আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; হে বস্ত্রাবৃত,
হে চাদর আবৃত!
হে বস্ত্রাবৃত!
হে বস্ত্রাচ্ছাদনকারী!
Chapter 73, 20 verses
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; হে বস্ত্রাবৃত,
হে চাদর আবৃত!
হে বস্ত্রাবৃত!
হে বস্ত্রাচ্ছাদনকারী!
রাতে দাঁড়াও, কিছু অংশ ব্যতীত,
রাতে সালাতে দাঁড়াও কিছু অংশ ছাড়া।
রাত্রিতে দন্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে;
তুমি উঠে দাঁড়াও রাতেরবেলা অল্পসময় ব্যতীত, - -
রাতের অর্ধেক বা কিছুকম।
রাতের অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে কিছুটা কম।
অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম
তার অর্ধেক, অথবা তার থেকে কিছুটা কমিয়ে নাও,
অথবা তার উপর কিছু বাড়াও; এবং কুরআন আবৃত্তি কর পরিমিতভাবে।
অথবা তার চেয়ে একটু বাড়াও। আর স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কুরআন আবৃত্তি কর।
অথবা তদপেক্ষা বেশী এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে।
অথবা এর উপরে বাড়িয়ে নাও, আর কুরআন আবৃত্তি করো ধীরস্থিরভাবে শান্ত - সুন্দর আবৃত্তিতে।
নিশ্চয়ই আমরা শীঘ্র তোমার উপর এক গুরুভার বাণী অর্পণ করবো।
নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি এক অতিভারী বাণী নাযিল করছি।
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী।
নিঃসন্দেহ আমরা তোমার উপরে চাপাচ্ছি এক গুরুভার বাণী।
নিশ্চয়ই রাতের জাগরণ অধিক কার্যকর এবং বক্তব্যে অধিক সঠিক।
নিশ্চয় রাত-জাগরণ আত্মসংযমের জন্য অধিকতর প্রবল এবং স্পষ্ট বলার জন্য অধিকতর উপযোগী।
নিশ্চয় এবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।
নিঃসন্দেহ রাত - জেগে উপাসনা - - এ হচ্ছে বলিষ্ঠতম পদক্ষেপ ও সুসংস্থাপিত বক্তব্য।
নিশ্চয়ই দিনের বেলায় তোমার জন্য রয়েছে দীর্ঘ ব্যস্ততা।
নিশ্চয় তোমার জন্য দিনের বেলায় রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।
নিশ্চয় দিবাভাগে রয়েছে আপনার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।
নিঃসন্দেহ তোমার জন্য দিনের বেলায় রয়েছে সুদীর্ঘ কর্মতৎপরতা।
এবং তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর, এবং তাঁর প্রতি একাগ্র হও সম্পূর্ণভাবে।
আর তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি নিমগ্ন হও।
আপনি আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মগ্ন হোন।
সুতরাং তোমার প্রভুর নাম কীর্তন করো এবং তাঁর প্রতি ধ্যানধারণায় মগ্ন হও একনিষ্ঠ ধ্যানে।
পূর্ব ও পশ্চিমের প্রতিপালক; তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অতএব তাঁকেই অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ কর।
তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই। সুতরাং তাঁকেই তুমি কার্য সম্পাদনকারীরূপে গ্রহণ কর।
তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকেই গ্রহণ করুন কর্মবিধায়করূপে।
পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রভু, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তাঁকেই কর্ণধাররূপে গ্রহণ করো।
এবং তারা যা বলে তার প্রতি ধৈর্য ধারণ কর, এবং তাদের থেকে সুন্দরভাবে দূরে সরে যাও।
আর তারা যা বলে, তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চল।
কাফেররা যা বলে, তজ্জন্যে আপনি সবর করুন এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চলুন।
আর অধ্যবসায় চালিয়ে যাও তারা যা বলে তা সত্ত্বেও, আর তাদের পরিহার করে চলো সৌজন্যময় পরিহারে!
এবং আমাকে ও বিত্তশালী অস্বীকারকারীদের ছেড়ে দাও, এবং তাদেরকে অল্প সময় অবকাশ দাও।
আর ছেড়ে দাও আমাকে এবং বিলাস সামগ্রীর অধিকারী মিথ্যারোপকারীদেরকে। আর তাদেরকে কিছুকাল অবকাশ দাও।
বিত্ত - বৈভবের অধিকারী মিথ্যারোপকারীদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দিন এবং তাদেরকে কিছু অবকাশ দিন।
আর ছেড়ে দাও আমাকে এবং সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের, বিলাস - সামগ্রীর অধিকারীদের, আর তাদের বিরাম দাও অল্পকাল।
নিশ্চয়ই আমাদের কাছে রয়েছে শৃঙ্খলসমূহ ও জাহিম,
জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
নিশ্চয় আমার নিকট রয়েছে শিকলসমূহ ও প্রজ্জ্বলিত আগুন।
নিশ্চয় আমার কাছে আছে শিকল ও অগ্নিকুন্ড।
নিঃসন্দেহ আমাদের কাছে আছে ভারী শিকল ও জ্বলন্ত আগুন,
এবং গলায় আটকে যায় এমন খাদ্য, এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
ও কাঁটাযুক্ত খাদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
গলগ্রহ হয়ে যায় এমন খাদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আর খাদ্য যা গলায় আটকে যায়, আর মর্মন্তুদ শাস্তি!
যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা কম্পিত হবে, এবং পর্বতমালা হয়ে যাবে বালুর স্তুপ।
যেদিন যমীন ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পাহাড়গুলো চলমান বালুকারাশিতে পরিণত হবে।
যেদিন পৃথিবী পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ হয়ে যাবে বহমান বালুকাস্তুপ।
সেইদিন পৃথিবী ও পাহাড়গুলো কেঁপে উঠবে, আর পাহাড়গুলো হয়ে যাবে স্তূপাকার বালির গাদা!
নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের কাছে একজন রসূল প্রেরণ করেছি, তোমাদের উপর সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে, যেমন আমরা ফিরআউনের কাছে একজন রসূল প্রেরণ করেছিলাম।
নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য স্বাক্ষীস্বরূপ তোমাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছি যেমনিভাবে ফির‘আউনের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলাম।
আমি তোমাদের কাছে একজন রসূলকে তোমাদের জন্যে সাক্ষী করে প্রেরণ করেছি, যেমন প্রেরণ করেছিলাম ফেরাউনের কাছে একজন রসূল।
নিঃসন্দেহ আমরা তোমাদের কাছে এজন রসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের উপরে সাক্ষীরূপে, যেমন আমরা ফিরআউনের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছিলাম।
অতঃপর ফিরআউন সেই রসূলকে অমান্য করেছিল; ফলে আমরা তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলাম।
কিন্তু ফির‘আউন রাসূলকে অমান্য করল। তাই আমি তাকে অত্যন্ত শক্তভাবে পাকড়াও করলাম।
অতঃপর ফেরাউন সেই রসূলকে অমান্য করল, ফলে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছি।
কিন্ত ফিরআউন সেই রসূলকে অমান্য করেছিল, ফলে আমরা তাকে পাকড়াও করেছিলাম নিদারুণ পাকড়ানোতে।
অতএব যদি তোমরা অবিশ্বাস কর তবে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে সেই দিন থেকে, যা শিশুদের বৃদ্ধ করে দেবে?
অতএব তোমরা যদি কর, তাহলে তোমরা সেদিন কিভাবে আত্মরক্ষা করবে যেদিন কিশোরদেরকে বৃদ্ধে পরিণত করবে।
অতএব, তোমরা কিরূপে আত্নরক্ষা করবে যদি তোমরা সেদিনকে অস্বীকার কর, যেদিন বালককে করে দিব বৃদ্ধ?
অতএব কেমন করে তোমরা আত্মরক্ষা করবে, যদি তোমরা অবিশ্বাস কর সেই দিনকে যেদিন ছেলেপিলেদের চুল পাকিয়ে তুলবে, - -
আকাশ বিদীর্ণ হবে; তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবেই।
যার কারণে আসমান হবে বিদীর্ণ, আল্লাহর ওয়াদা হবে বাস্তবায়িত।
সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে। তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
আকাশ হবে বিদীর্ণ? তাঁর ওয়াদা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ; অতএব যে ইচ্ছা করে, সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ গ্রহণ করুক।
নিশ্চয় এ এক উপদেশ। অতএব যে চায় সে তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করুক।
এটা উপদেশ। অতএব, যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার দিকে পথ অবলম্বন করুক।
নিশ্চয়ই এটি একটি স্মরণকারী বিষয়, সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে তার প্রভুর দিকে পথ ধরুক।
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক জানেন যে তুমি রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কিছু কম, অথবা তার অর্ধেক, অথবা তার এক-তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে থাকো; এবং তোমার সাথে থাকা একদলও। আর রাত ও দিনকে পরিমাপ করেন। তিনি জানেন যে তোমরা তা গণনা করে রাখতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব কুরআনের যতটুকু সহজ হয়, ততটুকু আবৃত্তি করো। তিনি জানেন যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, আর কেউ কেউ পৃথিবীতে বিচরণ করবে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধানে, এবং অন্যরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। অতএব এর যতটুকু সহজ হয়, ততটুকু আবৃত্তি করো; এবং প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত প্রদান করো, এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। আর তোমরা নিজেদের জন্য যে কল্যাণই অগ্রে পাঠাও না কেন, তা আল্লাহর কাছে পাবে—উত্তমতর এবং প্রতিদানে অধিক মহান। আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
নিশ্চয় তোমার রব জানেন যে, তুমি রাতের দুই তৃতীয়াংশের কিছু কম, অথবা অর্ধরাত অথবা রাতের এক তৃতীয়াংশ সালাতে দাঁড়িয়ে থাক এবং তোমার সাথে যারা আছে তাদের মধ্য থেকে একটি দলও। আর রাত ও দিন নিরূপণ করেন। তিনি জানেন যে, তোমরা তা করতে সক্ষম হবে না। তাই তিনি তোমা
আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি এবাদতের জন্যে দন্ডায়মান হন রাত্রির প্রায় দু’তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দন্ডায়মান হয়। দিবা ও রাত্রি পরিমাপ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পার না। অতএব তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমা পরায়ন হয়েছেন। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে - বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত হবে। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। তোমরা কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় ক্ষমাশীল, দয়ালু।
তোমার প্রভু অবশ্য জানেন যে তুমি তো জেগে থাক রাতের প্রায় দুই - তৃতীয়াংশ, আর তার অর্ধেক আর তার এক - তৃতীয়াংশ, আর তোমার সঙ্গে যারা আছে তাদের একটি দলও। আর রাত ও দিনের পরিমাপ রক্ষা করেন। তিনি জানেন যে তোমরা কখনো এর হিসাব রাখতে পারবে না, কাজেই তিনি তোমাদের দিকে ফিরেছেন, সেজন্য কুরআন থেকে যতটা তোমাদের জন্য সহজ ততটা আবৃত্তি করো। তিনি জানেন যে তোমাদের কেউ - কেউ রোগগ্রস্ত হবে এবং অন্যেরা দুনিয়াতে চষে বেড়াবে র করুণাভান্ডারের সন্ধানে, আর অন্যান্যরা র পথে যুদ্ধ করবে, সেজন্য এ - থেকে যতটা তোমরা সহজ মনে কর ততটা আবৃত্তি করো, আর কায়েম রেখো ও যাকাত আদায় করো এবং কে ঋণদান করো উত্তম ঋণ। আর যা কিছু সৎকাজ তোমরা নিজেদের জন্য আগবাড়াও তা তোমরা র কাছে পাবে, - - সেটিই বেশি ভাল ও বিরাট প্রতিদান। আর র কাছে পরিত্রাণ খোঁজো, নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।