পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; শপথ ধূলিঝঞ্ঝার,
শপথ অণু ঝড়ের,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالذَّارِيَاتِ ذَرْوًا
بسم الله الرحمن الرحيم والذاريات ذروا
Chapter 51, 60 verses
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; শপথ ধূলিঝঞ্ঝার,
শপথ অণু ঝড়ের,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالذَّارِيَاتِ ذَرْوًا
بسم الله الرحمن الرحيم والذاريات ذروا
শপথ বোঝা বহনকারী মেঘপুঞ্জের,
শপথ ভারি পানি বহনকারী মেঘমালার,
فَالْحَامِلَاتِ وِقْرًا
فالحاملات وقرا
শপথ স্বচ্ছন্দগতি নৌযানের,
শপথ সহজ গতির নৌযানের,
فَالْجَارِيَاتِ يُسْرًا
فالجاريات يسرا
শপথ কর্ম বণ্টনকারী ফিরিশ্তাগণের -
শপথ কাজ বণ্টনকারী (ফেরেশতা)দের,
فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْرًا
فالمقسمات أمرا
তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।
তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্য অবশ্যি সত্য।
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌ
إنما توعدون لصادق
কর্মফল দিবস অবশ্যম্ভাবী।
প্রতিফল দিবস অবশ্যি সংঘটিত হবে।
وَإِنَّ الدِّينَ لَوَاقِعٌ
وإن الدين لواقع
শপথ বহু পথবিশিষ্ট আকাশের,
শপথ অনেক পথ বিশিষ্ট আসমানের,
وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْحُبُكِ
والسماء ذات الحبك
তোমরা তো পরস্পর বিরোধী কথায় লিপ্ত।
নিশ্চয়ই তোমরা লিপ্ত (আল্লাহর রসূল ও কুরআন সম্পর্কে) পরস্পর বিরোধী কথাবার্তায়।
إِنَّكُمْ لَفِي قَوْلٍ مُّخْتَلِفٍ
إنكم لفي قول مختلف
যে ব্যক্তি সত্যভ্রষ্ট সে - ই উহা পরিত্যাগ করে,
তা থেকে (কুরআন থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় তো ঐ ব্যক্তি যে সত্যভ্রষ্ট।
يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ
يؤفك عنه من أفك
অভিশপ্ত হউক মিথ্যাচারীরা,
মিথ্যাবাদীরা মারা পড়েছে,
قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ
قتل الخراصون
যাহারা অজ্ঞ ও উদাসীন!
যারা নিমজ্জিত অজ্ঞতা আর উদাসীনতায়।
الَّذِينَ هُمْ فِي غَمْرَةٍ سَاهُونَ
الذين هم في غمرة ساهون
উহারা জিজ্ঞাসা করে, ‘কর্মফল দিবস কবে হইবে?’
তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, কবে আসবে প্রতিদান দিবস?
يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ
يسألون أيان يوم الدين
বল, ‘সেই দিন যখন উহাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে অগ্নিতে।’
সেদিন আসবে প্রতিদান দিবস, যেদিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে জাহান্নামে।
يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ
يوم هم على النار يفتنون
তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর, তোমরা এই শাস্তিই ত্বরান্নিত করিতে চাহিয়াছিলে।’
তোমরা আস্বাদন করো তোমাদের শাস্তি। এই আযাবই তোমরা দ্রুত চেয়েছিলে।
ذُوقُوا فِتْنَتَكُمْ هَٰذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ
ذوقوا فتنتكم هذا الذي كنتم به تستعجلون
সেদিন নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকিবে প্রস্রবণ - বিশিষ্ট জান্নাতে,
মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাতে আর ঝরণা ধারায়,
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
إن المتقين في جنات وعيون
উপভোগ করিবে তাহা যাহা তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে দিবেন; কারণ পার্থিব জীবনে তাহারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ,
তারা সেখানে উপভোগ করবে তাদের প্রভুর দেয়া নিয়ামতরাজি। কারণ ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা ছিলো কল্যাণপরায়ণ পুণ্যবান।
آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَٰلِكَ مُحْسِنِينَ
آخذين ما آتاهم ربهم ۚ إنهم كانوا قبل ذلك محسنين
তাহারা রাত্রির সামান্য অংশই অতিবাহিত করিত নিদ্রায়,
তারা রাতের সামান্য অংশই ব্যয় করতো নিদ্রায়,
كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ
كانوا قليلا من الليل ما يهجعون
রাত্রির শেষ প্রহরে তাহারা ক্ষমা প্রার্থনা করিত,
শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো,
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
وبالأسحار هم يستغفرون
এবং তাহাদের ধন - সম্পদে রহিয়াছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।
তাদের অর্থ - সম্পদে ছিলো অধিকার সাহায্যপ্রার্থী এবং বঞ্চিতদের।
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ
وفي أموالهم حق للسائل والمحروم
নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে ধরিত্রীতে
পৃথিবীতেই রয়েছে নিদর্শন বিশ্বাসীদের জন্যে,
وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِّلْمُوقِنِينَ
وفي الأرض آيات للموقنين
এবং তোমাদের মধ্যেও। তোমরা কি অনুধাবন করিবে না?
এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তোমরা কি ভেবে দেখবে না?
وَفِي أَنفُسِكُمْ ۚ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
وفي أنفسكم ۚ أفلا تبصرون
আকাশে রহিয়াছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুতি সমস্ত কিছু।
আর তোমাদের জীবিকা রয়েছে আসমানে এবং তোমাদের যা কিছুর ওয়াদা দেয়া হয়েছে সেগুলোও।
وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ
وفي السماء رزقكم وما توعدون
আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ! অবশ্যই তোমাদের বাক্স্ফূর্তির মতই এই সকল সত্য।
আকাশ ও পৃথিবীর প্রভুর শপথ, তোমাদের পারস্পরিক কথাবার্তার মতোই এ (কুরআন) এক মহাসত্য।
فَوَرَبِّ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ لَحَقٌّ مِّثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ
فورب السماء والأرض إنه لحق مثل ما أنكم تنطقون
তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি?
তোমার কাছে কি এসেছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের ঘটনা?
هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ
هل أتاك حديث ضيف إبراهيم المكرمين
যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল, ‘সালাম’। উত্তরে সে বলিল,‘সালাম’। ইহারা তো অপরিচিত লোক।
তারা যখন তার ঘরে প্রবেশ করেছিল, বলেছিল: ‘সালাম।’ জবাবে সেও বলেছিল: ‘সালাম।’ সে আরো বলেছিল: আপনারা তো অপরিচিত লোক!’
إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ قَوْمٌ مُّنكَرُونَ
إذ دخلوا عليه فقالوا سلاما ۖ قال سلام قوم منكرون
অতঃপর ইব্রাহীম তাহার স্ত্রীর নিকট গেল এবং একটি মাংসল গো - বৎস ভাজা লইয়া আসিল
তখন সে তার পরিবারের (স্ত্রীর) কাছে ছুটে গেলো এবং একটি মাংসল গো - ভুনা করে নিয়ে এলো।
فَرَاغَ إِلَىٰ أَهْلِهِ فَجَاءَ بِعِجْلٍ سَمِينٍ
فراغ إلى أهله فجاء بعجل سمين
ও তাহাদের সামনে রাখিল এবং বলিল, ‘তোমরা খাইতেছ না কেন?’
সেটি তাদের কাছে রাখলো। তারপর বললো: ‘আপনারা খাচ্ছেন না যে?’
فَقَرَّبَهُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
فقربه إليهم قال ألا تأكلون
ইহাতে উহাদের সম্পর্কে তাহার মনে ভীতির সঞ্চার হইল। উহারা বলিল, ‘ভীত হইও না।’ অতঃপর উহারা তাহাকে এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।
এতে করে তাদের ব্যাপারে তার মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। তখন তারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেন না।’ তারা তাকে সুসংবাদ দিলো এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের।
فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۖ قَالُوا لَا تَخَفْ ۖ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ
فأوجس منهم خيفة ۖ قالوا لا تخف ۖ وبشروه بغلام عليم
তখন তাহার স্ত্রী চিৎকার করিতে করিতে সম্মুখে আসিল এবং গাল চাপড়াইয়া বলিল, ‘এই বৃদ্ধ বন্ধ যার সন্তান হইবে!’
তখন তার স্ত্রী চীৎকার করতে করতে সামনে এগিয়ে এলো এবং গাল চাপড়িয়ে বললো: ‘এই বৃদ্ধার সন্তান হবে?’
فَأَقْبَلَتِ امْرَأَتُهُ فِي صَرَّةٍ فَصَكَّتْ وَجْهَهَا وَقَالَتْ عَجُوزٌ عَقِيمٌ
فأقبلت امرأته في صرة فصكت وجهها وقالت عجوز عقيم
তাহারা বলিল, ‘তোমার প্রতিপালক এইরূপই বলিয়াছেন ; তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।’
তারা বললো: ‘আপনার প্রভু একথাই বলেছেন, তিনি প্রজ্ঞাবান সর্বজ্ঞানী।’
قَالُوا كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ ۖ إِنَّهُ هُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ
قالوا كذلك قال ربك ۖ إنه هو الحكيم العليم
ইব্রাহীম বলিল, ‘হে ফিরিশ্তাগণ! তোমাদের বিশেষ কাজ কী?’
ইবরাহিম বললো: ‘হে প্রেরিত ফেরেশতারা! আপনারা বিশেষ কী দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন?’
۞ قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ
۞ قال فما خطبكم أيها المرسلون
উহারা বলিল, ‘আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করা হইয়াছে।
তারা বললো: ‘‘আমাদের পাঠানো হয়েছে অপরাধী (লুত) সম্প্রদায়ের প্রতি
قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمٍ مُّجْرِمِينَ
قالوا إنا أرسلنا إلى قوم مجرمين
‘উহাদের উপর নিক্ষেপ করিবার জন্য মাটির শক্ত ঢেলা,
তাদের উপর পোড়া মাটির ঢিল নিক্ষেপ করার জন্যে,
لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِّن طِينٍ
لنرسل عليهم حجارة من طين
‘যাহা সীমালংঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে।’
সেগুলো সীমালংঘনকারীদের জন্যে চিহ্নিত আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে।
مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ
مسومة عند ربك للمسرفين
সেখানে যেসব ছিল আমি তাহাদেরকে উদ্ধার করিয়াছিলাম,
সেখানে যারা ছিলো তাদেরকে আমরা বের করে এনেছিলাম,
فَأَخْرَجْنَا مَن كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
فأخرجنا من كان فيها من المؤمنين
আর সেখানে আমি একটি পরিবার ব্যতীত কোন আত্মসর্মপণকারী পাই নাই।
আর সেখানে আমরা একটির বেশি মুসলিম পরিবার পাইনি।’’
فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ
فما وجدنا فيها غير بيت من المسلمين
যাহারা মর্মন্তুদ শাস্তিকে ভয় করে আমি তাহাদের জন্য উহাতে একটি নিদর্শন রাখিয়াছি।
যারা যন্ত্রণাদায়ক আযাবকে ভয় করে, তাদের জন্যে আমরা সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি।
وَتَرَكْنَا فِيهَا آيَةً لِّلَّذِينَ يَخَافُونَ الْعَذَابَ الْأَلِيمَ
وتركنا فيها آية للذين يخافون العذاب الأليم
এবং নিদর্শন রাখিয়াছি মূসার বৃত্তান্তে, যখন আমি তাহাকে স্পষ্ট প্রমাণসহ ফির‘আওনের নিকট প্রেরণ করিয়া - ছিলাম,
নিদর্শন রেখেছি আমরা মূসার ঘটনাতেও, যখন আমরা তাকে পাঠিয়েছিলাম ফেরাউনের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে।
وَفِي مُوسَىٰ إِذْ أَرْسَلْنَاهُ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
وفي موسى إذ أرسلناه إلى فرعون بسلطان مبين
তখন সে ক্ষমতার দম্ভেমুখ ফিরাইয়া লইল এবং বলিল, ‘এই ব্যক্তি হয় এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ।
তখন সে (ফেরাউন) ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিল: ‘এতো একজন ম্যাজেসিয়ান, কিংবা পাগল।’
فَتَوَلَّىٰ بِرُكْنِهِ وَقَالَ سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
فتولى بركنه وقال ساحر أو مجنون
সুতরাং আমি তাহাকে ও তাহার দলবলকে শাস্তিদিলাম এবং উহাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম, সে তো ছিল তিরস্কারযোগ্য।
ফলে আমরা পাকড়াও করেছিলাম তাকে এবং তার বাহিনীকে এবং তাদের নিক্ষেপ করেছিলাম সমুদ্রে। সে এক তিরস্কারযোগ্য ব্যক্তি।
فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌ
فأخذناه وجنوده فنبذناهم في اليم وهو مليم
এবং নিদর্শন রহিয়াছে ‘আদের ঘটনায়, যখন আমি তাহাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলাম অকল্যাণকর বায়ু ;
নিদর্শন রয়েছে আদ সম্প্রদায়ের ঘটনাতেও। আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম এক বন্ধ্যা ঝড়।
وَفِي عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ
وفي عاد إذ أرسلنا عليهم الريح العقيم
ইহা যাহা কিছুর উপর দিয়া বহিয়া গিয়াছিল তাহাকেই চূর্ণ - বিচূর্ণ করিয়া দিয়াছিল,
তা যা কিছুর উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল, সবই ধূলিস্যাত করে দিয়েছিল।
مَا تَذَرُ مِن شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيمِ
ما تذر من شيء أتت عليه إلا جعلته كالرميم
আরও নিদর্শন রহিয়াছে সামূদের বৃত্তান্তে, যখন তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘ভোগ করিয়া নাও স্বল্পকাল।’
সামুদ সম্প্রদায়ের ঘটনাতেও রয়েছে নিদর্শন। তাদের বলা হয়েছিল: ‘সামান্য ক’দিন ভোগ করে নাও।’
وَفِي ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا حَتَّىٰ حِينٍ
وفي ثمود إذ قيل لهم تمتعوا حتى حين
কিন্তু উহারা উহাদের প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করিল ; ফলে উহাদের প্রতি বজ্রাঘাত হইল এবং উহারা উহা দেখিতেছিল।
কিন্তু তারা অমান্য করে তাদের প্রভুর নির্দেশ। ফলে তাদের পাকড়াও করে প্রচন্ড বজ্রাঘাত এবং তারা তা দেখছিল।
فَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ وَهُمْ يَنظُرُونَ
فعتوا عن أمر ربهم فأخذتهم الصاعقة وهم ينظرون
উহারা উঠিয়া দাঁড়াইতে পারিল না এবং উহা প্রতিরোধ করিতেও পারিল না।
তারা উঠেও দাঁড়াতে পারেনি এবং প্রতিরোধও করতে পারেনি।
فَمَا اسْتَطَاعُوا مِن قِيَامٍ وَمَا كَانُوا مُنتَصِرِينَ
فما استطاعوا من قيام وما كانوا منتصرين
আমি ধ্বংস করিয়াছিলাম ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, ইহারা তো ছিল সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।
আরো আগে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম নূহের জাতিকেও। তারা ছিলো এক ফাসিক (সীমালংঘনকারী সত্যত্যাগী) জাতি।
وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
وقوم نوح من قبل ۖ إنهم كانوا قوما فاسقين
আমি আকাশ নির্মাণ করিয়াছি আমার ক্ষমতাবলে এবং আমি অবশ্যই মহা - সম্প্রসারণকারী।
আমরা আকাশ বানিয়েছি শক্ত হাতে এবং নিশ্চয়ই আমরা এর বিস্তৃতি সম্প্রসারণ করতে সক্ষম।
وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ
والسماء بنيناها بأيد وإنا لموسعون
আর ভূমি, আমি উহাকে বিছাইয়া দিয়াছি, আমি কত সুন্দর প্রসারণকারী!
আর পৃথিবীকে আমরা বিছিয়ে দিয়েছি, কতো যে উত্তম প্রসারণকারী আমরা!
وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ
والأرض فرشناها فنعم الماهدون
আর প্রত্যেক বস্তু আমি সৃষ্টি করিয়াছি জোড়ায় জোড়ায়, যাহাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
প্রতিটি বস্ত্তকে আমরা সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।
وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
ومن كل شيء خلقنا زوجين لعلكم تذكرون
অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও, আমি তো তোমাদের প্রতি প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।
অতএব তোমরা দৌড়াও আল্লাহর দিকে, আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
ففروا إلى الله ۖ إني لكم منه نذير مبين
তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ্ স্থির করিও না; আমি তোমাদের প্রতি তাঁর পক্ষ থাকলে তা তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।
তোমরা আল্লাহর সাথে অপর কোনো ইলাহ্ সাব্যস্ত করোনা। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
وَلَا تَجْعَلُوا مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
ولا تجعلوا مع الله إلها آخر ۖ إني لكم منه نذير مبين
এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’
এভাবে তাদের আগেকার লোকদের কাছেও যখনই কোনো রসূল এসেছিল, তারা তাকে বলেছিল: ‘তুমি একজন ম্যাজেসিয়ান কিংবা পাগল।’
كَذَٰلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
كذلك ما أتى الذين من قبلهم من رسول إلا قالوا ساحر أو مجنون
উহারা কি একে অপরকে এই যন্ত্রণাই দিয়া আসিয়াছে? বস্তুত উহারা সীমা - লংঘনকারী সম্প্রদায়।
তারা কি একে অপরকে (ধারাবাহিকভাবে) এই অসিয়তই করে আসছে? আসলে তারা একটি সীমালংঘনকারী কওম।
أَتَوَاصَوْا بِهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
أتواصوا به ۚ بل هم قوم طاغون
অতএব তুমি উহাদেরকে উপেক্ষা কর, ইহাতে তুমি অভিযুক্ত হইবে না।
সুতরাং তুমি তাদের উপেক্ষা করো। এর জন্যে তুমি তিরস্কৃত হবেনা।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَا أَنتَ بِمَلُومٍ
فتول عنهم فما أنت بملوم
তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মু’মিনদেরই উপকারে আসে।
তুমি উপদেশ দিতে থাকো। কারণ, উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।
وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَىٰ تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ
وذكر فإن الذكرى تنفع المؤمنين
আমি সৃষ্টি করিয়াছি জিন এবং মানুষকে এইজন্য যে, তাহারা আমারই ‘ইবাদত করিবে।
আমরা জিন এবং ইনসানকে এজন্যেই সৃষ্টি করেছি যে, তারা একমাত্র আমারই ইবাদত করবে।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون
আমি উহাদের নিকট হইতে জীবিকা চাহি না এবং ইহাও চাহি না যে, উহারা আমার আহার্য যোগাইবে।
আমি তো তাদের কাছে রিযিক চাইনা এবং এটাও চাইনা যে, তারা আমাকে খাবার খাওয়াবে।
مَا أُرِيدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَن يُطْعِمُونِ
ما أريد منهم من رزق وما أريد أن يطعمون
তা’আলাই তাকে জীবিকা দাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত
নিশ্চয়ই রাজজাক (রিযিক সরবরাহকারী) তো হলেন এবং তিনি মহাশক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত।
إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
إن الله هو الرزاق ذو القوة المتين
জালিমদের প্রাপ্য তাহাই যাহা অতীতে উহাদের সমমতাবলম্বীরা ভোগ করিয়াছে। সুতরাং উহারাইহার জন্য আমার নিকট যেন ত্বরা না করে।
যালিমদের ভাগ্যে তাই রয়েছে, অতীতে তাদের সমমতের লোকেরা যা ভোগ করেছিল। ফলে তারা যেনো তাড়াহুড়া না করে।
فَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذَنُوبًا مِّثْلَ ذَنُوبِ أَصْحَابِهِمْ فَلَا يَسْتَعْجِلُونِ
فإن للذين ظلموا ذنوبا مثل ذنوب أصحابهم فلا يستعجلون
কাফিরদের জন্য দুর্ভোগ তাহাদের সেই দিনের, যেই দিনের বিষয়ে উহাদেরকে সতর্ক করা হইয়াছে।
কাফিরদের জন্যে রয়েছে সেই দিনের দুর্ভোগ, যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছে।
فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِن يَوْمِهِمُ الَّذِي يُوعَدُونَ
فويل للذين كفروا من يومهم الذي يوعدون