Kitab

ইউনুস (নবী ইউনুস আঃ)

Chapter 10, 109 verses

  • সমকালীন বাংলা
  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • Word by word
সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; আলিফ - লাম - রা। এইগুলি জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত।

জহুরুল হক

আলিফ, লাম, রা। এগুলো জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থের আয়াতসমূহ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা! এগুলো বিজ্ঞানময় কিতাবের আয়াত।

Word by word

الٓر تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْحَكِيمِ

সমকালীন বাংলা

মানুষের জন্য ইহা কি আশ্চর্যের বিষয় যে, আমি তাহাদেরই একজনের নিকট ওহী প্রেরণ করিয়াছি এই মর্মে যে, তুমি মানুষকে সতর্ক কর এবং মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও, তাহাদের জন্য তাহাদের প্রতিপালকের নিকট আছে উচ্চ মর্যাদা! কাফিররা বলে, ‘এ তো এক সুস্পষ্ট জাদুকর!’

জহুরুল হক

এ কি মানবগোষ্ঠীর জন্য বিস্ময়ের ব্যাপার যে তাদেরই মধ্যেকার একজন মানুষকে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছি এই ব’লে - - ''তুমি মানবজাতিকে সতর্ক করো, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের সুসংবাদ দাও যে তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে সুনিশ্চিত পদমর্যাদা’’? অবিশ্বাসীরা বলে - - ''নিঃসন্দেহ এ একজন জলজ্যান্ত জাদুকর।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা কি মানুষের জন্য কোনো তাজ্জবের বিষয় যে, আমি তাদেরই এক ব্যক্তির কাছে এই নির্দেশ দিয়ে অহি পাঠিয়েছি: ‘তুমি মানুষকে সতর্ক করো এবং মুমিনদের এই সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে মর্যাদার আসন।’ কাফিররা বলে: ‘নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি একজন সুস্পষ্ট ম্যাজিসিয়ান।’

Word by word

أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَآ إِلَىٰ رَجُلٍ مِّنْهُمْ أَنْ أَنذِرِ ٱلنَّاسَ وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِندَ رَبِّهِمْ قَالَ ٱلْكَٰفِرُونَ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ

সমকালীন বাংলা

তোমাদের প্রতিপালক যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাহার অনুমতি লাভ না করিয়া সুপারিশ করিবার কেহ নাই। ইনিই তোমাদের প্রতিপালক, সুতরাং তাহার ‘ইবাদত কর। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমাদের প্রভু হচ্ছেন যিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তখন তিনি অধিষ্ঠিত হলেন আরশের উপরে, তিনি সমস্ত ব্যাপার নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর অনুমতিক্রমে ব্যতীত কোনো সুপারিশকারী নেই। এই - ই - - তোমাদের প্রভু, অতএব তাঁরই উপাসনা করো। তোমরা কি তবে খেয়াল করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভু হচ্ছেন , যিনি মহাকাশ ও এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে। তারপর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশে। সব বিষয় তিনিই পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো শাফায়াতকারী শাফায়াত করতে পারবেনা। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবেনা?

Word by word

إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ إِذْنِهِۦ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبّ

সমকালীন বাংলা

তাঁহারই নিকট তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন; প্রতিশ্রুতি সত্য। সৃষ্টিকে তিনিই প্রথম অস্তিত্বে আনেন, অতঃপর উহার পুনরাবর্তন ঘটান, যাহারা ও সৎকর্মপরায়ণ তাহাদেরকে ন্যায়বিচারের সঙ্গে কর্মফল প্রদানের জন্য। এবং যাহারা তাহারা করিত বলিয়া তাহাদের জন্য রহিয়াছে অত্যুষ্ণ পানীয় ও মর্মন্তুদ শাস্তি।

জহুরুল হক

তাঁরই দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। ‌র এই প্রতি‌শ্রুতি ধ্রুবসত্য। নিঃসন্দেহ তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি তার পুনরাবর্তন ঘটান, যেন তিনি ন্যায়সঙ্গতভাবে পারিতোষিক দিতে পারেন তাদের যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে। আর যারা অবিশ্বাস করে তাদের জন্যে রয়েছে ফুটন্ত জলের পানীয়, আর মর্মন্তুদ শাস্তি, কেননা তারা অবিশ্বাস পোষণ করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন হবে তাঁরই কাছে। আল্লাহর ওয়াদা হক। তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুন: সৃষ্টি করবেন যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে তাদেরকে ইনসাফের সাথে তাদের কর্মফল দেয়ার জন্যে। আর যারা কুফুরি করে, তাদের জন্যে রয়েছে প্রচন্ড গরম পানির শরবত আর বেদনাদায়ক আযাব, তাদের কুফুরির কারণে।

Word by word

إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا وَعْدَ ٱللَّهِ حَقًّا إِنَّهُۥ يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ بِٱلْقِسْطِ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ

সমকালীন বাংলা

তিনিই সূর্যকে তেজস্কর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করিয়াছেন এবং উহার মনযিল নির্দিষ্ট করিয়াছেন যাহাতে তোমরা বৎসর গণনা ও সময়ের হিসাব জানিতে পার। ইহা নিরর্থক সৃষ্টি করেন নাই। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি এই সমস্ত নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করেন।

জহুরুল হক

তিনিই তো সূর্যকে করেছেন তেজস্কর, আর চন্দ্রকে জ্যোতির্ময়, আর তার জন্য নির্ধারিত করেছেন অবস্থানসমূহ যেন তোমরা জানতে পারো বৎসরের গণনা ও হিসাব। এ সৃষ্টি করেন নি সার্থকতা ছাড়া। তিনি নির্দেশাবলী বিশদ - ব্যাখ্যা করেন সেইসব লোকের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই সূর্যকে বানিয়েছেন আলোদানকারী এবং চাঁদকে করেছেন আলোকিত, আর তার মনযিল ঠিক করে দিয়েছেন যাতে করে তোমরা বছর গুণতে পারো এবং হিসাব করতে পারো। বাস্তব কারণ ও প্রয়োজন ছাড়া এগুলো সৃষ্টি করেননি। তিনি জ্ঞানীদের জন্যে বিশদভাবে বর্ণনা করেন আয়াত সমূহ।

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ ٱلشَّمْسَ ضِيَآءً وَٱلْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُۥ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا۟ عَدَدَ ٱلسِّنِينَ وَٱلْحِسَابَ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ ذَٰلِكَ إِلَّا بِٱلْحَقِّ يُفَصِّلُ ٱلْءَايَٰتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُو

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাতে নিদর্শন রহিয়াছে সম্প্রদায়ের জন্য।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে, আর যা - কিছু সৃষ্টি করেছেন মহাকাশে ও পৃথিবীতে, সে - সমস্তে রয়েছে নিদর্শন সেইসব লোকের জন্যে যারা ধর্মপরায়ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই দিন ও রাতের পরিবর্তন এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে সতর্ক লোকদের জন্যে নিদর্শন।

Word by word

إِنَّ فِى ٱخْتِلَٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ ٱللَّهُ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَّقُونَ

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যাহারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না এবং পার্থিব জীবনেই সন্তুষ্ট এবং ইহাতেই পরিতৃপ্ত থাকে এবং যাহারা আমার নিদর্শনাবলী সম্বন্ধে গাফিল।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা আমাদের সাথে মুলাকাত আশা করে না আর পার্থিব জীবনেই পরিতৃপ্ত থাকে আর তাতেই নিশ্চিন্ত বোধ করে, আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে অমনোযোগী, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা এবং দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট আর তাতেই পরিতৃপ্ত এবং যারা আমাদের আয়াত সম্পর্কেও গাফিল,

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا وَرَضُوا۟ بِٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَٱطْمَأَنُّوا۟ بِهَا وَٱلَّذِينَ هُمْ عَنْ ءَايَٰتِنَا غَٰفِلُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদেরই আবাস দোজখ, উহাদের কৃতকর্মের জন্য।

জহুরুল হক

এরাই - - এদের আবাসস্থল হচ্ছে আগুন, তারা যা উপার্জন করেছে সেজন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরই আবাস হবে জাহান্নাম তাদের (মন্দ) কৃতকর্মের কারণে।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ مَأْوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের সুখ দায়ক বাগানে পরিচালিত করবেন যার নীচে প্রবাহমান নদী সমূহ।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের প্রভু তাদের পথ দেখিয়ে নেবেন তাদের বিশ্বাসের দ্বারা, - - তাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলবে ঝরনারাজি আনন্দময় বাগানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের সুখকর বাগানে নেবেন যার নীচে প্রবাহমান নদী।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُم بِإِيمَٰنِهِمْ تَجْرِى مِن تَحْتِهِمُ ٱلْأَنْهَٰرُ فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ

সমকালীন বাংলা

সেখানে তাহাদের ধ্বনি হইবে : ‘হে ! তুমি মহান, পবিত্র !’ এবং সেখানে তাহাদের অভিবাদন হইবে ‘সালাম’ এবং তাহাদের শেষ ধ্বনি হইবে এই:‘সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর প্রাপ্য।’

জহুরুল হক

সেখানে তাদের আহ্বান হবে - - ''তোমারই মহিমা হোক, হে ‌?’’ আর তাদের অভিবাদন সেখানে হবে - - ''সালাম’’, আর তাদের শেষ আহ্বান হবে - - ''সকল প্রশংসা হচ্ছে ‌র যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের প্রভু’’।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তাদের দোয়া হবে: ‘হে ! তুমি সকল ত্রুটির উর্ধ্বে, অতীব পবিত্র, অতি মহান!’ আর সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম।’ সেখানে তাদের শেষ দোয়া হবে: ‘আল হামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামিন - সব প্রশংসা মহাজগতের প্রভু আল্লাহর।’

Word by word

دَعْوَىٰهُمْ فِيهَا سُبْحَٰنَكَ ٱللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَٰمٌ وَءَاخِرُ دَعْوَىٰهُمْ أَنِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

সমকালীন বাংলা

যদি মানুষের অকল্যাণ ত্বরান্নিত করিতেন, যেভাবে তাহারা তাহাদের কল্যাণ ত্বরান্নিত করিতে চায়, তবে অবশ্যই তাহাদের মৃত্যু ঘটিত। সুতরাং যাহারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তাহাদেরকে আমি তাহাদের অবাধ্যতায় উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরিয়া বেড়াইতে দেই।

জহুরুল হক

যদি মানুষের জন্য অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতেন যেমন তারা তাদের জন্য কল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চায়, তাহলে তাদের শেষ - পরিণতি তাদের উপরে ঘটে যেত। কিন্তু যারা আমাদের সাথে মুলাকাত করা পছন্দ করে না - - তাদের আমরা অন্ধভাবে ঘুরে বেড়াতে দিই তাদের অবাধ্যতার মধ্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি মানুষের ক্ষতির বিষয়টা দ্রুত করতেন, যেভাবে তারা তাদের কল্যাণের বিষয়টা দ্রুত করে, তাহলে তাদের মরণ হয়ে যেতো। সুতরাং যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা, আমরা তাদেরকে তাদের বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেই।

Word by word

وَلَوْ يُعَجِّلُ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ ٱلشَّرَّ ٱسْتِعْجَالَهُم بِٱلْخَيْرِ لَقُضِىَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ فَنَذَرُ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا فِى طُغْيَٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ

সমকালীন বাংলা

আর মানুষকে যখন দুঃখ - দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে শুইয়া, বসিয়া অথবা দাঁড়াইয়া আমাকে ডাকিয়া থাকে। অতঃপর আমি যখন তাহার দুঃখ - দৈন্য দূরীভূত করি, সে এমন পথ অবলম্বন করে, যেন তাহাকে যে দুঃখ - দৈন্য স্পর্শ করিয়াছিল তাহার জন্য সে আমাকে ডাকেই নাই। যাহারা সীমালংঘন করে তাহাদের কর্ম তাহাদের নিকট এইভাবে শোভনীয় করিয়া দেওয়া হইয়াছে।

জহুরুল হক

আর যখন কোনো দুঃখ - দুর্দশা মানুষকে স্পর্শ করে সে তখন আমাদের ডাকে কাত হয়ে শায়িত অবস্থায় অথবা বসা অবস্থায় অথবা দাঁড়িয়ে থেকে, কিন্তু যখন আমরা তার থেকে তার বিপদ দূর করে দিই, সে তখন ঘুরে বেড়ায় যেন সে আমাদের কদাচ ডাকে নি বিপদের সময়ে যা তাকে স্পর্শ করেছিল। এইভাবে দায়িত্বহীনদের কাছে চিত্তাকর্ষক করা হয় যা তারা করে চলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে আমাদের ডাকে শুয়ে, বসে, কিংবা দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমরা যখনই তার দুঃখ - দুর্দশা দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে চলে যেনো তাকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করেছিল, তখন সে আমাকে ডাকেনি। এভাবে সীমালংঘনকারীদের কর্মকান্ড তাদের কাছে শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে।

Word by word

وَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَٰنَ ٱلضُّرُّ دَعَانَا لِجَنۢبِهِۦٓ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَآئِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهُۥ مَرَّ كَأَن لَّمْ يَدْعُنَآ إِلَىٰ ضُرٍّ مَّسَّهُۥ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ

সমকালীন বাংলা

তোমাদের পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে আমি তো ধ্বংস করিয়াছি যখন তাহারা সীমা অতিক্রম করিয়াছিল। স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাহাদের নিকট তাহাদের রাসূলগণ আসিয়াছিল, কিন্তু তাহারা ঈমান আনিবার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এইভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়া থাকি।

জহুরুল হক

আর ইতিমধ্যে তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক মানবগোষ্ঠীকে আমরা ধ্বংস করেছিলাম যখন তারা অনাচার করেছিল, আর তাদের রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তারা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত ছিল না। এইভাবে আমরা প্রতিদান দিই অপরাধী সম্প্রদায়কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের আগেকার বহু মানব প্রজন্মকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা যুলুম করেছিল। তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্যে এগিয়ে আসেনি। এভাবেই আমরা অপরাধী লোকদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দিয়ে থাকি।

Word by word

وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا ٱلْقُرُونَ مِن قَبْلِكُمْ لَمَّا ظَلَمُوا۟ وَجَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَمَا كَانُوا۟ لِيُؤْمِنُوا۟ كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْقَوْمَ ٱلْمُجْرِمِينَ

সমকালীন বাংলা

অতঃপর আমি উহাদের পর পৃথিবীতে তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করিয়াছি, তোমরা কিরূপ কর্ম কর তাহা দেখিবার জন্য।

জহুরুল হক

তারপর আমরা তোমাদের এই পৃথিবীতে প্রতিনিধি বানিয়ে - ছিলাম তাদের পরে যেন আমরা দেখতে পারি তোমরা কেমনতর কাজ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা পৃথিবীতে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি তোমাদেরকে। কারণ, আমরা দেখতে চাই তোমরা কেমন আমল করো।

Word by word

ثُمَّ جَعَلْنَٰكُمْ خَلَٰٓئِفَ فِى ٱلْأَرْضِ مِنۢ بَعْدِهِمْ لِنَنظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ

সমকালীন বাংলা

যখন আমার আয়াত, যাহা সুস্পষ্ট, তাহাদের নিকট পাঠ করা হয় তখন যাহারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তাহারা বলে, ‘অন্য এক কুরআন আন ইহা ছাড়া, অথবা ইহাকে বদলাও।’ বল, ‘নিজ হইতে ইহা বদলান আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যাহা ওহী হয়, আমি কেবল তাহারই অনুসরণ করি। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করিলে অবশ্যই আমি মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের কাছে পাঠ করা হয় আমাদের সুস্পষ্ট বণীসমূহ, যারা আমাদের সাথে মুলাকাতের আশা করে না তারা বলে - - ''এ ছাড়া অন্য এক কুরআন আনো অথবা এটি বদলাও।’’ বলো, ''একে আমার নিজের ইচ্ছায় বদলানো আমার কাজ নয়। আমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয় শুধু তারই আমি অনুসরণ করি। আমি আলবৎ ভয় করি, - - যদি আমি আমার প্রভুর অবাধ্য হই, - - এক ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদেরকে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত শুনানো হয়, তখন যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা তারা বলে: ‘এটির পরিবর্তে অন্য একটি কুরআন আনো, অথবা এটি রদবদল করো।’ হে নবী! বলো: ‘আমার নিজ থেকে এটিতে রদবদল করা আমার কাজ নয়। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার কাছে অহি করা হয়। আমি যদি আমার প্রভুর নির্দেশের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহা ভয়াবহ দিনের আযাবের আশংকা করি।’

Word by word

وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَاتُنَا بَيِّنَٰتٍ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا ٱئْتِ بِقُرْءَانٍ غَيْرِ هَٰذَآ أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِىٓ أَنْ أُبَدِّلَهُۥ مِن تِلْقَآئِ نَفْسِىٓ

সমকালীন বাংলা

বল, যদি চাহিতেন আমিও তোমাদের নিকট ইহা তিলাওয়াত করিতাম না এবং তিনিও তোমাদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করিতেন না। আমি তো ইহার পূর্বে তোমাদের মধ্যে জীবনের দীর্ঘকাল অবস্থান করিয়াছি; তবুও কি তোমরা বুঝিতে পার না?’

জহুরুল হক

বলো - - ''যদি ইচ্ছা করতেন তবে আমি তোমাদের কাছে এ পাঠ করতাম না আর তিনিও তোমাদের কাছে এ জানাতেন না। আমি তো তোমাদের মধ্যে এর আগে এক জীবনকাল কাটিয়েছি। তোমরা কি তবে বোঝো না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘ চাইলে আমি এটি তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনিও এ বিষয়ে তোমাদের অবহিত করতেন না। আমি তো আমার একটা দীর্ঘ বয়সকাল তোমাদেরই মাঝে কাটিয়েছি, তবু কি তোমরা আকল খাটাবে না?’

Word by word

قُل لَّوْ شَآءَ ٱللَّهُ مَا تَلَوْتُهُۥ عَلَيْكُمْ وَلَآ أَدْرَىٰكُم بِهِۦ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِّن قَبْلِهِۦٓ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

সমকালীন বাংলা

যে ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে অথবা নিদর্শনকে অস্বীকার করে তাহার অপেক্ষা অধিক আর কে? নিশ্চয়ই অপরাধিগণ হয় না।

জহুরুল হক

কে তবে বেশি অন্যায়কারী তার চাইতে যে সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করে? নিঃসন্দেহ অপরাধীরা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, কিংবা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর আয়াতকে? নিশ্চয়ই অপরাধিরা হয়না।

Word by word

فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِـَٔايَٰتِهِۦٓ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلْمُجْرِمُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা ব্যতীত যাহার ‘ইবাদত করে তাহা উহাদের ক্ষতিও করিতে পারে না, উপকারও করিতে পারে না। উহারা বলে, ‘এইগুলি নিকট আমাদের সুপারিশকারী।’ বল, ‘তোমরা কি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিবে যাহা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র’ এবং তাহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে তিনি ঊর্ধ্বে।

জহুরুল হক

আর ওরা ‌কে ছেড়ে দিয়ে তার উপাসনা করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না বা তাদের উপকারও করতে পারে না, আর তারা বলে - - ''এরা আমাদের জন্য ‌র কাছে সুপারিশকারী।’’ বলো - - ''তোমরা কি ‌কে জানাতে চাও যা তিনি জানেন না মহাকাশে আর পৃথিবীতেও না?’’ তারঁই সব মহিমা! আর তারা যাকে অংশী করে তা হতে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছাড়া যে সবের ইবাদত (পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করে, সেগুলো না তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনো উপকার। তারা বলে: ‘এরা আল্লাহর কাছে আমাদের শাফায়াতকারী।’ হে নবী! বলো: ‘তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় অবহিত করতে চাও, মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যে বিষয়ে তিনি জানেন না?’ তিনি ত্রুটিমুক্ত পবিত্র এবং সেসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে যাদেরকে তোমরা শরিক করছো তাঁর সাথে।

Word by word

وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَٰٓؤُلَآءِ شُفَعَٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّـُٔونَ ٱللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِى ٱلْأَرْ

সমকালীন বাংলা

মানুষ ছিল একই উম্মত, পরে উহারা মতভেদ সৃষ্টি করে। তোমার প্রতিপালকের পূর্ব - ঘোষণা না থাকিলে তাহারা যে বিষয়ে মতভেদ ঘটায় তাহার মীমাংসা তো হইয়াই যাইত।

জহুরুল হক

মানবগোষ্ঠী একই জাতি বইতো নয়, তারপর তারা মতপার্থক্য করলো। আর যদি তোমার প্রভুর কাছ থেকে ঘোষণাটি বলা না হতো তাহলে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ তো প্রথমে এক উম্মতই ছিলো। পরে তারা ইখতেলাফ (বিভেদ সৃষ্টি) করে। তোমার প্রভুর পূর্ব ঘোষণা না থাকলে তারা যে বিষয়ে ইখতেলাফ করছে তার ফায়সালা হয়ে যেতো।

Word by word

وَمَا كَانَ ٱلنَّاسُ إِلَّآ أُمَّةً وَٰحِدَةً فَٱخْتَلَفُوا۟ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِىَ بَيْنَهُمْ فِيمَا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা বলে, ‘তাহার প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহার নিকট কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন?’ বল, ‘অদৃশ্যের জ্ঞান তো কেবল আল্লাহরই আছে। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।’

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''তার প্রভুর কাছ থেকে কেন একটি নিদর্শন তার কাছে পাঠানো হয় না?’’ তবে বলো - - '' কেবল ‌রই রয়েছে, কাজেই অপেক্ষা করো, নিঃসন্দেহ আমিও তোমাদেরই সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের মধ্যেকার।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন নাযিল হলো না কেন?’ তুমি বলো: ‘ তো কেবল আল্লাহ্ই জানেন। সুতরাং তোমরা এনতেযার (অপেক্ষা) করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

Word by word

وَيَقُولُونَ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌ مِّن رَّبِّهِۦ فَقُلْ إِنَّمَا ٱلْغَيْبُ لِلَّهِ فَٱنتَظِرُوٓا۟ إِنِّى مَعَكُم مِّنَ ٱلْمُنتَظِرِينَ

সমকালীন বাংলা

আর দুঃখ - দৈন্য তাহাদেরকে স্পর্শ করিবার পর, যখন আমি মানুষকে অনুগ্রহের আস্বাদন করাই তাহারা তখনই আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধে অপকৌশল করে। বল, অপকৌশলের শাস্তিদানে দ্রুততর।’ তোমরা যে অপকৌশল কর তাহা অবশ্যই আমার ফিরিশ্তাগণ লিখিয়া রাখে।

জহুরুল হক

আর যখন আমরা লোকদের করুণার আস্বাদ দিই কোনো দুঃখ - দুর্দশা তাদের স্পর্শ করার পরে, দেখো! তারা আমাদের নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। বলো - - '' পরিকল্পনা করায় অধিকতর তৎপর।’’ নিঃসন্দেহ আমাদের দূতরা লিখে রাখে যে ষড়যন্ত্র তোমরা করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর যখনই আমরা মানুষকে আমাদের রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখনই তারা আমাদের আয়াতের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়। বলো: ‘কৌশল প্রয়োগে সবচেয়ে দ্রুত।’ আমাদের রসূলরা (ফেরেশতারা) রেকর্ড করে রাখছে তোমাদের সব চক্রান্ত।

Word by word

وَإِذَآ أَذَقْنَا ٱلنَّاسَ رَحْمَةً مِّنۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُمْ إِذَا لَهُم مَّكْرٌ فِىٓ ءَايَاتِنَا قُلِ ٱللَّهُ أَسْرَعُ مَكْرًا إِنَّ رُسُلَنَا يَكْتُبُونَ مَا تَمْكُرُونَ

সমকালীন বাংলা

তিনিই তোমাদেরকে জলেস্থলে ভ্রমণ করান এবং তোমরা যখন নৌকারোহী হও এবং এইগুলি আরোহী লইয়া অনুকূল বাতাসে বহিয়া যায় এবং তাহারা উহাতে আনন্দিত হয়; অতঃপর এইগুলি বাত্যাহত এবং সর্বদিক হইতে তরঙ্গাহত হয় এবং তাহারা উহা দ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়া পড়িয়াছে মনে করে, তখন তাহারা আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া ডাকিয়া বলে: ‘তুমি আমাদেরকে ইহা হইতে ত্রাণ করিলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলে ও জলে। তারপর তোমরা যখন জাহাজে থাকো, আর তাদের নিয়ে তা যাত্রা করে অনুকুল হওয়ায়, আর তারা তাতে মৌজ করে, তাতে এসে পড়ে এক ঝড়ো বাতাস, আর চতুর্দিক থেকে ঢেউ আসতে থাকে তাদের কাছে, আর তারা মনে করে যে তারা আলবৎ এর দ্বারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে, তারা ‌কে ডাকে তাঁর প্রতি আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে - - ''যদি এ থেকে তুমি আমাদের উদ্ধার করো তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলভাগে এবং সমুদ্রে। এভাবে তোমরা যখন নৌযানে ভ্রমণ করো এবং সেগুলো আরোহীদের নিয়ে অনুকূল বাতাসে এগিয়ে চলে এবং তাতে তারা আনন্দিত হয়। অত:পর যখন দমকা হাওয়া এবং সবদিক থেকে আগত উত্তাল তরঙ্গমালা সেগুলোকে আক্রমণ করে এবং তারা মনে করে যে, তারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে, তখন আল্লাহর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তারা কেবল তাঁকেই ডাকতে থাকে। তারা তখন তাঁকে বলে: ‘তুমি যদি আমাদের উদ্ধার করো তাহলে অবশ্যি আমরা শোকরগুজার হবো।’

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى يُسَيِّرُكُمْ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ حَتَّىٰٓ إِذَا كُنتُمْ فِى ٱلْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِم بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُوا۟ بِهَا جَآءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَآءَهُمُ ٱلْمَوْجُ مِن كُلِّ مَكَان

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তিনি যখনই উহাদেরকে বিপদমুক্ত করেন তখনই উহারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে জুলুম করিতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের জুলুম বস্তুত তোমাদের নিজেদের প্রতিই হইয়া থাকে; পার্থিব জীবনের সুখ ভোগ করিয়া নাও, পরে আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদেরকে জানাইয়া দিব তোমরা যাহা করিতে।

জহুরুল হক

তারপর তিনি যখন তাদের উদ্ধার করেন, দেখো! তারা পৃথিবীতে দৌরা‌ত্ম্য শুরু করে অন্যায়ভাবে। ওহে মানবগোষ্ঠি! তোমাদের দৌরা‌ত্ম্য বস্তুতঃ তোমাদেরই বিরুদ্ধে, দুনিয়ার জীবনের সামান্য উপভোগ, তারপর আমাদেরই কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তোমাদের জানিয়ে দেবো যা তোমরা করে চলেছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যখন তিনি তাদের বিপদ থেকে নাজাত দেন, তখন তারা না - হকভাবে দেশে সীমালংঘন করতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের সীমালংঘন তোমাদেরই ধ্বংসের কারণ হয়। দুনিয়ার জীবনে কিছুটা ভোগবিলাস করে নাও, তারপর আমাদের কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তোমাদের অবহিত করবো তোমরা কী সব কান্ড কারবার করছিলে।

Word by word

فَلَمَّآ أَنجَىٰهُمْ إِذَا هُمْ يَبْغُونَ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّمَا بَغْيُكُمْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُم مَّتَٰعَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُكُمْ فَنُنَبِّئُكُم

সমকালীন বাংলা

বস্তুত পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত এইরূপ : যেমন আমি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করি যদ্ধারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন - সন্নিবিষ্ট হইয়া উদ্গত হয়, যাহা হইতে মানুষ ও জীবজন্তু আহার করিয়া থাকে। অতঃপর যখন ভূমি তাহার শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয় এবং উহার অধিকারিগণ মনে করে উহা তাহাদের আয়ত্তাধীন, তখন দিবসে অথবা রজনীতে আমার নির্দেশ আসিয়া পড়ে ও আমি উহা এমনভাবে নির্মূল করিয়া দেই, যেন গতকালও উহার অস্তিত্ব ছিল না। এইভাবে আমি নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বিবৃত করি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

জহুরুল হক

এই দুনিয়ার জীবনের তুলনা হচ্ছে বৃষ্টির ন্যায় যা আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি, তখন তার দ্বারা পৃথিবীর গাছপালা ভুইঁফোঁড়ে বাড়ে যা থেকে মানুষ ও জীবজন্তু আহার করে থাকে, তারপর যখন পৃথিবী তার সোনালী শোভা ধারণ করে ও সাজসজ্জা পরে, আর এর মালিকেরা ভাবে যে তারা আলবৎ এর উপরে আয়ত্তাধীন, তখন আমাদের আদেশ এর উপরে এসে পড়ে রাতে অথবা দিনে, ফলে আমরা একে বানাই কাটা শস্যের মতন যেন গতকালও তার প্রাচুর্য ছিল না। এইভাবে আমরা নির্দেশাবলী বিশদ ব্যাখ্যা করি সেইসব সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়ার জীবনের উপমা হলো (বৃষ্টির) পানি, যা আমরা আকাশ থেকে নাযিল করি। তা থেকে গজিয়ে উঠে ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন নিবিড় হয়ে। তা থেকেই আহার করে মানুষ এবং জীব - জানোয়ার। তারপর জমিন যখন তার শোভা ধারন করে এবং চাকচিক্যময় হয়ে উঠে আর তার অধিবাসীরা মনে করে, সেগুলো তাদের আয়ত্তাধীন, তখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়ে রাতে কিংবা দিনে এবং আমরা সেগুলো এমনভাবে ধ্বংস করে দেই, যেনো গতকালও সেখানে কিছু ছিলনা। এভাবেই আমরা বিশদ বিবরণ দেই আমাদের আয়াতের, চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।

Word by word

إِنَّمَا مَثَلُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا كَمَآءٍ أَنزَلْنَٰهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَٱخْتَلَطَ بِهِۦ نَبَاتُ ٱلْأَرْضِ مِمَّا يَأْكُلُ ٱلنَّاسُ وَٱلْأَنْعَٰمُ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَخَذَتِ ٱلْأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَٱزَّيَّنَت

সমকালীন বাংলা

শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।

জহুরুল হক

আর আহ্বান করেন শান্তির আলয়ে, আর যাকে তিনি ইচ্ছে করেন তাকে পরিচালিত করেন সহজ - সঠিক পথের দিকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

দাওয়াত দিচ্ছেন দারুস সালামের (শান্তি নিবাসের) দিকে এবং তিনি যাকে চান পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমে (সঠিক সুদৃঢ় পথে)।

Word by word

وَٱللَّهُ يَدْعُوٓا۟ إِلَىٰ دَارِ ٱلسَّلَٰمِ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ

সমকালীন বাংলা

যাহারা কল্যাণকর কাজ করে তাহাদের জন্য আছে কল্যাণ এবং আরও অধিক। কালিমা ও হীনতা উহাদের মুখমণ্ডলকে আচ্ছন্ন করিবে না। উহারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে উহারা স্থায়ী হইবে।

জহুরুল হক

যারা ভালো করে তাদের জন্য রয়েছে ভালো এবং আরো বেশি। আর তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছাদন করবে না কোনো কালিমা এবং কোনো অপমানও নয়। এরাই হচ্ছে বেহেশতের অধিবাসী, তারা সেখানে থাকবে স্থায়ীভাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কল্যাণের কাজ করে তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। তাদের চেহারাকে আচ্ছন্ন করবেনা কালিমা কিংবা জিল্লতি। তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

Word by word

لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ ٱلْحُسْنَىٰ وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

সমকালীন বাংলা

যাহারা মন্দ কাজ করে তাহাদের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ এবং তাহাদেরকে হীনতা আচ্ছন্ন করিবে; হইতে উহাদেরকে রক্ষা করিবার কেহ নাই; উহাদের মুখমণ্ডল যেন রাত্রির অন্ধকার আস্তরণে আচ্ছাদিত। উহারা দোজখের অধিবাসী, সেখানে উহারা স্থায়ী হইবে।

জহুরুল হক

আর যারা মন্দ অর্জন করে মন্দকাজের প্রতিফল হবে তার অনুরূপ, আর তাদের আচ্ছাদন হবে অপমান। তাদের জন্য থেকে কোনো রক্ষক নেই, - - যেন তাদের মুখমন্ডল আচ্ছাদিত হয়েছে নিশীথের গহন অন্ধকারের একাংশ দিয়ে। এরাই হচ্ছে আগুনের অধিবাসী, তারা সেখানে থাকবে দীর্ঘকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কামাই করবে মন্দ কর্ম, তাদের প্রতিফলও হবে অনুরূপ মন্দ। তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে জিল্লতি। তাদেরকে আল্লাহর (পাকড়াও) থেকে রক্ষা করার কেউ হবেনা। তাদের চেহারা হবে (কালো) যেনো রাতের অন্ধকার আবরণে আচ্ছন্ন। তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

Word by word

وَٱلَّذِينَ كَسَبُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ جَزَآءُ سَيِّئَةٍۭ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ مَّا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ كَأَنَّمَآ أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ ٱلَّيْلِ مُظْلِمًا أُو۟لَٰٓئِكَ

সমকালীন বাংলা

এবং যেদিন আমি উহাদের সকলকে একত্র করিয়া, যাহারা মুশরিক তাহাদেরকে বলিব, ‘তোমরা এবং তোমরা যাহাদেরকে শরীক করিয়াছিলে তাহারা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান কর;’ আমি উহাদেরকে পরস্পর হইতে পৃথক করিয়া দিব এবং উহারা যাহাদেরকে শরীক করিয়াছিল তাহারা বলিবে, ‘তোমরা তো আমাদের ‘ইবাদত করিতে না।’

জহুরুল হক

আর যেদিন আমরা ওদের সবাইকে সমবেত করবো, তারপর যারা অংশী দাঁড় করেছিল তাদের বলবো - - ''তোমরা ও তোমাদের অংশীরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো।’’ তারপর আমরা তাদের একে অন্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবো, আর তাদের অংশীরা বলবে - - ''তোমরা তো আমাদের উপাসনা করতে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন আমরা তাদের সবাইকে হাশর (সমবেত) করবো এবং মুশরিকদের বলবো: ‘তোমাদের নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করো, তোমরা নিজেরা এবং তোমরা যাদের শরিক করেছিলে তারা। তারপর আমরা তাদেরকে পরস্পর থেকে আলাদা করে দেবো। তখন তারা যাদের শরিক করেছিল তারা বলবে: ‘‘তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না।

Word by word

وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ مَكَانَكُمْ أَنتُمْ وَشُرَكَآؤُكُمْ فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ وَقَالَ شُرَكَآؤُهُم مَّا كُنتُمْ إِيَّانَا تَعْبُدُونَ

সমকালীন বাংলা

আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট যে, তোমরা আমাদের ‘ইবাদত করিতে এ বিষয়ে আমরা তো গাফিল ছিলাম।’

জহুরুল হক

''সেজন্য আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে ‌ই যথেষ্ট যে তোমাদের পূজা - অর্চনা সন্বন্ধে আমরা অনবহিত ছিলাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। (তোমরা যে বলছো তোমরা আমাদের ইবাদত করতে) আমরা তো তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে একেবারেই গাফিল ছিলাম।’’

Word by word

فَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًۢا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِن كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغَٰفِلِينَ

সমকালীন বাংলা

সেখানে তাহাদের প্রত্যেকে তাহার পূর্বকৃত কর্ম পরীক্ষা করিয়া লইবে এবং উহাদেরকে উহাদের প্রকৃত অভিভাবক নিকট ফিরাইয়া আনা হইবে এবং উহাদের উদ্ভাবিত মিথ্যা উহাদের নিকট হইতে অন্তর্হিত হইবে।

জহুরুল হক

সেখানে প্রত্যেক আ‌ত্মা উপলব্ধি করবে যা সে পূর্বে পাঠিয়েছে, আর তাদের ফিরিয়ে আনা হবে তাদের প্রকৃত অভিভাবক ‌র নিকটে, আর তাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে যাদের তারা উদ্ভাবন করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃতকর্ম পরীক্ষা করে নেবে এবং তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে তাদের প্রকৃত মাওলা (মনিব) আল্লাহর দিকে, আর তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে তাদের মনগড়া (সুপারিশকারীরা)।

Word by word

هُنَالِكَ تَبْلُوا۟ كُلُّ نَفْسٍ مَّآ أَسْلَفَتْ وَرُدُّوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ مَوْلَىٰهُمُ ٱلْحَقِّ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَفْتَرُونَ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হইতে জীবনোপকরণ সরবরাহ করে অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কাহার কর্তৃত্বাধীন, জীবিতকে মৃত হইতে কে বাহির করে এবং মৃতকে জীবিত হইতে কে বাহির করে এবং সকল বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করে? তখন তাহারা বলিবে, বল,‘তবুও কি তোমরা সাবধান হইবে না?’

জহুরুল হক

বলো - - ''কে তোমাদের জীবিকা দান করে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী থেকে? অথবা শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে নির্গত করে ও জীবিত থেকে মৃতকে নির্গত করে? আর কে বিষয় - আশয় নিয়ন্ত্রণ করে?’’ তখন তারা বলবে - - ''‌।’’ তাহলে বলো - - ''তবে কেন তোমরা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করো না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘কে তোমাদের রিযিক দেন আসমান ও জমিন থেকে? কিংবা শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টি শক্তির কর্তৃত্ব কার? কে বের করেন মৃত থেকে জীবিতকে? কে বের করেন জীবিত থেকে মৃতকে? কে পরিচালনা করেন সমস্ত বিষয়?’ এসব প্রশ্নের জবাবে তারা বলবে: ‘’। বলো: ‘তাহলে কেন তোমরা সতর্ক হওনা (আল্লাহর আযাব সম্পর্কে)?’

Word by word

قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ أَمَّن يَمْلِكُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَٰرَ وَمَن يُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ

সমকালীন বাংলা

তিনিই তোমাদের সত্য প্রতিপালক। সত্য ত্যাগ করিবার পর বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কী থাকে? সুতরাং তোমরা কোথায় চালিত হইতেছ?

জহুরুল হক

এই তবে ‌, - - তোমাদের আসল প্রভু, সত্যের পরে তবে মিথ্যা ভিন্ন আর কি থাকে? সুতরাং কোথায় তোমরা ফিরে যাচ্ছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তোমাদের প্রকৃত প্রভু। সত্য ত্যাগ করলে গোমরাহি ছাড়া আর কী থাকে? তাহলে তোমরা ঘুরে ফিরে কোন্ দিকে যাচ্ছো?

Word by word

فَذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمُ ٱلْحَقُّ فَمَاذَا بَعْدَ ٱلْحَقِّ إِلَّا ٱلضَّلَٰلُ فَأَنَّىٰ تُصْرَفُونَ

সমকালীন বাংলা

এইভাবে সত্যত্যাগীদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের এই বাণী সত্য প্রতিপন্ন হইয়াছে যে, তাহারা তো ঈমান আনিবে না।

জহুরুল হক

এইভাবে তোমার প্রভুর বাণী সত্যপ্রতিপন্ন হয় তাদের বিরুদ্ধে যারা অবাধ্যাচরণ করে - - ''নিঃসন্দেহ তারা ঈমান আনবে না’’।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই ফাসিকদের উপর তোমার প্রভুর বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে যে, তারা ঈমান আনবে না।

Word by word

كَذَٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى ٱلَّذِينَ فَسَقُوٓا۟ أَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘তোমরা যাহাদের শরীক কর তাহাদের মধ্যে কি এমন কেহ আছে, যে সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করে ও পরে উহার পুনরাবর্তন ঘটায়?’ বল, সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন ও পরে উহার পুনরাবর্তন ঘটান,’ সুতরাং তোমরা কেমন করিয়া সত্য - বিচ্যুত হইতেছ?

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমাদের অংশীদের মধ্যে কেউ কি আছে যে আদি - সৃষ্টি আর করতে পারে, তারপর তা পুনরুৎপাদন করতে পারে?’’ তুমি বলো - - ''‌ই সৃষ্টি শুরু করেন, তারপর তা পুনরুৎপাদন করেন। সুতরাং তোমরা কোথায় চলে যাচ্ছ?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানাও, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সৃষ্টির অস্তিত্ব দেয়, পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়? বলো: আল্লাহ্ই সৃষ্টির অস্তিত্ব দেন এবং পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটান। ফলে তোমরা কী করে সত্য ত্যাগ করে দূরে সরে যাচ্ছো?

Word by word

قُلْ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ قُلِ ٱللَّهُ يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘তোমরা যাহাদেরকে শরীক কর তাহাদের মধ্যে কি এমন কেহ আছে, যে সত্যের পথ নির্দেশ করে?’বল, সত্যের পথ নির্দেশ করেন। যিনি সত্যের পথ নির্দেশ করেন তিনি আনুগত্যের অধিকতর হক্দার, না যাহাকে পথ না দেখাইলে পথ পায় না - সে? তোমাদের কী হইয়াছে? তোমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত করিয়া থাক?’

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমাদের অংশীদের মধ্যে কেউ কি আছে যে পরিচালিত করে সত্যের প্রতি?’’ তুমি বলো - - ''‌ই সত্যের প্রতি পরিচালিত করেন।’’ অতএব যিনি সত্যের প্রতি পথ দেখান তিনি অনুসরণের অধিকতর দাবিদার, না যে পরিচালন করে না যদি না সে পরিচালিত হয়? তোমাদের তবে কি হয়েছে? কিভাবে তোমরা বিচার করো?

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক বানাচ্ছো, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সত্যের দিকে পথ দেখায়? বলো: সত্যের দিকে পথ দেখান তো কেবল । যিনি সত্যের দিকে পথ দেখান তিনি আনুগত্য লাভের অধিক হকদার? নাকি সে, যাকে পথ না দেখালে সে নিজেই পথ পায়না? তোমাদের হয়েছে কী? কিভাবে তোমরা ফায়সালা গ্রহণ করো?

Word by word

قُلْ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَهْدِىٓ إِلَى ٱلْحَقِّ قُلِ ٱللَّهُ يَهْدِى لِلْحَقِّ أَفَمَن يَهْدِىٓ إِلَى ٱلْحَقِّ أَحَقُّ أَن يُتَّبَعَ أَمَّن لَّا يَهِدِّىٓ إِلَّآ أَن يُهْدَىٰ فَمَا لَكُمْ كَي

সমকালীন বাংলা

উহাদের অধিকাংশ অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোন কাজে আসে না। উহারা যাহা করে নিশ্চই তাহালা সে বিষয়ে অবহিত।

জহুরুল হক

আর তাদের অধিকাংশই অনুমান ছাড়া আর কিছুই অনুসরণ করে না। নিঃসন্দেহ সত্যের পরিবর্তে অনুমানের কোনোই মূল্য নেই। ওরা যা করে সে বিষয়ে অবশ্যই সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অধিকাংশই অনুমান ছাড়া আর কিছুরই অনুসরণ করেনা। নিশ্চয়ই অনুমান সত্যে উপনীত হবার ব্যাপারে কোনো কাজেই আসেনা। তারা যা করে সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত।

Word by word

وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا إِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًٔا إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِمَا يَفْعَلُونَ

সমকালীন বাংলা

এই কুরআন ব্যতীত অপর কাহারও রচনা নয়। পক্ষান্তরে, ইহার পূর্বে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে ইহা তাহার সমর্থন এবং ইহা বিধানসমূহের বিশদ ব্যাখ্যা। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে।

জহুরুল হক

আর এই কুরআন এমন নয় যা রচনা করতে পারে ছাড়া অন্য কেউ, পক্ষান্তরে এ সমর্থন করে এর পূর্বে যা ছিল তার, আর গ্রন্থের এ এক বিশদ ব্যাখ্যা - - কোনো সন্দেহ নেই এতে বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কুরআন ছাড়া আর কারো পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়। বরং এটি এর পূর্বে যেসব (কিতাব) অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর সত্যায়নকারী এবং বিধানসমূহের বিশদ বিবরণ। এতে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই যে, এটি নাযিল হয়েছে মহাজগতের প্রভুর পক্ষ থেকে।

Word by word

وَمَا كَانَ هَٰذَا ٱلْقُرْءَانُ أَن يُفْتَرَىٰ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ ٱلَّذِى بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ ٱلْكِتَٰبِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

সমকালীন বাংলা

তাহারা কি বলে, ‘সে ইহা রচনা করিয়াছে?’ বল, ‘তবে তোমরা ইহার অনুরূপ একটি সূরা আনয়ন কর এবং ব্যাতীত অপর যাহাকে পার আহবান কর, যদি তোমরা সত্যবাদি হও।

জহুরুল হক

অথবা তারা কি বলে - - ''তিনি এটি রচনা করেছেন’’? তুমি বলো - - ''তাহলে নিয়ে এস এর মতো একটি সূরা, আর ‌কে ছেড়ে দিয়ে যাদের পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: এটি সে (মুহাম্মদ) রচনা করে নিয়েছে? তুমি বলো: তাহলে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতার) জন্যে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

Word by word

أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ قُلْ فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍ مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ مَنِ ٱسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

সমকালীন বাংলা

পরন্তু উহারা যে বিষয়ের জ্ঞান আয়ত্ত করে নাই তাহা অস্বীকার করে এবং এখনও ইহার পরিণাম উহাদের নিকট উপস্থিত হয় নাই। এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীগণও মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল, সুতরাং দেখ, জালিমদের পরিণাম কী হইয়াছে।

জহুরুল হক

না, তারা প্রত্যাখ্যান করে যার জ্ঞানের সীমা তারা পায় না, আর এখনও এর মর্ম তাদের কাছে আসে নি। এইভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল তারা যারা তাদের পূর্বে ছিল, সুতরাং দেখো কেমন হয়েছিল অত্যাচারীদের পরিণাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তারা এমন বিষয় অস্বীকার করছে, যে বিষয়ে জ্ঞান তারা আয়ত্ত করেনি এবং যার তা’বিলও তাদের কাছে আসেনি। তাদের পূর্ববর্তী (কাফিররাও) এভাবেই সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন তাকিয়ে দেখো, যালিমদের কী পরিণতি হয়েছিল!

Word by word

بَلْ كَذَّبُوا۟ بِمَا لَمْ يُحِيطُوا۟ بِعِلْمِهِۦ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُۥ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلظَّٰلِمِينَ

সমকালীন বাংলা

উহাদের মধ্যে কেহ ইহাতে বিশ্বাস করে এবং কেহ ইহাতে বিশ্বাস করে না এবং তোমার প্রতিপালক অশান্তি সৃষ্টিকারীদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যে এতে বিশ্বাস করে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যে এতে বিশ্বাস করে না। আর তোমার প্রভু গন্ডগোল সৃষ্টিকারীদের ভালো জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে কিছু লোক তার প্রতি ঈমান রাখে আর কিছু লোক ঈমান রাখেনা। তোমার প্রভু ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সবচে’ ভালো করে জানেন।

Word by word

وَمِنْهُم مَّن يُؤْمِنُ بِهِۦ وَمِنْهُم مَّن لَّا يُؤْمِنُ بِهِۦ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِٱلْمُفْسِدِينَ

সমকালীন বাংলা

এবং তাহারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে তুমি বলিও, ‘আমার কর্মের দায়িত্ব আমার এবং তোমাদের কর্মের দায়িত্ব তোমাদের। আমি যাহা করি সে বিষয়ে তোমরা দায়মুক্ত এবং তোমরা যাহা কর সে বিষয়ে আমিও দায়মুক্ত।’

জহুরুল হক

আর তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যারোপ করে তবে বলো - - ''আমার কাজ আমার জন্য, আর তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য, তোমরা দায়ী নও আমি যা করি সে বিষয়ে আর আমিও দায়ী নই তোমরা যা করো সে বিষয়ে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, তুমি তাদের বলো: ‘আমার কাজের দায়িত্ব আমার, আর তোমাদের কাজের দায়িত্ব তোমাদের। আমি যে কাজ করি তোমরা তার দায়মুক্ত। আর তোমরা যে কাজ করছো আমিও তার দায়মুক্ত।’

Word by word

وَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل لِّى عَمَلِى وَلَكُمْ عَمَلُكُمْ أَنتُم بَرِيٓـُٔونَ مِمَّآ أَعْمَلُ وَأَنَا۠ بَرِىٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদের মধ্যে কেহ কেহ তোমার দিকে কান পাতিয়া রাখে। তুমি কি বধিরকে শুনাইবে, তাহারা না বুঝিলেও?

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার কথা শোনে। তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারো, - - পরন্ত তারা বুদ্ধিশুদ্ধি রাখে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কিছু লোক তোমার কথা শুনে। কিন্তু তারা বুঝতে না পারলেও তুমি কি বধিরদের শুনাবে?

Word by word

وَمِنْهُم مَّن يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ أَفَأَنتَ تُسْمِعُ ٱلصُّمَّ وَلَوْ كَانُوا۟ لَا يَعْقِلُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদের মধ্যে কেহ কেহ তোমার দিকে তাকাইয়া থাকে। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাইবে, তাহারা না দেখিলেও?

জহুরুল হক

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখতে পারো, - - পরন্ত তারা দেখতে পায় না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাকে দেখে । কিন্তু তুমি কি অন্ধদের পথ দেখাবে তারা না দেখলেও?

Word by word

وَمِنْهُم مَّن يَنظُرُ إِلَيْكَ أَفَأَنتَ تَهْدِى ٱلْعُمْىَ وَلَوْ كَانُوا۟ لَا يُبْصِرُونَ

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি কোন জুলুম করেন না, বরং মানুষই নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়া থাকে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ মানুষের প্রতি কোনো অন্যায় করেন না, কিন্তু মানুষরা তাদের নিজেদেরই প্রতি অন্যায় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করেন না, বরঞ্চ মানুষই নিজেরা নিজেদের প্রতি যুলুম করে।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَظْلِمُ ٱلنَّاسَ شَيْـًٔا وَلَٰكِنَّ ٱلنَّاسَ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ

সমকালীন বাংলা

যেদিন তিনি উহাদেরকে একত্র করিবেন সেদিন উহাদের মনে হইবে, উহাদের অবস্থিতি দিবসের মুহূর্তকাল মাত্র ছিল; উহারা পরস্পরকে চিনিবে। সাক্ষাৎ যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহারা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে এবং তাহারা সৎপথপ্রাপ্ত ছিল না।

জহুরুল হক

আর যেদিন তিনি তাদের একত্রিত করবেন যেন তারা দিনের এক ঘন্টাও কাটায় নি, তারা একে - অন্যকে চিনতে পারবে। ‌র সঙ্গে মুলাকাত হওয়াকে যারা মিথ্যা বলেছিল তারা আলবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর তারা সঠিক পথে চালিত ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তিনি তাদের হাশর করবেন, সেদিন তাদের মনে হবে (পৃথিবীতে) তারা অবস্থান করেছিল দিনের কিছুক্ষণ মাত্র। তারা পরস্পরকে চিনবে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেইসব লোক যারা আল্লাহর সাক্ষাত অস্বীকার করেছে এবং তারা সঠিক পথেও ছিলনা।

Word by word

وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ كَأَن لَّمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا سَاعَةً مِّنَ ٱلنَّهَارِ يَتَعَارَفُونَ بَيْنَهُمْ قَدْ خَسِرَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِلِقَآءِ ٱللَّهِ وَمَا كَانُوا۟ مُهْتَدِينَ

সমকালীন বাংলা

আমি উহাদেরকে যে ভীতি প্রদর্শন করিয়াছি তাহার কিছু যদি তোমাকে দেখাইয়াই দেই অথবা তোমার কাল পূর্ণ করিয়াই দেই, উহাদের প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট; এবং উহারা যাহা করে তাহার স্বাক্ষী।

জহুরুল হক

আর তোমাকে যদি আমরা দেখিয়ে দিই ওদের যা আমরা ওয়াদা করেছিলাম তার কিছুটা, অথবা তোমার মৃত্যু ঘটিয়ে দিই, তা হলেও আমাদের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন, তার উপর সাক্ষী রয়েছেন যা তারা করে তার।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদেরকে যে ভয় দেখাচ্ছি, তার কিছুটা যদি তোমার জীবনকালে দেখিয়ে দেই, কিংবা তোমার জীবনকাল যদি পূর্ণ করে দেই, শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবর্তন তো আমাদের কাছেই হবে। তারপর আল্লাহ্ই তো তাদের কর্মকান্ডের সাক্ষী।

Word by word

وَإِمَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ ٱلَّذِى نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ ٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا يَفْعَلُونَ

সমকালীন বাংলা

প্রত্যেক জাতির জন্য আছে একজন রাসূল এবং যখন উহাদের রাসূল আসিয়াছে তখন ন্যায়বিচারের সঙ্গে উহাদের মীমাংসা হইয়াছে এবং উহাদের প্রতি জুলুম করা হয় নাই।

জহুরুল হক

আর প্রত্যেক জাতির জন্যে একজন রসূল, অতএব যখন তাদের রসূল এসেছিলেন তখন ন্যায় - বিচারের সাথে ওদের মধ্যে মীমাংসা হয়েছে, আর তাদের প্রতি অন্যায় করা হয় নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক উম্মতের জন্যেই ছিলো একজন রসূল। যখনই তাদের কাছে তাদের রসূল এসেছিল, তখন ইনসাফের সাথে তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হয়নি।

Word by word

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولٌ فَإِذَا جَآءَ رَسُولُهُمْ قُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা বলে, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে ‘বল এই প্রতিশ্রুতি কবে ফলিবে?’

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''এ ওয়াদা কবে ফলবে, - - যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো, তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া সেই সময়টি কখন আসবে?’

Word by word

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

সমকালীন বাংলা

বল, যাহা ইচ্ছা করেন তাহা ব্যতীত আমার নিজের ভালমন্দের উপর আমার কোন অধিকার নাই।’ প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট সময় আছে; যখন তাহাদের সময় আসিবে তখন তাহারা মুহূর্ত কালও বিলম্ব বা ত্বরা করিতে পারিবে না।

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''আমি নিজের থেকে কোনো অনিষ্ট - সাধনের কর্তৃত্ব রাখি না বা মুনাফা দেবারও নয় - - যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত।’’ প্রত্যেক জাতির জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন তাদের সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তারা ঘন্টাখানেকের জন্যেও দেরি করতে পারবে না বা এগিয়েও আনতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: আমার নিজের লাভ ক্ষতির উপরও আমার কোনো অধিকার নেই, তবে কিছু চাইলে ভিন্ন কথা। প্রত্যেক উম্মতেরই একটি নির্ধারিত সময় আছে। যখন তার সেই নির্ধারিত সময়টি আসবে, তখন কিছুক্ষণ সময়ও আগপর হবেনা।

Word by word

قُل لَّآ أَمْلِكُ لِنَفْسِى ضَرًّا وَلَا نَفْعًا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ إِذَا جَآءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَـْٔخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ, যদি তাঁহার শাস্তি তোমাদের উপর রজনীতে অথবা দিবসে আসিয়া পড়ে তবে অপরাধীরা উহার কী ত্বরান্নিত করিতে চায়?’

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের উপরে এসে পড়ে রাত্রির আক্রমণরূপে অথবা দিনের বেলায়, তবে এর মধ্যের কোনটা ত্বরান্বিত করতে চায় অপরাধীরা?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমাদের রায় কী; আল্লাহর আযাব তো রাত বা দিনে তোমাদের উপর এসেই পড়তে পারে। তারপরও অপরাধীরা সেটার জন্যে তাড়াহুড়া করে কেন?’

Word by word

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَتَىٰكُمْ عَذَابُهُۥ بَيَٰتًا أَوْ نَهَارًا مَّاذَا يَسْتَعْجِلُ مِنْهُ ٱلْمُجْرِمُونَ

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি ইহা ঘটিবার পর ইহা বিশ্বাস করিবে? এখন? তোমরা তো ইহাই ত্বরান্নিত করিতে চাহিয়াছিলে!

জহুরুল হক

তবে কি তখন তোমরা এতে বিশ্বাস করবে যখন এটি ঘটবে? ''আহা, এখন! তোমরা তো এটিই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা (কিয়ামত) ঘটে যাবার পরই কি তোমরা ঈমান আনবে? এখন (ঈমান আনবেনা)? তোমরাই তো এর জন্যে তাড়াহুড়া করছিলে।

Word by word

أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ ءَامَنتُم بِهِۦٓ ءَآلْـَٰٔنَ وَقَدْ كُنتُم بِهِۦ تَسْتَعْجِلُونَ

সমকালীন বাংলা

পরে জালিমদেরকে বলা হইবে, ‘স্থায়ী শাস্তি আস্বাদন কর; তোমরা যাহা করিতে, তোমাদেরকে তাহারই প্রতিফল দেওয়া হইতেছে।’

জহুরুল হক

তারপর যারা অন্যায়াচরণ করেছিল তাদের বলা হবে - - ''স্থায়ী শাস্তি আস্বাদন করো। তোমরা যা অর্জন ক’রে চলেছিলে তা ছাড়া অন্য কিছু কি তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যালিমদের বলা হবে, চিরস্থায়ী আযাবের স্বাদ গ্রহণ করো। তোমরা যা কামাই করে এসেছো সেটার ছাড়া অন্য কিসের প্রতিফল তোমাদের দেয়া হবে?

Word by word

ثُمَّ قِيلَ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ ذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلْخُلْدِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا بِمَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা তোমার নিকট জানিতে চায়, ‘ইহা কি সত্য?’ বল, ‘হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ! ইহা অবশ্যই সত্য। এবং তোমরা ইহা ব্যর্থ করিতে পারিবে না।’

জহুরুল হক

আর তারা তোমার কাছে জানতে চায় - - ''এ কি সত্য?’’ বলো - - ''হাঁ, আমার প্রভুর কসম, এ আলবৎ সত্য। আর তোমাদের এড়াবার নহে!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) তারা তোমার কাছে জানতে চায়, সেটা (পুনরুত্থান দিবস) কি সত্য? বলো: ‘হ্যাঁ, আমার প্রভুর শপথ সেটা অবশ্যি সত্য। তোমরা সেটার আগমন ঠেকাতে পারবে না।’

Word by word

وَيَسْتَنۢبِـُٔونَكَ أَحَقٌّ هُوَ قُلْ إِى وَرَبِّىٓ إِنَّهُۥ لَحَقٌّ وَمَآ أَنتُم بِمُعْجِزِينَ

সমকালীন বাংলা

প্রত্যেক সীমালংঘনকারীই পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা যদি তাহার হইত তবে সে মুক্তির বিনিময়ে উহা দিয়া দিত; এবং যখন উহারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে তখন মনস্তাপ গোপন করিবে। উহাদের মীমাংসা ন্যায়বিচারের সঙ্গে করা হইবে এবং উহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।

জহুরুল হক

আর প্রতিটি লোকের, যে অন্যায় করেছে, তার যদি হতো পৃথিবীতে যা কিছু আছে সে অবশ্যই সেগুলো দিয়ে মুক্তি চাইত। আর তারা অনুতাপ অনুভব করবে যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে, কিন্তু তাদের সন্বন্ধে মীমাংসা করা হয়েছে ন্যায়সঙ্গত ভাবে, আর তাদের জুলুম করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি প্রত্যেক অন্যায়কারী পৃথিবীর সবকিছুর মালিকও হয়, তবে সে (কিয়ামতের দিন) মুক্তির বিনিময়ে সবকিছু দিয়ে দিতে চাইবে। আযাব দেখতে পেলে সে অনুতাপ লুকাবার চেষ্টা করবে। সেদিন ইনসাফের সাথে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হবেনা।

Word by word

وَلَوْ أَنَّ لِكُلِّ نَفْسٍ ظَلَمَتْ مَا فِى ٱلْأَرْضِ لَٱفْتَدَتْ بِهِۦ وَأَسَرُّوا۟ ٱلنَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا۟ ٱلْعَذَابَ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

সাবধান! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা আল্লাহরই। সাবধান! আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই অবগত নয়।

জহুরুল হক

যা - কিছু মহাকাশে ও পৃথিবীতে রয়েছে সে - সবই কি বাস্তবে ‌র নয়? ‌র ওয়াদা কি অবশ্যই সত্য নয়? কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান, জেনে রাখো, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। সাবধান, জেনে রাখো আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা।

Word by word

أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ أَلَآ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

জহুরুল হক

তিনিই জীবনদান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি জীবন দান করেন এবং তিনি মরণ দিয়ে থাকেন এবং সবাইকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

Word by word

هُوَ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

সমকালীন বাংলা

হে মানুষ!তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে আসিয়াছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহার আরোগ্য এবং মু’মিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।

জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠি! তোমাদের কাছে নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে এসেছে এক ধর্মোপদেশ আর অন্তরে যা আছে তার জন্য এক আরোগ্য বিধান, আর বিশ্বাসীদের জন্য এক পথনির্দেশ ও এক করুণা।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছ এসেছে একটি উপদেশ এবং তোমাদের কলবে (অন্তরে) যা আছে তার নিরাময়, আর হিদায়াত ও রহমত মুমিনদের জন্যে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِى ٱلصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘ইহা আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁহার দয়ায়; সুতরাং ইহাতে উহারা আনন্দিত হউক।’ উহারা যাহা পুঞ্জীভূত করে তাহা অপেক্ষা ইহা শ্রেয়।

জহুরুল হক

বলো - - ''‌র বদান্যতায় ও তাঁর করুণায়’’ - - অতএব এতে তারা তবে আনন্দ প্রকাশ করুক। তারা যা পুঞ্জীভূত করে তার চাইতে এ অধিকতর শ্রেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘এই (কুরআন এসেছে) আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়ায়। সুতরাং এর জন্যে তারা উৎফুল্ল ও আনন্দিত হোক।’ তারা যা জমা করে এটি তার চাইতে উত্তম।

Word by word

قُلْ بِفَضْلِ ٱللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِۦ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا۟ هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ

সমকালীন বাংলা

বল,‘তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ, তোমাদের যে রিযিক দিয়াছেন তোমরা যে তাহার কিছু হালাল ও কিছু হারাম করিয়াছ? বল, কি তোমাদেরকে ইহার অনুমতি দিয়াছেন, না তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিতেছ?

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমরা কি দেখেছ তোমাদের জন্য জীবিকা থেকে কত কি পাঠিয়েছেন, তারপর তোমরা তার কিছু হারাম ও হালাল বানিয়েছে?’’ বলো - - '' কি তোমাদের জন্য অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা ‌র প্রতি মিথ্যারোপ করছো?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, তোমাদের জন্যে যে রিযিক নাযিল করেছেন, তারপর তোমরা যে সেগুলোর কিছু হালাল আর কিছু হারাম বানিয়ে নিয়েছো - হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো, তোমাদের এ নির্দেশ কি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করছো?

Word by word

قُلْ أَرَءَيْتُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ لَكُم مِّن رِّزْقٍ فَجَعَلْتُم مِّنْهُ حَرَامًا وَحَلَٰلًا قُلْ ءَآللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى ٱللَّهِ تَفْتَرُونَ

সমকালীন বাংলা

যাহারা সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, কিয়ামত দিবস সম্বন্ধে তাহাদের কী ধারণা? নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি অনুগ্রহপরায়ণ, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

জহুরুল হক

আর যারা সন্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা কিয়ামতের দিন সন্বন্ধে কি ভাবছে? নিঃসন্দেহ মানুষের প্রতি অবশ্যই বদান্যতার সর্বময় কর্তা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, কিয়ামতকাল সম্পর্কে তাদের ধারণা কী? নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহওয়ালা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।

Word by word

وَمَا ظَنُّ ٱلَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ

সমকালীন বাংলা

তুমি যে কোন অবস্থায় থাক এবং তুমি তৎসম্পর্কে কুরআন হইতে যাহা তিলাওয়াত কর এবং তোমরা যে কোন কাজ কর, আমি তোমাদের পরিদর্শক - যখন তোমরা উহাতে প্রবৃত্ত হও। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অণু পরিমাণও তোমার প্রতিপালকের অগোচর নয় এবং উহা অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর অথবা বৃহত্তর কিছুই নাই যাহা সুস্পষ্ট কিতাবে নাই।

জহুরুল হক

আর তুমি এমন কোনো কাজে নও বা সে - সম্পর্কে কুরআন থেকে আবৃত্তি করো না, আর তোমরা এমন কোনো কাজ করো না - - আমরা কিন্তু তোমাদের উপরে সাক্ষী রয়েছি যখন তোমরা তাতে নিযুক্ত থাক। আর তোমার প্রভুর কাছ থেকে অণু পরিমাণ কিছুও লুকোনো থাকছে না এ পৃথিবীতে আর মহাকাশেও নয়, আর তার চাইতে ছোটও নেই ও বড়ও নেই যা নয় এক সুস্পষ্ট গ্রন্থে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তুমি যে অবস্থায়ই থাকো এবং কুরআন থেকে যা - ই তিলাওয়াত করোনা কেন আর (হে মানুষ!) তোমরা যা - ই করোনা কেন, আমরা তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি যখন তোমরা তাতে আত্মনিয়োগ করো। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে একটি অণু পরিমাণ কিছুও তাঁর অগোচরে নেই এবং তার চাইতে ক্ষুদ্রতম কিংবা বৃহত্তর কিছুই নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা নেই।

Word by word

وَمَا تَكُونُ فِى شَأْنٍ وَمَا تَتْلُوا۟ مِنْهُ مِن قُرْءَانٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ وَمَا يَعْزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثْقَالِ ذَرَّةٍ فِ

সমকালীন বাংলা

জানিয়া রাখ আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নাই এবং তারা দুঃখিত হবে না।

জহুরুল হক

জেনে রোখো! নিঃসন্দেহ ‌র বন্ধুরা - - তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা অনুতাপও করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর অলিদের কোনো ভয় নেই এবং দুঃখ - দুশ্চিন্তাও নেই।

Word by word

أَلَآ إِنَّ أَوْلِيَآءَ ٱللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করে,

জহুরুল হক

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ভয়ভক্তি করে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

(তারা হলো সেইসব লোক) যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।

Word by word

ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَكَانُوا۟ يَتَّقُونَ

সমকালীন বাংলা

তাহাদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে, বাণীর কোন পরিবর্তন নাই; উহাই মহাসাফল্য।

জহুরুল হক

তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ এই পৃথিবীর জীবনে এবং পরকালে। ‌র বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই, - - এটিই হচ্ছে মহা সাফল্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই মহাসাফল্য।

Word by word

لَهُمُ ٱلْبُشْرَىٰ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَفِى ٱلْءَاخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَٰتِ ٱللَّهِ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

সমকালীন বাংলা

উহাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়, সমস্ত শক্তি আল্লাহর, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

জহুরুল হক

আর তাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। সম্মান নিঃসন্দেহ সম্পূর্ণরূপে ‌র। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা!

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! এরা তোমাকে যা কিছু বলছে) তাদের কথা যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। সমস্ত ইয্যত ও শক্তির মালিক তো । তিনি সব শুনেন, সব জানেন।

Word by word

وَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ إِنَّ ٱلْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ

সমকালীন বাংলা

জানিয়া রাখ! যাহারা আকাশমণ্ডলে আছে এবং যাহারা পৃথিবীতে আছে তাহারা যাহারা ব্যতীত অপরকে শরীকরূপে ডাকে, তাহারা কিসের অনুসরণ করে? তাহারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে এবং তাহারা শুধু মিথ্যাই বলে।

জহুরুল হক

এটি কি নয় যে নিঃসন্দেহ মহাকাশমন্ডলে যারা আছে ও যারা আছে পৃথিবীতে তারা ‌র? আর যারা ‌কে ছেড়ে দিয়ে অংশীদের আরাধনা করে তারা অনুসরণ করে না। তারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে, আর তারা শুধু মিথ্যাই বলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারা আছে সবাই আল্লাহর। যারা ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর শরিক বানিয়ে ডাকে, তারা কিসের অনুসরণ করে? তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে এবং তারা কেবল মিথ্যাই বলে।

Word by word

أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا يَتَّبِعُ ٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُرَكَآءَ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ

সমকালীন বাংলা

তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন তোমাদের জন্য রাত্রি, যেন উহাতে তোমরা বিশ্রাম করিতে পার এবং দিবস দেখিবার জন্য। যে সম্প্রদায় কথা শুনে নিশ্চয়ই তাহাদের জন্য ইহাতে আছে নিদর্শন।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন রাত্রি যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পারো, আর দেখবার জন্য দিন। নিঃসন্দেহ এ - সবে রয়েছে সঠিক নিদর্শনসমূহ সেই লোকদের জন্য যারা শোনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের জন্যে রাত বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্যে আর দিন বানিয়েছেন দেখার জন্যে। যারা (উপদেশ) শুনে এতে তাদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ لِتَسْكُنُوا۟ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبْصِرًا إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يَسْمَعُونَ

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলে সন্তান গ্রহণ করিয়াছেন।’ তিনি মহান পবিত্র! তিনি অভাবমুক্ত! যাহা কিছু আছে আকাশমণ্ডলে ও যাহা কিছু আছে পৃথিবীতে তাহা তাঁহারই। এ বিষয়ে তোমাদের নিকট কোন সনদ নাই। তোমরা কি সম্বন্ধে এমন কিছু বলিতেছ, যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নাই?

জহুরুল হক

তারা বলে - - '' একটি পুত্র গ্রহণ করেছেন’’। তাঁরই মহিমা হোক! তিনি স্বয়ং - সমৃদ্ধ। মহাকাশমন্ডলীতে যা - কিছু আছে ও যা - কিছু আছে পৃথিবীতে সে - সবই তাঁর। এ বিষয়ে কোনো সনদ তোমাদের নিকট নেই। তোমরা কি সন্বন্ধে বলো যা তোমরা জানো না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি (এ থেকে) পবিত্র মহান। তিনি অভাবমুক্ত। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। (তোমরা যা বলছো) সে বিষয়ে তোমাদের কাছে কোনো সার্টিফিকেট নেই। তোমরা কি আল্লাহর উপর এমন কথা আরোপ করছো, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?

Word by word

قَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدًا سُبْحَٰنَهُۥ هُوَ ٱلْغَنِىُّ لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ إِنْ عِندَكُم مِّن سُلْطَٰنٍۭ بِهَٰذَآ أَتَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

বল যাহারা সমন্ধে মিথ্যা আরোপ করিবে, তারা সফল কাম হবে না।

জহুরুল হক

বলো - - ''নিঃসন্দেহ যারা ‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা হবে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: যারা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, তারা সফল হবেনা।

Word by word

قُلْ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ

সমকালীন বাংলা

পৃথিবীতে ইহাদের জন্য আছে কিছু সুখ - সম্ভোগ; পরে আমারই নিকট উহাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর হেতু উহাদেরকে আমি কঠোর শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করাইব।

জহুরুল হক

দুনিয়ার সুখ - সম্ভোগ, এরপর আমাদেরই কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তাদের আস্বাদন করাবো কঠোর শাস্তি, যেহেতু তারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে তাদের জন্যে রয়েছে কিছু ভোগ বিলাস। তারপর আমাদের কাছেই হবে তাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমরা তাদের স্বাদ গ্রহণ করাবো কঠিন আযাবের, তাদের কুফুরির কারণে।

Word by word

مَتَٰعٌ فِى ٱلدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ نُذِيقُهُمُ ٱلْعَذَابَ ٱلشَّدِيدَ بِمَا كَانُوا۟ يَكْفُرُونَ

সমকালীন বাংলা

উহাদেরকে নূহ্ - এর বৃত্তান্ত শোনাও। সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি ও নিদর্শন দ্বারা আমার উপদেশদান তোমাদের নিকট যদি দুঃসহ হয় তবে আমি তো উপর নির্ভর করি। তোমরা যাহাদেরকে শরীক করিয়াছ তৎসহ তোমাদের কর্তব্য স্থির করিয়া নাও, পরে যেন কর্তব্য বিষয়ে তোমাদের কোন সংশয় না থাকে। আমার সম্বন্ধে তোমাদের কর্ম নিষ্পন্ন করিয়া ফেল এবং আমাকে অবকাশ দিও না।

জহুরুল হক

আর তাদের কাছে নূহ - এর কাহিনী বর্ণনা করো। স্মরণ করো! তিনি তাঁর লোকদের বলেছিলেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! যদি আমার বসবাস এবং ‌র বাণীদ্বারা আমার উপদেশদান তোমাদের উপরে গুরুভার হয়, তাহলে ‌র উপরেই আমি নির্ভর করছি, সুতরাং তোমাদের কাজের ধারা ও তোমাদের অংশীদের গুটিয়ে নাও, তারপর তোমাদের কাজের ধারায় যেন তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে, তখন আমার দিকে তা খাটাও, এবং আমাকে বিরাম দিয় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি তিলাওয়াত করো নূহের সংবাদ। সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতের ভিত্তিতে আমার উপদেশ যদি তোমাদের অসহনীয় হয়, তবে আমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলাম। তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো তাদেরকে সাথে নিয়ে তোমাদের চক্রান্ত ঠিক করে নাও, পরে যেনো তোমাদের চক্রান্তের বিষয়ে তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে। তারপর আমার বিরুদ্ধে তোমাদের ফায়সালা ঠিক করে নাও এবং আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।

Word by word

وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦ يَٰقَوْمِ إِن كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُم مَّقَامِى وَتَذْكِيرِى بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَعَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوٓا۟ أَمْرَكُمْ وَشُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ

সমকালীন বাংলা

‘অতঃপর তোমরা মুখ ফিরাইয়া লইলে লইতে পার, তোমাদের নিকট আমি তো কোন পারিশ্রমিক চাই নাই, আমার পারিশ্রমিক আছে আল্লাহর নিকট, আমি তো আত্বসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইতে আদিষ্ট হইয়াছি।’

জহুরুল হক

''কিন্তু যদি তোমরা ফিরে যাও তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাইনি। আমার পারিশ্রমিক কেবল ‌র কাছেই রয়েছে, আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপরও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও নিতে পারো। আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব আল্লাহর উপর। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তরভুক্ত হই।’’

Word by word

فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُم مِّنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ

সমকালীন বাংলা

আর উহারা তাহাকে মিথ্যাবাদী বলে; অতঃপর তাহাকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা তরণীতে ছিল তাহাদেরকে আমি উদ্ধার করি এবং তাহাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করি ও যাহারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল তাহাদেরকে নিমজ্জিত করি। সুতরাং দেখ, যাহাদেরকে সতর্ক করা হইয়াছিল তাহাদের পরিণাম কী হইয়াছিল!

জহুরুল হক

কিন্তু তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সেজন্যে আমরা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের উদ্ধার করেছিলাম জাহাজে, আর আমরা তাদের প্রতিনিধি করেছিলাম, আর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম তাদের যারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতএব চেয়ে দেখো! কেমন হয়েছিল সতর্কীকৃতদের পরিণাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

শেষ পর্যন্ত তারা তাকে (নূহকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে। তখন আমরা তাকে এবং তার সাথে যারা নৌযানে আরোহণ করেছিল তাদেরকে নাজাত দেই এবং তাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করি আর ডুবিয়ে দেই সেইসব লোকদের যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। চেয়ে দেখো, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, কী করুণ পরিণতি হয়েছিল তাদের!

Word by word

فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ وَجَعَلْنَٰهُمْ خَلَٰٓئِفَ وَأَغْرَقْنَا ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ

সমকালীন বাংলা

অনন্তর তাহার পরে আমি রাসূলগণকে প্রেরণ করি, তাহাদের সম্প্রদায়ের নিকট; তাহারা উহাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিয়াছিল। কিন্তু উহারা পূর্বে যাহা প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল তাহার প্রতি ঈমান আনিবার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এইভাবে আমি সীমালংঘনকারীদের হৃদয় মোহর করিয়া দেই।

জহুরুল হক

অতঃপর তাঁর পরে আমরা রসূলদের দাঁড় করিয়েছিলাম তাঁদের সম্প্রদায়ের কাছে, তাঁরা তাই তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তারা তাতে বিশ্বাস করার মতো ছিল না যা তারা ইতিপূর্বে প্রত্যাখ্যান করেছে। এইভাবে আমরা সীমা - লঙ্ঘনকারীদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দিই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার (নূহের) পরেও আমরা আরো অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের কওমের কাছে। তারা তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে। কিন্তু তারা আগে যা প্রত্যাখ্যান করেছে তার প্রতি আর ঈমান আনতে প্রস্ত্তত হয়নি। এভাবেই আমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর সীলগালা করে দেই।

Word by word

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ رُسُلًا إِلَىٰ قَوْمِهِمْ فَجَآءُوهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَمَا كَانُوا۟ لِيُؤْمِنُوا۟ بِمَا كَذَّبُوا۟ بِهِۦ مِن قَبْلُ كَذَٰلِكَ نَطْبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلْمُعْتَدِينَ

সমকালীন বাংলা

পরে আমার নিদর্শনসহ মূসা ও হারূনকে ফির‘আওন ও তাহার পারিষদবর্গের নিকট প্রেরণ করি। কিন্তু উহারা অহংকার করে এবং উহারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়।

জহুরুল হক

অনন্তর তাঁদের পরে আমরা পাঠিয়েছিলাম মূসা ও হারূনকে ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে আমাদের নিদর্শনসমূহ সঙ্গে দিয়ে, কিন্তু তারা অহংকার করেছিল আর তারা ছিল একটি অপরাধী সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা পাঠিয়েছি মূসা এবং হারূণকে ফেরাউন আর তার নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা দাম্ভিকতা প্রকাশ করে। আসলে তারা ছিলো একটি অপরাধী কওম।

Word by word

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنۢ بَعْدِهِم مُّوسَىٰ وَهَٰرُونَ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِۦ بِـَٔايَٰتِنَا فَٱسْتَكْبَرُوا۟ وَكَانُوا۟ قَوْمًا مُّجْرِمِينَ

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন উহাদের নিকট আমার নিকট হইতে সত্য আসিল তখন উহারা বলিল, ‘ইহা তো নিশ্চয়ই স্পষ্ট জাদু।’

জহুরুল হক

তারপর তাদের কাছে যখন আমাদের তরফ থেকে সত্য এল তারা তখন বললে - - ''এ তো নিশ্চয়ই পরিস্কার জাদু।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর তাদের কাছে যখন আমাদের পক্ষ থেকে সত্য প্রকাশ হয়ে যায়, তখন তারা বললো: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

Word by word

فَلَمَّا جَآءَهُمُ ٱلْحَقُّ مِنْ عِندِنَا قَالُوٓا۟ إِنَّ هَٰذَا لَسِحْرٌ مُّبِينٌ

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘সত্য যখন তোমাদের নিকট আসিল তখন তৎসম্পর্কে তোমরা এইরূপ বলিতেছ? ইহা কি জাদু? জাদুকরেরা তো হয় না।’

জহুরুল হক

মূসা বললেন, ''কি তোমরা বলছ সত্য সন্বন্ধে যখন এ তোমাদের কাছে এল? এ কি জাদু? আর জাদুকররা হয় না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তোমাদের কাছে যখন সত্য এসে গেছে, তখন সে সম্পর্কে তোমরা এমনটি বলছো? এ কি ম্যাজিক? ম্যাজেসিয়ানরা কখনো সফল হয়না।’

Word by word

قَالَ مُوسَىٰٓ أَتَقُولُونَ لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَكُمْ أَسِحْرٌ هَٰذَا وَلَا يُفْلِحُ ٱلسَّٰحِرُونَ

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষগণকে যাহাতে পাইয়াছি তুমি কি তাহা হইতে আমাদেরকে বিচ্যুত করিবার জন্য আমাদের নিকট আসিয়াছ এবং যাহাতে দেশে তোমাদের দুইজনের প্রতিপত্তি হয়, এইজন্য? আমরা তোমাদের প্রতি নই।’

জহুরুল হক

তারা বলল - - ''তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ আমাদের বিচ্যুত করতে তা থেকে যার উপরে আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, আর যেন তোমাদের দুজনেরই প্রতিপত্তি হয় এ দেশে? সুতরাং তোমাদের দুজনের প্রতি আমরা তো হচ্ছি না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যে ধর্মের উপর পেয়েছি তুমি কি আমাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করার জন্যে এসেছো এবং দেশে যেনো তোমার প্রভাব প্রতিপত্তি বেড়ে যায় সে জন্যে এসেছো? আমরা তোমাদের দু’জনের প্রতি নই।’

Word by word

قَالُوٓا۟ أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا ٱلْكِبْرِيَآءُ فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِينَ

সমকালীন বাংলা

ফির‘আওন বলিল, ‘তোমরা আমার নিকট সকল সুদক্ষ জাদুকরকে লইয়া আস।’

জহুরুল হক

আর ফিরআউন বললে - - ''প্রত্যেক ওস্তাদ জাদুকরকে আমার কাছে নিয়ে এস।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন (তার পারিষদকে) বললো: ‘তোমরা সব দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের খুঁজে আমার কাছে নিয়ে আসো।’

Word by word

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ٱئْتُونِى بِكُلِّ سَٰحِرٍ عَلِيمٍ

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন জাদুকরেরা আসিল তখন উহাদেরকে মূসা বলিল, ‘তোমাদের যাহা নিক্ষেপ করিবার, নিক্ষেপ কর।’

জহুরুল হক

সুতরাং যখন জাদুকররা এল তখন মূসা তাদের বললেন - - ''তোমাদের যা ফেলবার আছে ফেল।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ম্যাজেসিয়ানরা সবাই যখন এসে উপস্থিত হলো: মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করতে চাও নিক্ষেপ করো।’

Word by word

فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন তাহারা নিক্ষেপ করিল তখন মূসা বলিল, ‘তোমরা যাহা আনিয়াছ তাহা জাদু, নিশ্চয়ই উহাকে অসার করিয়া দিবেন। অবশ্যই অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কর্ম করেন না।’

জহুরুল হক

যখন তারা ফেলল, মূসা বললেন - - ''তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা ভেলকিবাজী। নিঃসন্দেহ একে বাতিল করে দেবেন ।’’ নিশ্চয়ই হুজ্জতকারীদের কাজে ভাল করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন নিক্ষেপ করলো, মূসা বললো: ‘‘তোমরা যা নিয়ে এসেছো তা তো ম্যাজিক! অবশ্যি এ জিনিসকে বাতিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সংশোধন করেননা।

Word by word

فَلَمَّآ أَلْقَوْا۟ قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ ٱلسِّحْرُ إِنَّ ٱللَّهَ سَيُبْطِلُهُۥٓ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ ٱلْمُفْسِدِينَ

সমকালীন বাংলা

অপররাধীরা অপ্রিতিকর মনে করিলেও আল্লাহর তাহার বানী অনুযায়ী সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করিবেন।

জহুরুল হক

তাঁর বাণী অনুযায়ী সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন যদিও অপরাধীরা অসন্তষ্ট হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর বাণীর সাহায্যে সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা তা পছন্দ করেনা।’’

Word by word

وَيُحِقُّ ٱللَّهُ ٱلْحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُجْرِمُونَ

সমকালীন বাংলা

ফির‘আওন ও তাহার পারিষদবর্গ নির্যাতন করিবে এই আশংকায় মূসার সম্প্রদায়ের একদল ব্যতীত আর কেহ তাহার প্রতি ঈমান আনে নাই। বস্তুত ফির‘আওন ছিল দেশে পরাক্রমশালী এবং সে অবশ্যই সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

জহুরুল হক

কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের সন্তানসন্ততি ব্যতীত আর কেউ মূসার প্রতি বিশ্বাস করে নি ফিরআউন ও তাদের পরিষদবর্গের ভয়ে পাছে তারা তাদের নির্যাতন করে। আর ফিরআউন দেশের মধ্যে অবশ্যই ছিল মহাপ্রতাপশালী, আর সে নিশ্চয়ই ছিল ন্যায়লঙ্ঘন - কারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ নির্যাতন করবে এই ভয়ে মূসার কওমের কিছু যুবক ছাড়া আর কেউই তার প্রতি ঈমান আনেনি। ফেরাউন ছিলো দেশে এক উদ্ধত উচ্চাভিলাসী এবং সে ছিলো সীমালংঘনকারী।

Word by word

فَمَآ ءَامَنَ لِمُوسَىٰٓ إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِّن قَوْمِهِۦ عَلَىٰ خَوْفٍ مِّن فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِمْ أَن يَفْتِنَهُمْ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلْمُسْرِفِينَ

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা আল্লাহতে ঈমান আনিয়া থাক, যদি তোমরা আত্মসর্মপণকারী হও তবে তোমরা তাঁহারই উপর নির্ভর কর।’

জহুরুল হক

আর মূসা বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যদি ‌র প্রতি বিশ্বাস করে থাক তবে তাঁর উপরেই তোমরা নির্ভর কর যদি তোমরা মুসলিম হও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো তাহলে তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকে।’

Word by word

وَقَالَ مُوسَىٰ يَٰقَوْمِ إِن كُنتُمْ ءَامَنتُم بِٱللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوٓا۟ إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তাহারা বলিল, ‘আমরা উপর নির্ভর করিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সম্প্রদায়ের উৎপীড়নের পাত্র করিও না;

জহুরুল হক

সুতরাং তারা বললে - - ''‌র উপরেই আমরা নির্ভর করছি। আমাদের প্রভু! অত্যাচারিগোষ্ঠীর উৎপীড়নের পাত্র আমাদের বানিও না,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘‘আমরা আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করলাম, হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এই যালিম লোকদের নির্যাতনের পাত্র বানিয়োনা।

Word by word

فَقَالُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ

সমকালীন বাংলা

‘এবং আমাদেরকে তোমার অনুগ্রহে সম্প্রদায় হইতে রক্ষা কর।’

জহুরুল হক

''আর তোমার করুণার দ্বারা আমাদের উদ্ধার কর অবিশ্বাসিগোষ্ঠী থেকে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার দয়ায় আমাদেরকে এ কওমের কবল থেকে নাজাত দাও।’’

Word by word

وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

সমকালীন বাংলা

আমি মূসা ও তাহার ভ্রাতাকে প্রত্যাদেশ করিলাম, ‘মিসরে তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য গৃহ স্থাপন কর এবং তোমাদের গৃহগুলিকে ‘ইবাদতগৃহ কর, কায়েম কর এবং মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।’

জহুরুল হক

আর আমরা মূসা ও তাঁর ভাইয়ের প্রতি প্রত্যাদেশ দিলাম এই বলে - - ''তোমাদের লোকদের জন্য মিশরে বাড়িঘর স্থাপন করো, আর তোমাদের ঘরগুলোকে উপাসনার স্থান বানাও আর কায়েম করো। আর বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দাও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসা এবং তার ভাইকে অহির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘তোমাদের কওমের জন্যে মিসরে ঘর নির্মাণ করো আর তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলা (ইবাদতের স্থান) বানিয়ে নাও, কায়েম করো আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।’

Word by word

وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰ وَأَخِيهِ أَن تَبَوَّءَا لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَٱجْعَلُوا۟ بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো ফির‘আওন ও তাহার পারিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে শোভা ও সম্পদ দান করিয়াছ যদ্বারা, হে আমাদের প্রতিপালক! উহারা মানুষকে তোমার পথ হইতে ভ্রষ্ট করে। হে আমাদের প্রতি - পালক! উহাদের সম্পদ বিনষ্ট কর, উহাদের হৃদয় কঠিন করিয়া দাও, উহারা তো মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনিবে না।’

জহুরুল হক

আর মূসা বললেন - - ''আমাদের প্রভু! নিশ্চয় তুমি ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গকে এই দুনিয়ার জীবনে শোভা - সৌন্দর্য ও ধন - দৌলত প্রদান করেছ, যা দিয়ে, আমাদের প্রভু! তারা তোমার পথ থেকে পথভ্রষ্ট করে। আমাদের প্রভু! বিনষ্ট করে দাও তাদের ধনসম্পত্তি, আর কাঠিন্য এনে দাও তাদের হৃদয়ের উপরে, তারা তো বিশ্বাস করে না যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘আমাদের প্রভু! তুমি ফেরাউন আর তার পারিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে চাকচিক্য আর সম্পদ দান করেছো। আমাদের প্রভু! তারা সেগুলো দিয়ে মানুষকে তোমার পথ থেকে বিপথগামী করে। আমাদের প্রভু! তাদের মাল - সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের হৃদয়গুলো কঠিন করে দাও। তারা বেদনাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত ঈমান আনবে না।’

Word by word

وَقَالَ مُوسَىٰ رَبَّنَآ إِنَّكَ ءَاتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُۥ زِينَةً وَأَمْوَٰلًا فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا۟ عَن سَبِيلِكَ رَبَّنَا ٱطْمِسْ عَلَىٰٓ أَمْوَٰلِهِمْ وَٱشْدُدْ عَلَىٰ قُلُ

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘তোমাদের দুইজনের দু‘আ কবূল হইল, সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাক এবং তোমরা কখনও অজ্ঞদের পথ অনুসরণ করিও না।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের দুজনের দোয়া ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হল, কাজেই তোমারা উভয়ে অটল থেকো, আর তাদের পথ অনুসরণ করো না যারা জানে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলেছিলেন: তোমাদের দোয়া কবুল করা হলো, সুতরাং তোমরা অটল অবিচল থাকো, আর তোমরা অজ্ঞদের পথের অনুসরণ করোনা।

Word by word

قَالَ قَدْ أُجِيبَت دَّعْوَتُكُمَا فَٱسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَآنِّ سَبِيلَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করাইলাম এবং ফির‘আওন ও তাহার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য সহকারে সীমালংঘন করিয়া তাহাদের পশ্চাদ্ধাবন করিল। পরিশেষে যখন সে নিমজ্জমান হইল তখন বলিল, ‘আমি বিশ্বাস করিলাম বনী ইসরাঈল যাহাতে বিশ্বাস করে। নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই এবং আমি আত্মসর্মপণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’

জহুরুল হক

আর ইসরাইলের বংশধরদের আমরা সমূদ্র পার করালাম, আর ফিরআউন ও তার সৈন্যদল তাদের ধাওয়া করল নির্যাতন ও উৎপীড়নের জন্য! শেষে যখন ডুবে যাওয়া তাকে পাকড়াল সে বললে - - ''আমি ঈমান আনছি যে ইসরাইলের বংশধরেরা যাঁর প্রতি বিশ্বাস করে তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, আর আমি হচ্ছি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বনি ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিয়েছিলাম আর ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী ঔদ্ধত্যের সাথে সীমালংঘন করে তাদের পিছু ধাওয়া করে। তারপর যখন সে পানিতে ডুবতে থাকলো, বললো: ‘আমি (একথার প্রতি) ঈমান আনলাম যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই, যার প্রতি ঈমান এনেছে বনি ইসরাঈল এবং আমি মুসলিমদের অন্তরভুক্ত হলাম।’

Word by word

وَجَٰوَزْنَا بِبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُۥ بَغْيًا وَعَدْوًا حَتَّىٰٓ إِذَآ أَدْرَكَهُ ٱلْغَرَقُ قَالَ ءَامَنتُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱلَّذِىٓ ءَامَنَتْ بِهِۦ بَ

সমকালীন বাংলা

‘এখন! ইতিপূর্বে তো তুমি অমান্য করিয়াছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

জহুরুল হক

''আহা, এখন! আর একটু আগেই তুমি তো অবাধ্যতা করছিলে আর তুমি ছিলে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের মধ্যেকার।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এখন! অথচ ইতোপূর্বে তুমি অমান্য করেছিলে এবং তুমি ছিলে একজন ফাসাদ সৃষ্টিকারী।

Word by word

ءَآلْـَٰٔنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ ٱلْمُفْسِدِينَ

সমকালীন বাংলা

‘আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করিব যাহাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হইয়া থাক। অবশ্যই মানুষের মধ্যে অনেকে আমার নিদর্শন সম্বন্ধে গাফিল।’

জহুরুল হক

তবে আজকের দিনে আমরা উদ্ধার করব তোমার দেহ, যেন তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। কিন্তু মানুষের মধ্যের অনেকেই আমাদের নিদর্শন সন্বন্ধে অবশ্যই বেখেয়াল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আজ আমরা তোমার দেহটা রক্ষা করবো, যাতে করে তুমি পরবর্তীদের জন্যে নিদর্শন হয়ে থাকো। অনেক মানুষই আমাদের নিদর্শন সম্পর্কে গাফিল।

Word by word

فَٱلْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ ءَايَةً وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلنَّاسِ عَنْ ءَايَٰتِنَا لَغَٰفِلُونَ

সমকালীন বাংলা

আমি তো বনী ইসরাঈলকে উৎকৃষ্ট আবাসভূমিতে বসবাস করাইলাম এবং আমি উহাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দিলাম, অতঃপর উহাদের নিকট জ্ঞান আসিলে উহারা বিভেদ সৃষ্টি করিল। উহারা যে বিষয়ে বিভেদ সৃষ্টি করিয়াছিল তোমার প্রতিপালক অবশ্যই তাহাদের মধ্যে কিয়ামতের দিন উহার ফয়সালা করিয়া দিবেন।

জহুরুল হক

আর ইসরাইলের বংশধরদের আমরা অবশ্যই উত্তম আবাসভূমিতে বসবাস করালাম, আর তাদের আমরা উত্তম বিষয়বস্তু দিয়ে জীবিকাদান করলাম, আর তারা বিভেদ সৃষ্টি করে নি যে পর্যন্ত না তাদের কাছে জ্ঞান এল। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে বিচার করবেন সে - সন্বন্ধে যাতে তারা মতভেদ করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বনি ইসরাঈলকে উৎকৃষ্ট মানের আবাসভূমিতে বসবাস করিয়েছি এবং তাদের দিয়েছি উত্তম জীবন। তারপর তাদের কাছে এলেম আসার পর তারা বিভেদে লিপ্ত হয়। তোমার প্রভু কিয়ামতের দিন তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা বিভেদ সৃষ্টি করেছিল।

Word by word

وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ مُبَوَّأَ صِدْقٍ وَرَزَقْنَٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ فَمَا ٱخْتَلَفُوا۟ حَتَّىٰ جَآءَهُمُ ٱلْعِلْمُ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِى بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ ف

সমকালীন বাংলা

আমি তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি উহাতে যদি তুমি সন্দেহে থাক তবে তোমার পূর্বের কিতাব যাহারা পাঠ করে তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর; তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার নিকট সত্য অবশ্যই আসিয়াছে। তুমি কখনও সন্দিগ্ধচিত্তদের অন্তর্ভুক্ত হইও না,

জহুরুল হক

কিন্তু যদি তুমি সন্দেহের মধ্যে থাক যা তোমার কাছে আমরা অবতারণ করেছি সে - সন্বন্ধে তবে তাদের জিজ্ঞাসা করো যারা তোমার আগে গ্রন্থ পাঠ করেছে। তোমার কাছে আলবৎ সত্য এসেছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে, সুতরাং তুমি সংশয়ীদের মধ্যেকার হয়ো না,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার কাছে যা নাযিল করেছি সে বিষয়ে যদি তোমার সন্দেহ থাকে, তাহলে তোমার পূর্বের কিতাব যারা পাঠ করে তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখো। অবশ্যি তোমার কাছে তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সত্য এসেছে, সুতরাং তুমি কোনো অবস্থাতেই সন্দেহে পড়ে থাকা লোকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

Word by word

فَإِن كُنتَ فِى شَكٍّ مِّمَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ فَسْـَٔلِ ٱلَّذِينَ يَقْرَءُونَ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلِكَ لَقَدْ جَآءَكَ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُمْتَرِينَ

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা আল্লাহর নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করিয়াছে তুমি কখনও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইও না - তাহা হইলে তুমিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

জহুরুল হক

আর তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা ‌র বাণী প্রত্যাখ্যান করে, পাছে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যেকার হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সেইসব লোকদেরও অন্তরভুক্ত হয়োনা যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর আয়াতকে, তাহলে তুমি শামিল হয়ে পড়বে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে,

Word by word

وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যাহাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সাব্যস্ত হইয়া গিয়াছে, তাহারা ঈমান আনিবে না,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রভুর বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গেছে তারা বিশ্বাস করবে না, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রভুর বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ

সমকালীন বাংলা

যদিও উহাদের নিকট প্রত্যেকটি নিদর্শন আসে যতক্ষণ না উহারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে।

জহুরুল হক

যদিও তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এসে যায়, যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমন কি তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এলেও তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত (ঈমান আনবে না)।

Word by word

وَلَوْ جَآءَتْهُمْ كُلُّ ءَايَةٍ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ

সমকালীন বাংলা

তবে ইউনুসের সম্প্রদায় ব্যতীত কোন জনপদবাসী কেন এমন হইল না যাহারা ঈমান আনিত এবং তাহাদের ঈমান তাহাদের উপকারে আসিত? তাহারা যখন ঈমান আনিল তখন আমি তাহাদের নিকট হইতে পার্থিব জীবনের হীনতাজনক শাস্তি দূর করিলাম এবং উহাদেরকে কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগ করিতে দিলাম।

জহুরুল হক

সুতরাং কেন এমন একটি জনপদবাসী নেই যারা বিশ্বাস করেছিল ও তাদের সেই বিশ্বাস তাদের উপকার করেছিল ইউনুসের লোকদের ব্যতীত? যখন তারা বিশ্বাস করল তখন আমরা তাদের থেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম পার্থিব জীবনের হীনতাজনক শাস্তি, এবং তাদের জীবনোপভোগ করতে দিয়েছিলাম কিছু কালের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে ইউনুসের কওমের কথা ভিন্ন। তারা ছাড়া কোনো জনপদের অধিবাসীরা কেন এমন হলো না যে, তারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসতো? তারা যখন ঈমান এনেছিল আমরা তাদের থেকে লাঞ্ছনাকর আযাব দূর করে দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে কিছুকালের জন্যে ভোগ বিলাসের সামগ্রী সরবরাহ করেছিলাম।

Word by word

فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ ءَامَنَتْ فَنَفَعَهَآ إِيمَٰنُهَآ إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّآ ءَامَنُوا۟ كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ ٱلْخِزْىِ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَمَتَّعْنَٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍ

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিলে পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহারা সকলেই অবশ্যই ঈমান আনিত; তবে কি তুমি হইবার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করিবে?

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভু যদি ইচ্ছা করতেন তবে যারা পৃথিবীতে আছে তাদের সবাই একসঙ্গে বিশ্বাস করত। তুমি কি তবে লোকজনের উপরে জবরদস্তি করবে যে পর্যন্ত না তারা হয়?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু চাইলে বিশ্বে যারা আছে অবশ্যি সবাই ঈমান আনতো। তবে কি তুমি মানুষকে ঈমান আনার জন্যে বাধ্য করবে?

Word by word

وَلَوْ شَآءَ رَبُّكَ لَءَامَنَ مَن فِى ٱلْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنتَ تُكْرِهُ ٱلنَّاسَ حَتَّىٰ يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত ঈমান আনা কাহারও সাধ্য নয় এবং যাহারা অনুধাবন করে না, তাদেরকে কলুষলিপ্ত করেন।

জহুরুল হক

আর কোনো প্রাণীর পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভবপর নয় ‌র অনুমতি ব্যতীত। আর তিনি কলুষতা নিক্ষেপ করেন তাদের উপরে যারা বুঝে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর অনুমিত ছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। যারা আকল খাটায় না তাদের কালিমা লিপ্ত করেন।

Word by word

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تُؤْمِنَ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَيَجْعَلُ ٱلرِّجْسَ عَلَى ٱلَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহার প্রতি লক্ষ্য কর।’ নিদর্শনাবলী ও ভীতি প্রদর্শন অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের উপকারে আসে না।

জহুরুল হক

বলো - - ''তাকিয়ে দেখ যা - কিছু আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে।’’ আর নিদর্শনসমূহ ও সতর্ককারীরা কোনো কাজে আসে না সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা বিশ্বাস করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘মহাকাশ আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য করো। যারা ঈমান আনে না, নিদর্শন এবং সতর্কবাণী তাদের কোনো উপকারে আসেনা।

Word by word

قُلِ ٱنظُرُوا۟ مَاذَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا تُغْنِى ٱلْءَايَٰتُ وَٱلنُّذُرُ عَن قَوْمٍ لَّا يُؤْمِنُونَ

সমকালীন বাংলা

ইহারা কি ইহাদের পূর্বে যাহা ঘটিয়াছে উহার অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? বল, ‘তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।’

জহুরুল হক

তবে তারা কিসের প্রতীক্ষা করে ওদের দিনের অনুরূপ ব্যতীত যারা তাদের আগে গত হয়ে গেছে? বলোঃ ''তবে তোমরা প্রতীক্ষা কর, নিঃসন্দেহ আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষমাণদের মধ্যে রয়েছি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি তাদের আগেকার লোকদের উপর যা ঘটেছিল সেটার অপেক্ষা করছে। বলো: ‘তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

Word by word

فَهَلْ يَنتَظِرُونَ إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِهِمْ قُلْ فَٱنتَظِرُوٓا۟ إِنِّى مَعَكُم مِّنَ ٱلْمُنتَظِرِينَ

সমকালীন বাংলা

পরিশেষে আমি আমার রাসূলগণকে এবং মু’মিনগণকেও উদ্ধার করি। এইভাবে আমার দায়িত্ব মু’মিনগণকে উদ্ধার করা।

জহুরুল হক

তারপর আমরা রসূলগণকে উদ্ধার করি আর যারা বিশ্বাস করেছেন তাদেরও, এইভাবেই, - - বিশ্বাসীদের উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা নাজাত দেবো আমাদের রসূলদেরকে আর ঈমানদারদেরকে। এভাবেই আমাদের দায়িত্ব মুমিনদের নাজাত দেয়া।

Word by word

ثُمَّ نُنَجِّى رُسُلَنَا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كَذَٰلِكَ حَقًّا عَلَيْنَا نُنجِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দীনের প্রতি সংশয়যুক্ত হও তবে জানিয়া রাখ, তোমরা ব্যতীত যাহাদের ‘ইবাদত কর আমি উহাদের ‘ইবাদত করি না। পরন্তু আমি ‘ইবাদত করি আল্লাহর যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান এবং আমি মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হইবার জন্য আদিষ্ট হইয়াছি,

জহুরুল হক

বলো - - ''ওহে মানবগোষ্ঠি! তোমরা যদি আমার ধর্ম সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে থাক তবে আমি তাদের উপাসনা করি না ব্যতীত যাদের তোমরা উপাসনা কর, আমি কিন্তু ‌র উপাসনা করি যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যে আমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘হে মানুষ! তোমরা এখনো যদি আমার দীনের ব্যাপারে সন্দেহে থেকে থাকো, তবে জেনে রাখো, তোমরা ছাড়া যাদের ইবাদত করো আমি তাদের ইবাদত করিনা। আমি ইবাদত করি একমাত্র আল্লাহর যিনি তোমাদের ওফাত ঘটান। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো মুমিনদের অন্তরভুক্ত থাকি।’

Word by word

قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمْ فِى شَكٍّ مِّن دِينِى فَلَآ أَعْبُدُ ٱلَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَٰكِنْ أَعْبُدُ ٱللَّهَ ٱلَّذِى يَتَوَفَّىٰكُمْ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْم

সমকালীন বাংলা

আর উহাও এই যে, ‘তুমি একনিষ্ঠভাবে দীনে প্রতিষ্ঠিত হও এবং কখনই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হইও না,

জহুরুল হক

আর তোমার মুখ ধর্মের প্রতি একনিষ্ঠভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখো, আর কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ‘‘তুমি একনিষ্ঠভাবে আদ - দীনের উপর কায়েম থাকো এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

Word by word

وَأَنْ أَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

সমকালীন বাংলা

‘এবং ব্যতীত অন্য কাহাকেও ডাকিবে না, যাহা তোমার উপকারও করে না, অপকারও করে না, কারণ ইহা করিলে তখন তুমি অবশ্যই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।’

জহুরুল হক

আর ‌কে ছেড়ে দিয়ে অন্যকে ডেকো না যে তোমার উপকারও করে না ও অপকারও করে না, কেননা তুমি যদি তা করো তাহলে তুমি তো সে - ক্ষেত্রে অন্যায়কারীদের মধ্যেকার হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ছাড়া অন্যদের ডাকবেনা, যারা তোমার লাভক্ষতি কিছুই করতে পারেনা। তুমি যদি এমনটি করো তাহলে যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।’’

Word by word

وَلَا تَدْعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِن فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِّنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

সমকালীন বাংলা

‘এবং তোমাকে ক্লেশ দিলে তিনি ব্যতীত ইহা মোচনকারী আর কেহ নাই এবং যদি তোমার মঙ্গল চান তবে তাঁহার অনুগ্রহ রদ করিবার কেহ নাই। তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা তিনি মঙ্গল দান করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

জহুরুল হক

আর যদি কোনো আঘাত দিয়ে আমাকে পীড়ন করেন তাহলে তিনি ছাড়া এ মোচনকারী আর কেউ নেই, আর তিনি যদি তোমাকে চান ভাল করতে তাহলে তাঁর প্রাচুর্য রদ হবার নয়। তিনি তা আনয়ন করেন তাঁর দাসদের মধ্যের যার প্রতি ইচ্ছা করেন। আর তিনিই তো পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে কোনো অকল্যাণ দিলে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউই নেই। তিনি যদি তোমাকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই। তিনি তাঁর দাসদের যাঁকে ইচ্ছা নিজ অনুগ্রহ দান করেন। তিনি মহা ক্ষমাশীল মহাদয়াময়।

Word by word

وَإِن يَمْسَسْكَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُۥٓ إِلَّا هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضْلِهِۦ يُصِيبُ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের নিকট সত্য আসিয়াছে। সুতরাং যাহারা সৎপথ অবলম্বন করিবে তাহারা তো নিজেদেরই মঙ্গলের জন্য সৎপথ অবলম্বন করিবে এবং যাহারা পথভ্রষ্ট হইবে তাহারা তো পথভ্রষ্ট হইবে নিজেদেরই ধ্বংসের জন্য এবং আমি তোমাদের কর্মবিধায়ক নই।’

জহুরুল হক

বলো - - ''ওহে মানবগোষ্ঠি! নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে, সেজন্যে যে কেউ সৎপথ অবলন্বন করে সে নিঃসন্দেহ তার নিজের জন্যেই সৎপথে বিচরণ করে, আর যে ভ্রান্তপথ ধরে সে নিঃসন্দেহ তার নিজের বিরুদ্ধেই ভ্রান্তপথে চলে। আর আমি তোমাদের উপরে তো কার্যনির্বাহক নই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে, সুতরাং যে কেউ সঠিক পথে চলবে, সে তো নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে কেউ বিপথে চলবে সে নিজেরই অকল্যাণ করবে। আমি তোমাদের উকিল (কর্মসম্পাদক) নই।’

Word by word

قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَكُمُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَآ أَنَا۠ عَلَيْكُم بِوَكِيلٍ

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতি যে ওহী অবতীর্ণ হইয়াছে তুমি তাহার অনুসরণ কর এবং তুমি ধৈর্য ধারণ কর, যে পর্যন্ত না ফয়সালা করেন এবং সর্ব উত্তম বিধান দাতা।

জহুরুল হক

আর তোমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে তারই অনুসরণ করো, তবে অধ্যবসায় চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না বিধান দেন, আর তিনিই সর্বোত্তম বিধানকর্তা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি যে অহি নাযিল হচ্ছে তুমি তারই ইত্তেবা (অনুসরণ) করো, আর সবর অবলম্বন করো যতোক্ষণ না আল্লাহর ফায়সালা আসে। তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।

Word by word

وَٱتَّبِعْ مَا يُوحَىٰٓ إِلَيْكَ وَٱصْبِرْ حَتَّىٰ يَحْكُمَ ٱللَّهُ وَهُوَ خَيْرُ ٱلْحَٰكِمِينَ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme