''ফিরআউনের কাছে যাও, সে নিশ্চয়ই বিদ্রোহ করেছে - -
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করিয়াছে,’
সমকালীন বাংলা
“এবং তাকে বলো, ‘তুমি কি পরিশুদ্ধ হতে চাও?’”
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি গিয়ে তাকে বলো: তুমি কি (কুফর, শিরক ও সীমালংঘন থেকে) পবিত্র হবে?
জহুরুল হক
''তারপর বলো - - 'তোমার কি আগ্রহ আছে যে তুমি পবিত্র হও?’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং বল, ‘তোমার কি আগ্রহ আছে যে, তুমি পবিত্র হও -
সমকালীন বাংলা
“এবং আমি কি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথ দেখাবো, যাতে তুমি ভীত হও?”
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমি কি তোমাকে সঠিক পথ দেখাবো তোমার মালিকের দিকে, যাতে করে তোমার মধ্যে জাগ্রত হয় তাঁর ভয়?
জহুরুল হক
''আমি তাহলে তোমাকে তোমার প্রভুর দিকে পরিচালিত করব যেন তুমি ভয় করো’।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথপ্রদর্শন করি যাহাতে তুমি তাঁহাকে ভয় কর?’
সমকালীন বাংলা
অতঃপর তিনি তাকে মহা নিদর্শন দেখিয়েছিলেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর সে (মূসা) তার (ফেরাউনের) কাছে গিয়ে তাকে অনেক বড় নিদর্শন দেখালো।
জহুরুল হক
তারপর তিনি তাকে দেখালেন একটি বিরাট নিদর্শন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে উহাকে মহানিদর্শন দেখাইল।
সমকালীন বাংলা
কিন্তু সে অস্বীকার করেছিল এবং অবাধ্য হয়েছিল,
আবদুস শহীদ নাসিম
কিন্তু সে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করলো এবং অমান্য করলো।
জহুরুল হক
কিন্ত সে মিথ্যা আরোপ করল ও অবাধ্য হল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিন্তু সে অস্বীকার করিল এবং অবাধ্য হইল।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর সে ষড়যন্ত্র অাঁটার প্রচেষ্টায় পিছু হটলো।
জহুরুল হক
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে পশ্চাৎ ফিরিয়া প্রতিবিধানে সচেষ্ট হইল।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর (জনতাকে) সমবেত করে ঘোষণা দিলো।
জহুরুল হক
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে সকলকে সমবেত করিল এবং উচ্চৈ:স্বরে ঘোষণা করিল,
সমকালীন বাংলা
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
আবদুস শহীদ নাসিম
বললো: ‘আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু।’
জহুরুল হক
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর বলিল, ‘আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।’
সমকালীন বাংলা
তখন তাকে পরকাল ও ইহকালের শাস্তির জন্য ধরলেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তাকে কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করলেন তার শেষ ও প্রথম সীমা লংঘনের জন্যে।
জহুরুল হক
সেজন্য তাকে পাকড়াও করলেন পরকালের ও পূর্বের জীবনের দৃষ্টান্ত বানিয়ে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উহাকে আখিরাতে ও দুনিয়াতে কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করিলেন।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই এতে শিক্ষা রয়েছে তার জন্য, যে ভয় করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অবশ্যি এ ঘটনার মধ্যে শিক্ষামূলক উপদেশ রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্যে, যে ভয় করে (আল্লাহকে)।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ এতে বাস্তব শিক্ষা রয়েছে তার জন্য যে ভয় করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যে ভয় করে তাহার জন্য অবশ্যই ইহাতে শিক্ষা রহিয়াছে।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের সৃষ্টি কি অধিক কঠিন, না আকাশের? তিনি তা নির্মাণ করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের সৃষ্টি করা বেশি কঠিন কাজ, না মহাকাশ সৃষ্টি করা? তিনিই তো সৃষ্টি করেছেন এই (মহাকাশ)।
জহুরুল হক
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ - সব বানিয়েছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই ইহা নির্মাণ করিয়াছেন;
সমকালীন বাংলা
তিনি তার উচ্চতাকে সুউচ্চ করেছেন, অতঃপর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই অনেক উপরে উঠিয়েছেন এর উচ্চতা, অতপর তাকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
জহুরুল হক
তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি ইহার ছাদকে সুউচ্চ করিয়াছেন ও সুবিন্যস্ত করিয়াছেন।
সমকালীন বাংলা
৭৯–২৯ : এবং তার রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন ও তার সকালকে আলোকিত করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
আর রাতকে তিনি ঢেকে দেন অন্ধকার দিয়ে, আর দিনকে বের করে আনেন আলোকিত করে।
জহুরুল হক
আর এর রাতকে তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন এর দিবালোক।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তিনি ইহার রাত্রিকে করিয়াছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং প্রকাশ করিয়াছেন ইহার সূর্যালোক;
সমকালীন বাংলা
এবং এরপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
এরপর তিনি বিছিয়ে দিয়েছেন পৃথিবীকে।
জহুরুল হক
আর পৃথিবী - - এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং পৃথিবীকে ইহার পর বিস্তৃত করিয়াছেন।
সমকালীন বাংলা
তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি বের করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
তার (পৃথিবীর) মধ্য থেকেই বের করেছেন তার পানি ও তৃণ - লতা (উদ্ভিদ)।
জহুরুল হক
এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভূমি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি উহা হইতে বহির্গত করিয়াছেন উহার পানি ও তৃণ,
সমকালীন বাংলা
এবং পর্বতমালাকে সুদৃঢ়ভাবে গ্রথিত করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং তার মধ্যে মজবুতভাবে গেড়ে দিয়েছেন পাহাড় - পর্বত।
জহুরুল হক
আর পাহাড় - পর্বত - - তিনি তাদের মজবুতভাবে বসিয়ে দিয়েছেন, - -
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করিয়াছেন;
সমকালীন বাংলা
তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবিকার জন্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
(এসবই করেছেন) তোমাদের ও তোমাদের পশুদের কল্যাণার্থে।
জহুরুল হক
তোমাদের জন্য ও তোমাদের গবাদি - পশুর জন্য খাদ্যের আয়োজন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এই সমস্ত তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের ভোগের জন্য।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর যখন মহাবিপর্যয় আসবে,
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর যেদিন ঘটে যাবে মহাবিপর্যয়,
জহুরুল হক
তারপর যখন ভীষণ দুর্বিপাক আসবে,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন মহাসংকট উপস্থিত হইবে
সমকালীন বাংলা
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে সে কিসের জন্য কষ্ট করেছিল,
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন মানুষ খুব করে স্মরণ করবে তার (পৃথিবীর জীবনের) সা’য়ীর (ব্যস্ততা ও কৃতকর্মের) কথা,
জহুরুল হক
সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে যার জন্য সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মানুষ যাহা করিয়াছে তাহা সে সেই দিন স্মরণ করিবে,
সমকালীন বাংলা
এবং জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে, যে দেখবে তার জন্য,
Note
জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
جَهَنَّم (Jahannam)
الْجَحِيم (Al-Jaḥīm)
سَقَر (Saqar)
لَظَى (Laẓā)
الْحُطَمَة (Al-Ḥuṭamah)
السَّعِير (As-Saʿīr)
الْهَاوِيَة (Al-Hāwiyah)
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং যেদিন দর্শকদের সামনে খুলে ধরা হবে জাহিম (দোযখ),
জহুরুল হক
আর ভয়ংকর আগুন দৃষ্টিগোচর করানো হবে যে দেখে তার জন্য।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং প্রকাশ করা হইবে জাহান্নাম দর্শকদের জন্য।
সমকালীন বাংলা
অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করেছে,
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন (এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে যে,) পৃথিবীর জীবনে যারা সীমালংঘন করেছিল,
জহুরুল হক
তাছাড়া তার ক্ষেত্রে যে সীমালংঘন করেছে,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অনন্তর যে সীমালংঘন করে
সমকালীন বাংলা
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং (আখিরাতের চাইতে) অগ্রাধিকার দিয়েছিল দুনিয়ার জীবনকে,
জহুরুল হক
এবং দুনিয়ার জীবনকেই বেছে নিয়েছে,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়,
সমকালীন বাংলা
তবে নিশ্চয়ই জাহিম হবে তার আশ্রয়,
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের আবাস হবে জাহিম (দোযখ)।
জহুরুল হক
সেক্ষেত্রে অবশ্য ভয়ংকর আগুন, - - সেটাই তো বাসস্থান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জাহান্নামই হইবে তাহার আবাস।
সমকালীন বাংলা
অপরদিকে যে তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীত হয়েছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে,
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যে তার মহান প্রভুর সামনে দাঁড়াবার ভয়ে ভীত ছিলো এবং নিজেকে আত্মার দাসত্ব ও মন্দ কামনা - বাসনা থেকে বিরত রেখেছিল,
জহুরুল হক
পক্ষান্তরে যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে ভয় করে এবং আত্মাকে কামনা - বাসনা থেকে নিবৃত্ত রাখে - -
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পক্ষান্তরে যে স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি হইতে নিজকে বিরত রাখে,
সমকালীন বাংলা
তবে নিশ্চয়ই বেহেশতই হবে তার আশ্রয়,
আবদুস শহীদ নাসিম
জান্নাতই হবে তাদের আবাস।
জহুরুল হক
সেক্ষেত্রে অবশ্য জান্নাত, - - সেটাই তো বাসস্থান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জান্নাতই হইবে তাহার আবাস।
সমকালীন বাংলা
তারা তোমাকে সেই সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, ‘তা কখন ঘটবে?’
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে মুহাম্মদ!) এরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে সেই সময়টি সম্পর্কে - তা কখন অনুষ্ঠিত হবে?
জহুরুল হক
তারা ঘড়ি - ঘান্টা সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে - - কখন তার আগমন হবে?’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামত সম্পর্কে, ‘উহা কখন ঘটিবে?’
সমকালীন বাংলা
সে ব্যাপারে আপনার কী বলার আছে?
আবদুস শহীদ নাসিম
(কিন্তু) এ ব্যাপারে বলার কী জ্ঞান তোমার আছে?
জহুরুল হক
এ - সন্বন্ধে বলবার মতো তোমার কী আছে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহার আলোচনার সঙ্গে তোমার কী সম্পর্ক?
সমকালীন বাংলা
তার চূড়ান্ত জ্ঞান তোমার প্রতিপালকের কাছেই,
আবদুস শহীদ নাসিম
এর জ্ঞান তো শুধুমাত্র তোমার প্রভুর নিকটই সীমাবদ্ধ।
জহুরুল হক
এর চরম সীমা রয়েছে তোমার প্রভুর নিকট।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহার পরম জ্ঞান আছে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট;
সমকালীন বাংলা
তুমি তো কেবল সতর্ককারী তার জন্য, যে তাকে ভয় করে,
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র, তাদের জন্যে যারা তাকে (কিয়ামতকে) ভয় করে।
জহুরুল হক
তুমি তো শুধু সতর্ককারী তার জন্য যে এ - সন্বন্ধে ভয় করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যে উহার ভয় রাখে তুমি কেবল তাহার সতর্ককারী।
সমকালীন বাংলা
যেদিন তারা তা দেখবে, মনে হবে যেন তারা কেবল এক সন্ধ্যা বা সকালের বেশী অবস্থান করেনি।
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন তারা সে দিনটিকে দেখতে পাবে, তারা অনুভব করবে, পৃথিবীতে তারা কাটিয়েছে একটি সন্ধ্যা, কিংবা একটি সকাল মাত্র।
জহুরুল হক
যেদিন তারা একে দেখবে সেদিন যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যাবেলা বা তার প্রভাতকাল ব্যতীত অবস্থান করে নি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যেই দিন উহারা ইহা প্রত্যক্ষ করিবে সেই দিন উহাদের মনে হইবে যেন উহারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করিয়াছে!