পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; হা - মীম।
হা, মীম!
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা - মিম।
Chapter 40, 85 verses
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; হা - মীম।
হা, মীম!
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা - মিম।
অবতীর্ণ হয়েছে এই কিতাব আল্লাহর নিকট হইতে সর্বশক্তিমান সবর্জ্ঞ।
এই গ্রন্থের অবতারণ মহাশক্তিশালী, সর্বজ্ঞাতা র কাছ থেকে,
تنزيل الكتاب من الله العزيز العليم
এই কিতাব নাযিল হচ্ছে মহাশক্তিধর মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে।
যিনি পাপ ক্ষমা করেন, তওবা কবুল করেন, যিনি শাস্তিদানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। প্রত্যাবর্তন তাঁহারই নিকট।
পাপ থেকে পরিত্রাণকারী ও তওবা কবুলকারী, প্রতিফলদানে কঠোর, উদারতার অধীশ্বর। তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, তাঁরই কাছে শেষ - আগমন।
غافر الذنب وقابل التوب شديد العقاب ذي الطول ۖ لا إله إلا هو ۖ إليه المصير
যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী এবং কঠোর শাস্তিদাতা ও পরম দয়াবান। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সবাইকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে।
কেবল কাফিররাই আল্লাহর নিদর্শন সম্বন্ধে বিতর্ক করে; সুতরাং দেশে দেশে তাহাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।
র নির্দেশাবলী সন্বন্ধে কেউ বচসা করে না, কেবল তারা ছাড়া যারা অবিশ্বাস করে, সুতরাং শহরে - নগরে তাদের চলাফেরা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে।
ما يجادل في آيات الله إلا الذين كفروا فلا يغررك تقلبهم في البلاد
কাফিররা ছাড়া আর কেউই আল্লাহর আয়াত নিয়ে তর্ক করেনা। দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেনো তোমাকে প্রতারিত না করে।
ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাহাদের পরে অন্যান্য দলও অস্বীকার করিয়াছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রাসূলকে আবদ্ধ করিবার অভিসন্ধি করিয়াছিল এবং উহারা অসার তর্কে লিপ্ত হইয়াছিল, উহা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করিয়া দিবার জন্য। ফলে আমি উহাদেরকে পাকড়াও করিলাম এবং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!
এদের আগে নূহের স্বজাতি প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর তাদের পরের অন্যান্য দলও, আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ই তাদের রসূল সন্বন্ধে মতলব করেছিল তাঁকে ধরে আনতে, আর তারা তর্কাতর্কি করত মিথ্যার সাহায্যে যেন তার দ্বারা তারা সত্যকে পঙ্গু করে ফেলতে পারে, ফলে আমি তাদের পাকড়াও করলাম, সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তিদান!
كذبت قبلهم قوم نوح والأحزاب من بعدهم ۖ وهمت كل أمة برسولهم ليأخذوه ۖ وجادلوا بالباطل ليدحضوا به الحق فأخذتهم ۖ فكيف كان عقاب
তাদের আগেও (আল্লাহর রসূলকে) প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের জাতি এবং তাদের পরে অন্যান্য সম্প্রদায়। প্রত্যেক উম্মতই তাদের নিজ নিজ রসূলকে আবদ্ধ করার চক্রান্ত করেছিল এবং তারা অর্থহীন বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল সত্যকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে। ফলে আমি তাদের পাকড়াও করেছিলাম এবং কতো যে নিকৃষ্ট ছিলো আমার সেই আযাব।
এইভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে সত্য হইল তোমার প্রতিপালকের বাণী - ইহারা জাহান্নামী।
আর এভাবেই তোমার প্রভুর বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে যারা অবিশ্বাস করেছিল - - যে তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা।
وكذلك حقت كلمت ربك على الذين كفروا أنهم أصحاب النار
এভাবেই কাফিরদের জন্যে প্রযোজ্য হয়েছিল তোমার প্রভুর এই ফায়সালা যে, তারা জাহান্নামী।
যাহারা ‘আরশ ধারণ করিয়া আছে এবং যাহারা ইহার চতুষ্পার্শ্ব ঘিরিয়া আছে, তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সঙ্গে এবং তাঁহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী। অতএব যাহারা তওবা করে ও তোমার পথ অবলম্বন করে তুমি তাহাদেরকে ক্ষমা কর এবং জাহান্নামের শাস্তি হইতে রক্ষা কর।’
যারা আরশ বহন করে আর যারা এর চারপাশে রয়েছে তারা তাদের প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করছে আর তাঁর প্রতি বিশ্বাস করছে, আর পরিত্রাণ প্রার্থনা করছে তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করেছে - - ''আমাদের প্রভু! তুমি সব - কিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছ করুণার ও জ্ঞানের দ্বারা, কাজেই তুমি পরিত্রাণ করো তাদের যারা ফিরেছে ও তোমার পথ অনুসরণ করেছে, আর তাদের রক্ষা করো জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে।
الذين يحملون العرش ومن حوله يسبحون بحمد ربهم ويؤمنون به ويستغفرون للذين آمنوا ربنا وسعت كل شيء رحمة وعلما فاغفر للذين تابوا واتبعوا سبيلك وقهم عذاب الجحيم
যারা (যেসব ফেরেশতা) আল্লাহর আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা আছে আরশের চারপাশে, তারা তাদের প্রভুর প্রশংসাসহ তসবিহ করছে। তারা তাঁর প্রতি ঈমান রাখে এবং তারা মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা বলে: ‘‘আমাদের প্রভু! সর্বত্র পরিব্যাপ্ত রয়েছে তোমার রহমত এবং এলেম। সুতরাং তুমি সেইসব লোকদের ক্ষমা করে দাও যারা তওবা করেছে এবং তোমার পথের অনুসরণ করেছে, আর তুমি তাদের রক্ষা করো জাহিমের (জাহান্নামের) আযাব থেকে।
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাহাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যাহার প্রতিশ্রুতি তুমি তাহাদেরকে দিয়াছ এবং তাহাদের পিতামাতা, পতি - পত্নী ও সন্তান - সন্ততিদের মধ্যে যাহারা সৎকর্ম করিয়াছে তাহাদেরকেও। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
''আমাদের প্রভু! আর তাদের প্রবেশ করাও নন্দন - কাননে যা তুমি ওয়াদা করেছিলে তাদের জন্য, আর যারা সৎকর্ম করেছে - - তাদের বাপদাদাদের ও তাদের পতি - পত্নীদের ও তাদের সন্তান - সন্ততিদের মধ্যে থেকে। নিঃসন্দেহ তুমি নিজেই মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।
ربنا وأدخلهم جنات عدن التي وعدتهم ومن صلح من آبائهم وأزواجهم وذرياتهم ۚ إنك أنت العزيز الحكيم
আমাদের প্রভু! তুমি তাদের দাখিল করো চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের দিয়েছো এবং তাদের বাবা - মা, স্বামী - স্ত্রী ও সন্তানদের যারা শুদ্ধতার ও পুণ্যের কাজ করছে তাদেরকেও দাখিল করো তাতে। নিশ্চয়ই তুমি মহাশক্তিমান ও প্রজ্ঞাময়।
‘এবং তুমি তাহাদেরকে শাস্তি হইতে রক্ষা কর। সেই দিন তুমি যাহাকে শাস্তিহইতে রক্ষা করিবে, তাহাকে তো অনুগ্রহই করিবে; ইহাই তো মহাসাফল্য।’
''আর তাদের রক্ষা করো মন্দ থেকে। আর সেইদিন যাকে তুমি মন্দ থেকে রক্ষা করবে তাকে তো তুমি আলবৎ করুণা করেছ। আর এইটিই খোদ মহাসাফল্য।’’
وقهم السيئات ۚ ومن تق السيئات يومئذ فقد رحمته ۚ وذلك هو الفوز العظيم
আর তুমি তাদের রক্ষা করো সমস্ত অনিষ্ট ও অমঙ্গল থেকে, আর সেদিন তুমি যাকে রক্ষা করবে অনিষ্ট - অমঙ্গল থেকে, অবশ্যি তার প্রতি রহম (অনুগ্রহ) করবে। আর এটাই হবে (তার জন্যে) মহাসাফল্য।’’
নিশ্চয় কাফিরদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হইবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর অপ্রসন্নতা ছিল অধিক - যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করা হইয়াছিল আর তোমরা তাহা অস্বীকার করিয়াছিলে।’
নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের ঘোষণা করা হবে - - ''র বিরূপতা তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের বিরক্তির চেয়েও অনেক বেশী ছিল, কেননা ধর্মবিশ্বাসের প্রতি তোমাদের আহ্বান করা হচ্ছিল অথচ তোমরা প্রত্যাখ্যান করছিলে!’’
إن الذين كفروا ينادون لمقت الله أكبر من مقتكم أنفسكم إذ تدعون إلى الإيمان فتكفرون
যারা কুফুরি করেছে তাদের ডেকে বলা হবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের ক্ষোভের চাইতে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টিই ছিলো অধিক, যখন তোমাদের ডাকা হয়েছিল ঈমানের দিকে, অথচ তোমরা অস্বীকার করছিলে ঈমান আনতে।’
উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থায় দুইবার রাখিয়াছ এবং দুইবার আমাদেরকে প্রাণ দিয়াছ। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করিতেছি; এখন নিষ্ক্রমণের কোন পথ মিলিবে কি?’
তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভু! তুমি দুইবার আমাদের মৃত্যুমুখে ফেলেছ, আর তুমি আমাদের দুইবার জীবন দান করেছ, কাজেই আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি সুতরাং বেরুনোর কোনো পথ আছে কী?’’
قالوا ربنا أمتنا اثنتين وأحييتنا اثنتين فاعترفنا بذنوبنا فهل إلى خروج من سبيل
তখন তারা বলবে: ‘প্রভু! তুমি আমাদের দুইবার প্রাণহীন (মৃত) অবস্থায় রেখেছিলে আর জীবিত করেছো দুইবার। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। এখন এখান থেকে বের হবার কোনো পথ পাওয়া যাবে কি?’
‘তোমাদের এই শাস্তি তো এইজন্য যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হইত তখন তোমরা তাঁহাকে অস্বীকার করিতে এবং আল্লাহর শরীক স্থির করা হইলে তোমরা তাহা বিশ্বাস করিতে।’ বস্তুত সমুচ্চ মহান আল্লাহর সমস্ত কর্তৃত্ব।
''এটিই তোমাদের, কেননা যখন কে তাঁর একত্ব সন্বন্ধে ঘোষণা করা হতো তখন তোমরা অবিশ্বাস করতে, আর যদি তাঁর সঙ্গে অংশী দাঁড় করানো হতো তাহলে তোমরা বিশ্বাস করতে। বস্তুতঃ হুকুম র - - মহোচ্চ, মহামহিম।
ذلكم بأنه إذا دعي الله وحده كفرتم ۖ وإن يشرك به تؤمنوا ۚ فالحكم لله العلي الكبير
(বলা হবে:) ‘তোমাদের এই শাস্তি তো এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো তোমরা তাঁর প্রতি কুফুরি করতে, অথচ তাঁর সাথে কেউ শরিক সাব্যস্ত করলে সে কথার প্রতি তোমারা ঈমান আনতে।’ মূলত সমস্ত কর্তৃত্বের মালিক তো এক সর্বোচ্চ মহান ।
তিনিই তোমাদেরকে তাঁহার নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হইতে প্রেরণ করেন তোমাদের জন্য রিযিক, অভিমূখি ব্যাক্তিই উপদেশ গ্রহন করে।
তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পাঠিয়ে থাকেন রিযেক। আর কেউ মনোনিবেশ করে না সে ব্যতীত যে ফেরে।
هو الذي يريكم آياته وينزل لكم من السماء رزقا ۚ وما يتذكر إلا من ينيب
তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখান এবং আসমান থেকে নাযিল করেন তোমাদের রিযিক। আল্লাহর অভিমুখী ব্যক্তিই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
কে ডাক তাঁহার আনুগত্যে একনিষ্ঠ হইয়া, যদিও কাফিররা ইহা অপচন্দ করে।
সুতরাং কেই আহ্বান করো তাঁর প্রতি ধর্মে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিরূপ হয়।
فادعوا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون
অতএব, আল্লাহকে ডাকো তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে, যদিও কাফিররা এটা পছন্দ করেনা।
তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি, তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা ওহী প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশসহ, যাহাতে সে সতর্ক করিতে পারে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে।
তিনি স্তরে স্তরে উন্নয়ণকারী, আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর আদেশক্রমে রূহ পাঠিয়ে থাকেন তাঁর বান্দাদের মধ্যের যার প্রতি তিনি ইচ্ছা করে থাকেন, যেন সে সতর্ক করতে পারে মহামিলনের দিন সম্পর্কে - -
رفيع الدرجات ذو العرش يلقي الروح من أمره على من يشاء من عباده لينذر يوم التلاق
তিনি উঁচু মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর নির্দেশ প্রেরণ করেন অহির মাধ্যমে, যাতে করে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে (মানুষকে) সতর্ক করতে পারে।
যেদিন মানুষ বাহির হইয়া পড়িবে সেদিন আল্লাহর নিকট উহাদের কিছুই গোপন থাকিবে না। আজ কর্তৃত্ব কাহার? আল্লাহরই, যিনি এক, পরাক্রমশালী।
যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, র সমক্ষে তাদের সন্বন্ধে কিছুই লুকোনো থাকবে না। ''আজকের দিনে কার রাজত্ব?’’ ''একক সার্বভৌম কর্তৃত্বশীল র।’’
يوم هم بارزون ۖ لا يخفى على الله منهم شيء ۚ لمن الملك اليوم ۖ لله الواحد القهار
সেদিন তাদের সব কিছু প্রকাশ হয়ে পড়বে। আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন নেই। (সেদিন জিজ্ঞাসা করা হবে:) আজ সমস্ত কর্তৃত্ব কার? (সমস্ত সৃষ্টি বলে উঠবে:) আল্লাহর, যিনি এক, মহাপরাক্রমশালী।
আজ প্রত্যেককে তাহার কৃতকর্মের ফল দেওয়া হইবে; আজ কোন জুলুম করা হইবে না। হিসাব গ্রহনে তৎপর।
সেইদিন প্রত্যেক সত্ত্বাকে প্রতিদান দেওয়া হবে যা সে অর্জন করেছে তার দ্বারা। সেইদিন কোনো অবিচার হবে না। নিঃসন্দেহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।
اليوم تجزى كل نفس بما كسبت ۚ لا ظلم اليوم ۚ إن الله سريع الحساب
আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হবে। আজ কারো প্রতি কোনো প্রকার যুলুম (অবিচার) করা হবেনা। দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
উহাদেরকে সতর্ক করিয়া দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে যখন দুঃখ - কষ্টে উহাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হইবে। জালিমদের জন্য কোন অন্তরংগ বন্ধু নাই, যাহার সুপারিশ গ্রাহ্য হইবে এমন কোন সুপারিশকারীও নাই।
আর তুমি তাদের সাবধান করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে যখন হৃৎপিন্ডগুলো দুঃখকষ্টে কন্ঠাগত হবে। অন্যায়াচারীদের জন্য কোনো বন্ধু থাকবে না, আর থাকবে না কোনো সুপারিশকারী শুনবার মতো।
وأنذرهم يوم الآزفة إذ القلوب لدى الحناجر كاظمين ۚ ما للظالمين من حميم ولا شفيع يطاع
তাদের সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে যখন দুঃখ - দুদর্শায় তাদের প্রাণ হবে কণ্ঠাগত। যালিমদের জন্যে কোনো সহমর্মী থাকবে না এবং এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না, যার সুপারিশ গ্রহণ করা যেতে পারে।
চক্ষুর অপব্যবহার ও অন্তরে যাহা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।
তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে।
يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور
চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের গোপন কথা তিনি জানেন।
আল্লাহই বিচার করেন সঠিকভাবে। আল্লাহর পরিবর্তে উহারা যাহাদেরকে ডাকে তাহারা বিচার করিতে অক্ষম। সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
আর বিচার করেন সঠিকভাবে, কিন্ত তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের তারা আহ্বান করে তারা কোনো কিছুরই সমাধান করতে পারে না। নিঃসন্দেহ - - তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
والله يقضي بالحق ۖ والذين يدعون من دونه لا يقضون بشيء ۗ إن الله هو السميع البصير
ন্যায় বিচার করবেন। তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে, তারা বিচার করতে অক্ষম। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
ইহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করিলে দেখিত - ইহাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হইয়াছিল। পৃথিবীতে উহারা ছিল ইহাদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর। অতঃপর উহাদেরকে শাস্তি দিয়াছিলেন উহাদের অপরাধের জন্য এবং শাস্তি হইতে উহাদেরকে রক্ষা করিবার কেহ ছিল না।
এরা কি দুনিয়াতে পরিভ্রমণ করে নি, করলে দেখত কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী? তারা তো ছিল বলবিক্রমে এদের চেয়েও প্রবল আর দুনিয়াদারির কৃতিত্বেও, কিন্ত তাদের পাকড়াও করলেন তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের জন্য র থেকে কোনো রক্ষাকারী নেই।
۞ أولم يسيروا في الأرض فينظروا كيف كان عاقبة الذين كانوا من قبلهم ۚ كانوا هم أشد منهم قوة وآثارا في الأرض فأخذهم الله بذنوبهم وما كان لهم من الله من واق
তারা কি জমিনে পরিভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের আগেকার () লোকদের কী অবস্থা হয়েছিল? তারা ছিলো এদের চাইতেও শক্তিশালী এবং পৃথিবীতে অধিক প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী। তাদের অপরাধের জন্যে তাদেরকেও পাকড়াও করেছিলেন। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ ছিলনা।
ইহা এইজন্য যে, উহাদের নিকট উহাদের রাসূলগণ নিদর্শনসহ আসিলে উহারা তাহাদেরকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল। ফলে উহাদেরকে শাস্তি দিলেন। তিনি তো শক্তিশালী, শাস্তিদানে কঠোর।
এমনটাই! কেন না তাদের ক্ষেত্রে - - তাদের রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্ত তারা অবিশ্বাস করেছিল, কাজেই তাদের পাকড়াও করলেন। নিঃসন্দেহ তিনি মহাশক্তিশালী, প্রতিফলদানে কঠোর।
ذلك بأنهم كانت تأتيهم رسلهم بالبينات فكفروا فأخذهم الله ۚ إنه قوي شديد العقاب
এর কারণ, তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে, কিন্তু তারা (ঈমান আনতে) অস্বীকার করে। ফলে তাদের পাকড়াও করেন। তিনি অতি শক্তিশালী, কঠোর শাস্তিদাতা।
আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করিয়াছিলাম,
আর আমরা নিশ্চয়ই মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নির্দেশাবলী ও স্পষ্ট কর্তৃত্ত্ব দিয়ে,
ولقد أرسلنا موسى بآياتنا وسلطان مبين
আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শন এবং সুস্পষ্ট প্রমাণসহ
ফির‘আওন, হামান ও কারূনের নিকট কিন্তু উহারা বলিয়াছিল, ‘এই লোকটা তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।’
ফিরআউন ও হামান ও ক্কারূনের কাছে, কিন্ত তারা বলল - - ''একজন জাদুকর, মিথ্যাবাদী।’’
إلى فرعون وهامان وقارون فقالوا ساحر كذاب
ফেরাউন, হামান ও কারূণের কাছে। কিন্তু তারা তাকে বলেছিল: ‘এতো এক ম্যাজেসিয়ান কট্টর মিথ্যাবাদী।’
অতঃপর মূসা আমার নিকট হইতে সত্য লইয়া উহাদের নিকট উপস্থিত হইলে উহারা বলিল, ‘মূসার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছে, তাহাদের পুত্র - সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাহাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ।’ কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হইবেই।
তারপর যখন তিনি আমাদের তরফ থেকে সত্য নিয়ে তাদের কাছে এলেন তখন তারা বলল, ''তার সঙ্গে যারা বিশ্বাস করেছে তাদের ছেলেদের কোতল করো ও বাঁচতে দাও তাদের মেয়েদের।’’ বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের চক্তান্ত ব্যর্থ বৈ তো নয়।
فلما جاءهم بالحق من عندنا قالوا اقتلوا أبناء الذين آمنوا معه واستحيوا نساءهم ۚ وما كيد الكافرين إلا في ضلال
যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সত্য পৌঁছালো, তারা বললো: ‘মূসার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করো, আর জীবিত রাখো তাদের নারীদের।’ কাফিরদের চক্রান্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য।
ফির‘আওন বলিল, ‘আমাকে ছাড়িয়া দাও আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তাহার প্রতিপালকের শরণাপন্ন হউক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দীনের পরিবর্তন ঘটাইবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে।’
আর ফিরআউন বলল - - ''আমাকে ছেড়ে দাও যাতে আমি মূসাকে বধ করতে পারি, আর সে তার প্রভুকে ডাকতে থাকুক, নিঃসন্দেহ আমি আশঙ্কা করছি যে সে তোমাদের ধর্মমত বদলে দেবে, অথবা সে দেশের মধ্যে বিপর্যয়ের প্রসার করবে।
وقال فرعون ذروني أقتل موسى وليدع ربه ۖ إني أخاف أن يبدل دينكم أو أن يظهر في الأرض الفساد
ফেরাউন বললো: ‘তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে কতল করে ফেলবো, সে তার প্রভুকে ডেকে দেখুক (তাকে রক্ষা করতে পারে কিনা)। আমি আশংকা করছি সে তোমাদের দীন (রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রক্ষমতা) বদল করে ফেলবে, কিংবা দেশে সৃষ্টি করবে বিপর্যয় বিশৃংখলা।’
মূসা বলিল, ‘যাহারা বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না, সেই সকল উদ্ধত ব্যক্তি হইতে আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের শরণাপন্ন হইয়াছি।’
আর মূসা বললেন - - ''আমি নিশ্চয়ই আমার প্রভুর ও তোমাদের প্রভুর আশ্রয় চাইছি প্রত্যেক অহংকারী থেকে যে হিসেব - নিকেশের দিনের প্রতি বিশ্বাস করে না।’’
وقال موسى إني عذت بربي وربكم من كل متكبر لا يؤمن بيوم الحساب
মূসা বললো: ‘হিসাবের দিনের প্রতি ঈমান রাখেনা এমন প্রত্যেক দাম্ভিক ব্যক্তি থেকে আমি আমার ও তোমাদের প্রভুর আশ্রয় গ্রহণ করেছি।’
ফির‘আওন বংশের এক ব্যক্তি, যে ছিল এবং নিজ ঈমান গোপন রাখিত, বলিল, ‘তোমরা কি এক ব্যক্তিকে এইজন্য হত্যা করিবে যে, সে বলে, ‘আমার প্রতিপালক অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আসিয়াছে? সে মিথ্যাবাদী হইলে তাহার মিথ্যাবাদিতার জন্য সে দায়ী হইবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, সে তোমাদেরকে যে শাস্তির কথা বলে, তাহার কিছু তো তোমাদের উপর আপতিত হইবেই।’ নিশ্চয় সীমালংঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
আর ফিরআউনের লোকদের থেকে একজন ব্যক্তি যে তার ঈমান লুকিয়ে রেখেছিল, বলল - - ''তোমরা কি একজন লোককে হত্যা করবে যেহেতু তিনি বলেন, 'আমার প্রভু ’, আর নিঃসন্দেহ তিনি তোমাদের প্রভুর কাছ থে কে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছেন? আর তিনি যদি মিথ্যাবাদী হতেন তাহলে তিনি তোমাদের যে - সবের ভয় দেখান তার কতকটা তোমাদের উপরে আপতিত হবে। নিঃসন্দেহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না যে অমিতাচারী, প্রত্যাখ্যানকারী।
وقال رجل مؤمن من آل فرعون يكتم إيمانه أتقتلون رجلا أن يقول ربي الله وقد جاءكم بالبينات من ربكم ۖ وإن يك كاذبا فعليه كذبه ۖ وإن يك صادقا يصبكم بعض الذي يعدكم ۖ إن الله لا يهدي من هو مسرف كذاب
তখন ফেরাউন সভাসদদের এক ব্যক্তি, যে এতোদিন তার ঈমান গোপন করে রেখেছিল, বললো: ‘‘ আমার প্রভু’ শুধু একথাটি বলার কারণেই কি তোমরা একজন মহাপুরুষকে হত্যা করবে? অথচ তিনি তো তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। তোমরা যে তাঁকে মিথ্যাবাদী বলছো, তিনি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকলে তাঁর মিথ্যার দায় দায়িত্ব তো তাঁর। কিন্তু তিনি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন, তবে যেসব ভয়ংকর পরিণতির কথা তিনি বলছেন তার কিছুটা হলেও তো গ্রাস করবে তোমাদের। সীমালংঘনকারী মিথ্যাবাদীদের সঠিক পথ দেখান না।
‘হে আমার সম্প্রদায়! আজ কর্তৃত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল; কিন্তু আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আসিয়া পড়িলে কে আমাদেরকে সাহায্য করিবে?’ ফির‘আওন বলিল, ‘আমি যাহা বুঝি, আমি তোমাদেরকে তাহাই বলিতেছি। আমি তোমাদেরকে কেবল সৎপথই দেখাইয়া থাকি।’
''হে আমার স্বজাতি! তোমাদেরই আজ রাজত্ব চলছে, তোমরা দেশে সর্বপ্রধান, কিন্ত কে আমাদের সাহায্য করবে র দুর্যোগ থেকে যদি তা আমাদের উপরে এসে পড়ে?’’ ফিরআউন বলল - - ''আমি তোমাদের দেখাই না যা আমি না দেখি, আর আমি তোমাদের পরিচালিত করি না সঠিক পথে ছাড়া।’’
يا قوم لكم الملك اليوم ظاهرين في الأرض فمن ينصرنا من بأس الله إن جاءنا ۚ قال فرعون ما أريكم إلا ما أرى وما أهديكم إلا سبيل الرشاد
হে আমার জাতির ভাইয়েরা! আজ তোমরা রাজত্বের অধিকারী এবং এই ভূখন্ডের বিজয়ী শক্তি। কিন্তু আল্লাহর আযাব এসে পড়লে আমাদের সাহায্য করার কে আছে?’’ ফেরাউন (তার বক্তব্যের মাঝখানে) বলে উঠে: ‘আমি যে পথ ভালো মনে করছি সে পথই তোমাদের দেখাচ্ছি আর আমি তো তোমাদের সঠিক পথই দেখাচ্ছি।’
ব্যক্তিটি বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের শাস্তির দিনের অনুরূপ দুর্দিনের আশংকা করি -
আর যে বিশ্বাস করেছিল সে বলল - - ''হে আমার স্বজাতি! আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আশঙ্কা করছি যেমনটা ঘটেছিল সম্মিলিতগোষ্ঠীর দিনে,
وقال الذي آمن يا قوم إني أخاف عليكم مثل يوم الأحزاب
যে ঈমান এনেছিল সে বললো: ‘‘হে আমার জাতির ভাইয়েরা! আমি আশংকা করছি, তোমাদের উপর সে রকম আযাব না এসে যায়, যে রকম আযাব এসেছিল ইতোপূর্বে (নিজেদের নবীকে অস্বীকার ও অমান্য করার কারণে) বিভিন্ন জাতির উপর।
‘যেমন ঘটিয়াছিল নূহ্, ‘আদ, সামূদ এবং তাহাদের পূর্ববর্তীদের ব্যাপারে। তো বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করিতে চান না।
''যেমন ধরনে নূহ - এর ও 'আদ - এর ও ছামুদের সম্প্রদায়ের উপরে, আর যারা ছিল তাদের পরবর্তী। আর বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম চান না।
مثل دأب قوم نوح وعاد وثمود والذين من بعدهم ۚ وما الله يريد ظلما للعباد
যেমন এসেছিল নূহের কওম, আদ, সামুদ এবং তাদের পরবর্তী জাতিসমূহের উপর। আর একথা জেনে রেখো, কখনো তাঁর দাসদের প্রতি অবিচার করেননা।
‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি আর্তনাদ দিবসের,
''আর হে আমার স্বজাতি! আমি নিঃসন্দেহ তোমাদের জন্য আশঙ্কা করছি পরস্পর ডাকাডাকির দিন সন্বন্ধে - -
ويا قوم إني أخاف عليكم يوم التناد
হে আমার কওম! আমি আশংকা করছি, তোমাদের উপর এমন একটি সময় এসে পড়বে, যখন তোমরা ফরিয়াদ করবে, অনুশোচনা করবে, একে অপরকে ডাকতে থাকবে।
‘যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরিয়া পলায়ন করিতে চাহিবে। আল্লাহর শাস্তি হইতে তোমাদেরকে রক্ষা করিবার কেহ থাকিবে না। যাহাকে পথভ্রষ্ট করেন তাহার জন্য কোন পথপ্রদর্শক নাই।’
''সেইদিন তোমরা ফিরবে পলায়নপর হয়ে, র থেকে তোমাদের জন্য কোনো রক্ষাকারী থাকবে না। আর যাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন তার জন্য তবে কোনো পথপ্রদর্শক থাকবে না।
يوم تولون مدبرين ما لكم من الله من عاصم ۗ ومن يضلل الله فما له من هاد
সেদিন তোমরা দৌড়ে পালাতে থাকবে, কিন্তু তখন আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাবার কেউ থাকবেনা। আসলে যাকে বিপথগামী করে দেন তাকে কেউ সঠিক পথ দেখাতে পারেনা।’’
পূর্বেও তোমাদের নিকট ইউসুফ আসিয়াছিল স্পষ্ট নিদর্শনসহ; কিন্তু সে তোমাদের নিকট যাহা লইয়া আসিয়াছিল তোমরা তাহাতে বারবার সন্দেহ পোষণ করিতে। পরিশেষে যখন ইউসুফের মৃত্যু হইল তখন তোমরা বলিয়াছিলে, ‘তাহার পরে আর কোন রাসূল প্রেরণ করিবেন না।’ এইভাবে বিভ্রান্ত করেন সীমালংঘনকারী সংশয়বাদীদেরকে।
''আর নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে এর আগে ইউসুফ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্ত তোমরা বরাবর সন্দেহের মধ্যে ছিলে তিনি যা নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিলেন সে - সন্বন্ধে। কিন্ত যখন তিনি মৃতুবরণ করলেন তখন তোমরা বললে - - ' কখনো তাঁর পরে কোনো রসূল দাঁড় করাবেন না।’ এইভাবেই পথভ্রষ্ট হতে দেন তাকে যে স্বয়ং অমিতাচারী, সন্দেহভাজন - -
ولقد جاءكم يوسف من قبل بالبينات فما زلتم في شك مما جاءكم به ۖ حتى إذا هلك قلتم لن يبعث الله من بعده رسولا ۚ كذلك يضل الله من هو مسرف مرتاب
ইতোপূর্বে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিলেন (আল্লাহর নবী) ইউসুফ। তোমরা তাঁর আনীত শিক্ষার ব্যাপারেও সন্দেহই পোষণ করেছিলে। তাঁর মৃত্যুর পর তোমরা বলেছিলে: ‘এখন আর কোনো রসূল পাঠাবেন না। এভাবেই সেসব লোকদের গোমরাহিতে নিক্ষেপ করেন, যারা সীমালংঘনকারী সংশয়পরায়ণ।’
যাহারা নিজেদের নিকট কোন দলীল - প্রমাণ না থাকিলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়, তাহাদের এই কর্ম এবং মু’মিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণার্হ। এইভাবে প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করিয়া দেন।
''যারা তর্ক করে র বাণী সন্বন্ধে তাদের কাছে কোনো দলিল - প্রমাণের আগমন ব্যতীত। এটি খুবই ঘৃণিত র কাছে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছে। এইভাবেই মোহর মেরে দেন প্রত্যেক গর্বিত স্বৈরাচারীর হৃদয়ের উপরে।’’
الذين يجادلون في آيات الله بغير سلطان أتاهم ۖ كبر مقتا عند الله وعند الذين آمنوا ۚ كذلك يطبع الله على كل قلب متكبر جبار
তারা আল্লাহর আয়াতের (নিদর্শনের) ব্যাপারে বিবাদ করে, অথচ এ ব্যাপারে তাদের মতের সপক্ষে কোনো সার্টিফিকেট আসেনি। আল্লাহর কাছে এবং ঈমানদারদের কাছে বড়ই ঘৃণা ও ক্রোধ উদ্রেককারী তাদের এ আচরণ। এভাবেই তিনি সীল মোহর মেরে দেন প্রত্যেক দাম্ভিক স্বৈরাচারীর কলবে।
ফির‘আওন বলিল, ‘হে হামান! আমার জন্য তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাহাতে আমি পাই অবলম্বন -
আর ফিরআউন বলল - - ''হে হামান! আমার জন্য একটি মিনার তৈরি কর যাতে আমি পথ পেতে পারি - -
وقال فرعون يا هامان ابن لي صرحا لعلي أبلغ الأسباب
ফেরাউন বললো: ‘‘হে হামান! আমার জন্যে একটি উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করো, যাতে আমি পথসমূহে উঠতে পারি,
‘অবলম্বন আসমানে আরোহণের, যেন দেখিতে পাই মূসার ইলাহ্কে; তবে আমি তো উহাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি।’ এইভাবে ফির‘আওনের নিকট শোভনীয় করা হইয়াছিল তাহার মন্দ কর্মকে এবং তাহাকে নিবৃত্ত করা হইয়াছিল সরল পথ হইতে এবং ফির‘আওনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হইয়াছিল সম্পূর্ণরূপে।
''মহাকাশমন্ডলীর পথ, যাতে আমি মূসার উপাস্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারি, কিন্ত আমি নিঃসন্দেহ তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।’’ আর এইভাবেই ফিরআউনের জন্য চিত্তাকর্ষক করা হয়েছিল তার কাজের মন্দদিকটা, আর তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল পথ থেকে। আর ফিরআউনের ফন্দি ধ্বংসের মধ্যে ছাড়া আর কিছু নয়।
أسباب السماوات فأطلع إلى إله موسى وإني لأظنه كاذبا ۚ وكذلك زين لفرعون سوء عمله وصد عن السبيل ۚ وما كيد فرعون إلا في تباب
আসমানের পথসমূহে, যেখান থেকে আমি মূসার ইলাহকে উঁকি মেরে দেখতে পাবো। তবে আমি তাকে (মূসাকে) মিথ্যাবাদী বলেই মনে করি।’’ এভাবেই ফেরাউনের জন্যে তার দুষ্কর্মসমূহ সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে এবং থামিয়ে দেয়া হয়েছে তার জন্যে সোজা পথে চলা। তবে ফেরাউনের সব চক্রান্ত তাকেই ঠেলে দিয়েছে ধ্বংসের পথে।
ব্যক্তিটি বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করিব।
আর যে ঈমান এনেছিল সে বলল - - ''হে আমার স্বজাতি! তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদের চালিয়ে নিয়ে যাব সঠিক পথ ধরে।
وقال الذي آمن يا قوم اتبعون أهدكم سبيل الرشاد
যে ঈমান এনেছিল, সে আরো বললো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের সঠিক পথ দেখাবো।
‘হে আমার সম্প্রদায়! এই পার্থিব জীবন তো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু এবং আখিরাতই হইতেছে চিরস্থায়ী আবাস।
''হে আমার স্বজাতি! নিশ্চয় দুনিয়ার এই জীবনটা সুখভোগ মাত্র, আর অবশ্য পরকাল - - সেটি হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।
يا قوم إنما هذه الحياة الدنيا متاع وإن الآخرة هي دار القرار
হে আমার কওম! এই দুনিয়ার জীবনটা তো সামান্য ভোগের সময় মাত্র। আর আখিরাতই হলো চিরস্থায়ী আবাস।
‘কেহ মন্দ কর্ম করিলে সে কেবল তাহার কর্মের অনুরূপ শাস্তিপাইবে এবং পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যাহারা হইয়া সৎকর্ম করে তাহারা দাখিল হইবে জান্নাতে, সেখানে তাহাদেরকে দেওয়া হইবে অপরিমিত জীবনোপকরণ।
''যে কেউ মন্দ কাজ করে তাকে তবে প্রতিদান দেওয়া হবে না তার সমান - সমান ব্যতীত, আর যে কেউ ভাল কাজ করে - - সে পুরুষ হোক বা নারী, আর সে হয় - - তাহলে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের বেহিসাব রিযেক দেওয়া হবে।
من عمل سيئة فلا يجزى إلا مثلها ۖ ومن عمل صالحا من ذكر أو أنثى وهو مؤمن فأولئك يدخلون الجنة يرزقون فيها بغير حساب
যে কেউ কোনো মন্দ কাজ করবে, তাকে ততোটুকু প্রতিফলই দেয়া হবে। কিন্তু যে কোনো পুরুষ বা নারী আমলে সালেহ্ করবে, তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে। সেখানে তাদের রিযিক দেয়া হবে বেহিসাব।
‘হে আমার সম্প্রদায়! কী আশ্চর্য! আমি তোমাদেরকে আহ্বান করিতেছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে ডাকিতেছ অগ্নির দিকে!
''আর হে আমার স্বজাতি! আমার কী হয়েছে যে আমি তোমাদের আহ্বান করছি মুক্তির দিকে, অথচ তোমরা আমাকে ডাকছো আগুনের দিকে?
۞ ويا قوم ما لي أدعوكم إلى النجاة وتدعونني إلى النار
হে আমার কওম! এটা কেমন ব্যাপার, আমি তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি নাজাতের দিকে, অথচ তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছো জাহান্নামের দিকে!
‘তোমরা আমাকে বলিতেছ আল্লাহকে অস্বীকার করিতে এবং তাঁহার সমকক্ষ দাঁড় করাইতে, যাহার সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নাই; পক্ষান্তরে আমি তোমাদেরকে আহ্বান করিতেছি পরাক্রমশীল আল্লাহর দিকে।
''তোমরা আমাকে আহ্বান করছ যেন আমি কে অবিশ্বাস করি ও তাঁর সঙ্গে শরীক করি তাকে যার সন্বন্ধে আমার কোনো জ্ঞান নেই, পক্ষান্তরে আমি তোমাদের ডাকছি মহাশক্তিশালী, পরিত্রাণকারীর দিকে।
تدعونني لأكفر بالله وأشرك به ما ليس لي به علم وأنا أدعوكم إلى العزيز الغفار
তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছো, যেনো আমি আল্লাহর প্রতি কুফুরি করি এবং তাঁর সাথে শিরক করি, যে ব্যাপারে আমার কোনো এলেম নেই। অথচ আমি তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি মহাপরাক্রমশালী অতীব দয়াবানের দিকে।
নিঃসন্দেহে তোমরা আমাকে আহ্বান করিতেছ এমন একজনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও আহ্বানযোগ্য নয়। বস্তুত আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহর নিকট এবং সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।
''কোনো সন্দেহ নেই যে তোমরা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছ তার কোনো দাবি এই দুনিয়াতে নেই এবং পরকালেও নেই, আর আমাদের প্রত্যাবর্তন তো রই কাছে, আর নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা - - তারাই আগুনের বাসিন্দা।
لا جرم أنما تدعونني إليه ليس له دعوة في الدنيا ولا في الآخرة وأن مردنا إلى الله وأن المسرفين هم أصحاب النار
সন্দেহ নেই, প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, তোমরা আমাকে যেসব জিনিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছো, সেগুলো এই দুনিয়ার জীবনেও দোয়া কবুল করার যোগ্যতা রাখেনা, আখিরাতেও নয়। আমাদের ফিরে যেতে হবে আল্লাহরই দিকে। আর অবশ্যি সীমালংঘনকারীরা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
‘আমি তোমাদেরকে যাহা বলিতেছি, তোমরা তাহা অচিরেই স্মরণ করিবে এবং আমি আমার ব্যাপারে আল্লাহতে অর্পন করতেছি; তাঁহার বান্দাদের প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন
''সেজন্য অচিরেই তোমরা স্মরণ করবে আমি তোমাদের যা বলছি, আর আমার কাজের ভার তে অর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দাদের সম্পর্কে সর্বদ্রষ্টা।’’
فستذكرون ما أقول لكم ۚ وأفوض أمري إلى الله ۚ إن الله بصير بالعباد
আমি তোমাদের যেসব কথা বলছি, তোমরা অচিরেই তা স্মরণ করবে। আমি আমার নিজের বিষয়টা ছেড়ে দিচ্ছি আল্লাহর উপর। নিশ্চয়ই তাঁর দাসদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন।’’
অতঃপর তাহাকে উহাদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্ট হইতে রক্ষা করিলেন এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করিল ফির‘আওন সম্প্রদায়কে।
তারপর তাঁকে তারা যা ফন্দি এটেছিলঁ তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছিলেন, আর ফিরআউনের লোকদের জন্য এক ভীষণ শাস্তি ঘেরাও করেছিল, - -
فوقاه الله سيئات ما مكروا ۖ وحاق بآل فرعون سوء العذاب
ফলে তাকে রক্ষা করেন তাদের ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত থেকে। পক্ষান্তরে নিকৃষ্ট ধরনের আযাবের চক্রে পড়ে যায় ফেরাউনের সাংগ পাংগরাই।
উহাদেরকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সম্মুখে সকাল ও সন্ধ্যায় এবং যেদিন কিয়ামত ঘটিবে সেদিন বলা হইবে, ‘ফিরআওন - সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ কর কঠিন শাস্তিতে।’
আগুন - - তাদের এর কাছে আনা হবে সকালে ও সন্ধ্যায়, আর যেদিন ঘড়িঘন্টা এসে দাঁড়াবে - - ''ফিরআউনের লোকদের প্রবেশ করাও কঠোরতম শাস্তিতে।’’
النار يعرضون عليها غدوا وعشيا ۖ ويوم تقوم الساعة أدخلوا آل فرعون أشد العذاب
সকাল সন্ধ্যায় তাদেরকে পেশ করা হয় জাহান্নামের সামনে। আর যেদিন কায়েম হবে কিয়ামত, সেদিন বলা হবে: ‘ফেরাউনের অনুসারীদের নিক্ষেপ করো কঠিন আযাবে।’
যখন উহারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হইবে তখন দুর্বলেরা দাম্ভিকদেরকে বলিবে, ‘আমরা তো তোমাদেরই অনুসারী ছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদের হইতে জাহান্নামের আগুনের কিয়দংশ নিবারণ করিবে?’
আর দেখো! তারা আগুনের মধ্যে পরস্পর তর্কাতর্কি করবে, তখন দুর্বলেরা বলবে তাদের যারা হামবড়াই করত - - ''অবশ্য আমরা তো তোমাদেরই তাঁবেদার ছিলাম, সুতরাং তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিছুটা অংশ সরিয়ে নেবে?’’
وإذ يتحاجون في النار فيقول الضعفاء للذين استكبروا إنا كنا لكم تبعا فهل أنتم مغنون عنا نصيبا من النار
জাহান্নামের মধ্যে যখন তারা পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলরা দাম্ভিকদের বলবে: ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম। এখন তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ নিবারণ করতে পারবে?
দাম্ভিকেরা বলিবে, ‘আমরা সকলেই তো জাহান্নামে আছি, নিশ্চয় বান্দাদের বিচার তো করিয়া ফেলিয়াছেন।’
যারা হামবড়াই করত তারা বলবে - - ''আমরা তো সব - ক’জনই এর মধ্যে রয়েছি। নিঃসন্দেহ বিচার - মীমাংসা করে ফেলেছেন বান্দাদের মধ্যে।’’
قال الذين استكبروا إنا كل فيها إن الله قد حكم بين العباد
তখন দাম্ভিকরা বলবে: ‘আমরা প্রত্যেকেই তো জাহান্নামে আছি। তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করেই দিয়েছেন।’
অগ্নিবাসীরা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর তিনি যেন আমাদের হইতে লাঘব করেন এক দিনের শাস্তি।’
আর যারা আগুনের মধ্যে রয়েছে তারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে - - ''তোমাদের প্রভুকে ডেকে বল তিনি যেন একটা দিন আমাদের থেকে শাস্তির কিছুটা লাঘব করে দেন।’’
وقال الذين في النار لخزنة جهنم ادعوا ربكم يخفف عنا يوما من العذاب
জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে: ‘তোমাদের প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো তিনি যেনো আমাদের থেকে একদিনের জন্যে আযাব লাঘব করে দেন।’
তাহারা বলিবে, ‘তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট নিদর্শনসহ তোমাদের রাসূলগণ আসে নাই?’ জাহান্নামীরা বলিবে, ‘অবশ্যই আসিয়াছিল।’ প্রহরীরা বলিবে, ‘তবে তোমরাই প্রার্থনা কর; আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়।
তারা বলবে, ''এমনটি কি তোমাদের ক্ষেত্রে নয় যে তোমাদের রসূলগণ তোমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে এসেছিলেন?’’ তারা বলবে, ''হ্যাঁ।’’ তারা বলবে - - ''তাহলে ডাকতে থাকো, বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের আর্তনাদ ব্যর্থতায় বৈ তো নয়।’’
قالوا أولم تك تأتيكم رسلكم بالبينات ۖ قالوا بلى ۚ قالوا فادعوا ۗ وما دعاء الكافرين إلا في ضلال
তারা বলবে: ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে যাননি।’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ, গিয়েছিলেন।’ তখন প্রহরীরা বলবে: ‘তাহলে তোমরাই প্রার্থনা করো, আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থ হয়েই থাকে।’
নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে ও মু’মিনদেরকে সাহায্য করিব পার্থিব জীবনে এবং যেই দিন সাক্ষিগণ দণ্ডায়মান হইবে।
নিঃসন্দেহ আমরা অবশ্যই আমাদের রসূলগণকে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের সাহায্য করে থাকি এই দুনিয়ার জীবনে আর সেইদিন যখন সাক্ষীরা দাঁড়াবে, - -
إنا لننصر رسلنا والذين آمنوا في الحياة الدنيا ويوم يقوم الأشهاد
আমরা অবশ্য অবশ্যি সাহায্য করবো আমাদের রসূলদের এবং মুমিনদের, দুনিয়ার জীবনেও এবং সেদিনও, যেদিন দাঁড়াবে সাক্ষীরা।
যেদিন জালিমদের ‘ওযর - আপত্তি কোন কাজে আসিবে না, আর উহাদের জন্য রহিয়াছে লা‘নত এবং উহাদের জন্য রহিয়াছে নিকৃষ্ট আবাস।
সেদিন অন্যায়াচারীদের কোনো উপকারে লাগবে না তাদের অজুহাতগুলো, আর তাদের জন্য থাকবে ধিক্কার, আর তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।
يوم لا ينفع الظالمين معذرتهم ۖ ولهم اللعنة ولهم سوء الدار
সেদিন যালিমদের ওজর - আপত্তিতে কোনো লাভ হবেনা। তাদের প্রতি লানত এবং তাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।
আমি অবশ্যই মূসাকে দান করিয়াছিলাম পথনির্দেশ এবং বনী ইসরাঈলকে উত্তরাধিকারী করিয়াছিলাম সেই কিতাবের,
আর আমরা ইতিপূর্বে মূসাকে পথনির্দেশ দিয়েছিলাম, এবং ইসরাইলের বংশধরদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছিলাম ধর্মগ্রন্থ - -
ولقد آتينا موسى الهدى وأورثنا بني إسرائيل الكتاب
আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম আল হুদা (সত্য জীবন ব্যবস্থা সম্বলিত কিতাব), আর বনি ইসরাঈলকে ওয়ারিশ বানিয়েছিলাম সেই কিতাবের,
পথনির্দেশ ও উপদেশস্বরূপ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য।
পথনির্দেশ ও স্মরণীয় বার্তা বুদ্ধিবিবেচনা থাকা লোকদের জন্য।
هدى وذكرى لأولي الألباب
যা ছিলো জীবন যাপনের নির্দেশনা এবং বুঝবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে উপদেশ।
অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর ; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সত্য, তুমি তোমার ত্রটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সকাল ও সন্ধ্যায়।
সুতরাং তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিঃসন্দেহ র ওয়াদা ধ্রুবসত্য। আর তুমি তোমার দোষত্রুটির জন্য পরিত্রাণ খুঁজো এবং তোমার প্রভুর প্রশংসার সাথে রাত্রি ও প্রভাতে জপতপ করো।
فاصبر إن وعد الله حق واستغفر لذنبك وسبح بحمد ربك بالعشي والإبكار
অতএব (হে নবী!) তুমি সবর করো। আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যি সত্য। আর তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ভুলত্রুটির জন্যে। তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ্ ঘোষণা করো সন্ধ্যায় এবং সকালে।
যাহারা নিজেদের নিকট কোন দলীল না থাকিলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, উহাদের অন্তরে আছে কেবল অহংকার, যাহারা এই ব্যাপারে হইবে না। অতএব আল্লাহর শরনাপন্ন হও, তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
নিঃসন্দহ যারা র বাণীসমূহ নিয়ে তর্কবিতর্ক করে তাদের কাছে কোনো দলিল - প্রমাণের আগমন ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে রয়েছে হামবড়াই বৈ তো নয়, যা তারা কখনো লাভ করতে পারবে না। সুতরাং র কাছে আশ্রয় চাও। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
إن الذين يجادلون في آيات الله بغير سلطان أتاهم ۙ إن في صدورهم إلا كبر ما هم ببالغيه ۚ فاستعذ بالله ۖ إنه هو السميع البصير
কোনো প্রমাণ প্রাপ্তি ছাড়াই যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, অবশ্যি তাদের অন্তরে রয়েছে অহংকার, যে পর্যন্ত তারা পৌঁছুতে পারবেনা। অতএব আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।
মানব সৃজন অপেক্ষা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি তো কঠিনতর, কিন্তু অধিকাংশ মানষু ইহা জানে না।’
মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিশ্চয়ই মানুষের সৃষ্টির চেয়ে কঠিনতর, কিন্ত অধিকাংশ লোকেই জানে না।
لخلق السماوات والأرض أكبر من خلق الناس ولكن أكثر الناس لا يعلمون
মহাকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টির কাজ মানুষ সৃষ্টির চেয়ে অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান এবং যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং যাহারা দুষ্কৃতিপরায়ণ। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করিয়া থাক।
আর অন্ধ ও চক্ষুষ্মান একসমান নয়, আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে এবং দুস্কর্মকারীরাও নয়। সামান্যই তা যা তোমরা মনোনিবেশ করে থাকো!
وما يستوي الأعمى والبصير والذين آمنوا وعملوا الصالحات ولا المسيء ۚ قليلا ما تتذكرون
অন্ধ আর দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি সমান নয়। যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তারা, আর দুর্নীতিবাজরা সমতুল্য নয়। তোমরা খুব কমই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকো।
কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করে না।
নিঃসন্দেহ ঘড়িঘন্টা প্রায় এসেই গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্ত অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে না।
إن الساعة لآتية لا ريب فيها ولكن أكثر الناس لا يؤمنون
কিয়ামত অবশ্যি আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ঈমান রাখেনা।
তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যাহারা অহংকারবশে আমার ‘ইবাদতে বিমুখ, উহারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করিবে লাঞ্ছিত হইয়া।’
আর তোমাদের প্রভু বলেন - - ''তোমরা আমাকে আহ্বান করো, আমি তোমাদের প্রতি সাড়া দেব। নিঃসন্দেহ যারা আমাকে উপাসনা করার বেলা অহংকার বোধ করে তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত অবস্থায়।’’
وقال ربكم ادعوني أستجب لكم ۚ إن الذين يستكبرون عن عبادتي سيدخلون جهنم داخرين
তোমাদের প্রভু বলেছেন: ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকের (দোয়ার) জবাব দেবো (দোয়া কবুল করবো)। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদতের ব্যাপারে হঠকারিতা প্রদর্শন করে, শীঘ্রি তারা দাখিল হবে জাহান্নামে অপদস্ত হয়ে।
তোমাদের বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন রাত্রিকে এবং আলোকোজ্জ্বল করিয়াছেন দিবসকে। তো মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
ই তিনি যিনি তোমাদের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পারো, আর দিনকে দেখবার জন্য। নিঃসন্দেহ তো মানুষের প্রতি করুণাভান্ডারের অধিকারী, কিন্ত অধিকাংশ লোকই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
الله الذي جعل لكم الليل لتسكنوا فيه والنهار مبصرا ۚ إن الله لذو فضل على الناس ولكن أكثر الناس لا يشكرون
আল্লাহ্ই রাত বানিয়েছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিন বানিয়েছেন আলোকোজ্জ্বল (তোমাদের জীবিকা অণ্বেষণের জন্যে)। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি বিশাল অনুগ্রহপরায়ণ, তবে অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।
তিনিই তোমাদের প্রতিপালক, সব কিছুর স্রষ্টা; তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই; সুতরাং তোমাদেরকে কোথায় ফিরাইয়া নেওয়া হইতেছে?
এইই , তোমাদের প্রভু, সব - কিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, সুতরাং কার কাছ থেকে তোমরা ফিরে যাচ্ছ?
ذلكم الله ربكم خالق كل شيء لا إله إلا هو ۖ فأنى تؤفكون
তোমাদের প্রভু আল্লাহ্ই প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। ফলে মিথ্যার ফানুসে বিভ্রান্ত করে তোমাদের কোথায় নেয়া হচ্ছে?
এই ভাবে বিপথগামী করা হয় তাহাদেরকে যাহারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে।
এইভাবেই ফিরে যাচ্ছিল তারা যারা র নির্দেশাবলীকে প্রত্যাখ্যান করছিল।
كذلك يؤفك الذين كانوا بآيات الله يجحدون
এভাবেই বিভ্রান্ত করে মিথ্যার পথে নিয়ে যাওয়া হয় তাদেরকে, যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে।
আল্লাহ্ই তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করিয়াছেন বাসোপযোগী এবং আকাশকে করিয়াছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করিয়াছেন এবং তোমাদের আকৃতি করিয়াছেন সুন্দর এবং তোমাদেরকে দান করিয়াছেন উৎকৃষ্ট রিযিক; তিনিই তোমাদের প্রতিপালক। জগতসমূহের প্রতিপালক কত মহান!।
ই তিনি যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বাসোপযোগী বানিয়েছেন আর আকাশকে একটি চাঁদোয়া, আর তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন, সুতরাং তিনি তোমাদের আকৃতি কত সুন্দর করেছেন! আর তিনি তোমাদের জীবিকা দিয়েছেন উৎকৃষ্ট বস্তু থেকে। এইই হচ্ছেন - - তোমাদের প্রভু। অতএব সকল মহিমার পাত্র - - বিশ্বজগতের প্রভু।
الله الذي جعل لكم الأرض قرارا والسماء بناء وصوركم فأحسن صوركم ورزقكم من الطيبات ۚ ذلكم الله ربكم ۖ فتبارك الله رب العالمين
আল্লাহ্ই পৃথিবীকে বানিয়েছেন তোমাদের বাসোপযোগী, আর আসমানকে বানিয়েছেন ছাদ। তিনিই তোমাদের সুরত (আকৃতি) গঠন করেছেন উত্তম ও সুন্দরতম আকৃতিতে। তিনিই ব্যবস্থা করেছেন তোমাদের জন্যে উত্তম জীবিকার। তিনিই , তোমাদের প্রভু। কতো যে মহান বরকতওয়ালা মহাজগতের প্রভু ।
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। সুতরাং তোমরা তাঁহাকেই ডাক, তাঁহার আনুগত্যে একনিষ্ঠ হইয়া। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই।
তিনি সদাজীবিত, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, সুতরাং ধর্মে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠচিত্তে তাঁকেই ডাকো। সমস্ত প্রশংসা র যিনি বিশ্বজগতের প্রভু।
هو الحي لا إله إلا هو فادعوه مخلصين له الدين ۗ الحمد لله رب العالمين
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তাঁর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তোমরা কেবল তাঁকেই ডাকো। সমস্ত প্রশংসা রাব্বুল আলামিনের।
বল, ‘তোমরা ব্যতীত যাহাদেরকে আহ্বান কর, তাহাদের ‘ইবাদত করিতে আমাকে নিষেধ করা হইয়াছে যখন আমার প্রতিপালকের নিকট হইতে আমার নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন আসিয়াছে। এবং আমি আদিষ্ট হইয়াছি জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসর্মপণ করিতে।
বলো - - ''নিঃসন্দেহ আমাকে নিষেধ করা হয়েছে তাদের উপাসনা করতে যাদের তোমরা উপাসনা কর কে বাদ দিয়ে, - - যখন আমার কাছে আমার প্রভুর কাছ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাবলী এসেছে, আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি বিশ্বজগতের প্রভুর প্রতি আত্মসমর্পণ করি।
۞ قل إني نهيت أن أعبد الذين تدعون من دون الله لما جاءني البينات من ربي وأمرت أن أسلم لرب العالمين
বলো: ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের কাছে দোয়া - প্রার্থনা করো, তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে, যেহেতু আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট দলিল - প্রমাণ এসেছে। আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আত্মসমর্পণ করি রাব্বুল আলামিনের জন্যে।’
‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন মৃত্তিকা হইতে, পরে রক্তবিন্দু হইতে, তারপর আলাকা হইতে, তারপর তোমাদেরকে বাহির করেন শিশুরূপে, অতঃপর যেন তোমরা উপনীত হওতোমাদের যৌবনে, তারপর হইয়া যাও বৃদ্ধ। আর তোমাদের মধ্যে কাহারও মৃত্যু ঘটে ইহার পূর্বেই! যাহাতে তোমরা নির্ধারিত কাল প্রাপ্ত হও এবং যেন তোমরা অনুধাবন করিতে পার।
''তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রকীট থেকে, তারপর রক্তপিন্ড থেকে, তারপর তিনি তোমাদের বের করে আনেন শিশুরূপে, তারপর যেন তোমরা বাড়তে পারো তোমাদের পূর্ণযৌবনে, তারপর যেন তোমরা বৃদ্ধ হতে পারো, আর তোমাদের মধ্যে কাউকে মরতে দেওয়া হয় আগেই, - - কাজেকাজেই তোমরা যেন নির্ধারিত সময়সীমায় পৌঁছুতে পারো, আর যেন তোমরা বুঝতে - সুঝতে পারো।
هو الذي خلقكم من تراب ثم من نطفة ثم من علقة ثم يخرجكم طفلا ثم لتبلغوا أشدكم ثم لتكونوا شيوخا ۚ ومنكم من يتوفى من قبل ۖ ولتبلغوا أجلا مسمى ولعلكم تعقلون
তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তারপর আলাকা (জরায়ুর সাথে শক্তভাবে আটকে থাকা ভ্রুণ) থেকে। তারপর তিনি তোমাদের বের করে আনেন শিশু হিসেবে। তারপর তোমাদের পৌঁছে দেয়া হয় যৌবনে। তারপর তোমরা পরিণত হও বৃদ্ধে। তোমাদের কারো কারো ওফাত ঘটানো হয় এর আগেই। যাতে করে তোমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কাল পূর্ণ করো এবং যেনো তোমরা বুঝবুদ্ধিকে কাজে লাগাও।
‘তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন তখন তিনি উহার জন্য বলেন, ‘হও’, আর উহা হইয়া যায়।’
''তিনিই সেইজন যিনি জীবনদান করেন ও মৃত্যু ঘটান, সুতরাং তিনি যখন কোনো ব্যাপারের বিধান করেন তখন শুধুমাত্র তিনি সে - সন্বন্ধে বলেন - - 'হও’, ফলে তা হয়ে যায়।’’
هو الذي يحيي ويميت ۖ فإذا قضى أمرا فإنما يقول له كن فيكون
তিনিই জীবন দান করেন এবং মউত ঘটান। তিনি যখন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন সেটাকে বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।
তুমি কি লক্ষ্য কর না উহাদেরকে যাহারা নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্ক করে? কিভাবে উহাদেরকে বিপথগামী করা হইতেছে?’
তুমি কি তাদের দিকে চেয়ে দেখো নি যারা র নির্দেশাবলী নিয়ে বিতর্ক করে? ওরা কেমন করে ফিরে যাচ্ছে - -
ألم تر إلى الذين يجادلون في آيات الله أنى يصرفون
তুমি কি তাদের দেখোনা, যারা আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়? কীভাবে তাদের বিপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
যাহারা অস্বীকার করে কিতাব ও যাহা সহ আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছিলাম তাহা; শীঘ্রই উহারা জানিতে পারিবে -
যারা গ্রন্থখানাকে প্রত্যাখ্যান করছে, আর যা দিয়ে আমরা আমাদের রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম? কিন্ত শীগগিরই তারা বুঝতে পারবে - -
الذين كذبوا بالكتاب وبما أرسلنا به رسلنا ۖ فسوف يعلمون
যারা প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর কিতাবকে এবং যা নিয়ে আমরা আমাদের রসূলদের পাঠিয়েছি সেটাকে। অচিরেই তারা জানতে পারবে (এর পরিণতি),
যখন উহাদের গলদেশে বেড়ি ও শৃংখল থাকিবে, উহাদেরকে টানিয়া লইয়া যাওয়া হইবে
যখন তাদের গলায় বেড়ি হবে আর হবে শিকল। তাদের টেনে নিয়ে যাওয়া হবে - -
إذ الأغلال في أعناقهم والسلاسل يسحبون
যখন তাদের গলায় পরানো থাকবে বেড়ি আর শিকল এবং তাদের নিয়ে যাওয়া হবে টেনে হিঁচড়ে
ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর উহাদেরকে দগ্ধ করা হইবে অগ্নিতে।
ফুটন্ত পানির মধ্যে, তারপর তাদের জ্বলতে দেওয়া হবে আগুনের মধ্যে।
في الحميم ثم في النار يسجرون
টগবগে ফুটন্ত গরম পানির দিকে। তারপর তাদের দগ্ধ করা হবে আগুনে।
পরে উহাদেরকে বলা হইবে, ‘কোথায় তাহারা যাহাদেরকে তোমরা শরীক করিতে,
তখন তাদের বলা হবে - - ''কোথায় আছে তারা যাদের তোমরা শরিক করতে - -
ثم قيل لهم أين ما كنتم تشركون
তারপর তাদের বলা হবে: ‘তারা এখন কোথায় যাদেরকে তোমরা শরিক বানিয়েছিলে
ব্যতীত? উহারা বলিবে, ‘উহারা তো আমাদের নিকট হইতে উধাও হইয়াছে; বস্তুত পূর্বে আমরা এমন কিছুকে আহ্বান করি নাই। এইভাবে কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।
কে বাদ দিয়ে?’’ তারা বলবে, ''তারা আমাদের থেকে উধাও হয়েছে, বস্তুতঃ আমরা ইতিপূর্বে এমন কিছুকে আহ্বান করে চলি নি।’’ এভাবেই পথভ্রষ্ট হতে দেন অবিশ্বাসীদের।
من دون الله ۖ قالوا ضلوا عنا بل لم نكن ندعو من قبل شيئا ۚ كذلك يضل الله الكافرين
আল্লাহর পরিবর্তে?’ তারা বলবে: ‘তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে। আসলে আমরা পূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) কাউকেও ডাকিনি।’ এভাবেই কাফিরদের ফেলে রাখেন বিভ্রান্তিতে।
ইহা এই কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাস করিতে এবং এইজন্য যে, তোমরা দম্ভ করিতে।
এমনটাই তোমাদের জন্য কেননা তোমরা দুনিয়াতে বেপরোয়া ব্যবহার করতে কোনো যুক্তি ব্যতীত, আর যেহেতু তোমরা হামবড়াই করতে।
ذلكم بما كنتم تفرحون في الأرض بغير الحق وبما كنتم تمرحون
এর কারণ, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাসে মেতেছিলে এবং এর আরো কারণ হলো, তোমরা নিমজ্জিত ছিলে দাম্ভিকতায়।
তোমরা জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা দিয়া প্রবেশ কর উহাতে স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্য, আর কতই না নিকৃষ্ট উদ্ধতদের আবাসস্থল!
''তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ করো তাতে অবস্থানের জন্য। সুতরাং গর্বিতদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট!’’
ادخلوا أبواب جهنم خالدين فيها ۖ فبئس مثوى المتكبرين
এখন দাখিল হও জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। অহংকারীদের আবাস কতো যে নিকৃষ্ট!
সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় প্রতিশ্রতি সত্য। আমি উহাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করি তাহার কিছু যদি তোমাকে দেখাইয়াই দেই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই - উহাদের প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।
কাজেই তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিশ্চয় র ওয়াদা সত্য। সুতরাং তাদের যা ওয়াদা করা হয়েছে আমরা যদি তার কিছুটা তোমাকে দেখিয়েই দিই অথবা তোমার মৃত্যুই ঘটাই, সর্বাবস্থায় আমাদেরই কাছে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
فاصبر إن وعد الله حق ۚ فإما نرينك بعض الذي نعدهم أو نتوفينك فإلينا يرجعون
(হে নবী!) তুমি সবর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমরা ওদেরকে যে ওয়াদা দিচ্ছি তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই, কিংবা যদি তোমার ওফাত ঘটাই, তাদেরকে তো আমার কাছেই ফেরত আনা হবে।
আমি তো তোমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করিয়াছিলাম। আমি তাহাদের কাহারও কাহারও কথা তোমার নিকট বিবৃত করিয়াছি এবং কাহারও কাহারও কথা তোমার নিকট বিবৃত করি নাই। অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রাসূলের কাজ নয়। আদেশ আসিলে ন্যায়সংগতভাবে ফয়সালা হইয়া যাইবে। তখন মিথ্যাশ্রয়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।
আর নিশ্চয়ই আমরা তোমার আগে রসূলগণকে পাঠিয়ে দিয়েছি, তাঁদের মধ্যের কারো কারো সন্বন্ধে তোমার কাছে আমরা বিবৃত করেছি, আর তাদের মধ্যের অন্যদের সন্বন্ধে আমরা তোমার কাছে বিবৃত করি নি। আর কোনো রসূলেরই কাজ নয় যে তিনি র অনুমতি ব্যতীত কোনো নিদর্শন নিয়ে আসবেন, কিন্ত যখন র নির্দেশ এসে যাবে, তখন মীমাংসা হয়ে যাবে ন্যায়সংগতভাবে, আর বাতিল করার প্রচেষ্টাকারীরা তখন তখনই নাজেহাল হবে।
ولقد أرسلنا رسلا من قبلك منهم من قصصنا عليك ومنهم من لم نقصص عليك ۗ وما كان لرسول أن يأتي بآية إلا بإذن الله ۚ فإذا جاء أمر الله قضي بالحق وخسر هنالك المبطلون
তোমার আগেও আমরা বহু রসূল পাঠিয়েছি, তাদের মধ্যকার কিছু রসূলের বিবরণ তোমাকে দিয়েছি, আর কিছু রসূলের বিবরণ তোমাকে দেইনি। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নিদর্শন হাজির করা কোনো রসূলের কাজ নয়। আল্লাহর নির্দেশ যখন এসে যাবে, তখন ফায়সালা করে দেয়া হবে ন্যায়সংগতভাবে। আর তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে বাতিলপন্থী মিথ্যাবাদীরা।
তোমাদের জন্য আন‘আম সৃষ্টি করিয়াছেন, যাহাতে উহাদের কতকের উপর তোমরা আরোহণ কর এবং কতক তোমরা আহার কর।
আল্লাহই তিনি যিনি তেমাদের জন্য গবাদি - পশু সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের কতকগুলোয় চড়তে পরো ও তাদের কতকটা তোমরা খেতে পারো,
الله الذي جعل لكم الأنعام لتركبوا منها ومنها تأكلون
তোমাদের জন্যে চারপায়ী পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে তোমরা সেগুলোর কিছু পশুতে আরোহণ করতে পারো, আর খেতে পারো কিছু পশু।
ইহাতে তোমাদের জন্য রহিয়াছে প্রচুর উপকার। তোমরা অন্তরে যাহা প্রয়োজন বোধ কর, ইহা দ্বারা যেন তাহা পূর্ণ করিতে পার, আর ইহাদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
আর তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে রয়েছে মুনাফা, আর যেন তাদের সাহায্যে তোমরা পূরণ করতে পারো তোমাদের অন্তরের বাসনা, আর তাদের উপরে ও জাহাজের উপরে তোমাদের বহন করা হয়।
ولكم فيها منافع ولتبلغوا عليها حاجة في صدوركم وعليها وعلى الفلك تحملون
এছাড়াও সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে অনেক মুনাফা। তোমরা যেসব প্রয়োজনের কথা ভাবো এর মাধ্যমে যেনো তা পূর্ণ করতে পারো এবং সেগুলোতে আর নৌযানে যেনো তোমরা বহন ও আরোহণ করতে পারো।
তিনি তোমাদেরকে তাঁহার নিদর্শনাবলী দেখাইয়া থাকেন। সুতরাং তোমরা কোন্ কোন্ নিদর্শনকে অস্বীকার করিবে?
আর তিনি তোমাদের দেখিয়ে থাকেন তাঁর নিদর্শনসমূহ। সুতরাং র নিদর্শনাবলীর কোনটি তোমরা প্রত্যাখ্যান করবে?
ويريكم آياته فأي آيات الله تنكرون
তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখিয়ে থাকেন। তোমরা তাঁর কোন্ নিদর্শন অস্বীকার করবে?
উহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই ও দেখে নাই উহাদের পূর্ববর্তীদের কী পরিণাম হইয়াছিল? পৃথিবীতে তাহারা ছিল উহাদের অপেক্ষা সংখ্যায় অধিক এবং শক্তিতে ও কীর্তিতে অধিক প্রবল। তাহারা যাহা করিত তাহা তাহাদের কোন কাজে আসে নাই।
ওরা কি তবে পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নি, তাহলে ওরা দেখতে পেতো কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ওদের পূর্ববর্তী ছিল? তারা ওদের চেয়ে অধিকসংখ্যক ছিল আর শক্তিতে প্রবলতর ও দুনিয়াতে কীর্তিস্থাপনে ছিল পারদর্শী। কিন্ত তারা যা অর্জন করে চলেছিল তা তাদের কোনো কাজে আসে নি।
أفلم يسيروا في الأرض فينظروا كيف كان عاقبة الذين من قبلهم ۚ كانوا أكثر منهم وأشد قوة وآثارا في الأرض فما أغنى عنهم ما كانوا يكسبون
তারা কি পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের আগেকার অস্বীকারকারীদের কী পরিণতি হয়েছিল? তারা ছিলো এদের চাইতে অধিক সংখ্যক ও অধিক শক্তিশালী এবং জমিনে অধিক প্রভাব বিস্তারকারী। কিন্তু তাদের কীর্তি তাদের কোনো উপকারেই আসেনি।
উহাদের নিকট যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ উহাদের রাসূল আসিত তখন উহারা নিজেদের জ্ঞানের দম্ভ করিত। উহারা যাহা লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপকরিত তাহাই উহাদেরকে বেষ্টন করিল।
তারপর যখন তাদের রসূলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে এসেছিলেন তখন তাদের কাছে জ্ঞানের যা রয়েছে সেজন্য তারা বেপরোয়া থাকতো, আর ওরা যা নিয়ে ঠাট্টা - বিদ্রপ করত তাই তাদের ঘেরাও করল।
فلما جاءتهم رسلهم بالبينات فرحوا بما عندهم من العلم وحاق بهم ما كانوا به يستهزئون
যখনই তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে তাদের কাছে এসেছে, তারা নিজেদের এলেমের দম্ভ করেছে। তারপর তারা যা নিয়ে বিদ্রুপ করেছে সেটাই তাদের পরিবেষ্টন করে নিয়েছে।
অতঃপর উহারা যখন আমার শাস্তিপ্রত্যক্ষ করিল তখন বলিল, ‘আমরা এক ঈমান আনিলাম এবং আমরা তাঁহার সঙ্গে যাহাদেরকে শরীক করিতাম তাহাদেরকে প্রত্যাখ্যান করিলাম।’
সুতরাং তারা যখন আমাদের দুর্যোগ দেখতে পেল তখন বলল, ''আমরা তে, তাঁর একত্বে, বিশ্বাস করছি, আর যাদের আমরা তাঁর সঙ্গে শরীক করেছিলাম তাদের আমরা অস্বীকার করছি।’’
فلما رأوا بأسنا قالوا آمنا بالله وحده وكفرنا بما كنا به مشركين
যখন তারা আমার শাস্তি সামনে উপস্থিত দেখেছে, বলেছে: ‘আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করতাম তাদের প্রতি কুফুরি করলাম।’
উহারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করিল তখন উহাদের ঈমান উহাদের কোন উপকারে আসিল না। এই বিধান পূর্ব হইতেই তাঁহার বান্দাদের মধ্যে চলিয়া আসিতেছে এবং সেই ক্ষেত্রে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিন্ত যখন তারা আমাদের দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করেছে তখন তাদের বিশ্বাসস্থাপনা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। আল্লাহর রীতি যেটি বলবৎ হয়ে রয়েছে তাঁর বান্দাদের মধ্যে, আর অবিশ্বাসীরা তখনই নাস্তানাবুদ হবে।
فلم يك ينفعهم إيمانهم لما رأوا بأسنا ۖ سنت الله التي قد خلت في عباده ۖ وخسر هنالك الكافرون
আমাদের আযাব দেখার পর তারা যে ঈমানের ঘোষণা দিতো, সে ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহর এই সুন্নত (বিধান) পূর্ব থেকেই তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে, আর সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাফিররাই।