Kitab

ইয়া সীন (আরবী বর্ণমালার দু'টি অক্ষর)

Chapter 36, 83 verses

  • সমকালীন বাংলা
  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
  • Word by word
সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; ইয়া - সীন,

মুহিউদ্দীন খান

ইয়া - সীন

আবদুস শহীদ নাসিম

ইয়াসিন!

জহুরুল হক

ইয়া সীন!

Word by word

يسٓ

সমকালীন বাংলা

শপথ জ্ঞানগর্ভ কুরআনের,

মুহিউদ্দীন খান

প্রজ্ঞাময় কোরআনের কসম।

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ বিজ্ঞানময় কুরআনের,

জহুরুল হক

জ্ঞানগর্ভ কুরআনের শপথ, - -

Word by word

وَٱلْقُرْءَانِ ٱلْحَكِيمِ

সমকালীন বাংলা

তুমি অবশ্যই রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত;

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রসূলগণের একজন।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্য অবশ্যি তুমি রসূলদের একজন,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তুমি তো প্রেরিত পুরুষদের অন্যতম, - -

Word by word

إِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

সমকালীন বাংলা

তুমি সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।

মুহিউদ্দীন খান

সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

(প্রতিষ্ঠিত আছো) সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।

জহুরুল হক

সহজ - সঠিক পথে অধিষ্ঠিত রয়েছে।

Word by word

عَلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ

সমকালীন বাংলা

কােরআন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর তরফ থাকলে অবর্তীণ,

মুহিউদ্দীন খান

কোরআন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ,

আবদুস শহীদ নাসিম

(এই কুরআন) নাযিল হচ্ছে মহাশক্তিধর অতীব দয়াবানের পক্ষ থেকে,

জহুরুল হক

মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতার থেকে এক অবতারণ, - -

Word by word

تَنزِيلَ ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ

সমকালীন বাংলা

যাহাতে তুমি সতর্ক করিতে পার এমন এক জাতিকে যাহাদের পিতৃপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয় নাই, যাহার ফলে উহারা গাফিল।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষগণকেও সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো এমন একটি কওমকে, যাদের পূর্ব পুরুষদের সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফিল (অসতর্ক)।

জহুরুল হক

যেন তুমি সতর্ক করতে পার সেই জাতিকে যাদের পিতৃপুরুষদের সতর্ক করা হয় নি, যার ফলে তারা অজ্ঞ রয়ে গেছে।

Word by word

لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّآ أُنذِرَ ءَابَآؤُهُمْ فَهُمْ غَٰفِلُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদের অধিকাংশের জন্য সেই বাণী অবধারিত হইয়াছে; সুতরাং উহারা ঈমান আনিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অধিকাংশের জন্যে শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অধিকাংশের জন্যে সেই বাণী (শাস্তি) অবধারিত হয়ে গেছে, ফলে তারা আর ঈমান আনবেনা।

জহুরুল হক

সুনিশ্চিত যে বক্তব্যটি তাদের অনেকের সন্বন্ধে সত্য প্রতিপন্ন হয়েছে, তাই তারা বিশ্বাস করছে না।

Word by word

لَقَدْ حَقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَىٰٓ أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি উহাদের গলদেশে চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরাইয়াছি, ফলে উহারা ঊর্ধ্বমুখী হইয়া গিয়াছে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ী পরিয়েছি। ফলে তাদের মস্তক উর্দ্ধমুখী হয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চিবুক পর্যন্ত তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছি, ফলে তারা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আছে।

জহুরুল হক

আমরা নিশ্চয় তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছি, আর তা পৌঁছেছে চিবুক পর্যন্ত, ফলে তারা মাথা চড়ানো অবস্থায় রয়েছে।

Word by word

إِنَّا جَعَلْنَا فِىٓ أَعْنَٰقِهِمْ أَغْلَٰلًا فَهِىَ إِلَى ٱلْأَذْقَانِ فَهُم مُّقْمَحُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি উহাদের সম্মুখে প্রাচীর ও পশ্চাতে প্রাচীর স্থাপন করিয়াছি এবং উহাদেরকে আবৃত করিয়াছি; ফলে উহারা দেখিতে পায় না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদেরকে আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা দেখে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের সামনে প্রাচীর এবং পেছনেও প্রাচীর স্থাপন করে দিয়েছি, আর তাদের চোখে সৃষ্টি করে দিয়েছি আবরণ, ফলে তারা দেখতে পায়না।

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের সামনে স্থাপন করেছি এক বেড়া আর তাদের পেছনেও এক বেড়া, ফলে আমরা তাদের ঢেকে ফেলেছি, সুতরাং তারা দেখতে পায় না।

Word by word

وَجَعَلْنَا مِنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَٰهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ

সমকালীন বাংলা

তুমি উহাদেরকে সতর্ক কর বা না কর, উহাদের পক্ষে উভয়ই সমান; উহারা ঈমান আনিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুয়েই সমান; তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের সতর্ক করো কিংবা সতর্ক না করো দুটোই তাদের জন্যে সমান, তারা ঈমান আনবেনা।

জহুরুল হক

এটি তাদের কাছে একাকার - - তুমি তাদের সতর্ক কর অথবা তুমি তাদের সতর্ক নাই কর, তারা বিশ্বাস করবে না।

Word by word

وَسَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

সমকালীন বাংলা

তুমি কেবল তাহাকেই সতর্ক করিতে পার যে উপদেশ মানিয়া চলে এবং না দেখিয়া দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে, অতএব আপনি তাদরেকে সুসংবাদ দয়িে দনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কাররে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারেন, যারা উপদেশ অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। অতএব আপনি তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো সতর্ক করতে পারো তাকে, যে আয্ যিকির (আল কুরআন) - এর অনুসরণ করে এবং না দেখেও দয়াময় রহমানকে ভয় করে। তাকে সুসংবাদ দাও মাগফিরাতের আর সম্মানজনক পুরস্কারের।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তুমি তো সতর্ক করতে পার তাকে যে উপদেশ অনুসরণ করে চলে, আর পরম করুণাময়কে নিভৃতে ভয় করে। সুতরাং তাকে তুমি সুসংবাদ দাও পরিত্রাণের এবং এক মহান প্রতিদানের।

Word by word

إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ ٱتَّبَعَ ٱلذِّكْرَ وَخَشِىَ ٱلرَّحْمَٰنَ بِٱلْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ

সমকালীন বাংলা

আমিই মৃতকে করি জীবিত এবং লিখিয়া রাখি যাহা উহারা অগ্রে প্রেরণ করে ও যাহা উহারা পশ্চাতে রাখিয়া যায়, আমি তো প্রত্যেক জিনিস স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রাখিয়াছি।

মুহিউদ্দীন খান

আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অবশ্যি মৃতদের জীবিত করবো, আর আমরা তো লিখে রাখি তারা যা আগে পাঠায় আর যা পেছনে রেখে যায়। প্রতিটি বস্তুই আমরা স্পষ্ট কিতাবে (রেকর্ড পত্রে) সংরক্ষিত রেখেছি।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা - - আমরা নিজেরাই মৃতকে জীবন্ত করি, আর আমরা লিখে রাখি যা তারা আগবাড়ায় আর তাদের পদচিহ্নসমূহ। আর সমস্ত ব্যাপার - স্যাপার - - আমরা তা সংরক্ষিত রেখেছি এক সুস্পষ্ট গ্রন্থে।

Word by word

إِنَّا نَحْنُ نُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا۟ وَءَاثَٰرَهُمْ وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَٰهُ فِىٓ إِمَامٍ مُّبِينٍ

সমকালীন বাংলা

উহাদের নিকট বর্ণনা কর এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত; যখন তাহাদের নিকট আসিয়াছিল রাসূলগণ।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদের কাছে সে জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রসূল আগমন করেছিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কাছে বর্ণনা করো দৃষ্টান্ত সেই জনপদের বাসিন্দাদের, যখন তাদের কাছে রসূলরা এসেছিল।

জহুরুল হক

আর তাদের জন্য উপমা ছোঁড়ো এক জনপদের অধিবাসীদের - - যখন সেখানে রসূলগণ এসেছিলেন।

Word by word

وَٱضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا أَصْحَٰبَ ٱلْقَرْيَةِ إِذْ جَآءَهَا ٱلْمُرْسَلُونَ

সমকালীন বাংলা

যখন উহাদের নিকট পাঠাইয়াছিলাম দুইজন রাসূল, তখন উহারা তাহাদেরকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল, অতঃপর আমি তাহাদেরকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম তৃতীয় একজন দ্বারা। তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা তো তোমাদের নিকট প্রেরিত হইয়াছি।’

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদের নিকট দুজন রসূল প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর ওরা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদেরকে শক্তিশালী করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের কাছে আমরা পাঠিয়েছিলাম দুজন রসূল, তারা দুজনকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন আমরা তাদের শক্তিশালী করেছিলাম তৃতীয় একজনকে পাঠিয়ে। তারা তাদের বলেছিল: ‘আমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রসূল।’

জহুরুল হক

দেখো! আমরা তাদের কাছে দুজনকে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা এদের দুজনেরই প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল, তখন আমরা তৃতীয় জনকে দিয়ে শক্তিবৃদ্ধি করি। সুতরাং তাঁরা বলেছিলেন - - ''নিঃসন্দেহ তোমাদের কাছে আমরা প্রেরিত হয়েছি।’’

Word by word

إِذْ أَرْسَلْنَآ إِلَيْهِمُ ٱثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوٓا۟ إِنَّآ إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘তোমরা আমাদের মতই মানুষ, দয়াময় তো কিছুই অবতীর্ণ করেন নাই। তোমরা কেবল মিথ্যাই বলিতেছ।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, রহমান কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা কেবল মিথ্যাই বলে যাচ্ছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

(বিরোধী পক্ষ) বললো: ‘তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, রহমান তোমাদের প্রতি কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো কেবল মিথ্যা কথাই বলছো।’

জহুরুল হক

তারা বলেছিল - - ''তোমরা তো আমাদের ন্যায় মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, আর পরম করুণাময় কোনো কিছুই অবতারণ করেন নি, তোমরা তো কেবল মিথ্যা কথা বলছ।’’

Word by word

قَالُوا۟ مَآ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَمَآ أَنزَلَ ٱلرَّحْمَٰنُ مِن شَىْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘আমাদের প্রতিপালক জানেন - আমরা অবশ্যই তোমাদের নিকট প্রেরিত হইয়াছি।

মুহিউদ্দীন খান

রাসূলগণ বলল, আমাদের পরওয়ারদেগার জানেন, আমরা অবশ্যই তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু জানেন, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত রসূল।

জহুরুল হক

তাঁরা বলেছিলেন - - ''আমাদের প্রভু জানেন যে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে প্রেরিতপুরুষই বটে।

Word by word

قَالُوا۟ رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّآ إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ

সমকালীন বাংলা

‘স্পষ্টভাবে প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব।’

মুহিউদ্দীন খান

পরিস্কারভাবে আল্লাহর বাণী পৌছে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুস্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব।’

জহুরুল হক

''আর আমাদের উপরে হচ্ছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়।’’

Word by word

وَمَا عَلَيْنَآ إِلَّا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘আমরা তো তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি, যদি তোমরা বিরত না হও তোমাদেরকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে হত্যা করিব এবং আমাদের পক্ষ হইতে তোমাদের উপর মর্মন্তুদ শাস্তি অবশ্যই আপতিত হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আমরা তোমাদেরকে অশুভ - অকল্যাণকর দেখছি। যদি তোমরা বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তর বর্ষণে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা তোমাদের কুলক্ষণে মনে করি। তোমরা যদি বিরত না হও, আমরা অবশ্যি তোমাদের পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবো এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের স্পর্শ করবে বেদনাদায়ক আযাব।’

জহুরুল হক

তারা বললে, ''তোমাদের থেকে আমরা অবশ্যই অমঙ্গল আশঙ্কা করি, যদি তোমরা বিরত না হও তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের পাথর মেরে মেরে ফেলব, আর আমাদের থেকে মর্মন্তুদ শাস্তি তোমাদের স্পর্শ করবে।’’

Word by word

قَالُوٓا۟ إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِن لَّمْ تَنتَهُوا۟ لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সঙ্গে; ইহা কি এইজন্য যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিতেছি? বস্তুত তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’

মুহিউদ্দীন খান

রসূলগণ বলল, তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই! এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি? বস্তুতঃ তোমরা সীমা লংঘনকারী সম্প্রদায় বৈ নও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (রসূলরা) বললো: ‘তোমাদের কুলক্ষণ তোমাদেরই সাথে। এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদের উপদেশ দিয়ে যাচ্ছি? বরং তোমরা একটি সীমালংঘনকারী কওম (জাতি)।’

জহুরুল হক

তাঁরা বললেন, ''তোমাদের পাখিগুলো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছে। তোমাদের তো স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে! বস্তুতঃ তোমরা হচ্ছ অমিতাচারী জাতি।

Word by word

قَالُوا۟ طَٰٓئِرُكُم مَّعَكُمْ أَئِن ذُكِّرْتُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ

সমকালীন বাংলা

নগরীর প্রান্ত হইতে এক ব্যক্তি ছুটিয়া আসিল। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলদের অনুসরণ কর;

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

নগর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বললো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা রসূলদের অনুসরণ করো,

জহুরুল হক

আর শহরের দূর প্রান্ত থেকে একজন লোক দেড়ে এল, সে বললে - - ''হে আমার স্বজাতি! প্রেরিতপুরুষগণকে অনুসরণ করো, - -

Word by word

وَجَآءَ مِنْ أَقْصَا ٱلْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَىٰ قَالَ يَٰقَوْمِ ٱتَّبِعُوا۟ ٱلْمُرْسَلِينَ

সমকালীন বাংলা

‘অনুসরণ কর তাহাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না এবং যাহারা সৎপথপ্রাপ্ত।

মুহিউদ্দীন খান

অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদের ইত্তেবা (অনুসরণ) করো, যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চান না এবং যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।

জহুরুল হক

''অনুসরণ করো তাঁদের যারা তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিকের সওয়াল করেন না, আর তাঁরা হচ্ছেন সৎপথে চালিত।’’

Word by word

ٱتَّبِعُوا۟ مَن لَّا يَسْـَٔلُكُمْ أَجْرًا وَهُم مُّهْتَدُونَ

সমকালীন বাংলা

‘আমার কি যুক্তি আছে যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং যাঁহার নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে আমি তাঁহার ‘ইবাদত করিব না?

মুহিউদ্দীন খান

আমার কি হল যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে, আমি তাঁর এবাদত করব না?

আবদুস শহীদ নাসিম

কী কারণে আমি তাঁর ইবাদত করবো না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে?

জহুরুল হক

''আর আমার কি হয়েছে যে আমি তাঁর উপাসনা করব না, যিনি আমাকে সৃজন করেছেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে?

Word by word

وَمَا لِىَ لَآ أَعْبُدُ ٱلَّذِى فَطَرَنِى وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

সমকালীন বাংলা

‘আমি কি তাঁহার পরিবর্তে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করিব? দয়াময় আমাকে ক্ষতিগ্রস্তকরিতে চাইলে উহাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসিবে না এবং উহারা আমাকে উদ্ধার করিতেও পারিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যান্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করব? করুণাময় যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনই কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করবো? রহমান যদি আমার ক্ষতি করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবেনা এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবেনা।

জহুরুল হক

''আমি কি তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য উপাস্যদের গ্রহণ করব, পরম করুণাময় যদি আমাকে দুঃখ - দুর্দশা দিতে চাইতেন তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না, আর তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না?

Word by word

ءَأَتَّخِذُ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةً إِن يُرِدْنِ ٱلرَّحْمَٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّى شَفَٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا وَلَا يُنقِذُونِ

সমকালীন বাংলা

‘এইরূপ করিলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়িব।

মুহিউদ্দীন খান

এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমনটি করলে তো আমি নিমজ্জিত হবো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে।

জহুরুল হক

''এমন ক্ষেত্রে আমি তো নিশ্চয় স্পষ্ট ভুলের মধ্যে পড়ব।

Word by word

إِنِّىٓ إِذًا لَّفِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ

সমকালীন বাংলা

‘আমি তো তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আনিয়াছি, অতএব তোমরা আমার কথা শোন।’

মুহিউদ্দীন খান

আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার কাছ থেকে শুনে নাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান আনলাম, তোমরা আমার কথা মেনে নাও!’’

জহুরুল হক

''আমি আলবৎ তোমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছি, সেজন্য আমার কথা শোনো।’’

Word by word

إِنِّىٓ ءَامَنتُ بِرَبِّكُمْ فَٱسْمَعُونِ

সমকালীন বাংলা

তাহাকে বলা হইল, ‘জান্নাতে প্রবেশ কর।’ সে বলিয়া উঠিল, ‘হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানিতে পারিত -

মুহিউদ্দীন খান

তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোন ক্রমে জানতে পারত -

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে বলা হলো: ‘দাখিল হও জান্নাতে।’ সে বলে উঠলো: ‘হায়, আমার কওম যদি জানতে পারতো

জহুরুল হক

বলা হলো - - ''জান্নাতে প্রবেশ কর।’’ তিনি বললেন - - ''হায় আফসোস! আমার স্বজাতি যদি জানতে পারত, - -

Word by word

قِيلَ ٱدْخُلِ ٱلْجَنَّةَ قَالَ يَٰلَيْتَ قَوْمِى يَعْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

‘কিরূপে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করিয়াছেন এবং আমাকে সম্মানিত করিয়াছেন।’

মুহিউদ্দীন খান

যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

কী কারণে আমার প্রভু আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তরভুক্ত করেছেন।’

জহুরুল হক

''কি কারণে আমার প্রভু আমাকে পরিত্রাণ করেছেন, আর আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’’

Word by word

بِمَا غَفَرَ لِى رَبِّى وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُكْرَمِينَ

সমকালীন বাংলা

আমি তাহার পরে তাহার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আকাশ হইতে কোন বাহিনী প্রেরণ করি নাই এবং প্রেরণের প্রয়োজনও ছিল না।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের উপর আকাশ থেকে কোন বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তার (মৃত্যুর) পর তার জাতির বিরুদ্ধে আসমান থেকে কোনো বাহিনী নাযিল করিনি আর আমরা নাযিল করতামও না।

জহুরুল হক

আর তাঁর পরে তাঁর লোকদের প্রতি আমরা আকাশ থেকে কোনো বাহিনী পাঠাই নি, আর আমরা কখনো প্রেরণকারী নই।

Word by word

وَمَآ أَنزَلْنَا عَلَىٰ قَوْمِهِۦ مِنۢ بَعْدِهِۦ مِن جُندٍ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَمَا كُنَّا مُنزِلِينَ

সমকালীন বাংলা

উহা ছিল কেবল এক মহানাদ। ফলে উহারা নিথর নিস্তব্ধ হইয়া গেল।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সবাই স্তদ্ধ হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

একটা মহাবিকট শব্দই যথেষ্ট ছিলো, সাথে সাথে তারা নিথর হয়ে গেলো।

জহুরুল হক

এটি অবশ্য একটিমাত্র মহাগর্জন বৈ তো নয়, তখন দেখো, তারা নিথরদেহী হয়ে গেল!

Word by word

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَٰمِدُونَ

সমকালীন বাংলা

পরিতাপ বান্দাদের জন্য; উহাদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে তখনই উহারা তাহাকে ঠাট্টা - বিদ্রপকরিয়াছে।

মুহিউদ্দীন খান

বান্দাদের জন্যে আক্ষেপ যে, তাদের কাছে এমন কোন রসূলই আগমন করেনি যাদের প্রতি তারা বিদ্রুপ করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরিতাপ বান্দাদের জন্যে! যখনই তাদের কাছে কোনো রসূল এসেছে, তারা তাদের নিয়ে বিদ্রুপ করেছে।

জহুরুল হক

হায় আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে এমন কোনো রসূল আসেন নি যাঁকে নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রূপ না করেছে!

Word by word

يَٰحَسْرَةً عَلَى ٱلْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা কি লক্ষ্য করে না উহাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠী আমি ধ্বংস করিয়াছি যাহারা উহাদের মধ্যে ফিরিয়া আসিবে না?

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি প্রত্যক্ষ করে না, তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি যে, তারা তাদের মধ্যে আর ফিরে আসবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা তাদের আগে আমরা কতো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম! তারা আর তাদের মাঝে ফিরে আসবেনা।

জহুরুল হক

তারা কি দেখে নি তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে আমরা ধ্বংস করেছি, কেননা তারা তাঁদের প্রতি ফিরতো না?

Word by word

أَلَمْ يَرَوْا۟ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنَ ٱلْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ

সমকালীন বাংলা

এবং অবশ্যই উহাদের সকলকে একত্রে আমার নিকট উপস্থিত করা হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

ওদের সবাইকে সমবেত অবস্থায় আমার দরবারে উপস্থিত হতেই হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে অবশ্যি তাদের সবাইকে একত্রে আমার কাছে হাজির করা হবে।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই সবাইকে, - - আলবৎ সব ক’জনকে, আমাদের সামনে হাজির করা হবে।

Word by word

وَإِن كُلٌّ لَّمَّا جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত ধরিত্রী, যাহাকে আমি সঞ্জীবিত করি এবং উহা হইতে উৎপন্ন করি শস্য যাহা উহারা আহার করে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে একটি নিদর্শন হলো মৃত জমিন, আমরা তাকে জীবিত করি এবং তা থেকে বের করে আনি শস্য, যা থেকে তারা খায়।

জহুরুল হক

আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হচ্ছে মৃত ভূখন্ড, আমরা তাতে প্রাণ সঞ্চার করি, আর তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, ফলে সেটি থেকে তারা আহার করে।

Word by word

وَءَايَةٌ لَّهُمُ ٱلْأَرْضُ ٱلْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَٰهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাতে আমি সৃষ্টি করি খর্জুর ও আঙুরের উদ্যান এবং উহাতে উৎসারিত করি প্রস্রবণ,

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরিণী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে আমরা সৃষ্টি করি খেজুর আর আঙুরের বাগান এবং তাতে আমরা জারি করে দেই ঝরণাধারা,

জহুরুল হক

আর আমরা তাতে বানিয়েছি খেজুর ও আঙুরের বাগানসমূহ, আর তার মাঝে আমরা উৎসারিত করি প্রস্রবণ,

Word by word

وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّٰتٍ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَٰبٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ ٱلْعُيُونِ

সমকালীন বাংলা

যাহাতে উহারা আহার করিতে পারে উহার ফলমূল হইতে, অথচ উহাদের হস্ত উহা সৃষ্টি করে নাই। তবুও কি উহারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিবে না?

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তারা তার ফল খায়। তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন?

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তারা খেতে পারে তার ফল। অথচ তাদের হাত তা সৃষ্টি করেনি। তবু কি তোমরা শোকর আদায় করবেনা?

জহুরুল হক

যেন তারা এর ফলমূল থেকে আহার করতে পারে, অথচ তাদের হাতে এটি বানায় নি। তবু কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?

Word by word

لِيَأْكُلُوا۟ مِن ثَمَرِهِۦ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ أَفَلَا يَشْكُرُونَ

সমকালীন বাংলা

পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং উহারা যাহাদেরকে জানে না তাহাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করিয়াছেন জোড়া জোড়া করিয়া।

মুহিউদ্দীন খান

পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি পবিত্র ও মহান। তিনি উদ্ভিদকে, মানুষকে এবং তারা যাদের জানেনা তাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।

জহুরুল হক

সকল মহিমা তাঁর যিনি জোড়ায় - জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন - - পৃথিবী যা উৎপাদন করে তার মধ্যের সব - কিছু, আর তাদের নিজেদের মধ্যেও, আর তারা যার কথা জানে না তাদের মধ্যেও।

Word by word

سُبْحَٰنَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَزْوَٰجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদের জন্য এক নিদর্শন রাত্রি, উহা হইতে আমি দিবালোক অপসারিত করি, তখন উহারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হইয়া পড়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে আরেকটি নিদর্শন হলো রাত, তা থেকে আমরা অপসারিত করি দিনের আলো, তখন তারা নিমজ্জিত হয়ে পড়ে অন্ধকারে।

জহুরুল হক

আর তাদের কাছে একটি নিদর্শন হচ্ছে রাত্রি, তা থেকে আমরা বের করে আনি দিনকে, তারপর দেখো! তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে!

Word by word

وَءَايَةٌ لَّهُمُ ٱلَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ ٱلنَّهَارَ فَإِذَا هُم مُّظْلِمُونَ

সমকালীন বাংলা

আর সূর্য ভ্রমণ করে উহার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, ইহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।

মুহিউদ্দীন খান

সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

সূর্য চলে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটা মহাপরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী কর্তৃক নির্ধারিত।

জহুরুল হক

আর সূর্য তার গন্তব্য পথে বিচরণ করে। এটিই মহাশক্তিশালী সর্বজ্ঞাতার নির্ধারিত বিধান।

Word by word

وَٱلشَّمْسُ تَجْرِى لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ ٱلْعَزِيزِ ٱلْعَلِيمِ

সমকালীন বাংলা

এবং চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করিয়াছি বিভিন্ন মনযিল; অবশেষে উহা শুষ্ক বক্র পুরাতন খর্জুর শাখার আকার ধারণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা চাঁদের জন্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি মনযিলসমূহ। অবশেষে তা শুকনা বাঁকা পুরানো খেজুর ডালের আকৃতি ধারণ করে।

জহুরুল হক

আর চন্দ্রের বেলা - - আমরা এর জন্য বিধান করেছি বিভিন্ন অবস্থান, শেষপর্যন্ত তা শুকনো পুরোনো খেজুরবৃন্তের ন্যায় হয়ে যায়।

Word by word

وَٱلْقَمَرَ قَدَّرْنَٰهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَٱلْعُرْجُونِ ٱلْقَدِيمِ

সমকালীন বাংলা

সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রজনীর পক্ষে সম্ভব নয় দিবসকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষেও সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা। এরা প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথ ও অক্ষপথে চলছে সাঁতার কেটে।

জহুরুল হক

সূর্যের নিজের সাধ্য নেই চন্দ্রকে ধরার, আর রাতেরও নেই দিনকে অতিক্রম করার। আর সবক’টিই কক্ষপথে ভাসছে।

Word by word

لَا ٱلشَّمْسُ يَنۢبَغِى لَهَآ أَن تُدْرِكَ ٱلْقَمَرَ وَلَا ٱلَّيْلُ سَابِقُ ٱلنَّهَارِ وَكُلٌّ فِى فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদের জন্য এক নিদর্শন এই যে, আমি উহাদের বংশধরদেরকে বোঝাই নৌযানে আরোহণ করাইয়াছিলাম;

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান - সন্ততিকে বোঝাই নৌকায় আরোহণ করিয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে আরেকটি নিদর্শন হলো, আমরা তাদের বংশধরদের (পূর্ব পুরুষদের) বোঝাই করে আরোহন করিয়েছিলাম নৌযানে,

জহুরুল হক

আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হচ্ছে এই যে আমরা তাদের সন্তান - সন্ততিকে বহন করি বোঝাই করা জাহাজে, - -

Word by word

وَءَايَةٌ لَّهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ

সমকালীন বাংলা

এবং উহাদের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করিয়াছি যাহাতে উহারা আরোহণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদের জন্যে নৌকার অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের জন্যে অনুরূপ নৌযান সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।

জহুরুল হক

আর তাদের জন্য আমরা বানিয়েছি এগুলোর অনুরূপ অন্যান্য যা তারা চড়বে।

Word by word

وَخَلَقْنَا لَهُم مِّن مِّثْلِهِۦ مَا يَرْكَبُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি ইচ্ছা করিলে উহাদেরকে নিমজ্জিত করিতে পারি; সে অবস্থায় উহাদের কোন সাহায্যকারী থাকিবে না এবং উহারা পরিত্রাণও পাইবে না -

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে নিমজ্জত করতে পারি, তখন তাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই এবং তারা পরিত্রাণও পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে তাদের ডুবিয়ে দিতে পারি, তখন তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা এবং তাদের রক্ষাও করতে পারবেনা কেউ।

জহুরুল হক

আর আমরা যদি ইচ্ছা করি তবে তাদের ডুবিয়েও দিতে পারি, তখন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না, আর তাদের উদ্ধার করাও হবে না, - -

Word by word

وَإِن نَّشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنقَذُونَ

সমকালীন বাংলা

আমার অনুগ্রহ না হইলে এবং কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করিতে না দিলে।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে কৃপা এবং তাদেরকে কিছু কাল জীবনোপভোগ করার সুযোগ দেয়ার কারণে তা করি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে আমাদের রহমত পেলে এবং আমরা কিছু সময়ের জন্যে জীবন উপভোগ করার সুযোগ দিলে ভিন্ন কথা।

জহুরুল হক

আমাদের থেকে করুণা ব্যতীত, আর কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগকরণ মাত্র।

Word by word

إِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَمَتَٰعًا إِلَىٰ حِينٍ

সমকালীন বাংলা

যখন উহাদেরকে বলা হয়, ‘যাহা তোমাদের সম্মুখে ও তোমাদের পশ্চাতে আছে সে সম্বন্ধে সাবধান হও যাহাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হইতে পার,’

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সামনের আযাব ও পেছনের আযাবকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের বলা হয়: ‘সতর্ক হও সেই সম্পর্কে, যা তোমাদের সামনে রয়েছে এবং সেই ব্যাপারে যা তোমাদের পেছনে রয়েছে, যাতে করে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের বলা হয় - - ''ভয় করো যা তোমাদের সামনে রয়েছে আর যা তোমাদের পেছনে রয়েছে, যেন তোমাদের প্রতি করুণা করা হয়।’’

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّقُوا۟ مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

সমকালীন বাংলা

এবং যখনই উহাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর কোন নিদর্শন উহাদের নিকট আসে, তখনই উহারা তাহা হইতে মুখ ফিরাইয়া নেয়।

মুহিউদ্দীন খান

যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলীর মধ্যে থেকে কোন নির্দেশ তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখে ফিরিয়ে নেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কাছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের কোনো নিদর্শন এসেছে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

জহুরুল হক

আর তাদের প্রভুর বাণীসমূহের মধ্যে থেকে এমন কোনো বাণী তাদের কাছে আসে নি যা থেকে তারা বরাবর ফিরে না গেছে।

Word by word

وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ ءَايَةٍ مِّنْ ءَايَٰتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهَا مُعْرِضِينَ

সমকালীন বাংলা

যখন উহাদেরকে বলা হয়, তোমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় কর’ তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘যাহাকে ইচ্ছা করিলে খাওয়াইতে পারিতেন আমরা কি তাহাকে খাওয়াইব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রহিয়াছ।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় কর। তখন কাফেররা মুমিনগণকে বলে, ইচ্ছা করলেই যাকে খাওয়াতে পারতেন, আমরা তাকে কেন খাওয়াব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত রয়েছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের বলা হয়েছে, তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো, তখনই কাফিররা মুমিনদের বলেছে: ‘ চাইলে যাকে খাওয়াতে পারতেন, তাকে কি আমরা খাওয়াবো? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছো।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের বলা হয় - - '' তোমাদের যা রিযেক দিয়েছেন তা থেকে খরচ করো।’’ তখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে তাদের যারা বিশ্বাস করেছে - - ''আমরা কি তাদের খাওয়াব যাদের, যদি চাইতেন তবে তিনিই খাওয়াতে পারতেন? তোমরা স্পষ্ট ভুলের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও তো নও।’’

Word by word

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنُطْعِمُ مَن لَّوْ يَشَآءُ ٱللَّهُ أَطْعَمَهُۥٓ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ

সমকালীন বাংলা

উহারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হইবে?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বল এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আরো বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো, কখন আসবে সেই ওয়াদা করা সময়টি (কিয়ামত)?’

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''সেই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’’

Word by word

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

সমকালীন বাংলা

ইহারা তো অপেক্ষায় আছে এক মহানাদের যাহা ইহাদেরকে আঘাত করিবে ইহাদের বাকবিতান্ডাকালে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাকবিতন্ডাকালে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, তারা যে জিনিসের অপেক্ষা করছে, তা এক মহাবিকট শব্দ ছাড়া আর কিছু নয়। সেটা তাদের আঘাত করবে তাদের বিবাদকালেই।

জহুরুল হক

তারা একটিমাত্র মহাগর্জন ছাড়া আর কিছুর অপেক্ষা করছে না, এটি তাদের আঘাত করবে যখন তারা কথা কাটাকাটি করছে।

Word by word

مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُونَ

সমকালীন বাংলা

তখন উহারা ওসিয়াত করিতে সমর্থ হইবে না এবং নিজেদের পরিবার - পরিজনের নিকট ফিরিয়া আসিতেও পারিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তখন তারা ওছিয়ত করতেও সক্ষম হবে না। এবং তাদের পরিবার - পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা কোনো অসিয়ত করতেও সমর্থ হবেনা এবং তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যাবারও সুযোগ পাবেনা।

জহুরুল হক

তখন তারা ওসিয়ৎ করতেও সমর্থ হবে না, আর তারা তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরতেও পারবে না।

Word by word

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَآ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ

সমকালীন বাংলা

যখন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে তখনই তাহারা কবর হইতে ছুটিয়া আসিবে তাহাদের প্রতিপালকের দিকে।

মুহিউদ্দীন খান

শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন (দ্বিতীয়বার) শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, তখন সাথে সাথে তারা কবর থেকে উঠে ছুটে আসবে তাদের প্রভুর দিকে।

জহুরুল হক

আর শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন দেখো! তারা কবরগুলো থেকে তাদের প্রভুর দিকে ছুটে আসবে।

Word by word

وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ ٱلْأَجْدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিবে, ‘হায় ! দুর্ভোগ আমাদের ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল হইতে উঠাইল, তাে এরই ওয়াদা দয়িছেলিনে এবং রসূলগণ সত্য বলছেলিনে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উখিত করল? রহমান তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রসূলগণ সত্য বলেছিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলবে: ‘হায়, ধ্বংস আমাদের, কে উঠালো আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে?’ (বলা হবে:) এটাই হলো সেটা, দয়াময় - রহমান যার ওয়াদা দিয়েছিলেন। আর রসূলরাও সত্য বলেছিলেন।

জহুরুল হক

তারা বলবে - - ''হায় ধিক্ আমাদের! কে আমাদের উঠিয়ে দিলে আমাদের ঘুমানোর স্থান থেকে? এটিই হচ্ছে যা পরম করুণাময় ওয়াদা করেছিলেন, আর রসূলগণ সত্য কথাই বলেছিলেন।’’

Word by word

قَالُوا۟ يَٰوَيْلَنَا مَنۢ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا هَٰذَا مَا وَعَدَ ٱلرَّحْمَٰنُ وَصَدَقَ ٱلْمُرْسَلُونَ

সমকালীন বাংলা

ইহা হইবে কেবল এক মহানাদ ; তখনই ইহাদের সকলকে উপস্থিত করা হইবে আমার সম্মুখে,

মুহিউদ্দীন খান

এটা তো হবে কেবল এক মহানাদ। সে মুহুর্তেই তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটাও হবে মহাবিকট শব্দ, যা সংঘটিত হবার সাথে সাথে সবাইকে হাজির করা হবে আমাদের সামনে।

জহুরুল হক

সেটি একটিমাত্র মহাগর্জন বৈ তো নয়, তখন দেখো! তাদের সমবেতভাবে আমাদের সামনে হাজির করা হবে।

Word by word

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ

সমকালীন বাংলা

আজ কাহারও প্রতি কোন জুলুম করা হইবে না এবং তোমরা যাহা করিতে কেবল তাহারই প্রতিফল দেওয়া হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

আজকের দিনে কারও প্রতি জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে কেবল তারই প্রতিদান পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আজ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র যুলম করা হবেনা এবং তোমরা যা আমল করতে কেবল তারই প্রতিদান দেয়া হবে।

জহুরুল হক

সুতরাং সেইদিন কোনো লোকের প্রতি কিছুমাত্রও অবিচার করা হবে না, আর তোমরাও যা করে থাকতে তা ছাড়া তোমাদের অন্য প্রতিদান দেওয়া হবে না।

Word by word

فَٱلْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْـًٔا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

সমকালীন বাংলা

এই দিন জান্নাতবাসিগণ আনন্দে মনগড়া থাকিবে,

মুহিউদ্দীন খান

এদিন জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আজ জান্নাতের অধিবাসীরা থাকবে আনন্দ আর উৎফুল্লে মশগুল।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ জান্নাতের বাসিন্দারা সেইদিন আনন্দের মাঝে কালাতিপাত করবে।

Word by word

إِنَّ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ ٱلْيَوْمَ فِى شُغُلٍ فَٰكِهُونَ

সমকালীন বাংলা

তাহারা এবং তাহাদের স্ত্রীগণ সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়া বসিবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা এবং তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এবং তাদের স্ত্রীরা/স্বামীরা থাকবে সুমধুর ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে সমাসীন।

জহুরুল হক

তারা ও তাদের সঙ্গিনীরা স্নিগ্ধ ছায়ায় উঁচু আসনের উপরে হেলান দিয়ে বসবে।

Word by word

هُمْ وَأَزْوَٰجُهُمْ فِى ظِلَٰلٍ عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ مُتَّكِـُٔونَ

সমকালীন বাংলা

সেখানে থাকিবে তাহাদের জন্য ফলমূল এবং তাহাদের জন্য বাঞ্ছিত সমস্ত কিছু,

মুহিউদ্দীন খান

সেখানে তাদের জন্যে থাকবে ফল - মূল এবং যা চাইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে সেখানে থাকবে ফলফলারি এবং তারা যা চাইবে সবকিছু।

জহুরুল হক

তাদের জন্য সেখানে থাকবে ফলফসল, আর তাদের জন্য রইবে যা তারা কামনা করে।

Word by word

لَهُمْ فِيهَا فَٰكِهَةٌ وَلَهُم مَّا يَدَّعُونَ

সমকালীন বাংলা

সালাম, পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ হইতে সম্ভাষণ।

মুহিউদ্দীন খান

করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি পরম দয়াবান প্রভুর পক্ষ থেকে সম্ভাষণ হবে - ‘সালাম’।

জহুরুল হক

অফুরন্ত ফলদাতা প্রভুর তরফ থেকে সম্ভাষণ হচ্ছে - - ''সালাম’’।

Word by word

سَلَٰمٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ

সমকালীন বাংলা

আর ‘হে অপরাধিগণ! তোমরা আজ পৃথক হইয়া যাও।’

মুহিউদ্দীন খান

হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন বলা হবে: ‘হে অপরাধীরা! তোমরা আজ আলাদা হয়ে যাও।’

জহুরুল হক

আর ''আজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও, হে অপরাধিগণ!

Word by word

وَٱمْتَٰزُوا۟ ٱلْيَوْمَ أَيُّهَا ٱلْمُجْرِمُونَ

সমকালীন বাংলা

হে বনী আদম! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দিই নাই যে, তোমরা শয়তানের দাসত্ব করিও না, কারণ সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি আদম! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি: ‘‘তোমরা শয়তানের ইবাদত করোনা, কারণ সে তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।

জহুরুল হক

''হে আদম - সন্তানগণ! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিই নি যে তোমরা শয়তানের আরাধনা করবে না, নিঃসন্দেহ সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু, - -

Word by word

أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَٰبَنِىٓ ءَادَمَ أَن لَّا تَعْبُدُوا۟ ٱلشَّيْطَٰنَ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

সমকালীন বাংলা

আর আমারই ‘ইবাদত কর, ইহাই সরল পথ।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর কেবল আমারই ইবাদত করো, এটাই সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল সঠিক পথ)?’’

জহুরুল হক

''বরং তোমরা আমারই উপাসনা করো? এটিই তো শুদ্ধ - সঠিক পথ।

Word by word

وَأَنِ ٱعْبُدُونِى هَٰذَا صِرَٰطٌ مُّسْتَقِيمٌ

সমকালীন বাংলা

শয়তান তো তোমাদের বহু দলকে বিভ্রান্ত করিয়াছিল, তবুও কি তোমরা বুঝ নাই?

মুহিউদ্দীন খান

শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি?

আবদুস শহীদ নাসিম

শয়তান তো তোমাদের বহু মানবদলকে পথভ্রান্ত করেছিল, তবু কি তোমরা বুঝতে পারোনি?

জহুরুল হক

''আর তোমাদের মধ্যের অনেক বড়বড় দলকে সে বিভ্রান্ত করেই ফেলেছে। তবুও কি তোমরা বুঝেসুঝে চলবে না?

Word by word

وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنكُمْ جِبِلًّا كَثِيرًا أَفَلَمْ تَكُونُوا۟ تَعْقِلُونَ

সমকালীন বাংলা

ইহাই সেই জাহান্নাম, যাহার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হইয়াছিল।

মুহিউদ্দীন খান

এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ হলো সেই জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদের দেয়া হয়েছিল।

জহুরুল হক

''এটিই হচ্ছে জাহান্নাম যে - সন্বন্ধে তোমাদের ওয়াদা করা হয়েছিল।

Word by word

هَٰذِهِۦ جَهَنَّمُ ٱلَّتِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ

সমকালীন বাংলা

আজ তোমরা ইহাতে প্রবেশ কর; কারণ তোমরা ইহাকে অবিশ্বাস করিয়াছিলে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এতেই আজ প্রবেশ করো, কারণ তোমরা কুফুরি করেছিলে।

জহুরুল হক

''এতে তোমরা প্রবেশ করো আজকের দিনে যেহেতু তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে।’’

Word by word

ٱصْلَوْهَا ٱلْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি আজ ইহাদের মুখ মোহর করিয়া দিব, ইহাদের হস্ত কথা বলিবে আমার সঙ্গে এবং ইহাদের চরণ সাক্ষ্য দিবে ইহাদের কৃতকর্মের।

মুহিউদ্দীন খান

আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আজ তাদের মুখ সীলমোহর করে দেবো এবং আমাদের সাথে কথা বলবে তাদের হাত আর সাক্ষ্য দেবে তাদের পা সে সম্পর্কে, যা তারা কামাই করেছিল।

জহুরুল হক

সেইদিন আমরা তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব, বরং তাদের হাত আমাদের সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে - সন্বন্ধে।

Word by word

ٱلْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰٓ أَفْوَٰهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَآ أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি ইচ্ছা করিলে অবশ্যই ইহাদের চক্ষুগুলিকে লোপ করিয়া দিতাম, তখন ইহারা পথ চলিতে চাহিলে কি করিয়া দেখিতে পাইত!

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে তাদের চোখ বিলুপ্ত (অন্ধ) করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথ চলতে চাইলে কি চলতে পারতো?

জহুরুল হক

আর আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা তাদের চোখের উপরে দৃষ্টিহীনতা এনে দিতাম, তখন তারা পথের দিকে ধাওয়া করত, কিন্তু কেমন করে তারা দেখতে পাবে?

Word by word

وَلَوْ نَشَآءُ لَطَمَسْنَا عَلَىٰٓ أَعْيُنِهِمْ فَٱسْتَبَقُوا۟ ٱلصِّرَٰطَ فَأَنَّىٰ يُبْصِرُونَ

সমকালীন বাংলা

এবং আমি ইচ্ছা করিলে অবশ্যই স্বস্বস্থানে ইহাদের আকৃতি পরিবর্তন করিয়া দিতাম, ফলে ইহারা চলিতে পারিত না এবং ফিরিয়াও আসিতে পারিত না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্ব স্ব স্থানে আকার বিকৃত করতে পারতাম, ফলে তারা আগেও চলতে পারত না এবং পেছনেও ফিরে যেতে পারত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে তাদের স্বস্থানে তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে বিকৃত করে দিতে পারতাম, তখন তারা কোথাও যেতেও পারতোনা, ফিরেও আসতে পারতোনা

জহুরুল হক

আর আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা তাদের বাড়িগুলোতেই তাদের নিশ্চল - নিস্তব্ধ করে দিতাম, তখন তারা এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে না, ফিরে আসতেও পারবে না।

Word by word

وَلَوْ نَشَآءُ لَمَسَخْنَٰهُمْ عَلَىٰ مَكَانَتِهِمْ فَمَا ٱسْتَطَٰعُوا۟ مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি যাহাকে দীর্ঘ জীবন দান করি প্রকৃতিগতভাবে তাহার অবনতি ঘটাই। তবুও কি উহারা বুঝে না?

মুহিউদ্দীন খান

আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তাকে সৃষ্টিগত পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেই। তবুও কি তারা বুঝে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তার সৃষ্টিগত প্রকৃতির অবনতি ঘটিয়ে দেই। তবু কি তারা বুঝার চেষ্টা করবেনা?

জহুরুল হক

আর যাকে আমরা দীর্ঘ জীবন দান করি তাকে তো আমরা সৃষ্টিতে ঘুরিয়ে দিই। তবুও কি তারা বুঝে না।

Word by word

وَمَن نُّعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِى ٱلْخَلْقِ أَفَلَا يَعْقِلُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি রাসূলকে কাব্য রচনা করিতে শিখাই নাই এবং ইহা তাহার পক্ষে শোভনীয় নয়। ইহা তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন;

মুহিউদ্দীন খান

আমি রসূলকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং তা তার জন্যে শোভনীয়ও নয়। এটা তো এক উপদেশ ও প্রকাশ্য কোরআন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে (মুহাম্মদকে) আমরা কবিতা রচনা করতে শিখাইনি এবং এটা তাঁর জন্যে উপযুক্ত কাজও নয়। এ - তো একটা উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন ছাড়া আর কিছুই নয়,

জহুরুল হক

আর আমরা তাঁকে কবিত্ব শেখাই নি, আর তা তাঁর পক্ষে সমীচীনও নয়। এটি স্মারক গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কুরআন বৈ তো নয়, - -

Word by word

وَمَا عَلَّمْنَٰهُ ٱلشِّعْرَ وَمَا يَنۢبَغِى لَهُۥٓ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْءَانٌ مُّبِينٌ

সমকালীন বাংলা

যাহাতে সে সতর্ক করিতে পারে জীবিতগণকে এবং যাহাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা সত্য হইতে পারে।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তিনি সতর্ক করেন জীবিতকে এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে সে জীবিত লোকদের সতর্ক করতে পারে এবং যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে শাস্তির ফায়সালা সত্য হতে পারে।

জহুরুল হক

যেন তিনি সাবধান করতে পারেন তাকে যে জীবন্ত রয়েছে, আর অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে রায় ন্যায়সঙ্গত হয়েছে।

Word by word

لِّيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ

সমকালীন বাংলা

উহারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমার হাতে সৃষ্ট বস্তুসমূহের মধ্যে উহাদের জন্য আমি সৃষ্টি করিয়াছি ‘আন‘আম’ তথা চতুষ্পদ জন্তু এবং উহারাই এইগুলির অধিকারী?

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি দেখে না, তাদের জন্যে আমি আমার নিজ হাতের তৈরী বস্তুর দ্বারা চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা, আমরা আমাদের হাতে যেসব জিনিস তৈরি করেছি, তার মধ্যে তাদের জন্যে পশুও তৈরি করেছি এবং তারাই সেগুলোর মালিক হয়?

জহুরুল হক

তারা কি লক্ষ্য করে নি যে আমরাই তো তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি আমাদের হাত যা বানিয়েছে তা থেকে গবাদি - পশুগুলো, তারপর তারাই এগুলোর মালিক হয়ে যায়?

Word by word

أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّا خَلَقْنَا لَهُم مِّمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَآ أَنْعَٰمًا فَهُمْ لَهَا مَٰلِكُونَ

সমকালীন বাংলা

এবং আমি এইগুলিকে তাহাদের বশীভূত করিয়া দিয়াছি। এইগুলির কতক তাহাদের বাহন এবং উহাদের কতক তাহারা আহার করে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এগুলোকে তাদের হাতে অসহায় করে দিয়েছি। ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা ভক্ষণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সেগুলোকে করে দিয়েছি তাদের বশীভূত। ফলে সেগুলোর কিছু পশুকে তারা ব্যবহার করে বাহন হিসেবে, আর তারা আহার করে কিছু পশুর গোশত।

জহুরুল হক

আর এগুলোকে আমরা তাদের বশীভূত করে দিয়েছি, ফলে এদের মধ্যের কিছু তাদের বাহন আর এদের কিছু তারা খায়।

Word by word

وَذَلَّلْنَٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ

সমকালীন বাংলা

তাহাদের জন্য এইগুলিতে আছে বহু উপকারিতা আর আছে পানীয় বস্তু। তবুও কি তাহারা কৃতজ্ঞ হইবে না?

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে অনেক উপকারিতা ও পানীয় রয়েছে। তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেগুলোতে তাদের জন্যে রয়েছে বহু রকম মুনাফা, রয়েছে পানীয় (দুধ)। তবু কি তারা শোকর আদায় করবেনা?

জহুরুল হক

আর তাদের জন্য এগুলোতে রয়েছে উপকারিতা, আর পানীয় বস্তু। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?

Word by word

وَلَهُمْ فِيهَا مَنَٰفِعُ وَمَشَارِبُ أَفَلَا يَشْكُرُونَ

সমকালীন বাংলা

তাহারা তো পরিবর্তে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করিয়াছে এই আশায় যে, তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ তারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করে এই আশা নিয়ে যে, তাদের সাহায্য করা হবে।

জহুরুল হক

আর তারা ‌কে বাদ দিয়ে উপাস্যদের গ্রহণ করেছে যাতে তাদের সাহায্য করা হয়।

Word by word

وَٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ ءَالِهَةً لَّعَلَّهُمْ يُنصَرُونَ

সমকালীন বাংলা

কিন্তু এইসব ইলাহ্ তাহাদেরকে সাহায্য করিতে সক্ষম নয়; তাহাদেরকে উহাদের বাহিনীরূপে উপস্থিত করা হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

অথচ এসব উপাস্য তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে না এবং এগুলো তাদের বাহিনী রূপে ধৃত হয়ে আসবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব ইলাহ্ তাদের সাহায্য করার সামর্থ রাখেনা। তাদেরকে তাদের (পূজারীদের) বিরুদ্ধে বাহিনী হিসেবে হাজির করা হবে।

জহুরুল হক

ওরা কোনো ক্ষমতা রাখে না তাদের সাহায্য করার, বরং তারা হবে এদের জন্য এক বাহিনী যাদের হাজির করা হবে।

Word by word

لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُندٌ مُّحْضَرُونَ

সমকালীন বাংলা

অতএব তাহাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। আমি তো জানি যাহা তাহারা গোপন করে এবং যাহা তাহারা ব্যক্ত করে।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে দুঃখিত না করে। আমি জানি যা তারা গোপনে করে এবং যা তারা প্রকাশ্যে করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তাদের কথাবার্তা যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। আমরা জানি তারা যা গোপন করে, আর যা করে প্রকাশ।

জহুরুল হক

সুতরাং তাদের কথাবার্তা তোমাকে যেন কষ্ট না দেয়। আমরা নিশ্চয়ই জানি যা তারা লুকিয়ে রাখে আর যা তারা প্রকাশ করে।

Word by word

فَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ

সমকালীন বাংলা

মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাহাকে সৃষ্টি করিয়াছি রক্তবিন্দু হইতে? অথচ পরে সে হইয়া পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ কি দেখেনা, আমরা তাদের সৃষ্টি করেছি নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে? কিন্তু তারপর তারা (আমাদের বিরুদ্ধেই) সুস্পষ্ট বিতর্ককারী হয়ে দাঁড়ায়।

জহুরুল হক

আচ্ছা, মানুষ কি দেখে না যে আমারা তাকে নিশ্চয়ই এক শুক্রকীট থেকে সৃষ্টি করেছি? তারপর, কি আশ্চর্য! সে একজন প্রকাশ্য বিতর্ককারী হয়ে যায়।

Word by word

أَوَلَمْ يَرَ ٱلْإِنسَٰنُ أَنَّا خَلَقْنَٰهُ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ

সমকালীন বাংলা

এবং সে আমার সম্বন্ধে উপমা রচনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলিয়া যায়। সে বলে, ‘কে অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করিবে যখন উহা পচিয়া গলিয়া যাইবে?’

মুহিউদ্দীন খান

সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভূত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আমাদের সম্পর্কে দৃষ্টান্ত তৈরি করে এবং ভুলে যায় তার সৃষ্টির কথা। সে বলে: ‘পঁচে গলে মাটির সাথে মিশে যাবার পর হাড়গোড়ে কে সঞ্চার করবে প্রাণ?

জহুরুল হক

আর সে আমাদের সদৃশ বানায়, আর ভুলে যায় তার নিজের সৃষ্টির কথা। সে বলে - - ''হাড় - গোড়ের মধ্যে কে প্রাণ দেবে যখন তা গলে - পচে যাবে?’’

Word by word

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِىَ خَلْقَهُۥ قَالَ مَن يُحْىِ ٱلْعِظَٰمَ وَهِىَ رَمِيمٌ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘উহার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করিবেন তিনিই যিনি ইহা প্রথমবার সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘তাতে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনি, যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানী।’

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''তিনিই তাতে প্রাণ সঞ্চার করবেন যিনি প্রথমবারে তাদের সৃজন করেছিলেন। আর তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা, - -

Word by word

قُلْ يُحْيِيهَا ٱلَّذِىٓ أَنشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ

সমকালীন বাংলা

তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ হইতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং তোমরা উহা হইতে কর।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্যে সবুজ গাছ থেকে উৎপাদন করেন আগুন এবং তোমরা তা প্রজ্জ্বলিত করো।

জহুরুল হক

যিনি তোমাদের জন্য সবুজ গাছ থেকে আগুন তৈরি করেন, তারপর দেখো! তোমরা তা দিয়ে আগুন জ্বালো।

Word by word

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُم مِّنَ ٱلشَّجَرِ ٱلْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَآ أَنتُم مِّنْهُ تُوقِدُونَ

সমকালীন বাংলা

যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি কি তাহাদের অনুরূপ সৃষ্টি করিতে সমর্থ নন? হাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি মহাকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, (অবশ্যি) তিনি মহাজ্ঞানী মহান স্রষ্টা।

জহুরুল হক

আচ্ছা, যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হাঁ, বস্তুতঃ তিনিই তো মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞাতা।

Word by word

أَوَلَيْسَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِقَٰدِرٍ عَلَىٰٓ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُم بَلَىٰ وَهُوَ ٱلْخَلَّٰقُ ٱلْعَلِيمُ

সমকালীন বাংলা

তাঁহার ব্যাপার শুধু এই, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তিনি উহাকে বলেন, ‘হও’, ফলে উহা হইয়া যায়।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর সৃষ্টির নির্দেশ কার্যকর হয় তো এভাবে, তিনি যখন কিছু চান, তাকে বলেন, ‘হও’, সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে যায়।

জহুরুল হক

যখন তিনি কোনো - কিছু ইচ্ছা করেন তখন তাঁর নির্দেশ হল যে তিনি সে - সন্বন্ধে শুধু বলেন - - ''হও’’, আর তা হয়ে যায়।

Word by word

إِنَّمَآ أَمْرُهُۥٓ إِذَآ أَرَادَ شَيْـًٔا أَن يَقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ

সমকালীন বাংলা

অতএব পবিত্র ও মহান তিনি, যাঁহার হস্তেই প্রত্যেক বিষয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব; আর তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং পবিত্র ও মহান তিনি, যাঁর হাতে রয়েছে প্রতিটি জিনিসের কর্তৃত্ব এবং তাঁরই কাছে ফেরত নেয়া হবে তোমাদের।

জহুরুল হক

সুতরাং সকল মহিমা তাঁরই যাঁর হাতে রয়েছে সমস্ত কিছুর শাসনভার, আর তাঁরই নিকট তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

Word by word

فَسُبْحَٰنَ ٱلَّذِى بِيَدِهِۦ مَلَكُوتُ كُلِّ شَىْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme