আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবধারিত ঘটনা।
সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা,
অবশ্যি ঘটবে সে ঘটনা!
بسم الله الرحمن الرحيم الحاقة
ٱلْحَآقَّةُ
Chapter 69, 52 verses
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবধারিত ঘটনা।
সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা,
অবশ্যি ঘটবে সে ঘটনা!
بسم الله الرحمن الرحيم الحاقة
ٱلْحَآقَّةُ
কী সেই অবধারিত ঘটনা?
কী সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা?
অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?
ما الحاقة
مَا ٱلْحَآقَّةُ
আর কী তোমাকে জানাবে, কী সেই অবধারিত ঘটনা?
আর তুমি কি জান সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?
তুমি কিভাবে জানবে, অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?
وما أدراك ما الحاقة
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْحَآقَّةُ
সামূদ ও ‘আদ অবধারিত মহাপ্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।
আদ ও সামূদ সম্প্রদায় অস্বীকার করিয়াছিল মহাপ্রলয়।
আদ ও সামুদ জাতি অস্বীকার করেছিল সেই মহাদুর্ঘটনাকে।
كذبت ثمود وعاد بالقارعة
كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌۢ بِٱلْقَارِعَةِ
অতঃপর সামূদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড শব্দে।
আর সামূদ সম্প্রদায়, উহাদেরকে ধ্বংস করা হইয়াছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা।
এর মধ্যে রয়েছে সামুদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দিয়ে।
فأما ثمود فأهلكوا بالطاغية
فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا۟ بِٱلطَّاغِيَةِ
আর ‘আদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড, হিংস্র ঝড়ো হাওয়ায়,
আর ‘আদ সম্প্রদায়, উহাদেরকে ধ্বংস করা হইয়াছিল এক প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা,
এর মধ্যে রয়েছে আদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঘুর্ণিঝড় দিয়ে।
وأما عاد فأهلكوا بريح صرصر عاتية
وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا۟ بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ
যা তিনি তাদের ওপর অবিরাম প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিন ধরে। তখন তুমি সেই সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখতে, যেন তারা ফাঁপা খেজুরগাছের কাণ্ড।
যাহা তিনি উহাদের উপর প্রবাহিত করিয়াছিলেন সপ্তরাত্রি ও অষ্টদিবস বিরামহীনভাবে; তখন তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখিতে - উহারা সেখানে লুটাইয়া পড়িয়া আছে সারশূন্য খর্জুর কাণ্ডের ন্যায়।
সেটি তাদের উপর প্রবাহিত রেখেছিলেন সাত রাত আট দিন অবিরাম। তুমি সেখানে উপস্থিত থাকলে দেখতে, পুরো জাতিটি সেখানে (মরে) লুটিয়ে পড়ে আছে উপড়ে পড়া খেজুর গাছের কান্ডের মতো।
سخرها عليهم سبع ليال وثمانية أيام حسوما فترى القوم فيها صرعى كأنهم أعجاز نخل خاوية
سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَٰنِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى ٱلْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَىٰ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ
অতঃপর তুমি কি তাদের কোনো অবশিষ্ট দেখতে পাও?
অতঃপর উহাদের কাহাকেও তুমি বিদ্যমান দেখিতে পাও কি?
তুমি তাদের কাউকেও অবশিষ্ট দেখতে পাচ্ছো কি?
