Kitab

আল আহযাব

Chapter 33, 73 verses

  • বাংলা উচ্চারণ
  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়ুহান্নাবিইয়ুত্ তাক্বিল্লা-হা অলা-তুত্বি'ইল্ কা-ফিরীনা অল্মুনা-ফিকীন্ ইন্নাল্লা-হা কা-না 'আলীমান হাকীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন এবং ও কপট বিশ্বাসীদের কথা মানবেন না। নিশ্চয় সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! আল্লাহকে ভয় করো এবং আর মুনাফিকদের আনুগত্য করোনা। সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাবান।

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাবি' মা-ইয়ূহা য় ইলাইকা র্মি রব্বিক্ ইন্নাল্লা-হা কা-না বিমা-তা'মালূনা খবীর-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়, আপনি তার অনুসরণ করুন। নিশ্চয় তোমরা যা কর, সে বিষয়ে খবর রাখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যে অহি করা হচ্ছে তার ইত্তেবা করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা আমল করো তার খবর রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

অতাওয়াক্কাল্ 'আলাল্লা-হ্ অকাফা- বিল্লা-হি অকীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। কার্যনির্বাহীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাওয়াক্কুল করো আল্লাহর উপর। উকিল হিসেবে তোমার জন্যে আল্লাহ্ই কাফী।

বাংলা উচ্চারণ

মা-জ্বা'লাল্লা-হু লিরজুলিম্ মিন্ ক্বল্বাইনি ফী জ্বাওফিহী অমা- জ্বা'আলা আয্ওয়া-জ্বাকুমুল্লা-য়ী তুজোয়া-হিরূনা মিন্হুন্না উম্মাহা-তিকুম্ অমা-জা'আলা আদ্'ইইয়া-য়াকুম্ আব্না-য়াকুম্ যা-লিকুম্ ক্বওলুকুম্ বিআফ্ওয়া- হিকুম্ অল্লা-হু ইয়াকুলুল্ হাকক্ব অ হুওয়া ইয়াহ্দিস্ সাবীল্।

মুহিউদ্দীন খান

কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

বানাননি কোনো ব্যক্তির জন্যে তার অভ্যন্তরে দুটি অন্তর। আর তোমরা তোমাদের যেসব স্ত্রীর সাথে যিহার করো তাদেরকে তোমাদের মা বানাননি এবং তোমাদের মুখডাকা পুত্রদেরকেও বানাননি তোমাদের পুত্র। এগুলো তো তোমাদের মুখের কথা। সত্য কথা বলেন এবং দেখান সঠিক পথ।

বাংলা উচ্চারণ

উদ্'ঊহুম্ লিআ-বা-য়িহিম্ হুওয়া আকসাতু 'ইন্দাল্লা-হি ফাইল্লাম্ তা'লামূ য় আ-বা-য়াহুম্ ফাইখ্ওয়া-নুকুম্ ফিদ্দীনি অমাওয়া-লিকুম্ অলাইসা 'আলাইকুম্ জুনা-হুন্ ফীমা য় আখ্ত্বোয়া'তুম্ বিহী অলা-কিঁম্ মা-তা'আম্মাদাত্ কুলূ বুকুম্ অকা-নাল্লা-হু গফূর্র রহীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ - পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদের ডাকো তাদের পিতার পরিচয়ে। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই ন্যায়সংগত। তোমরা যদি তাদের পিতার পরিচয় জানতে না পারো, তবে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং বন্ধু। ইতোপূর্বে তোমরা এ ব্যাপারে যে ভুল করেছো সেটার জন্যে তোমাদের অপরাধ ধরা হবেনা। তবে অপরাধ হতে পারে তোমাদের অন্তরের সংকল্পের কারণে। আর পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

আন্নাবিয়্যু আওলা বিল্মু''মিনীনা মিন্ আন্ফুসিহিম্ অআয্ওয়া- জুহূ য় উম্মাহা-তুহুম্ অউলুল্ র্আহা-মি বা'দ্বুহুম্ আওলা- বিবা'দ্বিন্ ফী কিতাবিল্লা-হি মিনাল্ মুমিনীনা অল্ মুহা-জ্বিরীনা ইল্লা য় আন্ তাফ্'আলূ য় ইলা য় আওলিয়া-য়িকুম্ মা'রূফা- কা-না যা-লিকা ফিল্ কিতা-বি মাস্ত্ব র -।

মুহিউদ্দীন খান

নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ও মুহাজিরগণের মধ্যে যারা আত্নীয়, তারা পরস্পরে অধিক ঘনিষ্ঠ। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি দয়া - দাক্ষিণ্য করতে চাও, করতে পার। এটা লওহে - মাহফুযে লিখিত আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই নবী (মুহাম্মদ) মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও ঘনিষ্ঠতর এবং তার স্ত্রীরা তাদের মা। আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ও মুহাজিরদের চেয়ে আত্মীয়রা পরস্পরের নিকটতর। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি আনুকূল্য দেখাতে চাও, তাতে কোনো দোষ নেই। এসব বিধান কিতাবে লিপিবদ্ধ।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ আখায্না-মিনান্নাবিয়্যিনা মীছা-ক্বহুম্ অমিন্কা অমিন্ নূহিঁও অইব্রা-হীমা অমূসা- অ 'ঈসাব্নি র্মাইয়ামা অআখয্না-মিন্হুম্ মীছা-ক্বন্ গলীজোয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি পয়গম্বরগণের কাছ থেকে, আপনার কাছ থেকে এবং নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মরিয়ম তনয় ঈসার কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম এবং অঙ্গীকার নিলাম তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যখন আমরা নবীদের কাছ থেকে তাদের অংগীকার নিয়েছিলাম এবং তোমার থেকেও, নূহের থেকেও, ইবরাহিম, মূসা এবং ঈসা ইবনে মরিয়ম থেকেও। আমরা তাদের থেকে গ্রহণ করেছিলাম শক্ত অংগীকার,

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়াস্য়ালাছ্ ছোয়া-দিক্বীনা 'আন্ ছিদ্ক্বিহিম্ ওয়াআ'আদ্দা

মুহিউদ্দীন খান

সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। তিনি কাফেরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সত্যপন্থীদেরকে তাদের সত্য পথে অটল থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে। তিনি কাফিরদের জন্যে তৈরি করে রেখেছেন বেদনাদায়ক আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানুয্ কুরূ নি'মাতাল্লা-হি 'আলাইকুম্ ইয্ জ্বা-য়াত্কুম্ জুনূ দুন্ ফার্আসাল্না -'আলাইহিম্ রীহাঁও অজুনূ দাল্লাম্ তারওহা- অকা-নাল্লা-হু বিমা-তা'মালূনা বাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্চাবায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা কর, তা দেখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! যিকির করো তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা, যখন তোমাদের দিকে শত্রুবাহিনী১ এসে গিয়েছিল, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম ঝড়ো হাওয়া এবং এমন এক বাহিনী, যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। তোমরা যা করো তা আল্লাহর দৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ জ্বা-য়ূকুম্ মিন্ ফাওক্বিকুম্ অমিন্ আস্ফালা মিন্কুম্ অইয্ যা-গত্বিল্ আব্ছোয়া-রু অ বালাগতিল্ কুলূ বুল্ হানা-জ্বির অ তাজুন্নুনা বিল্লা -হিজ্ জুনূনা-।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কন্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তারা এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং নিচের দিক থেকে এবং (তাদের দেখে) তোমাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে পড়েছিল এবং তোমাদের প্রাণ হয়ে পড়েছিল কণ্ঠাগত আর তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে করছিলে নানা রকম ধারণা।

বাংলা উচ্চারণ

হুনা- লিকাব্ তুলিয়াল্ মুমিনূনা অযুল্ যিলূ যিল্যা-লান্ শাদীদা-।

মুহিউদ্দীন খান

সে সময়ে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এখানেই পরীক্ষা করা হয়েছিল মুমিনদের। তাঁরা কেঁপে উঠেছিল ভীষণ কম্পনে।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ইয়াকু লুল্ মুনা-ফিকুনা অল্লাযীনা ফী কুলূ বিহিম্ মারদুম মা- অ 'আদানাল্লা-হু অরসূলুহূ য়ইল্লা-গুরূ র-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, আমাদেরকে প্রদত্ত ও রসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ অবস্থায় মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে রোগ ছিলো, তারা বলছিল: ‘ এবং তাঁর রসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছেন, সেটা একটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্ব-লাত্ ত্বোয়া-য়িফাতুম্ মিন্হুম্ ইয়া য় আহ্লা ইয়াছ্রিবা লা -মুক্বা- মা লাকুম্ র্ফাজ্বি'ঊ অইয়াস্তাযিনু ফারীকুম্ মিন্হুমু ন্নাবিয়্যা ইয়াকুলূনা ইন্না বুইয়ূতানা- 'আওরহ্ অমা-হিয়া বি'আওরতিন্ ইঁইয়ুরীদূনা ইল্লা-ফির-র-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যখন তাদের একদল বলেছিল, হে ইয়াসরেববাসী, এটা টিকবার মত জায়গা নয়, তোমরা ফিরে চল। তাদেরই একদল নবীর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে বলেছিল, আমাদের বাড়ী - ঘর খালি, অথচ সেগুলো খালি ছিল না, পলায়ন করাই ছিল তাদের ইচ্ছা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তাদেরই একটি দল বলেছিল: ‘হে ইয়াসরিববাসী! এখানে তোমাদের কোনো স্থান নেই, তোমরা ফিরে চলো।’ তাদের আরেকদল নবীর কাছে অব্যাহতির প্রার্থনা করে বলছিল: ‘আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত’, অথচ তাদের বাড়িঘর অরক্ষিত ছিলনা। আসলে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ভেগে যাওয়া।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও দুখিলাত্ 'আলাইহিম্ মিন্ আকত্বোয়া-রিহা-ছুম্মা সুয়িলুল্ ফিত্নাতা লাআ-তাওহা-অমা- তালাব্বাছূ বিহা য় ইল্লা-ইয়াসীর-।

মুহিউদ্দীন খান

যদি শত্রুপক্ষ চতুর্দিক থেকে নগরে প্রবেশ করে তাদের সাথে মিলিত হত, অতঃপর বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করত, তবে তারা অবশ্যই বিদ্রোহ করত এবং তারা মোটেই বিলম্ব করত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

শত্রুরা যদি চারদিক থেকে (মদিনা) আক্রমণ করতো এবং তাদেরকে বিদ্রোহের জন্যে প্ররোচিত করতো, তারা কালবিলম্ব না করে সহজেই তা করতো।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ কা-নূ 'আহাদু ল্লা-হা মিন্ ক্বব্লু লা-ইয়ু ওয়াল্লূনাল্ আদ্বার্- অ কা-না 'আহ্দুল্লা-হি মাস্য়ূলা-।

মুহিউদ্দীন খান

অথচ তারা পূর্বে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। আল্লাহর অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ ইতোপূর্বে তারা আল্লাহর সাথে অংগীকার করেছিল, তারা পিছু হটবে না। আল্লাহর সাথে অংগীকার সম্পর্কে অবশ্যি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লাইঁ ইয়্যান্ ফা'আকুমুল্ ফির-রু ইন্ ফার্রতুম্ মিনাল্ মাওতি আওয়িল্ ক্বত্লি অইযাল্ লা-তুমাত্তা'ঊনা ইল্লা-ক্বলীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন! তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পলায়ন কর, তবে এ পলায়ন তোমাদের কাজে আসবে না। তখন তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: তোমাদের কোনোই ফায়দা হবেনা যদি তোমরা মউত কিংবা কতল হবার ভয়ে পলায়ন করো। তবে সেক্ষেত্রে তোমাদেরকে ভোগের সুযোগ খুব কমই দেয়া হবে।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ মান্ যাল্লাযী ইয়া'ছিমুকুম্ মিনাল্লা-হি ইন্ আর-দা বিকুম্ সূ-য়ান্ আও আর-দা বিকুম্ রহ্মাহ্ অলা-ইয়াজ্বিদূনা লাহুম্ মিন্ দূনিল্লা-হি অলিয়্যাঁও অলা-নাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন! কে তোমাদেরকে থেকে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের অমঙ্গল ইচ্ছা করেন অথবা তোমাদের প্রতি অনুকম্পার ইচ্ছা? তারা ব্যতীত নিজেদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যদাতা পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: কে তোমাদের রক্ষা করবে আল্লাহর থেকে যদি তিনি তোমাদের অমঙ্গল করার এরাদা করেন? অথবা তিনি যদি তোমাদের মঙ্গল করার এরাদা করেন, তবে কে তোমাদের ক্ষতি করবে? তারা নিজেদের জন্যে আল্লাহর পরিবর্তে কোনো অলি কিংবা সাহায্যকারী পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বদ্ ইয়া'লামু ল্লা-হুল্ মু'আওঁওয়িক্বীনা মিন্কুম্ অল্ক্ব-য়িলীনা লিইখ্ওয়া-নিহিম্ হালুম্মা ইলাইনা-অলা- ইয়াতূনাল্ বাসা ইল্লা- ক্বলীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

খুব জানেন তোমাদের মধ্যে কারা তোমাদেরকে বাধা দেয় এবং কারা তাদের ভাইদেরকে বলে, আমাদের কাছে এস। তারা কমই যুদ্ধ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি জানেন তোমাদের মধ্যে কারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী, আর কারা তাদের ভাইদের বলে: ‘আমাদের সাথে আসো।’ তারা যুদ্ধে অংশ নেয়না, সামান্য ছাড়া।

বাংলা উচ্চারণ

আশিহ্হাতান্ 'আলাইকুম্ ফাইযা-জ্বা-য়াল্ খাওফু রয়াইতাহুম্ ইয়ান্জুরূনা ইলাইকা তাদূরু আ'ইয়ূনুহুম্ কাল্লাযী ইয়ুগ্শা- 'আলাইহি মিনাল্ মাওতি ফা ইযা-যাহাবাল্ খওফু সালাকুকুম্ বিআল্সিনাতিন্ হিদা-দিন্ আশিহ্হাতান্ 'আলাল্ খর্ই উলা-য়িকা লাম্ ইয়ুমিনূ ফাআহ্বাত্বোয়াল্লা-হু আ'মা-লাহুম্ অকা-না যা-লিকা 'আলাল্লা-হি ইয়াসীর-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তোমাদের প্রতি কুন্ঠাবোধ করে। যখন বিপদ আসে, তখন আপনি দেখবেন মৃত্যুভয়ে অচেতন ব্যক্তির মত চোখ উল্টিয়ে তারা আপনার প্রতি তাকায়। অতঃপর যখন বিপদ টলে যায় তখন তারা ধন - সম্পদ লাভের আশায় তোমাদের সাথে বাকচাতুরীতে অবতীর্ণ হয়। তারা নয়। তাই তাদের কর্মসমূহ নিস্ফল করে দিয়েছেন। এটা আল্লাহর জন্যে সহজ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রতি সংকীর্ণ মনোভাবের কারণে। যখন ভয়ের সময় আসে, তুমি তাদের দেখো, মরণের ভয়ে মূর্ছা যাওয়া ব্যক্তির মতো তারা চোখ উল্টিয়ে তোমার দিকে তাকায়। আবার যখন ভয় চলে যায় তখন সম্পদের লোভে তারা তোমাদের প্রতি ভাষার তীর নিক্ষেপ করে। এরা ঈমান আনেনি। ফলে, তাদের আমল বিনষ্ট করে দিয়েছেন, আর এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াহ্সাবূ নাল্ আহ্যা-বা লাম্ ইয়ায্হাবূ অইঁ ইয়াতিল্ আহ্যা-বু ইয়াঅদ্দূ লাও আন্নাহুম্ বা-দূনা ফিল্ আ'র-বি ইয়াস্য়ালূনা 'আন্ আম্বা-য়িকুম্ অলাও কা-নূ ফীকুম্ মা-ক্ব-তালূ য় ইল্লা- ক্বলীলা।

মুহিউদ্দীন খান

তারা মনে করে শক্রবাহিনী চলে যায়নি। যদি শক্রবাহিনী আবার এসে পড়ে, তবে তারা কামনা করবে যে, যদি তারা গ্রামবাসীদের মধ্য থেকে তোমাদের সংবাদাদি জেনে নিত, তবেই ভাল হত। তারা তোমাদের মধ্যে অবস্থান করলেও যুদ্ধ সামান্যই করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ধারণা করছিল সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি। সম্মিলিত বাহিনী যদি আবার এসে পড়ে, তখন তারা কামনা করবে যে, ভালো হতো তারা যদি বেদুঈনদের সাথে থেকে তোমাদের খোঁজখবর নিতো! তোমাদের মাঝে অবস্থান করলেও তারা যুদ্ধ করতো সামান্যই।

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বদ্ কা-না লাকুম্ ফী রসূলিল্লা-হি উস্ওয়াতুন্ হাসানাতুল্ লিমান্ কা-না ইর্য়াজুল্লা-হা অল্ইয়াওমাল্ আ-খির অযাকারল্লা-হা কাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শেষ দিনের সাফল্যের আশা করে এবং বেশি বেশি যিকির করে তাদের জন্যে আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা- রয়াল্ মুমিনূনাল্ আহ্যা-বা ক্ব-লূ হাযা-মা-অ 'আদানাল্লা-হু অরসূলুহূ অছদাক্বাল্লা-হু অ রসূলুহূ অমা-যা-দাহুম্ ইল্লা য় ঈমা-নাঁও অতাস্লীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

যখন মুমিনরা শক্রবাহিনীকে দেখল, তখন বলল, ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আত্নসমর্পণই বৃদ্ধি পেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনী দেখেছিল, তারা বলে উঠেছিল: ‘এর ওয়াদাই তো এবং তাঁর রসূল আমাদের দিয়েছেন এবং ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন।’ ফলে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল।

বাংলা উচ্চারণ

মিনাল্ মুমিনীনা রিজ্বা-লুন্ ছদাকু মা- 'আ-হাদুল্লা-হা 'আলাইহি ফামিন্ হুম্ মান্ ক্বদোয়া- নাহ্বাহূ অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়ান্তাজিরু অমা-বাদ্দালূ তাব্দীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

একদল আল্লাহর সাথে করা তাদের অংগীকার সত্যে পরিণত করেছে, তাদের কেউ কেউ নিজের নজরানা পূর্ণ করেছে, আর কিছু সংখ্যক অপেক্ষায় আছে। তারা তাদের নীতি কিছুমাত্র বদলায়নি।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়াজযিয়াল্লা-হুছ্ ছোয়া- দিক্বীনা বিছিদ্ক্বিহিম্ অ ইয়ু'আয্যিবাল্ মুনা-ফিক্বীনা ইন্ শা-য়া আও ইয়াতূবা 'আলাইহিম্ ইন্নাল্লা-হা কা-না গফূর্রা রহীমা।

মুহিউদ্দীন খান

এটা এজন্য যাতে , সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার কারণে প্রতিদান দেন এবং ইচ্ছা করলে মুনাফেকদেরকে শাস্তি দেন অথবা ক্ষমা করেন। নিশ্চয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে সত্যপন্থীদের পুরস্কৃত করেন তাদের সত্যবাদিতার জন্যে, আর ইচ্ছা করলে মুনাফিকদের শাস্তি দেন, কিংবা তাদের তওবা কবুল করেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

অ রদ্দাল্ লাহুল্ লাযীনা কাফারূ বি গইজিহিম্ লাম্ ইয়ানা-লূ খইর- অ কাফাল্লা- হুল্ মুমিনীনাল্ ক্বিতা-ল্ অ কা-না ল্লা-হু ক্বওয়িয়্যান্ 'আযীযা-।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেরদেরকে ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোন কল্যাণ পায়নি। যুদ্ধ করার জন্য মুমিনদের জন্যে যথেষ্ট হয়ে গেছেন। শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিরদের ফিরিয়ে দিলেন তাদের ক্ষোভসহ। তারা কোনো ফায়দা হাসিল করেনি। যুদ্ধে মুমিনদের জন্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আর অতীব শক্তিধর মহাপরাক্রমশালী।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্যালাল্লাযীনা জোয়াহারূ হুম্ মিন্ আহ্লিল কিতা-বি মিন্ ছোয়াইয়া-ছীহিম্ অ ক্বযাফা ফী কুলূ বিহির্মু রু'বা-ফারীক্বন্ তাক্বতুলূনা অ তাসিরূনা ফারীক্ব-।

মুহিউদ্দীন খান

কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবদের (ইহুদিদের) যারা তাদের সাহায্য করেছিল, তাদেরকে তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ঢুকিয়ে দিলেন ভয়। এখন তোমরা তাদের কিছু সংখ্যককে হত্যা করছো আর কিছু সংখ্যককে করছো বন্দী।

বাংলা উচ্চারণ

অ আওরছাকুম্ র্আদ্বোয়াহুম্ অ দিয়া-রহুম্ অআমওয়া-লাহুম্ অ র্আদ্বোয়াল্লাম্ তাত্বোয়ায়ূহা- অকা-না ল্লা-হু 'আলা-কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি তোমাদেরকে তাদের ভূমির, ঘর - বাড়ীর, ধন - সম্পদের এবং এমন এক ভূ - খন্ডের মালিক করে দিয়েছেন, যেখানে তোমরা অভিযান করনি। সর্ববিষয়োপরি সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তিনি তোমাদেরকে ওয়ারিশ বানিয়ে দিলেন তাদের জমিন, ঘরবাড়ি ও মাল - সম্পদের এবং এমন ভূমির যাতে তোমরা কখনো আগমন করোনি। সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহান নাবিয়্যু কুল্ লিআয্ওয়া-জ্বিক্ব ইন্ কুন্তুন্না তুরিদ্নাল্ হাইয়া-তাদ্ দুন্ইয়া-অযীনাতাহা-ফাতা'আ-লাইনা উমাত্তি'কুন্না অ উর্সারিহ্কুন্না সারা-হান্ জ্বামীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী, আপনার পত্নীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার বিলাসিতা কামনা কর, তবে আস, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তোমার স্ত্রীদের বলো: ‘‘তোমরা যদি দুনিয়ার জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করো, তবে আসো আমি তোমাদের ভোগ - বিলাসের সামগ্রী দিয়ে সুন্দরভাবে বিদায় করে দেই।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইন্ কুন্তুন্না তুরিদ্নাল্লা-হা অ রাসূলাহূ অদ্দা-রল্ আ-খিরতা ফাইন্নাল লা-হা আ'আদ্দা লিল্ মুহ্সিনা-তি মিন্কুন্না আজরান্ 'আজীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

পক্ষান্তরে যদি তোমরা , তাঁর রসূল ও পরকাল কামনা কর, তবে তোমাদের সৎকর্মপরায়ণদের জন্য মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি তোমরা ও তাঁর রসূলকে চাও এবং চাও, সেক্ষেত্রে তোমাদের মধ্যকার কল্যাণপরায়ণ নারীদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন মহাপুরস্কার।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-নিসা-য়ান্ নাবিয়্যি মাইঁ ইয়্যাতি মিন্কুন্না বিফা-হিশাতিম্ মুবায়্যিনাতিঁই ইয়ুদ্বোয়া-'আফ্ লাহাল্ 'আযা-বু দ্বি'ফাইন্ অ কা-না যা-লিকা 'আলাল্লা-হি ইয়াসীর-।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। এটা আল্লাহর জন্য সহজ।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবীর স্ত্রীরা! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সুস্পষ্ট ফাহেশা কাজ করে, তার আযাব (দন্ড) করা হবে দ্বিগুণ এবং এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

বাংলা উচ্চারণ

অমাইঁ ইয়াকনুত্ মিন্কুন্না লিল্লা-হি অরসূলিহী অতা'মাল্ ছোয়া-লিহান্ নুতিহা য় আজরহা-র্মারতাইনি অ 'আতাদ্না-লাহা-রিয্ক্বন্ কারীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের মধ্যে যে কেউ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবে, আমি তাকে দুবার পুরস্কার দেব এবং তার জন্য আমি সম্মান জনক রিযিক প্রস্তুত রেখেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ ও তাঁর রসূলের জন্যে বিনয়ী হবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাকে আমরা পুরস্কার দেবো দুইবার, আর তার জন্যে আমরা প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক জীবিকা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-নিসা-য়ান্ নাবিয়্যি লাস্তুন্না কাআহাদিম মিনান্নিসা-য়ি ইনিত তাক্বাইতুন্না ফালা- তাখ্দ্বোয়া'না বিল্ ক্বাওলি ফাইয়াত্ব মা'আল্ লাযী ফী ক্বল্বিহী মারাদ্বুঁও অকুল্না ক্বওলাম্ মা'রূফা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবীর স্ত্রীরা! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পর পুরুষের সাথে এমন ললিত কণ্ঠে কথা বলোনা, যাতে করে এমন কোনো ব্যক্তি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে যার অন্তরে রোগ আছে। তোমরা প্রচলিত পন্থায় যথাযথ কথা বলো।

বাংলা উচ্চারণ

অর্ক্বনা ফী বুইয়ূতিকুন্না অলা-তার্বারজনা তার্বারুজ্বাল্ জ্বা-হিলিয়্যাতিল্ ঊলা-অআক্বিম্নাছ্ ছলা-তা অআ-তীনায্ যাকা-তা অআত্বি'না ল্লা-হা অরসূলাহ্ ইন্নামা-ইয়ুরীদুল্লা-হু লিইয়ুয্হিবা 'আন্কুর্মু রিজসা আহ্লাল্ বাইতি অইয়ুত্বোয়াহ্হিরকুম্ তাত্ব হীর-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে - মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত - পবিত্র রাখতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো। তোমরা পূর্বের জাহেলি যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবেনা, কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো। চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে হে আহলে বাইত (নবীর পরিবার) এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পাক পবিত্র করতে।

বাংলা উচ্চারণ

অর্য্কুনা মা-ইয়ুত্লা-ফী বুইয়ূতিকুন্না মিন্ আ-ইয়া-তি ল্লা-হি অল্ হিক্মাহ্ ইন্নাল্লা-হা কা-না লাত্বীফান্ খবীর-।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর আয়াত ও জ্ঞানগর্ভ কথা, যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয় তোমরা সেগুলো স্মরণ করবে। নিশ্চয় সূক্ষ্নদর্শী, সর্ববিষয়ে খবর রাখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যিকির করো (আলোচনা ও পাঠ করো) তোমাদের ঘরে যে আল্লাহর আয়াত ও হিকমতের কথা তিলাওয়াত করা হয়, তা। নিশ্চয়ই অতীব সূক্ষ্মদর্শী ও গভীরভাবে জ্ঞাত।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ মুস্লিমীনা অল্ মুস্লিমা-তি অল্ মুমিনীনা অল্মুমিনা-তি অল্ ক্ব-নিতীনা অল্ ক্ব-নিতা-তি অছ্ ছোয়া-দ্বিকীনা অছ্ ছোয়া-দিক্ব-তি অছ্ছোয়াবিরীনা অছ্ছোয়াবির-তি অল্খ-শি'ঈনা অল্ খা-শি'আ-তি-অল্মুতাছোয়াদ্দিক্বীনা অল্ মুতাছোয়াদ্দি ক্ব-তি অছ্ছোয়া-য়িমীনা অছ্ছোয়া-য়িমা-তি অল্ হা- ফিজীনা ফুরূজ্বাহুম্ অল্ হা-ফিজোয়া-তি অয্যা-কিরীনা ল্লা-হা কাছীরঁও অয্যা-কির-তি আ'আদ্দাল্লা-হু লাহুম্ মাগ্ফিরতাঁও অ আজরন্ 'আজীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, পুরুষ, নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালণকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, , যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী - তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) পুরুষ ও মুসলিম নারী, পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সওম পালনকারী পুরুষ ও সওম পালনকারী নারী, যৌনাংগ হিফাযতকারী পুরুষ ও যৌনাংগ হিফাযতকারী নারী, বেশি বেশি আল্লাহর যিকিরকারী পুরুষ ও নারী, এদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন মাগফিরাত আর শ্রেষ্ঠ প্রতিদান।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কা-না লিমুমিনিঁও অলা-মুমিনা-তিন্ ইযা-ক্বদ্বোয়াল্লা-হু অ রসূলুহূ য় আম্রন্ আইঁ ইয়াকূনা লাহুমুল্ খিয়ারতু মিন্ আম্রিহিম্ অমাইঁ ইয়া' ছিল্লা-হা অরসূলাহূ ফাক্বদ্ দ্বোয়াল্লা দ্বোয়ালা- লাম্ মুবীনা।-

মুহিউদ্দীন খান

ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন পুরুষ ও নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তাঁর রসূল কোনো বিষয়ে ফায়সালা দেয়ার পর সে বিষয়ে কোনো পুরুষ বা নারীর ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। যে কেউ এবং তাঁর রসূলকে অমান্য করবে, সে হবে সুস্পষ্ট বিপথগামী।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ তাকুলু লিল্লাযী য় আন্'আমাল্লা-হু 'আলাইহি অআন্'আম্তা 'আলাইহি আম্সিক্ 'আলাইকা যাওজ্বাকা অ ত্তাক্বিল্লা-হা অ তুখ্ফী ফী নাফ্সিকা মাল্লা-হু মুব্দীহি অ তাখ্শান্ না-সা অল্লাহু আহাককু আন্ তাখ্শা-হ্ ফালাম্মা-ক্বাদ্বোয়া-যাইদুম্ মিন্হা-অত্বোয়ারান্ যাওঅজনাকাহা-লিকাই লা-ইয়াকূনা 'আলাল্ মুমিনীনা হারাজুন্ ফী য়আয্ওয়া-জ্বি আদ্'ইয়া-য়িহিম্ ইযা-ক্বদ্বোয়াও মিন্হুন্না অত্বোয়ার- অ কা-না আম্রুল্লা-হি মাফ্'ঊলা-।

মুহিউদ্দীন খান

যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যাকে (যায়েদকে) অনুগ্রহ করেছেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছো, তুমি তাকে বলছিলে: ‘তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো।’ তুমি তোমার মনে যে কথা গোপন রাখছো সে কথা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। তুমি ভয় করছো, পাছে লোক কিছু বলে। অথচ তোমার জন্যে অধিকতর সংগত হলো আল্লাহকে ভয় করা। তারপর যায়েদ যখন তার (যয়নবের) সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করলো, তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিলাম, যাতে করে মুমিনদের মুখডাকা পুত্ররা নিজেদের স্ত্রীর সাথে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করলে সেসব নারীদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে মুমিনরা কোনো প্রকার সংকোচ না করে। আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যি কার্যকর হতে হবে।

বাংলা উচ্চারণ

মা-কা-না 'আলান নাবিয়্যি মিন্ হারাজ্বিন ফীমা- ফারাদ্বোয়াল্লা-হু লাহ্ সুন্নাতাল্লা-হি ফীল্লাযীনা খালাও মিন্ ক্বাব্ল্ অ কা-না আম্রুল্লাহি ক্বাদারাম্ মাকদূরা-নি।

মুহিউদ্দীন খান

নবীর জন্যে যা নির্ধারণ করেন, তাতে তাঁর কোন বাধা নেই পূর্ববর্তী নবীগণের ক্ষেত্রে এটাই ছিল আল্লাহর চিরাচরিত বিধান। আল্লাহর আদেশ নির্ধারিত, অবধারিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

নবীর জন্যে যা ফরয (আইন সংগত) করে দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে তার কোনো বাধা নেই। যেসব নবী অতীত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটাই ছিলো আল্লাহর সুন্নত (নিয়ম)। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যি একটি সুনিশ্চিত ফায়সালা।

বাংলা উচ্চারণ

ল্লাযীনা ইয়ুবাল্লিগূনা রিসা-লা-তি ল্লা-হি অ ইয়াখ্ শাওনাহূ অলা- ইয়াখ্শাওনা আহাদান্ ইল্লাল্লা-হ্ অকাফা-বিল্লা-হি হাসীবা-।

মুহিউদ্দীন খান

সেই নবীগণ আল্লাহর পয়গাম প্রচার করতেন ও তাঁকে ভয় করতেন। তারা ব্যতীত অন্যকাউকে ভয় করতেন না। হিসাব গ্রহণের জন্যে যথেষ্ঠ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর রিসালাত (বার্তা) পৌঁছে দিতো, তাঁকে ভয় করতো এবং তাঁকে ছাড়া আর কাউকেও ভয় করতো না। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আল্লাহ্ই কাফী (যথেষ্ট)।

বাংলা উচ্চারণ

মা-কা-না মুহাম্মাদুন্ আবা য় আহাদিম্ র্মি রিজ্বা-লিকুম্ অলা-র্কি রাসূলা ল্লা-হি অ খ-তামা ন্নাবিয়্যীনা অকা-না ল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

মুহাম্মদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। সব বিষয়ে জ্ঞাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়, বরং আল্লাহর রসূল এবং সর্বশেষ নবী। প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞাত।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানুয্ কুরুল্লা-হা যিক্রন্ কাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে যিকির করো বেশি বেশি যিকির,

বাংলা উচ্চারণ

অ সাব্বিহূ হু বুক্রতাঁও অআছীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং সকাল বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তাঁর তসবিহ্ করো সকাল আর সন্ধ্যায় ।

বাংলা উচ্চারণ

হুওয়াল্লাযী ইয়ুছোয়াল্লী 'আলাইকুম্ অমালা-য়িকাতুহূ লিইয়ুখ্রিজ্বাকুম্ মিনাজ্ জুলুমা-তি ইলান্ র্নূ অকা-না বিল্মুমিনীনা রহীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও রহমতের দোয়া করেন - অন্ধকার থেকে তোমাদেরকে আলোকে বের করার জন্য। তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের প্রতি (রহমত ও অনুগ্রহ) করেন আর তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদের জন্যে তাঁর রহমত প্রার্থনা করে তোমাদেরকে অন্ধকাররাশি থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসার জন্যে। তিনি মুমিনদের প্রতি অতীব দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

তাহিয়্যাতুহুম্ ইয়াওমা ইয়াল্ক্বওনাহূ সালা-মুন্ অ'আদ্দা লাহুম্ আজরন্ করীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে; সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম। তিনি তাদের জন্যে সম্মানজনক পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে সেদিন তাদের প্রতি অভিবাদন হবে ‘সালাম’ এবং তিনি তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন সম্মানজনক প্রতিদান।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়ুহান্নাবিয়্যু ইন্না য় র্আসালনা-কা শা-হিদাঁও অ মুবাশ্শিরাঁও অ নাযীরা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে,

বাংলা উচ্চারণ

অ দা-'ইয়ান্ ইলাল্লা-হি বিইয্নিহী অ সিরা-জ্বাম্ মুনীর-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী হিসেবে এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।

বাংলা উচ্চারণ

অ বাশ্শিরিল্ মুমিনীনা বিআন্না লাহুম্ মিনাল্লা-হি ফাদ্ব্লান্ কাবীর-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট অনুগ্রহ রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি মুমিনদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিরাট অনুগ্রহ।

বাংলা উচ্চারণ

অলা তুত্বি'ইল্ কা-ফিরীনা অল্ মুনা-ফিক্বীনা অদা' আযা-হুম্ অ তাওয়াক্কাল্ 'আলাল্লা-হ্ অকাফা-বিল্লা-হি অকীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের উৎপীড়ন উপেক্ষা করুন ও আল্লাহর উপর ভরসা করুন। কার্যনিবার্হীরূপে যথেষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি এবং মুনাফিকদের আনুগত্য করোনা, তাদের দেয়া কষ্ট উপেক্ষা করো, আর তাওয়াক্কুল করো আল্লাহর উপর। আর উকিল হিসেবে আল্লাহ্ই কাফী।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ য় ইযা- নাকাহ্তুমুল্ মুমিনা-তি ছুম্মা ত্বোয়াল্লাকতুমূ হুন্না মিন্ ক্বব্লি আন্ তামাস্সূহুন্না ফামা-লাকুম্ 'আলাইহিন্না মিন্ 'ইদ্দাতিন্ তা'তাদ্দূনাহা- ফামাত্তি'ঊ হুন্না অর্সারিহূ হুন্না সার-হান্ জ্বামীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনগণ! তোমরা যখন নারীদেরকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনে বাধ্য করার অধিকার তোমাদের নাই। অতঃপর তোমরা তাদেরকে কিছু দেবে এবং উত্তম পন্থায় বিদায় দেবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা নারীদের বিয়ে করার পর, তাদের স্পর্শ করার আগেই যদি তালাক দাও, সেক্ষেত্রে তোমাদের জন্যে তাদের কোনো ইদ্দত পালন করতে হবেনা, যা তোমরা গণনা করবে। এ অবস্থায় তোমরা তাদেরকে কিছু অর্থ সামগ্রী দেবে এবং সুন্দরভাবে তাদের বিদায় করবে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ইন্না য় আহ্লাল্না-লাকা আয্ওয়া-জ্বাকাল্ লা-তী য় আ-তাইতা উজুরহুন্না অমা-মালাকাত্ ইয়ামীনুকা মিম্মা য় আফা-য়াল্লা-হু 'আলাইকা অ বানা-তি 'আম্মিকা অ বানা-তি 'আম্মা-তিকা অ বানা-তি খ-লিকা অ বানা-তি খ-লা-তিকাল্ লাতী হা-র্জ্বানা মা'আকা ওয়াম্রয়াতাম্ মুমিনাতান্ ইঁও অহাবাত্ নাফ্সাহা-লিন্নাবিয়্যি ইন্ আর-দান্ নাবিয়্যু আইঁ ইয়াস্তান্কিহাহা- খ-লিছোয়াতাল্ লাকা মিন্ দূনিল্ মুমিনীন্ক্বদ্ 'আলিম্না-মা ফারদ্ব্না-'আলাইহিম্ ফী য় আয্ওয়া-জ্বিহিম্ অমা- মালাকাত্ আইমা-নুহুম্ লিকাইলা-ইয়াকূনা 'আলাইকা হারাজ্ব্ অ কা-নাল্লা-হু গাফূর্রা রহীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য - অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার আছে। ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! আমরা তোমার জন্যে হালাল করেছি তোমার স্ত্রীদের, যাদের তুমি মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেছো এবং হালাল করেছি ফায় হিসেবে তোমাকে যা দিয়েছেন তা থেকে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে। (এছাড়া তোমার জন্যে বিয়ে করা হালাল করেছি) তোমার চাচার কন্যাদের, তোমার ফুফুর কন্যাদের, তোমার মামার কন্যাদের, তোমার খালার কন্যাদের - যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে। আর যে নারী নিজেকে বিয়ে করার জন্যে নবীর কাছে নিবেদন (offer) করে এবং নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে (তাকে বিয়ে করাও হালাল করেছি)। এ বৈধতা বিশেষভাবে তোমার জন্যে, অন্য মুমিনদের জন্যে নয়, যাতে করে তোমার কোনো অসুবিধা না হয়। মুমিনদের স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ব্যাপারে যে বিধান (আগেই) দিয়েছি২, তা আমি জানি। পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

র্তুজ্বী মান্ তাশা-য়ু মিন্হুন্না অ তু'ওয়ী য় ইলাইকা মান্ তাশা-য়্ অমানিব্ তাগইতা মিম্মান্ 'আযাল্তা ফালা-জুনা-হা 'আলাইক্ যা-লিকা আদ্না য় আন্ তার্ক্বার আ'ইয়ুনুহুন্না অলা- ইয়াহ্যান্না অ ইর্য়াদ্বোয়াইনা বিমা য় আ-তাইতাহুন্না কুল্লুহুন্ অল্লা-হু ইয়া'লামু মা-ফী কুলূ বিকুম্ অ কা-নাল ল্লা-হু 'আলীমান্ হালীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, জানেন। সর্বজ্ঞ, সহনশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের (নিজ স্ত্রীদের) যাকে ইচ্ছা (নিয়ম মাফিক) দূরে রাখতে পারো এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারো। আর তুমি যাকে দূরে রেখেছো তাকে কামনা করলে তোমার কোনো অপরাধ হবেনা। এটাই সহজতর, যাতে তোমার স্ত্রীদের চক্ষু শীতল হয়, তারা দুঃখ না পায় এবং তুমি যা দেবে তাতে তাদের প্রত্যেকেই সন্তুষ্ট থাকে। জানেন তোমাদের অন্তরে কী আছে? সর্বজ্ঞানী, সহনশীল।

বাংলা উচ্চারণ

লা-ইয়াহিল্ল লাকান্নিসা-য়ু মিম্ বা'দু অলা য় আন্ তাবাদ্দালা বিহিন্না মিন্ আয্ওয়া জ্বিওঁ অলাও আ'জ্বাবাকা হুস্নুহুন্না ইল্লা-মা-মালাকাত্ ইয়ামীনুক্ অকা-নাল্লা-হু 'আলা-কুল্লি শাইর্য়ি রক্বীবা-।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর আপনার জন্যে কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্ন। সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর পর তোমার জন্যে আর কোনো নারীকে বিয়ে করা বৈধ নয় এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তন করে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও বৈধ নয়, যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে। তবে তোমার অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপারে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। প্রতিটি বিষয়ে সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টিদাতা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আই ইয়ুহাল্ লাযীনা আ-মানূ লা-তাদ্খুলূ বুইয়ূতান্ নাবিয়্যি ইল্লা য় আইঁ ইয়ুযানা লাকুম্ ইলা-ত্বোয়া'আ-মিন্ গইর না-জিরীনা ইনা-হু অলা-কিন্ ইযা-দু'ঈতুম্ ফাদ্খুলূ ফাইযা-ত্বোয়া'ইম্তুম্ ফান্তাশিরূ অলা-মুস্তানিসীনা লিহাদীছ্ ইন্না যা-লিকুম্ কা-না ইয়ুযিন্নাবিয়্যা ফাইয়াস্তাহ্য়ী মিন্কুম্ অল্লা-হু লা-ইয়াস্তাহ্য়ী মিনাল্ হাক অইযা-সায়াল্তুমূহুন্না মাতা-'আন্ ফাস্য়ালূহুন্না মিঁও অর-য়ি হিজ্বা-ব্ যা-লিকুম্ আত্ব হারু লিকলূ বিকুম্ অ কুলূ বিহিন্ অমা-কা-না লাকুম্ 'আন্ তু'যূ রাসূলাল্লা-হি অলা য় আন্ তান্কিহূ য় আয্ওয়া-জ্বাহূ মিম্ বা'দিহী য় আবাদা- ইন্না যা-লিকুম্ কা-না 'ইন্দা ল্লা-হি 'আজীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত খাবার প্রস্তুতির জন্যে অপেক্ষা না করে খাবার গ্রহণের জন্যে নবীর ঘরে প্রবেশ করোনা। তবে যখন ডাকা হয় তখন প্রবেশ করো। আর যখনই খাবার গ্রহণ শেষ হয়, তখন চলে যেয়ো কথাবার্তায় মশগুল না হয়ে। কারণ তোমাদের এ ধরণের আচরণ নবীকে কষ্ট দেয় এবং তোমাদের উঠিয়ে দিতে সে সংকোচ বোধ করে। তবে সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। তোমরা নবী পত্নীদের কাছে কিছু চাইলে হিজাবের অন্তরাল থেকে চাইবে। এ পন্থাই তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্র। তোমাদের কারো জন্যে সংগত নয় আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর কখনো তাঁর স্ত্রীদের বিয়ে করা। আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের এসব কাজে জড়ানো গুরুতর অপরাধ।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্ তুব্দূ শাইয়ান্ আও তুখ্ফূহু ফাইনাল্লা-হা কা-না বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা খোলাখুলি কিছু বল অথবা গোপন রাখ, সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কোনো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, জেনে রাখো, সব বিষয়ে জ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

লা-জ¦ ুনা-হা 'আলাইহিন্না ফীয়'আ-বা-য়িহিন্না অলা য় আবনা-য়িহিন্না অলা য় ইখ্ওয়া- নিহিন্না অলা য় আব্না-য়ি ইখ্ওয়া-নি হিন্না অলা য় আব্না-য়ি আখাওয়া- তিহিন্না অলা-নিসা-য়িহিন্না অলা-মা-মালাকাত্ আইমানুহুন্না অত্তাক্বীনাল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা কা-না 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ শাহীদা-।

মুহিউদ্দীন খান

নবী - পত্নীগণের জন্যে তাঁদের পিতা পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী নারী এবং অধিকার ভুক্ত দাসদাসীগণের সামনে যাওয়ার ব্যাপারে গোনাহ নেই। নবী - পত্নীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় সর্ব বিষয় প্রত্যক্ষ করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তাদের (নবীর স্ত্রীদের) জন্যে দোষ হবেনা (হিজাব না করলে) তাদের পিতা, কিংবা সন্তান, কিংবা ভাই, অথবা ভাইয়ের ছেলে, নতুবা বোনের ছেলে, তাদের সেবিকা এবং অধিকারভুক্ত দাসদাসীদের সামনে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রতিটি বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লা-হা অমালা-য়িকাতাহূ ইছোয়াল্লুনা 'আলান্নাবিয়্যি ইয়া য় আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ ছল্লূ 'আলাইহি অসাল্লিমূ তাস্লীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তাঁর নবীর প্রতি (অনুগ্রহ, অনুকম্পা, মর্যাদাদান) করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর জন্যে (অনুগ্রহ) প্রার্থনা করে। হে লোকেরা! তোমরাও নবীর জন্যে (অনুগ্রহ ও মর্যাদা) প্রার্থনা করো এবং তাঁকে যথার্থভাবে সালাম জানাও।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনা ইয়ুযূনাল্লা-হা অরসূলাহূ লা'আনাহুমু ল্লা-হু ফিদ্ দুন্ইয়া- অল্ আ-খিরতি অআ'আদ্দা লাহুম্ 'আযা-বাম্ মুহীনা-।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, দুনিয়া এবং আখিরাতে তাদের লা’নত করেন এবং তাদের জন্যে তিনি প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা ইয়ুযূনাল্ মুমিনীনা অল্ মুমিনাতি বিগইরি মাক্তাসাবূ ফাক্বাদিহ্তামালূ বুহ্তা-নাঁও অইছ্মাম্ মুবীনা-।

মুহিউদ্দীন খান

যারা বিনা অপরাধে পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বিনা অপরাধে পুরুষ এবং নারীদের কষ্ট দেয়, তারা নিজেদের ঘাড়ে বহন করে অপবাদ এবং সুস্পষ্ট পাপের বোঝা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়ুহা ন্নাবিয়্যু কুল্ লিআয্ওয়া-জ্বিকা অবানা-তিকা অ নিসা-য়িল্ মুমিনীনা ইয়ুদ্নীনা 'আলাইহিন্না মিন্ জ্বালা-বীবিহিন্ যা-লিকা আদ্না য় আইঁ ইয়ু'রফ্না ফালা-ইয়ুযাইন্ অকা-নাল্লা-হু গফূর্রা রহীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তোমার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিনদের নারীদের বলো, তারা যেনো তাদের চাদরের অংশ তাদের উপর টেনে দেয়। এতে করে তাদের পরিচয় জানতে সহজতর হবে এবং তাদের উত্যক্ত করা হবেনা। অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

লায়িল্লাম্ ইয়ান্তাহিল্ মুনা-ফিকুনা অল্লাযীনা ফী কুলূ বিহিম্ মারাদ্বুঁও অর্ল্মুজ্বিফূনা ফিল্ মাদীনাতি লানুগ্রিয়ান্নাকা বিহিম্ ছুম্মা লা-ইয়ুজ্বা-ওয়িরূ নাকা ফীহা য় ইল্লা-ক্বলীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং মদীনায় গুজব রটনাকারীরা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে উত্তেজিত করব। অতঃপর এই শহরে আপনার প্রতিবেশী অল্পই থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুনাফিকরা, যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা, আর যারা শহরে গুজব রটায় তারা নিজেদের অপতৎপরতা থেকে বিরত না হলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা তোমাকে প্রবল করে তুলবো, তারপর এই নগরীতে তারা তোমার প্রতিবেশি হিসেবে খুব কম সময়ই থাকতে পারবে।

বাংলা উচ্চারণ

মাল্'ঊ নীনা আইনামা-ছুক্বিফূ য় উখিযূ অকুত্তিলূ তাকতীলা।-

মুহিউদ্দীন খান

অভিশপ্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অভিশপ্ত হবে তারা। যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং হত্যা করা হবে হত্যা করার মতো।

বাংলা উচ্চারণ

সুন্নাতাল্লা-হি ফিল্লাযীনা খলাও মিন্ ক্বব্লু অলান্ তাজ্বিদা লিসুন্নাতিল্লা-হি তাব্দীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

যারা পূর্বে অতীত হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর রীতি। আপনি আল্লাহর রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা অতীত হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও এটাই ছিলো আল্লাহর সুন্নত (নিয়ম), তুমি কখনো আল্লাহর সুন্নতে পরিবর্তন পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াস্য়ালুকা ন্না-সু 'আনিস্ সা আহ্ কুল্ ইন্নামা-'ইল্মুহা-'ইন্দাল্লা-হ্ অমা-ইয়ুদ্রীকা লা'আল্লাস্ সা-'আতা তাকূনূ ক্বরীবা-।

মুহিউদ্দীন খান

লোকেরা আপনাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। আপনি কি করে জানবেন যে সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো: ‘সেটার জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে।’ সেটা তুমি জানবে কী করে? হয়তো বা কিয়ামত খুব শীঘ্রি অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লা-হা লা'আনাল্ কা-ফিরীনা অআ'আদ্দা লাহুম্ সা'ঈরা-।-

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

লা’নত করেছেন কাফিরদের এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত আগুন।

বাংলা উচ্চারণ

খ-লিদীনা ফীহা য় আবাদান্ লা-ইয়াজ্বিদূনা অলিয়্যাঁও অলা-নাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে এবং কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই থাকবে তারা অনন্তকাল। তারা কোনো অলিও পাবেনা, সাহায্যকারীও পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমা তুকাল্লাবু উজ্ব হুহুম্ ফীন্না-রি ইয়াকু লূনা ইয়া-লাইতানা য় আত্বোয়া'না ল্লা-হা অ আত্বোয়া'র্না রসূলা-।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমন্ডল ওলট পালট করা হবে; সেদিন তারা বলবে, হায়। আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রসূলের আনুগত্য করতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তাদের মুখমন্ডল আগুনে ওলটপালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে: ‘‘হায়, আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রসূলকে মেনে চলতাম!’

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্ব-লু রব্বানা য় ইন্না য় আত্বোয়া'না-সা-দাতানা-অকুবার-য়ানা- ফাআদ্বোয়াল্লূনাস্ সাবীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আরও বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আরো বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আমাদের নেতা এবং মুরুব্বিদের আনুগত্য করেছি, কিন্তু তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছে,

বাংলা উচ্চারণ

রব্বানা য় আ-তিহিম্ দ্বি'ফাইনি মিনাল্ 'আযা-বি অল্'আন্হুম্ লা'নান্ কাবীর-।

মুহিউদ্দীন খান

হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! তুমি তাদের দ্বিগুণ শাস্তি দাও, আর তাদের লা’নত করো গুরুতর লা’নত।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাকূনূ কাল্লাযীনা আ-যাও মূসা-ফার্বারয়াহুল্লা-হু মিম্মা-ক্ব-লূ অকা-না 'ইন্দাল্লা-হি অজ্বীহা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে মুমিনগণ! মূসাকে যারা কষ্ট দিয়েছে, তোমরা তাদের মত হয়ো না। তারা যা বলেছিল, তা থেকে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে ছিলেন মর্যাদাবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা ঐসব লোকদের মতো হয়োনা, যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল। তারা যা রটিয়েছিল, তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন এবং সে ছিলো আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকু ল্লা-হা অকুলূ ক্বওলান্ সাদীদা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সরল সঠিক কথা বলো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুছ্লিহ্ লাকুম্ আ'মা-লাকুম্ অইয়ার্গ্ফি লাকুম্ যুনূবাকুম্ অমাইঁ ইয়ুত্বি'ইল্লা-হা অ রসূলাহূ ফাক্বদ্ ফা-যা ফাওযান্ 'আজীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি তোমাদের আমল - আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাহলে) তিনি তোমাদের জন্যে ইসলাহ করে দেবেন তোমাদের আমল এবং ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের অপরাধ। যে কেউ এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, অবশ্যি সে সাফল্য অর্জন করবে মহাসাফল্য।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না আরদ্ব্নাল্ আমা-নাতা 'আলাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অল্জ্বিবা-লি ফাআ বাইনা আইঁ ইয়াহ্মিল্নাহা-অ আশ্ফাক্ব্না মিন্হা-অহামালাহাল্ ইন্সা-ন্ ইন্নাহূ কা-না জোয়ালূমান জ্বাহূলা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আকাশ পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত পেশ করেছিলাম, অতঃপর তারা একে বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হল; কিন্তু মানুষ তা বহণ করল। নিশ্চয় সে জালেম - অজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মহাকাশ, পৃথিবী এবং পাহাড় - পর্বতের কাছে এই আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং শংকিত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষ তা বহন করলো। সে তো ভীষণ যালিম, অতিরিক্ত অজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়ু'আয্যিবা ল্লা-হুল্ মুনা-ফিক্বীনা অল্মুনা-ফিক্বতি অল্মুশ্রিকীনা অল্ মুশ্রিকা-তি অ ইয়াতূবাল্লা-হু 'আলাল্ মুমিনীনা অল্মুমিনা-ত্ অকা-নাল্লা-হু গফূরার রহীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী, মুশরিক পুরুষ, মুশরিক নারীদেরকে শাস্তি দেন এবং পুরুষ ও নারীদেরকে ক্ষমা করেন। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরিণামে আযাব দেবেন মুনাফিক পুরুষ আর মুনাফিক নারীদের এবং মুশরিক পুরুষ আর মুশরিক নারীদের। আর তওবা কবুল করবেন পুরুষ আর নারীদের এবং তো পরম ক্ষমাশীল অতীব দয়াবান আছেনই।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme