যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,
যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, - -
Chapter 56, 96 verses
যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,
যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, - -
তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।
এর সংঘটনকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না।
সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।
এটি লাঞ্ছিত করবে, এটি করবে সমুন্নত।
যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।
যখন পৃথিবী আলোড়িত হবে আলোড়নে,
যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,
আর পাহাড়গুলো ভেঙ্গে পড়বে চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে - -
ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।
ফলে তা হয়ে যাবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা,
তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।
আর তোমরা হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে - -
একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!
যথা ডান দিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!
একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!
আর বাঁদিকের দল, - - কেমনতর এই বাঁদিকের দল!
আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।
আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামী,
তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,
এরাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত,
থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।
আনন্দময় উদ্যানে।
তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,
স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
আর পরবর্তীকালীনদের থেকে অল্প সংখ্যায়।
তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।
কারুকার্যময় সিংহাসনে,
তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।
তাতে তারা হেলান দিয়ে আসন গ্রহণ করবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।
তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,
তাদের চারিদিকে ঘুরে বেড়াবে চিরনবীন তরুণেরা - -
পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।
পানপাত্র ও সোরাই নিয়ে ও নির্মল পানীয়ের পেয়ালা।
সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।
তাদের মাথা ধরবে না তাতে, আর তাদের নেশাও ধরবে না।
থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,
আর ফল - মূল যা তারা পছন্দ করে;
থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,
আর পাখির মাংস যা তারা কামনা করে,
থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)
আর আয়তলোচন হূরগণ - -
(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,
আবৃত মুক্তার উদাহরণের ন্যায়; - -
তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।
যা তারা করতো তার পুরস্কার।
তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।
তারা সেখানে শুনবে না কোনো খেলোকথা, না কোনো পাপবাক্য, - -
শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।
শুধু এই কথা ছাড়া - - ''সালাম! সালাম!’’
আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
আর ডানদিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,
কাঁটা বিহীন সিদরাহ - গাছের নীচে,
কাঁদিভরা কলার বাগানে,
আর সারি সারি সাজানো কলাগাছ,
বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,
আর সুদূরবিস্তৃত ছায়া,
সদা বহমান পানির মধ্যে,
আর উছলে ওঠা পানি,
এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,
আর প্রচুর পরিমাণে ফলমূল,
যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।
ব্যাহত হবার নয় এবং নিষিদ্ধ হবারও নয়।
তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,
আর উঁচুদরের গালিচা।
আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,
নিঃসন্দেহ আমরা ওদের সৃষ্টি করেছি বিশেষ সৃষ্টিতে;
তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,
আর তাদের বানিয়েছি চিরকুমারী,
স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,
সোহাগিনী, সমবয়স্কা, - -
ডানদিকের লোকদের জন্যে।
দক্ষিণপন্থী লোকদের জন্য।
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,
প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,
এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।
আর পরবর্তীকালীনদের মধ্যে থেকেও অধিক সংখ্যায়।
আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!
কিন্তু বামপন্থীদল - - কেমনতর এই বামপন্থী দল।
তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,
উত্তপ্ত বাতাসে ও ফুটন্ত পানিতে,
থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,
আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।
শীতল নয় এবং সম্মানজনকও নয়।
ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে
অথচ তারা তো এর আগে ছিল ভোগবিলাসে মগ্ন,
এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।
আর তারা ঘোরতর পাপাচারে জেদ ধরে থাকত,
তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
আর তারা বলত - - ''কী! আমরা যখন মরে যাব ও মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাব তখন কি আমরা আদৌ পুনরুত্থিত হব, - -
আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’
এবং আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?
বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,
তুমি বলো - - ''নিঃসন্দেহ পূর্ববর্তীরা এবং পরবর্তীরা - -
একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,
''অবশ্যই সবাইকে একত্রিত করা হবে এক সুবিদিত দিনের নির্ধারিত স্থানে - ক্ষণে,
তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
''তখন নিঃসন্দেহ তোমরাই, হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাআরোপকারিগণ!
তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,
''তোমরা আলবৎ আহার করবে যিক্কুমের গাছের থেকে,
এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!
''এবং তাই দিয়ে তোমরা উদর পূর্ণ করবে,
তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।
''তারপর তোমরা তার উপরে পান করবে উত্তপ্ত পানি,
আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।
''আর তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের পান করার ন্যায়।’’
প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
এই হবে তাদের আপ্যায়ন বিচারের দিনে।
আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?
আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা সত্য বলে স্বীকার কর না?
তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ - - যা তোমরা স্খলন কর?
তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
তোমরা বুঝি ওকে সৃষ্টি করেছ, না আমরা সৃষ্টিকর্তা?
আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই
আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যু ধার্য করে রেখেছি, আর আমরা প্রতিহত হব না, - -
তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।
যেন আমরা বদলে দিতে পারি তোমাদের অনুকরণে, এবং তোমাদের রূপান্তরিত করতে পারি তাতে যা তোমরা জান না।
তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?
আর তোমরা অবশ্য প্রথম অভ্যুত্থান সন্বন্ধে অবগত হয়েছ, তবে কেন তোমরা ভেবে দেখ না?
তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা বপন কর?
সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?
তোমরা কি তা গজিয়ে তুলো, না আমরা বর্ধনকারী?
আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)
আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা আলবৎ তাকে খড় - কুটোয় পরিণত করতে পারতাম, তখন তোমরা হাহুতাশ করতে থাকবে,
‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।
''আমরা তো নিশ্চয় ঋণগ্রস্ত হলাম,
বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’
''বরং আমরা বঞ্চিত হলাম।’’
তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?
তোমরা যে পানি পান কর সে - সন্বন্ধে তোমরা কি ভেবে দেখেছ?
মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?
তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমরা বর্ষণকারী?
আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?
আমরা যদি চাইতাম তাহলে আমরা তাকে লোনা করে দিতে পারতাম, কেন তবে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও তা কি তোমরা লক্ষ্য করেছ?
তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
তোমরাই কি তার গাছকে জন্মইয়েছ, না আমরা উৎপাদনকারী?
আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।
আমরাই তাকে বানিয়েছি এক নিদর্শনসামগ্রী এবং মরুচারীদের জন্য এক প্রয়োজনসামগ্রী।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।
অতএব তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।
আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,
না, আমি কিন্তু শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের, - -
অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!
আর নিঃসন্দেহ এটি তো এক বিরাট শপথ, যদি তোমরা জানতে, - -
নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।
নিঃসন্দেহ এটি তো এক সম্মানিত কুরআন,
এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।
এক সুরক্ষিত গ্রন্থে।
পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।
কেউ তা স্পর্শ করবে না পূত - পবিত্র ছাড়া।
এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।
এটি এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।
এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?
তা সত্ত্বেও কি সেই বাণীর প্রতি তোমরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবাপন্ন,
আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?
এবং তোমাদের জীবিকা বানিয়ে নিয়েছ যে তোমরা মিথ্যা আখ্যা দেবে?
যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,
তবে কেন যখন কন্ঠাগত হয়ে যায়,
তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,
এবং তোমরা যে - সময়ে তাকিয়ে থাকো,
আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।
আমরা তখন তোমাদের চাইতে তার বেশী নিকটবর্তী কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,
যদি তোমরা আজ্ঞাধীন না হয়ে থাক তবে কেন তোমরা পার না - -
তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?
তাকে ফিরিয়ে দিতে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
আর পক্ষান্তরে যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।
তাহলে আয়েশ - আরাম ও সৌরভ, এবং আনন্দময় উদ্যান।
আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,
আর অপরপক্ষে সে যদি দক্ষিণপন্থীদের মধ্যেকার হয়,
তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’
তাহলে দক্ষিণপন্থীদের দলের থেকে - - ''তোমার প্রতি সালাম।’’
আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,
আর পক্ষান্তরে সে যদি প্রত্যাখ্যানকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, - -
তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,
তাহলে আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,
আর জাহান্নামের দহন।
এবং প্রবেশস্থল হবে ভয়ংকর আগুন!
এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।
নিঃসন্দেহ এটি অবশ্য সুনিশ্চিত সত্য।
অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।
সুতরাং তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।