সে বিরক্তি প্রকাশ করলো এবং মুখ (মনোযোগ) ফিরিয়ে নিলো,
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; সে ভ্রুকুটি করেছিলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল,
Chapter 80, 42 verses
সে বিরক্তি প্রকাশ করলো এবং মুখ (মনোযোগ) ফিরিয়ে নিলো,
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; সে ভ্রুকুটি করেছিলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল,
এ কারণে যে অন্ধ লোকটি এসেছিল তার কাছে,
কারণ তার কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি এসেছিল,
তুমি কি করে জানবে, হয়তো সে শুদ্ধতা অর্জন করতো?
আর কী তোমাকে জানাবে? সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো,
কিংবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং সেই উপদেশ তার উপকার সাধন করতো?
অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত,
অথচ যে নিজেকে ভাবে মুখাপেক্ষাহীন,
তুমি তার প্রতি মনোযোগ দাও,
তুমি মনোযোগ আরোপ করছো তার প্রতি।
তুমি তার প্রতি মনোযোগ দাও,
তোমার কি আসে যায় যদি সে শুদ্ধতা অর্জন না করে?
অথচ সে পরিশুদ্ধ না হলে তোমার ওপর কোনো দায় নেই,
কিন্তু যে ছুটে এসেছে তোমার কাছে,
আর যে তোমার কাছে ছুটে আসে,
এবং সে ( ও তাঁর শাস্তিকে) ভয় করে,
এবং সে ভীত থাকে,
তাকে তুমি অবজ্ঞা করলে এবং অন্যদের প্রতি মনোযোগী হলে।
তুমি তার থেকে উদাসীন হও!
না (কখনো এমনটি করোনা); অবশ্যি এটি (এ কুরআন) একটি উপদেশ।
কখনোই নয়! নিশ্চয়ই এটি এক উপদেশ,
সুতরাং যার ইচ্ছে, সে এটি গ্রহণ করবে।
সুতরাং যে ইচ্ছা করবে তা স্মরণ করুক
(এটি সংরক্ষিত আছে) অতীব সম্মানিত সহীফা সমূহে (লওহে মাহফুযে)।
যা আছে সম্মানিত লিপিসমূহে;
খুবই উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন ও পবিত্র,
সুউন্নত, সুপবিত্র,
সেইসব লেখকদের (ফেরেশতাদের) হাতে,
লিপিকারদের হস্তলিখিত,
যারা সম্মানিত ও অনুগত।
সম্মানিত ও সৎ,
ধ্বংস হলো (অবিশ্বাসী) মানুষগুলো। কতো বড় অকৃতজ্ঞ তারা!
ধ্বংস হোক মানুষের; সে কত অকৃতজ্ঞ!
কোন্ জিনিস থেকে তিনি সৃষ্টি করেছেন তাকে (মানুষকে)?
তিনি তাকে কী থেকে সৃষ্টি করেছেন?
এক বিন্দু নোতফা (শুক্র) থেকে, তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তারপর তাকে যথাযথভাবে গঠন করেছেন।
শুক্রবিন্দুথেকে; তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর পরিমিত করেছেন,
তারপর তিনি সহজ করে দেন তার জীবন চলার পথ।
অতঃপর তার জন্য পথ সহজ করেছেন,
তারপর তার মউত ঘটান এবং পৌঁছে দেন তাকে কবরে।
অতঃপর তাকে মৃত্যু দেন এবং কবরস্থ করেন,
অতপর যখন চাইবেন , তখন আবার উঠিয়ে আনবেন তাকে।
অতঃপর যখন তিনি ইচ্ছা করবেন, তাকে পুনরুত্থিত করবেন,
না, সে পালন করেনি তিনি যে নির্দেশ তাকে দিয়েছেন।
কখনোই নয়! তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন, মানুষ এখনো তা পূর্ণ করেনি,
তবে, মানুষ তার খাবারের জিনিসগুলোর প্রতি নজর বুলিয়ে দেখুক (কে সৃষ্টি করেছে সেগুলো)।
অতএব মানুষ যেন তার খাদ্যের দিকে লক্ষ্য করে,
আমরাই তো বর্ষণ করি প্রচুর পানি।
নিশ্চয়ই আমরা প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করেছি,
তারপর শক্ত হয়ে এঁটে থাকা জমিনকে আমরা ফেঁড়ে দেই।
অতঃপর পৃথিবীকে বিদীর্ণ করেছি,
আর তাতে উৎপাদনের ব্যবস্থা করি শস্য,
অতঃপর তাতে শস্য উৎপন্ন করেছি,
আংগুর, শাক - শবজি,
এবং আঙুর ও শাকসবজি,
যয়তুন, খেজুর,
এবং জলপাই ও খেজুর,
বিপুল বৃক্ষ - রাজির নিবিড় বন,
এবং ঘন উদ্যানসমূহ,
ফল - ফলারি এবং সেইসাথে অনেক ঘাস।
এবং ফলমূল ও চারণভূমি,
(এভাবে আমিই ব্যবস্থা করি) তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর জীবন ধারণের সামগ্রী।
তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবনধারণের সামগ্রী।
অতপর যেদিন মহাধ্বনি (শিংগার দ্বিতীয় ফুৎকার) উচ্চারিত হবে,
অতঃপর যখন কান-ফাটানো আওয়াজ আসবে,
সেদিন মানুষ পালাবে তার ভাই থেকে,
সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,
তার মা থেকে এবং বাপ থেকে,
এবং তার মা ও বাবা থেকে,
তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে।
এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে,
সে দিনটি হবে এতোই ভয়াবহ যে, সেদিন কেউই নিজের ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে ভাববারই চিন্তা করবেনা।
সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন অবস্থা থাকবে, যা তাকে ব্যস্ত রাখবে,
সেদিন অনেক লোকের চেহারা হবে উজ্জ্বল,
সেদিন কিছু মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল,
হাসি খুশি আর শুভ সংবাদে আনন্দ মুখর।
হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দিত,
আবার অনেক চেহারাই হবে সেদিন ধূলো - মলিন।
আর সেদিন কিছু মুখমণ্ডলের ওপর থাকবে ধূলি,
সেই চেহারাগুলোকে আচ্ছন্ন করবে কালিমা।
কালিমা তাদের আচ্ছন্ন করবে,
কারণ, তারা (হবে) অবিশ্বাসী - অমান্যকারী - এবং পাপিষ্ঠ - দূরাচারী।
তারাই অবিশ্বাসী, পাপাচারী।
অস্বীকারকারী=কাফির