আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন সেই ঘটনা ঘটবে,
আল ওয়াক্বিয়া (বিশেষ ঘটনা)
Chapter 56, 96 verses
থাকবে না ঘটনার অস্বীকারকারী।
তা কাউকে নিচু করবে এবং কাউকে উচ্চ করবে।
যখন পৃথিবী প্রবলভাবে কাঁপানো হবে,
পাহাড়গুলোকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে,
অতঃপর সেগুলো ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা হবে।
আর তোমরা তিন দলে ভাগ হয়ে যাবে।
অতঃপর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!
আর বামদিকের লোকগুলো, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!
আর অগ্রবর্তীরাই তো অগ্রবর্তী।
তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত,
সুখময় বেহেস্তসমূহে।
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
আর অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
নকশা করা আসনের উপর,
তার উপর মুখোমুখি হেলান দিয়ে।
তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে চিরস্থায়ী কিশোরগণ,
কলসীসমূহ এবং জগ এবং প্রবাহিত পানীয়ের পেয়ালা নিয়ে,
যাতে তাদের মাথাব্যথা হবে না এবং তারা মাতালও হবে না।
আর তারা পছন্দমতো ফলমূল পাবে,
এবং তাদের পছন্দমতো পাখির মাংস।
আর থাকবে বড় বড় চোখের হুরগণ,
Note
হুরগণ= বেহেস্তের বিশেষ নারীরা
যেন সুরক্ষিত মুক্তার মতো।
তাদের কর্মের প্রতিদান হিসেবে।
তারা সেখানে কোনো অনর্থক কথা বা পাপের কথা শুনবে না।
শুধু বলা হবে, “সালাম, সালাম।”
আর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!
কাঁটাবিহীন কুলবড়ই গাছের মধ্যে,
এবং স্তরে স্তরে সাজানো কলাগাছের মধ্যে,
এবং প্রসারিত ছায়ায়,
এবং প্রবাহমান পানি,
এবং প্রচুর ফলমূল,
যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
আর উঁচু বিছানাগুলোতে।
নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর তাদেরকে কুমারী করেছি,
প্রেমময়ী এবং সমবয়সী,
ডানদিকের লোকদের জন্য।
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
এবং অনেকেই পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
আর বামদিকের লোকেরা, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!
তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাস ও ফুটন্ত পানির মধ্যে,
এবং কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
যা ঠান্ডাও নয় এবং আরামদায়কও নয়।
নিশ্চয়ই তারা এর আগে বিলাসিতায় মগ্ন ছিলো।
আর তারা মহাপাপের উপর অবিচল থাকতো।
আর তারা বলতো, “আমরা যখন মারা যাবো এবং মাটি ও হাড় হয়ে যাবো, তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদেরও?
বলো, “নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,
এক নির্ধারিত দিনের নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই সমবেত হবে।”
অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যা প্রতিপন্ন কারীরা,
তোমরা অবশ্যই যাক্কুম গাছ থেকে খাবে,
তারপর তা দিয়ে তোমরা পেট ভরবে,
তারপর তার উপর ফুটন্ত পানি পান করবে,
এবং তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে।
এটাই প্রতিদান দিবসে তাদের আপ্যায়ন।
আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তবে তোমরা কেন সত্য মেনে নাও না?
তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা বীর্যপাত করো?
তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই সৃষ্টিকর্তা?
আমরা তোমাদের মধ্যে মৃত্যুকে নির্ধারণ করেছি এবং আমরা অক্ষম নই
যে আমরা তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মতো অন্যদের নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন জগতে পুনরায় সৃষ্টি করি যা তোমরা জানো না।
আর অবশ্যই তোমরা প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছো; তবুও কেন শিক্ষা গ্রহণ করো না?
তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা চাষ করো?
তোমরা কি তা উৎপন্ন করো, নাকি আমরাই উৎপন্ন করি?
আমরা চাইলে অবশ্যই তা খড়কুটো করে দিতে পারি, তখন তোমরা বিস্মিত হয়ে বলবে,
“নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি;
বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”
তোমরা কি ভেবেছো, যে পানি তোমরা পান করো?
তোমরা কি তা মেঘ থেকে নামাও, নাকি আমরাই নামাই?
আমরা চাইলে তা লবনাক্ত করে দিতে পারি। অতএব কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?
তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যে আগুন তোমরা জ্বালাও?
তোমরা কি তার গাছ সৃষ্টি করেছো, নাকি আমরাই সৃষ্টি করেছি?
আমরা এটিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয় এবং পথিকদের জন্য উপকার করেছি।
অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।
অতএব না, আমি নক্ষত্রসমূহের অবস্থানগুলোর শপথ করছি,
আর নিশ্চয়ই এটি এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে।
নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত কুরআন,
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।
পবিত্রকৃতরা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না।
এটি সৃষ্টিজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
তাহলে কি তোমরা এই বাণীকে হালকা করে দেখছো?
আর তোমরা যে তোমাদের জীবিকাকে অস্বীকার করছো?
অতএব যখন প্রাণ কণ্ঠনালিতে পৌঁছে যায়,
আর তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো,
আর আমরা তার চেয়ে তোমাদের নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
অতএব যদি তোমরা কারও অধীন না হও,
তবে সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
তবে আরাম আর সুগন্ধি উদ্ভিদ আর সুখের বেহেস্ত।
আর যদি সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
তবে তোমার জন্য শান্তি, কারণ সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
আর যদি সে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,
এবং জাহিমে পোড়ানো।
নিশ্চয়ই এটিই নিশ্চিত সত্য।
অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।