যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,
আল ওয়াকিয়া (ঘটনা)
Chapter 56, 96 verses
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৯৬, রুকু সংখ্যা: ০৩
এই সূরার আলোচ্যসূচি
তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।
সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।
যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।
যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,
ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।
তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।
একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!
একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!
আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।
তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,
থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।
তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।
তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।
তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,
পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।
সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।
থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,
থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,
থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)
(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,
তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।
তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।
শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।
আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,
কাঁদিভরা কলার বাগানে,
বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,
সদা বহমান পানির মধ্যে,
এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,
যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।
তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,
আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,
তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,
স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,
ডানদিকের লোকদের জন্যে।
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,
এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।
আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!
তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,
থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,
তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।
ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে
এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।
তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’
বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,
একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,
তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,
এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!
তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।
আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।
প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?
তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই
তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।
তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?
তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?
আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)
‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।
বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’
তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?
মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?
আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?
তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।
আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,
অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!
নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।
এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।
পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।
এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।
এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?
আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?
যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,
তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,
আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।
তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,
তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?
সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।
আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,
তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’
আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,
তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,
আর জাহান্নামের দহন।
এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।
অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।