আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; সে ভ্রুকুটি করেছিলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল,
তিনি ভ্রকুটি করলেন এবং ফিরে বসলেন,
সে বিরক্তি প্রকাশ করলো এবং মুখ (মনোযোগ) ফিরিয়ে নিলো,
সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল এবং মুখ ফিরাইয়া লইল,
Chapter 80, 42 verses
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; সে ভ্রুকুটি করেছিলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল,
তিনি ভ্রকুটি করলেন এবং ফিরে বসলেন,
সে বিরক্তি প্রকাশ করলো এবং মুখ (মনোযোগ) ফিরিয়ে নিলো,
সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল এবং মুখ ফিরাইয়া লইল,
কারণ তার কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি এসেছিল,
কেননা একজন অন্ধ তাঁর কাছে এসেছিল।
এ কারণে যে অন্ধ লোকটি এসেছিল তার কাছে,
কারণ তাহার নিকট অন্ধ লোকটি আসিল।
আর কী তোমাকে জানাবে? সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো,
আর কী তোমাকে বুঝতে দেবে যে সে হয়ত পবিত্র হতে চেয়েছিল,
তুমি কি করে জানবে, হয়তো সে শুদ্ধতা অর্জন করতো?
তুমি কেমন করিয়া জানিবে - সে হয়ত পরিশুদ্ধ হইত,
অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত,
অথবা সে মনোনিবেশ করত, ফলে স্মারকবাণী তার উপকারে আসত?
কিংবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং সেই উপদেশ তার উপকার সাধন করতো?
অথবা উপদেশ গ্রহণ করিত, ফলে উপদেশ তাহার উপকারে আসিত!
তুমি তার প্রতি মনোযোগ দাও,
আর তার ক্ষেত্রে যে নিজেকে সমৃদ্ধ ভাবে,
অথচ যে নিজেকে ভাবে মুখাপেক্ষাহীন,
পক্ষান্তরে যে পরোয়া করে না,
তুমি তার প্রতি মনোযোগ দাও,
তুমি তো তার প্রতিই মনোযোগ দেখাচ্ছ।
তুমি মনোযোগ আরোপ করছো তার প্রতি।
তুমি তাহার প্রতি মনোযোগ দিয়াছ।
অথচ সে পরিশুদ্ধ না হলে তোমার ওপর কোনো দায় নেই,
অথচ তোমার উপরে নেই যদি সে নিজেকে পবিত্র না করে।
তোমার কি আসে যায় যদি সে শুদ্ধতা অর্জন না করে?
অথচ সে নিজে পরিশুদ্ধ না হইলে তোমার কোন দায়িত্ব নাই,
আর যে তোমার কাছে ছুটে আসে,
আর তার ক্ষেত্রে যে তোমার কাছে এসেছিল আগ্রহ নিয়ে,
কিন্তু যে ছুটে এসেছে তোমার কাছে,
অন্যপক্ষে যে তোমার নিকট ছুটিয়া আসিল,
এবং সে ভীত থাকে,
আর সে ভয় করছিল,
এবং সে ( ও তাঁর শাস্তিকে) ভয় করে,
আর সে সশংকচিত্ত,
তুমি তার থেকে উদাসীন হও!
কিন্ত তুমি তার প্রতি অবহেলা দেখালে।
তাকে তুমি অবজ্ঞা করলে এবং অন্যদের প্রতি মনোযোগী হলে।
তুমি তাহাকে উপেক্ষা করিলে;
কখনোই নয়! নিশ্চয়ই এটি এক উপদেশ,
কদাচ না! নিঃসন্দেহ এ এক স্মরণীয় বার্তা,
না (কখনো এমনটি করোনা); অবশ্যি এটি (এ কুরআন) একটি উপদেশ।
না, ইহা ঠিক নয়, ইহা তো উপদেশবাণী,
সুতরাং যে ইচ্ছা করবে তা স্মরণ করুক
অতএব যে ইচ্ছা করে সে তা স্মরণ রাখুক।
সুতরাং যার ইচ্ছে, সে এটি গ্রহণ করবে।
যে ইচ্ছা করিবে সে ইহা স্মরণ রাখিবে,
যা আছে সম্মানিত লিপিসমূহে;
সম্মানিত পৃষ্ঠাগুলোয় - -
(এটি সংরক্ষিত আছে) অতীব সম্মানিত সহীফা সমূহে (লওহে মাহফুযে)।
উহা আছে মর্যাদাসম্পন্ন লিপিসমূহে
সুউন্নত, সুপবিত্র,
সুউন্নত, সুপবিত্র,
খুবই উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন ও পবিত্র,
যাহা উন্নত, পবিত্র,
লিপিকারদের হস্তলিখিত,
লেখকদের হস্তাক্ষরে,
সেইসব লেখকদের (ফেরেশতাদের) হাতে,
লিপিকর - হস্তে লিপিবদ্ধ।
সম্মানিত ও সৎ,
সম্মানিত, গুণান্নিত।
যারা সম্মানিত ও অনুগত।
মহান, পূত - চরিত্র
ধ্বংস হোক মানুষের; সে কত অকৃতজ্ঞ!
যা তাকে অকৃতজ্ঞ বানিয়েছে সেজন্য মানুষকে ধ্বংস করা হোক।
ধ্বংস হলো (অবিশ্বাসী) মানুষগুলো। কতো বড় অকৃতজ্ঞ তারা!
মানুষ ধ্বংস হউক ! সে কত অকৃতজ্ঞ!
তিনি তাকে কী থেকে সৃষ্টি করেছেন?
কী জিনিস থেকে তাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন?
কোন্ জিনিস থেকে তিনি সৃষ্টি করেছেন তাকে (মানুষকে)?
তিনি উহাকে কোন্ বস্তু হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন?
শুক্রবিন্দুথেকে; তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর পরিমিত করেছেন,
এক শুক্রকীট থেকে! তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি তাকে সুসমঞ্জস করেছেন,
এক বিন্দু নোতফা (শুক্র) থেকে, তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তারপর তাকে যথাযথভাবে গঠন করেছেন।
শুক্রবিন্দু হইতে, তিনি উহাকে সৃষ্টি করেন, পরে উহার পরিমিত বিকাশ সাধন করেন,
অতঃপর তার জন্য পথ সহজ করেছেন,
তারপর তার জন্য পথ সহজ করে দিয়েছেন,
তারপর তিনি সহজ করে দেন তার জীবন চলার পথ।
অতঃপর উহার জন্য পথ সহজ করিয়া দেন;
অতঃপর তাকে মৃত্যু দেন এবং কবরস্থ করেন,
তারপর তিনি তার মৃত্যু ঘটান, এবং তাকে কবরস্থ করেন,
তারপর তার মউত ঘটান এবং পৌঁছে দেন তাকে কবরে।
তৎপর উহার মৃত্যু ঘটান এবং উহাকে কবরস্থ করেন।
অতঃপর যখন তিনি ইচ্ছা করবেন, তাকে পুনরুত্থিত করবেন,
তারপর যখন তিনি চাইবেন তখন তাকে পুনর্জীবিত করবেন।
অতপর যখন চাইবেন , তখন আবার উঠিয়ে আনবেন তাকে।
ইহার পর যখন ইচ্ছা তিনি উহাকে পুনর্জীবিত করিবেন।
কখনোই নয়! তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন, মানুষ এখনো তা পূর্ণ করেনি,
না, তাকে তিনি যা আদেশ করেছিলেন তা সে পালন করে নি।
না, সে পালন করেনি তিনি যে নির্দেশ তাকে দিয়েছেন।
না, কখনও না, তিনি উহাকে যাহা আদেশ করিয়াছেন, সে এখনও উহা পুরাপুরি করে নাই।
অতএব মানুষ যেন তার খাদ্যের দিকে লক্ষ্য করে,
অতএব মানুষ তার খাদ্যের দিকে ভেবে দেখুক - -
তবে, মানুষ তার খাবারের জিনিসগুলোর প্রতি নজর বুলিয়ে দেখুক (কে সৃষ্টি করেছে সেগুলো)।
মানুষ তাহার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক!
নিশ্চয়ই আমরা প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করেছি,
কেমন ক’রে আমরা বৃষ্টি বর্ষণ করি বর্ষণধারায়,
আমরাই তো বর্ষণ করি প্রচুর পানি।
আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি,
অতঃপর পৃথিবীকে বিদীর্ণ করেছি,
তারপর আমরা মাটিকে ফাটিয়ে দিই চৌচির ক’রে,
তারপর শক্ত হয়ে এঁটে থাকা জমিনকে আমরা ফেঁড়ে দেই।
অতঃপর আমি ভূমি প্রকৃষ্টরূপে বিদীর্ণ করি ;
অতঃপর তাতে শস্য উৎপন্ন করেছি,
তারপর তাতে আমরা জন্মাই শস্য,
আর তাতে উৎপাদনের ব্যবস্থা করি শস্য,
এবং উহাতে আমি উৎপন্ন করি শস্য;
এবং আঙুর ও শাকসবজি,
আর আঙ্গুর ও শাকসবজি,
আংগুর, শাক - শবজি,
দ্রাক্ষা, শাক - সব্জি,
এবং জলপাই ও খেজুর,
আর জলপাই ও খেজুর,
যয়তুন, খেজুর,
যায়তূন, খর্জুর,
এবং ঘন উদ্যানসমূহ,
আর ঘন গাছপালাময় বাগান,
বিপুল বৃক্ষ - রাজির নিবিড় বন,
বহু বৃক্ষবিশিষ্ট উদ্যান,
এবং ফলমূল ও চারণভূমি,
আর ফলফসল ও তৃণলতা, - -
ফল - ফলারি এবং সেইসাথে অনেক ঘাস।
ফল এবং গবাদি খাদ্য,
তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবনধারণের সামগ্রী।
তোমাদের জন্য খাদ্যভান্ডার ও তোমাদের গবাদি - পশুর জন্যেও।
(এভাবে আমিই ব্যবস্থা করি) তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর জীবন ধারণের সামগ্রী।
ইহা তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের ভোগের জন্য।
অতঃপর যখন কান-ফাটানো আওয়াজ আসবে,
তারপর যেদিন কান - ফাটানো আওয়াজ আসবে - -
অতপর যেদিন মহাধ্বনি (শিংগার দ্বিতীয় ফুৎকার) উচ্চারিত হবে,
যখন কিয়ামত উপস্থিত হইবে,
সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,
সেইদিন মানুষ তার ভাইকে ছেড়ে পালাবে,
সেদিন মানুষ পালাবে তার ভাই থেকে,
সেই দিন মানুষ পলায়ন করিবে তাহার ভ্রাতা হইতে,
এবং তার মা ও বাবা থেকে,
আর তার মাকে ও তার বাবাকে,
তার মা থেকে এবং বাপ থেকে,
এবং তাহার মাতা, তাহার পিতা,
এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে,
আর তার পতিপত্নীকে ও তার সন্তানসন্ততিকে।
তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে।
তাহার পত্নী ও তাহার সন্তান হইতে।
সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন অবস্থা থাকবে, যা তাকে ব্যস্ত রাখবে,
সেদিন তাদের মধ্যের প্রত্যেক লোকেরই এত ব্যস্ততা থাকবে যে তাকে বেখেয়াল করে দেবে।
সে দিনটি হবে এতোই ভয়াবহ যে, সেদিন কেউই নিজের ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে ভাববারই চিন্তা করবেনা।
সেই দিন উহাদের প্রত্যেকের হইবে এমন গুরুতর অবস্থা যাহা তাহাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখিবে।
সেদিন কিছু মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল,
অনেক মুখ সেইদিন হবে উজ্জ্বল,
সেদিন অনেক লোকের চেহারা হবে উজ্জ্বল,
অনেক মুখমণ্ডল সেই দিন হইবে উজ্জ্বল,
হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দিত,
হাসিমাখা, আনন্দমুখর,
হাসি খুশি আর শুভ সংবাদে আনন্দ মুখর।
সহাস্য ও প্রফুল্ল,
আর সেদিন কিছু মুখমণ্ডলের ওপর থাকবে ধূলি,
আর সেইদিন অনেক মুখ - - তাদের উপরে ধূলো - বালি,
আবার অনেক চেহারাই হবে সেদিন ধূলো - মলিন।
এবং অনেক মুখমণ্ডল সেই দিন হইবে ধূলিধূসর;
কালিমা তাদের আচ্ছন্ন করবে,
কালো - আঁধার তাদের ঢেকে ফেলবে।
সেই চেহারাগুলোকে আচ্ছন্ন করবে কালিমা।
সেইগুলিকে আচ্ছন্ন করিবে কালিমা।
তারাই অবিশ্বাসী, পাপাচারী।
অস্বীকারকারী=কাফির
এরা নিজেরাই সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী, দুষ্কৃতিকারী।
কারণ, তারা (হবে) অবিশ্বাসী - অমান্যকারী - এবং পাপিষ্ঠ - দূরাচারী।
ইহারাই ও পাপাচারী।