আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ রাতের, যখন তা আচ্ছন্ন করে,
শপথ রজনীর, যখন সে আচ্ছন্ন করে,
রাতের শপথ, যখন সে ঢেকে যায়।
ভাবো রাত্রির কথা, যখন তা ঢেকে দেয়,
Chapter 92, 21 verses
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ রাতের, যখন তা আচ্ছন্ন করে,
শপথ রজনীর, যখন সে আচ্ছন্ন করে,
রাতের শপথ, যখন সে ঢেকে যায়।
ভাবো রাত্রির কথা, যখন তা ঢেকে দেয়,
এবংদিনের, যখন তা আলোকিত হয়,
শপথ দিবসের, যখন উহা উদ্ভাসিত হয়
দিনের শপথ, যখন সে উঠে উজ্জ্বল হয়ে।
আর দিনের কথা যখন তা ঝলমল করে;
এবং যিনি পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন,
এবং শপথ তাঁহার, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করিয়াছেন -
এবং শপথ তাঁর, যিনি সৃষ্টি করেছেন পুরুষ আর নারী।
আর তাঁর কথা যিনি পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন।
নিশ্চয়ই তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন রকমের,
অবশ্যই তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকৃতির।
নিশ্চয়ই তোমাদের প্রচেষ্টাও (অনুরূপ বিপরীতধর্মী এবং) নানা রকমের।
নিঃসন্দেহ তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা অবশ্য বিভিন্ন প্রকৃতির।
অতএব, যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে,
সুতরাং কেহ দান করিলে, হইলে
তবে (যার কর্ম প্রচেষ্টার ধরণ হলো এই যে) সে দান করে এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকে,
সুতরাং যে কেউ দান করে ও ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে,
এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে,
এবং যাহা উত্তম তাহা সত্য বলিয়া গ্রহণ করিলে,
আর যা কল্যাণকর সেটাকে সত্য বলে গ্রহণ করে,
এবং সুষ্ঠু - সুন্দর বিষয়ে সত্যনিষ্ঠ থাকে,
তাকে আমরা সহজ পথের জন্য সহজ করে দেবো,
আমি তাহার জন্য সুগম করিয়া দিব সহজ পথ।
আমরা তার জন্যে সহজ করে দেবো সহজ (কল্যাণের) পথকে।
আমি শীঘই তার জন্য তবে সহজ করে দেব আরাম করার জন্য।
আর যে কৃপণতা করে এবং নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে,
এবং কেহ কার্পণ্য করিলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করিলে,
কিন্তু যে বখিলি করে এবং নিজেকে মনে করে স্বয়ম্ভর,
কিন্ত তার ক্ষেত্রে যে কৃপণতা করে ও নিজেকে স্বয়ংসমৃদ্ধ জ্ঞান করে,
এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে,
আর যাহা উত্তম তাহা অস্বীকার করিলে,
আর যা কল্যাণকর সেটাকে করে অস্বীকার,
এবং সুষ্ঠু - সুন্দর বিষয়ে মিথ্যারোপ করে,
তাকে আমরা কঠিন পথের জন্য সহজ করে দেবো,
তাহার জন্য আমি সুগম করিয়া দিব কঠোর পথ।
আমরা তার জন্যে সহজ করে দেবো কঠিন (অকল্যাণের) পথকে।
তার জন্য তবে আমি অচিরেই সহজ করে দেব কষ্ট ভোগের জন্য।
এবং যখন সে পতিত হবে, তার সম্পদ তার কাজে আসবে না,
এবং তাহার সম্পদ তাহার কোন কাজে আসিবে না, যখন সে ধ্বংস হইবে।
তার কী উপকারে আসবে তার মাল - সম্পদ যখন সে পতিত হবে (ধ্বংসের দিকে)?
আর তার ধনসম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না যখন সে অধঃপাতে পড়বে।
নিশ্চয়ই আমাদের দায়িত্ব পথনির্দেশ দেওয়া,
আমার কাজ তো কেবল পথনির্দেশ করা,
সঠিক পথ দেখানো তো আমাদের দায়িত্ব।
নিঃসন্দেহ আমাদের কর্তব্য তো পথনির্দেশ করা চ
এবং নিশ্চয়ই আমাদেরই রয়েছে পরকাল ও ইহকাল,
আমি তো মালিক পরলোকের ও ইহলোকের।
আর আমরাই তো মালিক এবং ইহকালের।
আর নিঃসন্দেহ আমরাই তো মালিক পরকালের ও পূর্বকালের।
অতএব আমি তোমাদেরকে এক আগুন সম্পর্কে সতর্ক করেছি,
আমি তোমাদেরকে লেলিহান অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করিয়া দিয়াছি।
তাই আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি জ্বলন্ত আগুন থেকে।
সেজন্য তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি লেলিহান আগুন সন্বন্ধে,
তাতে অতি হতভাগ্য ছাড়া কেউ প্রবেশ করবে না;
উহাতে প্রবেশ করিবে সে - ই, যে নিতান্ত হতভাগ্য,
তাতে কেউ প্রবেশ করবেনা দুর্ভাগা ছাড়া,
তাতে প্রবেশ করবে না নিতান্ত হতভাগ্য ব্যতীত - -
যে অস্বীকার করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়;
যে অস্বীকার করে ও মুখ ফিরাইয়া নেয়।
যে (সত্যকে) অস্বীকার করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।
যে মিথ্যারোপ করে ও ফিরে যায়।
এবং তা থেকে দূরে রাখা হবে সে, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান,
আর উহা হইতে দূরে রাখা হইবে পরম মুত্তাকীকে,
আর তা থেকে দূরে রাখা হবে অতীব (সদা সতর্ক) ব্যক্তিকে,
আর এর থেকে আলবৎ দূরে রাখা হবে তাকে যে পরম ধর্মভীরু - -
যে তার সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য,
যে স্বীয় সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য,
যে তার মাল - সম্পদ দান করে নিজের পরিশুদ্ধি ও উন্নতির জন্যে,
যে তার ধনদেলত দান করে, আত্মশুদ্ধি করে,
এবং কারও প্রতি কোনো প্রতিদান প্রত্যাশা করে না,
এবং তাহার প্রতি কাহারও অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়,
তার প্রতি কারো অনুগ্রহের প্রতিদান হিসেবে নয়,
আর কারো ক্ষেত্রে তার জন্য এমন কোনো অনুগ্রহসামগ্রী নেই যার জন্যে সে প্রতিদান দাবি করতে পারে - -
কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির জন্য,
কেবল তাহার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় ;
বরং শুধুমাত্র তার মহান প্রভুর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়।
তার মহিমান্বিত প্রভুর প্রসন্নবদন কামনা ব্যতীত।
এবং নিশ্চয়ই তিনি শীঘ্রই সন্তুষ্ট হবেন।
সে তো অচিরেই সন্তোষ লাভ করিবে।
আর অচিরেই তিনি সন্তুষ্ট হবেন (তার প্রতি)।
আর অচিরেই সে তো সন্তোষ লাভ করবেই।