You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল মুনাফিকুন (ভন্ড বা প্রতারকগণ)
Chapter 63, 11 verses
সমকালীন বাংলা
আবদুস শহীদ নাসিম
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুহিউদ্দীন খান
সমকালীন বাংলা
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে, তারা বলে, “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল।” আর জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল। আর সাক্ষ্য দেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিকরা যখন তোমার কাছে আসে, তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, ‘আপনি অবশ্যি আল্লাহর রসূল’। তুমি যে আল্লাহর রসূল তা জানেন। তবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, মুনাফিকরা অবশ্যি মিথ্যাবাদী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন মুনাফিকরা তোমার নিকট আসে তাহারা বলে, ‘আমরা সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি নিশ্চয়ই র রাসূল।’ জানেন যে, তুমি নিশ্চয়ই তাঁহার রাসূল এবং সাক্ষ্য দিতেছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
মুহিউদ্দীন খান
মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল। জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল এবং সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
সমকালীন বাংলা
তারা তাদের শপথকে ঢাল হিসেবে গ্রহণ করেছে, অতঃপর তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে। নিশ্চয়ই তারা যা করে, তা কতই না নিকৃষ্ট!
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তাদের শপথকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, আর তারা আল্লাহর পথে (আসতে মানুষকে) বাধা দেয়। তাদের কর্মকান্ড কতো যে নিকৃষ্ট!
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা উহাদের শপথগুলিকে ঢালরূপে ব্যবহার করে আর উহারা র পথ হইতে মানুষকে নিবৃত্ত করে। উহারা যাহা করিতেছে তাহা কত মন্দ!
মুহিউদ্দীন খান
তারা তাদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করছে, তা খুবই মন্দ।
সমকালীন বাংলা
তা এজন্য যে, তারা ঈমান এনেছিল, তারপর অবিশ্বাস করল। ফলে তাদের অন্তরের উপর মোহর লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তারা বুঝতে পারে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ, তারা ঈমান এনেছিল, তারপর করেছে কুফুরি। ফলে তাদের অন্তরে মেরে দেয়া হয়েছে সীলমোহর, সুতরাং তারা বুঝেনা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা এইজন্য যে, উহারা ঈমান আনিবার পর করিয়াছে। ফলে উহাদের হৃদয় মোহর করিয়া দেওয়া হইয়াছে; পরিণামে উহারা বুঝে না।
মুহিউদ্দীন খান
এটা এজন্য যে, তারা বিশ্বাস করার পর পুনরায় হয়েছে। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। অতএব তারা বুঝে না।
সমকালীন বাংলা
আর যখন তুমি তাদের দেখো, তাদের অবয়ব তোমাকে মুগ্ধ করে। আর যদি তারা কথা বলে, তুমি তাদের কথা শোনো। তারা যেন ঠেস দিয়ে রাখা কাঠের গুঁড়ি। তারা সকল উচ্চ শব্দকে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই শত্রু; অতএব তাদের থেকে সতর্ক থাকো। তাদের ধ্বংস করুন! তারা কতই না বিপথগামী!
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যখন তাদের দেখো, তাদের দেহ - আকৃতি তোমাকে মুগ্ধ করে, আর তারা কথা বললে তুমি সাগ্রহে তাদের কথা শুনো, যদিও তারা মূলত দেয়ালে ঠেকানো (শুকনো) কাঠের কুঁদার মতো। তারা প্রতিটি শব্দ তাদের বিরুদ্ধে মনে করে। এরা তোমাদের শত্রু। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। তাদের ধ্বংস করুন। বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় যাচ্ছে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি যখন উহাদের দিকে তাকাও উহাদের দেহাকৃতি তোমার নিকট প্রীতিকর মনে হয় এবং উহারা যখন কথা বলে, তুমি সাগ্রহে উহাদের কথা শ্রবণ কর, যদিও উহারা দেওয়ালে ঠেকান কাঠের স্তম্ভসদৃশ ; উহারা যে কোন শোরগোলকে মনে করে উহাদেরই বিরুদ্ধে। উহারাই শত্রু, অতএব উহাদের সম্পর্কে সতর্ক হও ; উহাদেরকে ধ্বংস করুন ! বিভ্রান্ত হইয়া উহারা কোথায় চলিয়াছে!
মুহিউদ্দীন খান
আপনি যখন তাদেরকে দেখেন, তখন তাদের দেহাবয়ব আপনার কাছে প্রীতিকর মনে হয়। আর যদি তারা কথা বলে, তবে আপনি তাদের কথা শুনেন। তারা প্রাচীরে ঠেকানো কাঠসদৃশ্য। প্রত্যেক শোরগোলকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই শত্রু, অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক হোন। ধ্বংস করুন তাদেরকে। তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে ?
সমকালীন বাংলা
আর যখন তাদের বলা হয়, “এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন,” তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়, আর তুমি তাদেরকে অহংকারভরে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখো।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের যখন বলা হয়: ‘এসো আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন,’ তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। তুমি দেখছো, দাম্ভিকতার সাথে তারা ফিরে যায়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন উহাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা আস, র রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিবেন,’ তখন উহারা মাথা ফিরাইয়া লয় এবং তুমি উহাদেরকে দেখিতে পাও, উহারা দম্ভভরে ফিরিয়া যায়।
মুহিউদ্দীন খান
যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা এস, আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন, তখন তারা মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং আপনি তাদেরকে দেখেন যে, তারা অহংকার করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
সমকালীন বাংলা
তাদের জন্য সমান—তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো, কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয়ই অবাধ্য জাতিকে পথনির্দেশ করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো আর নাই করো, দুটোই তাদের জন্যে সমান, কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। ফাসিকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই উহাদের জন্য সমান। উহাদেরকে কখনও ক্ষমা করিবেন না। পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
মুহিউদ্দীন খান
আপনি তাদের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন অথবা না করুন, উভয়ই সমান। কখনও তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।
সমকালীন বাংলা
তারাই বলে, “তোমরা আল্লাহর রাসূলের কাছে যারা আছে তাদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।”, অথচ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর ধনভাণ্ডার আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা বোঝে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘আল্লাহর রসূলের কাছে যারা আছে তোমরা তাদের জন্যে ব্যয় করোনা, যাতে করে তারা তার কাছ থেকে সরে পড়ে।’ অথচ মহাকাশ এবং পৃথিবীর ভান্ডারের মালিক তো । তবে, মুনাফিকরা বুঝেনা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারাই বলে, ‘তোমরা র রাসূলের সহচরদের জন্য ব্যয় করিও না, যাহাতে উহারা সরিয়া পড়ে।’ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ধনভাণ্ডার তো রই ; কিন্তু মুনাফিকরা তাহা বুঝে না।
মুহিউদ্দীন খান
তারাই বলেঃ আল্লাহর রাসূলের সাহচর্যে যারা আছে তাদের জন্যে ব্যয় করো না। পরিণামে তারা আপনা - আপনি সরে যাবে। ভূ ও নভোমন্ডলের ধন - ভান্ডার আল্লাহরই কিন্তু মুনাফিকরা তা বোঝে না।
সমকালীন বাংলা
তারা বলে, “আমরা যদি মাদীনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সম্মানিতরা সেখান থেকে অপমানিতদের বের করে দেবে।” অথচ সম্মান তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা জানে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘এবার আমরা মদিনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে ইযযতওয়ালারা (সম্মানিতরা) নিচুদের বের করে দেবে।’ অথচ সমস্ত ইযযত তো আল্লাহর, তাঁর রসূলের এবং মুমিনদের, কিন্তু মুনাফিকরা জানেনা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা বলে, ‘আমরা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলে সেখান হইতে অবশ্যই প্রবল দুর্বলকে বহিষ্কার করিবে।’ কিন্তু শক্তি তো রই, আর তাঁহার রাসূল ও মু’মিনদের। তবে মুনাফিকরা ইহা জানে না।
মুহিউদ্দীন খান
তারাই বলেঃ আমরা যদি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি তবে সেখান থেকে সবল অবশ্যই দুর্বলকে বহিস্কৃত করবে। শক্তি তো তাঁর রসূল ও মুমিনদেরই কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।
সমকালীন বাংলা
হে যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের সম্পদ ও সন্তানেরা যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা তা করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমাদের ধনমাল এবং সন্তান - সন্ততি যেনো তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির থেকে উদাসীন না করে। যারা সে রকম হবে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে মু’মিনগণ ! তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি যেন তোমাদেরকে র স্মরণে উদাসীন না করে, যাহারা উদাসীন হইবে তাহারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
মুহিউদ্দীন খান
মুমিনগণ! তোমাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
সমকালীন বাংলা
আর আমি তোমাদেরকে যা জীবিকা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করো, তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসার আগে। তখন সে বলবে, “হে আমার পালনকর্তা, যদি আপনি আমাকে আরেকটু সময় দিতেন, তবে আমি দান করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।”
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগেই তোমাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো (আল্লাহর পথে)। তা না হলে মৃত্যু এলে বলবে: ‘আমার প্রভু! আমাকে আরো কিছুকাল অবকাশ দাও, যাতে আমি দান করতে পারি এবং পুণ্যবান লোকদের অন্তরভুক্ত হতে পারি।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তোমরা তাহা হইতে ব্যয় করিবে তোমাদের কাহারও মৃত্যু আসিবার পূর্বে। অন্যথায় মৃত্যু আসিলে সে বলিবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরও কিছুকালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকা দিতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হইতাম!’
মুহিউদ্দীন খান
আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
সমকালীন বাংলা
আর যখন কারো নির্ধারিত সময় এসে যায়, তখন তাকে কখনো বিলম্ব করেন না। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
কখনো দেরি করেন না, যখন কারো নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়ে যায়। তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে খবর রাখেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিন্তু যখন কাহারও নির্ধারিত কাল উপস্থিত হইবে, তখন তাহাকে কিছুতেই অবকাশ দিবেন না। তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
মুহিউদ্দীন খান
প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, সে বিষয়ে খবর রাখেন।