فهل ترى لهم من باقية
فَهَلْ تَرَىٰ لَهُم مِّنۢ بَاقِيَةٍ
আর ফিরআউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেওয়া জনপদসমূহ পাপ নিয়ে এসেছিল।
ফির‘আওন, তাহার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টাইয়া দেওয়া জনপদ পাপাচারে লিপ্ত ছিল।
তারপর এসেছিল ফেরাউন, তার পূর্ববর্তীরা আর পাপাচারে লিপ্ত থাকা উল্টে দেয়া জনপদ (অর্থাৎ কওমে লুত)।
وجاء فرعون ومن قبله والمؤتفكات بالخاطئة
وَجَآءَ فِرْعَوْنُ وَمَن قَبْلَهُۥ وَٱلْمُؤْتَفِكَٰتُ بِٱلْخَاطِئَةِ
অতঃপর তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল; ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলেন।
উহারা উহাদের প্রতিপালকের রাসূলকে অমান্য করিয়াছিল, ফলে তিনি উহাদেরকে শাস্তি দিলেন - কঠোর শাস্তি।
তারা তাদের প্রভুর রসূলকে অমান্য করেছিল। এর ফলে তিনি তাদের পাকড়াও করেন কঠোর পাকড়াও।
فعصوا رسول ربهم فأخذهم أخذة رابية
فَعَصَوْا۟ رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةً رَّابِيَةً
নিশ্চয়ই যখন পানি সীমা অতিক্রম করেছিল, তখন আমরা তোমাদেরকে বহন করেছিলাম ভাসমান নৌযানে,
যখন জলোচ্ছ্বাস হইয়াছিল তখন আমি তোমাদের - কে আরোহণ করাইয়াছিলাম নৌযানে,
(এর আগে নূহের সময়) পানি যখন উথলে উঠেছিল আমরা তোমাদের তুলে নিয়েছিলাম নৌযানে,
إنا لما طغى الماء حملناكم في الجارية
إِنَّا لَمَّا طَغَا ٱلْمَآءُ حَمَلْنَٰكُمْ فِى ٱلْجَارِيَةِ
যাতে আমরা এটিকে তোমাদের জন্য একটি স্মারক করি, এবং মনোযোগী কান তা ধারণ করে।
আমি ইহা করিয়াছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্য এবং এইজন্য যে, শ্রুতিধর কর্ণ ইহা সংরক্ষণ করে।
এসব ঘটনাকে আমরা তোমাদের জন্যে বানিয়েছি শিক্ষার বিষয়। আর যেসব কান এগুলো শুনে তারা যেনো এগুলো সংরক্ষণ করে।
لنجعلها لكم تذكرة وتعيها أذن واعية
لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَآ أُذُنٌ وَٰعِيَةٌ
অতঃপর যখন শিঙ্গায় একবার ফুঁ দেওয়া হবে,
যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে - একটি মাত্র ফুৎকার,
তারপর যখন শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি (প্রথম) ফুৎকার,
فإذا نفخ في الصور نفخة واحدة
فَإِذَا نُفِخَ فِى ٱلصُّورِ نَفْخَةٌ وَٰحِدَةٌ
এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে, তারপর এক আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে,
পর্বতমালাসমেত পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হইবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় উহারা চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া যাইবে।
এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উঠিয়ে নিক্ষেপ করা হবে, তখন এক ধাক্কায়ই সেগুলো হয়ে যাবে চুর্ণবিচুর্ণ।
وحملت الأرض والجبال فدكتا دكة واحدة
وَحُمِلَتِ ٱلْأَرْضُ وَٱلْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَٰحِدَةً
সেদিন সেই অবধারিত মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে
সেদিন সংঘটিত হইবে মহাপ্রলয়,
সেদিনই সংঘটিত হবে ওয়াকিয়া (মহাদুর্ঘটনা)।
فيومئذ وقعت الواقعة
فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
এবং আকাশ বিদীর্ণ হবে; সেদিন তা হবে দুর্বল।
এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িবে।
তখন ফেটে চৌচির হয়ে যাবে আকাশ এবং তা পড়তে থাকবে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে।
وانشقت السماء فهي يومئذ واهية
وَٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَهِىَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
আর ফেরেশতারা তার প্রান্তসমূহে থাকবে, এবং সেদিন তোমার প্রতিপালকের আরশ তাদের ঊর্ধ্বে আটজন বহন করবে।
ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊর্ধ্বে।
ফেরেশতারা অবস্থান করবে তার (আকাশের) প্রান্তে। সেদিন তাদের উপর আটজন (ফেরেশতা) ধারণ করবে তোমার প্রভুর আরশ।
والملك على أرجائها ۚ ويحمل عرش ربك فوقهم يومئذ ثمانية
وَٱلْمَلَكُ عَلَىٰٓ أَرْجَآئِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَٰنِيَةٌ
সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে; তোমাদের কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকবে না।
সেই দিন উপস্থিত করা হইবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকিবে না।
সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে এবং তোমাদের কোনো কিছুই থাকবেনা গোপন।
يومئذ تعرضون لا تخفى منكم خافية
يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَىٰ مِنكُمْ خَافِيَةٌ
অতঃপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “এই নিন! আমার আমলনামা পড়ুন।
তখন যাহাকে তাহার ‘আমলনামা তাহার দক্ষিণ হস্তে দেওয়া হইবে, সে বলিবে, ‘লও, আমার ‘আমলনামা, পড়িয়া দেখ ;
তখন যার কিতাব (কৃতকর্মের রেকর্ড) দেয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে: ‘‘নাও পড়ে দেখো আমার কিতাব (রেকর্ড),
فأما من أوتي كتابه بيمينه فيقول هاؤم اقرءوا كتابيه
فَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَيَقُولُ هَآؤُمُ ٱقْرَءُوا۟ كِتَٰبِيَهْ
নিশ্চয়ই আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হবো।”
‘নিশ্চয়ই আমি জানিতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হইতে হইবে।’
আমি বিশ্বাস করতাম, আমাকে অবশ্যি হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’’
إني ظننت أني ملاق حسابيه
إِنِّى ظَنَنتُ أَنِّى مُلَٰقٍ حِسَابِيَهْ
অতঃপর সে থাকবে এক সন্তোষজনক জীবনে,
সুতরাং সে যাপন করিবে সন্তোষজনক জীবন;
ফলে সে এমন জীবন যাপন করবে, যাতে সে রাজি খুশি ও সন্তুষ্ট থাকবে।
فهو في عيشة راضية
فَهُوَ فِى عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ
উঁচু বেহেশতে,
সুউচ্চ জান্নাতে
সে থাকবে মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতে (বাগ বাগিচায়),
في جنة عالية
فِى جَنَّةٍ عَالِيَةٍ
যার ফলগুলো কাছে ঝুলে থাকবে।
যাহার ফলরাশি অবনমিত থাকিবে নাগালের মধ্যে।
তার ফলরাশি নুয়ে থাকবে নাগালের মধ্যেই।
قطوفها دانية
قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ
“তোমরা খাও এবং পান করো তৃপ্তিসহকারে, অতীত দিনগুলোতে যা তোমরা আগে পাঠিয়েছ তার কারণে।”
তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘পানাহার কর তৃপ্তির সঙ্গে, তোমরা অতীত দিনে যাহা করিয়াছিলে তাহার বিনিময়ে।’
(তাদের বলা হবে:) খাও, পান করো পরিতুষ্টির সাথে, সেই কাজের বিনিময়ে যা তোমরা করেছিলে অতীত দিনে (পৃথিবীর জীবনে)।
كلوا واشربوا هنيئا بما أسلفتم في الأيام الخالية
كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ هَنِيٓـًٔۢا بِمَآ أَسْلَفْتُمْ فِى ٱلْأَيَّامِ ٱلْخَالِيَةِ
আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “হায়! যদি আমাকে আমার আমলনামা দেওয়া না হতো,
কিন্তু যাহার ‘আমলনামা তাহার বাম হস্তে দেওয়া হইবে, সে বলিবে, ‘হায়! আমাকে যদি দেওয়াই না হইত আমার ‘আমলনামা,
কিন্তু যাকে তার কিতাব (রেকর্ড) দেয়া হবে তার বাম হাতে, সে বলবে: ‘‘হায়, আমার ধ্বংস, (কতো ভালো হতো) আমাকে যদি দেয়া না হতো আমার কিতাব!
وأما من أوتي كتابه بشماله فيقول يا ليتني لم أوت كتابيه
وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِشِمَالِهِۦ فَيَقُولُ يَٰلَيْتَنِى لَمْ أُوتَ كِتَٰبِيَهْ
এবং আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!,
‘এবং আমি যদি না জানিতাম আমার হিসাব !
(হায়,) আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব।
ولم أدر ما حسابيه
وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ
হায়! যদি সেটাই চূড়ান্ত সমাপ্তি হতো!
এখানে "চূড়ান্ত সমাপ্তি" বলতে সম্ভবত মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে
‘হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হইত।
(হায়,) আমার মৃত্যুই যদি হতো আমার শেষ ফায়সালা।
يا ليتها كانت القاضية
يَٰلَيْتَهَا كَانَتِ ٱلْقَاضِيَةَ
আমার সম্পদ আমার কোনো উপকারে আসেনি।
‘আমার ধন - সম্পদ আমার কোন কাজেই আসিল না।
আমার মাল - সম্পদ তো আমার কোনো কাজেই এলোনা।
ما أغنى عني ماليه ۜ
مَآ أَغْنَىٰ عَنِّى مَالِيَهْ
আমার কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হয়েছে।”
‘আমার ক্ষমতাও বিনষ্ট হইয়াছে।’
আমার সমস্ত ক্ষমতা - দাপটই তো আমার থেকে হয়ে গেছে হালাক।’’
هلك عني سلطانيه
هَلَكَ عَنِّى سُلْطَٰنِيَهْ
“তাকে ধরো, অতঃপর তার গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দাও।”
ফিরিশ্তাদেরকে বলা হইবে, ‘ধর উহাকে, উহার গলদেশে বেড়ি পরাইয়া দাও।
(ফেরেশতাদের বলা হবে:) ‘‘একে পাকড়াও করো এবং বেড়ি লাগাও তার গলায়।
خذوه فغلوه
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
তারপর তাকে জাহিমে পোড়াও।
জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
‘অতঃপর উহাকে নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।
তারপর নিক্ষেপ করো জাহিমে।
ثم الجحيم صلوه
ثُمَّ ٱلْجَحِيمَ صَلُّوهُ
তারপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শৃঙ্খলে আবদ্ধ করো
‘পুনরায় তাহাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর হস্ত দীর্ঘ এক শৃঙ্খলে’,
অতপর তাকে বাঁধো সত্তর হাত লম্বা শিকল দিয়ে।’’
ثم في سلسلة ذرعها سبعون ذراعا فاسلكوه
ثُمَّ فِى سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَٱسْلُكُوهُ
নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহর প্রতি ছিল না।
সে তো মহান র প্রতি ছিল না।
সে ঈমান আনেনি মহান আল্লাহর প্রতি,
إنه كان لا يؤمن بالله العظيم
إِنَّهُۥ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ ٱلْعَظِيمِ
এবং দরিদ্রকে আহার করাতে উৎসাহ দিত না।
এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করিত না,
(মানুষকে) উৎসাহ দেয়নি মিসকিনদের আহার করাতে।
ولا يحض على طعام المسكين
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ
অতএব আজ এখানে তার কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই,
অতএব এই দিন সেখানে তাহার কোন সুহৃদ থাকিবে না,
তাই তার জন্যে আজ এখানে নেই কোনো সহমর্মী,
فليس له اليوم هاهنا حميم
فَلَيْسَ لَهُ ٱلْيَوْمَ هَٰهُنَا حَمِيمٌ
এবং পুঁজ ছাড়া তার কোনো খাদ্য নেই,
এবং কোন খাদ্য থাকিবে না ক্ষতনিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত,
(তার জন্যে) নেই কোনো খাবার ক্ষতের পূঁজ ছাড়া,
ولا طعام إلا من غسلين
وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ
যা পাপাচারীরা ছাড়া আর কেউ খাবে না।
যাহা অপরাধী ব্যতীত কেহ খাইবে না।
যা আর কেউই খাবেনা অপরাধীরা ছাড়া।
لا يأكله إلا الخاطئون
لَّا يَأْكُلُهُۥٓ إِلَّا ٱلْخَٰطِـُٔونَ
অতএব আমি শপথ করছি যা তোমরা দেখো,
আমি কসম করিতেছি উহার, যাহা তোমরা দেখিতে পাও,
আমি কসম করছি সেসবের, যা তোমরা দেখতে পাও,
فلا أقسم بما تبصرون
فَلَآ أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ
এবং যা তোমরা দেখো না,
এবং যাহা তোমরা দেখিতে পাও না ;
আর সেসবের যা তোমরা দেখতে পাওনা:
وما لا تبصرون
وَمَا لَا تُبْصِرُونَ
নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত রাসূলের কথা।
নিশ্চয়ই এই কুরআন এক সম্মানিত রাসূলের বহনকৃত বার্তা।
নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রসূলের কথা।
إنه لقول رسول كريم
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ
এবং এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব কমই বিশ্বাস কর।
ইহা কোন কবির রচনা নয়; তোমরা অল্পই বিশ্বাস কর,
এটি কোনো কবি রচিত কথা নয়; তবে খুব কমই তোমরা বিশ্বাস করো।
وما هو بقول شاعر ۚ قليلا ما تؤمنون
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَّا تُؤْمِنُونَ
এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর।
ইহা কোন গণকের কথাও নয়, তোমরা অল্পই অনুধাবন কর।
এটি কোনো গণকের কথাও নয়, তবে খুব কমই তোমরা উপলব্ধি করো।
ولا بقول كاهن ۚ قليلا ما تذكرون
وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।
এটি হলো রাববুল আলামিনের নাযিল করা (কিতাব)।
تنزيل من رب العالمين
تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
আর যদি সে আমাদের নামে কোনো কথা রচনা করে আমাদের প্রতি আরোপ করত,
সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করিয়া চালাইতে চেষ্টা করিত,
সে (মুহাম্মদ) যদি আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে নিয়ে চালাবার চেষ্টা করতো,
ولو تقول علينا بعض الأقاويل
وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ ٱلْأَقَاوِيلِ
তবে অবশ্যই আমরা তার ডান হাত ধরে ফেলতাম,
আমি অবশ্যই তাহার দক্ষিণ হস্ত ধরিয়া ফেলিতাম,
আমরা অবশ্যি ধরে ফেলতাম তার ডান হাত,
لأخذنا منه باليمين
لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِٱلْيَمِينِ
তারপর অবশ্যই তার মহাধমনী কেটে দিতাম।
এবং কাটিয়া দিতাম তাহার জীবন - ধমনী,
তারপর কেটে ফেলতাম তার জীবন - ধমনী।
ثم لقطعنا منه الوتين
ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ ٱلْوَتِينَ
অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে রক্ষা করতে পারত না।
অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেহই নাই, যে তাহাকে রক্ষা করিতে পারে।
তোমাদের মধ্যে এমন কেউই থাকতো না, যে রক্ষা করতে পারতো তাকে।
فما منكم من أحد عنه حاجزين
فَمَا مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَٰجِزِينَ
আর নিশ্চয়ই এটি মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশ।
এই কুরআন মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই এক উপদেশ।
নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক উপদেশ (সতর্ক) লোকদের জন্যে।
وإنه لتذكرة للمتقين
وَإِنَّهُۥ لَتَذْكِرَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ
আর নিশ্চয়ই আমরা জানি যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্বীকারকারী।
আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে মিথ্যা আরোপকারী রহিয়াছে।
অবশ্যি আমরা জানি, তোমাদের মধ্যে রয়েছে মিথ্যাবাদীরা।
وإنا لنعلم أن منكم مكذبين
وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِينَ
আর নিশ্চয়ই এটি অস্বীকারকারীদের জন্য অনুশোচনা।
এবং এই কুরআন নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হইবে,
অবশ্যি এ (কুরআন) কাফিরদের জন্যে এক অনুতাপের কারণ।
وإنه لحسرة على الكافرين
وَإِنَّهُۥ لَحَسْرَةٌ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ
আর নিশ্চয়ই এটি নিশ্চিত সত্য।
অবশ্যই ইহা নিশ্চিত সত্য।
নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক বাস্তব সত্য।
وإنه لحق اليقين
وَإِنَّهُۥ لَحَقُّ ٱلْيَقِينِ
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।
অতএব তুমি মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
সুতরাং তুমি তসবিহ করতে থাকো তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে।
فسبح باسم ربك العظيم
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