সে বিরক্তি প্রকাশ করলো এবং মুখ (মনোযোগ) ফিরিয়ে নিলো,
عَبَسَ وَتَوَلَّىٰٓ
Chapter 80, 42 verses
সে বিরক্তি প্রকাশ করলো এবং মুখ (মনোযোগ) ফিরিয়ে নিলো,
عَبَسَ وَتَوَلَّىٰٓ
এ কারণে যে অন্ধ লোকটি এসেছিল তার কাছে,
أَن جَآءَهُ ٱلْأَعْمَىٰ
তুমি কি করে জানবে, হয়তো সে শুদ্ধতা অর্জন করতো?
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُۥ يَزَّكَّىٰٓ
কিংবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং সেই উপদেশ তার উপকার সাধন করতো?
أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ ٱلذِّكْرَىٰٓ
অথচ যে নিজেকে ভাবে মুখাপেক্ষাহীন,
أَمَّا مَنِ ٱسْتَغْنَىٰ
তুমি মনোযোগ আরোপ করছো তার প্রতি।
فَأَنتَ لَهُۥ تَصَدَّىٰ
তোমার কি আসে যায় যদি সে শুদ্ধতা অর্জন না করে?
وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّىٰ
কিন্তু যে ছুটে এসেছে তোমার কাছে,
وَأَمَّا مَن جَآءَكَ يَسْعَىٰ
এবং সে ( ও তাঁর শাস্তিকে) ভয় করে,
وَهُوَ يَخْشَىٰ
তাকে তুমি অবজ্ঞা করলে এবং অন্যদের প্রতি মনোযোগী হলে।
فَأَنتَ عَنْهُ تَلَهَّىٰ
না (কখনো এমনটি করোনা); অবশ্যি এটি (এ কুরআন) একটি উপদেশ।
كَلَّآ إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ
সুতরাং যার ইচ্ছে, সে এটি গ্রহণ করবে।
فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ
(এটি সংরক্ষিত আছে) অতীব সম্মানিত সহীফা সমূহে (লওহে মাহফুযে)।
فِى صُحُفٍ مُّكَرَّمَةٍ
খুবই উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন ও পবিত্র,
مَّرْفُوعَةٍ مُّطَهَّرَةٍۭ
সেইসব লেখকদের (ফেরেশতাদের) হাতে,
بِأَيْدِى سَفَرَةٍ
যারা সম্মানিত ও অনুগত।
كِرَامٍۭ بَرَرَةٍ
ধ্বংস হলো (অবিশ্বাসী) মানুষগুলো। কতো বড় অকৃতজ্ঞ তারা!
قُتِلَ ٱلْإِنسَٰنُ مَآ أَكْفَرَهُۥ
কোন্ জিনিস থেকে তিনি সৃষ্টি করেছেন তাকে (মানুষকে)?
مِنْ أَىِّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥ
এক বিন্দু নোতফা (শুক্র) থেকে, তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তারপর তাকে যথাযথভাবে গঠন করেছেন।
مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُۥ فَقَدَّرَهُۥ
তারপর তিনি সহজ করে দেন তার জীবন চলার পথ।
ثُمَّ ٱلسَّبِيلَ يَسَّرَهُۥ
তারপর তার মউত ঘটান এবং পৌঁছে দেন তাকে কবরে।
ثُمَّ أَمَاتَهُۥ فَأَقْبَرَهُۥ
অতপর যখন চাইবেন , তখন আবার উঠিয়ে আনবেন তাকে।
ثُمَّ إِذَا شَآءَ أَنشَرَهُۥ
না, সে পালন করেনি তিনি যে নির্দেশ তাকে দিয়েছেন।
كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَآ أَمَرَهُۥ
তবে, মানুষ তার খাবারের জিনিসগুলোর প্রতি নজর বুলিয়ে দেখুক (কে সৃষ্টি করেছে সেগুলো)।
فَلْيَنظُرِ ٱلْإِنسَٰنُ إِلَىٰ طَعَامِهِۦٓ
আমরাই তো বর্ষণ করি প্রচুর পানি।
أَنَّا صَبَبْنَا ٱلْمَآءَ صَبًّا
তারপর শক্ত হয়ে এঁটে থাকা জমিনকে আমরা ফেঁড়ে দেই।
ثُمَّ شَقَقْنَا ٱلْأَرْضَ شَقًّا
আর তাতে উৎপাদনের ব্যবস্থা করি শস্য,
فَأَنۢبَتْنَا فِيهَا حَبًّا
আংগুর, শাক - শবজি,
وَعِنَبًا وَقَضْبًا
যয়তুন, খেজুর,
وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا
বিপুল বৃক্ষ - রাজির নিবিড় বন,
وَحَدَآئِقَ غُلْبًا
ফল - ফলারি এবং সেইসাথে অনেক ঘাস।
وَفَٰكِهَةً وَأَبًّا
(এভাবে আমিই ব্যবস্থা করি) তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর জীবন ধারণের সামগ্রী।
مَّتَٰعًا لَّكُمْ وَلِأَنْعَٰمِكُمْ
অতপর যেদিন মহাধ্বনি (শিংগার দ্বিতীয় ফুৎকার) উচ্চারিত হবে,
فَإِذَا جَآءَتِ ٱلصَّآخَّةُ
সেদিন মানুষ পালাবে তার ভাই থেকে,
يَوْمَ يَفِرُّ ٱلْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ
তার মা থেকে এবং বাপ থেকে,
وَأُمِّهِۦ وَأَبِيهِ
তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে।
وَصَٰحِبَتِهِۦ وَبَنِيهِ
সে দিনটি হবে এতোই ভয়াবহ যে, সেদিন কেউই নিজের ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে ভাববারই চিন্তা করবেনা।
لِكُلِّ ٱمْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ
সেদিন অনেক লোকের চেহারা হবে উজ্জ্বল,
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ
হাসি খুশি আর শুভ সংবাদে আনন্দ মুখর।
ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ
আবার অনেক চেহারাই হবে সেদিন ধূলো - মলিন।
وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ
সেই চেহারাগুলোকে আচ্ছন্ন করবে কালিমা।
تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ
কারণ, তারা (হবে) অবিশ্বাসী - অমান্যকারী - এবং পাপিষ্ঠ - দূরাচারী।
أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَفَرَةُ ٱلْفَجَرَةُ