমরা অধ্যয়ন কর।’
মা-কা-না লিবাশারিন্ আইঁ ইয়ুতিয়াহুল্লা-হুল্ কিতা-বা অল্ হুক্মা অ ন্নুবুওঁয়্যাতা ছুম্মা ইয়াকুলা লিন্না-সি কূনূ 'ইবাদা ল্লী মিন্ দূনিল্লা-হি অলা-কিন্ কূনূ রব্বা-নিয়্যীনা বিমা-কুন্তুম্ তু'আল্লিমূনাল্ কিতা-বা অবিমা-কুন্তুম্ তাদ্রুসূন্।
কোনো ব্যক্তির জন্যে এটা সংগত নয় যে, তাকে কিতাব, হিকমাহ ও নবুয়্যত দেবেন, অতপর সে মানুষকে বলবে: ‘তোমরা আল্লাহর বদলে আমার দাস হয়ে যাও।’ বরং সে বলবে: ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও।’ এর কারণ, তোমরা তো কিতাব শিক্ষাদান করতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।
ফিরিশ্তাগণকে ও নবীগণকে প্রতিপালকরূপে গ্রহণ করিতে সে তোমাদেরকে নির্দেশ দিতে পারে না। তোমাদের মুসলিম হওয়ার পর সে কি তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিবে?
অলা-ইয়ামুরাকুম্ আন্ তাত্তাখিযুল্ মালা - য়িকাতা অ ন্নাবিয়্যীনা র্আবা-বা- আইয়ামুরুকুম্ বিল্কুফ্রি বা'দা ইয্ আন্তুম্ মুসলিমূন্।
ফেরেশতা এবং নবীদেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ সে তোমাদের দিতে পারেনা। তোমরা মুসলিম হবার পর সে কি তোমাদের কুফুরির নির্দেশ দেবে?
স্মরণ কর, যখন আল্লাহর নবীদের অঙ্গীকার লইয়াছিলেন যে, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যাহা কিছু দিয়াছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যাহা আছে তাহার প্রত্যায়নকারীরূপে যখন একজন রাসূল আসিবে তখন তোমরা অবশ্যই তাহার প্রতি ঈমান আনিবে এবং তাহাকে সাহায্য করিবে।’ তিনি বলিবেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করিলে? এবং এই সম্পর্কে আমার অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করিলে?’ তাহারা বলিল, ‘আমরা স্বীকার করিলাম।’ তিনি বলিলেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সঙ্গে সাক্ষী রহিলাম।’
অইয্ আখাযাল্লা-হু মীছা-ক্বান নাবিয়্যীনা লামায় আ-তাইতুকুম্ মিন্ কিতা-বিওঁ অহিক্মাতিন্ ছুম্মা জ্বা - য়াকুম্ রাসূলুম্ মুছোয়াদ্দিক্ব ুল্ লিমা- মা'আকুম্ লাতুমিনুন্না বিহী অ লাতান্ছুরুন্নাহ্ ক্বা-লা আআক্বর্ ্রাতুম্ ওয়া আখায্তুম্ 'আলা- যা-লিকুম্ ইছ্রী ক্বা-লূ য় 'আক্বর্ ্রানা- ক্বা-লা ফাশ্হাদূ অ আনা মা'আকুম্ মিনাশ্ শা-হিদীন্।
স্মরণ করো, একথার উপর নবীদের অংগীকার নিয়েছিলেন যে: আমি তোমাদের যে কিতাব ও হিকমাহ্ দিয়েছি তোমরা তা গ্রহণ করো, তারপর তোমাদের কাছে একজন রসূল (মুহাম্মদ) আসবে, তোমাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে, তখন তোমরা অবশ্যি তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে।’তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এ ব্যাপারে আমার প্রতিশ্রুতি কি গ্রহণ করলে?’ তারা বলেছিল: ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ তিনি বললেন: ‘তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম।’
ইহার পর যাহারা মুখ ফিরাইবে তাহারাই সত্যপথত্যাগী।
ফামান্ তাওয়াল্লা-বা'দা যা-লিকা ফাউলা - য়িকা হুমুল্ ফা-সিকুন্।
এরপর যারা (প্রতিশ্রুতি থেকে) সরে যাবে, তারা ফাসিক (সত্যত্যাগী) বলে গণ্য হবে।
তাহারা কি চাহে দীনের পরিবর্তে অন্য দীন? যখন আকাশে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু রহিয়াছে সমস্তই স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তাঁহার নিকট আত্মসর্মপণ করিয়াছে! আর তাঁহার দিকেই তাহারা প্রত্যানীত হইবে।
আফাগাইরা দীনিল্লা-হি ইয়াব্গূনা অলাহূ য় আস্লামা মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি ত্বোয়াও'আওঁ অ কারহাওঁ অইলাইহি ইর্য়ুজ্বা'ঊন্।
তারা কি আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য দীন সন্ধান করছে? অথচ মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে সবাই ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করেছে। আর তাদের ফেরত নেয়া হবে তাঁরই কাছে।
বল, ‘আমরা আল্লাহতে এবং আমাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব ও তাহার বংশধরগণের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছিল এবং যাহা মূসা, ‘ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে যাহা প্রদান করা হইয়াছে তাহাতে ঈমান আনিয়াছি, আমরা তাহাদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না এবং আমরা তাঁহারই নিকট আত্মসর্মপণকারী।’
ক্ব ুল্ আ-মান্না- বিল্লা-হি অমায় উন্যিলা 'আলাইনা- অমায় উন্যিলা 'আলায়ইব্রা-হী-মা অ ইসমা-'ঈলা অ ইসহা-ক্বা অ ইয়া'কুবা অল্ আসবা-ত্বি অমায় ঊতিয়া মূসা- অ'ঈসা- অন্নাবিয়্যূনা র্মি রব্বিহিম্ লা-নুর্ফারিক্ব ু বাইনা আহাদিম্ মিন্হুম্ অনাহ্নু লাহূ মুসলিমূন্।
হে নবী বলো: ‘‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের প্রতি যা (যে কিতাব) নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের কাছে তার প্রতি, আর যা দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীদেরকে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তার প্রতিও। আমরা তাদের কারো মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য করিনা। আমরা আল্লাহর প্রতি মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)।’’
কেহ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন গ্রহণ করিতে চাহিলে তাহা কখনও কবূল করা হইবে না এবং সে হইবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
অমাইঁ ইয়াব্তাগি গাইরাল্ ইসলা-মি দীনান্ ফা লাইঁ ইয়ুক্ব ্বালা মিন্হু অহুঅ ফিল্ আ-খিরাতি মিনাল্ খা-সিরীন্।
যে কেউ ইসলাম ছাড়া কোনো দীন (ধর্ম, মতাদর্শ) গ্রহণ করতে চাইবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবেনা। আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন।
কিরূপে সৎপথে পরিচালিত করিবেন সেই সম্প্রদায়কে, যাহারা ঈমান আনয়নের পর ও রাসূলকে সত্য বলিয়া সাক্ষ্যদান করিবার পর এবং তাহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসিবার পর করে? সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
কাইফা ইয়াহ্দিল লা-হু ক্বাওমান্ কাফারূ বা'দা ঈমা-নিহিম্ অশাহিদূ য় আর্ন্না রাসূলা হাক্ব কাও অজ্বা - আহুমুল্ বাইয়্যিনাত অল্লা-হু লা- ইয়াহ্দিল্ ক্বাওমাজ্জোয়া-লিমীন্।
কেমন করে এমন লোকদের হিদায়াত করবেন, যারা ঈমান আনার পর, আল্লাহর রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনাদি আসার পরও কুফুরিতে নিমজ্জিত থাকে? যালিম লোকদের হিদায়াত করেন না।
ইহারাই তাহারা যাহাদের কর্মফল এই যে, তাহাদের উপর ফিরিশতাগণের এবং মানুষ সকলেরই লা‘নত।
উলা - য়িকা জ্বাযা - য়ুহুম্ আন্না 'আলাইহিম্ লা'নাতাল্লা-হি অল্মালা - য়িকাতি অন্না-সি আজ্ব ্মা'ঈন্।
আসলে এরা হলো সেইসব লোক যাদের উপর আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সমস্ত মানুষের লা’নত বর্ষিত হচ্ছে, এটাই তাদের কর্মের পরিণাম ফল।
তাহারা ইহাতে স্থায়ী হইবে, তাহাদের শাস্তি লঘু করা হইবে না এবং তাহাদেরকে অবকাশও দেওয়া হইবে না।
খা-লিদীনা ফীহা- লা-ইয়ুখাফ্ফাফু 'আন্হুমুল্ 'আযা-বু অলা-হুম্ ইয়ুন্জোয়ারূন্।
চিরকাল থাকবে তারা এরি মধ্যে, তাদের উপর থেকে আযাব হালকা করা হবেনা এবং তাদেরকে কোনো বিরতিও দেয়া হবেনা।
তবে ইহার পর যাহারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করিয়া নেয় তাহারা ব্যতিরেকে। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
ইল্লাল্লাযীনা তা-বূ মিম্ বা'দি যা-লিকা অআছ্লাহূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূর্রু রাহীম্।
তবে, এরপরও যারা তাওবা করবে এবং নিজেদের ইসলাহ (সংশোধন) করে নেবে, তারা জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াবান।
ঈমান আনার পর যাহারা করে এবং যাহাদের সত্য প্রত্যাখ্যান - প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পাইতে থাকে তাহাদের তওবা কখনও কবূল হইবে না। ইহারাই পথভ্রষ্ট।
ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ বা'দা ঈমা-নিহিম্ ছুম্মায্দা-দূ কুফ্রাল্লান্ তুক্ব ্বালা তাওবাতুহুম্ অউলা - য়িকা হুমুুদ্ব দ্বোয়া - ল্লূন্।
কিন্তু, যারা ঈমান আনার পর কুফুরিতে লিপ্ত হয়, তারপর তাদের কুফুরি বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাদের তওবা কখনো কবুল করা হবেনা। তারা চরম বিপথগামী।
যাহারা করে এবং কাফিররূপে যাহাদের মৃত্যু ঘটে তাহাদের কাহারও নিকট হইতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করিলেও তাহা কখনও কবূল করা হইবে না। ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে ; ইহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।
ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ অমা-তূ অহুম্ কুফ্ফা-রুন্ ফালাইঁ ইয়ুক্ব ্বালা মিন্ আহাদিহিম্ মিল্উল্ র্আদ্বি যাহাবাওঁ অলাওয়িফ্ তাদা-বিহ্ উলা - য়িকা লাহুম্ 'আযা-বুন্ আলীমুওঁ অমা-লাহুম্ মিন্ না-ছিরীন্।
যারা কুফুরি করে এবং অবস্থায়ই তাদের মৃত্যু হয়, কিছুতেই তাদের কারো (তওবা) কবুল করা হবেনা, এর বিনিময়ে পূর্ণ পৃথিবী সমান সোনা মুক্তিপণ হিসেবে দিলেও নয়। এদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা।
তোমরা যাহা ভালবাস তাহা হইতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করিবে না।
লান্ তানা-লুল্ র্বিরা হাত্তা- তুন্ফিকূ মিম্মা- তুহিব্বূন্ অমা-তুন্ফিকু মিন্ শাইয়িন্ ফাইন্নাল্লা-হা বিহী 'আলীম্।
তোমাদের ভালোবাসার সম্পদ থেকে ব্যয় (দান) না করলে তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবেনা। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো সে বিষয়ে বিশেষভাবে অবহিত।
তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল নিজের জন্য যাহা হারাম করিয়াছিল তাহা ব্যতীত বনী ইস্রাঈলের জন্য যাবতীয় খাদ্যই হালাল ছিল। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর।’
কুল্ল ুত্ত্বোয়া'আ-মি কা-না হিল্লাল্ লিবানী য় ইসরা - য়ীলা ইল্লা-মা-র্হারামা ইস্রা - য়ীলু 'আলা- নাফ্সিহী- মিন্ ক্বাব্লি আন্ তুনায্যালাত্ তাওরা-হ্ কুল্ ফাতূ বিত্তাওরা-তি ফাত্লূহা য় ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দ্বিকীন্।
তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে বনি ইসরাঈলের জন্যে প্রতিটি খাবারই হালাল ছিলো, তবে ইসরাঈল (ইয়াকুব) নিজের জন্যে যা হারাম করে নিয়েছিল সেটা ভিন্ন বিষয়। (হে নবী!) বলো: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা তিলাওয়াত করে দেখো।’
ইহার পরও যাহারা সম্পর্কে মিথ্যা সৃষ্টি করে তাহরাই ।
ফামানিফ্ তারা 'আলাল্লা-হিল্ কাযিবা মিম্ বা'দি যা-লিকা ফাউলা - য়িকা হুমুজ্জোয়া-লিমূন্।
এর পরও যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করবে, তারা যালিম।
বল, সত্য বলিয়াছেন। সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠ ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর, সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নহে।’
ক্ব ুল্ ছদাক্বাল্লা-হু ফাত্তাবিউ' মিল্লাতা ইব্রা-হীমা হানীফা- অমা- কা-না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।
হে নবী! বলো: সত্য বলেছেন, সুতরাং তোমরা নিষ্ঠাবান ইবরাহিমের মিল্লাতের অনুসরণ করো। সে মুশরিক ছিলনা।
নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল তাহা তো বাক্কায়, উহা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী।
ইন্না আওওয়ালা বাইতিওঁ উদ্বি'আ লিন্না-সি লাল্লাযী বিবাক্কাতা মুবা- রাকাওঁ অ হুদাল্লিল্'আ-লামীন্।
জেনে রাখো, মানবজাতির জন্যে প্রথম যে ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি বাক্কায় (মক্কায়)। সেটি একটি মুবারক (কল্যাণময়) ঘর এবং বিশ্ববাসীর জন্যে দিশারি।
উহাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইব্রাহীম। আর যে কেহ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যাহার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জকরা তাহার অবশ্যকর্তব্য। এবং কেহ প্রত্যাখ্যান করিলে সে জানিয়া রাখুক, নিশ্চয়ই বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।
ফীহি আ-ইয়া-তুম্ বাইয়্যিনা-তুম্ মাক্বা-মু ইব্রা-হীমা অমান্ দাখালাহূ কা-না আ-মিনা- অলিল্লা-হি 'আলান্না-সি হিজ্বজ্ব ুল্ বাইতি মানিস্ তাত্বোয়া-'আ ইলাইহি সাবীলা- অমান্ কাফারা ফাইন্নাল্লা-হা গানিয়্যুন্ 'আনিল্ 'আ-লামীন্।
তাতে রয়েছে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন। তম্মধ্যে একটি হলো ‘মাকামে ইবরাহিম।’ যে কেউ সে ঘরে দাখিল হবে সে নিরাপদ। যে কোনো ব্যক্তির (পথ পাড়ি দিয়ে) সেখানে পৌঁছার সামর্থ আছে, সে ঘরে আল্লাহর জন্যে হজ্জ করা তার কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে, সে জেনে রাখুক, বিশ্ববাসী থেকে মুখাপেক্ষাহীন।
বল, ‘হে কিতাবীগণ ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনকে কেন প্রত্যাখ্যান কর? তোমরা যাহা কর উহার সাক্ষী’।
ক্ব ুল্ ইয়া য় আহ্লাল্ কিতা-বি লিমা তাক্ফুরূনা বিআ-ইয়া তিল্লা-হি অ ল্লা-হু শাহীদুন্ 'আলা- মা- তা'মালূন্।
(হে নবী!) বলো: ‘হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন কুফুরি করছো আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি? অথচ তোমাদের কর্মকান্ডের সাক্ষী।’
বল, ‘হে কিতাবীগণ! যে ব্যক্তি ঈমান আনিয়াছে তাহাকে কেন আল্লাহর পথে বাধা দিতেছ, উহাতে বক্রতা অন্বেষণ করিয়া? অথচ তোমরা সাক্ষী। তোমরা যাহা কর, সে সম্বন্ধে অনবহিত নন।’
ক্ব ুল্ ইয়া য় আহ্লাল্ কিতা-বি লিমা তাছুদ্দূনা আন্ সাবীলিল্লা-হি মান্ আ-মানা তাবগূনাহা- 'ইঅজ্বাওঁ অআন্তুম্ শুহাদা - উ অমাল্লা-হু বিগা-ফিলিন্ 'আম্মা-তা'মালূন্।
(হে নবী!) বলো: ‘হে আহলে কিতাব! তোমরা বক্রতা সন্ধান করে কেন ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিচ্ছো, যে ঈমান এনেছে? অথচ তোমরা (তার সত্যতার) সাক্ষী। তোমাদের কর্মকান্ড থেকে গাফিল নন।
হে মু’মিনগণ ! যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তোমরা যদি তাহাদের দলবিশেষের আনুগত্য কর, তবে তাহারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার বানাইয়া ছাড়িবে।
ইয়া য় আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানূ য় ইন্ তুত্বী'ঊ ফারীক্বাম্ মিনাল্লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা ইয়ারুদ্দূকুম্ বা'দা ঈমা-নিকুম্ কা-ফিরীন্।
হে লোকেরা! যাদের ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল তোমরা যদি তাদের একটি দলেরও আনুগত্য করো, তারা তোমাদের ঈমানের পথ থেকে বিচ্যুত করে বানিয়ে ছাড়বে।
কিরূপে তোমরা সত্য প্রত্যাখ্যান করিবে যখন আল্লাহর আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট পঠিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে তাঁহার রাসূল রহিয়াছে? কেহ আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করিলে সে অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত হইবে।
অকাইফা তাক্ফুরূনা অআন্তুম্ তুত্লা- 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তুল্লা-হি অফীকুম্ রাসূূলুহ্ অমাইঁ ইয়া'তাছিম্ বিল্লা-হি ফাক্বাদ্ হুদিয়া ইলা- ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্
কী করে তোমরা কুফুরিতে নিমজ্জিত হতে পারো, যখন তোমাদের প্রতি আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের মাঝে বর্তমান রয়েছে আল্লাহর রসূল? যে শক্ত করে ধরবে আল্লাহকে, তাকে অবশ্যি পরিচালিত করা হবে সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসর্মপণকারী না হইয়া কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিও না।
ইয়া য় আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানুত্ তাকুল্লা-হা হাক্ব ্ক্বা তুক্বা- তিহী অলা-তামূতুন্না ইল্লা-অআন্তুম্ মুস্লিমূন্।
হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তাঁকে ভয় করার হক আদায় করে এবং মুসলিম (আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মরোনা।
তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর : তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তাঁহার অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হইয়া গেলে। তোমরা তো অগ্নিকুন্ডর প্রান্তে ছিলে, উহা হইতে তোমাদের রক্ষা করিয়াছেন। এইরূপে তোমাদের জন্য তাঁহার নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত করেন যাহাতে তোমরা সৎপথ পাইতে পার।
অ'তাছিমূ বিহাব্লিল্লা-হি জ্বামীআওঁ অলা- তার্ফারাকু অয্কুরূ নি'মাতাল্লা-হি 'আলাইকুম্ ইয্ কুন্তুম্ আ'দা - য়ান্ ফাআল্লাফা বাইনা ক্ব ুলূবিকুম্ ফাআছ্বাহ্তুম্ বিনি'মাতিহী য় ইখওয়া-নান্ অকুন্তুম্ 'আলা- শাফা- হুফ্রাতিম্ মিনান্না-রি ফায়ানক্বাযাকুম্ মিন্হা- কাযা-লিকা ইয়ুবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুম্ আ-ইয়া-তিহী লা'আল্লাকুম্ তাহ্তাদূন্।
তোমরা সবাই মিলে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআনকে) এবং বিচ্ছিন্ন - ভাগ ভাগ হয়ে থেকোনা। স্মরণ করো তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা! তোমরা ছিলে পরস্পরের দুশমন, আর তিনিই তোমাদের অন্তরে তোমাদের পরস্পরের জন্যে সম্প্রীতি সঞ্চার করে দিয়েছেন। ফলে তোমরা তাঁরই অনুগ্রহে পরস্পরের ভাই হয়ে গিয়েছো। (আরো স্মরণ করো,) তোমরা ছিলে অগ্নিকুন্ডের কিনারে, তারপর সেখান থেকেও তিনিই তোমাদের রক্ষা করেছেন। এভাবেই তোমাদের জন্যে বয়ান করেন তাঁর আয়াত, যাতে করে তোমরা পরিচালিত হও হিদায়াতের পথে।
তোমাদের মধ্যে এমন একদল হউক যাহারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করিবে এবং সৎকর্মের নির্দেশ দিবে ও অসৎকর্মে নিষেধ করিবে; ইহারাই ।
অল্ তাকুম্ মিন্কুম্ উম্মাতুইঁ ইয়াদ্'ঊনা ইলাল্ খাইরি অ ইয়ামুরূনা বিল্মা'রূফি অ ইয়ান্হাওনা 'আনিল্ মুর্ন্কা অ উলা - য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
তোমাদের মধ্যে অবশ্যি এমন একদল লোক থাকা উচিত, যারা (মানুষকে) আহবান করবে কল্যাণের দিকে, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং নিষেধ করবে মন্দ কাজ থেকে। আর তারাই হবে ।
তোমরা তাহাদের মত হইও না যাহারা তাহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসিবার পর বিচ্ছিন্ন হইয়াছে ও নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করিয়াছে। তাহাদের জন্য মহাশাস্তি রহিয়াছে।
অলা-তাকূনূ কাল্লাযীনা তার্ফারাকু অখ্তালাফূ মিম্ বা'দি মা-জ্বা - য়াহুমুল্ বাইয়্যিনা-ত্' অউলা - য়িকা লাহুম্ 'আযা-বুন্ 'আজীম্।
তোমরা ওদের মতো হয়োনা, যাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং লিপ্ত হয়েছিল ইখতিলাফে। এরা হলো সেইসব লোক যাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।
সেদিন কতক মুখ উজ্জ্বল হইবে এবং কতক মুখ কাল হইবে; যাহাদের মুখ কাল হইবে তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘ঈমান আনয়নের পর কি তোমরা করিয়াছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা করিতে।’
ইয়াওমা তাব্ইয়াদ্ব্দ্ব ু উজ্ব ূহুওঁ অতাস্ওয়াদ্দু উজ্ব ূহুন্ ফাআম্মাল্ লাযী নাস্ ওয়াদ্দাত্ উজুহুহুম্ আকার্ফাতুম্ বা'দা ঈমা-নিকুম্ ফাযূক্ব ুল্ 'আযা-বা বিমা-কুন্তুম্ তাক্ফুরূন্।
সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল আর কিছু চেহারা হবে কালো। যাদের চেহারা হবে কালো, তাদের বলা হবে: ‘তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফুরিতে লিপ্ত হয়েছিলে? সুতরাং তোমাদের কুফুরির কারণে স্বাদ গ্রহণ করো আযাবের।’
আর যাহাদের মুখ উজ্জ্বল হইবে তাহারা আল্লাহর অনুগ্রহে থাকিবে, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।
অআম্মাল্ লাযীনাব্ ইয়াদ্ব্ দ্বোয়াত্ উজ্ব ূহুহুম্ ফাফী রাহ্মাতিল্লা-হ্ হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।
পক্ষান্তরে যাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল, তারা থাকবে আল্লাহর রহমতের (জান্নাতের) মধ্যে। সেখানে থাকবে তারা চির
এইগুলি আল্লাহর আয়াত, তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করিতেছি। বিশ্বজগতের প্রতি জুলুম করিতে চান না।
তিল্কা আ-ইয়া-তুল্লা-হি নাত্লূহা- 'আলাইকা বিল্হাক্ব ্ অমাল্লা-হু ইয়ুরীদু জুল্মাল্ লিল্'আ-লামীন্।
এগুলো আল্লাহর আয়াত, আমরা তোমার প্রতি তিলাওয়াত করছি, যা মহাসত্য। বিশ্ববাসীর প্রতি যুলুম করতে চান না।
আসমানে যাহা কিছু আছে ও যমীনে যাহা কিছু আছে সব আল্লাহরই; আল্লাহর নিকটই সব কিছু প্রত্যানীত হইবে।
অলিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ আরদ্ব ্ অ ইলাল্লা-হি র্তুজ্বাউ'ল্ উর্মূ।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, আর আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে সব বিষয়।
তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হইয়াছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান কর, অসৎকাজে নিষেধ কর এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস কর। কিতাবীগণ যদি ঈমান আনিত তবে তাহাদের জন্য ভাল হইত। তাহাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক আছে; কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ সত্যত্যাগী।
কুন্তুম্ খাইরা উম্মাতিন্ উখ্রিজ্বাত্ লিন্না-সি তামুরূনা বিল্মা'রূ ফি অতান্হাওনা 'আনিল্ মুন্কারি অতুমিনূনা বিল্লা-হ্ অলাও আ-মানা আহ্লুল্ কিতা-বি লাকা-না খাইরাল্লাহুম্ মিন্হুমুল্ মুমিনূনা অ আক্ছারুহুমুল্ ফা-সিকুন্।
তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির (কল্যাণের) উদ্দেশ্যে। (তোমাদের দায়িত্ব হলো:) তোমরা ভালো কাজের আদেশ করবে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা রাখবে। আহলে কিতাব যদি ঈমান আনে তবে সেটা হবে তাদের জন্যে কল্যাণকর। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আছে বটে, তবে তাদের অধিকাংশই ফাসিক (সত্য বিচ্যুত, সীমালংঘনকারী)।
সামান্য ক্লেশ দেওয়া ছাড়া তাহারা তোমাদের কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। যদি তাহারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তবে তাহারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে; অতঃপর তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে না।
লাইঁ ইয়ার্দ্বুরূকুম্ ইল্লা য় আযান্ অইঁ ইয়ুক্বা-তিলূকুম্ ইয়ুঅল্লূকুমুল্ আদ্বা-রা ছুম্মা লা-ইয়ুনছোয়ারূন্।
তারা কখনো তোমাদের ক্ষতি করতে পারবেনা, তবে (সাময়িক) কিছু কষ্ট দিতে পারবে মাত্র। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে পিছে ফিরে পালাবে। তারপর তারা আর সাহায্য লাভ করবেনা।
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতির বাহিরে যেখানেই তাহাদের পাওয়া গিয়াছে সেখানেই তাহারা লাঞ্ছিত হইয়াছে। তাহারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হইয়াছে এবং হীনতাগ্রস্তহইয়াছে। ইহা এইহেতু যে, তাহারা আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করিত এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করিত; ইহা এইজন্য যে, তাহারা অবাধ্য হইয়াছিল এবং সীমালংঘন করিত।
দ্ব ুরিবাত্ 'আলাইহিমুয্ যিল্লাতু আইনা মা-ছুক্বিফূ য় ইল্লা-বিহাব্লিম্ মিনাল্লা-হি অহাব্লিম্ মিনান্ না-সি অবা - ঊ বিগাদ্বোয়াবিম্ মিনাল্লা-হি অদ্বুরিবাত্ 'আলাইহিমুল্ মাস্কানাহ্ যা-লিকা বিআন্নাহুম্ কা-নূ ইয়াক্ফুরূনা বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি অইয়াক্ব ্তুলূনাল্ আম্বিয়া - য়া বিগাইরি হাক্ব ্ যা-লিকা বিমা-'আছোয়াও অ কা-নূ ইয়া'তাদূন্।
আল্লাহর প্রতিশ্রুতির বাইরে এবং মানুষের প্রতিশ্রুতির বাইরে যেখানেই তাদের পাওয়া গেছে, তারা লাঞ্ছিত হয়েছে। তারা আল্লাহর গজব কামাই করেছে এবং তাদের গ্রাস করেছে হীনতা ও দীনতা। এর কারণ তারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি কুফুরি করে আসছিল এবং হত্যা করে আসছিল আল্লাহর নবীদের না হকভাবে। তাছাড়া তারা অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করছিল এবং সীমালংঘন করে আসছিল।
তাহারা সকলে এক রকম নয়। কিতাবীদের মধ্যে অবিচলিত একদল আছে ; তাহারা রাত্রিকালে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং সিজদা করে।
লাইসূ সাওয়া - আন্ মিন্ আহ্লিল্ কিতা-বি উম্মাতুন্ ক্বা - য়িমাতুইঁ ইয়াত্লূনা আ-ইয়া-তিল্লা-হি আ-না - য়াল্ লাইলি অহুম্ ইয়াস্জ্ব ুদূন্।
তাদের সবার অবস্থা এক রকম নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে একদল লোক (সত্যের উপর) কায়েম আছে, যারা রাতে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করে এবং সাজদারত থাকে।
তাহারা এবং শেষ দিনে বিশ্বাস করে, সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং তাহারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে। তাহারাই সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।
ইয়ুমিনূনা বিল্লা-হি অল্ ইয়াওমিল্ আ-খিরি অইয়া”মুরূনা বিল্মা'রূফি অইয়ান্হাওনা 'আনিল্ মুন্কারি অইয়ুসা-রি'ঊনা ফিল্ খাইরা-ত্ অউলা - য়িকা মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।
তারা ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং তারা ভালো কাজের আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে এবং মানব কল্যাণে তৎপর থাকে। এরা সালেহ্ লোকদের অন্তরভুক্ত।
উত্তম কাজের যাহা কিছু তাহারা করে তাহা হইতে তাহাদের কখনও বঞ্চিত করা হইবে না। মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
অমা- ইয়াফ্'আলূ মিন্ খাইরিন্ ফালাইঁ ইয়ুক্ফারূহ্ অল্লা-হু 'আলীমুম্ বিল্মুত্তাক্বীন্।
তারা ভালো কাজ যা কিছুই করে তার প্রতিদান থেকে তাদের কখনো বঞ্চিত করা হবেনা। মুত্তাকিদের ব্যাপারে ভালোভাবে জানেন।
যাহারা করে তাহাদের ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি আল্লাহর নিকট কখনও কোন কাজে আসিবে না। তাহারাই দোজখবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।
ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ লান্ তুগ্নিয়া 'আন্হুম্ আমওয়া-লুহুম্ অলা য় আওলা-দুহুম্ মিনাল্লা-হি শাইয়া- অউলা - য়িকা আছ্হা-বুন্না-রি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন।
যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে তাদের মাল - সম্পদ এবং আওলাদ ফরযন্দ আল্লাহর কাছে (তাদের) কোনোই কাজে আসবেনা। তারা হবে আগুনের অধিবাসী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।
এই পার্থিব জীবনে যাহা তাহারা ব্যয় করে তাহার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বায়ু, উহা যে জাতি নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছে তাহাদের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে ও বিনষ্ট করে। আল্লাহর তাহাদের প্রতি কোন জুলুম করেন নাই, তাহারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।
মাছালু মা- ইয়ুন্ফিকুনা ফী হা-যিহিল্ হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-কামাছালি রীহিন্ ফীহা-র্ছিরুন্ আছোয়া-বাত্ র্হাছা ক্বাওমিন্ জোয়ালামূ য় আন্ফুসাহুম্ ফাআহ্লাকাত্হু অমা-জোয়ালামাহুমুল্লা-হু অলা-কিন্ আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।
তারা দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে তার উপমা হলো চরম ঠান্ডা বায়ু। তা ঐ লোকদের ফসলের উপর দিয়ে বয়ে গেলো এবং তা ধ্বংস করে রেখে গেলো যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে। তাদের প্রতি যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।
হে মু’মিনগণ ! তোমাদের আপনজন ব্যতীত অপর কাহাকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না। তাহারা তোমাদের অনিষ্ট করিতে ত্রুটি করিবে না ; যাহা তোমাদের বিপন্ন করে তাহাই তাহারা কামনা করে। তাহাদের মুখে বিদ্বেষ প্রকাশ পায় এবং তাহাদের হৃদয় যাহা গোপন রাখে তাহা আরও গুরুতর। তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করিয়াছি, যদি তোমরা অনুধাবন কর।
ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাত্তাখিযূ বিত্বোয়া-নাতাম্ মিন্ দূনিকুম্ লা- ইয়ালূনাকুম্ খাবা-লা- অদ্দূ মা-'আনিত্তুম্ ক্বাদ্ বাদাতিল্ বাগ্দ্বোয়া - উ মিন্ আফ্ওয়া-হিহিম্ অমা-তুখ্ফী ছুদূরুহুম্ আর্ক্বা ক্বাদ্ বাইয়্যান্না-লাকুমুল্ আ-ইয়া-তি ইন্ কুন্তুম্ তা'ক্বিলূন্।
হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা তোমাদের ক্ষতি করতে ত্রুটি করবেনা। তারা তাই কামনা করে যা তোমাদের কষ্ট দেয়। তাদের মুখ থেকে বিদ্বেষ প্রকাশ হয়েছে, আর তারা মনের মধ্যে যা লুকিয়ে রেখেছে তা এর চাইতেও গুরুতর। আমরা তোমাদের জন্যে আয়াত সমূহ বর্ণনা করলাম যাতে করে তোমরা বুঝতে পারো।
দেখ, তোমরাই তাহাদের ভালবাস কিন্তু তাহারা তোমাদের ভালবাসে না অথচ তোমরা সমস্ত কিতাবে ঈমান রাখ আর তাহারা যখন তোমাদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা বিশ্বাস করি ; কিন্তু তাহারা যখন একান্তেমিলিত হয় তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশে তাহারা নিজেদের অঙ্গুলির অগ্রভাগ দাঁতে কাটিয়া থাকে। বল, ‘তোমাদের আক্রোশেই তোমরা মর।’ অন্তরে যাহা রহিয়াছে সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
হা য় আন্তুম্ ঊলা - য়ি তুহিবূনাহুম্ অলা-ইয়ুহিব্বূনাকুম্ অতুমিনূনা বিল্কিতা-বি কুল্লিহী অইযা- লাকুকুম্ ক্বা-লূ য় আ-মান্না- অইযা- খালাও আদ্ব ্দ্ব ূ 'আলাইকুমুল্ আনা- মিলা মিনাল্ গাইজ্ ক্ব ুল্ মূতূ বিগাইজিকুম্ ইন্নাল্লা-হা আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।
হ্যাঁ, তোমরা তাদের ভালোবাসো বটে, কিন্তু তারা তোমাদের ভালোবাসেনা। তাছাড়া তোমরা তো সবগুলো (আসমানি) কিতাবের প্রতিই ঈমান রাখো। তারা যখন তোমাদের সাথে মোলাকাত করে তখন বলে: আমরা তো ঈমান এনেছি, কিন্তু যখন তারা (নিজেরা) একান্তে মিলিত হয়, তখন তোমাদের বিরুদ্ধে আক্রোশে নিজেদের আংগুল কামড়ায়। তাদের বলো: ‘তোমাদের ক্রোধের আগুনে তোমরা জ্বলে পুড়ে মরো।’ অবশ্যি (মানুষের) মনের খবর অবহিত।
তোমাদের মঙ্গল হইলে উহা তাহাদেরকে কষ্ট দেয় আর তোমাদের অমঙ্গল হইলে তাহারা উহাতে আনন্দিত হয়। তোমরা যদি ধৈর্যশীল হও এবং হও তবে তাহাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছুই ক্ষতি করিতে পারিবে না। তাহারা যাহা করে নিশ্চয়ই তাহা পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছেন।
ইন্ তাম্সাস্্কুম্ হাসানাতুন্ তাসুহুম্ অইন্ তুছিব্কুম্ সাইয়্যিয়াতুইঁ ইয়াফ্রাহূ বিহা- অইন্ তাছ্বিরূ অতাত্তাকু লা-ইয়াদ্বর্ ুরুকুম্ কাইদুহুম্ শাইয়া- ইন্নাল্লা-হা বিমা- ইয়া'মালূনা মুহীত্ব ্।
তোমাদের ভালো কিছু হলে তা তাদের মনে কষ্ট দেয়, আর তোমাদের মন্দ কিছু হলে তা তাদের আনন্দিত করে। হ্যাঁ, তোমরা যদি সবর অবলম্বন করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। তাদের কর্মকান্ড পরিবেষ্টন করে আছেন।
স্মরণ কর, যখন তুমি তোমার পরিজনবর্গের নিকট হইতে প্রত্যূষে বাহির হইয়া যুদ্ধের জন্য মু’মিনগণকে ঘাঁটিতে বিন্যস্ত করিতেছিলে এবং সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
অইয্ গাদাওতা মিন্ আহ্লিকা তুবাও ওয়িউল্ মুমিনীনা মাক্বা-'ইদা লিল্ক্বিতা-ল্ অল্লা-হু সামী'উন্ 'আলীম্।
স্মরণ করো , তুমি ভোর বেলা তোমার পরিবার পরিজনের কাছ থেকে বের হয়ে যুদ্ধের জন্যে ঘাটিতে মুমিনদের বিন্যাস করছিলে। সব শুনেন, সব জানেন।
যখন তোমাদের মধ্যে দুই দলের সাহস হারাইবার উপক্রমহইয়াছিল অথচ উভয়ের বন্ধু ছিলেন, আল্লাহর প্রতিই যেন মু’মিনগণ নির্ভর করে।
ইয্ হাম্মাত্ত্বোয়া - য়িফাতা-নি মিন্কুম্ আন্ তাফ্শালা-অল্লা-হু অলিয়্যুহুমা- অ'আলাল্লা-হি ফাল্ইয়াতাওয়াক্কালিল মুমিনূন্।
তখন তোমাদের মধ্যকার দুটি উপদল সাহস হারিয়ে ফেলেছিল, অথচ তাদের অলি (অভিভাবক) ছিলেন , আর মুমিনরা তো তাওয়াক্কুল করে আল্লাহর উপরই।
আর বদরের যুদ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে তো তোমাদের সাহায্য করিয়াছিলেন। সুতরাং তোমরা কে ভয় কর, যাহাতে তোমরাই কৃতজ্ঞ হইতে পার।
অ লাক্বাদ্ নাছোয়ারাকুমুল্লা-হু বিবাদ্রিওঁ অআন্তুম্ আযিল্লাহ্ ফাত্তাক্ব ুল্লা-হা লা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।
এই তো বদর (প্রান্তরেই তো) তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, যখন তোমরা ছিলে দুর্বল। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা শোকর আদায় করতে পারো।
স্মরণ কর, যখন তুমি মু’মিনগণকে বলিতেছিলে, ‘ইহা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক - প্রেরিত তিন সহস্র ফিরিশ্তা দ্বারা তোমাদেরকে সহায়তা করিবেন?’
ইয্ তা 'কুলু লিল্মুমিনীনা আলাইঁ ইয়াক্ফিয়াকুম্ আই ঁইয়ুমিদ্দাকুম্ রব্বুকুম্ বিছালা-ছাতি আ-লা-ফিম্ মিনাল্ মালা - য়িকাতি মুন্যালীন্।
স্মরণ করো, তখন তুমি মুমিনদের বলছিলে: এটা কি তোমাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রভু তিন হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন?
হ্যাঁ, নিশ্চয়, যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং সাবধান হইয়া চল, তবে তাহারা দ্রুতগতিতে তোমাদের উপর আক্রমণ করিলে পাঁচ সহস্র চিহ্নিত ফিরিশ্তা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করিবেন।
বালা য় ইন্ তাছ্বিরূ অতাত্তাকু অ ইয়াতূকুম্ মিন্ ফাওরিহিম্ হা-যা- ইয়ুম্দিদ্কুম্ রব্বুকুম্ বিখাম্সাতি আ-লা-ফিম্ মিনাল্ মালা - য়িকাতি মুসাওয়্যিমীন্।
হ্যাঁ, তোমরা যদি সবর করো (অটল থাকো) এবং সতর্ক থাকো, তবে তারা আকস্মিক তোমাদের উপর হামলা করলে পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।
ইহা তো তোমাদের জন্য শুধু সুসংবাদ ও তোমাদের চিত্ত - প্রশান্তির জন্য করিয়াছেন এবং সাহায্য তো শুধু পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হইতেই হয়,
অমা-জ্বা'আলাহুল্লা-হু ইল্লা-বুশ্রা- লাকুম্ অলিতাত্ব্মায়িন্না ক্ব ুলূবুকুম্ বিহ্ অমান্ নাছ্রু ইল্লা-মিন্ 'ইন্দিল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।
এ ব্যবস্থা করেছেন কেবল তোমাদের জন্যে সুসংবাদ হিসেবে এবং তোমাদের মনের প্রশান্তির জন্যে। সাহায্য তো কেবল মহাপরাক্রমশালী ও মহাবিজ্ঞানী আল্লাহর কাছ থেকেই আসে,
কাফিরদের এক অংশকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য অথবা লাঞ্ছিত করার জন্য; ফলে তাহারা নিরাশ হইয়া ফিরিয়া যায়।
লিইয়াক্বত্বোয়া'আ ত্বোয়ারাফাম্ মিনাল্লাযীনা কাফারূ য় আও ইয়াক্বিতাহুম্ ফাইয়ান্ক্বালিবূ খা-য়িবীন্।
কাফিরদের এক অংশকে নিশ্চিহ্ন কিংবা লাঞ্ছিত করার জন্যে, যাতে করে তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
তিনি তাহাদের প্রতি ক্ষমাশীল হইবেন অথবা তাহাদেরকে শাস্তি দিবেন - এই বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নাই ; কারণ তাহারা তো ।
লাইসা লাকা মিনাল্ আম্রি শাইয়ুন্ আও ইয়াতূবা 'আলাইহিম্ আও ইয়ু'আয্যিবাহুম্ ফাইন্নাহুম্ জোয়া-লিমূন্।
এ ব্যাপারে তোমার কিছুমাত্র কর্তৃত্ব নেই তাদের ক্ষমা করুন কিংবা শাস্তি প্রদান করুন, কারণ তারা যালিম।
আসমানে যাহা কিছু আছে ও যমীনে যাহা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই তিনি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি দান করেন। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
অলিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ আরদ্ব্ ইয়াগ্ফিরু লিমাইঁ ইয়াশা-উ অইয়ু'আয্যিবু মাইঁ ইয়াশা-উ অল্লা-হু গাফূর্রু রাহীম্।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন এবং যাকে চান শাস্তি দিয়ে থাকেন। পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
হে মু’মিনগণ ! তোমরা সুদ খাইও না ক্রমবর্ধমান এবং কে ভয় কর যাহাতে তোমরা হইতে পার।
ইয়া য় আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাকুর্লু রিবা য় আদ্ব্'আ-ফাম্ মুদ্বোয়া-'আফাতাওঁ অত্তাক্ব ুল্লা-হা লা'আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।
হে লোকেরা! তোমরা সুদ খেয়োনা ক্রমবর্ধমান হারে। আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা হবে।
এবং তোমরা সেই অগ্নিকে ভয় কর যাহা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হইয়াছে।
অত্তাক্ব ুন্ না-রাল্ লাতী য় উ'ইদ্দাত্ লিল্কা-ফিরীন্।
তোমরা ভয় করো সেই আগুনকে যা তৈরি করে রাখা হয়েছে কাফিরদের জন্যে।
তোমরা ও রাসূলের আনুগত্য কর যাহাতে তোমরা কৃপা লাভ করিতে পার।
অআত্বী'উল্লা-হা র্অরাসূলা লা'আল্লাকুম্ র্তুহামূন্।
তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং এই রসূলের, অবশ্যি তোমাদের রহম (অনুকম্পা) করা হবে।
তোমরা ধাবমান হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যাহার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়, যাহা প্রস্তুত রাখা হইয়াছে মুত্তাকীদের জন্য,
অসা-রি'ঊ য় ইলা- মাগ্ফিরাতিম্ র্মি রব্বিকুম্ অজ্বান্নাতিন্ 'র্আদ্ব ুহাস্ সামা-ওয়া-তু অল্ র্আদু উ'ইদ্দাত্ লিল্মুত্তাক্বীন্।
তোমরা দৌড়ে এসো তোমাদের প্রভুর ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যার প্রশস্ততা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মতো। তা প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্যে,
যাহারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যাহারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; সৎকর্ম পরায়ণদেরকে ভালবাসেন;
আল্লাযীনা ইয়ুন্ফিকুনা ফিস্ র্সারা - য়ি অদ্দে¦ার্য়ারা - য়ি অল্কা-জিমীনাল্ গাইজোয়া অল্ 'আ-ফীনা 'আনিন্ না-সি অল্লা-হু ইয়ুহিব্বুল্ মুহ্সিনীন্।
যারা ব্যয় (দান) করে সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায়, যারা রাগ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল - কোমল। আর তো কল্যাণকামীদেরই ভালোবাসেন,
এবং যাহারা কোন অশ্লীল কাজ করিয়া ফেলিলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করিলে কে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ব্যতীত কে পাপ ক্ষমা করিবে? এবং তাহারা যাহা করিয়া ফেলে, জানিয়া - শুনিয়া তাহার পুনরাবৃত্তি করে না।
অল্লাযীনা ইযা-ফা'আলূ ফা-হিশাতান্ আও জোয়ালামূ য় আন্ফুসাহুম্ যাকারুল্লা-হা ফাস্তাগ্ফারূ লিযুনূবিহিম্ অমাইঁ ইয়াগ্ফিরুয্ যুনূবা ইল্লাল্লা-হ্ অলাম্ ইয়ুর্ছিরূ 'আলা-মা-ফা'আলূ অহুম্ ইয়া'লামূন্।
এবং তারা যখনই কোনো ফাহেশা কাজ করে ফেলে, কিংবা নিজেদের প্রতি যুলুম করে বসে, সাথে সাথে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর ছাড়া কে আছে গুনাহ্ মাফ করার? এবং তারা যা করে ফেলেছে জেনে শুনে পুনরায় আর তাতে লিপ্ত হয়না।
উহারাই তাহারা, যাহাদের পুরস্কার তাহাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত ; সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম!
উলা - য়িকা জ্বাযা - উহুম্ মাগ্ফিরাতুম্ র্মি রব্বিহিম্ অজ্বান্না-তুন্ তাজ্ব্রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খা-লিদীনা ফীহা- অনি'মা আজ্ব ্রুল্ 'আ-মিলীন্।
এরা সেইসব লোক, যাদের পুরস্কার তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা, আর সেইসব জান্নাত যেগুলোর নিচে দিয়ে জারি রয়েছে নদ নদী নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। পুণ্য আমলকারীদের পুরস্কার কতোইনা উত্তম!
তোমাদের পূর্বে বহু বিধান - ব্যবস্থা গত হইয়াছে, সুতরাং তোমরা পৃথিবী ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যাশ্রয়ীদের কী পরিণাম !
ক্বাদ্ খালাত্ মিন্ ক্বাব্লিকুম্ সুনানুন্ ফাসীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুকায্যিবীন্।
তোমাদের পূর্বে বহু সুন্নত (নিয়ম পন্থা) বিগত হয়েছে। সুতরাং পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো (আল্লাহর নিয়ম বিধানকে) অস্বীকারকারীদের পরিণতি কী হয়েছে?
ইহা মানবজাতির জন্য স্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।
হা-যা- বাইয়া-নুল্ লিন্না-সি অহুদাওঁ অমাওঁ 'ইজোয়াতুল্ লিল্মুত্তাক্বীন্।
এই (কুরআন) মানবজাতির জন্যে একটি সুস্পষ্ট বার্তা এবং সতর্ক লোকদের জন্যে জীবন পদ্ধতি ও উপদেশ।
তোমরা হীনবল হইও না এবং দুঃখিতও হইও না ; তোমরাই বিজয়ী যদি তোমরা হও।
অলা-তাহিনূ অলা-তাহ্যানূ অআন্তুমুল্ আ'লাওনা ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।
তোমরা দুর্বল হয়োনা এবং দুঃখ করোনা, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা হও।
যদি তোমাদের আঘাত লাগিয়া থাকে, অনুরূপ আঘাত তো উহাদেরও লাগিয়াছিল। মানুষের মধ্যে এই দিনগুলির পর্যায়ক্রমেআমি আবর্তন ঘটাই, যাহাতে মু’মিনগণকে জানিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য হইতে কতককে শহীদরূপে গ্রহণ করিতে পারেন এবং জালিমদের পসন্দ করেন না ;
ইঁ ইয়াম্সাস্কুম্ র্ক্বাহুন্ ফাক্বাদ্ মাস্সাল্ ক্বাওমা র্ক্বাহুম্ মিছ্লুহ্ অতিল্কাল্ আই ইয়া-মু নুদা-ওয়িলুহা-বাইনান্না-সি অলিইয়া'লামাল্লা-হুল্ লাযীনা আ-মানূ অইয়াত্তাখিযা মিন্কুম্ শুহাদা - আ অ ল্লা-হু লা-ইয়ুহিব্বুজ্ জোয়া-লিমীন্।
তোমরা যদি আঘাত পেয়ে থাকো, তবে অনুরূপ আঘাত তো তোমাদের (প্রতিপক্ষ) লোকেরাও পেয়েছে। মানুষের মাঝে সেই (ভালো মন্দ) দিনগুলোর আমরা আবর্তন ঘটাই, যাতে সাচ্চা ঈমানদারদের জানতে পারেন এবং তোমাদের মধ্যে থেকে কিছু লোককে শহীদ (সাক্ষী) হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। যালিমদের পছন্দ করেন না।
এবং যাহাতে মু’মিনদের পরিশোধন করিতে পারেন এবং কাফিরদের নিশ্চিহ্ন করিতে পারেন।
অলিইয়ুমাহ্হিছোয়াল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানূ অইয়াম্হাক্বাল্ কা-ফিরীন্।
আর এ কারণেও যে, মুমিনদের পরিশুদ্ধ করতে চান এবং কাফিরদের চান নিশ্চিহ্ন করতে।
তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করিবে, অথচ তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করিয়াছে আর কে ধৈর্যশীল তাহা এখনও প্রকাশ করেন নাই?
আম্ হাসিব্তুম্ আন্ তাদ্খুলুল্ জান্নাতা অলাম্মা- ইয়া'লামিল্লা-হুল্লাযীনা জ্বা-হাদূ মিন্কুম্ অইয়া'লামাছ্ ছোয়া-বিরীন্।
তোমরা কি মনে করে নিয়েছো যে, তোমরা জান্নাতে দাখিল হয়ে যাবে, অথচ এখনো বাস্তবে দেখে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে আর কারা অটল অবিচল থেকেছে।
মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে তোমরা তো উহা কামনা করিতে, এখন তো তোমরা তাহা স্বচক্ষে দেখিলে।
অলাক্বাদ্ কুন্তুম্ তামান্নাওনাল্ মাওতা মিন্ ক্বাব্লি আন্ তাল্ক্বাওহু ফাক্বাদ্ রায়াইতুমূহু অআন্তুম্ তান্জুরূন্।
মউতের সাথে সাক্ষাত হবার আগেই তোমরা তা তামান্না (কামনা) করছিলে। এখন তো বাস্তবেই তা দেখে নিলে।
মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র ; তাহার পূর্বে বহু রাসূল গত হইয়াছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে নিহত হয় তবে তোমরা কি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিবে? এবং কেহ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিলে সে কখনও আল্লাহর ক্ষতি করিতে পারিবে না; বরং শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করিবেন।
অমা- মুহাম্মাদুন্ ইল্লা-রাসূলুন্ ক্বাদ্ খালাত্ মিন্ ক্বাব্লির্হি রুসুল্ আফায়িম্ মা-তা আও ক্ব ুতিলান্ ক্বালাব্তুম্ 'আলা য় আ'ক্বা-বিকুম্ অমাইঁ ইয়ান্ক্বালিব্ 'আলা-'আক্বিবাইহি ফালাইঁ ইয়াদ্বর্ ুরাল্লা-হা শাইয়া- অসাইয়াজ্ব ্যিল্লা-হুশ্ শা-কিরীন্।
মুহাম্মদ একজন রসূল ছাড়া আর কিছুই নয়, তার আগেও অনেক রসূল অতীত হয়েছে। সুতরাং সে যদি মরে যায়, কিংবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা (ইসলাম ত্যাগ করে) পেছনে ফিরে যাবে? যে কেউ পেছনে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করবেনা। অচিরেই শোকরগুজার লোকদের পুরস্কার প্রদান করবেন।
আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কাহারও মৃত্যু হইতে পারে না, যেহেতু উহার মেয়াদ অবধারিত। কেহ পার্থিব পুরস্কার চাহিলে আমি তাহাকে তাহার কিছু দেই এবং কেহ পারলৌকিক পুরস্কার চাহিলে আমি তাহাকে তাহার কিছু দেই এবং শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করিব।
অমা-কা-না লিনাফ্সিন্ আন্ তামূতা ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হি কিতা-বাম্ মুওয়াজ্জ্বালা- অমাইঁ ইয়ুরিদ্ ছাওয়া-বাদ্দুন্ইয়া-নুুতিহী মিন্হা- ওমাইঁ ইয়ুরিদ্ ছাওয়া-বাল্ আ-খিরাতি নুুতিহী মিন্হা- অ সানাজ্ব ্যিশ্ শা-কিরীন্।
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মরতে পারেনা। কারণ মৃত্যুর সময় নির্ধারিত। যে দুনিয়ার সওয়াব (পুরস্কার) চায়, আমরা তাকে তা থেকে কিছু দিই, আর যে আখিরাতের সওয়াব চায় আমরা তাকে সেখান থেকে দেবো আর শোকরগুজারদের আমরা অচিরেই পুরস্কার প্রদান করবো।
এবং কত নবী যুদ্ধ করিয়াছে, তাহাদের সঙ্গে বহু ওয়ালা ছিল। আল্লাহর পথে তাহাদের যে বিপর্যয় ঘটিয়াছিল তাহাতে তাহারা হীনবল হয় নাই, দুর্বল হয় নাই এবং নত হয় নাই। ধৈর্যশীলদের ভালবাসেন।
অকাআইয়্যিম্ মিন নাবিয়্যিন্ ক্বা-তালা মা'আহূ রিব্বিয়্যূনা কাছীরুন্ ফামা-অহানূ লিমা য় আছোয়া-বাহুম্ ফী সাবীলিল্লা-হি অমা- দ্বোয়া'উফূ অমাস্তাকা-নূ অল্লা-হু ইয়ুহিব্বুছ্ ছোয়া-বিরীন্।
বহু নবী কিতাল (যুদ্ধ) করেছে, তাদের সাথে ছিলো অনেক আল্লাহওয়ালা লোক। আল্লাহর পথে তাদের যেসব বিপদ মসিবত ঘটেছিল তাতে তাদের মন ভেঙ্গে পড়েনি তারা দুর্বলতাও দেখায়নি এবং নতিও স্বীকার করেনি। আর (ঈমানের উপর) অটল অবিচল থাকা লোকদেরই ভালোবাসেন।
এই কথা ব্যতীত তাহাদের আর কোন কথা ছিল না, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপ এবং আমাদের কাজে সীমালংঘন তুমি ক্ষমা কর, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখ এবং সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।’
অমা- কা-না ক্বাওলাহুম্ ইল্লা য় আন্ ক্বা-লূ রব্বানাগ্ র্ফিলানা- যুনূবানা- অইস্রা-ফানা- ফী য় আম্রিনা-অছাব্বিত্ আক্ব ্দা-মানা- অর্ন্ছুনা- 'আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।
তাদের একটিই কথা ছিলো: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের গুনাহ্খাতা মাফ করে দাও, আমাদের কার্যক্রমের সীমালংঘন তুমি ক্ষমা করে দাও, আমাদের কদমকে মজবুত রাখো এবং কওমের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।’
অতঃপর তাহাদেরকে পার্থিব পুরস্কার এবং উত্তম পারলৌকিক পুরস্কার দান করেন। সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন।
ফাআ-তা-হুমুল্লা-হু ছাওয়া-বাদ্ দুন্ইয়া- অহুস্না ছাওয়া-বিল্ আ-খিরাহ্ অল্লা-হু ইয়ুহ্বিুল্ মুহ্সিনীন্।
ফলে তাদের দান করেন দুনিয়ার সওয়াব (পুরস্কার) এবং আখিরাতের উত্তম সওয়াব। আর তো মুহ্সিন (কল্যাণকামী) লোকদেরই ভালোবাসেন।
হে মু’মিনগণ ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর তবে তাহারা তোমাদেরকে বিপরীত দিকে ফিরাইয়া দিবে এবং তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া পড়িবে।
ইয়া য় আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানূ য় ইন্ তুত্বী'উল্লাযীনা কাফারূ ইয়ারুদ্দূকুম্ 'আলা য় আ'ক্বা-বিকুম্ ফাতান্কালিবূ খা-সিরীন্।
হে লোকেরা! তোমরা কাফিরদের আনুগত্য করলে তারা তোমাদের পেছনে (কুফুরিতে) ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
আল্লাহই তো তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্য কারী।
বালিল্লা-হু মাওলা-কুম্ অহুওয়া খাইরুন্ না-ছিরীন্।
বরং, আল্লাহ্ই তোমাদের একমাত্র মাওলা (অভিভাবক) এবং তিনিই সর্বোত্তম সাহায্যকারী।
আমি কাফিরদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করিব, যেহেতু তাহারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করিয়াছে, যাহার স্বপক্ষে কোন সনদ পাঠান নাই। জাহান্নাম তাহাদের আবাস; কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল জালিমদের!
সানুল্ক্বী ফী ক্ব ুলূবিল্লাযীনা কাফার্রূ রু'বা বিমা য় আশ্রাকূ বিল্লা-হি মা-লাম্ ইয়ুনায্যিল্ বিহী সুল্ত্বোয়া-না-অমাওয়া-হুমুন্নার্- অবিসা মাছ্ওয়াজ্জোয়া-লিমীন্।
আমরা অচিরেই কাফিরদের মনে ভয় ও আতংক সৃষ্টি করে দেবো, কারণ তারা আল্লাহর সাথে শিরক করেছে, যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। আগুনই হবে তাদের আবাস। যালিমদের আবাসস্থল কতো যে নিকৃষ্ট!
তোমাদের সঙ্গে তাঁহার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছিলেন যখন তোমরা আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাহাদেরকে বিনাশ করিতেছিলে, যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারাইলে এবং নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করিলে এবং যাহা তোমরা ভালবাস তাহা তোমাদের দেখাইবার পর তোমরা অবাধ্য হইলে। তোমাদের কতক ইহকাল চাহিতেছিল এবং কতক পরকাল চাহিতেছিল। অতঃপর তিনি পরীক্ষা করার জন্য তোমাদেরকে তাহাদের হইতে ফিরাইয়া দিলেন। অবশ্যই তিনি তোমাদের ক্ষমা করিলেন এবং মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
অলাক্বাদ্ ছদাক্বাকুমুল্লা-হু অ'দাহূ য় ইয্ তাহুস্সূনাহুম্ বিইয্নিহী হাত্তা য় ইযা-ফাশিল্তুম্ অতানা-যা'তুম ফিল্ আম্রি অ 'আছোয়াইতুম্ মিম্ বা'দি মা য় আরা-কুম্ মা-তুহিব্বূন্ মিন্কুম্ মাইঁ ইয়ুরীদুদ্ দুন্ইয়া- অমিন্কুম্ মাইঁ ইয়ুরীদুল্ আ-খিরাহ ছুম্মা ছরাফাকুম্ 'আনহুম্ লিইয়াব্তালিয়াকুম্ অলাক্বাদ্ 'আফা- 'আন্কুম্ অল্লা-হু যূ ফাদ্ব্ লিন্ 'আলাল্ মুমিনীন্।
তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছিলেন যখন তোমরা তাঁর অনুমতিক্রমে ওদের নিপাত করছিলে - যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারিয়েছিলে এবং নির্দেশ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলে এবং যা তোমরা চাইছিলে তা তোমাদের দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হয়েছিলে। তোমাদের কিছুলোক দুনিয়া চাইছিল আর কিছু লোক চাইছিল । তারপর তোমাদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তোমাদের ফিরিয়ে দিলেন তাদের থেকে। অবশ্য তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। মুমিনদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।
স্মরণ কর, তোমরা যখন উপরের দিকে ছুটিতেছিলে এবং পিছন ফিরিয়া কাহারও প্রতি লক্ষ্য করিতেছিলে না, আর রাসূল তোমাদেরকে পিছন দিক হইতে আহ্বান করিতেছিল। ফলে তিনি তোমাদেরকে বিপদের উপর বিপদ দিলেন যাহাতে তোমরা যাহা হারাইয়াছ অথবা যে বিপদ তোমাদের উপর আসিয়াছে তাহার জন্য তোমরা দুঃখিত না হও। তোমরা যাহা কর তাহা বিশেষভাবে অবহিত।
ইয্ তুছ্'ইদূনা অলা-তাল্ঊনা 'আলা য় আহাদিওঁ র্অরাসূলু ইয়াদ্'ঊকুম্ ফী য় উখ্রা-কুম্ ফাআছা-বাকুম্ গাম্মাম্ বিগাম্মিল্ লিকাইলা- তাহ্যানূ 'আলা-মা-ফা-তাকুম্ অলা-মা য় আছোয়া-বাকুম অল্লা-হু খাবীরুম্ বিমা-তা'মালূন্।
স্মরণ করো, তোমরা দৌড়ে উপরে উঠছিলে এবং পেছনে ফিরে কারো দিকে লক্ষ্য করছিলে না, অথচ আল্লাহর রসূল তোমাদের পেছন থেকে ডাকছিল। ফলে তিনি তোমাদের বিপদের উপর বিপদ চাপিয়ে দিলেন, যাতে করে তোমরা যা হারিয়েছো কিংবা যে বিপদ তোমাদের উপর এসেছে তার জন্যে দুঃখিত না হও। তোমাদের আমল সম্পর্কে বিশেষভাবে খবর রাখেন।
অতঃপর দুঃখের পর তিনি তোমাদেরকে প্রদান করিলেন প্রশান্তি তন্দ্রারূপে, যাহা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করিয়াছিল। এবং একদল জাহিলী যুগের অজ্ঞের ন্যায় সম্বন্ধে অবাস্তব ধারণা করিয়া নিজেরাই নিজেদেরকে উদ্বিগ্ন করিয়াছিল এই বলিয়া যে, ‘আমাদের কি কোন অধিকার আছে?’ বল, ‘সমস্ত বিষয় আল্লাহর ইখ্তিয়ার।’ যাহা তাহারা তোমার নিকট প্রকাশ করে না, তাহারা তাহাদের অন্তরে উহা গোপন রাখে, আর বলে, ‘এই ব্যাপারে আমাদের কোন অধিকার থাকিলে আমরা এই স্থানে নিহত হইতাম না।’ বল, ‘যদি তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করিতে তবুও নিহত হওয়া যাহাদের জন্য অবধারিত ছিল তাহারা নিজেদের মৃত্যুস্থানে বাহির হইত। ইহা এইজন্য যে, তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা পরিশোধন করেন। অন্তরে যাহা আছে সে সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত।
ছুম্মা আন্যালা 'আলাইকুম্ মিম্ বা'দিল্ গাম্মি আমানাতান্ নু'আ-সাইঁ ইয়াগ্শা-ত্বোয়া - য়িফাতাম মিন্কুম্ অত্বোয়া - য়িফাতুন্ ক্বাদ্ আহাম্মাত্হুম্ আন্ফুসুহুম্ ইয়াজ্বুন্নূনা বিল্লা-হি গাইরাল্ হাক্ব ্ক্বি জোয়ান্নাল্ জ্বা-হিলিয়্যাহ্ ইয়াকুলূনা হাল্ লানা-মিনাল্ আম্রি মিন্ শাইয়িন্ ক্ব ুল্ ইন্নাল্ আম্রা কুল্লাহূ লিল্লা-হ ইয়ুখ্ফূনা ফী য় আন্ফুসিহিম্ মা-লা- ইয়ুব্দূনা লাক্ ইয়াকুলূনা লাও কা-না লানা-মিনাল্ আম্রি শাইয়ুম্ মা-ক্ব ুতিল্না-হা-হুনা- ক্ব ুল্ লাও কুন্তুম্ ফী বুইয়ূতিকুম্ লাবারাযাল্ লাযীনা কুতিবা 'আলাইহিমুল্ ক্বাত্লু ইলা-মাদ্বোয়া-জ্বি'ইহিম্ অলিইয়াব্তালিয়াল্লা-হু মা- ফী ছুদূরিকুম্ অলিইয়ুমাহ্হিছোয়া মা-ফী ক্ব ুলূবিকুম্ অল্লা-হু 'আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।
তারপর দুঃখ দুশ্চিন্তার পর তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করলেন প্রশান্তি তন্দ্রা আকারে, যা তোমাদের একদল লোককে আচ্ছন্ন করে নিয়েছিল। কিন্তু আরেকদল জাহেলি যুগের অজ্ঞদের মতো সম্পর্কে অবাস্তব ধারণা করে নিজেরাই নিজেদের এই বলে উদ্বিগ্ন করছিল: ‘আমাদের কি (ক্ষমতায়) কোনো অধিকার আছে?’ (হে নবী!) তাদের বলো: ‘হুকুম দানের ক্ষমতা পুরোটাই আল্লাহর।’ তারা এমন বিষয় তাদের অন্তরে গোপন রাখে যা তোমার কাছে প্রকাশ করেনা। তারা বলে: ‘নির্দেশ প্রদানে যদি আমাদের অধিকার থাকতো, তবে আমাদের (লোকদের) এখানে নিহত হতে হতোনা।’ হে নবী! তাদের বলো: ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরেও অবস্থান করতে, তারপরও নিহত হওয়া যাদের জন্যে নির্ধারিত ছিলো তারা অবশ্যি নিজেদের মরণের জায়গায় বেরিয়ে আসতো।’ এর কারণ হলো, তোমাদের মনে যা আছে তা পরীক্ষা করতে চান এবং তোমাদের সংশোধন ও পরিশুদ্ধ করতে চান। অন্তরের খবর বিশেষভাবে জানেন।
যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হইয়াছিল সেই দিন তোমাদের মধ্য হইতে যাহারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিয়াছিল, তাহাদের কোন কৃতকর্মের জন্য শয়তানই তাহাদের পদস্খলন ঘটাইয়াছিল। অবশ্য তাহাদের ক্ষমা করিয়াছেন। ক্ষমাপরায়ণ ও পরম সহনশীল।
ইন্নাল্লাযীনা তাওয়াল্লাও মিন্কুম্ ইয়াওমাল্ তাক্বাল্ জ্বাম্'আ-নি ইন্নামাস্ তাযাল্লাহুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু বিবা'দি মা-কাসাবূ অলাক্বাদ্ 'আফাল্লা-হু 'আন্হুম্ ইন্নাল্লা-হা গাফূরুন্ হালীম্।
তোমাদের মধ্য থেকে যারা দুই দলের পরস্পর সম্মুখীন হবার দিন পলায়ন করে চলে গিয়েছিল, নিশ্চয়ই শয়তান তাদের কোনো কৃতকর্মের জন্যে তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। অবশ্য তোমাদের মাফ করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল ও সহনশীল।
হে মু’মিনগণ! তোমরা তাহাদের মত হইও না যাহারা করে এবং তাহাদের ভ্রাতাগণ যখন দেশে দেশে সফর করে অথবা যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহাদের সম্পর্কে বলে, ‘তাহারা যদি আমাদের নিকট থাকিত তবে তাহারা মরিত না এবং নিহত হইত না।’ ফলে ইহাই তাহাদের মনস্তাপে পরিণত করেন ; আল্লাহ্ই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তোমরা যাহা কর উহার সম্যক দ্রষ্টা।
ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা- তাকূনূ কাল্লাযীনা কাফারূ অক্বা-লূ লিইখ্ওয়া-নিহিম্ ইযা-দ্বোয়ারাবূ ফিল্ র্আদ্বি আও কা-নূ গুয্যাল্ লাও কা-নূ-'ইন্দানা-মা-মা-তূ অমা-ক্ব ুতিলূ লিইয়াজ্ব ্'আলাল্লা-হু যা-লিকা হাস্রাতান্ ফী ক্ব ুলূবিহিম্ অল্লা-হু ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীত্ অল্লা-হু বিমা-তা'মা-লূনা বার্ছী।
হে লোকেরা! তোমরা ঐসব লোকদের মতো হয়োনা যারা কুফুরি করে এবং তাদের ভাইদের বলে যখন তারা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে কিংবা যুদ্ধরত থাকে: ‘তারা যদি আমাদের কাছে থাকতো, তাহলে মরতোওনা এবং নিহতও হতোনা।’ এসব কথাকে তাদের মনস্তাপের কারণ বানিয়ে দেন। আল্লাহ্ই তো জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন। তোমরা যা করো সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখছেন।
তোমরা আল্লাহর পথে নিহত হইলে অথবা মৃত্যুবরণ করিলে, যাহা তাহারা জমা করে, আল্লাহর ক্ষমা এবং দয়া অবশ্য তাহা অপেক্ষা শ্রেয়।
অলায়িন্ ক্ব ুতিলতুম্ ফী সাবীলিল্লা-হি আওমুত্তুম্ লামাগ্ফিরাতুম্ মিনাল্লা-হি অরাহ্মাতুন্ খাইরুম্ মিম্মা-ইয়াজ্ব ্মা'ঊন্।
তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও কিংবা মৃত্যুবরণ করো, তবে জেনে রেখো, ওরা যা জমা করে তা থেকে আল্লাহর ক্ষমা এবং রহমত অনেক ভালো।
এবং তোমাদের মৃত্যু হইলে অথবা তোমরা নিহত হইলে আল্লাহরই নিকট তোমাদেরকে একত্র করা হইবে।
অলায়িম্ মুত্তুম্ আওক্ব ুতিল্তুম্ লা ইলাল্লা-হি তুহ্শারূন্।
তোমরা যদি আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করো কিংবা নিহত হও, তবে জেনে রাখো, আল্লাহর কাছেই তোমাদের হাশর করা হবে।
আল্লাহর দয়ায় তুমি তাহাদের প্রতি কোমল - হৃদয় হইয়াছিলে ; যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হইতে তবে তাহারা তোমার আশপাশ হইতে সরিয়া পড়িত। সুতরাং তুমি তাহাদের ক্ষমা কর এবং তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজেকর্মে তাহাদের সঙ্গে পরামর্শ কর, অতঃপর তুমি কোন সংকল্প করিলে আল্লাহর উপর নির্ভর করিবে, যাহারা নির্ভর করে তাহাদের ভালবাসেন।
ফাবিমা-রাহ্মাতিম্ মিনাল্লা-হি লিন্তা লাহুম্ অলাও কুন্তা ফাজ্জোয়ান্ গালী জোয়াল্ ক্বাল্বি লান্ফাদ্ব্দ্ব ূমিন্ হাওলিকা ফা'ফু 'আন্হুম্ অস্তার্গ্ফি লাহুম্ অশা-ওর্য়ি হুম্ ফিল্ আম্রি ফাইযা- 'আযাম্তা ফাতাওয়াক্কাল্ 'আলাল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা ইয়ুহিব্বুল্ মুতাওয়াক্কিলীন্।
(হে মুহাম্মদ!) এটা আল্লাহরই রহমত যে, তুমি তাদের প্রতি কোমল! তুমি যদি তাদের প্রতি কঠোর - হৃদয় হতে, তবে তারা তোমার চারপাশ থেকে সরে পড়তো। সুতরাং তাদের ক্ষমা করে দাও এবং তাদের জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করো, আর কার্য পরিচালনায় তাদের সাথে পরামর্শ করো। অতপর যখন সংকল্প (সিদ্ধান্ত) গ্রহণ করবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে, নিশ্চয়ই তাওয়াক্কুলকারীদের পছন্দ করেন।
তোমাদের সাহায্য করিলে তোমাদের উপর জয়ী হইবার কেহই থাকিবে না। আর তিনি তোমাদেরকে সাহায্য না করিলে, তিনি ছাড়া কে এমন আছে, যে তোমাদের সাহায্য করিবে? মু’মিনগণ আল্লাহর উপরই নির্ভর করুক।
ইঁ ইয়ার্ন্ছুকুমুল্লা-হু ফালা-গা-লিবা লাকুম্ অইঁ ইয়াখ্যুল্কুম্ ফামান্ যাল্লাযী ইয়ান্ছুরুকুম্ মিম্ বা'দিহী অ'আলাল্লা-হি ফাল্ইয়া তাওয়াক্কালিল্ মু'মিনূন্।
তোমাদের সাহায্য করলে তোমাদের উপর জয়ী হবার কেউই থাকবেনা, আর তিনি যদি তোমাদের সাহায্য না করেন, তবে তিনি ছাড়া কে আছে তোমাদের সাহায্য করবে? মুমিনরা কেবল আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করুক।
অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গোপন করিবে, ইহা নবীর পক্ষে অসম্ভব। এবং কেহ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করিলে, যাহা সে অন্যায়ভাবে গোপন করিবে কিয়ামতের দিন সে তাহা লইয়া আসিবে। অতঃপর প্রত্যেককে, যাহা সে অর্জন করিয়াছে তাহা পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হইবে। তাহাদের প্রতি কোন জুলুম করা হইবে না।
অমা-কা-না লিনাবিয়্যিন্ আইঁ ইয়াগুল্ অমাইঁ ইয়াগ্লুল্ ইয়াতি বিমা-গাল্ লা ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ছুম্মা তুওয়াফ্ফা- কুল্ল ু নাফ্সিম্ মা-কাসাবাত্ অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।
কোনো নবীর পক্ষে অন্যায়ভাবে কোনো কিছু গোপন করা অসম্ভব। যে কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করবে সে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে। অতপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে যা উপার্জন করেছে তার প্রতিদান পুরোপুরি দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
যে আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসারী, সে কি উহার মত যে আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হইয়াছে এবং জাহান্নামই যাহার আবাস? এবং উহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল !
আফামানিত তাবা'আ রিদ্ব্ওয়া-নাল্লা-হি কামাম্ বা-য়া বিসাখাত্বিম্ মিনাল্লা-হি অমা'ওয়া-হু জ্বাহান্নাম্ অবিসাল্ মাছীর্-।
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির পাত্র হয়েছে এবং যার আবাস হবে জাহান্নাম? - যা খুবই নিকৃষ্ট ফিরে আসার জায়গা।
আল্লাহর নিকট তাহারা বিভিন্ন স্তরের; তাহারা যাহা করে তাহার সম্যক দ্রষ্টা।
হুম্ দারাজ্বা-তুন্ 'ইন্দাল্লা-হঅল্লা-হু বাছীরুম্ বিমা-ইয়া'মালূন্।
আল্লাহর কাছে তাদের স্তর বিভিন্ন। তারা যা করে তা আল্লাহর দৃষ্টিতেই রয়েছে।
মু’মিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করিয়াছেন যে, তিনি তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছেন, যে তাঁহার আয়াতসমূহ তাহাদের নিকট তিলাওয়াত করে, তাহাদেরকে পরিশোধন করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়, যদিও তাহারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিল।
লাক্বাদ্ মান্নাল্লা-হু 'আলাল্ মুমিনীনা ইয্ বা'আছা ফীহিম্ রাসূলাম্ মিন্ আন্ফুসিহিম্ ইয়াত্লূ 'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিহী অইয়ুযাক্কীহিম্ অইয়ু'আল্লিমুহুমুল্ কিতা-বা অল্ হিক্মাতা অইন্ কা-নূ মিন্ ক্বাব্লু লাফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
মুমিনদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছেন, সে তাদের প্রতি তিলাওয়াত করে তাঁর আয়াতসমূহ, তাদের তাযকিয়া (পবিত্র ও পরিশুদ্ধ) করে, তাদের শিক্ষা দান করে আল কিতাব (আল কুরআন) এবং হিকমাহ, যদিও ইতোপূর্বে তারা নিমজ্জিত ছিলো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে।
কী ব্যাপার ! যখন তোমাদের উপর মুসীবত আসিল তখন তোমরা বলিলে, ‘ইহা কোথা হইতে আসিল?’ অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটাইয়াছিলে। বল, ‘ইহা তোমাদের নিজেদেরই নিকট হইতে’; নিশ্চয়ই সববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আওয়া লাম্মা য় আছোয়া-বাত্কুম্ মুছীবাতুন্ ক্বাদ্ আছোয়াব্তুম্ মিছ্লাইহা- ক্ব ুলতুম্ আন্না- হা-যা- ক্ব ুল্ হুওয়া মিন্ 'ইন্দি আন্ফুসিকুম্ ইন্নাল্লা-হা 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।
তোমাদের উপর যখন বিপদ এসেছিল তখন তোমরা বলেছিলে: ‘কোত্থেকে এলো এ বিপদ?’ অথচ তোমরা তো (উহুদের দিন) দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। হে নবী তাদের বলো: এটা তোমাদের নিজেদের থেকেই। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হইয়াছিল, সেদিন তোমাদের উপর যে বিপর্যয় ঘটিয়াছিল তাহা আল্লাহরই হুকুমে; ইহা মু’মিনগণকে জানিবার জন্য।
অমা য় আছোয়া-বাকুম্ ইয়াওমাল্ তাক্বাল্ জ্বাম্'আ-নি ফাবিইয্নিল্লা-হি অলিইয়া'লামাল্ মুমিনীন্।
দুই দলের মোকাবেলার দিন তোমাদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল, তা আল্লাহর অনুমতিক্রমেই ঘটেছিল যাতে করে তিনি মুমিনদের অবস্থা জেনে নেন।
এবং মুনাফিকদেরকে জানিবার জন্য এবং তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘আস, তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর অথবা প্রতিরোধ কর।’ তাহারা বলিয়াছিল, ‘যদি যুদ্ধ জানিতাম তবে নিশ্চিতভাবে তোমাদের অনুসরণ করিতাম।’ সেদিন তাহারা ঈমান অপেক্ষা কুফরীর নিকটতর ছিল। যাহা তাহাদের অন্তরে নাই তাহারা তাহা মুখে বলে; তাহারা যাহা গোপন রাখে তাহা বিশেষভাবে অবহিত।
অলিইয়া'লামাল্লাযীনা না-ফাকুঅক্বীলা লাহুম্ তা'আ-লাও ক্বা-তিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি আওয়িদ্ফা'ঊ ক্বা-লূ লাও না'লামু ক্বিতা-লাল্ লাত্তাবা'না-কুম্ হুম্ লিল্কুফ্রি ইয়াওমায়িযিন্ আক্ব ্রাবু মিন্হুম্ লিল্ ঈমা-নি ইয়াকুলূনা বিআফ্ওয়া-হিহিম্ মা-লাইসা ফী কুলূবিহিম্ অল্লা-হু আ'লামু বিমা-ইয়াক্তুমূন্।
এটা এ জন্যেও যে, তিনি যেনো মুনাফিকদের (বাস্তবে) জেনে নেন। তাদের বলা হয়েছিল, এসো আল্লাহর পথে লড়াই করো অথবা প্রতিরোধ করো। তারা বললো: ‘যুদ্ধ হবে যদি জানতাম তবে অবশ্যি তোমাদের অনুসরণ করতাম।’ সেদিন তারা ছিলো ঈমানের চাইতে কুফুরির অধিকতর নিকটে। তারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। ভালো করেই জানেন যা তারা গোপন করে।
যাহারা ঘরে বসিয়া রহিল এবং তাহাদের ভাইদের সম্বন্ধে বলিল, তাহারা আমাদের কথামত চলিলে নিহত হইত না, তাহাদেরকে বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে নিজেদেরকে মৃত্যু হইতে রক্ষা কর।’
আল্লাযীনা ক্বা-লূ লিইখ্ওয়া-নিহিম্ অক্বা'আদূ লাও আত্বোয়া-'ঊনা- মা-ক্ব ুতিলূ ক্ব ুল্ ফাদ্রা'ঊ 'আন্ আন্ফুসিকুমুল্ মাওতা ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
যারা (যুদ্ধে না গিয়ে) তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছিল, তারা যদি আমাদের কথা শুনতো তবে নিহত হতোনা। তাদের বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে নিজেদেরকে মরণ থেকে রক্ষা করো।’
যাহারা আল্লাহর পথে নিহত হইয়াছে তাহাদের কখনই মৃত মনে করিও না, বরং তাহারা জীবিত এবং তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহারা জীবিকাপ্রাপ্ত।
অলা-তাহ্সাবান্নাল্লাযীনা ক্ব ুতিলূ ফীসাবী লিল্লা-হি আম্ওয়া-তা- বাল্ আহ্ইয়া-উন্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ ইর্য়ুযাকুন্।
যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত বলোনা; বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রভুর নিকট থেকে জীবিকাপ্রাপ্ত।
নিজ অনুগ্রহে তাহাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহাতে তাহারা আনন্দিত এবং তাহাদের পিছনে যাহারা এখনও তাহাদের সঙ্গে মিলিত হয় নাই তাহাদের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে, এইজন্য যে, তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।
ফারিহীনা বিমা য় আ-তা-হুমুল্লা-হু মিন্ ফাদ্ব ্লিহী অইয়াস্তাব্শিরূনা বিল্লাযীনা লাম্ ইয়াল্হাকু বিহিম্ মিন্ খাল্ফিহিম্ আল্লা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।
তাঁর অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের সুসংবাদ প্রদান করছে যে: ‘তাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো দুঃখও তাদের থাকবেনা।’
নিয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তাহারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং ইহা এই কারণে যে, মু’মিনদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।
ইয়াস্তাব্শিরূনা বিনি'মাতিম্ মিনাল্লা-হি অফাদ্ব্লিওঁ অআন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুদ্বী'উ আজ্ব ্রাল্ মুমিনীন্।
আল্লাহর নিয়ামত ও ফজল করমের (অনুগ্রহের) জন্যে তারা খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করে এবং এটা জেনে যে, মুমিনদের কর্মফল বিনষ্ট করেননা।
যখম হওয়ার পর যাহারা ও রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়াছে তাহাদের মধ্যে যাহারা সৎকাজ করে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলে তাহাদের জন্য মহাপুরস্কার রহিয়াছে।
আল্লাযীনাস তাজ্বা-বূ লিল্লা-হি র্অরাসূলি মিম্ বা'দি মা-আছোয়া-বাহুমুল্ র্ক্বাহু লিল্লাযীনা আহ্সানূ মিন্হুম্ অত্তাকু আজ্ব ্রুন্ 'আজীম্।
যারা আহত হবার পরও এবং তাঁর রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে, যারা ইহ্সান এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট পুরস্কার।
ইহাদেরকে লোকে বলিয়াছিল, তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হইয়াছে, সুতরাং তোমরা তাহাদেরকে ভয় কর ; কিন্তু ইহা তাহাদের ঈমান দৃঢ়তর করিয়াছিল এবং তাহারা বলিয়াছিল, ‘ আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কমবিধায়ক!
আল্লাযীনা ক্বা-লা লাহুমুন্না-সু ইন্নান্না-সা ক্বাদ্ জ্বামা'ঊ লাকুম্ ফাখ্শাওহুম্ ফাযা-দাহুম্ ঈমা-নাওঁ অক্বা-লূ হাস্বুনাল্লা-হু অনি'মাল্ অকীল্।
লোকেরা তাদের বলেছিল: ‘তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট বাহিনী সমবেত হয়েছে তাদের ভয় করো।’ - একথা শুনে তাদের ঈমান বেড়ে গিয়েছিল এবং তারা বলেছিল: ‘হাসবুনাল্লাহু অনি’মাল অকিল - আমাদের জন্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম উকিল - (কর্মসম্পাদনকারী)।’
তারপর তাহারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরিয়া আসিয়াছিল, কোন অনিষ্ট তাহাদেরকে স্পর্শ করে নাই এবং যাহাতে রাযী তাহারা তাহারই অনুসরণ করিয়াছিল এবং মহানুগ্রহশীল।
ফান্ক্বালাবূ বিনি'মাতিম্ মিনাল্লা-হি অফাদ্ব্লিল্ লাম্ ইয়াম্সাস্হুম্সূ-উওঁ অত্তাবা'ঊ রিদ্ব্ওয়া-নাল্লা-হ্ অল্লা-হু যূ ফাদ্বলিন্ 'আজীম্।
ফলে তারা আল্লাহর নিয়ামত ও ফজল - করম সহ (যুদ্ধ থেকে) ফিরে আসে। তাদের স্পর্শ করেনি কোনো মন্দ। তারা অনুসরণ করেছিল আল্লাহর রেজামন্দির। আর বড় ফজল - করম ওয়ালা।
ইহারাই শয়তান, তোমাদেরকে তাহার বন্ধুদের ভয় দেখায় ; সুতরাং যদি তোমরা হও তবে তোমরা তাহাদেরকে ভয় করিও না, আমাকেই ভয় কর।
ইন্নামা-যা-লিকুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু ইয়ুখাও ওয়িফু আওলি ইয়া - আহূ ফালা-তাখা-ফূহুম্ অ খা-ফূনি ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।
এটা ছিলো শয়তানেরই কাজ, সে ভয় দেখায় তার বন্ধুদের। কখনো তাদের ভয় করোনা। হয়ে থাকলে তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো।
যাহারা কুফরীতে ত্বরিতগতি, তাহাদের আচরণ যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। তাহারা কখনও কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। আখিরাতে তাহাদেরকে কোন অংশ দিবার ইচ্ছা করেন না, তাহাদের জন্য মহাশাস্তি রহিয়াছে।
অলা-ইয়াহ্যুন্কাল্লাযীনা ইয়ুসা-রি'ঊনা ফিল্কুফ্রি ইন্নাহুম্ লাইঁ ইয়ার্দ্বুরুল্লা-হা শাইয়া- ইয়ুরীদুল্লা-হু আল্লা-ইয়াজ্ব'আলা লাহুম্ হাজ্জোয়ান্ ফিল্আ-খিরাতি অলাহুম্ 'আযা-বুন্ আজীম্।
তোমরা দুঃখিত হয়োনা ওদের আচরণে, যারা দ্রুত ধাবিত হয় কুফুরির দিকে। তারা আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। আখিরাতে ওদের কোনো অংশ দেয়ার এরাদা করেন না। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে বিশাল আযাব।
যাহারা ঈমানের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছে তাহারা কখনও আল্লাহর কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। তাহাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।
ইন্নাল্লাযীনাশ্ তারাউল্ কুফ্রা বিল্ ঈমা-নি লাইঁ ইয়াদ্বর্ ুরুল্লা-হা শাইয়া- অলাহুম্ 'আযা-বুন্ আলীম্।
যারা ঈমানের বিনিময়ে কুফুরি ক্রয় করেছে, তারা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
কাফিররা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি অবকাশ দেই তাহাদের মঙ্গলের জন্য; আমি অবকাশ দিয়া থাকি যাহাতে তাহাদের পাপ বৃদ্ধি পায় এবং তাহাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।
অলা-ইয়াহ্সাবান্নাল্লাযীনা কাফারূ য় আন্নামা-নুম্লী লাহুম্ খাইরুল্ লিআন্ফুসিহিম্ ইন্নামা- নুম্লী লাহুম্ লিইয়ায্দা-দূ য় ইছ্মান্ অলাহুম্ 'আযা-বুম্ মুহীন।
কাফিররা যেনো এ ধারণা না করে যে, আমরা অবকাশ দিচ্ছি তাদের কল্যাণের জন্যে, বরং আমরা অবকাশ দিচ্ছি এজন্যে, যেনো তারা তাদের পাপ বাড়িয়ে নেয়। আর তাদের জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।
অসৎকে সৎ হইতে পৃ ক না করা পর্যন্ততোমরা যে অবস্থায় রহিয়াছ মু’মিনগণকে সেই অবস্থায় ছাড়িয়া দিতে পারেন না। সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করিবার নহেন; তবে তাঁহার রাসূলগণের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা ও তাঁহার রাসূলগণের উপর ঈমান আন। তোমরা ঈমান আনিলে ও তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলিলে তোমাদের জন্য মহাপুরস্কার রহিয়াছে।
মা-কা-নাল্লা-হু লিইয়াযারাল্ মুমিনীনা 'আলা-মা য় আন্তুম্ 'আলাইহি হাত্তা- ইয়ামীযাল্ খাবীছা মিনাত্ত্বোইয়্যিব্ অমা-কা-নাল্লা-হু লিইয়ুত্ব্লি'আকুম্ 'আলাল্ গাইবি অলা-কিন্নাল্ লা-হা ইয়াজ্ব্ ্তাবী র্মি রুসুলিহী মাইঁ ইয়াশা - উ ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি অরুসুলিহী অইন্ তুমিনূ অতাত্তাকু ফালাকুম আজ্ব্ ্রুন্ 'আজীম্।
তোমরা এখন যে অবস্থায় আছো মুমিনদের এ অবস্থায় রেখে দেবেন না, তিনি খবিছ লোকদেরকে ভালো লোকদের থেকে আলাদা করেই ছাড়বেন। তোমাদের কাছে প্রকাশ করা আল্লাহর কাজ নয়, তবে (এ জন্যে) তাঁর রসূলদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলদের প্রতি। তোমরা যদি ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে বিশাল পুরস্কার।
আর নিজ অনুগ্রহে যাহা তাহাদের দিয়াছেন তাহাতে যাহারা কৃপণতা করে তাহাদের জন্য উহা মঙ্গল, ইহা যেন তাহারা কিছুতেই মনে না করে। না, ইহা তাহাদের জন্য অমঙ্গল। যাহাতে তাহারা কৃপণতা করিবে কিয়ামতের দিন উহাই তাহাদের গলায় বেড়ি হইবে। আসমান ও যমীনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই।তোমরা যাহা কর তাহা বিশেষভাবে অবহিত।
অলা-ইয়াহ্সাবান্নাল্লাযীনা ইয়াব্খালূনা বিমা য় আ-তা-হুমুল্লা-হু মিন্ ফাদ্ব্লিহী হুওয়া খাইরাল্লাহুম্ বাল্ হুওয়া র্শারুল্লাহুম্ সাইয়ুত্বোয়াওয়্যাকুনা মা- বাখিলূ বিহী ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অলিল্লা-হি মীরা-ছুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব ্ অল্লা-হু বিমা- তা'মালূনা খার্বী।
যারা বখিলি করে নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের যা দিয়েছেন তার ব্যাপারে, তারা যেনো মনে না করে যে এটা তাদের জন্যে ভালো। বরং এতে রয়েছে তাদের জন্যে অনিষ্ট। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করে, কিয়ামতের দিন তাই হবে তাদের গলার বেড়ি। মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর স্বত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহর। তোমাদের আমল সম্পর্কে বিশেষভাবে খবর রাখেন।
যাহারা বলে, ‘ অবশ্যই অভাবগ্রস্ত আর আমরা অভাবমুক্ত’, তাহাদের কথা শুনিয়াছেন। তাহারা যাহা বলিয়াছে তাহা এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিষয় আমি লিখিয়া রাখিব এবং বলিব, ‘তোমরা দহন - যন্ত্রণা ভোগ কর।’
লাক্বাদ্ সামি'আল্লা-হু ক্বাওলাল্লাযীনা ক্বা-লূ য় ইন্নাল্লা-হা ফাক্বীরুওঁ অনাহ্নু আগ্নিয়া - উ। সানাক্তুবু মা-ক্বা-লূ অক্বাত্লাহুমুল্ আম্বিয়া - য়া বিগাইরি হাক্ব ্ক্বিওঁ অনাকুলু যূকু 'আযা-বাল্ হারীক্ব ্।
তাদের কথা শুনেছেন যারা বলে: ‘ হলেন ফকির আর আমরা ধনী।’ তারা যা বলে এবং তাদের না হকভাবে নবীদের হত্যার বিষয়টি আমরা লিখে রাখবো। (কিয়ামতের দিন) আমরা তাদের বলবো: ‘স্বাদ গ্রহণ করো দগ্ধ হবার আযাবের।’
ইহা তোমাদের কৃতকর্মের ফল এবং উহা এই কারণে যে, বান্দাদের প্রতি নন।
যা-লিকা বিমা- ক্বাদ্দামাত্ আইদীকুম্ অআন্নাল্লা-হা লাইসা বিজোয়াল্লা-মিল্লিল্'আবীদ্।
এটা তোমাদেরই কৃতকর্মের প্রতিফল। এর কারণ এটাও যে, তাঁর বান্দাদের প্রতি যালিম (অবিচারক) নন।
যাহারা বলে, আমাদেরকে আদেশ দিয়াছেন, আমরা যেন কোন রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করি যতক্ষণ পর্যন্তসে আমাদের নিকট এমন কুরবানী উপস্থিত না করিবে যাহা অগ্নি গ্রাস করিবে; তাহাদেরকে বল, ‘আমার পূর্বে অনেক রাসূল স্পষ্ট নিদর্শনসহ এবং তোমরা যাহা বলিতেছ তাহাসহ তোমাদের নিকট আসিয়াছিল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে কেন তাহাদেরকে হত্যা করিয়াছিলে?’
আল্লাযীনা ক্বা-লূ য় ইন্নাল্লা-হা 'আহিদা ইলাইনা য় আল্লা-নু'মিনা লিরাসূলিন্ হাত্তা-ইয়াতিয়ানা-বিক্বর্ ুবা নিন্ তা”কুলুহুন্ নার্- ক্ব ুল ক্বাদ্ জ্বা - য়াকুম্ রুসুলুম্ মিন ক্বাব্লী বিল্বাইয়্যিনা-তি অবিল্লাযী কুল্তুম্ ফালিমা ক্বাতাল্তুমূহুম ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
যারা বলে: ‘ আমাদের আদেশ দিয়েছেন, আমরা যেনো ততোক্ষণ পর্যন্ত কোনো রসূলের প্রতি ঈমান না আনি, যতোক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন এক কুরবানি হাজির করবে যাকে আগুন গ্রাস করে নেবে।’ (হে মুহাম্মদ!) তাদের বলো: আমার আগে তো তোমাদের কাছে অনেক রসূল এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন সমূহ নিয়ে এবং তোমরা যা বলছো তা নিয়ে, তারপরও কেন তোমরা তাদের হত্যা করেছিলে যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো?
তাহারা যদি তোমাকে অস্বীকার করে, তোমার পূর্বে যে সকল রাসূল স্পষ্ট নিদর্শন, আসমানী সহীফা এবং দীপ্তিমান কিতাবসহ আসিয়াছিল তাহাদেরকেও তো অস্বীকার করা হইয়াছিল।
ফাইন্ কায্যাবূকা ফাক্বাদ্ কুয্যিবা রুসুলুম্ মিন্ ক্বাব্লিকা জ্বা - উ বিল্বায়্যিনা-তি অয্যুবুরি অল্ কিতা-বিল্ মুর্নী।
(হে মুহাম্মদ!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে অস্বীকার করেই, তবে তোমার পূর্বেও তারা বহু রসূলকে অস্বীকার করেছিল যারা সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ, যবুর (ছোট কিতাব) এবং আলো বিতরণকারী কিতাব নিয়ে (তাদের কাছে) এসেছিল।
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিবে। কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হইবে। যাহাকে অগ্নি হইতে দূরে রাখা হইবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হইবে সে - ই এবং পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়।
কুল্লু নাফ্সিন্ যা-য়িকাতুল্ মাওত্ অইন্নামা- তুওয়াফ্ফাওনা উজ্ব ূরাকুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ ফামান্ যুহ্যিহা'আনিন্না-রি অউদ্খিলাল্ জ্বান্নাতা ফাক্বাদ্ ফা-য্ অমাল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া য় ইল্লা-মাতা-'উল্ গুর্রূ।
প্রত্যেক ব্যক্তিই মউতের স্বাদ গ্রহণ করবে। কিয়ামতকালে তোমাদের কাজের প্রতিদান তোমাদের পুরোপুরি দেয়া হবে। তখন যাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা হবে এবং দাখিল করা হবে জান্নাতে, সে - ই হবে । দুনিয়ার হায়াতটা প্রতারণার বস্ত্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।
তোমাদেরকে নিশ্চয়ই তোমাদের ধনৈশ্বর্য ও জীবন সম্বন্ধে পরীক্ষা করা হইবে। তোমাদের পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের এবং মুশরিকদের নিকট হইতে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনিবে। যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং তাক্ওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয়ই উহা হইবে দৃঢ়সংকল্পের কাজ।
লাতুব্লাউন্না ফী য় আম্ওয়া-লিকুম্ অআন্ফুসিকুম্ অলাতাস্মা'উন্না মিনাল্লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা মিন্ ক্বাব্লিকুম অমিনাল্লাযীনা আশ্রাকূ য় আযান্ কাছীরা- অইন্ তাছ্বিরূ অতাত্তাকু ফাইন্না যা-লিকা মিন্ 'আয্মিল্ উর্মূ।
তোমাদের মাল - সম্পদ এবং তোমাদের জীবন সম্পর্কে অবশ্য অবশ্যি তোমাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। তাছাড়া তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের থেকে এবং মুশরিকদের থেকে তোমরা অবশ্য অবশ্যি অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। তবে তোমরা যদি (তোমাদের আদর্শের উপর) অটল থাকো এবং সতর্কতা অবলম্বন করো তবে এটাই হবে মজবুত সংকল্পের কাজ।
স্মরণ কর, যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের প্রতিশ্রুতি লইয়াছিলেন : ‘তোমরা উহা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশ করিবে এবং উহা গোপন করিবে না।’ ইহার পরও তাহারা উহা অগ্রাহ্য করে ও তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে ; সুতরাং তাহারা যাহা ক্রয় করে তাহা কত নিকৃষ্ট !
অইয্ আখাযাল্লা-হু মীছা-ক্বাল্লাযীনা ঊতুল্ কিতা-বা লাতুবাইয়্যিনুন্নাহূ লিন্না-সি অলা- তাক্তুমূনাহূ ফানাবাযূহু অরা - য়া জুহূরিহিম্ অশ্তারাও বিহী ছামানান্ ক্বালীলা- ফাবিসা মা-ইয়াশ্তারূন্।
স্মরণ করো, যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের থেকে এই অংগীকার নিয়েছিলেন: ‘তোমরা তা (তোমাদেরকে প্রদত্ত কিতাব) মানুষের জন্যে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবেনা।’ কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করে এবং এর বিনিময়ে তারা ক্রয় করে নগণ্য স্বার্থ। তারা যা ক্রয় করে তা কতো যে নিকৃষ্ট!
যাহারা নিজেরা যাহা করিয়াছে তাহাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যাহা নিজেরা করে নাই এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হইতে ভালবাসে, তাহারা শাস্তিহইতে মুক্তি পাইবে - এইরূপ তুমি কখনও মনে করিও না। তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।
লা-তাহ্সাবান্নাল্লাযীনা ইয়াফ্রাহূনা বিমা য় আতাও অইয়ুহিব্বূনা আইঁ ইয়ুহ্মাদূ বিমা-লাম্ ইয়াফ্'আলূ ফালা- তাহ্সাবান্নাহুম্ বিমাফা-যাতিম্ মিনাল্ 'আযা-বি অলাহুম্ 'আযা-বুন্ আলীম্।
তারা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে, আর যা করেনি তার জন্যে প্রশংসার পাত্র হতে চায়। তারা আযাব থেকে রক্ষা পাবে - এমন ধারণা করোনা। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
আসমান ও যমীনের সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই; সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
অলিল্লা-হি মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অল্লা-হু 'আলা-কুল্লিা শাইয়িন্ ক্বার্দী।
মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, আর প্রত্যেক বিষয়ে শক্তিমান।
নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রহিয়াছে বোধশক্তিসম্পন্ন লোকের জন্য।
ইন্না ফী খাল্ক্বিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অখ্তিলা-ফিল্ লাইলি অন্নাহা-রি লাআ-ইয়া-তিল্ লিঊলিল্ আল্বা-ব্।
মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে রয়েছে জ্ঞান - বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে অনেক নিদর্শন,
যাহারা দাঁড়াইয়া, বসিয়া ও শুইয়া আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তকরে ও বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি ইহা নিরর্থক সৃষ্টি কর নাই, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদেরকে দোজখের শাস্তি হইতে রক্ষা কর।
আল্লাযীনা ইয়ায্কুরূনাল্লা-হা ক্বিয়া-মাওঁ অক্ব ু'ঊদাওঁ অ'আলা-জ্ব ুনূ বিহিম্ অইয়াতাফাক্কারূনা ফী খাল্ক্বিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি রব্বানা- মা- খালাক্ব্তা হা-যা-বা-ত্বিলা- সুব্হা-নাকা ফাক্বিনা- 'আযা-বান্ নার্-।
যারা আল্লাহকে যিকির করে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে এবং যারা চিন্তা ফিকির করে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে আর বলে: ‘‘আমাদের প্রভু! তুমি এসব অকারণে সৃষ্টি করোনি, তুমি সব কিছুর ত্রুটিমুক্ত নিখুঁত পরিচালক। অতএব তুমি আমাদের রক্ষা করো আগুনের আযাব থেকে।
‘হে আমাদের প্রতিপালক! কাহাকেও তুমি দোজখে নিক্ষেপ করিলে তাহাকে তো তুমি নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত করিলে এবং জালিমদের কোন সাহায্যকারী নাই;
রব্বানা য় ইন্নাকা মান্ তুদ্খিলিন্না-রা ফাক্বাদ্ আখ্যাইতাহূ অমা- লিজ্জোয়া-লিমীনা মিন্ আনছোয়ার্-।
আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই তুমি যাকে দাখিল করবে আগুনে, তাকে অবশ্যি লাঞ্ছিত করে ছাড়বে, আর যালিমদের জন্যে থাকবেনা কোনোই সাহায্যকারী।
‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা এক আহ্বায়ককে ঈমানের দিকে আহ্বান করিতে শুনিয়াছি, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান আনিয়াছি। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজগুলি দূরীভূত কর এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করিয়া মৃত্যু দিও।
রব্বানা য় ইন্নানা- সামি'না- মুনা দিয়াইঁ ইয়ুনা-দী লিল্ঈমা-নি আন্ আ-মিনূ বিরব্বিকুম্ ফাআ-মান্না- রব্বানা- ফার্গ্ফিলানা-যুনূবানা-অকার্ফ্ফি 'আন্না-সাইয়িআ-তিনা-অতাওয়াফ্ফানা- মা'আল্ আব্রার্-।
আমাদের প্রভু! আমরা শুনেছি একজন আহবায়ককে আহবান করছেন ঈমানের দিকে (এই বলে:) ‘তোমরা ঈমান আনো তোমাদের প্রভুর প্রতি’। (তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে) আমরা ঈমান এনেছি। আমাদের প্রভু! অতএব তুমি ক্ষমা করে দাও আমাদের সমস্ত পাপ, আমাদের থেকে ঢেকে মুছে দাও আমাদের সমস্ত মন্দকর্ম ও ত্রুটি বিচ্যুতি, আর আমাদের ওফাত দান করো পুণ্যবানদের সাথে।
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যাহা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়াছ তাহা আমাদেরকে দাও এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে হেয় করিও না। নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম কর না।’
রব্বানা- অআ-তিনা-মা-অ'আত্তানা- 'আলা-রুসুলিকা অলা-তুখ্যিনা-ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ ইন্নাকা লা-তুখ্লিফুল্ মী'আ-দ্।
আমাদের প্রভু! তোমার রসূলদের মাধ্যমে আমাদের যা দেবে বলে ওয়াদা দিয়েছো তা আমাদের দাও আর কিয়ামতের দিন আমাদের অপমানিত করোনা। নিশ্চয়ই তুমি খেলাফ করোনা ওয়াদা।’’
অতঃপর তাহাদের প্রতিপালক তাহাদের ডাকে সাড়া দিয়া বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে কর্মনিষ্ঠ কোন নর অথবা নারীর কর্ম বিফল করি না ; তোমরা একে অপরের অংশ। সুতরাং যাহারা হিজরত করিয়াছে, নিজ গৃহ হইতে উৎখাত হইয়াছে, আমার পথে নির্যাতিত হইয়াছে এবং যুদ্ধ করিয়াছে ও নিহত হইয়াছে আমি তাহাদের পাপ কাজগুলি অবশ্যই দূরীভূত করিব এবং অবশ্যই তাহাদেরকে দাখিল করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। ইহা আল্লাহর নিকট হইতে পুরস্কার; উত্তম পুরস্কার আল্লাহরই নিকট।
ফাস্তাজ্বা-বা লাহুম্ রব্বুহুম্ আন্নী লা য় উদ্বী'উ 'আমালা 'আ-মিলিম্ মিন্কুম্ মিন্ যাকারিন্ আও উন্ছা- বা'দ্বুকুম্ মিম্ বা'দ্বিন্ ফাল্লাযীনা হা-জ্বারূ অউখ্রিজ্ব ূ মিন দিয়া-রিহিম অঊযূ ফী সাবীলী অক্বা-তালূ অক্ব ুতিলূ লাউকাফ্ফিরান্না 'আন্হুম্ সাইয়িআ-তিহিম্ অলাউদ্খিলান্নাহুম্ জ্বান্না-তিন্ তাজ্ব ্রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু ছাওয়া- বাম্ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হ্ অল্লা-হু 'ইন্দাহূ হুস্নুছ্ ছাওয়া-ব্।
ফলে তাদের প্রভু তাদের দোয়ার জওয়াব দিয়েছেন এই বলে: ‘আমি তোমাদের কোনো পুরুষ বা নারী আমলকারীর আমল বিনষ্ট করিনা। তোমরা একই দলের সদস্য। তাই যারাই আমার জন্যে হিজরত করেছে এবং যাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, আমার পথে কষ্ট দেয়া হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে এবং যারা যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি অবশ্য অবশ্যি তাদের থেকে মুছে দেবো তাদের পাপ ও দোষত্রুটি এবং অবশ্য অবশ্যি তাদের দাখিল করবো সেইসব জান্নাতে, যেগুলোর নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ - নদী - নহর। এগুলো তারা পাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে আর উত্তম পুরস্কার তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে।’
যাহারা করিয়াছে, দেশে দেশে তাহাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।
লা-ইয়ার্গুরান্নাকা তাক্বাল্লুবুল্লাযীনা কাফারূ ফিল্বিলা-দ্।
যারা কুফুরি করেছে, বিশ্বের বুকে তাদের অবাধ বিচরণ যেনো তোমাদের প্রতারিত না করে।
ইহা স্বল্পকালীন ভোগমাত্র; অতঃপর জাহান্নাম তাহাদের আবাস ; আর উহা কত নিকৃষ্ট ঠিকানা!
মাতা-'উন্ ক্বালীলুন্ ছুম্মা মাওয়া-হুম্ জ্বাহান্নাম্ অবিসাল্ মিহা-দ্।
এ তো স্বল্পকালীন ভোগমাত্র। তারপরই তাদের আবাস হবে জাহান্নাম, আর তা যে কতো নিকৃষ্ট ঠিকানা!
কিন্তু যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে। ইহা আল্লাহর পক্ষ হইতে আতিথ্য;
লা-কিনিল্ লাযী নাত্তাক্বাও রব্বাহুম্ লাহুম্ জ্বান্না-তুন্ তাজ্ব ্রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খা-লিদীনা ফীহা- নুযুলাম্ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি অমা-'ইন্দাল্লা-হি খাইরুল্ লিল্আব্রার্-।
তবে যারা তাদের প্রভুকে ভয় করবে, তাদের জন্যে থাকবে জান্নাতসমূহ, যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এ হবে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে মেহমানদারি। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে পুণ্যবানদের জন্যে তাই সর্বোত্তম।
কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক আছে যাহারা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হইয়া তাঁহার প্রতি এবং তিনি যাহা তোমাদের ও তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে অবশ্যই ঈমান আনে এবং আল্লাহর আয়াত তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে না; ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য আল্লাহর নিকট পুরস্কার রহিয়াছে। নিশ্চয় দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
অইন্না মিন্ আহ্লিল্ কিতা-বি লামাইঁ ইয়ুমিনু বিল্লা-হি অমা য় উন্যিলা ইলাইকুম্ অমা য় উন্যিলা ইলাইহিম্ খা-শি'ঈনা লিল্লা-হি লা-ইয়াশ্তারূনা বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ছামানান্ ক্বালীলা- উলা- য়িকা লাহুম্ আজ্রুহুম্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ ইন্নাল্লা-হা সারী'উল্ হিসা-ব্।
আহলে কিতাবদের মধ্যে অবশ্যি এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হয়ে ঈমান আনে, এবং ঈমান আনে তোমাদের কাছে যা (যে কিতাব) নাযিল হয়েছে তার প্রতি এবং তাদের কাছে যা (যে কিতাব) নাযিল হয়েছে তার প্রতি; আর তারা নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করেনা আল্লাহর আয়াত। এরা সেইসব লোক যাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তাদের পুরস্কার। অবশ্যি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
হে ঈমানদারগণ ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক, কে ভয় কর যাহাতে তোমরা হইতে পার।
ইয়া য় আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানুছ্ বিরূ অছোয়া-বিরূ অরা-বিত্ব ূ অত্তাক্ব ুল্লা-হা লা'আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।
হে লোকেরা! তোমরা সবর অবলম্বন করো, সবরের প্রতিযোগিতা করো এবং ঐক্যবদ্ধ থাকো, আর ভয় করো আল্লাহকে, অবশ্যি তোমরা হবে।