You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আন্ নাজআ’ত (মুক্তি)
Chapter 79, 46 verses
সমকালীন বাংলা
মুহিউদ্দীন খান
আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক
সমকালীন বাংলা
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ তাদের, যারা প্রবলভাবে টেনে বের করে,
মুহিউদ্দীন খান
শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা উৎপাটন করে,
আবদুস শহীদ নাসিম
শপথ সেই (ফেরেশতাদের), যারা অত্যন্ত কঠোর ও নির্মমভাবে টেনে হিচঁড়ে বের করে নেয় ( ও দুষ্কৃতকারীদের প্রাণ)।
জহুরুল হক
ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড - প্রচেষ্টার কথা;
সমকালীন বাংলা
এবং যারা কোমলভাবে মুক্ত করে,
মুহিউদ্দীন খান
শপথ তাদের, যারা আত্মার বাঁধন খুলে দেয় মৃদুভাবে;
আবদুস শহীদ নাসিম
আর শপথ সেই (ফেরেশতাদের) যারা অত্যন্ত কোমলভাবে বের করে আনে (মুমিনদের আত্মা)।
জহুরুল হক
আর ক্ষিপ্রগামীদের ত্বরিত এগুনোয়,
সমকালীন বাংলা
আর যারা তীব্র গতিতে সাঁতার কাটে,
মুহিউদ্দীন খান
শপথ তাদের, যারা সন্তরণ করে দ্রুতগতিতে,
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং শপথ সেইসব (ফেরেশতা, কিংবা গ্রহের) যারা সাঁতরে চলে।
জহুরুল হক
আর সন্তরণকারীদের দ্রত সন্তরণে,
সমকালীন বাংলা
এবং যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়,
মুহিউদ্দীন খান
শপথ তাদের, যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় এবং
আবদুস শহীদ নাসিম
আর শপথ সেইসব (ফেরেশতা, নক্ষত্র, কিংবা ঘোড়ার) যারা নির্দেশক্রমে সবেগে ধাবিত হয়।
জহুরুল হক
আর অগ্রগামীরা এগিয়েই চলেছে,
সমকালীন বাংলা
অতঃপর যারা বিষয়সমূহ পরিচালনা করে,
মুহিউদ্দীন খান
শপথ তাদের, যারা সকল কর্মনির্বাহ করে, কেয়ামত অবশ্যই হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর শপথ সেই (ফেরেশতাদের) যারা তাদের প্রভুর নির্দেশক্রমে কার্য সম্পাদন করে থাকে।
জহুরুল হক
তারপর ঘটনানিয়ন্ত্রণকারীদের কথা!
সমকালীন বাংলা
যেদিন প্রকম্পনকারী প্রকম্পিত করবে,
মুহিউদ্দীন খান
যেদিন প্রকম্পিত করবে প্রকম্পিতকারী,
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন যখন (প্রথমবার শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে), তখন (পৃথিবী, পাহাড় সবই) প্রবল ধাক্কায় বিশৃংখল হয়ে পড়বে।
জহুরুল হক
সেদিন স্পন্দিত হবে বিরাট স্পন্দনে,
সমকালীন বাংলা
তারপর আরেকটি প্রকম্পন,
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী;
আবদুস শহীদ নাসিম
প্রথমটিকে অনুসরণ করবে আরেকটি শিংগাধবনি (তখন পুনরুত্থিত হবে সব মানুষ)।
জহুরুল হক
পরবর্তী ঘটনা তাকে অনুসরণ করবেই।
সমকালীন বাংলা
কত হৃদয় সেই দিন সন্ত্রস্ত হইবে,
মুহিউদ্দীন খান
সেদিন অনেক হৃদয় ভীত - বিহবল হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
কতো হৃদয় সেদিন কম্পমান হবে ভয়ে।
জহুরুল হক
হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে,
সমকালীন বাংলা
তাদের দৃষ্টিসমূহ হবে অবনত,
মুহিউদ্দীন খান
তাদের দৃষ্টি নত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের দৃষ্টি হবে (অপমানে) অবনমিত।
জহুরুল হক
তাদের চোখ হবে অবনত।
সমকালীন বাংলা
তারা বলবে, “আমাদের কি সত্যিই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে?”
মুহিউদ্দীন খান
তারা বলেঃ আমরা কি উলটো পায়ে প্রত্যাবর্তিত হবই -
আবদুস শহীদ নাসিম
এরা বলে: ‘‘(মরার পর) আমাদের কি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে (জীবিত করে) আনা হবে?
জহুরুল হক
তারা বলছে - - ''আমরা কি সত্যিই প্রথমাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব?
সমকালীন বাংলা
“ক্ষয়প্রাপ্ত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরেও?”
মুহিউদ্দীন খান
গলিত অস্থি হয়ে যাওয়ার পরও?
আবদুস শহীদ নাসিম
আমাদের হাড় - গোড় পঁচে গলে (বিনাশ হয়ে) যাবার পরও?’’
জহুরুল হক
''যখন আমরা গলা - পচা হাড্ডি হয়ে যাব তখনও?’’
সমকালীন বাংলা
তারা বলবে, “তবে তো এ প্রত্যাবর্তন হবে সর্বনাশা!”
মুহিউদ্দীন খান
তবে তো এ প্রত্যাবর্তন সর্বনাশা হবে!
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘তবে তো সেটা হবে এক বড় ক্ষতিকর ফিরে আসা।’
জহুরুল হক
তারা বলে - - ''তাই যদি হয় তবে এ হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন।’’
সমকালীন বাংলা
প্রকৃতপক্ষে তা একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ,
মুহিউদ্দীন খান
অতএব, এটা তো কেবল এক মহা - নাদ,
আবদুস শহীদ নাসিম
আসল ব্যাপার হলো, ওটা হবে এক বিকট আওয়ায (দ্বিতীয় শিংগা ধ্বনি)।
জহুরুল হক
কিন্ত এটি নিশ্চয়ই হবে একটি মহাগর্জন,
সমকালীন বাংলা
তারপর তারা উন্মুক্ত ভূমিতে উপস্থিত হবে,
মুহিউদ্দীন খান
তখনই তারা ময়দানে আবির্ভূত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(সেই বিকট ধ্বনির) সাথে সাথেই তারা নিজেদেরকে জীবিত হাজির দেখতে পাবে এক উন্মুক্ত ময়দানে।
জহুরুল হক
তখন দেখো! তারা হবে জাগ্রত।
সমকালীন বাংলা
তোমার কাছে কি মূসার সংবাদ পৌঁছেছে?
মুহিউদ্দীন খান
মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি?
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার কাছে মূসার হাদিস (ইতিহাস, ঘটনাবলি) পৌছেছে কি?
জহুরুল হক
তোমার কাছে মূসার কাহিনী পৌঁছেছে কি? - -
সমকালীন বাংলা
যখন তার প্রতিপালক তাকে পবিত্র 'তুওয়া' উপত্যকায় আহ্বান করেছিলেন,
মুহিউদ্দীন খান
যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করেছিলেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন তার প্রভু তাকে পবিত্র তোয়া উপত্যকায় ডেকে বলেছিলেন:
জহুরুল হক
যখন তাঁর প্রভু তাঁকে আহ্বান করেছিলেন পবিত্র উপত্যকা 'তুওয়া’তে - -
সমকালীন বাংলা
“ফিরাউনের কাছে যাও; নিশ্চয়ই সে সীমালঙ্ঘন করেছে।”
মুহিউদ্দীন খান
ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
ফেরাউনের কাছে যাও, সে লংঘন করেছে সমস্ত সীমা।
জহুরুল হক
''ফিরআউনের কাছে যাও, সে নিশ্চয়ই বিদ্রোহ করেছে - -
সমকালীন বাংলা
“এবং তাকে বলো, ‘তুমি কি পরিশুদ্ধ হতে চাও?’”
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর বলঃ তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি গিয়ে তাকে বলো: তুমি কি (কুফর, শিরক ও সীমালংঘন থেকে) পবিত্র হবে?
জহুরুল হক
''তারপর বলো - - 'তোমার কি আগ্রহ আছে যে তুমি পবিত্র হও?’
সমকালীন বাংলা
“এবং আমি কি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথ দেখাবো, যাতে তুমি ভীত হও?”
মুহিউদ্দীন খান
আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমি কি তোমাকে সঠিক পথ দেখাবো তোমার মালিকের দিকে, যাতে করে তোমার মধ্যে জাগ্রত হয় তাঁর ভয়?
জহুরুল হক
''আমি তাহলে তোমাকে তোমার প্রভুর দিকে পরিচালিত করব যেন তুমি ভয় করো’।’’
সমকালীন বাংলা
অতঃপর তিনি তাকে মহা নিদর্শন দেখিয়েছিলেন,
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর সে তাকে মহা - নিদর্শন দেখাল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর সে (মূসা) তার (ফেরাউনের) কাছে গিয়ে তাকে অনেক বড় নিদর্শন দেখালো।
জহুরুল হক
তারপর তিনি তাকে দেখালেন একটি বিরাট নিদর্শন।
সমকালীন বাংলা
কিন্তু সে অস্বীকার করেছিল এবং অবাধ্য হয়েছিল,
মুহিউদ্দীন খান
কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অমান্য করল।
আবদুস শহীদ নাসিম
কিন্তু সে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করলো এবং অমান্য করলো।
জহুরুল হক
কিন্ত সে মিথ্যা আরোপ করল ও অবাধ্য হল।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর সে প্রতিকার চেষ্টায় প্রস্থান করল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর সে ষড়যন্ত্র অাঁটার প্রচেষ্টায় পিছু হটলো।
জহুরুল হক
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
সমকালীন বাংলা
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
মুহিউদ্দীন খান
সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল,
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর (জনতাকে) সমবেত করে ঘোষণা দিলো।
জহুরুল হক
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
সমকালীন বাংলা
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
মুহিউদ্দীন খান
এবং বললঃ আমিই তোমাদের সেরা পালনকর্তা।
আবদুস শহীদ নাসিম
বললো: ‘আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু।’
জহুরুল হক
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
সমকালীন বাংলা
তখন তাকে পরকাল ও ইহকালের শাস্তির জন্য ধরলেন।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দিলেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তাকে কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করলেন তার শেষ ও প্রথম সীমা লংঘনের জন্যে।
জহুরুল হক
সেজন্য তাকে পাকড়াও করলেন পরকালের ও পূর্বের জীবনের দৃষ্টান্ত বানিয়ে।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই এতে শিক্ষা রয়েছে তার জন্য, যে ভয় করে।
মুহিউদ্দীন খান
যে ভয় করে তার জন্যে অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অবশ্যি এ ঘটনার মধ্যে শিক্ষামূলক উপদেশ রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্যে, যে ভয় করে (আল্লাহকে)।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ এতে বাস্তব শিক্ষা রয়েছে তার জন্য যে ভয় করে।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের সৃষ্টি কি অধিক কঠিন, না আকাশের? তিনি তা নির্মাণ করেছেন,
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের সৃষ্টি করা বেশি কঠিন কাজ, না মহাকাশ সৃষ্টি করা? তিনিই তো সৃষ্টি করেছেন এই (মহাকাশ)।
জহুরুল হক
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ - সব বানিয়েছেন।
সমকালীন বাংলা
তিনি তার উচ্চতাকে সুউচ্চ করেছেন, অতঃপর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
মুহিউদ্দীন খান
তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই অনেক উপরে উঠিয়েছেন এর উচ্চতা, অতপর তাকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
জহুরুল হক
তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
সমকালীন বাংলা
৭৯–২৯ : এবং তার রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন ও তার সকালকে আলোকিত করেছেন,
মুহিউদ্দীন খান
তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর রাতকে তিনি ঢেকে দেন অন্ধকার দিয়ে, আর দিনকে বের করে আনেন আলোকিত করে।
জহুরুল হক
আর এর রাতকে তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন এর দিবালোক।
সমকালীন বাংলা
এবং এরপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন,
মুহিউদ্দীন খান
পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
এরপর তিনি বিছিয়ে দিয়েছেন পৃথিবীকে।
জহুরুল হক
আর পৃথিবী - - এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন।
সমকালীন বাংলা
তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি বের করেছেন,
মুহিউদ্দীন খান
তিনি এর মধ্য থেকে এর পানি ও ঘাম নির্গত করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
তার (পৃথিবীর) মধ্য থেকেই বের করেছেন তার পানি ও তৃণ - লতা (উদ্ভিদ)।
জহুরুল হক
এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভূমি।
সমকালীন বাংলা
এবং পর্বতমালাকে সুদৃঢ়ভাবে গ্রথিত করেছেন,
মুহিউদ্দীন খান
পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং তার মধ্যে মজবুতভাবে গেড়ে দিয়েছেন পাহাড় - পর্বত।
জহুরুল হক
আর পাহাড় - পর্বত - - তিনি তাদের মজবুতভাবে বসিয়ে দিয়েছেন, - -
সমকালীন বাংলা
তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবিকার জন্য।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের ও তোমাদের চতুস্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(এসবই করেছেন) তোমাদের ও তোমাদের পশুদের কল্যাণার্থে।
জহুরুল হক
তোমাদের জন্য ও তোমাদের গবাদি - পশুর জন্য খাদ্যের আয়োজন।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর যখন মহাবিপর্যয় আসবে,
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর যেদিন ঘটে যাবে মহাবিপর্যয়,
জহুরুল হক
তারপর যখন ভীষণ দুর্বিপাক আসবে,
সমকালীন বাংলা
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে সে কিসের জন্য কষ্ট করেছিল,
মুহিউদ্দীন খান
অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন মানুষ খুব করে স্মরণ করবে তার (পৃথিবীর জীবনের) সা’য়ীর (ব্যস্ততা ও কৃতকর্মের) কথা,
জহুরুল হক
সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে যার জন্য সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল,
সমকালীন বাংলা
এবং জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে, যে দেখবে তার জন্য,
Note
জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
جَهَنَّم (Jahannam)
الْجَحِيم (Al-Jaḥīm)
سَقَر (Saqar)
لَظَى (Laẓā)
الْحُطَمَة (Al-Ḥuṭamah)
السَّعِير (As-Saʿīr)
الْهَاوِيَة (Al-Hāwiyah)
মুহিউদ্দীন খান
এবং দর্শকদের জন্যে জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে,
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং যেদিন দর্শকদের সামনে খুলে ধরা হবে জাহিম (দোযখ),
জহুরুল হক
আর ভয়ংকর আগুন দৃষ্টিগোচর করানো হবে যে দেখে তার জন্য।
সমকালীন বাংলা
অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করেছে,
মুহিউদ্দীন খান
তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে;
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন (এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে যে,) পৃথিবীর জীবনে যারা সীমালংঘন করেছিল,
জহুরুল হক
তাছাড়া তার ক্ষেত্রে যে সীমালংঘন করেছে,
সমকালীন বাংলা
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
মুহিউদ্দীন খান
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং (আখিরাতের চাইতে) অগ্রাধিকার দিয়েছিল দুনিয়ার জীবনকে,
জহুরুল হক
এবং দুনিয়ার জীবনকেই বেছে নিয়েছে,
সমকালীন বাংলা
তবে নিশ্চয়ই জাহিম হবে তার আশ্রয়,
মুহিউদ্দীন খান
তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের আবাস হবে জাহিম (দোযখ)।
জহুরুল হক
সেক্ষেত্রে অবশ্য ভয়ংকর আগুন, - - সেটাই তো বাসস্থান।
সমকালীন বাংলা
অপরদিকে যে তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীত হয়েছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে,
মুহিউদ্দীন খান
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল - খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে,
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যে তার মহান প্রভুর সামনে দাঁড়াবার ভয়ে ভীত ছিলো এবং নিজেকে আত্মার দাসত্ব ও মন্দ কামনা - বাসনা থেকে বিরত রেখেছিল,
জহুরুল হক
পক্ষান্তরে যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে ভয় করে এবং আত্মাকে কামনা - বাসনা থেকে নিবৃত্ত রাখে - -
সমকালীন বাংলা
তবে নিশ্চয়ই বেহেশতই হবে তার আশ্রয়,
মুহিউদ্দীন খান
তার ঠিকানা হবে জান্নাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
জান্নাতই হবে তাদের আবাস।
জহুরুল হক
সেক্ষেত্রে অবশ্য জান্নাত, - - সেটাই তো বাসস্থান।
সমকালীন বাংলা
তারা তোমাকে সেই সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, ‘তা কখন ঘটবে?’
মুহিউদ্দীন খান
তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কখন হবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে মুহাম্মদ!) এরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে সেই সময়টি সম্পর্কে - তা কখন অনুষ্ঠিত হবে?
জহুরুল হক
তারা ঘড়ি - ঘান্টা সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে - - কখন তার আগমন হবে?’’
সমকালীন বাংলা
সে ব্যাপারে আপনার কী বলার আছে?
মুহিউদ্দীন খান
এর বর্ণনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক ?
আবদুস শহীদ নাসিম
(কিন্তু) এ ব্যাপারে বলার কী জ্ঞান তোমার আছে?
জহুরুল হক
এ - সন্বন্ধে বলবার মতো তোমার কী আছে?
সমকালীন বাংলা
তার চূড়ান্ত জ্ঞান তোমার প্রতিপালকের কাছেই,
মুহিউদ্দীন খান
এর চরম জ্ঞান আপনার পালনকর্তার কাছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর জ্ঞান তো শুধুমাত্র তোমার প্রভুর নিকটই সীমাবদ্ধ।
জহুরুল হক
এর চরম সীমা রয়েছে তোমার প্রভুর নিকট।
সমকালীন বাংলা
তুমি তো কেবল সতর্ককারী তার জন্য, যে তাকে ভয় করে,
মুহিউদ্দীন খান
যে একে ভয় করে, আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র, তাদের জন্যে যারা তাকে (কিয়ামতকে) ভয় করে।
জহুরুল হক
তুমি তো শুধু সতর্ককারী তার জন্য যে এ - সন্বন্ধে ভয় করে।
সমকালীন বাংলা
যেদিন তারা তা দেখবে, মনে হবে যেন তারা কেবল এক সন্ধ্যা বা সকালের বেশী অবস্থান করেনি।
মুহিউদ্দীন খান
যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন তারা সে দিনটিকে দেখতে পাবে, তারা অনুভব করবে, পৃথিবীতে তারা কাটিয়েছে একটি সন্ধ্যা, কিংবা একটি সকাল মাত্র।
জহুরুল হক
যেদিন তারা একে দেখবে সেদিন যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যাবেলা বা তার প্রভাতকাল ব্যতীত অবস্থান করে নি।