Kitab

হুদ (নবী হুদ আঃ)

Chapter 11, 123 verses

  • সমকালীন বাংলা
  • মুহিউদ্দীন খান
  • Arabic, with marks
  • আবদুস শহীদ নাসিম
সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; আলিফ - লাম - রা, এই কিতাব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের নিকট হইতে; ইহার আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট, সুবিন্যস্ত ও পরে বিশদভাবে বিবৃত যে,

মুহিউদ্দীন খান

আলিফ, লা - ম, রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে।

Arabic, with marks

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ الر ۚ كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা। এটি একটি কিতাব এর আয়াতসমূহ বিজ্ঞানময় সুবিন্যস্ত, বিশদভাবে বর্ণিত, মহাবিজ্ঞানী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

সমকালীন বাংলা

তোমরা ব্যতীত অন্যের ‘ইবাদত করিবে না, অবশ্যই আমি তাঁহার পক্ষ হইতে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তোমরা ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা।

Arabic, with marks

أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۚ إِنَّنِي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! জানিয়ে দাও,) তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করোনা। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।

সমকালীন বাংলা

আরও যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট কালের জন্য উত্তম জীবন উপভোগ করিতে দিবেন এবং তিনি প্রত্যেক গুণীজনকে তাহার প্রাপ্য মর্যাদা দান করিবেন। যদি তোমরা মুখ ফিরাইয়া নাও তবে আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি মহাদিবসের শাস্তির।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।

Arabic, with marks

وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ ۖ وَإِن تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো, তাহলে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবন সামগ্রী উপভোগ করার সুযোগ দেবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাবানকে দেবেন তার প্রাপ্য মর্যাদা। কিন্তু তোমরা যদি (একথা না মেনে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্যে আশংকা করছি এক গুরুতর দিনের আযাবের।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নিকট তোমাদের প্রর্ত্যাবর্তন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

Arabic, with marks

إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

সমকালীন বাংলা

সাবধান! নিশ্চয়ই উহারা তাঁহার নিকট গোপন রাখিবার জন্য উহাদের বক্ষ দ্বিভাঁজ করে। সাবধান! উহারা যখন নিজেদেরকে বস্ত্রে আচ্ছাদিত করে তখন উহারা যাহা গোপন করে ও প্রকাশ করে, তিনি তাহা জানেন। অন্তরে যাহা আছে, নিশ্চয়ই তিনি তাহা সবিশেষ অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে।

Arabic, with marks

أَلَا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ ۚ أَلَا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান! তারা তাঁর কাছ থেকে নিজেদের গোপন করার জন্যে তাদের বক্ষ দ্বিভাজ করে। সাবধান! তারা যখন তাদেরকে বস্ত্র দিয়ে ঢেকে নেয়, তখন তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তিনি তা জানেন। অবশ্যি তিনি অন্তরের খবর বিশেষভাবে অবহিত।

সমকালীন বাংলা

ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব তিনি উহাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সুস্পষ্ট কিতাবে সব কিছুই আছে।

মুহিউদ্দীন খান

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।

Arabic, with marks

۞ وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে বিচরণকারী সব জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সবই একটি স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

আর তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, তখন তাঁহার আরশ ছিল পানির উপর, তামাদের মধ্যে কে কর্মে শ্রেষ্ঠ তাহা পরীক্ষা করিবার জন্য। তুমি যদি বল, ‘মৃত্যুর পর তোমরা অবশ্যই উত্থিত হইবে,’ কাফিররা নিশ্চয়ই বলিবে, ‘ইহা তো সুস্পষ্ট জাদু।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!";

Arabic, with marks

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۗ وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে এবং তাঁর আরশ ছিলো পানির উপর তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে উত্তম তা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে। তুমি যদি তাদের বলো: ‘তোমরা অবশ্যি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে,’ তখন কাফিররা অবশ্যি বলবে: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

সমকালীন বাংলা

নির্দিষ্ট কালের জন্য আমি যদি উহাদের হইতে শাস্তি স্থগিত রাখি তবে উহারা নিশ্চয় বলিবে, ‘কিসে উহা নিবারণ করিতেছে?’ সাবধান! যে দিন উহাদের নিকট ইহা আসিবে সেদিন উহাদের নিকট হইতে উহা নিবৃত্ত করা হইবে না এবং যাহা লইয়া উহারা ঠাট্টা - বিদ্রপকরে তাহা উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি আমি এক নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত তাদের আযাব স্থগিত রাখি, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে কোন জিনিসে আযাব ঠেকিয়ে রাখছে? শুনে রাখ, যেদিন তাদের উপর আযাব এসে পড়বে, সেদিন কিন্তু তা ফিরে যাওয়ার নয়; তারা যে ব্যাপারে উপহাস করত তাই তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।

Arabic, with marks

وَلَئِنْ أَخَّرْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِلَىٰ أُمَّةٍ مَّعْدُودَةٍ لَّيَقُولُنَّ مَا يَحْبِسُهُ ۗ أَلَا يَوْمَ يَأْتِيهِمْ لَيْسَ مَصْرُوفًا عَنْهُمْ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি একটা নির্দিষ্ট সময়কাল তাদের উপর আযাব স্থগিত রাখি, তখন তারা অবশ্যি বলবে: ‘কী কারণে আসছে না সে জিনিসটি?’ সাবধান! যেদিন সেটি তাদের কাছে আসবে, তা আর ফেরত নেয়া হবেনা এবং তারা যে বিষয়টাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করছে তা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে।

সমকালীন বাংলা

যদি আমি মানুষকে আমার নিকট হইতে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই ও পরে তাহার নিকট হইতে উহা প্রত্যাহার করি তখন সে অবশ্যই হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়।

Arabic, with marks

وَلَئِنْ أَذَقْنَا الْإِنسَانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنَاهَا مِنْهُ إِنَّهُ لَيَئُوسٌ كَفُورٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি মানুষকে আমাদের রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই এবং পরে তা তাদের থেকে উঠিয়ে নেই, তখন তারা হতাশ এবং অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।

সমকালীন বাংলা

আর যদি দুঃখ - দৈন্য স্পর্শ করিবার পর আমি তাহাকে সুখ - সম্পদ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলিবে আমার বিপদ আপদ কাটিয়া গিয়েছি, সে হয় উৎফুল্ল ও অহংকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে আত্নহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্দত হয়ে পড়ে।

Arabic, with marks

وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ نَعْمَاءَ بَعْدَ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّي ۚ إِنَّهُ لَفَرِحٌ فَخُورٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর আমরা যদি তাদের সুখ - সম্পদের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন অবশ্যি তারা বলবে: ‘আমার দুঃখ - দুর্দশা কেটে গেছে।’ তখন সে উল্লসিত ও অহংকারী হয়ে পড়ে।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু যাহারা ধৈর্যশীল ও সৎকর্মপরায়ণ তাহাদেরই জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

তবে যারা ধৈর্য্যধারণ করেছে এবং সৎকার্য করেছে তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান রয়েছে।

Arabic, with marks

إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা সবর অবলম্বন করে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং বিশাল পুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

তবে কি তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহার কিছু তুমি বর্জন করিবে এবং ইহাতে তোমার মন সংকুচিত হইবে এইজন্য যে, তাহারা বলে, ‘তাহার নিকট ধনভাণ্ডার প্রেরিত হয় না কেন অথবা তাহার সঙ্গে ফিরিশতা আসে না কেন?’ তুমি তো কেবল সতর্ককারী এবং সর্ববিষয়ের কর্মবিধায়ক।

মুহিউদ্দীন খান

আর সম্ভবতঃ ঐসব আহকাম যা ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট পাঠানো হয়, তার কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এতে মন ছোট করে বসবে? তাদের এ কথায় যে, তাঁর উপর কোন ধন - ভান্ডার কেন অবতীর্ণ হয়নি? অথবা তাঁর সাথে কোন ফেরেশতা আসেনি কেন? তুমিতো শুধু সতর্ককারী মাত্র; আর সব কিছুরই দায়িত্বভার তো আল্লাহই নিয়েছেন।

Arabic, with marks

فَلَعَلَّكَ تَارِكٌ بَعْضَ مَا يُوحَىٰ إِلَيْكَ وَضَائِقٌ بِهِ صَدْرُكَ أَن يَقُولُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ كَنزٌ أَوْ جَاءَ مَعَهُ مَلَكٌ ۚ إِنَّمَا أَنتَ نَذِيرٌ ۚ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকেরা যে বলে: ‘তার সাথে কোনো ধনভান্ডার নাযিল হলো না কেন? কিংবা তার সাথে ফেরেশতা এলোনা কেন?’ এ কারণে কি তুমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ অহির কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এর ফলে কি তোমার মন ছোট হয়ে যাবে? জেনে রাখো, তুমি তো কেবলমাত্র একজন সতর্ককারী। সব বিষয়ে উকিল - দায়িত্বশীল।

সমকালীন বাংলা

তাহারা কি বলে, ‘সে ইহা নিজে রচনা করিয়াছে?’ বল, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমরা ইহার অনুরূপ দশটি স্বরচিত সূরা আনয়ন কর এবং ব্যতীত অপর যাহাকে পার, ডাকিয়া নাও।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।

Arabic, with marks

أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটা (কুরআন) রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে এটির অনুরূপ দশটি সূরা নিজেরা রচনা করে আনো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতা নেয়ার জন্যে) ডেকে আনো।’

সমকালীন বাংলা

যদি তাহারা তোমাদের আহ্বানে সাড়া না দেয় তবে জানিয়া রাখ, ইহা তো ইল্ম মুতাবিক অবতীর্ণ এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তাহা হইলে তোমরা আত্মসর্মপণকারী হইবে কি?

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা যদি তোমাদের কথা পুরণ করতে অপারগ হয়; তবে জেনে রাখ, এটি আল্লাহর এলম দ্বারা অবতীর্ণ হয়েছে; আরো একীন করে নাও যে, ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। অতএব, এখন কি তোমরা আত্নসমর্পন করবে?

Arabic, with marks

فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَن لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার এ আহবানে এগিয়ে না আসে, তবে জেনে রাখো, এটি (এই কুরআন) তো আল্লাহর এলেমের ভিত্তিতে নাযিল করা হয়েছে, আর তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। সুতরাং তোমরা কি মুসলিম (মান্যকারী) হবে?

সমকালীন বাংলা

যে কেহ পার্থিব জীবন ও উহার শোভা কামনা করে, দুনিয়ায় আমি উহাদের কর্মের পূর্ণফল দান করি এবং সেখানে তাহাদেরকে কম দেওয়া হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হয় না।

Arabic, with marks

مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা দুনিয়ার জীবন এবং তার শোভা সৌন্দর্য কামনা করে, আমরা দুনিয়াতেই তাদের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দিয়ে থাকি এবং সেখানে তাদের কোনো প্রকার কম দেয়া হয়না।

সমকালীন বাংলা

উহাদের জন্য আখিরাতে দোযখ ব্যতীত অন্য কিছুই নাই এবং উহারা যাহা করে আখিরাতে তাহা নিষ্ফল হইবে এবং উহারা যাহা করিয়া থাকে তাহা নিরর্থক।

মুহিউদ্দীন খান

এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল।

Arabic, with marks

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ ۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আখিরাতে তাদের জন্যে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই থাকেনা। তারা এখানে যা করে আখিরাতে তা নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তাদের সব কাজই অর্থহীন।

সমকালীন বাংলা

তাহারা কি উহাদের সমতুল্য যাহারা প্রতিষ্ঠিত উহাদের প্রতিপালক - প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণের উপর, যাহার অনুসরণ করে তাঁহার প্রেরিত সাক্ষী এবং যাহার পূর্বে ছিল মূসার কিতাব আদর্শ ও অনুগ্রহস্বরূপ? উহারাই ইহাতে । অন্যান্য দলের যাহারা ইহাকে অস্বীকার করে, দোযখই তাহাদের প্রতিশ্রুতি স্থান। সুতরাং তুমি ইহাতে সন্দিগ্ধ হইও না। ইহা তো তোমার প্রতিপালক - প্রেরিত সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে না।

মুহিউদ্দীন খান

আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না।

Arabic, with marks

أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِّنْهُ وَمِن قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَىٰ إِمَامًا وَرَحْمَةً ۚ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ ۚ فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِّنْهُ ۚ إِنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি ঐ লোকদের সমতুল্য হতে পারে, যারা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের (কুরআনের) উপর প্রতিষ্ঠিত, যা তিলাওয়াত করে তাঁর প্রেরিত সাক্ষী (জিবরিল) এবং যার আগে এসেছিল মূসার উপর অবতীর্ণ কিতাব পথ প্রদর্শক ও রহমত হিসাবে? তারা এর প্রতি ঈমান রাখে। মানব দলসমূহের যারাই এটিকে অস্বীকার করে আগুনই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং তুমি এটির সম্পর্কে কোনো প্রকার সন্দেহে থেকোনা। এটি তো তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক মহাসত্য। তবে অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করেনা।

সমকালীন বাংলা

যাহারা সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে তাহাদের অপেক্ষা অধিক আর কে? উহাদেরকে উপস্থিত করা হইবে উহাদের প্রতিপালকের সম্মুখে এবং সাক্ষিগণ বলিবে, ‘ইহারাই ইহাদের প্রতিপালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল।’ সাবধান ! লা‘নত জালিমদের উপর,

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।

Arabic, with marks

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ۚ أُولَٰئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَىٰ رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَٰؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَىٰ رَبِّهِمْ ۚ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের উপস্থাপন করা হবে তাদের প্রভুর দরবারে এবং সাক্ষীরা বলবে: এরাই তাদের প্রভুর প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। সাবধান, যালিমদের প্রতি আল্লাহর লানত,

সমকালীন বাংলা

যাহারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং উহাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে; এবং ইহারাই প্রত্যাখ্যান করে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুজে বেড়ায়, এরাই আখরাতকে অস্বীকার করে।

Arabic, with marks

الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বাধা সৃষ্টি করে আল্লাহর পথে এবং তাতে সন্ধান করে বক্রতা এবং যারা আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী।

সমকালীন বাংলা

উহারা পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারগ করিতে পারিত না এবং ব্যতীত উহাদের অপর কোন অভিভাবক ছিল না; উহাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হইবে; উহাদের শুনিবার সামর্থ্যও ছিল না এবং উহারা দেখিতও না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; তারা শুনতে পারত না এবং দেখতেও পেত না।

Arabic, with marks

أُولَٰئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانَ لَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ۘ يُضَاعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ۚ مَا كَانُوا يَسْتَطِيعُونَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوا يُبْصِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা পৃথিবীতে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর প্রকৃতপক্ষে ছাড়া তো আর তাদের কোনো অলি ছিলনা। তাদের আযাব দ্বিগুণ করা হবে। তাদের শোনারও সামর্থ ছিলনা এবং তারা দেখতেও পেতোনা।

সমকালীন বাংলা

উহারা নিজেদেরই ক্ষতি করিল এবং উহারা যে অলীক কল্পনা করিত তাহা উহাদের নিকট হইতে উধাও হইয়া গেল।

মুহিউদ্দীন খান

এরা সে লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত করেছিল, তা সবই তাদের থেকে হারিয়ে গেছে।

Arabic, with marks

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের কল্পিত (শরিকরা) তখন তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে।

সমকালীন বাংলা

নিঃসন্দেহে উহারাই আখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

আখেরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ কোন সন্দেহ নেই।

Arabic, with marks

لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো সন্দেহ নেই, আখিরাতে তারা হবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।

সমকালীন বাংলা

যাহারা , সৎকর্মপরায়ণ এবং তাহাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনয়াবনত, তাহারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।

Arabic, with marks

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوا إِلَىٰ رَبِّهِمْ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে, এবং আমলে সালেহ্ করে এবং তাদের প্রভুর প্রতি বিনীত হয়ে জীবন যাপন করে, তারাই হবে জান্নাতের অধিকারী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

সমকালীন বাংলা

দল দুইটির উপমা অন্ধ ও বধিরের এবং চক্ষুষ্মান ও শ্রবণ শক্তিসম্পন্নের ন্যায়, তুলনায় এই দুই কি সমান? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করিবে না?

মুহিউদ্দীন খান

উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন অন্ধ ও বধির এবং যে দেখতে পায় ও শুনতে পায় উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ না?

Arabic, with marks

۞ مَثَلُ الْفَرِيقَيْنِ كَالْأَعْمَىٰ وَالْأَصَمِّ وَالْبَصِيرِ وَالسَّمِيعِ ۚ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এই দুই পক্ষের উপমা হলো এ রকম, যেমন একজন হলো অন্ধ ও বধির এবং অপরজন হলো চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন। এরা দুইজন কি সমতুল্য? কেন তোমরা বুঝার চেষ্টা করোনা?

সমকালীন বাংলা

আমি তো নূহ্কে তাহার সম্প্রদায়ের নিকট পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী,

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। (সে তাদের বলেছিল), আমি তোমাদের প্রতি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

সমকালীন বাংলা

যেন তোমরা ব্যতীত অপর কিছুর ‘ইবাদত না কর; আমি তো তোমাদের জন্য এক মর্মন্তুদ দিবসের শাস্তি আশংকা করি।’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা ব্যতীত কারো এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি।

Arabic, with marks

أَن لَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۖ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করোনা। আমি তোমাদের জন্যে এক বেদনাদায়ক দিনের আযাবের আশংকা করছি।

সমকালীন বাংলা

তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা, যাহারা ছিল তাহারা বলিল, ‘আমরা তোমাকে তো আমাদের মত মানুষ ব্যতীত কিছু দেখিতেছি না; আমরা তো দেখিতেছি, তোমার অনুসরণ করিতেছে তাহারাই, যাহারা আমাদের মধ্যে বাহ্য দৃষ্টিতেই অধম এবং আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখিতেছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।’

মুহিউদ্দীন খান

তখন তাঁর কওমের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল - বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি।

Arabic, with marks

فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِّثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَىٰ لَكُمْ عَلَيْنَا مِن فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওমের প্রধানরা বলেছিল: ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই দেখছিনা। আর আমরা বাহ্য দৃষ্টিতেই দেখছি, যারা তোমার অনুসরণ করছে তারা আমাদের মধ্যে একেবারেই নীচু শ্রেণীর। আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বই দেখছি না। বরং আমরা তো মনে করি তোমরা সবাই মিথ্যাবাদী।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁহার নিজ অনুগ্রহ হইতে দান করিয়া থাকেন, আর ইহা তোমাদের নিকট গোপন রাখা হইয়াছে; আমি কি এই বিষয়ে তোমাদেরকে বাধ্য করিতে পারি, যখন তোমরা ইহা অপছন্দকর?

মুহিউদ্দীন খান

নূহ (আঃ) বললেন - হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ?

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِّنْ عِندِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمْ لَهَا كَارِهُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা ভেবে দেখো, আমি যদি আমার প্রভুর প্রেরিত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাকে দান করে থাকেন আর সে বিষয়ে যদি তোমাদের অন্ধ করে দেয়া হয়ে থাকে, তবে তোমাদের অপছন্দ সত্ত্বেও কি আমি তোমাদের তা গ্রহণে বাধ্য করতে পারি?

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায় ! ইহার পরিবর্তে আমি তোমাদের নিকট ধনসম্পদ যাচ্ঞা করি না। আমার পারিশ্রমিক তো নিকট এবং মু’মিনদেরকে তাড়াইয়া দেওয়া আমার কাজ নয়; তাহারা নিশ্চিতভাবে তাহাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ লাভ করিবে। কিন্তুআমি তো দেখিতেছি তোমরা এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায় দেখছি।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ ۚ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا ۚ إِنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَٰكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! এ কাজের জন্যে তো আমি তোমাদের কাছে মাল - সম্পদ চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তো আল্লাহর। আমি তো মুমিনদেরকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনা। তারা অবশ্যি তাদের প্রভুর সাক্ষাত লাভ করবে। বরং আমি তো দেখছি তোমরাই সবাই জাহিল লোক।

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি যদি তাহাদেরকে তাড়াইয়া দেই, তবে হইতে আমাকে কে রক্ষা করিবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে হতে রেহাই দেবে কে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না?

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ مَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِن طَرَدتُّهُمْ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে কে আমাকে রক্ষা করবে? তোমরা কি অনুধাবন করার চেষ্টা করবেনা?

সমকালীন বাংলা

‘আমি তোমাদেরকে বলি না, ‘আমার নিকট ধনভাণ্ডার আছে,’ আর না সম্বন্ধে আমি অবগত এবং আমি ইহাও বলি না যে, আমি ফিরিশ্তা। তোমাদের দৃষ্টিতে যাহারা হেয় তাহাদের সম্বন্ধে আমি বলি না যে, তাহাদেরকে কখনই মঙ্গল দান করিবেন না; তাহাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা সম্যক অবগত। তাহা হইলে আমি অবশ্যই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।

Arabic, with marks

وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ ۖ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর অর্থভান্ডার রয়েছে, কিংবা আমি জানি। কিংবা আমি তো এ কথাও বলছিনা যে, আমি একজন ফেরেশতা। তোমাদের দৃষ্টিতে যারা নিম্নশ্রেণীর তাদের ব্যাপারেও আমি একথা বলিনা যে, কখনো তাদের কল্যাণ করবেন না। তাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ্ই তা অধিক জানেন। তোমাদের কথা মেনে নিলে তো আমি যালিমদের মধ্যে গণ্য হয়ে যাবো।’’

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘হে নূহ্ ! তুমি তো আমাদের সঙ্গে বিতণ্ডা করিয়াছ - তুমি বিতণ্ডা করিয়াছ আমাদের সঙ্গে অতি মাত্রায়; সুতরাং তুমি সত্যবাদী হইলে আমাদেরকে যাহার ভয় দেখাইতেছ তাহা আনয়ন কর।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।

Arabic, with marks

قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি তো আমাদের সাথে বিতন্ডা করেছো প্রচুর বিতন্ডা, সুতরাং তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদেরকে তোমার প্রতিশ্রুত ঘটনাটি ঘটিয়ে দেখাও।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘ইচ্ছা করিলে উহা তোমাদের নিকট উপস্থিত করিবেন এবং তোমরা উহা ব্যর্থ করিতে পারিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বলেন, উহা তোমাদের কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে তাঁকে অপারগ করতে পারবে না।

Arabic, with marks

قَالَ إِنَّمَا يَأْتِيكُم بِهِ اللَّهُ إِن شَاءَ وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে সে বলেছিল: ‘সেই ঘটনাটা একমাত্র আল্লাহ্ই ঘটিয়ে তোমাদের দেখাতে পারেন যদি তিনি চান এবং তোমরা তা প্রতিহত করতে পারবে না।’

সমকালীন বাংলা

‘আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাহিলেও আমার উপদেশ তোমাদের উপকারে আসিবে না, যদি তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করিতে চান। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক এবং তাঁহারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

Arabic, with marks

وَلَا يَنفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدتُّ أَنْ أَنصَحَ لَكُمْ إِن كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغْوِيَكُمْ ۚ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই যদি তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান তবে আমি নসিহত করতে চাইলেও আমার নসিহত তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। তিনিই তোমাদের প্রভু। তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

সমকালীন বাংলা

তাহারা কি বলে যে, সে ইহা রচনা করিয়াছে? বল, ‘আমি যদি ইহা রচনা করিয়া থাকি, তবে আমিই আমার অপরাধের জন্য দায়ী হইব। তোমরা যে অপরাধ করিতেছ তাহা হইতে আমি দায়মুক্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে? আপনি কোরআন রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

Arabic, with marks

أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ إِنِ افْتَرَيْتُهُ فَعَلَيَّ إِجْرَامِي وَأَنَا بَرِيءٌ مِّمَّا تُجْرِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটি রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘এটি (এ কুরআন) যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে আমার অপরাধের জন্যে আমিই দায়ী হবো। আর তোমরা যে অপরাধ করছো তার দায় দায়িত্ব থেকে আমি মুক্ত।’

সমকালীন বাংলা

নূহের প্রতি প্রত্যাদেশ হইয়াছিল, ‘যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহারা ব্যতীত তোমার সম্প্রদায়ের অন্য কেহ কখনও ঈমান আনিবে না। সুতরাং তাহারা যাহা করে তজ্জন্য তুমি দুঃখিত হইও না।

মুহিউদ্দীন খান

আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না।

Arabic, with marks

وَأُوحِيَ إِلَىٰ نُوحٍ أَنَّهُ لَن يُؤْمِنَ مِن قَوْمِكَ إِلَّا مَن قَدْ آمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহকে অহির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, তোমার কওমের যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউই ঈমান আনবে না। সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের কারণে তুমি আর নিরাশ হয়োনা।

সমকালীন বাংলা

‘তুমি আমার তত্বাবধানে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ কর এবং যাহারা সীমালংঘন করিয়াছে তাহাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলিও না ; তাহারা তো নিমজ্জিত হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে।

Arabic, with marks

وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের তত্ত্বাবধান ও অহির ভিত্তিতে তুমি একটি নৌযান তৈরি করো এবং যারা যুলুম করেছে তাদের বিষয়ে তুমি আমার কাছে কোনো প্রকার সুপারিশ করোনা, তারা পানিতে নিমজ্জিত হবেই।

সমকালীন বাংলা

সে নৌকা নির্মাণ করিতে লাগিল এবং যখনই তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা তাহার নিকট দিয়া যাইত, তাহাকে উপহাস করিত ; সে বলিত, ‘তোমরা যদি আমাকে উপহাস কর তবে আমরাও তোমাদেরকে উপহাস করিব, যেমন তোমরা উপহাস করিতেছ;

মুহিউদ্দীন খান

তিনি নৌকা তৈরী করতে লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন, তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস করছি।

Arabic, with marks

وَيَصْنَعُ الْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌ مِّن قَوْمِهِ سَخِرُوا مِنْهُ ۚ قَالَ إِن تَسْخَرُوا مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে নৌযান তৈরি করছিল, তখন তার কওমের প্রধানরা তার ওখান দিয়ে যাওয়া আসার সময় এ নিয়ে তাকে উপহাস করতো। সে বলেছিল: তোমরা যদি আমাদের নিয়ে উপহাস করো, আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করবো যেভাবে তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস করছো।

সমকালীন বাংলা

‘এবং তোমরা অচিরে জানিতে পারিবে - কাহার উপর আসিবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিআর তাহার উপর আপতিত হইবে স্থায়ী শাস্তি।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে - লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর অবতরণ করে।

Arabic, with marks

فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُّقِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কাদের উপর এসে পড়বে অপমানকর আযাব এবং কাদের উপর হালাল হয়ে যাবে স্থায়ী আযাব।

সমকালীন বাংলা

অবশেষে যখন আমার আদেশ আসিল এবং উনুন উথলিয়া উঠিল; আমি বলিলাম, ‘ইহাতে উঠাইয়া নাও প্রত্যেক শ্রেণীর যুগলের দুইটি, যাহাদের বিরুদ্ধে পূর্ব - সিদ্ধান্ত হইয়াছে তাহারা ব্যতীত তোমার পরিবার - পরিজনকে এবং যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদেরকে।’ তাহার সঙ্গে ঈমান আনিয়াছিল অল্প কয়েকজন।

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বাহ্নে হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।

Arabic, with marks

حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِن كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ آمَنَ ۚ وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে এসে পড়ে আমাদের নির্দেশ এবং চুলা থেকে উথলে উঠতে থাকে পানির স্রোত। আমরা বললাম, তাতে উঠিয়ে নাও সব শ্রেণীর যুগলের দুইটি করে আর তোমার পরিবার পরিজনকে আর যারা ঈমান এনেছে, তবে তাদেরকে নয় যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আর তার (নূহের) সাথে ঈমান এনেছিল মাত্র কয়েকজনই।

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘ইহাতে আরোহণ কর, আল্লাহর নামে ইহার গতি ও স্থিতি, আমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

মুহিউদ্দীন খান

আর তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান।

Arabic, with marks

۞ وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا ۚ إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘তোমরা এতে আরোহণ করো। আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি) এর চলতি এবং এর স্থিতি। আমার প্রভু অবশ্যি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।’

সমকালীন বাংলা

পর্বত - প্রমাণ তরঙ্গের মধ্যে ইহা তাহাদেরকে লইয়া বহিয়া চলিল ; নূহ্ তাহার পুত্রকে - যে পৃথক ছিল, আহ্বান করিয়া বলিল, ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সঙ্গে আরোহণ কর এবং কাফিরদের সঙ্গী হইও না।’

মুহিউদ্দীন খান

আর নৌকাখানি তাদের বহন করে চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে, আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন, প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফেরদের সাথে থেকো না।

Arabic, with marks

وَهِيَ تَجْرِي بِهِمْ فِي مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادَىٰ نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ يَا بُنَيَّ ارْكَب مَّعَنَا وَلَا تَكُن مَّعَ الْكَافِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

নৌযানটি তাদের নিয়ে চলছিল তরঙ্গের মধ্যে পর্বতের মতো। আর নূহ তার ছেলেকে ডেকে বলেছিল, যে (নৌযানে আরোহন না করে) পৃথক ছিলো: ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সাথে আরোহণ করো, কাফিরদের সাথি হয়ে থেকে যেয়োনা।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় লইব যাহা আমাকে হইতে রক্ষা করিবে।’ সে বলিল, ‘আজ হুকুম হইতে রক্ষা করিবার কেহ নাই, তবে যাহাকে দয়া করিবেন সে ব্যতীত।’ ইহার পর তরঙ্গ উহাদেরকে বিচ্ছিন্ন করিয়া দিল এবং সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হইল।

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল।

Arabic, with marks

قَالَ سَآوِي إِلَىٰ جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ ۚ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَن رَّحِمَ ۚ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু সে বলেছিল: ‘আমি (উঁচু) পর্বতে আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমাকে পানি (প্লাবন) থেকে রক্ষা করবে।’ সে (নূহ) বললো: ‘আজ আল্লাহর ফায়সালা থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, তবে তিনি যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। (বলতে বলতে) তরঙ্গ তাদের মাঝখানে ঢুকে গেলো এবং সে ডুবে যাওয়াদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো।

সমকালীন বাংলা

ইহার পর বলা হইল, ‘হে পৃথিবী! তুমি তোমার পানি গ্রাস করিয়া নাও এবং হে আকাশ! ক্ষান্ত হও।’ ইহার পর বন্যা প্রশমিত হইল এবং কার্য সমাপ্ত হইল, নৌকা জুদী পর্বতের উপর স্থির হইল এবং বলা হইল, সম্প্রদায় ধ্বংস হউক।

মুহিউদ্দীন খান

আর নির্দেশ দেয়া হল - হে পৃথিবী! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও। আর পানি হ্রাস করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং ঘোষনা করা হল, দুরাত্না কাফেররা নিপাত যাক।

Arabic, with marks

وَقِيلَ يَا أَرْضُ ابْلَعِي مَاءَكِ وَيَا سَمَاءُ أَقْلِعِي وَغِيضَ الْمَاءُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُودِيِّ ۖ وَقِيلَ بُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে বলা হলো: ‘হে পৃথিবী, তুমি তোমার পানি গ্রাস করে নাও! হে আকাশ, তুমি বর্ষণ বন্ধ করো।’ অত:পর প্লাবন শেষ হলো এবং ফায়সালা পূর্ণ হলো এবং নৌযানটি জুদি পাহাড়ের উপর এসে স্থির হলো। আর বলা হলো: ‘নিপাত গেলো যালিম সম্প্রদায়।’

সমকালীন বাংলা

নূহ্ তাহার প্রতিপালককে সম্বোধন করিয়া বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত এবং আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য; আর আপনি তো বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক।’

মুহিউদ্দীন খান

আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন - হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী।

Arabic, with marks

وَنَادَىٰ نُوحٌ رَّبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহ তার প্রভুকে ডেকে বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমার ছেলে তো আমার পরিবারেরই একজন আর তোমার ওয়াদা তো সত্য এবং তুমিই তো সব বিচারকের বড় ন্যায় বিচারক।’

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘হে নূহ্! সে তো তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে অবশ্যই অসৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই সে বিষয়ে আমাকে অনুরোধ করিও না। আমি তোমাকে উপদেশ দিতেছি, তুমি যেন অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হও।’

মুহিউদ্দীন খান

বলেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি জানেন না। আমি আপনাকে উপপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না।

Arabic, with marks

قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ ۖ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ ۖ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۖ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলেছিলেন: ‘হে নূহ! সে তোমার পরিবারের সদস্য নয়। সে তো এক অসৎকর্ম। ফলে এমন বিষয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করোনা, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি যেনো জাহিলদের মতো কথা না বলো।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নাই, সে বিষয়ে যাহাতে আপনাকে অনুরোধ না করি, এইজন্য আমি আপনার শরণ লইতেছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমাকে দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

মুহিউদ্দীন খান

নূহ (আঃ) বলেন - হে আমার পালনকর্তা আমার যা নেই এমন কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব।

Arabic, with marks

قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বললো: ‘আমার প্রভু! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে যেনো তোমার কাছে প্রার্থনা না করি সে জন্যে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না করো এবং আমার প্রতি রহম না করো, তবে তো আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বো।’

সমকালীন বাংলা

বলা হইল, ‘হে নূহ্ ! অবতরণ কর আমার পক্ষ হইতে শান্তিও কল্যাণসহ এবং তোমার প্রতি ও যে সমস্ত সম্প্রদায় তোমার সঙ্গে আছে তাহাদের প্রতি ; অপর সম্প্রদায়সমূহকে আমি জীবন উপভোগ করিতে দিব, পরে আমা হইতে মর্মন্তুদ শাস্তি উহাদেরকে স্পর্শ করিবে;

মুহিউদ্দীন খান

হুকুম হল - হে নূহ (আঃ)! আমার পক্ষ হতে নিরাপত্তা এবং আপনার নিজের ও সঙ্গীয় সম্প্রদায়গুলির উপর বরকত সহকারে অবতরণ করুণ। আর অন্যান্য যেসব সম্প্রদায় রয়েছে আমি তাদের কেও উপকৃত হতে দেব। অতঃপর তাদের উপর আমার দরুন আযাব আপতিত হবে।

Arabic, with marks

قِيلَ يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ مِّنَّا وَبَرَكَاتٍ عَلَيْكَ وَعَلَىٰ أُمَمٍ مِّمَّن مَّعَكَ ۚ وَأُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمْ ثُمَّ يَمَسُّهُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

বলা হয়েছিল: ‘হে নূহ! (নৌযান থেকে) নেমে পড়ো। আমাদের পক্ষ থেকে সালাম ও বরকত তোমার প্রতি এবং যেসব প্রজাতি তোমার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি। আর অন্যান্য জাতিসমূহকে আমরা কিছুকাল জীবন উপভোগ করতে দেবো, তারপর আমাদের পক্ষ থেকে বেদনাদায়ক আযাব তাদেরকেও স্পর্শ করবে।’

সমকালীন বাংলা

‘এই সমস্তঅদৃশ্যলোকের সংবাদ আমি তোমাকে ওহী দ্বারা অবহিত করিতেছি, যাহা ইহার পূর্বে তুমি জানিতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও জানিত না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ কর, শুভ পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্য।’

মুহিউদ্দীন খান

এটি গায়বের খবর, আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরন করছি। ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির ছিল না। আপনি ধৈর্য্যধারণ করুন। যারা ভয় করে চলে, তাদের পরিণাম ভাল, সন্দেহ নেই।

Arabic, with marks

تِلْكَ مِنْ أَنبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ ۖ مَا كُنتَ تَعْلَمُهَا أَنتَ وَلَا قَوْمُكَ مِن قَبْلِ هَٰذَا ۖ فَاصْبِرْ ۖ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো গায়েবের সংবাদ তোমার প্রতি আমরা অহি করছি। তুমি কিংবা তোমার কওম ইতোপূর্বে এ বিষয়গুলো জানতে না। অতএব সবর অবলম্বন করো, পরিণামে সাফল্য মুত্তাকিদেরই জন্যে।

সমকালীন বাংলা

আদ জাতির নিকট উহাদের ভ্রাতা হূদকে পাঠাইয়াছিলাম, সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ‘ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তোমরা তো কেবল মিথ্যা রচনাকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন - হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছ।

Arabic, with marks

وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা আদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই হুদকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবে তোমরা তো কেবল মিথ্যা রচনাকারী।

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায় ! আমি ইহার পরিবর্তে তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক যাচ্ঞা করি না। আমার পারিশ্রমিক আছে তাঁহারই নিকট, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন। তোমরা কি তবুও অনুধাবন করিবে না?

মুহিউদ্দীন খান

হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না?

Arabic, with marks

يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তাঁর, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবু কি তোমরা বুঝার চেষ্টা করবেনা?

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁহার দিকেই ফিরিয়া আস। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বারি বর্ষণ করিবেন। তিনি তোমাদেরকে আরও শক্তি দিয়া তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করিবেন এবং তোমরা অপরাধী হইয়া মুখ ফিরাইয়া লইও না।’

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার কওম! তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমাদের প্রভুর কাছে, অত:পর ফিরে আসো তাঁর দিকে। তিনি তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে প্রচুর পানি বর্ষণ করবেন এবং বর্তমান শক্তির সাথে আরো শক্তি বাড়িয়ে দেবেন। তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়োনা।’’

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘হে হূদ! তুমি আমাদের নিকট কোন স্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর নাই, তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করিবার নহি এবং আমরা তোমাতে নহি।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব - দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই।

Arabic, with marks

قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘‘হে হুদ! তুমি তো আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসোনি। আমরা তো তোমার কথায় আমাদের ইলাহদের (দেব দেবীদের) পরিত্যাগ করতে পারিনা। তাছাড়া আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই।

সমকালীন বাংলা

‘আমরা তো ইহাই বলি, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেহ তোমাকে অশুভ দ্বারা আবিষ্ট করিয়াছে।’ সে বলিল, ‘আমি তো সাক্ষী করিতেছি এবং তোমরাও সাক্ষী হও, নিশ্বই আমি তাহা হইতে মুক্ত যাহা তোমরা আল্লাহর সাথে শরিক কর।

মুহিউদ্দীন খান

বরং আমরাও তো বলি যে, আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হুদ বললেন - আমি আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমাও সাক্ষী থাক যে, আমার কোন সম্পর্ক নাই তাঁদের সাথে যাদের কে তোমরা শরিক করছ;

Arabic, with marks

إِن نَّقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ ۗ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বলছি, তোমাদের উপর আমাদের দেব - দেবীদের অভিশাপ পড়েছে।’’ সে বলেছিল: ‘‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী বানাচ্ছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।

সমকালীন বাংলা

ব্যতীত। তোমরা সকলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকর; অতঃপর আমাকে অবকাশ দিও না।

মুহিউদ্দীন খান

তাকে ছাড়া, তোমরা সবাই মিলে আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও, অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও না।

Arabic, with marks

مِن دُونِهِ ۖ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ

আবদুস শহীদ নাসিম

ছাড়া তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো, তারপর আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।

সমকালীন বাংলা

‘আমি নির্ভর করি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক উপর; এমন কোন জীবজন্তু নাই, যে তাঁহার পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আছেন সরল পথে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।

Arabic, with marks

إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তাওয়াক্কুল করেছি আল্লাহর উপর যিনি আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। এমন কোনো জীব নেই, যে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। নিশ্চয়ই আমার প্রভু সঠিক সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।

সমকালীন বাংলা

‘অতঃপর তোমরা মুখ ফিরাইয়া লইলেও আমি যাহাসহ তোমাদের নিকট প্রেরিত হইয়াছি, আমি তো তাহা তোমাদের নিকট পৌঁছাইয়া দিয়াছি; এবং আমার প্রতিপালক তোমাদের হইতে ভিন্ন কোন সম্প্রদায়কে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করিবেন এবং তোমরা তাঁহার কোন ক্ষতি সাধন করিতে পারিবে না। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সমস্ত কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।’

মুহিউদ্দীন খান

তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।

Arabic, with marks

فَإِن تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ ۚ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, আমি তোমাদের কাছে যে বার্তা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমার প্রভু তোমাদের পরিবর্তে ভিন্ন কোনো কওমকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রভু সব কিছুর রক্ষক।’’

সমকালীন বাংলা

এবং যখন আমার নির্দেশ আসিল তখন আমি হূদ ও তাহার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করিলাম এবং রক্ষা করিলাম তাহাদেরকে কঠিন শাস্তি হইতে।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমার আদেশ যখন উপস্থিত হল, তখন আমি নিজ রহমতে হুদ এবং তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে পরিত্রাণ করি এবং তাদেরকে এক কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করি।

Arabic, with marks

وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَنَجَّيْنَاهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছে, আমরা হুদকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমাদের দয়ায় নাজাত দিয়েছিলাম এবং তাদের রক্ষা করেছিলাম কঠিন আযাব থেকে।

সমকালীন বাংলা

এই ‘আদ জাতি তাহাদের প্রতিপালকের নিদর্শন অস্বীকার করিয়াছিল এবং অমান্য করিয়াছিল তাঁহার রাসূলগণকে এবং উহারা প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারীর নির্দেশ অনুসরণ করিয়াছিল।

মুহিউদ্দীন খান

এ ছিল আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতকে অমান্য করেছে, আর তদীয় রসূলগণের অবাধ্যতা করেছে এবং প্রত্যেক উদ্ধত বিরোধীদের আদেশ পালন করেছে।

Arabic, with marks

وَتِلْكَ عَادٌ ۖ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلَهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছিলো আদ জাতি, তারা তাদের প্রভুর আয়াত অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর রসূলদের অমান্য করেছিল এবং প্রত্যেক অহংকারী স্বৈরাচারীর অনুসরণ করেছিল।

সমকালীন বাংলা

এই দুনিয়ায় উহাদেরকে করা হইয়াছিল লা‘নতগ্রস্ত এবং লা‘নতগ্রস্ত হইবে উহারা কিয়ামতের দিনেও। জানিয়া রাখ! ‘আদ সম্প্রদায় তো তাহাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করিয়াছিল। জানিয়া রাখ! ধ্বংসই হইল পরিণাম ‘আদের, যাহারা হূদের সম্প্রদায়।

মুহিউদ্দীন খান

এ দুনিয়ায় তাদের পিছনে পিছনে লা’নত রয়েছে এবং কেয়ামতের দিনেও; জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে, হুদের জ্ঞাতি আদ জাতির প্রতি অভিসম্পাত রয়েছে জেনে রাখ।

Arabic, with marks

وَأُتْبِعُوا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ أَلَا إِنَّ عَادًا كَفَرُوا رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًا لِّعَادٍ قَوْمِ هُودٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়ার জীবনে তাদের অভিশাপগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং কিয়ামতের দিনও হবে তারা অভিশাপগ্রস্ত। সাবধান, আদ জাতি তাদের প্রভুকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান, নিপাত গিয়েছিল আদ জাতি, যারা ছিলো হুদের কওম।

সমকালীন বাংলা

আমি সামূদ জাতির নিকট তাহাদের ভ্রাতা সালিহ্কে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! ‘তোমরা ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তিনি তোমাদেরকে মৃত্তিকা হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং উহাতেই তিনি তোমাদেরকে বসবাস করাইয়াছেন। সুতরাং তোমরা তাঁহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর আর তাঁহার দিকেই প্রত্যাবর্তন কর। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক নিকটে, তিনি আহ্বানে সাড়া দেন।’

মুহিউদ্দীন খান

আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই।

Arabic, with marks

۞ وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই সালেহকে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন জমিন থেকে এবং তাতেই তোমাদের তামির (প্রতিষ্ঠিত) করেছেন। অতএব, তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁরই দিকে ফিরো আসো। অবশ্যি আমার প্রভু অতি কাছে এবং ডাকে সাড়া দানকারী।’

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘হে সালিহ্! ইহার পূর্বে তুমি ছিলে আমাদের আশাস্থল। তুমি কি আমাদেরকে নিষেধ করিতেছ ‘ইবাদত করিতে তাহাদের, যাহাদের ‘ইবাদত করিত আমাদের পিতৃপুরুষেরা? আমরা অবশ্যই বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রহিয়াছি সে বিষয়ে, যাহার প্রতি তুমি আমাদেরকে আহ্বান করিতেছ।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে সালেহ, ইতিপূর্বে তোমার কাছে আমাদের বড় আশা ছিল। আমাদের বাপ - দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর? কিন্তু যার প্রতি তুমি আমাদের আহবান জানাচ্ছ আমাদের তাতে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, মন মোটেই সায় দিচ্ছে না।

Arabic, with marks

قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَٰذَا ۖ أَتَنْهَانَا أَن نَّعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘হে সালেহ্! ইতোপূর্বে তুমি ছিলে আমাদের আশা - ভরসার স্থল। আর এখন কি তুমি আমাদের পূর্বপুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তাদের ইবাদত করতে আমাদের নিষেধ করছো? তুমি আমাদের যেদিকে ডাকছো সে বিষয়ে অবশ্যি আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি।

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ, আমি যদি আমার প্রতিপালক - প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁহার নিজ অনুগ্রহ দান করিয়া থাকেন, তবে শাস্তি হইতে আমাকে কে রক্ষা করিবে, আমি যদি তাঁহার অবাধ্যতা করি? সুতরাং তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বাড়াইয়া দিতেছ।

মুহিউদ্দীন খান

সালেহ বললেন - হে আমার জাতি! তোমরা কি মনে কর, আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে বুদ্ধি বিবেচনা লাভ করে থাকি আর তিনি যদি আমাকে নিজের তরফ হতে রহমত দান করে থাকেন, অতঃপর আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই তবে তার থেকে কে আমায় রক্ষা করবে? তোমরা তো আমার ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করতে পরবে না

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي مِنْهُ رَحْمَةً فَمَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِنْ عَصَيْتُهُ ۖ فَمَا تَزِيدُونَنِي غَيْرَ تَخْسِيرٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের মতামত কী, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন আমাকে কে রক্ষা করবে যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? তোমরা আমার ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বাড়াতে পারবে না।

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায় ! ইহা আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। ইহাকে জমিতে চরিয়া খাইতে দাও। ইহাকে কোন কষ্ট দিও না, কষ্ট দিলে আশু শাস্তিতোমাদের উপর আপতিত হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আল্লাহর এ উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য নিদর্শন, অতএব তাকে আল্লাহর যমীনে বিচরণ করে খেতে দাও, এবং তাকে মন্দভাবে স্পর্শও করবে না। নতুবা অতি সত্বর তোমাদেরকে আযাব পাকড়াও করবে।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ هَٰذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ قَرِيبٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! এটি আল্লাহর উটনী তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন। তোমরা এটিকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও। তোমরা এটিকে মন্দ (উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করোনা, করলে তোমাদের উপর আপতিত হবে আশু আযাব।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু উহারা উহাকে বধ করিল। অতঃপর সে বলিল, ‘তোমরা তোমাদের গৃহে তিন দিন জীবন উপভোগ করিয়া নাও। ইহা একটি প্রতিশ্রুতি যাহা মিথ্যা হইবার নয়।’

মুহিউদ্দীন খান

তবু তারা উহার পা কেটে দিল। তখন সালেহ বললেন - তোমরা নিজেদের গৃহে তিনটি দিন উপভোগ করে নাও। ইহা এমন ওয়াদা যা মিথ্যা হবে না।

Arabic, with marks

فَعَقَرُوهَا فَقَالَ تَمَتَّعُوا فِي دَارِكُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ۖ ذَٰلِكَ وَعْدٌ غَيْرُ مَكْذُوبٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করে। তখন সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা তোমাদের ঘরে মাত্র তিনদিন উপভোগ করো। এটি একটি অনিবার্য সত্য ওয়াদা।’

সমকালীন বাংলা

যখন আমার নির্দেশ আসিল তখন আমি সালিহ্ ও তাঁহার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করিলাম এবং রক্ষা করিলাম সেই দিনের লাঞ্ছনা হইতে। তোমার প্রতিপালক তো মহাশক্তিমান, পরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমার আযাব যখন উপস্থিত হল, তখন আমি সালেহকে ও তদীয় সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে উদ্ধার করি, এবং সেদিনকার অপমান হতে রক্ষা করি। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা তিনি সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী।

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا صَالِحًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَمِنْ خِزْيِ يَوْمِئِذٍ ۗ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছালো আমরা আমাদের অনুগ্রহে সালেহ্ এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদের রক্ষা করলাম সেদিনের চরম লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাশক্তিধর পরাক্রমশালী।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যাহারা সীমালঙ্ঘন করিয়াছিল মহানাদ তাহাদেরকে আঘাত করিল; ফলে উহারা নিজ নিজ গৃহে নতজানু অবস্থায় শেষ হইয়া গেল;

মুহিউদ্দীন খান

আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে পড়ে রইল।

Arabic, with marks

وَأَخَذَ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা যুলুম করেছিল তাদের পাকড়াও করলো এক বিকট শব্দ। ফলে তারা তাদের ঘরে ঘরে উপুড় হয়ে পড়েছিল।

সমকালীন বাংলা

যেন তাহারা সেখানে কখনও বসবাস করে নাই। জানিয়া রাখ! সামূদ সম্প্রদায় তো তাহাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করিয়াছিল। জানিয়া রাখ! ধ্বংসই হইল সামূদ সম্প্রদায়ের পরিণাম।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি অস্বীকার করেছিল। আরো শুনে রাখ, সামুদ জাতির জন্য অভিশাপ রয়েছে।

Arabic, with marks

كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا فِيهَا ۗ أَلَا إِنَّ ثَمُودَ كَفَرُوا رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًا لِّثَمُودَ

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থা এমন হয়েছিল যেনো তারা কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। সাবধান, সামুদ জাতি তাদের প্রভুকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান, সামুদ জাতি সমূলে নিপাত হয়ে গিয়েছিল।

সমকালীন বাংলা

আমার ফিরিশ্তাগণ তো সুসংবাদ লইয়া ইব্রাহীমের নিকট আসিল। তাহারা বলিল, ‘সালাম’। সেও বলিল, ‘সালাম’। সে অবিলম্বে এক কাবাবকৃত গো - বৎস লইয়া আসিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল তারা বলল সালাম, তিনিও বললেন - সালাম। অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি ভুনা করা নিয়ে এলেন!

Arabic, with marks

وَلَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَىٰ قَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ ۖ فَمَا لَبِثَ أَن جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের দূত (ফেরেশতারা) সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল ইবরাহিমের কাছে। এসে তারা বলেছিল: ‘সালাম!’ সেও বলেছিল: ‘সালাম।’ অত:পর সে দেরি না করে ভুনা করা গো - নিয়ে এলো (তাদের মেহমানদারির জন্যে)।

সমকালীন বাংলা

সে যখন দেখিল তাহাদের হস্তউহার দিকে প্রসারিত হইতেছে না, তখন তাহাদেরকে অবাঞ্ছিত মনে করিল এবং তাহাদের সম্বন্ধে তাহার মনে ভীতি সঞ্চার হইল। তাহারা বলিল, ‘ভয় করিও না, আমরা তো লূতের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি।’

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যখন দেখলেন যে, আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল - ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।

Arabic, with marks

فَلَمَّا رَأَىٰ أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۚ قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمِ لُوطٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন দেখলো, তারা সে (খাবারের) দিকে হাত বাড়াচ্ছে না, তখন সে তাদের আগমনকে অশুভ মনে করলো এবং তাদের ব্যাপারে তার মনে ভয় ঢুকলো। তারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেননা, আমরা তো লুতের কওমের কাছে প্রেরিত হয়েছি।’

সমকালীন বাংলা

আর তাহার স্ত্রী দণ্ডায়মান এবং সে হাসিয়া ফেলিল। অতঃপর আমি তাহাকে ইস্হাকের ও ইস্হাকের পরবর্তী ইয়া‘কূবের সুসংবাদ দিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও।

Arabic, with marks

وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِن وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তার স্ত্রী দাঁড়ানো ছিলো, সে (তার স্ত্রী) হেসে ফেললো। তখন আমরা তাকে সুসংবাদ দিলাম (পুত্র) ইসহাকের এবং ইসহাকের পরে (নাতি) ইয়াকুবের।

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘কী আশ্চর্য! সন্তানের জননী হইব আমি, যখন আমি বৃদ্ধা এবং এই আমার স্বামী বৃদ্ধ! ইহা অবশ্যই এক অদ্ভুত ব্যাপার!’

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল - কি দুর্ভাগ্য আমার! আমি সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো ভারী আশ্চর্য কথা।

Arabic, with marks

قَالَتْ يَا وَيْلَتَىٰ أَأَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهَٰذَا بَعْلِي شَيْخًا ۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيْءٌ عَجِيبٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইবরাহিমের স্ত্রী সারাহ্) বললো: ‘হায় হায়, আমি সন্তানের মা হবো, অথচ আমি একজন বৃদ্ধা এবং আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এ - তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার!’

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, আল্লাহর কাজে তুমি বিস্ময় বোধ করিতেছ? হে পরিবারবর্গ! তোমাদের প্রতি রহিয়াছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যান তিনি তো প্রশংসা ও সম্মননাহ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছ? হে গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় প্রশংসিত মহিমাময়।

Arabic, with marks

قَالُوا أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۖ رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ ۚ إِنَّهُ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আপনি কি আল্লাহর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিস্ময়বোধ করছেন? হে আহলে বাইত (হে ঘরবাসী)! এটা তো আপনাদের প্রতি আল্লাহর রহমত এবং বরকত। নিশ্চয়ই তিনি সপ্রশংসিত ও সম্মানিত।’

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন ইব্রাহীমের ভীতি দূরীভূত হইল এবং তাহার নিকট সুসংবাদ আসিল তখন সে লূতের সম্প্রদায়ের সম্বন্ধে আমার সঙ্গে বাদানুবাদ করিতে লাগিল।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন ইব্রাহীম (আঃ) এর আতঙ্ক দূর হল এবং তিনি সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি আমার সাথে তর্ক শুরু করলেন কওমে লূত সম্পর্কে।

Arabic, with marks

فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الرَّوْعُ وَجَاءَتْهُ الْبُشْرَىٰ يُجَادِلُنَا فِي قَوْمِ لُوطٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিমের থেকে যখন আতংক দূর হয়ে গেলো এবং সে সুসংবাদ লাভ করলো, তখন সে লুতের কওমের ব্যাপারে বিতর্ক করতে থাকলো।

সমকালীন বাংলা

ইব্রাহিম তো অবশ্যই সহনশীল কোমল হৃদয় সতত অভিমূখি।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম (আঃ) বড়ই ধৈর্য্যশীল, কোমল অন্তর, আল্লাহমুখী সন্দেহ নেই।

Arabic, with marks

إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَحَلِيمٌ أَوَّاهٌ مُّنِيبٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলো এক সহনশীল, কোমল হৃদয় এবং আল্লাহমুখী মানুষ।

সমকালীন বাংলা

হে ইব্রাহীম! ইহা হইতে বিরত হও; তোমার প্রতিপালকের বিধান আসিয়া পড়িয়াছে; উহাদের প্রতি তো আসিবে শাস্তি, যাহা অনিবার্য।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম, এহেন ধারণা পরিহার কর; তোমার পালনকর্তার হুকুম এসে গেছে, এবং তাদের উপর সে আযাব অবশ্যই আপতিত হবে, যা কখনো প্রতিহত হবার নয়।

Arabic, with marks

يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَٰذَا ۖ إِنَّهُ قَدْ جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ ۖ وَإِنَّهُمْ آتِيهِمْ عَذَابٌ غَيْرُ مَرْدُودٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ইবরাহিম! এ (বিতর্ক) থেকে বিরত হও, (তাদের প্রতি তো) তোমার প্রভুর নির্দেশ এসে গেছে। তাদের উপর এক অপ্রতিরোধ্য আযাব এসে যাচ্ছে।

সমকালীন বাংলা

এবং যখন আমার প্রেরিত ফিরিশ্তাগণ লূতের নিকট আসিল তখন তাহাদের আগমনে সে বিষন্ন হইল এবং নিজেকে তাহাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করিল এবং বলিল, ‘ইহা নিদারুণ দিন!’

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূত (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হল। তখন তাঁদের আগমনে তিনি দুচিন্তাগ্রস্ত হলেন এবং তিনি বলতে লাগলেন, আজ অত্যন্ত কঠিন দিন।

Arabic, with marks

وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَٰذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর আমাদের দূত (ফেরেশতারা) যখন লুতের কাছে এলো, তাদের আগমনে সে বিষন্ন হয়ে পড়লো এবং তাদের (তার জাতিকে) রক্ষায় নিজেকে অক্ষম মনে করলো, আর বললো: ‘এ তো এক শোকাবহ দিন।’

সমকালীন বাংলা

তাহার সম্প্রদায় তাহার নিকট উদ্ভ্রান্ত হইয়া ছুটিয়া আসিল এবং পূর্ব হইতে তাহারা কুকর্মে লিপ্ত ছিল। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! ইহারা আমার কন্যা, তোমাদের জন্য ইহারা পবিত্র। সুতরাং ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে হেয় করিও না। তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নাই?’

মুহিউদ্দীন খান

আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু - কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আঃ) বললেন - হে আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।

Arabic, with marks

وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِن قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ ۚ قَالَ يَا قَوْمِ هَٰؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِي ۖ أَلَيْسَ مِنكُمْ رَجُلٌ رَّشِيدٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওম তার দিকে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে এলো এবং আগে থেকে তারা কুকাজে অভ্যস্ত ছিলো। সে বললো: ‘হে আমার কওম! এই যে আমার (কওমের) কন্যারা রয়েছে, তোমাদের জন্যে এরাই পবিত্র (তোমরা তাদের বিয়ে করে নাও)। আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে অপমানিত করোনা। তোমাদের মধ্যে কি একজন ভালো মানুষও নেই?’

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘তুমি তো জান, তোমার কন্যাদেরকে আমাদের কোন প্রয়োজন নাই; আমরা কি চাই তাহা তো তুমি জানই।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল ু তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান।

Arabic, with marks

قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقٍّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তুমি তো জানো, তোমার কন্যাদের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা কী চাই তুমি তো তা ভালো করেই জানো।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকিত অথবা যদি আমি আশ্রয় লইতে পারিতাম কোন সৃদৃঢ় স্তম্ভের!’

মুহিউদ্দীন খান

লূত (আঃ) বললেন - হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।

Arabic, with marks

قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَىٰ رُكْنٍ شَدِيدٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকতো অথবা আমি যদি আশ্রয় পেতাম কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের!’

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘হে লূত! নিশ্চয়ই আমরা তোমার প্রতিপালক - প্রেরিত ফিরিশতা। উহারা কখনই তোমার নিকট পৌঁছিতে পারিবে না। সুতরাং তুমি রাত্রির কোন এক সময়ে তোমার পরিবারবর্গসহ বাহির হইয়া পড় এবং তোমাদের মধ্যে কেহ পিছন দিকে তাকাইবে না, তোমার স্ত্রী ব্যতীত। উহাদের যাহা ঘটিবে তাহারও তাহাই ঘটিবে। নিশ্চয়ই প্রভাত উহাদের জন্য নির্ধারিত কাল। প্রভাত কি নিকটবর্তী নয়?

মুহিউদ্দীন খান

মেহমান ফেরেশতাগন বলল - হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়?

Arabic, with marks

قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَن يَصِلُوا إِلَيْكَ ۖ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ ۖ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ ۚ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ ۚ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: হে লুত! আমরা তো আপনার প্রভুর দূত। ওরা কখনো তোমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। আপনি রাতের কোনো এক সময় আপনার পরিবার পরিজন নিয়ে বের হয়ে পড়ুন এবং আপনাদের কেউই যেনো পেছনে না তাকায়। তবে আপনার স্ত্রীকে সাথে নেবেন না। তাদের যা ঘটবে তারও তাই ঘটবে। প্রভাতই তাদের নির্ধারিত সময়। প্রভাত কি ঘনিয়ে আসেনি?

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন আমার আদেশ অসিল তখন আমি জনপদকে উল্টাইয়া দিলাম এবং উহাদের উপর ক্রমাগত বর্ষণ করিলাম প্রস্তর - কঙ্কর,

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّن سِجِّيلٍ مَّنضُودٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌছে, তখন আমরা সেই জনপদকে উল্টে দিয়েছি এবং তার উপর অনবরত বর্ষণ করেছি পাথর কঙ্কর।

সমকালীন বাংলা

যাহা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিল। ইহা জালিমদের হইতে দূরে নয়।

মুহিউদ্দীন খান

যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেই পাপিষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।

Arabic, with marks

مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ ۖ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সেগুলো ছিলো (তাদের) নাম লেখা কঙ্কর। সেই জনপদ (তোমার প্রতিপক্ষ) এই যালিমদের থেকে দূরে নয়।

সমকালীন বাংলা

মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাহাদের ভ্রাতা শু‘আয়বকে আমি পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই, মাপে ও ওজনে কম করিও না; আমি তোমাদেরকে সমৃদ্ধিশালী দেখিতেছি, কিন্তু আমি তোমাদের জন্য আশঙ্কা করিতেছি এক সর্বগ্রাসী দিবসের শাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব (আঃ) কে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন - হে আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না, আজ আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থায়ই দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এমন একদিনের আযাবের আশঙ্কা করছি যেদিনটি পরিবেষ্টনকারী।

Arabic, with marks

۞ وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ وَلَا تَنقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ ۚ إِنِّي أَرَاكُم بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُّحِيطٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা মাদায়ানে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই শুয়াইবকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমরা মাপে এবং ওজনে কম করোনা। আমি তো তোমাদের স্বচ্ছল দেখছি। আমি তোমাদের উপর আশংকা করছি এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের।

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে মাপিও ও ওজন করিও, লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়াইও না।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে কোনরূপ ক্ষতি করো না, আর পৃথিবীতে ফাসাদ করে বেড়াবে না।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! ইনসাফের সাথে পূর্ণ করে দাও মাপ এবং ওজন। মানুষকে তাদের প্রাপ্য সামগ্রী কম দিও না এবং দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়োনা।

সমকালীন বাংলা

‘যদি তোমরা হও তবে যাহা বাকি থাকিবে তোমাদের জন্য তাহা উত্তম; আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।’

মুহিউদ্দীন খান

প্রদত্ত উদ্ধৃত্ত তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা হও, আর আমি তো তোমাদের উপর সদা পর্যবেক্ষণকারী নই।

Arabic, with marks

بَقِيَّتُ اللَّهِ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ۚ وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর অনুমোদিত বাকিটাই (লাভটাই) তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তুমি হও। আমি তোমাদের উপর পাহারাদার নই।’’

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘হে শু‘আয়ব! তোমার কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা যাহার ‘ইবাদত করিত আমাদেরকে তাহা বর্জন করিতে হইবে অথবা আমরা আমাদের ধন - সম্পদ সম্পর্কে যাহা করি তাহাও? তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু, ভাল মানুষ!’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ - দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন - সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক।

Arabic, with marks

قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ ۖ إِنَّكَ لَأَنتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তোমার কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্ব পুরুষরা যে সবের ইবাদত করতো আমরা যেনো সেগুলোকে ত্যাগ করি? কিংবা আমাদের ধন - সম্পদ নিয়ে আমরা যা ইচ্ছে তাই করি? শুধু তুমি রয়ে গেলে একজন উঁচু মনের ধৈর্যশীল সৎ মানুষ।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, আমি যদি আমার প্রতিপালক - প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকি এবং তিনি যদি তাঁহার নিকট হইতে আমাকে উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করিয়া থাকেন তবে কী করিয়া আমি আমার কর্তব্য হইতে বিরত থাকিব ! আমি তোমাদেরকে যাহা নিষেধ করি আমি নিজে তাহা করিতে ইচ্ছা করি না। আমি তো আমার সাধ্যমত সংস্কারই করিতে চাই। আমার কার্যসাধন তো সাহায্যে ; আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁহারই অভিমুখী।

মুহিউদ্দীন খান

শোয়ায়েব (আঃ) বললেন - হে দেশবাসী, তোমরা কি মনে কর! আমি যদি আমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট দলীলের উপর কায়েম থাকি আর তিনি যদি নিজের তরফ হতে আমাকে উত্তম রিযিক দান করে থাকেন, (তবে কি আমি তাঁর হুকুম অমান্য করতে পারি?) আর আমি চাই না যে তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে নিজেই সে কাজে লিপ্ত হব, আমি তো যথাসাধ্য শোধরাতে চাই। আল্লাহর মদদ দ্বারাই কিন্তু কাজ হয়ে থাকে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই প্রতি ফিরে যাই।

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا ۚ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَىٰ مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ ۚ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ ۚ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা কি ভেবে দেখেছো, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম জীবিকা দান করেন (তবে আমি কী করে তাঁর অবাধ্য হই?)। আমি চাইনা, তোমাদেরকে আমি যা নিষেধ করছি, আমি নিজেই তার বিপরীত আচরণ করি। আমি তো আমার সাধ্যমতো সংশোধন করতে চাই। আমি তো ততোটাই করি যতোটা আমাকে তৌফিক দেন। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায় ! আমার সঙ্গে বিরোধ যেন কিছুতেই তোমাদেরকে এমন অপরাধ না করায় যাহাতে তোমাদের উপর তাহার অনুরূপ বিপদ আপতিত হইবে যাহা আপতিত হইয়াছিল নূহের সম্প্রদায়ের উপর অথবা হূদের সম্প্রদায়ের উপর কিংবা সালিহের সম্প্রদায়ের উপর; আর লূতের সম্প্রদায় তো তোমাদের হইতে দূরে নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমার সাথে জিদ করে তোমরা নূহ বা হুদ অথবা সালেহ (আঃ) এর কওমের মত নিজেদের উপর আযাব ডেকে আনবে না। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে খুব দূরে নয়।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقَاقِي أَن يُصِيبَكُم مِّثْلُ مَا أَصَابَ قَوْمَ نُوحٍ أَوْ قَوْمَ هُودٍ أَوْ قَوْمَ صَالِحٍ ۚ وَمَا قَوْمُ لُوطٍ مِّنكُم بِبَعِيدٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমার বিরুদ্ধাচরণ যেনো তোমাদেরকে এমন অপরাধে লিপ্ত না করে, যার ফলে তোমাদের উপর সে রকম বিপদ এসে পড়ে, যে রকম আপদ আপতিত হয়েছিল নূহের কওম, হুদের কওম, কিংবা সালেহর কওমের উপর। আর লুতের কওমের ঘটনা তো তোমাদের থেকে বেশি দূরের নয়।

সমকালীন বাংলা

‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন কর; আমার প্রতিপালক তো পপরম দয়ালু, প্রেমময়।’

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতিস্নেহময়।

Arabic, with marks

وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো। নিশ্চয়ই আমার প্রভু পরম দয়াবান, বন্ধুসুলভ।’’

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘হে শু‘আয়ব! তুমি যাহা বল তাহার অনেক কথা আমরা বুঝি না এবং আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বলই দেখিতেছি। তোমার স্বজনবর্গ না থাকিলে আমরা তোমাকে প্রস্তর নিক্ষেপ করিয়া মারিয়া ফেলিতাম; আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনি যা বলেছেন তার অনেক কথাই আমরা বুঝি নাই, আমারা তো আপনাকে আমাদের মধ্যে দূর্বল ব্যক্তি রূপে মনে করি। আপনার ভাই বন্ধুরা না থাকলে আমরা আপনাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতাম। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি নন।

Arabic, with marks

قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِّمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا ۖ وَلَوْلَا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ ۖ وَمَا أَنتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তুমি যা বলছো তার অনেক কথাই আমরা বুঝতে পারছিনা। আমাদের মাঝে তো আমরা তোমাকে দুর্বল দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে হত্যাই করতাম আর আমাদের উপর তুমি শক্তিমান নও।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমাদের নিকট কি আমার স্বজনবর্গ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী? তোমরা তাঁহাকে সম্পূর্ণ পশ্চাতে ফেলিয়া রাখিয়াছ। তোমরা যাহা কর আমার প্রতিপালক অবশ্যই তাহা পরিবেষ্টন করিয়া আছেন।

মুহিউদ্দীন খান

শোয়ায়েব (আঃ) বলেন - হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَهْطِي أَعَزُّ عَلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَاتَّخَذْتُمُوهُ وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا ۖ إِنَّ رَبِّي بِمَا تَعْمَلُونَ مُحِيطٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্কটা কি আল্লাহর চাইতেও তোমাদের উপর বেশি শক্তিশালী? অথচ তোমরা তাঁকেই সম্পূর্ণ পেছনে ফেলে রেখেছো। জেনে রাখো, তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।’

সমকালীন বাংলা

‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা স্ব স্ব অবস্থায় কাজ করিতে থাক, আমিও আমার কাজ করিতেছি। তোমরা শীঘ্রই জানিতে পারিবে কাহার উপর আসিবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং কে মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।’

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি, তোমরা নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ ۖ سَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَمَنْ هُوَ كَاذِبٌ ۖ وَارْتَقِبُوا إِنِّي مَعَكُمْ رَقِيبٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজেদের কর্মকান্ড করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করে যাবো। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর এসে পড়ে অপমানকর আযাব এবং কে মিথ্যাবাদী? তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’’

সমকালীন বাংলা

যখন আমার নির্দেশ আসিল তখন আমি শু‘আয়ব ও তাহার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করিয়াছিলাম। অতঃপর যাহারা সীমালংঘন করিয়াছিল মহানাদ তাহাদেরকে আঘাত করিল, ফলে উহারা নিজ নিজ গৃহে নতজানু অবস্থায় পড়িয়া রহিল,

মুহিউদ্দীন খান

আর আমার হুকুম যখন এল, আমি শোয়ায়েব (আঃ) ও তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে রক্ষা করি আর পাপিষ্ঠদের উপর বিকট গর্জন পতিত হলো। ফলে ভোর না হতেই তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।

Arabic, with marks

وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا شُعَيْبًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়েছিল, আমরা আমাদের রহমতে নাজাত দিয়েছিলাম শুয়াইবকে এবং যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে। আর মহা বিকট শব্দ পাকড়াও করে নিয়েছিল যালিমদেরকে। ফলে তারা তাদের ঘরে ঘরে উপুড় হয়ে পড়েছিল।

সমকালীন বাংলা

যেন তাহারা সেখানে কখনও বসবাস করে নাই। জানিয়া রাখ! ধ্বংসই ছিল মাদ্ইয়ান - বাসীদের পরিণাম, যেভাবে ধ্বংস হইয়াছিল সামূদ সম্প্রদায়।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তারা সেখানে কখনো বসবাসই করে নাই। জেনে রাখ, সামুদের প্রতি অভিসম্পাতের মত মাদইয়ানবাসীর উপরেও অভিসম্পাত।

Arabic, with marks

كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا فِيهَا ۗ أَلَا بُعْدًا لِّمَدْيَنَ كَمَا بَعِدَتْ ثَمُودُ

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থা এমন হয়েছিল, যেনো তারা কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। সাবধান! মাদায়েনবাসী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যেমন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সামুদ জাতি।

সমকালীন বাংলা

আমি তো মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠাইয়াছিলাম,

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি মূসা (আঃ) কে প্রেরণ করি আমার নিদর্শনাদি ও সুস্পষ্ট সনদসহ;

Arabic, with marks

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِينٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে,

সমকালীন বাংলা

ফির‘আওন ও তাহার প্রধানদের নিকট। কিন্তু তাহারা ফির‘আওনের কার্যকলাপের অনুসরণ করিত এবং ফির‘আওনের কার্যকলাপ ভাল ছিল না।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে, তবুও তারা ফেরাউনের হুকুমে চলতে থাকে, অথচ ফেরাউনের কোন কথা ন্যায় সঙ্গত ছিল না।

Arabic, with marks

إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَاتَّبَعُوا أَمْرَ فِرْعَوْنَ ۖ وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা ফেরাউনের নির্দেশের অনুসরণ করে, অথচ ফেরাউনের নির্দেশ ন্যায্য ছিলনা।

সমকালীন বাংলা

সে কিয়ামতের দিন তাহার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকিবে এবং সে উহাদেরকে লইয়া দোজখে প্রবেশ করিবে। যেখানে প্রবেশ করানো হইবে তাহা কত নিকৃষ্ট স্থান!

মুহিউদ্দীন খান

কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দিবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান, সেখানে তারা পৌঁছেছে।।

Arabic, with marks

يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ ۖ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُودُ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামতের দিন সে তার (অনুগামী) কওমের সামনে সামনেই থাকবে এবং তাদের নিয়ে প্রবেশ করবে জাহান্নামে। যেখানে তাদের প্রবেশ করানো হবে তা কতো যে নিকৃষ্ট জায়গা!

সমকালীন বাংলা

এই দুনিয়ায় উহাদেরকে করা হইয়াছিল অভিশাপগ্রস্ত এবং অভিশাপগ্রস্ত হইবে উহারা কিয়ামতের দিনেও। কত নিকৃষ্ট সে পুরস্কার যাহা উহাদেরকে দেওয়া হইবে!

মুহিউদ্দীন খান

আর এ জগতেও তাদের পেছনে লানত রয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও; অত্যন্ত জঘন্য প্রতিফল, যা তারা পেয়েছে।

Arabic, with marks

وَأُتْبِعُوا فِي هَٰذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ بِئْسَ الرِّفْدُ الْمَرْفُودُ

আবদুস শহীদ নাসিম

এই দুনিয়ায় এবং কিয়ামতের দিনেও তাদেরকে লানতের অনুগামী করা হয়েছে। তাদেরকে যে পুরস্কার দেয়া হবে, তা কতো যে নিকৃষ্ট পুরস্কার!

সমকালীন বাংলা

ইহা জনপদসমূহের কতক সংবাদ যাহা আমি তোমার নিকট বর্ণনা করিতেছি। উহাদের মধ্যে কতক এখনও বিদ্যমান এবং কতক নির্মূল হইয়াছে।

মুহিউদ্দীন খান

এ হচ্ছে কয়েকটি জনপদের সামান্য ইতিবৃত্ত, যা আমি আপনাকে শোনাচ্ছি। তন্মধ্যে কোন কোনটি এখনও বর্তমান আছে আর কোন কোনটির শিকড় কেটে দেয়া হয়েছে।

Arabic, with marks

ذَٰلِكَ مِنْ أَنبَاءِ الْقُرَىٰ نَقُصُّهُ عَلَيْكَ ۖ مِنْهَا قَائِمٌ وَحَصِيدٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

এ হলো জনপদসমূহের সংবাদ যা আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি। সেগুলোর মধ্যে কিছু (জনপদের চি‎হ্ন‎‎) এখনো বিদ্যমান আছে, আর কিছু হয়ে গেছে বিলীন।

সমকালীন বাংলা

আমি উহাদের প্রতি জুলুম করি নাই কিন্তু উহারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছিল। যখন তোমার প্রতিপালকের বিধান আসিল তখন ব্যতীত যে ইলাহ্সমূহের তাহারা ‘ইবাদত করিত তাহারা উহাদের কোন কাজে আসিল না। তাহারা ধ্বংস ব্যতীত উহাদের অন্য কিছু বৃদ্ধি করিল না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল, তখন কেউ কোন কাজে আসল না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল।

Arabic, with marks

وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَٰكِن ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ۖ فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ آلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مِن شَيْءٍ لَّمَّا جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ ۖ وَمَا زَادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। তাদের উপর যখন আমাদের শাস্তির ফায়সালা এসেছিল, তখন তারা আল্লাহকে ছাড়া যাদের ডাকতো সেই সব ইলাহরা তাদের কিছুমাত্র কাজে আসেনি। তারা তাদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বাড়ায়নি।

সমকালীন বাংলা

এইরূপই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি! তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূহকে যখন উহারা জুলুম করিয়া থাকে। নিশ্চয়ই তাঁহার শাস্তি মর্মন্তুদ, কঠিন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর।

Arabic, with marks

وَكَذَٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَىٰ وَهِيَ ظَالِمَةٌ ۚ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো জনপদ যখন যুলুম করতে থাকে, তখন তোমার প্রভু তাদেরকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকেন। তাঁর শাস্তি বড়ই কঠিন বেদনাদায়ক।

সমকালীন বাংলা

যে আখিরাতের শাস্তিকে ভয় করে ইহাতে তো তাহার জন্য নিদর্শন আছে। ইহা সেই দিন, যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্র করা হইবে; ইহা সেই দিন যেদিন সকলকে উপস্থিত করা হইবে;

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একদিন, যে দিন সব মানুষেই সমবেত হবে, সেদিনটি যে হাযিরের দিন।

Arabic, with marks

إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّمَنْ خَافَ عَذَابَ الْآخِرَةِ ۚ ذَٰلِكَ يَوْمٌ مَّجْمُوعٌ لَّهُ النَّاسُ وَذَٰلِكَ يَوْمٌ مَّشْهُودٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শন তাদের জন্যে, যারা আখিরাতের আযাবকে ভয় পায়। সেদিন সব মানুষকে জমা করা হবে এবং সেটাই হবে উপস্থিতির দিন।

সমকালীন বাংলা

এবং আমি নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্য উহা স্থগিত রাখি মাত্র।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি যে উহা বিলম্বিত করি, তা শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা নির্ধারিত রয়েছে।

Arabic, with marks

وَمَا نُؤَخِّرُهُ إِلَّا لِأَجَلٍ مَّعْدُودٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটাকে আমরা একটা নির্দিষ্ট কালের জন্যে স্থগিত রেখেছি মাত্র।

সমকালীন বাংলা

যখন সেদিন আসিবে তখন অনুমতি ব্যতীত কেহ কথা বলিতে পারিবে না; উহাদের মধ্যে কেহ হইবে হতভাগ্য আর কেহ ভাগ্যবান।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান।

Arabic, with marks

يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে দিনটি যখন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউই কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক হবে ভাগ্যবান।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যাহারা হতভাগ্য তাহারা থাকিবে দোজখে এবং সেখানে তাহাদের জন্য থাকিবে চিৎকার ও আর্তনাদ,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব যারা হতভাগ্য তারা দোযখে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে।

Arabic, with marks

فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

হতভাগারা থাকবে জাহান্নামে। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে কেবল চিৎকার আর আর্তনাদ।

সমকালীন বাংলা

সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকিবে যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন ; নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাহাই করেন যাহা তিনি ইচ্ছা করেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার পরওয়ারদেগার যা ইচ্ছা করতে পারেন।

Arabic, with marks

خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই স্থায়ীভাবে পড়ে থাকবে তারা যতোদিন মহাকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রভু অন্য কিছু চান। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু যা চান তাই করেন।

সমকালীন বাংলা

পক্ষান্তরে, যাহারা ভাগ্যবান তাহারা থাকিবে জান্নাতে, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে, যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকিবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন; ইহা এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা সৌভাগ্যবান তারা বেহেশতের মাঝে, সেখানেই চিরদিন থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রভু অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। এ দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।

Arabic, with marks

۞ وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ ۖ عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা হবে ভাগ্যবান, তারা থাকবে জান্নাতে। চিরকাল তারা সেখানে (উপভোগ করতে) থাকবে, যতোদিন বিদ্যমান থাকবে মহাকাশ ও পৃথিবী, যদি না তোমার প্রভু ভিন্ন কিছু চান। এ এক অনন্ত অবিরাম পুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং উহারা যাহাদের ‘ইবাদত করে তাহাদের সম্বন্ধে সংশয়ে থাকিও না, পূর্বে উহাদের পিতৃপুরুষেরা যাহাদের ‘ইবাদত করিত উহারা তাহাদেরই ‘ইবাদত করে। অবশ্যই আমি উহাদেরকে উহাদের প্রাপ্য পুরাপুরি দিব - কিছুমাত্র কম করিব না।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তারা যেসবের উপাসনা করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী বাপ - দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত, এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও কম না করেই পুরোপুরি দান করবো।

Arabic, with marks

فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِّمَّا يَعْبُدُ هَٰؤُلَاءِ ۚ مَا يَعْبُدُونَ إِلَّا كَمَا يَعْبُدُ آبَاؤُهُم مِّن قَبْلُ ۚ وَإِنَّا لَمُوَفُّوهُمْ نَصِيبَهُمْ غَيْرَ مَنقُوصٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তারা যে সবের ইবাদত করে সেগুলোর ভ্রান্ত বাতিল হবার ব্যাপারে তুমি মোটেও সংশয়ে থেকোনা। আগে তাদের বাপ - দাদারা যাদের ইবাদত করতো তারাও তাদেরই ইবাদত করে। আমরা অবশ্যি তাদের প্রাপ্য অংশ কিছুমাত্র কম না করে পুরোপুরি দেবো।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়াছিলাম, অতঃপর ইহাতে মতভেদ ঘটিয়াছিল। তোমার প্রতিপালকের পূর্বসিদ্ধান্ত না থাকিলে উহাদের মীমাংসা হইয়া যাইত। উহারা অবশ্যই ইহার সম্বন্ধে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে ছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি মূসা (আঃ) - কে অবশ্যই কিতাব দিয়েছিলাম অতঃপর তাতে বিরোধ সৃষ্টি হল; বলাবাহুল্য তোমার পালনকর্তার পক্ষ হতে, একটি কথা যদি আগেই বলা না হত, তাহলে তাদের মধ্যে চুড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত তারা এ ব্যাপারে এমনই সন্দেহ প্রবণ যে, কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছে না।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম এবং তা নিয়েও মতভেদ করা হয়েছিল। তোমার প্রভুর পূর্ব ফায়সালা না থাকলে তাদের মাঝেও মীমাংসা হয়ে যেতো। তারা অবশ্যি এ (কিতাব) নিয়ে ভ্রান্তিকর সংশয়ের মধ্যে ছিলো।

সমকালীন বাংলা

যখন সময় আসিবে তখন অবশ্যই তোমার প্রতিপালক উহাদের প্রত্যেককে তাহার কর্মফল পুরাপুরি দিবেন। উহারা যাহা করে তিনি তো সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত;

মুহিউদ্দীন খান

আর যত লোকই হোক না কেন, যখন সময় হবে, তোমার প্রভু তাদের সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। নিশ্চয় তিনি তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন।

Arabic, with marks

وَإِنَّ كُلًّا لَّمَّا لَيُوَفِّيَنَّهُمْ رَبُّكَ أَعْمَالَهُمْ ۚ إِنَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন নির্ধারিত সময়টি আসবে, তখন অবশ্যি তোমার প্রভু তাদের প্রত্যেককে তার আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন। তারা যা আমল করে সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অবহিত।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং তুমি যেভাবে আদিষ্ট হইয়াছ তাহাতে স্থির থাক এবং তোমার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহারাও স্থির থাকুক; এবং সীমালংঘন করিও না। তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই তিনি তাহার সম্যক দ্রষ্টা।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তুমি এবং তোমার সাথে যারা তওবা করেছে সবাই সোজা পথে চলে যাও - যেমন তোমায় হুকুম দেয়া হয়েছে এবং সীমা লঙ্ঘন করবে না, তোমরা যা কিছু করছ, নিশ্চয় তিনি তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন।

Arabic, with marks

فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَن تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا ۚ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তোমাকে যে রকম নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার উপর কায়েম থাকো তুমি এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা, আর সীমালংঘন করোনা। তোমরা যা আমল করো সবই তাঁর দৃষ্টিপথে রয়েছে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা সীমালংঘন করিয়াছে তোমরা তাহাদের প্রতি ঝুঁকিয়া পড়িও না; পড়িলে অগ্নি তোমাদেরকে স্পর্শ করিবে। এই অবস্থায় ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক থাকিবে না এবং তোমাদের সাহায্য করা হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না।

Arabic, with marks

وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা যুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়োনা, তাহলে তোমাদের স্পর্শ করবে জাহান্নামের আগুন এবং ছাড়া তোমাদের আর কোনো অলি থাকবে না, আর তোমাদেরকে সাহায্যও করা হবেনা।

সমকালীন বাংলা

তুমি কায়েম কর দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। সৎকর্ম অবশ্যই অসৎকর্ম মিটাইয়া দেয়। যাহারা উপদেশ গ্রহণ করে, ইহা তাহাদের জন্য এক উপদেশ।

মুহিউদ্দীন খান

আর দিনের দুই প্রান্তেই ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।

Arabic, with marks

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে (অর্থাৎ ফজর এবং যোহর, আসর ও মাগরিব) এবং রাতের প্রথমাংশে (অর্থাৎ এশার )। নিশ্চয়ই পুণ্য মিটিয়ে দেয় পাপকে। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্যে একটি উপদেশ।

সমকালীন বাংলা

তুমি ধৈর্য ধারন কর কারন নিশ্চই সৎকর্ম পরায়নদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।

Arabic, with marks

وَاصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সবর অবলম্বন করো। অবশ্যি বিনষ্ট করেন না পূণ্যবানদের কর্মফল।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের পূর্বযুগে আমি যাহাদেরকে রক্ষা করিয়াছিলাম তাহাদের মধ্যে অল্প কতক ব্যতীত সজ্জন ছিল না, যাহারা পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইতে নিষেধ করিত। সীমালংঘনকারীরা যাহাতে সুখ - স্বাচ্ছন্দ্য পাইত তাহারই অনুসরণ করিত এবং উহারা ছিল অপরাধী।

মুহিউদ্দীন খান

কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী।

Arabic, with marks

فَلَوْلَا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِن قَبْلِكُمْ أُولُو بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّنْ أَنجَيْنَا مِنْهُمْ ۗ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوا فِيهِ وَكَانُوا مُجْرِمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের পূর্ব প্রজন্মের যাদের রক্ষা করেছিলাম, তাদের স্বল্প সংখ্যক ছাড়া বাকিরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করতো না কেন? যালিমরা সে সময়েরই অনুসরণ করতো যাতে সুখ - স্বাচ্ছন্দ পেতো। আসলে তারা ছিলো অপরাধী।

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতিপালক এইরূপ নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদ ধ্বংস করিবেন, অথচ উহার অধিবাসীরা পুণ্যবান।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও।

Arabic, with marks

وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَىٰ بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

অধিবাসীরা সংশোধনকামী থাকা অবস্থায় তোমার প্রভু অন্যায়ভাবে কোনো জনপদকে ধ্বংস করেন না।

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিলে সমস্ত মানুষকে এক জাতি করিতে পারিতেন, কিন্তু তাহারা মতভেদ করিতেই থাকিবে,

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পালনকর্তা যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে একই জাতিসত্তায় পরিনত করতে পারতেন আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না।

Arabic, with marks

وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً ۖ وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু চাইলে সব মানুষকে এক উম্মত বানাতে পারতেন। কিন্তু তারা বিভেদকারীই থেকে যাবে।

সমকালীন বাংলা

তবে উহারা নয়, যাহাদেরকে তোমার প্রতিপালক দয়া করেন এবং তিনি উহাদেরকে এইজন্যই সৃষ্টি করিয়াছেন। ‘আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিবই’, তোমার প্রতিপালকের এই কথা পূর্ণ হইবেই।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার পালনকর্তা যাদের উপর রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে, অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব।

Arabic, with marks

إِلَّا مَن رَّحِمَ رَبُّكَ ۚ وَلِذَٰلِكَ خَلَقَهُمْ ۗ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমার প্রভু যাদের রহম করেন তারা ছাড়া। আর তিনি এ জন্যেই তাদের সৃষ্টি করেছেন। ‘আমি অবশ্যি জিন এবং ইনসানকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবো’ - তোমার প্রভুর এ ঘোষণা পূর্ণ হবেই।

সমকালীন বাংলা

রাসূলদের ঐ সকল বৃত্তান্তআমি তোমার নিকট বর্ণনা করিতেছি, যদ্ধারাআমি তোমার চিত্তকে দৃঢ় করি, ইহার মাধ্যমে তোমার নিকট আসিয়াছে সত্য এবং মু’মিনদের জন্য আসিয়াছে উপদেশ ও সাবধানবাণী।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি রসূলগণের সব বৃত্তান্তই তোমাকে বলছি, যদ্দ্বারা তোমার অন্তরকে মজবুত করছি। আর এভাবে তোমার নিকট মহাসত্য এবং ঈমানদারদের জন্য নসীহত ও স্বরণীয় বিষয়বস্তু এসেছে।

Arabic, with marks

وَكُلًّا نَّقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ ۚ وَجَاءَكَ فِي هَٰذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

(পূর্বের) রসূলদের এসব সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি এ জন্যে, যেনো এর মাধ্যমে আমরা তোমার হৃদয়কে দৃঢ় করি, আর এর মাধ্যমে তোমার কাছে এসেছে সত্য (ইতিহাস)। তাছাড়া এটি হলো মুমিনদের জন্যে উপদেশ এবং সতর্কবাণী।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে না তাহাদেরকে বল, ‘তোমরা স্বস্বঅবস্থানে কাজ করিতে থাক, আমরাও আমাদের কাজ করিতেছি,

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা ঈমান আনে না, তাদেরকে বলে দাও যে, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় কাজ করে যাও আমরাও কাজ করে যাই।

Arabic, with marks

وَقُل لِّلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنَّا عَامِلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনেনা, তাদের বলে দাও: ‘‘তোমাদের অবস্থানে থেকে তোমরা তোমাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাও, আমরাও করে যাবো আমাদের কাজ।

সমকালীন বাংলা

‘এবং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমরাও প্রতীক্ষা করিতেছি।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরাও অপেক্ষা করে থাক, আমরাও অপেক্ষায় রইলাম।

Arabic, with marks

وَانتَظِرُوا إِنَّا مُنتَظِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও থাকলাম অপেক্ষায়।’’

সমকালীন বাংলা

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বিষয়ের জ্ঞান এবং তাঁহারই নিকট সমস্ত কিছু প্রত্যানীত হইবে। সুতরাং তুমি তাঁহার ‘ইবাদত কর এবং তাঁহার উপর নির্ভর কর। তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক অনবহিত নন।

মুহিউদ্দীন খান

আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও যমীনের গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; অতএব, তাঁরই বন্দেগী কর এবং তাঁর উপর ভরসা রাখ, আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে - খবর নন।

Arabic, with marks

وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর তো আল্লাহ্ই জানেন। সকল বিষয় তাঁরই কাছে রুজু হয়। সুতরাং তুমি তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো। তোমরা যা করো সে বিষয়ে তোমার প্রভু গাফিল নন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme