Kitab

আল মুজাদালাহ (অভিযোগকারী মহিলা)

Chapter 58, 22 verses

  • সমকালীন বাংলা
  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
  • Word by word
সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবশ্যই শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সঙ্গে কথা বলছিলো এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছিল। আর তোমাদের উভয়ের কথোপকথন শুনছিলেন। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

জহুরুল হক

আলবৎ তার কথা শুনেছেন যে তার স্বামী সন্বন্ধে তোমার কাছে অনুযোগ করছে আর ‌র নিকট ফরিয়াদ করছে, আর তোমাদের দুজনের কথোপকথন শুনেছেন। নিশ্চয় সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।

আবদুস শহীদ নাসিম

শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে বিতর্ক করছে তোমার সাথে এবং শেকায়েত (অভিযোগ, ফরিয়াদ) করছে আল্লাহর কাছে। তোমাদের কথোপকথন শুনেছেন। সব শুনেন, সব দেখেন।

মুহিউদ্দীন খান

যে নারী তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং অভিযোগ পেশ করছে আল্লাহর দরবারে, তার কথা শুনেছেন। আপনাদের উভয়ের কথাবার্তা শুনেন। নিশ্চয় সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।

Word by word

قَدْ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوْلَ ٱلَّتِى تُجَٰدِلُكَ فِى زَوْجِهَا وَتَشْتَكِىٓ إِلَى ٱللَّهِ وَٱللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَآ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে যিহার করে, তারা তাদের মা নয়। তাদের মায়েরা তো কেবল তারাই, যারা তাদের জন্ম দিয়েছে। আর নিশ্চয়ই তারা এমন কথা বলে যা নিন্দনীয় এবং মিথ্যা। আর নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমাকারী।

Note
আরবীতে ‘যিহার’ অর্থ স্ত্রীকে মায়ের মতো বলা, অথবা স্ত্রীকে মায়ের মতো গণ্য করা/আচরণ করা। এর কোনো সরাসরি বাংলা প্রতিশব্দ নেই।
জহুরুল হক

তোমাদের মধ্যের যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে 'যিহার’ করে, - - তারা তাদের মা নয়। তাদের মায়েরা তো শুধু যারা তাদের জন্মদান করেছে তারা বৈ তো নয়। আর তারা তো নিঃসন্দেহ কথা বলছে এক গর্হিত কথা ও একটি ডাহা মিথ্যা। আর নিঃসন্দেহ নিশ্চিত মার্জনাকারী, পরিত্রাণকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে তারা জেনে রাখুক তাদের স্ত্রীরা তাদের মা নয়। তাদের মা তো তারাই যারা তাদের জন্ম দিয়েছে। (যারা যিহার করে) তারা একটি অন্যায়, অসংগত ও অসত্য কথাই বলে। নিশ্চয়ই দয়াময় ক্ষমাশীল।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।

Word by word

ٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَآئِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَٰتِهِمْ إِنْ أُمَّهَٰتُهُمْ إِلَّا ٱلَّٰٓـِٔى وَلَدْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنكَرًا مِّنَ ٱلْقَوْلِ وَزُورًا وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غ

সমকালীন বাংলা

আর যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে যিহার করে, পরে যা তারা বলেছে তা থেকে ফিরে আসে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একজন দাস মুক্ত করা। এটাই তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে অবহিত।

জহুরুল হক

আর যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে 'যিহার’ করে, তারপর তারা যা বলেছে তা প্রত্যাহার করে, সেক্ষেত্রে একে - অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসের মুক্তিদান। এইটির দ্বারাই তোমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো। আর তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে চির - ওয়াকিফহাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে, তারপর নিজেদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়, তাদের জন্যে বিধান হলো, তারা পরস্পরকে স্পর্শ করার আগে একটি দাসমুক্ত করবে। এভাবেই তোমাদের উপদেশ দেয়া হলো। তোমরা যা করো সে বিষয়ে খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। খবর রাখেন তোমরা যা কর।

Word by word

وَٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا۟ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِّن قَبْلِ أَن يَتَمَآسَّا ذَٰلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِۦ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার আগে পরপর দুই মাস রোজা রাখবে। আর যে তা-ও সক্ষম নয়, সে ষাটজন দরিদ্রকে আহার করাবে। এটি এজন্য যে তোমরা ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস রাখো। আর এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

জহুরুল হক

কিন্ত যে খোঁজে পায় না, তবে একে - অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে পরপর দুই মাস রোযা রাখা। কিন্ত যে শক্তি রাখে না, তা’হলে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়ানো। এ এজন্য যে তোমরা যেন ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, আর এগুলো হচ্ছে ‌র বিধি - নিষেধ। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই সামর্থ্য যার নেই, পরস্পরকে স্পর্শ করার আগে সে অবিরাম দুই মাস সিয়াম পালন করবে (রোযা রাখবে)। যে এটা করতেও অসমর্থ হবে, সে ষাটজন মিসকিনকে (অভাবীকে) খাবার খাওয়াবে। এ বিধান দেয়া হলো, যেনো তোমরা ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান রাখো, এটাই আল্লাহর বিধান। আল্লাহর বিধান অমান্যকারীদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।

Word by word

فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَآسَّا فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ذَٰلِكَ لِتُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যারা ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা অপমানিত হয়েছে, যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা অপমানিত হয়েছিল। আর আমরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছি। আর অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের অপদস্থ করা হবে যেমন অপদস্থ করা হয়ে ছিল তাদের যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী, আর আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করেই দিয়েছি। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে, তাদের অপদস্থ করা হবে, যেমন অপদস্থ করা হয়েছে তাদের আগের লোকদের। আমরা তো সুস্পষ্ট আয়াত নাযিল করেছি। অমান্যকারীদের জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অপদস্থ হয়েছে, যেমন অপদস্থ হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ كُبِتُوا۟ كَمَا كُبِتَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَقَدْ أَنزَلْنَآ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ

সমকালীন বাংলা

যেদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তারা কী করেছে। তা গণনা করে রেখেছেন, অথচ তারা তা ভুলে গেছে। আর সবকিছুর উপর সাক্ষী।

জহুরুল হক

একদিন তাদেরকে একই সঙ্গে উঠিয়ে আনবেন, তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন কি তারা করেছিল। এর হিসাব রেখেছেন যদিও তারা তা ভুলে গেছে। বস্তুত সব - কিছুর উপরে সাক্ষী রয়েছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের অবহিত করবেন। তার (তাদের কৃতকর্মের) হিসাব রেখেছেন, কিন্তু তারা তা ভুলে গেছে। প্রতিটি বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন স্মরণীয়; যেদিন তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তারা করত। তার হিসাব রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহর সামনে উপস্থিত আছে সব বস্তুই।

Word by word

يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوٓا۟ أَحْصَىٰهُ ٱللَّهُ وَنَسُوهُ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدٌ

সমকালীন বাংলা

তুমি কি দেখনি যে, আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা আছে তা জানেন? তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যেখানে তিনি তাদের চতুর্থ নন; আর পাঁচজনেরও নয়, যেখানে তিনি তাদের ষষ্ঠ নন; এর চেয়ে কম বা বেশি যা-ই হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সঙ্গে আছেন। তারপর কিয়ামতের দিনে তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তারা যা করেছে। নিশ্চয়ই সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

জহুরুল হক

তুমি কি লক্ষ্য কর নি যে জানেন যা - কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে ও যা - কিছু রয়েছে পৃথিবীতে? তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ - সভা নেই যেখানে তিনি তাদের চতুর্থজন নন, আর পাঁচজনেরও নেই যেখানে তিনি তাদের ষষ্ঠজন নন, আর এর চেয়ে কম হোক অথবা বেশী হোক, সর্বাবস্থায় তিনি তাদের সঙ্গে রয়েছেন যেখানেই তারা থাকুক না কেন। তারপর তিনি কিয়ামতের দিনে তাদের জানিয়ে দেবেন কি তারা করেছিল। নিঃসন্দেহ সব - কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনা যে, জানেন মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে? তিন ব্যক্তির মধ্যে কোনো গোপন সলাপরামর্শ হয়না যেখানে চতুর্থজন হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকেননা। পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয়না, যেখানে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি হাজির থাকেন না। তারা এর চাইতে কম হোক কিংবা বেশি, তিনি তাদের সাথেই থাকেন যেখানেই তারা থাকুক। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদের অবহিত করবেন - তারা কী করেছিল? নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

Word by word

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَىٰ ثَلَٰثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَآ أَدْنَىٰ مِن ذَٰلِ

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাদের দেখনি, যাদের গোপন পরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছিল, তারপর তারা যা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল, তা আবার করে এবং পাপ, সীমালঙ্ঘন ও রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে গোপন পরামর্শ করে? আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমনভাবে অভিবাদন জানায়, যেভাবে তোমাকে অভিবাদন জানাননি। আর তারা নিজেদের মধ্যে বলে, “আমরা যা বলি, তার জন্য কেন আমাদের শাস্তি দেন না?” তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা তাতে প্রবেশ করবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট পরিণতি!

জহুরুল হক

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য কর নি যাদের নিষেধ করা হয়েছিল গোপন পরামর্শ - সভা পাততে, তারপর তারা ফিরে গিয়েছিল তাতে যা করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল? আর তারা সলা - পরামর্শ করছে পাপাচরণে ও শত্রুতায় ও রসূলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণের জন্য, আর যখন তারা তোমার কাছে আসে তখন তারা তোমাকে সম্ভাষণ করে এমনভাবে যেভাবে তোমাকে সম্ভাষণ করেন না। আর তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে - - ''কেন আমাদের শাস্তি দেন না আমরা যা বলি সেজন্য?’’ তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট - - তারা তাতেই প্রবেশ করবে, সুতরাং কত নিকৃষ্ট এই গন্তব্যস্থল!

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করছো না, যাদের গোপন সলাপরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছিল; কিন্তু নিষেধ করার পরও তারা সেটার পুনরাবৃত্তি করে এবং পাপ কাজ, সীমালংঘন ও রসূলের বিরুদ্ধাচরণের জন্যে গোপন সলাপরামর্শ করে? তারা যখন তোমার কাছে আসে, এমন ভাষায় তোমাকে অভিবাদন করে, যে ভাষায় তোমাকে অভিবাদন করেননি। তারা মনে মনে বলে: ‘আমরা যা বলি, তার জন্যে আমাদের শাস্তি দেন না কেন?’ তাদের জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট। তাতেই তারা দগ্ধ হবে, আর সেটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস!

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি ভেবে দেখেননি, যাদেরকে কানাঘুষা করতে নিষেধ করা হয়েছিল অতঃপর তারা নিষিদ্ধ কাজেরই পুনরাবৃত্তি করে এবং পাপাচার, সীমালংঘন এবং রসূলের অবাধ্যতার বিষয়েই কানাঘুষা করে। তারা যখন আপনার কাছে আসে, তখন আপনাকে এমন ভাষায় সালাম করে, যদ্দ্বারা আপনাকে সালাম করেননি। তারা মনে মনে বলেঃ আমরা যা বলি, তজ্জন্যে আমাদেরকে শাস্তি দেন না কেন? জাহান্নামই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তারা তাতে প্রবেশ করবে। কতই না নিকৃষ্ট সেই জায়গা।

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ نُهُوا۟ عَنِ ٱلنَّجْوَىٰ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا نُهُوا۟ عَنْهُ وَيَتَنَٰجَوْنَ بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَمَعْصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَإِذَا جَآءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِ

সমকালীন বাংলা

হে যারা ঈমান এনেছো, যখন তোমরা গোপনে পরামর্শ করো, তখন পাপ, সীমালঙ্ঘন এবং রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে গোপন পরামর্শ করো না; বরং সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির বিষয়ে গোপন পরামর্শ করো। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর কাছে তোমাদের সমবেত করা হবে।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমরা কোনো গোপন পরামর্শ - সভা পাতো তখন তোমরা পরামর্শ করো না পাপাচরণ ও শত্রুতা ও রসূলের প্রতি অবাধ্যতার জন্য, বরং তোমরা পরামর্শ করো সৎকর্মের ও ধর্মভীরুতার জন্যে, আর ‌কে ভয় - ভক্তি করো যাঁর কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ করো, সেটা যেনো পাপালাপ, সীমালংঘন এবং রসূলের বিরুদ্ধাচরণের জন্যে না হয়। তোমরা গোপন পরামর্শ করলে তা করবে কল্যাণকর কাজ ও তাকওয়া অবলম্বনের উদ্দেশ্যে। তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর কাছে তোমাদের হাশর করা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনগণ, তোমরা যখন কানাকানি কর, তখন পাপাচার, সীমালংঘন ও রসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে কানাকানি করো না বরং অনুগ্রহ ও খোদাভীতির ব্যাপারে কানাকানি করো। আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর কাছে তোমরা একত্রিত হবে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَنَٰجَيْتُمْ فَلَا تَتَنَٰجَوْا۟ بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَمَعْصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَتَنَٰجَوْا۟ بِٱلْبِرِّ وَٱلتَّقْوَىٰ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِىٓ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

সমকালীন বাংলা

মূলত গোপন পরামর্শ শয়তানের পক্ষ থেকে ঈমানদারদের দুঃখ দেওয়ার জন্য হয়। কিন্তু আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সে তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর মুমিনরা যেন আল্লাহর উপরই ভরসা করে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ সলা - পরামর্শ কেবল শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে, যেন সে যন্ত্রণা দিতে পারে তাদের যারা ঈমান এনেছে, বস্তুত তাদের কোনো অনিষ্ট হতে পারে না ‌র অনুমতি ব্যতীত। কাজেই ‌র উপরেই তবে নির্ভর করুক বিশ্বাসিগণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

গোপন সলাপরামর্শ হয় শয়তানের প্ররোচণায় মুমিনদের মনে কষ্ট দেয়ার জন্যে। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া সে তাদের সামান্যতম ক্ষতি করতেও সক্ষম নয়। মুমিনরা আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করুক।

মুহিউদ্দীন খান

এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।

Word by word

إِنَّمَا ٱلنَّجْوَىٰ مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ لِيَحْزُنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَلَيْسَ بِضَآرِّهِمْ شَيْـًٔا إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ

সমকালীন বাংলা

হে যারা ঈমান এনেছো, যখন তোমাদের বলা হয়, “সমাবেশে জায়গা করে দাও,” তখন তোমরা জায়গা করে দাও; তোমাদের জন্য জায়গা করে দেবেন। আর যখন বলা হয়, “উঠে যাও,” তখন তোমরা উঠে যাও। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদের মর্যাদা উন্নত করবেন। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে অবহিত।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমাদের বলা হয় মজলিস - গুলোয় জায়গা করে দাও, তখন জায়গা করে দিয়ো, তোমাদের জন্য জায়গা করে দেবেন। আর যখন বলা হয় উঠে দাঁড়াও, তখন উঠে দাঁড়িয়ো, তোমাদের মধ্যের যারা ঈমান এনেছে ও যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদের স্তরে স্তরে মর্যাদায় উন্নত করবেন। আর তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে চির - ওয়াকিফহাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের যখন বলা হয়: মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা (অপরের জন্য) স্থান করে দিও, তাহলে আল্লাহ্ও তোমাদের জন্যে প্রশস্ত করে দেবেন। আর যখন তোমাদের বলা হয়: ‘উঠে যাও’, তখন তোমরা উঠে যেয়ো। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবেন। তোমরা যা করো, সে বিষয়ে অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনগণ, যখন তোমাদেরকে বলা হয়ঃ মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিও। আল্লাহর জন্যে তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দিবেন। যখন বলা হয়ঃ উঠে যাও, তখন উঠে যেয়ো। তোমাদের মধ্যে যারা এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন। খবর রাখেন যা কিছু তোমরা কর।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوا۟ فِى ٱلْمَجَٰلِسِ فَٱفْسَحُوا۟ يَفْسَحِ ٱللَّهُ لَكُمْ وَإِذَا قِيلَ ٱنشُزُوا۟ فَٱنشُزُوا۟ يَرْفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَٱلَّذِ

সমকালীন বাংলা

হে যারা ঈমান এনেছো, যখন তোমরা রাসূলের সঙ্গে গোপনে পরামর্শ করতে চাও, তখন তোমাদের সেই গোপন পরামর্শের আগে কিছু দান করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম ও অধিক পবিত্র। কিন্তু যদি তোমরা তা না পাও, তবে নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন রসূলের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ কর তখন তোমাদের পরামর্শের আগে দান - খয়রাত আগবাড়াবে, এইটি তোমাদের জন্য শ্রেয় ও পবিত্রতর। কিন্ত যদি তোমরা না পাও তবে নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা রসূলের সাথে চুপে চুপে কথা বলতে চাইলে তার আগে হাদিয়া প্রদান করবে। এটা উত্তম এবং পবিত্র। যদি তা করতে তোমরা সমর্থ না হও, তবে ক্ষমাশীল, দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনগণ, তোমরা রসূলের কাছে কানকথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে। এটা তোমাদের জন্যে শ্রেয়ঃ ও পবিত্র হওয়ার ভাল উপায়। যদি তাতে সক্ষম না হও, তবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نَٰجَيْتُمُ ٱلرَّسُولَ فَقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَةً ذَٰلِكَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَأَطْهَرُ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

সমকালীন বাংলা

তোমরা কি তোমাদের গোপন পরামর্শের আগে দান করতে ভয় পেয়েছো? অতঃপর যখন তোমরা তা করনি এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন, তখন প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত দাও এবং ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে অবহিত।

জহুরুল হক

কী! তোমরা কি তোমাদের ব্যক্তিগত পরামর্শের আগে দান - খয়রাত আগবাড়াতে ভয় করছ? সুতরাং যখন তোমরা কর না, আর তোমাদের প্রতি ফেরেন, তখন কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো, আর ও তাঁর রসূলের আজ্ঞাপালন করো। আর তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে চির - ওয়াকিফহাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি চুপে চুপে কথা বলার আগে হাদিয়া প্রদানকে কষ্টকর মনে করো? যদি তোমরা হাদিয়া না দাও, তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো। তোমরা যা করো, সে বিষয়ে খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি কানকথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে গেলে? অতঃপর তোমরা যখন সদকা দিতে পারলে না এবং তোমাদেরকে মাফ করে দিলেন তখন তোমরা কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং ও রসূলের আনুগত্য কর। খবর রাখেন তোমরা যা কর।

Word by word

ءَأَشْفَقْتُمْ أَن تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَٰتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا۟ وَتَابَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَٱللَّهُ خ

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছে যাদের উপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন? তারা তোমাদেরও নয় এবং তাদেরও নয়। আর তারা জেনে-শুনে মিথ্যার উপর শপথ করে।

জহুরুল হক

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য কর নি যারা এমন এক জাতির সহিত বন্ধুত্ব পাতে যাদের উপরে রুষ্ট হয়েছেন? তারা তোমাদের দলভুক্ত নয় আর তাদেরও অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তারা জেনে - শুনেই মিথ্যা হলফ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করোনি, যারা সেই সম্প্রদায়ের সাথে (মুনাফিকদের সাথে) বন্ধুতা করে, যাদের প্রতি ক্ষুব্ধ। তারা তোমাদের লোক নয়, তোমরাও তাদের লোক নও। তারা জেনে শুনে মিথ্যা হলফ করে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা আল্লাহর গযবে নিপতিত সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে? তারা মুসলমানদের দলভুক্ত নয় এবং তাদেরও দলভূক্ত নয়। তারা জেনেশুনে মিথ্যা বিষয়ে শপথ করে।

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ تَوَلَّوْا۟ قَوْمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مَّا هُم مِّنكُمْ وَلَا مِنْهُمْ وَيَحْلِفُونَ عَلَى ٱلْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

সমকালীন বাংলা

তাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। নিশ্চয়ই তারা যা করতো, তা কতই না মন্দ!

জহুরুল হক

তাদের জন্য তৈরি করেছেন ভীষণ শাস্তি। বস্তুত তারা যা করে চলেছে তা কত মন্দ!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন কঠোর আযাব। তারা যা করে তা চরম নিকৃষ্ট।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে কঠোর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। নিশ্চয় তারা যা করে, খুবই মন্দ।

Word by word

أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا إِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

সমকালীন বাংলা

তারা তাদের শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে গ্রহণ করেছে, ফলে তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দিয়েছে। অতএব তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

জহুরুল হক

তারা তাদের শপথগুলোকে আবরণ হিসেবে গ্রহণ করেছে, ফলে তারা ‌র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের শপথকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। সুতরাং তাদের জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাদের শপথকে ঢাল করে রেখেছেন, অতঃপর তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করে। অতএব, তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

Word by word

ٱتَّخَذُوٓا۟ أَيْمَٰنَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ فَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের কোনো কাজে আসবে না। তারাই আগুনের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।

জহুরুল হক

‌র মোকাবিলায় তাদের ধনদৌলত কোনো প্রকারেই তাদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সন্তানসন্ততিও না। এরা হচ্ছে আগুনের অধিবাসী। তারা তাতেই অবস্থান করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের ধন - সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের কোনো কাজেই আসবেনা। তারা হবে আগুনের অধিবাসী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর কবল থেকে তাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি তাদেরকে মোটেই বাঁচাতে পারবেনা। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী তথায় তারা চিরকাল থাকবে।

Word by word

لَّن تُغْنِىَ عَنْهُمْ أَمْوَٰلُهُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

সমকালীন বাংলা

যেদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর কাছে শপথ করবে, যেমন তোমাদের কাছে শপথ করে। আর তারা মনে করবে যে তারা কোনো কিছুর উপর রয়েছে। জেনে রেখো, তারাই মিথ্যাবাদী।

জহুরুল হক

সেইদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর কাছে হলফ করবে যেমন তারা তোমাদের কাছে হলফ করছে, আর তারা হিসেব করছে যে তারা নিশ্চয় একটা কিছুতে রয়েছে। তারাই কি স্বয়ং মিথ্যাবাদী নয়?

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, সেদিনও তারা আল্লাহর সাথে ঠিক সে রকম হলফই করবে, যে রকম হলফ করে তোমাদের সাথে। তারা মনে করে তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছুর উপর রয়েছে। জেনে রাখো, আসলে তারা মিথ্যাবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন। অতঃপর তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে, যেমন তোমাদের সামনে শপথ করে। তারা মনে করবে যে, তারা কিছু সৎপথে আছে। সাবধান, তারাই তো আসল মিথ্যাবাদী।

Word by word

يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًا فَيَحْلِفُونَ لَهُۥ كَمَا يَحْلِفُونَ لَكُمْ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلْكَٰذِبُونَ

সমকালীন বাংলা

শয়তান তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারাই শয়তানের দল। জেনে রেখো, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

শয়তান তাদের উপরে কাবু করে ফেলেছে, সেজন্য সে তাদের ‌কে স্মরণ করা ভুলিয়ে দিয়েছে। এরাই হচ্ছে শয়তানের দল। এটি কি নয় যে শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গরা নিজেরাই তো ক্ষতিগ্রস্ত দল?

আবদুস শহীদ নাসিম

শয়তান তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে আছে। ফলে সে তাদের ভুলিয়ে দিয়েছে আল্লাহর যিকির। মূলত তারা হলো শয়তানের দল। আর জেনে রাখো, শয়তানের দল অবশ্যি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মুহিউদ্দীন খান

শয়তান তাদেরকে বশীভূত করে নিয়েছে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভূলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।

Word by word

ٱسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ ٱلشَّيْطَٰنُ فَأَنسَىٰهُمْ ذِكْرَ ٱللَّهِ أُو۟لَٰٓئِكَ حِزْبُ ٱلشَّيْطَٰنِ أَلَآ إِنَّ حِزْبَ ٱلشَّيْطَٰنِ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যারা ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারাই সবচেয়ে লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ‌র ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তারাই হবে চরম লাঞ্ছিতদের মধ্যেকার।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে, তারাই হবে লাঞ্ছিতদের অন্তরভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় যারা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তারাই লাঞ্ছিতদের দলভূক্ত।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ٱلْأَذَلِّينَ

সমকালীন বাংলা

লিখে দিয়েছেন, “অবশ্যই আমি এবং আমার রাসূলগণ বিজয়ী হবো।” নিশ্চয়ই মহাশক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী।

জহুরুল হক

বিধান করেছেন - - ''অবশ্য আমি ও আমার রসূলগণ বিজয়ী হবই।’’ নিঃসন্দেহ মহাবলীয়ান, মহাশত্তি শালী।

আবদুস শহীদ নাসিম

লিখে রেখেছেন, আমি অবশ্যি বিজয়ী হবো এবং আমার রসূলরাও। নিশ্চয়ই শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

লিখে দিয়েছেনঃ আমি এবং আমার রসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব। নিশ্চয় শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

Word by word

كَتَبَ ٱللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا۠ وَرُسُلِىٓ إِنَّ ٱللَّهَ قَوِىٌّ عَزِيزٌ

সমকালীন বাংলা

তুমি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবে না যারা ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে অথচ তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যারা ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, এমনকি যদি তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা আত্মীয় হয়। তাদের অন্তরে তিনি বিশ্বাস লিখে দিয়েছেন এবং নিজের কাছ থেকে তাদেরকে এক আত্মা দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। আর তিনি তাদেরকে এমন বেহেস্তে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই সফল।

জহুরুল হক

তুমি ‌তে ও পরকালে বিশ্বাস করে এমন কোনো জাতি পাবে না যারা বন্ধুত্ব পাতছে তাদের সঙ্গে যারা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করছে। হোক না কেন তারা তাদের পিতা - পিতামহ অথবা তাদের সন্তানসন্ততি অথবা তাদের ভাই - বিরাদর অথবা তাদের আ‌ত্মীয় - স্বজন। এরাই - - এদের অন্তরে তিনি ধর্মবিশ্বাস লিখে দিয়েছেন এবং তাদের বলবৃদ্ধি করেছেন তাঁর কাছ থেকে প্রেরণা দিয়ে। আর তিনি তাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, তাতে তারা থাকবে চিরকাল। তাদের উপরে প্রসন্ন থাকবেন, আর তারাও তাঁর প্রতি প্রসন্ন রইবে। এরাই হচ্ছে ‌র দলের। এটি কি নয় যে ‌র দলীয়রাই তো খোদ সাফল্যপ্রাপ্ত?

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তুমি তাদের কাউকেও এমন পাবেনা, যে ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীর সাথে বন্ধুতা ও ভালোবাসা রাখে, বিরোধিতাকারীরা তাদের বাবা - মা, ছেলে - মেয়ে, ভাই - বোন এবং আত্মীয় - স্বজন হলেও। এদের অন্তরে লিখে দিয়েছেন ঈমান এবং তাদের সাহায্য করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে রূহ (অহির জ্ঞান, কুরআন) দিয়ে। তিনি তাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর, চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। তাদের প্রতি রাজি হয়ে গেছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি রাজি হয়েছে। এরাই আল্লাহর দল। আর জেনে রাখো, আল্লাহর দলই হবে সফল।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি - গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই হবে।

Word by word

لَّا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ يُوَآدُّونَ مَنْ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوْ كَانُوٓا۟ ءَابَآءَهُمْ أَوْ أَبْنَآءَهُمْ أَوْ إِخْوَٰنَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُو۟لَٰٓئِكَ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme