Kitab

আল ওয়াক্বিয়া (বিশেষ ঘটনা)

Chapter 56, 96 verses

  • সমকালীন বাংলা
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন সেই ঘটনা ঘটবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,

মুহিউদ্দীন খান

যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে,

সমকালীন বাংলা

থাকবে না ঘটনার অস্বীকারকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই।

সমকালীন বাংলা

তা কাউকে নিচু করবে এবং কাউকে উচ্চ করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।

মুহিউদ্দীন খান

এটা নীচু করে দেবে, সমুন্নত করে দেবে।

সমকালীন বাংলা

যখন পৃথিবী প্রবলভাবে কাঁপানো হবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।

মুহিউদ্দীন খান

যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী।

সমকালীন বাংলা

পাহাড়গুলোকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,

মুহিউদ্দীন খান

এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সেগুলো ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা তিন দলে ভাগ হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!

মুহিউদ্দীন খান

যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা।

সমকালীন বাংলা

আর বামদিকের লোকগুলো, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!

মুহিউদ্দীন খান

এবং যারা বামদিকে, কত হতভাগা তারা।

সমকালীন বাংলা

আর অগ্রবর্তীরাই তো অগ্রবর্তী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।

মুহিউদ্দীন খান

অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই।

সমকালীন বাংলা

তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,

মুহিউদ্দীন খান

তারাই নৈকট্যশীল,

সমকালীন বাংলা

সুখময় বেহেস্তসমূহে।

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।

মুহিউদ্দীন খান

অবদানের উদ্যানসমূহে,

সমকালীন বাংলা

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।

সমকালীন বাংলা

আর অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্যে থেকে।

সমকালীন বাংলা

নকশা করা আসনের উপর,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।

মুহিউদ্দীন খান

স্বর্ণ খচিত সিংহাসন।

সমকালীন বাংলা

তার উপর মুখোমুখি হেলান দিয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।

সমকালীন বাংলা

তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে চিরস্থায়ী কিশোরগণ,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা।

সমকালীন বাংলা

কলসীসমূহ এবং জগ এবং প্রবাহিত পানীয়ের পেয়ালা নিয়ে,

আবদুস শহীদ নাসিম

পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

পানপাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে,

সমকালীন বাংলা

যাতে তাদের মাথাব্যথা হবে না এবং তারা মাতালও হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং বিকারগ্রস্ত ও হবে না।

সমকালীন বাংলা

আর তারা পছন্দমতো ফলমূল পাবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের পছন্দমত ফল - মুল নিয়ে,

সমকালীন বাংলা

এবং তাদের পছন্দমতো পাখির মাংস।

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে।

সমকালীন বাংলা

আর থাকবে বড় বড় চোখের হুরগণ,

Note

হুরগণ= বেহেস্তের বিশেষ নারীরা

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)

মুহিউদ্দীন খান

তথায় থাকবে আনতনয়না হুরগণ,

সমকালীন বাংলা

যেন সুরক্ষিত মুক্তার মতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,

মুহিউদ্দীন খান

আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়,

সমকালীন বাংলা

তাদের কর্মের প্রতিদান হিসেবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যা কিছু করত, তার পুরস্কারস্বরূপ।

সমকালীন বাংলা

তারা সেখানে কোনো অনর্থক কথা বা পাপের কথা শুনবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তথায় অবান্তর ও কোন খারাপ কথা শুনবে না।

সমকালীন বাংলা

শুধু বলা হবে, “সালাম, সালাম।”

আবদুস শহীদ নাসিম

শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম।

সমকালীন বাংলা

আর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!

মুহিউদ্দীন খান

যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান।

সমকালীন বাংলা

কাঁটাবিহীন কুলবড়ই গাছের মধ্যে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে।

সমকালীন বাংলা

এবং স্তরে স্তরে সাজানো কলাগাছের মধ্যে,

আবদুস শহীদ নাসিম

কাঁদিভরা কলার বাগানে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং কাঁদি কাঁদি কলায়,

সমকালীন বাংলা

এবং প্রসারিত ছায়ায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং দীর্ঘ ছায়ায়।

সমকালীন বাংলা

এবং প্রবাহমান পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

সদা বহমান পানির মধ্যে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং প্রবাহিত পানিতে,

সমকালীন বাংলা

এবং প্রচুর ফলমূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,

মুহিউদ্দীন খান

ও প্রচুর ফল - মূলে,

সমকালীন বাংলা

যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধ ও নয়,

সমকালীন বাংলা

আর উঁচু বিছানাগুলোতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,

মুহিউদ্দীন খান

আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,

মুহিউদ্দীন খান

আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তাদেরকে কুমারী করেছি,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী।

সমকালীন বাংলা

প্রেমময়ী এবং সমবয়সী,

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,

মুহিউদ্দীন খান

কামিনী, সমবয়স্কা।

সমকালীন বাংলা

ডানদিকের লোকদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

ডানদিকের লোকদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

ডান দিকের লোকদের জন্যে।

সমকালীন বাংলা

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।

সমকালীন বাংলা

এবং অনেকেই পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

সমকালীন বাংলা

আর বামদিকের লোকেরা, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!

মুহিউদ্দীন খান

বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা।

সমকালীন বাংলা

তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাস ও ফুটন্ত পানির মধ্যে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে,

সমকালীন বাংলা

এবং কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,

মুহিউদ্দীন খান

এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়।

সমকালীন বাংলা

যা ঠান্ডাও নয় এবং আরামদায়কও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তারা এর আগে বিলাসিতায় মগ্ন ছিলো।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে

মুহিউদ্দীন খান

তারা ইতিপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল।

সমকালীন বাংলা

আর তারা মহাপাপের উপর অবিচল থাকতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত।

সমকালীন বাংলা

আর তারা বলতো, “আমরা যখন মারা যাবো এবং মাটি ও হাড় হয়ে যাবো, তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব?

সমকালীন বাংলা

অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদেরও?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও!

সমকালীন বাংলা

বলো, “নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ,

সমকালীন বাংলা

এক নির্ধারিত দিনের নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই সমবেত হবে।”

আবদুস শহীদ নাসিম

একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,

মুহিউদ্দীন খান

সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যা প্রতিপন্ন কারীরা,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ।

সমকালীন বাংলা

তোমরা অবশ্যই যাক্কুম গাছ থেকে খাবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে,

সমকালীন বাংলা

তারপর তা দিয়ে তোমরা পেট ভরবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে,

সমকালীন বাংলা

তারপর তার উপর ফুটন্ত পানি পান করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি।

সমকালীন বাংলা

এবং তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।

মুহিউদ্দীন খান

পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়।

সমকালীন বাংলা

এটাই প্রতিদান দিবসে তাদের আপ্যায়ন।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।

মুহিউদ্দীন খান

কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।

সমকালীন বাংলা

আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তবে তোমরা কেন সত্য মেনে নাও না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?

মুহিউদ্দীন খান

আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না।

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা বীর্যপাত করো?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে।

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই সৃষ্টিকর্তা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?

সমকালীন বাংলা

আমরা তোমাদের মধ্যে মৃত্যুকে নির্ধারণ করেছি এবং আমরা অক্ষম নই

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই।

সমকালীন বাংলা

যে আমরা তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মতো অন্যদের নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন জগতে পুনরায় সৃষ্টি করি যা তোমরা জানো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।

মুহিউদ্দীন খান

এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না।

সমকালীন বাংলা

আর অবশ্যই তোমরা প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছো; তবুও কেন শিক্ষা গ্রহণ করো না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবেছো,  যা তোমরা চাষ করো?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তা উৎপন্ন করো, নাকি আমরাই উৎপন্ন করি?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ?

সমকালীন বাংলা

আমরা চাইলে অবশ্যই তা খড়কুটো করে দিতে পারি, তখন তোমরা বিস্মিত হয়ে বলবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।

সমকালীন বাংলা

“নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি;

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।

মুহিউদ্দীন খান

বলবেঃ আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম;

সমকালীন বাংলা

বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

বরং আমরা হূত সর্বস্ব হয়ে পড়লাম।

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবেছো, যে পানি তোমরা পান করো?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তা মেঘ থেকে নামাও, নাকি আমরাই নামাই?

আবদুস শহীদ নাসিম

মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি?

সমকালীন বাংলা

আমরা চাইলে তা লবনাক্ত করে দিতে পারি। অতএব কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যে আগুন তোমরা জ্বালাও?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তার গাছ সৃষ্টি করেছো, নাকি আমরাই সৃষ্টি করেছি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ?

সমকালীন বাংলা

আমরা এটিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয় এবং পথিকদের জন্য উপকার করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।

মুহিউদ্দীন খান

আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী।

সমকালীন বাংলা

অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।

সমকালীন বাংলা

অতএব না, আমি নক্ষত্রসমূহের অবস্থানগুলোর শপথ করছি,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি,

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ - যদি তোমরা জানতে।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত কুরআন,

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন,

সমকালীন বাংলা

যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।

মুহিউদ্দীন খান

যা আছে এক গোপন কিতাবে,

সমকালীন বাংলা

পবিত্রকৃতরা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।

মুহিউদ্দীন খান

যারা পাক - পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।

সমকালীন বাংলা

এটি সৃষ্টিজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এটা বিশ্ব - পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

সমকালীন বাংলা

তাহলে কি তোমরা এই বাণীকে হালকা করে দেখছো?

আবদুস শহীদ নাসিম

এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?

মুহিউদ্দীন খান

তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য পদর্শন করবে?

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা যে তোমাদের জীবিকাকে অস্বীকার করছো?

আবদুস শহীদ নাসিম

আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?

মুহিউদ্দীন খান

এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে?

সমকালীন বাংলা

অতএব যখন প্রাণ কণ্ঠনালিতে পৌঁছে যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,

সমকালীন বাংলা

আর আমরা তার চেয়ে তোমাদের নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।

মুহিউদ্দীন খান

তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।

সমকালীন বাংলা

অতএব যদি তোমরা কারও অধীন না হও,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমাদের হিসাব - কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,

সমকালীন বাংলা

তবে সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?

মুহিউদ্দীন খান

তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,

মুহিউদ্দীন খান

যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়;

সমকালীন বাংলা

তবে আরাম আর সুগন্ধি উদ্ভিদ আর সুখের বেহেস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।

মুহিউদ্দীন খান

তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান।

সমকালীন বাংলা

আর যদি সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি সে ডান পার্শ্বস্থদের একজন হয়,

সমকালীন বাংলা

তবে তোমার জন্য শান্তি, কারণ সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’

মুহিউদ্দীন খান

তবে তাকে বলা হবেঃ তোমার জন্যে ডানপার্শ্বসস্থদের পক্ষ থেকে সালাম।

সমকালীন বাংলা

আর যদি সে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি সে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীদের একজন হয়,

সমকালীন বাংলা

তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,

মুহিউদ্দীন খান

তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা।

সমকালীন বাংলা

এবং জাহিমে পোড়ানো।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জাহান্নামের দহন।

মুহিউদ্দীন খান

এবং সে নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই এটিই নিশ্চিত সত্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।

মুহিউদ্দীন খান

এটা ধ্রুব সত্য।

সমকালীন বাংলা

অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme