Kitab

আল হাক্কাহ্ (অবশ্যম্ভাবী ঘটনা)

Chapter 69, 52 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
  • বয়ান ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৫২, রুকু সংখ্যা: ০২

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-১৮অতীতে আখিরাত অস্বীকারকারী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে। কিয়ামতের দৃশ্য। ১৯-২৪বিশ্বাসীরা আমলনামা পাবে ডান হাতে; তারা থাকবে মহাসুখে। ২৫-৩৭অপরাধীদের আমলনামা দেয়া হবে বাম হাতে; তাদের পরকালীন দুর্দশা। ৩৮-৫২কুরআন রাববুল আলামিন কর্তৃক অবতীর্ণ, অন্য কারো রচনা নয়। কুরআন কাফিরদের হতাশাগ্রস্ত করে দেয়।
আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি ঘটবে সে ঘটনা!

মুহিউদ্দীন খান

সুনিশ্চিত বিষয়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশ্যম্ভাবী ঘটনা (কিয়ামত)।

জহুরুল হক

নিশ্চিত - সত্য!

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?

মুহিউদ্দীন খান

সুনিশ্চিত বিষয় কি?

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?

জহুরুল হক

কি সেই নিশ্চিত - সত্য?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কিভাবে জানবে, অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি কিছু জানেন, সেই সুনিশ্চিত বিষয় কি?

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর কিসে তোমাকে জানাবে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?

জহুরুল হক

আহা, কি দিয়ে তোমাকে বোঝানো যাবে নিশ্চিত - সত্যটা কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

আদ ও সামুদ জাতি অস্বীকার করেছিল সেই মহাদুর্ঘটনাকে।

মুহিউদ্দীন খান

আদ ও সামুদ গোত্র মহাপ্রলয়কে মিথ্যা বলেছিল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সামূদ ও ‘আদ সম্প্রদায় সজোরে আঘাতকারী (কিয়ামত)কে অস্বীকার করেছিল।

জহুরুল হক

ছামূদ ও 'আদগোষ্ঠী আঘাতকারী প্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে সামুদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সমুদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে বিকট শব্দ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল।

জহুরুল হক

তারপর ছামূদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে আদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঘুর্ণিঝড় দিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্জাবায়ূ,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঠান্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা।

জহুরুল হক

আর 'আদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক গর্জনকারী প্রচন্ড ঝড়ের দ্বারা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি তাদের উপর প্রবাহিত রেখেছিলেন সাত রাত আট দিন অবিরাম। তুমি সেখানে উপস্থিত থাকলে দেখতে, পুরো জাতিটি সেখানে (মরে) লুটিয়ে পড়ে আছে উপড়ে পড়া খেজুর গাছের কান্ডের মতো।

মুহিউদ্দীন খান

যা তিনি প্রবাহিত করেছিলেন তাদের উপর সাত রাত্রি ও আট দিবস পর্যন্ত অবিরাম। আপনি তাদেরকে দেখতেন যে, তারা অসার খর্জুর কান্ডের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে রয়েছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তিনি তাদের উপর তা সাত রাত ও আট দিন বিরামহীনভাবে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে যেন তারা সারশূন্য খেজুর গাছের মত।

জহুরুল হক

যাকে তিনি তাদের উপরে প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিনব্যাপী, অবিরতভাবে, ফলে তুমি সেই লোকদলকে দেখতে পেতে সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে, যেন তারা খেজুর গাছের ফাঁপা গুড়ি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের কাউকেও অবশিষ্ট দেখতে পাচ্ছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদের কোন অস্তিত্ব দেখতে পান কি?

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর তুমি কি তাদের জন্য কোন অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও?

জহুরুল হক

তারপর তুমি তাদের অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর এসেছিল ফেরাউন, তার পূর্ববর্তীরা আর পাপাচারে লিপ্ত থাকা উল্টে দেয়া জনপদ (অর্থাৎ কওমে লুত)।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন, তাঁর পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে যাওয়া বস্তিবাসীরা গুরুতর পাপ করেছিল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল।

জহুরুল হক

আর ফিরআউন আর যারা তার পূর্ববর্তী ছিল, আর বিধবস্ত শহরগুলো পাপাচার নিয়ে এসেছিল,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের প্রভুর রসূলকে অমান্য করেছিল। এর ফলে তিনি তাদের পাকড়াও করেন কঠোর পাকড়াও।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাদের পালনকর্তার রসূলকে অমান্য করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরহস্তে পাকড়াও করলেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল। সুতরাং তিনি তাদেরকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন।

জহুরুল হক

যেহেতু তাদের প্রভুর রসূলকে তারা অমান্য করেছিল, সেজন্য তিনি তাদের পাকড়াও করেছিলেন এক সুকঠিন পাকড়ানোতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এর আগে নূহের সময়) পানি যখন উথলে উঠেছিল আমরা তোমাদের তুলে নিয়েছিলাম নৌযানে,

মুহিউদ্দীন খান

যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যখন জলোচ্ছ্বাস হল, অবশ্যই তখন আমি তোমাদেরকে নৌযানে আরোহণ করিয়েছি।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যখন পানি ফেঁপে উঠেছিল, তখন আমরা তোমাদের বহন করেলিাম জাহাজের মধ্যে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব ঘটনাকে আমরা তোমাদের জন্যে বানিয়েছি শিক্ষার বিষয়। আর যেসব কান এগুলো শুনে তারা যেনো এগুলো সংরক্ষণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে এ ঘটনা তোমাদের জন্যে স্মৃতির বিষয় এবং কান এটাকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগী রূপে গ্রহণ করে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

একে তোমাদের নিমিত্তে উপদেশ বানানোর জন্য এবং সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করার জন্য।

জহুরুল হক

যেন আমরা এটিকে তোমাদের জন্য বানাতে পারি স্মরণীয় বিষয়, এবং শ্রুতিধর কান যেন এটি মনে রাখতে পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি (প্রথম) ফুৎকার,

মুহিউদ্দীন খান

যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে - একটি মাত্র ফুৎকার

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুঁক।

জহুরুল হক

সুতরাং যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে - - একটি মাত্র ফুৎকার, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উঠিয়ে নিক্ষেপ করা হবে, তখন এক ধাক্কায়ই সেগুলো হয়ে যাবে চুর্ণবিচুর্ণ।

মুহিউদ্দীন খান

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ - বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যমীন ও পর্বতমালাকে সরিয়ে নেয়া হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

জহুরুল হক

এবং পৃথিবী ও পাহাড় - পর্বত উত্তোলন করা হবে, আর একটিমাত্র ধাক্কায় তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিনই সংঘটিত হবে ওয়াকিয়া (মহাদুর্ঘটনা)।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

ফলে সে দিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে।

জহুরুল হক

অতএব সেইদিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ফেটে চৌচির হয়ে যাবে আকাশ এবং তা পড়তে থাকবে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত।

জহুরুল হক

আর আকাশ বিদীর্ণ হবে, ফলে সেইদিন তা হবে ভঙ্গুর;

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরেশতারা অবস্থান করবে তার (আকাশের) প্রান্তে। সেদিন তাদের উপর আটজন (ফেরেশতা) ধারণ করবে তোমার প্রভুর আরশ।

মুহিউদ্দীন খান

এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

ফেরেশতাগণ আসমানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে। সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন ফেরেশতা তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।

জহুরুল হক

আর ফিরিশ্‌তারা এর প্রান্তগুলোয় রইবে। আর তাদের উপরে সেইদিন তোমার প্রভুর আরশ বহন করবে আটজন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে এবং তোমাদের কোনো কিছুই থাকবেনা গোপন।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না।

জহুরুল হক

সেইদিন তোমাদের অনাবৃত করা হবে, - - কোনো গোপন বিষয় তোমাদের থেকে গোপন থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন যার কিতাব (কৃতকর্মের রেকর্ড) দেয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে: ‘‘নাও পড়ে দেখো আমার কিতাব (রেকর্ড),

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তখন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ’।

জহুরুল হক

তারপর যাকে তার বই তার ডান হাতে দেয়া হবে সে তখন বলবে - - ''নাও, আমার এই বই পড়ে দেখো!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি বিশ্বাস করতাম, আমাকে অবশ্যি হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’’

মুহিউদ্দীন খান

আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হব’।

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমি আলবৎ আমার এই হিসাবের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সে এমন জীবন যাপন করবে, যাতে সে রাজি খুশি ও সন্তুষ্ট থাকবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সে সুখী জীবন - যাপন করবে,

বয়ান ফাউন্ডেশন

সুতরাং সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে।

জহুরুল হক

সুতরাং সে থাকবে এক পূর্ণ - সন্তোষজনক জীবনযাপনে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সে থাকবে মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতে (বাগ বাগিচায়),

মুহিউদ্দীন খান

সুউচ্চ জান্নাতে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সুউচ্চ জান্নাতে,

জহুরুল হক

এক উঁচু পর্যায়ের জান্নাতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তার ফলরাশি নুয়ে থাকবে নাগালের মধ্যেই।

মুহিউদ্দীন খান

তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তার ফলসমূহ নিকটবর্তী থাকবে।

জহুরুল হক

যার ফলের থোকাগুলো নাগালের মধ্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের বলা হবে:) খাও, পান করো পরিতুষ্টির সাথে, সেই কাজের বিনিময়ে যা তোমরা করেছিলে অতীত দিনে (পৃথিবীর জীবনে)।

মুহিউদ্দীন খান

বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

(বলা হবে,) ‘বিগত দিনসমূহে তোমরা যা অগ্রে প্রেরণ করেছ তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর’।

জহুরুল হক

''খাও আর পান করো তৃপ্তির সঙ্গে সেইজন্য যা তোমরা আগেকার দিনগুলোয় সম্পাদন করেছিলে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যাকে তার কিতাব (রেকর্ড) দেয়া হবে তার বাম হাতে, সে বলবে: ‘‘হায়, আমার ধ্বংস, (কতো ভালো হতো) আমাকে যদি দেয়া না হতো আমার কিতাব!

মুহিউদ্দীন খান

যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো।

বয়ান ফাউন্ডেশন

কিন্তু যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘হায়, আমাকে যদি আমার আমলনামা দেয়া না হত’!

জহুরুল হক

আর তার ক্ষেত্রে যাকে তার বই তার বাম হাতে দেওয়া হবে সে তখন বলবে - - ''হায় আমার আফসোস! আমার এই বই যদি আমায় কখনো দেখানো না হতো, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

(হায়,) আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব।

মুহিউদ্দীন খান

আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর যদি আমি না জানতাম আমার হিসাব’!

জহুরুল হক

''আর আমি যদি কখনো জানতাম না আমার এই হিসাবটি কী।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হায়,) আমার মৃত্যুই যদি হতো আমার শেষ ফায়সালা।

মুহিউদ্দীন খান

হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হায়, মৃত্যুই যদি আমার চূড়ান্ত ফয়সালা হত’!

জহুরুল হক

''হায় আফসোস! এইটাই যদি আমার শেষ হতো!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার মাল - সম্পদ তো আমার কোনো কাজেই এলোনা।

মুহিউদ্দীন খান

আমার ধন - সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আমার সম্পদ আমার কোন কাজেই আসল না!’

জহুরুল হক

''আমার ধনসম্পদ আমার কোনো কাজে এল না;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার সমস্ত ক্ষমতা - দাপটই তো আমার থেকে হয়ে গেছে হালাক।’’

মুহিউদ্দীন খান

আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আমার ক্ষমতাও আমার থেকে চলে গেল!

জহুরুল হক

''আমার কর্তৃত্ব আমার থেকে বিনাশ হয়ে গেছে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(ফেরেশতাদের বলা হবে:) ‘‘একে পাকড়াও করো এবং বেড়ি লাগাও তার গলায়।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর একে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও,

বয়ান ফাউন্ডেশন

(বলা হবে,) ‘তাকে ধর অতঃপর তাকে বেড়ি পরিয়ে দাও।’

জহুরুল হক

''তাকে ধরো এবং তাকে বাঁধো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর নিক্ষেপ করো জাহিমে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘তারপর তাকে তোমরা নিক্ষেপ কর জাহান্নামে’।

জহুরুল হক

''তারপর জ্বলন্ত আগুনে তাকে নিক্ষেপ করো,

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তাকে বাঁধো সত্তর হাত লম্বা শিকল দিয়ে।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘তারপর তাকে বাঁধ এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত।’

জহুরুল হক

''তারপর তাকে এক শিকলে আবদ্ধ করো যার দৈঘ্য হচ্ছে সত্তর হাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ঈমান আনেনি মহান আল্লাহর প্রতি,

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে ছিল না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে তো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করত না,

জহুরুল হক

''নিশ্চয় সে বিশ্বাস করত না মহান ‌তে,

আবদুস শহীদ নাসিম

(মানুষকে) উৎসাহ দেয়নি মিসকিনদের আহার করাতে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না।

জহুরুল হক

''আর সে উৎসাহ দেখাত না গরীবদের খাবার দিতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাই তার জন্যে আজ এখানে নেই কোনো সহমর্মী,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহূদ নাই।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতএব আজ এখানে তার কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না।

জহুরুল হক

''সেজন্য আজ তার জন্যে এখানে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না,

আবদুস শহীদ নাসিম

(তার জন্যে) নেই কোনো খাবার ক্ষতের পূঁজ ছাড়া,

মুহিউদ্দীন খান

এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত - নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর ক্ষত-নিংসৃত পূঁজ ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না,

জহুরুল হক

''আর কোনো খাদ্য থাকবে না ক্ষতনিঃসৃত পুজঁ ব্যতীত - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যা আর কেউই খাবেনা অপরাধীরা ছাড়া।

মুহিউদ্দীন খান

গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অপরাধীরাই শুধু তা খাবে।

জহুরুল হক

''যা পাপীরা ব্যতীত আর কেউ খায় না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি কসম করছি সেসবের, যা তোমরা দেখতে পাও,

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যা দেখ, আমি তার শপথ করছি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতএব তোমরা যা দেখছ, আমি তার কসম করছি।

জহুরুল হক

কিন্ত না, আমি কসম খাচ্ছি যা তোমরা দেখছ তার,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সেসবের যা তোমরা দেখতে পাওনা:

মুহিউদ্দীন খান

এবং যা তোমরা দেখ না, তার -

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যা তোমরা দেখছ না তারও,

জহুরুল হক

এবং যা তোমরা দেখছ না তারও, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রসূলের কথা।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের আনীত।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী।

জহুরুল হক

যে এটি এক সম্মানিত রসূলের বাণী,

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি কোনো কবি রচিত কথা নয়; তবে খুব কমই তোমরা বিশ্বাস করো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এটি কোন কবির কথা নয়। তোমরা কমই বিশ্বাস কর।

জহুরুল হক

আর এ কোনো কবির আলাপন নয়; সামান্যই তো যা তোমরা বিশ্বাস কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি কোনো গণকের কথাও নয়, তবে খুব কমই তোমরা উপলব্ধি করো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর কোন গণকের কথাও নয়। তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ কর।

জহুরুল হক

আর কোনো গনৎকারের বাক্‌চাতুরীও নয়, যৎসামান্য যা তোমরা চিন্তা কর!

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি হলো রাববুল আলামিনের নাযিল করা (কিতাব)।

মুহিউদ্দীন খান

এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এটি সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।

জহুরুল হক

এ হচ্ছে এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মুহাম্মদ) যদি আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে নিয়ে চালাবার চেষ্টা করতো,

মুহিউদ্দীন খান

সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,

বয়ান ফাউন্ডেশন

যদি সে আমার নামে কোন মিথ্যা রচনা করত,

জহুরুল হক

আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো বাণী রচনা করতে চাইতেন, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অবশ্যি ধরে ফেলতাম তার ডান হাত,

মুহিউদ্দীন খান

তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,

বয়ান ফাউন্ডেশন

তবে আমি তার ডান হাত পাকড়াও করতাম।

জহুরুল হক

তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তাকে ডানহাতে পাকড়াও করতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর কেটে ফেলতাম তার জীবন - ধমনী।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর অবশ্যই আমি তার হৃদপিন্ডের শিরা কেটে ফেলতাম।

জহুরুল হক

তারপর নিশ্চয়ই তার কন্ঠশিরা কেটে ফেলতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে এমন কেউই থাকতো না, যে রক্ষা করতে পারতো তাকে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে রক্ষা করার থাকত না।

জহুরুল হক

তখন তোমাদের মধ্যের কেউই ওর থেকে নিবৃত্ত করতে পারতে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক উপদেশ (সতর্ক) লোকদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এটিতো মুত্তাকীদের জন্য এক নিশ্চিত উপদেশ।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই এইটি ধর্মভীরুদের জন্য এক স্মারক - গ্রন্থ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি আমরা জানি, তোমাদের মধ্যে রয়েছে মিথ্যাবাদীরা।

মুহিউদ্দীন খান

আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে কতক রয়েছে মিথ্যারোপকারী।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তো জানি যে তোমাদের মধ্যে সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এ (কুরআন) কাফিরদের জন্যে এক অনুতাপের কারণ।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা কাফেরদের জন্যে অনুতাপের কারণ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এটি নিশ্চয় কাফিরদের জন্য এক নিশ্চিত অনুশোচনার কারণ।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি অবিশ্বাসীদের জন্য বড় অনুতাপের বিষয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক বাস্তব সত্য।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা নিশ্চিত সত্য।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় এটি সুনিশ্চিত সত্য।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি তো সুনিশ্চিত সত্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি তসবিহ করতে থাকো তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ননা করুন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতএব তুমি তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।

জহুরুল হক

অতএব তোমার মহামহিমান্নিত প্রভুর নামের জপতপ করো।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme