আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ তাদের, যারা প্রবলভাবে টেনে বের করে,
ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড - প্রচেষ্টার কথা;
কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।* * ১-৫ নং আয়াতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কসম করা হয়েছে।
Chapter 79, 46 verses
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ তাদের, যারা প্রবলভাবে টেনে বের করে,
ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড - প্রচেষ্টার কথা;
কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।* * ১-৫ নং আয়াতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কসম করা হয়েছে।
এবং যারা কোমলভাবে মুক্ত করে,
আর ক্ষিপ্রগামীদের ত্বরিত এগুনোয়,
আর কসম সহজভাবে বন্ধনমুক্তকারীদের।
আর যারা তীব্র গতিতে সাঁতার কাটে,
আর সন্তরণকারীদের দ্রত সন্তরণে,
আর কসম দ্রুতগতিতে সন্তরণকারীদের।
এবং যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়,
আর অগ্রগামীরা এগিয়েই চলেছে,
আর দ্রুতবেগে অগ্রসরমানদের।
অতঃপর যারা বিষয়সমূহ পরিচালনা করে,
তারপর ঘটনানিয়ন্ত্রণকারীদের কথা!
অতঃপর কসম সকল কার্যনির্বাহকারীদের।
যেদিন প্রকম্পনকারী প্রকম্পিত করবে,
সেদিন স্পন্দিত হবে বিরাট স্পন্দনে,
সেদিন কম্পনকারী* প্রকম্পিত করবে। *অর্থাৎ প্রথম শিংগাধ্বনি।
তারপর আরেকটি প্রকম্পন,
পরবর্তী ঘটনা তাকে অনুসরণ করবেই।
তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী।* *দ্বিতীয় শিংগাধ্বনি।
কত হৃদয় সেই দিন সন্ত্রস্ত হইবে,
হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে,
সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-সন্ত্রস্ত হবে।
তাদের দৃষ্টিসমূহ হবে অবনত,
তাদের চোখ হবে অবনত।
তাদের দৃষ্টিসমূহ নত হবে।
তারা বলবে, “আমাদের কি সত্যিই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে?”
তারা বলছে - - ''আমরা কি সত্যিই প্রথমাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব?
তারা বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই,
“ক্ষয়প্রাপ্ত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরেও?”
''যখন আমরা গলা - পচা হাড্ডি হয়ে যাব তখনও?’’
যখন আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হাড় হয়ে যাব’?
তারা বলবে, “তবে তো এ প্রত্যাবর্তন হবে সর্বনাশা!”
তারা বলে - - ''তাই যদি হয় তবে এ হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন।’’
তারা বলে, ‘তাহলে তা তো এক ক্ষতিকর প্রত্যাবর্তন’।
প্রকৃতপক্ষে তা একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ,
কিন্ত এটি নিশ্চয়ই হবে একটি মহাগর্জন,
আর ওটা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ।
তারপর তারা উন্মুক্ত ভূমিতে উপস্থিত হবে,
তখন দেখো! তারা হবে জাগ্রত।
তৎক্ষনাৎ তারা ভূ-পৃষ্ঠে উপস্থিত হবে।
তোমার কাছে কি মূসার সংবাদ পৌঁছেছে?
তোমার কাছে মূসার কাহিনী পৌঁছেছে কি? - -
মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?
যখন তার প্রতিপালক তাকে পবিত্র 'তুওয়া' উপত্যকায় আহ্বান করেছিলেন,
যখন তাঁর প্রভু তাঁকে আহ্বান করেছিলেন পবিত্র উপত্যকা 'তুওয়া’তে - -
যখন তার রব তাকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় ডেকেছিলেন,
“ফিরাউনের কাছে যাও; নিশ্চয়ই সে সীমালঙ্ঘন করেছে।”
''ফিরআউনের কাছে যাও, সে নিশ্চয়ই বিদ্রোহ করেছে - -
‘ফির‘আউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে’।
“এবং তাকে বলো, ‘তুমি কি পরিশুদ্ধ হতে চাও?’”
''তারপর বলো - - 'তোমার কি আগ্রহ আছে যে তুমি পবিত্র হও?’
অতঃপর বল ‘তোমার কি ইচ্ছা আছে যে, তুমি পবিত্র হবে’?
“এবং আমি কি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথ দেখাবো, যাতে তুমি ভীত হও?”
''আমি তাহলে তোমাকে তোমার প্রভুর দিকে পরিচালিত করব যেন তুমি ভয় করো’।’’
‘আর আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’
অতঃপর তিনি তাকে মহা নিদর্শন দেখিয়েছিলেন,
তারপর তিনি তাকে দেখালেন একটি বিরাট নিদর্শন।
অতঃপর মূসা তাকে বিরাট নিদর্শন দেখাল।
কিন্তু সে অস্বীকার করেছিল এবং অবাধ্য হয়েছিল,
কিন্ত সে মিথ্যা আরোপ করল ও অবাধ্য হল।
কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং অমান্য করল।
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
তারপর সে ফাসাদ করার চেষ্টায় প্রস্থান করল।
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
অতঃপর সে লোকদেরকে একত্র করে ঘোষণা দিল।
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’।
তখন তাকে পরকাল ও ইহকালের শাস্তির জন্য ধরলেন।
সেজন্য তাকে পাকড়াও করলেন পরকালের ও পূর্বের জীবনের দৃষ্টান্ত বানিয়ে।
অবশেষে তাকে ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন।
নিশ্চয়ই এতে শিক্ষা রয়েছে তার জন্য, যে ভয় করে।
নিঃসন্দেহ এতে বাস্তব শিক্ষা রয়েছে তার জন্য যে ভয় করে।
নিশ্চয় যে ভয় করে তার জন্য এতে শিক্ষা রয়েছে।
তোমাদের সৃষ্টি কি অধিক কঠিন, না আকাশের? তিনি তা নির্মাণ করেছেন,
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ - সব বানিয়েছেন।
তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন।
তিনি তার উচ্চতাকে সুউচ্চ করেছেন, অতঃপর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন।
৭৯–২৯ :
এবং তার রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন ও তার সকালকে আলোকিত করেছেন,
আর এর রাতকে তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন এর দিবালোক।
আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন।
এবং এরপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন,
আর পৃথিবী - - এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন।
এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন।
তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি বের করেছেন,
এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভূমি।
তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি।
এবং পর্বতমালাকে সুদৃঢ়ভাবে গ্রথিত করেছেন,
আর পাহাড় - পর্বত - - তিনি তাদের মজবুতভাবে বসিয়ে দিয়েছেন, - -
আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবিকার জন্য।
তোমাদের জন্য ও তোমাদের গবাদি - পশুর জন্য খাদ্যের আয়োজন।
তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জীবনোপকরণস্বরূপ।
অতঃপর যখন মহাবিপর্যয় আসবে,
তারপর যখন ভীষণ দুর্বিপাক আসবে,
অতঃপর যখন মহাপ্রলয় আসবে।
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে সে কিসের জন্য কষ্ট করেছিল,
সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে যার জন্য সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল,
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে তা, যা সে চেষ্টা করেছে।
এবং জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে, যে দেখবে তার জন্য,
জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
আর ভয়ংকর আগুন দৃষ্টিগোচর করানো হবে যে দেখে তার জন্য।
আর জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায়।
অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করেছে,
তাছাড়া তার ক্ষেত্রে যে সীমালংঘন করেছে,
সুতরাং যে সীমালঙ্ঘন করে।
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
এবং দুনিয়ার জীবনকেই বেছে নিয়েছে,
আর দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়,
তবে নিশ্চয়ই জাহিম হবে তার আশ্রয়,
সেক্ষেত্রে অবশ্য ভয়ংকর আগুন, - - সেটাই তো বাসস্থান।
নিশ্চয় জাহান্নাম হবে তার আবাসস্থল।
অপরদিকে যে তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীত হয়েছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে,
পক্ষান্তরে যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে ভয় করে এবং আত্মাকে কামনা - বাসনা থেকে নিবৃত্ত রাখে - -
আর যে স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজকে বিরত রাখে,
তবে নিশ্চয়ই বেহেশতই হবে তার আশ্রয়,
সেক্ষেত্রে অবশ্য জান্নাত, - - সেটাই তো বাসস্থান।
নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।
তারা তোমাকে সেই সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, ‘তা কখন ঘটবে?’
তারা ঘড়ি - ঘান্টা সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে - - কখন তার আগমন হবে?’’
তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, ‘তা কখন ঘটবে’?
সে ব্যাপারে আপনার কী বলার আছে?
এ - সন্বন্ধে বলবার মতো তোমার কী আছে?
তা উল্লেখ করার কি জ্ঞান তোমার আছে?
তার চূড়ান্ত জ্ঞান তোমার প্রতিপালকের কাছেই,
এর চরম সীমা রয়েছে তোমার প্রভুর নিকট।
এর প্রকৃত জ্ঞান তোমার রবের কাছেই।
তুমি তো কেবল সতর্ককারী তার জন্য, যে তাকে ভয় করে,
তুমি তো শুধু সতর্ককারী তার জন্য যে এ - সন্বন্ধে ভয় করে।
তুমিতো কেবল তাকেই সতর্ককারী, যে একে ভয় করে ।
যেদিন তারা তা দেখবে, মনে হবে যেন তারা কেবল এক সন্ধ্যা বা সকালের বেশী অবস্থান করেনি।
যেদিন তারা একে দেখবে সেদিন যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যাবেলা বা তার প্রভাতকাল ব্যতীত অবস্থান করে নি।
যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা (দুনিয়ায়) এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশী অবস্থান করেনি।