Kitab

আন্ নিসা (নারী)

Chapter 4, 176 verses

  • সমকালীন বাংলা
  • Word by word
  • আবদুস শহীদ নাসিম
সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; হে মানবগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হইতেই সৃষ্টি করিয়াছেন ও যিনি তাহা হইতে তাহার স্ত্রী সৃষ্টি করেন, যিনি তাহাদের দুইজন হইতে বহু নর - নারী ছড়াইয়া দেন; এবং আল্লাহকে ভয় কর যাঁহার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা কর, এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতিবন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয়ই তোমাদের উপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمُ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَٰحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَآءً وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِى تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلْأ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমরা সতর্ক হও তোমাদের রবের প্রতি, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি আত্মা থেকে। আর তা থেকেই সৃষ্টি করেছেন তার জুড়ি। অত:পর তাদের দু’জন থেকে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য পুরুষ ও নারী। তোমরা ভয় করো আল্লাহকে, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা (পরস্পর থেকে) তোমাদের অধিকার দাবি করো। আর সতর্ক হও রক্ত সম্পর্কের নিকটাত্মীয়দের (অধিকারের) ব্যাপারে। নিশ্চয়ই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধানকারী পাহারাদার।

সমকালীন বাংলা

ইয়াতীমদেরকে তাহাদের ধন - সম্পদ সমর্পণ করিবে এবং ভালর সঙ্গে মন্দ বদল করিবে না। তোমাদের সম্পদের সঙ্গে তাহাদের সম্পদ মিশাইয়া গ্রাস করিও না ; নিশ্চয়ই ইহা মহাপাপ।

Word by word

وَءَاتُوا۟ ٱلْيَتَٰمَىٰٓ أَمْوَٰلَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا۟ ٱلْخَبِيثَ بِٱلطَّيِّبِ وَلَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَهُمْ إِلَىٰٓ أَمْوَٰلِكُمْ إِنَّهُۥ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

দিয়ে দাও এতিমদেরকে তাদের মাল - সম্পদ। ভালো সম্পদের সাথে মন্দ সম্পদ বদল করোনা। তোমরা গ্রাস করোনা তাদের মাল - সম্পদ তোমাদের মাল - সম্পদের সাথে মিশিয়ে নিয়ে। কারণ, এটা একটা কবিরা গুনাহ্।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যদি আশংকা কর, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করিতে পারিবে না, তবে বিবাহ করিবে নারীদের মধ্যে যাহাকে তোমাদের ভাল লাগে, দুই, তিন অথবা চার; আর যদি আশংকা কর যে, সুবিচার করিতে পারিবে না তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে। ইহাতে পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা অধিকতর।

Word by word

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا۟ فِى ٱلْيَتَٰمَىٰ فَٱنكِحُوا۟ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثْنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا۟ فَوَٰحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ ذ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা যদি আশংকা করো, এতিম - মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে যেসব নারীদের তোমরা পছন্দ করো, তাদের মধ্য থেকে বিয়ে করে নাও দুই, তিন, বা চারজনকে। কিন্তু, যদি আশংকা করো (একাধিক বিয়ে করলে) স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে একটি বিয়ে করো, অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত মেয়ে। বেইনসাফি থেকে বাঁচার জন্যে এ ব্যবস্থাই অধিকতর সঠিক।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা নারীদেরকে তাহাদের মাহর স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া প্রদান করিবে; সন্তুষ্টচিত্তে তাহারা মাহরের কিয়দংশ ছাড়িয়া দিলে তোমরা তাহা স্বচ্ছন্দে ভোগ করিবে।

Word by word

وَءَاتُوا۟ ٱلنِّسَآءَ صَدُقَٰتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَىْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيٓـًٔا مَّرِيٓـًٔا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা (যাদের বিয়ে করবে তাদের অর্থাৎ) স্ত্রীদের মোহর খোলামনে আনন্দচিত্তে দিয়ে দাও। তবে তারা নিজেরাই যদি সন্তুষ্টচিত্তে (মোহরানার) কিছু অংশ মাফ করে দেয়, তবে তোমরাও সানন্দে তা গ্রহণ করতে পারো।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের সম্পদ, যাহা তোমাদের জন্য উপজীবিকা করিয়াছেন, তাহা নির্বোধ মালিকগণের হাতে অর্পণ করিও না ; উহা হইতে তাহাদের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করিবে এবং তাহাদের সঙ্গে সদালাপ করিবে।

Word by word

وَلَا تُؤْتُوا۟ ٱلسُّفَهَآءَ أَمْوَٰلَكُمُ ٱلَّتِى جَعَلَ ٱللَّهُ لَكُمْ قِيَٰمًا وَٱرْزُقُوهُمْ فِيهَا وَٱكْسُوهُمْ وَقُولُوا۟ لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوفًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের মাল - সম্পদ তুলে দিওনা, যা তোমাদের জীবন ধারণের মাধ্যম বানিয়েছেন। তবে তা থেকে তাদের খাওয়া পরার ব্যবস্থা করবে এবং তাদের সাথে উত্তম - উপদেশমূলক কথা বলবে।

সমকালীন বাংলা

ইয়াতীমদেরকে যাচাই করিবে যে পর্যন্তনা তাহারা বিবাহযোগ্য হয় ; এবং তাহাদের মধ্যে ভালমন্দ বিচারের জ্ঞান দেখিলে তাহাদের সম্পদ তাহাদের ফিরাইয়া দিবে। তাহারা বড় হইয়া যাইবে বলিয়া অপচয় করিয়া তাড়াতাড়ি খাইয়া ফেলিও না। যে অভাবমুক্তসে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণে ভোগ করে। তোমরা যখন তাহাদেরকে তাহাদের সম্পদ সমর্পণ করিবে তখন সাক্ষী রাখিও। হিসাব গ্রহণে আল্লাহরই যথেষ্ট।

Word by word

وَٱبْتَلُوا۟ ٱلْيَتَٰمَىٰ حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغُوا۟ ٱلنِّكَاحَ فَإِنْ ءَانَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَٱدْفَعُوٓا۟ إِلَيْهِمْ أَمْوَٰلَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَآ إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَن يَكْبَرُوا۟ وَمَن كَانَ غَنِيّ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা এতিমদের যাচাই - পরীক্ষা করতে থাকো, যতোদিন তারা বিবাহযোগ্য - বালেগ না হয়। অত:পর যদি তোমরা তাদের মধ্যে ভালোমন্দ যাচাই করার মতো যোগ্যতার সন্ধান পাও, তখন তাদের মাল - সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করে দাও। তারা বড় হয়ে তাদের সম্পদ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এই ভয়ে অপচয় করে তাদের সম্পদ তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলোনা। যে (এতিমের যে তত্ত্বাবধানকারী) সম্পদশালী, সে যেনো (এতিমদের সম্পদ থেকে তত্ত্বাবধানের খরচ নেয়া থেকে) বিরত থাকে। তবে অভাবী হলে প্রচলিত সঙ্গত পরিমাণ গ্রহণ করবে। যখন তাদের সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করবে, তখন তাতে সাক্ষী রাখবে। আর হিসাব নেয়ার জন্যে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।

সমকালীন বাংলা

পিতা - মাতা এবং আত্মীয় - স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতা - মাতা ও আত্মীয় - স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, উহা অল্পই হউক অথবা বেশিই হউক, এক নির্ধারিত অংশ।

Word by word

لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ ٱلْوَٰلِدَانِ وَٱلْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ ٱلْوَٰلِدَانِ وَٱلْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا

আবদুস শহীদ নাসিম

বাবা - মা ও আত্মীয় - স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থ - সম্পদে পুরুষ (ওয়ারিশদের) অংশ রয়েছে, আর আর বাবা - মা ও আত্মীয় - স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থ সম্পদে নারী (ওয়ারিশদের)ও অংশ রয়েছে, তা কমই হোক কিংবা বেশি। (উভয়ের) প্রাপ্য নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ।

সমকালীন বাংলা

সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয়, ইয়াতীম এবং অভাবগ্রস্তলোক উপস্থিত থাকিলে তাহাদেরকে উহা হইতে কিছু দিবে এবং তাহাদের সঙ্গে সদালাপ করিবে।

Word by word

وَإِذَا حَضَرَ ٱلْقِسْمَةَ أُو۟لُوا۟ ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينُ فَٱرْزُقُوهُم مِّنْهُ وَقُولُوا۟ لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوفًا

আবদুস শহীদ নাসিম

(ওয়ারিশি অর্থ - সম্পদ) বণ্টনকালে (ওয়ারিশ নয় এমন) আত্মীয় এবং এতিম ও অভাবী লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা থেকে কিছু দেবে এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলবে।

সমকালীন বাংলা

তাহারা যেন ভয় করে যে, অসহায় সন্তান পিছনে ছাড়িয়া গেলে তাহারাও তাহাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হইত। সুতরাং তাহারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সংগত কথা বলে।

Word by word

وَلْيَخْشَ ٱلَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا۟ مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَٰفًا خَافُوا۟ عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَلْيَقُولُوا۟ قَوْلًا سَدِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

একথা ভেবে সবারই ভয় করা উচিত যে, তারাও যদি অসহায় সন্তান রেখে (মারা) যেতো, তবে (মৃত্যুর সময়) তারা কতো যে উদ্বিগ্ন হতো! সুতরাং তারা যেনো আল্লাহকে ভয় করে এবং সরল - সঠিক কথা বলে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ইয়াতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে তাহারা তো তাহাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে; তাহারা অচিরেই দোজখের জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করিবে।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَٰلَ ٱلْيَتَٰمَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা যুলুম করে (অন্যায়ভাবে) এতিমদের মাল - সম্পদ গ্রাস করে, তারা ভক্ষণ করে তাদের উদরে আগুন এবং তাদেরকে দগ্ধ করা হবে জ্বলন্ত আগুনে।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিতেছেন : এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান, কিন্তু কেবল কন্যা দুই - এর অধিক থাকিলে তাহাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই - তৃতীয়াংশ, আর মাত্র এক কন্যা থাকিলে তাহার জন্য অর্ধাংশ। তাহার সন্তান থাকিলে তাহার পিতা - মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক - ষষ্ঠাংশ ; সে নিঃসন্তান হইলে এবং পিতা - মাতাই উত্তরাধিকারী হইলে তাহার মাতার জন্য এক - তৃতীয়াংশ ; তাহার ভাই - বোন থাকিলে মাতার জন্য এক - ষষ্ঠাংশ; এ সবই সে যাহা ওসিয়াত করে তাহা দেওয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে উপকারে কে তোমাদের নিকটতর তাহা তোমরা অবগত নও। নিশ্চয়ই ইহা আল্লাহর বিধান; সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

يُوصِيكُمُ ٱللَّهُ فِىٓ أَوْلَٰدِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ ٱلْأُنثَيَيْنِ فَإِن كُنَّ نِسَآءً فَوْقَ ٱثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِن كَانَتْ وَٰحِدَةً فَلَهَا ٱلنِّصْفُ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلّ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের অসিয়ত (নির্দেশ) করছেন তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকার) সম্পর্কে: এক ছেলে সন্তান পাবে দুই মেয়ে সন্তানের সমান।কিন্তু তারা(ওয়ারিশরা) যদি শুধু মেয়ে সন্তান হয় এবং তারা যদি দুয়ের অধিক হয়, তবে তারা পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের তিনভাগের দুইভাগ পাবে। কিন্তু কেউ যদি একমাত্র কন্যা রেখে যায়, তবে সে (পরিত্যক্ত সম্পদের) অর্ধেক পাবে। কেউ যদি সন্তান (এবং পিতা - মাতা) রেখে মারা যায়, তাহলে তার বাবা - মা প্রত্যেকেই ছয় ভাগের একভাগ করে পাবে। কিন্তু সে যদি নিঃসন্তান হয় এবং ওয়ারিশ হিসেবে বাবা - মা দু’জনকেই রেখে যায়, তবে তার মা পাবে তিনভাগের একভাগ। তবে সে যদি ভাইবোনও রেখে যায়, তবে তার মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ। এভাবে ওয়ারিশি বণ্টন করতে হবে মৃত ব্যক্তি যদি কোনো অসিয়ত করে যায় কিংবা কোনো দেনা রেখে যায়, সেগুলো পরিশোধ করার পর।তোমরা তো জানো না, তোমাদের বাবা - মা এবং সন্তানের মধ্যে তোমাদের জন্য লাভের দিক থেকে কে বেশি নিকটবর্তী? (উত্তরাধিকার বণ্টন এবং বণ্টনের এই হার) কর্তৃক নির্ধারিত আইন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী এবং পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য, যদি তাহাদের কোন সন্তান না থাকে এবং তাহাদের সন্তান থাকিলে তোমাদের জন্য তাহাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির একচতুর্থাংশ; তাহাদের ওসিয়াত পালন এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের সন্তান না থাকিলে তাহাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক - চতুর্থাংশ, আর তোমাদের সন্তান থাকিলে তাহাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক - অষ্টমাংশ; তোমরা যাহা ওসিয়াত করিবে তাহা দেওয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যদি পিতা - মাতা ও সন্তানহীন কোন পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকারী থাকে তাহার এক বৈপিত্রেয় ভাই অথবা ভগ্নী, তবে প্রত্যেকের জন্য একষষ্ঠাংশ। তাহারা ইহার অধিক হইলে সকলে সমঅংশীদার হইবে এক - তৃতীয়াংশে; ইহা যাহা ওসিয়াত করা হয় তাহা দেওয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর, যদি কাহারও জন্য ক্ষতিকর না হয় ইহা আল্লাহর নির্দেশ, সর্বজ্ঞ, সহনশীল।

Word by word

وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَٰجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ ٱلرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنۢ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَآ أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ ٱلرُّبُع

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের স্ত্রীরা যদি সন্তান না রেখে মারা যায়, তবে তাদের পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের অর্ধেক তোমরা (স্বামীরা) পাবে। কিন্তু তারা যদি সন্তান রেখে যায়, তবে তাদের পরিত্যাক্ত অর্থ - সম্পদের চার ভাগের এক ভাগ তোমরা (স্বামীরা) পাবে, অসিয়ত এবং দেনা পরিশোধ করার পর। তোমাদের (স্বামীদের) পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের চার ভাগের এক ভাগ তারা (স্ত্রীরা) পাবে, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু তোমাদের সন্তান থাকলে তোমাদের পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ তারা পাবে, তোমাদের অসিয়ত এবং দেনা পরিশোধের পর। যদি এমন কোনো পুরুষ বা নারী মারা যায়, যার (ওয়ারিশি পাওয়ার জন্যে) সন্তান নেই, বাবা - মাও বেঁচে নেই, তবে একজন ভাই এবং একজন বোন আছে, সে ক্ষেত্রে উভয়ের প্রত্যেকেই ছয় ভাগের একভাগ পাবে। কিন্তু (তার ওয়ারিশ) এর চাইতে বেশি হলে তারা প্রত্যেকেই এক তৃতীয়াংশ (তিন ভাগের এক ভাগে) সমান অংশীদার হবে। এসব বণ্টনই অসিয়ত এবং ঋণ পরিশোধের পর করতে হবে, যদি তা ক্ষতিকর না হয়। (ওয়ারিশি বণ্টন বিষয়ে) এগুলো হলো আল্লাহর অসিয়ত (নির্দেশ, আইন, বিধান)। আর মহাজ্ঞানী, মহাধৈর্যশীল।

সমকালীন বাংলা

এইসব নির্ধারিত সীমা। কেহ ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করিলে তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং ইহা মহাসাফল্য।

Word by word

تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ يُدْخِلْهُ جَنَّٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا وَذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো (ওয়ারিশি বিষয়ে) আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা। যে কেউ এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতসমূহের মধ্যে, যেগুলোর নিচে দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নদ - নদী নহর। সেগুলোর মধ্যে তারা থাকবে চিরকাল। আর এটাই মহাসাফল্য।

সমকালীন বাংলা

আর কেহ ও তাহার রাসূলের অবাধ্য হইলে এবং তাঁহার নির্ধারিত সীমালংঘন করিলে তিনি তাহাকে দোজখে নিক্ষেপ করিবেন ; সেখানে সে স্থায়ী হইবে এবং তাহার জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।

Word by word

وَمَن يَعْصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُۥ يُدْخِلْهُ نَارًا خَٰلِدًا فِيهَا وَلَهُۥ عَذَابٌ مُّهِينٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যে কেউ অমান্য করবে এবং তাঁর রসূলের নির্দেশ এবং লংঘন করবে তাঁর (আল্লাহর নির্ধারিত) সীমানা, তিনি তাকে দাখিল করবেন আগুনে (জাহান্নামে)। সেখানেই সে থাকবে চিরকাল। তা ছাড়া তার জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের নারীদের মধ্যে যাহারা ব্যভিচার করে তাহাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হইতে চার জন সাক্ষী তলব করিবে। যদি তাহারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাহাদেরকে গৃহে অবরুদ্ধ করিবে, যে পর্যন্ত না তাহাদের মৃত্যু হয় অথবা তাহাদের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করেন।

Word by word

وَٱلَّٰتِى يَأْتِينَ ٱلْفَٰحِشَةَ مِن نِّسَآئِكُمْ فَٱسْتَشْهِدُوا۟ عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِّنكُمْ فَإِن شَهِدُوا۟ فَأَمْسِكُوهُنَّ فِى ٱلْبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّىٰهُنَّ ٱلْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ ٱللَّهُ لَهُنَّ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যেসব নারী ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয় (বলে অভিযোগ উঠে), তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করাও। তারা (চারজনই) যদি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়, তবে তাকে গৃহবন্দী করে রাখো যতোদিন না তার মৃত্যু হয়, অথবা এ ধরনের নারীদের বিষয়ে কোনো বিধান নাযিল করেন।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে যে দুইজন ইহাতে লিপ্ত হইবে তাহাদেরকে শাস্তিদিবে। যদি তাহারা তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করিয়া নেয় তবে তাহা হইতে নিবৃত্ত থাকিবে। নিশ্চয়ই পরম তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।

Word by word

وَٱلَّذَانِ يَأْتِيَٰنِهَا مِنكُمْ فَـَٔاذُوهُمَا فَإِن تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا۟ عَنْهُمَآ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে যে দুইজন ঐ কর্মে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হবে, (প্রমাণিত হলে) তাদের দন্ড দাও। আর তারা যদি তওবা করে এবং নিজেদের ইসলাহ করে নেয়, তবে তাদের (শাস্তি) উপেক্ষা করো। নিশ্চয়ই তওবা কবুলকারী পরম দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

অবশ্যই সেইসব লোকের তওবা কবূল করিবেন যাহারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে এবং সত্বর তওবা করে, ইহারাই তাহারা, যাহাদের তওবা কবূল করেন। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

إِنَّمَا ٱلتَّوْبَةُ عَلَى ٱللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَٰلَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُو۟لَٰٓئِكَ يَتُوبُ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, সেই সব লোকদের তওবাই কবুল করেন, যারা অজ্ঞতা বা ভুলবশত মন্দ কর্ম করে ফেলে এবং পরক্ষণেই ভীষণ অনুতপ্ত হয় ও তওবা করে। এরাই সেইসব লোক যাদের তওবা কবুল করেন। আর তো সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।

সমকালীন বাংলা

তওবা তাহাদের জন্য নহে যাহারা আজীবন মন্দ কাজ করে, অবশেষে তাহাদের কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হইলে সে বলে, ‘আমি এখন তওবা করিতেছি’ এবং তাহাদের জন্যও নহে, যাহাদের মৃত্যু হয় অবস্থায়। ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তির ব্যবস্থা করিয়াছি।

Word by word

وَلَيْسَتِ ٱلتَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ حَتَّىٰٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ ٱلْمَوْتُ قَالَ إِنِّى تُبْتُ ٱلْـَٰٔنَ وَلَا ٱلَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُو۟لَٰٓئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَ

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐসব লোকদের অনুতপ্ত হওয়া বা তওবা করা নিষ্ফল, যারা মন্দ কর্ম চালিয়ে যেতেই থাকে। অত:পর যখন তাদের কারো মউত এসে হাজির হয়, তখন সে বলে: ‘আমি এখন তওবা করছি’। আর ঐসব লোকদের তওবাও নিষ্ফল, যাদের মউত হয় কুফুরিতে নিমজ্জিত থাকা অবস্থায়। এসব লোকদের জন্যেই আমরা প্রস্তুত রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব (Painful torment)।

সমকালীন বাংলা

হে ঈমানদারগণ! নারীদেরকে জবরদস্তি উত্তরাধিকার গণ্য করা তোমাদের জন্য বৈধ নহে। তোমরা তাহাদেরকে যাহা দিয়াছ তাহা হইতে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাহাদেরকে অবরুদ্ধ করিয়া রাখিও না, যদি না তাহারা স্পষ্ট ব্যভিচার করে। তাহাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবন যাপন করিবে ; তোমরা যদি তাহাদেরকে অপসন্দ কর তবে এমন হইতে পারে যে, যাহাতে প্রভূত কল্যাণ রাখিয়াছেন তোমরা তাহাকেই অপসন্দ করিতেছ।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا۟ ٱلنِّسَآءَ كَرْهًا وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا۟ بِبَعْضِ مَآ ءَاتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّآ أَن يَأْتِينَ بِفَٰحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ وَعَاشِرُوهُ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের জন্যে হালাল নয় নারীদের ওয়ারিশ হয়ে বসা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আর তোমরা তাদের হয়রানি করো না তাদেরকে দেয়া সম্পদের (মোহরানার) কিছু অংশ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে। তবে তারা প্রমাণিত ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়ে থাকলে ভিন্ন কথা। তাদের সাথে ভদ্রোচিত ও সম্মানজনকভাবে বাস করো। তোমরা যদি তাদের (স্ত্রীদের) অপছন্দ করো, তবে এমনো হতে পারে যে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছো, অথচ তাতে দান করবেন প্রভূত কল্যাণ।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির কর এবং তাহাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়া থাক, তবুও উহা হইতে কিছুই প্রতিগ্রহণ করিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা উহা গ্রহণ করিবে?

Word by word

وَإِنْ أَرَدتُّمُ ٱسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ وَءَاتَيْتُمْ إِحْدَىٰهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا۟ مِنْهُ شَيْـًٔا أَتَأْخُذُونَهُۥ بُهْتَٰنًا وَإِثْمًا مُّبِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি একজন স্ত্রী বাদ দিয়ে তার জায়গায় আরেকজন স্ত্রী গ্রহণ করার এরাদা করো, এবং (যাকে বাদ দেবে) তাকে যদি প্রচুর অর্থ - সম্পদও দিয়ে থাকো, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত নিওনা। তোমরা কি অপবাদ দিয়ে এবং সুস্পষ্ট পাপ কাজ করে তা ফেরত নেবে?

সমকালীন বাংলা

আর কিরূপে তোমরা উহা গ্রহণ করিবে, যখন তোমরা একে অপরের সঙ্গে সংগত হইয়াছ এবং তাহারা তোমাদের নিকট হইতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি লইয়াছে?

Word by word

وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُۥ وَقَدْ أَفْضَىٰ بَعْضُكُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيثَٰقًا غَلِيظًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কী করে তা ফেরত নিতে পারো, অথচ তোমরা একজন আরেকজনের থেকে স্বাদ গ্রহণ করেছো এবং তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের থেকে পাকা প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?

সমকালীন বাংলা

নারীদের মধ্যে তোমাদের পিতৃপুরুষ যাহাদের বিবাহ করিয়াছে, তোমরা তাহাদের বিবাহ করিও না; পূর্বে যাহা হইয়াছে নিশ্চয়ই ইহা অশ্লীল, অতিশয় ঘৃণা ও নিকৃষ্ট আচরণ।

Word by word

وَلَا تَنكِحُوا۟ مَا نَكَحَ ءَابَآؤُكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُۥ كَانَ فَٰحِشَةً وَمَقْتًا وَسَآءَ سَبِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদের নিকাহ (বিয়ে) করোনা, যাদের নিকাহ করেছে তোমাদের পিতা ও পিতামহ। তবে অতীতে যা হবার হয়েছে। কারণ এ কাজ একটি ফাহেশা ও ঘৃণ্য কাজ এবং চরম নিকৃষ্ট পন্থা।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের জন্য হারাম করা হইয়াছে তোমাদের মাতা, কন্যা, ভগ্নী, ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগিনেয়ী, দুগ্ধ - মাতা, দুগ্ধ - ভগিনী, শাশুড়ি ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাহার সঙ্গে সংগত হইয়াছ তাহার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তাহার গর্ভজাত কন্যা, যাহারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাহাদের সঙ্গে সংগত না হইয়া থাক, তাহাতে তোমাদের কোন অপরাধ নাই। এবং তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী ও দুই ভগ্নীকে একত্র করা, পূর্বে যাহা হইয়াছে। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَٰتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَٰتُكُمْ وَعَمَّٰتُكُمْ وَخَٰلَٰتُكُمْ وَبَنَاتُ ٱلْأَخِ وَبَنَاتُ ٱلْأُخْتِ وَأُمَّهَٰتُكُمُ ٱلَّٰتِىٓ أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَٰعَةِ وَأُمَّهَٰت

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের জন্যে (বিয়ে করা) হারাম করা হলো: তোমাদের মা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধ - মা, দুধ বোন, শাশুড়ী। আর তোমাদের স্ত্রীদের যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছো তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে। তবে যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করোনি (অর্থাৎ সহবাস করার পূর্বেই যাদের তালাক দিয়েছো) তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যাকে বিয়ে করতে বাধা নেই। এছাড়া তোমাদের জন্যে হারাম তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের (তালাক দেয়া) স্ত্রী। হারাম দুই বোনকে একত্রে বিবাহাধীন করা, তবে পূর্বে (জাহেলি যুগে) যা হবার হয়েছে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তোমাদের জন্য ইহা আল্লাহর বিধান। উল্লেখিত নারীগণ ব্যতীত অন্য নারীকে অর্থব্যয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করিতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হইল, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। তাহাদের মধ্যে যাহাদেরকে তোমরা সম্ভোগ করিয়াছ তাহাদের নির্ধারিত মাহর অর্পণ করিবে। মাহর নির্ধারণের পর কোন বিষয়ে পরস্পর রাজী হইলে তাহাতে তোমাদের কোন দোষ নাই।

Word by word

وَٱلْمُحْصَنَٰتُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ كِتَٰبَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَآءَ ذَٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا۟ بِأَمْوَٰلِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَٰفِحِينَ فَمَا ٱسْتَم

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ সব নারীই তোমাদের জন্যে হারাম। তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বিয়ে করতে পারো। এগুলো তোমাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া অবশ্য মান্য বিধান। উল্লেখিত নারীদের বাইরে যতো নারী আছে নিজেদের অর্থ - সম্পদের (মোহরানার) বিনিময়ে তাদের (যাকে চাও) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা তোমাদের জন্যে হালাল করা হলো। তবে বিবাহ বহির্ভূত যৌন লালসা তৃপ্ত করার জন্যে কিছুতেই নয়। (বিয়ে করে) তাদের থেকে তোমরা যে যৌন স্বাদ আস্বাদন করো, তার বিনিময়ে তাদের মোহরানা ফরয হিসেবে পরিশোধ করে দাও। মোহরানা নির্ধারণের পর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে (নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশি প্রদান করতে) রাজি হয়ে যাও, তাতে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে কাহারও স্বাধীনা নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকিলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী বিবাহ করিবে; তোমাদের ঈমান সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের সমান; সুতরাং তাহাদেরকে বিবাহ করিবে তাহাদের মালিকের অনুমতিক্রমে এবং তাহাদেরকে তাহাদের মাহর ন্যায়সংগতভাবে দিবে। তাহারা হইবে সচ্চরিত্রা, ব্যভিচারিণী নয় ও উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। বিবাহিতা হইবার পর যদি তাহারা ব্যভিচার করে তবে তাহাদের শাস্তি স্বাধীনা নারীর অর্ধেক; তোমাদের মধ্যে যাহারা ব্যভিচারকে ভয় করে ইহা তাহাদের জন্য; ধৈর্য ধারণ করা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।

Word by word

وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ ٱلْمُحْصَنَٰتِ ٱلْمُؤْمِنَٰتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُم مِّن فَتَيَٰتِكُمُ ٱلْمُؤْمِنَٰتِ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَٰنِكُم بَعْضُكُم مِّنۢ بَعْضٍ فَٱنكِح

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে যে সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীদের বিয়ে করার সামর্থ রাখেনা, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের কাউকেও বিয়ে করবে। তোমাদের ঈমান সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। তোমরা একজন আরেকজন থেকে (অর্থাৎ তোমরা একই আদর্শ ও একই উম্মতভুক্ত)। সুতরাং তাদের বিয়ে করো তাদের অভিভাবকদের এযেন (অনুমতি) সাপেক্ষে এবং পরিশোধ করে দাও তাদের মোহরানা প্রচলিত ন্যায্য নিয়মে। তারা হবে সতী - সুরক্ষিত, অবৈধ যৌন নিবেদিতা নয় এবং ছেলে - বন্ধু গ্রহণকারিণীও নয়। তারা যখন বিবাহের দুর্গে আবদ্ধ হবে, তখন যদি ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়, তখন তাদের দন্ড হবে স্বাধীন সম্ভ্রান্ত নারীদের দন্ডের অর্ধেক। (বিয়ের) এই বিধানটি দেয়া হলো তোমাদের মধ্যকার সেসব লোকদের জন্যে যারা (বিয়ে না করলে) দীনের বিধান লংঘন এবং স্বাস্থ্যহানির আশংকা করে। তবে সবর অবলম্বন করা তোমাদের জন্যে উত্তম। পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকট বিশদভাবে বিবৃত করিতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি তোমাদেরকে অবহিত করিতে এবং তোমাদের ক্ষমা করিতে সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের জন্যে বয়ান করে দেয়ার এরাদা করেছেন (হালাল এবং হারামের বিধান) এবং তোমাদের পরিচালিত করতে চাইছেন তোমাদের পূর্ববর্তী ভালো লোকদের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে। আর তিনি কবুল করে নিতে চাইছেন তোমাদের তওবা - অনুশোচনা। তো আলিমুল হাকিম (সর্বজান্তা সর্বজ্ঞানী)।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের ক্ষমা করিতে চাহেন, আর যাহারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তাহারা চাহে যে, তোমরা ভীষণভাবে পথচ্যুত হও।

Word by word

وَٱللَّهُ يُرِيدُ أَن يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلشَّهَوَٰتِ أَن تَمِيلُوا۟ مَيْلًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাদা করেছেন তোমাদের তওবা ও অনুশোচনা কবুল করতে। অপরদিকে যারা কুপ্রবৃত্তির এত্তেবা (অনুসরণ) করে, তারা চায় তোমরা যেনো সত্যের পথ থেকে চরমভাবে বিচ্যুত হও।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের ভার লঘু করিতে চাহেন; মানুষ সৃষ্টি করা হইয়াছেন দুর্বলরূপে।

Word by word

يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُخَفِّفَ عَنكُمْ وَخُلِقَ ٱلْإِنسَٰنُ ضَعِيفًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাদা করেছেন তোমাদের উপর থেকে (বিধি নিষেধের) বোঝা হালকা করতে। কারণ, মানুষকে তো সৃষ্টি করা হয়েছে জয়ীফ (দুর্বল) করে।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করিও না; কিন্তু তোমাদের পরস্পরে রাজী হইয়া ব্যবসায় করা বৈধ; এবং একে অপরকে হত্যা করিও না; নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ وَلَا تَقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমরা তোমাদের পরস্পরের মাল - সম্পদ গ্রাস করোনা বাতিল পন্থায়। তবে পরস্পরের রাজি খুশির ভিত্তিতে তেজারত (ব্যবসা) করার মধ্যে দোষ নেই। তোমরা নিজেদের হত্যা করোনা। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

আর যে কেহ সীমালংঘন করিয়া অন্যায়ভাবে উহা করিবে তাহাকে অগ্নিতে দগ্ধ করিব ; ইহা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

Word by word

وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ عُدْوَٰنًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ সীমা লঙ্ঘনের মাধ্যমে এবং যুলুম করে তা করবে, আমরা তাকে নিক্ষেপ করবো আগুনে। আর এ কাজ করা আল্লাহর জন্যে একেবারেই সহজ।

সমকালীন বাংলা

তোমাদেরকে যাহা নিষেধ করা হইয়াছে তাহার মধ্যে যাহা গুরুতর তাহা হইতে বিরত থাকিলে তোমাদের লঘুতর পাপগুলি মোচন করিব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে দাখিল করিব।

Word by word

إِن تَجْتَنِبُوا۟ كَبَآئِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি কবিরা গুনাহসমূহ পরিহার করে চলো, যেগুলো করতে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে আমরা তোমাদের ছোট খাটো সব গুনাহখাতা মুছে (expiate) দেবো এবং তোমাদের দাখিল করবো অতীব সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় (জান্নাতে)।

সমকালীন বাংলা

যদ্বারা তোমাদের কাহাকেও কাহারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন তোমরা তাহার লালসা করিও না। পুরুষ যাহা অর্জন করে তাহা তাহার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যাহা অর্জন করে তাহা তাহার প্রাপ্য অংশ। আল্লাহর নিকট তাঁহার অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

Word by word

وَلَا تَتَمَنَّوْا۟ مَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بِهِۦ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا ٱكْتَسَبُوا۟ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٌ مِّمَّا ٱكْتَسَبْنَ وَسْـَٔلُوا۟ ٱللَّهَ مِن فَضْلِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ كَا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর যেসব (অনুগ্রহ) দান করে তোমাদের একজনকে আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন, তোমরা সেগুলোর লালসা করোনা। পুরুষ যা উপার্জন করে, তার অংশ হবে সে অনুযায়ী, আর নারী যা উপার্জন করে তার অংশ সে অনুযায়ী। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো তাঁর অনুগ্রহ থেকে। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ে অবহিত।

সমকালীন বাংলা

পিতা - মাতা ও আত্মীয় - স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির জন্য আমি উত্তরাধিকারী স্থির করিয়াছি এবং যাহাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তাহাদেরকে তাহাদের অংশ দিবে।নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে দ্রষ্টা।

Word by word

وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَٰلِىَ مِمَّا تَرَكَ ٱلْوَٰلِدَانِ وَٱلْأَقْرَبُونَ وَٱلَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَٰنُكُمْ فَـَٔاتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

পিতা - মাতা ও আত্মীয় স্বজনের রেখে যাওয়া প্রতিটি অর্থ - সম্পদের জন্যে আমরা উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দেবে। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ের সাক্ষী।

সমকালীন বাংলা

পুরুষ নারীর কর্তা, কারণ তাহাদের এক - কে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন এবং এইজন্য যে, পুরুষ তাহাদের ধন - সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে যাহা সংরক্ষিত করিয়াছেন, তাহা হিফাযত করে। স্ত্রীদের মধ্যে যাহাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাহাদের সদুপদেশ দাও, তারপর তাহাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাহাদেরকে প্রহার কর। যদি তাহারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাহাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ করিও না। নিশ্চয়ই মহান, শ্রেষ্ঠ।

Word by word

ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَآ أَنفَقُوا۟ مِنْ أَمْوَٰلِهِمْ فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُ وَٱلَّٰتِى تَ

আবদুস শহীদ নাসিম

পুরুষরা নারীদের অভিভাবক ও ব্যবস্থাপক। কারণ, তাদের একের উপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়া পুরুষরা তাদের (নারীদের) জন্যে নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করবে। সতী সাধ্বী স্ত্রীরা হয়ে থাকে অনুগত এবং তারা স্বামীর অনুপস্থিতিতে হেফাযত করে তাদের যা হেফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা যেসব স্ত্রীর ব্যাপারে অবাধ্যতার আশংকা করো তাদেরকে (প্রথমে) বুঝাও উপদেশ দাও, (দ্বিতীয় পর্যায়ে) তাদের সাথে শয্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করো, (তাতেও সুপথে না এলে অবশেষে) প্রহার করো (হালকাভাবে, যদি তা উপকারী হয়)। যে কোনো পর্যায়ে যখন তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যাবে, তখন আর তাদের উপর নির্যাতন চালাবার বাহানা তালাশ করোনা। নিশ্চয়ই মহান এবং শ্রেষ্ঠ।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশংকা করিলে তোমরা তাহার পরিবার হইতে একজন ও উহার পরিবার হইতে একজন সালিস নিযুক্ত করিবে ; তাহারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাহিলে তাহাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।

Word by word

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَٱبْعَثُوا۟ حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِۦ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَآ إِن يُرِيدَآ إِصْلَٰحًا يُوَفِّقِ ٱللَّهُ بَيْنَهُمَآ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি তাদের (অর্থাৎ স্বামী - স্ত্রী) দুইজনের মাঝে সম্পর্ক ফাটল - এর আশংকা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিশ এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ (মোট দুইজন সালিশ) নিযুক্ত করো। তারা উভয়ে শান্তি চাইলে তাদের মাঝে মীমাংসার তৌফিক দান করবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, সর্ববিষয়ে অবহিত।

সমকালীন বাংলা

তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদত করিবে ও কোন কিছুকে তাঁহার শরীক করিবে না; এবং পিতা - মাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট - প্রতিবেশী, দূর - প্রতিবেশী, সঙ্গী - সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করিবে। নিশ্চয়ই পসন্দ করেন না দাম্ভিক, অহংকারীকে।

Word by word

وَٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا۟ بِهِۦ شَيْـًٔا وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَٰنًا وَبِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱلْجَارِ ذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْجَارِ ٱلْجُنُبِ وَٱلصَّاحِبِ بِٱلْجَنۢبِ وَٱبْنِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সবাই এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করোনা। পিতা - মাতার প্রতি ইহ্সান করো এবং আত্মীয় - স্বজন, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ব সাথি, ভ্রমণ পথের সাক্ষাত লাভকারী পথিক এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতিও ইহ্সান করো। নিশ্চয়ই অহংকারী দাম্ভিকদের পছন্দ করেননা।

সমকালীন বাংলা

যাহারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং নিজ অনুগ্রহে তাহাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহা গোপন করে, আর আমি আখিরাতে কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَٰفِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

(এবং তিনি এমন লোকদেরও পছন্দ করেননা,) যারা নিজেরা বখিলি করে, মানুষকেও বখিলি করার আদেশ করে এবং নিজ অনুগ্রহ ভান্ডার থেকে তাদের যা দিয়েছেন সেগুলো গোপন করে। আমরা অকৃতজ্ঞদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছি অবমাননাকর আযাব।

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা মানুষকে দেখাইবার জন্য তাহাদের ধন - সম্পদ ব্যয় করে এবং ও আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদেরকে ভালবাসেন না। আর শয়তান কাহারও সঙ্গী হইলে সে সঙ্গী কত মন্দ!

Word by word

وَٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَمَن يَكُنِ ٱلشَّيْطَٰنُ لَهُۥ قَرِينًا فَسَآءَ قَرِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখাবার উদ্দেশ্যে এবং (প্রকৃতপক্ষে) ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখেনা ( তাদেরও পছন্দ করেন না)। মূলত শয়তান যার সাথি, তার সাথি বড়ই নিকৃষ্ট!

সমকালীন বাংলা

তাহারা ও আখিরাতে বিশ্বাস করিলে এবং তাহাদেরকে যাহা প্রদান করিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় করিলে তাহাদের কী ক্ষতি হইত? তাহাদেরকে ভালভাবে জানে না।

Word by word

وَمَاذَا عَلَيْهِمْ لَوْ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَأَنفَقُوا۟ مِمَّا رَزَقَهُمُ ٱللَّهُ وَكَانَ ٱللَّهُ بِهِمْ عَلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কী ক্ষতি হতো, যদি তারা ও পরকালের প্রতি আস্থা রাখতো এবং তাদের যে সম্পদ দান করেছেন তা থেকে ব্যয় করতো? তাদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন।

সমকালীন বাংলা

অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। আর কোন পুণ্যকর্ম হইলে উহাকে দ্বিগুণ করেন এবং তাঁহার নিকট হইতে মহা পুরস্কার প্রদান করেন।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضَٰعِفْهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

কারো প্রতি অণু পরিমাণ যুলুম করেন না। আর কেউ যদি একটি পুণ্যের কাজও করে, তিনি সেটাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে তাকে মহাপুরস্কার প্রদান করেন।

সমকালীন বাংলা

যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হইতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করিব এবং তোমাকে উহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করিব তখন কী অবস্থা হইবে?

Word by word

فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍۭ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ شَهِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

ভেবে দেখো, সে সময় ব্যাপারটা কী গুরুতর হবে, যখন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে হাজির করবো?

সমকালীন বাংলা

যাহারা করিয়াছে এবং রাসূলের অবাধ্য হইয়াছে তাহারা সেদিন কামনা করিবে, যদি তাহারা মাটির সঙ্গে মিশিয়া যাইত ! আর তাহারা হইতে কোন কথাই গোপন করিতে পারিবে না।

Word by word

يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَعَصَوُا۟ ٱلرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّىٰ بِهِمُ ٱلْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ ٱللَّهَ حَدِيثًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে এবং এই রসূলের অবাধ্য হয়েছে, সেদিন তারা কামনা করবে, হায়, মাটি যদি তাদেরকে তার গর্ভে ঢুকিয়ে নিতো! সেদিন তারা আল্লাহর নিকট থেকে কোনো কথাই গোপন করতে পারবে না।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! নেশাগ্রস্তঅবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যাহা বল তাহা বুঝিতে পার, এবং যদি তোমরা মুসাফির না হও তবে অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যতক্ষণ পর্যন্তনা তোমরা গোসল কর। আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেহ শৌচস্থান হইতে আসে অথবা তোমরা নারী - সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করিবে এবং মাসেহ্ করিবে মুখমণ্ডল ও হাত, নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَقْرَبُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنتُمْ سُكَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا۟ مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِى سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا۟ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰٓ أَوْ عَل

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা সালাতের নিকটবর্তীও হয়োনা নেশাগ্রস্ত অবস্থায়১২ যতোক্ষণ না তোমরা যা বলো তা বুঝতে পারো। অনুরূপ জুনুবি (গোসল ফরয) অবস্থায়ও গোসল না করা পর্যন্ত সালাতের কাছে যেয়ো না; তবে ভ্রমণরত (মুসাফির অবস্থায়) থাকলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা যদি পীড়িত - অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাকো, কিংবা তোমাদের কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে এসে থাকে, অথবা যদি তোমরা নারী সহবাস করে থাকো এবং এসব অবস্থায় পানি না পাও, তবে পাক মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করে নিও, (এভাবে যারা) মাসেহ্ করবে নিজেদের মুখমন্ডল এবং হাত, নিশ্চয়ই (তাদের ব্যাপারে) অতীব পাপমোচনকারী এবং পরম ক্ষমাশীল।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেওয়া হইয়াছিল? তাহারা ভ্রান্ত পথ ক্রয় করে এবং তোমরাও পথভ্রষ্ট হও - ইহাই তাহারা চাহে।

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ نَصِيبًا مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ يَشْتَرُونَ ٱلضَّلَٰلَةَ وَيُرِيدُونَ أَن تَضِلُّوا۟ ٱلسَّبِيلَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের দেখোনি, যাদের আল কিতাবের অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছে? তারা ক্রয় করে ভ্রান্ত পথ এবং এরাদা করে: তোমরাও যেনো হও বিপথগামী।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের শত্রুদেরকে ভালভাবে জানেন। অভিভাবকত্বে যথেষ্ট এবং সাহায্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।

Word by word

وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَآئِكُمْ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ نَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের দুশমনদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন। তোমাদের অলি হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট) এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই কাফী।

সমকালীন বাংলা

ইয়াহূদীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোক কথাগুলি স্থানচ্যুত করিয়া বিকৃত করে এবং বলে, ‘শ্রবণ করিলাম ও অমান্য করিলাম’ এবং শোন, না শোনার মত; আর নিজেদের জিহ্বা কুঞ্চিত করিয়া এবং দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য করিয়া বলে, ‘রাইনা’। কিন্তু তাহারা যদি বলিত, ‘শ্রবণ করিলাম ও মান্য করিলাম এবং শ্রবণ কর ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য কর’, তবে উহা তাহাদের জন্য ভাল ও সংগত হইত। কিন্তু তাহাদের কুফরীর জন্য তাহাদেরকে লা‘নত করিয়াছেন। তাহাদের অল্পসংখ্যকই বিশ্বাস করে।

Word by word

مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُوا۟ يُحَرِّفُونَ ٱلْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِۦ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَٱسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَٰعِنَا لَيًّۢا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِى ٱلدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا۟

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ইহুদি হয়েছে তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কথাকে স্থানচ্যুত করে বিকৃত করে। তারা বলে: ‘আমরা তোমার কথা শুনলাম এবং অমান্য করলাম’; আর শুনে, না শুনার মতো; নিজেদের জিহবা কুঞ্চিত করে দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে তারা আরো বলে: ‘রায়েনা’।১৩ অথচ তারা যদি বলতো: ‘আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম’, ‘শুনুন’ এবং ‘আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’, তবে সেটাই তাদের জন্যে উত্তম ও সঙ্গত হতো। কিন্তু তাদের অবিশ্বাসের জন্যে তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। সুতরাং স্বল্প সংখ্যক ছাড়া তারা ঈমান আনবেনা।

সমকালীন বাংলা

ওহে ! যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তোমাদের নিকট যাহা আছে তাহার প্রত্যায়নকারীরূপে আমি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি তাহাতে তোমরা ঈমান আন, আমি মুখমণ্ডলসমূহ বিকৃত করিয়া অতঃপর সেইগুলিকে পিছনের দিকে ফিরাইয়া দেওয়ার পূর্বে অথবা আস্হাবুস সাব্তকে যেরূপ লা‘নত করিয়াছিলাম সেইরূপ তাহাদেরকে লা‘নত করিবার পূর্বে আল্লাহর আদেশ কার্যকরী হইয়াই থাকে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ ءَامِنُوا۟ بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَّهَا عَلَىٰٓ أَدْبَارِهَآ أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّآ أَصْحَٰبَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐসব লোক, যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে! তোমাদের কাছে যা আছে (অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজিল) তার সত্যায়নকারী যে কিতাব আমরা (মুহাম্মদের প্রতি) নাযিল করেছি, তোমরা তার প্রতি ঈমান আনো আমরা চেহারাগুলোকে বিকৃত করে পেছনের দিকে ফিরিয়ে দেয়ার পূর্বেই, অথবা শনিবার ওয়ালাদের যেমন অভিশপ্ত করেছি, সেরকম অভিশপ্ত করার পূর্বেই। আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়েই থাকে।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তাঁহার সঙ্গে শরীক করা ক্ষমা করেন না। ইহা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন; এবং যে কেহ আল্লাহর শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِۦ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُ وَمَن يُشْرِكْ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفْتَرَىٰٓ إِثْمًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর সাথে শিরক করা হলে (সে পাপ) ক্ষমা করবেননা। এছাড়া অন্য পাপসমূহ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেবেন। যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, সে তো উদ্ভাবন করে নেয় এক মহাপাপ।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই, যাহারা নিজেদেরকে পবিত্র মনে করে? বরং যাহাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। এবং তাহাদের উপর সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হইবে না।

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنفُسَهُم بَلِ ٱللَّهُ يُزَكِّى مَن يَشَآءُ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের (ইহুদি ও খৃস্টানদের) দেখোনি, যাঁরা নিজেরাই নিজেদেরকে পুত - পবিত্রতার সার্টিফিকেট দেয়? বরং যাকে চান, শুদ্ধ ও পবিত্র করে দেন। তিনি কারো প্রতি বিন্দু পরিমাণ যুলুম করেন না।

সমকালীন বাংলা

দেখ ! তাহারা সম্বন্ধে কিরূপ মিথ্যা উদ্ভাবন করে ; এবং প্রকাশ্য পাপ হিসাবে ইহাই যথেষ্ট।

Word by word

ٱنظُرْ كَيْفَ يَفْتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ وَكَفَىٰ بِهِۦٓ إِثْمًا مُّبِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

দেখো তাদের ঔদ্ধত্য, তারা স্বয়ং আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে। সুস্পষ্ট পাপ হিসেবে এটাই যথেষ্ট।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেওয়া হইয়াছিল, তাহারা জিব্ত ও তাগূতে বিশ্বাস করে? তাহারা কাফিরদের সম্বন্ধে বলে, ‘ইহাদেরই পথ মু’মিনদের অপেক্ষা প্রকৃষ্টতর।’

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ نَصِيبًا مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ يُؤْمِنُونَ بِٱلْجِبْتِ وَٱلطَّٰغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ هَٰٓؤُلَآءِ أَهْدَىٰ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ سَبِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের দেখোনি যাদের কিতাবের অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত্১৪ ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস রাখে। তারা কাফিরদের সম্পর্কে বলে: ‘যারা ঈমানের পথে চলে তাদের চাইতে এদের পথই অধিকতর সঠিক।’

সমকালীন বাংলা

ইহারাই তাহারা, যাহাদেরকে লা‘নত করিয়াছিল এবং যাহাকে লা‘নত করেন তুমি কখনও তাহার কোন সাহায্যকারী পাইবে না।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ وَمَن يَلْعَنِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ نَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই সেসব লোক যাদের প্রতি লানত বর্ষণ করেছেন। আর যাকে লানত বর্ষণ করেন, তুমি কখনো তার জন্যে কোনো সাহায্যকারী পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

তবে কি রাজশক্তিতে তাহাদের কোন অংশ আছে? সে ক্ষেত্রেও তো তাহারা কাহাকেও এক কপর্দকও দিবে না।

Word by word

أَمْ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّنَ ٱلْمُلْكِ فَإِذًا لَّا يُؤْتُونَ ٱلنَّاسَ نَقِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি (আল্লাহর) সাম্রাজ্যে তাদের কোনো অংশ আছে? তেমনটি হলেও তারা মানুষকে একটি কানাকড়িও দেবেনা।

সমকালীন বাংলা

অথবা নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যাহা দিয়াছেন সেজন্য কি তাহারা তাহাদেরকে ঈর্ষা করে? আমি ইব্রাহীমের বংশধরকেও তো কিতাব ও হিকমত প্রদান করিয়াছিলাম এবং তাহাদেরকে বিশাল রাজ্য দান করিয়াছিলাম।

Word by word

أَمْ يَحْسُدُونَ ٱلنَّاسَ عَلَىٰ مَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ فَقَدْ ءَاتَيْنَآ ءَالَ إِبْرَٰهِيمَ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَءَاتَيْنَٰهُم مُّلْكًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তাঁর অনুগ্রহ - ভান্ডার থেকে মানুষকে (মুহাম্মদ সা. ও তার অনুসারীদেরকে) যা দিয়েছেন, সে কারণে তারা তাদের প্রতি হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে? যদি তাই হয়, তবে তো আমরা ইবরাহিমের বংশধরদের (বনি ইসরাঈলকেও) কিতাব এবং হিকমাহ্ দিয়েছিলাম। আরো দিয়েছিলাম এক বিশাল সাম্রাজ্য।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তাহাদের কতক উহাতে বিশ্বাস করিয়াছিল এবং কতক উহা হইতে মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিল; দগ্ধ করার জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট।

Word by word

فَمِنْهُم مَّنْ ءَامَنَ بِهِۦ وَمِنْهُم مَّن صَدَّ عَنْهُ وَكَفَىٰ بِجَهَنَّمَ سَعِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু (সে ক্ষেত্রেও তো তাদের সবাই ঈমান আনেনি) তাদের কিছু লোক ঈমান এনেছিল আর কিছু লোক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তাদের দগ্ধ করার জন্যে তো জাহান্নামই যথেষ্ট।

সমকালীন বাংলা

যাহারা আমার আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদেরকে অগ্নিতে দগ্ধ করিবই; যখনই তাহাদের চর্ম দগ্ধ হইবে তখনই উহার স্থলে নূতন চর্ম সৃষ্টি করিব, যাহাতে তাহারা শাস্তি ভোগ করে।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُم بَدَّلْنَٰهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমার আয়াত মেনে নিতে অস্বীকার করে, অচিরেই আমরা তাদের দগ্ধ করবো আগুনে। যখনই তাদের চামড়া দগ্ধ হয়ে যাবে, তখনই নতুন চামড়া দিয়ে তা বদল করে দেবো, যাতে করে তারা (লাগাতার) আযাবের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে তাহাদেরকে দাখিল করিব জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে, সেখানে তাহাদের জন্য পবিত্র স্ত্রী থাকিবে এবং তাহাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ছায়ায় দাখিল করিব।

Word by word

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا لَّهُمْ فِيهَآ أَزْوَٰجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ (উত্তম, ন্যায় ও পুণ্যের কাজ) করে, অচিরেই আমরা তাদের দাখিল করবো জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। তাছাড়া সেখানে তারা পাবে পবিত্র স্বামী এবং স্ত্রী। আর আমরা তাদের দাখিল করবো সুবিস্তৃত চিরস্নিগ্ধ ছায়ায়।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তোমাদেরকে নির্দেশ দিতেছেন আমানত উহার হকদারকে প্রত্যর্পণ করিতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করিবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করিবে। তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তাহা কত উৎকৃষ্ট! নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا۟ ٱلْأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ أَن تَحْكُمُوا۟ بِٱلْعَدْلِ إِنَّ ٱللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ سَمِيعًۢا ب

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমানত তার হকদারকে দিয়ে দিতে। তিনি আরো নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালা করবে, ন্যায় ও ইনসাফের সাথে সুবিচার করবে। তোমাদের অতি উত্তম উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! যদি তোমরা ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর আনুগত্য কর রাসূলের এবং তাহাদের, যাহারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী; কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটিলে উহা উপস্থাপন কর ও রাসূলের নিকট। ইহাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَأُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَٰزَعْتُمْ فِى شَىْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো এই রসূলের, আর তোমাদের (মুসলিমদের) মধ্যকার সেইসব লোকদের যারা দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত। আর তোমরা যখনই কোনো বিষয়ে মতভেদ ও মতবিরোধ করবে, তা (ফায়সালার জন্যে) উপস্থাপন করো ও রসূলের (কুরআন ও সুন্নাহর) নিকট, যদি তোমরা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর পন্থা এবং পরিণতির দিক থেকেও সর্বোত্তম।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং তোমার পূর্বে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে তাহারা বিশ্বাস করে, অথচ তাহারা তাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হইতে চায়, যদিও উহা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাহাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে এবং শয়তান তাহাদেরকে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করিতে চায়?

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوٓا۟ إِلَى ٱلطَّٰغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوٓا۟ أَن يَكْفُرُوا۟ بِهِۦ وَيُر

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) দাবি করে, তারা তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে, সে সবগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে; কিন্তু তারা বিচার ফায়সালার জন্যে তাগুতের দ্বারস্থ হয়, অথচ তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করতে। মূলত শয়তান তাদের বিপথগামী করে নিয়ে যেতে চায় বহুদূর।

সমকালীন বাংলা

তাহাদেরকে যখন বলা হয়, যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহার দিকে এবং রাসূলের দিকে আস, তখন মুনাফিকদেরকে তুমি তোমার নিকট হইতে মুখ একেবারে ফিরাইয়া লইতে দেখিবে।

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَإِلَى ٱلرَّسُولِ رَأَيْتَ ٱلْمُنَٰفِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের বলা হয়: ‘আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব এবং রসূলের দিকে আসো,’ তখন তুমি দেখতে পাও, মুনাফিকরা তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে পেছনে হটে যায়।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের কৃতকর্মের জন্য যখন তাহাদের কোন মুসীবত হইবে তখন তাহাদের কী অবস্থা হইবে? অতঃপর তাহারা নামে শপথ করিয়া তোমার নিকট আসিয়া বলিবে, ‘আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই চাই নাই।

Word by word

فَكَيْفَ إِذَآ أَصَٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَآءُوكَ يَحْلِفُونَ بِٱللَّهِ إِنْ أَرَدْنَآ إِلَّآ إِحْسَٰنًا وَتَوْفِيقًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কৃতকর্মের জন্যে যখন তাদের উপর কোনো মসিবত আপতিত হবে, তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে? তখন তারা তোমার কাছে এসে হলফ করে বলবে: আল্লাহর কসম, আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ছাড়া আর অন্য কিছু চাইনি।’

সমকালীন বাংলা

ইহারাই তাহারা, যাহাদের অন্তরে কী আছে তাহা জানেন। সুতরাং তুমি তাহাদেরকে উপেক্ষা কর, তাহাদেরকে সদুপদেশ দাও এবং তাহাদেরকে তাহাদের মর্ম স্পর্শ করে এমন কথা বল।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَعْلَمُ ٱللَّهُ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِىٓ أَنفُسِهِمْ قَوْلًۢا بَلِيغًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (মুনাফিক), তাদের মনের খবর ভালো করেই জানেন। সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো, আর তাদের ওয়ায (উপদেশ দান) করো এবং তাদের উদ্দেশ্যে এমনভাবে কথা বলো, যেনো তাদের মর্ম স্পর্শ করে।

সমকালীন বাংলা

রাসূল এই উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করিয়াছি যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তাহার আনুগত্য করা হইবে। যখন তাহারা নিজেদের প্রতি জুলুম করে তখন তাহারা তোমার নিকট আসিলে ও ক্ষমা প্রার্থনা করিলে এবং রাসূলও তাহাদের জন্য ক্ষমা চাহিলে তাহারা অবশ্যই কে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালুরূপে পাইবে।

Word by word

وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ جَآءُوكَ فَٱسْتَغْفَرُوا۟ ٱللَّهَ وَٱسْتَغْفَرَ لَهُمُ ٱلرَّسُولُ لَوَجَدُوا۟ ٱللَّهَ تَوَّابًا رَّ

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হবে - এ উদ্দেশ্য ছাড়া আমরা একজন রসূলও পাঠাইনি। তারা (মুনাফিকরা) নিজেদের প্রতি কোনো যুলুম করার পর যদি এ পন্থা অবলম্বন করতো যে, তোমার কাছে ছুটে আসতো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং রসূলও তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতো, তাহলে অবশ্যি তারা আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দায়াবান পেতো।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তাহারা হইবে না যতক্ষণ পর্যন্ততাহারা তাহাদের নিজেদের বিবাদ - বিসম্বাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে ; অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাহাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে উহা মানিয়া নেয়।

Word by word

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু না (তাদের অবস্থা তা নয়), তোমার প্রভুর শপথ, এরা কখনো হতে পারবেনা, যতোক্ষণনা তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদ বিসম্বাদে তোমাকে হাকিম (Judge) নিযুক্ত করে, অত:পর তোমার ফায়সালা সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং বিনীতভাবে তোমার ফায়সালা তসলিম (গ্রহণ) করে নেয়।

সমকালীন বাংলা

যদি তাহাদেরকে আদেশ দিতাম, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর অথবা আপন গৃহ ত্যাগ কর তবে তাহাদের অল্পসংখ্যকই ইহা করিত। যাহা করিতে তাহাদেরকে উপদেশ দেওয়া হইয়াছিল তাহারা তাহা করিলে তাহাদের ভাল হইত এবং চিত্তস্থিরতায় তাহারা দৃঢ়তর হইত।

Word by word

وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ ٱقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ أَوِ ٱخْرُجُوا۟ مِن دِيَٰرِكُم مَّا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِّنْهُمْ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا۟ مَا يُوعَظُونَ بِهِۦ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ

আবদুস শহীদ নাসিম

(এমন কি স্বয়ং) আমরাও যদি তাদের নির্দেশ দিতাম: ‘তোমার নিজেদের হত্যা করো অথবা নিজেদের গৃহ ত্যাগ করো’, তবে অল্প কিছু লোক ছাড়া তারা তা করতো না। তাদেরকে যে ওয়ায (উপদেশ দান) করা হয়েছে তারা যদি তা পালন করতো, তবে তা হতো তাদের জন্যে কল্যাণকর এবং তাদের ঈমানের দৃঢ়তা সাধনকারী।

সমকালীন বাংলা

এবং তখন আমি আমার নিকট হইতে তাহাদেরকে নিশ্চয়ই মহাপুরস্কার প্রদান করিতাম;

Word by word

وَإِذًا لَّءَاتَيْنَٰهُم مِّن لَّدُنَّآ أَجْرًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তখন অবশ্যি আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তাদের দান করতাম মহাপুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

এবং তাহাদেরকে নিশ্চয়ই সরল পথে পরিচালিত করিতাম।

Word by word

وَلَهَدَيْنَٰهُمْ صِرَٰطًا مُّسْتَقِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং অবশ্যি আমরা তাদের পরিচালিত করতাম সিরাতুল মুসতাকিমে।

সমকালীন বাংলা

আর কেহ এবং রাসূলের আনুগত্য করিলে সে নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণ - যাহাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন - তাহাদের সঙ্গী হইবে এবং তাহারা কত উত্তম সঙ্গী।

Word by word

وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّۦنَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّٰلِحِينَ وَحَسُنَ أُو۟لَٰٓئِكَ رَفِيقًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যে কেউ আনুগত্য করবে আল্লাহর এবং এই রসূলের, তারা সঙ্গি হবে আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং পুণ্যবানদের। সঙ্গি হিসেবে এরা কতোইনা উত্তম!

সমকালীন বাংলা

ইহা আল্লাহর অনুগ্রহ। সর্বজ্ঞ হিসাবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।

Word by word

ذَٰلِكَ ٱلْفَضْلُ مِنَ ٱللَّهِ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ عَلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা (এমনটি লাভ করা) আল্লাহর বিরাট অনুগ্রহ। সর্বজ্ঞানী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! সতর্কতা অবলম্বন কর; অতঃপর হয় দলে দলে বিভক্ত হইয়া অগ্রসর হও অথবা একসঙ্গে অগ্রসর হও।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ خُذُوا۟ حِذْرَكُمْ فَٱنفِرُوا۟ ثُبَاتٍ أَوِ ٱنفِرُوا۟ جَمِيعًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা সতর্কতা গ্রহণ করো, তারপর দলে দলে ভাগ হয়ে সামনে অগ্রসর হও, অথবা একত্রে অগ্রসর হও।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যে গড়িমসি করিবেই। তোমাদের কোন মুসীবত হইলে সে বলিবে, তাহাদের সঙ্গে না থাকায় আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন।

Word by word

وَإِنَّ مِنكُمْ لَمَن لَّيُبَطِّئَنَّ فَإِنْ أَصَٰبَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَالَ قَدْ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَىَّ إِذْ لَمْ أَكُن مَّعَهُمْ شَهِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে (যুদ্ধে যেতে) গড়িমসি করে। তারপর তোমাদের কোনো মসিবত স্পর্শ করলে সে বলে: ‘ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে যাইনি।’

সমকালীন বাংলা

আর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ হইলে, যেন তোমাদের ও তাহার মধ্যে কোন সম্পর্ক নাই এমনভাবে বলিবেই, ‘হায়! যদি তাহাদের সঙ্গে থাকিতাম তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করিতাম।’

Word by word

وَلَئِنْ أَصَٰبَكُمْ فَضْلٌ مِّنَ ٱللَّهِ لَيَقُولَنَّ كَأَن لَّمْ تَكُنۢ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُۥ مَوَدَّةٌ يَٰلَيْتَنِى كُنتُ مَعَهُمْ فَأَفُوزَ فَوْزًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ লাভ করো, তখন তোমাদের ও তার মধ্যে যেনো কোনো সম্পর্ক নেই এমন ভাব দেখিয়ে সে অবশ্যি বলবে: ‘হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করতাম।’

সমকালীন বাংলা

সুতরাং যাহারা আখিরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন বিক্রয় করে তাহারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুক এবং কেহ পথে যুদ্ধ করিলে সে নিহত হউক অথবা বিজয়ী হউক আমি তাহাকে মহাপুরস্কার দান করিবই।

Word by word

فَلْيُقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يَشْرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْءَاخِرَةِ وَمَن يُقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং যারা আখিরাতের (সাফল্যের) বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রয় করে দেয়ার সাহস রাখে, তারাই আল্লাহর পথে লড়াই করুক। যে কেউ আল্লাহর পথে লড়াই করবে, সে নিহত হোক, কিংবা বিজয়ী হোক, আমরা অচিরেই তাকে প্রদান করবো মহাপুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের কী হইল যে, তোমরা যুদ্ধ করিবে না পথে এবং অসহায় নরনারী এবং শিশুগণের জন্য, যাহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! এই জনপদ - যাহার অধিবাসী , উহা হইতে আমাদেরকে অন্যত্র লইয়া যাও; তোমার নিকট হইতে কাহাকেও আমাদের অভিভাবক কর এবং তোমার নিকট হইতে কাহাকেও আমাদের সহায় কর।’

Word by word

وَمَا لَكُمْ لَا تُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلْوِلْدَٰنِ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ ٱلْقَرْيَةِ ٱلظَّالِمِ أَهْلُهَا وَٱجْعَل

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হয়েছে, কেন তোমরা লড়াই করছোনা আল্লাহর পথে! সেইসব দুর্বল অসহায় নর, নারী ও শিশুদের জন্যে, যারা ফরিয়াদ করে বলছে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের বের করে নাও এই জনপদ থেকে। এর অধিবাসীরা যালিম। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে একজন অলির (অভিভাবকের) ব্যবস্থা করে দাও এবং ব্যবস্থা করে দাও একজন সাহায্যকারীর।’

সমকালীন বাংলা

যাহারা তাহারা পথে যুদ্ধ করে এবং যাহারা তাহারা তাগূতের পথে যুদ্ধ করে। সুতরাং তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর; শয়তানের কৌশল অবশ্যই দুর্বল।

Word by word

ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱلطَّٰغُوتِ فَقَٰتِلُوٓا۟ أَوْلِيَآءَ ٱلشَّيْطَٰنِ إِنَّ كَيْدَ ٱلشَّيْطَٰنِ كَانَ ضَعِيفًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে, আর যারা কুফুরি করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই করো শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। অবশ্যই শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘তোমরা তোমাদের হস্ত সংবরণ কর, কায়েম কর এবং যাকাত দাও?’ অতঃপর যখন তাহাদেরকে যুদ্ধের বিধান দেওয়া হইল তখন তাহাদের একদল মানুষকে ভয় করিতেছিল ভয় করার মত অথবা তদপেক্ষা অধিক, এবং বলিতে লাগিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান কেন দিলে? আমাদেরকে কিছু দিনের অবকাশ দাও না !’ বল, ‘পার্থিব ভোগ সামান্য এবং যে তাহার জন্য পরকালই উত্তম। তোমাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হইবে না।’

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوٓا۟ أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ ٱلنَّاسَ كَخَشْيَةِ ٱللَّه

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের অবস্থা দেখছোনা, যাদের বলা হয়েছিল: ‘তোমাদের হাত সংবরণ করো, কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো।’ তারপর যখন তাদের জন্যে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তাদেরই একটি দল মানুষকে ভয় করতে থাকলো আল্লাহকে ভয় করার মতো, কিংবা তার চেয়েও বেশি ভয়। তারা বলতে থাকলো: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের কেন যুদ্ধের নির্দেশ দিলে? প্রভু! আমাদেরকে কিছুকালের অবকাশ দাও।’ হে নবী! বলো: ‘পার্থিব ভোগ - সম্ভার তো সামান্য। মুত্তাকিদের জন্যে আখিরাতই সর্বোত্তম। তোমাদের প্রতি বিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবেনা।’

সমকালীন বাংলা

তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাইবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করিলেও। যদি তাহাদের কোন কল্যাণ হয় তবে তাহারা বলে ‘ইহা নিকট হইতে।’ আর যদি তাহাদের কোন অকল্যাণ হয় তবে তাহারা বলে, ‘ইহা তোমার নিকট হইতে।’ বল, ‘সবকিছুই নিকট হইতে।’ এই সম্প্রদায়ের হইল কী যে, ইহারা একেবারেই কোন কথা বোঝে না!

Word by word

أَيْنَمَا تَكُونُوا۟ يُدْرِككُّمُ ٱلْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِى بُرُوجٍ مُّشَيَّدَةٍ وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا۟ هَٰذِهِۦ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا۟ هَٰذِهِۦ مِنْ عِندِكَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যেখানেই অবস্থান করো না কেন, মউত তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা উঁচু মজবুত দুর্গে অবস্থান করলেও। তাদের কোনো কল্যাণ হলে তারা বলে: ‘এটা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর কোনো অকল্যাণ হলে বলে: এটা হয়েছে তোমার কারণে।’ তুমি বলো: ‘সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ এই লোকদের কী হলো, তারা যে কোনো কথাই বুঝেনা!

সমকালীন বাংলা

কল্যাণ যাহা তোমার হয় তাহা নিকট হইতে এবং অকল্যাণ যাহা তোমার হয় তাহা তোমার নিজের কারণে এবং তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছি; সাক্ষী হিসাবে

Word by word

مَّآ أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ ٱللَّهِ وَمَآ أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ وَأَرْسَلْنَٰكَ لِلنَّاسِ رَسُولًا وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যা কিছু কল্যাণ লাভ করো তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আর তোমার যা কিছু অকল্যাণ হয়, তা হয় তোমার নিজের কারণে। আমরা তোমাকে মানুষের জন্যে পাঠিয়েছি একজন রসূল হিসেবে। আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী হিসেবে।

সমকালীন বাংলা

কেহ রাসূলের আনুগত্য করিলে সে তো আল্লাহর আনুগত্য করিল এবং কেহ মুখ ফিরাইয়া লইলে তোমাকে তাহাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক প্রেরণ করি নাই।

Word by word

مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ ٱللَّهَ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে রসূলের আনুগত্য করলো, সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় আমরা তোমাকে তাদের উপর রক্ষক নিযুক্ত করিনি।

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলে, ‘আনুগত্য করি’, অতঃপর যখন তাহারা তোমার নিকট হইতে চলিয়া যায় তখন রাত্রে তাহাদের একদল যাহা বলে তাহার বিপরীত পরামর্শ করে। তাহারা যাহা রাত্রে পরামর্শ করে তাহা লিপিবদ্ধ করিয়া রাখেন। সুতরাং তুমি তাহাদেরকে উপেক্ষা কর এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা কর; কমবিধারয়ক হিসাবে আল্লহাই যথেষ্ট।

Word by word

وَيَقُولُونَ طَاعَةٌ فَإِذَا بَرَزُوا۟ مِنْ عِندِكَ بَيَّتَ طَآئِفَةٌ مِّنْهُمْ غَيْرَ ٱلَّذِى تَقُولُ وَٱللَّهُ يَكْتُبُ مَا يُبَيِّتُونَ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমরা আনুগত্য করি।’ তারপর তোমার কাছ থেকে চলে গেলে রাতে তাদের একদল লোক তাদের কথার বিপরীত পরামর্শ করে। তারা রাতে যা সলাপরামর্শ করে তা লিখে রাখেন। সুতরাং তুমি তাদের উপেক্ষা করো এবং আল্লাহর উপর ভরসা করো। উকিল হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।

সমকালীন বাংলা

তবে কি তাহারা কুরআন সম্বন্ধে অনুধাবন করে না? ইহা যদি ব্যতীত অন্য কাহারও নিকট হইতে আসিত তবে তাহারা উহাতে অনেক অসংগতি পাইত।

Word by word

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلْقُرْءَانَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ ٱللَّهِ لَوَجَدُوا۟ فِيهِ ٱخْتِلَٰفًا كَثِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা - গবেষণা করেনা? এ কুরআন যদি ছাড়া আর কারো পক্ষ থেকে আসতো, তবে অবশ্যি তারা এতে পেতো অনেক সাংঘর্ষিক কথা।

সমকালীন বাংলা

যখন শান্তিঅথবা শংকার কোন সংবাদ তাহাদের নিকট আসে তখন তাহারা উহা প্রচার করিয়া থাকে। যদি তাহারা উহা রাসূল কিংবা তাহাদের মধ্যে যাহারা ক্ষমতার অধিকারী তাহাদের গোচরে আনিত, তবে তাহাদের মধ্যে যাহারা তথ্য অনুসন্ধান করে তাহারা উহার যথার্থতা নির্ণয় করিতে পারিত। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিত তবে তোমাদের অল্পসংখ্যক ব্যতীত সকলে শয়তানের অনুসরণ করিত।

Word by word

وَإِذَا جَآءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ ٱلْأَمْنِ أَوِ ٱلْخَوْفِ أَذَاعُوا۟ بِهِۦ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى ٱلرَّسُولِ وَإِلَىٰٓ أُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ ٱلَّذِينَ يَسْتَنۢبِطُونَهُۥ مِنْهُمْ وَلَوْلَا فَضْلُ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কাছে শান্তি বা ত্রাসের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে বেড়ায়। তারা যদি (তা না করে) সেটা রসূল বা তাদের দায়িত্বশীলদের গোচরে আনতো, তবে তাদের মাঝে যারা উদ্ভাবনী যোগ্যতার অধিকারী তারা এর যথার্থতা অনুধাবন করতে পারতো। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না থাকলে তোমাদের স্বল্প সংখ্যক ছাড়া বাকিরা শয়তানের অনুসরণ করতো।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর; তোমাকে শুধু তোমার নিজের জন্য দায়ী করা হইবে এবং মু’মিনগণকে উদ্বুদ্ধ কর, হয়তো আল্লাহর কাফিরদের শক্তি সংযত করিবেন। আল্লাহর শক্তিতে প্রবলতর ও শাস্তিদানে কঠোরতর।

Word by word

فَقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ وَحَرِّضِ ٱلْمُؤْمِنِينَ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأْسَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَٱللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنكِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তোমরা লড়াই করো আল্লাহর পথে। তোমাকে দায়ী করা হবে শুধু তোমার নিজের জন্যে। মুমিনদের উৎসাহ দিয়ে যাও। হয়তো কাফিরদের শক্তি নিবারণ করবেন। আল্লাহই প্রবল শক্তিধর এবং কঠোরতর শাস্তিদাতা।

সমকালীন বাংলা

কেহ কোন ভাল কাজের সুপারিশ করিলে উহাতে তাহার অংশ থাকিবে এবং কেহ কোন মন্দ কাজের সুপারিশ করিলে উহাতে তাহার অংশ থাকিবে। সর্ববিষয়ে নজর রাখেন।

Word by word

مَّن يَشْفَعْ شَفَٰعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُۥ نَصِيبٌ مِّنْهَا وَمَن يَشْفَعْ شَفَٰعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُۥ كِفْلٌ مِّنْهَا وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ مُّقِيتًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ ভালো কাজের সুপারিশ করবে, তার পুরস্কারে তার অংশ থাকবে। আর যে কেউ মন্দ কাজের সুপারিশ করবে, তাতেও তার অংশ থাকবে। প্রতিটি বিষয়ে দৃষ্টি রাখেন।

সমকালীন বাংলা

তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও উহা অপেক্ষা উত্তম প্রত্যাভিবাদন করিবে অথবা উহারই অনুরূপ করিবে; নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।

Word by word

وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا۟ بِأَحْسَنَ مِنْهَآ أَوْ رُدُّوهَآ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ حَسِيبًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমাদের অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরাও তার চাইতে উত্তম অভিবাদনে তার জবাব দাও, অথবা অন্তত অনুরূপ জবাব দাও। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ের হিসাব গ্রহণ করবেন।

সমকালীন বাংলা

তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই ; তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্র করিবেনই, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। কে অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী?

Word by word

ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ ٱللَّهِ حَدِيثًا

আবদুস শহীদ নাসিম

, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি কিয়ামতের দিন তোমাদের অবশ্যি জমা করবেন, এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। আল্লাহর চেয়ে বড় সত্যবাদী আর কে?

সমকালীন বাংলা

তোমাদের কী হইল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দুই দল হইয়া গেলে, যখন তাহাদেরকে তাহাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরাইয়া দিয়াছেন! যাহাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করিতে চাও? এবং কাহাকেও পথভ্রষ্ট করিলে তুমি তাহার জন্য কখনও কোন পথ পাইবে না।

Word by word

فَمَا لَكُمْ فِى ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِئَتَيْنِ وَٱللَّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُوٓا۟ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُوا۟ مَنْ أَضَلَّ ٱللَّهُ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হলো, মুনাফিকদের ব্যাপারে যে তোমরা দুই দল হয়ে গেলে? অথচ তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছেন। যাকে গোমরাহ করেছেন, তোমরা কি তাকে হিদায়াতের পথে চালাতে চাও? যাকে গোমরাহ্ করে দেন, তুমি তার জন্যে কখনো কোনো পথ পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

তাহারা ইহাই কামনা করে যে, তাহারা যেরূপ করিয়াছে তোমরাও সেইরূপ কর, যাহাতে তোমরা তাহাদের সমান হইয়া যাও। সুতরাং পথে হিজরত না করা পর্যন্ত তাহাদের মধ্য হইতে কাহাকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করিবে না। যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে তাহাদেরকে যেখানে পাইবে গ্রেফতার করিবে এবং হত্যা করিবে এবং তাহাদের মধ্য হইতে কাহাকেও বন্ধু ও সহায়রূপে গ্রহণ করিবে না।

Word by word

وَدُّوا۟ لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا۟ فَتَكُونُونَ سَوَآءً فَلَا تَتَّخِذُوا۟ مِنْهُمْ أَوْلِيَآءَ حَتَّىٰ يُهَاجِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَخُذُوهُمْ وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কামনা করে তোমরা যেনো কুফুরি করো, যেমন তারা কুফুরি করেছে, যাতে করে তোমরা তাদের বরাবর হয়ে যাও। সুতরাং আল্লাহর পথে হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের কাউকেও অলি (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা যদি অস্বীকার করে, তবে তাদের যেখানে পাবে, গ্রেফতার করবে এবং হত্যা করবে। আর তাদের কাউকেও অলি (বন্ধু) এবং সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করোনা।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু তাহাদেরকে নয় যাহারা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিত হয় যাহাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ, অথবা যাহারা তোমাদের নিকট এমন অবস্থায় আগমন করে যখন তাহাদের মন তোমাদের সঙ্গে অথবা তাহাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে সংকুচিত হয়। যদি ইচ্ছা করিতেন তবে তাহাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতা দিতেন এবং তাহারা নিশ্চয় তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিত। সুতরাং তাহারা যদি তোমাদের নিকট হইতে সরিয়া দাঁড়ায়, তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব করে তবে তোমাদের জন্য তাহাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা অবলম্বনের পথ রাখেন না।

Word by word

إِلَّا ٱلَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَىٰ قَوْمٍۭ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَٰقٌ أَوْ جَآءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَن يُقَٰتِلُوكُمْ أَوْ يُقَٰتِلُوا۟ قَوْمَهُمْ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَل

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তাদেরকে নয়, যারা এমন জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক রাখে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, অথবা যারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় আসে যখন তাদের মন থাকে তোমাদের সাথে, কিংবা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে তারা সংকোচ বোধ করে। চাইলে তিনি তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতাবান করে দিতেন এবং তারা অবশ্যি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো। এখন যদি তারা তোমাদের থেকে সরে দাঁড়ায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেয়, তবে তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো পথ রাখেননি।

সমকালীন বাংলা

তোমরা অপর কিছু লোক পাইবে যাহারা তোমাদের সঙ্গে ও তাহাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তি চাহিবে। যখনই তাহাদেরকে ফিত্নার দিকে আহ্বান করা হয় তখনই এই ব্যাপারে তাহারা তাহাদের পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবৃত্ত হয়। যদি তাহারা তোমাদের নিকট হইতে চলিয়া না যায়, তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব না করে এবং তাহাদের হস্ত সংবরণ না করে তবে তাহাদেরকে যেখানেই পাইবে গ্রেফতার করিবে ও হত্যা করিবে এবং তোমাদেরকে ইহাদের বিরুদ্ধাচরণের স্পষ্ট অধিকার দিয়াছি।

Word by word

سَتَجِدُونَ ءَاخَرِينَ يُرِيدُونَ أَن يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا۟ قَوْمَهُمْ كُلَّ مَا رُدُّوٓا۟ إِلَى ٱلْفِتْنَةِ أُرْكِسُوا۟ فِيهَا فَإِن لَّمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوٓا۟ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلَمَ وَيَكُفُّوٓا۟ أَي

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা অপর এমন কিছু লোক পাবে, যারা তোমাদের সাথে এবং তাদের সম্প্রদায়ের সাথে শান্তি চাইবে। যখন তাদেরকে ফিতনার দিকে আহবান করা হয়, তখনই তারা এ ব্যাপারে তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। যদি তারা তোমাদের কাছ থেকে চলে না যায় এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব না দেয় এবং তাদের হাত গুটিয়ে না রাখে, তবে তাদের যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং হত্যা করবে। আমরা তোমাদেরকে এদের বিরুদ্ধে অবস্থানের সুস্পষ্ট অধিকার দিলাম।

সমকালীন বাংলা

কোন মু’মিনকে হত্যা করা কোন মু’মিনের কাজ নয়, তবে ভুলবশত করিলে উহা স্বতন্ত্র; এবং কেহ কোন মু’মিনকে ভুলবশত হত্যা করিলে এক দাস মুক্ত করা এবং তাহার পরিজনবর্গকে রক্তপণ অর্পণ করা বিধেয়, যদি না তাহারা ক্ষমা করে। যদি সে তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং হয় তবে এক দাস মুক্ত করা বিধেয়। আর যদি সে এমন এক সম্প্রদায়ভুক্ত হয় যাহার সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তবে তাহার পরিজনবর্গকে রক্তপণ অর্পণ এবং দাস মুক্ত করা বিধেয়, এবং যে সংগতিহীন সে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করিবে। তওবার জন্য ইহা আল্লহ্র ব্যবস্থা এবং সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَن يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلَّا خَطَـًٔا وَمَن قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَـًٔا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُّسَلَّمَةٌ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦٓ إِلَّآ أَن يَصَّدَّقُوا۟ فَإِن كَانَ م

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো মুমিনের জন্যে অপর মুমিনকে হত্যা করা বৈধ নয়, তবে ভুলবশত করলে ভিন্ন কথা। কেউ যদি ভুলবশত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তাহলে এর বিধান হলো, একজন দাসকে মুক্ত করা এবং নিহতের পরিবারবর্গকে গ্রহণযোগ্য মুক্তিপণ প্রদান করা, যদি তারা ক্ষমা করে না দেয়। আর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং হয় তবে এক দাস মুক্ত করবে। আর যদি সে এমন কোনো সম্প্রদায়ের লোক হয় যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, তবে তাদের পরিবারবর্গকে গ্রহণযোগ্য মুক্তিপণ প্রদান করবে এবং একজন দাস মুক্ত করবে। কিন্তু কারো যদি সঙ্গতি না থাকে তবে লাগাতার দুইমাস রোযা রাখবে। এটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে তওবা করার ব্যবস্থা, আর সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করিলে তাহার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হইবে এবং তাহার প্রতি রুষ্ট হইবেন, তাহাকে লা‘নত করিবেন এবং তাহার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখিবেন।

Word by word

وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدًا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর কেউ যদি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করে, তবে তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে চিরকাল সেখানেই থাকবে। তার প্রতি রুষ্ট এবং তিনি তাকে অভিশাপ দেন, আর তার জন্যে তিনি প্রস্তুত রেখেছেন বিশাল আযাব।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন পথে যাত্রা করিবে তখন পরীক্ষা করিয়া লইবে এবং কেহ তোমাদেরকে সালাম করিলে ইহজীবনের সম্পদের আকাঙ্খায় তাহাকে বলিও না - ‘তুমি নও’, কারণ নিকট অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রহিয়াছে। তোমরা তো পূর্বে এইরূপই ছিলে, অতঃপর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন ; সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করিয়া লইবে। তোমরা যাহা তো সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا ضَرَبْتُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَتَبَيَّنُوا۟ وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَنْ أَلْقَىٰٓ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلَٰمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فَعِندَ ٱ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা যখন আল্লাহর পথে রওয়ানা করবে, তখন পরীক্ষা করে নেবে (কে বন্ধু, কে শত্রু)। কেউ তোমাদের সালাম করলে দুনিয়ার স্বার্থ কামনায় তাকে বলো না: ‘তুমি নও।’ তোমরা যদি পার্থিব জীবনের স্বার্থ হাসিল করতে চাও, তবে আল্লাহর কাছে রয়েছে অনেক গনিমত। তোমরাও তো আগে এরকমই ছিলে, তারপর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করে নেবে। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই সে বিষয়ে খবর রাখেন।

সমকালীন বাংলা

মু’মিনদের মধ্যে যাহারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসিয়া থাকে ও যাহারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধনপ্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তাহারা সমান নয়। যাহারা স্বীয় ধন - প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তাহাদেরকে, যাহারা ঘরে বসিয়া থাকে তাহাদের উপর মর্যাদা দিয়াছেন ; সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। যাহারা ঘরে বসিয়া থাকে তাহাদের উপর যাহারা জিহাদ করে তাদেরকে মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন।

Word by word

لَّا يَسْتَوِى ٱلْقَٰعِدُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُو۟لِى ٱلضَّرَرِ وَٱلْمُجَٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلْمُجَٰهِدِينَ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى ٱلْقَ

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম না হওয়া সত্ত্বেও ঘরে বসে থাকে, তারা আর যারা নিজেদের ধনমাল এবং জান প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা নিজেদের ধনমাল এবং জানপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে তাদেরকে ঘরে বসে থাকাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। তবে প্রত্যেককেই কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে, তাদের উপর মুজাহিদদের মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

সমকালীন বাংলা

ইহা তাঁহার নিকট হইতে মর্যাদা, ক্ষমা ও দয়া; ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

دَرَجَٰتٍ مِّنْهُ وَمَغْفِرَةً وَرَحْمَةً وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর পক্ষ থেকে তাদের জন্যে রয়েছে মর্যাদা, ক্ষমা ও রহমত। আর তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

যাহারা নিজেদের উপর জুলুম করে তাহাদের প্রাণ গ্রহণের সময় ফিরিশ্তাগণ বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?’ তাহারা বলে, ‘দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম।’ তাহারা বলে, যমীন কি এমন প্রশস্ত ছিল না যেখানে তোমরা হিজরত করিতে?’ ইহাদেরই আবাসস্থল জাহান্নাম, আর উহা কত মন্দ আবাস!

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ تَوَفَّىٰهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ ظَالِمِىٓ أَنفُسِهِمْ قَالُوا۟ فِيمَ كُنتُمْ قَالُوا۟ كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِى ٱلْأَرْضِ قَالُوٓا۟ أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةً فَتُهَاجِرُوا۟ فِيهَا فَأ

আবদুস শহীদ নাসিম

নিজেদের প্রতি যুলুম করতে থাকা লোকদের যখন ফেরেশতারা ওফাত ঘটাতে আসে, তারা বলে: ‘তোমরা কী অবস্থার মধ্যে ছিলে?’ তখন তারা বলে: ‘আমরা দেশে দুর্বল অসহায় ছিলাম।’ তখন তারা বলে: ‘কেন আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিলনা যেখানে তোমরা হিজরত করতে পারতে?’ এরাই সেইসব লোক যাদের আবাস হবে জাহান্নাম আর সেটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস!

সমকালীন বাংলা

তবে যেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু কোন উপায় অবলম্বন করিতে পারে না এবং কোন পথও পায় না,

Word by word

إِلَّا ٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلْوِلْدَٰنِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে সেসব লোকেরা নয়, যেসব দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা কোনো উপায় অবলম্বনের সামর্থ রাখেনা এবং কোনো পথও খুঁজে পায়না।

সমকালীন বাংলা

অচিরেই তাহাদের পাপ মোচন করিবেন, কারণ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।

Word by word

فَأُو۟لَٰٓئِكَ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَعْفُوَ عَنْهُمْ وَكَانَ ٱللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেসব লোক, শীঘ্রি যাদের পাপ মুছে দেবেন, কারণ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।

সমকালীন বাংলা

কেহ আল্লাহর পথে হিজরত করিলে সে দুনিয়ায় বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য লাভ করিবে এবং কেহ ও রাসূলের উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ হইতে মুহাজির হইয়া বাহির হইলে এবং তাহার মৃত্যু ঘটিলে তাহার পুরস্কারের ভার আল্লাহর উপর; ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

وَمَن يُهَاجِرْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ يَجِدْ فِى ٱلْأَرْضِ مُرَٰغَمًا كَثِيرًا وَسَعَةً وَمَن يَخْرُجْ مِنۢ بَيْتِهِۦ مُهَاجِرًا إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ يُدْرِكْهُ ٱلْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُۥ

আবদুস শহীদ নাসিম

যে হিজরত করবে আল্লাহর পথে সে জগতে বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য লাভ করবে। যে কেউ নিজের ঘর থেকে আল্লাহর ও তার রসূলের দিকে মুহাজির হিসেবে বের হবে, এ পথে তার মৃত্যু হলে তার পুরস্কারের দায়িত্ব আল্লাহর। তো পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াময়।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যখন দেশ - বিদেশে সফর করিবে তখন যদি তোমাদের আশংকা হয়, কাফিররা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করিবে, তবে সংক্ষিপ্ত করিলে তোমাদের কোন দোষ নাই। নিশ্চয়ই কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

Word by word

وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِى ٱلْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا۟ مِنَ ٱلصَّلَوٰةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِنَّ ٱلْكَٰفِرِينَ كَانُوا۟ لَكُمْ عَدُوًّا مُّبِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যখন ভ্রমণে বের হও, তখন যদি তোমরা আশংকা করো যে, কাফিররা তোমাদের জন্যে ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে কসর করলে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। নিশ্চয়ই কাফিররা তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।

সমকালীন বাংলা

আর তুমি যখন তাহাদের মধ্যে অবস্থান করিবে ও তাহাদের সঙ্গে কায়েম করিবে তখন তাহাদের একদল তোমার সঙ্গে যেন দাঁড়ায় এবং তাহারা যেন সশস্ত্র থাকে। তাহাদের সিজ্দা করা হইলে তাহারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান করে ; আর অপর একদল যাহারা সালাতে শরীক হয় নাই তাহারা তোমার সঙ্গে যেন সালাতে শরীক হয় এবং তাহারা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। কাফিররা কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্রও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও যাহাতে তাহারা তোমাদের উপর একেবারে ঝাঁপাইয়া পড়িতে পারে। যদি তোমরা বৃষ্টির জন্য কষ্ট পাও অথবা পীড়িত থাক তবে তোমরা অস্ত্র রাখিয়া দিলে তোমাদের কোন দোষ নাই; কিন্তু তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করিবে। নিশ্চয়ই কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিপ্রস্তুত রাখিয়াছেন।

Word by word

وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَلْتَقُمْ طَآئِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوٓا۟ أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا۟ فَلْيَكُونُوا۟ مِن وَرَآئِكُمْ وَلْتَأْتِ طَآئِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَ

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) যখন তুমি তাদের মাঝে থাকো এবং (যুদ্ধ ও ত্রাস চলাকালে) তাদের সাথে নিয়ে সালাতে দাঁড়াও, তখন তাদের মধ্য থেকে একটি গ্রুপ তোমার সাথে সালাতে দাঁড়াবে এবং তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখবে। তারপর তারা সাজদা করে নিলে পেছনে গিয়ে অবস্থান নেবে এবং অপর গ্রুপ - যারা এখনো সালাতে অংশ নেয়নি এসে তোমার সাথে সালাতে অংশ নেবে। তারাও সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখবে। কারণ, কাফিররা তো চায়, তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং মাল সামানের ব্যাপারে সামান্য গাফিল হলেই তারা তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে, তোমরা যদি বৃষ্টির কারণে অসুবিধা বোধ করো, কিংবা অসুস্থ থাকো, তবে অস্ত্র রেখে দিলে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু সতর্ক থাকবে। জেনে রাখো, কাফিরদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছেন অপমানকর আযাব।

সমকালীন বাংলা

যখন তোমরা সমাপ্ত করিবে তখন দাঁড়াইয়া, বসিয়া এবং শুইয়া আল্লাহকে স্মরণ করিবে, যখন তোমরা নিরাপদ হইবে তখন যথাযথ কায়েম করিবে; নির্ধারিত সময়ে করা মু’মিনদের জন্য লিখিত হয়েছে।

Word by word

فَإِذَا قَضَيْتُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ قِيَٰمًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ فَإِذَا ٱطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتْ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ كِتَٰبًا مَّوْقُوتًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন তোমরা সমাপ্ত করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর যিকির করবে। তারপর যখন নিরাপদ বোধ করবে, তখন যথা নিয়মে আদায় করবে। নির্ধারিত সময়ে কায়েম করা মুমিনদের জন্যে এক লিখিত বিধান।

সমকালীন বাংলা

আর শত্রু সম্প্রদায় অনুসন্ধানে তোমরা দুর্বল হয়ো না। যদি তোমরা কষ্ট পেয়ে থাক তাহলে তারাও তো কষ্ট পাচ্ছে, যেভাবে তোমরা কষ্ট পাচ্ছ। আর তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে আশা করছ যা তারা আশা করছে না। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

وَلَا تَهِنُوا۟ فِى ٱبْتِغَآءِ ٱلْقَوْمِ إِن تَكُونُوا۟ تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ وَتَرْجُونَ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

শত্রু কওমের সন্ধানে তোমরা দুর্বলতা প্রদর্শন করোনা, যদি তোমরা যন্ত্রণা ভোগ করে থাকো তবে তারাও তোমাদের মতোই যন্ত্রণা পায়। আল্লাহর কাছে তোমরা এমন জিনিস আশা করো, যা তারা আশা করেনা। জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয় তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমাকে যা জানিয়েছেন সে অনুসারে মানুষের মধ্যে বিচার মীমাংসা কর এবং তুমি বিশ্বাসভঙ্গকারীদের সমর্থনে বিতর্ক করবে না।

Word by word

إِنَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ ٱلنَّاسِ بِمَآ أَرَىٰكَ ٱللَّهُ وَلَا تَكُن لِّلْخَآئِنِينَ خَصِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার প্রতি সত্যতা ও বাস্তবতার নিরিখে নাযিল করেছি এই কিতাব, যাতে তোমাকে যে সঠিক পথ জানিয়েছেন সে অনুযায়ী মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালা করে দিতে পারো। তুমি কখনো খিয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ক করোনা।

সমকালীন বাংলা

আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

وَٱسْتَغْفِرِ ٱللَّهَ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, কারণ পরম ক্ষমাশীল, দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

আর যারা নিজদের খিয়ানত করে তুমি তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিশ্চয় ভালবাসেন না তাকে, যে খিয়ানতকারী, পাপী।

Word by word

وَلَا تُجَٰدِلْ عَنِ ٱلَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা নিজেদের সাথে খিয়ানত করে, তুমি তাদের পক্ষে বিবাদে লিপ্ত হয়োনা। নিশ্চয়ই কোনো খেয়ানতকারী পাপীকে পছন্দ করেন না।

সমকালীন বাংলা

তাহারা মানুষ হইতে গোপন করিতে চাহে কিন্তু হইতে গোপন করে না; অথচ তিনি তাহাদের সঙ্গেই আছেন রাত্রে যখন তাহারা, তিনি যাহা পসন্দ করেন না - এমন বিষয়ে পরামর্শ করে যাহা করে তাহা সর্বতোভাবে আল্লহ্র জ্ঞানায়ত্ত।

Word by word

يَسْتَخْفُونَ مِنَ ٱلنَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ ٱللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَىٰ مِنَ ٱلْقَوْلِ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা মানুষ থেকে তাদের দুষ্কর্ম গোপন করতে চায়, কিন্তু আল্লাহর থেকে গোপন করতে পারেনা, তিনি তাদের সাথেই থাকেন রাত্রে যখন তারা তাঁর অপছন্দনীয় সলাপরামর্শ করে। তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন।

সমকালীন বাংলা

দেখ, তোমরাই ইহজীবনে তাহাদের পক্ষে বিতর্ক করিতেছ; কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সম্মুখে কে তাহাদের পক্ষে বিতর্ক করিবে অথবা কে তাহাদের উকীল হইবে?

Word by word

هَٰٓأَنتُمْ هَٰٓؤُلَآءِ جَٰدَلْتُمْ عَنْهُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فَمَن يُجَٰدِلُ ٱللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, তোমরা ইহজীবনে তাদের পক্ষে বিতর্ক করছো, কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে কে বিতর্ক করবে তাদের পক্ষে? কিংবা কে হবে তাদের পক্ষে উকিল?

সমকালীন বাংলা

কেহ কোন মন্দ কাজ করিয়া অথবা নিজের প্রতি জুলুম করিয়া পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিলে কে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাইবে।

Word by word

وَمَن يَعْمَلْ سُوٓءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُۥ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ ٱللَّهَ يَجِدِ ٱللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ পাপ কাজ করে, কিংবা নিজের প্রতি যুলুম করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল দয়াবানই পাবে।

সমকালীন বাংলা

কেহ পাপ করিলে সে উহা নিজের ক্ষতির জন্যই করে। সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।

Word by word

وَمَن يَكْسِبْ إِثْمًا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُۥ عَلَىٰ نَفْسِهِۦ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ কামাই করবে পাপ, সে তা কামাই করবে নিজেরই বিরুদ্ধে। তো মহাজ্ঞানী প্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

কেহ কোন দোষ বা পাপ করিয়া পরে উহা কোন নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করিলে সে তো মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।

Word by word

وَمَن يَكْسِبْ خَطِيٓـَٔةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِۦ بَرِيٓـًٔا فَقَدِ ٱحْتَمَلَ بُهْتَٰنًا وَإِثْمًا مُّبِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ উপার্জন করবে অপরাধ বা পাপ, পরে তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করবে, সে তো বহন করবে মিথ্যা অপবাদ এবং সুস্পষ্ট পাপের বোঝা।

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিলে তাহাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করিতে চাহিতই। কিন্তু তাহারা নিজেদেরকে ব্যতীত আর কাহাকেও পথভ্রষ্ট করে না এবং তোমার কোনই ক্ষতি করিতে পারে না। তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তুমি যাহা জানিতে না তাহা তোমাকে শিক্ষা দিয়াছেন; তোমার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রহিয়াছে।

Word by word

وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُۥ لَهَمَّت طَّآئِفَةٌ مِّنْهُمْ أَن يُضِلُّوكَ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَضُرُّونَكَ مِن شَىْءٍ وَأَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَة

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি যদি আল্লাহর ফজল (অনুগ্রহ) এবং রহমত (দয়া) না হতো, তাহলে তাদের একটি দল তোমাকে বিপথগামী করতে চাইতো। আসলে তারা তো নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও পথভ্রষ্ট করেনা। তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তো তোমার প্রতি নাযিল করেছেন আল কিতাব (আল কুরআন) এবং হিকমাহ (কর্মকৌশল ও কার্যনির্বাহী জ্ঞান) আর তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। তোমার প্রতি আল্লাহর ফজল বিরাট।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নাই, তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় দান - খয়রাত, সৎকর্ম ও মানুষের মধ্যে শান্তিস্থাপনের; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্খায় কেহ উহা করিলে তাহাকে অবশ্যই আমি মহাপুরস্কার দিব।

Word by word

لَّا خَيْرَ فِى كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَىٰهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَٰحٍۭ بَيْنَ ٱلنَّاسِ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِي

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ থাকে (সেই ব্যক্তির গোপন পরামর্শে) যে নির্দেশ দেয় দান করার, ভালো কাজ করার কিংবা মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপন করার। আল্লাহর সন্তোষ কামনায় কেউ যদি এসব কাজ করে, আমরা শীঘ্রি তাকে দান করবো মহাপু

সমকালীন বাংলা

কাহারও নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরিয়া যায় সেদিকেই তাহাকে ফিরাইয়া দিব এবং জাহান্নামে তাহাকে দগ্ধ করিব, আর উহা কত মন্দ আবাস!

Word by word

وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ ٱلْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِۦ جَهَنَّمَ وَسَآءَتْ مَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

কারো কাছে হিদায়াত (সত্যপথ) সুস্পষ্ট হবার পরও যদি সে রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অবলম্বন করে, তাহলে সে যেদিকে মুখ ফিরিয়েছে আমরা তাকে সে দিকেই ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে প্রবেশ করাবো জাহান্নামে, যা চরম নিকৃষ্ট আবাস।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তাঁহার সঙ্গে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না; ইহা ব্যতীত সব কিছু যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং কেহ আল্লাহর শরীফ করিলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট্র হয়।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِۦ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُ وَمَن يُشْرِكْ بِٱللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তাঁর সাথে শিরক করার পাপ ক্ষমা করবেন না, এ ছাড়া অন্যগুলো ক্ষমা করে দেবেন যাকে ইচ্ছা করবেন। যে কেউ আল্লাহর সাথে শিরক করে সে তো পথহারা হয়ে চলে যায় বহু দূরে।

সমকালীন বাংলা

তাঁহার পরিবর্তে তাহারা দেবীরই পূজা করে এবং বিদ্রোহী শয়তানেরই পূজা করে -

Word by word

إِن يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦٓ إِلَّآ إِنَٰثًا وَإِن يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَٰنًا مَّرِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তো আল্লাহর পরিবর্তে দেবীর এবং বিদ্রোহী শয়তানেরই পূজা করে।

সমকালীন বাংলা

তাহাকে লা‘নত করেন এবং সে বলে, ‘আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী করিয়া লইব।

Word by word

لَّعَنَهُ ٱللَّهُ وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তার প্রতি আল্লাহর লানত। সে বলে: ‘‘আমি অবশ্যি তোমার বান্দাদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে আমার তাবেদার বানিয়ে নেবো।

সমকালীন বাংলা

আমি তাহাদেরকে পথভ্রষ্ট করিবই; তাহাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করিবই, আমি তাহাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দিব আর তাহারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করিবেই, এবং তাহাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দিব আর তাহারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করিবেই। পরিবর্তে কেহ শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিলে সে স্পষ্টতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Word by word

وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَءَامُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ ءَاذَانَ ٱلْأَنْعَٰمِ وَلَءَامُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ ٱللَّهِ وَمَن يَتَّخِذِ ٱلشَّيْطَٰنَ وَلِيًّا مِّن دُونِ ٱللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি অবশ্যি তাদের পথভ্রষ্ট করবো, তাদের মনে মিথ্যা আকাংখা সৃষ্টি করবো, তারা আমার নির্দেশ মতো পশুর কান ছিদ্র করবে এবং আমি তাদের নির্দেশ দিয়ে যাবোই এবং তারা অবশ্যি আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করতে থাকবে।’’ যে কেউ আল্লাহর পরিবর্তে এই শয়তানকে অলি (বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক) হিসেবে গ্রহণ করবে, সে অবশ্যি নিমজ্জিত হবে সুস্পষ্ট ক্ষতির মধ্যে।

সমকালীন বাংলা

সে তাহাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাহাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে; আর শয়তান তাহাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তাহা ছলনামাত্র।

Word by word

يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ إِلَّا غُرُورًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তাদের ওয়াদা দেয় এবং তাদের মনে মিথ্যা বাসনা সৃষ্টি করে দেয়। আর শয়তানের ওয়াদা তো প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সমকালীন বাংলা

ইহাদেরই আশ্রয়স্থল জাহান্নাম, উহা হইতে তাহারা নিষ্কৃতির উপায় পাইবে না।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ مَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ وَلَا يَجِدُونَ عَنْهَا مَحِيصًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এদের (শয়তানের অনুসারীদের) আবাস হবে জাহান্নাম এবং সেখান থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ তারা পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

আর যাহারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাহাদেরকে দাখিল করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে ; আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, কে আল্লাহর অপেক্ষা কথায় অধিক সত্যবাদী?

Word by word

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا وَعْدَ ٱللَّهِ حَقًّا وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ ٱللَّهِ قِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, আমরা অবশ্যি তাদের দাখিল করবো জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কথার দিক থেকে আল্লাহর চাইতে সত্যবাদী আর কে?

সমকালীন বাংলা

তোমাদের খেয়াল - খুশি ও কিতাবীদের খেয়াল - খুশি অনুসারে কাজ হইবে না; কেহ মন্দ কাজকরিলে তাহার প্রতিফল সে পাইবে এবং ব্যতীত তাহার জন্য সে কোন অভিভাবক ও সহায় পাইবে না।

Word by word

لَّيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَآ أَمَانِىِّ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ مَن يَعْمَلْ سُوٓءًا يُجْزَ بِهِۦ وَلَا يَجِدْ لَهُۥ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের খেয়াল খুশি কিংবা আহলে কিতাবের খেয়াল খুশি মতো কাজ হবেনা। যে মন্দ কাজ করবে, তার প্রতিফল সে পাবেই এবং সে আল্লাহর পরিবর্তে কোনো অলি বা সাহায্যকারী পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে কেহ সৎকাজ করিলে ও হইলে তাহারা জান্নাতে দাখিল হইবে এবং তাহাদের প্রতি অণু পরিমাণও জুলুম করা হইবে না।

Word by word

وَمَن يَعْمَلْ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُو۟لَٰٓئِكَ يَدْخُلُونَ ٱلْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কোনো পুরুষ বা নারী অবস্থায় আমলে সালেহ্ করবে, তারা অবশ্যি দাখিল হবে জান্নাতে এবং তাদের প্রতি কণা পরিমাণও অবিচার করা হবেনা।

সমকালীন বাংলা

তাহার অপেক্ষা দীনে কে উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ হইয়া নিকট আত্মসর্মপণ করে এবং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করে? এবং ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিয়াছেন।

Word by word

وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِّمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَٱتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًا وَٱتَّخَذَ ٱللَّهُ إِبْرَٰهِيمَ خَلِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

দীনের দিক থেকে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে আছে, যে মুহসিন (পুণ্যবান) অবস্থায় আল্লাহর বাধ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহিমের মিল্লাত (আদর্শ) অনুসরণ করেছে? আর তো ইবরাহিমকে নিজের বন্ধু হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

সমকালীন বাংলা

আস্মান ও যমীনে যাহা কিছু আছে সব এবং সবকিছুকে পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছেন।

Word by word

وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ مُّحِيطًا

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, আর প্রতিটি বস্ত্তকেই পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।

সমকালীন বাংলা

আর লোকে তোমার নিকট নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানিতে চায়। বল, তোমাদেরকে তাহাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাইতেছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে যাহাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না, অথচ তোমরা তাহাদেরকে বিবাহ করিতে চাও এবং অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে ও ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায়বিচার সম্পর্কে যাহা কিতাবে তোমাদেরকে শোনান হয়, তাহাও পরিষ্কারভাবে জানাইয়া দেন।’ আর যে কোন সৎকাজ তোমরা কর তো তাহা সবিশেষ অবহিত।

Word by word

وَيَسْتَفْتُونَكَ فِى ٱلنِّسَآءِ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فِى ٱلْكِتَٰبِ فِى يَتَٰمَى ٱلنِّسَآءِ ٱلَّٰتِى لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَن تَنكِحُوهُ

আবদুস শহীদ নাসিম

নারীদের ব্যাপারে তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে। তুমি বলো তাদের ব্যাপারে তোমাদের ফতোয়া দিচ্ছেন, আর এতিম নারীদের ব্যাপারে, যাদের প্রাপ্য তোমরা পরিশোধ করোনা, অথচ তোমরা তাদের বিয়ে করতে চাও এবং অসহায় শিশুদের ব্যাপারে আর এতিমদের ব্যাপারে তোমাদের সুবিচার সম্পর্কে যা তোমাদের এই কিতাবে তিলাওয়াত করে শুনানো হয়, তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর তোমরা যে কোনো কল্যাণকর কাজই করোনা কেন, তা বিশেষভাবে জ্ঞাত।

সমকালীন বাংলা

কোন স্ত্রী যদি তাহার স্বামীর দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে তবে তাহারা আপোসনি ষ্পত্তি করিতে চাহিলে তাহাদের কোন গুনাহ নাই এবং আপোস - নিষ্পত্তিই শ্রেয়। মানুষ লোভহেতু স্বভাবত কৃপণ; এবং যদি তোমরা সৎকর্মপরায়ণ হও ও হও, তবে তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই তাহার খবর রাখেন।

Word by word

وَإِنِ ٱمْرَأَةٌ خَافَتْ مِنۢ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَآ أَن يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَٱلصُّلْحُ خَيْرٌ وَأُحْضِرَتِ ٱلْأَنفُسُ ٱلشُّحَّ وَإِن تُحْسِنُوا۟ وَتَتَّقُوا۟

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো নারী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে তারা আপোস মীমাংসা করতে চাইলে তাদের কোনো দোষ হবেনা। তাছাড়া আপোস - মীমাংসাই উত্তম। লোভের কারণে মানুষ স্বভাবত কৃপণ। তোমরা যদি ইহ্সান করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা করো তার খবর রাখেন।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা যতই ইচ্ছা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করিতে কখনই পারিবে না ; তবে তোমরা কোন একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকিয়া পড়িও না ও অপরকে ঝুলানো অবস্থায় রাখিও না। যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর ও সাবধান হও তবে নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

Word by word

وَلَن تَسْتَطِيعُوٓا۟ أَن تَعْدِلُوا۟ بَيْنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا۟ كُلَّ ٱلْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَٱلْمُعَلَّقَةِ وَإِن تُصْلِحُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যতোই আকাংখা করোনা কেন, তোমরা কিছুতেই স্ত্রীদের মাঝে সমান ব্যবহার করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা কোনো একজনের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়োনা এবং অন্যকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দিওনা। তোমরা যদি সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

যদি তাহারা পরস্পর পৃ ক হইয়া যায়, তবে তাঁহার প্রাচুর্য দ্বারা তাহাদের প্রত্যেককে

Word by word

وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغْنِ ٱللَّهُ كُلًّا مِّن سَعَتِهِۦ وَكَانَ ٱللَّهُ وَٰسِعًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি তারা (স্বামী স্ত্রী) পরস্পর পৃথক হয়েই যায়, তবে তাঁর অসীম ভান্ডার থেকে দান করে তাদের প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করবেন। আর তো প্রাচুর্যশালী প্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

আস্মানে যাহা আছে ও যমীনে যাহা আছে সব তোমাদের পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদেরকে এবং তোমাদেরকেও নির্দেশ দিয়াছি যে, তোমরা কে ভয় করিবে এবং তোমরা করিলেও আস্মানে যাহা আছে ও যমীনে যাহা আছে তাহা আল্লাহরই এবং অভাবমুক্ত, প্রশংসাজনক।

Word by word

وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَلَقَدْ وَصَّيْنَا ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَإِن تَكْفُرُوا۟ فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰت

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং বিশেষভাবে তোমাদেরকে আমরা অসিয়ত (নির্দেশ) করছি: ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।’ তোমরা যদি এটা অস্বীকার করো, তবে জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং মুখাপেক্ষাহীন সপ্রশংসিত।

সমকালীন বাংলা

আসমানে যাহা আছে ও যমীনে যাহা আছে সব আল্লাহরই এবং কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।

Word by word

وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, আর উকিল (কর্মসম্পাদক) হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।

সমকালীন বাংলা

হে মানুষ ! তিনি ইচ্ছা করিলে তোমাদেরকে অপসারিত করিতে ও অপরকে আনিতে পারেন; ইহা করিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

Word by word

إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا ٱلنَّاسُ وَيَأْتِ بِـَٔاخَرِينَ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ قَدِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তিনি চাইলে তোমাদের অপসারিত করে অন্যদের নিয়ে আসতে পারেন। একাজ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

সমকালীন বাংলা

কেহ দুনিয়ার পুরস্কার চাহিলে তবে নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে পুরস্কার রহিয়াছে।

Word by word

مَّن كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ ٱلدُّنْيَا فَعِندَ ٱللَّهِ ثَوَابُ ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعًۢا بَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

কেউ যদি (শুধু) দুনিয়ার সওয়াব (পুরস্কার) চায়, তবে সে জেনে রাখুক, আল্লাহর কাছে দুনিয়া এবং উভয় স্থানের সওয়াবই (পুরস্কারই) রয়েছে। সব কিছু শুনেন, সব কিছু দেখেন।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকিবে সাক্ষীস্বরূপ; যদিও ইহা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা - মাতা এবং আত্মীয় - স্বজনের বিরুদ্ধে হয় ; সে বিত্তবান হউক অথবা বিত্তহীন হউক উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করিতে প্রবৃত্তির অনুগামী হইও না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল অথবা পাশ কাটাইয়া যাও তবে তোমরা যাহা কর তো তাহার সম্যক খবর রাখেন।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُونُوا۟ قَوَّٰمِينَ بِٱلْقِسْطِ شُهَدَآءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمْ أَوِ ٱلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَٱللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা সুবিচারের উপর মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে, তা যদি তোমাদের নিজেদের, কিংবা তোমাদের পিতা - মাতা বা নিকটজনের বিরুদ্ধেও যায়। সে বিত্তবান হোক কিংবা অভাবী, তাদের উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা সুবিচার করতে গিয়ে খেয়াল খুশির অনুগামী হয়োনা। তোমরা যদি পেঁচালো কথা বলো, কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা করো সে বিষয়ে খবর রাখেন।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহে তাঁহার রাসূলে, তিনি যে কিতাব তাঁহার রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে এবং যে কিতাব তিনি পূর্বে অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে ঈমান আন। এবং কেহ তাঁহার ফিরিশ্তাগণ, তাঁহার কিতাবসমূহ, তাঁহার রাসূলগণ এবং আখিরাতকে প্রত্যাখ্যান করিলে সে তো ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হইয়া পড়িবে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ ءَامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلَّذِى نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ مِن قَبْلُ وَمَن يَكْفُرْ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ و

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর সেই কিতাবের প্রতি যা তিনি নাযিল করেছেন তাঁর রসূলের কাছে এবং ঐ কিতাবের প্রতিও যা তিনি নাযিল করেছেন তার পূর্বে। যে কেউ কুফুরি করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি এবং পরকালের প্রতি, সে তো বিপথগামী হয়ে চলে যাবে বহু দূর।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যাহারা ঈমান আনে ও পরে করে এবং আবার ঈমান আনে, আবার করে; অতঃপর তাহাদের প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায়, তাহাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করিবেন না এবং তাহাদেরকে কোন পথও দেখাইবেন না।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ثُمَّ كَفَرُوا۟ ثُمَّ ءَامَنُوا۟ ثُمَّ كَفَرُوا۟ ثُمَّ ٱزْدَادُوا۟ كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ ٱللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًۢا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফুরি করেছে, তারপর ঈমান এনেছে, তারপরও কুফুরি করেছে, তারপর কুফুরিতে অগ্রসর হয়েছে। কিছুতেই তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সঠিক পথও দেখাবেন না।

সমকালীন বাংলা

মুনাফিকদেরকে শুভ সংবাদ দাও যে, তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

Word by word

بَشِّرِ ٱلْمُنَٰفِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

সমকালীন বাংলা

মু’মিনগণের পরিবর্তে যাহারা কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তাহারা কি উহাদের নিকট সম্মান চায়? সর্বোচ্চ সম্মান তো আল্লহরই।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَتَّخِذُونَ ٱلْكَٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِندَهُمُ ٱلْعِزَّةَ فَإِنَّ ٱلْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা মুমিনদের পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে কাফিরদের, তারা কি তাদের কাছে ইজ্জত চায়? অথচ ইজ্জত তো পুরোটাই আল্লাহর।

সমকালীন বাংলা

কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি তো অবতীর্ণ করিয়াছেন যে, যখন তোমরা শুনিবে, আয়াত প্রত্যাখ্যাত হইতেছে এবং উহাকে বিদ্রুপ করা হইতেছে, তখন যে পর্যন্ত তাহারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হইবে তোমরা তাহাদের সঙ্গে বসিও না ; অন্যথায় তোমরাও উহাদের মত হইবে।

Word by word

وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِى ٱلْكِتَٰبِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا۟ مَعَهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا۟ فِى حَدِيثٍ غَيْرِهِۦٓ إِنَّكُمْ إِذًا مِّثْل

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তো তোমাদের জন্যে কিতাবে একথা আগেই নাযিল করেছেন যে, তোমরা যখন শুনবে আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবেনা যতোক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে চলে যাবে। তা না হলে তোমরাও তাদের অনুরূপ বলে গণ্য হবে। মুনাফিক এবং কাফিরদের জাহান্নামে একত্র করবেন।

সমকালীন বাংলা

যাহারা তোমাদের অমঙ্গলের প্রতীক্ষায় থাকে তাহারা আল্লাহর পক্ষ হইতে তোমাদের জয় হইলে বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ আর যদি কাফিরদের কিছু বিজয় হয়, তবে তাহারা বলে, ‘আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করিয়া রাখিয়াছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে মু’মিনদের হাত হইতে রক্ষা করি নাই?’ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করিবেন এবং কখনই মু’মিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের জন্য কোন পথ রাখিবেন না।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَتَرَبَّصُونَ بِكُمْ فَإِن كَانَ لَكُمْ فَتْحٌ مِّنَ ٱللَّهِ قَالُوٓا۟ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ وَإِن كَانَ لِلْكَٰفِرِينَ نَصِيبٌ قَالُوٓا۟ أَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَيْكُمْ وَنَمْنَعْكُم مِّنَ ٱلْمُؤْم

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তোমাদের অকল্যাণের অপেক্ষায় থাকে, তারপর যখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের বিজয় অর্জিত হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?’ আর যদি কাফিরদের আংশিক বিজয় হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করে রাখিনি এবং মুমিনদের হাত থেকে রক্ষা করিনি?’ কিয়ামতের দিনই তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন। কখনো মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের কোনো পথ করে দেবেন না।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে ; বস্তুত তিনি তাহাদেরকে উহার শাস্তি দেন, আর যখন তাহারা সালাতে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সঙ্গে দাঁড়ায় - কেবল লোক দেখানোর

Word by word

إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَهُوَ خَٰدِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوٓا۟ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ قَامُوا۟ كُسَالَىٰ يُرَآءُونَ ٱلنَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ ٱللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোকাবাজি করে। আসলে তিনিই তাদের ধোকায় ফেলে রেখেছেন। তারা যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন আলস্যের সাথে দাঁড়ায়। তারা সালাতে আসে লোক দেখানোর জন্যে এবং খুব কমই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে।

সমকালীন বাংলা

দোটানায় দোদুল্যমান - না ইহাদের দিকে, না উহাদের দিকে! এবং যাহাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি তাহার জন্য কখনও কোন পথ পাইবে না।

Word by word

مُّذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَٰلِكَ لَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ وَلَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা দোটানায় দোদুল্যমান থাকে, না এদের দিকে, না ওদের দিকে। যাকে গোমরাহ করে দেন, তুমি তার জন্যে কোনো পথ পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

হে মু’মিনগণ ! তোমরা মু’মিনগণের পরিবর্তে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না। তোমরা

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ ٱلْكَٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ أَتُرِيدُونَ أَن تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَٰنًا مُّبِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের অলি হিসেবে গ্রহণ করোনা। তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও?

সমকালীন বাংলা

মুনাফিকরা তো জাহান্নামের নিচুতম স্তরে থাকিবে এবং তাহাদের জন্য তুমি কখনও কোন সহায় পাইবে না।

Word by word

إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِى ٱلدَّرْكِ ٱلْأَسْفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। তুমি তাদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু যাহারা তওবা করে, নিজেদেরকে সংশোধন করে, কে দৃঢ়ভাবে অবলম্বনকরে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাহাদের দীনে একনিষ্ঠ থাকে, তাহারা মু’মিনদের সঙ্গে থাকিবে এবং মুমিনগণকে অবশ্যই মহা - পুরস্কার দিবেন।

Word by word

إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ وَأَصْلَحُوا۟ وَٱعْتَصَمُوا۟ بِٱللَّهِ وَأَخْلَصُوا۟ دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَعَ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ ٱللَّهُ ٱلْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা তওবা করে, নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহর জন্যে নিজেদের দীনকে একনিষ্ঠ করে নেয়, তারা মুমিনদের সাথে থাকবে। শীঘ্রি মুমিনদের দান করবেন মহাপুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর ও ঈমান আন তবে তোমাদের শাস্তিতে কি কাজ?

Word by word

مَّا يَفْعَلُ ٱللَّهُ بِعَذَابِكُمْ إِن شَكَرْتُمْ وَءَامَنتُمْ وَكَانَ ٱللَّهُ شَاكِرًا عَلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি শোকর আদায় করো এবং ঈমান রাখো, তাহলে তোমাদের শাস্তি দিয়ে আল্লাহর কী কাজ? তো কৃতজ্ঞতার মর্যাদাদানকারী সর্বজ্ঞানী।

সমকালীন বাংলা

মন্দ কথার প্রচারণা পসন্দ করেন না; তবে যাহার উপর জুলুম করা হইয়াছে সে

Word by word

لَّا يُحِبُّ ٱللَّهُ ٱلْجَهْرَ بِٱلسُّوٓءِ مِنَ ٱلْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

মনদ ও পাপের কথার প্রচারণা পছন্দ করেন না, তবে যার প্রতি যুলুম করা হয়েছে, তার কথা ভিন্ন। সব শুনেন, সব জানেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা সৎকর্ম প্রকাশ্যে করিলে অথবা তাহা গোপনে করিলে কিংবা দোষ ক্ষমা করিলে তবে ও দোষ মোচনকারী, শক্তিমান।

Word by word

إِن تُبْدُوا۟ خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُوا۟ عَن سُوٓءٍ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি কল্যাণের কাজ প্রকাশ করো, কিংবা তা গোপন করো, অথবা যদি দোষ ক্ষমা করে দাও, তবে জেনে রাখো, পাপ ক্ষমাকারী শক্তিমান।

সমকালীন বাংলা

যাহারা অস্বীকার করে ও তাঁহার রাসূলদেরকেও এবং ও তাঁহার রাসূলের মধ্যে ঈমানের ব্যাপারে তারতম্য করিতে চায় এবং বলে, ‘আমরা কতককে বিশ্বাস করি ও কতককে অবিশ্বাস করি’; আর তাহারা মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করিতে চায়,

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيُرِيدُونَ أَن يُفَرِّقُوا۟ بَيْنَ ٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَن يَتَّخِذُوا۟ بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি আর ও তাঁর রসূলদের মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করে দিতে চায় এবং বলে: ‘আমরা কিছু মানি, আর কিছু মানি না’ আর তারা এ দুয়ের মধ্যবর্তী কোনো পথ অবলম্বন করতে চায়,

সমকালীন বাংলা

ইহারাই প্রকৃত , এবং কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَٰفِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَٰفِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারাই আসল । আর আমরা কাফিরদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছি অপমানকর আযাব।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ও তাঁহার রাসূলগণে ঈমান আনে এবং তাহাদের একের সঙ্গে অপরের পার্থক্য করে না উহাদেরকে তিনি অবশ্যই পুরষ্কার দিবেন এবং ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَلَمْ يُفَرِّقُوا۟ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ أُو۟لَٰٓئِكَ سَوْفَ يُؤْتِيهِمْ أُجُورَهُمْ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি এবং তাদের কারো মধ্যে কোনো ফারাক করেনা, অচিরেই এদের তিনি পুরস্কার দেবেন তাদের প্রাপ্য পুরস্কার, এবং ক্ষমাশীল দয়াময়।

সমকালীন বাংলা

কিতাবীগণ তোমাকে তাহাদের জন্য আস্মান হইতে কিতাব অবতীর্ণ করিতে বলে; অথচ তাহারা মূসার নিকট ইহা অপেক্ষাও বড় দাবি করিয়াছিল। তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদেরকে প্রকাশ্যে কে দেখাও।’ তাহাদের সীমালংঘনের জন্য তাহারা বজ্রাহত হইয়াছিল; অতঃপর স্পষ্ট প্রমাণ তাহাদের নিকট প্রকাশ হওয়ার পরও তাহারা গো - বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করিয়াছিল ; ইহাও ক্ষমা করিয়াছিলাম এবং মূসাকে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করিয়াছিলাম।

Word by word

يَسْـَٔلُكَ أَهْلُ ٱلْكِتَٰبِ أَن تُنَزِّلَ عَلَيْهِمْ كِتَٰبًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فَقَدْ سَأَلُوا۟ مُوسَىٰٓ أَكْبَرَ مِن ذَٰلِكَ فَقَالُوٓا۟ أَرِنَا ٱللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ بِظُلْمِهِمْ ثُمّ

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবের লোকেরা তোমার কাছে দাবি করে, তুমি যেনো আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি কিতাব নাযিল করো। মূসার কাছে তারা এর চাইতেও বড় জিনিস দাবি করেছিল। তারা (মূসাকে) বলেছিল: ‘আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখাও’। তাদের এই সীমালংঘনের কারণে বজ্রাঘাতে তারা মারা পড়েছিল। তারপরেও তারা গরুর বাছুরকে দেবতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর। তারপরও আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলাম এবং মূসাকে প্রদান করেছিলাম সুস্পষ্ট প্রমাণ।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের অঙ্গীকারের জন্য ‘তূর’ পর্বতকে আমি তাহাদের ঊর্ধ্বে উত্তোলন করিয়াছিলাম এবং তাহাদেরকে বলিয়াছিলাম, ‘নতশিরে দ্বার দিয়া প্রবেশ কর।’ তাহাদেরকে আরও বলিয়াছিলাম, ‘শনিবার সম্পর্কে’ সীমালংঘন করিও না, এবং তাহাদের নিকট হইতে দৃঢ় অঙ্গীকার লইয়াছিলাম।

Word by word

وَرَفَعْنَا فَوْقَهُمُ ٱلطُّورَ بِمِيثَٰقِهِمْ وَقُلْنَا لَهُمُ ٱدْخُلُوا۟ ٱلْبَابَ سُجَّدًا وَقُلْنَا لَهُمْ لَا تَعْدُوا۟ فِى ٱلسَّبْتِ وَأَخَذْنَا مِنْهُم مِّيثَٰقًا غَلِيظًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের থেকে অঙ্গীকার নেয়ার জন্যে তুর পাহাড়কে তাদের উপরে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদের বলেছিলাম: ‘অবনত শিরে এই গেইট দিয়ে প্রবেশ করো।’ আমরা তাদের আরো বলেছিলাম: ‘শনিবারে বাড়াবাড়ি করোনা’। তাদের থেকে আমরা মজবুত অঙ্গীকার আদায় করেছিলাম।

সমকালীন বাংলা

এবং তাহারা লা‘নতগ্রস্ত হইয়াছিল তাহাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য, আল্লাহর আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্য এবং ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’ তাহাদের এই উক্তির জন্য; বরং তাহাদের কুফরীর কারণে উহা মোহর করিয়াছেন। সুতরাং তাহাদের অল্পসংখ্যক লোকই বিশ্বাস করে।

Word by word

فَبِمَا نَقْضِهِم مِّيثَٰقَهُمْ وَكُفْرِهِم بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَقَتْلِهِمُ ٱلْأَنۢبِيَآءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌۢ بَلْ طَبَعَ ٱللَّهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِي

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা অভিশপ্ত হয়েছে তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে, আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করার কারণে, অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই কথার কারণে যে: ‘আমাদের অন্তর আচ্ছাদিত’। বরং তাদের কুফুরির কারণে তাদের অন্তর সীলমোহর করে দিয়েছেন। ফলে তারা আর ঈমান আনবে না, স্বল্প সংখ্যক ছাড়া।

সমকালীন বাংলা

এবং তাহারা লা‘নতগ্রস্ত হইয়াছিল তাহাদের কুফরীর জন্য ও মার্‌ইয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদের জন্য,

Word by word

وَبِكُفْرِهِمْ وَقَوْلِهِمْ عَلَىٰ مَرْيَمَ بُهْتَٰنًا عَظِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা অভিশপ্ত হয়েছে তাদের কুফুরির কারণে এবং মরিয়মের উপর গুরুতর অপবাদ আরোপের কারণে।

সমকালীন বাংলা

আর ‘আমরা রাসূল মার্‌ইয়ামতনয় ‘ঈসা মসীহ্কে হত্যা করিয়াছি’ তাহাদের এই উক্তির জন্য। অথচ তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই, ক্রুশবিদ্ধ করে নাই ; কিন্তু তাহাদের এইরূপ বিভ্রম ইয়াছিল। যাহারা তাহার সম্বন্ধে মতভেদ করিয়াছিল তাহারা নিশ্চয়ই এই সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল; এই সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত তাহাদের কোন জ্ঞানই ছিল না। ইহা নিশ্চিত যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই;

Word by word

وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا ٱلْمَسِيحَ عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ ٱللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ لَفِى شَكٍّ مِّنْهُ مَا لَهُم بِه

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের এ কথার কারণেও যে, ‘আমরা আল্লাহর রসূল মরিয়মের পুত্র ঈসা মসিহ্কে হত্যা করেছি।’ অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি, ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের এ রকম বিভ্রম হয়েছিল। যারা তার সম্পর্কে মতভেদ করেছিল, তারা অবশ্যি এ বিষয়ে সংশয়ের মধ্যে ছিলো। অনুমানের অনুগামী হওয়া ছাড়া এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞানই ছিলনা। তারা যে তাকে হত্যা করেনি, তা নিশ্চিত।

সমকালীন বাংলা

তাহাকে তাঁহার নিকট তুলিয়া লইয়াছেন এবং পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

بَل رَّفَعَهُ ٱللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তাকে তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং মহাশক্তিধর, প্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

কিতাবীদের মধ্যে প্রত্যেকে নিজ মৃত্যুর পূর্বে তাহাকে বিশ্বাস করিবেই এবং কিয়ামতের দিন সে তাহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।

Word by word

وَإِن مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِۦ قَبْلَ مَوْتِهِۦ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবের প্রতিটি মানুষ অবশ্যি তার (ঈসার) প্রতি ঈমান আনবে তার মৃত্যুর আগে এবং কিয়ামতের দিন সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।

সমকালীন বাংলা

ভাল ভাল যাহা ইয়াহূদীদের জন্য বৈধ ছিল আমি তাহা উহাদের জন্য অবৈধ করিয়াছি তাহাদের সীমালঙ্গনের জন্য এবং আল্লাহর পথে অনেক কে বাধা দেওয়ার জন্য,

Word by word

فَبِظُلْمٍ مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُوا۟ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَٰتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ كَثِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদিদের যুলুমের কারণে আমরা তাদের জন্যে হারাম করে দিয়েছি ভালো ভালো সেসব জিনিস, যা তাদের জন্যে হালাল ছিলো এবং আল্লাহর পথে যে তারা অনেককে বাধা দেয় সে কারণে।

সমকালীন বাংলা

এবং তাহাদের সুদ গ্রহণের জন্য, যদিও উহা তাহাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হইয়াছিল; এবং অন্যায়ভাবে লোকের ধন - সম্পদ গ্রাস করার জন্য। তাহাদের মধ্যে যাহারা তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।

Word by word

وَأَخْذِهِمُ ٱلرِّبَوٰا۟ وَقَدْ نُهُوا۟ عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَٰلَ ٱلنَّاسِ بِٱلْبَٰطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَٰفِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। আর অন্যায়ভাবে মানুষের অর্থসম্পদ গ্রাস করার করণে। আমরা কাফিরদের জন্যে তৈরি করে রেখেছি বেদানাদায়ক আযাব।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু তাহাদের মধ্যে যাহারা জ্ঞানে সুগভীর তাহারা ও মু’মিনগণ তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে এবং তোমার পূর্বে যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহাতেও ঈমান আনে এবং যাহারা কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ও পরকালে ঈমান রাখে, আমি উহাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।

Word by word

لَّٰكِنِ ٱلرَّٰسِخُونَ فِى ٱلْعِلْمِ مِنْهُمْ وَٱلْمُؤْمِنُونَ يُؤْمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَٱلْمُقِيمِينَ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱلْمُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلْمُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْي

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে গভীরতা রাখে তারা এবং মুমিনরা ঈমান রাখে যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি সেটার প্রতি এবং যা আমরা তোমার আগে নাযিল করেছি তার প্রতিও। তারা কায়েমকারী, যাকাত প্রদানকারী এবং ও পরকালের প্রতি ঈমান পোষণকারী। আমরা এদের শীঘ্রি প্রদান করবো মহাপুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

আমি তো তোমার নিকট ‘ওহী’ প্রেরণ করিয়াছি যেমন নূহ ও তাহার পরবর্তী নবীগণের নিকট ওহী প্রেরণ করিয়াছিলাম; ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাহার বংশধরগণ, ‘ঈসা, আইউব, ইউনুস, হারূন ও সুলায়মানের নিকটও ‘ওহী’ প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং দাঊদকে যাবূর দিয়াছিলাম।

Word by word

إِنَّآ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ كَمَآ أَوْحَيْنَآ إِلَىٰ نُوحٍ وَٱلنَّبِيِّۦنَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطِ وَعِيسَىٰ وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার কাছে অহি পাঠিয়েছি, যেমন পাঠিয়েছিলাম নূহের কাছে এবং তার পরের নবীদের কাছে, ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের কাছে এবং ঈসা, আইউব, ইউনুস, হারূণ ও সুলাইমানের কাছে, আর আমরা দাউদকে দিয়েছিলাম যবুর।

সমকালীন বাংলা

অনেক রাসূল প্রেরণ করিয়াছি যাহাদের কথা পূর্বে আমি তোমাকে বলিয়াছি এবং অনেক রাসূল, যাহাদের কথা তোমাকে বলি নাই। এবং মূসার সঙ্গে সাক্ষাৎ বাক্যালাপ করিয়াছিলেন।

Word by word

وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَٰهُمْ عَلَيْكَ مِن قَبْلُ وَرُسُلًا لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ ٱللَّهُ مُوسَىٰ تَكْلِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এছাড়া আরো অনেক রসূল। তাদের কথা আমরা আগেই তোমাকে জানিয়েছি আর অনেক রসূলের কথা আমরা তোমাকে বলিনি। এছাড়া মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।

সমকালীন বাংলা

সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী রাসূল প্রেরণ করিয়াছি, যাহাতে রাসূল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোন অভিযোগ না থাকে। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

رُّسُلًا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى ٱللَّهِ حُجَّةٌۢ بَعْدَ ٱلرُّسُلِ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছিলো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রসূল, যাতে করে রসূল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ করার সুযোগ না থাকে। আর তো মহাশক্তিমান ও মহাপ্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

পরন্তু সাক্ষ্য দেন তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহার মাধ্যমে। তিনি তাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন নিজ জ্ঞানে এবং ফিরিশ্তাগণও সাক্ষী দেয়। আর সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট।

Word by word

لَّٰكِنِ ٱللَّهُ يَشْهَدُ بِمَآ أَنزَلَ إِلَيْكَ أَنزَلَهُۥ بِعِلْمِهِۦ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সাক্ষ্য দিচ্ছেন তোমার প্রতি যা নাযিল করেছেন তার মাধ্যমে যে, তিনি তা নাযিল করেছেন নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে, ফেরেশতারাও এ সাক্ষ্য দেয়। আর সাক্ষী হিসেবে তো আল্লাহই যথেষ্ট।

সমকালীন বাংলা

যাহারা করেও আল্লাহর পথে বাধা দেয় তাহারা তো ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হইয়াছে।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ قَدْ ضَلُّوا۟ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা কুফুরি করে এবং মানুষকে আল্লাহর পথে আসতে বাধা দেয়, তারা বিপথগামী হয়ে চলে গেছে বহু দূর।

সমকালীন বাংলা

যাহারা করিয়াছে ও সীমালংঘন করিয়াছে তাহাদেরকে কখনও ক্ষমা করিবেন না এবং তাহাদেরকে কোন পথও দেখাইবেন না,

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَظَلَمُوا۟ لَمْ يَكُنِ ٱللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ طَرِيقًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা কুফুরি করেছে এবং যুলুম করেছে, তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না, আর তাদেরকে কোনো পথও দেখাবেন না।

সমকালীন বাংলা

জাহান্নামের পথ ব্যতীত সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে এবং আল্লাহর পক্ষে সহজ।

Word by word

إِلَّا طَرِيقَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে জাহানণামের পথ। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল। এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

সমকালীন বাংলা

হে মানবমণ্ডলী! রাসূল তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে সত্য আনিয়াছে; সুতরাং তোমরা ঈমান আন, ইহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হইবে। এবং তোমরা অস্বীকার করিলেও আসমান ও যমীনে যাহা আছে সব আল্লাহরই এবং সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَكُمُ ٱلرَّسُولُ بِٱلْحَقِّ مِن رَّبِّكُمْ فَـَٔامِنُوا۟ خَيْرًا لَّكُمْ وَإِن تَكْفُرُوا۟ فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! এই রসূল তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এসেছে মহাসত্য নিয়ে। সুতরাং তোমরা তার প্রতি ঈমান আনো, এটাই হবে তোমাদের জন্যে কল্যাণবহ। কিন্তু তোমরা যদি অস্বীকার করো, তবে জেনে রাখো, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। আর মহাজ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাবান।

সমকালীন বাংলা

হে কিতাবীগণ! দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না ওআল্লাহসম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলিও না। মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা মসীহ্ তো রাসূল এবং তাঁহার বাণী, যাহা তিনি মার্‌ইয়ামের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলেন ও তাঁহার আদেশ। সুতরাং তোমরা ও তাঁহার রাসূলগণে ঈমান আন এবং বলিও না, ‘তিন!’ নিবৃত্ত হও, ইহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হইবে। তো একমাত্র ইলাহ্; তাঁহার সন্তান হইবে - তিনি ইহা হইতে পবিত্র। আসমানে যাহা কিছু আছে সব আল্লাহরই; কর্ম - বিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।

Word by word

يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لَا تَغْلُوا۟ فِى دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْحَقَّ إِنَّمَا ٱلْمَسِيحُ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ ٱللَّهِ وَكَلِمَتُهُۥٓ أَلْقَىٰهَآ إِلَىٰ مَرْيَمَ وَرُوحٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করোনা এবং আল্লাহর সম্পর্কে সত্য ছাড়া বলোনা। নিশ্চয়ই মরিয়মের পুত্র ঈসা মসিহ্ আল্লাহর একজন রসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি নিক্ষেপ করেছিলেন মরিয়মের প্রতি, আর সে আল্লাহর একটি আদেশ। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলদের প্রতি, আর তোমরা তিন খোদা বলো না। তোমরা এ থেকে বিরত হও, এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। নিশ্চয়ই একমাত্র ইলাহ্। তাঁর সন্তান থাকবে - এমন বিষয় থেকে তিনি পবিত্র। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তো তাঁর। উকিল হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।

সমকালীন বাংলা

মসীহ্ আল্লাহর বান্দা হওয়াকে কখনও হেয় জ্ঞান করে না এবং ঘনিষ্ঠ ফিরিশ্তাগণও করে না। আর কেহ তাঁহার ‘ইবাদতকে হেয় জ্ঞান করিলে এবং অহংকার করিলে তিনি অবশ্যই তাহাদের সকলকে তাঁহার নিকট একত্র করিবেন।

Word by word

لَّن يَسْتَنكِفَ ٱلْمَسِيحُ أَن يَكُونَ عَبْدًا لِّلَّهِ وَلَا ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ ٱلْمُقَرَّبُونَ وَمَن يَسْتَنكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِۦ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيْهِ جَمِيعًا

আবদুস শহীদ নাসিম

মসিহ্ (ঈসা) আল্লাহর বান্দা হওয়াকে কখনো ছোট করে দেখেনি, নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতারাও নয়। যে কেউ আল্লাহর দাসত্ব করাকে হেয় জ্ঞান করবে এবং অহংকার করবে, তিনি তাদের সবাইকে অবশ্যি তাঁর কাছে জমা করবেন।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তিনি তাহাদেরকে পূর্ণ পুরস্কার দান করিবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দিবেন। কিন্তু যাহারা হেয় জ্ঞান করে ও অহংকার করে তাহাদেরকে তিনি মর্মন্তুদ শাস্তি দান করিবেন এবং ব্যতীত তাহাদের জন্য তাহারা কোন অভিভাবক ও সহায় পাইবে না।

Word by word

فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدُهُم مِّن فَضْلِهِۦ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱسْتَنكَفُوا۟ وَٱسْتَكْبَرُوا۟ فَيُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَلَا يَجِدُونَ لَهُم

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তিনি তাদের পুরোপুরি দান করবেন তাদের পুরস্কার এবং নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের আরো বেশি করে দেবেন। কিন্তু যারা হেয় জ্ঞান করবে এবং অহংকার করবে তাদের তিনি আযাব দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। তারা আল্লাহর পরিবর্তে কোনো পৃষ্ঠপোষক কিংবা সাহায্যকারী পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের নিকট প্রমাণ আসিয়াছে এবং আমি তোমাদের প্রতি স্পষ্ট জ্যোতি অবতীর্ণ করিয়াছি।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَكُم بُرْهَٰنٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَأَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! অবশ্যি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে একটি প্রমাণ, (মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ) আর আমরা তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি একটি সুস্পষ্ট নূর (আল কুরআন)।

সমকালীন বাংলা

যাহারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও তাঁহাকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করে তাহাদেরকে তিনি অবশ্যই তাঁহার দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যে দাখিল করিবেন এবং তাহাদেরকে সরল পথে তাঁহার দিকে পরিচালিত করিবেন।

Word by word

فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَٱعْتَصَمُوا۟ بِهِۦ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِى رَحْمَةٍ مِّنْهُ وَفَضْلٍ وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَٰطًا مُّسْتَقِيمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাই যারা ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি এবং মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে তাঁকে, তিনি তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে এবং তাদের পরিচালিত করবেন তাঁর দিকে সিরাতুল মুসতাকিমে (সরল সঠিক পথে)।

সমকালীন বাংলা

লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানিতে চায়। বল, ‘পিতা - মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তামাদেরকে ব্যবস্থা জানাইতেছেন : কোন পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তাহার এক ভগ্নি থাকে তবে তাহার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ এবং সে যদি সন্তানহীনা হয় তবে তাহার ভাই তাহার উত্তরাধিকারী হইবে, আর দুই ভগ্নি থাকিলে তাহাদের জন্য তাহার পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই - তৃতীয়াংশ, আর যদি ভাই - বোন উভয়ে থাকে তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান।’ তোমরা পথভ্রষ্ট হইবে - এই আশংকায় তোমাদেরকে পরিষ্কার ভাবে জানাইতেছেন এবং সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত।

Word by word

يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِى ٱلْكَلَٰلَةِ إِنِ ٱمْرُؤٌا۟ هَلَكَ لَيْسَ لَهُۥ وَلَدٌ وَلَهُۥٓ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَآ إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ فَإِن كَانَتَ

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া চাইছে। তুমি বলো: তোমাদের ফতোয়া দিচ্ছেন নিঃসন্তান পিতা - মাতাহীন ব্যক্তির ব্যাপারে: কোনো পুরুষ মারা গেলে তার যদি সন্তান না থাকে এবং থাকে যদি শুধু একজন বোন, তবে সে পাবে পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক। আর তার ঐ একক বোনটি যদি (তার আগে) মারা যায় তবে সে হবে তার ওয়ারিশ যদি তার কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি দুই বোন থাকে, তবে তারা পাবে তার পরিত্যক্ত সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ। কিন্তু যদি তারা একাধিক ভাই - বোন থাকে সে ক্ষেত্রে এক পুরুষের অংশ হবে দুই নারীর সমান। তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট বিধান দিচ্ছেন, যাতে করে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞানী।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme